পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। সপ্তমী তিথি ১৬ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ফরিদপুরেও পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। এ বছর ফরিদপুর জেলায় ৭৮১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কলাবউ বা নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর নবপত্রিকা স্থাপন, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে মুখর হয়ে ওঠে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য ও শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছেন তারা।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন তারা।
এ দিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না বারোয়ারী মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা সুজিত কীর্তনীয়া বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণের প্রতীক। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনায় সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে চাই।’
একই মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা মৃদুল রায় বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ পূজার মধ্য দিয়ে আমরা মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করি এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল প্রার্থনা করি। পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী পালনের সুযোগ ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ সৃষ্টি করেছে। পূজার এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
