ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় আজ রোববার সন্ধ্যায় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছেন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন। আটক করে তাঁদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনেও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁদের মারধর করেন।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জাতীয় সংসদ চত্বরকে ‘ধূমপানমুক্ত এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এই চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব করলে কমিটির সবাই তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অংশ নেন।
বৈঠকে জাতীয় সংসদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান। এ সময় সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে অধিবেশন চলাকালে প্রায় ৬ মেগাওয়াট এবং অন্য সময়ে আরও কম বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।পরে সংসদ চত্বরে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা এনার্জি স্টোরেজ সুবিধা রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
শীতের আগমনে বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গ্রামীণ জনপদের মাঠের চিত্র। কোথাও সবুজ পাতার ফাঁকে বেড়ে উঠছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি, কোথাও মাচায় মাচায় শোভা পাচ্ছে লাউ ও শিম। আবার কোনো জমিতে সারি সারি মুলা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ নানা সবজির চাষ। পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন শাকের আবাদেও ব্যস্ত কৃষকেরা। আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা।
তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকেই। ভালো ফলন ও বাজারদর নিয়ে আশার পাশাপাশি তাদের মনে রয়েছে লোকসানের শঙ্কা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে তুলনামূলক ভালো লাভ হতো। তখন সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম ছিল কম। ফলে উৎপাদন খরচও থাকত নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু গত দুই বছরে সার, কীটনাশক, জমি চাষ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব খাতেই খরচ বেড়েছে। এতে সবজি চাষের লাভের হিসাব কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা গেছে, প্রতিবছর পাকুন্দিয়া উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হয়। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি নানা ধরনের শীতকালীন সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার তারাকান্দি, চরকাওনা মুনিয়ারীকান্দা, জাঙ্গালিয়া, চরফরাদী ও চণ্ডিপাশা বড় আজলদীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যার কর্মযজ্ঞ চলছে। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কার ও সেচের কাজে। কোথাও ফুলকপি ও বাঁধাকপির জমিতে পরিচর্যা করছেন কৃষকেরা, কোথাও মুলা, শিম, লাউ, বেগুন ও টমেটোর আবাদ হচ্ছে। আবার কোনো জমিতে পালংশাক, লালশাক ও ধনেপাতার চাষ করেছেন তারা।চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন তিনি। এবারও ৪০ শতক জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব ফুলকপি বিক্রির উপযোগী হবে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা নিজেই উৎপাদন করেন। নিজের জমিতে রোপণের পাশাপাশি অন্য কৃষকদের কাছেও এসব চারা বিক্রি করেন। এতে বাড়তি আয় হয় তার।
একই গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লাউসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে থেকে তো কিছু বলা যায় না। আল্লাহ দিলে আর বাজার ভালো থাকলে লাভ অইতে পারে।’
কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, আগে সবজি চাষে ভালো লাভ হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কৃষি যন্ত্রপাতি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। এখন লাভ-লোকসানের শঙ্কা নিয়েই সবজি চাষ করতে হচ্ছে। বাজারদর ভালো থাকলে কিছুটা লাভের আশা করছেন তিনি।
চণ্ডিপাশা ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ব্লকের বড় আজলদী গ্রামে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষকেরা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব ফুলকপি বাজারে তোলার উপযোগী হবে। বাজারদর ভালো থাকলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে মাটির অম্লত্বের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা কমাতে ডলোচুন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে মাটির গুণাগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমানো সম্ভব হবে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে ই আলম বলেন, রবি মৌসুম পাকুন্দিয়ার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি মৌসুম। এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের রবি ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু, ৩৫০ হেক্টরে পেঁয়াজ এবং ১৪০ হেক্টরে গমের আবাদ করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির চাষ হয়ে থাকে।
তিনি জানান, উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এসব সবজির আবাদ দেখা যায়। ইতোমধ্যে কৃষকেরা শীতকালীন সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ভালো ফলনের পাশাপাশি কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
ভালো দাম পাওয়ার আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। উল্টো ক্রেতাসংকট ও দরপতনে হিমাগার থেকে আলু বের করতেও আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। উৎপাদন, পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে খরচ পড়েছে ২৩-২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে ১০-১২ টাকায়। এতে প্রতি কেজিতে ১১-১৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হিমাগারগুলোতে এখনো বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আলু খালাস করা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবার আলু সংরক্ষণ করলেও নতুন করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত এক বস্তায় ৬৫ কেজি আলু কেনা হয়। বাছাইয়ের পর বিক্রিযোগ্য থাকে প্রায় ৬০ কেজি। উৎপাদন, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজিতে খরচ পড়ে ২৩-২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে ১০-১২ টাকায়।
জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে দুটি সরকারি ও চারটি বেসরকারি হিমাগার। এর মধ্যে পাকুন্দিয়ায় একটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি, জেলা সদরে একটি সরকারি এবং ভৈরবে দুটি বেসরকারি হিমাগার রয়েছে।
হিমাগারে পড়ে আছে হাজার হাজার বস্তা
সম্প্রতি পাকুন্দিয়ার পূর্বাচল হিমাগার ও এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের শেষ সময়েও হিমাগারগুলোতে আলু খালাসের তেমন ব্যস্ততা নেই। ভেতরে সারি সারি সাজানো আলুর বস্তা। কেউ বস্তা খুলে আলু বের করছেন, কেউ করছেন পরিচর্যা। তবে বাজারে ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু বের করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে এসব আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সাধারণত ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আলু খালাসের সময় নির্ধারিত থাকে। কিন্তু এবার বাজারে ব্যাপক সরবরাহ ও দরপতনের কারণে এখনো বিপুল পরিমাণ আলু হিমাগারে রয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আলু খালাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
হোসেনপুর থেকে আসা আলু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজে ২ হাজার ২০০ বস্তা আলু রেখেছিলেন। কেনা, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজিতে খরচ পড়েছে ২৩-২৪ টাকা। শুরুতে বাজারদর ছিল ১৬-১৭ টাকা। এখন তা ১০-১১ টাকায় নেমেছে। এতে প্রতি কেজিতে ১১-১২ টাকা লোকসান হচ্ছে।
পাকুন্দিয়ার সুখিয়া গ্রামের আলুচাষি রিপন মিয়া বলেন, কৃষিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অনেক কষ্ট করে আলু উৎপাদন করে হিমাগারে রেখেছিলাম ভালো দাম পাওয়ার আশায়। এখন ভরা মৌসুমেও ক্রেতা নেই, দামও কমে গেছে। এতে আমরা বিপাকে পড়েছি।
গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল কাদির বলেন, দুই দিন আগে এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে আলু কিনেছি। এখনো হিমাগার থেকে বের করিনি। এরই মধ্যে কেজিতে দুই টাকা দাম কমে গেছে। হিমাগার থেকে আলু বের করে গাজীপুরে নেওয়া পর্যন্ত পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে আরও লোকসান গুনতে হবে।
খালাসের অপেক্ষায় ৫৫ হাজার বস্তা
পূর্বাচল হিমাগারের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের হিমাগারে ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার মেট্রিক টন খালাস হয়েছে। অবশিষ্ট আলুর বেশির ভাগই বীজ আলু।
এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন জানান, এ বছর তাদের হিমাগারে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত খালাস হয়েছে ৮৩ হাজার ৫০০ বস্তা। এখনো ৫৫ হাজার ৬৭৪ বস্তা আলু রয়ে গেছে। দরপতনের কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আলু খালাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বেশি উৎপাদন, কমেছে দাম
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। গত অর্থবছরে বেশি দামের আশায় কৃষকেরা ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩০ টন করে ফলন হয়। তবে সারা দেশে আলুর উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দরপতন ঘটে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে ই আলম বলেন, একই ফসলের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কৃষকদের শস্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। রবি মৌসুমে আলুর পাশাপাশি সরিষা ও গম চাষে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অল্প জমিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ ও শীতকালীন শাকসবজি আবাদ করা যেতে পারে। এতে একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসলের লাভ দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। শস্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তবে উৎপাদিত আলু দেশের বাইরে রপ্তানির ব্যবস্থা না করা গেলে এবং সঠিক বাজারজাতের অভাবে পাট, আখের মতো সম্ভাবনাময় এই ফসল আবাদও আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বছর আমন মৌসুমে ৩ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল ৫ লাখ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৫০ হাজার মেট্রিক টন কেনা হবে। প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ৩৫ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
উল্লেখ্য, গত বছর সরকার প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৫০ টাকায়, আতপ চাল ৪৯ টাকায় এবং ধান ৩৪ টাকায় কিনেছিল। মোট ধান কেনা হয়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টন। আর চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল ৯ লাখ মেট্রিক টন।খাদ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। অন্যদিকে, চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে, যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি, আমন সংগ্রহ কার্যক্রম, খাদ্যশস্যের মজুদ, সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা এবং খাদ্যশস্য আমদানি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬’-এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন। সেই লক্ষ্যে একটি আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাকেই এই সংগ্রহ অভিযানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তায় ২০২৭ সালে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।
‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৪০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে ২৬টি সরবরাহ করবে কাতারএনার্জি।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অন্যান্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আপাতত আগামী মার্চ পর্যন্ত আমদানি সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো বছরের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত না করে মার্চ পর্যন্ত সরবরাহ সূচি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে- এমন প্রত্যাশা থেকেই আপাতত নমনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাড়তি কার্গো সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের।
এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০৩টি কার্গো পাওয়ার কথা। তবে মোট ১২৮টি চুক্তিবদ্ধ কার্গোর মধ্যে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৭১টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
কাতারএনার্জির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ট্রেডিং এলএলসি ২৪টি কার্গোর বিপরীতে ১৮টি সরবরাহের প্রত্যাশা দিয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কাতার থেকে আসবে ৪৪টি কার্গো।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ রোববার দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ও ডিএস-৩০ কমলেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে। একইসাথে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।
ডিএসইতে আজ ৩৮৭টি কোম্পানির ১৭ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৯ দশমিক ২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২২টির দর বেড়েছে, ২০০টির কমেছে এবং ৬৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে : শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, এনভয় টেক্সটাইলস, সায়হাম টেক্সটাইল মিলস, ইভিন্স টেক্সটাইল, মতিন স্পিনিং মিলস, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেম, মালেক স্পিনিং মিলস, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে, দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে : মতিন স্পিনিং মিলস, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনটেক, সায়হাম টেক্সটাইল মিলস, আলহাজ টেক্সটাইল মিলস, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস, ইভিন্স টেক্সটাইল, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ও হাওয়া ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি)।
দরপতনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে : বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ডেন সন, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি), অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস।
দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২১৩ কোটি ২১ লাখ ৮ হাজার ২৩৯ টাকা।
• প্রাথমিকে প্রবেশাধিকার বাড়লেও মৌলিক শিক্ষার দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
• শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকার অর্থায়ন বিশ্বব্যাংকের।
• ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মানোন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সব শিশুর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিদ্যালয়ে গেলেও বয়স অনুযায়ী শিক্ষার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না প্রতি দুই শিশুর একজন। ১০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু সহজ কোনো লেখা পড়ে তার অর্থ বুঝতে পারে না। শিক্ষার মানের এই দুর্বলতা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।
এ পরিস্থিতিতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকা অর্থায়ন অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ এই অর্থায়নের অনুমোদন দেয়।
প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মানোন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে ঋণ ও অনুদান সহায়তা দেওয়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে এই অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের মেয়াদ হবে ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণের কিস্তি পরিশোধে থাকবে বিশেষ ছাড়।
গতকাল শনিবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস জানিয়েছে ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানো হবে। সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও অর্থায়নটি সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে বুঝতে পারে না। তুলনামূলক উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও শিশুদের মৌলিক শিক্ষার দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। গত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন অর্থায়নের ফলে শিশুরা আরও ভালোভাবে শিখতে পারবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি ধরে রাখতে পারবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের ভিত্তিও তৈরি হবে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক।
কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে। এতে পাঠদানের উপকরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠের পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ব ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হবে।শুধু নিয়মিত পাঠদান নয়, পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেসব এলাকায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদানের সক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যালয় পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব তৈরি এবং শিক্ষা খাতে বাজেটের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচিটির দলনেতা তাশমিনা রহমান বলেন, ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষার শক্ত ভিত্তি তৈরি করা। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য কর্মসূচিতে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষা খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্তের ব্যবহার বাড়ানো এবং বাজেটের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
চলতি বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেবে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, এনসিটিবির বই ছাপা ও মুদ্রণে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানান শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে শিক্ষাসচিব এ কথা জানান। গতকাল রোববারের বৈঠকের শুরুতে আগের সভার কার্যবিবরণী সংশোধনীসহ অনুমোদন ও নিশ্চিত করা হয়।
কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাসচিব বৈঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই ছাপানো ও মুদ্রণ সংক্রান্ত কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করবে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। এনসিটিবির বিষয়টি তাঁরা তদন্ত করবেনই। তদন্ত শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি সংসদের স্পিকারের কাছেও সুপারিশ দেওয়া হবে।কমিটির সভাপতি বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, তারা কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চান না। তবে ফ্যাসিস্ট দোসর যারা এখনো মুদ্রণ শিল্পকে কুক্ষিগত করে রেখেছে সেটার প্রতিকার চান। প্রয়োজনে তদন্ত শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পেতে আবেদন করা শিক্ষকদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। কমিটির সভাপতি জানান, এ খাতে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে যাঁদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব, তাঁদের দ্রুত অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিক্ষক এবং হজে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির কথাও বলা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। শিক্ষকদের হয়রানির কারণ হতে পারে, এমন বিতর্কিত বিধান না রাখার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো এবং নতুন করে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রবিধান মালায় সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক রাখার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়ে কমিটিকে অবহিত করা হয় এবং চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌখিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে মর্মে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তাহসিনা রুশদীর, সেলিমুজ্জামান মোল্যা, জাহান্দার আলী মিয়া, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মুজিবুর রহমান এবং আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকায় ও দুজন সিলেটে চিকিৎসাধীন ছিল। এ সময়ে নতুন করে ৯৮৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এ দিন নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৩৫৫ জনের শরীরে। আর ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ৬১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৭৫ জন। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৫ জন।
ছোট পর্দার নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নীহা সম্পর্কে আছেন- এ খবর বেশ পুরোনো। চলতি বছর জুন মাসেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রিলেশনশিপ’ স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। যদিও সেই সম্পর্ক প্রেম, বাগদান নাকি বিয়ে- তা স্পষ্ট করেননি নীহা।
রোববার (৮ নভেম্বর) ফেসবুকে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। দেখা যায়, পবিত্র কাবার সামনে তাকে জড়িয়ে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন, দুজনেরই মুখ কাবার দিকে। ছবিটি তোলা হয়েছে পেছন থেকে। আরেকটি ছবিতে দুজনের হাত; একে-অপরের হাত ধরে আছেন। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে কাবা শরীফ।
ছবির সঙ্গে নিজেই বিয়ের ইঙ্গিত দিলেন নীহা। লিখেছেন, ‘যে অধ্যায়টি আমরা এত দিন ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছিলাম; এবার সেই সুন্দর যাত্রার গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাদের যে সুন্দর বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন এবং তার পবিত্র ঘরে একসঙ্গে আসার সৌভাগ্য দান করেছেন, তার জন্য অশেষ শুকরিয়া।’
নীহার এই বার্তা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তিনি বিয়ে করেছেন। তারপরও পরিষ্কার হওয়ার জন্য নীহাকে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনের একদম শেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের এই বন্ধন সবসময় আল্লাহর রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ থাকুক।’
এই পোস্টে তাদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন অনুসারীরা। কিন্তু কার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করলেন নীহা? তার নাম বা পরিচয় অবশ্য প্রকাশ করেননি। আগে থেকে গুঞ্জন রয়েছে- এক পাকিস্তানি যুবকের সঙ্গে নাকি সম্পর্কে আছেন নীহা। তবে সঙ্গীর পরিচয় নিয়ে এ পর্যন্ত নীরবতাই পালন করছেন অভিনেত্রী।
কখনো অকৃতকার্য হয়েও জিপিএ-৫, আবার কখনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই সর্বোচ্চ ফল লাভ—নতুন কোনো ঘটনা নয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবছরই এমন চাঞ্চল্যকর ফল জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসছে। একই সঙ্গে বোর্ডের ফল প্রস্তুত ও প্রকাশ প্রক্রিয়া, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার চরম অভাবই বারবার এ ধরনের জালিয়াতি সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার ঘাটতি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতাই প্রকাশ করছে না, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করছে।
ধারাবাহিক জালিয়াতির চিত্র
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা: ফলাফল প্রকাশের পর এক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও পুনঃনিরীক্ষণের সময় দেখা যায় সে ১০টি বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছে। নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পাস করানোর অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর বোর্ডের তিন কম্পিউটার অপারেটরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই জিপিএ-৫ পান ১৭ জন শিক্ষার্থী।
২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষা: তৎকালীন বোর্ড সচিব নারায়ণচন্দ্র নাথের ছেলের ১১টি বিষয়ে নম্বর জালিয়াতির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
মামলার আসামি ও আইনি পদক্ষেপ
২০২৬ সালের জালিয়াতির ঘটনায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন ১. ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী (২৮), স্ক্যানিং অপারেটর, কম্পিউটার সেল। ২. মো. রাশেদুল ইসলাম (৩০), স্ক্যানিং অপারেটর। ৩. নূর হোসেন রায়হান (৩২), কম্পিউটার অপারেটর (সলভার)। ৪. ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী (সুবিধাভোগী)।
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ এবং অন্য একটি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্টদের পরামর্শে তারা জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের সময় দুটি মেশিনে ত্রুটির সুযোগ নিয়ে কৌশলে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মত পাওয়া গেছে। বর্তমান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কম্পিউটার শাখার দুর্বল জনবল ও অব্যবস্থাপনা
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুজন প্রোগ্রামার নিয়ে পরিচালিত হতো কম্পিউটার শাখার কার্যক্রম। পরীক্ষার সময় কাজের চাপ সামাল দিতে দৈনিক ভিত্তিতে আরও ৮ থেকে ১০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো, যা ফল প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সিকিউরিটি ঝুঁকি তৈরি করেছিল। পুরো ঘটনাগুলোর পর এখন কম্পিউটার শাখার কার্যক্রম নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাবেক সচিবের বিরুদ্ধেও অভিযোগের ছায়া
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে বর্তমান সচিব জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে এসব ঘটনার দায় এখন বর্তমান প্রশাসনের ওপর এসে পড়েছে। এর আগে তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণচন্দ্র নাথ নিজের ছেলের ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনায় নিজে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ারা আলম মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শিক্ষার্থীদের ঘিরে তৈরি হওয়া এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।
সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন দ্য বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জানা যায়, কম্পিউটারে উত্তরপত্র স্ক্যান করার সময় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কম্পিউটারের সফটওয়্যার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং বুয়েটের একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ ও অন্য একটি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্টদের পরামর্শ নিয়ে আমরা বিষয়টি শনাক্ত করি। তাঁরা চিহ্নিত করে দেন, দুটি মেশিনে ১২টি উত্তর স্ক্যান করতে সমস্যা হয়েছিল। সেখানে সমাধানের নামে ফলাফল জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মতামত পাওয়া যায়।’
এর ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই দুটি মেশিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এবং যেসব শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে সুবিধাভোগী হয়েছে, তাদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক ধরনের হুমকি উপেক্ষা করে আমি নিজে থানায় গিয়ে দুই দিন বসে থেকে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।
একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান মন্ত্রী মহোদয় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা হলো, এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাইনি। খাতাগুলো আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো লকারে সংরক্ষিত আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কর্মকর্তারা যেকোনো সময় চাইলে আমরা সেগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করব। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হয়তো এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। তবে তদন্তে প্রকৃত বিষয়টি বেরিয়ে আসুক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার আগে এই পদে দায়িত্ব পালন করা চারজনের একজন এখন কাঠগড়ায়। তার নাম অধ্যাপক নারায়ণচন্দ্র নাথ। তার ছেলের ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনায় তিনি নিজেই জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সব বিষয়ে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, যার দায় এখন আমার ওপরও এসে পড়েছে।’অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, ‘তিনি জেলে ছিলেন। যতদূর জানি, এখন জামিনে আছেন। আমার একজন সহকর্মী বিষয়টি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে আমার যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে এসব ঘটনার দায় এখন আমার ওপর এসে পড়েছে। তীর এখন আমার বুকের দিকে।’
সারা দেশে মানুষের চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেবল চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয় বরং প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এজন্য স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, চক্ষু রোগের ঝুঁকি কমাতে হলে শুধু চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবলে চলবে না; ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোকেও সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রত্যেককে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নিয়মিত যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে।
রোববার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশের চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা যাচাই ও চূড়ান্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএনএম মঈনুল ইসলাম।সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এ জন্য সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখ ও কিডনির ক্ষতিসহ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, চোখের ছানির অস্ত্রোপচারও অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। তাই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের পাশাপাশি চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, চক্ষু ও কিডনি রোগ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ফলে এসব রোগকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে শুধু আলাদা আলাদা চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কার্যকর গ্রুপ বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যৌথভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি ও চোখের ক্ষতি কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ আগেভাগেই সচেতন হতে পারবে।
দেশের সব স্কুল-কলেজসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অর্থবছরভিত্তিক অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির জবাব আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব জমা না দিলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ওপর বর্তাবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোহাম্মদ আকতার হোসেনের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থবছরভিত্তিক অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির ব্রডশিট জবাব প্রস্তুত করতে হবে। জবাবের সঙ্গে আপত্তির পরিশিষ্ট, প্রয়োজনীয় প্রমাণক ও মতামত সংযুক্ত করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব কাগজপত্রের তিন সেট হার্ডকপি এবং সফটকপি জমা দিতে হবে। সফটকপি ইউনিকোড নিকোষ ফন্টে ওয়ার্ড ফাইলে তৈরি করে পেনড্রাইভে দিতে হবে।
আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বাহকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বর কক্ষে এসব তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব জমা না করা হলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর বর্তাবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।
মাউশির চিঠিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সকল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক, সরকারি কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের এই নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবার আওতায় আনার এই বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার কথা জানান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের এক নীতি-নির্ধারণী সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ইসি সচিব আখতার আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের এনআইডি নিবন্ধনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের ডেটাবেজ তৈরির সুবিধার্থে এই নিবন্ধন কার্যক্রম সরাসরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে শুরু করা যেতে পারে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটি’র সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ বিষয়ে একটি বিশদ কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি কার্যকর সুপারিশমালা তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি অনুবিভাগ) মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ১৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ দেয় নির্বাচন কমিশন এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও পরিচয় নিশ্চিতের স্বার্থে এর চেয়ে কম বয়সীদেরও এনআইডির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন পক্ষ। সেই দাবির আলোকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে এবার সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে কমিশন।
এদিকে ইসির সর্বশেষ হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের ফল প্রকাশিত হবে আগামী ২৩ নভেম্বর। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী তাদের ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি খাতা পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন করেছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।গত ১ নভেম্বর থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শুরু হয়েছিলো। রোববার ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টায় আবেদন গ্রহণের সময় শেষ হয়েছে। নির্ধারিত আট দিনে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের বিপরীতে পুনঃনিরীক্ষা করতে হবে ১০ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি খাতা।
এর আগে আবেদনের শেষ তারিখ ৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আবেদনের সময় একদিন বাড়িয়ে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত করা হয়।
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এর পরদিন থেকেই ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
তুলনামূলকভাবে গত দুই বছরের চেয়ে এবার পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।
শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলোতে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) এসব শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতিতে উৎপাদন কার্যক্রমে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে, গত ৫ নভেম্বর থেকে পোশাক শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধ শুরু হয়েছে । আজ অধিকাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
শিল্প পুলিশের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. ইসরাইল হাওলাদার আজ বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। আশুলিয়ায় দু’একটি কারখানায় সমস্যা দেখা গেলে সেখানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানা ত্যাগ করে।
মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, আজ শিল্পাঞ্চলগুলোতে কোনো বিক্ষোভ, সংঘর্ষ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মোতায়েন করা বিজিবির সদস্যরা ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘লাইফস্টাইল’ ক্রুজ বা প্রমোদতরি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের বিশাল জাহাজ ‘ওয়ান্ডার অব দ্য সিস’ এই যাত্রার জন্য প্রস্তুত। ব্লিস ক্রুজ নামের একটি চার্টার কোম্পানি প্রাপ্তবয়স্কদের এই ভ্রমণের আয়োজন করেছে। মিয়ামি থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে এই যাত্রা শুরু হবে। এখানে যাত্রীদের জন্য নগ্নতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ‘প্লে-রুম’সহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। খবর অনলাইন সিএনএন।
৯ নভেম্বর পোর্ট মিয়ামি থেকে সাত রাতের এই যাত্রা শুরু হবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই এই ক্রুজের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এই জাহাজে ৫ হাজার ৮০২ জন নিবন্ধিত যাত্রী থাকবেন, যাদের সবার বয়স ২১ বছরের বেশি। যাত্রীদের প্রায় ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া বিশ্বের আরও ৪৬টি দেশের যাত্রীরা এতে অংশ নিবেন।
এখানে প্রতিদিন রাতের জন্য আলাদা থিমের আয়োজন থাকবে। এর মধ্যে গ্লো পার্টি, এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, স্টিমপাঙ্ক এবং ফেটিশ নাইটের মতো আকর্ষণীয় থিম রয়েছে। ব্লিস ক্রুজের প্রধান নির্বাহী রাসেল স্টিফেনস জানান, তারা পুরো জাহাজটি ভাড়া করেছেন। এটি মূলত মুক্তমনা দম্পতিদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে।
এই ক্রুজের কেবিনের ভাড়া জনপ্রতি ১ হাজার ৬৩০ ডলার বা ২ লাখ ২ হাজার ৮৭ টাকা থেকে শুরু করে ২১ হাজার ডলার বা ২৬ লাখ ৩ হাজার ৫৮০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ব্লিস ক্রুজের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন। জাহাজের ভেতরে ৩৫ হাজার বর্গফুটের সোলারিয়াম এবং কনফারেন্স সেন্টারকে ‘অ্যাডাল্ট লাইফস্টাইল প্লে-রুম’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে।
সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতির ভিত্তিতে নগ্নতা এবং শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। জাহাজের একটি কমেডি ক্লাবকে ‘দ্য ডাঞ্জিওন’ হিসেবে সাজানো হয়েছে। তবে এই অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্রুজে অত্যন্ত কঠোর নিয়মও মেনে চলতে হয়।
যাত্রার আগে প্রতিটি যাত্রীকে একটি আচরণবিধি ও সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে, কারও ‘না’ মানেই ‘না’। নগ্নতা শুধুমাত্র নির্ধারিত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। জাহাজে কোনো ধরনের পতিতাবৃত্তি এবং অবৈধ মাদকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া জাহাজের ক্রুদের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্কে জড়ানো যাত্রীদের জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
রাসেল স্টিফেনস জানান, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে পরবর্তী বন্দরেই জাহাজ থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। যাত্রীদের পাশাপাশি জাহাজের ক্রুদের জন্যও বিশেষ সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন তারা এই ভিন্নধর্মী যাত্রার সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।
কৈশোর ও তরুণ বয়সে বিপথগামী না হয়ে একটি পরিচ্ছন্ন বন্ধু বলয় পাওয়া এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাইরে ইসলামের সামগ্রিক দর্শন ও বড় স্কলারদের রচনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামী ছাত্রশিবির বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত রাজনৈতিক জীবন এবং বেড়ে ওঠার নানা পর্বের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।পারিবারিক পটভূমি তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, তিনি একটি বামপন্থী ঘরানার পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদের রাজনীতি করতেন এবং চাচা ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শৈশবে বাম সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত থাকায় তিনি নিজেও অল্প সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কিছু সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ছাত্রশিবিরে যুক্ত থেকে ব্যক্তিগত জীবনে কী অর্জন হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দুটি ক্ষেত্রে সংগঠনের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, যে বয়সটাতে তরুণরা বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারত, খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে ড্রাগ কিংবা ধূমপানের মতো বিপথে পা বাড়াতে পারত—সেই সময়টাতে আমরা একটি ভালো সঙ্গ পেয়েছি। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি চমৎকার বন্ধু সার্কেল তৈরি হয়েছিল। এই ইতিবাচক বলয় তৈরির ক্রেডিট অবশ্যই শিবিরকে দিতে হবে।’
দ্বিতীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিবির আমাকে খুব বেশি ইসলাম শিখিয়েছে তা নয়, তবে ইসলামের বিশাল পরিসরের সঙ্গে তারা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। শুধু নামাজ-রোজার মধ্যেই যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়, এর বাইরেও একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন আছে এবং এ নিয়ে বিশ্বমানের বড় বড় আলেম ও স্কলারদের কালজয়ী বই-পুস্তক রয়েছে—সেগুলোর সঙ্গে তারা আমাকে যুক্ত করেছে।’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো উল্লেখ করেন, পরবর্তী জীবনে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি বাম ও ডান উভয় ধারার রাজনীতি থেকেই সরে এসে নিজস্ব গবেষণায় যুক্ত হন। তবে জীবনের ওই পর্যায়ে ছাত্রফ্রন্টের পাঠচক্র ও শিবিরের পাঠাভ্যাস উভয়ই তার চিন্তাশক্তি ও শৃংখলাবোধ গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন, মতাদর্শের অন্ধত্ব নয়; বরং রাজনীতিকে হতে হবে গণমানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধান ও বাস্তবমুখী নাগরিক সেবার প্রধান মাধ্যম।
ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি হেলিকপ্টার পানি সংগ্রহের সময় নদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে। ৮ই নভেম্বর বোর্নিও দ্বীপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর পর দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছেন একজন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দিনের মধ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ৪ঠা নভেম্বর বোর্নিও দ্বীপের উপকূলীয় পানিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হন।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পানজাইতান জানিয়েছেন, ৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিরাপদ রয়েছেন। তবে হেলিকপ্টারের তৃতীয় ক্রু সদস্য, একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক নিখোঁজ।
নাটকীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বারিতো নদী থেকে হেলিকপ্টারটি বালতি দিয়ে পানি সংগ্রহ করার পর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকে। একপর্যায়ে নাকের দিক সামনের দিকে রেখে পানিতে আছড়ে পড়ে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে। সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়া দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, পূর্ব তিমুর ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনা সম্পর্কে মুখপাত্র বার্টন বলেন, বিমানবহর যখন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর অভিযান চালাচ্ছিল, তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২টি নতুন গ্যাস কূপখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন কূপখনন এবং পুরনো ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
তবে বড় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে এরইমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি— বাপেক্সের দায়িত্বে থাকা ৫২টি নতুন কূপের একটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কূপখনন এবং সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নতুন কূপখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশের গ্যাস সঙ্কটের সমাধান হবে না। এর জন্য অনুসন্ধান, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মূল্যায়ন, উন্নয়ন কূপখনন, পুরনো কূপ সংস্কার এবং গ্যাস সঞ্চালন অবকাঠামোর উন্নয়নকে একই কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বাপেক্সের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। বিপরীতে দৈনিক চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সরবরাহের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসছে দৈনিক প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রায় ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট— যা মোট সরবরাহের প্রায় ২৬ শতাংশ।
এই চিত্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির চাপও বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। এর সাথে পরিবহন, টার্মিনালে পুনর্গ্যাসীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের প্রকৃত ব্যয় আরো বাড়ে।
অন্য দিকে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে আমদানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবু সফল অনুসন্ধানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মজুদ আবিষ্কার করা গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দিতে পারে।
গ্যাস সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীল শিল্পে। তৈরী পোশাক, বস্ত্র, সার, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। কোথাও নিম্নচাপ, কোথাও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমছে এবং রফতানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১৫০ কূপের কর্মসূচি, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন গ্যাস কূপখনন এবং ৪৬টি পুরনো কূপ ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপেক্সের দায়িত্বে রয়েছে ৫২টি নতুন কূপখনন এবং ১৬টি কূপ ওয়ার্কওভার।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫২টি নতুন কূপের কোনোটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এতগুলো কূপখনন করতে হলে অর্থায়ন, খননযন্ত্র, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি দরপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো জরুরি।
এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন কূপখনন করলেই যে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কোনো কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো কূপে প্রত্যাশিত মজুদ না-ও মিলতে পারে। এমনকি গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও তার পরিমাণ, চাপ, গুণগত মান ও উত্তোলন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।
তাই কূপখননের সংখ্যা দিয়ে কর্মসূচির সাফল্য বিচার করা যথেষ্ট নয়। কতটি কূপে গ্যাস পাওয়া গেল, আবিষ্কৃত গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ কত, দৈনিক উৎপাদন কত বাড়ল এবং কত দ্রুত তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেল— এসব সূচককে মূল্যায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে।
অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার একসাথে জরুরি
দেশের বিদ্যমান অনেক গ্যাসক্ষেত্র দীর্ঘ দিন ধরে উৎপাদনে রয়েছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস উত্তোলনের ফলে এসব ক্ষেত্রের ভূগর্ভস্থ জলাধারের চাপ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে কূপগুলোর উৎপাদনক্ষমতার ওপর। কোনো কোনো কূপে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, আবার কোথাও প্রযুক্তিগত ও ভূতাত্ত্বিক কারণে উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কূপখননের পাশাপাশি তিন ধরনের কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, নতুন গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারের জন্য অনুসন্ধান কূপখনন। দ্বিতীয়ত, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের বিস্তৃতি, মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা নির্ধারণে মূল্যায়ন কূপখনন। তৃতীয়ত, বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য উন্নয়ন কূপখনন। এ তিনটি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে নতুন গ্যাস আবিষ্কারের পরও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। অনুসন্ধান থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য পৃথক প্রস্তুতি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
একই সাথে পুরনো ও উৎপাদনক্ষমতা হারানো কূপে ওয়ার্কওভার, সাইডট্র্যাক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসার স্থাপন করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কূপখননের তুলনায় বিদ্যমান কূপের প্রযুক্তিগত সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। ফলে নতুন অনুসন্ধান ও পুরনো কূপের উৎপাদন পুনরুদ্ধার— দুই কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, দেশের স্থলভাগে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বড় একটি দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত খননযন্ত্র, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার অভাব থাকলে বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
খনন ও অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাপেক্সের আধুনিক খননযন্ত্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দিকনির্দেশিত খননপ্রযুক্তি, ভূগর্ভস্থ তথ্য সংগ্রহ, কূপ পরীক্ষা এবং জলাধার প্রকৌশলে দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
একই সাথে দেশের অব্যবহৃত ও কম অনুসন্ধানকৃত এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ জোরদার করতে হবে। এসব জরিপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ গঠন ও সম্ভাব্য গ্যাসের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অনুসন্ধান কূপখননের স্থান নির্বাচন করলে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং সফলতার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।
দেশের স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। গভীর ও অগভীর সমুদ্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোম্পানিকে যুক্ত করা, বিনিয়োগবান্ধব চুক্তিকাঠামো তৈরি এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। সমুদ্রের সম্ভাবনাময় ব্লকগুলো দীর্ঘ দিন অনাবিষ্কৃত বা অনুন্নত অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাস আবিষ্কার হলেই সরবরাহ নিশ্চিত হবে না
নতুন গ্যাস আবিষ্কার দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও আবিষ্কার থেকে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ পর্যন্ত রয়েছে একাধিক ধাপ। নতুন কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে তা উত্তোলনের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় উৎপাদনব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং জাতীয় গ্রিডে সংযোগের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। কোথাও গ্যাসের চাপ কম হলে কম্প্রেসার স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে।
এসব অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকলে আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে না। ফলে গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন প্রকল্পের সাথে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।
এ ছাড়া নতুন গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের বণ্টননীতির ওপর। সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গ্রাহকের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণে অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতার বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে রফতানিমুখী ও উৎপাদনশীল শিল্পে নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি পেলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো গেলে এই চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নেই গুরুত্ব দিতে হবে
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সময়োপযোগী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, বিনিয়োগের দক্ষতা, কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ওপর।
এ জন্য প্রতিটি কূপের খননসূচি, সম্ভাব্য ব্যয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা, ব্যয় বৃদ্ধি ও দরপত্রে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো কূপে প্রত্যাশিত গ্যাস না পাওয়া গেলে তার কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী কূপের পরিকল্পনায় সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোও জরুরি। একই সাথে নতুন কূপখননের পাশাপাশি পুরনো কূপ থেকে উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং সমুদ্রাঞ্চলে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পারলে এলএনজি আমদানির চাপ কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ৫২টি নতুন কূপখননের ঘোষণা বা লক্ষ্যমাত্রাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। প্রকৃত সাফল্যনির্ভর করবে কতটি কূপে বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া গেল, উৎপাদন কতটা বাড়ল এবং সেই গ্যাস কত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেল তার ওপর।
জ্বালানি সঙ্কটের বর্তমান বাস্তবতায় তাই শুধু নতুন কূপখননের পরিকল্পনা নয়, প্রয়োজন অনুসন্ধান থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যন্ত একটি সময়াবদ্ধ, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিকল্পনা। অন্যথায় বড় বিনিয়োগ ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও গ্যাস সঙ্কটের কাঙ্ক্ষিত সমাধান অধরাই থেকে যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের কনটেন্ট সুপারিশের অ্যালগরিদম নিয়ে গুরুতর আপত্তি তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, টিকটকের ‘ফর ইউ’ ফিড ব্যবহারকারীদের একই ধরনের কনটেন্ট বারবার দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর মধ্যে আটকে ফেলতে পারে। এতে বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা কোনো ভিডিও বেশি সময় দেখলে কিংবা তাতে প্রতিক্রিয়া জানালে অ্যালগরিদম একই ধরনের আরো ভিডিও সুপারিশ করে। এভাবে কেউ ওজন কমানো, শারীরিক গঠন, হতাশা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে ভিডিও দেখতে শুরু করলে তাকে ক্রমাগত একই ধরনের কনটেন্ট দেখানো হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী একসময় ক্ষতিকর কনটেন্টের চক্রে আটকে যেতে পারেন।
কমিশনের অভিযোগ, টিকটক এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ব্যবহারকারীরা ‘নট ইন্টারেস্টেড’ অপশন ব্যবহার করলেও তাদের পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্টের প্রবাহ যথেষ্ট পরিবর্তিত হয় না। কমিশনের মতে, ব্যবহারকারীর প্রকৃত পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ভিডিও দেখার সময়কে সুপারিশের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার কমানো এবং নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আরো সহজ করা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় কমিশন টিকটকের অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। টিকটককে তদন্তের নথি পর্যালোচনা ও লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। টিকটক অবশ্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানকে ভুল ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২,৩৩৩ জন। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরো জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ১, ১২৪ জন, ময়মনসিংহে ৭০, চট্টগ্রামে ২৭২, খুলনায় ৩৩২, রাজশাহীতে ২১৩, রংপুরে ৭৫, বরিশাল বিভাগে ২৩২ এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতাল অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছে ৬,০৬৩ জন। আর হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৬১ জনের। চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এবার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই যথাক্রমে খুলনা বিভাগে ৮৪, চট্টগ্রামে ৪৭, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩১, রাজশাহীতে ২৯, রংপুরে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন মারা গেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের কাছে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা দূর করার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। আগামী ১ ও ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের (জেডব্লিউজিটি) প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্কায়ন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেবে ঢাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বাধাগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ওষুধ ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান, কারিগরি বিধিবিধান এবং স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত (এসপিএস) নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব বাধা দূর হলে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার চাওয়া হবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তুলা, বস্ত্রের কাঁচামাল, রাসায়নিক পণ্য, সিমেন্ট ক্লিংকার ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ, চা, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সম্পর্ক আরো ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দেশটি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ঢাকাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীকে আতিথ্য দিতে আগ্রহী।
এ সফরের সময় বাংলাদেশের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হতে পারে। এর আওতায় নিত্যপণ্য আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথ কর্মদল বৈঠকের পাশাপাশি মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সুতা-কাপড় ও প্রস্তুত চামড়া ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মূল্য ছিল ৬ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। মূলত কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, চা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৭১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ও দর-কষাকষি হতে হবে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে। অর্থনৈতিক ভিত্তি বিবেচনায় না নিয়ে কোনো চুক্তি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক সুবিধা (কমপারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) বিবেচনায় নিয়ে আমদানি-রপ্তানির কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য তুলনামূলক সহজে ও সাশ্রয়ীভাবে আমদানি করতে পারে, সেসব বিষয়ে দর-কষাকষিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে যেসব পণ্যের রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে, সেগুলোর বাজার সম্প্রসারণেও জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশকেই নিজ নিজ স্বার্থ বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।
অধ্যাপক হেলাল আরো বলেন, বাণিজ্য আলোচনায় সব সময় সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিকে প্রধান বিবেচনায় রাখা ঠিক হবে না। কোনো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভালো থাকলে সেখানে আমদানি বাড়ানোর চিন্তা না করে রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আবার যে দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমদানির বিষয়ে কার্যকর দর-কষাকষি করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে পণ্যভিত্তিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের আলোকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে পারেননি। এর রাজনৈতিক মূল্যও তাকে দিতে হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
অসম্ভব রকমের সরু ফাঁকফোকর দিয়ে অনায়াসে গলে যেতে পারে অক্টোপাস। তবে প্রাণীটি কীভাবে এই অবিশ্বাস্য কাজটি করে, বিজ্ঞানীরা এবার তার বিস্তারিত প্রক্রিয়া উদ্ঘাটন করে রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
মানুষের মতো শক্ত কোনো কঙ্কাল অক্টোপাসের নেই। এদের শরীর ‘পেশিবহুল হাইড্রোস্ট্যাট’ দিয়ে গঠিত। ফলে আটটি বাহু ইচ্ছেমতো বাঁকানো যায় এবং শরীরের মধ্যভাগও রূপ বদলাতে পারে। এমনকি সরু জায়গায় ঢোকার সময় শরীর সংকুচিত হলেও প্রধান রক্তনালিগুলোর পেশিব্যবস্থা রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে।
পাথুরে উপকূলে বসবাসকারী অক্টোপাসগুলো মূলত শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে এবং দুর্গম কোণে থাকা শিকার ধরতে বাহুর স্পর্শকাতর অনুভূতি ব্যবহার করে সরু ফাটলগুলো পরীক্ষা করে।
সিঙ্গাপুর ও ইতালির গবেষকেরা দেখেছেন, ছোট গর্ত দিয়ে গলতে এরা মূলত দুটি কৌশল বেছে নেয়। গর্তের মুখটি যদি অক্টোপাসের দুই চোখের দূরত্বের চেয়ে চওড়া হয়, তবে তারা তিন ধাপের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
প্রথমে একটি বাহু দিয়ে পরখ করে কয়েকটি বাহু ভেতরে ঢোকায় এবং শেষে সেগুলোতে ভর দিয়ে পুরো শরীর ও মাথা টেনে আনে। তবে গর্তটি চোখের দূরত্বের চেয়েও বেশি সরু হলে তারা চার ধাপের কৌশল নেয়। সে ক্ষেত্রে মাথা ও মেন্টল গলানোর আগেই বাকি বাহুগুলো তারা আলাদাভাবে টেনে বের করে নেয়।
বিজ্ঞানীদের আশা, অক্টোপাসের এই কৌশল কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত রোবট তৈরি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ব্যবহৃত উদ্ধারকারী রোবটগুলো সাধারণত লম্বা ও সরু হয়, যাতে ছোট জায়গা পার হতে পারে। তবে অক্টোপাস থেকে অনুপ্রাণিত রোবট বিভিন্ন সেন্সর, যন্ত্রপাতি বা যোগাযোগের সরঞ্জামসহ নমনীয় বাহুর সাহায্যে আরও বেশি উপাদান বহন করতে পারবে।
তবে এমন নমনীয় রোবট তৈরি করা প্রকৌশলীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, সরু পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য এর বাহুগুলোকে যেমন নরম হতে হবে, তেমনি পুরো শরীরকে টেনে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালীও হতে হবে।
সাফে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশেরর ম্যাচে গ্যালারি টইটম্বুর থাকবে বলে মনে করছেন বোদ্ধারা। কেননা সেই ম্যাচে যে মাঠে নামবেন বাংলাদেশের পোস্টার বয় হামজা চৌধুরী। যদিও প্রথম ম্যাচে টিকিটের দাম শেষ মুহূর্তে কমিয়ে দিলেও সেভাবে গ্যালারি ভরেনি।
গতকাল শনিবার শেফিল্ডের হয়ে ম্যাচ খেলার পর আজ ঢাকার বিমানে ওঠার কথা তাঁর। সোমবার সকালে তাঁর সঙ্গে আসবেন ফারহান আলি ওয়াহিদও।
এ দুই তারকা ফুটবলারের আগমনে দলীয় সংহতি আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন মোরছালিন। ‘আমরা অবশ্যই খুব আশাবাদী। হামজা ভাই, ফারহান (আলি ওয়াহিদ) এলে আমাদের দলের স্পিরিট আরও বাড়বে।’ মোরছালিন নিজেও সেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন গতকাল শনিবার। জ্বর থাকায় ভুটানের প্রথম ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না মোরছালিন। তাই নাম্বার নাইনে বাধ্য হয়ে বিশ্বনাথকে খেলিয়েছিলেন কোচ থমাস ডুলি। তবে গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর মোরছালিনের ঘোষণা, ‘আমি প্রস্তুত আছি ম্যাচটি খেলতে। আমরা সবাই একমত যে শ্রীলঙ্কার দল খুবই ভালো। আমরা তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। যেহেতু আমরা প্রথম জিতেছি, আমাদের সবার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। জেতার জন্যই আমরা খেলব।’
ভুটানের বিপক্ষে দলের অন্যতম সেরা চার ফুটবলারকে পাননি কোচ ডুলি। হামজা, মোরছালিন, ফারহানের সঙ্গে তপু বর্মণও ছিলেন না সেদিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও তপুকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আছে, তবে বাকি সবাইকে পেতে পারেন তিনি। এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়, সেদিনও কি লঙ্কার বিপক্ষে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে ফরোয়ার্ডে খেলাবেন কোচ? আপাতত যা খবর, তাতে ডুলি সেদিনও আক্রমণভাগে বিশ্বনাথের ক্ষিপ্রতা ব্যবহার করতে চাইছেন। মাঝমাঠে রাখতে চাইছেন হামজাকে। ফারহানকেও ম্যাচ টাইম দেবেন তিনি। সেই সঙ্গে মোরছালিনকেও রাখবেন ম্যাচের কোনো এক অংশে। কোচের এই কৌশল নিয়ে মিডিয়াতে পাঁচ কথা হলেও লকাররুমে আস্থা আছে। বিশ্বনাথের পাশেই থাকছেন মোরছালিন। ‘আমাদের তো নাম্বার নাইনের সমস্যা অনেক দিন ধরে, এটা সবাই জানে। আমরা যখন যেখানেই সুযোগ পাই… যেমন আমি মিডফিল্ডের প্লেয়ার হয়েও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে অনেক সময় খেলেছি। কোচ যেখানেই সুযোগ দেবে আমাকে সেখানে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশ্বনাথ দাদাও চেষ্টা করেছেন। ডিফেন্ডার হয়েও আক্রমণভাগে ভালো খেলেছেন বা চেষ্টা করেছেন। আমার মনে হয়, যারা আছে সবারই এ রকম মানসিকতা থাকা উচিত, যে যেখানেই সুযোগ পাক, ভালো করতে হবে।’
দলের বাইরে আরও একটি গুঞ্জন বেশ শোনা যায়– স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের একটা মানসিক দূরত্ব আছে। এমন অভিযোগ এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছেন মোরছালিন। ‘না সেরকম কিছু আমার মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের বাংলাদেশ দলে যারা আছে, সবাই দেশের জন্যই খেলে। আমরা সবাই মিলে দেশকে বারবার জয়ের আনন্দে ভাসাতে চাই।’
দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ১৮ ডিসেম্বর এমবিবিএস-বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এসংক্রান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’
জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না—এমন প্রশ্নে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে; এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে প্রাথমিকভাবে ৪ ডিসেম্বর মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন অনিবার্য কারণে ওই তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সব দিক বিবেচনা করে ১৮ ডিসেম্বর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অফিশিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজের আসন পুনর্বিন্যাস করে। সেখানে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৫ হাজার ১০০টি আসনের তথ্য জানানো হয়, যা পূর্বে ছিল ৫ হাজার ৩৪০টি।অন্যদিকে, দেশের ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় ১০টি কলেজের আসন কমিয়েছে, দুটিতে বাড়িয়েছে এবং বাকিগুলোতে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখেছে। এতে সামগ্রिकভবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ২৯২টি আসন কমেছে।
সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি কোনো দল। তাই বাধ্য হয়েই জোট সরকার গঠন করতে হবে ইসরাইলে। নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে অনুমতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এমন সিদ্ধান্ত বুমেরাং হবে বলে ধারণা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর।
তিনি মনে করেন, ইসরাইলের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য জোট হলে দেশটির পতন ঘটবে। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসলামপন্থিদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকেই ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি। আগামী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগের দিন এ বক্তব্য আসে। তবে দখলদার দেশটির প্রেসিডেন্ট বেছে নিয়েছেন আইজেনকটকে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব আছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট।
সরকার গঠনের জন্য তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। এ ছাড়া মধ্যপন্থি ইসলামপন্থি দল রা’আমের সমর্থন এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্টের বাইরের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসলামপন্থিদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকেই ইসরাইল রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলবে। ইউরোপের দেশগুলোতে যা ঘটছে, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। ’
এর আগে বৃহস্পতিবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানান, সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়াই যৌক্তিক হতে পারে। সংসদের ৬৭ জন সদস্য আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
এদিকে দুই শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। শনিবার নেতানিয়াহুও এমন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাতীয় শিবিরের সব দল এবং ইসরাইল রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে চায়—এমন সব জায়নবাদী দলকে নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠন করা উচিত। তবে এমন সরকারের নেতৃত্ব নিজে দিতে চান কি না, সে বিষয়ে এবার স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলার শাখার উদ্যোগে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বীজ ধান বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা অর্থনীতি ও কৃষি বিভাগের সেক্রেটারি কৃষিবীদ দ্বীন মোহাম্মদ, বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, বেগমগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি নুরুল্লাহ, উপজেলা প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বেগমগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মোছলেহ উদ্দিন জায়েদ, বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল হুদা ও আলাইয়াপুর ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণের সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব।
এ সময় ১৪০ জন কৃষককে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের মাঝে বীজ ধান বিতরণ করা হয়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আয়োজিত আলোচনা সভা বর্জন করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভ’-এর বাইরের নেতাদের একটি বড় অংশ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সভায় যোগ না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে।
বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ‘সুপার ফাইভ’-এর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের নেতারাও মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও নিজেদের অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক সহসভাপতি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সুপার ফাইভ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে কথা বলতে পারেন না। অথচ এটি মূলত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলেরই অনুষ্ঠান। তাই তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে এই কর্মসূচি বর্জন করেছেন।’
তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতাদের বাদ রেখে অন্য ইউনিটের নেতাদের মঞ্চে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে নিজেদের জন্য অসম্মানজনক মনে করছেন। এ কারণেই আলোচনা সভায় অংশ না নিয়ে মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশের এই বয়কটের মধ্যেই টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান বয়কট করে বাইরে অবস্থান নেওয়া নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুর আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এইচ এম আবু জাফর, সাফি ইসলাম, শাহজাহান শাওন, তৌহিদুর রহমান আওয়াল, শ্রী মিঠুন কুমার দাস, সজীব মজুমদার, আরিফুল ইসলাম, আবুল বাশার, হাফিজুল্লাহ হীরা, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত ও অলিউজ্জামান সোহেল রয়েছেন।
এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ফারুক হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, হাসানুর রহমান হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান রুবেল, বায়েজিদ হোসেন, মহিউদ্দিন রুবেল, ইব্রাহিম কার্দি, তানভীর আহমেদ তানু, তরিকুল ইসলাম তারেক, ফারহান আরিফুর রহমান, আসাদুজ্জামান রিংকু, গোলাম কিবরিয়া, শাকিল আহমেদ, শাকিল চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন মানিক, শামীম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, সাদ্দাম হোসেন, জাহিদ হাসান শাকিল ও শাহিনুর রহমান শাহিন বয়কটে অংশ নেন।
বাইরে অবস্থান নেওয়া অন্যান্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সহসাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান, আশিকুর রহমান সরকার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ এবং পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলেছিল উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা। আর সেই মসজিদ ভাঙার দৃশ্য টিভিতে দেখার সময় কেঁদেছিলেন বলে জানিয়েছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সোনিয়া গান্ধী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক তথ্যে এ কথা জানান সোনিয়া। তিনি বলেন, “বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখার সময় আমি কেঁদে দিই।
এরমাধ্যমে আমি বুঝতে পারি ভারতের সামনে তার ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য দীর্ঘ লড়াই সামনে রয়েছে। ”
উত্তর প্রদেশের উগ্রপন্থিদের মধ্যে ওই সময় রামজন্মভূমি আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছিল। বাবরি মসজিদের নিচে প্রাচীন মন্দির আছে এমন অভিযোগ তুলে এটি ভেঙে ফেলা হয়।
ওই কাজে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হাত ছিল সেটি উল্লেখ করে সোনিয়া বলেন, “আমি বুঝতে পারি মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং তার সহকর্মীরা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটি রক্ষায় ভারত কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হচ্ছিল।
ভারতে বিজেপি ও তাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদের যে উত্থান হয়েছে সেখানে কংগ্রেসেরও ভূমিকা আছে বলে স্বীকার করেছেন সোনিয়া।
এদিকে সোনিয়া বাবরি মসজিদ নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস হলো ‘হিন্দু বিরোধী’।
তিনি এক্সে লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী বাবরি মসজিদের জন্য চোখের পানি ফেলেন, সোনিয়া গান্ধী বাটলা হাউজের জন্য চোখের পানি ফেলেন। সোনিয়া গান্ধী প্রমাণ করেছেন কংগ্রেস হলো বাবরপন্থি এবং ভগবান রাম বিরোধী। সোনিয়া গান্ধীর ভোট ব্যাংক কমতেই থাকবে। ”
বাবরি মসজিদ ভাঙার জেরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় দ্বন্দ্ব বাধে, যার রেশ দীর্ঘদিন ছিল।
বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালে সেখানে মন্দির নির্মাণ করে সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দু‘জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে ও দুপুরে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় দুর্ঘটনা দু’টি ঘটে।
নিহতরা হলেন— সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহ ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার মরহুম আবুল খায়েরের ছেলে মাহবুবুর রহমান (৬৫) ও চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকার বোরহান উদ্দিনের দুই মাস বয়সী শিশু সন্তান আরহাম।
আহতরা হলেন— নিহত শিশু আরহামের মা লাকী (৩৫), খালা উর্মী আক্তার (২৫) ও অটোচালক জাফর আলম (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মাহবুবুর রহমান মোটরসাইকেলযোগে আজিজনগর থেকে সাতকানিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে হারবাং পেট্রোল পাম্পের পাশে একটি মালবাহী ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনাটি ঘটে। চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিল শিশু আরহাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। পথে মহাসড়কের গয়ালমারা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে শিশু আরহামের মৃত্যু হয়।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সার্জেন্ট জাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে হারবাং পেট্রোল পাম্পের পাশে মালবাহী ট্রাকের চাপায় মাহবুবুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। একইদিন গয়ালমারা এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরহাম নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে একটি নতুন পদ গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাতনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টের ‘ডিস্টিনগুইশড ফেলো’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল’-এর সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই পদে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ট্রুডো সাবেক বিশ্বনেতাদের একটি আন্তর্জাতিক দলে যুক্ত হলেন। এই দলে আগে থেকেই আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। উল্লেখ্য, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ট্রুডো পদত্যাগ করেন।
নতুন এই কাজ নিয়ে ৫৪ বছর বয়সি ট্রুডো জানান, নিজের ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীরা যাতে শিখতে পারেন সেই চেষ্টা তিনি করবেন। তিনি বলেন, তার মেয়াদে বিশ্ব রাজনীতি ও প্রযুক্তিতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, যা বর্তমান বিশ্বকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
একইভাবে ব্লাভাতনিক স্কুলের ডিন এনগায়রে উডস বলেন, সাবেক বিশ্বনেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ এখানকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর থেকে ট্রুডো আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছেন। চলতি মাসের শেষের দিকেই তার অক্সফোর্ড পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর সম্প্রতি তিনি তার সাবেক সহকারী কেটি টেলফোর্ডের সঙ্গে ‘হোপ অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক’ নামে একটি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রডাকশন হাউস চালু করে বিনোদন জগতেও পা রেখেছেন।
মাঠজুড়ে হাসি-আনন্দ, কোথাও হাঁস ধরার হুল্লোড়, কোথাও তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতা। দর্শকদের করতালি আর অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠল কুড়িগ্রামের একটি গ্রাম। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মেতে উঠলেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি ভুলে অনেকেই যেন ফিরে গেলেন শৈশবের সোনালি দিনগুলোতে।
রোববার (৮ নভেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামে দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই খেলা দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষের ঢল নামে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজনে ছিল চোখ বেঁধে হাঁস ধরা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, পানিতে বালিশ যুদ্ধ, হাড়িভাঙা, সাঁতার, বিস্কুট দৌড়, মারবেল দৌড় ও যেমন খুশি তেমন সাজোসহ নানা ধরনের মজার খেলা। প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, মোবাইল আসক্তি ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের বিকল্প নেই। গ্রামীণ খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি পারস্পরিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলা ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান নয়ন, রাশেদুজ্জামান বাবু, এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি কুড়িগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মকলেছুর রহমান, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশ কুড়িগ্রামের সভাপতি রেজওয়ানুল হক নুরনবী প্রমুখ।
কানাডার পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব, পাগড়ি ও অন্যান্য ধর্মীয় মাথার আবরণ পরার অনুমতি রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশটির সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এ সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গ্রাফিকের কিছু তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাজনিত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিরা পাসপোর্টের ছবি তোলার সময়ও মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ছবিতে মুখের সম্পূর্ণ অংশ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে এবং মাথার আবরণের কারণে মুখে কোনো ছায়া পড়া যাবে না।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, চিবুক থেকে কপালের ওপরের অংশ পর্যন্ত মুখের পুরো অবয়ব দৃশ্যমান রাখতে হবে। মুখের দুপাশের প্রান্তও স্পষ্ট দেখা যেতে হবে। একই সঙ্গে ছবিতে আলো সমানভাবে পড়তে হবে, যাতে চোখ, নাক, গাল কিংবা কপালে কোনো ছায়া তৈরি না হয়।
ধর্মীয় কারণে হিজাব বা অন্য কোনো মাথার আবরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি অনুমতিপত্রের কথা আইআরসিসির সাধারণ পাসপোর্ট ছবির নির্দেশিকায় উল্লেখ নেই। তবে মাথার আবরণটি ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাজনিত কারণে নিয়মিত ব্যবহার করা হতে হবে।
অন্যদিকে, মুখের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না এমন কোনো আবরণ পরে ছবি তোলার অনুমতি নেই। ফলে নিকাব বা বোরকা দিয়ে মুখ ঢেকে রেখে পাসপোর্ট কিংবা বায়োমেট্রিক ছবি তোলা যাবে না। তবে ধর্মীয় কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিরা বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় একই লিঙ্গের কর্মকর্তার সহায়তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য আলাদা পর্দা বা কক্ষের অনুরোধ করতে পারেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রাফিকটিতে কানাডার পাসপোর্টের ছবিতে চশমা পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। আইআরসিসির বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ চশমা পরেই ছবি তোলা যায়। তবে চশমার কাচে কোনো প্রতিফলন বা ঝলক থাকা যাবে না এবং চোখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে হবে। সানগ্লাস ও রঙিন কাচের চশমা গ্রহণযোগ্য নয়।
কানাডার পাসপোর্টের ছবিতে মুখের স্বাভাবিক অবয়ব, চোখ ও মুখের অবস্থান স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে ছবিতে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি, বন্ধ মুখ, খোলা চোখ এবং ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকার নিয়মও রয়েছে। ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের সুযোগ বজায় রেখেই পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো কার্যকর রেখেছে কানাডা সরকার।
যশোরে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসরদের আধিপত্য চলছে। জেলার মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাঁওড় জোর দখলে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগীরা।
তাদের কবল থেকে বাঁওড়টি উদ্ধারের দাবিতে রোববার (৮ নভেম্বর) খাটুরা বাঁওড় মৎস্যজীবী সমিতির ১০১ জন সদস্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন সমিতির সদস্য আলতাফ হোসেন। মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
মানববন্ধনে মৎস্যজীবীরা বলেন, মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাঁওড়ের প্রকৃত মালিক সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে বাঁওড়টি পরিচালনা করে আসছে ‘খাটুরা বাঁওড় মৎস্যজীবী সমিতি’।
কিন্তু গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগিতায় একটি মহল জোরপূর্বক বাঁওড়টি দখল করে নিয়েছে। এ কারণে মৎস্য চাষিরা বাঁওড়ে মাছ শিকার করতে পারছেন না। দখলদাররা মৎস্য চাষিদের মাছ ধরতে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে করে সমিতির ১০১ জন ভূমিহীন সদস্য ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মাছচাষিদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন খাটুরা বাঁওড়কে দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৎস্য চাষি সমিতির সদস্যরা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ৩১ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার বেলকা ও শান্তিরাম ইউনিয়নের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর থেকে হঠাৎ করে একটি পাগলা কুকুর মানুষ দেখলেই তেড়ে এসে কামড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে বেলকা বাজার, পূর্ব বেলকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন কুকুরটিকে ধরে পিটিয়ে মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত ৩১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
উপজেলার বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ঘটনার পর প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে কুকুরটির মাথা কেটে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ব্রাইট মডেল স্কুলের এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ হাসানকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর শহরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ঘোষণা করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাইট মডেল স্কুলের শিক্ষক জাহিদ হাসান সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিভাবকেরা।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অপরাধী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এ জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অত্যন্ত জরুরি।
গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবিতে করা অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ৯১ হাজার ছাড়িয়েছে। পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিতর্কের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এক লাখ স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে পিটিশনটি।
গত ২৩ অক্টোবর ইয়োর পার্টির প্রধান জেনিফার ফোর্বস পিটিশনটি চালু করেন। এতে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ, নজরদারি বিমান পরিচালনা এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তদন্ত কমিশনের মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও থাকবে।
এর আগে তদন্তের দাবিতে জেরেমি করবিনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাজ্য সরকার। গত ১৯ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, পার্লামেন্টে বিদ্যমান জবাবদিহি ও নজরদারির ব্যবস্থাই এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য যথেষ্ট। ফলে আলাদা করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।
গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে করবিন বলেন, ‘গাজায় ইসরাইলের হামলায় ব্রিটেনের ভূমিকা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। অস্ত্র বিক্রি, আরএএফের ঘাঁটি ব্যবহার, নজরদারি বিমান পরিচালনা এবং গণহত্যা সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ—সবকিছু নিয়েই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের যদি গোপন করার মতো কিছু না থাকে, তাহলে তারা জবাবদিহি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন?’
জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সংসদের স্পিকার ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক শুরু হয়।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য তারেক রহমান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন— বিরোধীদলীয় নেতা ও কমিটির সদস্য ডা. মো. শফিকুর রহমান, কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য মো. নাহিদ ইসলাম।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম (বর্তমান প্রিন্স অব ওয়েলস) রাজকীয় দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশি পরিচিত। কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে।
বিশেষ করে মুসলিমবিদ্বেষ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তার অবস্থান, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের বিষয়ে তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও বহুত্ববাদী চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
উইলিয়ামের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে না দেখা, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের সামাজিক ঐক্য।
২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে পৌঁছান ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন (মাঝখানে)।
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে দাঁড়িয়ে ইসলামের পক্ষে বক্তব্য
প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায় ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল। ওই দিন তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ পরিদর্শন করেন। একই বছরের ১৫ মার্চ সেখানে এবং লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন। হামলাটি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
হামলার পর নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, বেঁচে যাওয়া মুসল্লি এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি জানাতে উইলিয়াম সেখানে যান। তার বক্তব্যের শুরুতেই ছিল আরবি অভিবাদন—আসসালামু আলাইকুম।
তিনি বলেন, মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান; এটি সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি আশ্রয়স্থল। সন্ত্রাসী হামলাকারী এমন একটি স্থানে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যে স্থান মানুষের ঐক্য ও পরোপকারের প্রতীক। কিন্তু সে সফল হয়নি।
উইলিয়ামের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের প্রকৃত চেহারা দেখিয়েছে—শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ধর্ম হিসেবে।
তিনি আরো বলেন, কোনো একটি সম্প্রদায় যখন বিদ্বেষ ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন হিজাব পরা কিংবা আজান প্রচারের মতো সাধারণ ধর্মীয় আচরণও ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আশ্বাস তৈরি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলা বরং সমাজের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে মুসলিম বন্ধুদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ইসলামকে সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষের মুসলিম পরিবারগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংকটকালে পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
এখানে তার বক্তব্যের একটি বিশেষ দিক লক্ষণীয়। তিনি মুসলমানদের শুধু সন্ত্রাসী হামলার শিকার একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক সংহতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, চরমপন্থার সব রূপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। তার মতে, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা প্রমাণ করেছে, ঘৃণার বৈশ্বিক মতাদর্শ মানুষকে বিভক্ত করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও মানবিকতার শক্তি জয়ী হতে পারে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরকারি ওয়েবসাইটে তার এই বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি এবং জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের টাগেসপিগেলও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহি মসজিদ পরিদর্শন করেন উইলিয়াম ও ক্যাথরিন।
পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফর: মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ
প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস ক্যাথরিন ২০১৯ সালের ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সফর ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সমসাময়িক পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ।
১৮ অক্টোবর তারা লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন করেন। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত এই মসজিদ উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন।
মসজিদে তাদের স্বাগত জানান ঐতিহাসিক ও লেখক ফকির সৈয়দ আয়াজউদ্দিন এবং মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল খাবির আজাদ। তারা রাজদম্পতিকে মসজিদের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন।
মসজিদে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও আন্তধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় মসজিদের ইমাম পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং সেগুলোর ইংরেজি অর্থ ব্যাখ্যা করেন।
মসজিদের স্থাপত্যের বিশালত্ব ও পরিবেশের প্রশান্তি দেখে রাজদম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাদের এই সফরে মুসলিম ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
উইলিয়ামের বাবা চার্লস ২০০৬ সালে এবং মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা ১৯৯৬ সালে একই মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। মসজিদের খতিবের সঙ্গে আলাপে উইলিয়াম তাদের পরিবারের সঙ্গে মসজিদটির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের ২৮ জুন আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শন করেন প্রিন্স উইলিয়াম ।
বায়তুল আকসা মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম
প্রিন্স উইলিয়াম ২০১৮ সালের ২৮ জুন ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য সফরের শেষ দিনে তার এই পরিদর্শন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যের ১৯৪৮ সালের পর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্থান পরিদর্শনের ঘটনা ছিল এটি।
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে স্বাগত জানান জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের পরিচালক শেখ আজ্জাম আল-খতিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জর্ডান পরিচালিত ধর্মীয় ট্রাস্টের কর্মকর্তারা। ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দলও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
প্রিন্স উইলিয়াম আল-আকসা মসজিদ ও এর প্রাঙ্গণে অবস্থিত সোনালি গম্বুজের কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক পরিদর্শন করেন। মুসলমানদের কাছে আল-হারাম আল-শরিফ নামে পরিচিত এই প্রাঙ্গণ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।
প্রিন্স উইলিয়ামের ২০১৮ সালের সফর তাই কেবল একটি রাজকীয় পরিদর্শন ছিল না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর হিসেবেও বিবেচিত হয়েছিল।
মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা
উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে আড়াল করে কেবল নাগরিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচরণ, হিজাব এবং আজানের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ কোনো সমাজের জন্য স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে তাদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পরিবর্তে সেই পরিচয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এটি ইউরোপীয় সমাজে মুসলিম অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে হিজাব, মসজিদ, ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রকাশ্যে ধর্মীয় পরিচয় ধারণের অধিকার নিয়ে যখন বিভিন্ন দেশে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন উইলিয়ামের বক্তব্য ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে তার বক্তব্য থেকে ব্রিটেনের প্রতিটি অভিবাসন, ধর্মীয় পোশাক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতির প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন অনুমান করা যাবে না। তিনি মূলত আক্রান্ত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কথা বলেছেন।
ইসলামবিদ্বেষ ও চরমপন্থার মধ্যে পার্থক্য
উইলিয়ামের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মুসলমানদের সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতাকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ক্রাইস্টচার্চের ভাষণে তিনি সন্ত্রাসী হামলাকে একটি বিকৃত মতাদর্শের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চার্লসটনের গির্জায় হামলা, পিটসবার্গের সিনাগগে হত্যাকাণ্ড, লন্ডনের ফিনসবারি পার্কে হামলা এবং শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
অর্থাৎ তার বিবেচনায় সহিংস চরমপন্থা কোনো একটি ধর্মের একক সমস্যা নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতার পেছনে ঘৃণা ও উগ্র মতাদর্শ কাজ করে।
এই অবস্থান ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গোটা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা হলে সামাজিক বিভাজন বাড়ে এবং চরমপন্থীরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
উইলিয়াম তাই ঘৃণার মোকাবিলায় ভালোবাসা, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বৃহত্তর ধর্মীয় সহাবস্থাননীতি
উইলিয়ামের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাংবিধানিক ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়। ব্রিটিশ রাজা একই সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গভর্নর। কিন্তু আধুনিক বহুধর্মীয় ব্রিটেনে রাজপরিবারের দায়িত্ব শুধু খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষা নয়; বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রাজপরিবারের সদস্যদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ, মসজিদ পরিদর্শন এবং ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।
উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ সফর ও পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার বাবার দীর্ঘদিনের আন্তধর্মীয় সংলাপের কর্মসূচিকে সরাসরি উইলিয়ামের নিজস্ব দার্শনিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান
প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলামবিষয়ক প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মুসলমানদের প্রতি সম্মান, ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তা, সামাজিক সহাবস্থান এবং ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশেষ করে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে তার বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে তিনি শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি শোক প্রকাশ করেননি; বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানবিকতা, পারিবারিক সংহতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের শান্তি ও বোঝাপড়ার চেহারা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফরে তার অংশগ্রহণ মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তার প্রকাশ্য অবস্থান মূলত মানবিকতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তার এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মর্যাদা স্বীকার করার ওপর।
উইলিয়ামের বক্তব্যের মূল শিক্ষা হচ্ছে, ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সংহতির মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে তার প্রকাশ্য অবস্থান থেকে অন্তত এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এসব দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম রাখী।
জাফরিন আলম রাখী বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় যথাযথ নিয়ম মেনেই তাঁরা টাকা জমা রেখেছেন। কিন্তু এখন টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, তাঁদের নামে সেখানে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও জানানো হয়েছে। তাঁদের একটাই দাবি, জমা রাখা টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন শ্রীনগর শাখার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
আবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় বহু গ্রাহক তাঁদের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত আমানতের অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেক গ্রাহক সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ ও ব্যবসায়িক মূলধন ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই গ্রাহকরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছেন। তাই শাখায় সংঘটিত অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানতকারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করা; ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ও আর্থিক ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা এবং বৈধ ও প্রমাণিত আমানতের অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে কার্যকর ও সময়াবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ ছাড়া গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে গ্রাহকদের লিখিতভাবে অবহিত করা এবং অভিযোগ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও অর্থ ফেরতের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রধান কার্যালয়ের অধীনে বিশেষ সেল গঠনের দাবিও রয়েছে তাঁদের।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকে দুই ধরনের গ্রাহক থাকেন—আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতা। কেউ আমানত রাখলে বিধি অনুযায়ী তা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। কেউ অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে টাকা জমা রাখলে সেই অর্থও ফেরত পাবেন। তবে কোনো গ্রাহক ব্যাংকারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে টাকা রাখলে সে দায় ব্যাংকের নয়। গ্রাহকের কাছে টাকা জমা দেওয়ার সঠিক প্রমাণ থাকলে ব্যাংক তা ফেরত দিতে বাধ্য।
জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হাসান দিয়োবান্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জাঙ্গানে।
ইরানের বিচার বিভাগের অভিযোগ, ওই তিন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও পেট্রলবোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিলেন। তারা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং কারাজ শহরের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ক্ষতিসাধন করেন। এতে শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
জানুয়ারির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। এসব মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এদিকে, এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রিন্টিং মেশিন ঘোষণায় আমদানি কনটেইনারে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখা।
বিশেষ নজরদারিতে থাকা একটি একটি আমদানি চালানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। তবে অভিযানে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। এ অভিযানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআর বলছে, চালানটি ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-এ, শপ নম্বর 3C004A ঠিকানায় অবস্থিত চায়না মার্ট নামের প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা হয়। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো চালানটিতে পণ্য হিসেবে ‘প্রিন্টিং মেশিন’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চালানটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়।
উদ্ধার জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প মূলত নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। উল্লেখ্য, দেশে ২০ শলাকার নিম্নস্তরের একটি সিগারেটের প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা এবং এর বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্বের পরিমাণ ১০৬.৬০ টাকা। সে হিসাবে উদ্ধার জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের আনুমানিক ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চালানটিতে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধ সিগারেট উৎপাদনের মাধ্যমে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি এবং প্রসাধনী আমদানিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকি মিলিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউএফসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডানা হোয়াইট।
শনিবার ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোয়াইটকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তাবে রাজি হননি হোয়াইট।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, মহান ডানা হোয়াইটকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন হিংস্র যোদ্ধা ও লড়াকু মানুষ।’
প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের জন্য হোয়াইটকে ছয়জন ইউএফসি যোদ্ধাকে সহকারী হিসেবে সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাদের ছবিও পোস্ট করেন তিনি।
ট্রাম্প আরো লেখেন, ‘উন্মাদ বামপন্থিদের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষার জন্য এই মানুষদের প্রয়োজন। ডানা হবেন এমন একজন প্রেস সেক্রেটারি, যার মতো আর কেউ নেই। ডানা, অনুগ্রহ করে দায়িত্বটি গ্রহণ করুন।’
ট্রাম্পের একজন সহযোগী অবশ্য বলেছেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে হোয়াইটকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবটি তিনি মজা করে দিয়েছেন। তবে হোয়াইটকে নিয়ে তার এই পোস্ট এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নতুন প্রেস সেক্রেটারি খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ক্যারোলিন লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর কেটি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিন প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাকেও সরিয়ে দেন ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেতে ট্রাম্পের সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে এ পদ নিয়ে তিনি নিজেই বেশ আগ্রহী।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তের ঘোষণা দেওয়ায় প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শনিবার হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং ট্রাম্পের পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করেন। এর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই! করে ফেলুন, ডানা হোয়াইট!’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও ইউএফসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারির হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ডানা হোয়াইট। তিনি শুধু জানান, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এর আগে একটি উত্তপ্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের নজির গড়েন তিনি।
অন্যদিকে ক্যারোলিন লেভিট প্রায় দেড় বছর প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। গত আগস্টে তিনি পদ ছাড়েন। তরুণ পরিবারের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছার কথা জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। চলতি মাসে ফক্স নিউজে সংবাদ বিশ্লেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন লেভিট।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ডানা হোয়াইট। সর্বশেষ তিনটি রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ পুরুষ ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থন বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে হোয়াইটের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তিনি আমাকে এমন সব মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, যাদের নাম আগে কখনো শুনিনি। তরুণ ছেলেরা। আমি দেখলাম, ২০ বছর বয়সি ছেলেরা আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। আমি বললাম, এদের কোথায় পেলে? এদের বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার।’
তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে নতুন ভোটারদের পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখা কয়েকজন ব্যক্তির সমালোচনার মুখে তরুণ পুরুষ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। তাদের মধ্যে পডকাস্টার জো রোগানও রয়েছেন।
এই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চলতি গ্রীষ্মে হোয়াইট হাউসের লনে ইউএফসির একটি লড়াইয়ের আয়োজন করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ওই আয়োজন করা হয়। তবে তার এসব উদ্যোগ সফল হয়নি। গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ পুরুষ ভোটারদের একটি অংশ ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে দলটি।
এদিকে প্রশাসনে আরও রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে তার জায়গায় স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের অন্যতম কট্টরপন্থি ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিলার সোমবার থেকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শুক্রবার সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হয়তো আরো কয়েকটি পরিবর্তন আনব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে। সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এ অধিবেশনটি মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার অধিবেশন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৪ অক্টোবর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে অধিবেশনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ অধিবেশন আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবস চলতে পারে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টা বিল আসতে পারে।
এই বিলগুলোর ওপর আলোচনা হবে।
আগামী জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।
স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি বছরই জানুয়ারি মাসে বছরের প্রথম অধিবেশন বসে। সে অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন, অর্থাৎ ২০২৭ সালের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।
এদিকে, চতুর্থ অধিবেশন শুরুর দিন জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। এ বৈঠকে অধিবেশনের কার্যদিবসের মেয়াদ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর, জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ ও সাধারণ আলোচনার বিষয়গুলো থাকবে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চলমান ও জনগুরুত্বসম্পন্ন কোনো ইস্যুতে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব এলে তা নিয়েও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে আলোচনা হতে পারে। তবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব এই অধিবেশনে উপস্থাপন হচ্ছে না। সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে। জানুয়ারিতে সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সেটি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীর রাজনৈতিক চিন্তা, মানবাধিকারবোধ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যাবি মার্টিন। তার মতে, গাজায় যা ঘটেছে, এরপর বিশ্ব আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে না। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে তিনি বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের সামগ্রিক মুক্তির লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিসে মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের ফিলিস্তিনপন্থি সংগীত সফরের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন অ্যাবি মার্টিন। অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি গাজাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্টিন বলেন, ‘গাজা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে, আমাদের প্রত্যেককে বদলে দিয়েছে। এটি সবার প্রকৃত অবস্থান উন্মোচন করেছে। এই লড়াইয়ের আগে পৃথিবী যেমন ছিল, আর কখনো সেখানে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।’
তার মতে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুধু ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের চিত্রই সামনে আনেনি; বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণমাধ্যম, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের কথা বলা পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান অনেকের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিল্পী, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গাজা পরিস্থিতিতে নীরব থাকার আর সুযোগ নেই। প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, নাকি বিদ্যমান ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করবেন।
শিল্পীদের ভূমিকার প্রসঙ্গে মার্টিন বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা মানুষকে নিস্তেজ করে রাখবেন, নাকি পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়াবেন। সংস্কৃতি ও শিল্পকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নকে আরো বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরে মার্টিন বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি বিশ্বের সব মানুষের আধিপত্য, নিপীড়ন ও সত্য বিকৃতির বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াই থেকে আলাদা নয়। অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে তিনি বৃহত্তর বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখেন।
পশ্চিমা দেশগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে সাংস্কৃতিক বয়কট ও সংহতি আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ প্রচলিত রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের বয়ানের বাইরে গিয়ে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরও নিজেদের কাজের সঙ্গে নৈতিক দায়িত্বের সম্পর্ক বিবেচনা করা উচিত।
অ্যাবি মার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের দীর্ঘদিনের সমালোচক। তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘গাজা ফাইটস ফর ফ্রিডম’-এও ফিলিস্তিনিদের জীবন, অবরোধ এবং প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্টিন বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের প্রশ্ন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ইস্যু নয়; বরং মানবজাতির সম্মিলিত মুক্তির প্রশ্নের কেন্দ্রে চলে এসেছে। তার ভাষায়, মানুষের সম্মিলিত স্বাধীনতা ও মুক্তির সঙ্গে গাজা এবং ফিলিস্তিনের বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত।
মার্টিনের মতে, গাজাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে সংহতি ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের গুরুত্ব সামনে এনেছে।
প্যারিসের ওই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নকে তিনি শুধু একটি ভূখণ্ডের রাজনৈতিক অধিকারের বিষয় হিসেবে দেখছেন না; বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও মানুষের মুক্তির বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সমবায়ে গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে র্যালি, জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে বেলা ১১টায় জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অহিদুর রহমান, সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এ.এম. মুনিব। প্রগতি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম জিয়াউল্লা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি কামাল আহমেদ ও আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ইসরাফিল হোসেন,স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ধুনার খাল সমবায় সমিতির সভাপতি জহরুল ইসলাম, এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. জিল্লুর রহমান, পৌর কৃষক দলের সভাপতি মিলন হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয় সম্পাদক তুইন ডাক্তার, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক শিমুল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী খালিদুর রহমান, চৌগাছা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি শ্যামল দত্ত, খড়িঞ্চা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ভরত কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম হালদার এবং বোড়গোন্দপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে সফল সমবায়ী সমিতির টেস্ট দেওয়া হয় । সমবায়ের গুরুত্ব, সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে সমবায়ীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ।
একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে দীপক বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল সরকার পরিবর্তন সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিজেপির ‘জন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপক অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে বিজেপি সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জ্ঞানেশ কুমার এতটা গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে তার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে দীপকে বলেন, যেখানেই যাবেন, সেখানেই জাতীয় পতাকা বহন করবেন।
তিনি বলেন, ‘এই তেরঙ্গা পতাকা উঁচিয়ে ধরার অপরাধে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুতোষকেও একই কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। ভারতে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ব্রিটিশ শাসনামলে।’
এনডিএ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে দীপকে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু—দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই গ্রেপ্তার করুন। প্রতিটি জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করুন, কিন্তু আমি আবার ফিরে এসে এই তেরঙ্গা পতাকা উঁচিয়ে ধরব।’
দীপকের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে ও ভালোবাসার স্বাধীনতা থেকে শুরু করে ভোটাধিকার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে মানুষ কী খাবে, এরপর কার সঙ্গে বিয়ে করবে ও ভালোবাসবে, আর এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে মানুষ কাকে ভোট দেবে।’
দীপক বলেন, বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের ভিত্তিতেই ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তার দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশ অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছিল। তবে জন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচি মানুষের মধ্যে আবারও কথা বলার সাহস ও প্রতিবাদের শক্তি ফিরিয়ে এনেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার তরুণ প্রতিবাদকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দীপকে। তার দাবি, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে শুরু করায় তরুণদের নিশানা করা হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থেই দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা উসকে দেওয়া হচ্ছে।
রাজেন্দ্র ময়দানে আয়োজিত ওই সমাবেশে বিভিন্ন বয়সি বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। যুব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এতে যোগ দেন। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ১০টি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) খোলার মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এসব পণ্য আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নতুন এ সুবিধার আওতায় চাল, গম (আটা), পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর আমদানি করা যাবে। রমজান মাসে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমদানি সহজীকরণের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জারি করা আরেক নির্দেশনায় রমজানের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার কার্যকারিতা ছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
সারা দেশে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোট হবে। সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে প্রথম ধাপে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
ইসরাইলি কারাগারের বন্দিদশা, প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৯ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণী জানা ইহসান আবু ওয়ারদা। শুধু কোরআন হিফজ করেই থেমে থাকেননি তিনি; নিজের বিচারিক শুনানিতে এক বৈঠকে পুরো কোরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিস্মিত করেছেন।
ফিলিস্তিনের বন্দিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস’ বা ‘মাকতাব আল-ইলাম আল-আসরা’ জানিয়েছে, জানা আবু ওয়ারদা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি ইসরাইলের ড্যামন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
গ্রেপ্তারের আগে জানার পবিত্র কোরআনের প্রায় ২০ পারা মুখস্থ করা ছিল। কারাগারে বন্দি থাকার সময় বাকি অংশ মুখস্থ করে সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ হন তিনি। সম্প্রতি আদালতে নিজের বিচারিক শুনানির সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের জানান, তিনি এক বৈঠকেই সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করেছেন।
জানা শুধু নিজের হিফজ সম্পন্ন করেই ক্ষান্ত হননি। কারাগারে অন্য নারী বন্দিদেরও কোরআন ও হাদিস শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি। তার উদ্যোগে কারাগারের ভেতরেই গড়ে উঠেছে ধর্মীয় শিক্ষা ও অধ্যয়নের পরিবেশ। বন্দিত্বের মধ্যেও সহবন্দিদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার আগ্রহ ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই তরুণী।
জানা আবু ওয়ারদা ফিলিস্তিনের হেবরন এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাহিরিয়া কলেজে শরিয়াহ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। লেখালেখি ও কবিতার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে স্নাতক শেষ করে কোরআনের তাফসির, আরবি ব্যাকরণ ও হাদিস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান তিনি। তার স্বপ্ন, একদিন কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তবে কারাগারের জীবন তার জন্য মোটেও সহজ নয়। ড্যামন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীরা খাবারের সংকট, কঠোর বন্দি-পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন। জানাও গ্রেপ্তার ও এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের সময় অপমানজনক তল্লাশির শিকার হয়েছেন বলে বন্দিবিষয়ক সংগঠনটি জানিয়েছে।
এমনকি বন্দিদশায় নিজের পরিবারের কাছের মানুষদের হারানোর খবরও তাকে দেরিতে জানতে হয়েছে। কারাগারে পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত থাকায় স্বজনদের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়েছে।
বন্দিত্বের মধ্যেও জানার এই অর্জন ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআনচর্চার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং অন্য বন্দিদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে তিনি কারাগারের জীবনেও জ্ঞানচর্চার একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন।
বন্দিশালার দেয়াল তার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারলেও জ্ঞান অর্জন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ থামাতে পারেনি।
আবাসন খাতে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক মডেলের উদ্বেগজনক বিস্তারের মাধ্যমে জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় জমির মালিকানা, ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট না থাকায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অনেকে সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন বছরে এ ধরনের প্রকল্প ঘিরে মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগের কথা জানান রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল।
সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট। জমির মালিকানা, ভবনের অনুমোদিত নকশা এবং নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত নিশ্চয়তা না থাকায় বিনিয়োগ করেও ফ্ল্যাট বুঝে পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁরা সামাজিক ও পারিবারিক সংকটেও পড়ছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, একই জমি বা ভবনের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সংগ্রহ, নির্মাণ ব্যয়ের অস্বচ্ছ হিসাব এবং জাল দলিলের মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল নেই। নির্মাণবিধি ও ভবনের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্তও যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
রিহ্যাবের নেতারা বলেন, জমির অবিভক্ত অংশের মালিকানা থাকলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। এ কারণে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক রাখা কিংবা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। জমির মালিকানা, ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নির্মাণ ব্যয় ও দখল নিয়ে অংশীদারদের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। এতে ক্রেতাদের অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ সময় শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধে ছয় দফা দাবি জানায় রিহ্যাব। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বন্ধ করা; প্রয়োজনীয় আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ অথবা কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা; জমির মালিকানা, নিবন্ধন, দায়-দেনা ও প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত না করে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা; বিদ্যমান প্রকল্পগুলোতে স্বাধীন কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা চালানো এবং একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা জাল দলিলের অভিযোগ তদন্ত করা। পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ ও নির্মাণ ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি প্রকল্পে যোগ্য স্থপতি, প্রকৌশলী ও পেশাদার জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাব নেতারা বলেন, আবাসন খাতের সঙ্গে প্রায় তিন শ ধরনের সংযোগ শিল্প জড়িত। নির্মাণ খাতের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ এবং এই শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
রিহ্যাবের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক মডেলে তৈরি করা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভবনে কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিটি ভবনের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কারিগরি যাচাই করা প্রয়োজন। রিহ্যাবের মাধ্যমে এগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বৈধ অনুমোদন ও জমির মালিকানা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্পের বিক্রয় এবং অর্থ সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হবে। অন্যথায় অর্থ পরিশোধের পরও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর কিংবা বৈধ মালিকানা নিশ্চিত করতে জটিলতা লেগেই থাকবে।
রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে না রিহ্যাব। তবে জমির অংশীদারত্ব বা যৌথ উদ্যোগের নামে এমন ব্যবসা পরিচালনা করা উচিত নয়, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের মালিকানা ও হস্তান্তরের নিশ্চয়তা নেই এবং সরকারি রাজস্ব যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয় না।
তিনি বলেন, শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসার সমস্যা শুধু রিহ্যাবের নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এর সঙ্গে মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয়, আবাসনের নিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ জড়িত। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর আর্থিক, সামাজিক ও আইনি ক্ষতির দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি-২ মো. বরকত উল্লাহ, সহসভাপতি-৩ এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ ও সহসভাপতি (অর্থ) ড. হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় অফিসের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঝিনাইদহ জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তৌহিদুল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আইসিটি অফিসার মাইনুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।
আরও উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবর আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গণি এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা অপরিসীম। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একত্র করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
বর্তমান সরকার সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বক্তারা সমবায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইসরাইলি পুলিশের হেফাজত থেকে পাঁচ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মী আবেদ আবু শেহাদেহ। পাঁচ দিন আটক থাকার পর পেতাহ তিকভা পুলিশ স্টেশন থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তির পর সংবাদমাধ্যম আরব৪৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবু শেহাদেহ তার গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে নিজের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আবু শেহাদেহ বলেন, ‘আমাদের ভয় পাওয়া চলবে না। আমরা সঠিক পথেই আছি। সবার সমতা ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছি।’
তাকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক সমর্থক, তার আইনজীবী দল এবং আইনি সহায়তাকারী সংস্থা আদালাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এর আগে গত বুধবার জাফায় আবু শেহাদেহর বাড়িতে অভিযান চালায় ইসরাইলি পুলিশ ও দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা। এ সময় ‘বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের’ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চলতি আমন মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে ধান এবং এক টাকা কমিয়ে সিদ্ধ ও আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি জানান, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হয়ে চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
অন্যদিকে, চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে, যা চলবে একই সময় পর্যন্ত।
এ বছর সংগ্রহ অভিযানে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন ধান, ৪৯ টাকা দরে ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৩ লাখ টন আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা বাড়তে পারে। কৃষকরা যদি নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ধান বিক্রি করতে চান, সেই সুযোগও রাখা হয়েছে। কৃষকের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, প্রধানমন্ত্রী সে নির্দেশনাই দিয়েছেন। ’
মন্ত্রী আরও জানান, সভায় দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি, মজুত, সরকারি বিতরণ ও আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষক কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য দেয়াকেই মূল লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
সভায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বদিয়ার রহমান (৫০) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আফ্রিদি গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের মহেশপুর উপজেলার কাটাখালী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বদিয়ার রহমান মহেশপুর পৌরসভার নওদাগ্রাম এলাকার মৃত আব্দুল আলিমের ছেলে। অন্যদিকে আহত মোটরসাইকেল চালক আফ্রিদি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পোস্ট অফিসপাড়া এলাকার মকবুল ক্যাশিয়ারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানচালক বদিয়ার রহমান গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্হলেই তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলটি বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার এসআই জাহিদ জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত মোটরসাইকেল চালক আফ্রিদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোচনায় এখন তিনটি নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে—বারাক ওবামা, আবদুল আল-সাইয়েদ ও জোহরান মামদানি। তিনজনের রাজনৈতিক জীবনের সময়কাল, অভিজ্ঞতা ও অবস্থান এক নয়। তবে তাদের ঘিরে যে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে কিছু অভিন্ন প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
বিশেষ করে প্রচলিত রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোর বাইরে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগ, নতুন নেতৃত্বের উত্থান, বহুসাংস্কৃতিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব এবং তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ ৪ নভেম্বর তার বিজয়ের খবর নিশ্চিত করে।
এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হন। মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না; ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৪২ বছর বয়সী আবদুল আল-সাইয়েদ মিশিগানে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট অর্জন করেছেন এবং ছিলেন রোডস স্কলার। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেছেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও সামাজিক নীতির সম্পর্ক রয়েছে।
২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আলোচনায় আসেন। সে নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হলেও তার প্রচারণা প্রগতিশীল রাজনীতির একটি পরিচিত মুখ তৈরি করে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সবার জন্য নিরাপদ পানি, শিক্ষাঋণমুক্ত উচ্চশিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি ছিল তার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক দর্শন আরও বিস্তৃত পরিসরে সামনে আসে।
তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান স্লোগান ও অগ্রাধিকার ছিল ‘রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করা, মানুষের পকেটে অর্থ রাখা এবং সবার জন্য মেডিকেয়ার’। মেডিকেয়ার ফর অলের মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসার ব্যয় ও ঋণের চাপ কমানো, ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর কর আরোপ এবং করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করার কথা বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়া ও অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ বিদেশি সামরিক খাতে ব্যয় না করে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত।
এই অবস্থান তাকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে মতপার্থক্যের মুখোমুখি করেছে। ইসরাইল বিষয়ক তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন কিছু ইহুদি নেতা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। বিশেষ করে তার প্রচারণাকে সমর্থনকারী একটি বহিরাগত রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটির বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দুরবস্থার সঙ্গে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সামরিক কর্মকাণ্ডে মার্কিন অর্থায়নের সম্পর্ক টানা হয়েছিল। সমালোচকেরা বিজ্ঞাপনের ভাষায় ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণার ঐতিহাসিক ইঙ্গিত দেখতে পান। আল-সাইয়েদের প্রচারণা অবশ্য বিজ্ঞাপনটি থেকে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করে এবং জানায়, সেটি তাদের তৈরি নয়। তিনি ইসরাইলি সরকারের নীতির সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ থেকে পৃথক করে দেখার কথা বলেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তার ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক আক্রমণের বিষয় হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে তার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আনা হয়, যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন করেন। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলীয় ঐক্য ও আদর্শিক বিরোধের প্রশ্নও আলোচনায় আসে। এতসব বিতর্কের মধ্যেও আল-সাইয়েদের বিজয় প্রগতিশীল রাজনীতির সমর্থকদের কাছে নতুন তাৎপর্য বহন করে।
এখানেই জোহরান মামদানির প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয়কে অভিনন্দন জানান। তার বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার নাগাল এবং রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়।
তিনি বলেন, আল-সাইয়েদের প্রচারণার মূল কথাগুলো শুধু মিশিগানের মানুষের জন্য নয়, নিউইয়র্কের মানুষের জন্যও প্রাসঙ্গিক। কর্মজীবী মানুষের স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার যে প্রচেষ্টা, সেটিকে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখেন।
মামদানি অবশ্য আল-সাইয়েদকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখতে চাননি। বরং দুজনের নিজস্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও কাজের ক্ষেত্রের স্বাতন্ত্র্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তাদের রাজনৈতিক ভাষ্য ও প্রচারণায় কিছু মিল রয়েছে।
উভয়েই জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, সাধারণ মানুষের আয় এবং করপোরেট প্রভাবের প্রশ্নকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় নির্বাচনে মামদানি যে অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকে সামনে এনেছিলেন, মিশিগানের নির্বাচনে আল-সাইয়েদের প্রচারণাতেও সেগুলোর প্রতিফলন দেখা গেছে।
এবার আলোচনায় আসা যাক বারাক ওবামার প্রসঙ্গে। আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে ওবামার নামের তুলনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই তার বক্তৃতার ধরন, ব্যক্তিগত জীবনকাহিনি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে ওবামার প্রসঙ্গ এসেছে।
দুজনের মধ্যে অভিবাসী পরিবারের অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষা, সামাজিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব এবং প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে সমর্থক সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কিছু তুলনাযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
তবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক ভূমিকা এক করে দেখা যাবে না। বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন। তার প্রচারণায় ‘হোপ’ ও ‘চেঞ্জ’ বা আশা ও পরিবর্তনের ধারণা, তৃণমূল সংগঠন এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভাষ্য বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।
আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক ভাষ্য তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্টভাবে প্রগতিশীল অর্থনীতি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন নীতির সমালোচনার ওপর কেন্দ্রীভূত। ফলে ওবামার সঙ্গে তুলনা তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব বোঝার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু সেটি কোনো অভিন্ন রাজনৈতিক প্রকল্পের প্রমাণ নয়।
তিনজনের রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। ওবামা একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র এবং এল-সায়েদ সিনেটর-নির্বাচিত। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের পরিধি এবং ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র আলাদা। তাই একই রাজনৈতিক আলোচনায় তাদের নাম উচ্চারিত হওয়া মানেই তারা একই ধরনের নেতৃত্ব বা একই রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
তবে তাদের ঘিরে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এসেছে: ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কি প্রচলিত নেতৃত্বের বাইরে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আরও গুরুত্ব দেবে? বিশেষ করে তরুণ ভোটার, অভিবাসী পরিবারের সন্তান, মুসলিম ও আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক এবং শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা কীভাবে দলটির নীতি ও নেতৃত্বকে প্রভাবিত করবে?
মিশিগানের নির্বাচন এ প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়, অভিবাসী পটভূমি কিংবা জাতিগত বৈচিত্র্য এখনো বিতর্কের বিষয় হলেও এসব পরিচয়ের মানুষ যে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে আসতে পারেন, এল-সায়েদের বিজয় তা দেখিয়েছে।
একই সঙ্গে নির্বাচনে তার সাফল্য প্রমাণ করে না যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সব ভোটার তার রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে একমত। বরং এটি দেখায়, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো ইস্যু নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আল-সাইয়েদের সামনে এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে জয়ী হওয়া আর কংগ্রেসে নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা এক বিষয় নয়। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করা কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের জন্য তাকে শুধু নিজের দলের ভেতরেই নয়, কংগ্রেসের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও কাজ করতে হবে।
বারাক ওবামা, জোহরান মামদানি ও আবদুল আল-সাইয়েদ—তিনটি নাম তাই শুধু তিনজন রাজনীতিকের পরিচয় নয়; এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক সমাজ, নেতৃত্বের নতুন আকাঙ্ক্ষা এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির আদর্শিক বিতর্কের তিনটি পৃথক অধ্যায়।
তাদের মধ্যে মিল যেমন আছে, তেমনি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অমিল। ভবিষ্যতে এই ধারার রাজনীতি কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী সাফল্যের পাশাপাশি নীতি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াশিংটন আরো হামলা চালালে ইরানও আরো কঠোর জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বাহিনীটির মুখপাত্র মোহেবি বলেছেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেবি বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ চলছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধের মধ্যে তারা আমাদের কোনো একটি জাহাজে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু আমরা আরো কঠোরভাবে পাল্টা আঘাত হানব।’
ইরানের স্থলসীমান্ত দিয়ে পণ্য ও সরবরাহ চলাচল বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে চায়, তার কোনো সংস্করণ দিয়েই তারা কখনো সফল হতে পারবে না।’
এর আগে ইরানের স্থলপথে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের এসব স্থলপথ দিয়ে অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী পরিবহন করা হয়। ‘আয়রন গেট’ নামের এ উদ্যোগের লক্ষ্য স্থলসীমান্ত দিয়ে ইরানে পণ্য প্রবেশের পথগুলো বাধাগ্রস্ত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ ইরানের বন্দরগুলোতে দেশটির নৌ অবরোধেরই সম্প্রসারণ। দুই দেশের আট মাসের যুদ্ধে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করেছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
গাদি আইজেনকটকে ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। সরকার গঠনের দায়িত্ব পেতে আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ জানিয়েছেন নেসেটের (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) ৬৭ জন সদস্য। বিপরীতে, বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন এবং ভোটদানে বিরত থেকেছেন সাতজন।
এদিকে আইজেনকটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন থাকলেও নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো অনেক দূর।
সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে, আইজেনকট কীভাবে এসব বিরোধ কাটিয়ে উঠবেন, তা জানতে প্রেসিডেন্ট হারজগ নিজেই গত সপ্তাহান্তে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করা ৬৭ জনের মধ্যে ১৯ জন আরব দলের সদস্য। জায়নবাদী পরিবর্তনপন্থি জোটের নিজস্ব আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। সরকার গঠনে তাদের প্রয়োজন হারেদি বা অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন। বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাত এবং শাস পার্টির ছয় আসন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন।
কিন্তু শাস পার্টির নেতা আরিয়ে দেরি ইতিমধ্যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হারেদি রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, আইজেনকটের সঙ্গে শাসের জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম আলোচনায় রাজি হলেও শাসের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত।
লিবারম্যানের অবস্থানে পরিবর্তন
ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আইজেনকটকে সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় সমর্থন দিয়েছেন। হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে তার আগের আপত্তিও কিছুটা শিথিল হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে সমঝোতার বিষয়েও তিনি আলোচনায় রাজি।
হারেদি সূত্রের দাবি, লিবারম্যান ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি কমেছে এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন বা সংসদে ভোটদানে বিরত থাকার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন লিবারম্যান। তার মতে, রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন কিংবা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল সরকার গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আরব দলগুলোর ভোটে সরকার গঠনের বিকল্পটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাধা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন
আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটে সবচেয়ে বড় মতবিরোধের জায়গা হারেদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ। হারেদি দলগুলো ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবার বাইরে রাখার আইনি ব্যবস্থা চায়। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ ও জায়নবাদী জোটসঙ্গীরা বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং সবার জন্য সমান দায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
নাফতালি বেনেট এখনো হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে প্রকাশ্যে সম্মতি দেননি। তার দল জানিয়েছে, এ বিষয়ে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে দেখা যাবে না। অন্যদিকে ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস ও ইয়াশার পার্টির মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
আইজেনকট সরকারে অংশগ্রহণের জন্য চারটি নীতিগত শর্তও ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো—ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ গ্রহণ, সামরিক বা জাতীয় বা বেসামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার সামরিক ও শাসনক্ষমতা বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার।
নেসেটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
সরকার গঠনের আলোচনার পাশাপাশি পরিবর্তনপন্থি জোট নেসেটে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে। মঙ্গলবার নতুন সংসদের শপথ গ্রহণের পর স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ পদে ইয়াইর লাপিদকে সমর্থন করছেন লিবারম্যান, যদিও এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারিত হয়নি।
এ ছাড়া বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং নেতানিয়াহু সরকারের প্রণীত কয়েকটি আইন বাতিলের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রচেষ্টায় নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন লিবারম্যান। তবে সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার হাতে যাবে না।
সব মিলিয়ে, ৬৭ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেও আইজেনকটের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—সামরিক নিয়োগ আইন ও অন্যান্য নীতিগত প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা দলগুলোকে একটি কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটে আনা।