BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • পাঁচ হাজার সিড়ি বেয়ে ইমাম মসজিদে যান

    পাঁচ হাজার সিড়ি বেয়ে ইমাম মসজিদে যান

    তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভান শহরে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি মসজিদে নামাজ পড়াতে প্রতিদিন প্রায় পাচ হাজার সিড়ি বেয়ে ওঠেন ইমাম সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। দীর্ঘ ও কষ্টকর এই যাত্রার মধ্যেও দায়িত্ব পালনকে আনন্দ ও সৌভাগ্যের কাজ হিসেবে দেখেন তিনি। গত পাচ মাস ধরে ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলেইমান খান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিলমেজ।

    সম্প্রতি তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে তার এই ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুরের নামাজের আগে মসজিদে পৌছান বিলমেজ। সেখানে নামাজের ইমামতি ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনের পর এশার নামাজ শেষে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসেন তিনি। দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদিন তাকে দীর্ঘ সিঁড়িপথ পাড়ি দিতে হয়।

    ইমামতির পাশাপাশি মসজিদে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে সময় কাটান বিলমেজ। তাদের মসজিদটির ইতিহাস ও ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানান। দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতাও বেড়েছে তার।

    মসজিদটির নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি। তবে ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলেইমান দ্য ম্যাগনিফিসিয়েন্ট মসজিদটি সংস্কার করেন। দীর্ঘ সময় পর তিন বছর আগে সংস্কারকাজ শেষ হলে মসজিদটি আবারও নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিদিনের এই পরিশ্রম সম্পর্কে ইমাম সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ বলেন, ‘ক্লান্তিকর হলেও মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি, নিজের ইচ্ছায় এ দায়িত্ব পালন করছি বলে আমি আনন্দিত।’

    পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়ানো এবং পর্যটকদের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন বিলমেজ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন তার এই দায়িত্ব পালনই উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।

  • সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন

    সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন

    সচিবালয় ঢাকার আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

    আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

    সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, শেরেবাংলা নগরে ৩১ দশমিক ৫১ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা বিশিষ্ট ভবন হবে। সেখানে ৩২ লাখ স্কয়ার ফুটের মতো বিল্ডিং নির্মাণ হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে অফিস করা যাবে বলে আশা করছি।

    গত ৭ অক্টোবর শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

  • কালকিনিতে বাড়ীর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্নহত্যা

    কালকিনিতে বাড়ীর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্নহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরের কালকিনিতে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি ছাদ থেকে লাফ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিম আক্তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুদিন ধরে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মূধার বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন। রোববার ভোরে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

    তবে কালকিনি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি এখনই বলতে পারছেন না।

    কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    কী কারণে মিম ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তার অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছিল এবং স্বামী প্রবাসে থাকেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ,আর

  • মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। রোববার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এ তথ্য জানান।

    গত ১৪ অক্টোবর স্কুলে যাওয়ার নাম করে ভাগ্যকুল হরেন্দ্র লাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী এবং দারুল উলুম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীসহ তিনজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ তদন্তে নামে।

    তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে কক্সবাজার থেকে তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করে রোববার নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা পুলিশকে জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তি, মা-বাবার মনোমালিন্য, নানাবিধ মানসিক চাপ, অবহেলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ওই তিন ছাত্রী মায়ের চিকিৎসার জন্য জমানো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ তিন ছাত্রীর সঙ্গে রাঙামাটি এলাকার ষোড়শ এক কিশোরের যোগাযোগ ছিল।

    ডিএনসিসি প্রশাসকটিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পুলিশ এই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের একটি হোটেল (গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট) থেকে গত ১৭ অক্টোবর ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এর আগে তিন ছাত্রী এক অটোরিক্সাচালকের সহায়তায় ওই হোটেলের একটি কক্ষ ২০ হাজার টাকায় তিন দিনের জন্য ভাড়া করে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা কিশোরের বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের অপব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ,আর

  • রায়পুরায় নিখোঁজের ৭ দিন পর নদী থেকে রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার

    রায়পুরায় নিখোঁজের ৭ দিন পর নদী থেকে রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদীর রায়পুরায় আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আরমান ফকির (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ বাজার সংলগ্ন হাসনাবাদ নয়াহাটি এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আরমান আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের নলবাটা ফকির বাড়ির সালাউদ্দিন ফকিরের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চার্জ দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ডাকে বাড়ি থেকে বের হন আরমান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। আজ সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। উদ্ধারের পর লাশটি আরমানের বলে শনাক্ত করেন স্থানীয়রা।

    নিহতের ছোট ভাই জানান, গত রোববার দুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চার্জ দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ডাকে বাড়ি থেকে বের হন। এক সপ্তাহ পর আজ তার লাশটি আড়িয়াল খাঁ নদীতে পাওয়া গেছে।

    এ ব্যাপারে আমীরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে রায়পুরা থানায় খবর দিলে লাশ উদ্ধার করি। তবে লাশটি পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পরিবারের দাবি লাশটি আরমানের। তবে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নরদিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে

    যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কোনো নতুন আগ্রাসন চালালে এবার চেনা নিয়মে জবাব দেওয়া হবে না। এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত ‘সব বোমার মা’ বা বিশাল ক্ষমতার বোমা ব্যবহার করতে পারে—এমন খবরের মাঝেই এই কঠোর বক্তব্য এলো।

    ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি (১৮ অক্টোবর) জানায়, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসেনএসসি) সচিব মহসিন রেজায়ি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘ইরানের নতুন রণ-পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চেনা ছকে চলবে না।’ তিনি আরো বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক হুমকিসর্বস্ব বক্তব্য বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না। যেকোনো সামরিক হঠকারিতার জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    হুমকির মুখে ‘সব বোমার মা’

    মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন এক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যেখানে জিবিইউ-৪৩/বি বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহার হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। ২০০০-এর দশকের শুরুতে একটি বোমা বানাতে খরচ হতো প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বর্তমান মূল্যস্ফীতিতে এই খরচ আরো অনেক বেশি।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের আচিন জেলায় মাত্র একবার এই বোমা ফেলা হয়েছিল। একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় এক শিক্ষক ও তার ছোট ছেলেও মারা যায়।

    ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’

    মার্কিন হুমকির বিষয়ে কথা বলেছেন ইরানি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ। তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী তৈরি।

    মার্কিন এই হুমকিকে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণকে ভয় দেখিয়ে পিছু হটানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’

    হুমকির জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘ওরা যদি সব বোমার মা ফেলে, তবে আমাদের জনগণ হলো সব বোমার বাবা। শত্রুর কৌশলের চেয়ে এই জনগণের প্রতিরোধ হবে অনেক বেশি শক্তিশালী। বোমা মেরে কোনো সভ্যতাকে ধ্বংস করা যায় না।’ তিনি জানান, নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিক করা হয়েছে এবং সব সেনার আঙুল এখন ট্রিগারেই রাখা আছে।

  • পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল

    পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল

    ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। সিনেমার চেয়ে অভিনয়ের বাইরের জগত নিয়েই যিনি সংবাদ শিরোনামে বেশি জায়গা করে নেন। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই চিত্রনায়িকার চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    মূলত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করার মাধ্যমেই এই অনাকাঙিক্ষত কাণ্ডটি ঘটানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। এ নিয়ে ফেসবুক লাইভে পরীমনি নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর সেই ভিডিওটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই এবার নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করলেন পরীমনি। এবারের ভিডিওতে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছেন তিনি।

    ভিডিওতে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার আবহে দেবীর সাজে তিনি হাজির হয়েছেন। তার এই সাজ ও উপস্থিতি ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেন পরী। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ শক্তির জয় হোক…।’

    পূজার এই আনন্দঘন মুহূর্তে পরীমনির দেওয়া বিশেষ বার্তা এবং দেবীরূপী অনন্য সাজ তার অনুরাগীদের আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • কুষ্টিয়ার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    কুষ্টিয়ার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে কুষ্টিয়ার সাবেক দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করা হয়।

    মামলার আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: কামারুল আরেফিন ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ।

    দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, কামারুল আরেফিনের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে এক কোটি ৬৮ লাখ আট হাজার ৮০১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ আট কোটি নয় লাখ এক হাজার ৪৮৪ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি এক লাখ ৬৪ হাজার তিন টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    দু’টি মামলার বাদি দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: বুলবুল আহমেদ। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কামারুল আরেফিন পলাতক রয়েছে এবং সেলিম আলতাফ জজ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা যায়। এ,আর

  • নতুন মোড় নিতে পারে ইয়েমেন যুদ্ধ

    নতুন মোড় নিতে পারে ইয়েমেন যুদ্ধ

    ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে আবারও তাদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারপন্থী কিছু বাহিনীকে আবারও অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতিবিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।

    ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ সহযোগিতা সেই বিরোধ কমানোর প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ। ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

    সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি

    ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানিয়েছে। তবে সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত সে দাবির জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।

    বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)’ এখনো পুরোনো ইয়েমেনের (সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেন) দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব যদি স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দেয়, তবে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।

    এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপর ইয়েমেনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।

    অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের জায়ান্ট ব্রিগেডসের যোদ্ধারা

    অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের জায়ান্ট ব্রিগেডসের যোদ্ধারা।

    যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এগুলো।

    গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। তখন একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    একই সঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    ট্রাক থেকে গমের আটা নামাচ্ছেন কয়েকজন। সম্প্রতি ইয়েমেনের তাইজ শহরে। অবরুদ্ধ শহরটিতে খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে

    ট্রাক থেকে গমের আটা নামাচ্ছেন কয়েকজন। সম্প্রতি ইয়েমেনের তাইজ শহরে। অবরুদ্ধ শহরটিতে খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে।

    ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বিমান অভিযানে যুক্তরাজ্য ব্যাপকভাবে সমর্থন দিলে তার আইনি প্রভাব কী হতে পারে, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত ২০১৯ সালে রায় দিয়েছিলেন, ২০১৫–১৬ সালে ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার সময় অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার বেআইনিভাবে কাজ করেছিল।

  • ফেনীতে বিজিবি অভিযানে ৯৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

    ফেনীতে বিজিবি অভিযানে ৯৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ১৩টি ব্যাটেলিয়নে ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩২৮ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম জানান, বিজিবি সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তের চারটি সেক্টরের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে ১১টি পিস্তল, সাতটি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান, ৬২ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর ও ৭৭মিটার ডেটোনেটরের তার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩টি ব্যাটালিয়ন মোট তিন লাখ ৪০ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪ হাজার ৯৬৭ কেজি গাঁজা, ৬৩ হাজার ৭৫৫ বোতল বিদেশী মদ, ১৬ হাজার ৬৮০ বোতল ফেনসিডিল ও কফ সিরাপ এবং চার লাখ ৩২ হাজার ৫১০ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ করেছে। এসময় আটক করা ৩৩৩ জন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম আরো বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযানেও সাফল্য পেয়েছে বিজিবি। এসব অভিযানে ১৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট পাথর ও আট হাজার ২০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।’

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফেনী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পরশুরাম বক্স মাহমুদ উচ্চবিদ্যালয়ে একটি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনসহ পাঁচটি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।‘

    এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এ,আর

  • দামুড়হুদায় ভাঙা বাঁশের সাকোই শিক্ষার পথে বাধা, ২১ বছরেও মেলেনি মুক্তি

    দামুড়হুদায় ভাঙা বাঁশের সাকোই শিক্ষার পথে বাধা, ২১ বছরেও মেলেনি মুক্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যাতায়াতের নেই কোনো রাস্তা, পারাপারের একমাত্র ভরসা ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতায় অবরুদ্ধ থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ঝরে পড়ার ঝুকিও বাড়ছে।

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। গত এক বছরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ থেকে কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির যাতায়াত ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়নি কোনো রাস্তা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশুদের। ঝুকিপূর্ণ এই সাকো পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই নিচে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই নয়, বিদ্যালয়টির আরেক বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাশের পুকুরের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়টি। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায়ও। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে শিক্ষার্থী ছিল ২৫০ জন, সেখানে চলতি বছরে তা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। যাতায়াতের ঝুকি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ২১ বছর ধরে তারা এই দুর্ভোগের শিকার। বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান। তাদের প্রশ্ন, নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে শিশুদের?

    দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দাবি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।’

    তবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন আর শুধু আশ্বাস নয়, চান দৃশ্যমান উদ্যোগ।
    শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

    তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবসান হবে দুই দশকের দুর্ভোগ, প্রাণ ফিরে পাবে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এ,আর

  • ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    “জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

    আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

    তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

    এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

    তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে।

    তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আর জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

    তার অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • অমর একুশে বইমেলা ৭ জানুয়ারি শুরু

    অমর একুশে বইমেলা ৭ জানুয়ারি শুরু

    ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।

    সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।

  • দিনাজপুর সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

    দিনাজপুর সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আটপুকুর হাটে কাজিহাল ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কাজিহাল ইউনিয়নে ‘মেসার্স জিন্নাত সরকার’ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো: আক্কাস আলীকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। তারা ওই নিয়োগকে অবৈধ দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

    বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এই নিয়োগ নেয়া হয়েছে।

    মানববন্ধন থেকে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়। একইসাথে বর্তমান নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে ডিলার নিয়োগের আহ্বান জানান বক্তারা। এ,আর

  • সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দেশী-বিদেশী তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাপ্পীকে মেরে নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

    আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম।

    এর আগে নিহত বাপ্পীর মা জমিলা খাতুন ছাত্রদলের উত্তর জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক আরিফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে শনিবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট আঠার জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের সবাই যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড মধ্যম মাহমুদাবাদের মো: আরিফ হোসেন (২৮), রনি ওরফে নুর আহমদ রনি (২৭), অলিনগর এলাকার ফখরুল ইসলাম (৩১), নডালিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান (২৮) এবং মুরাদপুর হাসনাবাদ এলাকার আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫)।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম বলেন, ‘নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সাথে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।’

    পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা সীতাকুণ্ডের অলিনগর এলাকায় যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা তাফসির আলম শাওনও হামলার শিকার হন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। হামলাকারীরা তাদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।

    ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশ্যে গুলি করে বাপ্পিকে হত্যার ঘটনায় তার মা জমিলা খাতুন শনিবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম  ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে

    ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদা দাবি, রেস্টুরেন্ট দখল, জোরপূর্বক নৃত্য করানো ও উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে বারবার হামলার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করছেন ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম হোসাইন।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে তার মা এই অনশনে যোগ দিয়েছেন। এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি আমরণ অনশনে রয়েছেন।

    ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসাইনের দাবি, ‘আমি আমার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এবং ফেনী-১ আসনের এমপি রফিকুল আলম মজনু ভাইকে পর্যন্ত জানিয়েছি। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইকবাল ভাটকেও জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। বরং ওরা আমাকে বারবার হেনস্তা করেছে। আমার দখলকৃত দোকান উদ্ধারের চেষ্টা করলে হুমকি দিয়েছে। প্রশাসন থেকেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

    তিনি বলেন, ‘আমার অবস্থা খারাপ। সময় যত যাচ্ছে, তত আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আমি দ্রুত আমার দাবির বাস্তবায়ন চাই। আমি এদের বিচার ও রেস্টুরেন্টের উদ্ধার চাই দ্রুত।’ এ,আর

  • হরমুজে তেলবাহী দুই জাহাজে আগুন

    হরমুজে তেলবাহী দুই জাহাজে আগুন

    হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী জাহাজে (ট্যাংকার) আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। জাহাজ দুটির প্রতিটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল।

    ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার একটি জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজ দুটির নাম বা এগুলোতে বহন করা তেলের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ইরনার খবরে দাবি করা হয়, জাহাজ দুটি তাদের রাডার বন্ধ করে দিয়েছিল ও ইরানের অননুমোদিত রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এবং অন্যটি সাগরেই অচল হয়ে পড়ে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর দেশটি হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এর পর থেকে তেহরান বলছে, এ পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের আগে ইরানের অনুমতি নিতে হবে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

    চলতি সপ্তাহে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমাই সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রাখবে, সেগুলো ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড, আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও) এবং যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, গত রোববার হরমুজ প্রণালি বা এর কাছাকাছি ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে সর্বোচ্চ। গত দুই সপ্তাহে এই জলপথের চারপাশে হামলা ব্যাপক বেড়েছে।

    ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও গত মাসে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

    তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর এই পথ দিয়ে যেখানে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছিল, ১১ অক্টোবর তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২৯ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। এ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে।

  • মদনে সাংবাদিক হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবিতে  মানববন্ধন

    মদনে সাংবাদিক হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার মদন উপজেলায় কর্মরত রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে ক্লাব প্রাঙ্গনে মদন-কেন্দুয়া সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মো: সাকের খানের সঞ্চালনায় মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সভাপতি নূরুল হক রনুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফয়েজ আহমেদ হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন আহমেদ, খোলা কাগজ প্রতিনিধি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর পনির, প্রতিদিনের সংবাদ প্রতিনিধি ও অর্থ সম্পাদক নূর মুহাম্মদ জরিপ, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি ও সম্মানিত সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

    সভাপতি নূরুল হক রনু বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে নিহত সাংবাদিক এর আগেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করা হতে পারে বলে অবগত করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জানা যায়, গতকাল অপূর্ব নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমরা সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল আসামিদের গ্রেফতার ও ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এ,আর

  • ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তো আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? এটা তো আপনাকে উল্লেখ করতে হবে। বলতে হবে, ফ্যাসিস্টদের পথ মানে কোন পথে এগোচ্ছে? একটা দৃষ্টান্ত দেখান। পথটা কি মেঠোপথ, না পাকা রাস্তা, নাকি ইটের রাস্তা?

    রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনারা ৫ আগস্টের পর বললেন যে আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। বিএনপির কোনো নেতা বলেননি এবং প্রধান নেতা তারেক রহমানও বলেননি, বলেছেন আপনারাই। এখন বলছেন যে ফ্যাসিস্টদের পথেই হাঁটছে বিএনপি। আসলে আপনারা কোন পথে হাঁটছেন, এটা জনগণ বেশি প্রত্যক্ষ করছে। বিএনপিকে জনগণ চেনে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ আপনারা করেছেন। আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলোই করেছেন। শেখ হাসিনার যে পথ, সে পথ ধরেই করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, এরশাদ একটা অবৈধ সরকার, তার অধীনে নির্বাচন করব না। সে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছে। তার অধীনে নির্বাচন করব না। এ কথা হাসিনাও বলেছেন। এ কথা জামায়াতও বলেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসিনা এরশাদের অধীনে গেছেন। জামায়াতও গেছে। সুতরাং আপনারা তো ইতিহাসে প্রমাণ রেখেছেন। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন, বলেন—কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে আপনারা একই পথে হেঁটেছেন। আওয়ামী লীগের পথেই হেঁটেছেন। সুতরাং ইতিহাসের প্রমাণ বা উদাহরণগুলোকে অগ্রাহ্য করে আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন।

    রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তিই বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অসংখ্য নেতাকর্মীর গুম, গুপ্তহত্যার আত্মদান এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শিক চেতনা। কিন্তু আপনাদের সেই চেতনা আছে কি না, এটা আমাদের জানা নেই। আপনারা কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনাদের আদর্শিক কোনো জায়গা নির্মাণ করেননি। এই কারণেই জনগণ আপনাদের এখনো সন্দেহের চোখে দেখে। একাত্তর, এরশাদ আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং তারপরও গণতন্ত্রের আন্দোলনে আপনাদের কখনোই একটি আদর্শিক পথ ধরে হেঁটে যেতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি।

    আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী-বিষয়ক সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমুখ।

  • কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নবনির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে শহরের শহীদ স্মরণি এলাকার কোরাল রিফের নবনির্মিত পূর্বিতা ভবনে এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন শরীয়তপুরের আবদুল কাদেরের ছেলে মো: আরমান, বরিশালের শামীম ও ভোলার কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, নারায়ণগঞ্জের রাহাত নামে এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে সেখানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ করা হতো। এর আগে ওই ফ্ল্যাট থেকে ২০ লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। রাহাতসহ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাসসহ দুটি বাস পুড়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাতুয়াইল মাদ্রাসা রোডের একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী রুটে চলাচলকারী ‘নোঙর’ বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একটি বাসে ঝালাইয়ের কাজ করার সময় আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে জবির বাসে। এতে বাস দুটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। জবির বাসটির ভেতরের আসনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, আগের দিন বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে দেওয়া হয়েছিল। আগুন লাগার সময় বাসে কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না।

    তিনি আরও বলেন, গ্যারেজ মালিক বাসটি সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এগোচ্ছেন না তারা।

  • পাঁচবিবিতে  শ্বশুরবাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে   জামায়ের মৃত্যু

    পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামায়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আবুল কালাম আজাদ (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবুল কালাম আজাদ উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের ছাতিনালী গ্রামের মরহুম আব্বাস মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্বশুরবাড়ির পুকুর সেচের জন্য পানির মোটরে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে যান আবুল কালাম। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোমেনা খাতুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ,আর

  • মেসি এই বয়সে যেভাবে খেলছে ‘অবিশ্বাস্য’

    মেসি এই বয়সে যেভাবে খেলছে ‘অবিশ্বাস্য’

    ফুটবল বিশ্বের এই সময়ের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। জাতীয় দলে না খেললেও ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।

    শনিবার রাতে আটলান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। একক দক্ষতায় দুটি গোল করেছেন মেসি।

    তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে খেলা শেষে ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিশ্চিয়ান গঞ্জালেজ বলেছেন, ‘মেসি প্রতি বারই গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিতে পারে। ৩৯ বছরে এসে কেউ এ রকম ফুটবল খেলছে, এটা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’

    শনিবারের ম্যাচের প্রথমার্ধের একিবারে শেষ মুহূর্তে মায়ামিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জার্মান বারটেরাম। সেই গোলের ক্ষেত্রে পাস ছিল মেসির। দ্বিতীয়ার্ধে চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার।

    খেলার ৫৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে গোলের জন্য ছুটেন মেসি। পেনাল্টি বক্সে ঢুকে বিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন তিনি।

    ৬০ মিনিটে একই কায়দায় আবার গোল করেন মেসি। এবার লুই সুয়ারেজের পাস থেকে পেয়ে এগিয়ে যান মেসি। সামনে আটলান্টার ডিফেন্ডার চলে এলেও মেসিকে আটকাতে পারেননি। বিপক্ষের গোলকিপার লুকাস হোয়োসকে বোকা বানিয়ে দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি। পরে আটলান্টার হয়ে একটি গোল করেন ফাফা পিকল্ট।

  • বগুড়ায় ৩০০০ প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ উপহার

    বগুড়ায় ৩০০০ প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ উপহার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক স্থানে তিন হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে

    রোববার (১৮ অক্টোবর) গাবতলী উপজেলা সদরে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর অর্থায়নে ও পদ্মপাড়া জেডফোর্স-এর সহযোগিতায় এক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি মো: হেলালুজ্জামান তালুকদার‌ লালু।

    এছাড়া একইদিন বিকেলে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক হাজার ও শিবগঞ্জের মহাস্থানে এক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    গাবতলীর পদ্মপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও কারিগরি এতিমখানা মাঠে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান নূরুন নেওয়াজ সেলিম, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ড. মো: আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান বোর্ড অব ডিরেক্টরস খায়রুল আলম চাকলাদার, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি বোর্ড অব ডিরেক্টরস ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি চেয়ারম্যান বোর্ড অব ডিরেক্টরস মো: নূরুন নেওয়াজ।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক গবেষণাগার প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মেহেদী হাসান পাঠান, গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু, উপজেলা কৃষি অফিসার মাহিদুল ইসলাম, কৃষক আনিসা বেগম, আশরাফুল হুদা ট্রফিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

    এসব অনুষ্ঠানে মোট তিন হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এ সময় প্রতিটি কৃষকের মাঝে প্রায় ৪৬ দশমিক পাঁচ কেজি সার, একটি সবজি বীজের প্যাকেট, একটি গেঞ্জি ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • কলকাতার মণ্ডপে ১৯ মৃত্যু

    কলকাতার মণ্ডপে ১৯ মৃত্যু

    উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবে ১৯ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে চলে এসেছে। কারণ, চোরবাগান দুর্গোৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাতিজা দেবদীপ অধিকারী। চোরবাগান পূজা কমিটি প্রকাশিত এক পোস্টার মারফত এই তথ্য সামনে এসেছে।

    পোস্টারে দেবদীপ অধিকারীর নাম ‘চিফ প্যাট্রন’ বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। এ ছাড়া জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা এই পূজা কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে জড়িত বলে জানানো হয়েছে।

    শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস জানতে চেয়েছে এত মৃত্যুর জন্য দায়ী কে এবং এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পূজা কমিটির পোস্টার প্রকাশ করে আক্রমণ শাণানো হয়েছে। চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার দুপুরে লিখেছে, ‘প্রথম তিনটি নামের বিরুদ্ধে কি কলকাতা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে, নাকি অবৈধ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁদের আড়াল করছেন? দেবদীপ অধিকারী-প্রধান পৃষ্ঠপোষক, শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো, বিজয় ওঝা-পুজোর চেয়ারম্যান এবং বিজেপির বিধায়ক ও তন্ময় ঘোষ পুজোর প্রধান উপদেষ্টা এবং বিজেপি জেলা সভাপতি, উত্তর কলকাতা।’

    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, ‘তারা কি সমানভাবে দায়ী নয়? মুখ্যমন্ত্রী নিজে চোরবাগান পূজা প্যান্ডেলের উদ্বোধন করেছিলেন, প্যান্ডেলে যাওয়ার সময় কি তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখেননি? হারানো প্রতিটি প্রাণের জন্য কি তাঁকে দায়বদ্ধ করা হবে না।’

    শনিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফুটেজে যাঁদের গাফিলতি ধরা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতোই বিপর্যয়ের পর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির একাধিক কর্তা, ভিআইপি পাস ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং দুই বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীও। তবে পোস্টারে প্রকাশিত নাম থাকা সত্ত্বেও দেবদীপ অধিকারীর নাম গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় নেই। নেই বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা অথবা দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও।

    অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাতিজা নাবালক না সাবালক কিংবা তিনি কলকাতায় থাকেন কি না, এসব তথ্য তাঁর জানা নেই। পাশাপাশি, তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত থাকার কথা জানিয়ে সেই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার উত্তর দিতে অপারগতাও প্রকাশ করেন।

    ইতিমধ্যে শনিবারের দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন, যাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার সকালেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিপর্যয়ে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে তাঁর নির্ধারিত সব কর্মসূচি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে এবং ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তসহ নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

  • কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। এ সময় নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া মোহনা, লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জব্দ করা জালের মধ্যে সাত হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল ও এক হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন ব্যক্তি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে অবৈধ জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আজকের অভিযানে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো প্রজনন মৌসুমে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    কাউখালীর ইউএনও রেহানা আক্তার বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিন-রাত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • কটিয়াদীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    কটিয়াদীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুকুরের পানিতে ডুবে সুমাইয়া আক্তার (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া আতকাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু সুমাইয়া আক্তার দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া আতকাপাড়া গ্রামের মো: মানিক মিয়ার মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সহপাঠীদের সাথে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে সুমাইয়া। গোসলের একপর্যায়ে সে অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সাথে থাকা সহপাঠীদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় তার ব্যক্তিগত স্থান কিছুটা পরিবর্তনের আলামত পাওয়া গেছে। তাকে ধর্ষণের পর পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ,আর

  • ফ্রান্সে বিক্ষোভ,আটক ১৪০০, সিটি হল ধ্বংস

    ফ্রান্সে বিক্ষোভ,আটক ১৪০০, সিটি হল ধ্বংস

    মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল ধ্বংস হয়ে গেছে। দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে সিটি হলটি প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে টিকে ছিল।

    স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মরিস বারাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিমের অংশটি ছাড়া ভবনটির পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। আর হলের বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ১৪৩ বছরের পুরোনো এই ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকে ‘ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন মরিস বারাত। তিনি এ ঘটনাকে ‘দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে গতকাল শনিবার লিমোজ সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি হলের বাইরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী ভবনটির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেন।

    শত শত মানুষ সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছেন। ভবনটিতে যখন আগুন জ্বলছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন স্থানীয় কাউন্সিলর এক পৌরকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভবন আগুনে পুড়ছে দেখে ওই কর্মী কাঁদছিলেন।

    লিমোজ সিটি হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ভবনের ক্লক টাওয়ারটি ধসে পড়েছে। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

    লিমোজ সিটি হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ভবনের ক্লক টাওয়ারটি ধসে পড়েছে। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: এএফপি

    ওই বিক্ষোভের সময় লিমোজ শহরের কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানেও লুটপাট চালানো হয়েছে।

    ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দেশজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এদিন রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ফরাসি সরকার বলেছে, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তবে ফ্রান্সে শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কাজ করা সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, এদিন প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে বলে তাদের ধারণা।

    প্যারিসে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে যায়।

    প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

    প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা চালান। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

  • মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

    মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

    বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য তথা সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে চায় জাপান। মূলত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রসার বাড়াতে এ পরিকল্পনা করছে টোকিও।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর সামনে রেখে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এতে মাতারবাড়ী বন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্ব পেতে পারে।

    দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, “মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে। ”

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।

    এর মধ্যে মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনায় গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহণে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে বড় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে।

    জাপানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি শিল্প ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এ উদ্যোগের সুফল ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারও পেতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক করিডরকে উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান।

    দেশটির এক কূটনীতিকের মতে, বন্দর ও সাউদার্ন ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাতারবাড়ীকেও একই ধরনের আঞ্চলিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জাপান।

    তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়, যা ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি।

    জাপানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

    দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সফরের আলোচ্যসূচিতে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগও রয়েছে।

  • জামানতবিহীন ৫০০ কোটির তহবিল: তরুণ উদ্যোক্তা হতে আবেদন ১৮ হাজারেরও বেশি

    জামানতবিহীন ৫০০ কোটির তহবিল: তরুণ উদ্যোক্তা হতে আবেদন ১৮ হাজারেরও বেশি

    তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে জামানতবিহীন অর্থায়ন পেতে দেশের আট জেলার সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি তরুণ আবেদন করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া এসব আবেদনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমা পড়েছে নেত্রকোনা জেলা থেকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আট জেলায় আবেদন গ্রহণ করা হয়।

    জেলাভিত্তিক হিসাবে নেত্রকোনায় ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন জমা পড়েছে।

    এ ছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে এক হাজার ৫৫২টি, ভোলায় এক হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে এক হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে এক হাজার ২৬১টি আবেদন জমা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সাড়া পাওয়ায় এবার দেশের অন্যান্য জেলার তরুণদের কাছ থেকেও আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য ৮ জেলার বাইরে অন্যান্য জেলার আগ্রহী তরুণেরা এক থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ উপজেলার যে কোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন করতে পারবেন।

    ৫ হাজার ৩০ জন পাবেন অর্থায়ন
    এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০৩ উপজেলার ৫ হাজার ৩০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সহযোগী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২৫০ কোটি টাকা করে দেবে।

    একেকজন উদ্যোক্তাকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। এর একটি অংশ অনুদান হিসেবে এবং অবশিষ্ট অর্থ ৪ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    কারা পাবেন সুবিধা
    আবেদনের শেষ দিনে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে।

    আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

    কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি ই-কমার্স, ফিনটেক, অ্যাডটেক, অ্যাগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ এবং অন্যান্য বৈধ আয়মুখী উদ্যোগও এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।

  • তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

    তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

    তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার রাজধানী তিউনিসে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার রক্ষা ও জীবনযাত্রারে ব্যয় কমানোর দাবিতে এই বিক্ষোভ হয়েছে।

    দেশটির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন ইউজিটিটি, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা গণমিছিল নিয়ে তিউনিসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দাবি জানান। প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।

    গণমিছিলে পিপলস মুভমেন্ট, এন্নাহদা মুভমেন্ট এবং ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।

    বিক্ষোভ মিছিল শেষে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ইউজিটিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সালমি বলেন, সরকার যদি আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয়, তবে রাজপথ এবং চত্বরগুলোই হবে প্রতিবাদের মূল মঞ্চ। তিউনিসিয়ার মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    সালমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিউনিসিয়াকে কোনো একজন ব্যক্তির শাসনে চলতে দেওয়া যায় না। এমন একটি সরকারের হাতে দেশ ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা জনগণের কথা শোনে না।’

    বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনির জেলাসি। তিনি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ তুলে ধরে বলেন, প্রথমত দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিন দিন কমে আসছে। মৌলিক স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চলমান অর্থনৈতিক সংকট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবন যাপন করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

  • স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও সিভিল সার্জনদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির, অর্থাৎ ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ, ছাড়কৃত পদের সংখ্যা, নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের সংখ্যা এবং নিয়োগের তারিখ সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনো পদে নিয়োগ না হয়ে থাকলে তার কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • ৯৯ বছর বয়সে বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড

    ৯৯ বছর বয়সে বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড

    বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে আকাশে ওড়ার দুঃসাহসিক কীর্তি গড়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন ৯৯ বছর বয়সী হেলগা ডাফি নামের এক নারী। এভাবে আকাশে ওড়াকে বলা হয় ‘উইং ওয়াক’ বা ডানার ওপর হাঁটা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী হিসেবে উইং ওয়াক সম্পন্ন করেছেন তিনি। এ কীর্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজের নাম তুলেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে, অন্যদিকে উইল্টশায়ার অ্যান্ড বাথ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের সিরেনসেস্টারের আরএফসি রেন্ডকম্ব এয়ারফিল্ডে এ দুঃসাহসিক কাজ সম্পন্ন করেন হেলগা। এ সময় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা তাকে একটি সনদ তুলে দেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় হেলগা বলেন, তার বাবা বেঁচে থাকলে এই অর্জনে নিশ্চয়ই গর্বিত হতেন।

    ৯৭ বছর বয়সী বেটি ব্রোমেজকে একই ধরনের দুঃসাহসিক কাজ করতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন হেলগা। এরপরই তার মনে বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে ওড়ার ইচ্ছা জাগে। হেলগা জানান, তার বাবা সব সময় সন্তানদের কাছ থেকে সেরাটা আশা করতেন। বাবার সেই প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা তিনি সব সময় করেছেন। বাবা বেঁচে থাকলে তার প্রথম সন্তানকে নিয়ে গর্ব করতেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। হেলগার এই দুঃসাহসিক কীর্তি দেখতে উপস্থিত ছিলেন তার দুই ভাতিজি জ্যাকি রোজ ও জুলি প্রিস। তাদের ভাষায়, হেলগা একজন স্বাধীনচেতা ও স্পষ্টভাষী নারী।

    জ্যাকি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই হেলগা অন্য রকম কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। ৯৯ বছর বয়সেও যে তিনি বহু বছর আগের সেই একই মানুষ, তা সবাইকে দেখাতে চেয়েছেন। হেলগার এই উদ্যোগ তাদের আবেগাপ্লুতও করেছে।

    কারণ, তিনি যে দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন, সেই উইল্টশায়ার অ্যান্ড বাথ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই তাদের মাকে জীবনের শেষ যাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দাতব্য সংস্থাটির প্রতিনিধি স্যাম কনওয়ে হেলগার সাহসিকতার প্রশংসা করে তাকে একজন কিংবদন্তি বলে অভিহিত করেছেন। বয়স যে সাহস ও নতুন কিছু করার পথে বাধা হতে পারে না, হেলগা ডাফির এই কীর্তি যেন তারই অনন্য উদাহরণ।

  • রূপালী ব্যাংকের  বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

    রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভাগাধীন শাখাগুলোর ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার খুলনা শহরের সিএসএস আভা সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

    সভায় তিনি ‘ঋণ বিতরণ বর্ষ ২০২৬’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন, ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ আদায় এবং বাংলা কিউআর মার্চেন্ট অন্তর্ভুক্তি ও লেনদেনে খুলনা বিভাগের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ।

    এ ছাড়া সভায় বিভাগাধীন তিনটি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক ও জোনাল ম্যানেজার মো. সাহাদ আলী, মুজিব আলম ও শেখ আলাউদ্দিন হোসেনসহ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সব শাখা ও উপশাখার ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘চলো ফ্রান্সে যাই, বিপ্লবে যোগ দিই’-ট্রাম্প

    ‘চলো ফ্রান্সে যাই, বিপ্লবে যোগ দিই’-ট্রাম্প

    ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস অস্থিরতা নিয়ে ঠাট্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়া, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফ্রান্সকে বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা বলে কটাক্ষ করেন তিনি। ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘চলো ফ্রান্সে যাই? জায়গাটি চমৎকার। কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। জানেন, বিপ্লবের জন্য ফ্রান্সকে যেন ভীষণ ভালো জায়গা বলে মনে হয়। এটা অবিশ্বাস্য। চলো ফ্রান্সে যাই এবং বিপ্লবে যোগ দিই।’ এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ার পর রোববার সকালে ফ্রান্সের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের উত্তরসূরি নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।


    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এ জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলো অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে একীভূত করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    এক্সে দেয়া এক পোস্টে ভ্যান্স লিখেছেন, বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। তারা সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়া এবং সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছে। তিনি আরও লিখেছেন, তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। কিন্তু তারা সে সতর্কতা শোনেনি। আমি প্রার্থনা করি, অসাধারণ মানুষের সুন্দর দেশ ফ্রান্স আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার আগেই এই উন্মাদনা বন্ধ করবে। আশা করি, আমেরিকানরাও বিষয়টি থেকে শিক্ষা নেবেন। কংগ্রেসের ডেমোক্রেটরা আপনাদের দেশের জন্য এমন ভবিষ্যৎই চান।

    শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত দেশব্যাপী মিছিল একপর্যায়ে রাস্তায় সহিংসতা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত মিছিলের পাশেই সহিংসতা শুরু হয়।

    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভে অংশ নেয়া শ্রমিক সংগঠন সিজিটি জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, শহরের ‘পুরো সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে’। মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দোকানপাটে লুটপাট চালায়।

    ফ্রান্সের লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা একটি টাউন হলে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ভবনটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা। এ ছাড়া মার্সেই ও লিলে আরও দুটি টাউন হলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। বোর্দো শহরে পুলিশের একটি স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে, লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর করেছে, সরকারি দপ্তর বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে কিংবা লুটপাট করেছে- এমনকি যারা আমাদের টাউন হলগুলোতেও এসব করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে।

  • আঞ্চলিক সংকট নিরসনে পাকিস্তান- ইরান আলোচনা

    আঞ্চলিক সংকট নিরসনে পাকিস্তান- ইরান আলোচনা

    আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানো ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেছে।

  • ভটভটির ধাক্কায়েএকজন মৃত্যু

    ভটভটির ধাক্কায়েএকজন মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় জোসনা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর এলাকায় রহনপুর-আড্ডা আঞ্চলিক সড়ক পার হওয়ার সময় ভটভটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নিহত জোসনা বেগম গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের কাজিগ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন মতির স্ত্রী। তাঁর বয়স পঞ্চাশোর্ধ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মাধাইপুর এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন জোসনা বেগম। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটি তাঁকে ধাক্কা দেয়।

    এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে রহনপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাঁকে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনায় নিহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। এ কারণে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে জোসনা বেগমকে দাফন করা হয়।

  • বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

    বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও চার সহ-সভাপতি।

    ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় বাংলাদেশের ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাফুফে কর্মকর্তারা।

    ভুটান সফরে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ফিফা) সভাপতি।

    এ বিষয়ে বাফুফে সহসভাপতি ও গর্ভমেন্ট রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি জানান, ‘সভাপতি ও আমরা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে ট্যাকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফিফার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাসও দিয়েছেন।’

    দুপুর ২টা পঞ্চাশ মিনিটে ঢাকা থেকে থিম্পুর উদ্দেশ্যে রওনা হন ইনফান্তিনো। ভূটানে দুদিন থাকবেন তিনি। ২০ তারিখ ফেরার পথেও বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঐ সময় অবশ্য বাফুফে কর্মকর্তারা জাপানে এএফসি বিশেষ কংগ্রেসে থাকবেন।

    এর আগে ২০১৭ সালে একদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

  • বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান আগামী বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিজেদের সেরাটা দেব। আশা করি ট্রফি আবার পাকিস্তানে ফেরত আনতে পারব।’

    ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। তবে আগামী বছর বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান।

    বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন জানিয়ে পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান বলেন ‘আইসিসি ট্রফি জেতার জন্য আমাদের উপরে চাপ রয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটানোর ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

    তারকা এই ওপেনার আরও জানান, ‘দীর্ঘ দিন আইসিসি ট্রফি না জেতার কারণে মানুষ হতাশ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখেছি যে, ভালো খেললে সমর্থকদের ভালোবাসা এবং সমীহ পাই। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার চেয়ে ট্রফি জিতলে গোটা দেশ যে ভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে, তা পুরো আলাদা অনুভূতির।’

    বর্তমানে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে এই তারকা ওপেনিং ব্যাটার বলেন, ‘বিশ্বকাপে দল গঠনের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামছে।’

  • প্রায় কুড়ি কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

    প্রায় কুড়ি কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫৫ লিটার বাংলা মদ ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার কক্সবাজার ব্যাটালিয়নে (৩৪ বিজিবি) এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। ধ্বংস এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজারমূল্য ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা।
    বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাটালিয়ন সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।এ সময় রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক, বান্দরবানের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) গত এক বছরে সর্বমোট ১৬০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করেছে। এ সময়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ২৮৫ জন আসামিকে আটক করা হয়।

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৩৪ বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)।

  • ‘ইয়ামালই বিশ্বসেরা’- বললেন নেইমার

    ‘ইয়ামালই বিশ্বসেরা’- বললেন নেইমার

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের আগে লামিনে ইয়ামালকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় দাবি করেছেন ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। বার্সেলোনার এই খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন লামিনেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।

    নেইমার বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ, দুই ক্লাবেই কিংবদন্তী লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি নিজের পছন্দ পরিষ্কার করেন। পোস্টে ইয়ামালের চলতি মৌসুমের পরিসংখ্যানের সঙ্গে পিএসজিতে নেইমারের নিজের সেরা মৌসুমের তুলনা করা হয়েছে। স্পেনের এই তারকাকে ট্যাগ করে নেইমার লেখেন, ‘বিশ্বের সেরা।’

    নেইমার সোফাস্কোর প্ল্যাটফর্মের একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে এ মৌসুমে ১০ ম্যাচে ইয়ামালের আট গোল ও নয় অ্যাসিস্টের কথা তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল রিয়াল বেটিসকে ৫-২ গোলে হারানোর ম্যাচে ইয়ামাল আরও এগিয়েছেন। তিনি প্রথম গোলটি করেন এবং আরেকটি গোলে সহায়তা করেন।

    নেইমার ২০১৭-১৮ মৌসুমে পিএসজিতে প্রথম মৌসুম কাটান। সেবার ২৭ ম্যাচে তার গোল ছিল ২৫টি আর অ্যাসিস্ট ১৬টি। শেয়ার করা তুলনা অনুযায়ী, সোফাস্কোরের রেকর্ডে সবচেয়ে বেশি রেটিং আছে এই দুজনের। তালিকার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর মধ্যে বার্সেলোনায় মেসির কয়েকটি মৌসুমও আছে।

    নেইমারের এই সমর্থন ইয়ামালের জন্য বাড়তি গুরুত্ব রাখে। ইয়ামাল বহুবার নেইমারকে নিজের আদর্শ বলেছেন। তার খেলার ধরনেও নেইমারের প্রভাব আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ইয়ামালের ঝলক, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতায় প্রায়ই নেইমারের ছায়া দেখা যায়।

    ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হয়ে উঠেছেন। বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে নজর কাড়ছেন। অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় থাকা ফুটবলবিশ্বে নেইমারের প্রকাশ্য সমর্থন তাকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়াল।

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর। এবার আয়োজন লন্ডনের প্যালাডিয়ামে। এত দিন প্যারিসেই এই অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে।

    বার্সেলোনার অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে ইয়ামাল আগেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যাকে দেখে বড় হয়েছেন, সেই নেইমারের স্বীকৃতি তার উত্থানের পথে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

  • কওমি অকওমি বিরোধ কাম্য নয়

    কওমি অকওমি বিরোধ কাম্য নয়

    রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের স্লোগান বা গোত্রভিত্তিক অন্ধ অহংকারের দিকে মানুষকে ডাকবে, সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”মুহাম্মদ আবুল হুসাইন

    ‘কওমী’ (قومي) একটি আরবি শব্দ, যার সাধারণ বা আভিধানিক অর্থ হলো ‘জাতীয়’ (National), গোত্রীয় বা সম্প্রদায়গত। এটি আরবি ‘কওম’ (قوم) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ জাতি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়। তবে বাংলাদেশে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ‘কওমী’ শব্দটি একটি বিশেষ পারিভাষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা বৈশ্বিক সাধারণ অর্থের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন:

    • বেসরকারি বা জাতীয় ঐতিহ্যবাহী: বাংলাদেশে ‘কওমী মাদ্রাসা’ বলতে এমন শিক্ষাব্যবস্থাকে বোঝায় যা সরকারি অনুদান বা নিয়ন্ত্রণ মুক্ত এবং সম্পূর্ণভাবে জনসাধারণ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সাহায্য-সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
    • ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য: এই অর্থে ‘কওমী’ বলতে বোঝায় যা নির্দিষ্ট কোনো সরকারের অধীনে নয়, বরং মুসলিম ‘কওম’ বা জাতির নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য জনমানুষের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

    সহজ কথায়, বিশ্বজুড়ে আরবি ভাষায় ‘কওমী’ মানে ‘রাষ্ট্রীয় বা জাতীয়’ (যেমন: আল-শাবাব আল-কওমী বা জাতীয় যুব সংস্থা), কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রায়োগিক অর্থ ‘বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা কওমের (জনসাধারণের) নিজস্ব’।

    ইসলামে নিজের গোত্র বা বংশকে কেবল পারস্পরিক পরিচিতি এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যম হিসেবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যখনই এই গোত্র বা বংশের পরিচয় “জাতীয়তাবাদ” বা “অন্ধ দলপ্রীতি” (আসাবিয়্যাহ)-তে রূপ নেয়—যেখানে হক-বাতিলের তোয়াক্কা না করে কেবল নিজের দলের বা বংশের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা হয়—তখনই তা ইসলামে কঠোরভাবে হারাম এবং জাহেলিয়াত হিসেবে গণ্য হয়।

    হারিস আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের স্লোগান বা গোত্রভিত্তিক অন্ধ অহংকারের দিকে মানুষকে ডাকবে, সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

    সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সে যদি সালাত (নামাজ) আদায় করে এবং সিয়াম (রোজা) পালন করে, তবুও?”

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “হ্যাঁ, সে যদি নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে, তবুও (সে জাহান্নামী)। অতএব, তোমরা আল্লাহর দেওয়া নামে ডাকো, যিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম, মুমিন এবং আল্লাহর বান্দা।” (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

    হাদিসটি ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে এবং ইমাম তিরমিজি (হাদিসটি হাসান ও সহিহ বলেছেন) সংকলন করেছেন।

    অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমানে কওমি ঘরানার আলেমরা নিজেদেরকে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠিতে পরিণত করেছেন। তারা নিজেদেরকে একমাত্র ‘‘হকপন্থী ও সর্বশ্রেষ্ঠ’ এবং কওমী ঘরানার বাইরের আলেমদেরকে বিভ্রান্ত ও নিকৃষ্ট মনে করে থাকেন। তাদের কারণে আলেমদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদ বাড়ছে।

    ইসলাম-পূর্ব আরবে (জাহেলী যুগে) মানুষের মূল নীতিই ছিল: “তোমার ভাই (গোত্রের লোক) জালেম হোক বা মজলুম হোক, তাকে অন্ধভাবে সাহায্য করো।” অর্থাৎ, নিজের গোত্রের লোক অন্যায় করলেও তার পক্ষ নিয়ে অন্য গোত্রের ওপর আক্রমণ করা হতো।

    ইসলাম এসে এই অন্ধ জাতীয়তাবাদকে উপড়ে ফেলে ন্যায়বিচারের সার্বজনীন নীতি প্রতিষ্ঠা করে। ইসলাম বলে, নিজের বাবা, সন্তান বা গোত্র যদি অন্যায় করে, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষ নিতে হবে।

    ইসলামে দেশপ্রেম (নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসা এবং তার কল্যাণ কামনা করা) এবং জাতীয়তাবাদ (বংশ বা ভৌগোলিক সীমানার ভিত্তিতে নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং অন্ধ পক্ষাবলম্বন করা)—এই দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

    • অনুমোদিত ভালোবাসা: নিজের পরিবার, গোত্র বা দেশকে ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিজের জন্মভূমি মক্কাকে ভীষণ ভালোবাসতেন।
    • নিষিদ্ধ জাতীয়তাবাদ: যখন এই ভালোবাসা অন্ধ রূপ নেয় এবং মানুষ বলতে শুরু করে “আমার জাতি বা দেশ ভুল করলেও আমি তার পক্ষেই থাকব” অথবা “আমাদের বংশই সেরা, বাকিরা নিকৃষ্ট”—তখনই তা ‘জাহেলিয়াত’ বা হারাম জাতীয়তাবাদে রূপ নেয়।

    সারসংক্ষেপ: আপনার উত্থাপিত পয়েন্টটি সম্পূর্ণ সঠিক। ইসলামে বংশীয় বা গোত্রীয় অহংকার এবং সেই ভিত্তিতে দলাদলি করা স্পষ্ট হারাম। একজন মুসলমানের আসল পরিচয় সে মুসলিম এবং উম্মাহর অংশ; বংশ বা গোত্র কেবল একটি সামাজিক পরিচিতি মাত্র।

    ইসলামী পরিভাষায় এবং আকাবিরদের সোনালী ইতিহাসে এই ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার কোনো স্থান নেই। কওমি ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা ও পূর্বসূরি আকাবিরদের মূল আদর্শ যেখানে ছিল উদারতা এবং উম্মাহর ঐক্য, সেখানে বর্তমান সময়ে এসে কোনো কোনো মহলে যে সংকীর্ণতা বা দলপ্রীতি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত পূর্বে আলোচিত সেই ‘আসাবিয়্যাহ’ বা অন্ধ গোষ্ঠীপ্রীতিরই একটি আধুনিক রূপ।

    ইসলামে ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ বা সঠিক পথের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। ঈমানের মূল বিষয়গুলো ঠিক রেখে ফিকহী বা কার্যগত বিষয়ে (যেমন: হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী, কিংবা সালাফী ও আহলে হাদিস ভাইদের মধ্যে) মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক এবং এটি সাহাবিদের যুগ থেকেই চলে আসছে।

    • কোনো নির্দিষ্ট মাদ্রাসা, দল, বা সিলসিলার সাথে যুক্ত থাকাই পরিত্রাণের একমাত্র গ্যারান্টি হতে পারে না।
    • পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম কখনোই নিজেদের মতামতকে একমাত্র ধ্রুব সত্য এবং অন্যদের মতামতকে বাতিল বা নিকৃষ্ট মনে করতেন না। তারা বলতেন: “আমার মতামত সঠিক, তবে এতে ভুলের সম্ভাবনা আছে; আর অন্যের মতামত ভুল মনে হলেও তাতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

    কুরআন ও হাদিসে আলেমদেরকে উম্মাহর পথপ্রদর্শক এবং নবীগণের উত্তরাধিকারী বলা হয়েছে। কিন্তু যখন পথপ্রদর্শকদের মধ্যেই কাদা ছোড়াছুড়ি, অহংকার এবং অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতা বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনের প্রতি এক ধরনের অনীহা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বীনি বিষয়ে কঠোরতা ও সংকীর্ণতা পরিহার করে সহজীকরণ ও মানুষকে কাছে টানার নির্দেশ দিয়েছেন।

    পূর্বে আমরা যে হাদিসটি আলোচনা করেছি—যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) গোত্র বা বংশের ভিত্তিতে অন্ধ অহংকারকে ‘জাহেলিয়াত’ বলেছেন—বর্তমান যুগে তার প্রয়োগ কেবল বংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান যুগে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, পীর-মুরিদির সিলসিলা বা মাদ্রাসার ঘরানাকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অন্ধ দলপ্রীতি তৈরি করে এবং নিজের দলের বাইরের সব সৎ মানুষকেও ‘ভ্রান্ত বা নিকৃষ্ট’ মনে করে, তবে তাও এক প্রকার সাংগঠনিক বা ঘরানাভিত্তিক আসাবিয়্যাহ, যা ইসলামে পুরোপুরি নিন্দনীয়।

    উম্মাহর এই সংকটের মাঝেও কওমি ঘরানা এবং অন্যান্য ঘরানার মধ্যেও এমন অনেক উদারপন্থী, মুখলিস ও দূরদর্শী আলেম আছেন, যারা উম্মাহর ঐক্যের জন্য কাজ করছেন। তারা অন্য ঘরানার আলেমদের ইলম ও আমলকে শ্রদ্ধা করেন এবং পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই সংকীর্ণতা যাদের মধ্যে রয়েছে, সমালোচনাটা মূলত সেই বিশেষ মানসিকতার প্রতি, পুরো ঘরানার প্রতি নয়।

    ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ব্যক্তিকে তার দল বা ঘরানা দিয়ে নয়, বরং তার ইলম, তাকওয়া এবং কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে। ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভেদ দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ফিরিয়ে আনা এই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

    ইসলামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার (ইজতিহাদ) সুযোগ থাকার কারণে মতপার্থক্য হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি এবং বড় বড় ইমামদের মধ্যেও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে আমাদের বর্তমান যুগের মতো কাদা ছোড়াছুড়ি বা হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না।

    ইসলামী শরীয়তে মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে যে সুনির্দিষ্ট আদব ও নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাকে ‘আদাবুল ইখতিলাফ’ (آداب الاختلاف) বা মতপার্থক্যের শিষ্টাচার বলা হয়। নিচে এর মূল নীতিমালাগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. নিয়তের ইখলাস (বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য)

    যেকোনো দ্বীনি আলোচনায় মূল উদ্দেশ্য হতে হবে সত্যকে উন্মোচন করা, নিজের অহংকার প্রকাশ বা অন্যকে হারিয়ে দেওয়া নয়। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলতেন:

    “আমি যখনই কারো সাথে বিতর্ক করেছি, তখনই আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি যেন আল্লাহ সত্যকে আমার প্রতিপক্ষের মুখ দিয়ে প্রকাশ করেন (যাতে আমি তা মেনে নিতে পারি)।”

    ২. ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংকীর্ণতা পরিহার

    ইসলামের মৌলিক বিষয় (আকিদা) ছাড়া শাখা-প্রশাখামূলক বা ফিকহী বিষয়ে (যেমন: সালাতের নিয়ম, আমিন জোরে বা আস্তে বলা ইত্যাদি) একাধিক সঠিক মত থাকার সুযোগ রয়েছে।

    • কোনো একটি মতকে নিজের জন্য পছন্দ করার অর্থ এই নয় যে, অন্য মতটি বাতিল বা নিকৃষ্ট।
    • সাহাবিদের যুগে একদল সাহাবি আসরের সালাত পথিমধ্যে পড়েছিলেন, অন্য দল বনু কুরাইজায় গিয়ে পড়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো দলকেই তিরস্কার করেননি।

    ৩. ঢালাওভাবে কাফের, ফাসেক বা গোমরাহ বলার প্রবণতা বর্জন

    বর্তমানে সামান্য মতপার্থক্যের কারণেই একে অপরকে ‘ভ্রান্ত’, ‘বাতিল’ বা ‘জাহান্নামী’ বলে ফতোয়া দেওয়ার একটি ভয়াবহ প্রবণতা দেখা যায়। অথচ হাদিসে এসেছে, কেউ যদি তার কোনো মুসলিম ভাইকে কাফের বলে এবং সে যদি বাস্তবে তা না হয়, তবে সেই ফতোয়া ফতোয়াদানকারীর নিজের ওপরই বর্তায় (সহিহ বুখারি)। তাই সুনির্দিষ্ট শরয়ী দলীল ছাড়া কাউকে বিভ্রান্ত আখ্যা দেওয়া যাবে না।

    ৪. ‘আল-ইনসাফ’ বা ন্যায়পরায়ণতা রক্ষা করা

    কারো সাথে মতের অমিল হলেও তার ভেতরের ভালো গুণ, দ্বীনের জন্য তার কুরবানি এবং তার ইলমের অবমূল্যায়ন করা যাবে না। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের এমন উত্তেজিত না করে যে, তোমরা ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করবে।” (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮)। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের ভালো কাজেরও স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ৫. ‘মায়রুফ’ বা স্বীকৃত বিষয়ে কঠোরতা না করা

    ইসলামী ফিকহের একটি বড় নীতি হলো—যেসব বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মাঝে প্রাচীনকাল থেকেই একাধিক মতামত চলে আসছে (ইখতিলাফী বিষয়), সেসব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে কোনো একটি মত মানার জন্য জোরাজুরি করা বা তা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা নিষিদ্ধ।

    ৬. ভাষার শালীনতা ও গীবত পরিহার

    ইসলামে যে কারো পেছনে তার সমালোচনা বা গীবত করা হারাম। অথচ বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ঘরানার মানুষ অন্য ঘরানার আলেমের চরিত্র হনন ও ব্যঙ্গাত্মক উপনাম দিতে দ্বিধাবোধ করছে না। মতপার্থক্য প্রকাশ করতে হবে অত্যন্ত নরম ও সুন্দর ভাষায়, যুক্তি দিয়ে; গালি বা উপহাস দিয়ে নয়।

    একবার ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর প্রিয় ছাত্র ইউনুস ইবনে আবদিল আলার সাথে একটি ফিকহী বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। বিতর্কের পর ছাত্র রাগ করে বাড়ি চলে যান। রাতে ইমাম শাফেয়ী স্বয়ং ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে হাত ধরে বললেন, “হে ইউনুস! একটি মাত্র মাসআলায় আমাদের মিল হয়নি দেখে কি আমাদের শত বছরের ভাই ভাই সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যাবে?”

    আজকের ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে যদি আকাবিরদের এই উদারতা ও শিষ্টাচার ফিরে আসে, তবেই কেবল উম্মাহর ঐক্য সম্ভব।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    কয়েক বছর ধরে বড়পর্দায় অনিয়মিত চিত্রনায়িকা মৌসুমী। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল করছেন তিনি। এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হলো এই নায়িকার।

    একসময় ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা।

    তিন বছর অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন তিনি। শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে নিজেই এই সুখবর জানিয়েছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়। এত দিন সেখানে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ছিল না মৌসুমীর। গ্রিন কার্ড পাওয়ায় এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে নেই মৌসুমী। কিছুদিন আগে নতুন একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’।

    ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে দেশের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ এবং চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
    সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গেও সফল জুটি গড়েছেন মৌসুমী।

    অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’। ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘মেহের নিগার’। এ ছাড়া তাঁর পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘শূন্য হৃদয়’ ও ‘ভালোবাসবোই তো’।

    মৌসুমীর জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় আরও রয়েছে ‘আত্মঅহংকার’, ‘স্নেহ’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘দেনমোহর’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিদ্রোহী’, ‘বধূ’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভাংচুর’, ‘সাজন’, ‘বিশ্ব প্রেমিক’, ‘গরিবের রানি’, ‘রাক্ষস’, ‘আদরের সন্তান’, ‘সুখের ঘরে দুঃখের আগুন’, ‘লুটতরাজ’, ‘আম্মাজান’ ও ‘গোলাপী এখন বিলাতে’।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া এই নায়িকা এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

  • আখলাকি কেতাবচি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    আখলাকি কেতাবচি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি। তার আগে এ দায়িত্বে ছিলেন আজিজ নাসিরজাদেহ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট কেতাবচিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান হলো। নাসিরজাদেহের মৃত্যুর পর মাঝের সময়ে দায়িত্ব সামলান মাজিদ ইবন আল-রেজা।

    নতুন মন্ত্রী কেতাবচি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।

    ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে অ্যারোস্পেস শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন জড়িত। ফলে এ খাতে কেতাবচির পূর্ব অভিজ্ঞতা তার নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করা। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি কোন খাতে অগ্রাধিকার দেবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

    কয়েক মাস ধরে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে চলার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    তবে কেতাবচির নিয়োগের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি, অস্ত্র উৎপাদন কিংবা সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

  • মূলধন সংকটের কারণে  জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের  চারটি শাখা বন্ধের পথে

    মূলধন সংকটের কারণে জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের চারটি শাখা বন্ধের পথে

    মূলধন সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএইচ) চারটি শাখা বন্ধের পথে। স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণের ৮১.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেল-ইন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ব্যাংকটির আমিরাতভিত্তিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউ ইউএই’কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে পরিচালিত এই শাখাগুলোর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার (৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন টাকা) রেমিট্যান্স দেশে আসত, যা বন্ধের উপক্রম হওয়ায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) ই-মেইলে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় জনতা ব্যাংকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম, যা প্রায় ৮১.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতির কারণ দেখিয়ে সিবিইউএই এ অর্থ মূলধন সহায়তা হিসেবে গ্রহণে সম্মতি দেয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে ইউএইতে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

    জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য পাঠানো অর্থ ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় নিউ ইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে জনতা ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অর্থটি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ট্রেজারি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএইতে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া এবং ক্রো ইউএইকে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) তাদের কাছে থাকা জনতা ব্যাংকের এই শাখাগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ওপর (ডেবিট লেনদেন) নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহক হিসাব খোলা বন্ধ রাখতে বলেছে এবং বিদ্যমান ব্যবসা ধাপে ধাপে গুটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

    পরবর্তী সময়ে ইউএইতে ব্যাংকটির কার্যক্রম সচল রাখতে অর্থ বিভাগের কাছে ২ বিলিয়ন দিরহাম সমপরিমাণ মূলধন জোগানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল জনতা ব্যাংক। তবে মূলধন সহায়তা এবং ঘাটতি পূরণে জনতা ব্যাংকের উদ্যোগ সত্ত্বেও ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। প্রশাসক নিয়োগের ফলে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। এ প্রক্রিয়ার ব্যয়ও জনতা ব্যাংককে বহন করতে হবে।

    এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মূলধন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও তারা আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

    জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে দেশটিতে ব্যাংকটির চারটি শাখা ও একটি প্রধান নির্বাহী কার্যালয় রয়েছে। শাখার সংখ্যার হিসাবে এটি ইউএইতে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ব্যাংকটির ইউএই কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার আমানতকারী, ৩,৮০০ ঋণ ও অগ্রিম গ্রহীতা এবং প্রায় ১০ লাখ রেমিট্যান্স প্রেরক যুক্ত রয়েছেন। ফলে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    জানা গেছে, জনতা ব্যাংক বর্তমানে ইউএই থেকে বছরে আনুমানিক ৮,০০০ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়। তবে কার্যক্রম বন্ধের পর এসব গ্রাহকের হিসাব, আমানত ও রেমিট্যান্স সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো জানা যায়নি।

    জানা গেছে, ২০২১ সালে ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম মূলধনের শর্ত ৪০ মিলিয়ন দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম করে। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ইউএই ইউনিটের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। এর সঙ্গে ৮৩ মিলিয়ন দিরহাম অবণ্টিত মুনাফা থাকলেও নতুন নির্ধারিত সীমার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকে যায়।

    এ ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ থেকে জনতা ব্যাংকের ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত রিজার্ভ হিসাব থেকে ডেবিট লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর, ১৫ জুলাই, ব্যাংকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে তিন বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় ইউএইর নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ ও কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু না করলে ১৪ সেপ্টেম্বরের পর ব্যাংকটির রিজার্ভ হিসাব স্থায়ীভাবে স্থগিত করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

    পরিস্থিতি সমাধানের লক্ষ্যে গত ১৮ আগস্ট ইউএইতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জনতা ব্যাংকের জন্য ২ বিলিয়ন দিরহাম মূলধন সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিটি শাখার জন্য ন্যূনতম ১০০ মিলিয়ন দিরহাম মূলধন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    এরপর ১ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পাশাপাশি প্রশাসক নিয়োগ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পরিপালনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

    সব মিলিয়ে মূলধন ঘাটতি, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতা এবং মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগে সাড়া না পাওয়ায় ইউএইতে জনতা ব্যাংকের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম এখন বন্ধের মুখে। এর প্রভাব ব্যাংকটির গ্রাহক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তার ওপর।

  • পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। সপ্তমী তিথি ১৬ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ফরিদপুরেও পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। এ বছর ফরিদপুর জেলায় ৭৮১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কলাবউ বা নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা।

    এরপর নবপত্রিকা স্থাপন, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে মুখর হয়ে ওঠে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য ও শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছেন তারা।

    ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন তারা।

    এ দিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না বারোয়ারী মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা সুজিত কীর্তনীয়া বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণের প্রতীক। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনায় সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে চাই।’

    একই মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা মৃদুল রায় বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ পূজার মধ্য দিয়ে আমরা মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করি এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল প্রার্থনা করি। পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী পালনের সুযোগ ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ সৃষ্টি করেছে। পূজার এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

  • ফিলিস্তিনের জলপাই চুরি বৈধ !

    ফিলিস্তিনের জলপাই চুরি বৈধ !

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাগান থেকে জলপাই চুরি করাকে বৈধতা দিয়ে ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছেন ইসরাইলের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা রাব্বি ডোভ লিওর। তার এই ফতোয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    শুক্রবার দেওয়া ওই ফতোয়ায় ডোভ লিওর দাবি করেন, ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে যে ফিলিস্তিনি কৃষকরা মৌসুমে নিজেদের জলপাই সংগ্রহ করতে পারছেন না, বিগত বছরগুলোতে জলপাই ভোগ করার মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন। ফতোয়া অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর মালিকানা দাবি করার জন্য ইহুদিরা এসব ফিলিস্তিনি বাগান থেকে জলপাই তুলে নিতে পারবে।

    পশ্চিম তীরে যখন ইসরাইলি দখলদার ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে ১৯৩৩ সালে পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া রাব্বির ফিলিস্তিনিদের খামার থেকে জলপাই চুরি করাকে এক ধরনের ‘অতিরিক্ত পুণ্য’ বা মহৎ কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ইহুদি বসতির বাইরের জমিগুলোও বসতি স্থাপনকারীদের ‘দখল’ করা উচিত, যাতে জনসমক্ষে ‘মালিকানা জাহির’ করা যায় এবং বাইবেলের নির্দেশ অনুসরণ করা সম্ভব হয়।

    ফতোয়ায় বলা হয়, ‘ইহুদি জাতি কখনোই ইসরাইলের ভূমির ওপর থেকে দাবি ছেড়ে দেয়নি, যা আমরা প্রতিদিনের প্রার্থনায় স্মরণ করি। আরবরা কখনোই ইহুদি জাতি বা কোনো একক ইহুদির কাছ থেকে এই জমি কেনেনি। তাই এটি তাদের হাতে থাকা এক ধরনের চুরি করা জমি… তারা কোনোভাবেই এটি ক্রয় করেনি এবং এটি ইহুদিদেরই মালিকানাধীন রয়েছে।’

    জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে সহিংসতা

    এমন সময়ে এই ধর্মীয় ফতোয়াটি এলো, যখন জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরজুড়ে জলপাই সংগ্রহ করার সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ৩৪টি হামলায় অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।

    দৈনন্দিন এই সহিংসতার সংবাদ সংগ্রহের সময় ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর হয়ে কর্মরত এক আমেরিকান ফটোসাংবাদিকও বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের শিকার হন। এছাড়া এ দিন পাঁচটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ইসরাইলি বিধিনিষেধ ও বসতি স্থাপনকারীদের প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকির কারণে বহু ফিলিস্তিনি কৃষক তাদের নিজেদের কৃষিজমিতেই যেতে পারছেন না।

    ধর্মীয় মহলে প্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া

    তবে সব ইহুদি ধর্মীয় নেতা ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির এই আহ্বানকে সমর্থন জানাননি। গুশ এতজিওন বসতির ধর্মীয় কাউন্সিলের রাব্বিরা এক যৌথ চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের ফসল অবৈধভাবে তুলে নেওয়াকে ‘চুরি’, ‘ধর্মদ্রোহিতা’ এবং ‘নৈতিক অধঃপতন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    প্রায় ৮০০ অর্থোডক্স রাব্বির সংগঠন ‘জোহার’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেবল রাষ্ট্রেরই কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কর্তৃত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত জলপাইয়ের ওপর আরবদের মালিকানা স্বীকার করে, ততক্ষণ তা তাদেরই সম্পত্তি।

    ইসরাইলি রাজনীতির বিশ্লেষক মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে জানান, অন্যান্য ধর্মীয় দলের পক্ষ থেকে রাব্বি ডোভ লিওরের মন্তব্যের বিরোধিতা করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

    তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যে রাব্বিরা এই আহ্বানের বিরোধিতা করেছেন, তাদের অবস্থানটি রাজনৈতিক কৌশল বা সরকারের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে হতে পারে। তারা বিশ্বমঞ্চে এটা বোঝাতে চান যে, এগুলো চরমপন্থি কয়েকজনের বিচ্ছিন্ন বক্তব্য, যা সাধারণ বসতি স্থাপনকারীদের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসরাইল সরকারও তুলে ধরার চেষ্টা করছে যে এই সহিংসতায় জড়িতরা সীমিত একটি দল এবং অধিকাংশ বসতি স্থাপনকারী শান্তিকামী ও আইন মেনে চলা নাগরিক। তারা পুরো বিষয়টিকে ‘হিলটপ ইউথ’ নামের একটি গোষ্ঠীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রমাণ করতে চায়।’

    তবে চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারী দলগুলোর মধ্যে রাব্বি ডোভ লিওরের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ‘হিলটপ ইউথ’-এর সদস্যরা তার কঠোর ধর্মীয় নির্দেশ নির্দেশাবলী অন্ধভাবে অনুসরণ করে, যা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ভূমি সংক্রান্ত সমঝোতার সম্পূর্ণ বিরোধী।

    তিনি ইসরাইলের ‘রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট’ আন্দোলনেরও একজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের নেতৃত্বাধীন অতি-ডানপন্থি দল ‘ওতজমা ইহুদিত’ (জুয়িশ পাওয়ার)-এর আধ্যাত্মিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।

    আবু আমের উল্লেখ করেন, ‘বেন-গাভির মূলত রাব্বি ডোভ লিওরের ধর্মীয় ফতোয়ার ওপর নির্ভর করেন, যা বাইবেলের বিভিন্ন বিষয়ের চরমপন্থি ব্যাখ্যা থেকে প্রাপ্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টিকটক প্ল্যাটফর্ম, প্রচারণামূলক কৌশল ও পপুলিস্ট বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক লড়াই চালাচ্ছেন বেন-গাভির। ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরাইলি সমাজে চরমপন্থার একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে, যা তাকে ভোট পেতে সাহায্য করছে।’

    অন্যদিকে, ইসরাইলি সংসদের (নেসেট) বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির সদস্য গিলাদ কারিভ লিওরের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ও তার অনুসারীরা ইসরাইলকে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

    কারিভ বলেন, ‘এই ইস্যুতে যারা নিরপেক্ষ বা চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে, তারা প্রকৃতপক্ষে রাব্বি ডোভ লিওর ও তার অপরাধী চক্রের সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছে।’

  • উইলিয়ামস সোয়েটার্সের ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

    উইলিয়ামস সোয়েটার্সের ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

    মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স নামের পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

    আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

    তিনি বলেন, ‘মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা তাদের সার্বিক কার্যক্রম অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।’

    তিনি জানান, মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স যেসব শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল, তদন্তে সেসব শর্ত পরিপালনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মোট ৫২৫টি যন্ত্র ওই সুবিধার আওতায় আমদানি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি শূন্য বা ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করে। অথচ ওই সব যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স।

    এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

    আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে না পাওয়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে অস্পষ্টতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • রুবিওর সফরে ভারতজুড়ে এত বিতর্ক?

    রুবিওর সফরে ভারতজুড়ে এত বিতর্ক?

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক ভারত সফর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ভারত সফর হলেও, আশ্চর্যের বিষয় হলো এবার তিনি দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাচ্ছেনই না।

    এর বদলে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রুবিও। বৈঠক শেষে তিনি গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের একটি বিশাল তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

    তবে এই সফর নিয়ে মূল জলঘোলা শুরু হয় দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেই মুম্বাইয়ে চলে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    নিজেদের মাটিতে ভারতের সর্বোচ্চ কূটনীতিককে এভাবে ডেকে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে বলেছেন, মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে নিজের কোনো কর্মীকে হাজির হতে আদেশ দিয়েছেন।

    অন্যান্য বিরোধী নেতাদের মতে, নিজ দেশে বসে বিদেশি রাষ্ট্রের এই ধরণের নির্দেশ মেনে নেওয়া ভারতের কূটনৈতিক মর্যাদার জন্য এক বড় ধরনের অবমাননা।

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ বাণিজ্য শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও নতুন দিল্লির সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তাতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল।

    আপাতদৃষ্টিতে সফরটি কেবল জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর জোর দিয়ে সাজানো হলেও, দেশের ভেতরে রাজনৈতিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই পরিস্থিতির মুখে ফেলা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • কেন চাকরি গেল ট্রাম্পের মুখপাত্রের?

    কেন চাকরি গেল ট্রাম্পের মুখপাত্রের?

    হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে নিয়োগের মাত্র পাঁচ দিন পর বরখাস্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

    গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের প্রাইমটাইম শোতে উপস্থাপক শন হ্যানিটির কঠোর জেরার মুখে পড়েন কেটি জাকারিয়া। নিজেকে আইনজীবী হিসেবে দাবি করার পর জাকারিয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, হ্যানিটি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জাকারিয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে হিমশিম খান এবং নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।

    হ্যানিটি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি বার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু পাস করতে পারেননি। তাই তো?’ জাকারিয়া উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, শন, ঠিক তাই।’

    টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুসি ওয়াইলস এই সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন—যা ছিল মূলত একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। কারণ, ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জাকারিয়া তার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন না। সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন।

    একটি সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সুসি ওয়াইলস ও শন হ্যানিটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, ‘হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আলভারেজ এবং সুসি মিলে তাকে হ্যানিটির সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন।’

    হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সুসি ও শনের মধ্যে কথাবার্তা হয় ঠিকই, কিন্তু সুসির পক্ষে কাউকে যেমন জাকারিয়াকে শনের বা অন্য কারও সামনে ঠেলে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এটি তার কাজের ধরন নয়।’

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আর হ্যানিটির সাক্ষাৎকারই যে জাকারিয়ার বিদায়ের একমাত্র কারণ, তা নয়। বরং জাকারিয়ার দেওয়া অদ্ভুত সাক্ষাৎকার এবং আইনজীবী হওয়া নিয়ে অসংলগ্ন উত্তরই মূলত তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

    তবে ফক্স নিউজ মিডিয়ার এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাকে সাক্ষাৎকার দেওয়া হবে এবং কী প্রশ্ন করা হবে, তা সম্পূর্ণ শন হ্যানিটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

    জাকারিয়া হ্যানিটিকে জানান, ২০১১ সালে তিনি পেপারডিন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং একই সপ্তাহে বিয়ে করেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু তার এবং তার স্বামীর দ্রুত চীনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তাই তিনি স্টেট বার পরীক্ষার ফলাফলকে ‘গুরুত্বহীন’ বলে মনে করেছিলেন।

    তিনি কেবল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কারণ তিনি আগেই নিবন্ধিত ছিলেন এবং নিজের একাডেমিক রেকর্ডে ‘পরীক্ষা থেকে নাম প্রত্যাহারের’ তকমা যুক্ত করতে চাননি।

    জাকারিয়া জানান, পরে তিনি একটি চীনা ল ফার্মের আন্তর্জাতিক অনুশীলন বিভাগে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি আন্তঃসীমান্ত করপোরেট লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করতেন। এই ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থাকার প্রয়োজন ছিল না।

    জাকারিয়া নিজেকে ‘অ্যাটর্নি’ না বলে ‘লয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ল স্কুল শেষ করার পর তিনি পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল যে, তিনি নিজেকে ‘লয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন, কিন্তু ‘অ্যাটর্নি’ বলতে পারবেন না।

    হ্যানিটি যখন এমন কয়েকটি পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করেন যেখানে তাকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তখন জাকারিয়া উত্তরে বলেন, ‘আমার মনে হয় সেগুলো ছিল রিটুইট, আর আমি পরে তা সংশোধন করে দিয়েছিলাম।’

    এই বিতর্ক এবং সাক্ষাৎকারের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেটি জাকারিয়া তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, জাকারিয়া জুন মাস থেকে ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে’ সিনিয়র কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি

  • ক্ষমতা আর  আঁকড়ে রাখবে না সিসি!

    ক্ষমতা আর আঁকড়ে রাখবে না সিসি!

    ২০১৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটির ক্ষমতায় আসেন।

    এরপর এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থেকেছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। অবশেষে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিসরের সামরিক একাডেমিতে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ৭১ বছর বয়সি সিসি জানান, ২০৩০ সালে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হবে। ক্ষমতা থেকে তার সরে যাওয়ার বিষয়টি এখন নিষ্পন্ন। এ নিয়ে আর আলোচনার সুযোগ নেই।

    সিসি বলেন, ‘মিসরের সংবিধানে কোনো হাত দেওয়া হবে না।’ তার প্রেসিডেন্সির বর্তমান মেয়াদকাল ৬ বছর। মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘২০৩০ সালে আমার প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ শেষ হবে। বিষয়টি পুরোপুরি চূড়ান্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মিসরকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না যোগ্য মানুষ দেশটির দায়িত্ব কাঁধে তুলে না নেয়।’ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, মিসরের কারাগারগুলোতে ৬০ হাজারেরও বেশি ‘রাজনৈতিক বন্দি‘ আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি নারী।

    মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি এবং বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতাসহ অনেক বন্দিই কারাগারে চিকিৎসা অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই সিসির এই মন্তব্য এলো।

  • এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ আয়োজন করে।

    শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

    সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যও বরাদ্দ পাননি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ও নতুন রাজনীতির সূচনা হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো।’

    নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নানা লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে। চব্বিশের অভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তবে সরকারের পতন চাওয়ার চেয়ে তারা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন সরকারকে সহযোগিতা করবো বলেছিলাম। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবো। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।’

  • ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেবে সরকার

    ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেবে সরকার

    দেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনাসহ শিক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়েছে।

    গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক সংস্কার ও উন্নয়নে বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

    বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি।

    এক নজরে মূল সিদ্ধান্তসমূহ:

    • এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ প্রদান।
    • ইএফটি (EFT) ও iBas++ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ।
    • গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বছরভিত্তিক মূল্যায়ন প্রবর্তন।
    • মালয়েশিয়ার শিক্ষা মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা রূপায়ণ।

    এর আগে খুলনার একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের জন্য প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যাগের কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, এ বছর গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া হবে।

    সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া দ্রুত মেটানোর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, শুধু পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত মাপকাঠি হতে পারে না। শুধুমাত্র বছরভিত্তিক নয়, বরং প্রতি ৩ বা ৬ মাস অন্তর শিখনফল মূল্যায়নের পদ্ধতি চালু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকার বা ব্যক্তি পরিবর্তনের সাথে যাতে বার বারবার শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত না হয়, সেজন্য মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে স্থায়ী কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া জোর দিয়ে বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।

    শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটি ৭ দফা সুপারিশ পেশ করেছে: শিক্ষার মান পরিমাপে বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সূচক ও মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি। শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধে আলাদা তালিকা তৈরি। বাজেটের সাপেক্ষে অন্যান্য বকেয়া ভাতা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা পরিচালনা করা। শিক্ষকদের নিয়মিত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো।

    দেশের শিক্ষাবিদরা সরকারের এ উদ্যোগ এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, কৃত্রিম পাসের হারের বদলে শিখনফল ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাক্রম চালু হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও স্থায়ী রূপান্তর ঘটবে।

  • চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীনের তিয়ানজিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‌তিনি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন।

    চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন এন্ড এক্সিভিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “TVET Co‑Embracing Change, Co‑Forging Standards, Co‑Creating Future”।

    উচ্চপর্যায়ের এ বৈশ্বিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন।

    সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। তিনি টিভেটকে এমন এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

    তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। ”

    মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধুমাত্র নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তব শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে; এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে। ”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। ”

    ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “উভয় দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ”

    তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের টিভেট খাতকে আধুনিকায়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে।

    সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। সেগুলো হলো-
    উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের আলোকে অভিযোজিত করতে পারা; এবং সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তরুণ সমাজকে অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

    সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

  • মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আলীয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মাদরাসার ছাত্রদের নৈতিকতার জায়গায় দুর্বল করা ও ঈমান-আকিদা নষ্ট করার জন্য কৌশলে ডারউইনের মতবাদ এবং বাংলায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ইসলামবিদ্বেষী কবি-সাহিত্যিকদের লেখা পাঠ্যবইয়ে কৌশলে ঢুকিয়ে দিয়ে একটা ব্রাউনম্যান প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছিল।

    রোববার সকালে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আজ থেকে চার-পাঁচ বছর আগেও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (এ+) প্লাসের পরিমাণ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ে বেশি ছিল। পাসের হারও বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আলীয়া মাদরাসা থেকে শিক্ষার্থীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল আলীয়া মাদরাসা শিক্ষাকাঠামোকে স্কুল-কলেজের শিক্ষাকাঠামোর মতো করে ফেলা। এখন স্কুল-কলেজে যে বই পড়ানো হয়, আলীয়া মাদরাসায়ও হূবুহূ সেই বই পড়ানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘বিগত ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে তা’মীরুল মিল্লাতসহ মাদরাসার ছাত্রদের ভর্তি হতে দেওয়া হতো না। মাদরাসার ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরেও অর্থনীতি বা ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে দেওয়া হতো না। কারণ হলো, মাদরাসা বোর্ড আলীমে বাংলায় ১০০ নম্বর এবং ইংরেজিতে ১০০ নম্বর পড়ানো হয় তাই। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসার বর্তমান শিক্ষার মানকে যদি আরেকটু উন্নত ও আধুনিকায়ন করা যায়, বাংলাদেশের মাদরাসার ছাত্ররা বিশ্ব বিজয় করার জন্য যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। এটা ফেলনা ভাবার সুযোগ নাই। ’

    তিনি মাদরাসা ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামীতে যে রাজনীতি দেশে আসতেছে, আমার ধারণা, দলীয় এবং পারিবারিক রাজনীতি দেশ থেকে চলে যাবে। ২০ বছর পরে তোমাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং সবাই মিলে এখন প্রস্ততি নেওয়ার সময়। মাথা ঠান্ডা রাখার সময়, কাজ বেশি করার সময়। ’

    ছাত্রশিবির টঙ্গী মডেল শাখার সভাপতি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা সম্পাদক মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) ড. আবদুর রব, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার শিল্পী মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পী মশিউর রহমান এবং ‘তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী’র ইসলামী সংগীত পরিবেশনা হাজারো শিক্ষার্থী উপভোগ করেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন  আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫৯৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৩২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২৩১ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০০ জন, রংপুর বিভাগে ৭২ জন এবং সিলেট বিভাগে রয়েছেন ১৫ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৯

    হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৯

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে তিনজন, সিলেটে দুজন, ময়মনসিংহে একজন ও খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

  • কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুল ইসলাম হাওলাদার দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রামের মরহুম মমিন উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন-চার বছর আগে আপন ছোট ভাই বেল্লাল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় নিহতদের বোন ফিরোজা বেগম কাঁঠালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর এক বছর আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন নুরুল ইসলাম।

    স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মামলার বাদী ও নিহতের বোন ফিরোজা বেগম জমি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। এ সময় নুরুল ইসলাম মামলাটি তুলে নেয়ার অনুরোধ জানালে দুই ভাই বোনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

    স্বজনরা আরো জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে এক প্রতিবেশীর আমগাছের ডালের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন নুরুল ইসলাম। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

    নিহতের ছেলে অটোচালক সাকিব হাওলাদার ও স্ত্রী পাখি বেগম জানান, দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে হয়তো নুরুল ইসলাম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

    কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ, আর

  • ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে মেরে ইজিবাইকের যাত্রী  নিহত, শিশু আহত

    ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে মেরে ইজিবাইকের যাত্রী নিহত, শিশু আহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় কল্যাণী অধিকারী (৫৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইক থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ঋতুপর্ণা অধিকারী (১০) নামে এক শিশু।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নরনিয়া বাস টার্মিনালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কল্যাণী অধিকারী কেশবপুর উপজেলা সদরের সাহাপাড়া এলাকার আনন্দ অধিকারীর স্ত্রী এবং শিশু ঋতুপর্ণা একই এলাকার গোপাল অধিকারীর মেয়ে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চুকনগর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ইজিবাইক কেশবপুর যাচ্ছিল। ইজিবাইকটি চুকনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০ মিটার দূরে নরনিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকে থাকা যাত্রী কল্যাণী অধিকারী ইজিবাইক থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া শিশু ঋতুপর্ণা অধিকারীও ইজিবাইক থেকে পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

    খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সার্জেন্ট দিপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পালিয়ে যায়। তবে ইজিবাইকটি খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। এ,আর

  • তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে আব্দুল জলিল নামে এক বিএডিসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহিষলুটি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জানা গেছে, মহিষলুটি বাজারের মমতাজ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কৃষকদের অভিযোগ তিনি দীর্ঘদিন সরকারি মূল্যের চেয়ে বিশি দামে সার বিক্রি করে আসছিলেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেশি দামে সার বিক্রি ও স্টক খাতায় কৃষকের মোবাইল নম্বর না থাকায় আব্দুল জলিলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান।

    এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমিলিয়া জান্নাত জানান, সারের পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ রয়েছে। সার বিক্রির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কেউ দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইউএনও নুসরাত জানান, কৃষকদের অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সরিষা মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষককে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যায়। তাই বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

In English

English edition · Older English stories