বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নির্ধারিত সময়ে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নৈশভোজ করেন। পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খান তারা। রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই রিঅ্যাকশন শুরু হয়।

খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে কয়েকজনের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঝিমুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
অসুস্থরা হলেন এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।
বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হতে পারে। তবে খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। খাবারে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ,আর

মন্তব্য করুন