কুষ্টিয়া

Kushtia district

  • ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

    ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তহিরুলকে (৪৬) এক বছর এবং সেন্টু (৫৮), সজীব (৩৬), মহিদুল (৫০) ও মতিয়ারকে (৩৭) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ভেড়ামারার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা: গাজী আশিক বাহার। অভিযানকালে ভেড়ামারা থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও ইউএনও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও আমিরুল বলেন, ‘মাদকের মরণকামড় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে আমাদের এ উদ্যোগ। মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ আপোষহীন সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • ১৫ দিনে লালন অ্যাকাডেমির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

    ১৫ দিনে লালন অ্যাকাডেমির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির দু’টি দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে আট লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে দানবাক্সের সিল ভেঙে টাকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর লালন অ্যাকাডেমি ভবনের চতুর্থ তলায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, লালন অ্যাকাডেমির সদস্য, সাধু ও সাংবাদিকরা।

    এর আগে, গত ১০ অক্টোবর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। দুই দফায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দানবাক্স থেকে পাওয়া গেল মোট ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯৮ টাকা। আগের দফায় পাওয়া অর্থ পরদিন লালন অ্যাকাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

    কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম জানান, সকলের উপস্থিতিতে আজ দ্বিতীয়বারের মতো লালন মাজারের দু’টি দানবাক্স খোলা হয়। এখান থেকে প্রাপ্ত টাকা আজ লালন অ্যাকাডেমির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।

    ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো বাউল, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এছাড়া সারা বছরই ভক্ত-অনুরাগীরা আখড়াবাড়িতে এসে দানবাক্সে অর্থ দান করেন।

    স্থানীয়রা জানান, বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হলেও আগে অর্থ গণনার বিষয়টি গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের সামনে প্রকাশ করা হতো না। এবার প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দর্শনার্থী ও সাধুরা।

    এর আগে, গত বছর লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় চার লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। আর তিরোধান দিবসের তিন দিন পর পাওয়া যায় নয় লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। আগামী দোল উৎসবের আগে আবারো দানবাক্স খোলা হবে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একসময় যে জমিতে সবুজ পানপাতায় ভরে থাকত বরজ, সেই জমি এখন পদ্মার পেটে। কারও কয়েক বিঘা জমি, কারও সাজানো পানবরজ সবই কেড়ে নিয়েছে নদী। নিঃস্ব হয়ে কেউ দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়, কেউবা জীবিকার তাগিদে ছেড়ে যাচ্ছেন ভিটেমাটি।

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এভাবেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন শত শত কৃষক। গত দুই মাসেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০ শত ফসলি জমি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পানচাষিরা। হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজারও।

    স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমির অধিকাংশেই হতো পান চাষ। জমির পাশাপাশি পানবরজ হারিয়ে কয়েক শত কৃষক এখন দিশেহারা। সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন চলছে।

    নদীর পানি কমার পর ভাঙন আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন ও তাগাদা দেওয়া হলেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কুচিয়ামোড়া এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ নেই। বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০ জন পানচাষির তালিকা করেছে। গত এক বছরে তারা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। এত বড় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সহজ নয়।

    রায়টা এলাকার পানচাষি হাসান আলী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তার চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানবরজ নদীতে বিলীন হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে। দুঃখ সইতে না পেরে তার ছোট ভাই কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে গেছেন। মাধবপুরের পানচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পাড়ে তাদের সাত বিঘা জমি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র চার কাঠা।’

    দীর্ঘদিনের আবাদি জমি হারিয়ে তার প্রশ্ন—এই দুঃখ কাকে বলবেন পান চাষকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার। এ বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষিজমি নয়, স্থানীয় পান অর্থনীতিও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা বলেন, ‘ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা করা করা হচ্ছে।’

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এলাকায় সরেজমিনে দেখেছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ভাঙনে প্রতিদিন জমি হারানোর বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আশ্বাসের চেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে পদ্মার ভাঙনে আরও জমি, পানবরজ ও মানুষের জীবিকার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এ,আর

  • লালন আখড়ার প্রধান ফটকের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

    লালন আখড়ার প্রধান ফটকের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফকির লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে একটি ব্যাগ থেকে বোমাসদৃশ বস্তু, দুই লিটার পেট্রল ও দুটি সার্কিটসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত আড়াইটার দিকে বোম ডিসপোজাল টিমের এসআরইউ ইউনিটের সদস্যরা বস্তুটি নিস্ক্রিয় করেন।

    এদিকে আখড়াবাড়িতে চলছে ফকির লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনের উৎসব। আজ সোমবার রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হওয়ার কথা।

    পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে একটি সাদা রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার। ব্যাগটি খুলে তিনি লাল রঙের টেপ দিয়ে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু, প্রায় দুই লিটার পেট্রল ও দুটি সার্কিটসদৃশ বস্তু দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি কুমারখালী থানা পুলিশ ও মেলা আয়োজক কমিটিকে জানান।

    খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জায়গাটি ঘিরে রাখেন। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বম্ব ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন।

    থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার পর আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যাগটি সেখানে রেখেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    কুষ্টিয়ার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে কুষ্টিয়ার সাবেক দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করা হয়।

    মামলার আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: কামারুল আরেফিন ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ।

    দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, কামারুল আরেফিনের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে এক কোটি ৬৮ লাখ আট হাজার ৮০১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ আট কোটি নয় লাখ এক হাজার ৪৮৪ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি এক লাখ ৬৪ হাজার তিন টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    দু’টি মামলার বাদি দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: বুলবুল আহমেদ। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কামারুল আরেফিন পলাতক রয়েছে এবং সেলিম আলতাফ জজ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা যায়। এ,আর

  • ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু করে এখন ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন পিতা-পুত্র হযরত আলী ও রাসেল হোসেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর পরিশ্রমে তাদের এ উদ্যোগ এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

    উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠে সেতুসংলগ্ন কৃষিজমিতে ২০১৪ সালে তারা এ বাগান ও নার্সারি গড়ে তোলেন। পাঁচ বিঘার পেয়ারা বাগান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ৭০ বিঘায় পৌঁছেছে।

    বাগানে উৎপাদন বাড়াতে তারা ইন্টারনেটে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও সার প্রয়োগের কৌশল শেখেন। পরে সেসব পদ্ধতি নিজেদের বাগানে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উৎপাদন।

    বর্তমানে বাগানের ৩০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, কলা, আঙুর, বরই, সফেদা, স্ট্রবেরি ও লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ হচ্ছে।রাসেল হোসেন জানান, বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এতে ফলের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক পরিচর্যার কারণে গত বছরের তুলনায় পেয়ারার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এসব পেয়ারার চাহিদাও ভালো।

    হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করছেন। এতে ক্রেতারা তাজা ফল পাচ্ছেন, পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হযরত আলী ও রাসেল হোসেনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও আধুনিক ও লাভজনক মিশ্র ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তরুণদের কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। হযরত আলী ও রাসেলের উদ্যোগ প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কৃষিকে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব। নিজ এলাকায় থেকেই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও তাঁদের সাফল্যে ফুটে উঠেছে।

  • কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালনমেলা উপলক্ষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনের প্রায় দুই হাজার পিস সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লালনমেলার মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

    আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এ আয়োজনকে ঘিরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    লালনমেলার অনুষ্ঠানকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, লালন শাহের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • মিরপুরে মা সমাবেশ

    মিরপুরে মা সমাবেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০ নং খাঁড়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক জোমারত আলী, জামায়াতের বহলবাড়িয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিঠুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাহিদ আকবার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আব্দুল গফুর বলেন, আমাদের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের উপর আমাদের বংশ, দেশ ও জাতী নির্ভর করবে। তাই তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের পড়ালেখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে মায়েদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মা শুধু একজন অভিভাবকই নন, ছোট-ছোট শির্ক্ষাথীদের জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছোট শিশুরা প্রথম পর্যায়ে পরিবারের মধ্যে মায়ের কাছ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে থাকে। তাই আমাদের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় বেশির ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ বিধান রাখা হয়েছে। আমাদের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে মায়েদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    তিনি আরোও বলেন, মায়েরা যত উন্নতভাবে সন্তান পরিচালনা করবে, শিশুরা তত ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের উপরও জোর দিতে হবে। শুধু ভালো ছাত্র হলে চলবেনা, একইসাথে শিশুদের ভালো মানুষ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে মায়েদের ভূমিকা প্রধান। এ,আর

  • দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের মহাসিন গার্ডের দুই ছেলে সেন্টু গার্ড ও তুহিন গার্ড। পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করে তারা এ সফলতা পেয়েছেন।

    তাদের এ চাষাবাদ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। দুই ভাইয়ের সাফল্য দেখে বাঁধাকপি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।বাঁধাকপি চাষি তুহিন গার্ড বলেন, গ্রীষ্মের বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তার। পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

    তুহিন গার্ড আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে বাঁধাকপি চাষ করে ফলন পাওয়া নিয়ে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন হয়েছে। সেচ ও সার কম লাগায় শীতের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাঁধাকপি চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। আগামী বছর অন্য ফসলের আবাদ কমিয়ে বাঁধাকপি চাষের পরিমাণ বাড়াবেন বলেও জানান তিনি।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় এবার নভেম্বরের আগেই, অর্থাৎ অক্টোবরেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ডসহ খাঁড়ারা ব্লকের অনেক কৃষক এ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

    মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম রাজীব বলেন, সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ড এবার পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভালো ফলন হওয়ায় গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বাঁধাকপি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

  • কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন

    কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পূর্বশত্রুতার জেরে সাহেব আলীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমারখালীর নন্দলালপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাহেব আলীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামিরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ১০ আসামিকে খালাস এবং অপর দুই আসামিকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    কুষ্টিয়া বারের অ্যাডভোকেট মো: হাফিজুল ইসলাম মুনীর বলেন, ‘আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সাহেব আলীর পরিবারের সদস্যরা।’ এ,আর

  • দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় ৪ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির

    দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় ৪ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।

    রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে দৌলতপুর সীমান্তের ঠোটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন ঠোটারপাড়া বিওপির সীমান্ত পিলার ১৫৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে এই পুশইনের চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। ভারতের ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উদয় কিষাণ ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয় চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী ছিলেন।

    বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য, টহল দলের সতর্ক অবস্থান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার কারণে বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সর্বদা তৎপর রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েক দফায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই অপতৎপরতা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় পুলিশের অভিযানে পদ্মার দুর্গম চর থেকে ২৫ জন আটক

    কুষ্টিয়ায় পুলিশের অভিযানে পদ্মার দুর্গম চর থেকে ২৫ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা, অবৈধ দখল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

    শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। চরের জমি ও বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

    এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। অপরাধীদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সন্ত্রাসী ও মাদককারবারিদের তৎপরতা দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

    কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।’

    পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর জেলা পুলিশ পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে এই অভিযান চালায় বলে জানা যায়। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বিএসএফের গুলিতে  আহত এক, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ায় বিএসএফের গুলিতে আহত এক, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফের) গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামে এক বাংলাদেশী যুবক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশী কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দিয়েছেন।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তসংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত সাহাজুল ইসলাম জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে।

    বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সাহাজুল ইসলাম মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

    এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ সীমান্তবর্তী মাঠে কর্মরত বাংলাদেশী কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।

    বিএসএফের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যরা সতর্কতামূলক তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, নদীতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হলে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। গুলিবর্ষণ ও আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রটোকল ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ,আর

  • পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রী হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে হলটির সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    হাসপাতালে ভর্তি ওই শিক্ষার্থীর নাম আনিকা আফরিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পিকনিকের কথা বলে জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রীকে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, গালাগাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় পরে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    অসুস্থ শিক্ষার্থী আনিকা আফরিন জানান, পিকনিকের কথা বলে তাদের কক্ষে ডাকা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের বিষয়ে কিছু না বলে সিনিয়ররা তাদের ধমক দিতে শুরু করেন। তার নামে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তাকে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছেন, রিডিং রুমে কেন গেছেন এবং ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায়—এমন প্রশ্ন করা হয়। এমনকি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন কি না, তা দেখতে তার মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়।

    আনিকা বলেন, একপর্যায়ে তার অস্বস্তি শুরু হয়। ঘাড়ের রগ টেনে আসছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপর কী হয়েছে, তা আর মনে নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘক্ষণ র‍্যাগিংয়ের পর তাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক ঘণ্টার বেশি সময় পরও ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রী তাদের ডেকে নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সামিহা, উর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতির নাম উল্লেখ করেছেন তারা। ওই ঘটনায় জুনিয়র ব্যাচের আনিকা, আশা, ঝুমা, মাসুমা, ফারিয়া, সাথী ও জান্নাতকে হেনস্তা ও র‍্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযুক্ত সামিহা ও উর্মীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

    এদিকে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র‍্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।

    উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।

    ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”

  • নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিন দিন বাড়ছে কলার আবাদ। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎসের।

    গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পান তিনি। বড় আকারের কাঁদি ও আকর্ষণীয় গড়নের কলা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে উৎসাহিত হয়ে এবার কলাবাগানের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তার অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। বাগানজুড়ে কলার কাঁদি ঝুলছে। এ সাফল্যে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তার কলাবাগান দেখতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।

    তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চাম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করে থাকেন।

    আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।’

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম। কিন্তু কলা চাষে খরচের প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়। তাই এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি কলাবাগানে অনেকের জীবিকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    কলাবাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে কিংবা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সেজন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমাকে বেশি নজর রাখতে হয়।’

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তাঁর ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এ ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ও বিষাক্ত স্প্রে ব্যবহার না করার জন্যও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ।

    কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়। কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি জাকির হোসেন তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আওয়ামিলীগ নেতা শেখ আব্দুর রহমান (৬০) এবং তাঁর ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ শেখ (৩৮)। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই দুইজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা ছাড়াও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরিফ শেখ কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব ও প্রভাব বিস্তার করতেন। সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসীদের অর্থ সংগ্রহ ও তা স্থানান্তরের একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও আমেরিকা থেকে প্রবাসীদের ডলার সংগ্রহ করতেন শরিফ শেখ। এই বৈদেশিক অর্থ সরাসরি হানিফের সংশ্লিষ্ট বিদেশি হিসাবে জমা হতো এবং এর বিনিময়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে সমপরিমাণ দেশীয় মুদ্রা পৌঁছে দেওয়া হতো।

    সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর শরিফ শেখ ও তাঁর বাবা শেখ আব্দুর রহমান গোপন বৈঠকে মিলিত হন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষিপ্ত নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় করার চক্রান্ত শুরু করেন। এই গোপন তৎপরতার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করে এবং অবশেষে শুক্রবার রাতে পুলিশি অভিযানে তাঁরা গ্রেপ্তার হন।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চাপায় পাখিভ্যানের চালক ও এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতরা হলেন—মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর গ্রামের হাসেম আলীর স্ত্রী ভানুমতি (৫৫)। আহত নারী ভানুমতির মেয়ে হাসিনা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পাখিভ্যান কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথে ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পাখিভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভানুমতি নিহত হন।

    দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম ও ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ক্যাম্প ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভানুমতির লাশ উদ্ধার করেন এবং আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কামরুল ইসলাম ও হাসিনাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম মারা যান বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন।

    স্থানীয়রা জানান, নিহত ভানুমতি তার জামাইয়ের বাড়ি নওদা আজমপুরে বেড়াতে এসেছিলেন।

    মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ রক্ষায় যখন সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ঠিক তখন কুষ্টিয়া শহরের একেবারে মধ্যবর্তিস্থানে কাঁচা চামড়ার কারখানায় দিনভর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ আর গুদামজাত করায় এক দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের এ চামড়াপট্রিটি আবাসিক এলাকা থেকে স্থানান্তর করার জন্য ইতিপুর্বে বহুবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোন এক অজ্ঞাত কারণে ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    সরজমিনে শহরের ওই চামড়া পট্রিটি ঘুরে এমন দৃশই পরিলক্ষিত হয়েছে। চামড়ার দূর্গন্ধযুক্ত পচা বর্জে সেখানকার এলাকাবাসীর জীবন বিষিয়ে তুললেও চামড়াপট্টি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন স্বপ্নই রয়ে গেল। পচা বর্জের দূর্গন্ধে শহরের এই অভিজাত এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে নাকে রুমাল থাকলেও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বরত পরিবেশবিদদের গন্ধ লাগেনা তেমন একটা। দিনের পর দিন নয়, সেই দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় গড়ে ওঠে কাঁচা চামড়া শিল্পের চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার এই চামড়াপট্টি। শুরু থেকে কাঁচা চামড়া শিল্পের জন্য কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে এই কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত। এখানকার পরিবেশ এতটায় দূষিত যে, এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ি ও ব্যাংক গ্রাহকদের ওই এলাকায় ঢুকতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এই চামড়াপট্টি স্থানান্তরিত করার উদ্দ্যোগ নেই কারো।

    চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশ, ব্যাংক, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে তারা চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়, কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান। চারটি চামড়া বোঝায় ভ্যান এসে দাঁড়ালো চামড়াপট্টির একটি আড়তের সামনে। একপিচ চামড়া নামানোর সাথে সাথে পচাঁ চিমটি দূর্গন্ধ পুরো এলাকার পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে দোকানগুলোতে আগত ক্রেতা, বিশেষ প্রয়োজনে শহরের আসা সাধারণ মানুষ, কুষ্টিয়া অঞ্চলিক আয়কর অফিসে কর দিতে আসা করদাতা, সোনালী ব্যাংকে আসা গ্রাহক সবাই এক মুহুর্তেই নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরলো। থেমে গেলো অনেকটাই তাদের চলার গতি। কোন রকমে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে দ্রুত সরে গেলেন অনেকেই।

    চামড়া নামানো শেষে ব্যবসায়ীরা প্রতি দিনই উৎছিষ্ট পচাবর্জ পানি দিয়ে ধুয়ে নামিয়ে দিচ্ছে পৌরসভার আবদ্ধ ড্রেনে। সুর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে আবদ্ধ ড্রেনের রক্ত মেশানো ও চামড়ার পচা বর্জ আরো পচে গলে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশি। এখানে জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি মশা। এই মশকবাহিনী অতিষ্ট ও বিষিয়ে তুলছে শহরবাসীকে এমন কথাই জানালেন ব্যাংক গ্রাহকরা।

    পোড়াদহ থেকে আয়কর দিতে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, চামড়ার পচাবর্জের চিমটি গন্ধে এই অফিসেই আসা দায়। রিক্সা কিংবা হেটে আসার সময় দূর্গন্ধে বোমি উঠে আসে। সামলানো মুশকিল। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাব আড়–য়া পাড়ার জনৈক ব্যক্তি জানালেন আরো ভিন্ন কথা, চামড়া পচার গন্ধ্যে ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারীরা নিত্য মুখোমুখি হওয়ার কারনে শ্বাসকষ্ট সহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পক্ষান্তরে পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিতরা কোন ব্যবস্থা নেয়া কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমূলক এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখতে চামড়াপট্টিটি স্থানান্তরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাতে কোন উদ্দ্যেগতো নেয়নি আজো। সব কিছু দেখেও তারা না দেখার ভান করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান।

    কুষ্টিয়া চামড়াপাট্টির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলররা জানান, পরিবেশ দূষমনমুক্ত রাখতে চামড়া ব্যবসায়ীরাও বদ্ধপরিকর। দেশ স্বাধীনের অনেক আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় হাতে গনা কয়েকটি আড়ৎ নিয়ে গড়ে ওঠে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার কাঁচা চামড়া শিল্পের এই চামড়াপট্টি। বর্তমানে এ পট্টিতে ছোট বড় দিয়ে প্রায় ৫০টি চামড়ার আড়ৎ রয়েছে।

    এসব আড়তে প্রতি বছর ২লাখ ৮০ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত গরু ও মহিষের চামড়া এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পিচ পর্যন্ত ছাগল ও ভেড়ার চামড়া লবনজাত প্রক্রিয়া করণ করে ঢাকা হাজারীবাগ ও যশোরের নয়াপাড়ার টেনারীতে আমদানী করা হয়।

    এতে প্রতি বছরের কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ও চলমান অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে প্রায় ৮০/৯০ কোটি টাকা যোগ হয়।

    তিনি বলেন কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখা সবার দায়িত্ব। চামড়া ব্যবসায়ীরাও পরিবেশ রক্ষার পরে লোক। চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা, উপযুক্ত জায়গা ও পরিবেশ, ব্যাংক, সুবিধা, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়। কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান।

    সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে চামড়াপট্টি স্থানান্তর করে কুষ্টিয়া শহরের পরিবেশ রক্ষা করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে চামড়া ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানাবেন।

    তিনি আরো জানান, এক সময় ব্যবসায়ীরা চামড়ার বর্জ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিতো। এতে পরিবশে মারাত্বক দূষিত হত। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ময়লা আবর্জনার সাথে চামড়ার উৎছিষ্ট বর্জ নিজ নিজ আড়তের গুছিয়ে রাখা হয় এবং পৌরসভার ময়লা নেয়া গাড়ী এলে গুছিয়ে তুলে দেয়া হচ্ছে। শুরু থেকে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বইকি। আর এতে শহরের বাবর আলী গেট থেকে চামড়া পট্রিটি স্থানান্তর করা এখন এ এলাকার মানুষের এক মাত্র দাবী। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠের সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অজ্ঞাত এক যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, লাশটি দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠের একটি ইট বিছানো (হেরিংবোন) সড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, কয়েকটি শিয়াল একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করছে। কাছে এগিয়ে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, ঘাস ও খড় দিয়ে এক ব্যক্তির লাশ ঢেকে রাখা হয়েছে। লাশটির শরীরের একাংশ শিয়ালে খুবলে খেয়েছে।

    বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মাঠে থাকা অন্য কৃষকেরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ জানতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে তলব করা হয়েছে।

    পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘লাশটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। লাশের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চলছে। এ জন্য ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আসছে।’

    এ বিষয়ে ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিয়ালের টানাটানিতে লাশটি খড়ের বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সে সংবাদ পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

    মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।

    পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ও পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। এ,আর

  • কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের দাবি। এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সাউতা গ্রামের বাসিন্দা হৃদরোগী আতিয়ার শেখ (৬৫) কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

    স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরামর্শে আতিয়ার শেখকে ইসিজি করার জন্য বলা হয়। এর মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    মৃত রোগীর ছেলে রিপন শেখ জানান, তারা চিকিৎসক বা নার্সদের সাথে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করেননি।

    বরং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা একতরফাভাবে তাদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

    ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ওবায়দুর ইসলাম এবং তার দুই স্বজন রুহুল আমিন ও হযরত আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

    আটক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমাদেরকে বেদম পিটিয়েছে চিকিৎসকেরা।’

    হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আকুল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।’

    এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছেন, শনিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

    দিবাগত রাত ৩টার দিকে মডেল থানা পুলিশ আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। আতিয়ার শেখের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’ এ,আর

  • ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই

    ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানির তোড়ে ভেসে গেছে উজির মন্ডল নামে এক কৃষক। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নৌকা করে পদ্মা নদী পাড়ি দেয়ার সময় প্রচন্ড ঢেউয়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে যান। চোখের পলকে তাকে হারিয়ে ফেলে নৌকায় থাকা অন্য সঙ্গীরা।

    নিখোঁজ কৃষক উজির মন্ডল ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এলাকার মরহুম খেদের আলীর ছেলে।

    নিখোঁজ উজির মন্ডলের ছোট ভাই নাজির মন্ডলও ওই নৌকায় ছিলেন। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর চরে আমাদের জমি রয়েছে। প্রতিদিনই আমরা এক সাথে ছয়-সাতজন একটা নৌকা নিয়ে চরে আসি এবং নিত্যদিনের কাজ করি। আজকেও আমার বড় ভাই উজিরসহ চাচাদের সাথে নিয়ে চরে গিয়েছিলাম।

    তিনি আরো বলেন, জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সাড়ে ১২টার দিকে আমরা নৌকা নিয়ে ফিরছিলাম। পদ্মা নদী এখন উত্তাল থাকায় প্রচন্ড ঢেউ ছিল। নৌকা দুলে দুলে চলছিল। হঠাৎ করেই দেখি ভাই পড়ে গেল। তাকে ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভাইকে পাইনি।

    স্থানীয়রা জানান, উজির মন্ডলকে উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও অনেকগুলো নৌকা পদ্মায় নামানো হয়েছে। তবে নদী উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান ধীর গতিতে চলছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে মাদকবিরোধী পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপির শুকুনতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় দুই বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ও দুই হাজার ১০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।

    রাত পৌনে ২টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপির পশ্চিম বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে নয় বোতল ভারতীয় মদ, ৯৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ৯০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ ছাড়া সকাল ৬টার দিকে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ডিগ্রিচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ১১০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার শহরতলির ত্রিমোহনী বাজারে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে পাওয়া ২৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিমোহনী বাজারের রোহান ট্রেডার্সে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে থাকা সার পরীক্ষা করে মানহীনতা ও প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইসাথে জব্দ করা ২৫ বস্তা ভেজাল সার ধ্বংস করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, ত্রিমোহনীর এক ডিলার ভেজাল সার বিক্রি করছেন। ওই ডিলার অন্য একটি স্থান থেকে সার এনে বিক্রি করতেন। অভিযান চালিয়ে সেখানে ২৫ বস্তা ভেজাল সার মিশ্রিত বস্তা পাওয়া যায়। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের সঙ্কটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও নকল সার বিক্রি করছেন। এসব সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল ও ভেজাল সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে খালটিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখা যায়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধা করে পুলিশ।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, লাশটি শনাক্তকরণ ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা থানা পুলিশ উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ,আর

  • সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নাটক বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে, বেলা ১১টার পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এ সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

    সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা কামনা করলেও প্রথমে তাতে সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ সময় পুলিশের সাথে বাগ্বিতণ্ডার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান।

    পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তবে তিনিও ফটক খুলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মধ্যেই আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

    সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, সাবেক সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, সময়ের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিপু খন্দকার, সাংবাদিক হাসান আলী, কে এম আর শাহিনসহ অন্যরা।

    বক্তারা বলেন, কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার পর জামিনে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে তারা ‘পাতানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

    সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় জেলার সাংবাদিক সমাজ শুধু প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    সমাবেশ থেকে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নামে চলা কথিত নাটক বন্ধের দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক উল্লাস। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী পৃথক দু’টি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রাগপুর বাজারসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার করা ডিসপ্লের মধ্যে রয়েছে ২০০ পিস ‘ক্রাউন আলট্রা এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’ ও ৪০০ পিস ‘ক্রাউন স্মার্ট এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৪ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রিফুজি পাড়া মাঠে অভিযান চালায় বিজিবির আরেকটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য নয় লাখ আট হাজার টাকা। তবে এসব মালামালের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা চেষ্টা আইনে মামলা করেন সাংবাদিক উল্লাস। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলংগী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮) ও ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যের ছেলে, ভাই ও স্বজনরা জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসবের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে এমপির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আহত করেন। সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নির্ধারিত সময়ে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নৈশভোজ করেন। পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খান তারা। রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই রিঅ্যাকশন শুরু হয়।

    খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে কয়েকজনের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঝিমুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

    অসুস্থরা হলেন এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হতে পারে। তবে খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এদিকে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। খাবারে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও সম্মান জানাতে কুষ্টিয়ায় ৫৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখা। জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাস, জুলাই যোদ্ধা হাফেজ সেলিম রেজা ও শহর শাখার সেক্রেটারি পারভেজ মোশাররফ। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ, নীতি-নৈতিকতা ও জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। অহংকার ও জুলুমের পরিণতি ধ্বংস—এ কথা মনে রেখে মানবিক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; জ্ঞানের গভীরে যেতে হবে এবং জ্ঞান অন্বেষণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা, উৎসাহিত করা এবং নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে।’

    অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রশিবির সম্পর্কে আগে তাঁদের যে ধারণা ছিল, অনুষ্ঠানে এসে তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহারের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন উপহার পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে রাফি (৩) পানিতে ডুবে গেলে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর ঘোষণা শুনতেই রোগীর স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোক চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ শুরু করেন ও একপর্যায়ে ১১ নম্বরের মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস সামাদ জরুরি বিভাগের সহায়তাকারী বিজয় কুমার ও আনসার সদস্য জসিম সরকার আহত হন।

    মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতার নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই আছি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: জান্নাতুল রিয়া জানান, স্বজনদের হারিয়ে যাওয়ার বেদনা সহানুভূতির সাথে দেখা হলেও হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

  • ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুই যাত্রী।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভোড়ামারার ১২ মাইল গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাশিদুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নতুন আমদহ গ্রামের ছোয়াদ আলী মন্ডলের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রাকটি লালনশাহ ব্রিজের দিক থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বিপরীত দিক ভেড়ামারা থেকে কুষ্টিয়ার রাস্তায় উঠছিল। আর দ্রতগতির একটি মোটরসাইকেল কুষ্টিয়া থেকে ১২ মাইল মোড়ের দিকে আসছিল।

    প্রথমে সিএনজি আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পতিত হয়। মোটরসাইকেলের আঘাতে সিএনজির ভেতরের সিটে বসে থাকা যাত্রী রাশিদুল ইসলাম সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজির দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: মিজানুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসাপাতালে আনা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রাশিদুল ইসলামকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়দুর রহমান জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আরজ আলী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরোজ আলী রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকেই দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড মেঘের গর্জন শুরু হয়। এ সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি বজ্রপাতেই মারা গেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বন্যাকবলিত ৫৫০ পরিবারকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা প্রদান

    কুষ্টিয়ায় বন্যাকবলিত ৫৫০ পরিবারকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরচিলমারী গ্রামের ডিগ্রীরচর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    একইদিন চিলমারী, চল্লিশপাড়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরো ৩০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। এভাবে সর্বমোট ৫৫০টি পরিবার বিজিবির এ মানবিক সহায়তার আওতায় আসে।

    চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকসহ অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় এসব পরিবারের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

    দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে এই খাদ্য সহায়তার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, জুনিয়র কর্মকর্তা ও বিজিবির অন্যান্য সদস্য ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।

    বিজিবির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, বন্যার কারণে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার খাদ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্কটে পড়েছে। এ সময়ে বিজিবির খাদ্য সহায়তা দুর্গত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা হিসেবে এসেছে।

    সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সঙ্কটের সময়ে সীমান্তবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এর অংশ হিসেবে বন্যার্তদের ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেঁচে থাকার জন্য গাছের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছের গুরত্ব ও চাহিদার কারলেই বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধিক সরকারী বেসরকারী নার্সারী। সফলতা এসেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার নার্সারী ব্যবসায় । বৃক্ষরোপন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার নার্সারী মালিকরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারীর ব্যবসা। সরকারী নার্সারীর পাশাপাশি বেকার যুবকরাও নার্সারী গড়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃক্ষরোপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছে।

    ফুলফলসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার নার্সারীগুলো। নার্সারীর চারিদিকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরতলীসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক সরকারী-বেসরকারী নার্সারী।

    বিভাগীয় বন অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ কুষ্টিয়ায় ১৩টি উপজেলায় ৩ শতাধক নার্সারী গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারীতে ফল-ফুল ও ঔষধী গাছের চারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এমন গাছের চারাও উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার নার্সারীগুলোতে এ ব্যবসায় এসেছে সফলতা।

    বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ নার্সারী ব্যবসা। বৃক্ষের আর্থিক মূল্য অনুধাবন করেই গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে নার্সারীগুলো চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৎপর হয়ে কাজ করছে। নার্সারীর শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাছ পরিচর্যা ও গাছ তুলে বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত। তেমনি মালিকরাও নিজেদের নার্সারীর সুনাম বয়ে আনতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটিয়ে নার্সারীকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি করা হচ্ছে।

    বৃক্ষরোপনের উদ্যোগকে বেগবান করতে জেলার গড়ে ওঠা নার্সারীগুলো ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ মৌসুমে গাছের চারার চাহিদা থাকায় দিনদিন নার্সারী ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জেলার অনেকেই নার্সারী গড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক বেকার যুবক নার্সারী করে স্বাবলম্বী হলেও সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এ ব্যবসায় আগের মতো আর লাভ নেই বলে নার্সারী মালিকরা জানালেন।

    নার্সারী মালিকরা অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরকারীভাবে চারা ক্রয় করা হয় না। চারা ক্রয়ে সরকারী কর্মকর্তারাও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না। নার্সারী মালিকদের নিকট থেকে যদি চারা ক্রয় করা হয় তাহলে নার্সারী মালিকরা আরো উপকৃত হবে। এদিকে সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কার্যক্রম চালালেও এ বছর তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রতি বছর জেলার স্কুল কলেজে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হলেও এ বছর কোন বরাদ্দ না আসায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কুষ্টিয়া জেলার ৬৬ ইউনিয়নসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় নার্সারী ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৃক্ষরোপন আন্দোলন জনসাধারণের মাঝে সাড়া পেয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়া জেলায় আরো নার্সারী ব্যবসা বাড়তে পারে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো যাবে বলে নার্সারী মালিকরা অভিমত প্রকাশ করেন। নার্সারী সবুজ বনায়নে যেমন রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তেমনি জেলার বেকার সমস্যার সমাধানেও যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

  • ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। পরে স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিং ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজরা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রকি, একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন এবং আব্দুল ওহাব।

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন। ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।

    দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, ‘এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তারা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন ছিলেন। রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলে খুলনা থেকে ডুবুরি পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

    নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেও অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী বলেন, ‘আমি মনে করি, হল শিক্ষার্থীদের স্থান। হলের প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যয়—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হওয়া উচিত। তাদের উন্নয়ন এবং একুশ শতকের যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য হল থেকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হলের আমানতদারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হল একটি পরিবারের মতো। এখানে মত ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।’

    উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।

  • কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

    নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।

    নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাখির কিচিরমিচির কলতানে এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গ্রামের বাগানগুলোতে পাখির কলতানে মুখরিত হতো। দেশের গ্রাম বাংলায় শ্যামল প্রকৃতিতে হরেক রকম পাখির উপস্থিতি আরো মনোরম করে তুলতো বৃহত্তর কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলাকে। স্থায়ী বসবাসকারী পাখি আর মৌসুমী অতিথি ২২১ প্রজাতির পাখি যোগ হয় পাখিদের কাঁতারে। এদের মধ্যে যেসব পাখির নাম আমরা সর্বাধিক শুনেছি এবং দেখেছি গ্রাম বাংলায় অবাধ বিচরণ করতে।

    তাদের মধ্যে দোয়েল, শ্যামা, ময়না, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেঁচা, চড়ুই, মাছরাঙা, ঘুঘু, পাপিয়া, ময়ুর, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌড়ি, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, চাতক, বাবুই, বক, বউ কথা কও, হলুদিয়া, কানা কুকো, টুনটুনি, ফিঙে, পায়রাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

    বর্তমানে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে মানুষের সৃষ্ট কারণসমূহই প্রধান। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বনাঞ্চল। পাখিরা হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল। নদী পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও কীটনাশকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পাখির খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নদী অঞ্চলে লবণাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

    অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। মানিকজোর, সবুজ ঘুঘু, হারগিলা, শঙ্খচিল, ভুবনচিল, মদনটাক, ময়ূর, ঈগল, শকুন, বক,বাদুর বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

    এ দেশে শকুনের যেকটি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া বাকি সব জাতের শকুন হারিয়ে গেছে। শকুনের খাবার ও আবাসস্থল নেই। যার ফলে বাংলা শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনরা সাধারণত পুরোনো বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরোনো বড় বড় গাছ নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে।

    দেশে ৪৩ প্রজাতির চিল, বাজ, ঈগল ও শকুন পাখি দেখা যেতো। এরা খাবার হিসাবে ইঁদুর, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পোকামাকড় পছন্দ করে। নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশের বড় গাছে বসবাস করত এরা। নদী-নালা ও জলাশয়ের দূষণের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের শঙ্খচিল।

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় যত ধরনের ঘুঘু দেখা যায়, তার মধ্যে সবুজ ঘুঘু সবচেয়ে সুন্দর। ছায়াঘেরা বনের নির্জনে খুব সকালে ও শেষ বিকেলে এরা খাবার খুঁজে বেড়াতো যা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বাকি সময় বৃক্ষের ডালে বসে সময় কাটাতো। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে এখন ঘুঘুর বিচরণ চোখে পড়ে না । গ্রামীণ জনপদে ঘুঘু দেখা গেলেও সবুজ ঘুঘুর দেখা মেলে না। যাও দেখা যায় শিকারীদের কারণে তা মারা পড়ছে প্রতিদিনই।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে বাংলাদেশে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করেও পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

    পাখি শিকারী আইন থাকলেও এর নেই কোন প্রয়োগ ফলে পাখি শিকারীরা নির্বিঘ্নে পাখি শিকার করে চলেছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় পাখি শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারীরা ইয়ারগান দিয়ে জেলার হাওড় বাওড় খাল বিলে অবস্থানরত অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিঘ্নে মেরে ফেলছে। জেলার নদ-নদী ও বন জঙ্গলে অতিথি পাখির যখন আগমন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ই পাখি শিকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে পাখি ধরে জেলার বাবর আলী গেটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি। পাখি শিকারী বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কুষ্টিয়ার পাখিপ্রেমীসহ জেলার সুশীল সমাজ।

  • কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শরীয়াতুল্লাহ এতিমখানায় মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে এ শিক্ষা শিবির শুরু হয়।

    দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির উদ্বোধন করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন।

    অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর প্রফেসর ড. আকতার হোসাইন।

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আত্মগঠন ও মান উন্নয়নের উপর বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সহীহ তালিমুল কোরআন ক্লাস গ্রহণ করেন তালিমুল কোরআন বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. শহিদুল ইসলাম বারী, সকল জামায়াত কর্মীই আদর্শ সমাজ কর্মী বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, দারসুল হাদিস পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ভাষা সাহিত্যে বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম মফিজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে অতিথি রয়েছেন ঢাকা বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষা শিবিরে প্রায় ২শত কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

  • চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় হাসনা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া এলাকার জিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসনা খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়। এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঘরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    আরও পড়ুন: নাইজারে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ সেনাসহ নিহত ২২

    শুক্রবার সকালে গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালে ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি হাসনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, হাসনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    চার দিন নিখোঁজ থাকার পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, নিহতের ছেলে থানায় জিডি করার পরদিন আজ খালের পানি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

    প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

    কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

    অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

    অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

    এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

    ১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

    আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।

  • কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ।

    সোমবার বিকালে শহরের আড়ুয়াপাড়ার দেবাশীষের বাসভবনে যান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন।

    এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের বাবার হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু ও প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক দেবাশীষের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন উদীয়মান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আনন্দ র‌্যালী, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় পৌরসভা চত্বর থেকে র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শুরু হয়।

    এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা, সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আব্দুল মুয়িদ বাবলু, জয়নাল আবেদীন মুরাদ হোসেন প্রমুখ।

    পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বড় বাজারে শেষ হয়।

  • উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

    উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় উড়ো চিঠিতে হত্যার হুমকি পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেল। গত বুধবার ভোরে উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের নিচে একটি খামে করে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সেদিনই ভেড়ামারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    ‘তৌহিদী জনতা’র নামে পাঠানো চিঠিতে হাসান ইমাম রুবেলকে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের লেখালেখি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব লেখালেখিকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির শেষাংশে এটিই ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাসান ইমাম
    রুবেলের ঢাকায় অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
    হাসান ইমাম রুবেল দৈনিক প্রথম আলোতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর ও নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

    ভেড়ামারা থানায় করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, চিঠিতে তাঁর ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখির কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব লেখাকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী আখ্যা দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না’ ও ‘যেকোনো উপায়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাঁর ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলেও দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
    হাসান ইমাম রুবেল বছরে দু’একবার পরিবার নিয়ে হিড়িমদিয়ার বাড়িতে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। (বুধবার) ভোরে ফটকের নিচে তৌহিদী জনতার নামে চিঠি রেখে যাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে জিডি করেছি। হুমকির প্রকৃত উৎস ও জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’ তাঁর ভাষ্য, চিঠির প্রেরক কে বা কারা, তা নিশ্চিত নন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সরাসরি দায়ী না করে উৎস শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল জিডি করেছেন। পুলিশ তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করেছে। কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    আরও হুমকি
    ভেড়ামারায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন আরও কয়েকটি হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জগশ্বর গ্রামের কিয়ামাত আলী সরদারকে ১৭ আগস্ট বিশেষ বাহিনীর নামে উড়ো চিঠি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া একটি দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ককেও কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

  • মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেন আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন।

    সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সচেতনতামূলক এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোকসা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

    প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। শুক্রবার ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।

    আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিলন হোসেন বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

  • সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে যান। এ সময় মুফতি আমীর হামজা দেবাশীষ দত্তের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাকে স্নেহের মমতায় জড়িয়ে ধরেন। শান্তনা দেন তাকে।

    এ সময় মেয়েটিকে দেখাশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারেও মুফতি আমীর হামজা কথা বলেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।

    কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

    দৈনিক সম্পাদকীয় কলাম

    অপরদিকে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এনামুল হকসহ জেলা নেতৃবৃন্দও তার বাড়িতে ছুটে যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

    কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ অবাসিক হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে বহুতল ওই হোটেলটিতে আগুন লাগে এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও নাগরিক টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শাম্মী (৩৬), ছেলে স্বর্ণশীষ (২) এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৮)।

    কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

    সাংবাদিক দেবাশীষের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার চেয়ারম্যান গলিতে আর শ্বশুরের বাড়ি থানাপাড়ায়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেবাশীষ দত্ত গত ৩ আগস্ট ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে যান। স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত ১৮ আগস্ট বিমানযোগে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে ওঠেন। ১৯ আগস্ট তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল।

    তার ৬ বছরের এক মেয়ে রয়েছে, যাকে বাংলাদেশে দাদির কাছে রেখে গিয়েছিল।

    দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। দেবাশীষের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    দুপুরে এ খবর কুষ্টিয়ার সংবাদকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সকলে শোকে কাতর হয়ে পড়েন। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর আকরাম হোসেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এ দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন। মেয়ের অসুস্থতায় মেয়েকে নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য তাদের সঙ্গী হয়েছিলেন।

    দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে পুরো পরিবারের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।