সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ঢাবির সহকারী প্রক্ট র শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

    ঢাবির সহকারী প্রক্ট র শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়লেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

    সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লেখেন, ‘I have officially resigned from my position as the Assistant Proctor at the University of Dhaka.’

    তিনি জানান, শিক্ষকতা পেশার সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি কখনো।

    তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ আগস্ট প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের ফোন পাওয়ার পর দায়িত্বটি নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!

    তিনি আরও লেখেন, একে তো নতুন বাংলাদেশ অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার উপর আমার ডিপার্ট্মেন্টের বড় ভাই -স্যার, আমি মানা করবো!???

    সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, গত ২ টি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছি, কিভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।

    তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।

    নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করবো না। আমি জানিও না ট বি ট্রু।

    তিনি লেখেন, আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।

    নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, It was an absolute honour to serve with my team and under the leadership of our Proctor Saifuddin Ahmed sir.

    এছাড়া তিনি আরও লেখেন, Congratulations to our new Proctor and his team. Wishing this team all the best in carrying out this significant responsibility

  • আলিমে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়লো

    আলিমে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়লো

    ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় এ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ১৯ মে পর্যন্ত। তথ্য (eSIF) এন্ট্রি চলবে ২১ মে পর্যন্ত।

    রোববার (১০ মে) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    এতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (পরীক্ষা-২০২৭) আলিম শ্রেণিতে যে সব শিক্ষার্থী অনলাইনে কোন মাদরাসায় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেনি, সে সব শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন অত্র বোর্ডের eSIF পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    আলিম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য ফি ৬৮৫ টাকা এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাঠ বিরতি ফি ১৫০ টাকাসহ ৮৩৫ টাকা।

    ফি প্রদান ও eSIF পূরণে যে কোন ব্রাউজার থেকে সরাসরি www.ebmeb.gov.bd তে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের EIIN ও Password দিয়ে লগইন করতে হবে। অত:পর পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করে শিক্ষার্থী সংখ্যা এন্ট্রি দিয়ে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত বোর্ড ফি দিতে হবে। নির্ধারিত ফি সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই কেবলমাত্র শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রির অপশন পাওয়া যাবে এবং সতর্কতার সাথে নতুন এন্ট্রি করা শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এখানে শুধু বিলম্ব ফি দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। আগে এন্ট্রি করা শিক্ষার্থী ডিলেট করার সুযোগ থাকবে না। পূর্বে রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভুল বিভাগ, বিষয় ও ছবি সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।আরো বলা হয়েছে, শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান ও তথ্য এন্ট্রি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য অফিস সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের EIIN ভিত্তিক সিম নম্বর দিয়ে ০১৭১৩-০৬৮৯০৯, ১৫১-৬১১৯৩৬০ যোগাযোগ করতে হবে।

  • গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও এখনো সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। পেশাগত সম্মান, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মেহেরপুরের গাংনীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে গাংনী শহরের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে তারা বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে ওষুধ কোম্পানি ও চিকিৎসকদের সমন্বয় রক্ষায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার মানুষকে নানা অবমূল্যায়ন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির সময় যখন সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি ছিল, তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ এবং চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। দেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ আলী হোসেন (কনকর্ড ফার্মা) বলেন,
    “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোনো দালাল নন, তারা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যবাহক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ পেশাকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হলেও বাংলাদেশে এখনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।”

    সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী (বায়ো ফার্মা) বলেন,
    “আমরা চাই কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক। দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও আমরা ন্যায্য সম্মান থেকে বঞ্চিত।”

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মোঃ আবুশামা (গ্লোব ফার্মা), সদস্য মোঃ হারুন অর রশিদ (স্কয়ার ফার্মা), সদস্য মোঃ লিটন হোসেন (সোমাটেক ফার্মা), সদস্য মোঃ সোহেল রানা সহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    মানববন্ধন শেষে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ পেশাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

  • স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    দোকানের তাকজুড়ে সারি সারি রঙিন প্যাকেট— বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, কোমল পানীয়। ব্যস্ত জীবনে এগুলোই যেন সহজ সমাধান— সহজে পাওয়া যায়, দামও নাগালের মধ্যে। প্যাকেটজাত এসব খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা শিশু-কিশোর, তথা তরুণ প্রজন্মের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    অতি প্রসেসড খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার পরিশোধিত চিনি এবং ট্রান্সফ্যাট। এগুলো শরীরে প্রবেশের পর ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যাকে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বলা হয়। এটি কেবল ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং হার্টের পেশিকে দুর্বল করে দেয়।

    আগ্রাসী বিপণন ও শিশুদের আসক্তি

    বাংলাদেশে অতি প্রসেসড খাবারের প্রসারের পেছনে বড় কারণ হলো, কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশল। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি করা চটকদার বিজ্ঞাপন এবং উপহারের প্রলোভন শিশুদের এ খাবারে আসক্ত করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ খাবারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় (লবণ, চিনি ও টেস্টিং সল্টের মিশ্রণে), যা মস্তিষ্কে এক ধরনের সাময়িক আনন্দ দেয়। ফলে শিশুরা একবার এ স্বাদ পেলে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

    দেশের বাজারে বিপণন করা প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬১ শতাংশে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণ স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ, সেখানে এসব খাবারে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। এসব প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ঝালমুড়ি, আচার, চাটনি ইত্যাদি। এসব খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল হৃদরোগের পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি আমাদের শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে এক নীরব বিপর্যয় ডেকে আনছে। টিফিনে দেওয়া চিপস বা কৃত্রিম জুস তাদের স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সল্ট কন্টেন্ট অ্যান্ড লেবেল কমপ্লায়েন্স অব কমনলি কনজিউমড প্রসেসড প্যাকেজড ফুডস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের (এনএইচএফবি) একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে থাকা প্যাকেটজাত খাবারের প্রায় ৯৭ শতাংশই উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে ‘পুষ্টিগুণ’ বা ‘লবণের মাত্রা’ সংক্রান্ত যে তথ্য

    দেওয়া থাকে, ল্যাবে পরীক্ষার পর তার সত্যতা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘সুগার ফ্রি’ বা ‘লো ফ্যাট’ দাবি করা অনেক খাবারেও হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপস্থিতি মিলেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব পণ্যে উচ্চমাত্রার লবণ রয়েছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলোÑপণ্যের মোড়কে এ তথ্য সব সময় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে না।

    প্যাকেটজাত খাবার সুস্বাদু করতে এতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বা লবণ ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি প্যাকেটজাত চিপস বা নুডুলসে যে পরিমাণ লবণ থাকে, তা একজন মানুষের সারাদিনের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত সোডিয়াম সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেইলিউরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    শিশুরা পছন্দ করে এমন এক হাজার প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য বেছে নেওয়া হয় এ গবেষণায়। এর মধ্যে ছিল ম্যাকারনি, প্যাকেটজাত পনির, মিনি হট ডগস, কেক, ক্রেকার্স এবং প্যাকেটজাত দই। তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করেননি গবেষকরা।

    গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটজাত ১০ ধরনের শিশুখাদ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে ২১০ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম থাকা দরকার। কিন্তু এসব প্যাকেটে রয়েছে ৩৬১ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম যা সাধারণ পরিমাণের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ভাগ বেশি।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই। যার ফলে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে ইচ্ছেমতো লবণ যোগ করে। যদিও মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ অনুসারে প্রক্রিয়াজাত খাবারে বিদ্যমান লবণের পরিমাণ মোড়কের লেবেলে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

    অতি প্রসেসড খাবার রক্তে ‘হাই সেনসিটিভ সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন’ বা এইচএস-সিআরপির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ প্রোটিনকে হৃদরোগের অন্যতম বড় পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়। রক্তে এর উপস্থিতি মানেই হলো, আপনার হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালিতে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে, যা যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটাতে পারে।

    এ খাবারগুলোকে আকর্ষণীয় রঙ, স্বাদ এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে যে ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শরীরের কোষের জন্য অপরিচিত। রক্তে এগুলো মেশার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোকে ‘বহিরাগত আক্রমণকারী’ মনে করে। ফলে রক্তনালির ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। এ প্রদাহ ধমনীর দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, আমরা বর্তমানে এক ধরনের খাদ্যবিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের তরুণদের মধ্যে অকাল হার্ট অ্যাটাকের হার বেড়ে যাওয়ার প্রধানতম কারণ হলো, অতি প্রসেসড খাবার এবং শরীরচর্চার অভাব। মানুষ এখন বাড়ির রান্নার চেয়ে প্যাকেটজাত এবং খোলা খাবার বেশি পছন্দ করছে, যা তাদের ধমনীকে ধীরে ধীরে শক্ত বানিয়ে ফেলছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, দেশে অনেক প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে পুষ্টিমান বা উপাদানের সঠিক তথ্য লেখা থাকে না। লবণের পরিমাণ আড়াল করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অজান্তেই তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এ বাস্তবতায় একটি সহজ, কিন্তু কার্যকর সমাধান পণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশেই স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তায় (এফওপিএল) জানিয়ে দেওয়া—কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে কি না। বর্তমানে পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে, জটিল সংখ্যায় লেখা থাকে, যা দ্রুত বোঝা প্রায় অসম্ভব। ফলে ভোক্তা অনেক সময় অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য নিরাপদ ভেবে কিনে ফেলেন। এফওপিএল সে জটিলতাকে কমিয়ে সহজ, সরাসরি এবং দৃশ্যমান তথ্য দেয়। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্সফ্যাট থাকার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের খাবার কেনার সময় মা-বাবাকে সতর্ক থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকে শিশুর খাবারে সোডিয়াম ও চিনির মাত্রা সঠিক পরিমাণে থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টির মাত্রা দেখে খাবার কেনার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ।

    বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকÑপ্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস ও ২৩ দশমিক ৫ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং মোট মৃত্যুর বড় অংশই প্রায় ৭১ শতাংশ, ঘটছে এসব অসংক্রামক রোগের কারণে।

    গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, এ অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যাতে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্যাকেটের সামনের একটি সহজ সতর্কবার্তাই হতে পারে সচেতন সিদ্ধান্তের সূচনা।

    গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট অফ প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়েই খাদ্য নির্বাচন করেন।

    কর্মশালায় আরো জানানো হয়, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত কার্যকর ও ব্যয় সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। তাই একটি ছোট সতর্কবার্তা পুরো খাদ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

    প্রগতির জন্য জ্ঞানের (প্রজ্ঞা) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ অপ্রতুল। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের দৈনিক পাঁচ গ্রাম লবণের প্রয়োজন থাকলেও আমরা গড়ে ১০ গ্রামের বেশি গ্রহণ করছি। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিপস বা স্ন্যাকসগুলোতে মোড়কের তথ্যের চেয়েও বেশি লবণ থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

    তিনি জানান, বিএসটিআই মূলত একটি সার্টিফায়িং অথরিটি হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য যাচাই করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা বড় কোম্পানিগুলোকে সাধারণ লবণের পরিবর্তে ‘লো সোডিয়াম সল্ট’ বা পটাশিয়াম যুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোম্পানিগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এছাড়া হার্ট ফাউন্ডেশনও এ ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের প্রসারে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। চিনি ও লবণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি না হলে অসংক্রামক ব্যাধির এ প্রকোপ কমানো কঠিন হবে।

  • রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ‘হেয়ারকাট’ বাতিল, পূর্ণ আমানত ও মুনাফা ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো: আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো: ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

    তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি, বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় তিন কোটি পরিবারের সদস্য এই সঙ্কটের সাথে জড়িত।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে; অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হবে; এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করতে হবে।

    বক্তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তাবিত একটি মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

    রোববার আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম ধাপে সংঘাত বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে। ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেছেন, পাকিস্তান ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানিরা নিশ্চিত করছে।

    তিনি আরও বলেন, বার্তা পাওয়ার পর ওয়াশিংটন থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাত নিরসনের ভবিষ্যৎ। যেহেতু পাকিস্তান সফলভাবে ইরানের এই বার্তা বা জবাবটি গ্রহণ করেছে, তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধ এক মানুষকে দেখে ভিড় জমে যায়। বৃদ্ধ মানুষটি নিজের পরিচয় দিয়ে বলছিলেন, তিনি এ বাড়িরই সন্তান। স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে গেছেন এখানে। হিন্দি আর ভাঙা বাংলা মিশিয়ে বলা তাঁর কথাগুলো সবার কাছে খুব বিস্ময়কর ঠেকছিল। স্ত্রী, মা–বাবাসহ যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই। সব বিবরণ দেখে একজন তাঁকে চিনতে পারেন। চিনতে পারলেও বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁরও। এমন গল্প যে রূপকথাকেও হার মানায়। বাড়ির লোকজন জানতে পারে, ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীদিয়া গ্রামে। ৫ মে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ির লোকজন তাঁকে মৃত বলেই জানত। স্ত্রী, মা–বাবা তাঁর অপেক্ষায় থেকেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। জাহাজের চাকরির জন্য যখন বাড়ি ছাড়েন, তখন তরুণ ছিলেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী আর চার মাস বয়সী ছেলেকে ফেলে গিয়েছিলেন। এখন ৮৩ বছর চলছে তাঁর। বয়সবের ভারে ন্যুব্জ। ছেলে নূর হোসেনও ৫৫ বছরে পা দিয়েছে। বাবা দেখতে কেমন, তা তাঁর স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। সে হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো বাবাকে দেখলেন।

    চট্টগ্রামের একটি কার্গো জাহাজে শ্রমিকের কাজ করতেন ছৈয়দ আহম্মদ। ৫৪ বছর আগের এক ঝড়ে জাহাজটি কক্সবাজারের উপকূলের কাছাকাছি কোথাও ডুবে যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। স্বজনেরাও ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। তবে সেই ধারণা ভেঙে তিনি ফিরেছেন। ছৈয়দ আহমদকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। অনেকেই তাঁর কাছে হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে আসার গল্প শুনতে চাইছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের এক সৎভাই আবুল খায়ের তাঁকে চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি সেই ভাইয়ের বাসায় রয়েছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে তিনি শনিবার বিকেলে বলেন, যখন ঝড় শুরু হয়, তখন তাঁদের কার্গো জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় ছিল। এরপর জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে অন্যদের কী পরিণতি হয়েছিল, সেসব তাঁর মনে নেই। শুধু মনে আছে, তিনি দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। ভারতেই তাঁর চিকিৎসা হয়। এরপর সেখান থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রার তাজমহল এলাকায় চলে যান। দেশে ফেরা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি স্বপ্নে ছেলেকে দেখতে পান। এরপর তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়েই তিনি দেশের আসার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর এসব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। পরে যশোর সীমান্তে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানালে তারা বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে। এরপর ঢাকা হয়ে নোয়াখালী ও পরে সেখান থেকে হাতিয়ায় পৌঁছে মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে নিজের বাড়ি খুঁজে বের করেন।

    ছৈয়দ আহম্মদ জানান, যশোর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি বিজিবির সহায়তা নেন। তিনি বিজিবিকে প্রথমে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। তখন বিজিবি তাঁকে যশোর থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে তাঁকে ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন থেকে তিনি কমলাপুরে নামেন। কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের নোয়াখালীর সোনাপুর যাওয়ার কথা বললে তাঁরা তাঁকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় তুলে দেন। সেখানে গিয়ে তিনি সোনাপুরের বাসে উঠে নোয়াখালী আসেন। সোনাপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আসেন হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট। চেয়ারম্যানঘাট থেকে নদী পার হয়ে নলচিরা ঘাটে যান।

    নলচিরা ঘাটে যাওয়ার পর ছৈয়দ আহম্মদ নিজের এলাকা লক্ষ্মীদিয়ার কথা বলে একটি রিকশা নেন। রিকশা থেকে নামার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে তাঁর ছেলে ও ভাইয়ের পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয়ও দেন। শুরুতে ছেলেসহ স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। পরে তাঁর ভাই আবু বকরের ছেলে আক্তার হোসেন তাঁর বাবার কাছে শোনা কাহিনির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ছৈয়দ আহম্মদকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান।

    দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ভারতে অবস্থানের কারণে ছৈয়দ আহম্মদ নিজের মাতৃভাষাও অনেকখানি ভুলে গেছেন। বেশির ভাগ কথাই বলেন হিন্দিতে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কেটেছে আজমির শরিফে।

    ছৈয়দ আহম্মদের সৎভাই আবুল খায়ের বলেন, ‘ভাই নিখোঁজ হওয়ার সময় আমার বয়স ছিল ১০ থেকে ১১ বছর। তখন তাঁর ছেলে নূর হোসেনের বয়স মাত্র কয়েক মাস। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় আমরা ধরে নিয়েছিলাম, তিনি আর বেঁচে নেই। এত বছর পর ভাইকে ফিরে পাব, কখনো ভাবিনি। তাঁর মুখও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। এখন তাঁর কথা শুনে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে।’

    এদিকে জীবনে প্রথমবার বাবাকে কাছে পেয়ে খুশি ছেলে নূর হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর কখনো বাবাকে দেখিনি। এখন তিনি ফিরে এসেছেন, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

    তবে বাবাকে নিজের বাড়িতে রাখতে না পারার অভিযোগও করেছেন তিনি। নূর হোসেনের দাবি, তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা ছৈয়দ আহম্মদকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তাঁর কাছে আসতে দিচ্ছেন না। এ ঘটনায় তিনি হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর ফিরে আসা ছৈয়দ আহম্মদকে নিয়ে তাঁর ছেলে একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক। পরিবার চাইলে পুলিশ আইনগত সহায়তা দেবে।

  • এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে: সারজিস

    এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণাকালে তিনি একথা জানান।

    সারজিস আলম বলেন, প্রথম ধাপে ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে পাঁচটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীও ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে দেশে ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভাসহ মোট ৮৩০টি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রার্থী হতে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    আগামী মে’র মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ছাড়াও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিরাও এনসিপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    সারজিস আলম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে কারণে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না—এই অনিশ্চয়তায় বসে না থেকে দল এককভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।

    আর আর খান

  • যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে ট্রাক। ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালক ছিটকে পড়েন রেললাইনে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ রোববার দুপুরে অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৬০) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ জানায়, অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় পাশাপাশি যশোর-খুলনা মহাসড়ক ও খুলনা-রাজশাহী রেললাইন। রেললাইনের পাশেই আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডাম্প (স্তূপ)। রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। রোববার দুপুরে একটি ট্রাক যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে নেমে পেছন দিকে ধীরে ধীরে রেললাইন পার হয়ে কয়লার ডাম্পে কয়লা লোড করতে যাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকটির পেছনের অংশ রেললাইনের ওপর ছিল। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি উল্টে যায় এবং চালক মনোয়ার হোসেন ট্রাক থেকে ছিটকে রেললাইনের ওপর পড়েন। ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নওয়াপাড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইয়াসিন আরাফাত বলেন, মশরহাটি এলাকার ওই রেলক্রসিং অবৈধ। মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে নওয়াপাড়া স্টেশন ছেড়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মশরহাটি এলাকায় ওই রেলক্রসিংয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (জিআরপি) উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • পদত্যাগ করেছেন ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ

    পদত্যাগ করেছেন ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। আজ রোববার দুপুর ২টার দিকে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

    আজ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সমকালকে এ তথ্য জানান তিনি নিজেই। সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে কাজ করেছি। প্রশাসনে ঝুঁকি ছিল সেই ঝুঁকির সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই শান্ত। এখন সবকিছু একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এসেছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রক্টর হিসেবে অনেক দায়িত্ব; সেই দায়িত্ব থেকে আমি একটু মুক্ত থাকতে চাই। তাই, পদত্যাগ করেছি।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো চাপে নয়; ব্যক্তিগত কারণেই আমি পদত্যাগ করছি।

    এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

  • এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে শঙ্কা

    এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে শঙ্কা

    ৫ আগস্ট, ২০২৪ ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেরিয়ে আসে ব্যাংক খাতের ক্ষতচিহ্ন। প্রকাশ পেতে থাকে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত চিত্র

    চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমসহ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট অসংখ্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ী গ্রুপ ঋণের নামে ব্যাংকগুলো থেকে অনৈতিক উপায়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ কোটি টাকা। ফলে প্রায় এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক আর্থিকভাবে চরম রুগ্ন হয়ে পড়ে। সীমাহীন খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকগুলো।

    শেখ হাসিনা পালানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপে ব্যাংক খাতের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসলেও সম্প্রতি অনেকের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬ পাস হওয়ার পর থেকে এমন আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে শর্ত-সাপেক্ষে এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাওয়ার খবরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এস আলম গ্রুপ আবার ফিরছে- এই খবরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে আমানতের টাকা তুলে নেওয়ারও প্রবণতা শুরু হয়েছে। এসব গ্রাহকদের ভাষ্য, এস আলম ফিরলে ব্যাংক খাতের অবস্থা আগের মতোই হতে পারে। এতে তারা টাকা ফেরত নাও পেতে পারেন, এজন্য তারা টাকা তুলে নিচ্ছেন।

    মুনিরা শাহরিন নামে একজন গ্রাহক বলেন, “শুনছি নতুন ব্যাংক আইন পাস হইছে। এস আলম নাকি আবার ব্যাংকের মালিকানায় আসবে, এই জন্য টাকা তুলে নেওয়ার চিন্তা করছি। এর আগে অনেক ভোগান্তি পোহাইতে হইছে।”

    ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রুগ্ন ব্যাংকিং খাতকে টেনে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ ছিল ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’। এর উদ্দেশ্য ছিল যেসব ব্যাংক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় দেউলিয়া হয়েছে, সেগুলোকে পুনর্গঠন করা এবং যারা এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী, তাদের চিরতরে মালিকানা থেকে সরিয়ে দেওয়া। তবে নতুন সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুযায়ী, রেজুলেশন বা একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের তালিকাভুক্তির আগে থাকা শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় গ্রহণ করতে পারবেন।

    এস আলমের দখলকৃত ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা
    এস আলমের দখলকৃত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও আকাশছোঁয়া। ব্যাংকগুলো থেকে এস আলম ও তার সহযোগীরা নামে-বেনামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। আত্মসাতকৃত এই অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি প্রায় ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশে, ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপির হার ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫২ শতাংশের বেশি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের হাতে।

    এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক- ইসলামী ব্যাংক পিএলসিও দখলে ছিলো আলোচিত এই গ্রুপটির। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি এখন অনাদায়ী।

    আত্মসাতকৃত টাকার বেশিরভাগই বিদেশে পাচার
    বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এখন পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের ব্যাংকিং খাতে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। এই গ্রুপের পাচারের বড় মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিদেশে গ্রুপটির ব্যাংক হিসাবে এসব অর্থ স্থানান্তর করা হয়। অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য ঋণ নিয়ে ইসলামী ব্যাংকে এলসি খোলা হয়। এলসির আওতায় পণ্য দেশে না এনে ১৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেন গ্রুপের কর্ণধার এস আলম মাসুদ। পরে ইসলামী ব্যাংক ওই অর্থ গ্রাহকের (এস আলম গ্রুপ) নামে ফোর্স লোন তৈরি করে বিদেশের নেগোশিয়েটিং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে। কিন্তু এলসি ওপেন করা ঋণগ্রহীতারা বিপুল অঙ্কের এই টাকা পরিশোধ না করায় পুরো ১৮ হাজার কোটি টাকাই এখন খেলাপি। এর বাইরেও তিনি অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় আরও অর্থ পাচার করেন।

    এস আলম গ্রুপের দখল করা ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে পর্ষদের অনুমোদন না নিয়েই লাখ কোটি টাকার বেশি সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব অর্থ বিদেশে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখা থেকেই এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসির আড়ালে এসব ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

  • শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    পদোন্নতির জটিলতা সিন্ডিকেট সভায় নিরসন না হওয়ায় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ফের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা।

    রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের পক্ষে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

    বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিলো।

    তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।

    এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

    শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন।

    কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

    তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    সার্বিক বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

  • মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে, পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহত্যা। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।’

  • ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার আগারগাঁও এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
    রোববার টিসিবির উপ-পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    আদেশে বলা হয়, সারাদেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১১-২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ব্যতীত) দৈনিক ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
    ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ দশমিক ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।
    আদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রি কার্যক্রম চলছে।
    পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০ (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০ (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫ করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে।
    ভোক্তা প্রতি সর্বোচ্চ বিক্রয় (পরিমাণ) ভোজ্য তেল ২ লিটার প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ২ কেজি প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে।

  • বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শান্ত ইসলাম (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের ইছাপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত ইসলাম উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া পশ্চিমপাড়ার মরহুম জায়েদ মিয়ার নাতি।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ইছাপুরা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মারুফ জানান, শান্ত ইসলাম ছোটবেলা থেকেই খাড়াতাইয়ায় নানা জায়েদ মিয়ার বাড়িতে থাকত। বুড়বুড়িয়া হাজী মার্কেটে তার একটি চটপটির দোকান ছিল। শান্ত ইসলামের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায়। তার বাবার নাম লাল মিয়া।

    এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত সব পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

    নির্দেশনা হলো:

    ১. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তফশিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো। এই হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭/০৫/২০২৬ তারিখের মধ্যে naima.tanzin@bb.org.bd এবং zarrin.tasnim@bb.org.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন;

    ২. ঢাকার বাইরে যে সকল জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই এমন জেলাসমূহের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টনকৃত দায়িত্ব অনুযায়ী আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে;

    ৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে;

    ৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

    ৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সাথে ‘জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে;

    ৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে;

    ৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে; এবং

    ১০. পবিত্র ঈদ-উল-আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির উপর প্রস্তুতকৃত একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।

    এম.কে

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    তারা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

    এম কে (বিস্তারিত…)

  • ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত। মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল, মস্কো সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত।

    সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে এবং দাবি করে যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই পরিবহন করতে হবে। এরপর ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।’

    মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে ট্রাক টার্মিনালে টোলের নাম করে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরে টোল আদায় ও চাঁদা বন্ধের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। রোববার (১০ মে) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ পালন করেন। এ সময় যানজটে দিনাজপুর শহর স্থবির হয়ে পড়ে।

    জানা যায়, এক মাস ধরে দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালে টোলের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে দিনাজপুরে শহরের আটটি পয়েন্টে দিনাজপুর জেলার ট্রাক ও মালিক শ্রমিকের যৌথ উদ্যোগে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    পরে চার ঘণ্টা পরে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা হয়।

    এদিকে শ্রমিকদের অবরোধ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক নতুন আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালের সকল টোল আদায় বন্ধ থাকবে। দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশপত্রে টোল আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

  • কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কামিল মাদ্রাসা সমূহের দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় মোট ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

    এবারের ফলাফলে পরীক্ষার মেধাতালিকায় চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এছাড়াও প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থানে রয়েছে।

    রোববার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলর এর কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

    ফলাফল প্রকাশকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ পরীক্ষা দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো সনদ ও নম্বরপত্র পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এ পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

    মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু পরীক্ষা পরিদর্শনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, পরীক্ষা গ্রহণে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মাদরাসাকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    পর্যন্ত সারাদেশের ১৬৭টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও চূড়ান্ত বর্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে ৯৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

    পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৮৪২ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে (৩০ বৈশাখ) থেকে জেলার বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

    জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাতি ও গোপালভোগ; ২০ মে থেকে হিমসাগর; ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া; ৫ জুন থেকে আম্রপালি (বারি আম-৩); ১৫ জুন থেকে ফজলি; ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা; ২২ জুন থেকে ব্যানানা; ৩০ জুন থেকে আশ্বিনা (বারি আম-৪); ৫ জুলাই থেকে কার্টিমন এবং গৌড়মতি (বারি আম-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

    সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কোনো অবস্থাতেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    তারা আরো জানান, অবৈধ উপায়ে আম পাকানো বা মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচির আগে কেউ অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

  • ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, এমনটাই মনে হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। মনের সে কথা মুখেও বলেছেন তিনি। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে।

    রাশিয়ার ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারানোর জাতীয় গৌরবের কথা স্মরণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।’ওই কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।’রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেই এ কথা বলেন পুতিন। তবে কীভাবে তা শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

    ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না, কিন্তু পরে তাঁরা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেন।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদ্‌যাপনে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে রাশিয়া। বার্ষিক এ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া ওই যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

    এই যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে এমন এক গুরুতর সংকটে ফেলেছে, যা ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

    পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলেও উল্লেখ করেন।ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনায় নিজে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন। এ ক্ষেত্রে তিনি আলোচনার জন্য পছন্দ করছেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে।

    রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে এখন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে শেষ হবে। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ক্রেমলিন বলেছে, এ যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

  • সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎচালিত ধান মাড়াই মেশিনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের পাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাফর আলী পাইকা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জাফর আলী কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ঢোলভাঙ্গা বাজারে কাপড়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার সকালের দিকে ধান মাড়াই করার জন্য মেশিনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতোয়ার রহমান বলেন, ‘ধান মাড়াই মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলীর মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক।’

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়ে একটি ম্যাসেজ পেয়েছি। ঘটনাটি দেখা হচ্ছে।’

  • তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর চেন্নাইয়ে রোববার প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন থালাপতি বিজয়। এ সময় তিনি নিজেকে ‘কমন ম্যান’ বা সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের উচ্চ বংশ পরিচয় না থাকার কথা উল্লেখ করে জানান, তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন বলেই মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেছে।

    ভাষণে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ শুরুর অঙ্গীকার করেন বিজয়। পাশাপাশি বলেন, তিনি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দেবেন না। কাজের মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে থেকে কিছুটা সময়ও চেয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৫১ বছর বয়সী এই মুখ্যমন্ত্রী।

    থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হবো ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, তাঁর সরকারের সব নীতির জন্য তিনি নিজে দায়বদ্ধ থাকবেন। ‘ক্ষমতার কেন্দ্র’ এমন বক্তব্যের মাধ্যমে জোট সঙ্গীদের চাপ বা হুকুম তামিল না করার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে মিলে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    বিজয় সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় টিভিকের বিশ্বস্ত নেতারাই প্রাধান্য পেয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস থেকে কোনো নেতা এই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যখন লড়াই চলছিল, তখন বিজয়ের দলের প্রতি প্রথম সমর্থনের হাত বাড়িয়েছিল কংগ্রেস।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিন দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজয়। এগুলো হলো সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা।

    বিজয় জানিয়েছেন, সরকারের পরবর্তী কাজগুলো শুরু করার আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা ভাবছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১৩ কোটি টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে এবং ১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডি) হিসেবে বিনিয়োগ করা আছে।

  • কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে রাতভর কুয়েতমুখী ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    অন্যদিকে কাতারের উপকূলের কাছে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়।

    ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর এই সংস্থাটি জানায়, আঘাতের ফলে ছোট আকারের আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    গত এক সপ্তাহ ধরে পারস্য উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ছে, যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তি আসেনি।

  • পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় আছে আরও তিনজন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছ। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • দেশে হামের টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ শিশু

    দেশে হামের টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ শিশু

    বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচিসহ বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ। সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩৯ হাজার ৫৩ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ৪৭ হাজার ৬১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৯ জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬১ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৭৭ হাজার ৮৮ জন, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৮২ হাজার ৮৯৭ জন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৫৩ হাজার ৮১ জন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৫৩ হাজার ৬৮৭ জন, রংপুর সিটি করপোরেশনে ৭৫ হাজার ৫৯৮ জন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৮ হাজার ২৯ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছে।

    গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যেই এই ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শেষ হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়া উপজেলাগুলোতে হামের রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তররের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যে সব জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে, সে সব এলাকায় ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

    দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটিছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম। দেশব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। যেসব জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে সেসব এলাকায় হাম নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি, টিকা দেওয়া শুরু করেছি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রাদুর্ভাব থাকবে না, আশা করা যায়। মহামারি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব কাজ করছে বলেও জানান তারা।

  • রোববার পুলিশ সপ্তাহ শুরু

    রোববার পুলিশ সপ্তাহ শুরু

    ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামীকাল রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পদক বিতরণ করবেন। পুলিশ সপ্তাহের এ আয়োজন চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।

    এবারের পুলিশ সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, দেশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তিনি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের সক্ষমতা ও উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে সরকার পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নকে জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে পুলিশের সততা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন অনেকাংশে নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি এবং ডিজিটাল ফরেনসিকস ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ও সেবার প্রতীক হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মঅধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন বর্ণিল প্যারেডে।

    অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সাহসিকতা, বীরত্ব, অপরাধ দমন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং সেবা ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদক প্রদান করা হবে।

    বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    আর আই খান

  • আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    লাইফষ্টাইল

    আঙুর অনেকেরই পছন্দের ফল। তবে বাজার থেকে কেনা যেসব ফল ও সবজিতে সবচেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্ট থাকার ঝুঁকি থাকে, আঙুর তার মধ্যে অন্যতম। যদি সঠিকভাবে ফলটি পরিষ্কার করা না হয় তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    আঙুর থোকায় থাকে এবং এর খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর গায়ে আটকে যায়। এ কারণে শুধু পানি দিয়ে ধুলেই এই রাসায়নিক দূর হয় না। এর জন্য সঠিক পদ্ধতি জানা প্রয়োজন। চাইলে আপনার ঘরেই থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই আঙুর পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

    আঙুরে কীটনাশক বেশি থাকার কারণ

    আঙুর গাছ প্রায়ই পোকামাকড়, ছত্রাক এবং মোল্ড বা ছাতা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে; এ কারণে কৃষকরা এতে ঘনঘন কীটনাশক স্প্রে করে থাকেন। আঙুরের থোকা আকারে ছোট এবং ঘন সন্নিবিষ্ট হয়,এজন্য ফলে রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর ফাঁকে আটকে যায়। আঙুর যদি ভালোভাবে পরিষ্কার করে না খাওয়া হয় তাহলে সেই রাসায়নিকগুলো সহজেই আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
    আঙুর পরিষ্কার করার পদ্ধতি

    প্রথমে কল ছেড়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে আঙু ধুয়ে নিন। আলতো করে হাত বুলিয়ে নিন যাতে এর গায়ে লেগে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা দূর হয়ে যায়।

    এখন আঙুরগুলো বেকিং সোডার দ্রবণে ভিজিয়ে রাখুন। এটি আঙুর পরিষ্কারের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এক লিটার পানির সঙ্গে এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে সেই দ্রবণে আঙুরগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি কীটনাশকগুলোকে ভেঙে ফেলতে সহায়তা করে।

    এক ভাগ ভিনেগারের সঙ্গে তিন ভাগ পানি মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণে আঙুর পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। আঙুরের স্বাদে যাতে কোনও পরিবর্তন না আসে, সেজন্য পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন।

    বেকিং সোডা ও ভিনেগার মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর, আঙুরগুলো আবার ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। আঙুল দিয়ে অথবা একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে নিন, যাতে আঙুরে লেগে থাকা অবশিষ্ট কীটনাশকটুকুও দূর হয়ে যায়। এরপর আঙুরগুলো শুকিয়ে নিন। এতে দীর্ঘ সময় ধরে ফরগুলি সতেজ ও তাজা থাকবে।

    সবচেয়ে কম ও কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো, একটি পাত্রে এক চা চামচ লবণ দিয়ে পানিতে আঙুর ভিজিয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে ফলগুলো ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ফলে থাকা রাসায়নিক দূর হবে।

    সূত্র : হেলথসাইট, আজকাল

  • সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে ইতিপূর্বে যত গণভোট হয়েছে কোন গণভোট বাতিল করা হয়নি তাহলে এই গণভোট বাতিল করা নিয়ে কেন ধুম্রজাল তৈরী করা হচ্ছে? বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌগাছা উপজেলা শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল এ কথা বলেন । শনিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দেশে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়মত দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। এদেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। আমরা যদি দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি তাহলে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, চৌগাছা ঝিকরগাছার উন্নয়নে আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন,পৌর আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, মাষ্টার ইমদাদুল হক, শ্রমিক নেতা তুহিনুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। প্রার্থীরা হলেন, ফুলসারা ইউনিয়নে জাহিদুল ইসলাম, পাশাপোল ইউনিয়নে মাওলানা শাহ আলম,ধুলিয়ানী ইউনিয়নে রোকনুজ্জামান,চৌগাছা ইউনিয়নে মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, জগদীশপুর ইউনিয়নে মাওলানা আব্দুর রহমান,পাতিবিলা ইউনিয়নে মাওলানা নুরুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়নে হাফেজ আমিন উদ্দীন খান,স্বরুপদাহ ইউনিয়নে মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, নারায়ণপুর ইউনিয়নে তুহিনুর রহমান ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে আব্দুল আলিম।

  • আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ও একজন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা।টেকনাফে দায়িত্বরত বিজিবির-২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শনিবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটি ঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিজিবি বলছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের পানিসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের পানিসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। এরপরে জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।

    এ বিষয়ে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি।

    শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ এবং আবাসিক ভবন সংস্কার ও মেরামত কাজ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন সুবিধারও উন্নয়ন ঘটবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. নাজমা আক্তার, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি)। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের পাঁচজন মন্ত্রীও।

    কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার বসেছিল শপথ অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

    মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা। তাঁরা হলেন—বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন। ক্ষুদিরাম টুডু সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডাকে শপথ মঞ্চে দেখা গেছে। শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ

    আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

  • রাস্তা-ড্রেন খুঁড়ে ফেলে রাখেন ঠিকাদার, জনদুর্ভোগ চরমে

    রাস্তা-ড্রেন খুঁড়ে ফেলে রাখেন ঠিকাদার, জনদুর্ভোগ চরমে

    বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। মাসের পর মাস ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

    এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য পৌরসভা থেকে তিনবার নোটিস দেওয়া হলেও ড্রেন ও রাস্তার কাজ শেষ করছে না। কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ হবে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পৌরসভা থেকে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২টি রাস্তা ও ছয়টি ড্রেন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম দরে ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় মেসার্স এমডি দেলোয়ার হোসেন অ্যান্ড মেসার্স শহিদ ব্রাদার্স (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

    পরবর্তী সময়ে পৌরসভা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন শামীম হোসেন নামের আরেক ঠিকাদার। গত বছরের ১৩ আগস্ট কাজ শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে সম্প্রতি শেষ করা হয়েছে। এছাড়াও একটি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তা খুঁড়ে কাজ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন পৌরবাসী। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে ড্রেন ও রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজ শুরু করার জন্য পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, থানার মোড় থেকে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাস্তার একপাশ খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা হয়। এরপর থেকে মাত্র এক থেকে দেড়শ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি কাজ না করে ফেলে রাখায় জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

    এতে করে রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে মশার উপদ্রব যেমন বেড়েছে, তেমনি বাসাবাড়ির ময়লা পানির দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার বাসিন্দারা।

    এ বিষয়ে ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে একটু ঝামেলা হয়েছিল। দু-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

    পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঠিকাদার গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন না করে ফেলে রাখায় ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো বাস্তবায়ন না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    যিডিডেস্ক নিউজ,

    মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ কেজি গাঁজা, ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শনিবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হাট মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মো. শাহাদাৎ হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাসনগাছা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মোড়ল কান্দা এলাকায় বসবাস করেন।

    ওইদিন বিকেল ৪টায় উপজেলার চাঁনপট্টি এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি গাঁজা ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ মো. রুবেল খান (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

    পুলিশ আরও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।

    এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।

  • মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)। কিন্তু তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তার সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে রবিনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমানের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তার লাশ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

    রবিনের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রবিনের শ্বশুর মো: রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই কিছু সহকর্মীর সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যা করে লাশ ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

    নিহতের বড় ভাই খোকন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কলিং ভিসায় রবিন মালয়েশিয়ায় যায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রবিনের ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসা ও মাত্র দুই বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। স্বামীর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার।

  • নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক এমপি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    তিনি মাওলানা নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতের আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনকে সামনে রেখে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ মাওলানা নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

    তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাওলানা নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।

    তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের আরেকটি বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

    তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তাঁর দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ২০১৬ সালের ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে মাওলানা নিজামীর অবদান স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করা এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য মহান রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন।

  • সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

    গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

    এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

    ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চীনে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফাঁসির আদেশ

    চীনে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফাঁসির আদেশ

    চীনের সামরিক আদালত সাবেক দু’জন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক ওই দুই মন্ত্রী হলেন ওয়েই ফেংহে, লি শ্যাংফু। প্রথমজনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য তাকে দু’বছর স্থগিতাদেশ সহ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে লি শ্যাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ দেয়া এবং নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকেও একই সাজা দেয়া হয়েছে। চীনে এমন স্থগিত সাজার বেশির ভাগই লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

    প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন এই শাস্তি তারই সর্বশেষ সংযোজন। শি বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে তার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। তা চলমান আছে। এতে জানুয়ারিতে চীনের সর্বোচ্চ র‌্যাংকের জেনারেল ও সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া হয়। এক বছর আগেও চীনের শক্তিশালী সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে ১১ জন সদস্য ছিলেন। এখন প্রেসিডেন্ট শি বাদে এর সদস্য সংখ্যা মাত্র একজন। অভিযানটি দুর্নীতিবিরোধী হলেও রাজনৈতিক অভিজাতদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণকে সংহত করার একটি উপায় হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ব্যবহার করছেন শি জিনপিং।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার যে দুই সাবেক মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে তাদের কোনো পলিসি বা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়েই ফেংহে। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হন লি শ্যাংফু। মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি জনগণের চোখের আড়ালে চলে যান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। লি শ্যাংফু একজন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটান। এছাড়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি’র ক্রয় শাখায়ও দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি।

    ২০২৪ সালে তাদের দু’জনকেই কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রাষ্ট্র। লি শ্যাংফুর স্থলাভিষিক্ত ডং ডুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাকে শক্তিধর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন নিয়োগ করেনি। এই কমিটি সামরিক বাহিনী তদারকি করে।

  • আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি) পরিচালিত কামিল মাদরাসাগুলোর দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার প্রকাশ করা হবে।

    শনিবার (৯ মে) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্ব-২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষা গত ৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।

    সারাদেশের মোট ১৬৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ৪২ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আল হাদিস, তাফসির, ফিকাহ এবং আদব বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরাইয়া আক্তার (১১ মাস) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী চৌরাস্তা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুরাইয়া আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট কড়ইতলা এলাকার ছমির উদ্দিনের মেয়ে। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি তার দাদি সনি খাতুনের কোলে ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু সুরাইয়া আক্তার তার মা ও দাদির সাথে নানার বাড়ি উপজেলার উথুরা থেকে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলি এলাকায় যাচ্ছিল। পথে ভরাডেবা-ঘাটাইল সড়কের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দাদি সনি খাতুন ও তার কোলে থাকা শিশু সুরাইয়া আক্তার ছিটকে নিচে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুর দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভারতের

    পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভারতের

    পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই উৎক্ষেপণের কাজ পরিচালনা করে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ওডিশা উপকূলে ডিআরডিও এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (টিএআরএ) নামে এই সিস্টেমের প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এটি ভারতের প্রথম নিজস্ব ‘মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট’, যা সাধারণ বোমাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে পরিণত করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষা করা ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখতে ‘অগ্নি-৬’-এর মতো না হলেও এটি নিশ্চিতভাবেই আইসিবিএম শ্রেণির। তবে ডিআরডিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ঘোষণা দেয়নি। এর আগে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ভারত শিগগির ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম পরীক্ষা করতে যাচ্ছে।

    যদি ভারত সত্যিই এ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে হামলা করতে পারবে। এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ারই ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য আইসিবিএম আছে বলে জানা যায়, যাদের পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি।

    এই পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই ভারতের ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান বলেছিলেন, অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র চূড়ান্ত করার সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রয়েছে, সরকারের অনুমোদন পেলেই তারা এ ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর পথে এগিয়ে যাবেন।

    গত বুধবার ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে বড় ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ‘১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লা এবং এমআইআরভি প্রযুক্তিসহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে দুর্ভেদ্য করবে এবং আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে।’

  • ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনিজুয়েলার ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

    ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনিজুয়েলার ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

    শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নেতৃত্বের’ কারণে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অভিযানের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম স্থল ও জলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় পরিবহন করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে সংগৃহীত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

    মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই পদক্ষেপকে একটি ‘পুনরুদ্ধারকৃত ও নবায়িত’ ভেনেজুয়েলার সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের বিতর্কিত নির্দেশের পর কারাকাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।

    তাদের মতে, নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে সমঝোতা করা হতাশাজনক। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই অর্জন নেহাতই নগণ্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

  • খার্গ দ্বীপে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

    খার্গ দ্বীপে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপারনিকাস সেন্টিনেল-১, সেন্টিনেল-২ ও সেন্টিনেল-৩ স্যাটেলাইটে ৬ থেকে ৮ মের মধ্যে ধারণ করা ছবিতে খার্গ দ্বীপের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ধূসর-সাদা রঙের একটি স্তর দেখা গেছে।

    পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির গবেষক লিওন মোরল্যান্ড জানিয়েছেন, ছবিতে দেখা স্তরটির আকৃতি তেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর বিস্তৃতি প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার হতে পারে।

    জলবায়ু ও জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ডাটা ডেস্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লুই গডার্ডও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হতে পারে।

    তবে কী কারণে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে বা কোথা থেকে এর উৎস, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন করে তেল নিঃসরণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি।

    ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর বেশিরভাগ তেল চীনে রপ্তানি করা হয়। যুদ্ধ চলাকালে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা দ্বীপটিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে

  • মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন: আড়ালে থেকে রণকৌশল সাজাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা !

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন: আড়ালে থেকে রণকৌশল সাজাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা !

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনা অনুযায়ী, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিভক্ত ইরানি প্রশাসনে কার হাতে কতটা ক্ষমতা রয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা হয়তো নেপথ্যে থেকে ঠিক করে দিচ্ছেন খামেনিই।

    যুদ্ধের শুরুতে এক হামলায় তার বাবা এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হন। যার ফলে তার সুস্থতা এবং ইরানি নেতৃত্বের কাঠামোতে তার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হামলায় ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে এবং মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও আরো কয়েক মাস টিকে থাকার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

    যে হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন, তার কয়েকদিন পরই খামেনিকে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই অনিশ্চয়তার একটি কারণ হলো খামেনি যোগাযোগের জন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করেন না। বরং এর পরিবর্তে তিনি কেবল তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেন যারা তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেন অথবা বার্তাবাহকের মাধ্যমে বার্তা পাঠান।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি শুক্রবার বলেছেন, খামেনি তার আঘাত থেকে সেরে উঠছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

    হোসেইনি ইরানের এক জনসমাবেশে বলেন, ‘শত্রুরা নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছে। তারা তাকে দেখতে ও খুঁজে বের করতে চায়, কিন্তু জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে তিনি আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ইরানকে মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

    ইরানকে মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মোকাবেলায় ইরানকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে যা থেকে বোঝা যায়, মস্কো তেহরানকে বিপুল পরিমাণে নতুন নতুন প্রযুক্তির’ অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম।

    গোয়েন্দা রিপোর্ট দাবি করছে, রুশ প্রযুক্তির কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। জানা গেছে, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। এবার জানা যাচ্ছে, মস্কো ইরানকে এমন কিছু ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা জ্যাম করা বা মাঝপথে আটকে দেয়া প্রায় অসম্ভব। শুধু তাই নয়, এসব অত্যাধুনিক ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া।

    একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়া ইরানকে পাঁচ হাজার ফাইবার-অপটিক ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই একই ড্রোন বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে মস্কো।

    এছাড়া, দূরপাল্লার স্যাটেলাইট-নির্ভর বেশ কিছু ড্রোনও তেহরানকে দেয়ার কথা রয়েছে এই প্রস্তাবে। শুধু অস্ত্র দেয়াই নয়, এসব ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার দায়িত্বও নিতে চায় রাশিয়া। ১০ পাতার ওই প্রস্তাবনায় বিভিন্ন দ্বীপের মানচিত্র এবং ড্রোন ব্যবহারের ছয়টি রেখাচিত্র যুক্ত করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সাধারণত ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে চলে, যা জ্যাম করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু এই ড্রোনগুলো সরু তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এগুলো কোনো রেডিও সিগন্যাল ছড়ায় না এবং শত্রুপক্ষ অপারেটরের অবস্থানও খুঁজে পায় না। এগুলো ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পিনপয়েন্ট হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর কাছেও এমন ড্রোন দেখা গেছে, যা তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ড্রোন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী থেকে এসেছে। তবে এর উৎস যে রাশিয়া, সেটা এখন জোরালো হচ্ছে।

    নথিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপে স্থল হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল, ঠিক তখনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া রাশিয়া তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি উন্নতমানের শাহেদ ড্রোনও তেহরানকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ড্রোনে স্টারলিংক টার্মিনাল যুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী হামলা চালানো যায়।রাশিয়ার গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে মস্কো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।

  • রিফাতের এ টু আই স্মার্ট কারে প্রধানমন্ত্রী

    রিফাতের এ টু আই স্মার্ট কারে প্রধানমন্ত্রী

    কলেজছাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি করা বিশেষ স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি করা বিশেষ স্মার্ট কার পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

    রিফাত যশোরের চৌগাছার ব্রাক পাড়ার দিনমজুর আবু খায়ের এর ছেলে। সে চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

  • এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার এই দুই খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হচ্ছে। দুই খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়সীমার মধ্যে শিক্ষা খাতকে শীর্ষে রাখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ব্যয়ের ১০টি খাতের জন্য মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই খাতগুলোতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এই তালিকায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের বরাদ্দ ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

    শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্তকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অফিসে বদলি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাদাত ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে নিজের কাছে থাকা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে জমা হতো শাহাদাতের পকেটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের জালিয়াতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে নকল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল শাহাদাতের সিলের বানানে একটি অসংগতিতে সব রহস্য ফাঁস হয়ে যায়।

    জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা রয়েছে। কিন্তু শাহাদাতের তৈরিকৃত নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের এই অসংগতি একই দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অল্প সময়ে তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ায় টাকার অঙ্ক বড় হয়নি। এছাড়া কেবল শাহাদাতের একার পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। এর পেছনে দপ্তরের ভেতরে বা বাইরে কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশও থাকতে পারে।

    জানা গেছে, ঘটনা তদন্তে গত ৩০ এপ্রিল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সিল জালিয়াতির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করি।

    তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে করা হয়। কারো পক্ষে সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কি না, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।

    এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি কন্ট্রোলার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছিলাম।

    তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে। ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

    এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহাদাতকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

    গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

    তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

    ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

    তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

    এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

    একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

    তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

  • আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে বছরের শেষের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

    হ্যাকিং গ্রুপ শাইনি হান্টার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের এই হামলার ফলে হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত একাডেমিক সফটওয়্যার ক্যানভাস এই সপ্তাহে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার ক্যানভাস-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ইন্সট্রাকচার তাদের ওয়েবসাইটে জানায় যে, ‘অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ক্যানভাস আবার চালু হয়েছে’। তবে শুক্রবারও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সেবা বিঘ্নের অভিযোগ জানিয়েছে।

    এই সাইবার হামলা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যার প্রভাবে আনুমানিক নয় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া কাজ পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে শুক্রবারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী অবরে পালমার বিবিসিকে জানান, তার স্ক্রিনে যখন মুক্তিপণের বার্তা ভেসে তখন তিনি মাত্রই ২ হাজার ৯০০ শব্দের একটি পরীক্ষার প্রবন্ধ শেষ করেছিলেন।

    বার্তাটিতে লেখা ছিল: ‘শাইনি হান্টারস আবারও ইন্সট্রাকচারের নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকেছে’।

    এতে হুমকি দেওয়া হয় যে, ক্যানভাস বা ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিটকয়েনে মুক্তিপণ না দিলে চুরি করা তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

    পালমার বলেন, “আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে আমাকেই হ্যাক করা হয়েছে, কারণ ব্যাপারটা ঠিক সেরকমই দেখাচ্ছিল। কিন্তু পরে মুক্তিপণের নোটটি পড়ে বুঝলাম ক্যানভাসই হ্যাক হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, তিনি তখন তার অধ্যাপক এবং আরও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন। সবাই চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন যে একই বার্তা তারা সবাই পেয়েছেন।

    প্রথমদিকে, তাদের কাজ সেভ হয়েছে কি না তা স্পষ্ট ছিল না। এ সময় খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে এবং পালমার বলেন তিনি ‘আবার পরীক্ষার লেখা লিখতে হতে পারে- এই চিন্তায় খুবই ক্ষুব্ধ’ ছিলেন।

    এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইমেইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে , পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করছে এবং এ ধরনের ‘দেশব্যাপী নিরাপত্তা ঘটনার’ জেরে সন্দেহজনক বার্তা উপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি শুক্রবার তাদের শিক্ষার্থীদের জানায় যে ‘ক্যানভাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না’ এবং তারা শিক্ষার্থীদের লগইন করার চেষ্টা না করতে নির্দেশ দেয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, “বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরাও এই বিভ্রাটের শিকার এবং আমরা এখনও ইন্সট্রাকচারের পরামর্শের অপেক্ষায় আছি”।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, এই বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের কোর্সওয়ার্ক ও পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেছে এবং তারা ‘সেমিস্টারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে এটিকে অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে স্বীকার করেছে ।

    বৃহস্পতিবার ইদাহো স্টেট ইউনিভার্সিটি জানায় যে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়েছে।

    পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাঠানো এক বার্তায় জানায় যে ‘কেউই ক্যানভাস-এ প্রবেশ করতে পারছে না’ এবং পরবর্তী ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান আসার সম্ভাবনা কম’। বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের কিছু পরীক্ষা বাতিল করে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক আপডেটে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া শিক্ষার্থীদের জানায় যে, ক্যানভাস এর এর মূল কোম্পানি ইন্সট্রাকচারের ‘সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে অচল’ এবং তাদের দ্রুত লগ আউট করার পরামর্শ দেয়।

    ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো জানায় যে, তারাও এই সাইবার হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা এও জানায় যে “একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এতে আক্রান্ত হয়েছে”।

    অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলস এর শিক্ষার্থীরা ক্যানভাস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে সমস্যায় পড়ে।

    আর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো জানায়, তাদের ক্যানভাস পেজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    দ্যা শিকাগো ম্যারুন-এর প্রকাশ করা একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায় শাইনি হান্টারস মুক্তিপণ দাবি করে একটি বার্তা পাঠিয়েছে।

    বার্তাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যক্তিগতভাবে হ্যাকিং গ্রুপটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার জন্য আলোচনার আহবান জানানো হয় এবং ‘তাদের তথ্য প্রকাশ’ না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়।

    একই ধরনের বার্তা পেয়েছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স শিক্ষার্থী জ্যাকুয়াস আবো- রিজক। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসকের পাঠানো বলে মনে হওয়া একটি ইমেইলের লিংকে ক্লিক করার পর তিনি এই বার্তা দেখতে পান।

    আবো-রিজক বলেন, “আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। এমন একটি বার্তা পাওয়া সত্যিই ভয়ের ব্যাপার।”

    তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টি এ বিষয়ে একটি সাধারণ ইমেইল পাঠায়, যা বিবিসি দেখেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, নর্থওয়েস্টার্ন ‘একটি বিষয়ের ওপর নজর রাখছে’।

    ই-মেইলে আরও বলা হয়, ক্যানভাস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জানা নেই এবং অন্য আইটি অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    আবু-রিজক জানান, শুক্রবারও তিনি ক্যানভাসে প্রবেশ করতে পারেননি এবং এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর কোনো বার্তা পাননি।

    তিনি বলেন, “শুধু আমার নিজের কাজ শেষ করা বা ক্যানভাস এর প্রয়োজনীয় সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারা নিয়েই নয়, বরং আসল হুমকিটা কী এবং এটি কীভাবে আমাকে প্রভাবিত করতে পারে—এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    “কোন তথ্য প্রকাশ করা হবে আমি জানি না, আর সেটাই আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে।”

    বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    শাইনি হান্টারস অতীতেও একাধিক আলোচিত সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে গত বছর জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এর ওপর চালানো বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হ্যাকটি ছিল অন্যতম।

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এমিসফট- এর বিশ্লেষক লুক কনলি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, স্ক্রিনশট অনুযায়ী এই গোষ্ঠীর লক্ষ্যভিত্তিক হুমকি রবিবার থেকে শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার ও ১২ মে পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি বলেন, মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা এখনও চলতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় তারা যে তথ্য চুরি করেছে বলে দাবি করছে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে কী করবে—সে বিষয়ে গোষ্ঠীটি এখনো কিছু জানায়নি।

    হস্পতিবারের এই সাইবার হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাইবার ঝুঁকির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষার আহবান জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

    তিনি লিখেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ‘অবিলম্বে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা এমন বিভ্রাট, বিঘ্ন এবং মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে- এমন হামলার শিকার হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে

  • শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে।‌

    তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে।

    শনিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চীন দূতাবাস ও চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এর জন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ আরো সুদৃঢ় করতে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

    এ সময় ফোরামে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম বদরুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

  • সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান

    সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান

    বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড় সাংগঠনিক বৈঠক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সভায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, স্থানীয় পর্যায়ের অন্তঃকোন্দল নিরসন এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তারেক রহমান।

    দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাদের আরও সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে এ মতবিনিময় সভা থেকে।

    এর আগে, মতবিনিময় সভা ঘিরে শুক্রবার বিকেলে ভেন্যু পরিদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ মতবিনিময়ের মাধ্যমে আগামী দিনের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান।

  • শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। বাংলাদেশে শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে চায়না–বাংলাদেশ রাউন্ড টেবিল অন গভর্ন্যান্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাসহ সব খাতের উন্নয়নে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে জোর দিচ্ছে। এছাড়া, দেশের জিডিপি’র ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে,যা কার্যকারিতা বিবেচনায় বিনিয়োগ করা হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও জোর দিতে চায় সরকার।’

    ই দেশের সুসম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এসম্পর্ক নির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সরকারের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেন। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং যেকোন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সিসিএস একাডেমিক বোর্ড চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

  • ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    আগামী দিনের মাঠের কর্মসূচি বেগবান এবং তৃণমূলকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে একযোগে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে সেসব কমিটি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এগুলো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে রীতিমতো তুলকালাম চলছে।

    কমিটি নিয়ে গুরুতর

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা পদ পেয়েছেন। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নিপীড়ন, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের বঞ্চনা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঘটেছে সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে।

    পদবঞ্চিত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণার ফলে যেখানে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক। পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অভিমানে দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং সুবিধাবাদীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্কোন্দলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

    পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, আগামী দিনে বিরোধী দলের মাঠের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। সেসব কর্মসূচিতে এ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাত্রদলের শক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কেন্দ্র ও তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী দিনে ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে এমন অনেককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজপথে কখনো দেখা যায়নি। আবার নিষিদ্ধ ও বৈরী ছাত্র সংগঠনের অনেককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যাদের মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বিপরীতে রাজপথে ভূমিকা রাখা, জেল-জুলুমের শিকার অনেক নেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে কমিটিতে এমন পদায়ন হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, বিএনপির চেয়ার‌ম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সোচ্চার একটি অংশ ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা—কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা না হলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    একযোগে ৪৫ ইউনিটের কমিটি

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি মর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। তার মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে ২২ ইউনিটে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, ভোলা, ঝালকাঠি, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, যশোর, বান্দরবান, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমসহ ২৩টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো হলো— কুমিল্লা মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা মহানগর, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।

    ক্ষোভ ও বিতর্কের নেপথ্যে

    বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরে রাজপথে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক এলাকার নেতাদের অভিযোগ—অনেক ইউনিটে নিয়মিত ছাত্রদের বাদ দিয়ে অছাত্র, ব্যবসায়ী ও বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি কোথাও কোথাও ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হয়েছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি জেলা ও মহানগরে নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পদবঞ্চিত কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুতুল পুড়িয়েছেন। অনেকে ফেসবুক লাইভে অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। কেউ কেউ অভিমানে ছাত্রদলের রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

    কমিটি নিয়ে তুলকালাম

    ছাত্রদল ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

    ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ—কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাঙামাটিতে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা

    জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

    নিজ জেলায় অবাঞ্ছিত ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক

    সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। সেই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাছির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির ১৮ জনই বিবাহিত।

    মমেকের কমিটিতে ৮ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২২ সদস্যের কমিটিতে আটজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজার ও বরিশালে সড়ক অবরোধ

    দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকের এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের অভিযোগ, তার সহযোদ্ধাদের দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটাকে অপরাজনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর পূর্বের ৪০০ সদস্যের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দিনাজপুরেও একতরফা কমিটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা। এছাড়া ভোলায় বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

    সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, জেলা কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে শীর্ষ দুজন ছাড়া বাকিদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। বিগত দিনের কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে বাস্তবে সংগঠনের পদ এবং প্রত্যাশীদের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন সম্ভব হয়নি। এ কারণে অনেকের সংক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

    ময়মনসিংহ মেডিকেলের বিষয়ে নাছির বলেন, সেখানে ছাত্রলীগ গণহারে অনেককে পদ দিয়ে দিয়েছে। যে কারণে এমন অনেকের নাম এসেছে, যারা আসলে এ বিষয়ে জানেও না।

    আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ রকম কোনো বিষয় নেই। আর এমন অভিযোগ কাম্য নয়।

  • ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথেই হাঁটছে সরকার: বুলবুল

    ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথেই হাঁটছে সরকার: বুলবুল

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

    তিনি বলেন, জনগণ সংস্কার চায়, জনগণ পরিবর্তন চায়, কিন্তু সরকার সংস্কার ও পরিবর্তন না করে পুরোনো ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথেই হাঁটছে।

    শুক্রবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল-শাহজাহানপুর জোনের ‘নন রুকন সাথী ও সদস্য শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যারা নির্বাচনের আগে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ক্ষমতায় বসে গণভোটের জনরায়কে মেনে নিচ্ছে না তাদের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার হবে না, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না। সরকার যদি জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে পালনই করে তবে কেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেনি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না বলেই সরকার গণভোটের রায় মেনে নিচ্ছে না।

    তিনি সংঘাত বা সংঘর্ষ সৃষ্টি না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা জামায়াতে ইসলামী করতে প্রস্তুত রয়েছে।

    জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, মতিঝিল-শাহজাহানপুর জোন পরিচালক মুহাম্মদ শামছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমির মুহাম্মদ শরিফুল ইসলামের পরিচালনায় মহানগরীর হলরুমে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।

    সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো।’’

    অন্য পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লেগেছে।”

    তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।

    এদিকে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, “আমরা বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি।” তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।