মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, স্বরুপপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় (৬ অক্টোবর) গতরাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসল যেন মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের শিমের মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে, লাউয়ের মাচা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পুরো সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। শিম, বরবটি, লাউসহ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনেক কৃষক জমিতে বাঁশ, জাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যত্ন করে মাচা তৈরি করেছিলেন। সেই মাচায় সবজি ধরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই মাচাগুলো ভেঙে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক।
শুধু সবজি নয়, ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি ধানের ক্ষেতও। অনেক এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ ঝড়ের আঘাতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো ধানক্ষেতই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধান চাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
এছাড়া কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক কলাগাছ ভেঙে গেছে ও উপড়ে পড়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাতা, ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছিলেন। কেউ কেউ ধার-দেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ, জাল ও মাচা তৈরির উপকরণ কিনেছেন। ফসল বিক্রি করে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানিয়েছেন ঘুর্নিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রকৃতির ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজের ঘাম, শ্রম ও অর্থ দিয়ে ফসল ফলিয়ে কৃষক যখন ঘরে সোনালি ফসল তোলার অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এ,আর
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
