BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • গভীর রাতে কুকুর কেন কাঁদে? কুসংস্কার নয়, রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

    গভীর রাতে কুকুর কেন কাঁদে? কুসংস্কার নয়, রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

    যত রাত বাড়তে থাকে, পাড়ায় পাড়ায় একটি পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়। আর্ত স্বরে কেঁদে ওঠে রাস্তার কুকুরের দল। তখন হয়তো মনটা কু-ডাকে! অনেকের মনেই কুসংস্কার রয়েছে যে, রাতে কুকুরের কান্না মানেই কোনো অশুভ কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা! মাঝরাতে কুকুর আসলে কাঁদে না, সেটি তাদের এক ধরনের বিশেষ ডাক। এর পেছনে রয়েছে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে রাস্তার কুকুরদের এই ডাকাডাকি মূলত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। অন্ধকারে নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করতে এবং কোনো বিপদ বা অপরিচিত কাউকে দেখলে অন্য কুকুরদের সতর্ক করতে তারা এভাবে ডাকে।



    ভারতের প্রখ্যাত ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা. রাকেশ রানা জানান, এটি মূলত নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ থেকেই তৈরি হওয়া একটি স্বভাব। রাতের নিস্তব্ধতায় এই আওয়াজের মাধ্যমে তারা দূরে থাকা সঙ্গীদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করে এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।

    অন্যদিকে, বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ড. পল-এর মতে, রাতে কুকুরের অতিরিক্ত ডাকাডাকির পেছনে বেশ কিছু মানসিক ও শারীরিক কারণ থাকতে পারে। যেমন, উদ্বেগ, আশপাশের পরিবেশ থেকে তৈরি হওয়া ভয় বা বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া।


    কুকুর কেন এভাবে ডেকে ওঠে, তার প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো-

    যোগাযোগ স্থাপন: রাতে চারপাশ যখন শান্ত থাকে, তখন কুকুর অনেক দূর পর্যন্ত নিজের আওয়াজ পৌঁছাতে পারে। দূরে থাকা অন্য সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই তারা এই দীর্ঘ সুরে ডাকে।

    একাকিত্ব ও মনখারাপ: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরনো এলাকা ছেড়ে নতুন এলাকায় এলে বা মানুষের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কুকুরের মনে তীব্র মনখারাপ তৈরি হয়। সেই দুঃখ ও একাকিত্ব থেকেই তারা অনেক সময় রাতে কেঁদে ওঠে।

    ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা: কুকুরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতাও বাড়তে থাকে। অচেনা পরিবেশ বা কোনো ভয়ের কারণ থেকেও তারা মাঝরাতে শব্দ করে।

    শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যথা: কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা শরীরের কোথাও ব্যথা করলে কুকুর রাতে পরিত্রাহি ডাকে। এই কান্নার মাধ্যমে তারা মূলত আশেপাশের সঙ্গী বা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে।

    এলাকা পাহারা দেওয়া: নিজেদের টেরিটরি বা সীমানায় অন্য কোনো কুকুর বা অপরিচিত প্রাণী প্রবেশ করলে বাকিদের সতর্ক করতেও তারা এভাবেই গর্জে ওঠে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কুকুরের এই অস্বাভাবিক ডাক বা কান্না শুনলে কুসংস্কার মনে করে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং তাদের কোনো শারীরিক কষ্ট হচ্ছে কি না বা তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

  • বিএনপি সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায়: হাসনাত আবদুল্লাহ

    বিএনপি সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায়: হাসনাত আবদুল্লাহ

    বিএনপি সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

    হাসনাত বলেন, ‘বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লবের দিন হিসেবে উপস্থাপন করলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে মাঝে-মধ্যে গণ্ডগোল বলে ফেলছে। এ অবস্থানে স্ববিরোধিতা করছে তারা। চব্বিশকে এককভাবে নিজেদের করে নিতে না পারার কারণে তাদের এই হীনমন্যতা তৈরি হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের অপরাধ ও বিচার নিয়ে আলোচনা না করে তাদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা করছে। তারা সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায়। আসলে বিএনপি একটি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ একটি সফল আওয়ামী লীগ।

    বর্তমান প্রজন্মকে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট দিতে না পারলে কেউ ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্তি পাবে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

    তিনি বলেন, ‘চব্বিশের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র মেরামতের যাত্রা শুরু হয়েছিল, বিএনপি সরকার তা নষ্ট করেছে। বাংলাদেশ একটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, তার চালক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা চেয়েছিলাম ঠিক করার পর তাকে গাড়িতে ওঠাতে। কিন্তু বিএনপি ঢোল বাজিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছে বলেই তিনি চালাতে পারছেন না।’

    ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে চান না জানিয়ে হাসনাত আরও বলেন, ‘বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই, অর্থনীতিতে বিনিয়োগ নেই। আমরা চাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যেন ভবিষ্যতের কাঠগড়ায় না দাঁড়াই।’

  • ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী

    ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া এভিনিউ পৌঁছেছে। শোভাযাত্রায় মোট ৭ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে মানিক মিয়া এভিনিউ পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    র‍্যালিতে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ আরো অনেকে অংশগ্রহণ করেন।

    র‍্যালি শুরুর আগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    র‍্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।

    এর আগে র‍্যালিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায় তাদের হাতে। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা।

    ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে র‍্যালি করছে বিএনপি।

  • দাম্পত্যে বাড়ছে ‘স্লিপ ডিভোর্স’, কী এই নতুন প্রবণতা?

    দাম্পত্যে বাড়ছে ‘স্লিপ ডিভোর্স’, কী এই নতুন প্রবণতা?

    স্ত্রীকে ভালোবাসেন, সম্পর্কও ঠিক আছে। তবে রাতে একই বিছানায় ঘুমাতে চান না অনেক দম্পতি। এই প্রবণতার নাম ‘স্লিপ ডিভোর্স’। বিশ্বজুড়ে এমন প্রবণতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

    আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের (এএএসএম) ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ঘুমের সমস্যা এড়াতে কখনো না কখনো সঙ্গীর থেকে আলাদা বিছানায় বা অন্য ঘরে ঘুমিয়েছেন।

    ঘুমবিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রেসমেডের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক জরিপে ১৩টি দেশের ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, ভারতের ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনে কখনো না কখনো সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমিয়েছেন। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার যথাক্রমে ৬৭ ও ৬৫ শতাংশ। এসব সংখ্যা নিয়মিত আলাদা ঘুমানোর হিসাব নয়, বরং এমন অভিজ্ঞতার কথা জানানো ব্যক্তিদের হার।

    আলাদা ঘুমের সিদ্ধান্ত কেন

    সঙ্গীর নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে বারবার নড়াচড়া, ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া কিংবা ঘরের তাপমাত্রা নিয়ে পছন্দের পার্থক্য রাতের ঘুমে বাধা তৈরি করতে পারে। রেসমেডের জরিপেও সঙ্গীর নাক ডাকা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাকে ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    অনেকের কাছে আলাদা ঘুমানো তাই বিলাসিতা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বস্তির উপায়

    আলাদা ঘুমালে কি ভালোবাসা কমে

    এমন ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্লিপ ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদা ঘুমানোর অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিদের ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের ঘুমের মান উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ, সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমিয়ে অনেকেই বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই আলাদা থাকতে চান। সঙ্গীর সান্নিধ্য মিস করা কিংবা একসঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের কারণে অনেকে আবার একই বিছানায় ফিরে আসেন।

    স্লিপ রিসার্চ সোসাইটির প্রকাশিত এক পর্যালোচনায়ও বলা হয়েছে, একই বিছানায় ঘুমানোই যে ভালো দাম্পত্যের একমাত্র শর্ত, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নির্ভর করে পারস্পরিক বোঝাপড়া, যোগাযোগ ও একে অপরের প্রতি যত্নের ওপর।

    তাই আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। একজনের ইচ্ছায় অন্যজনকে এমন সিদ্ধান্তে বাধ্য করলে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা ঘুমিয়েও দিনের অন্য সময়ে একসঙ্গে সময় কাটানো, কথা বলা ও ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা সম্ভব।

  • প্রয়োজনে টিকিট দেব, তবু দেশে আসেন: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রয়োজনে টিকিট দেব, তবু দেশে আসেন: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। প্রয়োজনে তাকে দেশে আসার টিকিট দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল সমাবেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা মানুষ হত্যা করে পালিয়েছেন, এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুংকার দিচ্ছেন।

    কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সেই হুংকার বুঝে গেছে। কাজেই আপনাদের এখন দেশে আসতেই হবে। গোপনে নয়, এখনই চলে আসেন, প্রয়োজনে আমরা টিকিট দিয়ে দেব।

    তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং গুম-খুন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ নারী-শিশুর রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

    পলাতকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

    স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

    আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে জনগণের মতামত ও জরিপের ভিত্তিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আপনারা উন্নয়নের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

    সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের সেবা করে যেতে চাই। উন্নয়নের মাঠে, রাজপথে এবং সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।

    নান্দাইলের স্থানীয় চণ্ডীপাশা স্কুল মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশ বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

  • ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি: নাহিদ ইসলাম

    ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি’। শনিবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগেরবার ছাত্র-জনতা অনেক উদারতা দেখিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির মতো শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ দেখিয়েছি।

    এবার আর সেই পথ অনুসরণ করা হবে না। আপাকে ফাঁসির মঞ্চে ওঠানোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদসহ এনসিপি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের দায়িত্ব কী, বেতন কত?

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের দায়িত্ব কী, বেতন কত?

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত এই রাজনীতিকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার কাজ, ক্ষমতা ও বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিনেটের সদস্য হিসেবে তিনি কী কী দায়িত্ব পালন করবেন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা কতটা এবং এ পদে থেকে বছরে কত অর্থ বেতন পাবেন—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

    সিনেটরের বেতন কত?

    যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দেশটির একজন সাধারণ সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে তার বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে বেতনের বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাবও কমবেশি হবে।

    সিনেটরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কতটুকু?

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষের একটি হলো সিনেট। এটি উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য এই কক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

    সিনেটর হিসেবে আল-সাইয়েদের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বা ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা থাকবে।

    আইন ও বাজেট প্রণয়ন: জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব এবং চূড়ান্ত ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন আল-সাইয়েদ। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের মূল্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতের আইন প্রণয়নে তার ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের ভোট বিল পাসের জন্য যথেষ্ট।

    গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বিচারিক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ধরনের প্রায় ১ হাজার ৩০০ গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন আল-সাইয়েদ।

    আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো চুক্তি অনুমোদনে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ অন্তত ৬৭টি ভোট লাগবে। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তা, সামরিক ব্যয় ও যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির ওপর নজরদারির দায়িত্বও পালন করবেন সিনেটররা।

    অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের বিচার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা শীর্ষ ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের অভিযোগ আনা হলে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয় সিনেটে। এ ক্ষেত্রে সিনেট বিচারিক কক্ষ হিসেবে কাজ করে। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারবেন আল-সাইয়েদ।

    নতুন হলেও ভোটের মূল্য সমান

    সিনেটে দায়িত্ব ও প্রভাবের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং কমিটিতে নেতৃত্বের অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়। তবে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোটের ক্ষেত্রে সব সিনেটরের ক্ষমতা সমান। অর্থাৎ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কোনো জ্যেষ্ঠ সিনেটরের ভোটের মূল্য যতটুকু, নবনির্বাচিত আল-সাইয়েদের ভোটের মূল্যও ঠিক ততটুকু।

    ফলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিলের ভোটাভুটিতে তার একটি ভোটও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম থাকলে তার অবস্থান জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

    (সুত্র: আমার দেশ)

  • প্রশিক্ষণ নিতে এবার পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

    প্রশিক্ষণ নিতে এবার পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

    উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ নিতে এবার পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এর মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার পাঁচজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ৩০ জন আছেন। পাকিস্তানের লাহোরে ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে ৯ নভেম্বর। শেষ হবে ২২ নভেম্বর।

    উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে।

    এর আগে গত মে মাসে প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান সফর করেন বাংলাদেশের ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) তাঁরা প্রশিক্ষণ নেন। ৪ মে শুরু হওয়া ওই প্রশিক্ষণ শেষ হয় ২১ মে।

    সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার, বাকি ১১ জন ছিলেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার।

    দ্বিতীয় দফায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য এবার লাহোর যাচ্ছেন ৩৫ কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চারজন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুজন করে কর্মকর্তা রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের।
    ৮ নভেম্বর তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তাদের নাম নির্বাচন করা হয়।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার। এ সফরে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

    তালিকার এক নম্বরে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামান বলেন, পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণে দেশটির প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হয়, তা শেখানো হবে। এ ছাড়া সুশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নীতিকৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মুসৌরি ছিল বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ভারতের উত্তরাখন্ড প্রদেশের মুসৌরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন বাংলাদেশের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে দিল্লিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্সের (এনসিজিজি) সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় চুক্তি হয়। তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। সর্বশেষ চুক্তিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়নি। রাজনৈতিক পালাবদল, কূটনৈতিক টানাপোড়েন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও ভিসা জটিলতার কারণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে।

    কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণের জন্য ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশেই যাওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময়ে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি পাকিস্তান সফরে গেলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। মূলত সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। চুক্তি করার আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ও পারস্পরিক জানাশোনার সুযোগ তৈরির জন্যই আপাতত কর্মকর্তাদের পাঠানো হচ্ছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হবে। সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সরকারি কর্মকর্তারা পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন।

    জনপ্রশাসন বিশ্লেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদ্যোগের একটি কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে। তাঁদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশে পাঠানো উচিত।

  • আদিতমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোরিকশা, নিহত মাদরাসাছাত্র

    আদিতমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোরিকশা, নিহত মাদরাসাছাত্র

    লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশার চার যাত্রী। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাপটিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া মাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হাবিবুর রহমান (১১) উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি অটোরিকশা গন্তব্যের উদ্দেশে যাওয়ার পথে খাতাপাড়া মাজার এলাকায় পৌঁছালে বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    আহতরা হলেন—সদর উপজেলার মনিকা (১৬), মনোরঞ্জন (৯০) ও বুলু মিয়া (২৬) এবং আদিতমারী উপজেলার প্রিয়াঙ্কা রানী (২৮)।

    আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ বাংলাদেশি আটক

    মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ বাংলাদেশি আটক

    অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্রীনাথপুর সীমান্ত থেকে ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাপাতলা গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়।

    ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনাথপুর সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) একটি টহল দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ৬১/৯-আর থেকে আনুমানিক ৯০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাপাতলা গ্রামের রুহান মিয়ার কলাবাগানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রাক্কালে ওই ছয়জনকে আটক করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মিঠাবাড়ী গ্রামের ইয়াকুব হোসেন (৩৮) ও ইমামুল হোসেন (৩৫), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বিধি বাসুরিয়া গ্রামের হরপ্রসাদ মণ্ডল (৫৫) ও তাড়াইল গ্রামের অসীম মণ্ডল (৪২), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সকারিকাটি গ্রামের শিব কুমার মণ্ডল (৩২) এবং যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদহ গ্রামের ওলিয়ার রহমান (৩২)।

    ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বিজিবি জানায়, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশী যুবককে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশী যুবককে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশী যুবককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

    গুলিতে আহত অবস্থায় তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বিপরীতে ভারতের পুটিখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

    সীমান্ত এলাকায় গুলির শব্দ ও সীমান্তরক্ষীদের অভিযান

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলামসহ ছয়-সাতজন স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ সদস্যরা লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

    একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সাথে থাকা অন্য ছয়জন পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।

    তার সাথে থাকা অন্য ছয়জন হলেন—কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)। তারা সবাই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    স্থানীয় প্রতিনিধি ও পরিবারের বক্তব্য

    হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা থেকে একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বিএসএফ সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে গেছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মনিরুল ইসলামের পরিবার জানান, তারা ঘটনা শুনেছে। তবে তার কি অবস্থা তা সঠিক ভাবে তারা বলতে পারেনি।

    পুলিশ ও বিজিবির প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া এবং পতাকা বৈঠক

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ৫৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক (টু-আইসি) মেজর তাহসিন জানান, হরিহরনগর সীমান্তে গুলিবর্ষণের পর বিএসএফ একজনকে ধরে নিয়ে গেছে, এমন খবর তারা পেয়েছেন। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে গুলিবর্ষণের পর বাংলাদেশী যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হরিহরনগরসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আটক মনিরুলের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

  • ইসলামি লেখক ফোরামের অভিভাবক পরিষদ পুনর্গঠন

    ইসলামি লেখক ফোরামের অভিভাবক পরিষদ পুনর্গঠন

    লেখক

    বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের ২০২৬-২৮ সেশনের জন্য সাত সদস্যের অভিভাবক পরিষদ পুনর্গঠন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে ‘লেখক ফোরাম সাহিত্য ও আনন্দ ভ্রমণ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক হোটেলে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    অভিভাবক পরিষদের সদস্যরা হলেন, মুফতি এনায়েতুল্লাহ, জহির উদ্দিন বাবর, মুনীরুল ইসলাম, মাসউদুল কাদির, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আব্দুল মুমিন ও রোকন রাইয়ান। এতে সাবেক সভাপতি মুনীরুল ইসলাম এবং সাবেক সহ-সভাপতি রোকন রাইয়ানকে নতুন করে যুক্ত করা হয়।

    ফোরাম সভাপতি আমিন ইকবালের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে ‘লেখক ফোরাম সাহিত্য ও আনন্দ ভ্রমণ’ আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা উপকমিটির বৈঠকের পর জানা যাবে।

    বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের সদস্য ও মাসিক আন-নাবার নির্বাহী সম্পাদক, বিশিষ্ট লেখক মাকসুদুর রহমানের মৃত্যুতে মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    সাধারণ সম্পাদক নকীব মাহমুদের পরিচালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হাসনাইন হাফিজ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দীন সাদী ও উবায়দুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সায়ীদ উসমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক তাসনিম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাবীবুল্লাহ সিরাজ, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ তামিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রেজা হাসান, প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম ফয়জুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জাওয়াদ আহমদ, আইন ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাউসার লাবীব এবং দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক তাশরিফ মাহমুদ।

    এ ছাড়া নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবদুল্লাহ আশরাফ, সাজ্জাদুর রহমান, আব্দুস সামাদ আজীজ, আমীনুর রহমান নড়াইলী, আহমাদ যুবায়ের খান, তানবিরুল হক আবিদ ও আবু বকর চৌধুরী।

  • মাদরাসা সুপারকে আটকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে

    মাদরাসা সুপারকে আটকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়া চাদপুর দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা রেজিস্টার নিজ দফতরে রাখাকে কেন্দ্র করে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর সিদ্দিককে তার দফতরে দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক ও বিএনপির এক নেতা উড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন ঘটনা শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনও, উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং দামুড়হুদা মডেল থানায় পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা রেজিস্টার নিজের দফতরে সংরক্ষণ করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন তার কাছ থেকে হাজিরা খাতা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। খাতা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সুপারিনটেনডেন্ট। এ ঘটনার কিছু অংশ মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় সহকারী শিক্ষক ইকবাল তাকে মারধর করছেন।

    এর পরদিন মঙ্গলবার মাদরাসার কার্যক্রম চলাকালে দুপুরে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন, ইউসুফ আলীসহ চার থেকে পাঁচ জন বহিরাগত ও শিক্ষক মিলে সুপারিনটেনডেন্টের কক্ষে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আবু বকর সিদ্দিককে মারধর করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে সহকারী শিক্ষিকা সাবেকুন নাহার মিতা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে তার সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সহকারী শিক্ষিকা সাবেকুন নাহারের অভিযোগ, খুলনা জেলায় তার বাড়ি হওয়ায় তাকে রাস্তাঘাটে অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার পর তিনি সুপারিনটেনডেন্টের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, যা বৃহস্পতিবার গ্রহণ করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ পরিস্থিতিতে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রেখেছি।’

    ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা খাতা নিজের হেফাজতে রাখার কারণেই সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজনের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিএনপি নেতা, কয়েকজন শিক্ষক ও বহিরাগতরা আমার কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছি।’

    এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিকাইল হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মো: রাসেল বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মদনে নিখোঁজের ২ দিন পর নদী থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    মদনে নিখোঁজের ২ দিন পর নদী থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর মগড়া নদী থেকে আব্দুল লতিফ (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল আড়াইটার দিকে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ বালালী গ্রামে আলম মিয়ার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে মগড়া নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায়।

    নিহত আব্দুল লতিফ দক্ষিণ বালালী গ্রামের মরহুম লাবু হাজীর ছেলে। লাশটি তার স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শনাক্ত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল লতিফ নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। নিখোঁজ থাকার দুই দিন পর নদীতে তার ভাসমান লাশ পাওয়া যায়।

    মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দীন জানান, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

  • কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে পুকুরে বাস, নিহত ২

    কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে পুকুরে বাস, নিহত ২

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়েছে মাদরাসার শিক্ষাসফরের একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের আগে রেলবিট এলাকা পার হওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মাদরাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৬)।

    একই শিক্ষাসফরে থাকা অন্য একটি বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটিতে বুড়িচংয়ের বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। তারা শিক্ষাসফরে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন।

    তারা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পাশের একটি ইটভাটার শ্রমিকেরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তারা বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের কেরানীহাট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে দুইজনের মৃত্যু হয়।

    দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে দুইজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভোরের দিকে দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • বিয়ে করলেন সংগীতশিল্পী পারশা, বর কে?

    বিয়ে করলেন সংগীতশিল্পী পারশা, বর কে?

    বিয়ে করেছেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন। তবে বিয়ের খবর প্রকাশ করলেও বরের পরিচয় সামনে আনতে চান না তিনি। ইনস্টাগ্রামে বিয়ের সাজে বরের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। ছবিতে বরের মুখ ফুল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন তিনি।

    বরের পরিচয় জানতে আগ্রহীদের উদ্দেশে রসিকতার ছলে পারশা লিখেছেন, ‘বেগানা নারীদের কুদৃষ্টি থেকে হেফাজতের স্বার্থে বরের চেহারা গোপন রাখা হলো। ব্যাটামানুষের রূপ-লাবণ্য ও যৌবন জনসমক্ষে প্রদর্শন করে সমাজে ফিতনা ছড়ানোর পক্ষপাতী নই। অতএব, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।’

    পারশা জানিয়েছেন, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাদের আক্‌দ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তার পরিবারের সদস্যরা। বরের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য সেখানে ছিলেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

    এই ছবিটিই শেয়ার করেছেন গায়িকা


    জীবনসঙ্গীর পরিচয় গোপন রাখার কারণও জানিয়েছেন পারশা। তিনি বলেন, ‘আমি যদি নাম বলি, তাহলে সবাই তাকে চিনে ফেলবে। তাই আপাতত বলতে চাইছি না। আর পরিচয়টা সামনে আনতে চাই না বলেই ছবিতে ফুল দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছি। আমি তাকে ‘প্রিয়’ বলে ডাকি, সেও আমাকে ‘প্রিয়’ বলে।’

    প্রায় এক বছর আগে দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়। এরপর কথাবার্তা শুরু হলে একপর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান পারশা। তাঁর পছন্দে পরিবারেরও কোনো আপত্তি ছিল না।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন পারশা মাহজাবীন। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন এই তরুণ শিল্পী। এবার বিয়ের খবর জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় এলেন তিনি। তবে আপাতত জীবনসঙ্গীর পরিচয় আড়ালেই রাখতে চান পারশা।

  • হিমাগারে রাখা আলু নিতে  মাইকিং

    হিমাগারে রাখা আলু নিতে মাইকিং

    হিমাগার গেটে সংরক্ষিত আলু বিক্রি করে ঋণসহ ভাড়ার টাকা পরিশোধ হচ্ছে না। সে কারণে সংরক্ষিত আলু নিতে আসছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আলু সংরক্ষণের পর থেকে বাজারে দর পতন অব্যাহত আছে। ফলে হিমাগারগুলোতে মৌসুমের শুরু থেকে চাষি ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম ছিল। যার ফলে এখনও হিমাগারগুলোতে সংরক্ষণের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ আলু রয়ে গেছে।

    সংরক্ষিত আলু নিতে হিমাগার মালিকরা বেশ কয়েকবার নোটিশ পাঠানোর পরও চাষি ও ব্যবসায়ীদের সাড়া পাচ্ছেন না। মৌসুম শেষ, বাজারে নতুন আলু আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংরক্ষিত আলু বের করতে ১৫ নভেম্বর সময় বেঁধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করছে কর্তৃপক্ষ। হিমাগারের মেশিন বন্ধ করা হবে, নির্ধারিত সময়ে আলু নিতে না এলে পরবর্তী সময় ওই আলুর দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আলু বিক্রির টাকায় হিমাগার থেকে নেওয়া ঋণ ও ভাড়া পরিশোধ না হওয়ায় হিমাগারে আসছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাস ধরে নোটিশ করেও তাদের হিমাগারমুখী করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জয়পুরহাটের ২২টি হিমাগারে এবার দুই লাখ ৩৭ হাজার ২১২ টন আলু সংরক্ষণ ছিল। দাম কম হওয়ায় সংরক্ষণের প্রায় অর্ধেক আলু আজও হিমাগারেই রয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে বের করতে হলে সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এতে করে আলুর দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন আলু বাজারে আসার সময় হয়েছে। নতুন আলু পুরোদমে বাজারে আসার আগেই পুরোনো আলুর বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

    চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এবার বিভিন্ন জাতের আলু বছর শেষে প্রতি বস্তা (৬০ কেজি) ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের হিমাগারের ভাড়াসহ ঋণের টাকা পরিশোধ সম্ভব হবে না। সব মিলিয়ে সংরক্ষণের আলু নিয়ে বড় বিপদে পড়েছেন চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা।

    জানা গেছে, ধারণক্ষমতা অনুযায়ী জেলার ২২টি হিমাগারেই এবার আলু সংরক্ষণ ছিল পরিপূর্ণ। মৌসুমে আলুর দাম কম বলে চাষি-ব্যবসায়ীরা হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। জেলায় খাবার আলুর প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজার টন। সিংহভাগ আলু বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরু থেকে দাম কম হওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণের অর্ধেক আলু এখনও মজুত আছে। এর মধ্যে বাজারে নতুন আলুর আমদানি শুরু হতে চলেছে। হিমাগার গেটে পুরোনো আলু ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    চাষিরা জানান, মৌসুমে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভাড়া বাবদ ৬.৭৫ টাকা এবং লেবার, সুতলি, পরিবহন ও লোড-আনলোড মিলে আরও ২ টাকা। সব মিলে প্রতি কেজিতে খরচ পড়েছে ২৮ টাকা। বর্তমানে দাম মিলছে কেজিতে ৭ থেকে ৮ টাকা। আলু সংরক্ষণ করে লাভ তো নয়ই, মূলধনও হারিয়ে গেছে। আলু নিতে হলে হিমাগার থেকে নেওয়া ঋণসহ ভাড়ার টাকা দিতে হবে। সে কারণেই আলু নিতে হিমাগারে আসছেন না কেউ।

    কালাই পৌরশহরের দোকানদারপাড়া মহল্লার আলু চাষি জয়েন মিয়া বলেন, মৌসুমে দাম কম হওয়ায় ৫০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছি। আলু হিমাগারে না রেখে যদি বিক্রি করতাম, তাও কয়েক টাকা পেতাম। এখন আলু বিক্রি করলে বাড়ি থেকে আরও বস্তাপ্রতি ৪৫০ টাকা করে যোগ দিয়ে হিমাগারের ভাড়াসহ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আলুর ওপর ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি, সেই টাকা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় আছি। আলু নিতে বারবার হিমাগার থেকে মোবাইলে কল করছে। বলে দিয়েছি, আলু এবার নেব না। তার পরও তারা কল করেই যাচ্ছে।

    পুনট হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন বাগইল গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান। গতকাল শুক্রবার আলু বিক্রি করতে এসে হিমাগারের ভাড়ার কথা ভেবে তিনি আলু বিক্রি না করে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, তখন আলু বিক্রি করলে আজ হিমাগারের ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না। শুধু যে তিনিই বিপদে পড়েছেন তা নয়, জয়পুরহাটের অসংখ্য আলুচাষি ও ব্যবসায়ী এবার একই সংকটে পড়েছেন।

    আঁওড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে আলু ওঠানোর জন্য হিমাগারের পক্ষ থেকে মাইকিং করছে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু না ওঠালে তারা আর আলুর দায় নেবে না। আবার দাম কম হলে ভাড়ার টাকাও নেবে। কী করব ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে বিক্রি করলে যেটুকু দাম পাওয়া যেত, নতুন আলু আসাতেই পুরোনো আলু আর কেউ নিচ্ছেই না।
    পুনট বাজারের ব্যবসায়ী মিঠু ফকির বলেন, ১৭ হাজার বস্তা আলু কয়েকটি হিমাগারে রেখেছিলাম। কম দামেই প্রায় ৯ হাজার বস্তা আলু বিক্রি করেছি। ইতোমধ্যে প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। আবার যদি এই ৮ হাজার বস্তার ভাড়া দিতে হয়, তাহলে বর্তমান দামে আলু বিক্রি করে কত টাকা যে লোকসান হবে, তার হিসাব নেই। সে কারণে হিমাগারে যাতায়াত ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘এভাবেই গত তিন বছর ধরে লোকসান গুনছি। কোমর-মাঝা ভেঙে গেছে। ঋণের বোঝাও বেড়ে গেছে। সিসি ঋণ এবার নবায়নই করতে পারিনি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে।’
    পুনট কোল্ডস্টোরেজের সহকারী ব্যবস্থাপক এনামুল হক বলেন, গড়ে এখনও সংরক্ষণের ৪৩ শতাংশ আলু মজুত আছে। গত এক সপ্তাহে মাত্র ২ শতাংশ আলু বিক্রি হয়েছে। নতুন আলু বাজারে আসার সময়ও হয়েছে। মালিকদের নির্দেশে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

    জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আলু সংরক্ষণের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
    জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কেন ১৫ নভেম্বর উল্লেখ করে হিমাগার কর্তৃপক্ষ মাইকিং করছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • নড়াইলে হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    নড়াইলে হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    নড়াইল সদরের পলইডাঙ্গা গ্রামে চাঞ্চল্যকর মোস্তফা কাজী (৭৫) হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ভদ্রবিলা বাজারে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন-মামলার বাদী কাজী আমজাদ হোসেন, মুনসুর আলী খান, জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শেখ, জামান শেখ, রেসপিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার এসআই সাগর সিকদার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি ইমরুল, হুমায়ুন, তরিকুল, আকিবসহ ১৯ জনকে বাদ দিয়ে নয়জনের নামে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন করেছেন। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য ও মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ বিষয়ে গত বুধবার আদালতে না-রাজি প্রদান করা হয়েছে।

    বক্তারা আরও বলেন, মোস্তফা কাজী হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়লে প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের বাইরে থেকে যাবে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এছাড়া এসআই সাগরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও তদন্ত হওয়া দরকার।

    এদিকে, মোস্তফা কাজী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাগর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্স ব্যবহার করেছি। এসবের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

    ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ৩ জুলাই বিকেলে মোন্তফা কাজী বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওত পেতে থাকা আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মোস্তফা কাজীকে কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ২৮জনকে আসামি করে গত ৪ জুলাই নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত মোস্তফা কাজীর ছেলে কাজী আমজাদ হোসেন ।

  • মেলান্দহে ট্রাকচাপায় নিহত বেড়ে ৪, একই পরিবারের তিনজন

    মেলান্দহে ট্রাকচাপায় নিহত বেড়ে ৪, একই পরিবারের তিনজন

    জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাকচাপায় স্বামী-স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দুইজন।

    শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা (২৩) ও তাদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা এবং মেলান্দহ পৌরসভার বকুলতলা এলাকার শওকত হাসান লিখন (৪৫)।

    অন্যদিকে আহতরা হলেন অটোরিকশাচালক হযরত আলী ও যাত্রী শাকিল মিয়া।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন অটোরিকশার চালকসহ দুইজন।

    এদিকে দুর্ঘটনায় মোরশেদ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় সেটি আটক করেন। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন।

    মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি স্থানীয়রা আটক করেছেন। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

  • জামায়াত -এনসিপির দূরত্ব নাকি কৌশল

    জামায়াত -এনসিপির দূরত্ব নাকি কৌশল

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দূরত্ব বাড়ছে-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে। বিশেষ করে ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের বাইরে গিয়ে পৃথকভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ‘জোটে ফাটল’ বলে জল্পনা চলছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সবশেষ লংমার্চ কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অংশ না নেওয়ায় এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে। তবে বিষয়টিকে পুরোপুরি ‘মিডিয়ার অতি সক্রিয়তা’ এবং সরকারি দলের ‘চক্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দল দুটির নেতারা। তারা বলেন, এটি আসলে কোনো দূরত্ব নয়, বরং সুচিন্তিত এক রাজনৈতিক কৌশল। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দলই নিজেদের মতো করে আলাদা লড়াই করবে। তবে তার আঁচ এসে পড়বে না জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে এনসিপিও নিজ দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছে এবং পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিচ্ছে। ফলে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১১ দলীয় ঐক্য জোটবদ্ধভাবে করছে না। এমন অবস্থায় বেশ কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যের ভেতরে আসলে কি ফাটল ধরেছে বা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে? এমন প্রশ্ন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে শনিবার জোটের লংমার্চ কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অনুপস্থিতিকে ঘিরে।

    এ প্রসঙ্গে বুধবার বিকালে এনসিপির সদস্য সচিব সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কিংবা জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো ধরনের ফাটল বা দূরত্বের গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের মধ্যে যা কিছু দৃশ্যমান হচ্ছে তা মূলত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল মাত্র। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা এবং গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ নানা দাবির প্রশ্নে আমাদের ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে। তবে দল হিসাবে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই আমাদের একটি নিজস্ব ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে। এটি কোনো জোট ভাঙার বিষয় নয়, বরং নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করার একটি প্রক্রিয়া।

    আখতার হোসেন আরও বলেন, জুলাই সনদ যারা বাস্তবায়ন করতে চায় না, গণভোটের রায় যারা উপেক্ষা করছে, তারাই জামায়াত-এনসিপির মধ্যে ফাটল, দূরত্ব দেখছে। এমনটা তাদের চক্রান্তেরই অংশ। সাফ কথা, আমরা আমাদের নিজস্ব রণকৌশল অনুযায়ী রাজপথে থাকব এবং নির্বাচন করব। ঠিক তেমনি জামায়াতও তাদের নিজস্ব কৌশল ও আদর্শ নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে। আমরা লক্ষ্য করছি, আমরা যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখনই ‘ফাটল, দূরত্বের’ কথাগুলো আসছে। জোটের কোনো সভা, মিছিল কিংবা লংমার্চে শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করবেন-এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো শীর্ষ নেতা অসুস্থ হলে কিংবা তার কোনো সমস্যা থাকলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে না-ই পারেন। এজন্য দলের মধ্যে দূরত্ব কিংবা ফাটল সৃষ্টি হয়েছে-এমনটা ভাবা মানেই চক্রান্ত।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বুধবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, একটি লংমার্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যেতে পারেননি। রাজনৈতিক একটি কর্মসূচিতে তিনি যেতে পারেননি, তিনি তো অসুস্থও হতে পারেন। বিশেষ করে নাহিদ ইসলাম লংমার্চে যুক্ত হননি, এটা নিয়ে কিছু মিডিয়া এবং সরকারদলীয় লোকজন ও জুলাই বিরোধীরা ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র দূরত্ব নেই। আমরা সংসদ এবং সংসদের বাইরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছি। কেউ কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াত-এনসিপির মধ্যে দূরত্বের কথা বলছেন। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করছি। এতে জোটের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাছাড়া আলোচনার দরজা তো সব সময় উন্মুক্ত। আলোচনার মধ্য দিয়ে ঐক্যের নির্বাচনও হতে পারে। কিছু মিডিয়া এবং সরকারদলীয় লোকজন একটি চক্রান্তের অংশ হিসাবে দুটি দলের মধ্যে দূরত্ব ও ফাটলের নকশা তৈরি করতে চাচ্ছে।

    এদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, এনসিপি সম্প্রতি দলের কমিটি পুনর্গঠিত করেছে। শীর্ষ নেতাদের পদ-পদবি পরিবর্তন করেছে। যেসব প্রথম সারির নেতারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, দল থেকে দূরে ছিলেন-তাদেরও দলে সংযুক্ত, সক্রিয় করা হচ্ছে। ফলে এনসিপি দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। জোটের বাইরে গিয়ে একক নির্বাচন এবং বড় আকারের সভা ও মিছিল করছে। আসন সমঝোতা বা ভোটের অঙ্কে দলগুলোর নিজস্ব রণনীতি থাকতেই পারে। সেটিকে জোটের দূরত্ব কিংবা ভাঙন হিসাবে দেখানোটা সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন।

    অপরদিকে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের কিছু নেতা বলছেন, জোটের বড় প্রোগ্রামগুলোতে দলের প্রধানরা উপস্থিত না থাকলে নিশ্চয় নানা ধরনের গুঞ্জন সামনে আসবে। দলের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা উঠবে। বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জোটের ভেতর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। দলীয় নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে এক ধরনের তর্ক-বির্তকও চলছে। দুটি দলের একটি অংশের ধারণা, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন জোটগতভাবে করা হলে জোটের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জোটের মধ্যে জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচন করলে জয়ের বিষয়টি নিশ্চিতও হতে পারে। এ জন্য জোটগত নির্বাচন হতেও পারে-এমনটাও দলীয় নেতারা বলছেন।

    তবে দুই সিটি করপোরেশনে আলাদাভাবে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াত-এনসিপি। এনসিপির প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জায়গায় জামায়াত প্রার্থী হিসাবে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের নাম চূড়ান্ত করেছে। আর দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। যদিও এনসিপি আগে দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ ও উত্তরের প্রার্থী হিসাবে আরিফুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেছিল। পরে সেপ্টেম্বরে আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তরের ভোটার হন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণের ভোটার হন। ইতোমধ্যে এনসিপি চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ নির্বাচন করবেন।

    বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে ভিন্ন রকম মতামত বা দ্বিমত থাকতে পারে, আমরা তা পজিটিভ দেখছি। অনেকে হয়তো ভাবছেন জোটগত নির্বাচন হলে ভালো, কেউ আবার তা ভাবছেন না। আমরা সব ধরনের মতামতকে সম্মান জানাই। তবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে-এনসিপি সম্পূর্ণ এককভাবেই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এখন প্রশ্ন হলো, এককভাবে নির্বাচন করার এই সিদ্ধান্তের কারণে জোটের ভেতরে কোনো দূরত্ব তৈরি হবে কেন? জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীও তো এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। (সুত্র: যুগান্তর )

  • ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ, বকেয়া ১৪ লাখ কোটি টাকা

    ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ, বকেয়া ১৪ লাখ কোটি টাকা

    গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

    বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। নতুন ঋণ গ্রহণ, পুরোনো ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য সমন্বয়ের পরও ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

    কোন দেশ ও সংস্থার কাছে কত ঋণ

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে।

    বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের মোট ঋণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এডিবির কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

    অন্যদিকে জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের মোট ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

    সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

    ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কেমন

    বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও তা পরিশোধের সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এ হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।

    তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় এ হার কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানি থেকে অর্জিত প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ১৪ বছরে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে চার গুণের বেশি

    বিদেশি ঋণের স্থিতি বাড়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের বিপরীতে ১১০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। পরের অর্থবছর ২০২২-২৩ সালে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।

    আগামী দিনগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ, বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের সময় এগিয়ে আসছে।

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শিগগিরই পরিশোধ করতে হবে। এসব ঋণের বড় একটি অংশ পরিশোধ করতে হবে জাপানকে। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

  • ২ হাত-পা অচল, তবুও ভালোবাসার বন্ধনে স্বামীর পাশে আসমা

    ২ হাত-পা অচল, তবুও ভালোবাসার বন্ধনে স্বামীর পাশে আসমা

    দুই পা অচল, দুই হাতেও পান না পর্যাপ্ত জোর। হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা। ডানা ভাঙা পাখির মতো সৈয়দ কাঞ্চনের এই জীবনসংগ্রামে পরম আস্থার প্রতীক হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী আসমা বেগম। দু’জনে মিলে একটু একটু করে স্বপ্ন বুনেছিলেন ছোট একটি মুদি দোকানে। কিন্তু ২০২৩ সালের এক রাতের আগুন নিমিষেই পুড়িয়ে ছাই করে দেয় তাদের জীবনের শেষ অবলম্বন। সবকিছু হারিয়ে যখন চারদিকের অন্ধকার নেমে এসেছিল, তখনও দুই নাবালিকা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হাল ছাড়েননি এই বাবা।

    স্ত্রীর সহযোগিতায় বাড়িতে বসে উপকরণ নিয়ে হুইল চেয়ারে করে প্রতিদিন বিকেলে বের হন কাঞ্চন। মাদারীপুরের ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের পাশে ছোট এক টুকরো জায়গায় জ্বলছে কাঞ্চনের চুলো। দোকান খুলেই স্ত্রী নিজের হাতে তৈরি করেন সিঙ্গাড়া আর পুরি। ফুটন্ত তেলের চেয়েও যেন বেশি পুড়ছে তার জীবন। ১২ আর আট বছর বয়সী দুই মেয়ে মাদরাসায় পড়ে। তাদের খাতা-কলম কেনার খরচ আর প্রতিদিনের চাল-ডাল জোগাতে কাঞ্চনের এই নীরব কান্না আর রক্ত জল করা খাটুনি দেখলে চোখে জল আসে স্থানীয়দেরও।

    জানা যায়, ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বর হলে পরিবার থেকে করাতে পারেনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা। এরপর পরই চার হাত-পা অকেজো হয়ে প্রতিবন্ধী কাঞ্চনের। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কাঞ্চনের সাথে পরিচয় আসমার। জীবনের প্রতিকূলতা আর শারিরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আসমাকে পাশে পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কাঞ্চন। ভালোবাসা আর নির্ভরতার সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখে ২০১০ সালে বিয়ে হলেও স্বামীর প্রতি ভালবাসায় তাকে ছেড়ে যাননি আসমা।

    সংসারজীবনের নানা প্রতিকূলত পেরিয়ে আজও তিনি চান, স্বামীর সাথে বাকি জীবনটা কাটাতে। ডাসার উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের সৈয়দ সোহবার হোসের ছেলে কাঞ্চন। পরিবারে স্ত্রীর পাশাপাশি মা ও দুই মেয়ে রয়েছে বলেও জানা গেছে।

    স্থানীয়রা জানায়, ‘কাঞ্চন অসহায় হলেও ভিক্ষাবৃত্তি করেননি। তার পাশে সরকার দাঁড়ালে জীবনে একটু পরিবর্তণ আসতো। এক্ষেত্রে একটি আধুনিক হুইল চেয়ার ও ঋণ একান্তই প্রয়োজন।’

    সৈয়দ কাঞ্চন বলেন, ‘মানুষ জন্ম নিলে একদিন মরবেই, কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমার দুইটা পা অচল, আমি হাঁটতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ তো আমাকে একটা সুস্থ বিবেক আর দুইটা হাত দিয়েছেন। সেই হাতও প্রায় অচল। সেই বিবেক থাকতে আমি মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে পারব না। ভিক্ষা করলে হয়তো সহজে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানটা ধুলোয় মিশে যায়।’

    তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র আয়ের পথ ছিল ওই ছোট্ট মুদি দোকানটা। কিন্তু আগুনে পুড়ে আমার শেষ সম্বলটুকু যখন ছাই হয়ে গেল, আমি পুরো দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমি কারও করুণা চাই না, শুধু একটু সুযোগ চাই যেন নিজের পরিশ্রম দিয়ে আমার পরিবার আর দুই মেয়ের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দিতে পারি।’

    সৈয়দ কাঞ্চনের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি তিনি কতটা কষ্ট করেন। শরীরটা অচল হলেও ওনার মনের জোর আমাদের সবার চেয়ে বেশি। সরকারীভাবে একটু সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

    মাদারীপুর জেলার সহকারি সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসাইন জানান, এরইমধ্যে অসহায় এই কাঞ্চনকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাকে সাবলম্বী করতে পাশে থাকা হবে। প্রয়োজনে তাকে ক্ষুদ্র ঋণও দেয়া হবে।

  • নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাটলেন তারেক রহমান

    নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাটলেন তারেক রহমান

    ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীতে ঐতিহাসিক ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিতে পায়ে হেঁটে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীতে ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব র‌্যালির নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এদিন বিকাল ৩টার পর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এ সময় স্লোগানে মুখর নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায়।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া র‌্যালিটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

    এর আগে বিকাল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনার।

    এছাড়াও ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

    র‌্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর পর নির্বিঘ্নে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দিবসটি নিয়ে অপপ্রচার ও ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। নতুন প্রজন্ম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঘটনা, এর প্রভাব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিষয়ে অন্ধকারে ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।

  • লংগদুতে ভাইয়ের সাথে খেলার সময় গলায় ফাঁস লেগে কিশোরের মৃত্যু

    লংগদুতে ভাইয়ের সাথে খেলার সময় গলায় ফাঁস লেগে কিশোরের মৃত্যু

    রাঙামাটির লংগদুতে ছোট ভাইয়ের সাথে খেলাধুলার সময় ঘরের দরজার পর্দায় গলায় ফাঁস লেগে অর্জিত চাকমা (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম বাইট্টাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত অর্জিত চাকমা ওই এলাকার মিত্র দেব চাকমা ও কনা চাকমা দম্পতির ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে অর্জিত তার ছোট ভাইয়ের সাথে বাড়িতে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে ঘরের দরজার পর্দায় তার গলায় ফাঁস লেগে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে পালিত হল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

    চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে পালিত হল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

    চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ভূমিকা এবং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বক্তারা।

    তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন করে উজ্জীবিত হওয়ার শক্তি জোগায়। মহান এই দিবসের সঠিক তাৎপর্য ও ইতিহাস আজকের তরুণ প্রজন্মের মাঝে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু ও খালিদ মাহমুদ মিল্টনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন— জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ঝন্টু, যুবদলনেতা রাজিব হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান খান, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাজেদুল আলম মেহেদীসহ বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    আলোচনা সভা শেষে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক (কোর্ট মোড়, চৌরাস্তা মোড় ও কবরী রোড) প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সাহিত্য পরিষদে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

  • মধুপুরে মাদককারবারি স্বামীর শাস্তির দাবিতে স্ত্রী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

    মধুপুরে মাদককারবারি স্বামীর শাস্তির দাবিতে স্ত্রী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদককারবারির স্বামীর শাস্তির দাবিতে স্ত্রীসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এবং একই সাথে তার করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের গারোবাজার (মহিষমারা) এলাকার সাধারণ জনগণ।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ মহিষমারা গারোবাজার-মোমিনপুর সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি এলাকায় সাধারণ মানুষসহ উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়ে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে যাচ্ছে। আর তার প্রতিবাদ করায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার নামে বানোয়াট মামলা করে হয়রানি করছেন তিনি। তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বক্তারা আরও বলেন, এসব মামলা ও হয়রানির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান হাবুর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন, ভুক্তভোগী রহিম বাদশা, মোনতাজ আলী ও সাইদসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মানববন্ধনের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত। এ সময় এলাকার কয়েকশত নারী ও পুরুষ অংশ নেন।

  • ৯ নভেম্বরের অমাবস্যায় পুরো ইরানকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    ৯ নভেম্বরের অমাবস্যায় পুরো ইরানকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে নিজের সামরিক ও নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে রায় দেওয়ার পর এবং সরকারের ভেতর রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।Advertisement

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যার রাত হওয়ায় ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকবে, যা সামরিক আক্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। ট্রাম্প সরকারের সামরিক উপদেষ্টারা এই দিনটিকে সামনে রেখে কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র গত সাত মাস ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনি পুরো দেশটি ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

    বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে—নতুন করে হামলা চালানো, ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখা, অথবা আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। একদিকে মার্কিন রণতরী ও সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যের কাছে অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের নিজের প্রশাসনের ভেতরেই মতামত নিয়ে বড় ধরনের দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়েছে।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পক্ষে হলেও প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসরায়েল চাচ্ছে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে যুদ্ধ শেষ করতে।

    নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কায় ওয়াশিংটনের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের মধ্যেই যুদ্ধের খরচ ও সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক বাকযুদ্ধ চলছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির কঠোর সমালোচনা করলেও আগামী দিনের সামরিক বাজেট বন্ধ করার ব্যাপারে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

  • বাংলাদেশের আনারস প্রথমবার পাকিস্তানের বাজারে

    বাংলাদেশের আনারস প্রথমবার পাকিস্তানের বাজারে

    পাকিস্তানের বাজারে প্রথমবারের মতো তাজা আনারস রফতানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। টাঙ্গাইলের মধুপুরে উৎপাদিত প্রায় দুই টন (এক দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন) আনারসের প্রথম চালান শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইটে পাকিস্তানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এই চালানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে বাংলাদেশী আনারসের নতুন বাজার উন্মোচিত হলো।

    দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৪২ টন আনারস রফতানির অর্ডার পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অর্ডার বাস্তবায়িত হলে নতুন এই বাজারে বাংলাদেশের আনারস রফতানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

    সামিন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম চালানটি রফতানি করছে। পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রাইম টেক এসব আনারস আমদানি করছে।

    রফতানির আগে রাজধানীর শ্যামপুর প্যাকিং হাউজে আনারসগুলো বাছাই, গ্রেডিং ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রফতানিযোগ্য মান নিশ্চিত করার পর চালানটি পাঠানো হয়েছে। এটি আগামীকাল পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজধানীর শ্যামপুর প্যাকিং হাউজের উপপরিচালক মো: আমিনুর রশিদ মুকুল জানান, মধুপুর থেকে সংগ্রহ করা এক দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন আনারস বাছাই, গ্রেডিং ও মান নিয়ন্ত্রণের পর পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের আনারস রফতানির ইতিহাসে পাকিস্তানে এটিই প্রথম চালান।

    তিনি বলেন, প্যাকিং হাউজে আনারসগুলোর বাছাই, গ্রেডিং ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রথম চালানের পর আরো আনারস রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে।

    রফতানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তা সামিন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদ। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার ব্যবসায়িক জীবনে প্রথমবারের মতো আনারস রফতানি।

    তিনি জানান, ভারতে তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক ও রাইস ব্র্যান অয়েল-সংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানির ব্যবসা রয়েছে। তবে আনারস রফতানি এবারই প্রথম। এছাড়া এর আগে পাকিস্তান ও ভারত থেকে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও শুকনা বরইসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন তারা।

    জুয়েল আহমেদ বলেন, পাকিস্তানে আনারসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমাদের আরেকটু সহযোগিতা করা হলে আরো অনেক কৃষিপণ্য রফতানি করা সম্ভব। মরিঙ্গা পাউডার, পান, সুপারি, নারিকেল, কাঁঠাল ও ড্রাগন ফলের মতো পণ্যেরও সেখানে ভালো বাজার রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

    পাকিস্তানে কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যগুলো বিদেশের বাজারে আরো ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনারস রফতানির উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা ছিল।

    জুয়েল আহমেদ জানান, মধুপুরের ক্যালেন্ডার জাতের আনারস পাঠানো হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের জন্য পাকিস্তানে ২২ টন আনারস রফতানির অর্ডার রয়েছে।

    অন্য একজন রফতানিকারকেরও ২০ টন আনারস রফতানির অর্ডার রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪২ টন আনারস রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    রফতানির গন্তব্য বাড়ানোর সুযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রতিবেশী ভারতে সীমিত পরিসরে তাজা আনারসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রফতানি হয়ে থাকে। তবে পাকিস্তানের বাজারে প্রবেশের এ উদ্যোগ দেশের আনারস রফতানির গন্তব্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। পাকিস্তান বিভিন্ন দেশ থেকে ফল ও মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি করে থাকে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে তাজা আনারস রফতানির উদ্যোগ দেশটির বাজারে নতুন সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

  • টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে- তানজিন তিশা

    টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে- তানজিন তিশা

    অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যপদ স্থগিতের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তানজিন তিশা। অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। শুটিং সেটে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধ ও মারধরের অভিযোগের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে প্রায় ২৫ মিনিট কথা বলেন অভিনেত্রী। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা এবং সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

    তিশা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।’

    গত এক বছর ধরে তাঁকে ঘিরে চলা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন তিশা। তাঁর ভাষায়, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

    সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে শুটিং সেটের ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।’

    নাটকটিতে মানসিক প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। তাঁর দাবি, নাটকের দৃশ্য দেখলেই দর্শকেরা বুঝতে পারবেন সেদিন কী ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।’

    ঘটনার পর ফেসবুকে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। এরপর দুজনকেই ডেকে সালিশ বৈঠক করে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’

    সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিশা। তাঁর ভাষ্য, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’

    এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে তিশা ফেসবুক লাইভে কথা বললেও সামিয়া অথৈয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘আমি শুটিংয়ে। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।’

    অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই অভিনেত্রীকে ভিডিও বার্তা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউই তা দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

  • ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিবাসী সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

    ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিবাসী সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সময়সীমা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় সমস্ত যোগ্য আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নদিয়ার আরংঘাটায় একটি কালীপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুভেন্দুর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তার সরকার।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহকুমাশাসকদের তত্ত্বাবধানে আবেদনকারীদের নথি যাচাই এবং শুনানি হবে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনেও একই সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তার দাবি ছিল, রাজ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

    বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়া-সহ বিভিন্ন উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিশেষত নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ইস্যুর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তির ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।তবে আবেদন জমা পড়লেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয়। সিএএ-র নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং নথি যাচাইয়ের পরেই যোগ্য আবেদনকারীরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন।

  • মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন।

    মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন।

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

    পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদাহ জেলার সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা, সমাজসেবা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) এনায়েত হোসেন এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা।

    আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • ভিসা সহজ করল সৌদি আরব

    ভিসা সহজ করল সৌদি আরব

    পর্যটন খাতের বিস্তার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চার দেশের জন্য ই-ভিসা এবং সরাসরি পৌঁছানোর পর ভিসা (অন-অ্যারাইভাল) সুবিধা সহজ করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে মেক্সিকো, সার্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার নাগরিকরা এই বিশেষ সুবিধা পাবেন।

    নতুন নিয়মের অধীনে এই চার দেশের অধিবাসীদের সৌদি আরবে আসার জন্য আর দূতাবাসের দীর্ঘ জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না। নিজ দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে তারা সরাসরি অনলাইনেই বহুমাত্রিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ই-ভিসার আবেদন করতে পারবেন অথবা সৌদির যেকোনো বন্দর বা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথে ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা গ্রহণ করতে পারবেন।

    এই ভিসার মাধ্যমে পর্যটকরা কেবল ঘুরে বেড়ানোই নয়, বরং পবিত্র ওমরাহ পালন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং সৌদি আরবে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সৌদির এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

    তবে নতুন এই সুবিধা চালুর সঙ্গে কিছু বিধিনিষেধও মনে করিয়ে দিয়েছে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়। এই ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে কোনো বেতনভুক্ত চাকরি বা কাজ করা যাবে না। ওমরাহ পালনের অনুমতি থাকলেও সরকারি হজের মৌসুমে এই ভিসায় ওমরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম না মানলে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

  • বাঁওড়ের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবিকায় ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

    বাঁওড়ের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবিকায় ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার ২৯টি বাঁওড়ের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে মৎস্য অধিদফতর।

    পাঁচ বছর মেয়াদি ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁওড় খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যশোরের জেলা প্রশাসক ওই অঞ্চলের বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরে প্রকল্পের জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় ও কার্যক্রম মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

    জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খনন করে গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বসবাস ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে ২৯টি বাঁওড়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, খামার যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পানি সরবরাহের জন্য ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাঁওড় ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণসেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের অফিস ভবন পুনর্নির্মাণে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপনে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং রুইজাতীয় ও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণে পৃথকভাবে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিল নার্সারির মাধ্যমে পোনা লালন-পালন ও উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ধারিত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রকল্পের সরঞ্জাম খাতে আট লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের পাশাপাশি দুটি ল্যাপটপ, চারটি প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রস্তাবিত প্রকল্পে জলাশয় খনন, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন, পানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বাঁওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। নির্বাচিত জলাশয় চিহ্নিত করে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছের নিরাপত্তায় নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, অভয়াশ্রমের নির্ধারিত এলাকায় মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে মাছ আশপাশের নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ও বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে মূল্যায়নাধীন। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয় পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো: খালেদ কনক বলেন, ‘এটি একটি সমাজভিত্তিক মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বাঁওড়ের জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্পের ঘাটতি রয়েছে। অনেক বাঁওড় অগভীর হয়ে যাওয়ায় মাছের বসবাস ও উৎপাদনের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয়ের উন্নয়ন এবং সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, বাঁওড়ের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা হালনাগাদ করাও প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ। নব্বইয়ের দশকে গঠিত মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর সদস্যতালিকা দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ হয়নি। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাছ আহরণের সুফল সুষমভাবে বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ প্রকল্পের উল্লিখিত অঙ্কগুলো প্রস্তাবিত ব্যয়। অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা, সরঞ্জামের স্পেসিফিকেশন ও দর এবং জনবলের যথার্থতা মূল্যায়ন ও যৌক্তিকীকরণের বিষয় রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঁওড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ অর্জিত হলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এর সুফল অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা অস্ত্র রপ্তানি করছে ইরান: আইআরজিসি

    উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা অস্ত্র রপ্তানি করছে ইরান: আইআরজিসি

    এই প্রথমবারের মতো ইরান শুধু অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের দাবিই করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরছে দেশটি।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন করেন।

    সেখানে তিনি দাবি করেন, উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা অস্ত্র উৎপাদনে ইরান শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশেও পরিণত হয়েছে।

    মোহেব্বির দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের ২৬০টিরও বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব বিমানের মধ্যে এফ-১৬, এফ-৩৫ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমানও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের হাতে বর্তমানে এমন সব সামরিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে এভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    মোহেব্বি আরও দাবি করেন, ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের এফএডি ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে ফিরে আসে, তাহলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

  • আমাদের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালান-বিজেপিকে মমতা

    আমাদের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালান-বিজেপিকে মমতা

    পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বুলডোজার চালানোর সাহস থাকলে তাদের শরীরের ওপর দিয়েই তা চালাতে হবে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণ কলকাতার বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে শনিবার এ মন্তব্য করেন তিনি।

    মমতার অভিযোগ, কালীপূজা ও দীপাবলির কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিষেকের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশও বিঘ্নিত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে এলাকায় দুর্গাপূজার একটি প্যান্ডেল প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। তার দাবি, এর ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পূজার যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পুরোনো পূজার আয়োজন বাধাগ্রস্ত করে নতুন পূজার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে মমতা বলেন, এলাকাটি তাদের এবং এই পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মা কালীর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সেখানে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির কোনো প্রয়োজন নেই। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পূজার অনুমতি বাতিল করা হলেও নতুন পূজার আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আগের রাতে স্থানীয় ক্লাবগুলোকেও তাদের কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    মমতা আরো বলেন, তারা বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়ার অংশ হওয়ায় বিজেপি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের কর্মসূচি ও ধর্মীয় আয়োজন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, এলাকায় চরম গুন্ডামি চলছে। গভীর রাতে দুইটা-তিনটার দিকে লোকজন জড়ো হয়ে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করছে। বুলডোজার চালানোর ক্ষমতা থাকলে রাতের অন্ধকারে লোকজন নিয়ে কালীপূজায় হামলা করতে আসার প্রয়োজন কী? তারা সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, অথচ পরিকল্পিতভাবে তাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

  • অভিনয়শিল্পী সংঘে তানজিন তিশা ও সামিয়ার সদস্যপদ স্থগিত

    অভিনয়শিল্পী সংঘে তানজিন তিশা ও সামিয়ার সদস্যপদ স্থগিত

    শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সালিশ কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ।

    সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অভিনয়শিল্পীদের মধ্যকার বিরোধ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অভিনয়শিল্পী সংঘের একটি স্বাধীন সালিশ কমিটি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে সালিশের মুখোমুখি করা হয়। সেখানে তাদের ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তারা কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করেননি।

    সালিশ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের পরপর দুটি চিঠি পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, এমনকি চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সালিশ কমিটি তাদের সদস্যপদ স্থগিতের সুপারিশ করে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে। পরবর্তীতে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেই সুপারিশ গৃহীত হয়।

    অভিনয়শিল্পী সংঘ জানিয়েছে, গত ৭ জুলাই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে কোনো জবাব না পাওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর নামে সদস্যপদ স্থগিতকরণের আনুষ্ঠানিক নোটিশও জারি করে সংগঠনটি।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কর্মস্থল ও কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিনয়শিল্পী সংঘ বদ্ধপরিকর। একই পরিবারের সদস্য হিসেবে শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ভালোবাসা অটুট রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

    চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

    চৌগাছা (যশোর) :
    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
    দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ. মুনিব, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী বাবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী ও রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ।

    এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।
    অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে পৌর বিএনপির আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওরিয়ার। বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও এ্যাড আলী বুদ্দীন, বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান, সালাউদ্দীন, আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, ছাত্রদল নেতা জসিম উদ্দীন ও ইমন হাসান রকি প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে এক বর্নাঢ্য র‍্যালি বের করেন নেতৃবৃন্দ। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। ওই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে পাল্টা অভ্যুত্থান এবং সৈনিক-জনতার অংশগ্রহণে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। যেকারনে মূলত দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

  • প্রাণিসম্পদ পণ্য রফতানি বাড়ল ২১৭ শতাংশ

    প্রাণিসম্পদ পণ্য রফতানি বাড়ল ২১৭ শতাংশ

    এ বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের গবাদিপশু পণ্যের রফতানি ২১৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৩২.৯৯ লাখ মার্কিন ডলার।

    প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গোশত ও ডিমের উৎপাদন জাতীয় চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মাথাপিছু সরবরাহের পরিমাণ এখন ন্যূনতম পুষ্টি চাহিদার চেয়েও বেশি।

    দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০.৭০ লাখ টন গোশত এবং দুই হাজার ৫০৯.৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে বছরে আনুমানিক ৭৮.১৪ লাখ টন গোশত এবং এক হাজার ৮৫৫.৩৬ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে।

    তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দুধের উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় কম।

    উৎপাদন বাড়ার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন গোশত পাওয়া যাচ্ছে মাথাপিছু ১৩৯.২৯ গ্রাম, যা ন্যূনতম ১২০ গ্রামের চাহিদার চেয়ে বেশি। বর্তমানে বাৎসরিক মাথাপিছু গোশতের প্রাপ্যতা ৫০.৮৪ কেজি, যেখানে ন্যূনতম চাহিদা ৪৩.৮ কেজি।

    তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাৎসরিক মাথাপিছু গোশত খরচের পরিমাণ মাত্র ১৪ কেজি।

    একইভাবে, বাৎসরিক মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১০৪টি।

    ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই এক দশকে গোশত ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ২৬.৭৮ শতাংশ এবং ৬৮.০৪ শতাংশ বেড়েছে।

    গোশত উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে, যা এখন জাতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে ডিমের উৎপাদনও জাতীয় চাহিদা পূরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    গত এক দশকে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৫৭.৫৩ লাখ টনে পৌঁছালেও, তা এখনো বছরে ১৬২.৭৯ লাখ টনের বার্ষিক চাহিদার চেয়ে কম। প্রতিদিন মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৪১ মিলিমিটার, যেখানে আনুমানিক চাহিদা ২৫০ মিলিমিটার।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোশতের উৎপাদন পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৮৯.৫৪ লাখ টন থেকে ১.১৬ লাখ টন বেড়ে ৯০.৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ডিমের উৎপাদনও ২.৮৩ শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ৪৪০.৬৫ কোটি থেকে দুই হাজার ৫০৯.৪১ কোটি পিসে পৌঁছেছে।

    প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খানের সাথে আলাপকালে এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গরু ও পোল্ট্রির জাত উন্নয়নকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সব পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও এই খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।

    রফতানি পরিস্থিতির বিষয়ে শাহজামান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গবাদিপশু পণ্য রফতানি করে ১৫৪.৪৭ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৯৩.০৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৮২.০৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০২.৫৭ কোটি টাকা।

    তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর পণ্যের গুণগত মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) প্রয়োজনীয়তা পূরণ, হিমাগার সুবিধার উন্নয়ন এবং রফতানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা চলমান রাখতে নতুন নতুন রফতানি বাজার খোঁজার কাজও চলছে।

    এই খাতের উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, দেশের গবাদিপশু উৎপাদন বর্তমান স্তরের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে ১৪০টির মতো ডিম খায়, অথচ উন্নত দেশগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০। বাংলাদেশে মুরগির গোশত খাওয়ার হারও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।

    বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম গবাদিপশু পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

    তিনি বলেন, প্রধানত অদক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে গোশত, দুধ ও ডিমের দাম প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বেশি।

    তিনি তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং করপোরেট গোষ্ঠী যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা দাম কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    পশুপালন, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিস্তৃত বিতরণের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে মিল্কিং মেশিন, ঘাস কাটার যন্ত্র, ট্রাক্টর, খড় কাটার যন্ত্র, মিল্ক ক্যান, ক্রিম সেপারেটর ও পাস্তুরাইজেশন প্ল্যান্ট।

    ড. আলম বলেন, কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি খামারকে আধুনিক উৎপাদন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।

    বিএলআরআই-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক কৃষি খাতের মতো গবাদিপশু খামারিদেরও প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি পশু শনাক্তকরণ ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, প্রাণিসম্পদ নীতি ও আইন আরো শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিমা সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।

    গবেষণা এবং বিদেশ থেকে উপযুক্ত জাতসহ উচ্চফলনশীল ও সংকর জাত আনার মাধ্যমে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের পরামর্শ দেন তিনি।

    ড. হক বলেন, খামারি ও ভোক্তা উভয় পক্ষ যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সরকারের একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো উচিত।

    বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অধীনে একটি প্রাণিসম্পদ বিপণন বিভাগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, বছরে প্রায় এক শতাংশ হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গবাদিপশু উৎপাদন সম্প্রসারণের এখনো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, গ্রামীণ পরিবারগুলো ব্রয়লার, লেয়ার, গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করে এই খাতের প্রসারে অবদান রাখতে পারে। যা গোশত, দুধ ও ডিমের রফতানি সম্ভাবনা নতুন খামার গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করবে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে এর অবদান ছিল ১৬.৫৬ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪৩.৬৪ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের সাথে যুক্ত।

    দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪৩,৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। বাসস

  • বিসমিল্লাহ খানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    বিসমিল্লাহ খানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    ভারতের কিংবদন্তি সানাইবাদক ও ভারতরত্নপ্রাপ্ত ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের বারানসিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান ও বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব। তবে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো সরকারি উদ্যোগে নয়, পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের সিদ্ধান্তে বাড়িটির একাংশ ভেঙেছেন।

    শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন অখিলেশ যাদব।

    তিনি লেখেন, ‘যাদের জন্য সানাই বাজেনি, তাদের কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়!’

    অখিলেশের অভিযোগ, বিজেপি ও তাদের সংকীর্ণমনা সহযোগীরা সব সময় শিল্প ও শিল্পীদের বিরোধিতা করে। কারণ, সৃজনশীল মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেন। ইতিবাচক শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা বাড়ায়। এ কারণেই তারা শিল্পকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার বাধা মনে করে অথবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।

    তিনি আরো বলেন, ভারতরত্নপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির অভিন্ন ঐতিহ্য ধ্বংস করা মানে শুধু তার মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করা নয়, ভারতের সম্মানও ক্ষুণ্ন করা। ঘৃণার রাজনীতিতে জড়িয়ে বিজেপি দেশের ক্ষতি করছে।

    ক্ষমতায় গেলে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি ‘শ্রবণ জাদুঘর’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন অখিলেশ।

    তবে বারানসি পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি। বরং ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে নিজেরাই সেটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।

    পৌর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ শ্রীবাস্তব বলেন, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় তাদের বাড়িতে যাওয়ার সড়কগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো এবং প্রতিটি বাড়ির একটি কক্ষ জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়িতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরিবার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তারা নিজেরাই সেটি ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে চেয়েছেন।

  • হৃদয়জুড়ানো ডাবল সেঞ্চুরি হৃদয়ের

    হৃদয়জুড়ানো ডাবল সেঞ্চুরি হৃদয়ের

    মিরপুরে আগের টেস্টের কথা মনে আছে? দুই ইনিংসেই অসময়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। সেই ভুলের বিষাদ নিশ্চয়ই তাঁকে তাড়া করেছে। কিন্তু ক্রিকেটের সৌন্দর্যই তো এখানে। কাল যে ভুলের জন্য মাথা নিচু করতে হয়, আজ সেই ক্রিকেটই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।

    প্রায়শ্চিত্তেরও বোধ হয় নিজস্ব একটা সৌন্দর্য আছে। সেখানে অনুশোচনা থাকে, থাকে নিজেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। কখনো কখনো থাকে এমন এক উদ্‌যাপন, যা দেখে মনে হয়, এতক্ষণে বুঝি নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়াটা হয়ে গেল!

    সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির পরের দৃশ্যটা যেমন। ব্যাটের আগায় হেলমেট রেখে ড্রেসিংরুমের দিকে ছুটলেন। মুখে কী আনন্দ! যেন একটা ডাবল সেঞ্চুরি নয়, বহুদিনের জমে থাকা কোনো ঋণ শোধ করলেন।

    প্রায়শ্চিত্ত বোধ হয় এভাবেই করতে হয়!

    হৃদয় সেটাই করেছেন। শুধু করেছেন বললে কম বলা হয়। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন এক ইনিংস খেলেছেন, যা নিয়ে অনেক বছর আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ইনিংসগুলোর একটি তো বটেই, সর্বকালের সেরা কি না, সেই বিতর্কও চলতে পারে।

    হৃদয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরি বহুদিন মনে রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিসিবি

    সিলেট টেস্টের ফল কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দুদিন। কিন্তু হৃদয়ের ইনিংসের মহিমা বুঝতে ফলাফলের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

    একটু পেছনে ফেরা যাক। কাল যখন ব্যাট হাতে মাঠে নামলেন, বাংলাদেশ তখন ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে। দলের অবস্থা তখন অনেকটা ডুবন্ত নৌকার মতো। হৃদয় নিজেও খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না। শুরুতে তাঁকে দেখে মনে হয়নি, এই ইনিংসের শেষে এমন একটা মহাকাব্য লেখা হবে।

    তবু হাল ছাড়েননি। উইকেটে পড়ে থেকেছেন। প্রথম দিনটা শেষ করেছেন ২৯ রানে অপরাজিত থেকে।

    তারপর সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পরিস্থিতি। পাল্টেছে হৃদয়ের ব্যাটিংও। কখনো রক্ষণে অবিচল, কখনো আক্রমণে দুরন্ত। বল বুঝে খেলেছেন। বাউন্ডারি পাওয়ার সুযোগ এলে হাতছাড়া করেননি। সিলেটের গ্যালারিতে করতালি বেড়েছে। ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। ইবাদত হোসেন তো মাঝপথেই জানিয়ে দিয়েছেন কুর্নিশ।

    হৃদয়ের ইনিংসের বিবর্তনটা বোঝার জন্য কয়েকটি সংখ্যা দেখা যেতে পারে। প্রথম ৫০ রান করতে খেলেছেন ১০৯ বল, সময় লেগেছে ১৭৮ মিনিট। সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে পরের ৬২ বলে লেগেছে ৮০ মিনিট। দেড় শ করতে আরও ৬৪ বল, ৬৭ মিনিট। সেখান থেকে ডাবল সেঞ্চুরি? মাত্র ৬৯ বল, ৯০ মিনিট। অর্থাৎ যত সময় গড়িয়েছে, হৃদয়ের ব্যাট তত দ্রুত কথা বলেছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় অপরাজিত ৩৫১ বলে ২৩৬ রান করে।

    হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির পর ড্রেসিংরুমের অভিবাদন বিসিবি

    তবে এই ইনিংসকে শুধু রান আর বলের হিসাব দিয়ে মাপা যাবে না। এর সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা লুকিয়ে আছে শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে। এক প্রান্তে হৃদয়। অন্য প্রান্তে একের পর এক সতীর্থের বিদায়। উইকেট যেন বিলিয়ে দিয়ে আসছিলেন বাকিরা। কিন্তু হৃদয় খেই হারাননি। তাসকিন আহমেদ কিংবা তাইজুল ইসলামকে বারবার কাছে গিয়ে বুঝিয়েছেন, ভয় নেই, শুধু আমাকে স্ট্রাইকটা দিন। কী অদ্ভুত এক দায়িত্ববোধ!

    শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ১৭২ রান যোগ করেছেন হৃদয়। শুধু টিকে থাকেননি, প্রয়োজনের সময় চার-ছক্কাও মেরেছেন। বলের পর বল ঠেকিয়ে প্রতিপক্ষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের জন্য তখন কাজটা কতটা বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল, একটু কল্পনা করলেই বোঝা যায়। উইকেট পাচ্ছে না, আবার অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করার সুযোগও নেই। হৃদয় আছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে অনেক ব্যাটসম্যান নিজের মাইলফলকের কথা ভাবেন। হৃদয় ভেবেছেন দলকে নিয়ে। নিজের ডাবল সেঞ্চুরির চেয়েও তখন বড় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের লিড নেওয়া। মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান হৃদয়। তবে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি নিজের টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন তিনি। আর নিজের মাত্র ষষ্ঠ টেস্ট ইনিংসেই এই কীর্তি। এত দ্রুত এই উচ্চতায় পৌঁছানোও তো কম কথা নয়!

    সেঞ্চুরির পর হৃদয়ের উদ্‌যাপন বিসিবি

    একটা সময় ছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল প্রায় স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নের তালিকায় এখন যোগ হলো আরেকটি নাম। তবে হৃদয়ের ইনিংসের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডে আটকে থাকবে না। পরের প্রজন্মের জন্য তিনি একটা মানদণ্ডও রেখে গেলেন।

    বিপর্যয় থেকে কীভাবে দলকে টেনে তুলতে হয়, কীভাবে শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়েও লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, কীভাবে নিজের মাইলফলকের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বড় করে দেখতে হয়, তার একটা পাঠ দিয়ে গেলেন হৃদয়।

    এখন প্রশ্ন একটাই। সতীর্থরা কি পারবেন এই ইনিংসের রং আরও গাঢ় করতে? হৃদয় তাঁর কাজটা করেছেন। ২২ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে টেনে এনে দিয়েছেন লিড। এখন তাঁর সতীর্থদের দায়িত্ব, এই মহাকাব্যের শেষটা যেন জয় দিয়ে লেখা হয়।

    কারণ, কিছু ইনিংস শুধু স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না। সেগুলো ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের বুকেও সাহস হয়ে থেকে যায়।

  • প্রথম সেঞ্চুরিতেই ডাবল, ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

    প্রথম সেঞ্চুরিতেই ডাবল, ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

    তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে সিলেটে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ৩০৪ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করেন তিনি। এতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়। মুশফিকুর রহিম (তিনটি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

    ১০১ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৩৪০। ৩১৪ বলে আট ছয় ও ১৯ চারে ২০৮ রানে ব‍্যাট করছেন হৃদয়। ৯ বলে ২ রানে খেলছেন তাসকিন। তাদের জুটিতে লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন হৃদয়। একের পর এক উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন অসাধারণ ইনিংস। সতীর্থদের নিয়ে গড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি, সামলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের চাপ।

    তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। তবে দিনের প্রথম সেশনে মুশফিক ও লিটন দাসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবার চাপে ফেলে দেন জোমেল ওয়ারিক্যান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারালেও হৃদয়ের ব্যাটে রান আসতে থাকে।

    প্রথমে ১০৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি। এরপর ১৭১ বলে পূর্ণ করেন প্রথম সেঞ্চুরি। সেখানেই থেমে থাকেননি। শামার জোসেফ, রোস্টন চেইসদের বিপক্ষে কখনো সাবধানী, কখনো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান তিন অঙ্ক পেরিয়ে। এক ওভারে চেইসকে দুটি ছক্কাও হাঁকান তিনি।

    হৃদয়ের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজন গড়েন ১১৭ রানের জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের অষ্টম উইকেটে এটি অন্যতম সেরা জুটিগুলোর একটি। ২২ রান করে তাইজুল স্টাম্পড হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপরও থামেননি হৃদয়। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে পাঁজরে বলের আঘাত পেলেও ব্যাটিং চালিয়ে যান।

    দেড়শ রান পূর্ণ করার পর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন হৃদয়। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পরের ওভারে বিশপের বলে ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। সেই ছক্কায় তামিমকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮ ছক্কার মালিক এখন হৃদয়। তামিম ৭ ছক্কা মেরেছিলেন ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে

    এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান।

  • লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান

    লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান

    দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততাপ্রবণ অঞ্চল ও প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদের উপযোগী ধান আবাদে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর মাধ্যমে।

    সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য এ জাতটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন ব্রি’র প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো: আল আমিন।

    ব্রি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এ ‘ব্রি ধান-১১৯’- নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছেন।

    লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণায় আরো যুক্ত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, সিনিয়র প্ল্যান্ট ব্রিডার নুসরাত জাহান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরমিন আক্তার সেতু এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিআরসিআইএল) রিবেত ফারজানা দিশা।

    উদ্ভাবিত এ জাতটির জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষ করা সম্ভব। এর ফলে রোপা আমন কেটে নেয়ার পর একই জমিতে সরিষা কিংবা সূর্যমুখীর মতো রবি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    গবেষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এর বীজ বপন করতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমিতে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা সারি ও গোছার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে (সারি ২০ সেমি ও গোছা ১৫ সেমি) প্রতি গর্তে দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এছাড়া বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লবণাক্ত ও অলবণাক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বোরো মৌসুমে চাষাবাদে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশও লাভ করেছে এ জাতটি। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে আমন ও বোরো উভয় মৌসুমেই এটি চাষ করা যাবে।

    কৃষি তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৭ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে, যেখানে পরিবেশ ও লবণাক্ততার তারতম্য ভেদে ফলন ৪.৮ থেকে ৭.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ‘ব্রি ধান-৭৩’-এর তুলনায় এ জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় এক টন বেশি। এ জাতের গাছগুলোর গড় উচ্চতা ১১৩ সেন্টিমিটার এবং কাণ্ড বেশ শক্ত হওয়ায় এগুলো সহজে হেলে পড়ে না। বিশেষ করে চারা অবস্থায় একটানা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার এবং অঙ্গজ থেকে প্রজনন পর্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন ধাপে ৮ থেকে ১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এ জাতটির।

    ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর প্রতিটি শীষে প্রায় ২১৫টি পুষ্ট ধান পাওয়া যায়, যা ব্রি ধান ‘৭৩-এর তুলনায় ৭০ থেকে ৮০টি বেশি। পাশাপাশি শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে যায় না। এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা রঙের হয়ে থাকে এবং রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়; এতে অ্যামাইলোজের পরিমাণ রয়েছে ২৫.৯ শতাংশ।

    নতুন এ জাতটির বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রি ধান-১১৯’ জাতটির উদ্ভাবন দেশের কৃষি গবেষণাক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ধান উৎপাদনে সহায়তা জোগানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ গবেষণার প্রতিটি স্তরে তাদের পুরো দল অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে প্রধান গবেষক মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান জানান, কৃষকদের মাঠে এই জাতের সুফল পৌঁছে যাওয়াটাই তাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপরীক্ষা
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতটির উপযোগিতা যাচাইয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাঠপরীক্ষা চালানো হয়েছে। কক্সবাজারে ফসলের বৃদ্ধিকালে লবণাক্ততার ওঠানামার মধ্যেও কৌলিক সারিটির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। সাতক্ষীরার লবণাক্ত অঞ্চল এবং অলবণাক্ত অনুকূল পরিবেশেও পর্যায়ক্রমে ফলন পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে এর উপযোগিতা যাচাই করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লবণাক্ততার মাত্রা, স্থায়িত্ব, গাছের বৃদ্ধিপর্যায় এবং পরিচর্যার ওপর ফলন নির্ভর করে।

    আমনের পর বাড়তি ফসলের সুযোগ
    স্বল্প জীবনকালের কারণে ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শস্যবিন্যাসেও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রোপা আমন কাটার পর মধ্যম উঁচু থেকে উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ও লবণসহিষ্ণু সরিষা চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। এতে উপযোগী এলাকায় একই জমিতে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    অন্যদিকে, বোরো ধান কাটার পর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে মাটির জৈব পদার্থ ও উর্বরতা বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ ধানের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও জাতটি ভূমিকা রাখতে পারে।

    বোরো মৌসুমেও জাতটির চাষোপযোগিতা যাচাই করা হয়েছে। বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি স্থানে অলবণাক্ত পরিবেশে কৌলিক সারিটির ফলন মূল্যায়ন পরীক্ষা (পিভিটি) সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশ পাওয়া গেছে। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে একই জাত আমন ও বোরো—উভয় মৌসুমে চাষ করা যাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা ও শস্যবিন্যাসের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

    চাষাবাদ ও সার ব্যবস্থাপনা
    রোপা আমন মৌসুমে ব্রি ধান১১৯ চাষের জন্য ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বীজ বপনের নির্দেশনা রয়েছে। ২৫-৩০ দিন বয়সী চারা প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ জাতের জন্য উপযুক্ত।

    হেক্টরপ্রতি প্রস্তাবিত সারের পরিমাণ ইউরিয়া ২৩৪ কেজি, টিএসপি ৮৭ কেজি, এমওপি ১১৭ কেজি, জিপসাম ৭৮ কেজি এবং জিংক সালফেট ১২ কেজি। শেষ জমি চাষের সময় সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম ও জিংক সালফেটের সাথে অর্ধেক এমওপি প্রয়োগ করতে হবে।

    ইউরিয়া সমান তিন কিস্তিতে দিতে হবে। রোপণের ১০-১৫ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং কাইচথোড় আসার পাঁচ থেকে সাত দিন আগে তৃতীয় কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক এমওপি শেষ কিস্তির ইউরিয়ার সাথে দিতে হবে।

    রোগ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বালাইনাশক ব্যবহারের আগে আক্রমণ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ অথবা কৃষি সম্প্রসারণকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতটির বীজ উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ব্রি’র কৌলিক সম্পদ ও বীজ বিভাগ, গাজীপুর। কৃষকপর্যায়ে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার

    ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার

    স্বাস্থ্যগত উপকারিতার জন্য ক্যাস্টর অয়েল খুবই সমাদৃত। অনেকে হয়তো ক্যাস্টর অয়েলকে কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ওষুধ হিসেবেই জানেন, কিন্তু এর আরও কিছু অসাধারণ ব্যবহার রয়েছে। যেমন-

    পেশির ব্যথা কমায়: এই তেলটি উষ্ণ অবস্থায় শরীরে তরল পদার্থের সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। পেশিতে মালিশ করার জন্য এটি দারুণ বিকল্প, কারণ এর উষ্ণতা পেশির টান বা আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করে। আক্রান্ত স্থানে সামান্য পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল লাগিয়ে আলতো করে মালিশ করুন। এছাড়া, অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়েও এটি ব্যবহার করা যায়। যেমন- পেপারমিন্ট অয়েল বা ক্যামোমাইল অয়েলের কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েলের সাথে মিশিয়ে পেশিতে মালিশ করতে পারেন।

    ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে: ক্যাস্টর অয়েলের উচ্চ ঘনত্বের কারণে এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও চমৎকার। ত্বকে লাগালে এটি দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকে এবং ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর; এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে।

    ছত্রাকজনিত সংক্রমণ দূর করে: ক্যাস্টর অয়েলে শক্তিশালী ছত্রাকরোধী (ফাঙ্গিসাইডাল) গুণ রয়েছে। এ কারণেই এটি অ্যাথলেটস ফুট বা পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক সংক্রমণ, দাদ এবং কুঁচকির চুলকানির মতো বিভিন্ন ছত্রাকজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, অন্যান্য ছত্রাকরোধী ওষুধের বিপরীতে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে সাধারণত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।

    চুলের রঙ ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়: ক্যাস্টর অয়েল চুলের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। যদি আপনার চুল নিষ্প্রভ ও উজ্জ্বলতাহীন হয়ে পড়ে, তবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে খুব দ্রুত চুল ঘন ও গাঢ় রঙের দেখাবে। এর কারণ হলো, এই তেলটি একটি ‘হিউমেকট্যান্ট’হিসেবে কাজ করে, যা চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গোসলের পর চুল শুকিয়ে নিন, এরপর এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল হালকা গরম করে আঙুলের সাহায্যে চুলে লাগিয়ে নিন। আপনার চুল লম্বা হলে, তেল লাগানোর আগে সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন, যাতে প্রতিটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত তেল ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে।

    বলিরেখা কমায়: ত্বকের বলিরেখা কমাতে ক্যাস্টর অয়েল দারুণ কার্যকর। এটি ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা বার্ধক্যের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। ক্যাস্টর অয়েলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে অথচ লোমকূপ বন্ধ করে দেয় না। এছাড়া, এটি ত্বকের দাগ ও ক্ষতচিহ্ন কমাতেও সাহায্য করে।

  • রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এলাচ খেলে মিলবে যেসব উপকারিতা 

    রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এলাচ খেলে মিলবে যেসব উপকারিতা 

    রান্নায় সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে এলাচের জুড়ি নেই। এটি ব্যবহারে মিষ্টি বা ঝাল খাবারের স্বাদ বদলে যায়। তবে শুধু রান্নার মসলা হিসেবেই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও এলাচের বেশ কিছু উপকারিতার কথা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি ছোট এলাচ চিবিয়ে খেলে শরীরের জন্য তা উপকারী হয়।

    আয়ুর্বেদেও এলাচের নানাবিধ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। হজমের সমস্যা কমানো থেকে শুরু করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এলাচ বেশ উপকারী। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এলাচ খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-হজমে

    র সমস্যা কমাতে সাহায্য করে

    অনেকেরই রাতের খাবার খাওয়ার পর পেট ভার, গ্যাস কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এলাচে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান হজমের প্রক্রিয়াকে স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করা হয়। খাবারের পর একটি এলাচ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ বদলানোর পাশাপাশি হজমের অস্বস্তিও কিছুটা কমতে পারে।

    মন শান্ত রাখতে সহায়তা করে

    এলাচের সুগন্ধ মনকে সতেজ করতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদে এলাচকে শরীর ও মনকে শান্ত রাখার ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এলাচ চিবিয়ে খেলে তার সুগন্ধ ও স্বাদ থেকে কিছুটা প্রশান্তি মিলতে পারে।

    দুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ভূমিকা রাখে

    এলাচকে প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার বলা হয়। এর নিজস্ব সুগন্ধ মুখের দুর্গন্ধ ঢাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর মুখে খাবারের গন্ধ থেকে গেলে একটি এলাচ চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে মুখে সতেজ অনুভূতি আসতে পারে। তবে দাঁত ও মাড়ির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিকল্প নয় এলাচ।

    কীভাবে খাবেন এলাচ?

    রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটি ছোট এলাচের খোসা ছাড়িয়ে ভিতরের দানা চিবিয়ে খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের এলাচে অ্যালার্জি রয়েছে, তারা এটি এড়িয়ে চলবেন।

    মনে রাখবেন: এলাচ একটি পরিচিত মসলা এবং পরিমিত পরিমাণে খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়া যায়। তবে এটি কোনও রোগের ওষুধ নয়। কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা বা হজমের সমস্যা ভোগেন তাহলে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে চিকিৎসা করানো জরুরি।

  • কত টাকা বাড়ল গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ?

    কত টাকা বাড়ল গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ?

    তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন-ভাতা এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে সরকার। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে পদবী পরিবর্তনের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধির এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাম পুলিশের সাধারণ সদস্যদের বর্তমান মাসিক বেতন সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বর্তমান মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১১ হাজার টাকা।

    মাসিক বেতনের পাশাপাশি চাকরি শেষে এককালীন অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাম পুলিশের ক্ষেত্রে আনুতোষিক ভাতা ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন ও তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে প্রতিজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মাসিক মোবাইল খরচ বাবদ ১৫০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানায় নিয়মিত সাপ্তাহিক হাজিরা দেওয়ার যাতায়াত ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাপ্তাহিক যাতায়াত ভাড়া ৩০০ টাকা থাকলেও তা ২০০ টাকা বাড়িয়ে সাধারণ সদস্যদের জন্য ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।মহাসমাবেশে আরো জানানো হয়, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে এবং নারী সদস্যদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের সুবিধার্থে প্রতি ৫ বছরের পরিবর্তে এখন থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর পর পর নতুন বাইসাইকেল দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • সৌদির পর আমিরাতেও মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা

    সৌদির পর আমিরাতেও মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। হুথিদের পক্ষ থেকে সশস্ত্র হামলার হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাসটি আরো জানিয়েছে, ইরান মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছে।

    সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের বিষয়েও নাগরিকদের সচেতন থাকতে হবে।

    এর আগে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনও দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

  • বিপ্লবের ফায়দা নিতে চায় বিএনপি: হাসনাত

    বিপ্লবের ফায়দা নিতে চায় বিএনপি: হাসনাত

    বিএনপি সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

    হাসনাত বলেন, ‘বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লবের দিন হিসেবে উপস্থাপন করলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে মাঝে-মধ্যে গণ্ডগোল বলে ফেলছে। এ অবস্থানে স্ববিরোধিতা করছে তারা। চব্বিশকে এককভাবে নিজেদের করে নিতে না পারার কারণে তাদের এই হীনমন্যতা তৈরি হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের অপরাধ ও বিচার নিয়ে আলোচনা না করে তাদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা করছে। তারা সব বিপ্লবের সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো হতে চায়। আসলে বিএনপি একটি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ একটি সফল আওয়ামী লীগ।

    বর্তমান প্রজন্মকে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট দিতে না পারলে কেউ ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্তি পাবে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

    তিনি বলেন, ‘চব্বিশের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র মেরামতের যাত্রা শুরু হয়েছিল, বিএনপি সরকার তা নষ্ট করেছে। বাংলাদেশ একটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, তার চালক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা চেয়েছিলাম ঠিক করার পর তাকে গাড়িতে ওঠাতে। কিন্তু বিএনপি ঢোল বাজিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছে বলেই তিনি চালাতে পারছেন না।’

    ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে চান না জানিয়ে হাসনাত আরও বলেন, ‘বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই, অর্থনীতিতে বিনিয়োগ নেই। আমরা চাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যেন ভবিষ্যতের কাঠগড়ায় না দাঁড়াই।’

  • চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল সংশোধনের আহ্বান

    চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল সংশোধনের আহ্বান

    কিউবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চীনের দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে দ্রুত তাদের ‘ভুল পদক্ষেপ’ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। খবর আনাদোলুর।

    শনিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করে বেইজিং। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আটটি প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি পাঁচটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিউবার ভেতরে এবং পশ্চিম গোলার্ধজুড়ে দেশটির সরকারের কথিত ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ওয়াশিংটন।

    নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা চীনের দুই প্রতিষ্ঠান হলো—চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি (সিইআইইসি) এবং বেইজিং এইচঅ্যান্ডসি টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড। কিউবার সশস্ত্র বাহিনীকে যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দমনমূলক পদক্ষেপ বাড়িয়েছে এবং একাধিক বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকার ও স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য থেকে সরে এসে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা হয়েছে।

    চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার বেইজিং সংরক্ষণ করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

  • শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বেয়াই আটক

    শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বেয়াই আটক

    শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর ও স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র।

    শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ফ্লোরিডা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় তার ভাড়া নেওয়া দুটি গুদামঘরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে তার যৌন উত্তেজক ছবি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ অভিযান চালায়। প্রায় দুই দশক ধরে গুদামঘর দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।

    এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে, মার্কেল নিরীহ শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নিষ্পাপ শৈশব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।’

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ফিলিপাইনে মার্কেলের মালপত্রের মধ্যে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত উপকরণ পাওয়া গেছে বলে এক ব্যক্তি হলফনামায় জানিয়েছেন।

    পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে। ওই ব্যক্তি জানান, ২০০৮ সাল থেকে ৮২ বছর বয়সী মার্কেল লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে একটি গুদামঘর ভাড়া নিয়ে আসছেন। প্রথম ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে দ্বিতীয় গুদামঘরটিরও সন্ধান পাওয়া যায়।

    আদালতের পরোয়ানা পাওয়ার পর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা গুদামঘর দুটিতে তল্লাশি চালান। সেখানে ছবি, ফিল্মের নেগেটিভ ও বইসহ মোট ৭৮টি উপকরণ পাওয়া যায়। এসব উপকরণে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে মার্কেলের যৌন উত্তেজক দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিচার বিভাগ।

    হলফনামায় তিনটি ছবির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছবিতে এক ব্যক্তিকে একেবারে বয়ঃসন্ধিতে না পৌঁছানো নগ্ন মেয়েশিশুর সঙ্গে দেখা গেছে। একজন সাক্ষী ওই ব্যক্তিকে থমাস মার্কেল হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

    তৃতীয় ছবিতে ফিলিপাইনের একটি হোটেলকক্ষের মতো জায়গায় এক নগ্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে পোশাক খোলা অবস্থায় শিশুদের সঙ্গে মার্কেলের ছবি থাকার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    চলতি বছরের শুরুরদিকে ফিলিপাইনে অবস্থান করছিলেন থমাস মার্কেল। সেখানে স্ট্রোক করার পর তাঁর বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।

    ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ মেগান

    বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গত অক্টোবর মাসে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেগান জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে প্রথম তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারেন। সে সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগের বিস্তারিত জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

    ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে মেগান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সামনে আসা খবর আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, তাদের কথা ভেবে আমার মন খারাপ হচ্ছে।’

  • নকল সার-কীটনাশকের কারাখানায় অভিযান

    নকল সার-কীটনাশকের কারাখানায় অভিযান

    নওগাঁর মহাদেবপুরের নকল সার ও কীটনাশকের কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও দুটি কারখানাকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও এসআরবি।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম।

    জানা গেছে, উপজেলার শিবগঞ্জ গ্রামের মরহুম মোতার হোসেনের মৃত্যুর পর এসডি এগ্রোভেট নামে পৃথক দুটি কারখানা তার দুই ছেলে মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ও দেলোয়ার হোসেন পরিচালনা করেন। নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের অভিযোগে এসডি এগ্রোভেটের মালিক শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে বালাইনাশক আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, একই নামে আরেকটি কারখানা চালানোয় তার ভাই দেলোয়ারকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘তাদের বরুণ, জৈব সার তৈরির অনুমোদন থাকলেও ছাইবার মেথিন এবং তেলাপোকা মারার চক বানানোর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাদের অনুমোদন প্রাপ্ত পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান দুটি মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে ভবিষ্যতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ২১ নভেম্বর

    বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ২১ নভেম্বর

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন আগামী ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ১৬ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    তবে ওই সভার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়েই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের কথা জানিয়েছে। ফলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর কেউ পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭০২ জন।

    বুয়েটের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন করতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪ থাকতে হবে। পাশাপাশি এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত—প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে জিপিএ-৫ পেতে হবে।

    এই ভর্তি যোগ্যতা গত বছরের মতোই রাখার বিষয়ে অনড় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। অথচ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ। তাই আবেদনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালে যোগ্যতার ভিত্তিতে অনেককে বাদ দেওয়া হবে। এ কারণে ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা শিথিল করার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত জায়গা সীমিত। তাই ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।

    ভর্তি আবেদনের শেষ সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক কামরুল হাসান।

  • শিক্ষাসফরের বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নি/হ/ত ২

    শিক্ষাসফরের বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নি/হ/ত ২

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়েছে মাদ্রাসার শিক্ষাসফরের একটি বাস। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের আগে রেলবিট এলাকা পার হওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটিতে বুড়িচংয়ের বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। তারা শিক্ষাসফরে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। একই শিক্ষাসফরে থাকা অন্য একটি বাসের যাত্রীরা এসব তথ্য জানায়।

    নিহত দুজন হলেন- মাদ্রাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৬)। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পাশের একটি ইটভাটার শ্রমিকেরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তারা বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে আহতদের কেরানীহাট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়।

    দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভোরের দিকে দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বেড়েছে। তাদের মতে, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না

    যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না

    দোয়া হলো বান্দার সঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তার সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন—, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা আল-মু’মিন: ৬০)

    কিন্তু অনেক সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল তাৎক্ষণিকভাবে না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন বা মনে করেন তাদের দোয়া কবুল হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে প্রকাশিত তার এক সাম্প্রতিক আলোচনায় জানান, কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক নিয়ম মেনে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা কখনোই বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। তবে দোয়া কবুলের পদ্ধতি ও প্রকাশ বিভিন্ন রকম হতে পারে, যা বান্দার জন্য সর্বাবস্থায় কল্যাণ বয়ে আনে। শায়খ আহমাদুল্লাহর আলোচনার আলোকে নিচে দোয়া কবুলের পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হলো:

    ১. দোয়া কবুলের বৈচিত্র্যময় তিনটি রূপ

    আমরা আল্লাহর কাছে যা চাই, হুবহু সেটাই পেয়ে যাওয়াকে অনেকে দোয়া কবুলের একমাত্র উপায় মনে করেন। তবে শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, দোয়া মূলত তিনটি ভিন্ন উপায়ে কবুল হতে পারে—

    • হুবহু কাঙ্ক্ষিত বিষয় লাভ: বান্দা আল্লাহর কাছে যা চেয়েছে, আল্লাহ তাকে হুবহু সেটিই দান করেন।
    • অধিক জরুরি ও কল্যাণকর বস্তু প্রদান: বান্দা নিজের জন্য যা চেয়েছে, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় হয়তো সে চাইতে ভুলে গেছে বা জানত না; আল্লাহ তাকে সেই অধিক উত্তম বস্তুটি দান করেন। যেমন সন্তান বাবা-মায়ের কাছে ক্ষতিকর কিছু চাইলে মা-বাবা তা না দিয়ে তার চেয়ে কল্যাণকর কিছু কিনে দেন, যা সন্তানের চাওয়া পূরণেরই অংশ।
    • আখেরাতের জন্য প্রতিদান সঞ্চয়: দুনিয়াতে হুবহু কিছু না দিয়ে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর পর আখেরাতে এর বিনিময়ে বিপুল সওয়াব ও মহা-প্রতিদান দান করেন।

    সুতরাং যা চাইলাম তা তৎক্ষণাৎ না পেলেই ‘দোয়া কবুল হয়নি’ এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। মুস্তাদরাকে হাকিমসহ হাদিসের বর্ণনায় দোয়ার এই বিভিন্ন উপায়ের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

    ২. দোয়া কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত হালাল উপার্জন

    দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সবচেয়ে মৌলিক ও প্রধান শর্ত হলো জীবনযাত্রায় হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্য ভক্ষণ বজায় রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যার দেহাংশ বা সম্পদ হারাম দিয়ে গঠিত ও পালিত, তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? তাই দোয়ার সুফল পেতে হলে উপার্জন ও খাদ্য সম্পূর্ণ হালাল হতে হবে।

    ৩. সুন্নাহসম্মত দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নিয়মাবলী

    শায়খ আহমাদুল্লাহর পরামর্শ অনুযায়ী দোয়া পেশ করার মূল আদবগুলো নিম্নরূপ:

    • কেবলামুখী হওয়া: যে কোনো দিকে মুখ করে দোয়া করা জায়েজ হলেও কেবলামুখী হয়ে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পায়।
    • দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা: দোয়ার সময় মনে কোনো সংশয় না রেখে পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ অবশ্যই এটি কবুল করবেন। ‘কবুল হতেও পারে, নাও পারে’— এমন দ্বিধাগ্রস্ত মনে দোয়া করা যাবে না।
    • আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ: দোয়া শুরু করার পূর্বে মহান আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা জ্ঞাপন করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে তারপর নিজের চাহিদা পেশ করা সুন্নাত।
    • দুই হাত তুলে প্রার্থনা করা: যদিও হাত তোলা ছাড়াও দোয়া করা যায়, তবে দু’হাত তুলে দোয়া করা দোয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদব। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত লজ্জাশীল ও সম্মানিত; বান্দা যখন দু’হাত তুলে দোয়া করে, তখন তা খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।
    • আল্লাহর গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) ব্যবহার: দোয়ার মধ্যে আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম, যেমন— ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম’, ‘ইয়া রহমান’, ‘ইয়া রহিম’ ইত্যাদি নাম ধরে ডেকে আকুতি জানানো উচিত।

    ৪. তাড়াহুড়া না করা ও ধৈর্য ধারণ

    দোয়া করার পর ফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া বা অস্থিরতা প্রকাশ করা যাবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বা বলে, ‘আমি তো অনেক দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হলো না’। শর্ত মেনে দোয়া করার পর ফলাফলের বিষয়টি পূর্ণ ভরসার সঙ্গে আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

    ৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত ও স্থানসমূহ

    নির্দিষ্ট কিছু সময়ে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা দ্রুত কবুল করেন। এ সময়গুলো বিশেষভাবে খুঁজে বের করে দোয়া করা উচিত:

  • ছাত্রীনিবাসে গভীর রাতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রীসংস্থা

    ছাত্রীনিবাসে গভীর রাতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রীসংস্থা

    রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্সের ছাত্রীনিবাসে গভীর রাতে পুলিশি হামলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা এ প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হলের আসন পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সাধারণ ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু কলেজ প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে আনে। পরে ছাত্রীনিবাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

    তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসস্থলে পুরুষ পুলিশের প্রবেশ এবং ছাত্রীদের ওপর এমন হামলা নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক। এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সমস্যার সমাধান করাই অধ্যক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ তাঁর পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা।

    তাদের দাবি, পুলিশি হামলায় বেশ কয়েকজন ছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিতে অবিলম্বে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার দায় নিয়ে অধ্যক্ষের জবাবদিহি ও পদত্যাগ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে আহত ছাত্রীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • দাখিলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ, টাকা যাবে ব্যাংক হিসাবে

    দাখিলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ, টাকা যাবে ব্যাংক হিসাবে

    দাখিল পরীক্ষায় মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তাদের বৃত্তির অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাংক হিসাবের নম্বর জমা দিতে হবে।

    সম্প্রতি চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা মেধাবৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাধারণ বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

    বৃত্তি পাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৩। বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ছাত্র ও ছাত্রীর জন্য সমান ৫০ শতাংশ করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগের মধ্যে বৃত্তি বণ্টনের অনুপাত ৩:২।

    বৃত্তি চালু রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, সদাচরণ এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি থাকতে হবে। শুধু নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এ সুবিধা পাবেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। এ ছাড়া শুধু সরকার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পাবেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন নিতে পারবে না। তারা সবাই বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছে মাসিক বেতন দাবি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী প্রতিবছর এককালীন বৃত্তির অর্থ পাবেন।

    বৃত্তির টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ জন্য বাংলাদেশের তফসিলভুক্ত অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাসম্পন্ন কোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। এরপর হিসাব নম্বর আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। কোনো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে আগের ও নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা তুলতে পারবেন না।

    তবে বিলম্বে ভর্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিষয় পরিবর্তন এবং অসুস্থতার কারণে সর্বোচ্চ এক বছর পড়াশোনায় বিরতি গ্রহণযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বৃত্তি নিয়মিত করার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সরকার বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ ও মেয়াদ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে। কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন এবং প্রয়োজন হলে বৃত্তি বাতিলের ক্ষমতাও বোর্ড সংরক্ষণ করে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি খাত থেকে শিক্ষার্থীদের এ অর্থ দেওয়া হবে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৮৮ জনের শরীরে। পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৬১ জনের। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জন শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ২৪ হাজার ৩৫৫ জনের। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ২৫৭ জন।বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪২৮ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৩, সিলেটে ১৪২, বরিশালে ৯৭, খুলনায় ৪০, রাজশাহী ও রংপুরে ৩৩ জন করে এবং ময়মনসিংহে ৫২ জন শনাক্ত হয়েছেন।

  • ঘামাচি কারনে পানি বের হলে ওজু ভঙ্গ হবে?

    ঘামাচি কারনে পানি বের হলে ওজু ভঙ্গ হবে?

    দৈনন্দিন জীবনে ত্বকের নানা ধরনের সংবেদনশীলতা, এলার্জি কিংবা ঘামাচি ও ছোট ছোট ফুসকুড়ির কারণে শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ত্বক চুলকানোর ফলে এসব ক্ষুদ্র দানা বা ঘামাচি থেকে সামান্য রস বা পানি বের হতে দেখা যায়। বিশেষ করে ইবাদত-বন্দেগির উদ্দেশ্যে ওজু করার পর বা ওজু অবস্থায় এমনটি ঘটলে সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগে—এই পানি বের হওয়ার কারণে ওজু কি নষ্ট হয়ে যাবে, নাকি বহাল থাকবে?

    ইসলামিক ফিকহ ও শরিয়তের সুস্পষ্ট নীতিমালার আলোকে এই সংশয়ের সমাধান তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি রেজাউল করীম আবরার। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি জানান, ত্বকের কোনো স্থান বা ঘামাচি থেকে পানি বের হলে ওজু ভাঙবে কি ভাঙবে না, তা নিঃসৃত পানির পরিমাণ এবং তা গড়িয়ে পড়ার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

    ফিকহি মূলনীতি ও ওজু ভঙ্গের নিয়ম

    ইসলামী শরিয়তে ক্ষতস্থান থেকে তরল নির্গত হয়ে ওজু ভঙ্গের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো সেই তরলের ‘প্রবাহিত হওয়া’ বা ‘গড়িয়ে পড়া’। ফিকহে হানাফির অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার গ্রন্থ ‘আল-হেদায়া’ এবং ‘আল-মুহিতুল বুরহানী’-তে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।

    বলা হয়েছে, ক্ষতের স্থান থেকে যদি পানি বা তরল এমন পরিমাণে বের হয় যা গড়িয়ে পড়ার মতো বা স্থান ত্যাগ করে প্রবাহিত হয়, তবেই ওজু ভেঙে যাবে। আর যদি তরল কেবল ক্ষতমুখে ভেসে থাকে বা সামান্য বের হয় কিন্তু গড়িয়ে পড়ার মতো প্রবাহ সৃষ্টি না করে, তবে ওজু ভঙ্গ হবে না।

    উল্লিখিত ফিকহি মূলনীতির আলোকে ঘামাচির বিধানকেও দুটি ভাগে দেখা হয়:

    সাধারণ ছোট ঘামাচি (ওজু ভাঙবে না): সাধারণত শরীরে যেসব ঘামাচি বা ছোট ফুসকুড়ি ওঠে, তা আকৃতিতে বেশ ক্ষুদ্র হয়। এসব ঘামাচি চুলকালে যে সামান্য পানি বা রস বের হয়, তা ঘামাচি ছোট হওয়ার কারণে গড়িয়ে পড়ার মতো স্থানে পৌঁছায় না। যেহেতু এই তরল প্রবাহিত হয় না বা গাল বেয়ে নিচে নেমে যায় না, তাই ঘামাচি থেকে সামান্য পানি বের হলেও ওজু ভঙ্গ হবে না।

    বড় আকৃতির ঘামাচি বা ফোস্কা (ওজু ভেঙে যাবে): তবে কোনো ঘামাচি বা ফুসকুড়ি যদি অস্বাভাবিক বড় আকারের হয় এবং তা থেকে এই পরিমাণ পানি বা রস নিঃসৃত হয় যা স্থান ত্যাগ করে গড়িয়ে পড়ে, তবে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ওজু ভেঙে যাবে।

    ইসলামের বিধান যেমন সুনির্দিষ্ট, তেমনই বান্দার জন্য অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক। দৈনন্দিন জীবনে অধিকাংশ ঘামাচি এতই ছোট হয় যে তা থেকে বের হওয়া পানি গড়িয়ে পড়ার মতো হয় না। ফলে সিংহভাগ ক্ষেত্রে ঘামাচি বা ছোট ফুসকুড়ি থেকে রস বের হলেও ওজু নষ্ট হয় না। তাই কোনো অজাগতিক বা অহেতুক ওয়াসওয়াসায় না ভুগে শরিয়তের এই মূলনীতি মনে রেখে আত্মবিশ্বাসের সাথে সালাত ও অন্যান্য ইবাদত সম্পাদন করা উচিত]।

  • ভারী বৃষ্টিতে মদিনায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

    ভারী বৃষ্টিতে মদিনায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

    সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার মাঝারি থেকে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা, মদিনা, হাইল, কাসিম, নর্দার্ন বর্ডারস, জাজান, আসির ও আল-বাহাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ধুলিঝড়ের কারণে দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্যে নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

    মদিনায় বিশেষ সতর্কতা

    মদিনা অঞ্চলে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে এনসিএম। এর সঙ্গে প্রবল বাতাস, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ (এসআরসিএ) মদিনায় ৭০টি অ্যাম্বুলেন্স দল ও সহায়তাকারী যানবাহন প্রস্তুত রেখেছে। মসজিদে নববী ও কেন্দ্রীয় এলাকার স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্স দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির সময় উপত্যকা, পানিপ্রবাহের পথ ও জলাবদ্ধ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রবাহিত পানির মধ্য দিয়ে রাস্তা পারাপার না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ৯৯৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    সোমবার-মঙ্গলবার বাড়তে পারে বৃষ্টির তীব্রতা

    এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি জানিয়েছেন, সোমবার ও মঙ্গলবার দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। শনিবার জেদ্দা ও রাবিগেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

    আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সৌদি আরবে তুলনামূলক বৃষ্টিপ্রবণ সময়। বিশেষ করে নভেম্বরে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়ে।

    তবে ভারী বর্ষণে শুষ্ক উপত্যকা ও নিচু এলাকায় আকস্মিক পানির ঢল তৈরি হয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৭৪

    ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৭৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৪ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৭১৪ জন, আর মারা গেছেন দুই জন। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, সেখানে ভর্তি ৩১১ জন। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২১৩ জন, আর সেখানে একজন মারা গেছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৯০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১৫ জন, ময়মনসিংহে ৫০ জন ও রংপুর বিভাগে ৬০ জন এবং সিলেট বিভাগে ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪৫৮ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৯৬ রোগী।বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫ হাজার ৮২৬ ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছেন ঢাকা বিভাগে, ২ হাজার ৫৮৫ জন। বরিশাল বিভাগে ৬৯১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৫২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০২ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ২২৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬০ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

  • শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

    শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শেখার দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে পড়া, লেখা ও গণিতে শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে শিশুদের সহায়তা করা হবে।

    বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ সম্প্রতি এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সহায়তা দেওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তবে শিক্ষার মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ১০ বছর বয়সি শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী উপযোগী সহজ একটি লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না।

    উচ্চমধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এই চিত্র আরো স্পষ্ট। মালয়েশিয়ায় ১০ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে সহজ লেখা পড়তে ও বুঝতে না পারার হার ৪২ শতাংশ। ব্রাজিলে এ হার ৪৭ শতাংশ।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

    তিনি বলেন, গত দুই দশকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়নের ফলে শিশুরা আরো ভালোভাবে শিখতে পারবে এবং বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।

    পড়া, লেখা ও গণিতে বিশেষ গুরুত্ব

    বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি। সরকারি বিদ্যালয়, বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও মাদরাসা মিলিয়ে এ ব্যবস্থায় ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।

    নতুন কর্মসূচির আওতায় শিশুদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হবে। এর মধ্যে থাকবে পাঠদানের উপকরণ, নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ।

    এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যবস্থাও আরো শক্তিশালী করা হবে।

    বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, ভালো চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে যেসব জেলা শিক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের মান বাড়ানোর পাশাপাশি বাজেটের জবাবদিহিমূলক ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্তের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়তা দেওয়া হবে।

    কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিত শেখানোর পদ্ধতির উন্নতি ঘটানো হবে।

    প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানও বাড়বে

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই শেখার উপযোগী ভিত্তি তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরুর জন্য তাদের প্রস্তুতিও বাড়বে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার অতিরিক্ত ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    এই অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মাধ্যমে। সংস্থাটি নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহজ শর্তে অর্থায়ন করে থাকে। এ ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় থাকবে।

In English

English edition · Older English stories