সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি। এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৪।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

    একই সময়ে ১ হাজার ২৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

  • নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে নীলফামারী সদর খাদ্য গুদামে এ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

    এসময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আতিক আহমেদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ সুজা, সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনের দিন সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান নামের এক কৃষকের কাছ থেকে তিন মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে তাৎক্ষণিক তাকে ধানের মূল্য পরিশোধের চেক প্রদান করা হয়।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সদর উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। এজন্য কৃষক অ্যাপে আবেদনকারী কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৮৪৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।

    এছাড়া চলতি মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৭৭১ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহ করা হবে।

    এ,আর

  • চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনকে চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বদরগঞ্জ)-এর বিচারক সোহেল রানা তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শামীম আল মামুন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন।

    রংপুর জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ অক্টোবর শামীম আল মামুন, জিকরুল হক ও হাদিজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন একই উপজেলার দক্ষিণ বাওচন্ডির মো: ফয়সাল হক। শিক্ষা অধিদফতরের এসএস ডিপি প্রকল্পে চাকরি দেয়ার নামে চেকের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

    মামলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের প্রার্থনা করেন শামীম আল মামুন। বিচারক শুনানি শেষে শামীম আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শামীম আল মামুন বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং বিএনপির পেশাজীবী ফোরাম জিয়া পরিষদের বদরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা যায়, তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভুয়া নাম, রোল ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি নেন শামীম আল মামুন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

    কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভুপেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আর আদালতের ওপরে কারো কিছু করার নেই। সে যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এটা তার নিজের বিষয়। এতে আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ট্রাম্পের দাবি নাকচ, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি ইরানের

    ট্রাম্পের দাবি নাকচ, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি ইরানের

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে কোনো নতুন সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

    সোমবার (১ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। এ মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য চলমান সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

    তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে ইরান অবগত রয়েছে। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।

    ইসমাইল বাঘেই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

    এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের গোর্ক শহর ও কাসেম আইল্যান্ডে অবস্থিত রাডার এবং ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার এখন পারমাণবিক আলোচনা নয়; বরং চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।##

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠিত হতে পারে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস-জানায়, দীর্ঘদিনের সংঘাত শেষে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, শিল্পখাত এবং রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে, যা বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় গঠিত হতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তহবিল গঠনে মধ্যস্থতা করবে। উভয় পক্ষ খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন এই তহবিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় কেবল যুদ্ধাবসানই নয়, বরং মার্কিন-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির মতো বড় বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার অধীনে কোনো দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালাবে না। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে, যার মধ্যে লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত হতে পারে।

    পরমাণু ইস্যুতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি হবে এবং আলোচনা চলাকালীন তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এছাড়া, খসড়ায় ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সচল রাখার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে মার্কিন তেল ও জ্বালানি সংস্থাগুলো যেন ইরানি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই প্রস্তাবও রেখেছে তেহরান।

    এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও খসড়া কাঠামোতে রাখা হয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, ফলপ্রসূ আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থ ছাড় করতে হবে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরাইল কর্তৃক ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার বিষয়টি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে টিকিয়ে রেখেছে। আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে মূলত ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ১০ টন নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। ##

  • ফের ইরানের সামরিক স্থাপনায়  হামলা

    ফের ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ হামলা চালানো হয়েছে ইরানের গোড়ুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

    সংস্থাটি আরও দাবি করে, তাদের বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেগুলো আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ তৈরি করছিল।

    সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।##

  • শতাধিক মানুষকে ভারত থেকে  পুশ ইনের চেষ্টা

    শতাধিক মানুষকে ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ওই ‘বাংলাদেশিরা’ ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন।

    গতকাল রোববার রাত থেকে বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জড়ো করে রাখা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।

    সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, যাদের পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই ছাড়া তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ। বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা শতাধিক ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের খবর পাওয়া যায়। বিএসএফ তাদের পরিচয় নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।

    তবে বেনাপোল সীমান্তে চলমান এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    সীমান্তবাসীরা জানান, গতকাল রাতে সীমান্তে একটি বাগানে শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় তাঁরা বিজিবির পাশে থাকবেন।

    যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ ১০০ থেকে ১২০ জনকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করেছে। তবে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।##

  • মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু করেছে মালয়েশিয়া। তরুণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় শরিক হয়ে সোমবার থেকে এই নিয়ম বলবৎ করেছে দেশটি।

    নতুন এই নিয়মের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট ব্লক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    যেসব কোম্পানি এই নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাদের ১ কোটি রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। তবে শিশুরা যদি এই আইন ফাঁকি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে, তাহলে তাদের বাবা-মাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

    সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট, সাইবার বুলিং এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তি তৈরি করে প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন ফিচার থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করেছে। এছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা বা উন্নয়ন করছে।

    মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা নয়, বরং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলা করা এবং বয়সোপযোগী সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া।

    গত মাসে এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ‘এই পদক্ষেপগুলো অনলাইন পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের বাড়তি আশ্বাস দেবে।’

    প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ ফিচার চালু করতে হবে, যার মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন কারসাজিমূলক ডিজাইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কম বয়সি অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার এই নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো বিস্তারিত জানায়নি।

    এজ-ভেরিফিকেশন সিস্টেমের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

    এর আগে গত এপ্রিলে মেটার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর ক্লারা কোহ সতর্ক করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সিদের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এটি কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষিত অ্যাপ থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক কোণগুলোতে নিয়ে যেতে পারে।

    তিনি জানান, মেটা ইতোমধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে, যা যোগাযোগ, স্ক্রিন টাইম এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন সুরক্ষায় কীরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই মালয়েশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি প্ল্যাটফর্মের ডিজাইনের কারণে এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অনেক অভিভাবকের সমর্থন থাকলেও মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্সের লেকচারার বেঞ্জামিন লোহ বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করছে ঠিকই, তবে বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারি আইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি শঙ্কা তৈরি করছে।’

    লোহ আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। মা-বাবার জন্য কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় পরিবারগুলো সহজেই তাদের শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এই আইন ফাঁকি দিতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি বড় ফাঁকফোকর। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি এটি সংশোধন না করে, তাহলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে এই আইনের কার্যকারিতা খুব কমই থাকবে।’##

  • চৌগাছায় শিবিরের দুই নেতাকে গুলি করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ জুন

    চৌগাছায় শিবিরের দুই নেতাকে গুলি করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ জুন

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৬ জুন নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়।

    এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন— চৌগাছা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। তাদের সোমবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    অন্যদিকে পলাতক আসামিরা হলেন— তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।

    এর আগে, গত ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। তাদের আদালতে হাজির না করে টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়। পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে পুলিশের অধীনস্থ সদস্যদের মাধ্যমে তাদের পায়ে গুলি করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবিরের ওই দুই নেতার ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া, ক্ষতস্থানে বালু ঢোকার কারণে পচন ধরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৭৯টি শিশু।

    আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৯৮ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৮৮টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৪৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৩৪। এই সময়ে এক হাজার ১৬ জন শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮১টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৭০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৯৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫৭ হাজার ৯০২ রোগী, যাদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৭২২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • মারা গেছেন তোফায়েল আহমেদ

    মারা গেছেন তোফায়েল আহমেদ

    সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)।

    সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

    বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা

    খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে দেশব্যাপী বিশেষ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ‘পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিমের অধীনে এ আয়োজন করা হবে।

    সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে বাস্তবমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যেকোনো শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং তাদের দিকনির্দেশনার জন্য দুজন শিক্ষককে নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। তবে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক দলও অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    এই শোকেসিং বা মেলা তিনটি প্রধান বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো-স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং ইনোভেশন আইডিয়া।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে দেশের সব উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের আওতাধীন শিক্ষা থানাগুলোতে এ মেলা আয়োজন করতে হবে। উপজেলা বা থানা পর্যায়ের নির্ধারিত কমিটি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ একটি প্রকল্পকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করবে।

    ২৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দল-যার মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক থাকবেন-সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হবে।

    জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দলগুলোর তালিকা ও হার্ডকপি ২৬ জুনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষরসহ স্ক্যান করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা (pbgseaward2026@gmail.com)-এ পাঠাতে হবে।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি মহানগরী থেকে মোট ৭৫টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। এসব দলের সদস্যসংখ্যা হবে মোট ৫২৫ জন। জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজন আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নির্বাচিত বিজয়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হবে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি পুরস্কার গ্রহণ করবে।

    জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে আর্থিক প্রণোদনা। প্রতিটি শিক্ষার্থী ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে। এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে সনদ দেয়া হবে।

    অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষক ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে তাদের একটি করে সনদ প্রদান করা হবে।

  • ইরানিদের অধিকার নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: গালিবাফ

    ইরানিদের অধিকার নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: গালিবাফ

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি অনুমোদন করবে না তেহরান।

    আজ রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা হয়েছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তি অনুমোদন করব না।’

    গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমাদের আলোচকেরা শত্রুপক্ষের কথাবার্তা বা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখেন না।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। উভয় পক্ষ বর্তমানে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামো নিয়ে প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় করছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে একটি নতুন খসড়া কাঠামো পাঠিয়েছেন, যাতে আগের তুলনায় আরও কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    তবে নতুন প্রস্তাবে ঠিক কী ধরনের শর্ত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা।

    এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকিকে ইরান নিজেদের বৈধ অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।##


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • অভিবাসন ইচ্ছুকদের ভিসার সুখবর দিল মার্কিন দূতাবাস

    অভিবাসন ইচ্ছুকদের ভিসার সুখবর দিল মার্কিন দূতাবাস

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ভিসা প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে অভিবাসনে ইচ্ছুকদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দুই দিনের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

    রোববার (৩১ মে) দুপুরে মার্কিন দূতাবাসের এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মার্কিন দূতাবাস জানায়, আগামী ১ জুন থেকে এই ঘোষণা কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সব ধরনের অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরির আবেদন ২ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে।

    দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ (ভিসা ক্যাটাগরির নির্দেশিকা) দেখুন এবং ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিজ’ অপশনটি চেক করুন।##

  • রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    ইউক্রেনে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় রুশ বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৩২০ জন ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রুশ বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় এ নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    এদিকে, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি নির্দেশিত গাইডেট বোমা হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের ১০৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইউক্রেনিফর্ম।

    রুশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্থ’ ব্যাটলগ্রুপের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রায় ২০০ জন, ‘ওয়েস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের অভিযানে ১৮০ জনের বেশি, ‘সাউথ’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৮৫ জনের বেশি, ‘সেন্টার’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৩৪০ জনের বেশি, ‘ইস্ট’ দিকের অভিযানে ৪৫৫ জনের বেশি এবং ‘দনেপ্রো’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় আরও ৬০ জনের মত সেনাসদস্য হতাহত হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টায় রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি নির্দেশিত বিমানবোমা, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে রুশ মন্ত্রণালয়।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি গাইডেট অ্যারিয়েল বোম, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করেছে।

    রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বাহিনী মোট ৬৭১টি বিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ক৬৮৪টি ড্রোন, ৬৬১টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ২৯ হাজার ৫৫০টি ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১ হাজার ৭২৭টি মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম, ৩৫ হাজার ১৩৬টি ফিল্ড আর্টিলারি গান ও মর্টার এবং ৬২ হাজার ৮৭৪টি বিশেষ সামরিক যান ধ্বংস করেছে।

    এছাড়াও ইউক্রেনের কথিত ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক বিমানঘাঁটি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে মস্কো।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন স্থল ও আকাশভিত্তিক অস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক বিমানঘাঁটি, জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। হামলার সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।

    ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। তখন থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের খেরসন, ঝাপোরঝিয়া এবং দনবাস প্রদেশের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী।

    এর আগে ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। এরপর ক্রিমিয়াতে নামমাত্র গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৫০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর হামলায় প্রায় ৫৫,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।##

  • চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের ৬ জন বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিজ হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেবেন।

    এ বছর বিশ্বজুড়ে আত্মত্যাগকারী মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সম্মাননা পেতে যাওয়া এই শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৫৯ জনই গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের এই ৬ জন কৃতি সন্তান রয়েছেন।

    মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পেতে যাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। এই বীর সেনানীরা আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নিহত হন।##

  • সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিস থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮০ জনকে।

    পিএসজির জয়ের পর হাজারো সমর্থক প্যারিসের রাজপথে নেমে উদযাপনে অংশ নেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কোথাও মোটরসাইকেল ও বৈদ্যুতিক বাইকে আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ এসব ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগেও পিএসজির ইউরোপীয় শিরোপা উদযাপনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে দুজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোর।

    এদিকে রোববার রাজধানী প্যারিসে পিএসজি খেলোয়াড়দের নিয়ে বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।##

  • পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার পর প্রথম ৭ দিনে রাজ্য প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’কে আটক করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আটক করা হয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলায়। সেখানে ৩৩৫ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষ নগরের বন্যা ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে।

    বসিরহাট ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়ও কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাগুলোতেও আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এসব হোল্ডিং সেন্টারে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এদিকে কেরালায় কর্মরত চার শ্রমিকও রয়েছেন সেই কথিত অভিবাসীদের মধ্যে, যাঁরা ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

    ফোনে কথা বলতে গিয়ে ওই চার যুবকের একজন মতলেব হোসেন বলেন, ‘গতকাল আমাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আমাদের আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারাও আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি, সে বিষয়ে সব তথ্য নিয়েছেন। আমরা তাঁদের সবকিছু জানিয়েছি।##

  • ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে কয়েকটি ‘সংশোধনী’ আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ট্রাম্প তার দলকে ওই চুক্তির কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করতে বলেন।

    আল জাজিরার রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশোধনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে। বর্তমানে চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছে, তবে এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু ছাড়ের বিস্তারিত নেই।

    একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এটি মূলত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পাবে এবং তার সময়সূচি কী হবে সেসব নির্দিষ্ট করার বিষয়।’

    আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি ঘিরেও পরিবর্তন আনতে চান।

    সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘সপ্তাহের শুরুতেই আমরা কিছু একটি পাওয়ার আশা করছি।’

    এর আগে, ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ইরান যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে এখন তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন হতো। তখন হয়তো ইসরায়েল থাকত না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠে যেত। এরপর তারা কোথায় যেত?’##

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান বিষয়ে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকে যা ঘটেছে তা আপনারা দেখছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত খারাপ করেছি। আমরা যা করেছি, তা ছিল খুবই বোকার মতো কাজ।,

    উল্লেখ্য, প্রথমত আমাদের সেখানে (ইরাকে) যাওয়াই উচিত হয়নি।’

    এরপর ইরানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইরানে থাকা উচিত হয়নি, তবে ইরানের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তবে এই মুহূর্তে তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। আর তেমনটি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। সম্ভবত তখন আপনারা ইসরাইলকে পেতেন না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকেও পেতেন না। এরপর তারা সেখান থেকে কোথায় যেত?’

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে রেহাই দিয়েছে।

    এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা এক প্রকার স্পর্শ করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা নরমপন্থি। তাদের অন্যান্য লোকজন রয়েছে যারা নরমপন্থি নয়। আমরা তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরকে সরিয়ে দিয়েছি। তবে তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা আসলে কিছুই করিনি।’

    ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মানুষ হয়তো এই কথা শুনে অবাক হবে। কারণ যুদ্ধে এমন কিছু ভুল হয়ে থাকে যেখানে আপনি সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং এর ফলে এমন একটি দেশের সৃষ্টি হয় যা হয়তো পরবর্তী ৪০ বছরেও আর পুনর্গঠিত হতে পারে না।’##

  • এড়নো যেতে পারে স্তন ক্যান্সারের কেমোথেরাপি

    এড়নো যেতে পারে স্তন ক্যান্সারের কেমোথেরাপি

    স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখ লাখ রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, এমন এক ডিএনএ পরীক্ষা তারা উদ্ভাবন করেছেন, যেটা বলে দেবে, কেমোথেরাপি কোন রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করবে, কার ক্ষেত্রে করবে না।

    ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    গবেষণায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া চার হাজারের বেশি রোগীকে যুক্ত করা হয়। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি।

    আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

    কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা।

    স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

    স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

    ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে।

    ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম। তিনি বলেন, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো।

    ‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন ৬৪ বছরের এই রোগী। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।

    নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া— দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’

    গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলন— আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির’ বার্ষিক সভায় তুলে ধরার কথা।

    পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ছিলেন ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন। তিনি বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।

    গবেষক রোব স্টেইন আরও বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

    তবে ইউসিএলের মতে, ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

  • ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস ছিল। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না, তবে নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যানটিনের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছিলেন।

    দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে দমকলকর্মী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

    আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বলবন্ত যাদব জানান, তার মেয়ে নীলম ভবনের পাশের ক্যানটিনে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার সময় সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। নীলমের পা ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, বিশেষ ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

    সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা, নির্মাণকাজের অনুমোদন এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করবে সরকার। রোববার দুপুরে তিনি একথা বলেন।

    এর আগে মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন, এতটা স্বাধীনতা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পোস্টিং বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও আমরা অতীতে দেখেছি, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে।

    মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি রামিসা হত্যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

  • শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে পাঁকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (আঁটি) তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

  • সালাহর নেতৃত্বে মিশরের চূড়ান্ত দল

    সালাহর নেতৃত্বে মিশরের চূড়ান্ত দল

    মোহামেদ সালাহকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে মিশর। ২৬ সদস্যের এই দলে চমক হিসেবে ১৮ বছর বয়সী আবদেল করিমকে রেখেছেন কোচ হোসাম হাসান।

    মিশরের আক্রমণভাগে আরও আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ।

    বিশ্বকাপের মূল আসর মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে আগামী ৬ জুন ওহাইওতে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মিশর।

    এরপর আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে ইউরোপীয় জায়ান্ট বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘জি’তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো নিউজিল্যান্ড এবং ইরান।

    গোলকিপার

    মোহামেদ এল-শেনাওয়ি, মোস্তফা শোবেইব, এল-মাহদি সোলাইমান ও মোহামেদ আলা।

    ডিফেন্ডার

    মোহামেদ আবদেলমোনেম, মোহামেদ হানির, ইয়াসের ইব্রাহিম, হোসাম আবদেলমাজিদ, আহমেদ ফাত্তুহ, তারেক আলা, রামি রাবিয়া, হামদি ফাথি ও করিম হাফেজ।

    মিডফিল্ডার

    মোহামেদ সালাহ, মারওয়ান আতিয়া, আহমেদ মোস্তাফা, মাহমুদ হাসান, ইমাম আশুর, মোস্তাফা আবদেল রউফ, মোহান্নাদ লাশিন, হাইথাম হাসান, মাহমুদ সাবের, ইব্রাহিম আদেল ও নাবিল এমাদ

    ফরোয়ার্ড

    ওমর মারমুশ ও হামজা আবদেল করিম।

  • আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিআইডির কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    আজ বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও এনআইসিইউ’র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

    এরইমধ্যে কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল।

  • দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা: প্রধানমন্ত্রী

    বিডিটােইমস ডেস্কঃ দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    ‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি পবিত্র ঈদুল আজহার এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মুবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ উৎসবই নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ইমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।’

    একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কুরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’ বাসস

  • যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    ঈদ যাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে স্বস্তি মিললেও টাঙ্গাইলে যমুনা সেতু এলাকার আশপাশে যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। তবে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দুপুরের পর থেকে তেমন যানজট নেই।

    যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বেলা ১১টা থেকে বেলা দেড় পর্যন্ত উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়েছে। এরপর শুধু উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে সেখানকার যানবাহন চলতে দেওয়া হয়েছে।

    আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কটিতে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এক জায়গাতেই বাস–ট্রাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহাসড়কের সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে যানজটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মোতাহার হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা থেকে রাত ১১টায় রওনা হয়েছিলেন। পুরো রাস্তাতেই এভাবে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

    কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি মালয়েশিয়া থেকে রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন। এরপর ভাড়া করা ট্যাক্সিতে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। ৯ ঘণ্টা লেগেছে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে।

    যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় সকালের বৃষ্টির কারণে। ট্রাকে আরোহীদের ভিজে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ট্রাকে আরোহী সাভারের পোশাক কারখানার শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, ‘সারা রাত যানজটে কষ্টে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়েছি।’

    যানজটের কারণে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হয়। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য মহাসড়কের আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
    যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন প্রতিদিন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তিন গুণের বেশি যানবাহন চলাচল করছে।

    টোল প্লাজা সূত্র জানায়, যানজট নিরসনের জন্য দুই দফায় পৌনে চার ঘণ্টা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পাড় করানো হয়। ভোর ৪টা ৩৫ থেকে সকাল ৬টা ৪০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে চাপ কিছুটা কমে। কিন্তু পরে আবার চাপ বাড়তে থাকে। পরে বেলা ১১টা থেকে আবার উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যান পার করানো শুরু করা হয়।

    গাজীপুরের মহাসড়কে স্বস্তি

    গত দুই দিনের তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ কাটিয়ে আজ দুপুরের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে গাজীপুরের মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বর্তমানে বড় কোনো যানজট, অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে মহাসড়ক।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় পরিবহনসংকট। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রাতভর যানজট ছিল। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

    তবে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
    গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কেন্দ্র ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চিরচেনা যানজট নেই, নেই পরিবহনের সংকটও। যাত্রীরা সহজেই পছন্দের পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

    যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘আজ চন্দ্রায় এসে দেখছি কোনো যানজট নেই; বরং যাত্রীর চেয়ে পরিবহনই বেশি। এখানে সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর আগে কিছুটা যানজট আছে বলে শুনেছি।’

    রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, গতকাল যে চাপ ছিল, আজ তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই। গতকাল ১০ মিনিটেই গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আজ এক ঘণ্টা পার হলেও গাড়ি ভর্তি হচ্ছে না।

    আজ ঘরমুখী মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, এরপরও চন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেজবুল্লাহর শতাধিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে সোমবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল “লেবাননে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করছে।”

    তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বড় আকারে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। একই সঙ্গে, উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হেজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে তারা “নিরাপত্তা অঞ্চল” আরও শক্তিশালী করছে।

    এখানে “নিরাপত্তা অঞ্চল” বলতে সীমান্ত সংলগ্ন কিছু এলাকাকে বোঝানো হচ্ছে, যেটিকে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষই বারবার লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাও হুমকির মুখে পড়েছে।

    ইসরায়েল প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও কামান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতিও রয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকা।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও কয়েকটি হামলা হয়েছে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গটিকে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় দুর্গগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    সোমবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল তাদের হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা আরও বাড়াবে।

    তিনি বিশেষভাবে ফাইবার-অপটিক ড্রোনের কথা উল্লেখ করেন, যেগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।”

    এই ঘোষণার পর হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে পালাতে দেখা যায়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবারগুলো রাস্তায় বের হয়ে পড়লে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না করা হলেও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

    বিবিসি প্রায় ৫০টি স্থানে কয়েক ডজন হামলার তথ্য পেয়েছে।

    লেবানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণের শহর আরব সালিমের একটি বাড়িতে হামলায় এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও ইসরায়েলি হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন। রাতভর হামলায় মাশগারা এলাকার কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দু’টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে ছিল মোহাম্মদ নামের এক শিশুও। ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে শিশুটির ছোট দু’টি হাত বাইরে বেরিয়ে ছিল। পরে ধুলা-মাটিতে ঢাকা সাত বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

    “ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হচ্ছিল আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। পাশে শুধু অন্ধকার ছিল,” হাসপাতালের বেডে শুয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়ে বিবিসিকে বলছিল মোহাম্মদ।

    “যারা আমাকে উদ্ধার করছিল, তাদের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাকে বের করতে তাদের অনেক সময় লেগেছে।”তার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। হাত ও পায়েও কাটা ও আঁচড়ের দাগ দেখা যাচ্ছিল। যখন ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের বাড়িতে আঘাত হানে, মোহাম্মদ তখন নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ওই হামলায় তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

    মাশগারা এখন একেবারে জনশূন্য শহরের মতো মনে হচ্ছে। রাস্তায় খুব কম গাড়ি চলাচল করছে। মাঝে মাঝে কয়েকটি গাড়ি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা কারা, তা দেখে নিচ্ছে। চারপাশে যেন জীবনের কোনো চিহ্ন নেই।

    যেসব স্থানে রাতভর হামলা হয়েছিলো, পৌরসভার সদস্য আহমাদ আমাদের সেইসব স্থানে নিয়ে যান। ভেঙে পড়া বাড়ি ও দোকানপাট দেখে জায়গাটিকে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত একটি জনপদ মনে হচ্ছিল।

    আহমাদ বলেন, “আমি হেজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর শত্রুপক্ষ (ইসরায়েল) কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না।”

    এরপরই যুদ্ধবিমানের শব্দে আহমাদের কথা থেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আমাদেরকে দ্রুত সরে যেতে হয়।

    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আমরা যেখানে ছিলাম, তার খুব কাছাকাছি একটি সড়কেই বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে মাশগারা এলাকার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, সেখানে “হেজবুল্লাহর অবকাঠামো” লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে “সন্ত্রাসী তৎপরতা” শনাক্ত করা হয়েছিল। ওই হামলায় “সন্ত্রাসীরা” নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্র গুদাম, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, নজরদারির জায়গা ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে। তারা হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদরাই বলেন, হেজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।

    অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ জানিয়েছে যে ইসরায়েলের “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের” জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

    মূলত, গত রোববার দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হামলা আরও জোরদারের নির্দেশ দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    এর ফলে গত দোসরা মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে হেজবুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত তিন হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন।

  • হজের খুতবা

    হজের খুতবা

    ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মক্কা মুকাররমার আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরায় এবার হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি। খুতবায় তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আজ (৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে অবস্থানরত হাজীগণের উদ্দেশে খুতবা প্রদানকালে শায়খ হুজাইফি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাকওয়া অবলম্বন করুন। হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকার পূর্ণ করুন।’

    এ সময় তিনি আরো বলেন, তাকওয়া অবলম্বন করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না। তাওহিদের ওপর আমল করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। ঈমানদারদের সামনে যখন আল্লাহর আয়াত ও নির্দশনসমূহ পেশ করা হয়, তখন তাদের অন্তর কোমল হয়ে যায়।

    শায়খ হুজাইফি বলেন, মহানবী সা: আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল। তিনি খাতামুন নবিয়্যিন।

    হজযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রতিটি বিপদে ধৈর্যের পথ অবলম্বন করা উচিত। ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। (মুসল্লিগণ!) আপনারা, সবসময় সত্য কথা বলুন এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকুন। বিদআত ও গিবত থেকেও দূরে থাকুন।

    তিনি আরো বলেন, আপনারা সর্বক্ষণ মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ তায়ালার জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকুন। নামাজ কায়েম করুন। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শোকর আদায় করে তা থেকে উপকৃত হোন।

    মসজিদে নববী সা:-এর প্রবীণ এই ইমাম বলেন, যেসব জাতি জুলুম করেছে এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তাদের থেকে নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্কই মুক্তির মাধ্যম। হে ঈমানদারগণ! নিজেদের রবের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখুন। হজের সময় সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আজকের দিনে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা ঐক্যের ক্ষতি করে। হাজীরা যেন সর্বোত্তমভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতাগুলো আদায় করেন।

    খুতবা চলাকালে দোয়া করে মসজিদে নববী সা:-এর ইমাম বলেন, হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থার ওপর রহম করুন। আপনিই দোয়া কবুলকারী। হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থা ভালো করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আমল কবুল করুন। হে আল্লাহ! আমাদের হেদায়েত দান করুন।

    লাখো হাজী আরাফাতের ময়দানে খুতবা শ্রবণ করেন এবং খুতবায় মুসলিম উম্মাহকে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা দেয়া হয়। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সমস্যা-সঙ্কটগুলোর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। খুতবার পর হজযাত্রীরা মসজিদে নামিরায় জোহর ও আসরের নামাজ একসাথে আদায় করেন। ##

  • বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    ভারত বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করবে না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মঙ্গলবার নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন।

    তাদের উদ্দেশে তিনি হিন্দিতে বলেন, জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা।

    এ সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাদের জেলে বসিয়ে খাইয়ে জনগণের টাকা নষ্ট করতে চাই না। তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। আইন আগে থেকেই ছিল, কিন্তু ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে কিছু মানুষ তা ব্যবহার করেনি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ আর আমরা দেব না।’

    শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, জেলে পাঠাতে হবে না। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামা কাপড় পরবে কেন। জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!

    এরআগে, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ‌‘আটক শিবির’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেয় শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও গত এক বছরে একই ধরনের আটক শিবির তৈরি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম নেওয়া হয়।##

  • ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসলামিক ওয়াকফ পরিচালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন নবী সুলাইমান (আ)-এর সমাধিস্থল দখলের আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। মঙ্গলবার ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই জমির মধ্যেই ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অবস্থিত।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের অধীনস্থ বেসামরিক প্রশাসন জানায়, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ দখল করা হচ্ছে।

    ইসরাইল বলছে, নবী সোলাইমান (আ)-এর সমাধির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সংরক্ষণের জন্য তারা একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে।

    কিন্তু ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই পদক্ষেপটি ‘ইহুদীকরণ’-এর আরো একটি উদাহরণ। সোলাইমান (আ) ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাইজেন্টাইন যুগে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেই স্থানে একটি গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে সোলাইমান (আ) কে সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।

    স্থানটি জেরুজালেমের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮৫ মিটার উপরে অবস্থিত। এরপর মুসলিম শাসকরা সোলাইমান (আ) এর স্মরণে সেই স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

    এখন সেখানে যে মসজিদটি রয়েছে, তাতে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি সমাধিও রয়েছে, যা মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী সোলাইমান (আ) এর কবর।

    মানচিত্র, সীমান্ত, বসতি এবং জেরুজালেম শহর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খলিল তুফাকজি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এগুলো ইসলামিক ওয়াকফ [ধর্মীয় দান], আলামি পরিবারের একটি বংশানুক্রমিক ওয়াকফ।’

    ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে, তারা নবী সোলাইমান (আ) এর সমাধিস্থল এলাকায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এনেছে।

    এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সেই কক্ষে একটি সিনাগগ নির্মাণ, যেখানে সোলাইমান (আ) এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

    সময়ের সাথে সাথে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের প্রার্থনার স্থানের আকার কমিয়ে দিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে স্থানটির স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।##

  • লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ড খেলার মাঠে এ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে-সেমাই, চিনি, ১০ কেজি চাল, তেল, আলু, পেয়াজ ও রসুন।

    উপহার সামগ্রী পেয়ে খুশি স্বল্প আয়ের মানুষেরা। ঈদের আগে এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করেন উপকারভোগীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-ভয়েস অফ ইনসাফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কালিয়া আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ নওশের আলী, হোমিওচিকিৎসক ইব্রাহিম শিকদার, সরদার শামীম আহমেদ, আব্দুর রহিম, কায়েস আহমেদ ইসহাক, মোহাম্মদ তাফহিমসহ অনেকে।

  • হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫৫৫ জন

    হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫৫৫ জন

    সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে হামে ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এতে করে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে দেশে ৫৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে নিশ্চিত হামে একজন এবং সন্দেহভাজন হামে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৮ জন এবং সন্দেহভাজন হামে ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জন এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ হাজার ২৩ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জনকে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৮ হাজার ৮০০ জন।

    বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৫২ জনের। এরপর বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৩ এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে ২ জন করে মারা গেছে।

    সন্দেহভাজন হামেও সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮৪ জনের। এছাড়া রাজশাহীতে ৮৩, সিলেটে ৫৪, চট্টগ্রামে ৪৪, ময়মনসিংহে ৪০, বরিশালে ৩৫, খুলনায় ২১ এবং রংপুরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা- ঈদ এলেই চিরচেনা এই প্রথা অনুসরণ করে গ্রামের পথ ধরেন অনেক শহরবাসী। ছুটিতে ঘরে যাওয়া আর পাড়াপড়শি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ কেউ সহজে হাতছাড়া করতে চান না।

    তবে এবার ছোট শিশুদের অভিভাবকদের এমন ঈদযাত্রায় বের হওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তীব্র গরম ও হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে বাচ্চাদের সুরক্ষার স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

    আমাদের দেশে ঈদযাত্রার সময় বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেন- সব পরিবহনেই থাকে গাদাগাদি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, গাড়ির ছাদে চড়েও মানুষ বাড়ি ফেরে। এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে চরম ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

    এছাড়া, প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে শিশু হামে আক্রান্ত হলে সেখানে তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। সেই সঙ্গে বর্তমানে চলছে গরমের মৌসুম। ফলে যেসব পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে, তাদের এবার সম্ভব হলে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ৫ বছরের কম বয়সীদের ভ্রমণ না করাই উত্তম

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, চরমভাবাপন্ন বৈরী আবহাওয়ায় ছোট বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বড়দের মতো কাজ করে না। ফলে তারা সহজেই সর্দি-কাশিসহ নানান গরমজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এমন আবহাওয়ার ওপর দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। যার ফলে কোনো এলাকাই এখন বাচ্চাদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এই ঈদে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ না করাই উত্তম।

    তিনি সতর্ক করেন যে ভ্রমণকালে বা প্রত্যন্ত কোনো স্থানে গিয়ে শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভালো চিকিৎসার অভাব ঘটতে পারে। সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হামের নানান জটিলতা থেকে শিশুর জীবনশঙ্কা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। সুতরাং, বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা এড়াতে এমন বাচ্চাদের মা-বাবাকে এই সময়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

    বাইরে বের হলেই পরতে হবে মাস্ক

    এদিকে বাসার বাইরে, গ্রামের বাড়ি বা লোকসমাগমে গেলে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

    তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে রোগের সংক্রমণঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। হামে মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।

    ঈদের ছুটি ঘিরে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে নিয়ে ঘোরাফেরা এবং পার্ক, রেস্তোরাঁ বা জনসমাগমস্থলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে গেলে শিশুদের মাস্ক পরানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গাতেই সবাইকে সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

    অধ্যাপক আব্দুল্লাহ জানান, কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসায় ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ছোট শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসকদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করে উল্লেখ করে তিনি শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন।

    টিকা দিলেও শতভাগ নিশ্চয়তা নেই

    শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই নন, স্বাস্থ্যখাতের অভিভাবক হিসেবে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড় ও অবাধ যাতায়াতে হামের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

    সচিবালয়ে শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, টিকা দিলেই যে রোগ থেকে সুরক্ষার ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় তা নয়। ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব ও পারস্পরিক সচেতনতাই হলো প্রধান প্রতিরোধ।

    হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৩ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৪৪২। এছাড়া, একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জন এবং সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮১৩। উল্লেখিত সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ জনকে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৬ হাজার ২১৪ জন।

    বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫০ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া, বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮০ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৫০, চট্টগ্রামে ৪২, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩২, খুলনায় ২১ ও রংপুরে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।

  • শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য সরকার শিক্ষার্থীদের সনদের সমমান নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর করা হবে।

    উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরো জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস দেয়া, কাউন্সেলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা। প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করে আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। পাশাপাশি সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

  • ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৫৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিন জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুই জন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২০৮), বরিশাল (১২৮) ও খুলনা (৯৫)। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭১ দিনে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া ৭১ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।

  • ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাগা আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার (২৪মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

    গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন।

    নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিলেন। এমনকি তার কাছে ফ্লোরিডার বাড়ির একটি নকশাও ছিল।

    নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল-সাদি সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করছিলেন। সোলাইমানি ছিলেন ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান। তিনি ২০২০ সালে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।

    ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবার বলেন, সোলাইমানির মৃত্যুর পর আল সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার কথা বলেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল সাদি আরবি ভাষায় একটি হুমকিমূলক বার্তার সঙ্গে ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকার মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন। এ এলাকাতেই ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের বাড়ি রয়েছে।

    গত ১৫ মে তুরস্কে আল সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও ইরানের আইআরজিসির কথিত অপারেটিভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া আমস্টারডাম, লন্ডন, টরন্টো, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল সাদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের আড়াল হিসেবে একটি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহার করতেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আল-সাদির আইনজীবীও কোনো মন্তব্য করেননি।

  • জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, সিসিটিভি মনিটরিং ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে।

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ ঢাকা মহানগরীতে তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গী ও গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বুথ থাকবে।’

    ডিএমপির তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীর বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    কোরবানির পশু কেনার সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা হাটে স্থাপিত পুলিশের বুথে গিয়ে বিনামূল্যে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন এড়িয়ে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, সড়ক ও মহাসড়কে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, চুরি-ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে মোবাইল টিম এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‌্যাব।

    ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বুথ থাকবে। সেখানে সিটি করপোরেশন, ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হবে।

    তিনি বলেন, হাটে জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, প্রবেশপথ ও সড়কে থাকবে কড়া নিরাপত্তা, টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ। একইসাথে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

    পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে সিআইডির একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে ২৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    A M

  • গাংনীতে ৩২ দুঃস্থকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অনুদান প্রদান

    গাংনীতে ৩২ দুঃস্থকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অনুদান প্রদান

    রাশিদুল ইসলাম বোরহান, গাংনী (মেহেরপুর)

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাননীয় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩২ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

    রবিবার (২৪মে) বিকাল ৪টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং পৌর জামায়াতের আমীর মোঃ আহসানুল হক।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

  • ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের দখলকৃত পূর্বাঞ্চলে একটি ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে রাতভর চালানো ওই হামলায় ১০ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার অভিজাত রুবিকন ড্রোন ইউনিটের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সেটিই রাশিয়ার উল্লেখ করা ভবন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু বলেনি।

    পুতিন জানিয়েছেন, ওই এলাকার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো অবকাঠামো ছিল না। শুক্রবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার কারণে গোলাবারুদ ভবনটিতে আঘাত করেছে—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

    তিনি রুশ সামরিক বাহিনীকে প্রতিশোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন তিন দফায় মোট ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালায়শনিবার ভোরে রুশ কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। এতে দুইজন আহত হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সদর দপ্তর জানায়, কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায় এবং ড্রোনের টুকরো একটি জ্বালানি টার্মিনালে পড়ে। আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ড্রোন হামলায় আনাপা শহরের কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল স্টারোবিলস্কে রুবিকন ইউনিটের সদর দপ্তর। তারা অভিযোগ করে, এই বিশেষ ড্রোন ইউনিটটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, যুদ্ধের আইন ও রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনের দখলকৃত এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ জন রুশ দখলদার নিহত বা আহত হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ক্রেমলিনপন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর হতাহতের খবর দিয়েছে।

  • সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার ভেঙে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সোনকোর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, এক আকস্মিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের বোঝার মধ্যে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

    সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার জবাবে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য দেশের ওপর সমকামিতার ‘চাপ’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার একটি নতুন আইন সেনেগালে পাশ হওয়ায়, সোনকো এই মন্তব্য করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

    তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সমালোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই।’

    প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশটি পড়ে শোনান এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ফায়ে সোনকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সোনকো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।’ কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজ এলাকা, যা ডাকারের মধ্যে অবস্থিত। এ সময় তার শত শত সমর্থক তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল ব্যক্তি ছিলেন, তবে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। সোনকো এবং ফায়ে একসময় পাস্তেফ পার্টি গঠন করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম ধাপের ভোটেই তারা জয়লাভ করেন।

    সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকান মনোভাব এবং সাবেক ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে সব ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ফায়ের হাতে থাকায়, তিনি চাইলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফায়ে প্রকাশ্যভাবে সোনকোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসন বিশাল ঋণের বোঝার মধ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাব-সাহারা আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি নতুন বিলের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকো অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আইনি সংস্কার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে, যা মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিত।

  • ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বহরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে থাকা মোট ড্রোনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। আবার অনেকগুলো ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।

    এমকিউ-৯ রিপার মূলত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নজরদারি ড্রোন, যা একই সাথে হেলফায়ার মিসাইল বা গাইডেড বোমার মতো ভারী অস্ত্র বহন ও নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ব্লুমবার্গের জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যাটি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর দেওয়া তথ্যের (২৪টি) চেয়েও বেশি। ড্রোনের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    চলতি মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।এই প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করে আসছে। মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যবস্থার পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মিশ্রণ ব্যবহার করছে।

    গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েকদিন আগে ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যা ওয়াশিংটনকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

    এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়। মিডল ইস্ট আই-এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই যুদ্ধের পরই চীন ইরানকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল। বেজিং ও মস্কোর এমন কৌশলগত সহায়তায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ শিশুর মৃত্যু হলো।

    গত একদিনে সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়। বাকি ১২ শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং হামের উপসর্গে আরও এক শিশুসহ ২ জন; ঢাকায় হামের উপসর্গে ৪, সিলেটে ৪, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল ৫১২ শিশু। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি শিশুরা চিকিৎসাধীন।

    চিকিৎসকরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক সিনেট শুনানিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে হাং কাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতে চায়। এ অভিযানের কোডনাম ‘এপিক ফিউরি’। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিক্রি পুনরায় চালু হবে। তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্র বিক্রিতে কোনো পরিবর্তন বা স্থগিতের বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

    দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে চীন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও একাধিকবার উল্লেখ করেছে। স্থগিত হওয়া এই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে লকহিড মার্টিনের পিএসি-৩ এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস ধরেই এ প্যাকেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে বলেন, তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রি চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির উপাদান হতে পারে। তিনি আরো জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেইজিং সফরের সময় শি জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো তাইওয়ান। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শি’র সঙ্গে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি খুব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

    এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে সরাসরি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন, যা দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক রীতির বাইরে এবং এতে চীনের ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত ছুটির তালিকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে রাজ্যটিতে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনল নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার জারি করা এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ঈদুল আজহায় একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় ছুটি ও গাফিলতির সংস্কৃতি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। এছাড়া সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহার ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বছরের শুরুতেই সাধারণত সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রকাশিত তালিকায় ২৬ ও ২৭ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শনিবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্র নতুন নির্দেশনা জারি করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার একদিনের ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে। এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রেও কি কোনো কাটছাঁট হতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে একটি বর্ণবাদী ও ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ বা ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানিয়েছেন, সোমবার সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ বা আইসিএসডিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজনও পরে নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলটি একটি ইসলামিক সেন্টার হওয়ায় বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখা হচ্ছে না। পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না মিলছে, ততক্ষণ একে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ।

    সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল আরো জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। হামলা রুখতে এবং এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন আরো বড় বিপর্যয় বা গণহত্যোয় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

    নিহত তিনজনের সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার শুরুতে সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ সেখানে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী থাকার কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও পরে জানায় যে হুমকি ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

    এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি আইসিএসডিকে এমন এক মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে মুসলিম এবং অমুসলিম- সবাই একসাথে জড়ো হন, প্রার্থনা করেন, শিক্ষা নেন এবং আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করেন।

    ইমাম তাহা হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একটি এবাদতের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এমন হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য এবং মারাত্মক আপত্তিকর। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি শুধুই একটি পবিত্র এবাদতের জায়গা। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই শহরে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।

    স্থানীয় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই শহরে আপনারা যেন নিরাপদ বোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের সম্পদের কমতি রাখা হবে না। সান ডিয়েগোর ডাউনটাউন বা মূল শহরের উত্তরে অবস্থিত ক্লেয়ারমন্ট আবাসিক এলাকায় এই ইসলামিক সেন্টারটি অবস্থিত।

  • ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ক্ষতিপূরণ তহবিলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই তহবিল প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় টার্গেট করা হয়েছে এমন কিছু ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, এটি একটি গোপন রাজনৈতিক তহবিল, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের উপকৃত করবে।

    এই উদ্যোগ ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে। ওরেগনের ডেমোক্র্যেট সিনেটর রন ওয়াইডেন অভিযোগ করে বলেন, এটি ডানপন্থীদের রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য তৈরি একটি বিশাল গোপন তহবিল।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে এই তহবিল। একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকান পার্টির জন্যও নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে

  • মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির সংসদে শিগগিরই এ বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানান, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা” শিরোনামে একটি বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হওয়া হামলার জন্য ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দায়ী। এ ঘটনার জবাবে “প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা” গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আজিজি।

    জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ান বলেন, “যে ব্যক্তি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে”, তার জন্য পুরস্কার নির্ধারণের বিষয়ে সংসদ শিগগিরই ভোট দেবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা পুনরায় শুরু হলে তার জবাব হবে “বিধ্বংসী”।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই পুরস্কার আইন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এতদিনের ধর্মীয় ফতোয়া বা রাজনৈতিক হুমকিকে এবার আনুষ্ঠানিক সংসদীয় পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যাচেষ্টা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর” জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে ইরানকে “পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন” করে দেওয়া হবে।এদিকে “ব্লাড কভেন্যান্ট” নামের একটি প্রচারণা দাবি করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইতোমধ্যে ২৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ভারতের স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সরু ভূখণ্ডের অনেকটা জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এক বছর ধরে টালবাহানা করলেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য’ ওই অঞ্চলের সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে।

    এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের হাতেই এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে। এখন এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ, মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আর সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাস্তার সম্প্রসারণ হলে ওই অঞ্চলে সড়কপথে সামরিক অভিযান অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।

    ভৌগোলিক দিক থেকে চিকেন্স নেকের অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি সবচেয়ে সরু যেখানে – তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই ‘চিকেন্স নেক’ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

    এই সরু ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টারস বা সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাকি দেশকে জুড়ে রেখেছে। এই অঞ্চলটির লাগোয়া সিকিমের উত্তরে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ চীন। বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকেও এই পদক্ষেপকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

    ২০১৭ সালে ভূটান-চীন-ভারত তিন দেশের সীমানা যেখানে মিশেছে, সেই ডোকলামে সামরিক সংকটের পর থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তা সম্প্রসারণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে চিন্তা-ভাবনা চলছিল।

  • রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে চায় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের গণমাধ্যম আল হাদাথ। ফাঁস হওয়া একটি নথির বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো তেহরানের সবশেষ শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

    আল হাদাথের সোমবারের প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্র মালিকানাধীন গণমাধ্যম আরটি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হলো- তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজির (৬০ শতাংশ) বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা এর বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অবসান ঘটাতে মস্কো শুরু থেকেই সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে সংরক্ষণের আগ্রহও দেখিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুধু প্রস্তাবই দেইনি, ২০১৫ সালে এ ধরনের প্রস্তাব সফলভাবে বাস্তবায়নও করেছিলাম।’

    সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তারা আগের প্রস্তাবটিতে নামমাত্র পরিবর্তন করে তা নতুন প্রস্তাব হিসেবে পাঠিয়েছে।

    স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরেনিয়ামের মজুত হাতে পেলে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন।

  • মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে রাতভর পাঁচ শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্থানীয় ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস রোববার (১৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে।

    তাস জানিয়েছে, মস্কোর ওপর এই আক্রমণ গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে।

    মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকিতে রোববার ভোররাতে একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা হলে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে ধ্বংসাবশেষের নিচে আরেকজন আটকে পড়েছেন।
    তিনি আরও বলেন, মস্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিতিসচিতে ড্রোন হামলার ফলে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোতে মোটে ১২ জন আহত হয়েছেন।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সোবিয়ানিন জানান, শুধুমাত্র মস্কোর দিকে আসা ১২০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

    তাসের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সুবোতিনো গ্রামে একটি বাড়িতে আগুন ধরেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ইস্ত্রা শহরে বেশ কয়েকটি ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোর প্রাঙ্গণে ড্রোনের কিছু অংশ পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ২৮৭টি ড্রোন ছুড়েছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছে।

  • ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে, আরো ৫টি আসছে

    ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে, আরো ৫টি আসছে

    জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে। এছাড়া এ মাসে আরো পাঁচটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, এই ১৯টি জাহাজে জ্বালানির পরিমাণ হলো- ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬৭ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।

    বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন আজ শুক্রবার বাসসকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে। এ মাসের বাকি দিনগুলোতে আরো পাঁচটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে।

    তিনি জানান, আগামী জুন মাসের জন্য এখন পর্যন্ত পরিশোধিত (ফিনিশড) ও অপোরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার নিয়মিতভাবে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। আজও একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে।

    বিপিসি জানায়, চলতি মাসে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও অপরিশোধিত তেলবাহী বিভিন্ন জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে। জ্বালানি তেল আমদানি সরকার ও বিপিসির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আগামী জুন মাসের জন্যও ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।

    এছাড়া ‘এমটি ফসিল’ নামে একটি জাহাজ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত সোমবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি ২৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। বাসস

  • রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    আন্তর্জাতিক সংবাদঃ

    ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। শুক্রবার দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি দুই রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সা। তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

    ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আমদানি ব্যয়ের তালিকায় এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এবং স্বর্ণ আমদানি সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।

    বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র সম্প্রতি এক প্রবন্ধে বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

    তার মতে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অর্থ প্রত্যাহার ঠেকাতে আরো ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ দরকার হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় প্রতি ডলার কিনতে যেখানে ৯১ রুপি লাগত, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ রুপি। ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।

    বিবিসি বাংলা

  • সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    আন্তর্জাতীকঃ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আরো নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, এই সমস্যা যেন বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করতে পারি। শুক্রবার বিকালে রংপুরে সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। এ দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এ দেশ একদিন বদলাবেই। আর আমরা এই দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি।

    তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহপাক হয়তো আমাদের বিরোধী দলে রেখেই পরীক্ষা করছেন। এই পরীক্ষায় আমাদের বিজয় হতে হবে।

    এর আগে সকাল ৯টায় একদিনের সফরে রংপুর আসেন জামায়াত আমির। সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেয় মহানগর পুলিশ।

  • ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।

    শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন।

    গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

    চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

    যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

    চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।

    ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে।অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না।

    বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন।

    জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে।তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।

    তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।