সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সকল প্রতিনিধিসহ বিজয়ী সবাইকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে শুধু শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করা হলেও বিজয়ী সকলের সাফল্য কামনা করেছেন হাসিনা।

  • হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগটি ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১ হাজার ৪৯৪ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২১২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭১০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৮২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৯০ জন।

    এছাড়াও ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৮৬২ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫২ শিশু।

  • ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ যখন বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে নাভিশ্বাস তুলছে, তখন কিছু বহুজাতিক কোম্পানি এই অস্থিরতাকে পুঁজি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড মুনাফা ঘরে তুলছে।

    বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি, ব্যাংক ও প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভাবনীয় আয় করেছে।

    জ্বালানি খাতে ইউরোপীয় তেল জায়ান্টরা এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, যার সুযোগ নিয়েছে বিপি এবং শেলের মতো কোম্পানিগুলো।

    বছরের প্রথম তিন মাসে বিপি-র মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে শেল ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং টোটাল এনার্জি ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে মার্কিন জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও তারা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে এবং তেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে ভবিষ্যতে আরও বড় মুনাফার আশা করছে।

    আর্থিক খাতেও এই যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। শেয়ার ও বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা এবং নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বড় ব্যাংকগুলোর আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। জেপি মর্গান ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ১১.৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যা ব্যাংকটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রান্তিক আয়।

    গোল্ডম্যান স্যাকস এবং মরগান স্ট্যানলির মতো বড় ছয়টি মার্কিন ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। মূলত বাজারের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ধুম বা ট্রেডিং ভলিউম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এই বিশাল অংকের কমিশন ও মুনাফা পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা বা সমরাস্ত্র খাত বরাবরের মতোই এই যুদ্ধে বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মোকাবিলা প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে। বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের মতো বড় ঠিকাদাররা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নতুন করে পূর্ণ করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। সমরাস্ত্র নির্মাতারা একে তাদের ব্যবসার জন্য একটি সহায়ক প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছে।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যুদ্ধ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল সেক্টরকেও গতিশীল করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ থেকে বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।

    ফ্লোরিডা ভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জি বা ডেনমার্কের ভেস্টাসের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে সৌর প্যানেলের বিক্রি ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং পেট্রোলের উচ্চমূল্যের কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক। সব মিলিয়ে যেখানে সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের উত্তাপ বড় কর্পোরেশনগুলোর সিন্দুকে বিলিয়ন ডলারের জোগান দিচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

    শুক্রবার (৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে।

    স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে ৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন।

    এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।

  • হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা এবং আগাম ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা ২০১৮ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ ঘাটতি। একই সঙ্গে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার অর্থনৈতিক অভিঘাত কমাতে সরকার আগেভাগেই অবকাঠামো উন্নয়ন ও খাদ্য আমদানিসংক্রান্ত কিছু ব্যয় এগিয়ে আনে। এই অতিরিক্ত ও ত্বরান্বিত ব্যয়ই মূলত বাজেট ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ।

    সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটি লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি পরিবহন ও লজিস্টিক খাতেও নতুন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করা যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জ্বালানি পরিবহন অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির পথ বেছে নিয়েছে, যদিও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দুই দেশ যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটল।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান এই সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হামলার মুখে পড়লেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই প্রণালি পার হয়েছে।

    তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনায়াসেই ধ্বংস করেছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে সই না করলে আরো কঠোর হামলা চালানো হবে। তবে এত কিছুর পরেও যুদ্ধবিরতি এখনো ‘অক্ষত’ আছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে ৩০ দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে মতবিরোধই এই চুক্তির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

  • বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে চমক দেখিয়েছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা লেবার পার্টি। স্থানীয় নির্বাচনে সফলতায় ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি। তবে দেশটিতে লেবার শাসনের মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজনীতির মাঠের চিত্র পাল্টে গেলো।লেবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বৃটেনের জনগণ। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। ৭ই মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ভোট গণনার প্রাথমিক ফল হতাশ করেছে লেবার পার্টিকে। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে।

    লেবার ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত বিভিন্ন কাউন্সিলে লেবারের আসন কমেছ। অন্যদিকে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেছে অভিবাসী বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজের রিফর্ম রিফর্ম ইউকে।
    অনেকেই মনে করছেন, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকের উত্থান বৃটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রাপ্ত ফলাফলে প্রথম স্থানে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে ও লেবার রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
    নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে স্টারমার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ পরিবর্তন আশা করলেও সেই পরিবর্তন এখনও অনুভব করছে না।
    স্টারমারের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সরকার ও লেবার পার্টির জন্য বড় বার্তা বহন করছে।

    তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। দেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ বাড়ছে এবং এটি জাতীয় ঐক্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এদিকে স্থানীয় নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়া রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, এই ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।

  • শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিকেলে বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করছি।

    নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর অমিত শাহ আরও বলেন, নতুন সরকার সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করব ।তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    একই সঙ্গে রাজ্যে এই ঐতিহাসিক জনরায় অর্জনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা সকল বিজেপি কর্মীকেও ধন্যবাদ জানান অমিত শাহ। এদিন বিশ্বভঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে বিজয়ী ২০৭ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা মনোনিত করা হয়। নব-নির্বাচিত দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লোকভবনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল টি এন রবির সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি সমস্ত বিধায়কের স্বাক্ষর করা সম্মতিপত্র দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানাবেন। আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির নেতৃত্ব ও ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে শুভেন্দু শপথ নেবেন
    এ/জেড

  • ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু ফারহান আহমেদ শুক্রবার (৮ মে) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে ধামশুর মামারিশপুর সড়কে হালিমুন্নেছা চৌধুরানী বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় গুরুতর আহত হয় সে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশুর (উত্তর পাড়ার) গ্রামের লিটন আহমেদের ছেলে স্থানীয় হলিব্রাইড কিন্ডারগার্টেনের প্লে গ্রুপের ছাত্র ফারহান আহমেদ বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের সাথে হেঁটে তার স্কুলে যাচ্ছিলো। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছলে শিশুটি মায়ের হাত ছেড়ে দৌড়ে স্কুলে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত শিশুর বাবা লিটন আহমেদের বন্ধু নাহিদ।

  • মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদকাসক্ত এক যুবকের হামলায় তাঁর বাবা ও স্ত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাবাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইমামুল (৩০)। তিনি কালিহালা গ্রামের আবুল হাসেমের (৬০) ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও আবুল হাসেমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রী, মা–বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালান। গতকাল গভীর রাতে স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা চান ইমামুল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় ইমামুল।

    ওই সময় ইমামুলকে থামাতে যান তাঁর বাবা আবুল হাসেম। এ সময় হাসেমকেও মারধর করেন ইমামুল। পরে স্থানীয় লোকজন হাসেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

    আবুল হাসেম বলেন, ‘একটি ঘর থেকে দা এনে ইমামুল আমাকে কোপাতে চায়। প্রাণভয়ে আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে সে দরজা ভেঙে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার হাতের আঙুল কেটে যায়। ইমামুলের কারণে আমরা পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ইমামুলের দুই শিশুসন্তান আছে। তার ভয়ে শিশুরা বেশির ভাগ সময় তাদের মামার বাড়িতে থাকে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ইমামুল অটোরিকশাসহ জমিজমা অনেক কিছুই নষ্ট করেছে, এখন আমি নিঃস্ব।’
    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমামুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন।

  • মাদারগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    মাদারগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশে ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও কল্যাণমুখী একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাদারগঞ্জ পৌর শাখার উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদারগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আতিকুর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তার।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দেশে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা জরুরি। একটি দুর্নীতিমুক্ত এবং আদর্শিক সমাজ গঠনে জামায়াতের কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    এ ছাড়া কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাসহ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মী সমাবেশ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মজিবুর রহমান আজাদী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার আদায় এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন, সাবেক আমির শাহিন আক্তার খান পিটার এবং কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল আজিজ জামালী। সমাবেশে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

  • শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে সেলিম ফকির (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) ভোরে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সেলিম ফকির কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের পীলখঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে ছাতুয়া গ্রামের গোপাল চন্দ্রের বাড়িতে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে সেলিম ফকিরকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতার মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    গৃহকর্তার পুত্রবধূ পূর্ণিমা সাহা জানান, সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে।

    গৃহকর্তা গোপাল চন্দ্র জানান, তার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, নিহত সেলিম ফকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে মাদারগঞ্জে পোল্যান্ডের তরুণী

    সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে মাদারগঞ্জে পোল্যান্ডের তরুণী

    কাতলামারী এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। সেখানে পোল্যান্ডের নাগরিক ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ ছেড়ে স্বামীর হাত ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জে এসেছেন পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স।

    শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে নবদম্পতির আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।

    জানা গেছে, কাতলামারী এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। সেখানে পোল্যান্ডের নাগরিক ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক গভীর হলে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ জন্মভূমি মাদারগঞ্জে ফেরেন ইসমাইল। বিদেশিনী বধূকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে বাড়িতে। অনেকেই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করেন।

    স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির দুই মানুষের ভালোবাসার এই গল্প এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পোল্যান্ড প্রবাসী ছেলের বিদেশিনী স্ত্রীকে পরিবারের সদস্যরাও আন্তরিকভাবে বরণ করে নিয়েছেন।

    তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। এ কারণে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, বিদেশিনী পুত্রবধূকে ঘিরে কাতলামারী গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

  • চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কুমিল্লার চান্দিনায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৮ মে) ভোরে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন— চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গাড়ি চালক মো: রুবেল (২৮) ও একই এলাকার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: জামাল (৪০)।

    ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পার্লারের কাজ শিখে মহিচাইল বাজারে পার্লারের ব্যবসা করছেন। বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তাতেও ওই নারী কর্ণপাত না করায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে তারা ওই নারী উদ্যোক্তার বিউটি পার্লারে গিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং শ্লীলতাহানির ভিডিও মোবাইলফোনে ধারণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

    চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা মামলা গ্রহণ করে বিশেষ অভিযানে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও মর্যাদাহানির জন্য ভীতি প্রদর্শনসহ যৌন নিপীড়নের অপরাধে তাদের আটক করি। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পাইকগাছায় লতায় সড়ক উন্নয়ন কাজে ধীরগতিতে জনদুর্ভোগ!

    পাইকগাছায় লতায় সড়ক উন্নয়ন কাজে ধীরগতিতে জনদুর্ভোগ!

    খুলনার পাইকগাছার দুর্গম পল্লী লতার শংকরদানা খেঁয়াঘাট (নির্মাণাধীন ব্রিজ) কাঠামারী বাজার ভায়া তেঁতুলতলা কারপেটিং সড়ক নির্মাাণে ঠিকাদারের অবহেলা ও শম্ভুক গতিতে এক পশলা বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুলনার পাইকগাছার দুর্গম পল্লী লতার শংকরদানা খেঁয়াঘাট (নির্মাণাধীন ব্রিজ) কাঠামারী বাজার ভায়া তেঁতুলতলা কারপেটিং সড়ক নির্মাাণে ঠিকাদারের অবহেলা ও শম্ভুক গতিতে এক পশলা বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৯শ’ ৪০ মিটার কারপেটিং রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরুতে বেড কার্টিয়ের পর কিছু অংশে বালু ফিলিং করলেও সিংহভাগ ফেলে রাখায় চলতি বর্ষা মেসৈুমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সড়কে সরু খালের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অতি দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, আম্ফান প্রকল্পের আওতায় পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের শংকরদানা খেঁয়াঘাট (নির্মাণধীন ব্রিজ) হতে তেঁতুলতলা হয়ে কাঁঠামারি বাজার অভিমুখে ২ হাজার ৯শ’ ৪০ মিটার কারপেটিং রাস্তা নির্মাণে ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। টেন্ডারে প্রকল্পটির কার্যাদেশ পেয়ে চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছে।

    স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পে বেড কার্টিয়ের পর একাংশে বালুভরাট করলেও অপর অংশ ফেলে রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন প্রকল্পটি ফেলে রাখায় বৃষ্টি ও জোয়ারে স্লুইচগেট’র পানি চুইয়ে রাস্তার বেডে ঢুকে পরিণত হয়েছে সরু খালে। এ অবস্থায় বিস্তির্ণ জনপদের স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ রীতিমতো চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    এ ব্যাপারে প্রকল্প এলাকায় অবস্থানরত ঠিকাদারের রোলার চালক টিটন বিশ্বাস জানান, তারা প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় প্রকল্প অভ্যন্তরে রোলার ঢুকাতে পারছেন না, বিধায় কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বিজন কুমার হালদার ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, রাস্তার কিছু অংশে বালু ভরাট করা হলেও বৃষ্টিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় সেখানে রোলার ঢুকতে পারছে না বিধায় কাজে অসুবিধা হচ্ছে।

    এ বিষয় পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মানুষের ভোগান্তি যেন না হয় সেজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পানি নিষ্কাশনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। পরিবেশ ভাল হলে প্রকল্প কাজ অতি দ্রুত এগিয়ে নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

  • মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মহেশখালী থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফজল কাদের বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।নওগাঁর রাণীনগরে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ওই মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (৪০) গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

    মামলার বরাত দিয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

    পরে ওই শিশু বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি জানায়। এছাড়া শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর পরিবারের লোকজন থানায় এসে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার রাজ্জাককে শুক্রবার (৮ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরেরচৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

    জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চৌগাছা শহরকে পৌরসভায় উন্নিত করা হয়। নতুন হলেও খুব দ্রুত পৌরসভার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২২ সালের পর থেকে এ শহরের সড়কসহ সকল উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে অন্তবর্তী সরকারের সময় ও পৌরসভার সকল উন্নয়ন কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ কয়েক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার উন্নয়ন কাজে কোনো গতি আসেনি।

    চৌগাছা পৌরসভায় মূলত চারটি বড় ও ব্যস্ত সড়ক রয়েছে। এ সড়ক গুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এগুলো হলো চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়ক, চৌগাছা মহেশপুর সড়ক, চৌগাছা শার্শা সড়ক ও চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়ক। এ সব সড়কের পৌরসভার বাইরের অংশটুকু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সংস্কার করলেও পৌরসভার অংশটুকু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন আর প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

    পৌরবাসী সড়ক সংস্কারের দাবি নিয়ে পৌরকর্তৃপক্ষের নিকট বার বার ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এ চারটি সড়ক ছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সড়ক, বেড়বাড়ি পাঁচনামনা সড়ক, বাকপাড়া সড়ক, বিশ্বাসপাড়া সড়ক, কারিগর পাড়া সড়কসহ পৌর এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।

    পৌর শহরের বাসিন্দা পাশাপোল কলেজের ইংরেজী প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘পৌর শহরের রাস্তাঘাটের এই বেহাল অবস্থার কারণে পৌরবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।’

    স্থানীয় সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অনেক রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে পৌরবাসীর ক্ষোভ ও অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তাগুলো নিয়ে আমরা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। কি কারণে এসব রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। আমার বাসায় যাওয়ার রাস্তাটাও একেবারে ভেঙেচুরে গেছে।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে গেছে। আমাদের দাবি অতি দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করা হোক।’

    পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলো

    কোন সময়ই এত খারাপ ছিল না বর্তমানে পৌরবাসী চলাচলে চরম সমস্যার মধ্যে আছে। রাস্তাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার হওয়া দরকার।’

    সাবেক প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভায় এখন নির্বাচিত মেয়র না থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। যেকারণে রাস্তাঘাটসহ কোনো সেক্টরই ঠিকঠাকমতো চলছে না।’

    তিনি অতিদ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, পৌর প্রশাসক মহোদয় দীর্ঘদিন যাবত না থাকায় আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। সম্প্রতি প্রশাসক যোগদান করেছেন এবার রাস্তাগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার নয়া প্রশাসক জি এম এ মুনীব বলেন, ‘আমি সবেমাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছি। আশা করছি পর্যায়ক্রমে অতিদ্রুত পৌর শহরের সড়কসহ সকল উন্নয় কাজ শুরু করা হবে।’

    সকল উন্নয়ন কাজে পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

  • মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার

    মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে মেহেরপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান মুঠোফোনে জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেহেরপুর সীমান্তে আমাদের টহল জোরদার করেছি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সন্দেহজনক চলাচল দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এছাড়া সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে দিন-রাত নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা এড়াতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
    সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনসাধারণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলায় মোট ৬৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির বিওপি ক্যাম্প রয়েছে ১৮ টি।

  • পে-স্কেলে বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ

    পে-স্কেলে বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ

    জাতীয় বেতন কমিশনের নতুন সুপারিশে সরকারি পেনশনভোগীদের জন্য আসছে বড় সুখবর। প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে কিছু পেনশনধারীর মাসিক পেনশন প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে বৈশাখী ভাতা ও টিফিন ভাতার হারও।

    জানা গেছে, যাদের মাসিক ২০ হাজার টাকার কম, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রচলিত মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে মাসিক ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।

    প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে ভাতাগুলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে এসব সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে তিন ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

  • হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২ জন ছাড়াও বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • প্রাথমিকের অর্ন্তভুক্তি হচ্ছে ইবতেদায়ি মাদরাসা: গণশিক্ষা মন্ত্রী

    প্রাথমিকের অর্ন্তভুক্তি হচ্ছে ইবতেদায়ি মাদরাসা: গণশিক্ষা মন্ত্রী

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রাথমিকের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, তবে এই মুহূর্তেই আমরা এই কার্যক্রমটি শুরু করছি না কারণ হলো আমাদের নিজেদেরও গোছানোর আছে। গত কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেক মেরামতের কাজ আছে। এই মেরামতের কাজগুলো হাতে নেওয়ার অগে আরও বড় বড় দায়িত্ব হাতে নেওয়া খুব মুশকিল।

    তিনি আরও বলেন, তাই আমরা আগে একটা একটা করে মেরামতের চেষ্টা করছি। তবে এটুকু নিশ্চিত করছি আগামী দিনগুলোতে আন্ডার টেন ইয়ার ওল্ড সব এডুকেশন আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনব মানে সিমিলার কারিকুলাম স্ট্যান্ডার্ড, সিমিলার স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসার কাজ করছি এবং আগামীতে এটা হবে ইনশাআল্লাহ।

  • পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারো স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সদ্য প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক নবনির্বাচিত বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিধায়কদের (সংসদ সদস্য) সম্পত্তির পরিমাণও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এডিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৩। সব মিলিয়ে ১৯০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা মোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

    এডিআর জানিয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি মামলা বলতে এমন অপরাধ বোঝানো হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর বা তার বেশি, অথবা যেগুলো অজামিনযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি এবং সরকারি তহবিল সংক্রান্ত অপরাধ।

    রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। ৫৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নারী সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কের সংখ্যা ৬৩। এদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৬ সালের দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্লেষণ করা বিজেপির ২০৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৪১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ২৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩১ শতাংশের বিরুদ্ধে এমন মামলা রয়েছে।

    এডিআর আরো জানিয়েছে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সব জয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধেই গুরুতর মামলা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই জয়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা নেই।

    অপরাধমূলক মামলার পাশাপাশি বিধায়কদের সম্পত্তির পরিমাণও নজর কেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯২ জনের মধ্যে ১৭৮ জন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটির বেশি। বর্তমানে সব বিধায়কের মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। গড় সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ কোটি।

    দল অনুযায়ী সম্পত্তির গড় হিসাবেও পার্থক্য দেখা গেছে। তৃণমূল বিধায়কদের গড় সম্পত্তি ৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজেপির ক্ষেত্রে তা ২ দশমিক ৯ কোটি। অন্যদিকে কংগ্রেসের দুই বিধায়কের গড় সম্পত্তি সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা।

    রিপোর্টে বিজেপি নেতা দিলিপ সাহার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ সম্পত্তির ঘোষণা করেছেন, যার পরিমাণ ৪৩ কোটিরও বেশি। এছাড়া, টিএমসির জাকির হোসেনের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩৩ কোটিরও বেশি বলে অন্য রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    পুনর্নির্বাচিত ১০২ জন বিধায়কের সম্পত্তির হিসাব বিশ্লেষণ করে এডিআর জানিয়েছে, তাদের গড় সম্পত্তি ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে গড় সম্পত্তি ছিল ২ দশমিক ৩ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ কোটি টাকায়।

    নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছবি উঠে আসেনি। ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩৭ জন মহিলা, যা মোটের মাত্র ১৩ শতাংশ। আগের বিধানসভায় এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নানা চিত্র উঠে এসেছে। এডিআর জানিয়েছে, ৬৩ শতাংশ বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার বেশি। ৩২ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। এছাড়া একজন বিধায়ক নিজেকে নিরক্ষর বলে ঘোষণা করেছেন।

    এডিআরের এই রিপোর্ট রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে যেমন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কদের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় আরো কড়াকড়ি আনা এবং অপরাধমূলক পটভূমি থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে ভোটারদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

  • ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।’

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

    ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে এই কঠোর বক্তব্য দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।

    গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার যে অধ্যায় শেষ হয়, পাকিস্তান সেটিকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

    এদিনের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশবাসীকে ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তির শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহু-মাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কী হয়েছিল তা নিয়ে খুব বেশি কথা বলব না। বরং ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময় নিয়ে বেশি আলোচনা করব’।

    তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতের ‘কৌশলগত পরিণতি’ তুলে ধরা হবে।

    আইএসপিআর প্রধান বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত পরিণতি রয়েছে। এর প্রথমটি হলো— পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। তার ভাষায়, কোনও প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পেহেলগাম ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি।

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘(পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার) প্রমাণ কোথায়?’। এরপর তিনি বলেন, ‘কেউ এটা বিশ্বাস করে না। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না’। তিনি বলেন, দ্বিতীয় কৌশলগত পরিণতি হলো— পুরো অঞ্চলে পাকিস্তানের ‘নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দূত হলো পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব।’

    তৃতীয় কৌশলগত পরিণতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ’ ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের সামরিক বাহিনী আগে পেশাদার ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তা রাজনীতিকরণ হয়েছে।’

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ভারতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য দেখে মনে হয় তারা ‘যুদ্ধবাজ’। তার মতে, সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং রাজনীতির সামরিকীকরণ ‘বিপজ্জনক’।

    তিনি দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের দমন-পীড়ন। তার ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ ও অহংকার থেকে আসে’। তিনি বলেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করতে চায় না। তাই তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে— দেশটি ভারতে সন্ত্রাসবাদে জড়িত।

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় যে সেখানে জনসংখ্যার চিত্র বদলে দেয়া হবে’। তিনি আবারও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। এমনকি নিজেদের দেশেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর অন্যদের দোষারোপ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে ভারত কীভাবে এসব ভণ্ডামিপূর্ণ কাজ করে। পঞ্চম কৌশলগত পরিণতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমের আসল চেহারা এবং তাদের তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা’ প্রকাশ পেয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গিয়েছিল। এরপর অক্টোবর মাসে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এর পর ঘটনাগুলো কমে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের ভূমিকা রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হকে শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত কাকে ফোন করেছিল, দেখেছেন? আফগান তালেবান সরকারের তথাকথিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।’

  • পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন। তিনি ফিতা কেটে ও ধান-চাল মাপার মাধ্যমে এই সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৪০০ কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ২০০ টন ধান এবং উপজেলার একটি অটোরাইসমিলসহ নয়টি হাসকিং মিল থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে দুই হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জেসমিন আক্তার জানান, বর্তমানে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে মানসম্মত ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধান এবং চাল সংগ্রহে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যাতে কোনো অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিনে তিনি।

    তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে সারাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হাওর এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন।’ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কৃষকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নাজমুন নাহার এবং বিভিন্ন হাসকিং মিলের মালিকসহ সাধারণ কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

  • যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শার নাভারণ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ, উৎপাদনের তারিখবিহীন ও অনুমোদনহীন রং ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিসমিল্লাহ স্টোরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোরের সদস্যরা।

    ঠিকানা বিহীন একটি ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা এসব শিশু খাদ্য দীর্ঘদিন ধরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনিরাপদ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়।

    ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা জানান, এসব খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুরা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

    পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৫ ধারায় আরো ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।

    এ সময় শার্শা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

  • সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনী অঞ্চলে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ লক্ষ্যে বেজা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বেজার নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও সরকারের যুগ্ম সচিব ড. জুলিয়া মঈন এবং বিপিডিবির সচিব আফরোজা সুলতানা।

    বেজা বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারি অব্যবহৃত জমিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওনড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিজ আন্ডার পিপিপি মডালিটি, ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গত ৭ এপ্রিল নতুন এ গাইডলাইন অনুমোদন দেয় সরকার।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে চলতি বছরের ২ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে বেজার জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিকে নতুন গাইডলাইনের আওতায় একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ‘কন্ট্র্যাক্টিং অথরিটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, জমির মালিক সংস্থা হিসেবে থাকবে বেজা।

    বেজার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। একইসাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাবনা, বিনিয়োগ আগ্রহ ও অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে শিগগিরই একটি ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা আয়োজন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বেজা, বিপিডিবি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে কারাগারে যাওয়ার ৬০ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি এবং পরবর্তীতে ঢাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল ৩টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক থেকে তিনি বের হন। এর আগে জেল গেটে তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে নিতে অপেক্ষায় ছিলেন।

    ইমি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তিনি জামিন পান। আইনি জটিলতার কারণে সাতদিন পর মুক্ত হন তিনি।

    চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ ইমি ও আরেকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন রোববার আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

  • ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে যেসব মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব মন্তব্য দেখা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’

    এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (৬ মে) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশা করেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব ধরনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

  • শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    আগামী ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক ভিডিও বার্তায় তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।

    হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখতে সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। সরকার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি আমরা যেন অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বা বা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করি, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি সংকটের কারণে গত ৩ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেয় সরকার। এরপর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ৫ এপ্রিল থেকে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দোকান বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা করা হয়।

  • ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছেন।

    নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি তাঁর স্ত্রী আফিয়া ঝুমুরকে (৩৪) নিয়ে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের প্রথম লেনে বসবাস করতেন। তিনি লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    শহিদুলের স্ত্রী আফিয়া ঝুমুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা একসঙ্গে খাবার খান। পরে শহিদুল ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে কল করে জানান, তাঁর মায়ের জন্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন। সেগুলো দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং কাজ শেষে রাত ৯টা বা ১০টার মধ্যে শহরের বাসায় ফিরবেন। রাত নয়টার দিকে শহিদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তাঁর বড় বোন শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মুঠোফোন চার্জে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। রাত গভীর হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্ত্রী আফিয়া সদর থানায় জিডি করেন।

    আফিয়া ঝুমুর আরও জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে এসে স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে নেন শহিদুল ইসলাম। বাবু ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। পরে নিজের ব্যবহৃত দুটি ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘর থেকে বের হন শহিদুল। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোন দুটি রেখে বের হয়ে যান।

    মোটরসাইকেলচালক বাবু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শহিদুল ইসলামকে মোটরসাইকেলে করে লোহালিয়া সেতুর ঢালে পৌঁছে দেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকালে আফিয়া ঝুমুর নামে এক নারী তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম লোহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি নিজেই ফেসবুকে “উড়াল দেব আকাশে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি।’

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আসন্ন শীতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইউরোপ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    ইউরোপের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত নিজেদের বাইরে অন্য দেশের জন্য হরমুজ প্রণালির তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আটকে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।

    এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি মূল্য আরও বাড়তে পারে এবং শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

  • ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে সুযোগ খুজছে ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য সমঝোতা কেবল সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। তালিকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবারও আক্রমণ শুরু করার সুযোগ খুঁজছে।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

    দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

    দিনাজপুরে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রদলের অপর একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে।দিনাজপুরে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রদলের অপর একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সমর্থক নেতাকর্মীরা নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে শহরের অ্যাকাডেমি স্কুল প্রাঙ্গণ হতে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মডার্ণ মোড় হয়ে লিলি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা লিলিরমোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ও টায়ার আগুন জ্বালিয়ে নবঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং প্রতিবাদ জানায়।

    প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবেল ইসলাম বলেন, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন, তৃণমূলের সেইসব ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন এটা বৈষম্যের সামিল। তিনি বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা মোবাইল রেসপন্স করেনি।

    জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আবুজার সেতু বলেন, আমরা দলকে যেভাবে ভালবাসি, সবচেয়ে কষ্টের জায়গা সেখানেই, আমি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েও আমি জানতেও পারলাম না, দিনাজপুরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক বা সদস্য সচিব কারো জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে নাম নেই। আজকে আমার হয়তো বয়স হয়েছে, কিন্তু আমার যারা ছোট ভাই, দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে ছাত্রদলকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, তাদেরও স্থান হয়নি বর্তমান ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে। অনতিবিলম্বে নীতি নির্ধারকদের কাছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সাথে সমন্বয় করে নতুন কমিটি দেয়ার আহ্বান জানান জেলা ছাত্র নেতা আবুজার সেতু।

    উল্লেখ্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির স্বাক্ষরিত একপত্রে মো: আব্দুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক, জাকারিয়া হাবিব জনিকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও অন্য ৬ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

  • গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশ পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। দূষিত পানি, ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকটে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড় ও চামড়াজনিত নানা সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

    এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০-র বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

  • মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, পত্রিকাটির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’।

    ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’। মার্কিন এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসা যেকোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানিয়েছিল।

    এখন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, কর্মকর্তাদের মতে বিমান হামলার হুমকি ‘অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন’।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ‘বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়’, কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে’।সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে আরো বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরো পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একইসাথে তিনি স্বীকার করেন যে এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

  • মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সাগরে আটকে পড়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে। বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ প্রণালী ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে।’

    জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তাদের কয়েকজন জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তে দেখেছেন তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে কবে হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উপসাগরীয় এলাকা ছাড়তে পারবেন, জানেন না জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশী নাবিকদের কেউ।জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো: শফিকুল ইসলাম বুধবার (৬ মে) বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে পড়েছি, ধরে নিতে পারেন এটা একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ প্রণালী। জানি না কবে এখান থেকে বের হতে পারব।’

    জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির অন্তত দুই হাজার ২৭৩টি জাহাজ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজও রয়েছে।এদিকে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজটিকে বের করে আনতে কূটনীতিক চ্যানেলে ইরানের সাথে কয়েক দফায় যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশের জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

    এদিকে, বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘আগ্রাসীদের হুমকি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দেয়া হতে পারে।’উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালী থেকে বের হতে পারেনি। বরং এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

  • বিশ্বজুড়ে  তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    ইঁদুরবাহিত প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে শত শত মানুষ এসে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে। জাহাজটিতে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল

    এতে বলা হয়, যদিও সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল ও লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো হান্টাভাইরাসের বিরল ‘অ্যান্ডিস’ ধরন। এটিই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    ডব্লিউএইচও চেষ্টা করছে কীভাবে হান্টাভাইরাসটি জাহাজে এল, তা নির্ধারণ করতে। প্রথম মৃত ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল অসুস্থ হন। তিনি ১১ এপ্রিল মারা যান। এ সময় জাহাজটি ট্রিস্টান দা কুনহার দিকে যাচ্ছিল। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, তার মরদেহ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজেই রাখা হয়েছিল। পরে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয় তা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় আরও ২৩ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছিলেন এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন।

    ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী ২৫ এপ্রিল এয়ারলিংক পরিচালিত একটি বিমানে জোহানেসবার্গে যান। ওই বিমানে ৮২ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তিনি গুরুতর উপসর্গ থাকা অবস্থায় জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী আরেকটি বিমানে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে কর্মীরা তাকে নামিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যারা ওই নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন। ২৭ এপ্রিল ক্রুজের এক বৃটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অ্যাসেনশন দ্বীপ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় নেয়া হয়। কয়েক দিন পর আরেক যাত্রী এক জার্মান নাগরিক মারা যান।

    ৩রা মে এমভি হন্ডিয়াস কেপ ভার্দেতে পৌঁছালেও জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা কার্যত সমুদ্রে আটকা পড়েন। এরপর তিনজন রোগীকে নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট হেলেনা থেকে দেশে ফেরা দুই বৃটিশ যাত্রী বর্তমানে বৃটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। বৃটিশ সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাইরাসটির উপসর্গ সাধারণত সংস্পর্শে আসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে দুই দিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুত প্রদেশের এপুয়েন শহরে অ্যান্ডিস ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ২। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও দুজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করা হয়েছে, জাহাজে থাকা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও ২১ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দেশে ফিরে গেছেন।

  • হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া বুধবার গাজা সিটিতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। হামাসের কর্মকর্তা বাসিম নাঈম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    এর আগে খবরে বলা হয়, ইসরাইলি হামলায় আল-হাইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ আল-হাইয়ার নিহতের খবর প্রকাশ করেছে হামাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-হাইয়াকে হত্যার জন্য বহুবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তবে সাত সন্তানের এতদিন বেঁচে থাকলেও ইসরাইলি হামলায় আর তার শেষ রক্ষা হলো না। এর আগে গত বছর দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেইবারও প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন আল-হাইয়া।

  • যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়।

    তদন্তকারীরা জানান, প্রথম ভুয়া নম্বর প্লেটধারী এক গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীমোটরসাইকেলে এসে তিনবার চন্দ্রনাথকে গুলি করে।
    দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি প্রথমে দোলতালার কাছে মধ্যমগ্রামে আটকানো হয়।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি রাস্তার মাঝে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি গুলি চালায় হামলাকারীরা।

    এরপর ওই ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি ফেলে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

    স্থানীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক পিটিআই’কে বলেন, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকে এবং হৃদপিন্ডে গুলি লেগেছিল।

    ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলির আঘাত ছিল, যার একটি হৃৎপিণ্ড ভেদ করে এবং আরেকটি গুলি তার পেটে লাগে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
    একজন প্রতক্ষ্যদর্শী দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা পেশাদার ছিলেন।
    ওই ব্যক্তি এনডিটিভিকে বলেন, চন্দ্রনাথের গাড়িটি কেবল আমাকে অতিক্রম করলো, এরপর রাস্তার মাঝে হুট করে থামলো এবং বাইকে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির বামপাশে গুলি চালালো। হামলাকারীদের দেখে পেশাদার মনে হয়েছে।

    এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে।

    পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, চন্দ্রনাথের গতিরোধ করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল তা ভুয়া। এ ছাড়া মোটরসাইকেলগুলোর নম্বর প্লেটও ভুয়া ছিল।

    হামলায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার
    পুলিশ ধারণা করছে, এই হামলায় হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লোক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ ক্রিমিনালরা ব্যবহার করে না। আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই হামলায় পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কিনা।

    সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। এই মুহূর্তে হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।

    ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল হামলাকারীরা
    চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের জন্য ৪০মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল। তিনি স্করপিও এসইউভি ব্যবহার করতেন। এই গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। তাই তার গাড়ি চিনতে হামলাকারীদের কোনো সমস্যা হয়নি।

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস ক্রমেই বাড়ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকারী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পুরুষদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। এমনকি যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই অভ্যাস হলেও নারীদের শরীরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে মারাত্মক।

    বর্তমানে অনেকেই ধূমপানকে আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে সিগারেটের দিকে ঝুঁকেন। বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব বা আশপাশের পরিবেশও এ অভ্যাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, দ্রুত বলিরেখা পড়ে এবং অকালেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যার কারণে মুখের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে।

    মানসিক দিক থেকেও ধূমপান ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত, অকাল প্রসব কিংবা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। ধূমপান কোনো স্টাইল বা আভিজাত্যের প্রতীক নয় এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

  • ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেট মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র। এতে থাকা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারী নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। একেই বলা হয় ‘ভ্যাপিং’। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই তরলে সাধারণত নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

    ই–সিগারেট ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রথম ই–সিগারেট আমদানি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরবর্তী কয়েক বছরে এই সিগারেট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তার বড় কারণ, ই-সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়া দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির এবং এর মিষ্টি সুবাস। তার পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিক্রেতারা দাবি করেন, এটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি নিরাপদ।

    তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বাস্তবে অধিকাংশ ই-সিগারেটেই নিকোটিন থাকে এবং এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ।

    জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট ব্যবহারে নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এটি বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মনে করেন তরুণ ও কিশোরেরা সহজেই এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন

    ই–সিগারটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো অজানা, তবে বিগত কয়েক বছরের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পণ্য নিরাপদ নয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব তামাক মহামারি প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের ভবিষ্যতে সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৫ সালে প্রথম আইন (ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে বিএনপি সরকার। ওই আইনের মধ্য দিয়ে তামাকজাত পণ্যের যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সীমিত হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রথমবারের মত আইনে স্বীকৃতি পায়।

    পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে আইনে সংশোধন আনা হয় এবং সিগারেটের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।

    তবে আইনে কড়াকড়ি করেও বন্ধ করা যায়নি সিগারেট সেবন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সিগারেট ফুঁকে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর দেন ধূমপায়ীরা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠানো ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওই চিঠিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে; যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ।

  • বদহজম কেন হয়

    বদহজম কেন হয়

    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘বদহজম’ বা indigestion খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই এটিকে সামান্য গ্যাসট্রিক বা খাবারের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia), যা কখনো কখনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

    বদহজম আসলে কী

    বদহজম কোনো একক রোগ নয়, বরং ওপরের পেটের (epigastric region) কিছু উপসর্গের সমষ্টি। যেমন—

    * পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।

    * অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া।

    * পেট ফাঁপা।

    * বমি বমি ভাব।

    কেন হয়

    বদহজমের কারণ দুই ধরনের হতে পারে—

    ১. ফাংশনাল (কারণ ধরা যায় না)।

    অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায় না, কিন্তু রোগী উপসর্গ অনুভব করেন।

    ২. অর্গানিক (নির্দিষ্ট রোগের কারণে) যেমন—

    * গ্যাসট্রিক আলসার।

    * গ্যাস্ট্রাইটিস।

    * অ্যাসিড রিফ্লাক্স।

    * বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসার।

    সতর্কসংকেত

    নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

    * অকারণে ওজন কমে যাওয়া।

    * গিলতে সমস্যা।

    * রক্তবমি বা কালো পায়খানা।

    * দীর্ঘদিনের বমি।

    গুরুত্বপূর্ণ কারণ

    একটি বিশেষ জীবাণু Helicobacter pylori—বদহজমের একটি বড় কারণ। এছাড়া—

    * ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল।

    * অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

    * মানসিক চাপ।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

    * নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া।

    * অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

    সবশেষে বলব, বদহজম শব্দটি সহজ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বারবার বদহজম মানেই শুধু গ্যাসট্রিক নয়—সময়ে পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।

  • হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি কী? কখন হিপ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্টকে একটি কৃত্রিম কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম ইমপ্লান্ট নামে পরিচিত। অনেক রোগী যারা অস্টিওআর্থারাইটিস বা হিপ জয়েন্টের অন্যান্য অবস্থা, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের বিকৃতি বা আঘাতে ভুগছেন, তাদের চরম নিতম্বের ব্যথা এবং নড়াচড়া করতে অক্ষমতা, ঘুমের সমস্যা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যখন সার্বিক অবস্থা ওষুধ, ফিজিক্যাল থেরাপি বা ইনজেকশন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য হলো শেষ পর্যন্ত একটি বেদনাদায়ক নিতম্বের জয়েন্টকে ব্যথামুক্ত করা এবং হাঁটার জন্য নড়াচড়া সহজ করা।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির সুবিধা এবং ঝুঁকি কী কী?

    উত্তর : সাধারণত হিপ বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন একটি ব্যাপক যত্নের অংশ, যা ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করার পাশাপাশি নড়াচড়া ও কার্যকারিতার উন্নতির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। হিপ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো—ব্যথা থেকে মুক্তি, গতিশীলতা উন্নত হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, স্কোয়াটিং বা হাঁটার মতো প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলো অনুসরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি একটি বড় সার্জারি, যা কিছু ঝুঁকি বা জটিলতাও বহন করে। সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি হলো—পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, যা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামে পরিচিত। এই জমাট রক্ত ফুসফুসে গিয়ে পালমোনারি এমবোলিজম নামের অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের স্থানে বা জয়েন্টের মধ্যে সংক্রমণ, নিতম্বের স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের ঢিলা হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত অস্বস্তি এবং সার্জিক্যাল সাইটের হেমাটোমা বা রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইমপ্লান্ট বসানোর দুর্বলভাবে সঞ্চালিত কৌশলের কারণে এই জটিলতাগুলোর অনেকগুলো দেখা দিতে পারে। তাই অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পর সেরে উঠতে কতক্ষণ লাগে?

    উত্তর : নিতম্ব বা হিপ প্রতিস্থাপনের রোগীদের সুস্থতা হাঁটু প্রতিস্থাপনের রোগীদের তুলনায় সাধারণত দ্রুত হতে দেখা যায়। তবে এটাও দেখা যায় যে, সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হওয়ার সময় রোগীভেদে যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। অনেকগুলো কারণ এই সেরে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন ডায়াবেটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রোগীর ওজনের মতো শারীরিক অবস্থার উপস্থিতি। যদিও কিছু রোগীর সুস্থ হতে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে । কোনো অন্তর্নিহিত জটিলতা নেই এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার জন্য সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির খরচ নির্ভর করে কোন বিষয়গুলোর ওপর?

    উত্তর : অস্ত্রোপচারের খরচ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; যেমন ইমপ্লান্টের ধরন ও ব্র্যান্ড, অর্থোপেডিক সার্জন ও তার দলের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। এছাড়া রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থা যা হাসপাতালে থাকা এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা ও ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপরও খরচ অনেকখানি নির্ভর করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি প্রধান অস্ত্রোপচার যা অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। এছাড়া যে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেখানে প্রি-অপারেটিভ ও পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত দল থাকতে হবে। হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জনের প্রাপ্যতা, যিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন সার্জারি সম্পাদনে দক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে বিশেষায়িত অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, যেমন সিমেন্টের ‘ভ্যাকুয়াম মিক্সিং’, সি-আর্ম, পালস ল্যাভেজ ইত্যাদির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেস্থেটিস্ট, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল স্টাফদের একটি ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত দলের উপস্থিতি জরুরি। ফিজিওথেরাপির জন্য অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে দক্ষ কর্মী এবং হাসপাতাল ছাড়ার পর ব্যায়াম পরিচালনার সঠিক নির্দেশিকা থাকতে হবে। সর্বোপরি ডায়াগনস্টিক, খাদ্যতালিকাগত এবং ফার্মেসির প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক সহায়তা থাকা বাঞ্ছনীয়।

  • ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

    ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

    দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির লোকসান কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) করা ওই আবেদনে বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
    বুধবার বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পিডিবির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি জানান, আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। সেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে।

    এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এই সময় খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা হয়েছিল।

    বর্তমানে পিডিবির আবেদনে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়বে।

    গত ৯ই এপ্রিল বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে।

  • ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

    ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

    ইরান প্রস্তাবিত শর্ত মেনে নিলে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আজ বুধবার তার মালিকানাধীন সোশাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি না মানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা শুরু করবে। এই হামলা আগের তুলনায় ‘আরও বেশি মাত্রা ও তীব্রতায়’ হবে।

    পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি শর্তগুলো মেনে চলে, তাহলে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে এবং কার্যকর অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, ফলে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।

    তিনি বলেন, ‘যদি তারা রাজি না হয়, তাহলে বোমাবর্ষণ শুরু হবে এবং তা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা ও তীব্রতায় হবে।’

  • আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ

    আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ গ্রহণ আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। শপথ অনুষ্ঠানের দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।বুধবার (৬ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আগামী ৯ই মে আমাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ব্রিগেডে সকাল দশটায়।

    ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং নবান্নের পরিবর্তে মহাকরণ থেকেই সরকার চালানোর বিষয়ে নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে কখনো ব্রিগেডে শপথ নিতে দেখা যায়নি রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে। অনেকেই একে নজিরবিহীন বলে আখ্যাও দিয়েছেন।

    বিজেপি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।

    এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন, যিনি বাঙালি, বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সেই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যান।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

    ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সমঝোতা করবে। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

    বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সমঝোতা স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।

    রয়টার্স জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুতই একটি এক পৃষ্ঠার মেমোতে সমঝোতা হতে পারে। সেই মেমোতে থাকছে ১৪টি দফা। প্রশ্ন হচ্ছে কি আছে ওই খসড়ায়?

    অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং একটি বিস্তারিত চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ওই চুক্তির লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।

    অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই ৩০ দিনের সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।

    সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

    এরআগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে—যাতে দেখা যায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।

    তবে চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু না বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান ‘ন্যায্য ও সমন্বিত একটি চুক্তি’ প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন এই খসড়া যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশমিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।

    অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

    অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অতি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুগডাল চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে এক লাখ ৮৫৯ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। একইভাবে ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।

    এছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চার হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনা বাদাম নষ্ট হয়ে ছয় হাজার ৬০৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।

    নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

    এদিকে কৃষি খাতের এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না দিলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে বৈঠকের সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো যুদ্ধটি ‘অবৈধ’। চীন চলমান চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। ওয়াং ই বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ এবং এ অঞ্চলটি একটি ‘সঙ্কটপূর্ণ সময়ে’ রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন।

    আরাগচি চীনের ‘দৃঢ় অবস্থানের’ জন্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিন্দা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বেইজিং ‘ইরানের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবেই থাকবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘একটি নির্লজ্জ আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। আরাগচি আরো বলেন, তেহরান ‘আলোচনায় আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে’ এবং শুধুমাত্র ‘একটি ন্যায্য ও ব্যাপক চুক্তি’ গ্রহণ করবে।

  • ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিকে ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতি (নন-প্রলিফারেশন) তৈরি করা সম্ভব নয়, যদি ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি নীরবতা বজায় রাখা হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হলে, চলমান সংঘাতে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে অস্বচ্ছতা রাখা যৌক্তিক নয়।” আইনপ্রণেতারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক স্বচ্ছতার মানদণ্ডে বিচার করে, ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত।

    বর্তমানে ইসরাইল তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে না। একইভাবে, হোয়াইট হাউসও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক ভারসাম্য, সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা। কিন্তু তারা মনে করেন, এ ধরনের তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।

    চিঠিতে তারা ইসরাইলের সম্ভাব্য ওয়ারহেড সংখ্যা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা, ডিমোনা স্থাপনায় কী উৎপাদিত হয় এবং ইসরাইলের সামরিক নীতিমালা ও ‘রেড লাইন’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কী জানে—এসব তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। আইনপ্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে খোলাখুলি স্বীকার করে। তাই ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।

  • একদলীয় শাসনে ভারত

    একদলীয় শাসনে ভারত

    এক দশকেরও বেশি সময় আগে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশ পরিচালনার জন্য প্রথম প্রচারণা শুরু করেন, তখন তিনি কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেন। স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠাতা দল কংগ্রেস এরপর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দলটি খুব একটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সেই নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের আসনসংখ্যা ২০৬ থেকে কমে এক ধাক্কায় মাত্র ৪৪-এ নেমে আসে। দলটি রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন মোদির শাসক জোটের দখলে রয়েছে ২১টি রাজ্য। সেখানে কংগ্রেস মাত্র চারটি রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।

    কংগ্রেসের পতনের ফলে ভারতজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলোই মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এসব আঞ্চলিক দলের নেতারা মোদির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী ছিলেন দুজন— একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আরেকজন এম কে স্ট্যালিন, যিনি ২০২১ সাল থেকে ছিলেন তামিলনাড়ুর দায়িত্বে।

    এ সপ্তাহে মমতা ব্যানার্জী ও স্ট্যালিন উভয়েই নির্বাচনে পরাজিত হন। ফলে মোদি নিজেকে এমন এক ভারতের নেতৃত্বের আসনে দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে তার বিরোধীদের কার্যত কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। বিভিন্ন সময়ে পার্লামেন্টে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বেশি ছিল। কিন্তু এখন মোদি ভারতকে একটি একক নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের মতো করে তুলে ধরছেন।

    স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যে ‘ভারত রাষ্ট্রে ধারণা’ তুলে ধরেছিলেন, তা ছিল এই বিশাল দেশের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানবিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বহুত্ববাদের আদর্শ। এখন বিজেপির একটি রক্ষণশীল হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের শতবর্ষী স্বপ্নের কাছে নেহরুর সেই স্বপ্ন এক অদ্ভুত পরাজিত সত্তা বলেই মনে হচ্ছে।

    বিজেপি সব সময় তার সদস্যদের আদর্শগত অঙ্গীকার নিয়ে গর্ববোধ করে। সারা দেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করাই দলটির কৌশল। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দলটি অন্য যেকোনো জাতীয় দলের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে বেশি সুশৃঙ্খল। সেই সঙ্গে একটি ব্যবসাবান্ধব খ্যাতিও লাভ করেছে দলটি।

    সমর্থকদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম করে বিজেপি। সেই পরিশ্রমের ফলেই সাম্প্রতিক রাজ্যস্তরের ধারাবাহিক বিজয়গুলো এসেছে। ২০২৪ সালের জুনে যখন ভোট গণনা করা হয়, তখন তাদের জোট মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কারণ সে সময় বিরোধী দলগুলো দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব এবং বৈষম্য নিয়ে মোদির তীব্র সমালোচনা করে। তবে দুটি আঞ্চলিক দলকে জোট সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে বিজেপি ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়।

    রাজনৈতিক ভাষ্যকার সুগত শ্রীনিবাসরাজু বলেন, ‘২০২৪ সালে মোদি ছিলেন এক আহত বাঘের মতো। এখন তিনি ঠান্ডা মাথায় প্রতিশোধ নিতে নেমেছেন।’ রাজ্যগুলোতে মোদির এই অগ্রযাত্রা একের পর এক চমক নিয়ে আসে, যার প্রতিটিই বিজেপির পক্ষে যায়। দলটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে হরিয়ানায় জয়লাভ করে, যদিও কংগ্রেসের জেতার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। এরপর দলটি মহারাষ্ট্রে বিজয় ছিনিয়ে নেয়।

    পরাজিত দলগুলো কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কংগ্রেস বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলেও বিজেপি তা প্রত্যাখ্যান করে।

    ২০২৫ সালে বিজেপি ২৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে জয়লাভ করে। পরাজিত হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি ২০১৪ সাল থেকে মোদির উত্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানো অল্প কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

  • ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

    ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।

    ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।

    ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।

  • চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতায় জড়িত একটি পাকিস্তানি সূত্র।

    সূত্রটির দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি একটি এক পাতার নথি হলেও এতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটাই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ের সমঝোতা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে থাকতে পারে: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো বিস্তৃত আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ।

    এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দেশটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তবে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির সময়সীমা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়।

  • ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত, বলল হোয়াইট হাউস

    ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত, বলল হোয়াইট হাউস

    ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে।

    রুবিও বলেন, “ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলাম, তা অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কাজ করছি।”

    ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ‘(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক, যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।’

    রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।’

  • চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে প্রশিণ

    চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে প্রশিণ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশরাফ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বুধবার সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ভবনে এ কর্মশালা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রহিদুল ইসলাম খান।

    কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আশরাফ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আশিষ কুমার চ্যার্টাজি।

    আলোচনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ , মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ, ফাউন্ডেশনের ফিল্ড ট্রেইনার নজরুল ইসলাম, জোহরা খাতুন প্রমুখ।

    কর্মশালায় উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় মৌলিক আলোচ্য বিষয় ছিল দেশে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারিরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ,মেধাবী, কম মেধাবী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একই রকম শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা। কর্মশালা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন লিলিয়েন্স ফনডস ও সেন্টার ফর ডিসএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট নামে দুটি সংস্থা।

  • নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত

    নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত

    সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ আসছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকুরেদের বেতন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন হতে পারে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

    বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।

    তিনটি প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই মূলত তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।

    কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮, যা আগে ছিল ১:৯ দশমিক ৪। যদিও বেতন বৃদ্ধির এই বড় পরিবর্তনের মাঝেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

    নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, যা নতুন প্রস্তাবে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য প্রচলিত ২০টি ধাপের বাইরে আলাদা বিশেষ ধাপ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে।