BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • মাগুরায় অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ জনের মৃত্যু

    মাগুরায় অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরার শ্রীপুরে অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

    মৃতরা হলেন শ্রীপুর উপজেলার মকোরদম খোলা গ্রামের আজম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৪০) ও পাশের মালদা গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২৮)।

    নিহতের স্বজনরা জানায়, দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গামন্দির এলাকায় বন্ধুদের সাথে মদ পান করেন তারা।

    নিহত আলমগীরের বাবা আজম লস্কর জানান, অসুস্থ হয়ে পড়লে আলমগীরকে তার বন্ধুরা বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভোরে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অসুস্থ বিধানকে রাত ৩টার দিকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

    মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, ‘দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

    শ্রীপুর থানার ওসি ওলী মিয়া জানান, অতিরিক্ত মদপানের কারণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।’এ,আর

  • যশোর জেনারেল হাসপাতালে মেডিক্যাল সামগ্রী প্রদান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    যশোর জেনারেল হাসপাতালে মেডিক্যাল সামগ্রী প্রদান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার মেডিক্যাল সামগ্রী প্রদান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সার্কিট হাউজের মিলনায়তনে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের কাছে এসব চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন তিনি।

    চিকিৎসা সামগ্রী হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা যেন সঠিকভাবে বিনামূল্য পায় সেই ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। হিউম্যান অ্যাপিল ইউএসএ’র সহযোগিতায় বিতরণ চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ব্যাথার ইনজেকশন, বয়স্কদের জন্য প্যাম্পাস, গ্লাভস, ক্যানোলা, চিকিৎসকদের পোশাকসহ ওটির কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী।

    এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: হুসাইন শাফায়াত, সিভিল সার্জন মাসুদ রানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও চিকিৎসাসেবা দেয়া হয় ৫০০ শয্যার। বিপুল সংখ্যক ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সঙ্কটেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ চিকিৎসা সামগ্রী পাওয়ার মধ্যে দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। এ,আর

  • আবু সাঈদকে দেখা গেল ফ্রান্সে !

    আবু সাঈদকে দেখা গেল ফ্রান্সে !

    বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় প্রতিরোধের যে অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন শহীদ আবু সাঈদ, সীমানা পেরিয়ে সেই দেহভঙ্গি এবার দেখা গেছে সুদূর ফ্রান্সে। ইউরোপের রাজপথে ফরাসি আন্দোলনকারীদের একইভাবে দুই হাত মেলে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর দৃশ্য বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    সম্প্রতি ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভে আন্দোলনরত তরুণদের দেশটির রায়ট পুলিশের জলকামান, টিয়ারশেল ও ঢাল-বন্দুকের মুখোমুখি হয়ে দুই হাত দুপাশে মেলে ধরে দাঁড়াতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সামনে একজন বিক্ষোভকারী নির্ভীকভাবে দুই হাত প্রসারিত করে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আরো বিক্ষোভকারী একই ভঙ্গিতে বুক পেতে দেন এবং স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত করে তোলেন।

    নেটিজেনরা বলছেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদ যেভাবে স্বৈরশাসনের বুলেটের মুখে বুক পেতে দিয়েছিলেন, সেই ‘ওপেন-আর্মস’ বা উন্মুক্ত প্রসারিত হাতের ভঙ্গিটি এখন বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সর্বজনীন সাহসিকতার ভাষায় পরিণত হয়েছে।

    রংপুরের রাজপথ থেকে শুরু হওয়া এক তরুণের আত্মদান কীভাবে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও জনতার দ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠল, ফরাসি বিক্ষোভের এই দৃশ্যপট সেটাই প্রমাণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবু সাঈদ এখন কেবল বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নাম নন; বরং সীমান্ত, ভাষা ও সংস্কৃতির গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের অধিকারকামী মানুষের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক টানটান করে দাঁড়ানোর অমর অনুপ্রেরণা।

  • ভারতে ধর্মান্তরিত ৩ খ্রিষ্টান পরিবারকে  শ্লীলতাহানি

    ভারতে ধর্মান্তরিত ৩ খ্রিষ্টান পরিবারকে শ্লীলতাহানি

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একটি গ্রামে তিনটি খ্রিষ্টান পরিবারকে তিন দিন ধরে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ওপর জোরপূর্বক হিন্দুরীতি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্ক্রল থানায় দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্ক্রলকে জানান, পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় এবং এক নারীকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলা হয়। তা ছাড়া, উত্তেজিত জনতা তাঁদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয় এবং খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    ১৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ৪০ বছর বয়সী লক্ষ্মী মণ্ডল যখন ঘরের কাজ করছিলেন, তখন পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে আসা অন্তত তিনজন নারীসহ ১০ জনেরও বেশি মানুষের একটি হামলাকারী দল তাঁর ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। লক্ষ্মী মণ্ডল তাদের চিহ্নিত করে জানান, তারা প্রতিবেশী গ্রামের বাসিন্দা এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত।

    https://6a0b52f4d742fd0494d63cb3c633c914.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

    স্ক্রলকে লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। আমাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং মাথায় ও কানের নিচে সজোরে আঘাত করা হয়, যার ফলে আমি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ি।’ জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান যে হামলাকারীরা তাঁর পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম তারা আমাকে গালাগাল করছে এবং চিৎকার করে বলছে আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হবে। তিনজন পুরুষ আমার শাড়ি খুলে ফেলে এবং আমার ব্লাউজ ছিঁড়ে দেয়।’

    তিনি অভিযোগ করেন, একটি ‘হিন্দু শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান’-এর অংশ হিসেবে তাঁকে জোর করে স্নান করানো হয়। লোকজন তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেয়। তিনি বলেন, ‘তারা বলেছিল আমি খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস রাখতে পারব না এবং এই হিন্দু এলাকায় কোনো খ্রিষ্টান থাকতে পারবে না।’

    এই হামলার ঘটনার দুদিন পর চন্দ্রকোনা থানা ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআর সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, হত্যাচেষ্টা, নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে হামলা বা বলপ্রয়োগ, চুরি, অপরাধমূলক হুমকি এবং নারীর সম্মানহানি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা স্ক্রলকে জানান, পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবারটি তাদের বাড়িতেই রয়েছে এবং সেখানে একটি পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়েছে।’ এই ঘটনায় বজরং দল যুক্ত ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

    তিন বছর আগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করা লক্ষ্মী মণ্ডল জানান, গত এক বছর ধরে ওই তিনটি পরিবারকে মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং ধর্ম ত্যাগ করার কথা বলা হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘তবে এই প্রথম তারা আমাদের ঘরে ঢুকেছে, হামলা চালিয়েছে, অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছে এবং আমাকে ও আমার মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে।’ লক্ষ্মী মণ্ডলের অভিযোগ, পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ‘কোনো সুরক্ষা দেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তৃতীয় দিনে তারা আমাদের বাড়ি পাহারা দিতে শুরু করে। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

    ‘তারা আমাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিল’

    লক্ষ্মী মণ্ডলের ওপর আক্রমণের পরপরই সেই দলটির লোকেরা তাঁর দুই জা বনশ্রী ও সরস্বতী মণ্ডলের ঘরে ঢোকে, যাঁরা নিকটেই বসবাস করেন। লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘তাদের পিঠে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তারা সরস্বতী মণ্ডলের ঘরের তালা ভেঙে ২০ হাজার রুপি চুরি করে নিয়ে যায়।’ বনশ্রী মণ্ডলের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েও এই হামলার শিকার হয়। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে সেই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়।’

    ঘর ছাড়ার আগে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘তারা হুমকি দিয়েছিল যে আমরা পুলিশের কাছে গেলে আমাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হবে।’ তবে ভয় না পেয়ে লক্ষ্মী মণ্ডল ১০০ নম্বরে ফোন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কোনো নিরাপত্তা না দিয়েই কিছু সময় পর চলে যায়।’

    পুলিশ চলে যাওয়ার পর হামলাকারীদের সাহস আরও বেড়ে যায় বলে জানান লক্ষ্মী মণ্ডল। তারা বাড়িগুলো ঘিরে ফেলে এবং কাউকে বের হতে দেয়নি। তিনি বলেন, ‘তারা বলছিল পুলিশ আমাদের বাঁচাতে কিছুই করতে পারবে না। তাই আমরা রাতেই আমাদের মেয়েকে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিই।’

    পরদিন সকালে, অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর, সেই জনতা আবারও ফিরে আসে।

    লক্ষ্মী মণ্ডল জানান, এবার তাঁকে, বনোশ্রী মণ্ডলকে এবং তাঁদের স্বামীদের নিকটবর্তী ডিঙাল গ্রামের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজনকেই জোর করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে বাধ্য করা হয়। এর পরের দিন সকালে লক্ষ্মী মণ্ডলের স্বামীকে তারা আবার তুলে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘তারা আমার স্বামীকে একটি অজানা স্থানে নিয়ে যায় এবং আমরা যদি যিশু খ্রিষ্টকে ত্যাগ না করি তবে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’ কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর স্বামী ফিরে আসেন।

    এই ঘটনার পর ২০ অক্টোবর তাদের ঘরের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখনও ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে আছি। কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। যদি পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে আমাদের কী হবে?’

    খ্রিষ্টান সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে তারা রাজ্যজুড়ে সম্প্রদায়ের ওপর চলা সহিংসতার তথ্য সংরক্ষণ করছে। কলকাতার এক খ্রিষ্টান নেতা বলেন, ‘কমপক্ষে ১৩টি এফআইআর এবং ৬০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে খ্রিষ্টানদের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার দশমিক ৭২ শতাংশ।

    https://6a0b52f4d742fd0494d63cb3c633c914.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html
  • ভারতে পূজামণ্ডপে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যাকারীর ছবি:বিতর্ক তুঙ্গে

    ভারতে পূজামণ্ডপে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যাকারীর ছবি:বিতর্ক তুঙ্গে

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মহাত্মা গান্ধী, সুভাষচন্দ্র বসু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবির সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের ছবি প্রদর্শন করা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই সংবাদের সত্যতা প্রকাশ করা হয়েছে।

    মহিষাদল ইয়ুথ কালচারাল অর্গানাইজেশন (মাইকো ক্লাব) আয়োজিত এই পূজামণ্ডপের ভেতরে বাঁধাই করা ছবির সারিতে স্বামী বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মা গান্ধীর পাশাপাশি গডসের ছবি স্থান পায়।

    সূর্য মাইতি নামক এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেন ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের মোহাম্মদ জুবায়ের। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের পাশে গান্ধীর হত্যাকারীর ছবি রাখায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

    এই ঘটনার পেছনে আয়োজকদের কী উদ্দেশ্য ছিল সে বিষয়ে মাইকো ক্লাব, স্থানীয় পুলিশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    পূর্বে ২০২২ সালেও কলকাতায় হিন্দু মহাসভা সংশ্লিষ্ট একটি দুর্গাপূজায় মহিষাসুরের প্রতিমাকে মহাত্মা গান্ধীর আদলে তৈরি করা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রতিবাদের মুখে পরিবর্তন করা হয়। নাথুরাম গডসে ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেন এবং ১৯৪৯ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

  • ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক পরিবর্তন করছে এনসিটিবি

    ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক পরিবর্তন করছে এনসিটিবি

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পাঠ্যবইকে বিতর্কমুক্ত ও শিক্ষার্থী বান্ধব রাখার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ করে সংশোধনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, সরবরাহ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে পুনরায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর দেখানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরের ধারণা সহজে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে পৃথক প্রতীক। উপাত্তের জন্য বৃত্তাকার চিত্র, তথ্যের জন্য পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ প্রতীক, জ্ঞানের জন্য মানুষের মস্তিষ্ক এবং প্রজ্ঞার জন্য দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছে।

    তবে দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় ছবিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।

    সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের মুদ্রণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় বই সংগ্রহ ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুদ্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে সংশোধিত বই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

    এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে এ স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি যুক্ত করা হয়েছিল।

    প্রজ্ঞা বোঝাতে নির্দিষ্ট কোনো একক প্রতীক সর্বজনস্বীকৃত নয়। প্যাঁচা, বইসহ বিভিন্ন প্রতীকও বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সংশোধিত বইয়ে এমন একটি উপযুক্ত প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রজ্ঞার ধারণাকে সহজ, স্পষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবে। তবে নতুন প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি এনসিটিবি।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দুই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে, আর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৯ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জন মারা গেছেন।

    গত একদিনে নতুন করে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের। আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে।

    অন্যদিকে, ডেঙ্গুতেও বাড়ছে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের একজন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

  • ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা  শিক্ষক আটক

    ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

    পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামানিককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি নুরানী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। মাদরাসাটিতে প্রায় দেড়শ ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মাদরাসার আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ওই ছাত্রী।

    এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
    এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তাদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইয়ান নামে সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির বাবা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক।

    এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় ৫ জন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে রংপুরের ১০৩ জনসহ বিভাগের আট জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৪৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪১৭ জন। একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৪২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দিনাজপুরে ২৫, লালমনিরহাটে ৯ এবং গাইবান্ধায় ১৪ জন রয়েছেন।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৪৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২০ জন।

    রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে সামান্য জ্বর দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • টানা ৭৫ বছর কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করেনি যে কোম্পানি

    টানা ৭৫ বছর কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করেনি যে কোম্পানি

    বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা ব্যবসায়িক সংকট দেখা দিলেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নেয় অনেক প্রতিষ্ঠান। খরচ কমাতে রাতারাতি চাকরি হারান হাজার হাজার মানুষ। এমন বাস্তবতার বিপরীতে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রিক্যাল উপকরণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দ্য গ্যান্ড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠার পর টানা ৭৫ বছর ধরে কোনো কর্মীকে ছাঁটাই না করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৫১ সালে সাবেক ক্যান্ডি বিক্রেতা এড গান্ডের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় কোম্পানিটির। দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি পরিচালন কাঠামো ধরে রেখেছে, যেখানে ব্যবসার চাহিদা কমে গেলে কর্মীদের চাকরি কেড়ে নেয়ার বদলে উৎপাদন ও শ্রম ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়।

    বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী নিয়ে পরিচালিত গ্যান্ড কোম্পানির বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বা ৪০ কোটি ডলার। গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ১৮ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সময়ে দ্বিগুণ হয়েছে মুনাফার মার্জিনও।

    জেনারেল ইলেকট্রিক ও রকওয়েল অটোমেশনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চমানের ইনসুলেশন ও বৈদ্যুতিক উপকরণ তৈরি করে গ্যান্ড। কর্মী ছাঁটাই না করেও কীভাবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়, তা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রধান নির্বাহীরা।

    গ্যান্ডের সাফল্যকে শুধু মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখলে এর পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মী ছাঁটাই না করার নীতির পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা, শ্রমশক্তির নমনীয় ব্যবহার এবং চাহিদার ওঠানামা সামাল দেয়ার বিশেষ কৌশল।

    প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, উৎপাদনের চাহিদা বাড়লেই বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মী নিয়োগ না করা। বরং বিদ্যমান কর্মীদের ওভারটাইমের মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন সামলানোর চেষ্টা করা হয়। এতে চাহিদা কমে গেলে কর্মীদের চাকরি বাদ না দিয়েই শ্রমঘণ্টা কমিয়ে আনার সুযোগ থাকে।
    ওভারটাইম কমানো, নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখা এবং স্বাভাবিকভাবে কর্মীদের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শ্রম ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ কারখানায় চাহিদা কমে গেলে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরে শ্রমঘণ্টা প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ অর্থনৈতিক মন্দার চাপ সামাল দিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

    কর্মীরাও পান মালিকানার সুযোগ

    গ্যান্ডের কর্মী ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেতন কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশ নেয়ার সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় শিক্ষানবিস পর্যায়ের একজন কর্মীও ওভারটাইম ও মুনাফা ভাগাভাগির অর্থ বাদ দিয়েই বছরে গড়ে ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ডলার আয় করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোম্পানির বিভিন্ন পদের বেতনসীমা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আর্থিক হিসাবের বিবরণীও কর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কর্মীদের ধারণা থাকে এবং ব্যবসার সাফল্যের সঙ্গে তাদের স্বার্থের যোগসূত্র তৈরি হয়।

    ২০০৯ সালে কর্মীদের জন্য চালু করা হয় এমপ্লয়ি স্টক ওনারশিপ প্ল্যান বা কর্মীদের শেয়ার মালিকানা কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার আওতায় কর্মীরা কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন। সম্প্রতি চীনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক কর্মীদেরও মালিকানার সুযোগ দিতে বিশ্বব্যাপী নতুন শেয়ার প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    চাকরি ছেড়ে যাওয়ার হারও তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী চলে যাওয়ার হার ১০ শতাংশের নিচে। এর বড় অংশ ঘটে চাকরির প্রথম বছরেই।

    অন্যদের থেকে কোথায় আলাদা গ্যান্ড

    কর্মী ছাঁটাই না করার নীতি অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে লিংকন ইলেকট্রিক, নিউকোর এবং ব্যারি-ওয়েহমিলারের নামও উল্লেখ করা হয়। তবে অর্থনৈতিক সংকটের সময় এ ধরনের নীতি ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তার নজির রয়েছে অতীতেও।

    ২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি বিক্রি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার মুখে অবৈতনিক ছুটি কিংবা কর্মীদের সাপ্তাহিক কাজের সময় ৩০ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল।

    গ্যান্ডের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক উপকরণের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ট্রান্সফর্মার ও পাওয়ার গ্রিড-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছে।

    তবে এই সাফল্যকে শুধু কর্মী ছাঁটাই না করার নীতির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারের চাহিদা, উৎপাদনক্ষমতা, পণ্যের ধরন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাও প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

    সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

    দীর্ঘদিনের সাফল্য সত্ত্বেও গ্যান্ডের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ব্যবস্থাপনা বৈঠকে উঠে এসেছে, কর্মীদের মধ্যে ওভারটাইম শিফটে কাজ করার আগ্রহ আগের তুলনায় কমছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাড়তি চাহিদা সামলাতে নতুন কর্মী নিয়োগ করতে হতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান নমনীয়তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণের কারণে দক্ষ ব্যবস্থাপক ও সুপারভাইজার তৈরির ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে একই কর্মী ব্যবস্থাপনা ও শেয়ার মালিকানা নীতি কার্যকর করা আইনি এবং প্রশাসনিক দিক থেকে জটিল হতে পারে।
    সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসতে পারে বাজারে মন্দা দেখা দিলে। বর্তমানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার, পাওয়ার গ্রিড এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সহায়ক হলেও ভবিষ্যতে এই চাহিদা হঠাৎ কমে গেলে কীভাবে কর্মী ছাঁটাই ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করা হবে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    গ্যান্ড কোম্পানির ৭৫ বছরের অভিজ্ঞতা দেখায়, কর্মী ছাঁটাই এড়ানো কেবল মানবিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিয়োগনীতি, উৎপাদন পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের অংশীদারত্ব এবং বাজারের বাস্তবতা। তবে এই মডেল দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর থাকবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানটির অভিযোজনক্ষমতার ওপর।

  • টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে লাউয়ের দাম তলানিতে নেমেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক টাকায়। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক চাষি হতাশ হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন। কেউ কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে লাউয়ের দাম অত্যন্ত কম হলেও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে উৎপাদনের পরও লাভের মুখ দেখছেন না তারা। চাষাবাদে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এ আবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে আয় হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা। এতে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    দুলাল ইসলাম বলেন, এত কষ্ট করে লাউ চাষ করেও যখন দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তখন লোকসান মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হতাশ হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

    এই কৃষকের দাবি, উৎপাদক পর্যায়ে লাউয়ের দাম কম থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তার দামের এই ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    একই ইউনিয়নের ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার চাষি আনসারুল ইসলাম জানান, টানা ১০ দিন ধরে তিনি লাউয়ের বাগানে পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, একজন শ্রমিককে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। অথচ এবার লাউ বিক্রি করে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে তার দাবি। এভাবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম থাকলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে লাউ চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার এলাকায় লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    ভালো ফলন সত্ত্বেও উৎপাদিত লাউয়ের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ আটোয়ারীর চাষিরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় তাদের লোকসান কমাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।

  • কাজ বাঁচাতে জরায়ু কেটে বাদ দিচ্ছেন ভারতের নারীরা

    কাজ বাঁচাতে জরায়ু কেটে বাদ দিচ্ছেন ভারতের নারীরা

    ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মদিবস শুরু হয় পূর্ণিমার। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রামনালে ভোর চারটায় তাঁবু থেকে বেরিয়ে দিনের কাজের প্রস্তুতি নেন তিনি। তাঁবুতে থাকা অন্য নারীরাও পুরুষদের ঘুম থেকে ওঠার আগেই হাত-মুখ ধুয়ে কাজে যাওয়ার জন্য তৈরি হন। দেনা শোধের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের আশায় নিজেদের গ্রাম থেকে পাঁচশ কিলোমিটারের বেশি দূরে এসে কাজ করতে হয় তাদের।

    পুরো ভারতজুড়ে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজ করেন। তারা প্রায়ই দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, যার বিনিময়ে দৈনিক ৪০০ রুপির মতো মজুরি পান। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী জুটি বেঁধে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টানা কাজ করেন তারা। কেবল ট্রাকে আখ তোলার সময়টুকুতেই তাদের যা একটু বিরতি মেলে।

    ব্রিটিশ সংমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে যত আখ উৎপন্ন হয়, তার ১৬ শতাংশই আসে ভারত থেকে। উৎপাদনের দিক দিয়ে ব্রাজিলের পরেই ভারতের অবস্থান, অর্থাৎ বিশ্বে দ্বিতীয়। এই অঞ্চলের আখ নিয়মিত সরবরাহ করা হয় কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় তৈরির জায়ান্ট কোম্পানিগুলোতে।

    এসব ক্ষেতে কাজ করা অধিকাংশ আখ কাটাই কর্মী মধ্য মহারাষ্ট্রের বিদ জেলা আসা। নিজের এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে মানুষগুলো এই কষ্টের কাজ বেছে নিতে বাধ্য হন।


    তিক্ত বাস্তবতা
    অনেক নারীর কাছে এই শারীরিক পরিশ্রম তাদের সংগ্রামের একটি অংশ মাত্র। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কাজ হারানোর ভয়ে নারীরা নিজেদের শরীর ও প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলার মতো চরম চাপ সহ্য করছেন।

    টয়লেট বা সুপেয় পানির সুবিধাহীন অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে বাস করা নারী শ্রমিকদের এক অসম্ভব নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিবেশে ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময়টা সামলানো কেবল শারীরিক কষ্টের নয়, বরং আর্থিক দিক থেকেও এক বিরাট বিপর্যয় নিয়ে আসে।

    একদিন কাজ বন্ধ রাখলেই বড় অঙ্কের মজুরি কাটা যায়, তাই মাসিকের সময়টাতে ছুটি নেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

    এই নারী শ্রমিকদের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা থাকে। হয় শরীরের কথা ভেবে কাজে না গিয়ে বড় জরিমানা গোনা, না হয় শরীরের ক্ষতি করে কাজ চালিয়ে যাওয়া।

    নারী শ্রমিক এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের মতে, মাসিকের তীব্র ব্যথা এবং গর্ভাবস্থাকালীন কর্মবিরতি পুরোপুরি এড়াতে অনেক শ্রমিক মাঠে টিকে থাকা ও উপার্জনের তাগিদেই চরম ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

    পূর্ণিমা নামের এক শ্রমিক বলেন, কেউ যদি আমাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারতো, তবে তা অনেক বড় সাহায্য হতো। সমাধান হিসেবে জরায়ু কেটে ফেলার (হিস্টেরেকটমি) কথা ভাবছেন তিনি।

    তিনি বলেন, আমার কষ্ট তো কমছে না। আমি যদি এই কাজ চালিয়ে যাই, কষ্ট কেবল বাড়তেই থাকবে। আমি যদি ভারী জিনিসপত্র তোলা বন্ধ করতে পারতাম, হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতো। কিন্তু এই কাজ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

    ঋণের জালে বন্দী শ্রমিকেরা
    আখ কাটা মূলত একটি মৌসুমি কাজ, যার ওপর বিদ অঞ্চলের বহু পরিবার নির্ভর করে। প্রতি বছর এই পরিযায়ী শ্রমিকদের একত্রিত করেন একজন ঠিকাদার। এই ঠিকাদাররা চিনি কলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন এবং কাজের শুরুতেই তাদের কিছু অগ্রিম অর্থ (দাদন) প্রদান করেন।

    এই কাজ করা দম্পতিদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। অগ্রিম নেওয়া অর্থ পরিশোধ করতেই তাদেরকে কাজে নামতে হয় এবং প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে দিনে গড়ে অন্তত তিন টন পর্যন্ত আখ কাটার আশা করা হয়।

    দলের সবার আয় একসঙ্গে ভাগ হওয়ায় কেউ কাজের গতি কমালেই বাকিদের ওপর চাপ পড়ে, তাই সবাইকে সমান তালে খেটে যেতে হয়। যদি কোনো একজন নারী অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কাজ করতে না পারেন, তবে বাকি দম্পতিরা তার ঘাটতি পূরণ করতে যে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, তার জন্য ওই নারীর কাছে অর্থ দাবি করেন।

    সবিতা নামের এক কর্মী ২০২৫ সালের মার্চে চরম কষ্টের মুখে পড়ে জরায়ু কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

    সেই স্মৃতিচারণ করে এই নারী বলেন, ক্ষেতে আপনাকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই। আপনাকে বিন্দুমাত্র বিশ্রামের সুযোগ দেবে না কেউ। আমি খুব অসুস্থ ছিলাম, তাও কেউ আমাকে একটু সাহায্য করেনি। আমার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, ট্রাকে আখ বোঝাই করার জন্য মই বেয়ে ওপরে উঠতে পারতাম না। গত বছর এই কাজ করতে গিয়ে আমি তিনবার পড়ে গিয়েছি, তবুও কোনো অভিযোগ করার সুযোগ ছিল না।

    একই কষ্টের কথা ফুটে ওঠে পূর্ণিমার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আমাদের কোনো ছুটির দিন থাকে না। এখানে আসার পর থেকে পরবর্তী চার থেকে পাঁচ মাস প্রতিদিন একটানা কাজ করে যেতে হয়।

    পূর্ণিমা জানান, গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার পর এখন তিনিও জরায়ু ফেলে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তিনি যদি এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেনও, তার খরচ মেটাতে তাকে আবার নতুন করে ঋণ নিতে হবে।

    পূর্ণিমা আক্ষেপ করে বলেন, আমার নিজের জরায়ু ফেলে দিতেও আমাকে ঋণ নিতে হবে। মনে হচ্ছে আমার শরীরটাও যেন এই ব্যবস্থার দাসে পরিণত হয়েছে।

    ‘ডাক্তারদের বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও যন্ত্রণা কমেনি’
    নারী অধিকার কর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবীদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের কল্যাণ নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ড. নীলমের একটি প্রতিবেদনে অপ্রয়োজনীয় জরায়ু কেটে ফেলার উচ্চ হারের বিষয়টি উঠে আসে। মূলত তার পরই বিষয়টি সবার নজরে আসে।

    সঙ্গীতা জানান, স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর বদলে অনেক নারীকে জোর করে বা চাপ দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়, যেখানে উপযুক্ত চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই এসব অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার গ্রামীণ অঞ্চলে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে ‘আশা’ (অ্যাক্রেডিটেড সোশ্যাল হেলথ অ্যাক্টিভিস্ট) কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে। তারা মাঠে কাজ করা নারীদের সরকারি চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন সেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।

    অনেক ‘আশা’ কর্মী সত্যিকার অর্থেই এই নারীদের সাহায্যে কাজ করলেও সঙ্গীতা জানিয়েছেন যে, তিনি এমন কিছু আশা কর্মীর সাথে কথা বলেছেন যারা স্বীকার করেছেন যে, জরায়ু অস্ত্রোপচারের জন্য সুপারিশ করার বিনিময়ে তারা অর্থ পেয়ে থাকেন।

    তবে মহারাষ্ট্রের ‘আশা’ কর্মীদের কাছে ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তা অস্বীকার করেন।

    ওয়াদওয়ানি জেলার ‘আশা’ কর্মী গঙ্গা শেবন্তে বলেন, কম বয়সী নারীদের জরায়ু কেটে ফেলার কথা আমিও শুনেছি, তবে তা সরকারি নাকি বেসরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।

    রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠিয়ে কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে গঙ্গা জানান, তিনি নিজে কখনো এ ধরনের কাজের জন্য টাকা নেননি। তিনি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন না জানিয়ে বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে, তারা সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে নিজেদের ইচ্ছাতেই প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাক্তার দেখায়।

    দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনুসন্ধানে নেমে দেখেছে, সবাই একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। আর এই দোষারোপের মাঝে পড়ে আসল ভুক্তভোগী নারীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

    অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও সবিতা জানান, তার এখনো রক্তপাত হচ্ছে এবং পেটের ব্যথা আগের চেয়েও বেড়েছে। কাজ করা এখন তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সবিতা বলেন, আমি ডাক্তারদের বিশ্বাস করেছিলাম। ভেবেছিলাম জরায়ু কেটে ফেললে হয়তো সব যন্ত্রণা একবারে শেষ হয়ে যাবে, তাই রাজি হয়েছিলাম।

    অস্ত্রোপচারের পর সবিতা পুনে শহরে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সবিতা যখন তার আগের অস্ত্রোপচারের সব মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে চান, তখন তা তাকে দেওয়া হয়নি।

    সবিতা বলেন, আমি এখনো অসহ্য যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি, অথচ এই অস্ত্রোপচারের আগে কেউই আমাকে এসব বিষয়ে সতর্ক করেনি।

    সরকারি উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বদলায়নি কিছুই
    আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তারা কাউকে অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের কোনো বেতনসহ ছুটি নেওয়ার সুযোগও দেন না তারা। কারণ এতে ট্রাকে কম আখ বোঝাই হবে, আর ফলে চিনি কলগুলো পরবর্তী সময়ে তাদের আর কাজে নেবে না।

    স্থানীয় ঠিকাদার আশরুবা দত্ত বলেন, আমাদের মজুরি পুরোটাই নির্ভর করে আমরা কারখানায় কতটা ওজনের আখ পৌঁছে দিতে পারছি তার ওপর।

    এই ঠিকাদার বলেন, আমাদের কাছে বেশি শ্রমিক থাকলে ভালো আয় হয়। শ্রমিক কম থাকলে অন্য শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী শ্রমিকদের এই নির্মম কাজের পরিবেশ শুধরাতে ভারতের কৃষি শ্রম ব্যবস্থার কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণে একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

    ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকার বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন আখ কাটার সঙ্গে জড়িত নারী শ্রমিকের ওপর একটি জরিপ চালায়। তাতে দেখা যায়, ১৩ হাজার ৮৬১ জন নারী জরায়ু কেটে ফেলেছেন। এই নারীদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে শারীরিক কিংবা মানসিক নানা সমস্যা ও যন্ত্রণার কথা জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পরবর্তী সময়ে জরায়ু অস্ত্রোপচার মনিটর করা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের সঠিক নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশ জারি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে একটি রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    তবে মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের মতে, বাস্তবে প্রায় কিছুই বদলায়নি।

    পূর্ণিমা এবং সবিতা দুজনেই জানান, তারা সরকার থেকে কোনো ধরনের সাহায্য বা সহায়তা পাননি।

    টিকে থাকার মূল্য
    পূর্ণিমা বলেন, আমার যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ব্যথার পেছনে এক বছরে তার প্রায় ৫০ হাজার রুপি খরচ হয়েছে বলেও জানান। তিনি বলেন, গ্রামে ফিরলেই আমাকে অপারেশনটা করিয়ে ফেলতে হবে, কিন্তু সেটার জন্যও নতুন করে ঋণ নিতে হবে।

    আক্ষেপ করে এই নারী বলেন, মনে হচ্ছে এই ব্যবস্থার মধ্যে কেবল কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই আমাকে জরায়ু বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

    বিদ জেলার প্রশাসনিক তদারকি, জনকল্যাণমূলক কাজ ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা জেলা কালেক্টর বিবেক জনসনের সঙ্গে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    অন্যদিকে কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাড এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগার, আরামদায়ক যন্ত্রপাতি এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। তাদের দাবি, এই যৌথ উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে ১ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

    দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর পক্ষ থেকে পেপসিকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি।

    পূর্ণিমার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারটা পিছিয়ে দেব নাকি করিয়ে ফেলব। আমি কেবল আশা করি, ব্যথা না থাকলে আমি মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে পারব এবং পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারবো।

  • প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা ঘাটে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বৈঠার ছন্দ, বাইচালদের হর্ষধ্বনি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার বিসর্জনের পরদিন প্রতিবছর ঝামা ঘাটে এ নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর বাইচালদের ‘হেইওরে, হেইওরে’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মধুমতি নদীর বুক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

    নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বসে নানা ধরনের দোকানপাট। মাছ-মাংস, মিষ্টি, চানাচুর, গ্রামীণ পণ্য, মাটির খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজন। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা বাড়ে, যা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

    আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি নৌকাবাইচ উপভোগ করেন এবং পরে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।এ সময় মন্ত্রী বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। সরকার দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি-কালচারকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করছে। এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদমান আকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান, অধ্যক্ষ মৌমুর আলী মৃধা এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহম্মেদ। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় আয়োজকেরা জানান, এ মেলা এলাকার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। প্রজন্ম থে

  • বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট–ঘাটতির প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভে নেমেছে লাখো মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভে কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু এখন ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

    চলমান অস্থিরতা ইউরোপের দেশগুলোর সরকারের আর্থিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারগুলো। বছরের পর বছর বিপুল ঋণ নেওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশই এখন গভীর ঋণসংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে ঋণের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    ফ্রান্সে ঋণ নেওয়ার খরচ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হওয়ায় স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমছে—এমন দাবি করছে বিক্ষোভকারীরা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, সরকারগুলো কীভাবে ঋণ নেয়, শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের অবস্থান কোথায় এবং ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারগুলোকে কত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

    শীর্ষ ঋণগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি

    দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ।

    বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা মার্কিন ডলারে ঋণ নেওয়ার সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশটির ঋণের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাহীন ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই।

    সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির ঋণ ২২ দশমিক ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশি, ১৯৯ শতাংশ।

    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাজ্য চতুর্থ। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঋণ দেশটির জিডিপির ১১৮ শতাংশ।

    এ ছাড়া ইতালির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির অর্থনীতির তুলনায় ঋণের বোঝা অনেকটাই বেশি, যা জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। আর জার্মানির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ৬৫ শতাংশ।
    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণে ভারত সপ্তম। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন, যা দেশটির জিডিপির ৮৩ শতাংশ।

    বৈশ্বিক ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বর্তমানে দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ঋণ জিডিপির ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তার মানে গত দেড় দশকে বাংলাদেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। যদিও উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো তুলনামূলক কম।

    আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়

    সরকারগুলো সাধারণ মানুষের মতোই ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে তারা বন্ড বিক্রি করে। বন্ড কেনার বিনিময়ে সরকার ক্রেতাদের সুদ দেয় এবং নির্দিষ্ট তারিখে ঋণের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

    যেমন—১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন একটি ঋণ, যা সরকারকে ১০ বছর পর পরিশোধ করতে হয়। এই বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার হলো ঋণ দিয়ে বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা পান। একটি দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনা কতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবে, সে বিষয়ে আর্থিক বাজারের আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক এটি।

    ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়

    বন্ডের দাম কমলে এর ‘ইল্ড’ বা মুনাফার হার বাড়ে। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। কোনো পরিবারের গৃহঋণের সুদ বাড়লে যেমন সংসার খরচে টান পড়ে, সরকারের ক্ষেত্রেও তা–ই হয়। সুদ পরিশোধে খরচ বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে টান পড়ে।

    বর্তমানে ইউরোজোনে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এমনকি ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও ফ্রান্সকে এখন বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। ইউরোজোনের বাইরে শুধু যুক্তরাজ্যই বর্তমানে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোনের ঋণসংকটের সময় শুধু গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটে থাকা দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।

    সুদ পরিশোধেই ব্যয় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সব মিলিয়ে বিশ্বে মোট ঋণের পরিমাণ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

    ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে করে মাথাপিছু হিসাবে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের ওপর ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। আর ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে।

    ঋণের এই বিপুল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এই অর্থ বিশ্বের সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যয় হওয়া ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়া ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ কমে যায়। বাড়তি সুদের খরচ মেটাতে সরকারকে কর বাড়ানো বা অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর পথও বেছে নিতে হতে পারে। এর প্রভাব শুধু সরকারের বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে বন্ধকি ঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বেড়ে যেতে পারে। সূত্র: আল–জাজিরা

  • মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশ গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি

    মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশ গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া কট্টরপন্থি রাজনীতিক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন করে হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ হামলায় সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছি। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের কৌশল হলো, কোনো সীমারেখা না মানা।’

    মোহাম্মদি আরো বলেন, ‘আমরা সংঘাতের সময় ও ভৌগোলিক পরিসর—দুই ক্ষেত্রেই প্রচলিত সীমা ভেঙে দেব। শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান এ ধরনের অভিযান চালানোর কতটা সক্ষমতা রাখে এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক কোনো সহায়তা পায় কি না, তা যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    রেজায়ি বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংঘাত আবার শুরু হলে আমাদের আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হবে, অথচ এসব হামলা চালাতে সহায়তাকারী অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিরাপদ ও হামলার আওতামুক্ত রাখা হবে—এমন কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না।’

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলা চালানোর জন্য দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছেন।

    এদিকে ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন তিনটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা। তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

    বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব জাহাজে হামলার সংখ্যা ও ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।

    গত চার মাসে সাতবার ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে আলোচনা করছেন। এ অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড্ডয়নসহ বিভিন্ন অভিযানের অনুশীলনও চলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি উড়েছে।

    এ ছাড়া মধ্য ইরানের আরাক শহরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ভেতরে অন্তর্ঘাতমূলক অভিযান চলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    সোমবার ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়। এ হামলা নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে হামলা চালাক। সোমবারের বৈঠকে তিনি হেগসেথকে এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে তা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    তিনি বলেন, ‘পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোতে আগুন জ্বলবে। কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়বে। আরব দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ইউরোপের দিকে ছুটবে।’

    নাসরি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়বে। সেনা মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এমনিতেই চাপে থাকা ইসরাইলের অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ধকল সামলাতে পারবে না। আর ট্রাম্প এমন এক সংকটে আটকে পড়বেন, যা তার প্রেসিডেন্সির বাকি সময়কে গ্রাস করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনের জন্য ধ্বংসস্তূপ রেখে যাবে।’

    আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরান তার বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, ইরানের পাল্টা জবাব শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও হামলার আওতায় আসবে।

    এদিকে যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন। আলোচনায় আগের কিছু প্রস্তাব নতুনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়া, জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া এবং দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিনিময়ে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।

  • সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার গোপন লেনদেন

    সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার গোপন লেনদেন

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে ভ্যানিটি ফেয়ার। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এসব লেনদেনের তথ্য পান।

    অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্পের মাধ্যমে এসব দেশের স্বার্থ হাসিলের বিনিময়েই এই লেনদেনগুলো করা হয়েছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাত সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ জমা হয়েছিল, যেখানে কুশনার স্বাক্ষরকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের নেতাদের উদ্যোগে কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি হিসাবে অন্তত ২০০ কোটি ডলার জমা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কথিত লেনদেনের বিষয়ে কুশনারকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

    অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কুশনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি কিংবা লেনদেনের তারিখের মতো কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তার আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। মামলা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে।’

  • ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক লাউবাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লাউচাষিদের এমন দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে।

    কৃষকদের অভিযোগ, এক কেজি মোটা চাল কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ২০০টি লাউ। আর কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ। পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    একই নামের আরেক কৃষক বলেন, লাউ চাষ করে কী পরিমাণ লোকসানে পড়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুকেও খাওয়াচ্ছেন। অথচ বাজারে সেই লাউই প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন তিনি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস।

    তিনি বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেলে একসময় মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    কৃষকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভালো ফলনও তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

  • অরুণাচল সীমান্তে  চীন-ভারত মুখোমুখি

    অরুণাচল সীমান্তে চীন-ভারত মুখোমুখি

    ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চীনা সেনাদের সঙ্গে একাধিক স্থানে মুখোমুখি সংঘাত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর। গত জুলাই থেকে এ পরিস্থিতি চলছে বলে জানান তিনি। সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নিয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।

    ছয় বছর আগে ২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ভারত ও চীন। রক্তক্ষয়ী ওই সংঘাতের জেরে দিল্লি ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও অবনতি হয়। গত কয়েক বছরে সম্পর্ক উন্নয়নে ফের উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশই।

    বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শত্রুজিৎ কাপুর বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অরুণাচলের একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘাত হয়েছে।

    গত জুলাইয়ে অরুণাচলের তাকসিং এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্টে উত্তেজনা দেখা দেয়।

    আইটিবিপি প্রধান জানান, চীন সীমান্তের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর সব সীমান্ত ইউনিটে ড্রোন প্লাটুন গঠন করা হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো তৈরির কাজও চলছে।

    এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলটির সংসদ সদস্য জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, অরুণাচলে টহল পয়েন্টে প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কা, চীনের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন এবং বড় বাঁধ নির্মাণের মতো বিষয়গুলোতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

    ডোকলাম ও পূর্ব লাদাখের পর অরুণাচল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

  • সবজি ও ডিমের দাম কমললে ও, স্থিতিশীল মুরগির দাম

    সবজি ও ডিমের দাম কমললে ও, স্থিতিশীল মুরগির দাম

    পূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লাল ও সাদা ডিমের দাম। মাছের বাজারেও কিছু প্রজাতির দাম কমেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পটল ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা।

    গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি বেগুনের দাম ৫০ টাকা, টমেটোর দাম ৩০ টাকা এবং পটলের দাম ২০ টাকা কমেছে।

    বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি কমেছে। ফলে কিছু সবজি আগের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। বিক্রি কমে যাওয়ায় বেগুন, পটল ও টমেটোর দাম কমাতে হয়েছে।

    বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, কয়েক ধরনের সবজির দাম কমায় স্বস্তি মিলেছে। তবে মাছ, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের খরচ বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

    মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এক ক্রেতা বলেন, মুরগির দাম না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হওয়ায় সব মিলিয়ে খরচের হিসাব মেলাতে হচ্ছে।

    ডিমের বাজারে লাল ও সাদা—দুই ধরনের ডিমের দামই কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় লাল ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা এবং সাদা ডিমের দাম ২০ টাকা কমেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বিশেষ করে সাদা ডিমের দাম কমায় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম খরচে ডিম কিনতে পারছেন।

    মাছের বাজারে তেলাপিয়া ও কাতলার দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কাতলা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় উভয় মাছের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে।

    এ ছাড়া প্রতি কেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, কৈ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এক মাছ বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় তেলাপিয়া ও কাতলার দাম কমেছে। তবে সব ধরনের মাছের দাম কমেনি; মাছের ধরন অনুযায়ী দামে পার্থক্য রয়েছে।

  • কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশির ভিসা আবেদন জাল

    কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশির ভিসা আবেদন জাল

    কানাডায় ভিসা আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে। কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী বসবাসের ভিসা (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারি মামলা।

    সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সিবিএসএ জানায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ে এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসায় বসবাসকারীদের বিষয়ে তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্সিয়ে পৌর পুলিশের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বেশ কিছু আলামত পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

    তদন্তে ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী বসবাসের ভিসার (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে এসব বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

    এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালায় সিবিএসএর তদন্তকারীরা। তল্লাশিতে সংগৃহীত নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামতে পাঁচ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। জালিয়াতির ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে তদন্তকারীরা ৭৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভিসা আবেদনকে বিশেষভাবে যাচাইয়ের আওতায় আনেন।যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো—

    ১. এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা বা এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা করতে ষড়যন্ত্র করা। ২. অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনের কাজে জেনেশুনে কাউকে প্ররোচিত করা, সহায়তা করা বা মদত দেওয়া।

    ৩. অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে কাউকে প্ররোচিত করা, সহায়তা করা বা মদত দেওয়া। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • নবীনগরে এমপির ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা

    নবীনগরে এমপির ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মাইক্রোবাস আটকে ইজারার টাকা আদায়ের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলীযাবাদ মোড়ে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত নেতার নাম আসাদুজ্জামান বিপ্লব।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নবীনগরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক একটি মাইক্রোবাসযোগে উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আলীযাবাদ মোড়ে পৌঁছালে ইজারাদারের লোকজন গাড়িটি থামিয়ে ইজারার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিকরা গাড়িটি জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত এবং টোলমুক্ত বলে জানালেও তারা তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তারা যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে ডেকে আনেন।

    ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিপ্লব সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং মারমুখী আচরণ করেন। এ সময় তিনি নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ঘটনার বিষয়ে পৌরসভার ইজারাদার জাবেদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অসদাচরণের জন্য বিপ্লবকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। ইউএনও এবং এমপি মহোদয় ইতোমধ্যে ইজারা বাতিলের কথা বলেছেন।

    নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইজারাদারের লোকজন যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি পৌর ইজারা বাতিলের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার কোনো ভাতিজা নেই। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে যারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমি পৌর কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ইজারা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছি।

  • ইউরোপে গরমে ৫০ হাজার মৃত্যু

    ইউরোপে গরমে ৫০ হাজার মৃত্যু

    ইউরোপে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করেছেন গবেষকেরা। এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা। গবেষকদের দাবি, গত ২৬ বছরের মধ্যে ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এ বছর।

    নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণার ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। গবেষণায় ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রা ও মৃত্যুঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছেন ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা।

    জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এসব শহরে তাপজনিত কারণে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০-এর বেশি মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পেলে এসব মৃত্যুর বড় একটি অংশ এড়ানো সম্ভব হতো।

    তবে এই সংখ্যা সরাসরি নথিভুক্ত মৃত্যুর হিসাব নয়। তাপমাত্রা, জনসংখ্যা এবং উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ অনুমান করেছেন। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে শহরের বাইরের জনবসতিতে তাপের প্রভাব এই হিসাবের আওতায় আসেনি।

    তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙা গ্রীষ্ম

    ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে একের পর এক তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। পশ্চিম ইউরোপে গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোনো কোনো দিনে কয়েকটি দেশের তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি উঠে যায়।

    বিশেষ করে ১৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গবেষকদের হিসাবে, এই সময় সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। পুরো গ্রীষ্মে অনুমান করা তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    গবেষকেরা বলছেন, ইউরোপের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঐতিহ্যগতভাবে তুলনামূলক শীতল হিসেবে পরিচিত উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন এলাকাতেও তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি আর শুধু ইউরোপের উষ্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ইতালিতে

    দেশভিত্তিক হিসাবে তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। সেখানে ১৩ হাজার ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষকেরা হিসাব করেছেন। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি।

    গবেষণায় দেশগুলোর আনুমানিক মৃত্যুর হিসাব এমন—ইতালিতে ১৩ হাজার ৩০৩ জন, ফ্রান্সে ৭ হাজার ২৬৮ জন, স্পেনে ৬ হাজার ৮২৪ জন, জার্মানিতে ৬ হাজার ৩৪০ জন এবং যুক্তরাজ্যে ৪ হাজার ৩৫৪ জন।

    যুক্তরাজ্যে অনুমান করা মৃত্যুর মধ্যে ২ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্পেনে তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে গবেষণায়।

    সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে প্রবীণেরা

    তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবীণ ব্যক্তিরা। গবেষণার হিসাবে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৫০২, যা মোট অনুমান করা মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    তবে তীব্র গরমের ঝুঁকি শুধু প্রবীণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ছয় হাজার মানুষেরও তাপজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এমনকি ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও আট শতাধিক মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গেছে।

    অতিরিক্ত তাপ শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। এতে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আগে থেকে হৃদ্‌রোগ, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের ঝুঁকি আরও বেশি। বয়স্কদের পাশাপাশি বাইরে কাজ করা শ্রমিক, গৃহহীন মানুষ এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণের সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরাও তীব্র গরমে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকেন।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে

    তাপজনিত মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি শতকের শুরুর দিকে তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে মানবসৃষ্ট উষ্ণতার সম্পর্ক ছিল। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে সেই অনুপাত বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে।

    এর অর্থ, প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত কারণে গরম পড়লেও মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা সেই তাপকে আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী করে তুলছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়ছে। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতা, স্থায়িত্ব ও ঘনঘন ঘটার প্রবণতা বাড়ছে।

    ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু ও চরম আবহাওয়া গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের বহু অঞ্চলে তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে রেকর্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্ম হয়ে থাকতে পারে। তার মতে, ক্রমেই বেশি গরম ও চরম আবহাওয়ার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে প্রাণ হারানো মানুষ এবং শোকাহত পরিবার।

    লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষক পিয়ের মাসেলোও সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর কেবল ইউরোপের ঐতিহ্যগতভাবে উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের কিছু এলাকাও নজিরবিহীন তাপমাত্রা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।

    জরুরি অভিযোজন ও নির্গমন কমানোর তাগিদ

    গবেষকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহের ক্ষতি কমাতে সরকারগুলোর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শহরে শীতল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিতে হবে।

    শহরে গাছপালা ও সবুজ এলাকা বাড়ানো, তাপ শোষণকারী পৃষ্ঠের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত ছায়া ও পানির ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত গরমের সময় নিরাপদ শীতল আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করা কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও হাসপাতালকে তীব্র তাপ মোকাবিলার উপযোগী করে তোলাও জরুরি।

    তবে শুধু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা দিয়ে ঝুঁকি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। দীর্ঘ মেয়াদে তাপজনিত মৃত্যু কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন দ্রুত হ্রাস করা প্রয়োজন।

    ইউরোপের ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী বিপদ নয়; এর প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। নির্গমন কমানো ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণঘাতী গ্রীষ্মের মুখোমুখি হতে পারে ইউরোপ।

  • আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক বাজারের মতো দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রতি ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবারও স্বর্ণের দাম কমেছিল ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা। তার মানে দুই দিনে ধাতুটির দাম কমল ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ সকালে স্বর্ণের দাম কমার বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমেছে। তাই স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    তবে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দরপতনই হচ্ছে মূল কারণ। আজ সকাল ১০টায় স্বর্ণের নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, আজ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ভরিতে ২ হাজার ১০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।

    এদিকে ১৮ ক্যারটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। স্বর্ণ ও রুপার দামের সাথে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

  • নেতানিয়াহুর গাড়িবহরে হামলা

    নেতানিয়াহুর গাড়িবহরে হামলা

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে কাচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। জেরুজালেমের জনপ্রিয় রাত্রিকালীন বিনোদনকেন্দ্র মাহানে ইয়েহুদা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচারণার অংশ হিসেবে গভীর রাতে বাজারটিতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে একটি কাচের বোতল ছোড়া হয়।

    ভিডিওতে দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের পর নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ভিড়ের মধ্যে ছুটে যান। কে বোতলটি ছুড়েছেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাদের।

  • পশ্চিম তীর পুরোপুরি দখলের প্রস্তুতি ইসরাইলের

    পশ্চিম তীর পুরোপুরি দখলের প্রস্তুতি ইসরাইলের

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে বন্দুকযুদ্ধের পর পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধ জারির নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার সকালে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এর কিছুক্ষণ আগেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা দুজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ওই বন্দুকধারীরা একটি রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের ওপর হামলা চালিয়েছিল।

    নেতানিয়াহু হেবরন অবিলম্বে বন্ধ করে দিয়ে পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের প্রস্তুতি নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পশ্চিম তীরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা, জমিতে প্রবেশে বাধা, জলপাই ও কৃষি সরঞ্জাম লুট এবং গাছ কেটে ফেলা বা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে।

    পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • কোন পথে ইউরোপের তরুনদের বিক্ষোভ?

    কোন পথে ইউরোপের তরুনদের বিক্ষোভ?

    ইতালির রাজধানী রোমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ, স্পেনের মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং ফ্রান্সের রাজপথে বিক্ষোভ—ইউরোপজুড়ে তরুণেরা এমন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনীতিকেরা তাদের কথা শুনছেন না, তাদের চাহিদা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তরুণদের দাবিগুলো একেক জায়গায় একেক রকম হলেও একটি বিষয়ে তাদের ঐক্য রয়েছে—তারা চান, রাজনীতি ও সমাজে প্রায়ই উপেক্ষিত তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাক। দাবি আদায়ে কখনো কখনো তারা কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করছেন।

    অন্যদিকে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

    রোমের কাভুর হাইস্কুলের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামিয়ানো ফুসা বলেন, “আমরা লড়াই করছি এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছি।”

    ইতালির রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল কর্মসূচির মধ্যে কাভুর হাইস্কুলই প্রথম অবরুদ্ধ হয়।

    ফুসা এএফপিকে বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই।” তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর ডানপন্থী জোটের পাশাপাশি আগের মধ্য-বামপন্থী সরকারগুলোরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং তরুণদের প্রয়োজন উপেক্ষা করেছে।

    গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। কোনো কোনো বিক্ষোভ সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে।

    সরকারগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক সান্ধ্যআইন (কারফিউ) জারি করা হয়েছে, আর ইতালিতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাসদস্য। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ১৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী লুইস মার্কেস বলেন, “রাজনীতিকেরা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একেবারেই অযৌক্তিক উপায়ে পরিস্থিতির জবাব দিচ্ছেন।”

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে লাগামহীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের পরিবর্তে শিক্ষায় বেশি অর্থ ব্যয় এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।

    তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিক্ষোভের পেছনে আরও গভীর সংকট রয়েছে। ইউরোপের বহু তরুণ মনে করছেন, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।

    আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি জিওফ্রে প্লেয়ার্স বলেন, “এই তরুণেরা শুধু মনে করেন না যে রাজনীতিতে তাদের কোনো জায়গা নেই; তারা মনে করেন, তাদের কথা একেবারেই শোনা হচ্ছে না।”

    রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজারিও ফোরলেনজা এই আন্দোলনকে ‘ইউরোপজুড়ে প্রজন্মগত বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর মূলে রয়েছে এমন এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যার কার্যকর সমাধান দিতে রাজনীতিকেরা ব্যর্থ হচ্ছেন।

    তিনি বলেন, “তরুণেরা জনসংখ্যার এমন একটি অংশ, যাদের অনুপাত ক্রমেই কমছে। ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।”

    ‘অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি’

    ফ্রান্স ও ইতালিতে তরুণদের ক্ষোভ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশ দুটিতে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

    গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বোর্দো শহরে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী এডি নামে এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, “মানুষ খুব ক্ষুব্ধ, তারা আর সহ্য করতে পারছে না। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করেও কেনাকাটার ঝুড়ি ভরার মতো সামর্থ্য থাকে না।”

    তিনি আরও বলেন, “সবকিছু ভাঙচুর করলে কি কিছু বদলাবে? আমার মনে হয়, এতে রাজনীতিকদের ঘুম ভাঙতে পারে। নিজেদের কথা শোনানোর জন্য আর কী করতে পারি, তা আমরা জানি না। ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন? এখন আর তাতে আমাদের বিশ্বাস নেই।”

    ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলন একে অপরের কাছ থেকে ক্রমেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকেও তারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ইতালিতে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের একটি স্লোগানে বলা হয়, ‘ফ্রান্সের মতো করো’। এ ছাড়া জলদস্যুদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘জলি রজার’ পতাকাসহ বিভিন্ন অভিন্ন প্রতীক ইউরোপের তরুণদের সমাবেশে দেখা যাচ্ছে।

    মাদ্রিদের ২২ বছর বয়সী পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদ মার্কোস নাভারো বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরা নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

    নাভারো বলেন, “তারা আমাদের কাছে এসে জানতে চেয়েছে, ‘তোমরা কীভাবে আন্দোলন করেছ? কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করো?’ আমরা ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে নানা ধারণা (আইডিয়া) বিনিময় করেছি।”

    আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে নাভারো মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন।

    ওই শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা ২৬ বছর বয়সী নৃবিজ্ঞানী আইলা হেরেরো বলেন, “আমরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি—এটা জানতে পারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের আন্দোলন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।”

    ‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়’

    ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতাও তরুণদের বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

    গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থী নিকোস মাভরুদিস বলেন, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে তাঁর স্কুলের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হলে তা বেশি কাজে আসত। স্কুলের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে বলে তিনি জানান।

    মাভরুদিস বলেন, “শ্রেণিকক্ষ বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ভবিষ্যতে বাবুর্চি (রাঁধুনি) হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই শিক্ষার্থী ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। তার ভাষায়, তিনি এমন দেশে যেতে চান, ‘যেখানে পরিস্থিতি আরও ভালো’।

    রোমের দখল করা মর্গাগনি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা টেবিল দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রেখেছেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামোকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ইতালির সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকেরা কিছু বিক্ষোভকারীর লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    তিনি বলেন, “এর ফলে এই ব্যবস্থার শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে।”

    বিক্ষোভে সহিংসতার বিষয়ে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ২৪ বছর বয়সী সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, তার সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই ‘প্রজন্মের ক্ষোভকে’ সংগঠিত করা এবং গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা।

    তিনি বলেন, “আমাদের উদ্বেগগুলো একই রকম, যদিও প্রতিবাদের পদ্ধতি একেকজনের একেক রকম।”

  • ১৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

    ১৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

    দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান চাপ মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংকের কাছে মোট ১৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন এবং অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আগামী তিন বছরে ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামক একটি প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো—সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশের নাজুক ব্যাংক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, রাজস্ব আহরণে গতি ফেরানো এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সভায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আরআরআইপি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সম্মেলনে, বিভিন্ন প্রকল্পের রূপরেখাসহ এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা-২০২৬ এর বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কৌশলগত অংশীদারত্বকে চূড়ান্ত রূপ দিতে—আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুপক্ষ। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

    ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে ১২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বিয়ার্ড এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোয়েল বার্লির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন। এসব সভায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের ১০টি পাইপলাইনভুক্ত প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) গ্যারান্টি হিসেবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে সরকার। এছাড়া ব্যাংকিংসহ আর্থিক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রাম-২’-এর অধীনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের জন্য আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পগুলো হলো—ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন (রেল) স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড। এর পাশাপাশি, ঢাকার চারপাশে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার ও দূষণ সংক্রান্ত আমব্রেলা ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টে (ইউআইপি) অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত আরআরআইপি কাঠামোর অধীনে, বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের যে অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে, তা চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    এর মধ্যে সরকার জ্বালানি তেল ও সারসহ জরুরি আমদানির অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (এমএসএমই) সহায়তা করতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয় করা হবে ৩ বিলিয়ন ডলার, আর বাকি ১.৫ বিলিয়ন ডলার আপৎকালীন ও কো-ফাইন্যান্সিং ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পরবর্তী ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’ (সিপিএফ)-এর মধ্যে এই আরআরআইপি রূপরেখাকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংককে অবস্থানকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন। আইএমএফ বিশেষ করে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের তীব্র মূলধন ঘাটতি দূর করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে—অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, আইএমএফের ঋণের ক্ষেত্রে বেশকিছু কঠোর শর্ত বা ‘পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া’ বহাল থাকবে। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে কিছু সমস্যা সমাধান করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, পরবর্তী আলোচনার জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইএমএফের কারিগরি দল ঢাকা সফরে আসছে।

    অন্যদিকে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সংস্থাটির সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সংস্কার, পুনর্মূলধনীকরণ, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকগুলোয় ব্যাংকিং সংস্কার, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

  • ভারতের মুসলিমদের নিয়ে সোচ্চার হতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ভারতের মুসলিমদের নিয়ে সোচ্চার হতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি ভারতের মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়েও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

    শুক্রবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।

    স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “হিন্দুদের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার নিয়ে অনেকেই কথা বলেন না। একইভাবে ভারতে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও অনেকে নীরব থাকেন। তিনি বলেন, “অধিকার ও ন্যায়বিচার কখনো ধর্ম, জাতি কিংবা সীমান্তের পরিচয় দেখে নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকার নিয়ে যেমন সোচ্চার হতে হবে, তেমনি ভারতের মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়েও কথা বলতে হবে। ”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির-গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখলের বিরুদ্ধে একই অবস্থান থাকতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, কারও সম্পদ দখল কিংবা অধিকার হরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান হতে হবে সর্বজনীন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য। ”

  • বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

    বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

    সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এ রায় দেয় দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত।

    বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আদালতের প্রধান বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটনকারীদের কাছে দেওয়া নির্দেশ এবং সামরিক ও প্রশাসনিক কমান্ড কাঠামোর মধ্য দিয়ে আসাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার মতো প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটনকারীদের কাছে সরাসরি নির্দেশ পাঠানোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার নথিও আদালত পর্যালোচনা করেছে।

    বিচারক আল-আরিয়ান বলেন, কেবল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

    এর আগে গত ১১ আগস্ট চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং পলাতক আরও সাত কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলায় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান আতেফ নাজিবকে আদালতে উপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    ২০১১ সালে সিরিয়ার দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক রাখা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ।

    আদালতের আগস্টের ওই রায়টি ৩৯৬ পৃষ্ঠার একটি বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এতে অপরাধের বিবরণ, বিভিন্ন প্রমাণ এবং সিরিয়ার বিপ্লবের শুরুর দিকে দারায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে।

  • সৌদি কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি: শামা ওবায়েদ

    সৌদি কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি: শামা ওবায়েদ

    বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের লাশ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

    প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে একটি তালিকা পাঠায়। বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে আমাদের নাগরিকেরা জেলে থাকেন—সেই বিষয়ে তারা আমাদের অবহিত করে। আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি সেখানে কারাগারে আছেন।

    সম্প্রতি মক্কার এক মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যে দুজন বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।

    গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সাজা কার্যকরের আগে বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। খবরটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের কপির জন্য চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

    পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছি রায়ের কপির জন্য। রায়ের কপি পেলেই আমরা জানতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    স্থানীয় আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাজা হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানো প্রয়োজন। আমরা বিস্তারিত জানতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। এ জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে আমাদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

    দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বিদায়ী আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, যাদের দুর্ভাগ্যবশত শিরচ্ছেদ হয়েছে, তাদের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে কারা ক্ষমতায় ছিল? তার পর এল অন্তর্বর্তী সরকার, তাদের সময় গেছে দেড় বছর। আর আমাদের বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে মাত্র ছয় মাস আগে। এই ছয় মাসের মধ্যে এই তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও যোগ করেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখনই বিষয়টি জানতে পেরেছে, তখনই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করব। সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

    প্রবাসীদের যেকোনো সেবার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানোর পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। সেবাদানে অবহেলা বা ঘাটতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

  • আমাদের মূল লক্ষ্য জান্নাতে যাওয়া: জামায়াত আমির

    আমাদের মূল লক্ষ্য জান্নাতে যাওয়া: জামায়াত আমির

    রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর জান্নাত লাভ করা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ ভাগ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যারা দিন আনে দিন খায়। আল্লাহর পথে দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের এই অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি রুকনদের উদ্দেশে অতীতের দায়িত্বশীলদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বর্তমানের স্বাধীন কর্মপরিবেশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং নবী ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করে প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

    জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিলেও তা রক্ষা করা যায়নি। এটি আমাদের নিজেদের দুর্বলতা ছিল। অতীতের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামীতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকতে হবে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বসে বসে তামাশা দেখব না; যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানেই সংগত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এই দেশ কুরআনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, ইনশাআল্লাহ। সম্মেলন শেষে তিনি ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে নাগরিকদের জন্য ৫০টিরও বেশি সেবামূলক সুবিধা সংবলিত ‘নাগরিক সেবা’ নামক একটি মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি বা ক্ষমতা নয়, এটি জীবন ও নীতি-নৈতিকতার একটি মানদণ্ড। রুকন হিসেবে আমাদের মান ও রুহানিয়াত যত শক্তিশালী হবে, সংগঠন তত মজবুত হবে।

    ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

    সম্মেলনটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তর আমীর নির্বাচনে ১৩ সহস্রাধিক রুকন সদস্য ভোট প্রদান করেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন; তাঁকে সহায়তা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আ. সবুর ফকির। এরপর বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় মূল সাংগঠনিক সেশন।

  • সরকারের আচারণ ক্ষমতার থাকার মত নয়  : ১১ দলীয় ঐক্য

    সরকারের আচারণ ক্ষমতার থাকার মত নয় : ১১ দলীয় ঐক্য

    ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, এমন অভিযোগ করলেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, এখানে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা খবর পাচ্ছেন।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ায় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

    জামায়াত নেতা আযাদ বলেছেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, যা পরে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। ’

    সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। ’ সরকারের বিভিন্ন আচরণে অজুহাত তৈরি করে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাগুরার নির্বাচনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি তারা চান না উল্লেখ করে এ ধরনের কোনো অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

    দুর্নীতি বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেছেন, দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করতে হবে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি গুম-খুন প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের কথাও তারা বলেছেন।

    প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা আযাদ বললেন, প্রশাসনে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে মেধা হত্যার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। ’

    ‘এখন মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে’, অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এ সমন্বয়কের।

    নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় শামসুল আলমের নিয়োগকে দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন আযাদ।

  • ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

    ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রপতি বসুন্ধরার এই হাসপাতালে যান বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির দফতর।

    রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দফতর।

    এই সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

    গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন আবদুল মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

    বর্তমানে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

  • কানাডায় উচ্চশিক্ষা: খরচ বাড়ছে, কমছে স্টাডি পারমিট, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কঠিন হিসাব

    কানাডায় উচ্চশিক্ষা: খরচ বাড়ছে, কমছে স্টাডি পারমিট, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কঠিন হিসাব

    কানাডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট এক বছরে কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ, খরচ দেখানোর শর্ত বেড়েছে ১৩.৬ শতাংশ; বৃত্তিতেও টানাটানি, ডিগ্রির পর চাকরির অনিশ্চয়তা।

    ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে কানাডায় পাড়ি জমান এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। স্নাতকোত্তর শেষ করে ভর্তি হন পিএইচডি প্রোগ্রামে। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট কাটাতে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদেরও কানাডায় নিয়ে আসেন। কিন্তু পরিবার আসার পরই বদলে যায় তাঁর আর্থিক হিসাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির অর্থে একা চলতে পারলেও পরিবারের সবার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষণার চাপ, সংসারের ব্যয় ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা একসময় প্রভাব ফেলে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যেও। নিউফাউন্ডল্যান্ডে বসবাসরত এই পিএইচডি শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তাঁর অনুরোধে নাম গোপন রাখা হয়েছে।

    উন্নত শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মজীবনের সম্ভাবনা নিয়ে কানাডায় আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। কানাডার অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (IRCC) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৫০৫ জন বাংলাদেশি স্টাডি পারমিট পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৩৫ জনে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য দেখাতে হওয়া ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

    বাংলাদেশিদের স্টাডি পারমিট ২০২৫ সালে ১৫% কমেছে: ২০২৪ সালে ৬,৫০৫, ২০২৫ সালে ৫,৫৩৫ (সূত্র: IRCC)
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি, গবেষণা সহকারী (Research Assistant) ও শিক্ষক সহকারী (Teaching Assistant) হিসেবে কাজের সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ এবং গবেষণা অনুদানও দেশটির উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণ। তবে এসব সুযোগের পাশাপাশি উচ্চ টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং অভিবাসননীতির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    IRCC-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্টাডি পারমিট পেয়েছেন। তবে এটি আট মাসের হিসাব হওয়ায় আগের দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।

    পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া ওই পিএইচডি শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাই, তা দিয়ে একা চলা সম্ভব হলেও পরিবার নিয়ে চলা অত্যন্ত কঠিন। আবার পরিবারকে বাংলাদেশে রেখে দীর্ঘদিন একা থাকাও মানসিকভাবে কষ্টকর। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে গবেষণার চাপ সব মিলিয়ে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।’

    পূর্ণকালীন গবেষণার কারণে অতিরিক্ত কাজ করার পর্যাপ্ত সময়ও তাঁর ছিল না। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা গবেষণার কাজেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বৃত্তি ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থী জানান, অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন এবং সেবার মান নিয়েও সন্তুষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ সব সময় পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তিনি।

    অন্যদিকে, কানাডার সাসকাটুনে বসবাসরত এক বাংলাদেশি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা তুলনামূলক ইতিবাচক। ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তাঁর নামও গোপন রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি থেকে টিউশন ফি পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থে তাঁর আবাসনসহ প্রয়োজনীয় খরচ মিটে যায়। ফলে আপাতত বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি তাঁকে।

    তাঁর মতে, কানাডার উন্নত গবেষণার পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। গবেষণার প্রয়োজনে বিভিন্ন সম্মেলন ও প্রেজেন্টেশনে অংশ নেওয়ার খরচও ক্ষেত্রবিশেষে বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন।

    তবে এসব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনা শেষে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। সাম্প্রতিক অভিবাসননীতির পরিবর্তন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

    নিজ খরচে কানাডায় পড়তে আসা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, তাঁর বার্ষিক টিউশন ফি ১৮ হাজার কানাডীয় ডলার। এর বাইরে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াতসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ রয়েছে।

    IRCC-এর নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাকালীন সময়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে পারেন। তবে এই আয়ে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সব খরচ মেটানো অনেকের জন্য কঠিন।

    ওই শিক্ষার্থী জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পূর্ণকালীন কাজ করে কিছু অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন তিনি। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর চিন্তা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার শর্তও বেড়েছে। IRCC-এর আর্থিক সক্ষমতাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুইবেক ছাড়া অন্যান্য প্রদেশে একজন শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ন্যূনতম ২০ হাজার ৬৩৫ কানাডীয় ডলার দেখানোর শর্ত ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ২২ হাজার ৮৯৫ ডলার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত হয় ২৩ হাজার ৪৪৮ ডলার। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের তুলনায় বৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ ২৯ হাজার ১৯২ কানাডীয় ডলার। এর সঙ্গে টিউশন ফি ও যাতায়াতের খরচ আলাদাভাবে হিসাব করতে হয়।

    স্টাডি পারমিটে ন্যূনতম দেখাতে হওয়া অর্থ ২০২৪ সালের ২০,৬৩৫ থেকে বেড়ে ২৩,৪৪৮ কানাডীয় ডলার (সূত্র: IRCC)
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    তবে IRCC নির্ধারিত অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গড় জীবনযাত্রার ব্যয় নয়; এটি স্টাডি পারমিট আবেদনের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত। শহরভেদে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের ব্যয় আলাদা হওয়ায় প্রকৃত খরচও ভিন্ন হয়।

    ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচোয়ানে সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ সাকিব মারুফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোর্সভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। অন্যদিকে, থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

    তাঁর মতে, মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কানাডীয় ডলারের ফান্ডিং পাওয়া গেলেও সেই অর্থের বড় অংশ টিউশন ফি পরিশোধে ব্যয় হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীর হাতে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না-ও থাকতে পারে।

    মারুফ বলেন, শুধু ফান্ডিংয়ের মোট অঙ্ক বিবেচনা না করে টিউশন ফি বাদ দেওয়ার পর কত অর্থ অবশিষ্ট থাকবে এবং তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শহরে বসবাস সম্ভব কি না, আগে থেকেই হিসাব করা জরুরি।

    থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক ড. সালাহ উদ্দিন খান একসময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসেছিলেন। পড়াশোনা ও গবেষণার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কানাডায় উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাস্তবতা বুঝতে হলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। আমার অভিজ্ঞতায়, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, এমন স্কলারশিপ অত্যন্ত বিরল।’

    ‘কানাডায় উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাস্তবতা বুঝতে হলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। আমার অভিজ্ঞতায়, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, এমন স্কলারশিপ অত্যন্ত বিরল।’

    স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার টিউশন ফিসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গড় বার্ষিক টিউশন ফি প্রায় ৪১ হাজার ৭০০ কানাডীয় ডলার। এর বাইরে রয়েছে আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ।

    কানাডায় স্নাতকের প্রথম বছরে লাগতে পারে প্রায় ৬৫,১৯৪ কানাডীয় ডলার: গড় টিউশন আর জীবনযাত্রার ন্যূনতম তহবিল
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    ড. খান বলেন, ‘কানাডায় এসেই চাকরি পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে ছোট শহরগুলোতে কাজের সুযোগ সীমিত। স্থানীয় অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা ও যোগাযোগের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী প্রথম চাকরি পেতে সমস্যায় পড়েন। ফলে শুধু পার্ট টাইম কাজ করে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব।’

    তাঁর মতে, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট ও গবেষণার চাপ থাকায় পড়াশোনা ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন। কেউ কেউ শিক্ষকতা বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেও তা সীমিত। অন্যদিকে, গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি হলেও পরিবার বা সন্তান থাকলে ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে।

    কানাডা সরকারের ডক্টরাল বৃত্তি কানাডা গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ–ডক্টরাল (CGRS-D)-এ বছরে ৪০ হাজার কানাডীয় ডলার করে সর্বোচ্চ তিন বছর অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। কানাডার কোনো ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন; মোট বৃত্তির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ তাঁদের জন্য। তবে এসব বৃত্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।

    ড. খানের ভাষায়, ‘আমার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আর পড়াশোনার খরচ বহনের সামর্থ্য থাকা দুটি আলাদা বিষয়। তাই কানাডায় আসার আগে ফান্ডিং, সম্ভাব্য ব্যয় এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জরুরি।’

    কানাডায় আসার আগে যে হিসাব করবেন

    • ফান্ডিংয়ের মোট অঙ্ক নয়, টিউশন ফি বাদ দিয়ে হাতে কত থাকবে তা দেখুন।
    • যে শহরে পড়বেন, সেখানকার বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ আলাদা করে হিসাব করুন; IRCC-এর ন্যূনতম অঙ্ক প্রকৃত খরচ নয়।
    • পরিবার সঙ্গে আনলে খরচ কত বাড়বে, আগেই হিসাব করুন; দুজনের জন্য IRCC-এর ন্যূনতম অঙ্ক ২৯ হাজার ১৯২ ডলার।
    • শুধু পার্টটাইম কাজের আয়ে টিউশন ও খরচ চালানোর পরিকল্পনা করবেন না।
    • পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) সর্বোচ্চ তিন বছর; সবাই পূর্ণ মেয়াদ পান না।

    আর্থিক অনিশ্চয়তা, পড়াশোনার চাপ এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।

    ড. সালাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘কানাডায় মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও।’

    তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপকে বিদেশজীবনের স্বাভাবিক অংশ মনে করেন। কেউ কেউ কাউন্সেলিং নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন।

    এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কানাডার গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় মানিয়ে নেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাধীন চিন্তা, গবেষণার প্রশ্ন তৈরি, বৈজ্ঞানিক সাহিত্য বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতার ওপর এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

    কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষ করলেই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত হয় না। স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগাযোগ, নিয়োগদাতার চাহিদা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের কর্মজীবনে প্রবেশকে কঠিন করে তুলতে পারে।

    স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালে পড়াশোনা শেষ করা এবং কানাডায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ ২০২৩ সালে কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৯১ দশমিক ০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের গড় আয়ও কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কম ছিল। স্নাতক ডিগ্রিধারী আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের মাত্র ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ তাঁদের চাকরিকে পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন, যেখানে কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান ২০২০ সালের গ্র্যাজুয়েটদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; এটি ২০২৬ সালের বর্তমান কর্মসংস্থানের হার নয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর প্রায় দুই বছর পার হতে চললেও এখনো নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাননি। ফলে মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সময় কাটছে তাঁর।

    কানাডায় পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (PGWP) মেয়াদ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে সব গ্র্যাজুয়েট তিন বছরের অনুমতি পান না।

    ওই শিক্ষার্থীর আশঙ্কা, অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত চাকরি কিংবা কানাডায় থাকার অন্য কোনো বৈধ সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে তাঁকে দেশ ছাড়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

  • কোটচাঁদপুরে ছাত্রলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেফতার

    কোটচাঁদপুরে ছাত্রলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেফতার


    মোঃ খালেদুর রহমান
    কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি।
    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় মোঃ নাঈম খান (২৮) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার নাঈম খান কোটচাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি পৌরসভার গাবতলা পাড়ার বাসিন্দা শওকত আলীর ছেলে।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর থানার মামলা নং-১৬, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জিআর নং-১১৮/২৬-এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নাঈম খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের ফ্ল্যাশ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
    কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৫১২ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১২৩ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৮২ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ৮ টা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন, চট্টগ্রামে ২৯৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৬ জন, খুলনায় ২০৬ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, রাজশাহীতে ১৬২ জন, রংপুরে ৪৪ জন এবং সিলেটে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৪৫৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী ।

  • ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে মুক্তিযোদ্ধা ও পেনশনের ভাতা

    ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে মুক্তিযোদ্ধা ও পেনশনের ভাতা

    একজনের বাবা সরকারি কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তার মাসিক পেনশন এবং মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে প্রশ্ন করে সন্তান। প্রশ্ন হলো- ১. বাবার মৃত্যুর পর তার মাসিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা শরীয়তের দৃষ্টিতে মা, ভাই ও বোনদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে? কে কতটুকু পাবে? উক্ত টাকা থেকে কি আমার মৃত বাবার পক্ষ থেকে যাকাত ও কুরবানি আদায় করতে হবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন- লন্ডনের সাফীর এডুকেশনের চেয়ারম্যান শায়খ ড. আবুল কালাম আজাদ মাদানী।

    তিনি উত্তরে লিখেছেন-

    الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

    আল্লাহ তাআলা আপনার বাবাকে ক্ষমা করুন, তার নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।

    আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে তিনটি বিষয়কে আলাদাভাবে বুঝতে হবে—মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি, মৃত্যুর পর সরকারপ্রদত্ত পারিবারিক পেনশন বা ভাতা এবং মৃত ব্যক্তির যাকাত ও কুরবানির বিধান।

    এই তিনটির বিধান সব ক্ষেত্রে এক নয়।

    ১. পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা কি মিরাস বা উত্তরাধিকার সম্পত্তি?

    ইসলামে মৃত ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদ তার বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে বণ্টিত হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকার যে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে, তা সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় না।

    এখানে দুটি পরিস্থিতি রয়েছে।

    প্রথম পরিস্থিতি: বাবার জীবদ্দশায় প্রাপ্য অর্থ

    আপনার বাবা জীবিত অবস্থায় যে বেতন, পেনশন, ভাতা বা অন্য কোনো অর্থের মালিক হয়েছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর আগে তা গ্রহণ করতে পারেননি, সেই অর্থ সাধারণভাবে তাঁর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।

    এ ধরনের অর্থ শরীয়তের মিরাসের বিধান অনুযায়ী বণ্টিত হবে।

    দ্বিতীয় পরিস্থিতি: বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য প্রদত্ত অর্থ

    সরকার যদি বাবার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, সন্তান বা নির্দিষ্ট উপকারভোগীদের জন্য নতুনভাবে পারিবারিক পেনশন বা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান করে, তাহলে সেই অর্থের প্রকৃতি ভিন্ন।

    যদি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী এটি নির্দিষ্ট জীবিত উপকারভোগীর নিজস্ব প্রাপ্য হয়, তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মৃত ব্যক্তির মিরাসে পরিণত হবে না।

    অতএব, মাসিক পারিবারিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতাকে সরাসরি মিরাস ধরে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ করে দেওয়া সঠিক হবে না। আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও অর্থের মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে।

    ২. বাংলাদেশের সরকারি পেনশনের ক্ষেত্রে কার অধিকার কতটুকু?

    বাংলাদেশ সরকারের পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, মূল পেনশনভোগী, তার স্ত্রী এবং যোগ্য প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার বিধানের আওতায় থাকতে পারেন। অন্যান্য সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা ও প্রযোজ্য শর্ত বিবেচ্য।

    সুতরাং আপনার মা জীবিত থাকলে এবং তিনি পারিবারিক পেনশনের বৈধ উপকারভোগী হলে, তার প্রাপ্য অর্থকে কেবল উত্তরাধিকারী হওয়ার কারণে সব ভাই-বোন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন না।

    অন্যদিকে, সরকারি আদেশ অনুযায়ী কোনো সন্তানও যদি পেনশনের অংশীদার হন, তাহলে তাঁর নির্ধারিত অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার ক্ষেত্রেও একই মৌলিক নীতি প্রযোজ্য। মৃত্যুর পর কারা ভাতা পাবেন এবং কীভাবে পাবেন, তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রযোজ্য বিধিমালা ও মঞ্জুরি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। ২০২৬ সালেও এ-সংক্রান্ত সরকারি ভাতা ও সুবিধার বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    এ কারণে আপনার মা, ভাই ও বোনদের প্রত্যেকের জন্য এখনই নির্দিষ্ট শতাংশ বলা সম্ভব নয়।

    ৩. বাবার প্রকৃত উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি কীভাবে বণ্টিত হবে?

    আল্লাহ তাআলা বলেন:

    يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ

    অর্থাৎ, “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন—একজন পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।” (সূরা আন-নিসা, ৪:১১)

    আর মৃত ব্যক্তি সন্তান রেখে গেলে তাঁর স্ত্রীর অংশ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

    فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ

    “আর তোমাদের সন্তান থাকলে তোমরা যা রেখে যাবে, তার এক-অষ্টমাংশ তাদের (স্ত্রীদের) জন্য।” (সূরা আন-নিসা, ৪:১২)

    অর্থাৎ, আপনার বাবার প্রকৃত মিরাসযোগ্য সম্পত্তিতে সাধারণভাবে: আপনার মা (বাবার একমাত্র স্ত্রী হলে) পাবেন এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ।

    অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রত্যেক ছেলে দুই অংশ এবং প্রত্যেক মেয়ে এক অংশ হিসেবে বণ্টিত হবে।

    তবে এই হিসাব তখনই প্রযোজ্য, যখন বাবার মৃত্যুকালে তাঁর বাবা-মা বা অন্য কোনো অংশপ্রাপ্ত ওয়ারিশ জীবিত ছিলেন না এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক বাধা নেই।

    উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকেন এবং অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয় ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত নিষ্পত্তির পর মিরাসযোগ্য সম্পত্তির বণ্টন হবে: স্ত্রী ১২.৫%, প্রথম ছেলে ২৯.১৬৬৭%, দ্বিতীয় ছেলে ২৯.১৬৬৭%, প্রথম মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%, দ্বিতীয় মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%। এই হিসাব কেবল মিরাসযোগ্য সম্পত্তির জন্য; সরকারি পারিবারিক পেনশন বা মৃত্যুর পর প্রদত্ত ভাতার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।

    ৪. মৃত বাবার পক্ষ থেকে কি যাকাত আদায় করতে হবে?

    এখানে দুটি বিষয় আলাদা।

    প্রথমত: বাবার জীবদ্দশার অনাদায়ী যাকাত। আপনার বাবার জীবদ্দশায় যদি যাকাত ফরজ হয়ে থাকে, অথচ তিনি তা আদায় না করে মারা যান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

    অনাদায়ী যাকাত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে পরিশোধের বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিশেষত হানাফি ফিকহে মৃত ব্যক্তি ওসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশদের ওপর তার সম্পত্তি থেকে যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক বলে গণ্য করা হয় না। তবে ওয়ারিশরা নিজেদের অংশ থেকে স্বেচ্ছায় আদায় করতে পারেন। অন্যান্য ফিকহি মত অনুযায়ী অনাদায়ী যাকাত মৃতের সম্পত্তি থেকে পরিশোধযোগ্য।

    সুতরাং বাবার অনাদায়ী যাকাতের পরিমাণ জানা থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমের সহায়তায় তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

    দ্বিতীয়ত: বাবার মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশন ও ভাতা। বাবা মারা যাওয়ার পর তার নামে নতুন করে যাকাত ফরজ হয় না। কিন্তু পেনশন বা ভাতা যিনি বৈধভাবে মালিকানায় পাবেন, তার অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত হবে।

    যদি তার সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তার নিজের ওপর যাকাত ফরজ হবে। যাকাতের সাধারণ হার ২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ, মায়ের মালিকানাধীন পেনশনের টাকা থেকে মৃত বাবার নামে প্রতি বছর যাকাত দিতে হবে—এমন কোনো বিধান নেই। তবে মায়ের নিজের যাকাত ফরজ হলে তিনি তা আদায় করবেন।

    ৫. বাবার পক্ষ থেকে কি প্রতিবছর কুরবানি দিতে হবে?

    না। মৃত বাবার নামে প্রতিবছর কুরবানি দেওয়া সন্তানদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। কুরবানি জীবিত ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ্য ও প্রযোজ্য ফিকহি বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

    হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কুরবানির দিনগুলোতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন, মুকিম মুসলিমের কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়।

    তাই আপনার মা, ভাই বা বোনদের মধ্যে যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করবেন।

    অবশ্য সন্তানরা চাইলে বাবার জন্য নফল কুরবানি করে সওয়াব পৌঁছাতে পারেন। এটি সওয়াবের কাজ হতে পারে, কিন্তু প্রতি বছর করা বাধ্যতামূলক নয়।

    বাবা যদি কুরবানির বিষয়ে কোনো বৈধ ওসিয়ত করে গিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিধান পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    ৬. আপনাদের এখন কী করা উচিত?

    প্রথমে বাবার পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মঞ্জুরি আদেশ এবং ওয়ারিশদের বিবরণ সংগ্রহ করুন।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের সম্মানী ভাতা বিতরণ আদেশ, ২০২১ সালের সংশোধনী এবং ২০২৫ সালের একাধিক ওয়ারিশের প্রাপ্যতার হার-সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ দেখে প্রকৃত প্রাপ্য নির্ধারণ করতে হবে।

    এখানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার সরকারি বিধানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জীবিত স্ত্রী সম্পূর্ণ ভাতা পেতে পারেন; আবার একাধিক যোগ্য উপকারভোগী থাকলে ভিন্ন বণ্টন হতে পারে। তাই এটিকে কুরআনের সাধারণ মিরাসের অনুপাতের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

    সারকথা হলো- ১. বাবার প্রকৃত পরিত্যক্ত সম্পত্তি শরীয়তের মিরাস অনুযায়ী বণ্টিত হবে। ২. মৃত্যুর পর সরকারপ্রদত্ত পারিবারিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি অনুযায়ী বৈধ প্রাপকের মালিকানায় যাবে। ৩. মৃত বাবার নামে নতুন করে যাকাত ফরজ হবে না। তবে তার জীবদ্দশার অনাদায়ী যাকাত থাকলে তার বিধান বিবেচনা করতে হবে। ৪. বাবার নামে প্রতি বছর কুরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাঁর জন্য নফল কুরবানি ও সদকা করা যেতে পারে। ৫. মা ও ভাই-বোনদের সঠিক অংশ নির্ধারণের আগে সরকারি মঞ্জুরি আদেশ ও সব ওয়ারিশের তথ্য যাচাই করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা আপনাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন এবং আপনাদের বাবার জন্য উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা করুন।

    آمين يا رب العالمين

  • ফ্রান্সের নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ফ্রান্সের নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতারা ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

    গতকাল বুধবার কাতার সফরকালে দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাখোঁ। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, গত শনিবারের সহিংসতার পর তথ্য নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে। ফলে বিদেশি নেতাসহ অনেকে অগ্রহণযোগ্য ও নির্বোধের মতো মন্তব্য করেছেন।

    এসব মন্তব্যের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্যও রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাখোঁ বলেন, ‘অন্যদের মধ্যে তিনিও আছেন।’

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চালানোর সময় ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসী, ‘জিহাদি’ও কমিউনিস্টদের দায়ী করেছেন।

    দোহায় সাংবাদিকদের মাখোঁ বলেন, ‘এ অঞ্চলে কিংবা আটলান্টিকের ওপারে-নির্বাচনী প্রচারে থাকা কিছু নেতা এমন সব বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী স্পষ্টতই ছড়াতে চাইছে।’

    মাখোঁর অভিযোগ, এসব নেতা নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ফ্রান্সকে ব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ছড়ানো হচ্ছে। এসব ছবিতে যা দেখানো হচ্ছে, তা আসলে ফ্রান্সে ঘটেনি। কেউ কেউ দাবি করছেন, অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল ঢল ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে। এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফ্রান্সের বিক্ষোভকে উগ্র ইসলামপন্থীদের আগ্রাসন বলে মন্তব্য করেছেন।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি। এর মধ্যেই নতুন করে সংকটে পড়েছে তাঁর সরকার। শনিবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করেছে সরকার।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের বড় অংশই প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু দ্রুত তা ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেয়। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ ও লিমোজ শহরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। লিমোজে টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, স্থাপনাটির একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

    আজ বৃহস্পতিবার প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় থাকবে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্ট ভবন এবং ল্যুভর জাদুঘরের মতো পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান। সহিংসতার কারণে কয়েকটি দেশ ফ্রান্সে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

  • ট্রাম্পকে আরেকবার সুযোগ দেবে ইরান

    ট্রাম্পকে আরেকবার সুযোগ দেবে ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকতার প্রমাণ দিলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা দেশটির জন্য আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।

    নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। তবে প্রকৃত আলোচনা-প্রক্রিয়ার পরিবর্তে নতুন করে আগ্রাসন চালানো ইরান মেনে নেবে না।

    তিনি লেখেন, আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক ইচ্ছার জোরালো প্রমাণ দেখতে পেলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধ বেছে নেয়, তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।

    তিনি তার পোস্টের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত নিজের সর্বশেষ মতামতধর্মী নিবন্ধের একটি লিংকও যুক্ত করেছেন। ওই নিবন্ধে তিনি সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান, আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকির পরিণতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

    বুধবার প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে আরাগচি মর্যাদাপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    তিনি যুক্তি দেন, আলোচনার সময় বারবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আস্থার পরিবেশ নষ্ট করেছে। সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাতের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর পড়া অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, সামরিক অভিযান চালানোর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।

    আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর দেশটিকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জলপথে ইরান তার ঐতিহাসিক ভূমিকা বজায় রাখবে।

    আরাগচি আরো স্পষ্ট করেছেন, ইরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ওয়াশিংটনকে আরো বড় কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।

  • এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

    এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

    ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। তাদের অনেকেরই বিশ্বাস, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সীমিত। আবার তারা ভয় পাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে উগ্র ইহুদি সরকার আবার ক্ষমতায় এলে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন আরো বাড়বে। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থাকলেও অনেকে ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের আশা, ভোটের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হতে পারে।

    আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থি জোট কিংবা নিজেদের জায়নবাদী বিরোধী জোট হিসেবে পরিচয় দেওয়া দলগুলো—কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। এ অবস্থায় আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির সমর্থন সরকার গঠনে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো পক্ষই এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার হিসেবে পরিচিত।

    প্রথমবার ভোট দেবেন লায়লা

    পূর্ব জেরুজালেমের বাইত হানিনা এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সি লায়লা আতামনেহ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। ইসরাইলের নির্বাচনের সময় তার মা-বাবার মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্ক হতো। তার বাবা আরব নেতৃত্বাধীন কোনো নির্বাচনি জোটকে ভোট দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তার মা বরাবরই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন।

    লায়লা বলেন, তার মায়ের ধারণা, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে সহায়তা করা। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের ইহুদি নাগরিকদের সমান অধিকার ভোগ করেন। অথচ বাস্তবে তাদের চরম অপমানের শিকার হতে হয় এবং পরে তাদের এমন সরকারের মুখোমুখি হতে হয়, যার মধ্যে উগ্রপন্থিদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

    তবু এবার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা। তার মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার লাখো ফিলিস্তিনির হয়ে কথা বলার দায়িত্বও তার রয়েছে। এসব অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। অথচ তার বিশ্বাস, ইসরাইলি দখলদারত্ব, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার সবচেয়ে বড় শিকার তারাই।

    লায়লা বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাকে এই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে হবে। একজন মানুষ হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারে না। কিন্তু আমার ভোটে যদি তাদের ১ শতাংশ আশাও তৈরি হয়, তাহলে আমি ভোট দেব।’

    তবে আরবি ভাষাভাষী লায়লার জন্য হিব্রু ভাষায় প্রচারিত নির্বাচনি খবর অনুসরণ করা কঠিন। তার মতে, নির্বাচনি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথাও দলগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে না।

    লায়লার এই দ্বিধা ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের একটি বড় অংশের মনোভাব তুলে ধরে। তারা মনে করেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না। আবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

    ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। তার সরকারের নীতির কারণে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, জীবিকা ও ভূমি ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    দখলদারত্বের ছায়ায় নির্বাচন

    হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আসাদ ঘানেম বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি আরো কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতি—সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    গালিলি অঞ্চলের একটি দ্রুজ গ্রামে বসবাসকারী ৩৬ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান নারী হানানের কাছেও এই হুমকি এখন আরো বাস্তব মনে হচ্ছে। গত মাসে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা গালিলির ফিলিস্তিনি জনপদ মাজদ আল-ক্রুমের কাছে একটি অবৈধ বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেন।

    এরপর ইসরাইলের উগ্রইহুদি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এআই দিয়ে তৈরি একটি নির্বাচনী প্রচার ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনিকে গালিলিতে বসবাসকারী তার এক আত্মীয়কে আতঙ্কিত কণ্ঠে ফোন করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ইহুদিরা আসছে’ এবং ‘তারা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তোমাদের সঙ্গেও তা-ই করবে’।

    হানান বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাকে আরো আতঙ্কিত করে। তার আশঙ্কা, বসতি স্থাপনকারীরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারেন এবং ফিলিস্তিনিদের আরো বেশি জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ভয় তাকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখছে না। বরং অন্যদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

    হানান বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের আগে নিজেকে বলি, এবার আর ভোট দেব না। কারণ, বাস্তবে মনে হয় না আরব প্রতিনিধিরা খুব বেশি কিছু করতে পারেন। নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং নতুন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতিও হতাশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে যাই। মনে হয়, হয়তো এবার কিছুটা পরিবর্তন আসবে।’

    দল নিষিদ্ধের চেষ্টা ঘিরে ক্ষোভ

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। জয়েন্ট লিস্ট হলো হাদাশ, বালাদ ও তা’আল দলের জোট। তবে পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

    কিন্তু বালাদ নেতা সামি আবু শাহাদেহ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে অধিকাংশ বিচারপতি তার প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে থাকতে পারেন।

    অনেক ফিলিস্তিনি এই ঘটনাকে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে তাদের সংশয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, আরব দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা ভোটারদের আরো বেশি সংগঠিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

    আরব-ইহুদি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ থাবেত আবু রাস বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। এ কারণেই আমরা আরো বেশি হারে ভোট দেব।’

    গত পাঁচটি নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার হার ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৬৫ শতাংশ। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে এই হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ।

    ফিলিস্তিনি নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট দিতে পারেন। তাদের লক্ষ্য এই হার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে সর্বশেষ প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নেতানিয়াহুকে হারিয়ে এহুদ বারাককে প্রধানমন্ত্রী হতে সহায়তা করেছিল।

    ওই নির্বাচনী প্রচারক বলেন, এবারও তারা ভোটার উপস্থিতি সেই পর্যায়ে নিতে চান। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বেশি ভোট ছোট উগ্রডানপন্থি দল আমচা ইসরাইল ও দ্য রিজার্ভিস্টসকে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে না-ও দিতে পারে। ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো দলকে পার্লামেন্টে আসন পেতে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। ছোট দলগুলো এই সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

    ঘানেমের মতে, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভোট বর্জনের ধারণা এখন তুলনামূলকভাবে ছোট একটি মত। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিপদের মধ্যে আছি। এই সরকারের মেয়াদ শেষ করতেও আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।’

    হানানও মনে করেন, ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া—এমন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটি বাস্তবে বিদ্যমান। তাই শুধু স্বপ্নের মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।

    নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ইহুদিদের সঙ্গে সমান হওয়ার অধিকার আমাদের যে একমাত্র দিনটিতে থাকে, সেটি হলো নির্বাচনের দিন।’

    সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, তবু জোটে অনীহা

    এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে। জনমত জরিপে ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জায়নবাদী দুই শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে না। ফলে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কাগজে-কলমে এই পরিস্থিতি আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক অবস্থানে নিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা রয়েছে বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের। বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেট বলেছেন, আরব দলগুলো জায়নবাদী নয়। তাই তাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা হবে না।

    সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু তাকে আরব দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তা’আল নেতা আহমদ তিবিকে ইঙ্গিত করে ‘তিবি ছাড়া গাদি নেই’—এ ধরনের স্লোগানও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    এ অবস্থায় ফিলিস্তিনি ভোটারদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত। একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ ধরে রাখা, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে এমন দলকে ভোট দেওয়া, যারা নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

    লায়লা আতামনেহ প্রথমে রা’আমকে ভোট দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নেগেভ অঞ্চলের বেদুইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলটির সমর্থন রয়েছে। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল এই দলটি নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়। উদারপন্থি জায়নবাদী দল ডেমোক্র্যাটসকেও বিবেচনায় নিয়েছিলেন তিনি।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদর্শগত কারণে জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে পারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন কিছু নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আছে, যেগুলো এত সহজে ছেড়ে দিতে পারি না। ফিলিস্তিনি হিসেবে আমাদের ফিলিস্তিনিদেরই সমর্থন করতে হবে।’

    ২০২১ সালে রা’আম ইসরাইলের সরকারে যোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল। প্রথম কোনো আরব দল হিসেবে তারা একটি বিস্তৃত জোট সরকারের অংশ হয়। ওই জোট অল্প সময়ের জন্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পেরেছিল।

    রা’আমের যুক্তি, সরকারে অংশ নিলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে দলটির এই অবস্থান সবাইকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঘানেমের অভিযোগ, রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস সামান্য বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার জন্যও অনেক ছাড় দেন। কিন্তু তাতে ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও অধিকারসংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার সমাধান হয় না।

    তবে ধারণা করা হচ্ছে, বেদুইন নাগরিকদের বড় অংশ রা’আমকে সমর্থন করবেন। তাদের প্রত্যাশা, দলটি আবারও সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে পারবে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারে অংশ নেওয়ার সময়কার মতো এবারও তারা সুবিধা আদায় করতে পারবে।

    থাবেত আবু রাস বলেন, বেদুইনদের রাজনৈতিক বক্তব্য মূলত নাগরিক অধিকারকেন্দ্রিক। তাদের প্রধান উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখা। সরকারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বীকৃতিহীন গ্রামগুলোর স্বীকৃতি, শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চান।

    দখলদারত্ব বন্ধের আগে মানুষকে বাঁচাতে চান

    ঘানেমের মতে, ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল। কারণ, নিজেদের সমাজের মধ্যে তাদের সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠেনি।

    তবে তিনি মনে করেন, জয়েন্ট লিস্ট সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিনি দলগুলো মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে ইয়িৎসহাক রবিনের সরকারকে সমর্থন করেছিল। এবারও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

    ঘানেম বলেন, নেতানিয়াহুকে সরাতে চাওয়া মানেই সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে হবে, এমন নয়। বরং বর্ণবাদী সরকারকে সরাতে চাওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    গত সপ্তাহে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নির্দিষ্ট শর্তে বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা এবং ইসরাইলের ফিলিস্তিনি জনপদগুলোতে সংগঠিত অপরাধ ও সহিংসতা মোকাবিলা করা।

    থাবেত আবু রাস আশা করছেন, নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির তাদের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সমঝোতায় আসবে।

    তিনি বলেন, ‘আরবরা যদি ১৫, ১৬ বা ১৭ জন নেসেট সদস্য নির্বাচিত করতে পারে, তাহলে সবাই তাদের দরজায় কড়া নাড়বে। প্রকাশ্যে তারা হয়তো তা স্বীকার করতে চাইবে না। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের বক্তব্য বদলে যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’

    আবু রাস নিজেও ইসরাইলি হামলায় গাজায় তার পরিবারের ৩৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। তার মতে, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠিত হলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নৃশংসতা বাড়ছে, তা অন্তত কিছুটা থামানো সম্ভব হতে পারে।

    আবু রাস বলেন, ‘দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর আগে আমি আমার মানুষকে বাঁচাতে চাই।’

    নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি উগ্রইহুদি সরকার গঠিত হওয়ার আশঙ্কায় লায়লা মনে করছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত তার মাকেও ভোট দিতে রাজি করাতে পেরেছেন।

    লায়লা বলেন, ‘খারাপ পরিস্থিতি আছে, আর আছে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি। আমরা অত্যন্ত খারাপের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকেই বেছে নেব। অন্তত একটি মৃত্যু, একটি বাড়ি ভেঙে ফেলার আদেশ কিংবা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঠেকাতে পারলেও সেটি কিছু না করার চেয়ে ভালো।’

    তবে কিছুক্ষণ থেমে তিনি আবারও সংশয়ের কথা জানান। তার আশঙ্কা, ভোট দিয়ে হয়তো ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি নতুন করে সাজানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা। লায়লার ভাষায়, ‘তখন মনে হয়, আমরা যেন একটা বদ্ধ গলিতে এসে দাঁড়িয়েছি।’

  • দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

    কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

    ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— শীর্ষক প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ।

    পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

    পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে।

    সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।

    আব্দুল মান্নান বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

    প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

    কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

    বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

    কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

    ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।

    ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

    পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

    ২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন বা প্রায় ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৯৩ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

    সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

    সেই হিসাবে গত ১৪ অক্টোবরের তুলনায় দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ১১৬ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলার।

    নিট রিজার্ভ কীভাবে হিসাব করা হয়?
    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

    সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা ও দেশের আন্তর্জাতিক দায় মেটানোর সামর্থ্য মূল্যায়নে রিজার্ভের এ হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

  • পেরুতে দাবানল, ১২ জনের মৃত্যু

    পেরুতে দাবানল, ১২ জনের মৃত্যু

    এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে পেরুতে জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, মৃতদের বেশির ভাগই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়।

    দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর দিকে সেখানে ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর কাছেই একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

    জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’

    আবার ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে কৃষকেরা প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব আগুন থেকেই অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত হয়। দাবানলে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০ বাড়ি।

    সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।

    এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।

    চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

  • শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপরীত চিত্র; মাদ্রাসায় বাড়ছে, স্কুলে কমছে

    শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপরীত চিত্র; মাদ্রাসায় বাড়ছে, স্কুলে কমছে

    দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে মাদ্রাসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষা ধারায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে।

    শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় শিক্ষার্থী ভর্তির এই বিপরীতমুখী প্রবণতা শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের পছন্দ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ চিত্র উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল (পাস ও অনার্স) এবং কামিল পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসা ২০২৪ সালে ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। এই সংখ্যা বেড়ে ২০২৫ সালে ৯ হাজার ২৯৬টি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি ছিল। তা বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি, শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এ হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে দেশে সব ধরনের মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, আগে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী খুঁজতে হতো, কিন্তু এখন এমনিতেই মাদ্রাসায় অনেক শিক্ষার্থী আসছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। ধর্মীয় কারণেও অনেকে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী। করোনার পর দেশে অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ার যোগসূত্র দেখছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।

    মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দাখিল মাধ্যমিক পর্যায়ের এবং আলিম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সমমানের। উচ্চ শিক্ষার স্তরে রয়েছে ফাজিল ও কামিল। দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম ও পরীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।

    মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছ চার লাখের বেশি
    ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি। এক বছরে বিদ্যালয় বেড়েছে ৯৪টি, অথচ শিক্ষার্থী কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

    এক বছরে স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। দেশে এ ধরনের স্কুল রয়েছে ১৪৩টি। ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২।

    কারণ অনুসন্ধানে গবেষণার তাগিদ
    মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার বিপরীতে মাদ্রাসায় বৃদ্ধির কারণ ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরিবর্তন, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা কিংবা শিক্ষার ব্যয়–কোন বিষয়টি এ প্রবণতায় কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কিনা– সেটিও স্পষ্ট নয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, সাম্প্রতিক নানা পরিস্থিতি, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এগুলোর সম্ভাব্য কারণ ও প্রকৃত চিত্র জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, মাধ্যমিকে এত শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণসহ প্রতিবেদনের অন্যান্য পরিসংখ্যানের প্রবণতা বুঝতে নিবিড় গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু শিক্ষার্থী বাড়া-কমার পরিসংখ্যান দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি বিচার করা যথেষ্ট নয়। ঝরে পড়ার হার, শিক্ষার মান, শিক্ষক সংখ্যা ও যোগ্যতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় বাস্তব চাহিদা নিরূপণ এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

  • ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে আসছেন সংগীতশিল্পী বালাম ও কোনাল। ‘নির্ঘুম রাত জানে’ শিরোনামে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতের জনপ্রিয় এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন আসিফ ইকবাল। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন। ঢাকার মগবাজারের ভেলোসিটি স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।

    গানটির কথা প্রসঙ্গে গীতিকার আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সব সময় মুখে বলা কথায় থাকে না; বরং নির্ঘুম রাত কিংবা কাজে মনোযোগ দিতে না পারার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়। অন্যের কাছ থেকে আবেগ লুকানো গেলেও নিজের কাছ থেকে তা আড়াল করা যায় না। এই উপলব্ধিই উঠে এসেছে ‘নির্ঘুম রাত জানে’ গানে।


    সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘চলচ্চিত্রে বালাম ও কোনাল একসঙ্গে বেশ কয়েকটি দারুণ গান উপহার দিয়েছেন। নতুন গানটিতেও দুজন অসাধারণ গেয়েছেন। আশা করছি শ্রোতারা গানটি বেশ উপভোগ করবেন।’

    এর আগে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গান দিয়ে আলোচনায় আসে বালাম-কোনাল জুটি। পরে ‘রাজকুমার’ সিনেমার টাইটেল গানেও কণ্ঠ দেন তারা। ‘হান্নান’ সিনেমাতেও এই জুটির গান রয়েছে। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বেশ আগে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে কাজ করেছেন বালাম ও কোনাল। ‘এইদিন সেই দিন ঈদ আনন্দ’ শিরোনামে ঈদ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের সূচনা সংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন বালাম।

    নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, ‘দর্শক এই সময়ে যে ধরনের গান শুনতে চান, এটি তেমনই। ভালোবাসার এমন এক অনুভূতি গানটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা মুখে প্রকাশ না করলেও মানুষের আচরণে ধরা পড়ে। পুরোনো গানের মতো বালাম ভাইয়ের সঙ্গে আমার গাওয়া নতুন গানটি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।’
    নতুন গানের পাশাপাশি কোনাল নাটকের গানেও কোনাল বেশ সরব। অন্যদিকে বালাম ব্যস্ত একাধিক গানের কাজ নিয়ে।

  • চীনের ‘গ্রে জোন’ কৌশল

    চীনের ‘গ্রে জোন’ কৌশল

    তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘গ্রে জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের কৌশল।

    তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে চীন সম্প্রতি প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র এপ্রিলে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়ে।

    সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সফরটি বাতিল করতে হয়েছিল। পরে মে মাসে এসওয়াতিনির রাজার উড়োজাহাজে করে তিনি সফর সম্পন্ন করেন।

    তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের তৎপরতাও বেড়েছে। এসব জাহাজের নজরদারি ও পরিদর্শনকে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং অন্য দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু তাইওয়ানের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করা নয়; বরং দেশটির মিত্রদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা যে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ালে তাদেরও কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে।

    তবে এই চাপের মধ্যেও জাপান ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী দেশগুলোর উচিত চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে আরো স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা।

  • স্বর্ণালঙ্কারের দাম  ভরিতে  ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে, সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা।

  • বিশ্বজেুড়ে বন্ধ অনেক ওয়েবসাইট?

    বিশ্বজেুড়ে বন্ধ অনেক ওয়েবসাইট?

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের ভিত্তি প্রযুক্তিতে গুরুতর ত্রুটি চোখের আড়ালে থেকে গিয়েছিল, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকাশ্যে আনতে সাহায্য করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সাইবার-নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে।

    দুর্বলতাগুলো পিএইচপি নামে একটি প্রোগ্রামিং ভাষার মধ্যে রয়েছে, যা ২০০০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    বুধবারের এই আবিষ্কারের প্রভাব সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে সরকার ও সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে এবং ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের একটি নতুন জরুরি সমাধান ইনস্টল করতে অথবা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে আহ্বান জানিয়েছে।

    সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থা উইজের গবেষকরা এই দুর্বলতাগুলো উন্মোচন করেছেন। এই ত্রুটিগুলোকে এআই দ্বারা এযাবৎকালের শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুতর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

    ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা হয়। এই আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা সমস্যা বলে অভিহিত করেছে ওপেনএআই।

    বেশিরভাগ মানুষ হয়তো পিএইচপি-এর নাম শোনেননি, কিন্তু তারা অবশ্যই প্রতিদিন এর সাথে কাজ করেন। এর পুরো নাম পিএইচপি: হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর।

    অনলাইন শপ, উইকিপিডিয়া এবং ওয়ার্ডপ্রেসসহ অসংখ্য প্ল্যাটফর্মকে শক্তি জোগায় এই পিএইচপি, যা ব্লগের মতো অনেক ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

    গরিলা সাইবার সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী পল স্পেন বিবিসিকে বলেছেন, আপনি যখন উইকিপিডিয়ার মতো কোনো ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন, তখন পিএইচপি হলো সেই কোড যা আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং ওয়েবে পড়ার উপযোগী করে তা উপস্থাপন করে।

    কিন্তু এমন একটি ত্রুটির কারণে, যার মাধ্যমে আক্রমণকারীরা প্রমাণীকরণ ছাড়াই প্রভাবিত ওয়েব সার্ভারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারত, পিএইচপির ওপর নির্মিত সবকিছুই অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল।

    স্পেন বলেছে, এআই এই ধরনের আক্রমণকে আরো সহজ ও দ্রুততর করে তুলতে পারে এবং অনুমান করছে যে এই ত্রুটিটি লাখ লাখ ওয়েবসাইটকে প্রভাবিত করতে পারে।

    অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার-নিরাপত্তা গবেষক জিল স্লে বলেছেন, হ্যাকার বা কোনো দেশ যদি এই ত্রুটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ওয়েবসাইট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়, তবে তা হবে ভয়াবহ।

    কোন কোন ওয়েবসাইট প্রভাবিত হয়েছে

    এই সতর্কবার্তার কারণে গেমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সরকারি পোর্টাল এবং অনলাইন ফোরাম পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পরিচালক সংস্থা উইকিমিডিয়া, যা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বেশ কিছু সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ফিনল্যান্ডের সরকার, এডিনবরা কাউন্সিল এবং বিবিসি তাদের সাইট ও পেজগুলো অফলাইন করে দিয়েছে এবং নেদারল্যান্ডসের সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থাও তাদের ওয়েবসাইটটি সরিয়ে নিয়েছে। কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য বোর্ডসহ স্কটল্যান্ডের বেশ কিছু সরকারি সংস্থাও তাদের ওয়েবসাইটগুলো অফলাইনে নিয়ে গেছে।

    কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, এই দুর্বলতার কারণে দুর্বলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ওয়েবসাইটগুলো, বিশেষ করে সীমিত নিরাপত্তা সংস্থানসম্পন্ন ছোট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    ইউএনএসডব্লিউ সিডনির সাইবার-নিরাপত্তা গবেষক সলিল কানহেরে বলেছেন, যেহেতু প্রযুক্তিগত বিবরণগুলো এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে, তাই আগামী সপ্তাহগুলোতে এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগানোর আরো প্রচেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ত্রুটিগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর কী ঘটল

    পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপাররা বুধবার তাদের সফটওয়্যারে বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতাগুলো সমাধান করার জন্য কিছু প্রাথমিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

    কোম্পানিটি বলছে, সকল পিএইচপি ব্যবহারকারীকে অবিলম্বে আপডেট করার জন্য দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের তাদের প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত করার জন্য সেই সতর্কবার্তাগুলোই পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা পিএইচপি ব্যবহারকারী সব সংস্থাকে তাদের সিস্টেম অবিলম্বে মেরামত করতে না পারলে অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    সংস্থাটি আরো বলেছে যে, এই ত্রুটিটি একটি সিস্টেমের ডেটাবেস হ্যাক করার জন্য একটি ‘সরাসরি পথ’ তৈরি করে দিতে পারে। সংস্থাটি জানায়, ‘এই ঝুঁকিগুলো এতটাই গুরুতর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলো জুড়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

    যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে এবং সংস্থাগুলোকে ‘আক্রমণকারী দ্বারা ইনস্টল করা ব্যাকডোর’ পরীক্ষা করতে বলেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় এর সমকক্ষরাও অনুরূপ সতর্কতা জারি করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনগণকে তাদের সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও তাদের সিস্টেম সুরক্ষিত করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন জানিয়েছে যে, পিএইচপি সমস্যাটি জনসমক্ষে আসার কয়েক দিন আগেই তারা একাধিকবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। সম্ভাব্য আক্রমণকারীরা কীভাবে এই দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল, তা জানা যায়নি।

    এআই কীভাবে দুর্বল স্থানগুলো খুঁজে বের করছে। নিরাপত্তা সংস্থা ক্যালিফ এবং উইজ-এর গবেষকরা এই দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করেছেন।

    গবেষকরা উন্নত এআই টুল ব্যবহার করেছেন, যা মানুষ বা পুরোনো সিস্টেমের চেয়ে অনেক দ্রুত কোড বিশ্লেষণ করে ত্রুটি খুঁজে বের করতে সক্ষম।

    কানহেয়ার বলেন, ‘আধুনিক সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল এবং কিছু দুর্বলতা বছরের পর বছর চোখের আড়ালে থেকে যেতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘মূল ত্রুটিগুলো নতুন ছিল না; যা বদলেছিল তা হলো সেগুলো খুঁজে বের করার আমাদের ক্ষমতা।’

    এই সপ্তাহে আবিষ্কারটির বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপাররা নিরাপত্তা ত্রুটি এবং এর ব্যাপকতা সম্পর্কে তড়িঘড়ি করে ঘোষণা দিতে বাধ্য হন।

    কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার গবেষণা কেন্দ্রের রায়ান কো বলেন, এই ত্রুটিগুলোর বেশিরভাগই অতীতে সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতির কারণে উদ্ভূত হয়েছে, যেগুলো নিরাপত্তার কথা মাথায় না রেখে শুধু কার্যকারিতার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    মানুষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য কী করতে পারে

    ওয়েবসাইট মালিকদের পিএইচপির সর্বশেষ সংস্করণ দিয়ে তাদের ওয়েবসাইট সুরক্ষিত করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    স্পেন বলেছেন, পিএইচপি সফটওয়্যার প্যাচটি বেশিরভাগ প্রযুক্তি দলের জন্য একটি ছোট ও সাধারণ সমাধান।

    মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা আগামী সপ্তাহগুলোতে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সফটওয়্যার বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসা আপডেটগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    কানহেরে বলেন, মূলত ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের ওপরই এর দায়ভার বর্তায়, তবে ব্যবহারকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিষেবাগুলো থেকে জারি করা যেকোনো নিরাপত্তা পরামর্শ, যেমন পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের অনুরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

    তিনি জনগণকে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রচারকে কাজে লাগিয়ে পাঠানো যেকোনো ফিশিং বার্তার ব্যাপারেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

  • লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জোসে মরিনহোর দল। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।

    নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকেরা। রিয়ালের হয়ে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। অন্যদিকে লাইপজিগের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিদিয়াম গোমিস।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল লাইপজিগ। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ২৮ মিনিটে রোমুলোর শট এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর গোলের সম্ভাবনা দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ৪৩ মিনিটে আরদা গুলেরের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়ালের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেডে বল পান আরদা গুলের। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তুরস্কের এই তরুণ ফুটবলার।

    ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস ধরে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি তার ১২তম গোল।

    এর দুই মিনিট পর, ৮৫ মিনিটে লাইপজিগের হয়ে ব্যবধান কমান বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। তবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শেষ করে দেয় রিয়াল। ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে দলের চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে। তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

    এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তালিকার ২৯ নম্বরে নেমে গেছে লাইপজিগ।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ের পর এবার রিয়ালের নজর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার দিকে। আগামী রোববার রাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি।

  • ঋণের কবলে বিশ্ব, বাড়ছে সুদের বোঝা

    ঋণের কবলে বিশ্ব, বাড়ছে সুদের বোঝা

    ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ঘাটতির প্রতিবাদে সম্প্রতি রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও অনেক বিক্ষোভই ছিল শান্তিপূর্ণ।

    সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে ফ্রান্সে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই এ বিক্ষোভ হয়।

    এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ঋণ সংকট ও সরকারের আর্থিক চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ঋণ নেওয়ায় অনেক দেশের সরকার এখন গভীর ঋণের জালে আটকা পড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়

    সাধারণ মানুষ যেভাবে ঋণ নেয়, সরকারও অনেকটা একইভাবে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।

    বন্ড কেনার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের সুদ দেয় সরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    ১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এই বন্ডের ‘ইল্ড’ বা বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত মুনাফা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা থেকে বোঝা যায়—কোনো দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাজারের কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    যেভাবে কাজ করে সরকারি বন্ড

    ১. সরকার ঋণ নেয়—একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কেনার জন্য ১০০ ইউরো প্রদান করেন।

    ২. সরকার সুদ প্রদান করে—১০ বছর ধরে প্রতি বছর বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ২ দশমিক ৫০ ইউরো (মোট ২৫ ইউরো) পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ৫ ইউরো (মোট ৫০ ইউরো) পাবেন।

    ৩. সরকার ঋণ পরিশোধ করে – ১০ বছর পর, বিনিয়োগকারী তার মূল বিনিয়োগ করা ১০০ ইউরো ফেরত পান।

    ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়

    বন্ডের দাম কমে গেলে সাধারণত এর ইল্ড বা সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

    কোনো পরিবার যেমন উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ধকী ঋণের চাপে পড়ে, তেমনি কোনো সরকারকেও তখন ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো জরুরি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।

    ইউরো অঞ্চল চালুর ঠিক পরপর, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ১০ বছর মেয়াদী ঋণের ব্যয় কখনোই ৫ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

    ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোন ঋণ সংকটের সময় গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটাপন্ন দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।

    দুই দেশের সুদের হারের এই ব্যবধান বাড়ার অর্থ হলো, ফ্রান্সকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা জার্মানির তুলনায় বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে বাজারের উদ্বেগও প্রতিফলিত হচ্ছে।

    ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের সুদের হারের তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। ইউরোর বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদের হারই কেবল ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।

    কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ঋণী

    সরকারি ঋণের পরিমাণে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এরপর চীনের ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপির অনুপাতে জাপানের ঋণ ১৯৯ শতাংশ।

    ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ঋণগ্রস্ত দেশ ফ্রান্স। ইতালির ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও জিডিপির অনুপাতে তা ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

    সুদ পরিশোধেই বছরে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের সমান। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান বাজারের দেশগুলো থেকে।

    বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

    ব্যয়ের এই পরিমাণ বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

    সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হয়। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে। ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে কর বাড়ানোর পথেও হাঁটতে হতে পারে।

    এর প্রভাব শুধু সরকারি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে আবাসনঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে।

    ফলে একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরকারি সেবায় অর্থসংকট—দুই চাপই সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে এই অর্থনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    সরকারগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বজায় রাখা।

  • বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

    বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

    টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি লিব্রে ডি ব্রুক্সেলসের (ইউএলবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

    সংবাদপত্র ‘ল্য সোয়ারের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাংশ অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

    ‘জেন-জেড কাউন্টার-অ্যাটাক’ নামক একটি জোটের আহ্বানে সকাল থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। এই জোটে শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন, গবেষক, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    ক্যাম্পাসের কিছু ভবন অবরুদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। এই জোটটি বার্ষিক টিউশন ফি ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাচ্ছিল।

    ‘ওয়ালোনিয়া-ব্রাসেলস ফেডারেশন’র তথ্য অনুযায়ী, এই ফি বৃদ্ধির ফলে উচ্চশিক্ষার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    এ ছাড়া এই গোষ্ঠীটি ‘ল্যান্ডস্কেপ ডিক্রির’ (উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা) সংস্কার, নিম্নস্তরের শিক্ষায় অর্থায়ন হ্রাস, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী তরুণদের ওপর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

    জোটটি বৃহস্পতিবার ইউএলবিতে ক্লাস বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আউটসোর্সিং বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু

  • আল্লাহর কুদরত আঙুলের ডগায়

    আল্লাহর কুদরত আঙুলের ডগায়

    মানবদেহ মহান আল্লাহতায়ালার অপার সৃষ্টিনৈপুণ্যের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। মানুষের চোখ, কান, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই আঙুলের ডগায় থাকা সূক্ষ্ম রেখাগুলোও সৃষ্টির অসাধারণত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রত্যেক মানুষের আঙুলের ছাপের বিন্যাস স্বতন্ত্র হওয়ায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এটি ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্ষুদ্র এই রেখাগুলোর দিকে গভীরভাবে তাকালে উপলব্ধি করা যায়, মানবসৃষ্টির কত সূক্ষ্ম ব্যবস্থার মধ্যে আল্লাহতায়ালা তাঁর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন রেখেছেন।

    ১. আঙুলের ছাপ : ব্যক্তিপরিচয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

    মানুষের আঙুলের ছাপের রেখা, বাঁক ও বিন্যাস একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এমনকি একই ব্যক্তির দুই হাতের বিভিন্ন আঙুলের ছাপও এক নয়। এ বৈশিষ্ট্য ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান, পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় আঙুলের ছাপের ব্যবহার এর বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরে।

    আল্লাহতায়ালা মানুষের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আর-রুম : ২২) আয়াতটি মানুষের বৈচিত্র্যকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে; আঙুলের ছাপের বৈজ্ঞানিক বিষয়টি এর একটি উপলব্ধিযোগ্য উদাহরণ।

    ২. গর্ভে মানবদেহের সূক্ষ্ম বিকাশ

    মানুষের আঙুলের ছাপ জন্মের আগেই মাতৃগর্ভে গড়ে ওঠে। বংশগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি গর্ভে ভ্রূণের বিকাশকালীন পরিবেশও এর বিন্যাসে ভূমিকা রাখে। এ কারণে আঙুলের ছাপের রেখাগুলোতে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা আত-তিন : ৪)

    মানুষের শারীরিক গঠন ও এর সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে চিন্তা করলে এ আয়াতের তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। তবে আয়াতটি সরাসরি আঙুলের ছাপের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বর্ণনা করে না; বরং মানুষের সামগ্রিক সৃষ্টিগত মর্যাদা ও গঠনের কথা বলে।

    ৩. আঙুলের অগ্রভাগ সম্পর্কে কোরআনের তাৎপর্যপূর্ণ বর্ণনা

    আঙুলের ছাপের আলোচনায় সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আয়াত রয়েছে সুরা আল-কিয়ামাহতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিগুলো একত্র করতে পারব না? কেন নয়, আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।’ (সুরা আল-কিয়ামাহ : ৩-৪)

    আয়াত দুটির মূল বক্তব্য হলো, মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়। মানুষের অস্থিগুলো আবার একত্র করার পাশাপাশি আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্গঠন করার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতা তুলে ধরেছেন। আঙুলের অগ্রভাগের এই উল্লেখ মানুষের দেহের সূক্ষ্মতা নিয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে আয়াতের মূল প্রসঙ্গ কিয়ামতে পুনরুত্থান; এটিকে আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সরাসরি ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

    ৪. আঙুলের ছাপ ও আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান

    আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে আঙুলের ছাপ অপরাধস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। কোনো বস্তুতে থেকে যাওয়া আঙুলের ছাপের রেখা ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তার মিল যাচাই করা হয়। তবে এ ধরনের বিশ্লেষণের নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে ছাপের মান, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণপদ্ধতি ও বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের ওপর। তাই আঙুলের ছাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও যথাযথ যাচাই ছাড়া একে অব্যর্থ প্রমাণ বলা উচিত নয়।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও বহু নিদর্শন রয়েছে; তবু কি তোমরা দেখবে না?’ (সুরা আজ-জারিয়াত : ২০-২১) মানুষের দেহ ও প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এ আয়াতের আলোকে চিন্তা-গবেষণার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

    ৫. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আঙুলের ছাপের ভূমিকা

    অপরাধ তদন্তে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা যাচাই করা যায়। ব্যাংকিং, পরিচয়পত্র যাচাই, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো একটি প্রমাণের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও—যদিও তা তোমাদের নিজেদের, মা-বাবা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা আন-নিসা : ১৩৫) আয়াতটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি তুলে ধরে। আধুনিক তদন্তপ্রযুক্তির ব্যবহারেও এই নীতি অনুসরণ করা জরুরি।

    ৬. ডিজিটাল নিরাপত্তায় আঙুলের ছাপ

    বর্তমানে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, অফিসের প্রবেশব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়। এতে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়। তবে কোনো প্রযুক্তিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণ এবং বিকল্প যাচাইব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ইসলামে মানুষের সম্পদ ও অধিকার রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করলে ন্যায়বিচার করবে।’ (সুরা আন-নিসা : ৫৮) ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয়সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমানতদারি এবং ন্যায়সংগত আচরণের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক।

    ৭. নিজের মধ্যে আল্লাহর নিদর্শন অনুসন্ধান

    মানুষ অনেক সময় দূর আকাশ, পাহাড়-পর্বত কিংবা সমুদ্রের বিস্ময় দেখে অভিভূত হয়; অথচ নিজের শরীরের অসংখ্য সূক্ষ্ম ব্যবস্থার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেয় না। আঙুলের ডগার ক্ষুদ্র রেখা থেকে শুরু করে চোখের দৃষ্টিশক্তি, হৃদযন্ত্রের স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়মিততা—সবই মানুষকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে; আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তবু কি তোমরা দেখতে পাও না?’ (সুরা আজ-জারিয়াত : ২০-২১) এই আয়াত মানুষকে নিজের অস্তিত্ব ও চারপাশের সৃষ্টিজগৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানায়।

    মানুষের আঙুলের ডগায় থাকা সূক্ষ্ম রেখাগুলো শুধু পরিচয় শনাক্ত করার উপকরণ নয়; এগুলো মানবদেহের স্বাতন্ত্র্য ও জটিলতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। আধুনিক বিজ্ঞান এ বৈশিষ্ট্যের ব্যবহারিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছে, আর কোরআন মানুষকে নিজের অস্তিত্ব ও সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছে। সুরা আল-কিয়ামাহর ৩-৪ নম্বর আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করে কোরআন মানুষের চিন্তাকে সৃষ্টির সূক্ষ্মতার দিকে ফিরিয়ে দেয়। অতএব, নিজের দেহের ক্ষুদ্রতম বৈশিষ্ট্য নিয়েও চিন্তা করা, জ্ঞানচর্চা করা এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা—এসবই হতে পারে একজন সচেতন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

  • দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

    দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

    উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।

    তিনি জানিয়েছেন, চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ দুই দেশের সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী প্রচার চালানোর জন্য লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তের প্রতিরক্ষা ও দুর্গ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনের পর কিম ইয়ো জং বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ইউনিটগুলোও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।

    পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে দক্ষিণ কোরিয়াকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কষ্টদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন কিম ইয়ো জং।

    সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক মাইক প্রচার এবং বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে তাদের গুলিবর্ষণ ছিল বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের উদ্দেশে কিম ইয়ো জং আরও বলেন, সতর্কতামূলক গুলির কারণে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সামরিক সদস্যের সামান্য ক্ষতি হলেও উত্তর কোরিয়ার সেনারা দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো দয়া দেখাবে না।

    উত্তর কোরিয়ার এই হুমকির পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ও একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়ার নতুন করে লাউডস্পিকার চালুর প্রস্তুতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈরিতা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আসছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক হুমকি ও সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দুই কোরিয়া সীমান্ত এলাকায় লাউডস্পিকার ব্যবহার করে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার লাউডস্পিকারে কে-পপ গান ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রচার করা হতো। এসব সম্প্রচার উত্তর কোরিয়ার সরকারকে ক্ষুব্ধ করত। এর জবাবে পিয়ংইয়ংও সীমান্তে পাল্টা লাউডস্পিকার ব্যবহার করত।

    ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে। এরপর দুই দেশের মধ্যে ডিমিলিটারাইজড জোন বা অসামরিকীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

    ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা, ব্যারিকেড নির্মাণ ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মতো পদক্ষেপ জোরদার করেছে। দেশটি সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ী সীমান্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করছে বলে জানা গেছে।

    মাইন বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

    সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে মাইন বিস্ফোরণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, অসামরিকীকৃত অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার নতুন করে মাইন পুঁতে রাখার কারণে গত মাসে একটি বিস্ফোরণে দেশটির দুই সেনা গুরুতর আহত হন।

    তবে এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সাজানো।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে উল্লেখ করার পরিকল্পনা রয়েছে সিউলের। দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোরীয় যুদ্ধের অস্ত্রবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।

    একই সঙ্গে ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাবে সিউল। তবে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপরও জোর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

    সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি, মাইন বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে। হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    তিনি তাদের পরিবার, দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।

  • ৩০ বছরেও ক্ষমতা পাবেনা কংগ্রেস

    ৩০ বছরেও ক্ষমতা পাবেনা কংগ্রেস

    ভারতে আগামী ৩০ বছরেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে তাই তারা (কংগ্রেসে) ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে।

    বৃহস্পতিবার নিজের ৬২তম জন্মদিনে দিল্লিতে যমুনা নদী পরিষ্কারের জন্য ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন এই বিজেপি নেতা।

    অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান রাহুলরা। তাই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তাদের এত আপত্তি।

    এসআইআর বাতিলের দাবিতে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ রাজপথে নেমেছে। গত ১৩ অক্টোবর রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে মিছিলও হয়। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কেন্দ্রকে চাপে রেখেছিল। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের কারণে আন্দোলনের গতি থমকে যায়।

    সম্প্রতি বিজেপি এক ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করে, রাহুল চার দিনের ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বৃহস্পতিবার রাহুলের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, ‘আমি জানি আমার কথা আপনি এখন শুনতে পাবেন না। কারণ আপনি বিদেশে কোথাও বসে আছেন। তার কোনো ব্যাখ্যাও কোনো দিন আপনি দেন না। সে সব ঠিক আছে। ওটা আপনার ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু দিল্লিতে নামার পর আমার কথা শুনে রাখুন। আগামী ৩০ বছরেও আপনি ক্ষমতায় আসাতে পারবেন না।’

    ভোট চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি তো ভোটে জিতেই চলেছে। বিরোধীদের তাতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা ভোট চুরির অজুহাত নিয়ে এসেছে।’

    রাহুলকে উদ্দেশ করে সরাসরি অনুপ্রবেশকারীর প্রসঙ্গ তোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘রাহুলজি, আপনি শুধু ভোট চুরি নিয়ে কথা বলেন। কারণ, আপনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান। তাদের ভোটগুলোকে আগলে রাখতে চান।’

    অমিত শাহ আরও বলেন, ‘আমি যখন বলি বিজেপি আরও ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তখন বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তোলে। জিজ্ঞেস করে, ভোটের ফলাফল অমিত শাহ কীভাবে আগে থেকে জেনে যাচ্ছেন! আসলে অমিত শাহ তো এখানেই জন্মেছেন, এখানেই থাকেন এবং এখানেই মারা যাবেন। প্রতি ছয় মাস অন্তর আমাকে বিদেশে যেতে হয় না। আমি এই দেশের মানুষের মাঝে বাস করি।’

    বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘মানুষের রায় আপনারা এ ভাবে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে এবং জনরোষ সৃষ্টি করে বদলাতে পারবেন না। শুধু আন্দোলন করে, অবস্থানে বসে ভোটে জেতা যায় না।’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়ছেন আমিরাতের নুসেইবেহ

    জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়ছেন আমিরাতের নুসেইবেহ

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির বিশেষ দূত লানা নুসেইবেহ। আমিরাত সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার পর নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রার্থিতা ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে লানা নুসেইবেহ বলেন, পেশাগত জীবনের একটি বড় সময় তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে কাটিয়েছেন। তার ভাষায়, সংকল্পবদ্ধ কূটনীতি কী অর্জন করতে পারে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে, সেটিও দেখেছেন বলে জানান নুসেইবেহ। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এবং কাজ করার সক্ষমতাও কমে যায়।

    আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতার বিষয়ে মনোযোগ দিতে বর্তমানে আমিরাত সরকারের দায়িত্ব থেকে ছুটিতে রয়েছেন নুসেইবেহ।

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

    গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে ষষ্ঠ দফার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো একক প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লানা নুসেইবেহের প্রার্থিতা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো।

  • কলেজে ভর্তির সুযোগ চান এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা

    কলেজে ভর্তির সুযোগ চান এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা

    এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ এবং উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করা।

    তাঁরা বলেন, কোনো একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তাই শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মানবিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে অকৃতকার্যদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধা চান না; বরং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ এবং এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি চান। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

  • বিশ্বের ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ?

    বিশ্বের ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ?

    ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যে।

    ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভের কিছু ঘটনা সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। তবে অনেক বিক্ষোভই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মধ্যেই এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

    এই পরিস্থিতিতে সরকারের আর্থিক সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার এ সংকট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ায় অনেক ইউরোপীয় দেশ গভীর ঋণসংকটে পড়েছে। সেই ঋণের সুদও দিন দিন বাড়ছে।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়?

    সাধারণ মানুষ যেভাবে ঋণ নেন, সরকারও অনেকটা একই পদ্ধতিতে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। এর বিনিময়ে সরকার বন্ড ক্রেতাদের সুদ দেয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

    ১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ধরনের ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এ বন্ডের ইল্ড বা ফলন হলো ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা পান। ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি দেশের সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

    বিষয়টি যেভাবে কাজ করে

    সরকার ঋণ নেয়: একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কিনতে ১০০ ইউরো দেন। সরকার সুদ দেয়: পরবর্তী ১০ বছর প্রতি বছর বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ পান। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে ৫ ইউরো করে ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো পাবেন।

    সরকার মূল অর্থ ফেরত দেয়: ১০ বছর শেষে বিনিয়োগকারী তার মূল ১০০ ইউরো ফেরত পান। বন্ডের দাম কমে গেলে এর ইল্ড বা ফলন বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। কোনো পরিবারের বাড়ির ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে যেমন মাসিক ব্যয় বাড়ে, তেমনি সরকারেরও সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।

    সবচেয়ে বেশি ঋণ কোন দেশগুলোর?

    সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ।

    বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা ডলারে ঋণ নেওয়ার সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিকভাবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা দেশটির সরকারি ঋণের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও সীমাহীন নয়।

    এরপর রয়েছে চীন। দেশটির সরকারি ঋণ ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। জাপানের ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশি—১৯৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ।

    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার, যা জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ইতালির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার হলেও দেশটির ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ইতালির ঋণের বোঝা ফ্রান্সের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে জার্মানির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির মাত্র ৬৫ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ বেড়ে জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

    ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    সরকারি ঋণের পাশাপাশি পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণও বাড়ছে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি ডলার বেড়ে ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই ঋণের মধ্যে রয়েছে সরকার, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ।

    বিশ্বের প্রতিটি মানুষের হিসাবে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে।

    এই বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধ করাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

    এই অর্থ বিশ্বের সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় হওয়া ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়া ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের চেয়েও বেশি।

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে জনসেবামূলক খাতে। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে অর্থ কমে আসে। সুদের বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে কর বাড়াতে অথবা সরকারি ব্যয় কমাতে হতে পারে।

    এ ছাড়া সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে। ফলে সরকারি ঋণের বোঝা শেষ প

  • ৭ দলের কওমি ঘরানার ‘সমমনা ইসলামী দল গঠন’

    ৭ দলের কওমি ঘরানার ‘সমমনা ইসলামী দল গঠন’

    কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। বৈঠকে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে সাতটি দল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।

    এ ছাড়া আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা ঐকমত্য পোষণ করেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদিতে ছয় মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    সৌদিতে ছয় মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    সৌদি আরবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৫৪ শতাংশ। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সবচেয়ে বেশি ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে। আগের শাসনামলগুলোর তুলনায় এটি রেকর্ড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে সৌদি আরব।

    বিদেশি নাগরিক ৫৯ জন

    ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৭টি দেশের নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৯ জন সৌদি নাগরিক, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৪৬ শতাংশ। বাকি ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট সংখ্যার ৫৪ শতাংশ।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ছয় মাসে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৬ শতাংশ। হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ২৫ জনের। এ ছাড়া হত্যা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তিনজনের।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা না করার মতো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আন্তর্জাতিক আইনে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড সীমিত রাখার যে ব্যাখ্যা রয়েছে, এসব দণ্ড তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে সংস্থাটি।

    এ ছাড়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৪টি কার্যকর করা হয়েছে তাজির বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির আওতায়। এ সংখ্যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

    সংস্থাটির দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ১০৮টি মামলার মধ্যে ৯১টি সম্পর্কে তাদের বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থার কাছে নথিভুক্ত তথ্য ছিল না। মোট মামলার ৮৪ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সৌদি আরবের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জটিলতা তুলে ধরে।

    রাজনৈতিক মামলায় মৃত্যুদণ্ড

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবের বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ধরনের মামলা মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

    এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, ২০২৬ সালের জুনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। এর আগে জাতিসংঘের নির্বিচার আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ তার আটককে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছিল।

    এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামে এক কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    ইএসওএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশবে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা অপরাধের কারণে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা হলেন ইউসুফ আল-মানাসিফ, জাওয়াদ কুরেইরিস, হাসান জাকি আল-ফারাজ, মাহদি আল-মোহসেন ও আলী আল-মাবিউক।

    কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিরা

    প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে খামিস মুশাইত কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ওয়ার্ডে রয়েছেন ৫৮ জন ইথিওপীয় নাগরিক। এ ছাড়া নজরান কারাগারে আরও পাঁচজন ইথিওপীয় ও পাঁচজন সোমালি নাগরিক এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিসরীয় নাগরিক রয়েছেন।

    এসব বন্দির মামলায় পেশাদার দোভাষীর অনুপস্থিতি, আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়া, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ না পাওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি।

    আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

    ইএসওএইচআর বলেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও প্রকাশ্যে ঘোষিত আইনি অঙ্গীকারের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়েই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। নির্যাতনবিরোধী সনদ এবং শিশু অধিকার সনদের অধীনে সৌদি আরবের বাধ্যবাধকতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, অন্যায্য বিচার, নির্যাতন, বৈষম্য এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা বাড়লেও সৌদি আরব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।

In English

English edition · Older English stories