চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় গরুবোঝাই আলমসাধু গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে চালক
নুর ইসলাম (৫০) নামে এক জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার
চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার
এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর
গ্রামের মৃত হারেজ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ী চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নিজের আলমসাধু চালিয়ে পাঁচটি
গরু নিয়ে ঝিকরগাছা থেকে চৌগাছা পশুহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে
পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আলমসাধু গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ
হারিয়ে সড়কের নিচে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনা
স্থলেই নুর ইসলামের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আলমসাধু গাড়ীতে থাকা পাঁচটি গরু
জীবিত উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে
যান চলাচল বন্ধ ছিলো। খবর পেয়ে দশপাখিয়া ফাঁড়ির পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল
স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য
প্রেরণ করেছেন।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সারাদেশ
-

চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১
-

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে মরানদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- ওই এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭)। তারাও ওই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন এই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যায়। এ সময় একে একে পাঁচ শিশুই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
-

কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।
দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-

মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার বহুল প্রচলিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নুর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুের রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ জানান, বাবার লাশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
জিএম নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আশির দশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করেন তিনি।
এরপর খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা। ২০০০ সালে বাজারে আসে তার মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত।
জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
-

ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
বকশীগঞ্জে সাড়ে ৩ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
জামালপুরের বকশীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীনভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে দুলাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তার গোদাম থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের অকুলের মোড় এলাকায় দুলাল মিয়ার দোকান ও গোডামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মিয়া লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে আসছিলেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গোদাম থেকে ৬৪ বস্তা ডিএপি ও ৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারগুলো পরবর্তীকালে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থে অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।
গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।
আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।
শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’
জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।
এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।
এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।
জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।
অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।
-

সার সংকট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে অভিযান
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
সার সংকট নিয়ে সারা দেশে ছড়ানো তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটা এবং সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, যশোরে ভেজাল সার বিক্রি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও অবৈধ মজুতের দায়ে একাধিক ডিলার এবং ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে।
গত সোমবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম আমার দেশকে বলেন, সার সংকটের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ও গুজব। সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্যানিক তৈরি সৃষ্টি এবং সরকারকে বিব্রত করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মন্ত্রণালয়ের ৬৪ কর্মকর্তা এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
অসাধু ডিলারদের বিষয়ে তিনি আরো জানান, বেশি দামে বিক্রি বা কালোবাজারির অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ডিলারশিপ স্থগিত ও বাতিল করা হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে তদারকি সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কিছু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর নানা অনিয়ম এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি সামনে আসছে।
রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে গোডাউনে সার না রাখা এবং পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক ডিলারকে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। তার অঞ্চলের কোথায় কাকে আরো জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা পরে নিশ্চিত করা যাবে।
এদিকে সাটুরিয়া উপজেলার জান্না বাজারে বিএডিসির সার ডিলার ছানোয়ার হোসেনকে সারের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক নুর ইসলামকে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং অবৈধভাবে ২৫৯ বস্তা ইউরিয়া, ১০৬ বস্তা ডিএপি ও ৪৫ বস্তা টিএসপি সার মজুত রাখার অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। সেখানে জব্দ করা সার পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজারে লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ৩ লাখ ৫৩,৩৫০ টাকা মূল্যের মোট ২৭১ বস্তা (১৩,৫৫০ কেজি) সার অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে গত বুধবার খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা আদায় করা হয় এবং জব্দ সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মাঝে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে চৌগাছায় পাচারকালে আটক আরো ৩৭ বস্তা সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে পরিবহনের দায়ে আলমসাধু চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের কোথাও সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের দাবি সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলায় বেশি দামে বিক্রি, অবৈধ মজুত ও ভেজাল সারের ঘটনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত দামে সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও কৃষকরা সময়মতো ও নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন কি না—সেটিই এখন মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তবে সার সংকট নেই—এমন দাবি করা হলেও নিরাপত্তা মজুতে ঘাটতি দেখা গেছে। গত ২২ আগস্টের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইউরিয়ার নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন, সেখানে আছে ৪ লাখ ৯৬২ টন; অর্থাৎ ঘাটতি ৯৯ হাজার টন। একইভাবে টিএসপির ৪ লাখ টন; কিন্তু মজুত আছে ৩ লাখ ৩৭৩ টন; অর্থাৎ ঘাটতি সাড়ে ৯৯ হাজান টন। অনুরূপভাবে ডিএপির নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন। কিন্তু আছে ৩ লাখ ২৭৭ টন; এখানেও ঘাটতি ২ লাখ টন। সবশেষ এমওপির মজুত থাকার কথা ৩ লাখ টন, সেখানে আছে ১ লাখ ৪৮৪ টন; এখানেও ঘাটতি প্রায় ২ লাখ টন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে সারের নিরাপত্তা মজুত অনেকটাই নিম্নমুখী। এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
-

উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় উড়ো চিঠিতে হত্যার হুমকি পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেল। গত বুধবার ভোরে উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের নিচে একটি খামে করে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সেদিনই ভেড়ামারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‘তৌহিদী জনতা’র নামে পাঠানো চিঠিতে হাসান ইমাম রুবেলকে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের লেখালেখি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব লেখালেখিকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির শেষাংশে এটিই ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাসান ইমাম
রুবেলের ঢাকায় অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
হাসান ইমাম রুবেল দৈনিক প্রথম আলোতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর ও নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।ভেড়ামারা থানায় করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, চিঠিতে তাঁর ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখির কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব লেখাকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী আখ্যা দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না’ ও ‘যেকোনো উপায়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাঁর ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলেও দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
হাসান ইমাম রুবেল বছরে দু’একবার পরিবার নিয়ে হিড়িমদিয়ার বাড়িতে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। (বুধবার) ভোরে ফটকের নিচে তৌহিদী জনতার নামে চিঠি রেখে যাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে জিডি করেছি। হুমকির প্রকৃত উৎস ও জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’ তাঁর ভাষ্য, চিঠির প্রেরক কে বা কারা, তা নিশ্চিত নন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সরাসরি দায়ী না করে উৎস শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল জিডি করেছেন। পুলিশ তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করেছে। কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও হুমকি
ভেড়ামারায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন আরও কয়েকটি হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জগশ্বর গ্রামের কিয়ামাত আলী সরদারকে ১৭ আগস্ট বিশেষ বাহিনীর নামে উড়ো চিঠি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া একটি দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ককেও কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। -

মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আলম (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিষুমিয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুর আলম জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার জামশেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে নুর আলম কখনো রাজমিস্ত্রি, কখনো ডেকোরেশনের হেলপার, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষুমিয়ারহাট এলাকায় একটি ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইমন বলেন, নুর আলম একেক সময় একেক কাজ করতেন। তিনি সব সময় মানুষের উপকার করতেন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ্রা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
-

চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর স্মৃতির সম্পর্ক। কবি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুবার নদীপথে স্বপরিবারে এখানে এসেছিলেন। স্ত্রী প্রমীলা, দুই ছেলে সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। ঐতিহাসিক সেই ঘরটি এখনো কবির স্মৃতি বহন করছে।
স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে নজরুল বিভিন্ন ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেন। ফলে স্থানটি নজরুলপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
-

যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হিজলী বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। দিনব্যাপী অভিযানে ভারতীয় ৫০ বোতল এসকাফ সিরাপ (নেশাজাতীয়), ৫৮টি শাড়ি, ৫৭টি চকলেট, ৩৬ কেজি ফুচকা, ১ কেজি জিরা, ০.৫ কেজি কিসমিস, ৫ প্যাকেট সনপাপড়ি এবং ৩৫২টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতাও চোরাচালান দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
-

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সেচ পাম্প চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আজাহার মন্ডল (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজাহার মন্ডল ওই এলাকার তফিল মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষক আজাহার মন্ডল নিজের কৃষি জমিতে পানি দেয়ার উদ্দেশ্যে সেচপাম্পের সুইচ চালু করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
-

মেহেরপুরে হারানো ১০৮ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
মেহেরপুরে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রকৃত মালিকদের কাছে মোবাইল ও অর্থ হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায়। গত দুই মাসে মেহেরপুরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে উদ্ধার হয় এসব মুঠোফোন ও নগদ অর্থ।
পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে জেলার তিন থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। একই সময়ে ২৬টি ফেসবুক আইডিও রিকভার করা হয়। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ভুক্তভোগীদের করা থানার জিডির ভিত্তিতে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ভুলক্রমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চলে যাওয়া টাকা-সংক্রান্ত ছয়টি জিডির ভিত্তিতে ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘অনলাইন জুয়া, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা জালিয়াতি, বিকাশ প্রতারণা ও অনলাইন কেনাকাটাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীদের থানায় আসতে হবে। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।’
অনলাইনে প্রতারণা থেকে বাঁচতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং অনলাইনে কেনাকাটার আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শও দেন তিনি।
-

মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেন আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সচেতনতামূলক এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোকসা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
-

হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রোপা আমন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার টিলারে জমি চাষ, চারা রোপণ, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি কৃষকদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে।
চারিয়া এলাকার কৃষক মো. আজগর আলী বলেন, এক কানি জমিতে আমন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই খরচ হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে প্রয়োজনের সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মির্জাপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘এবার জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেশি। ধানের দাম যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কৃষকের লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।’
ধলই ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিতে। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে। ধানের ভালো দাম না পেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।’
কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কোথাও কোথাও সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। তারা সার ও কৃষি উপকরণের বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকা কেজি দামের কিছু সার ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দোকানে এমন চিত্র দেখা যায়নি।
হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। উপজেলায় সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। সার ও বীজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
-

দিনাজপুরে শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও : যান চলাচল বন্ধ, সংঘর্ষ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
দিনাজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানকারী শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানাসহ সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। কোতোয়ালি থানা অবরোধের সময় শ্রমিকদের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৬ শ্রমিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই দিনাজপুরের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, বালুয়াডাঙ্গা টেম্পু স্ট্যান্ডসহ শহরের সবকটি প্রবেশপথ যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুরের দিকে কোতোয়ালি থানার সামনে একটি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়।
বুধবার রাত ৯টার দিকে ৫ আগস্টের একটি মামলায় শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এছাড়া বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় বড় বাস ও নাইট কোচ রেখে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে আইন অনুসরণ করেই ধরা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।’
এদিকে শ্রমিকরা জানান, ‘শেখ বাদশাকে না ছাড়লে আমরা সড়ক অবরোধ তুলে নেব না। আমরা দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তাকে না ছাড়লে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ অচল করে দেয়া হবে।’
-

মহেশপুর ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা
মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদাহ)
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সকল তফসিলি ব্যাংকের আয়োজনে এক দেশ এক QR লেনদেনে বাংলা QR ক্যাশলেস, বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলা QR বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়াম এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা জয়েন্ট ডিরেক্টর (জেডি) মোঃ সোহানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের সহকারী অফিসার (আরডিএস) পিএলসি মোঃ রফিকুল ইসলাম। মহেশপুর সোনালী ব্যাংকের পিএলসি এজিএম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জোনাল অফিস ও অগ্রনী ব্যাংকের পিএলসি মোঃ মোজাহারুল ইসলাম। ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,এসএ ভিপি ও ব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল আমীন। অনুষ্ঠান বক্তারা QR লেনদেনে বাংলা QR ব্যবহার করে সহজেই অর্থ লেনদেন করা যায় এবং QR app ব্যবহার করে গ্রাহক র্চাজ ছাড়া সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা।
এ.আর
-

শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাধবপুর গ্রামের অমর ভৌমিক ও তার স্ত্রী মীনাক্ষী রানী ঘাস কাটা মেশিনে ঘাস কাটতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
স্থানীয় মুকুল নামের এক ব্যক্তি জানান, গরুর ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় তারা স্বামী-স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটা মেশিনের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মৃত্যু হয়েছে ।
-

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।
নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।
উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
-

শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।
উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
-

মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।
তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।
-

বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র্যাব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।
নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।
রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
-

শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা উভয়ই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এ সময় একজন সাঁতারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় অপরজনকে ঝাপটিয়ে ধরলে একপর্যায়ে তারা দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়।
এ সময় তাদের সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
-

নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, ট্রলিচালক নিহত
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নড়াইল-কালিয়া সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খেয়ে ইটভাঙার কাজে ব্যবহৃত ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বির সরদার (১৮) নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাচুড়ি বাজারে তুসার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুত্তাকাব্বির কালিয়ার কদমতলা গ্রামের আসগর সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে নড়াইল-কালিয়া সড়কের চাচুড়ি বাজার এলাকায় একটি দোকানের মালামাল খালাসের জন্য ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মুত্তাকাব্বির কালিয়া থেকে চাচুড়ির দিকে আসার পথে সেতু থেকে নামার সময় ট্রলিটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বিরের মাথা থেতলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। তবে ট্রলিতে থাকা চালকের সহকারী রক্ষা পান।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
-

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা
এম এ রহিম, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
(২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
হয়েছে।
এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এ,আর
-

চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
-

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।
কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
-

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি তদারকি করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের কাছ থেকেও চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও সদর উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, পরিদর্শনকালে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
-

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।
আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।
২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।
-

চুয়াডাঙ্গায় র্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
র্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।
পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।
র্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা
নড়াইল প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হন। সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।
সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।
এছাড়া বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গ্রাম্য সংঘাত, হানাহানি ভুলে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন আর কোনো মারামারি করবেন না। হত্যাকান্ডে জড়াবেন না। দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের জেরে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি কেউ করবেন না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হতো। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বেশি মারামারি হতো। এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রাথী ঘোষণা করলেন গ্রামবাসী।
এদিকে গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যাকান্ড এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের এককাতারে মিলিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা-এ বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।
-

চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা
যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।
পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।
-

ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
-

চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ
চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় কালো বাজারে পাচারের সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌরসভার চাঁদপুর মোড় এলাকায় স্থানীয় জনগণ সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।স্থানীয়রা জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নসিমনে করে সারগুলো ঝিকরগাছার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নসিমনটি আটক করেন।
খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছা শহরের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম অবৈধভাবে সারগুলো মজুদ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকেই সারগুলো অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। পরে খাইরুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালানো হলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন এঘটনায় সাইফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে, পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম।
এর আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের অবৈধ মজুদ ও পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সার অন্যত্র পাচার হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সারের সংকটের মধ্যে সরকারি সার কীভাবে পাচার হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন?
স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিবহনকারী বা নসিমন চালককে আটক না করে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
-

মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত প্রকল্পের আওতায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রস্ততকারকদের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার হলরুমে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার সেলিনা রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্যামিকেল ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলাম,আমির হোসেন। প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তা অংগ্রহণ করেন এই কর্মশালায়। কর্মশালায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন ও মার্কেটে এর চাহিদা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য দেশের উল্লেখ্যযোগ্য বাজার দখল করে আছে মহেশপুর ইমিটেশন জুয়েলারি। এই উপজেলায় প্রায় ৬/৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে এবং প্রায় ২/৩ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। বক্তারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমদাদুল হোসেন।
-

মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়ার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে হিরনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়।
-

রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’
-

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।
শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।
তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি সুতার মিল থেকে এস এম তানিম (৩০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্বাস চেয়ারম্যানের একটি সুতার মিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
তানিম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের খন্দকারবাড়ি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিলের ভেতরে একটি আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তানিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা।পরে তাঁরা বিষয়টি আড়াইহাজার থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, তানিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বন্ধ অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচলময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
-

আলু পচনের দায়ে মুখোমুখি হিমাগার মালিক-চাষি
রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আলু পচে নষ্ট হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ এবং হিমাগার ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই আলু পচনের প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে হিমাগার মালিকেরা দায়ী করছেন ঘন ঘন লোডশেডিংকে। ফলে নষ্ট আলুর দায় ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।
চাষিদের অভিযোগ, হিমাগারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও মৌসুমের শুরুতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত আলুর কারণে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাতাস চলাচল না করায় পচন ধরছে।
তবে হিমাগার মালিকেরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপেও কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। সেখানে আলু সংরক্ষণ করা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু লোড নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।’
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই আলু পচছে। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু নেওয়ায় এখন সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’
সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়। কিন্তু ধারণক্ষমতার বেশি আলু থাকায় অনেক হিমাগার এবার এ প্রক্রিয়া ঠিকভাবে করতে পারছে না।’ডনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।’
এভাবে জেলার প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এ কারণে আলু নষ্ট হওয়ার কথাও নয়।’
লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। এরপরও বিদ্যুৎ না এলে জেনারেটর চালাতে হয়। প্রতি ঘণ্টায় জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি হিমাগারকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়।’
তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারগুলোতে সমস্যা হচ্ছে এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ ফোন করেননি।’
কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও হিমাগারগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে আলু পচে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নষ্ট আলুর ক্ষতিপূরণ নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
-

নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়
নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।
শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।
নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
-

জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।
নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।
এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।
-

উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
-

ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।
এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।
বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।
ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’
-

সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও মাদক বিয়ার জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে এসব চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামালগুলোর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
-

নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জি এম মাশরাফিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছপালাবেষ্টিত একটি নির্জন স্থানে বসে ইয়াবা সেবন করছেন ছাত্রদল নেতা মাশরাফি। তবে কোথায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন, তা জানা যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়লে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা জি এম মাশরাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নড়াইল জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফিকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল এবং সদস্য সচিব মামুন গাজী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
-

জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।
চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।
-

সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।
সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ,আর
-

ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক
ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।
জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।
২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে র্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।
তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-

চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
চৌদ্দগ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শাফকাত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল হোসেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাসনিয়া মোস্তফা, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজরাত জাহান ইশফা, মাইশা ফাইরোজ পাটোয়ারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সনদ ও বই উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন।
-

জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাটাগাং এলাকা ও পানিছড়া এলাকায় দুর্ঘটনা দু’টি সঙ্ঘটিত হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ও বেলা ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে উপজেলার কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হাসান মিয়া গুলাল (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসান মিয়া গুলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিরপাড়া গ্রামের মরহুম সাইফুল্লাহর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মিয়া মোটরসাইকেলযোগে জাফলং যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি হাইড্রলিক ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন হাসান মিয়া গুলাল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উপজেলার পানিছড়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড সংলগ্ন ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যাত্রীর নাম নুসরাত জাহান (১৭)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের আব্দুল মুমিনের মেয়ে। আহতরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (২৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) ও মোহাম্মদ আলীর মা কুলসুম বেগম (৬০)। তাদের তিনজনের বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় কদমতলী এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামা-মামি ও নানির সাথে সিলেটে বেড়াতে আসে নুসরাত জাহান। সোমবার সকালে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড মেইন গেইট এলাকায় পৌঁছালে সিলেটমুখী দ্রুতগতির আম্মাজান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস জাফলংমুখী সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন তার মামা-মামি ও নানি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
তামাবিল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নিহত নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। নিহত নুসরাত জাহানের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যেতে চায় পরিবার। তাই পরিবারের সম্মতিতে লাশ তাদের কাছে হস্থান্তর করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও সিএনজি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।
অন্যদিকে কাটাগাং এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করেছে তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তামাবিল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান বহনকারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তাদের এই বেপরোয়া গতির কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই এলাকাবাসী মহাসড়কে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নজরদারি কঠোর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
-

ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অপর এক সার ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে খুচরা সার বিক্রেতা নুর এ আলমের গোডাউন থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৩৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি ও ৮৫ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দ করা সার উচাখিলা ইউনিয়নের মূল সার ডিলার শামছুল হকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সার অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় উচাখিলা ইউনিয়নের ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হকের ছেলে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একই আইনে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান অপরাধের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান জানান, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছে। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সার ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
-

চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বেলন-বিলে নুরুজ্জামানের মাছের ঘের এলাকায় অভিযান চালায় চৌগাছা থানার এস আই বেলাল হোসেন। এ সময় পুলিশ ইমরান হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেন তিনি। পরে তার নিকট থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান হোসেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের মরহুম মুক্তার হোসেনের ছেলে।
আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এর আগে রাতে চৌগাছা থানা পুলিশের এস আই সলিমুল হকের নেতৃত্বে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সড়কের বকুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফাহিম হোসেন ওরফে আবু তালেবকে (২৭) আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ফাহিম হোসেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পৌর শহরের কুটিপাড়া মোড় এলাকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ার তাহাজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে সোহান হোসেন দয়াল (২২) ও পৌর শহরের কুঠিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে (৩০) আটক করা হয়। পরে তাদের নিকট থেকে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত একটি মামলা করা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মাদক মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
-

মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন পলাতক ১ জন ।
মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, মহেশপুর থানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপর ০১ জন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ১২নং আজমপুর ইউনিয়নের আজমপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় মহেশপুর-জামতলা পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম রাত আনুমানিক ৮:১৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ১। মোঃ আসিফ (২০), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-আজমপুর, থানা-মহেশপুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তবে অপর আসামী ২। মোঃ রানা (২৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, সাং-আজমপুর (খাঁ পাড়া) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী আসিফ-এর দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট হতে ২০ (বিশ) পিচ হালকা গোলাপী রঙের অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।
মাদক মুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে মহেশপুর থানা পুলিশের এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা
মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ( IUGIP) এর আওতায় পৌরসভার প্লান( MP) প্রণয়নের লক্ষ্যেপরামর্শ সভা-৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনসভা কক্ষে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই পরামর্শকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মামুন হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পৌর এলাকার রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ,
বাস টার্মিনাল সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। আলোচনায়, পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোর অবস্থা, নাগরিকদের চাহিদা এবং ভবিষ্যত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ও বাস্তব সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরশনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে মহেশপুর পৌরসভা কে আরো আধুনিক পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার প্লান পরিকল্পনা করা উচিত। উক্ত পরামর্শ সভায় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগন কোন অংশ নেন। পরামর্শ সভায় উঠে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মতামত ও পরিকল্পনা ,ভবিষ্যৎ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
-

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।
মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।
তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।
অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
-

সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর জুলেখা (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিরিরচালা মধ্যপাড়ার একটি জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুলেখা ওই গ্রামের মোজাফফর আলীর স্ত্রী।
নিহতের ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমার মা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন।’
স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই জঙ্গলে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’


