সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইরানকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের সময় উত্তেজনা কমাতে করা ১৯৭০–এর দশকের একটি চুক্তির আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    সৌদি আরব মূলত ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক হেলসিংকি অ্যাকর্ডসকে মডেল হিসেবে ধরে এই নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সব পক্ষ মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল

    আরব এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি চুক্তিকে ‘বেশির ভাগ আরব ও মুসলিম দেশের পাশাপাশি ইরানও’ স্বাগত জানাবে। তবে ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে পারে, এমন যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করবে ইসরায়েল। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তা–ও পরিষ্কার নয়।

    তেহরান এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নিজস্ব টোল ব্যবস্থাও চালু করেছে।যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ওপর হামলা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধের ফলে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরও ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় অক্ষত রয়েছে এবং দেশটির সরকারের পতনের কোনো লক্ষণ নেই।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে এসব দেশকে চাপ দিয়ে আসছে। #

  • বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    ‘নিরা ডেটা’ তাদের ‘২০২৬ গণতন্ত্র ও দেশ সম্পর্কিত ধারণা’ গবেষণার অংশ হিসেবে নতুন এক বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুসারে, ইসরাইলকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ হিসেবে দেখা হয়। নেতিবাচক বা ঘৃণিত দেশের তালিকায় প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

    অন্যদিকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত পাঁচটি দেশ হলো— সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি। গবেষণার ফলাফলে ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ র‍্যাঙ্কিং-এর একেবারে তলানিতে স্থান পেয়েছে ইসরাইল। জরিপটি ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার ওপর করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কিভাবে দেখা হয়, তা মূল্যায়ন করার জন্য মূলত গবেষণাটি করা হয়েছে।

    গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের গণ-বাস্তুচ্যুতি, ফিলিস্তিনের মুসলিমদের অনাহারে রাখা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার আরো একটি লক্ষণ হলো এই ফলাফল। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো দখলদার ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করায় দেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধসে পড়েছে।

    গাজায় দখলদার ইসরাইলের আক্রমণের জেরে দেশটির মর্যাদার এই পতন ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, গাজার বেশিরভাগ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং এমন সব শর্ত আরোপ করেছে, যেগুলোকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা গণহত্যামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

    বিশ্বব্যাপী মর্যাদার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নাটকীয় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট হারানোর কারণে নেট পারসেপশন স্কোর ২০২৪ সালের +২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে -১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এর মধ্যে ছিল ন্যাটো মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি, ইউক্রেনের জন্য সাহায্য হ্রাস এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্ঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের একটি প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, জরিপে নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, নাগরিক শিক্ষা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, আইনের শাসন, সরকারি স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করার মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তারা গণতন্ত্রকে কিভাবে অনুভব করে।

  • স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    সর্বশেষ অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি ও ফিলিস্তিন এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত ৫৭৪ জন প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। ইংল্যান্ডে ১০০টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছেন স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৬ জন।

    হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির (এইচজেএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের স্থানীয় পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতি ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনেরও বেশি মুসলিম এজেন্ডা নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।

    এইচজেএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও তাদের সবাই মুসলিম ছিলেন না, তবে তাদের কর্মসূচি সুস্পষ্টভাবে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব প্রার্থী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এরা সবাই ক্রমাগত ও সুস্পষ্টভাবে মুসলিমদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন।

    মুসলিমপন্থি বিজয়ীদের মধ্যে ১৩২ জন স্বতন্ত্র, ৩৫০ জন গ্রিন পার্টির, ৮৪ জন লেবার পার্টির সদস্য এবং ছয়জন লিবারেল ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ সুলেমান, তিনি নিউক্যাসল থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ল্যাম্বেথের গ্রিন পার্টির প্রার্থী সাইকা আলী, অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপরও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

    ম্যানচেস্টারের গ্রিন পার্টির প্রার্থী শামস সৈয়দ বলেছিলেন, গাজা ছাড়া রাজনীতিতে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনিও নির্বাচিত হয়েছেন।সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম। ইংল্যান্ডে মুসলিমদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই সংখ্যা মাত্র ০.৬ শতাংশ।

    যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক৭ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যদিকে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচয় দেন।

  • ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    চীনে সফরত অবস্থায় ইরান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ও আরব আমিরাত উপকূলের কাছে ইরানি বাহিনীর হাতে জাহাজ জব্দের খবর প্রকাশের পর এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    গতকাল হোয়াইট হাউজ জানায়, বেইজিংয়ে বৈঠকে ট্রাম্প এবং শি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ আছে। এতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে ট্রাম্পের দেয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ট্রাম্প বলেছেন, আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি সমঝোতায় আসা উচিত। ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আসলে, এটা পেলে আমার ভালোই লাগবে। শুধুমাত্র জনসংযোগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এটি সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।

    পরবর্তী সময়ে শুক্রবার ভোরে বেইজিং থেকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে।এদিকে ট্রাম্পের এসব বার্তার পর ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, পুরোপুরি বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে অভিযান চলবে।

  • বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

    বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

    আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’

    আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

    হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন।

    হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে। হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে থামছে না হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সিলেটে কোনো মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৭৪ শিশু। এছাড়া এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায়ও কারো হাম নিশ্চিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ৭৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৮। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৬ জন (রুবেলা দু’জন), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৪ জন ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ২২ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন, পার্ক ভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে দু’জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে।

    বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৯৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৯৯ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, আল হারামাইন হাসপাতালে একজন, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ১০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চারজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, পার্কভিউ হাসপাতালে চারজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫২ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

    এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে টিকা কার্যকর হতে শুরু করলে হামের প্রকোপ কমে আসবে। ২০ মে পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে। শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাই মোরশেদের (৪০) দায়ের কোপে ছোট ভাই ফয়সাল (৩৫) খুন হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত ফয়সাল ওই গ্রামের মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোরর্শেদ তার আপন বড় ভাই।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন অভিযুক্ত মোরশেদের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি নাইট শিফটের ডিউটি করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমাতে যান।

    সকালে ঘরের পাশে শিশুরা হই হুল্লোড় করলে মোরশেদ ঘর থেকে বের হয়ে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে তাদের বকা দেন। এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বড় ভাইকে নিষেধ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা দু’জনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

    দুপুর দেড়টার দিকে দুই ভাই বাড়ি ফিরলে আবারো বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে মোরশেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ছোট ভাই ফয়সালকে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ নিহতের লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

    এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় সুয়াগাজী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোরশেদকে আটক করা হয়।

    থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

  • পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অবশ্যই শিক্ষার্থীদের পহেলা জানুয়ারি বই দেয়া হবে। জানুয়ারির ৭ তারিখে এসএসসি পরীক্ষা এর আগেই আমরা বই বিতরণ কার্যক্রম শেষ করবো। শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের গন্ধ নেবেন। বই পড়বেন। পরীক্ষার মাঝে মাঝেই ক্লাসও হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

    এসময় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। আর ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা শেষ হবে। প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। একইসঙ্গে এইচএসসি ২০২৭ এর প্রস্তাবিত রুটিনও দেয়া হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৬ জুন। শেষ হবে ১৩ জুলাই। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আপনারা বলছেন শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না। শিক্ষায় পরিবর্তন আসতে অনেক সময় লাগবে। আমরা কাজ করছি আপনারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

  • প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে  অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরো টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আব্দুল হামিদ পিন্টু, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফয়েজুল আলম, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহসভাপতি লিসা লু বক্তব্য দেন।

    পরে বাণিজ্যমন্ত্রী এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

    আয়োজকরা জানান, সবুজ টেক্সটাইল শিল্পের বিশেষায়িত এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও চীনের খ্যাতনামা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

    প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল প্রযুক্তির প্রদর্শনের পাশাপাশি সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ১৬ মে শেষ হবে। ইউএনবি

  • স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নিতে হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। অফিসাররা তাদের আওতাধীন প্রকল্পভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ চিঠি পৌঁছে দিয়ে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ‘প্রকল্পভুক্ত সকল প্রধান শিক্ষকের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে’ প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানা যায়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঁচা বনরুটি, পঁচা ডিম, আকারে ছোট ও পঁচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।

    খাদ্যের মান যাচাইয়ে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে- খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের পূর্বে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অফ বা কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে।

    প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে; কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পঁচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না; ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।

  • ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

    ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

    দেশের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১০টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    নতুন ভিসি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. মো. মামুন অর রশিদ।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইন্সটিটিউট অব সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসিবে কর্মরত ছিলেন।

    ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ছিলেন।

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

    এছাড়া জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

    নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্ত উপাচার্যরা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারা তাদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে জানালার গ্রীল কেটে অফিসে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একই রাতে প্রায় একই সময়ে চুরির ঘটনা।
    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে জানালার গ্রীলের রড কেটে অফিসে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে তছনছ ও চুরির চেষ্টা।

    উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র এলোমেলো করে ফেলে চোরেরা। অন্যদিকে, ভূমি অফিসের পেছনের জানালা ভেঙে প্রধান অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে কাগজপত্র তছনছ করা হয়।

    তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল চুরি হয়েছে কিনা।
    আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯ টার সময় অফিস দুটিতে কর্মচারীরা আসার পর এদৃশ্য দেখেন।
    পরে পুলিশকে খবর দিলে গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

    গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাইলপত্র তছনছ করা হয়েছে। কী কী ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

    এদিকে, একই রাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
    বিশেষ করে, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাইটগার্ডের উপস্থিতি এবং অফিস কক্ষগুলো তালাবদ্ধ না থাকা, এসব বিষয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
    ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানালেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদ আছে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

  • ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সীমিত সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হতাশার কথা বলেছেন, সেটির ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট।

    বুধবার (১৩ মে) রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত নাইন সামিট ও নর্ডিক অ্যালাইজ সামিট শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের হতাশা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন ন্যাটো প্রধান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমার বার্তা হলো, ইউরোপ তাদের বার্তাটি শুনেছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। সংবাদ সম্মেলনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি উপস্থিত ছিলেন।

    মার্ক রুট বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দুটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো ৩.০ মানে আরও শক্তিশালী ইউরোপ ও আরও শক্তিশালী ন্যাটো। আর শক্তিশালী ইউরোপ ও ন্যাটো মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত শক্তি।

    রুটের বক্তব্যের সমর্থনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোয় সমানুপাতিক অবদান নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ বা দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আপত্তির পর ইউরোপ এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইউরোপ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমরা ইতোমধ্যেই ন্যাটো ৩.০-এর পথে রয়েছি। ৩.৫ প্লাস ১.৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং আমরা সে লক্ষ্য পূরণের ধারাবাহিকতায় আছি।

    এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণ নিয়ে হতাশ হয়ে ট্রাম্প জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের পর ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তৎপরতা শুরু করেছে।

  • আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    বৃহস্পতিবার সকালে বেলা ১১টার কিছু আগে হঠাৎ হাইকোর্ট চত্বরে যান তৃণমূলনেত্রী। আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে আদালত চত্বরে হাজির হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে শুনানি করেন তিনি বলে জানান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

    নির্বাচনের আগে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। এবার নির্বাচনের পর হাইকোর্টে হাজির হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তাকে দেখা গেল আইনজীবীর বেশে। হাইকোর্ট চত্বরে তিনি পৌঁছালে তাকে ঘিরে উৎসুক সমর্থকদের ভিড় জমে।

    হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে লিখেছে, ‘আরও একবার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনো তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

    এদিকে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এসব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”

  • ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

    ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে ভারতের বিমান খাত। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে আগামী জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এনডিটিভি অনলাইন এই তথ্য জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেয়ে আগেভাগেই এই যৌক্তিক সমন্বয় করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সূচি অনুযায়ী, এশিয়ার মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা সাপ্তাহিকভবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
    তবে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সীমিত এই কার্যক্রমের মধ্যেও তারা প্রতি মাসে এক হাজার ২০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
    সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকার রুটে দিল্লি-শিকাগো ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি-সান ফ্রান্সিসকো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। দিল্লি-টরন্টো রুটে জুলাই পর্যন্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৫টি করা হবে, তবে আগস্ট থেকে আবার দৈনিক ফ্লাইট চালু হবে।

    পাশাপাশি, দিল্লি-ভ্যাঙ্কুভার রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭টি থেকে কমিয়ে ৫টি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। ইউরোপীয় রুটে দিল্লি-প্যারিস রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১৪টি থেকে কমিয়ে ৭টিতে আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া কোপেনহেগেন, মিলান, ভিয়েনা, জুরিখ ও রোম রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় দিল্লি-মেলবোর্ন ও দিল্লি-সিডনি রুটে দৈনিক ফ্লাইটের পরিবর্তে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
    তবে দিল্লি-সাংহাই এবং চেন্নাই-সিঙ্গাপুর ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, হো চি মিন সিটি, হ্যানয় ও ঢাকা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

    এনডিটিভি জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি-কাঠমান্ডুতে জুলাই ও আগস্টে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪২টি থেকে কমে ২১টিতে নেমে আসবে। দিল্লি-মালে রুটও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংস্থাটি।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে পুনঃবুকিং, বিনামূল্যে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা রাখা হয়েছে। সহায়তার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার ২৪ ঘণ্টার কন্টাক্ট সেন্টার ও ডিজিটাল সেবা চালু থাকবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে  প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে রাস্তাঘাট বা প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে বলে বুধবার সরকারি এক নির্দেশে বলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত নিয়ম না মানলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ মর্মে বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মূলত গরু, মহিষ, বলদ, বাছুর সহ বিভিন্ন গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশু জবাই দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সক্ষমতা খতিয়ে দেখেই সেই শংসাপত্র দেয়া হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।

    এছাড়া পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনও দুরারোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে।

    দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা দুই সাজাই একসঙ্গে হতে পারে। ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এই ধরনের অপরাধ আদালত গ্রাহ্য হিসেবেই বিবেচিত হবে বলেও জানানো হয়েছে

  • কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের পর্দা উঠছে ১১ জুন, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আসরকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।

    তবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লজিস্টিক নিরাপত্তা ইস্যু।

    ১৩ মে (বুধবার) তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কোয়ারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় দলকে বিদায় জানানো হয়। হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে দলের নতুন জার্সি এবং একটি থিম সং উন্মোচন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র আবেগ দেখা যায়। কেউ কেউ এই সফরকে শুধুই ফুটবল হিসেবে দেখলেও, অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের অংশগ্রহণকেই এক ধরনের প্রতীকী সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে ইরান দল আগামী ১৮ মে তুরস্কের আনতালিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ভিসা ও যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা দুঃখ প্রকাশ করে আলাদা বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে।

    ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং ইরান বিশ্বকাপে যাচ্ছে যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ও চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে।

    তাদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন প্রতিকূলতা অনেক সময় ইরান দলের মধ্যে আরও ঐক্যবদ্ধ ও লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলবে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে “সরাসরি জড়িত” ছিল।

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বৈঠকে এ অভিযোগ তোলেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি মেহর বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আমিরাতের প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐক্যের স্বার্থে তিনি প্রথমে নিজের বক্তব্যে আমিরাতের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পরও আমিরাত কোনো নিন্দা জানায়নি এবং আগ্রাসনের ঘটনায় তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের সাথে এই ব্যয়বহুল ও জনপ্রিয়তাহীন যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাইবেন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গেলেন।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যেমনটা চাইছেন শির কাছ থেকে তেমন সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এক মাস আগে দায়সারা একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কূটনীতিতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। এই যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে, যার চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারকে।

    ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে একজোট হয়ে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

  • ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

    ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

    পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত হয়েছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ভবনে (আইওয়ান-এ-সদর) আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি আফ্রিদির হাতে এ পদক তুলে দেন।

    ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সাফল্যে আফ্রিদির অসামান্য ভূমিকার কথা এ সম্মাননায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বের অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে এ পদকের মাধ্যমে।

    সম্মাননা গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি কেবল তার একার অর্জন নয় বরং পুরো পাকিস্তানি জাতির অর্জন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং অকুণ্ঠ সমর্থনেরই প্রতিফলন এ পদক। উদার মনের এই ক্রিকেটার এ সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন পাকিস্তানের বীর শহীদদের প্রতি।

    তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ পদক উৎসর্গ করছি’।সবশেষে তিনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন।

  • হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    জ্বালানির অবাধ প্রবাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এই জলপথে কোনো টোলও আদায় করা যাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্মত হয়েছেন । বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই নেতা বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন ।

    বৈঠক কেমন হয়েছে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু এক শব্দে বলেছেন, চমৎকার। দ্বিতীয় এক প্রশ্নকারী জানতে চান তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না। এর জবাবে ট্রাম্প তার আগের কথার ধারাবাহিকতায় বলেন, চমৎকার জায়গা, অবিশ্বাস্য, চীন খুব সুন্দর।

    এরপর আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না, সেই সময় ট্রাম্প সরাসরি সামনে তাকিয়ে থাকেন, শিও একইভাবে সামনে তাকিয়ে থাকেন।

    দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফর করছেন ট্রাম্প। গতকাল বুধবার রাতে তিনি বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও বেইজিং ঘুরে যান। তার ওই সফরের পর মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট আর দেশটিতে যাননি।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর ঘোষণা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর ঘোষণা

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না সরকার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক স্তর শেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যেন ১০ বছরের বেশি সময় ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে। সেশনজট কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের জীবনে এসএসসি পাস করতে যেন ১০ বছর স্কুলিং ১০ বছরেই থাকে, ১২ বছরে না যায়। কোনো সেশনজট যেন না হয়। তোমরা যেন পিছিয়ে না পড়। সে লক্ষ্যেই আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তোমাদের স্বার্থে যা প্রয়োজন, সেটাই করা হবে।

    শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু জিপিএ-৫-এর কথা বলব না, শিক্ষার্থীরা কী শিখেছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।’

    এর আগে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ-এ ‘নেট জিরো ক্যাম্পাস’ গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৬০০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অন-গ্রিড ওপেক্স মডেল’ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

  • আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এপ্রিল মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এই ডানহাতি পেসার মোট ৮ উইকেট শিকার করেন। এর আগের মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিনি সমান ৮ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন।

    এই প্রথমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন নাহিদ। এর মাধ্যমে গত বছরের পর আবারও কোনো টাইগার ক্রিকেটার এই সম্মান অর্জন করলেন।

    পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ জানান, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে আইসিসির মাসসেরা হওয়া তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ঘরের মাঠে এমন সাফল্য সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    সিরিজের শুরুতে প্রথম ওয়ানডেতে কিছুটা খরুচে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এই পেসার। ওই ম্যাচে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট শিকার করেন। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।

  • নাহিদ রানার মাথায় আইসিসির মুকুট

    নাহিদ রানার মাথায় আইসিসির মুকুট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বল হাতে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন নাহিদ রানা। গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে আগুন ঝরানো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

    ওমানের জাতিন্দর সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমারকে হারিয়ে এই সম্মানজনক মুকুট জয় করেছেন বাংলাদেশের এই গতি তারকা। রানা এবারই প্রথম আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

    ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মোট ৮টি উইকেট শিকার করেছেন রানা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ৫ উইকেট। এরপর চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন। দাপুটে এই পারফরম্যান্সের সুবাদে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে। নাহিদ রানা কেবল নিউজিল্যান্ড সিরিজেই নয়, এর আগে মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও সমান ৮টি উইকেট নিয়েছিলেন।

    আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত নাহিদ রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ হওয়া সত্যিই দারুণ অনুভূতি। নিজেদের মাঠে এমন পারফরম্যান্স সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। এটি এমন একটি সিরিজ, যা আমি সবসময় মনে রাখবো।’

  • ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আরও অর্থবহ করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউনও উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।

    এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এসময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজিউল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খুব শিগ্‌গির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিটি ক্যাম্পাসে সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

  • তরমুজ কখন খাবেন?

    তরমুজ কখন খাবেন?

    লাইফস্টাইল

    গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রীষ্মকালের মৌসুমি ফল তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এই ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য থাকে এবং মাথা ঘুরে যাওয়ার বা দুর্বলতার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা কমে যায়। বিভিন্ন সময়ে তরমুজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, খাবারের আগে না পরে তরমুজ কখন খেলে বেশি উপকার পাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। খালি পেটে এটি খেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আবার দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা আগে ফলটি খাওয়া যেতে পারে। এটি হজম ব্যবস্থা ভালো করে, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে। ব্যায়ামের পরেও তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে শরীরের পানির র এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়। গ্রীষ্মে দুপুরে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

    খাবারের আগে পরে?
    তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি খেলে পেটও ভর্তি থাকে। খাবারের আগে তরমুজ খেলে পেট শান্ত এবং ঠান্ডা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ সবসময় খাবারের আগে খাওয়া উচিত।

    কখন তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়
    রাতে তরমুজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় বারবার মূত্রত্যাগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্যাস এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর সতেজ থাকে। অনেকেরই ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস আছে, এটা ঠিক নয়। কারণ এটি গলা এবং হজম ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    ওজন কমাতে চাইলে
    যারা ওজন কমাতে চান, তাদের দুপুরে তরমুজ খাওয়া উচিত। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে এবং হালকা অনুভূতি হয়। এতে কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত তরমুজ খেলে ওজন কমানো সহজ হয়ে ওঠে।

    এই ফলগুলোর সাথে তরমুজ খাবেন না
    গরম ফলের সাথে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য ফলের সাথেও তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এর প্রকৃতি শীতল এবং অন্যান্য ফলের প্রকৃতি গরম হতে পারে; অন্য ফলের সাথে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা এবং আঙুরের সাথে তরমুজ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এগুলোর সাথে তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অন্যান্য ফলের সাথে তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি

  • ২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

    ২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

    ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত রুটিন থেকে জানা গেছে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি শুরু হবে ৬ জুন।

    প্রস্তাবিত এ রুটিনটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় কোনো সংশোধনী বা পরিবর্তন করে তাহলে সেগুলো সংশোধন করে রুটিন চূড়ান্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে যৌথভাবে জারিকৃত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

    প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র এবং সহজ বাংলা-১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে। এসএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংগীতসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সময়সূচি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

    SSC 2027-20260514154406

    এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

    ৬ জুন সকালে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ জুলাই। রুটিন অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিদিন দুটি শিফটে অনুষ্ঠিত হবে; সকালের শিফট সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

    সময়সূচি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

    HSC 2027-20260514154407

    শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৬৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৩০৫ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজার ১৬০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাংলা মদসহ কারবারি আটক

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলা মদসহ কারবারি আটক

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ বোতল বাংলা মদসহ কারবারি চান্দু মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়েছে। ১৩ মে বুধবার সকালে শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।

    চান্দ্র মন্ডল সদর উপজেল দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া মৃত শুকর আলীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ৩৬ বোতল কেরুজ বাংলা মদ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় সদর থানার এস আই অনুজ কুমার বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

  • ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে। ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জী অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসাগুলোতে একযোগে এ ছুটি শুরু হবে। তবে শিক্ষার্থীরা কার্যত ২১ মে বৃহস্পতিবার ছুটির আগে শেষ দিনের মত ক্লাসে অংশ নেবেন। ২২ ও ২৩ মে পড়েছে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

    ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান পুনরায় শুরু হবে ৭ জুন রোববার থেকে। এ হিসেবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের ছুটি পাচ্ছে।

    অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসার আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরে ছুটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন রোববার থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষ খুলবে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ২৩ দিনের দীর্ঘ অবকাশ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে।

    এদিকে, রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদেও টানা সাত দিনের অবকাশ পাচ্ছেন দেশের মানুষ। সরকার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

    মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা থাকবে।

  • সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চন্ডিপুল সংলগ্ন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুল এলাকায় এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দক্ষিণ সুরমা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বুধবার (১৩ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, বৃদ্ধের বয়স ৭০ এর বেশি। মুমূর্ষ অবস্থায় ভবঘুরে বৃদ্ধকে পুলিশ রাতে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মৃতের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে আশেপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেউ মৃত ব্যক্তিকে চিনে থাকলে দক্ষিণ সুরমা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

  • নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব কোরবানির ঈদের কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে। ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ। শুধু রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা চুলের স্টাইলের কারণে খামারিরা বেশ পছন্দ করেন। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকে মজা করে মহিষটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এ মহিষটির কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পাইকপাড়া এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। খামারে ঢুকে এ মহিষের সাথে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা।

    খামারের কর্মচারী জুবায়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক গরু আছে। কিন্তু এ মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।

    খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যতে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।

    খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। যা ঈদের কয়েক দিন আগে খামার থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

    খামারের পরিচর্যাকারী আহাদ বলেন, প্রতিদিন ২ বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।

    মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি।

    মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি কোনো বিরল জাত নয়। এটি একটি এলবিনো মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং এমন সাদা বা গোলাপি হয়।

    রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাইহাট বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিহত ওই যুবকের নাম আনিছুর রহমান। তিনি নাকাইহাট বন্দর এলাকার নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাকাইহাট বন্দরের একটি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপার কাজ চলছিল। এ সময় নাকাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান ও তার ভাই আব্দুল মজিদ প্রধানের পক্ষের সাথে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান মণ্ডলের আত্মীয় শাহ আলমের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়েম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান, আব্দুল মজিদ প্রধান, মানিক প্রধান, মেহেদুল প্রধানসহ আরো কয়েকজন।

    গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিছুর রহমান মারা যান।

    ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    এদিকে, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশীদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরির ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার দু’জন হলেন— মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মো: সিরাজুলের ছেলে সৌরভ মিয়া (৩০) ও মো: আবুল কালাম কালু মিয়ার ছেলে মো: জনি (২৫)। বুধবার (১৩ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    বাদীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার বিরাশি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো: আশরাফুল আলমের বাবা আব্দুল মোতালেব জমি কেনার জন্য ৩৫ লাখ টাকা ঘরে রেখে সম্প্রতি হজে চলে যান। আশরাফুলের মায়ের শোবার ঘরে একটি স্টিলের ট্র্যাংকে টাকাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। গত ১ মে সন্ধ্যার দিকে আশরাফুলের মা মোসা: হাছিনা বেগম ঘরে তালা দিয়ে পাশের বাড়িতে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজার তালা ও স্টিলের ট্র্যাংকের তালা ভেঙে চোর ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।

    এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার দু’জনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার সৌরভ ও জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শাহাজাহানপুর থানার এ/২৮ শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় সৌরভ মিয়ার ভাড়া বাসার শোবার ঘরের ভেতর থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে গ্রেফতার সৌরভের খালা শারমিন আক্তার শিখার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চর কুষ্টিয়া গ্রামের গোয়াল ঘরের মাচার নিচ থেকে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার দু’জনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে।

  • হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৭ হাজার ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদে

  • কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    নিজ দলের ভেতর থেকে ওঠা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের বলেছেন, তারা চাইলে দলের নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াই শুরু করতে পারেন।

    লেবার পার্টির বিধি অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে দলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এমপির (৮১ জন) সমর্থন প্রয়োজন। এক বা একাধিক প্রার্থী এই পরিমাণ সমর্থন সংগ্রহ করতে পারলে স্টারমারের বিরুদ্ধে ভোট হবে।

    স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য ইতোমধ্যে ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নেতৃত্ব বদলের জন্য কেউ আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ৮১ জন এমপির স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারবেন- এমন লেবার নেতার সংখ্যা খুব কম। এরপরও সম্ভাব্য তিনজনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তারা হলেন- ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও অ্যাঞ্জেলা রেনার।

    বর্তমানে লেবার পার্টির ভেতর দুটি পক্ষ আছে। যারা দ্রুত নেতৃত্বের পরিবর্তন চান, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষে। অন্যদিকে, যারা সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর দেখতে চান, তাদের পছন্দ গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তরুণ ভোটারদের পছন্দ বিবেচনায় সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রিটিং লেবার পার্টির ডানপন্থী ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে বার্নহ্যাম বিভিন্ন জনমত জরিপে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের আখ্যা পেয়েছেন। তিনি ‘ম্যানচেস্টারিজম’ ধারণার প্রবক্তা। এর মূল বার্তায় ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতন্ত্রের আকাঙক্ষার কথা আছে।

    ব্রিটিশ রাজনীতিতে অ্যাঞ্জেলা রেনারের স্পষ্টভাষী ভাবমূর্তি অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করেছে। পুরনো ঘরানার সমাজতন্ত্রী কর্মীদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। রেনার ম্যানচেস্টারের শহরতলিতে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন। তিনি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। সেখান থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    রাশিয়া নতুন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘সারমাত’ বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র। খবর আল-জাজিরার।

    রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়ে অবহিত করছেন। পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে যুক্ত হবে।

    টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। তার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণ বেশি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, সারমাত সাব-অরবিটাল ফ্লাইট সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। পুতিন আরও বলেন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

    পশ্চিমা বিশ্বে ‘সাটান টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোনো সোভিয়েত যুগের ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০১১ সালে সারমাত প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নানা বাধা আসে। মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির মাত্র একটি সফল পরীক্ষা হয়েছিল। ২০২৪ সালে আরেকটি পরীক্ষার সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

  • ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতের মণিপুর রাজ্যে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তিন গির্জা নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাজ্যের কাংপোকপি জেলায় এই হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    নিহতরা স্থানীয় থাদৌ ব্যাপ্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (টিবিএ) নেতা ছিলেন। তারা হলেন- মণিপুর ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ভি সিটলহাউ। অপর দুজন হলেন-রেভারেন্ড ভি কাইগোলুন এবং যাজক পাওগোউলেন।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চুরাচাঁদপুর জেলার লামকায় একটি টিবিএ সম্মেলনে অংশ নিয়ে দুটি গাড়িতে করে কাংপোকপিতে ফিরছিলেন তারা। পথে সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

    হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ও দুই চালক রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর কাংপোকপি ও আশপাশের কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু হয়। এই সড়কটি মণিপুরকে নাগাল্যান্ড ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম প্রধান পথ।

    এ ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। #

  • গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন গেলেন ট্রাম্প। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের এই সফর। তিনি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেক কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জায়গা পেয়েছেন।

    ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, চীন সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বাণিজ্য। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হবে এমনটাও জানান তিনি।
    এদিকে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্পের চীন সফরের আলোচ্যসূচি বেশ জটিল হবে। কারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পন্ন উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়তি শুল্ক ও প্রযুক্তির পাশাপাশি তাইওয়ান ও ইরান ইস্যু এবারের আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনা সফল না হলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    সৌদি আরব মধ্য মার্চের শেষ দিকে ইরানের ওপর একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই সময়ের আঞ্চলিক সংঘাতে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা হয়। একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা ছিল প্রথমবারের মতো কোনো নিশ্চিত ঘটনা যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালায়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা, বিমানবন্দর এবং তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটে।

    এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র সৌদি আরব নিজেকে আক্রমণের ঝুঁকিতে দেখতে পায়। কারণ মার্কিন নিরাপত্তা ছায়া পুরোপুরি কার্যকর ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান বাহিনীর হামলাগুলো ছিল প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাত। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই দুই উপসাগরীয় দেশের পদক্ষেপে বোঝা যায়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দুই স্তরেই ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার ইরানকে হামলার বিষয়ে অবহিতও করেছিল। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে এবং পরবর্তী পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। এই বিনিময়ের পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমানোর একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা তৈরি হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, সৌদি পাল্টা হামলার পর উত্তেজনা কমানো দুই পক্ষেরই বাস্তববাদী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তার মতে, এটি বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়, বরং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পারস্পরিক স্বার্থের কারণে হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত না হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫-৩১ মার্চের সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। কিন্তু ১-৬ এপ্রিলের মধ্যে এই সংখ্যা নেমে আসে ২৫-এর কিছু বেশি। এর আগে ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে সৌদি আরব ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কারও করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দেশটি সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে যাবে। যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য জরুরি

  • ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে এক রাতের মধ্যে টানা ৯টি মৃদু ভূমিকম্পের ঘটনায় নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর আশপাশে জমে থাকা ভূত্বকীয় চাপ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের পূর্বদিকে পারদিস এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পগুলো সংঘটিত হয়েছে মোশা ফল্টের কাছাকাছি এলাকায়, যা দেশটির অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

    প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন হলেও একই রাতে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।

    মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারি বলেন, এই কম্পনগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের ইঙ্গিত কি না, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস; তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঝুঁকি শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণেই নয়; ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল প্রস্তুতিও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

    তার মতে, তুলনামূলক ছোট ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শহরটির অবকাঠামো অনেক জায়গায় দুর্বল এবং অতিরিক্ত যানজট জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে।

    প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস তেহরানে। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে; এই ৩টি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইরানি বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

    বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরান এখনো ভুলতে পারেনি ২০০৩ সালের বাম ভূমিকম্পের স্মৃতি। সেই দুর্যোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

  • ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, চলতি মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

    গোপন প্রতিবেদনের তথ্য জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের তুলনায় বর্তমানে (সামগ্রিকভাবে) ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র (মোবাইল লঞ্চার) অক্ষত রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান সাগরের উপকূলে ‘ভেলায়াত-৯০’ সামরিক মহড়া চলাকালে ‘নাসর’ নামের একটি দূরপাল্লার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন ‘আংশিক বা পুরোপুরি সচল’। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস ইরানের সামরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়েলস বলেন, ইরান ভালো করেই বোঝে যে তাদের ‘বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়’।

    অলিভিয়া ওয়েলস আরও মন্তব্য করেন, যাঁরা ভাবছেন, ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তাঁরা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের হয়ে কথা বলছেন। হামলা চলাকালে ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ব্যাপকতা অনেক বড় এবং তা ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যুদ্ধকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে ১০০টি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার বিজয় দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ যন্ত্রের সংখ্যা যুদ্ধের আগের চেয়েও বাড়িয়ে নিয়েছে।

    গত শনিবার মুসাভি বলেন, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রুজাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই বাহিনীগুলো আঘাত হানতে প্রস্তুত।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

    ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

    দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধ বা অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ঋণের অর্থ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারেনি।অমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার

    দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এবারের সিদ্ধান্তে লবণযুক্ত গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা এবং খাসির চামড়ায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সচিবালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর ঢাকা মহানগরের ভেতরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। গত বছর গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। সেই হিসেবে এ বছর প্রতি বর্গফুটে দাম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্রিফিংয়ে জানান, কোরবানির পশুর চামড়া যেন অযত্নে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লবণ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চামড়া সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই মাংস ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সারাদেশে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    দেশের চামড়া শিল্পকে রক্ষা এবং অবৈধ পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার চায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় চামড়া শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। এ সময় তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয়।

  • ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    আন্তর্জাতিকঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” বলে দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় আবারও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।

    গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক স্থানে ইরান এখনো মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর করতে পারছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণও সম্ভব হচ্ছে। কেবল তিনটি ঘাঁটি এখনো সম্পূর্ণ অচল রয়েছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—দুই ধরনের অস্ত্রই রয়েছে।

    এছাড়া দেশজুড়ে থাকা ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে বিরোধ

    ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা “চূর্ণবিচূর্ণ” হয়ে গেছে।

    মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি “ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে” এবং দেশটির “সামরিকভাবে আর কিছু অবশিষ্ট নেই”। এপ্রিল মাসে হেগসেথও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে।তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য এসব বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    অস্ত্র মজুত সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধে প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারের বেশি টমাহক এবং ১,৩০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

  • ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের লেমুয়া হাফেজিয়া রাস্তার মাথায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরো একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার বক্তার মুন্সি বাজার সংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের মো: নুরুল হুদার ছেলে নুরুল আলম (৪৬) ও তার ছেলে মোহাম্মদ নীরব (২৫)। নুরুল আলম ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক ছিলেন।

    এছাড়া ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের সিরাজ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, নুরুল আলম মঙ্গলবার সকালে ভাগ্নে আফজালের মোটরসাইকেলে নিজ ছেলে নিরবসহ লেমুয়ায় বোনের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের মোটরসাইকেলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া হাফেজিয়া এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় ইউটার্ন নেয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দাউদকান্দি এক্সপ্রেস বাসের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে তারা তিনজনই পিষ্ট হন।

    তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নিরব ও আফজালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেয়ার পথে নীরবের মৃত্যু হয়।

    ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘রাতে অ্যাম্বুলেন্সে ডিউটি শেষে নুরুল আলম মোটরসাইকেল করে লেমুয়ায় তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে নুরুল আলম ও তার ছেলে নীরবের মৃত্যু হয়।’

    মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথমে একজন এবং পরে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযান চালিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বাড়িতে তল্লাশি করে একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, দুটি বুলেট প্রুফ হেলমেট, এক রাউন্ড তাজা গোলা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

    উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।‘

  • জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের পিয়াইপুর ও বারজানি এলাকার কুশিয়ারা নদীর একাধিক স্পট, বারহাল ইউনিয়নের চক স্লুইস গেইট ও কোনাগ্রাম এলাকার সুরমা নদীর ভাঙন এবং মানিকপুর ইউনিয়নের বাল্লাহ তোপখানা এলাকায় গিয়ে ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

    এর আগের দিন সোমবার (১১ মে) সুরমা নদীর ভাঙনে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপুর-গৌরিপুর, রামপুর ও গোসাইনপুর এলাকা তিনি পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।

    তিনি ভুক্তভোগী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।

    এ সময় তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে তিনি সব সময় রয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

    সংসদ সদস্য আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মাসুদুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রনি দাস, পাউবোর জকিগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ জকিগঞ্জ উপজেলা খেলাফত মজলিস, যুব মজলিস ও ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল আদর্শগ্রামে এ সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা রেডক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

    এ সময় প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে মহিলা কিডস ও তাবু বিতরণ করা হয়।

    বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আবু হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান টিপু হাজরা, তাওহীদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম হাসান ও তারেক আব্দুল্লাহ বাপ্পি প্রমুখ।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এ সময় বলেন, যে সকল পরিবারের বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে আমরা একটি করে ট্রিপল দিয়েছি। এছাড়াও মা-বোনদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কিছু কিডস সামগ্রী প্রদান করেছি।

  • মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    ফেনীতে নিজ কক্ষের ভেতরে ছুরি হাতে দুই শিশুকন্যাকে (বয়স ১০ বছর ও ২ বছর) আটকে রাখা এক মানসিক অসুস্থ মাকে ঠেকিয়ে শিশুদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক প্রতিবেশীর ফোনকলের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মে) রাতে ফেনী সদর থানার মধ্যম মধুপুর এলাকায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

    সোমবার রাতে মধ্যম মধুপুর এলাকার এক বাসিন্দা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার প্রতিবেশী এক নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি তার দুই শিশুকন্যাকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন এবং হাতে ছুরি নিয়ে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। প্রতিবেশীরা অনেক চেষ্টা করেও ঘরের দরজা খুলতে ব্যর্থ হন। ভেতর থেকে শিশুদের আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত পুলিশের সহায়তা চান।

    ৯৯৯ কল সেন্টার থেকে কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল জান্নাত এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফেনী সদর থানা ও ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে অবহিত করেন। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই ইন্দু জ্যোতি রায়।

    সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফেনী সদর থানার একটি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তারা কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মা’কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১০ বছর ও দুই বছর বয়সী শিশু দু’টিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

  • প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাও বদলাতে হবে। জ্ঞান এখন আর একক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়েই নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সঠিক পরিকল্পনা ও মেধার সঠিক ব্যবহার করে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, মেধা পাচার রোধ করে দেশের ভেতরেই মেধা লালন ও বিকাশ করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয় এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে।

    তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হবে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড’— এই মন্তব্য তুলে ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেশি। এর অন্যতম কারণ একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করা।

    সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে যুগোপযোগী করার কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

    তিনি আরও জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ দক্ষতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যাবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডাটা, ন্যানো টেকনোলজি ও পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। এসব প্রযুক্তি যেমন প্রচলিত চাকরির বাজারে পরিবর্তন আনছে, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের চর্চা আর একক কোনো বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটছে। ফলে জ্ঞানের পরিধি আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে

    বক্তব্যে ব্রিটিশ লেখক ও ডিজিটাল বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট টম উইন-এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজস্ব ট্যাক্সি নেই, ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না, আলিবাবার কোনো মজুত পণ্য নেই এবং এয়ারবিএনবির নিজস্ব রিয়েল এস্টেট নেই। তারা মূলত প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’ হিসেবে কাজ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

    বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে, তবে একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধও ধরে রাখতে হবে।

    এ বিষয়ে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পদত্যাগ দিয়ে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত হয়েছে উপউপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে। ধারাবাহিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে একধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাস কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। আর এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

    তিনি জানান, দায়িত্বের একটি পর্যায় শেষ হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য জায়গা করে দেওয়াই সমীচীন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২৭ আগস্ট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সায়মা হক বিদিশা এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর বিশ্ববিদ্যালয় এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই সময়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক।

    তার পদত্যাগের পর চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)-কে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের পরদিনই সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামীও পদত্যাগ করেছেন। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শুধু শীর্ষ পর্যায়েই নয়, রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতোমধ্যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা বদলি, পদায়ন এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

    একচেটিয়া রাজনৈতিক মেরূকরণে উদ্বেগ

    এদিকে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনে একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একচেটিয়া স্থলাভিষিক্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরূকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে আসীন হন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক একটি একমুখী ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে বহুমাত্রিক মত, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। অন্যথায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    তিনি বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন তারা স্বেচ্ছায় করেছেন এবং কাউকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রশাসনেরই নিজস্ব কাজের ধরন থাকে। যাদের সঙ্গে কাজ করলে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব, তাদেরই বেছে নেওয়া হয়।’

  • দালাল ও চাঁদাবাজদের কবলে বাজার; বিরোধী দলীয় নেতা

    দালাল ও চাঁদাবাজদের কবলে বাজার; বিরোধী দলীয় নেতা

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের কারণেই দেশের বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তৈরি করা হচ্ছে, যার চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।

    বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জন্য বাজার পরিস্থিতি সহনীয় করতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দল সোচ্চার থাকবে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের নীলনকশা ফাঁস করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণতি।

    সোমবার (১১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আল জাজিরার অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালায়’ সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটই সাম্প্রতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমরা এখন পুরো অঞ্চলের বড় ধরনের পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

    শেখ হামাদ জানান, গত বছরই তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং সামরিক হামলা এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের একটি ‘কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ কাজ করেছে। ১৯৯০–এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমল থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘ভ্রম’ দেখিয়ে রাজি করাতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, যুদ্ধটি হবে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি সরকারের পতন হবে।

    শেখ হামাদ বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ‘জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট’ এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ ধারণা প্রচার করছেন। ইসরায়েলের ডানপন্থিদের এই পরিকল্পনায় প্রতিবেশী আরব ভূখণ্ড পর্যন্ত দেশের সীমানা সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে।

  • সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিনভর মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ।গত রোববার রাত থেকে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    সংগঠনের পক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাবুল মোল্লা জানান, সন্ধ্যা নামলেই আমাদের এলাকার নির্জন স্থানগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে যুব সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় যুব সমাজ ‘ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠন’ এর ব্যানারে মাদক ও অপরাধবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বাবুল মোল্লা আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে এলে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সাথে তিনি এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

    সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

    সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার লৌহজং হলপট্টি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় শণাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বোরহান-উল- ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টায় লৌহজং হলপট্টি এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ শেষে রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ বছর হতে পারে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান ।

    এদিকে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।

    এ,আর

  • শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কোনো মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। রোববার (১০ মে) রাতে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদকের সাথে যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে কিংবা অন্য কোনো দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কোনো পরিচয়, কোনো দল, কোনো ব্যক্তি বা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কিছুই কাজ হবে না। আমি হানজালা ওয়াদা দিচ্ছি, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিবচরের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যার যার জায়গা থেকে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিন। কেউ যদি মাদকসহ কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, আমি নিজে তাকে পুরস্কৃত করব, ইনশাল্লাহ। সে পুরস্কার পেয়ে খুশি হবে, আমি এটুকু বলতে পারি।’

  • কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির নতুন মন্ত্রীসভা।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শপথ নেওয়ার পরে সোমবারই বসেছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ৪৫ দিনের মধ্যে।

    মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং যে ভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে।ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।

    নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা বিএসএফকে দিচ্ছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই অভিযোগ তোলেন।

    অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের ক্ষেত্রে বলে আসছিল যে, সীমান্ত আমাদের বিষয় নয়, কেন্দ্র সরকারের বিষয়। নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বাদ গিয়েছিল প্রায় ৯১ লাখ নাম। কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ বহু বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন এই বাদ যাওয়া সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

  • পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    আর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মাত্র চার দিনে (৪ মে থেকে ৭ মে) রাজ্যের অন্তত ৮টি জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩৪টি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। কোচবিহার থেকে শুরু করে হাওড়া, বারাসাত, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এমনকি কলকাতা মেট্রো অঞ্চলেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মসজিদ, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম মালিকানাধীন হোটেলসহ প্রায় ৫৪টি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন। এ সময় হামলাকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় সংখ্যালঘুদের এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

    আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বারাসাতে দুটি হোটেল পুড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি এবং গবাদি পশুর হাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুলডোজার মিছিল বের করে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বরুনা এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রফিকুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন।

    বিচার চলার সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিল্লাল হোসেনের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

    সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে।

    অপরদিকে, বিল্লাল হোসেন খাঁ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজনই বিচারে এসে অতর্কিত হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’

    রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’