ক্যাটাগরি কুষ্টিয়া

Kushtia district

  • কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেঁচে থাকার জন্য গাছের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছের গুরত্ব ও চাহিদার কারলেই বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধিক সরকারী বেসরকারী নার্সারী। সফলতা এসেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার নার্সারী ব্যবসায় । বৃক্ষরোপন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার নার্সারী মালিকরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারীর ব্যবসা। সরকারী নার্সারীর পাশাপাশি বেকার যুবকরাও নার্সারী গড়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃক্ষরোপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছে।

    ফুলফলসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার নার্সারীগুলো। নার্সারীর চারিদিকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরতলীসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক সরকারী-বেসরকারী নার্সারী।

    বিভাগীয় বন অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ কুষ্টিয়ায় ১৩টি উপজেলায় ৩ শতাধক নার্সারী গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারীতে ফল-ফুল ও ঔষধী গাছের চারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এমন গাছের চারাও উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার নার্সারীগুলোতে এ ব্যবসায় এসেছে সফলতা।

    বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ নার্সারী ব্যবসা। বৃক্ষের আর্থিক মূল্য অনুধাবন করেই গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে নার্সারীগুলো চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৎপর হয়ে কাজ করছে। নার্সারীর শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাছ পরিচর্যা ও গাছ তুলে বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত। তেমনি মালিকরাও নিজেদের নার্সারীর সুনাম বয়ে আনতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটিয়ে নার্সারীকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি করা হচ্ছে।

    বৃক্ষরোপনের উদ্যোগকে বেগবান করতে জেলার গড়ে ওঠা নার্সারীগুলো ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ মৌসুমে গাছের চারার চাহিদা থাকায় দিনদিন নার্সারী ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জেলার অনেকেই নার্সারী গড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক বেকার যুবক নার্সারী করে স্বাবলম্বী হলেও সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এ ব্যবসায় আগের মতো আর লাভ নেই বলে নার্সারী মালিকরা জানালেন।

    নার্সারী মালিকরা অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরকারীভাবে চারা ক্রয় করা হয় না। চারা ক্রয়ে সরকারী কর্মকর্তারাও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না। নার্সারী মালিকদের নিকট থেকে যদি চারা ক্রয় করা হয় তাহলে নার্সারী মালিকরা আরো উপকৃত হবে। এদিকে সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কার্যক্রম চালালেও এ বছর তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রতি বছর জেলার স্কুল কলেজে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হলেও এ বছর কোন বরাদ্দ না আসায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কুষ্টিয়া জেলার ৬৬ ইউনিয়নসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় নার্সারী ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৃক্ষরোপন আন্দোলন জনসাধারণের মাঝে সাড়া পেয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়া জেলায় আরো নার্সারী ব্যবসা বাড়তে পারে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো যাবে বলে নার্সারী মালিকরা অভিমত প্রকাশ করেন। নার্সারী সবুজ বনায়নে যেমন রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তেমনি জেলার বেকার সমস্যার সমাধানেও যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 36255

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। পরে স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিং ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজরা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রকি, একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন এবং আব্দুল ওহাব।

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন। ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।

    দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, ‘এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তারা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন ছিলেন। রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলে খুলনা থেকে ডুবুরি পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

    নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেও অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী বলেন, ‘আমি মনে করি, হল শিক্ষার্থীদের স্থান। হলের প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যয়—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হওয়া উচিত। তাদের উন্নয়ন এবং একুশ শতকের যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য হল থেকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হলের আমানতদারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হল একটি পরিবারের মতো। এখানে মত ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।’

    উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।