BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। স্বাধীনতার পর দলটির সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    তবে বিরোধী দলের নেতৃত্ব পাওয়া আর কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করা এক বিষয় নয়। আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয়ের তদারকি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

    এক নজরে
    • ত্রয়োদশ সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
    • ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে।
    • জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসন শূন্য।
    • পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    ঐতিহাসিক পটভূমি

    আপনি Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি লিখেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা এই সংসদে নতুন কী দেখা যাচ্ছে, আর পুরোনো কোন প্রবণতাগুলো ফিরে আসছে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দলটি সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে এসেছে। একে প্রচলিত রাজনৈতিক বিন্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়। ২০১৩–১৪ সালের পর বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ২০২৬ সালে বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা তাই দলটির রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক জোটের অংশীদার থেকে প্রধান সংসদীয় বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পায়। ২০০১ সালে দলটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ হয় এবং দুই নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পৃথক অবস্থানে রয়েছে। তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেখা গেলেও এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব বুঝতে আরও নির্বাচন ও নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ প্রয়োজন।

    প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে এখন সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সংসদীয় নজরদারি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নও দলটির প্রধান দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার প্রবণতাও রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের স্বার্থ ও কৌশলে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় বিন্যাস সেই সম্পর্কের নতুন পর্যায় নির্দেশ করে।

    সংসদে জামায়াতে ইসলামী

    • ১৯৯১ ১৮টি আসন।
    • ২০০১ ১৭টি আসন; বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ, মন্ত্রিসভায় দুই নেতা।
    • ২০১৪ ও ২০১৮ সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
    • ২০২৬ প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী।

    “স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ দল সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদে ও রাজপথে বিরোধী রাজনীতি

    বিরোধী দল ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং ৬ সেপ্টেম্বর দুটি বিল নিয়ে ওয়াকআউট করেছে। জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসনও শূন্য রয়েছে। কখন বর্জন বৈধ রাজনৈতিক চাপ, আর কখন তা সংসদকে দুর্বল করে?

    সংসদীয় ওয়াকআউট প্রক্রিয়াগত অন্যায়ের প্রতিবাদে সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহৃত হলে কার্যকর রাজনৈতিক চাপ হতে পারে। কিন্তু এটি নিয়মিত বিরোধিতার প্রধান কৌশল হয়ে উঠলে সংসদীয় বিতর্ক ও প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা দুর্বল হয়। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী সদস্যদের ওয়াকআউট ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি উদাহরণ। জুন মাসে বিল উত্থাপন ও পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের সুযোগ নিয়ে আপত্তির পরও বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাদের দাবি ছিল, সংশোধিত সংস্করণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। বিরোধী সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করার পরও বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ১৩ জুলাই গঠিত বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন রাখা হলেও কমিটির কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তির কারণে জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা সদস্য মনোনয়ন দেয়নি। এসব ঘটনা দেখায়, ওয়াকআউট জনমনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে; কিন্তু সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা সীমিত করে।

    “বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতি এখনও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    ক্ষমতাসীন দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদে রয়েছে এবং ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৮টির সভাপতিত্ব করছে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারের বিরোধী দলকে প্রকৃত ভূমিকা দেওয়ার জন্য কী করা উচিত?

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের অর্থ এই নয় যে সংসদীয় কাঠামোতে বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত থাকবে। ১০ সেপ্টেম্বর ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের পর মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে ছিল।

    সরকার সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে বিরোধী দলকে কার্যকর তদারকির সুযোগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে বিরোধী সদস্যরা সরকারি নীতি পর্যালোচনা, নির্বাহী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এবং নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন। বিরোধী দলের সঙ্গে মতৈক্য থাকা জরুরি নয়; বরং তাদের প্রশ্ন তোলা ও সরকারি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ থাকা জরুরি। ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ব্যবস্থা নীতিগত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করেও সংসদীয় জবাবদিহি জোরদার করতে পারে।

    আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও সাংবিধানিক বিরোধ

    ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত-জোটের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু বিএনপি বলেছে পরিষদটি সংবিধানে নেই এবং তারা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি কি নীতিগত বিরোধ, নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব? এর সমাধান কীভাবে হতে পারে?

    ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় শপথ নিলেও প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের যুক্তি ছিল, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে, জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা উভয় শপথ গ্রহণ করেন।

    এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্কারের ম্যান্ডেটকে কীভাবে বৈধ সাংবিধানিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়া হবে। এর সমাধানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সাংবিধানিক বৈধতা পরস্পরের পরিপূরক হয়।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি বিরোধী দলের ধারণা কীভাবে বদলে দেয়? এখন বিরোধী দল কাদের প্রতিনিধিত্ব করে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। ফলে দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছে। তবে নির্বাচনে অনুপস্থিতি দলটির সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ নয়। জামায়াত এখন সংসদীয় বিরোধিতার প্রধান সাংগঠনিক শক্তি হলেও সরকারের বিরোধিতাকারী সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে, বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ও আওয়ামী লীগের সব সমর্থকের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা সংসদীয় বিরোধী দলের চেয়ে বিস্তৃত।

    “নির্বাচনের ব্যালটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তির বিলুপ্তি বোঝায় না।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদ থেকে রাজপথে: সংঘাত এড়ানোর উপায়

    ১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করেছিলেন যে আট দফা দাবি এক দফা দাবিতে পরিণত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উভয় পক্ষের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?

    জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের ১৯ সেপ্টেম্বরের সতর্কবার্তা সংসদীয় বিরোধ রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেয়। আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ১৯৯৬, ২০০৬–০৮ এবং ২০১৩–১৪ সালের রাজনৈতিক সংকট দেখায়, সংসদীয় আলোচনা ব্যাহত হলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা। রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধ অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত বিরোধের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা; বিরোধী দলেরও সংসদীয় প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।

    সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহি

    জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এখন সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (Public Accounts Committee—PAC) সভাপতিত্ব করছেন। এই কমিটি কতটা কার্যকর নজরদারি করতে পারে?

    জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সভাপতিত্বই কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে না। কমিটিটি সরকারি ব্যয়ের অপচয়, অননুমোদিত ব্যয়, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু কার্যকারিতা নির্ভর করে নিরীক্ষা আপত্তির ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর। তথ্যে প্রবেশাধিকার, নিয়মিত বৈঠক, বিশেষজ্ঞ সহায়তা, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নিশ্চিত করা জরুরি। দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নিরীক্ষা-প্রমাণকে অগ্রাধিকার দিলেই নজরদারি অর্থবহ হতে পারে।

    সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এবং কোন সংস্কার সংসদকে শক্তিশালী করতে পারে?

    সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব, তদন্ত এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক রাজনীতি, সংসদ বর্জন, নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রভাব এবং দুর্বল সংসদীয় তদারকি সরকার–বিরোধী সম্পর্ককে জটিল করেছে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে কার্যকর ভূমিকা দিলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংসদীয় বিতর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব, দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া, প্রকাশ্য শুনানি ও প্রতিবেদন প্রকাশের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির সংস্কার ও আন্তদলীয় সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সাংবিধানিক পরিবর্তন নতুন বিরোধ তৈরি করতে পারে। তাই বিরোধী দলের আইনগতভাবে সুরক্ষিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সংসদকে কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

    আরও পড়ার জন্য

  • পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    তারা কখনও ‘জিনের বাদশা’, কখনও তান্ত্রিক-কবিরাজ। আবার কখনও পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই জিনের বাদশাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পুলিশ জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

    এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

    চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

    পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে একটি বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি লামিন ইয়ামালকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে এই তুলনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়।

    ১৯ বছর বয়স মাত্র। এই বয়সেই লামিন ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম ফেভারিট। বার্সেলোনায় খেলছেন, তার পছন্দের জায়গা রাইট উইংয়ে, বাম পায়ের খেলোয়াড়… এমন সব সাদৃশ্যের কারণে তার সঙ্গে তুলনা চলছে লিওনেল মেসিরও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে গেছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকের কাছেও। সে বিষয়ে তিনি তার অভিমত দিয়েছেন।

    এনরিকে নিজে বার্সেলোনায় মেসির কোচ ছিলেন। তার অধীনে দল ট্রেবল জিতেছিল। তখন মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ মিলে দারুণ আক্রমণভাগ গড়েছিলেন।

    এই মৌসুমেও ইয়ামাল ভালো খেলছেন। গত মৌসুমের ভালো ফর্মটা তিনি ধরে রেখেছেন এবারও। ১১ ম্যাচে তিনি ৯টি গোল করেছেন। গোল করিয়েছেন আরও ১০টি। বুধবার রাতে তার দল বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে পিএসজির। সেই ম্যাচেও তিনি বার্সেলোনার মূল ভরসা হবেন বলে ধরা হচ্ছে।

    এনরিকে মনে করেন, ইয়ামালের উচিত নিজের পরিচয় গড়া। মেসির ছায়ায় থাকা তার জন্য ঠিক নয়। এই কোচ তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মেসিকে তিনি সর্বকালের সেরা মানেন। তাই অন্য কারও সঙ্গে তার তুলনা অন্যায়, এমনটাই এনরিকের মত।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় লামিন একটা কাজ খুব ভালো করছে। সে লামিন ইয়ামালই হতে চায়। সে খেলার নানা দিকে উন্নতি করছে। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় মেসির সঙ্গে অন্য কাউকে তুলনা করলে কেউই জিতবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লামিন নিজের সেরা রূপটা হতে চায়। অন্যের সঙ্গে নিজেকে না মেলানোই ভালো। সে খুব বুদ্ধিমান।’ নিজের পুরনো ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি এসব কথা বলেন।

    এনরিকে মানেন, ইয়ামাল পিএসজির জন্য বড় হুমকি। তার মতে, ইয়ামালকে থামানোর সেরা পথ হলো বার্সেলোনার হাতে বল কম দেওয়া। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের বিপক্ষে এটা করা কঠিন, তা তিনি স্বীকার করেছেন। তাই তিনি নিজের খেলোয়াড়দের বলেছেন, নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে। সবাইকে একসঙ্গে খেলতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘খুব সহজ। ওকে বল পেতে দেওয়া যাবে না। কারণ বল পেলেই বিপদ। লামিনকে আটকানোর সেরা উপায় হলো বার্সেলোনাকে বলই না পেতে দেওয়া। আমাদের জন্য এটাই আদর্শ অবস্থা। কিন্তু তা হবে না। কারণ বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন, আমরা জানি।’

    ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ আরেকটি কথাও বলেছেন। শুধু ইয়ামালকে নিয়ে ভাবলে পিএসজির চলবে না। কারণ বার্সেলোনার পুরো দলেই মান আছে। তাই পিএসজিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই মিলে রক্ষণ সামলাতে হবে।

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় আছে। শুধু লামিন নয়। রাফিনিয়া, পেদ্রি, কুবার্সি, হোয়ান গার্সিয়া… অনেকেই আছে। আমরা মনোযোগী ও সতর্ক থাকব। ওকে আমাদের দল হিসেবেই হারাতে হবে।’

  • সৌদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপনীয় নথি যা বলছে

    সৌদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপনীয় নথি যা বলছে

    সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সৌদি আরবের কারাগারে আটক ছিলেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

    ১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। চিঠিতে বলা হয়, সৌদির গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

    এই দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সৌদির কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে। সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তালিকায় তাঁদের কারও সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।

    সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতা–সংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকার তথ্য তালিকায় আছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

    চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি, কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদির কর্তৃপক্ষও এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

    রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে কনস্যুলেট। চিঠিতে বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

  • উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রায়হান কবীর রাব্বী (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা গোপন করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু মিয়ার লাশের দুই পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেগুলো একটি সবুজ রঙের ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও এর সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    গ্রেফতার রায়হান কবীর রাব্বী একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। তিনি নিহত বাচ্চু মিয়ার ভাতিজার ছেলে।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে দিবাগত রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব তৎপরতার ধারাবাহিকতায় রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত রয়েছেন কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় মিঠু মিয়ার বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে বাচ্চু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকার মরহুম সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে। রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি উলিপুরে বেড়াতে এসে তিনি ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেই বাড়ি থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ,আর

  • রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের কাউনিয়ায় পূজামণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাকিল আহমেদ (১৯) নামে এক ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কাউনিয়ার টেপামধুপুরের রাজীব চৈতারমোড় দীগলটারি দুর্গা মন্দিরে এ দুর্ঘটনা হয়।

    নিহত শাকিল টেপামধুপুর ইউনিয়নের মন্ডলটারী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে মধুপুর বাজারের মাহিন সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করত।

    কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল জানান, দশমী উপলক্ষে ডেকোরেটরের মালামাল খুলে নেয়া হয়। পরে বিদ্যুতের লাইনের জয়েন্ট থেকে জেনারেটরের তারের লাইন খোলার সময় শাকিল বিদ্যুতায়িত হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ,আর

  • শার্শায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ পাচারকারী গ্রেফতার

    শার্শায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ পাচারকারী গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন নামে এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার সকালে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকার একটি ইটভাটা-সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার আলাউদ্দিন শার্শা উপজেলার হাড়িখালী-যদুনাথপুর গ্রামের মরহুম গোলাম রসুলের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন আলাউদ্দিনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এ ঘটনায় চোরাচালান-সংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীতে পড়ে তানহা (২) নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত তানহা দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকার মো: তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির পাশের করতোয়া নদীতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর চাচা নূরনবী জানান, ‘বুধবার সকাল থেকেই তানহা বাড়িতে খেলাধুলা করছিল। নদীতে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও তিনি তাকে বাড়িতে দেখেছেন। পরে নদীর পাশ থেকে লোকজনের চিৎকার শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এ সময় নদী থেকে উদ্ধার করা ভাতিজিকে দেখতে পান তিনি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

    এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। দুই বছরের শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ,আর

  • বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঙ্গলবার রাতে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ের নায়ক ফিল ফোডেন। তিনি একাই করেছেন তিনটি গোল।

    গত দুই মৌসুম ভালো কাটেনি ফোডেনের। ২৬ বছর বয়সী এই ইংলিশ মিডফিল্ডার নিজেই মানসিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এই বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের দল থেকেও তিনি বাদ পড়েন। শনিবার ইপসউইচের বিপক্ষে গোল করার আগে প্রায় ১০ মাস তিনি কোনো গোল পাননি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর তার গোল ছিল না। তাই এই রাত তার জন্য বড় স্বস্তির।

    খেলার ১২ মিনিটেই সিটি এগিয়ে যায়। এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি কিক বারে লেগে ফিরে আসে, এলিয়ট অ্যান্ডারসন সুযোগ নিয়ে ১০ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে এসে এটিই তার সিটির হয়ে প্রথম গোল।

    ৩৪ মিনিটে ফোডেন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। রিকো লুইসের সঙ্গে দ্রুত পাস খেলে তিনি এইকের রক্ষণ ভেঙে দেন। এরপর দুরূহ কোণ থেকে বল জালের ছাদে পাঠান।

    বিরতির পর সিটি মনোযোগ হারায়। ৫২ মিনিটে স্তাভরোস পিলিওস এইকের হয়ে এক গোল শোধ করেন। এটাই ছিল তাদের প্রথম লক্ষ্যে নেওয়া শট। তবে ৫৭ মিনিটে সিটি আবার দুই গোলে এগিয়ে যায়। ফোডেন প্রতিপক্ষ বিপদসীমার কাছে বল বাড়ান। রায়ান শেরকি ঘুরে গিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন।

    ৬৫ মিনিটে রিকো লুইসের পাস থেকে বল পেয়ে ফোডেন ১৮ গজ দূর থেকে গোল করে বসেন। ৭৬ মিনিটে রায়ান মাকাইদুর ক্রস থেকে তিনি বল জালে ঠেলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। দুই বছর পর প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি।

    লিগ পর্বে এটি সিটির দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে তারা পোর্তোকে হারায়। গত সপ্তাহে শিরোপাধারী প্যারিস সাঁ-জার্মেইনের কাছে হেরে যায়। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচের ১০টিতেই তারা জিতেছে।

  • আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।

    তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।

  • মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বা ওয়ান শুটার গানসহ মো: ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফরহাদ হোসেন মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার (ছৈয়াল বাড়ি) এলাকার মরহুম আব্দুল কুদ্দুস ছৈয়ালের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চর ওয়েস্টার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (ওয়ান শুটার গান) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হলো ১০ মসজিদ

    আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হলো ১০ মসজিদ

    ভারতের আসামে বনভূমি ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে দুই দিনে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই তিন জেলায় সাম্প্রতিক অভিযানে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জমি দখলমুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একে প্রশাসনের “রুদ্র রূপ” বলেছেন।

    অভিযানের চিত্র

    সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁওয়ের লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর আগেই মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ ছাড়া হোজাইয়ের যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাটের ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়।

    রোববারের অভিযানে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে লুটুমাই বনাঞ্চলে। কর্মকর্তাদের হিসাবে সেখানে প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি খালি হয়েছে এবং ৫৬৩টি পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই দিন ১ হাজার ৬৬৯টি স্থাপনা ভাঙা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি মসজিদ। এখন বন কর্মকর্তারা এলাকার সীমানা সুরক্ষিত করছেন, যাতে নতুন করে কেউ জমি দখলের চেষ্টা না করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনভূমি দখলমুক্ত করার এ অভিযান আরও চলতে পারে।

    সরকারের বক্তব্য

    আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান। বন কর্মকর্তাদের দাবি, গত আগস্টে মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। এর ফলে অভিযানের আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ “কথিত দখলদার” নিজেরাই জায়গা খালি করে চলে যান। তাঁদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ মেনেই হয়েছে।

    আদালতের ভূমিকা

    উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলো গৌহাটি হাইকোর্টে গিয়েছিল, কিন্তু প্রতিকার পায়নি। গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

    বাসিন্দাদের দাবি

    লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের “অবৈধ দখলদার” বলতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য, পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। ব্রিটিশ আমলের “টাউঙ্গিয়া” ব্যবস্থায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি গড়ার সুযোগ দিয়েছিল। উচ্ছেদ হওয়া আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তাঁর পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএমএসইউ) পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেছেন, লুটুমাইয়ে উচ্ছেদের মুখে থাকা প্রায় ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০০-র মতো পরিবারকে ১৯৭৩ সালে সরকারই সেখানে বসিয়েছিল। এর মধ্যে ১৭৭টি মুসলিম পরিবার। সংগঠনটির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের কথা বলা হলেও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    আগের অভিযান ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

    লুটুমারি এলাকায় গত বছরের নভেম্বরেও আলাদা উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। তাতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদের অধিকাংশই মুসলিম।#

  • মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুই যুবক কারাগারে

    মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুই যুবক কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে ২০ পিস ইয়াবাসহ নিজাম (৪১) ও ইউনুস (২১) নামে দুই যুবককে আটক করেছে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) তাদেরকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার হিদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটক নিজাম হিদাগাড়ী এলাকার মরহুম মোরদুজ্জামানের ছেলে এবং ইউনুস একই এলাকার মোতালেবের ছেলে।

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়নস লিগে পরাজয়ের পরও নতুন রেকর্ড গড়েছে লা-লিগার চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। গত রাতে প্যারিসের পার্ক দ্যে প্রাঁসে বার্সেলোনা হেরেছে পিএসজির কাছে। ম্যাচের ফল ৪-২।

    এই হারের মধ্যেই বার্সা একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে যা এর আগে কেউ করতে পারেনি।

    এই মৌসুমে প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতায় হারল কোচ হান্সি ফ্লিকের দল। অথচ দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। গোল করেন দেজিরে দুয়ে। পরে লুকাস এরনান্দেজ আবার তাদের এগিয়ে দেন। দুবারই সমতা ফেরায় বার্সা। প্রথম সমতার গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। এই মৌসুমে তিনি নিয়মিত মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলটি করেন লামিন ইয়ামাল। তখন ম্যাচ ২-২ হয়ে যায়।

    কিন্তু শেষ দিকে খেলা ঘুরে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১০ মিনিটে গোল করেন ভিতিনহা ও ফাবিয়ান রুইস। এই দুই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় লুইস এনরিকের দলের। ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন লড়াই।

    বার্সার হার হয়েছে ঠিকই। তবে ফ্লিকের একাদশ বাছাইয়ের কারণে ক্লাবটির নামে একটি অসাধারণ রেকর্ড বসেছে। পরিসংখ্যান সংস্থা অপটাজো’র তথ্য অনুযায়ী, বার্সাই এখন প্রথম ও একমাত্র ক্লাব, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান শিরোপাধারীর বিপক্ষে শুরুর একাদশে চারজন কিশোর খেলোয়াড় নামিয়েছে।

    এসপার্ত ও ইয়ামাল ছাড়াও একাদশে ছিলেন পাউ কুবার্সি ও মার্ক বের্নাল। জার্মান কোচ চারজনকেই শুরু থেকে নামান। দ্বিতীয়ার্ধে বের্নাল ও এসপার্তকে তুলে নেওয়া হয়।

    চাইলে আরও দুই কিশোরকে নামাতে পারতেন ফ্লিক। বেঞ্চে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আলেক্স কাম্পোস ও স্ট্রাইকার হামজা আবদেলকারিম। কিন্তু দুজনের কেউই মাঠে নামেননি। মিশরের জাতীয় দলের খেলোয়াড় আবদেলকারিম এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের যুব দলের খেলোয়াড় কাম্পোস এখনো অভিষিক্তই হননি। এই মৌসুমে তিনি বার্সেলোনা বি দলের হয়ে উয়েফা ইউথ লিগে খেলছেন।

  • কালাই থানায় পুলিশের ওপর হামলা,আটক যুবক জেলে

    কালাই থানায় পুলিশের ওপর হামলা,আটক যুবক জেলে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জয়পুরহাটের কালাইয়ে থানার ভেতর কাঠের বাটাম নিয়ে প্রবেশ করে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে আসলাম হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

    বুধবার (২১ অক্টোবর) তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই যুবক কালাই থানা কম্পাউন্ডের ভেতর কাঠের বাটাম দিয়ে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার আসলাম হোসেন উপজেলার থুপসাড়া গ্রামের মুনসুর রহমানের ছেলে।

    থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা, এ সময় হাতে কাঠের বাটাম নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন আসলাম নামে ওই যুবক। পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয় ও থানায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি কনস্টেবল মো: মাহমুদুল হাসান রকিকে আঘাত করেন। পরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে কনস্টেবল মো: মাসুদ রানার পিঠে আঘাত করেন। এ সময় আরেক পুলিশ সদস্য এগিয়ে আসলে তার ডান হাতের আঙুলে আঘাত লাগে।

    পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে কাঠের বাটাম ফেলে সে দৌড়ে থানা কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে যান আসলাম।

    আহত পুলিশ সদস্যদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক আহসান হাবীব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযুক্ত আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়া আইনে একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ‘থানায় ঢুকে এক যুবক পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। ঘটনার সময় আমি মন্ত্রী মহোদয়ের ডিউটিতে ছিলাম। পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারী যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসলামকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ নামের নতুন এই প্রবিধানমালা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত ৪ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যসমূহের নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬টি শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রয়েছে।

    এর আওতায় পথের ধারে ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও বড় আকারের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, খাবারের ব্যবসায় জড়িত এমন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে।

    প্রবিধানের তফশিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্যব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে যারা বিশেষ ধরনের বা সুপার ফুড পণ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের লাইসেন্স নিতে হবে।

    রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ এবং ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে যারা পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসা করেন, নতুন এই নিয়মের আওতায় তাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

    এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করে, যেমন: শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরিকৃত বিশেষ ধরনের খাবার, এমন চার ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে এ প্রবিধানের মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণন।এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি-সম্পন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফশিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে।

    কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময় থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর এটি নবায়ন করতে হবে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্যব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হয়েছে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার নিম্নে প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ফি ১০হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

    প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা বুঝতে পারবে এবং যে কোনো অভিযোগ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেই করতে পারবে।

    প্রাথমিক অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।

  • কখনোই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আরাগচি

    কখনোই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আরাগচি

    ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে।

    তবে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক আল-আখবারিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য মেনে না নেওয়া। তার মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মূল সমস্যার অজুহাত মাত্র।

    আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান মেনে নিতে চায় না, যেখানে মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করা হবে এবং দেশটির ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এ কারণেই পরমাণু ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আলোচনা নিয়ে অবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর আগে তিন দফা আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে।

    গত বছরের জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, দুই দফা হামলার সময়ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এ ছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, যা পরে যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া ঠেকাতে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রেখেছে বলে জানান তিনি।

  • তিন দেশের সাথে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

    তিন দেশের সাথে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

    প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। এই সমঝোতার আওতায় যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়াবে দেশগুলো।বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

    আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চার দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

    দোহায় আয়োজিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের। এ ছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

    তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে এই সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আওতায় দেশগুলোর সহযোগিতা শুধু সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থা একীভূত করা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। অর্থাৎ, এই চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

    এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ফলে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ওই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, নতুন সমঝোতাটি প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতাকেন্দ্রিক; এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার নেই।

  • সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় মোহাম্মদ হানিফ (৫৫) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবার।

    নিহত মোহাম্মদ হানিফ চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ রিয়াদ (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে।

    পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, হানিফ মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘরের আলমারির মধ্যে রেখেছিলেন। তার ছেলে বখাটে মেহেরাজ স্থানীয় মাদককারবারিদের সাথে মিলে ওই টাকা চুরি করে নিয়ে খরচ করে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে নিজের ছেলেকে শাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মাদককারবারিদের সঙ্গ না দেয়ার জন্য নিষেধ করেন।

    এতে মাদককারবারিরা ক্ষুব্ধ হয়ে, গত ৯ অক্টোবর বাদ জুমা দুপুর ২টার দিকে জুমার নামাজ পড়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা মাদককারবারি বেলায়েত হোসেন মামুন, তার সহযোগী মো: শুভ ও রিয়াদসহ ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হানিফকে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান।

    সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’এ,আর

  • অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার বা চুক্তি হলো একটি পবিত্র প্রতিশ্রুতি, যা বিশ্বস্ততা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক। মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য পাপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে সাক্ষী রেখেছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।” (সুরা আন-নাহল: ৯১) এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, অঙ্গীকার পূর্ণ করা শুধু মানুষের সঙ্গে করা একটি সামাজিক দায় নয়, বরং আল্লাহর সামনে একটি ধর্মীয় দায়িত্ব।

    অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। ইতিহাসে দেখা যায়, আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে, কিন্তু তারা তা ভঙ্গ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের উপর লা‘নত পাঠিয়েছেন এবং তাদের অন্তর কঠিন করে দিয়েছেন। কোরআনে এসেছে, “সুতরাং তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে লা‘নত দিয়েছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে করেছি কঠোর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১৩) অতএব, মুসলমানদের উচিত অতীত জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

    অঙ্গীকার পূর্ণ না করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালার কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সুরা আল-ইসরা: ৩৪) এই সতর্কবাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা শুধু দুনিয়াবি কর্তব্য নয়, বরং আখেরাতের জবাবদিহির বিষয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা) অঙ্গীকার রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ আছে: যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন আমানত রাখা হয় তখন খেয়ানত করে।” (সহিহ বুখারি: ৩৩; মুসলিম: ৫৯) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা শুধু নৈতিক দুর্বলতা নয়, এটি ঈমানের পরিপন্থী কাজ।

    অঙ্গীকার পূরণে সমাজে আস্থা, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যেকের উচিত নিজের প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকা। মুসলমানের মুখ ও কাজ যেন এক হয়, কথায় যেন প্রতারণা না থাকে। কারণ ইসলাম সেই সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভর করতে পারে, বিশ্বাস রাখতে পারে।

    অঙ্গীকার পূর্ণ করা কেবল দুনিয়ার শান্তির পথ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের মাধ্যমও বটে। আল্লাহ আমাদের সকলকে অঙ্গীকার রক্ষাকারী, বিশ্বস্ত ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। আমিন।

  • সিনাই বলে কিছু থাকবে না, মিসরকে ইসরাইলি মন্ত্রীর হুমকি

    সিনাই বলে কিছু থাকবে না, মিসরকে ইসরাইলি মন্ত্রীর হুমকি

    সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে মিসরকে ফের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ । তিনি বলেন, মিসর ইসরাইলে হামলা চালালে দেশটিকে সিনাই উপদ্বীপ হারাতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্যের চেয়ে সামরিক সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এক সাক্ষাৎকারে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির দেওয়া আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি সিসি বলেছিলেন, তার কোনো আঞ্চলিক ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধেরও ইচ্ছা নেই। স্মোত্রিচ বলেন, সিসির দেওয়া এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি।

    স্মোত্রিচ বলেন, মিসর যদি বুঝতে পারে যে তারা পরবর্তীবার হামলা চালালে ‘সিনাই বলে কিছু থাকবে না’, ইসরাইল তখনই কেবল নিশ্চিত হবে। সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে স্মোত্রিচের আগের মন্তব্যের পরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মিসর ইসরাইলে হামলা চালালে দেশটিকে সিনাই হারাতে হবে।

    ইসরাইলি মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কায়রো একে ‘ফাঁকা হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষার সক্ষমতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে মিসর।

    গত সপ্তাহে ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধের বিজয়ের ৫৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর ৪৪তম সাংস্কৃতিক সেমিনারে ইসরাইলি মন্ত্রীরে বক্তব্যের জবাব দেন সিসি।

    সিসি বলেন, দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছে এবং হারানো সব ভূমি পুনরুদ্ধার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই এখন মিসরের প্রধান অগ্রাধিকার।

  • আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

    আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

    আজকের আধুনিক সভ্যতা প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে বিস্ময়কর উন্নতি অর্জন করেছে। মানুষ চাঁদে পা রেখেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যন্ত্রকে চিন্তাশীল করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও আত্মিক শূন্যতা বেড়েছে ভয়াবহভাবে। আজকের মানুষ জানে কীভাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট তৈরি করতে হয়, কিন্তু জানে না কীভাবে অন্তরের শান্তি অর্জন করতে হয়। এই নৈতিক সঙ্কটের মূলে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতি— যা মানুষকে আত্মিক জাগরণ, মানবিকতা ও নৈতিকতা শেখায়।

    ধর্মীয় শিক্ষা: মানুষের প্রকৃত পরিচয় গঠনের শিক্ষা

    ধর্মীয় শিক্ষা শুধু নামাজ, রোজা বা ইবাদতের পাঠ নয়; বরং এটি মানুষের জীবনবোধ, ন্যায়নীতি, চরিত্র ও মানবতার পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা। ইসলাম ধর্ম মানুষকে শিক্ষা দেয় কীভাবে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য দায়িত্বশীল জীবনযাপন করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেছেন— পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সুরা আলাক: ১)

    নবীজির প্রতি অবতীর্ণ ওহির এই প্রথম বাণী থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে জ্ঞানের সূচনা স্রষ্টার নাম স্মরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞানকে নৈতিকতা ও ঈমানের ভিত্তিতে গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। (তিরমিজি শরিফ: ২৬৪৬)

    এই হাদিসে “জ্ঞান” শব্দটি কেবল দুনিয়াবি বিদ্যা নয়; বরং সে জ্ঞান, যা মানুষকে আল্লাহর দিকে, ন্যায়ের দিকে ও মানবকল্যাণের দিকে পরিচালিত করে।

    সমাজের বাস্তব চিত্র

    আজকের সমাজে আমরা প্রযুক্তিগত উন্নতি দেখছি, কিন্তু নৈতিক অবক্ষয়ও সমানতালে বাড়ছে। পরিবার ভাঙছে, সন্তান পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্য হচ্ছে, দুর্নীতি ও প্রতারণা সাধারণ হয়ে গেছে। শিশু থেকে তরুণ প্রজন্ম পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় শিক্ষাব্যবস্থার মূল কেন্দ্রে যদি ধর্মীয় মূল্যবোধ না থাকে, তবে মানুষ যন্ত্রের মতো বুদ্ধিমান হলেও হৃদয়ে শূন্যতা থেকেই যাবে।

    বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতাও এই সংকট থেকে মুক্ত নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, বিদ্যালয় পর্যায়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা যথাযথভাবে চর্চা না হওয়ায় শিশুদের মাঝে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বা ব্যবসায়ে দক্ষ হলেও, সমাজ ও মানবতার প্রতি তাদের উপলব্ধি সীমিত।

    ধর্মীয় শিক্ষার অভাব: সমাজে নৈতিক সংকট

    যে সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা অনুপস্থিত, সেখানে মানুষ নিজের স্বার্থকেই একমাত্র সত্য মনে করে। ফলাফল— দুর্নীতি, লোভ, অন্যায়, সহিংসতা, পারিবারিক ভাঙন। অথচ ইসলাম শিক্ষা দেয়— নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়দের (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন এবং অশ্লীলতা মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সুরা নাহল: ৯০)

    এই আয়াতটি কেবল মসজিদে শোনার জন্য নয়, বরং প্রতিটি পরিবার, স্কুল ও অফিসে বাস্তবায়নের জন্য। যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই এই নীতি অন্তরে ধারণ করে বড় হয়, তবে সমাজে অন্যায়ের স্থান থাকবে না।

    ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিকতার সমন্বয়

    অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা মানেই আধুনিক শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা। বাস্তবে ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণাকে উৎসাহিত করে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। (ইবনে মাজাহ: ২২৪)

    এখানে ‘জ্ঞান’ বলতে ধর্মীয় ও প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি জ্ঞান উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। ইসলাম এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা চায়— যেখানে মানুষ বিজ্ঞান জানবে, তবে তা ব্যবহার করবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে।

    আজকের শিশু যদি একদিকে কোরআনের আলোয় হৃদয়কে শুদ্ধ করে, আর অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে সমাজ উন্নয়নের পথ খোঁজে— তবেই গঠিত হবে এক সভ্য, নৈতিক ও প্রগতিশীল জাতি।

    পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব

    পরিবার হলো শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। পিতা-মাতা যদি ঘরে ইসলামী আদর্শের চর্চা করেন, নামাজ, দয়া, সততা, সহমর্মিতার চর্চা করেন তাহলে সন্তান সেই মূল্যবোধের উত্তরাধিকারী হয়। বিদ্যালয়েও শিক্ষকরা যদি পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি চরিত্রগঠনমূলক ধর্মীয় শিক্ষা দেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় নয়, জীবনের প্রতিযোগিতাতেও সৎভাবে জয়ী হবে।

    আজকের পৃথিবী নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, কিন্তু মানুষ এখনো খুঁজছে শান্তি। সেই শান্তি টাকা, ক্ষমতা বা যন্ত্রের উন্নতিতে নেই; আছে আল্লাহর নির্দেশিত নৈতিক জীবনে। ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে শেখায় কীভাবে মানুষ হতে হয়। তাই আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা মানবতার বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেছেন— যে ব্যক্তি তার আত্মাকে পবিত্র করেছে, সে সফল হয়েছে। (সুরা শামস: ৯)

    ধর্মীয় শিক্ষা সেই আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যম, যা মানুষকে শুধু সফল নাগরিক নয়, বরং সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

  • শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    রাজধানীতে শীতের পরশ এখনো সেভাবে না লাগলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও টমেটোর মতো মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ছে বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে।

    শীতকালীন সবজির প্রতি রাজধানীবাসীর আগ্রহ বাড়লেও দাম অনেকেরই নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে নিছক দামের কারণেই। পেঁপে, পটোল, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া তুলনামূলক কম দামে অন্য সবজি পাওয়া কঠিন। ফলে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসার আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম। শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

    এদিকে, বাজারে আসা আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার আকার এখনো তুলনামূলক ছোট। টমেটোও এখনো তেমন পরিপক্ব হয়নি, সাদাটে ও সবুজ আভা তা জানান দিচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।

    গত রোববার রাত দেড়টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলা এসেছে। ট্রাক থেকে সবজি নামাতে ব্যস্ত কুলি ও ভ্যানচালকরা। কেউ আড়তের সামনে সবজি স্তূপ করে রাখছেন, কেউবা ফুটপাতে চট বিছিয়ে শুরু করেছেন বিক্রি। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ট্রাক থেকেই সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করছেন।

    বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে শিম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিমের দাম ৯৫ থেকে ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ভরা মৌসুমে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে পরিচিত মুলার কেজিও এখন পাইকারি বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর খুলনা থেকে আসা দেশি টমেটো প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিত্যদিনের বাজার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। পছন্দের সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও চড়া দামের কারণে অনেককে পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শীতকালীন সবজি এলেও বর্তমানে মূলত খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকেই আগাম সবজি আসছে। অন্য অঞ্চলে এসব সবজি এখনো বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে বলে আশা করা যায়।

    তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয়, আবার বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

    শাহজাহান নামে আরেক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচাবাজারের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে। রাতের তুলনায় ভোরে অনেক সবজির দাম কমে আসে। আগের রাতে শিম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভোরে তা নেমে ৯৫ টাকায় আসে। একইভাবে রাত ১১টা থেকে ১২টায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরের দিকে দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে আসে।

    খুচরা বাজারের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকাভেদে সবজির দামে পার্থক্য হয়। গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় যে দামে সবজি বিক্রি হয়, মহাখালী বা শ্যামলীতে তা তুলনামূলক কম হতে পারে। ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারেন। এজন্য খুচরা পর্যায়ের দাম বলা কঠিন।

    গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৬০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৭০-১০০, বেগুন ৮০-১৪০, করলা ৮০-১২০, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, টমেটো ১৬০-১৮০, শিম ১৫০-২০০, মিষ্টিকুমড়া ৬০, বরবটি ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ১২০-১৬০, শসা ৭০-৮০, পেঁপে ২০-২৫, কচু ৫০-৬০, ওল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬০-৮০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০-৪০ টাকা, প্রতি আঁটি পুঁইশাক ৪০-৫০ টাকা, লালশাক ২০-৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০-৭০ টাকা এবং মুলা ৫০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না: ইরান

    ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না: ইরান

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, দেশটির সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এর এক কণাও বিদেশে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, এই পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের জাতীয় সম্পদ।

    মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র আস্থা পুনর্গঠনে ইরানের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলেও জানান রেজাই।

    এদিকে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত পারাপার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানান মুনির। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখার কথা বলছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • ককরোচদের ভর্ৎসনা

    ককরোচদের ভর্ৎসনা

    দিল্লির যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে মোদি সরকার। তারপরও সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাকে ভর্ৎসনা করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

    বুধবার শুনানিতে আদালত বলে, ‘আপনারা (বিক্ষোভের) সামনের সারিতে রয়েছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন অন্যরা আপনাদের অনুসরণ করতে পারে। এমনও হতে পারে যে, সেখানে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

    আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, ‘যে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতির উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভকারীদের আটকানো নয়, বরং অন্যদেরও আটকানো। যাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অন্যেরা যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন।’

    অন্য দেশের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি এটা দেশের বাইরেও হয়েছে। ছাত্রবিক্ষোভ দিয়ে যেটা শুরু হয়েছিল, তা পরে অশান্ত হয়ে উঠেছে।’ তবে কোনো দেশের নাম আদালত উল্লেখ করেনি।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ, আশুতোষ ও কয়েকজন সিজেপি সমর্থক লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দেন তারা। পুলিশ তাদের প্রত্যেককে আটক করে। আশুতোষ ও সৌরভকে আগের বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে আশুতোষ, সৌরভ ও সিজেপি প্রধান দীপকেকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্ত কেন লঙ্ঘন করেছেন, সে প্রশ্ন তোলে আদালত।

  • জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম ছয় দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নিবন্ধনসংক্রান্ত সফটওয়্যার বিডিআরআইএসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়বেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কার্যক্রম বন্ধের তথ্য জানানো হয়।

    বুধবার দৈনিক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন করতে হবে। তবে ছয় দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়লাম।

    অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, এ কার্যক্রম বন্ধের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। তাঁর জন্মনিবন্ধন সনদে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

    এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে অনলাইন সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    নির্ধারিত সময়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সময়সূচি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ফ্রান্সে সেনাবাহিনী মোতায়েন

    ফ্রান্সে সেনাবাহিনী মোতায়েন

    ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে নিজেদের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছে সরকার।

    ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেন, আগামী শনিবার নজিরবিহীন বা বিশাল আকারের নিরাপত্তা কড়াকড়ি থাকবে। তিনি আরো জানান, ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ এবং অন্যান্য শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর আপাতত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

    পার্লামেন্টে উত্তপ্ত এক বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল সুরক্ষিত রাখতে না পারায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে কৌশল ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

    বিদ্যমান সংকটকে ‘সহিংসতা ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এই অস্থিরতার জন্য কট্টর বামপন্থিদের দায়ী করেন। অন্যদিকে, কট্টর বামপন্থিদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সরকার তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।

    সংঘর্ষের এই ভয়াবহতা এবং তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান অক্ষমতা পুরো ফ্রান্সকে স্তম্ভিত করেছে। আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

    গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার পর তুলনামূলক শান্ত একটি রাত কাটিয়েছে ফ্রান্স। অস্থিরতাকবলিত কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কারফিউ জারি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছে সরকার। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে জারি করা কিছু কারফিউসহ স্থানীয় পর্যায়ের এসব বিধিনিষেধ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    লেকর্নু স্বীকার করেছেন, সপ্তাহান্তে সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতা, পুলিশের স্থির অবস্থানভিত্তিক মোতায়েন এবং পূর্বনির্ধারিত পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল না করার সিদ্ধান্তকে তিনি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আমার অংশের দায় স্বীকার করছি’।

  • ফ্রান্সে বিক্ষোভের স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

    ফ্রান্সে বিক্ষোভের স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

    গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

    আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।

    তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

    কোথা থেকে এ স্লোগানের উৎপত্তি

    ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান।

    বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’

    একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রোফাইলে মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি দেখা গিয়েছিল।

    বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় স্ন্যাপচ্যাটের অন্য ব্যবহারকারীরা সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এরপর কী ঘটেছিল

    অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই হয়তো এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

    এরপর বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

    এখন স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

    ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেনি যে তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন।

    মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’

    কেন স্লোগানটি এত আলোড়ন তুলেছে

    শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চান, তাদের আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না। একই সঙ্গে সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতাও তারা তুলে ধরতে চান।

    বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাদানি সাবাদি বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তারা মনে করেন, যারা অবরোধ সৃষ্টি করছে বা সবকিছু ভাঙচুর করতে চাইছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষ।

    প্যারিসের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ফেদ্র কেমেনের মতে, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এখন জাতীয় পর্যায়ের একটি রসিকতায় পরিণত হয়েছে, কারণ ‘এটি একজন তরুণের কথাবার্তা অনুকরণ করার অত্যন্ত বাজে চেষ্টা’।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটিকে বর্ণবাদী আচরণের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যারা আসবে, তারা আরব।’

    ফ্রান্সের বাইরেও কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে স্লোগানটি

    ফ্রান্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বেলজিয়াম ও জার্মানির বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হয়েছে। সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে স্লোগানটি পুনরাবৃত্তি করেন।

    এই স্লোগানের জনপ্রিয়তা ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর কথাও মনে করিয়ে দেয়। সেখানেও শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে আখ্যায়িত করার পর আন্দোলনকারীরা সেই অপমানসূচক শব্দকেই নিজেদের আন্দোলনের নাম হিসেবে গ্রহণ করেন।

    কীভাবে শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ

    ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ স্কুলে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আরো শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং অতিরিক্ত চাপপূর্ণ সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানান।

    অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি ঘটনায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয় কিংবা ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ক্রমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য অধিকারভিত্তিক সংগঠনের জাতীয় আন্দোলন যুক্ত হয়। এর ফলে গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    পুলিশের কঠোর পদক্ষেপও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অসদাচরণের অন্তত ৩৪টি অভিযোগ তদন্ত করছে ফ্রান্সের সরকারি পুলিশ-নজরদারি সংস্থা।

  • ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল সামাজিক মাধ্যম এক্স

    ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল সামাজিক মাধ্যম এক্স

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    এক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সম্প্রতি এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। তবে বন্ধ করা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোন দেশের সঙ্গে কতটি অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এক্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ ও সেসবের প্রচার বাড়ানো হতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা দল বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কার্যক্রম চিহ্নিত ও বন্ধে কাজ করছে।

    এক্স আরো জানায়, স্প্যাম ছড়ানো নেটওয়ার্ক কিংবা সমন্বিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠী—উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘অথেনটিসিটি পলিসি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্ল্যাটফর্মটির অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন সমন্বিত কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা সক্রিয় রয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    এক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সম্প্রতি এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। তবে বন্ধ করা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোন দেশের সঙ্গে কতটি অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এক্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ ও সেসবের প্রচার বাড়ানো হতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা দল বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কার্যক্রম চিহ্নিত ও বন্ধে কাজ করছে।

    এক্স আরো জানায়, স্প্যাম ছড়ানো নেটওয়ার্ক কিংবা সমন্বিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠী—উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘অথেনটিসিটি পলিসি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্ল্যাটফর্মটির অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন সমন্বিত কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা সক্রিয় রয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বুধবার (২১অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।’ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।’

    এ সময় তিনি সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

    বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’ তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

    এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত সকল দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • মক্কা চুক্তির নথি প্রকাশ

    মক্কা চুক্তির নথি প্রকাশ

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে জোট রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে ভোটের প্রস্তাব করে চুক্তিটি স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    গত আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে অন্য দেশগুলো সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করবে। এই নীতিটি সামরিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর ৫ নম্বর আর্টিকেলের অনুরূপ।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিটি এককভাবে সংগ্রহ করেছে। চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

    চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকি কিংবা বিপদের মুখে পড়লে সেই হুমকি দূর করতে সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করবে।

    দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে অন্য সদস্যরা।

    এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা প্রয়োজনের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

    প্রতিরক্ষা শিল্প ও গোয়েন্দা সহযোগিতা

    ১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত চুক্তিতে শুধু পারস্পরিক সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ও রয়েছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক সরঞ্জাম যৌথভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

    যুদ্ধ ও শান্তিকাল; উভয় সময়েই দেশগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের পারস্পরিক বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করতে পারবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো।

    চুক্তিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তিন দেশ সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    সদস্যদেশগুলো শান্তিকাল, যুদ্ধকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে পরস্পরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবে। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে সরবরাহব্যবস্থার প্রাপ্যতা ও সামঞ্জস্যের ওপর।

    কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটি

    চুক্তির অষ্টম অনুচ্ছেদে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। কমিটির দায়িত্ব হবে যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং চুক্তি বাস্তবায়নের পথে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

    কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে তিন দেশের একেকটি দেশ বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন। মূল তিন দেশের সর্বসম্মতিতে এ চুক্তিতে অন্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ও নীতিও নির্ধারণ করতে পারবে কমিটি।

    চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মহাসচিব তিন দেশের মধ্য থেকে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের নাগরিক।

    ১০ বছর পর প্রত্যাহারের সুযোগ

    চুক্তিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়নি। অর্থাৎ, এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্যদেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না। ১০ বছর পার হলে কোনো দেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    চুক্তির আওতায় পাওয়া গোপনীয় তথ্য ও নথির সুরক্ষা প্রত্যাহার বা চুক্তির অবসানের পরও বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, চুক্তি শেষ হওয়ার আগে সম্মত হওয়া চলমান কার্যক্রম ও প্রকল্পের ওপর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে না।

    চুক্তি অনুযায়ী, এর ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে সদস্য দেশগুলো আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে তা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করবে। চুক্তিতে সংশোধন আনতে হলে মূল তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতি প্রয়োজন হবে।

    তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আররেব নিজ নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সবিচালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলির জমা দেওয়ার দিন থেকে এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় চুক্তিটির তিনটি মূল কপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনটি ভাষার পাঠ সমানভাবে প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হলেও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    নিচে চুক্তিটির পুরো তথ্য দেয়া হলো:

    অনুচ্ছেদ ১

    পক্ষগুলো একে অন্যের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করতে সহযোগিতা করবে। কোনো পক্ষের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকি বা বিপদের মুখে পড়লে, সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে পক্ষগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করবে।

    অনুচ্ছেদ ২

    কোনো পক্ষের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত পক্ষকে অন্য পক্ষগুলো অবিলম্বে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে তারা পরস্পরকে দিতে সক্ষম এমন পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাবে।

    জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পক্ষগুলো সহায়তার পরিধি ও ধরন নির্ধারণ করবে। বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে তারা সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    অনুচ্ছেদ ৩

    এ চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করবে; তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সম্মত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    অনুচ্ছেদ ৪

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিষয়ে পক্ষগুলো নিয়মিত পরামর্শ করবে। নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও বিপদ দূর করতে অভিন্ন মূল্যায়নের ভিত্তিতে তারা ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে একে অন্যকে সহায়তা করবে এবং একক ও যৌথ ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।

    অনুচ্ছেদ ৫

    আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন সব ধরনের ও প্রকাশের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা, যার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পর্যায়ের সহযোগিতাও রয়েছে, পক্ষগুলো আরও জোরদার করবে।

    অনুচ্ছেদ ৬

    যুদ্ধ ও শান্তিকাল; উভয় সময়েই পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া এবং এমন মোতায়েন ও কার্যক্রম উৎসাহিত করবে, যার লক্ষ্য পক্ষগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়ানো। এর মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা হবে।

    অনুচ্ছেদ ৭

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সহায়তা করবে। এসব সহযোগিতার ক্ষেত্র হবে:

    ১। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া;

    ২। বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন বাস্তবায়ন;

    ৩। যে কোনো পক্ষের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পক্ষগুলোর ভূখণ্ডে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সামরিক শিল্পকে সহায়তা করা;

    ৪। প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা;

    ৫। পক্ষগুলোর পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র।

    অনুচ্ছেদ ৮

    ১। মূল পক্ষগুলো একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এ কমিটিতে পক্ষগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উন্নয়ন এবং এ চুক্তি বাস্তবায়নের সময় উদ্ভূত হতে পারে এমন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা হবে কমিটির দায়িত্ব।

    কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে পক্ষগুলো বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে পক্ষগুলোর নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন।

    ২। প্রয়োজন মনে করলে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

    ৩। এ চুক্তিতে নির্ধারিত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি বা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    ৪। মূল পক্ষগুলোর সর্বসম্মতির ভিত্তিতে এ চুক্তিতে অন্য পক্ষের যোগদানের নিয়ম ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং অনুমোদনের ক্ষমতা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির থাকবে।

    ৫। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটিকে সহায়তা করতে সৌদি আরব রাজ্যে সদর দপ্তরসহ একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সচিবালয় সৌদি আরব রাজ্যের সঙ্গে সদর দপ্তরসংক্রান্ত একটি চুক্তি করবে। সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত নিয়ম এবং নীতিমালা পরবর্তী সময়ে মূল পক্ষগুলোর সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    ৬। সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব। মূল পক্ষগুলোর মধ্য থেকে পালাক্রমে তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

    ৭। এ অনুচ্ছেদের বিধানগুলো পক্ষগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

    অনুচ্ছেদ ৯

    গোয়েন্দা সহযোগিতা গভীর করতে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে পক্ষগুলো পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, উপাত্তের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।

    অনুচ্ছেদ ১০

    সরবরাহ ও সহায়তামূলক সেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্যের শর্তে পক্ষগুলো শান্তিকাল, যুদ্ধকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে একে অন্যকে সরবরাহসংক্রান্ত সহায়তা দেবে। এর মধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    অনুচ্ছেদ ১১

    আন্তর্জাতিক আইন এবং পক্ষগুলোর নিজ নিজ দেশের প্রাসঙ্গিক আইন অক্ষুণ্ন রেখে, এ চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে পক্ষগুলো চুক্তিটিকে গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও দেবে।

    অনুচ্ছেদ ১২

    পক্ষগুলো আগে যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তি করেছে, সেসব চুক্তি থেকে উদ্ভূত তাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতার ওপর এ চুক্তি কোনো প্রভাব ফেলবে না।

    অনুচ্ছেদ ১৩

    ১। এ চুক্তির আওতায় পাওয়া শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথির গোপনীয়তা পক্ষগুলো রক্ষা করবে এবং নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলবে।

    ২। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথি পক্ষগুলোর বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।

    ৩। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথিতে প্রবেশাধিকার শুধু প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।

    অনুচ্ছেদ ১৪

    এ চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে, পক্ষগুলোর মধ্যে পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

    অনুচ্ছেদ ১৫

    মূল পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতির মাধ্যমে এ চুক্তি সংশোধন করা যেতে পারে।

    অনুচ্ছেদ ১৬

    ১। প্রত্যেক পক্ষের জন্য প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসারে এ চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার তারিখে এটি কার্যকর হবে।

    ২। এ চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

    ৩। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পার হওয়ার পর যে কোনো পক্ষ এটি থেকে সরে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্য পক্ষগুলোকে প্রত্যাহারের অভিপ্রায় সম্পর্কে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    ৪। এ চুক্তির অবসান বা চুক্তি থেকে কোনো পক্ষের প্রত্যাহারের ফলে অবসান বা প্রত্যাহারের তারিখের আগে পক্ষগুলোর সম্মতিতে গৃহীত চলমান কার্যক্রম বা প্রকল্প প্রভাবিত হবে না।

    ৫। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথির সুরক্ষা এবং সেগুলোর প্রকাশ রোধের বিষয়ে পক্ষগুলোর দায়িত্ব চুক্তির অবসান বা প্রত্যাহারের পরও অব্যাহত থাকবে।

  • ১৩ বছরে ৭২ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা, নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার

    ১৩ বছরে ৭২ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা, নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার

    বিগত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ মানুষ নিহত হয়েছেন। একইসময়ে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

    নিহতের মানুষের এই সংখ্যা একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরাইল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীতে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যার চেয়েও বেশি বলে দাবি করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

    জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্তায় বলা হয়, বিগত ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিগত এক যুগের বেশি সময়ে দেশে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ৭২ হাজার ৭ ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি শুধু গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য পেলেও দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র বলছে হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি।

    একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরাইল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীতে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেশি।
    কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা উপেক্ষা করে সড়কে বেপরোয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ত্রিমাত্রিক যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একচেটিয়া মানুষকে সড়কের ওপর নির্ভরশীল করার ভুলনীতি ব্যাপকভাবে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে এদেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই পথে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত ছিল। তখন সড়ক দুর্ঘটনাও ২০ শতাংশে সীমিত ছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ দাতা সংস্থা তাদের ঋণের জালে আবদ্ধ করার মানসিকতায় উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বেহিসাবি লুটপাট, পরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে। তাই সড়কে গণহত্যার দায় অতীতের সব সরকারকে নিতে হবে।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক সেক্টরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কের বিশৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, সড়কে নির্মাণ ত্রুটি, মাদকসেবন করে যানবাহন চালানো, বেপরোয়া গতি, অযোগ্য যানবাহনের ফিটনেস প্রদান, অযোগ্য চালকের হাতে লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্সবিহীন-প্রশিক্ষণহীন চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়াসহ নানান কারণে সড়কে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানান খাতে এগিয়ে গেলেও পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন যাবৎ দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাবে নিরাপদ নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর পরিবর্তে একের পর এক সড়ক সম্প্রসারণ, সড়কে বিনিয়োগ বাড়ানো, সড়কের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভাবে সড়কের উপর একচেটিয়া চাপ বেড়েছে। সে তুলনায় সড়কে ম্যাস ট্রানজিট বাড়েনি। ডেডিকেটেড বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়নি।

    মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, উন্নত গণপরিবহণের অভাবে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তিতে নাভিশ্বাস উঠছে। এহেন ভয়াবহ পরিবহনের সংকট পুঁজি করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি নসিমন-করিমন, পার্শ্ববর্তী দেশের তৈরি মাহিন্দ্রা, পিয়াজিও, পিকআপভ্যানকে লেগুনা হিসেবে বানিয়ে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের কারণে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা চরমভাবে বেড়েছে।

  • দিলীপ আগরওয়ালা হত্যাচেষ্টা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    দিলীপ আগরওয়ালা হত্যাচেষ্টা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আ. জব্বার (২১) নামে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

    মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই সুমন মিয়া। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    উত্তরা পশ্চিম থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। পরদিন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং আইনে করা মামলায় তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

    আ. জব্বার হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এ মামলায় আগরওয়ালা এজাহারনামীয় ৩১ নম্বর আসামি।

  • সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৫৩

    সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৫৩

    সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল আবেয়ির একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় একটি জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর প্রকাশ করেছে।

    আবেয়ি প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক তথ্যমন্ত্রী ইয়োহান্না আকল এনগোর জানান, সুদানের সামরিক বাহিনী সোমবার আমিয়েত বাজারে এই হামলা চালিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

    অন্যদিকে সুদানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সেখান থেকে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জন্য জ্বালানি চোরাচালান করা হচ্ছিল। সেনাবাহিনী সেই ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। নিহতরা আরএসএফ সদস্য বলে দাবি করেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, স্থানীয় হাসপাতালে বহু দগ্ধ ও আশঙ্কাজনক রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ আবেয়ি অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের জেরে অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও বেড়েছে।

  • ৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল ট্রাম্পের

    ৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানায়। ভিসা বাতিলের এই কার্যক্রম মূলত অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক কঠোর নীতির একটি অংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের এই হার বেশ দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ট্রাম্পের মতে, তার অভিবাসন বিরোধী ধরপাকড় এবং দেশ থেকে বের করে দেয়ার এই অভিযানের লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলেন, এই ধরপাকড়ের কারণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য, যারা বর্ণগত দিক থেকে প্রোফাইলিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

    জিরো টলারেন্স নীতি: এক্সে সর্বশেষ ভিসা বাতিলের সংখ্যা ঘোষণার সময় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুতগতিতে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তিনি বলেন, ভিসা নিয়ে এখানে অবস্থানকারী যেসব বিদেশি আইন ভঙ্গ করেন, জালিয়াতি করেন বা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করেন, তাদের প্রতি প্রশাসনের কোনো সহানুভূতি নেই এবং জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

    অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ: অধিকারকর্মীদের দ্বারা বিশেষভাবে নিন্দিত ভিসা বাতিলের ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজায় মার্কিন মিত্র ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল এবং রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার চার্লি কার্কের গুপ্তহত্যার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা।

    বিদেশি বিক্ষোভকারীদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী এবং ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যমের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে।

    অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে ব্যবহার করে মিনেসোটার সোমালি আমেরিকানদের মতো অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে ঢালাওভাবে টার্গেট করছে।

    ২০২৪ সালে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রচার চালালেও, তার প্রশাসন আইনি অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার জন্য তারা বিপুল পরিমাণ ফি আরোপ করেছে।

  • জেনে নিন বাত ব্যথার প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

    জেনে নিন বাত ব্যথার প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

    আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথার কারণে আপনার সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাত্রা যেন থেমে না যায়। অনেক সময় এই রোগ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা বা কুসংস্কার আমাদের মনকে আরো খারাপ করে দেয় এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়। এসব ভুল ধারণার কারণে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে এবং ভুল পদক্ষেপে স্বাস্থ্য আরও ঝুঁকিতে ফেলে।

    তাই আসুন, আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ৪টি ভুল ধারণা এবং সেগুলোর আসল সত্য জেনে নিই—

    ভুল ধারণা-১: আর্থ্রাইটিস খুব বিরল বা অস্বাভাবিক একটি রোগ

    আর্থ্রাইটিস অত্যন্ত পরিচিত ও সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশ্বজুড়ে—বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে—অসংখ্য মানুষ এই রোগে ভুগছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর প্রকোপও বাড়ে। তাই নিজেকে একা ভাবার কারণ নেই। এটি বহুল পরিচিত রোগ হওয়ায় এর সুবিধা হলো, চিকিৎসকদের কাছে এর কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। ফলে সঠিক চিকিৎসায় এর উপশম সম্ভব।

    ভুল ধারণা-২: আর্থ্রাইটিস হলে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে না

    বিষয়টি ঠিক এর উল্টো। বাতের সমস্যা থাকলে হাত-পায়ের জোড়া বা জয়েন্ট সচল রাখা আরও বেশি জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও নাড়াচাড়া জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়ায়, শক্তি জোগায় এবং চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত করে। জয়েন্ট জমাট বাঁধার হাত থেকে বাঁচাতে সক্রিয় থাকা আবশ্যক।

    ভুল ধারণা-৩: বাতের সাথে খাবারের কোনো সম্পর্ক নেই

    নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলেই রাতারাতি বাত ভালো হয়ে যাবে—তা নয়। তবে সুস্থ জীবনযাপন ও বাত নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অপরিসীম। সুষম খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ (ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার) এবং অলিভ অয়েল শরীরের প্রদাহ কমাতে ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

    ভুল ধারণা-৪: বিভিন্ন মশলা খেলেই বাত একবারে নিরাময় হয়ে যায়

    হলুদ বা আদার মতো মশলায় প্রদাহ কমানোর কিছু গুণ থাকলেও, এগুলো খেলেই আর্থ্রাইটিস পুরো সেরে যাবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলো পথ্য হিসেবে ভালো, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসায় থাকা উচিত।

    মূল কথা: ভুল তথ্যে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানুন, নিয়মিত সচল থাকুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন।

  • হাইড্রোজ মেশানো জিলাপি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

    হাইড্রোজ মেশানো জিলাপি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

    আমরা বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার খেয়ে থাকি। বিরিয়ানি, জিলাপিসহ অনেক খাবার। কিন্তু বর্তমানে এসব খাবারে কাপড়ের রঙ মেশানোর প্রমাণ মিলছে। এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কেমন, তা জানতে আজ ‘হ্যালো ডাক্তার’ বিভাগে আমরা কথা বলব মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ-এর সঙ্গে।

    প্রশ্ন : জিলাপি মচমচে করার জন্য হাইড্রোজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?

    উত্তর : আমরা হয়তো অনেকে নিয়মিত জিলাপি খাই না, কিন্তু রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে জিলাপি। আমরা যখন জিলাপি খাই, একটু কামড় দিলেই মচমচে আওয়াজ হয়। এটি খাবারটির প্রতি আমাদের আকর্ষণ বাড়ায়। অনেকের ক্ষেত্রে জিলাপির মচমচে ভাব কিংবা এর আকর্ষণীয় রঙও খাবারটির প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। ওই রঙের জন্য জিলাপিতে টেক্সটাইলের রঙ ব্যবহার করা হয়। যেটাকে আপনি হাইড্রোজ বললেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার বা ফরমালিনও দেওয়া হয়। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক রঙ আমাদের শরীরের কোষের ডিএনএ নষ্ট করে দিতে পারে। এতে খাদ্যনালি ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    এখন অক্টোবর মাস। এটি লিভার ক্যানসার সচেতনতা মাস। এ মাসে সবাইকে এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন করা উচিত, যাতে তারা লিভার সুস্থ রাখতে পারেন। এছাড়া এসব রাসায়নিক আমাদের লোহিত রক্তকণিকাও ধ্বংস করতে পারে। আমাদের বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জা থেকে শরীরের বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক অস্থিমজ্জার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। একে আমরা বলি বোনম্যারো সাপ্রেশন। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের রক্তের রোগ হতে পারে এবং রক্তকণিকা উৎপাদন কমে যেতে পারে। তা ছাড়া শিশুদের মনোদৈহিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

    প্রশ্ন : ফুটপাত থেকে পেয়ারা কিংবা জামরুল কিনে খেলে তাতে বিট লবণ দেওয়া হয়। এমনকি সেদ্ধ ডিমেও টেস্টিং সল্ট দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কেমন?

    উত্তর : অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। লবণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সেটি সাধারণ লবণ, বিট লবণ কিংবা পিংক সল্ট—যেটাই হোক, অতিরিক্ত লবণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

    ফল নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য উপকার। বিশেষ করে পেয়ারা, আমড়া ও আমলকীর মতো ফলে ভিটামিন সি আছে। কিন্তু এসব ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত সাধারণ লবণ, বিট লবণ কিংবা পিংক সল্ট দিয়ে খেলে তা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বাইরে বিক্রি হওয়া ফল অনেক সময় খোলা অবস্থায় থাকে, যাতে ধুলাবালি পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ফল বাসায় এনে নিজে কেটে খাওয়াই উত্তম।

    প্রশ্ন : বিরিয়ানিতে ফুড কালারের পরিবর্তে কাপড়ের রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত লবণও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?

    উত্তর : এই দুটিই আসলে ক্ষতিকর। বিরিয়ানি ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী অংশ। একসময় বিরিয়ানিতে সুন্দর রঙ আনার জন্য জাফরান ব্যবহার করা হতো। জাফরান অত্যন্ত দামি। অন্যান্য ফুড কালারের দামও বেশি হতে পারে। খাবারে সুন্দর ও আকর্ষণীয় রঙ আনার জন্য যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো দেখতে বা খেতে আকর্ষণীয় মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব রাসায়নিক শরীরের বিভিন্ন কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকযুক্ত খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন—লিভার ও খাদ্যনালির ক্যানসার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব রঙে অ্যানিলিন ডাই থাকতে পারে, যা মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

    প্রশ্ন : বাইরে খাবার খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে করণীয় কী?

    উত্তর : সাধারণত একবার বা দুবার বমি কিংবা পাতলা পায়খানা হলে বাসায় খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা চালের মাড় খেতে পারেন। কিন্তু যদি দেখা যায়, খুব বেশি বমি হচ্ছে, বারবার পাতলা পায়খানা হচ্ছে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে, হাত-পা ছেড়ে দিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন কিংবা রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

  • বউয়ের জ্বলায় ৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা

    বউয়ের জ্বলায় ৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা

    ভারতের মহারাষ্ট্রে ১৭০০ ফুট উঁচু কনকনকাদা পাহাড়ের খাড়া কিনারা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গুজরাটের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক। গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। দাম্পত্য কলহ নিয়ে দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জন্য নিজের স্ত্রীকে দায়ী করেছেন তিনি।

    এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল নামের ওই যুবক গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ডাক বিভাগের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও ধারণ করেন। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।

    এ বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি গোহিলের বিয়ে হয়। কিন্তু মাত্র আট মাসের মাথায় সেই দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে। গত ১২ই সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় ৯ই অক্টোবর আদালতে হাজির হন গোহিল। ভিডিওতে দাম্পত্য বিরোধ এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন তিনি। গোহিল বলেন, আজ আমি একটি খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন, কী ঘটেছে? যখন জীবনে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, কোনো আশা থাকে না, তখন পরিস্থিতি মানুষকে ভেঙে দেয়।

    বিশেষ করে যখন কোনো ভালো বিষয় বা সম্পর্ক থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন তা আত্মাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা বলি, বিয়ে একটি পবিত্র সম্পর্ক, যা বহু জন্ম ধরে টিকে থাকার কথা। কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে দু’জন মানুষের চিন্তাভাবনা, স্বভাব ও অভ্যাসের মিল না হলে এবং বিরোধ বা সংঘাত দেখা দিলে মানুষ বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটে।

    স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে গোহিল দাবি করেন, প্রতিদিনের মতবিরোধকেও তারা পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, তখন আমার ধারণাই ছিল না যে এমন ঝড় আসতে যাচ্ছে।

    আমার বাড়িতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অথচ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আমি, আমার মা ও ভাই মিলে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করেছি এবং মারধর করেছি। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এফআইআর নথিভুক্ত করার সময় পুলিশ কোনো প্রমাণ বা চিকিৎসা প্রতিবেদনও চায় না। গোহিলের দাবি, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের কারণে তাকে ‘মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে’।

    তার অভিযোগ, স্ত্রীর মা-বাবা জোর করে তাকে নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে গোহিল বলেন, তারা দাবি করছেন, তাদের দেয়া স্বর্ণ আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, তার মা-বাবা যখন জোর করে তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে নিজেই বলেছিল যে সে যেতে চায় না। আমাদের সমাজের লোকজন এর সাক্ষী।

    সে আমাদের সোনার গয়না পরেই চলে গেছে। কিন্তু আমরা যখন নিজেদের জিনিস ফেরত চাই, তখন আমাদের কথা শোনার কেউ নেই, তাদের ওপরও কোনো চাপ দেয়া হয় না। সব চাপ দেয়া হচ্ছে শুধু ছেলের পরিবারের ওপর।

    শ্বশুরের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোহিল বলেন, আমার শ্বশুর আমাকে বলতেন, তিনি আমার বাবার মতো। কোনো বাবা কি নিজের সন্তানকে লুটে নেন, তার মানসিক অবস্থার ক্ষতি করেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন? একজন বাবা ক্ষমা করেন এবং সন্তানকে আরেকটি সুযোগ দেন। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, আজ আমি মারা গেলে আমার মা-বাবার কী হবে? আমার ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের কী হবে, যার বিরুদ্ধেও পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে?

  • প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণের অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওই ছাত্রলীগ নেতাও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।

    ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজতে থাকেন। পরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অন্যদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান তানভীর।

    মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনে আসেন। এ সময় এক ছাত্রলীগ নেতা তাকে অনুসরণ করেন। ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু

    গত একদিনে সারাদেশে হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত একদিনে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত একদিনে ৯৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন।

  • গাড়ি হামলায় দুই পাই হারালেন সেই অস্ট্রেলীয় এমপি

    গাড়ি হামলায় দুই পাই হারালেন সেই অস্ট্রেলীয় এমপি

    গাড়ি হামলার শিকার অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র এমপি হেলেন হেইনসের দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা সত্ত্বেও তার পা বাঁচাতে পারেননি বলে বুধবার তার স্বামী নিশ্চিত করেন। এদিকে এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী দলও যুক্ত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    এ ঘটনায় তারাউইঞ্জির বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী ব্রেন্ডন এন. নামের এক সন্দেহভাজনকে বুধবার ওয়াঙ্গারাত্তা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম করা, বিপজ্জনক গাড়ি চালিয়ে গুরুতর জখম করা এবং ফেডারেল কর্মকর্তাকে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার রাতে ৬৫ বছর বয়সী এই আইনপ্রণেতার অস্ত্রোপচার হয়। মঙ্গলবার তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয় এবং বুধবার চিকিৎসকরা তার ডান পা-ও কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

    মেলবোর্নে সাংবাদিকদের তার স্বামী ফিল হেইনস জানান, এই সব কিছুর মধ্যে ভালো খবর হলো হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদা রঙের একটি টয়োটা এসইউভি গাড়ি এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। এরপর চালক গাড়িটি পিছিয়ে নিয়ে এসে দ্বিতীয়বার তাকে চাপা দেয়।

    অস্টেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় এক নাপিত রিকি জেফরিস দৌড়ে এসে গাড়ির ভেতর থেকে চালককে টেনে নামান এবং তার কাছে থাকা একটি ছুরি কেড়ে নিয়ে পুলিশ না আসা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে সংসদে প্রবেশের আগে হেলেন হেইনস একজন নার্স ও মিডওয়াইফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

  • ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছালো রূপপুরে

    ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছালো রূপপুরে

    রূপপুরে পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান। আজ বুধবার সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান।

    মঙ্গলবার দিনগত রাতে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিমানটি রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায়। জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা তা বুঝে নেন।

    বুধবার ভোরে তিনটি লরিতে বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের পথে রওনা হয় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো। সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

    এ সময় মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।

    পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা থেকে সড়কপথে এই ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রওনা হয়। এ সময় মহাসড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে সাময়িকভাবে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে বাড়তি ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আনার কথা ছিল। তারই অংশ হিসেবে আজ ইউনিটের দ্বিতীয় চালান আনা হলো। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৮টি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এসব চালান দেশে আসবে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

    এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পৌঁছে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর আরও ৪টি চালানে রূপপুর পৌঁছেছিল প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।

    তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে চলতি মাসের ৩ অক্টোবর দুপুরে রূপপুরে প্রথম ইউনিটের বাড়তি চালানের ইউরেনিয়াম আনা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে।

    আগামী নভেম্বরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

    ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তায় সড়ক পথে রূপপুরে ইউরেনিয়ামবাহী দ্বিতীয় চালানের গাড়িবহর এসে পৌঁছেছে।

  • কোন ৭ রোগে আক্রান্তরা পাবেন ১ লাখ টাকা?

    কোন ৭ রোগে আক্রান্তরা পাবেন ১ লাখ টাকা?

    ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এই সহায়তা দেওয়া হবে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অসচ্ছল ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানো। এ বছর কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা।

    সরকারের এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত সাতটি জটিল রোগ হলো: ১. ক্যান্সার ২. কিডনি রোগ ৩. লিভার সিরোসিস ৪. প্যারালাইসিস ৫. হৃদরোগ ৬. লিউকেমিয়া ৭. থ্যালাসেমিয়া।

    চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রতিটি রোগী চিকিৎসার জন্য এককালীন ১ লাখ টাকা করে পাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই অর্থবছরে একবার এবং পুরো জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এই অনুদান নিতে পারবেন।

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার আওতায় সহায় পেয়েছিলেন ৫৬১ জন রোগী। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। বিগত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা একলাফে বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

    আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। রোগী নির্বাচনে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, জীবন সংকটাপন্ন এবং যারা প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী বা বয়স্ক—তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    তবে কোনো আবেদনকারী অসত্য তথ্য বা ভুয়া সনদপত্র জমা দিলে কিংবা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে অন্য কোনো সরকারি অর্থ পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটি তাঁর আবেদন বাতিল করতে পারবে।

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    অনলাইনে আবেদনের সময় যেসব ডকুমেন্টের কপি প্রয়োজন হবে:

    • রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা শিশুর জন্মসনদ
    • আবেদনকারী, অভিভাবক বা প্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
    • মনোনীত নমিনির তথ্য এবং রোগী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য (চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি)
    • চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র ও রোগ শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট (ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে টিস্যু ডায়াগনস্টিক, বায়োপসি বা বোন ম্যারো রিপোর্ট)

    যেভাবে আবেদন করবেন

    রোগী নিজে অথবা তার পরিবারের কোনো সদস্য, অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করবে।

  • ডেঙ্গুতে আরএ ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৭৩

    ডেঙ্গুতে আরএ ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৭৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৭৩ জন।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ জন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৪ জন মারা গেছেন।এছাড়া, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন।

  • শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ, ১৩ জনের জেল

    শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ, ১৩ জনের জেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১৩ জনের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল আসার পর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

    সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাদের আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের (সংক্ষিপ্ত বিচার) মাধ্যমে এ দণ্ড দেওয়া হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

    শৈলকুপা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে তিনজনকে আট মাস করে, দুজনকে এক বছর করে এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আরো ১০ থেকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মনোহরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৪০), ব্রহ্মপুর সাহাপাড়ার রাজু শাহ (২৫), শেখপাড়া পদমদির রয়েল খান ওরফে রাসেল (২৫), মাইলমারী ২ নম্বর মির্জাপুরের রইচ উদ্দিন মণ্ডল (৪৬), শেখপাড়ার ইউনুস মণ্ডল (৪৫), ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরউমরাপুর গ্রামের মো. হোসেন (২২), ঝিনাইদহের হামদু কাঞ্চনপুরের বিপুল মণ্ডল (৩৫), কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. হাসিব (২০), মো. ফরহাদ হোসেন (২০), মো. আল আমিন (২৬), মো. সাব্বির হোসেন (২৫), মো. সিরাজুল বিশ্বাস (৩২) এবং মো. শাহিন হোসেন (২৮)।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লাহ বলেন, ‘মাদক ওঅপরাধমুক্ত জেলা গঠনের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    ক্যানসার রোগীর মুখের একটি ছবি বিশ্লেষণ করেই তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। একই সঙ্গে রোগীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় তার জৈবিক বয়স কত, সেটিও নির্ণয় করতে পারবে নতুন এ প্রযুক্তি। চিকিৎসকদের দাবি, ভবিষ্যতে রোগীর চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা।

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অলাভজনক সমন্বিত শিক্ষাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের বিশেষজ্ঞরা এআই টুলটি তৈরি করেছেন। ৪ কোটির বেশি মুখের ছবি ব্যবহার করে এটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব ছবিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বয়সের মানুষের মুখ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট ডিজিটাল হেলথ সাময়িকীতে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গবেষকেরা একই মডেলের ভিত্তিতে দুটি পৃথক টুল তৈরি করেছেন। এফএএইচআর-ফেসএজ রোগীর মুখের ছবি থেকে তার জৈবিক বয়স অনুমান করার পাশাপাশি ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পূর্বাভাস দেয়। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল জৈবিক বয়সের হিসাবের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।

    দুটি টুল একই এআই মডেল থেকে তৈরি হলেও রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভিন্ন ও পরিপূরক তথ্য শনাক্ত করতে পারে। এ ছাড়া বয়স ও মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণের জন্য এগুলো মুখের আলাদা আলাদা অংশ বিশ্লেষণ করে।

    এফএএইচআর-ফেসএজ নাকের দুই পাশ থেকে ঠোঁটের কোণ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাঁজ, চোখের কোটরের ঠিক ওপরের কপালের অংশ এবং কপালের দুই পাশের অঞ্চল বিশ্লেষণ করে। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল চোখের নিচের অংশ ও নাকের ওপরের সংযোগস্থলের আশপাশের অঞ্চলকে গুরুত্ব দেয়।

    গবেষণাটির সহ-জ্যেষ্ঠ লেখক হুগো অ্যার্টস বলেন, ক্যানসার রোগীদের মুখের ছবি থেকে সরাসরি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে শেখার মাধ্যমে মুখ বিশ্লেষণভিত্তিক এআই প্রযুক্তি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তার ভাষ্য, তাদের জানা মতে, সাধারণ একটি ছবি ব্যবহার করে এআই মডেলের মাধ্যমে ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সরাসরি অনুমানের এটিই প্রথম উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রে রেডিওথেরাপি নেওয়া ক্যানসার রোগীদের ওপর প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, এফএএইচআর-ফেসএজের হিসাবে যেসব রোগীকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর বেশি বয়সী দেখাচ্ছিল, চার বছরের গড় পর্যবেক্ষণকালে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্য রোগীদের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি ছিল। বিপরীতে, যাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর কম বয়সী দেখাচ্ছিল, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল ১৭ শতাংশ কম।

    অ্যার্টস বলেন, ৪ কোটির বেশি ছবি থেকে মুখের সাধারণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে শেখাই এ প্রযুক্তির মূল অগ্রগতি। পরে সেই জ্ঞান ব্যবহার করে জৈবিক বয়স ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণ করা যায়। প্রতিটি নতুন কাজের জন্য শুরু থেকে আলাদা মডেল তৈরি করার পরিবর্তে এই পদ্ধতিতে একাধিক স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

    গবেষকদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে অনুমান করা জৈবিক বয়সের সঙ্গে মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এটি নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা সহ্য করা বা চিকিৎসার পর বেঁচে থাকার সক্ষমতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ভবিষ্যতে বড় অস্ত্রোপচার কিংবা ক্যানসারের অন্যান্য চিকিৎসার পর রোগীর মৃত্যুঝুঁকি ও জটিলতার আশঙ্কা নির্ধারণেও এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে, নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা মূল্যায়নে এটি চিকিৎসকদের সাহায্য করতে পারে।

    ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. রেমন্ড ম্যাক বলেন, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেডিওথেরাপি, অস্ত্রোপচার কিংবা শরীরজুড়ে কাজ করে এমন ওষুধের চিকিৎসার মতো নিবিড় চিকিৎসা দেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, মুখের ছবির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মূল্যায়নকে আরও পরিমাপযোগ্য, ধারাবাহিক ও সহজলভ্য করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা যাবে, তবে চিকিৎসকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হিসেবে নয়।

  • ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একসময় যে জমিতে সবুজ পানপাতায় ভরে থাকত বরজ, সেই জমি এখন পদ্মার পেটে। কারও কয়েক বিঘা জমি, কারও সাজানো পানবরজ সবই কেড়ে নিয়েছে নদী। নিঃস্ব হয়ে কেউ দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়, কেউবা জীবিকার তাগিদে ছেড়ে যাচ্ছেন ভিটেমাটি।

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এভাবেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন শত শত কৃষক। গত দুই মাসেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০ শত ফসলি জমি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পানচাষিরা। হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজারও।

    স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমির অধিকাংশেই হতো পান চাষ। জমির পাশাপাশি পানবরজ হারিয়ে কয়েক শত কৃষক এখন দিশেহারা। সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন চলছে।

    নদীর পানি কমার পর ভাঙন আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন ও তাগাদা দেওয়া হলেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কুচিয়ামোড়া এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ নেই। বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০ জন পানচাষির তালিকা করেছে। গত এক বছরে তারা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। এত বড় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সহজ নয়।

    রায়টা এলাকার পানচাষি হাসান আলী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তার চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানবরজ নদীতে বিলীন হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে। দুঃখ সইতে না পেরে তার ছোট ভাই কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে গেছেন। মাধবপুরের পানচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পাড়ে তাদের সাত বিঘা জমি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র চার কাঠা।’

    দীর্ঘদিনের আবাদি জমি হারিয়ে তার প্রশ্ন—এই দুঃখ কাকে বলবেন পান চাষকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার। এ বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষিজমি নয়, স্থানীয় পান অর্থনীতিও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা বলেন, ‘ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা করা করা হচ্ছে।’

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এলাকায় সরেজমিনে দেখেছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ভাঙনে প্রতিদিন জমি হারানোর বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আশ্বাসের চেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে পদ্মার ভাঙনে আরও জমি, পানবরজ ও মানুষের জীবিকার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এ,আর

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর

    বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর করণীয় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের হিসাব হাতে-কলমে করতে হওয়ায় তাদের নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কার্যক্রমের ওপর।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এটি অর্থ বিভাগের হাতে। অর্থ বিভাগ যখন পৃথকভাবে গেজেট জারি করবে, তখন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।’

    নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে

    নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কত টাকা বকেয়া পাওনা হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়ার বিবরণী পাওয়া যায়।

    তবে ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত নতুন পে স্কেলের সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

    এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; কেবল একটি অনানুষ্ঠানিক হিসাব সহায়ক। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    ক্যালকুলেটর ফরম পূরণের নিয়ম

    ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য ছাপা বিবরণীর শুরুতে থাকবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও হিসাব করা যাবে।

    গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি তালিকা থেকে বেছে নিতে হবে।

    ৩০ জুনের মূল বেতন: পে স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় নিজের বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন বেছে অঙ্কটি লিখতে হবে।

    ১ জুলাইয়ের মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে যে মূল বেতন গ্রহণ করেছেন, সেটি দিতে হবে।

    কর্মস্থল ও বাড়িভাড়া: বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে পে স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনে তা সংশোধন করা যাবে।

    বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—নির্বাচিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।

    ঐচ্ছিক তথ্য ও হিসাবের বিবরণী

    পে স্লিপে বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়া যাবে। আইবাস++ বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও ইনপুট হিসেবে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ওই অঙ্ক ধরেই হিসাব করবে।

    প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচে হিসাবের বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে দেখানো হবে।

    মাসিক হিসাবের মধ্যে থাকবে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনে তোলা বাড়িভাড়ার সমন্বয়। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা—১০ বা ১৫ শতাংশ—বিয়োগ করে হিসাব দেখানো হবে।তবে ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে চূড়ান্ত বেতন হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নির্ভুল হিসাবের জন্য মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

  • পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক, একজনের কারাদণ্ড

    পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক, একজনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সার পাচারের দায়ে কুড়িগ্রামের দুলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুইজন সার ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সাপ্টিবাড়ি বাজারের একটি গুদাম থেকে পিকআপ ও ভ্যানে করে এসব সার পাচারের জন্য তোলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে সারবোঝাই যানবাহনগুলো আটক করেন।

    আটক করা সারের মধ্যে ৫১ বস্তা ইউরিয়া ও ১৯ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।

    খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও আদিতমারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজা বেগম ঘটনাস্থলে যান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার পাচারের দায়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর বাসিন্দা দুলাল মিয়াকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই সার ডিলারকে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজা বেগম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার ডিলারদের নানা অসংগতি পেয়েছি। তাই তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাচারকারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করতে চায় কারিগরি বোর্ড

    ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করতে চায় কারিগরি বোর্ড

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান বিগত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে তাগিদপত্র জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এ তাগিদপত্র জারি করা হয়েছে।

    শিক্ষা বোর্ডের তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনের শর্তাবলীতে উল্লেখ আছে যে, প্রতিষ্ঠানে পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে অনুমোদন বাতিল করা হবে।

    এছাড়া, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০ এর বিধি ৫.৪ মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি, পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

    এছাড়া পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করা ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে গত ১ অক্টোবর তারিখের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য দ্বিতীয় দফায় ওয়েবসাইটের নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

    যে সব প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি ব্যাখ্যা প্রদান করেনি তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয় শিক্ষা বোর্ডের নোটিশে।

    অনুমোদন বাতিল করতে চাওয়া ২৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা

  • ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু নয়’

    ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু নয়’

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নয়। ইসরাইলকে মার্কিন মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রতি তার কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘যে মিত্র আপনার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আপনাকে এমন যুদ্ধে জড়াতে চায়, যে যুদ্ধে আপনার জড়ানো উচিত নয়, সে কোনো মিত্র নয়।’

    ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বোঝাতে তিনি বন্ধুত্বের উদাহরণ টেনে বলেন, এমন একজন বন্ধুর কথা ভাবুন, যে আপনার সন্তানদের অর্থ বারবার নেয়, অথচ তাদের পেছনে তাদের নিয়েই কথা বলে এবং অন্য বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়।

    সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার সন্তানকে কী বলতেন? সম্ভবত বলতেন, সে আসলে আপনার বন্ধু নয়।’

    এল-সাইয়েদ আরও বলেন, ‘আমাদের এখন উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে ইসরাইল আসলে আমাদের বন্ধু নয়।’

    এল-সাইয়েদের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি তার শ্যালিকা মিরিয়াম জুকাকুর বিরুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকা-সংক্রান্ত একটি ফেডারেল মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তার শ্যালিকা কোনো অন্যায় করেননি। তার নাম ও পরিচয়ের কারণে ইসলামবিদ্বেষ থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এল-সাইয়েদ বলেন, ‘এখানে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধরনের নামের কারণে মানুষকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো ব্যক্তিরা এ ধরনের কাঠামো তৈরি করে, এটি তারই ফল।’

    এল-সাইয়েদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইহুদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কয়েকটি ‘অপরিবর্তনীয়’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাব্বি ও অন্যান্য ইহুদি নেতা।

    তাদের আশঙ্কা, এল-সাইয়েদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    এদিকে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে হতাশ ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ডেমোক্র্যাট-সমর্থক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সম্প্রতি এল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারেও যুক্ত হয়েছেন।

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    রংপুরে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে বাস থামিয়ে গাড়িতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় গাড়ির গেটের কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলান, নিজেই সেলফি তোলেন এবং ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী উপহার দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আনন্দ উপভোগ করেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের উন্নয়নে ডাবল শিফট চালু, ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ এবং একটি অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন অধ্যক্ষ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের দেখতে পেয়ে বাস থামান প্রধানমন্ত্রী।

    কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তাদের কী প্রয়োজন। এ সময় তিনি কলেজের ইতিহাস ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।

    অধ্যক্ষ বলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জানতে চান। একপর্যায়ে কলেজের কী কী প্রয়োজন, তা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঠদানের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন।অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ডাবল শিফট চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ভবন এবং একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবিও জানান। এসব প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে।

  • ২৩০০ চাকরিতে আবেদন করেও বেকার পিএইচডিধারী

    ২৩০০ চাকরিতে আবেদন করেও বেকার পিএইচডিধারী

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন জ্যাক ওয়েইস। গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি মিলেছে নোবেল কমিটির কাছ থেকেও। অথচ এত অর্জন ও যোগ্যতা থাকার পরও স্থায়ী চাকরি জোটেনি ৩০ বছর বয়সি এই তরুণের। ২০২৪ সালে পিএইচডি শেষ করার পর থেকে তিনি দুই হাজার ৩০০টির বেশি চাকরিতে আবেদন করেছেন। তবু মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির বাসিন্দা ওয়েইস এখন থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। চাকরির সন্ধানে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও আবেদন করেছেন তিনি। এমনকি সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ থেকে শুরু করে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক বিক্রিকারী একটি প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করেছেন।

    সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে তার এই সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছে।

    ওয়েইস রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কর্মসূচিতে যোগ দেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল রাসায়নিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি এবং অণুর মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়া। বরফ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তার গবেষণাকর্ম ২০২৪ সালে নোবেল কমিটির এক আলোচনায় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    এত উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে গবেষণার পদ এবং জাতীয় গবেষণাগারগুলোর মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো উত্তর পাননি। কিছু আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

    পরে বিভিন্ন শিল্প খাত ও অঞ্চলে চাকরির জন্য আবেদন করতে শুরু করেন ওয়েইস। কিন্তু সেখানেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন কোনো সুফল মেলেনি। কেউ কেউ তাকে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখতে পরামর্শ দেন।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে বিশেষজ্ঞ নিয়োগকারী একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ পান ওয়েইস। সেখানে ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তবে কাজের ধারাবাহিকতা ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পেলেও অন্য সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়।

    একপর্যায়ে কাজের পরিমাণ আরও কমতে থাকে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো কাজই পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

    এখন নতুন করে পেশা বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন ওয়েইস। আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টাও করছেন। এআই-চালিত একটি ড্রোন তৈরির কাজ করছেন তিনি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসী আগাছা অপসারণে ব্যবহার করা যাবে।

    ওয়েইসের বাবা-মা দুজনই চিকিৎসক। ছেলের এত যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। তার মা হলি কারভার্স ছেলের চাকরির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছেন, নিয়োগদাতাদের কাছে নেতিবাচক মনে হতে পারে এমন কোনো বিষয় রয়েছে কি না। কিন্তু স্পষ্ট কোনো সমস্যা খুঁজে পাননি তিনি।

    ছেলের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে হলি বলেন, ‘এটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা কীভাবে করব, তা বুঝতে পারছি না।’

    ওয়েইসের বাবা জন ওয়েইস বলেন, ‘আমি জীবনে কখনোই ভাবিনি, এই ছেলেটিকে চাকরি পাওয়ার জন্য এমন সংগ্রাম করতে হবে।’

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক লিন্ডসে এলিস যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে চাকরি প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় ওয়েইসের সাক্ষাৎকার নেন। তার মতে, ওয়েইসের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, এটি এমন এক শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে চাকরিতে নিয়োগের গতি কমে গেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমবাজারকে কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী কম নিয়োগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মরত কর্মীরাও আগের মতো সহজে চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। ফলে যারা নতুন করে চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য শূন্য পদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

    সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানেও এই সংকটের প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি এবং এর পরবর্তী সময়কে এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

    ওয়েইসের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা, গবেষণার স্বীকৃতি ও বিশেষায়িত দক্ষতা থাকলেই বর্তমান শ্রমবাজারে চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। বরং নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

  • ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে থমকে আছে মণিপুর

    ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে থমকে আছে মণিপুর

    তিন নারীকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় উত্তাল ভারতের মণিপুর রাজ্য। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই তিন বেসামরিক নাগরিকের হত্যার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট চলছে, যার ফলে জনজীবন সম্পূর্ণ থমকে গেছে।

    গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইম্ফল পূর্ব জেলার উয়ুমপক ও নংশুম এলাকার পাহাড়ি পাদদেশে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে—নংশুমের লৈরেনপাকপাম ইনাওবি মেইতেই (৪০) ও অরিবাম নোনি মেইতেই (৩৫) এবং উয়ুমপক মামাং লৈকাইয়ের ক্ষিথ্রিময়ুম সুশীল সিং (৩০)। এছাড়া এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীর শাস্তির দাবিতে ‘নেটিভ পিপল কমিটি মণিপুর’ (এনপিসি) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের সমর্থনে সকাল থেকেই কানসিপুর, খুরাই ও পাটসোইসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করেন সমর্থকরা।

    এর আগে শোকার্ত গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের দাবিতে দুই নারীর মরদেহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ইউমনম খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের সামনে নিয়ে এসে আবেগঘন বিক্ষোভ করেন। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছিল, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একটি বিরোধী প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এই ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে জরুরি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় কার্যক্রম।

  • ‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো: বিরোধী দলীয় নেতা

    ‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো: বিরোধী দলীয় নেতা

    প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো।

    মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজ হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের এই পদক্ষেপ এবং ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক সমাজ ও দেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে। তবে তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।

    তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে রিট

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে রিট

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি এর কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের কমিটি গঠন নীতিমালা এখনো বহাল আছে। ওই নীতিমালা বহাল থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন স্থগিতের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ড দিতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই রিটা ফাইল করা হয়েছে।

    গত ১৫ অক্টোবর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।

  • ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা

    ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা

    আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।

    এর আগে বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।

    জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

    জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

    রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

    সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • আমাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

    আমাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন। দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হওয়ার মধ্যেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

    ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও কমিয়ে দিতে পারে।

    জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা ওয়াশিংটন করছে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তবে তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।’

    গত সপ্তাহজুড়ে দুই নেতার মধ্যে নজিরবিহীন কঠোর ভাষায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। জেলেনস্কি বলেন, স্বৈরশাসকদের প্রতি ট্রাম্পের সহজাত অনুরাগ রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প ইউক্রেনের জনগণকে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রোববার যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুদ্ধ চলাকালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে তিনি তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এমন ইঙ্গিত দিলেন।

    তবে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাকে তিনি গুরুত্বহীন করে দেখান। রাশিয়া বারবার এমন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণ ভোট দিতে পারবেন। এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেন ইউক্রেনের বিপুলসংখ্যক নাগরিক।

    ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয় গত ৯ অক্টোবর। ওই দিন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলার প্রবেশ করতে পারে।

    এরপর ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার দাবি জানান। যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার এসব শোধনাগার। ট্রাম্পের যুক্তি, ইউক্রেন হামলা বন্ধ করলে রাশিয়ার তেল আবারও বিশ্ববাজারে আসতে পারবে।

    গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সংঘাতের আগ্রাসী পক্ষ রাশিয়ার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। শান্তিচুক্তির আলোচনায় ক্রেমলিনকে উৎসাহিত করতে কেন বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। ট্রাম্প লেখেন, জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি’।

    সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হতে পারে। তার এ বক্তব্যে ইউক্রেনে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। দেশটির আশঙ্কা, ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছেন। শেষ পর্যন্ত দুই নেতা মিলে ইউক্রেনের ওপর নিজেদের স্বার্থবিরোধী কোনো সমঝোতা চাপিয়ে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছে কিয়েভ।

    ইউক্রেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপদ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সীমিত করছে ওয়াশিংটন। সম্মুখসারির সামরিক অভিযান পরিচালনায় এ নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব তথ্যের মাধ্যমে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

    ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহে দুই দফায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাননি। জেলেনস্কি বলেন, রোববার রাতেও একই ঘটনা ঘটেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে ‘আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা’ পাওয়া যায়নি।

    তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ‘তাদের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সফটওয়্যারজনিত সমস্যার’ কারণে। তবে রোববার রাতের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টার দিকে কিয়েভে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার রাত তিনটার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলার আগে সতর্কবার্তা এসেছিল।

    ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২৭০টি ড্রোন ছুড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৪০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কয়টি ভূপাতিত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হার প্রকাশ না করার নতুন নীতি নিয়েছে কিয়েভ। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি।

    রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউক্রেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ব্লুমবার্গকে জেলেনস্কি বলেন, প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দেরি করছে ওয়াশিংটন।

    প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি কিয়েভে হামলার ধরনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাল্টা হামলার বিকট শব্দ শোনা যেত। এখন বেশির ভাগ সময় শোনা যায় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিস্ফোরণ। সেগুলো ঠেকানোর মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না।

    রোববার রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কেন্দ্রজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শেষ হওয়ার পর সেই বিকট শব্দ থেমে যায়। চারপাশে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।

    কিয়েভের কেন্দ্রের একটি এলাকায় হামলার কয়েক সেকেন্ড পর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গান ভেসে আসে। রাতের নীরবতা ভেঙে শোনা যাচ্ছিল, ‘আমি কীভাবে তোমাকে ভালো না বেসে পারি, আমার কিয়েভ’।

    ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ইউক্রেনের রাজধানীকে নিয়ে লেখা এই গীতিময় গানটি এখন হামলার মধ্যেও কিয়েভের মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নুর মোহাম্মদ (৩৯) নামের এক এজেন্ট ব্যবসায়ীকে মারাত্মক আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামারের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত নুর মোহাম্মদ দক্ষিণ দেওয়ানের খামার গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি দেওয়ানের খামারের মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নয়ন টেলিকম স্টোর নামের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করেন। দুর্বৃত্তরা তাকে নিজ বাড়ির সামনে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে তার নিকটে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    নুর মোহাম্মদের বড় ভাই নুরন্নবী বলেন, ‘সোমবার রাতে নুরমোহাম্মদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে দেরি করছিল। তার বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে আমাদের মা বাড়ির গেটের বাইরে বের হন। পরে নুর মোহাম্মদকে আহত অবস্থায় বাড়ির নিকটস্থ রাস্তায় পড়ে থেকে কাতরাতে দেখেন।’

    তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে। তার কাছে থাকা সারাদিনের ব্যবসার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে হাসপালতালে নেয়ার পথে তাকে থানায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছবি তুলে রেখেছে এবং আগে চিকিৎসা করাতে বলেছে।’

    মঙ্গলবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নুর মোহাম্মদের জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় চোরের দল: স্পিকার

    আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় চোরের দল: স্পিকার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

    স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ভেবেছে লুটপাট করে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। মনে করেছিল এভাবেই জীবন যাবে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এরইমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের অনেক নেতার শাস্তি হয়েছে। শেখ হাসিনারও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে স্পিকারকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার আরও বলেন, ‌‌‘বর্তমানে প্রত্যেক মানুষের বাক-স্বাধীনতা আছে। তারা সরকার ও সরকারপ্রধানের সমলোচনা করতে পারবে। একজন মহিলা এমপি বিরুদ্ধে একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।

    প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। যদিও সে কাজটি ভালো করেছিল। পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করতে গিয়েছিল সে। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। যা অতীতে কোনো দল তার দলের এমপি ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপসহীন হওয়ায় সম্ভব হয়েছে।’

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, থানার ভরপ্রাপ্ত (ওসি) নজরুল ইসলাম মজুমদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবাল প্রমুখ।

In English

English edition · Older English stories