২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। স্বাধীনতার পর দলটির সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
তবে বিরোধী দলের নেতৃত্ব পাওয়া আর কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করা এক বিষয় নয়। আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয়ের তদারকি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
- ত্রয়োদশ সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
- ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে।
- জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসন শূন্য।
- পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
ঐতিহাসিক পটভূমি
আপনি Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি লিখেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা এই সংসদে নতুন কী দেখা যাচ্ছে, আর পুরোনো কোন প্রবণতাগুলো ফিরে আসছে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দলটি সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে এসেছে। একে প্রচলিত রাজনৈতিক বিন্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়। ২০১৩–১৪ সালের পর বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ২০২৬ সালে বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা তাই দলটির রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক জোটের অংশীদার থেকে প্রধান সংসদীয় বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পায়। ২০০১ সালে দলটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ হয় এবং দুই নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পৃথক অবস্থানে রয়েছে। তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেখা গেলেও এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব বুঝতে আরও নির্বাচন ও নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ প্রয়োজন।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে এখন সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সংসদীয় নজরদারি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নও দলটির প্রধান দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার প্রবণতাও রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের স্বার্থ ও কৌশলে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় বিন্যাস সেই সম্পর্কের নতুন পর্যায় নির্দেশ করে।
সংসদে জামায়াতে ইসলামী
- ১৯৯১ ১৮টি আসন।
- ২০০১ ১৭টি আসন; বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ, মন্ত্রিসভায় দুই নেতা।
- ২০১৪ ও ২০১৮ সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
- ২০২৬ প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী।
“স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ দল সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”
— অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান
সংসদে ও রাজপথে বিরোধী রাজনীতি
বিরোধী দল ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং ৬ সেপ্টেম্বর দুটি বিল নিয়ে ওয়াকআউট করেছে। জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসনও শূন্য রয়েছে। কখন বর্জন বৈধ রাজনৈতিক চাপ, আর কখন তা সংসদকে দুর্বল করে?
সংসদীয় ওয়াকআউট প্রক্রিয়াগত অন্যায়ের প্রতিবাদে সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহৃত হলে কার্যকর রাজনৈতিক চাপ হতে পারে। কিন্তু এটি নিয়মিত বিরোধিতার প্রধান কৌশল হয়ে উঠলে সংসদীয় বিতর্ক ও প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা দুর্বল হয়। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী সদস্যদের ওয়াকআউট ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি উদাহরণ। জুন মাসে বিল উত্থাপন ও পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের সুযোগ নিয়ে আপত্তির পরও বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাদের দাবি ছিল, সংশোধিত সংস্করণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। বিরোধী সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করার পরও বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ১৩ জুলাই গঠিত বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন রাখা হলেও কমিটির কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তির কারণে জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা সদস্য মনোনয়ন দেয়নি। এসব ঘটনা দেখায়, ওয়াকআউট জনমনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে; কিন্তু সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা সীমিত করে।
“বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতি এখনও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।”
— অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান
ক্ষমতাসীন দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদে রয়েছে এবং ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৮টির সভাপতিত্ব করছে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারের বিরোধী দলকে প্রকৃত ভূমিকা দেওয়ার জন্য কী করা উচিত?
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের অর্থ এই নয় যে সংসদীয় কাঠামোতে বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত থাকবে। ১০ সেপ্টেম্বর ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের পর মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে ছিল।
সরকার সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে বিরোধী দলকে কার্যকর তদারকির সুযোগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে বিরোধী সদস্যরা সরকারি নীতি পর্যালোচনা, নির্বাহী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এবং নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন। বিরোধী দলের সঙ্গে মতৈক্য থাকা জরুরি নয়; বরং তাদের প্রশ্ন তোলা ও সরকারি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ থাকা জরুরি। ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ব্যবস্থা নীতিগত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করেও সংসদীয় জবাবদিহি জোরদার করতে পারে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও সাংবিধানিক বিরোধ
ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত-জোটের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু বিএনপি বলেছে পরিষদটি সংবিধানে নেই এবং তারা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি কি নীতিগত বিরোধ, নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব? এর সমাধান কীভাবে হতে পারে?
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় শপথ নিলেও প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের যুক্তি ছিল, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে, জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা উভয় শপথ গ্রহণ করেন।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্কারের ম্যান্ডেটকে কীভাবে বৈধ সাংবিধানিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়া হবে। এর সমাধানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সাংবিধানিক বৈধতা পরস্পরের পরিপূরক হয়।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি বিরোধী দলের ধারণা কীভাবে বদলে দেয়? এখন বিরোধী দল কাদের প্রতিনিধিত্ব করে?
২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। ফলে দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছে। তবে নির্বাচনে অনুপস্থিতি দলটির সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ নয়। জামায়াত এখন সংসদীয় বিরোধিতার প্রধান সাংগঠনিক শক্তি হলেও সরকারের বিরোধিতাকারী সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে, বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ও আওয়ামী লীগের সব সমর্থকের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা সংসদীয় বিরোধী দলের চেয়ে বিস্তৃত।
“নির্বাচনের ব্যালটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তির বিলুপ্তি বোঝায় না।”
— অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান
সংসদ থেকে রাজপথে: সংঘাত এড়ানোর উপায়
১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করেছিলেন যে আট দফা দাবি এক দফা দাবিতে পরিণত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উভয় পক্ষের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?
জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের ১৯ সেপ্টেম্বরের সতর্কবার্তা সংসদীয় বিরোধ রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেয়। আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ১৯৯৬, ২০০৬–০৮ এবং ২০১৩–১৪ সালের রাজনৈতিক সংকট দেখায়, সংসদীয় আলোচনা ব্যাহত হলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা। রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধ অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত বিরোধের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা; বিরোধী দলেরও সংসদীয় প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।
সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহি
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এখন সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (Public Accounts Committee—PAC) সভাপতিত্ব করছেন। এই কমিটি কতটা কার্যকর নজরদারি করতে পারে?
জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সভাপতিত্বই কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে না। কমিটিটি সরকারি ব্যয়ের অপচয়, অননুমোদিত ব্যয়, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু কার্যকারিতা নির্ভর করে নিরীক্ষা আপত্তির ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর। তথ্যে প্রবেশাধিকার, নিয়মিত বৈঠক, বিশেষজ্ঞ সহায়তা, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নিশ্চিত করা জরুরি। দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নিরীক্ষা-প্রমাণকে অগ্রাধিকার দিলেই নজরদারি অর্থবহ হতে পারে।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এবং কোন সংস্কার সংসদকে শক্তিশালী করতে পারে?
সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব, তদন্ত এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক রাজনীতি, সংসদ বর্জন, নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রভাব এবং দুর্বল সংসদীয় তদারকি সরকার–বিরোধী সম্পর্ককে জটিল করেছে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে কার্যকর ভূমিকা দিলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংসদীয় বিতর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব, দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া, প্রকাশ্য শুনানি ও প্রতিবেদন প্রকাশের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির সংস্কার ও আন্তদলীয় সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সাংবিধানিক পরিবর্তন নতুন বিরোধ তৈরি করতে পারে। তাই বিরোধী দলের আইনগতভাবে সুরক্ষিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সংসদকে কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
আরও পড়ার জন্য
- Role of Opposition in Bangladesh Politics · আল মাসুদ হাসানুজ্জামান · ইউপিএল, ১৯৯৮
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- তারা জুলাইকে ধারণ করেন না: আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি · বিডি গ্লোবাল টাইমস
- এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাঁটছে: জামায়াত আমির · বিডি গ্লোবাল টাইমস



























































