BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১,২৬৯

    হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১,২৬৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০১ জন রোগী।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৬৬

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৬৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৮৬৬ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৬৮ জন, ময়মনসিংহে ৬৬, চট্টগ্রামে ২৫৬, খুলনায় ২১৫, রাজশাহীতে ১৭১, রংপুরে ৭১, বরিশাল বিভাগে ২০৬ জন এবং সিলেটে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫,৯৩৬ জন। আর হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৪৫ জনের।

    চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই যথাক্রমে খুলনা বিভাগে ৮২, চট্টগ্রামে ৪৩, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩০, রাজশাহীতে ২৯, রংপুরে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন মারা গেছেন।

  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আঁশজাতীয় খাবার

    স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আঁশজাতীয় খাবার

    খাদ্য আঁশ বা ফাইবার শুধু হজমে সাহায্য করে না, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এসব বিষয় স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের এক আলোচনা সভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনের মাধ্যমে স্ট্রোকের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

    উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। খাদ্য আঁশ অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর কার্যক্রমে সাহায্য করে। এসব জীবাণু আঁশ ভেঙে কিছু উপকারী পদার্থ তৈরি করে, যা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ডাল, শাকসবজি, ফলমূল ও গোটা শস্যে প্রচুর আঁশ থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

    কোলেস্টেরল কমাতে

    রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেড়ে গেলে রক্তনালির দেয়ালে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে পারে। এতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। আঁশসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে ওটস, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, পেয়ারা, আপেল, ঢ্যাঁড়শ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। এসব খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে

    রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেশি থাকে।

    খাদ্য আঁশ খাবার হজম ও শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সাহায্য করে। এতে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

    তাই সাদা চালের ভাতের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে লাল চাল, লাল আটার রুটি, ডাল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ আস্ত ফলে আঁশ থাকে। ইটিংওয়েল সাময়িকীতে উল্লেখিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ গ্রাম খাদ্য আঁশ গ্রহণ করলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ১০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম হতে পারে। তবে এই ফলাফল ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

    কীভাবে আঁশের পরিমাণ বাড়াবেন

    খাদ্য আঁশের পরিমাণ বাড়াতে প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারেন।

    • প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি খান।

    • পেয়ারা, আপেল ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ ফল খান।

    • নিয়মিত ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটি খান।

    • সম্ভব হলে পরিশোধিত শস্যের বদলে লাল আটা ও গোটা শস্য বেছে নিন।

    • খাবারে ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ান।

    • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    হঠাৎ করে অনেক বেশি আঁশ খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো ভালো।

    স্ট্রোক প্রতিরো

    ধে আরো যা জরুরি

    শুধু আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি দূর হয় না; রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করাও জরুরি। খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমাতে হবে। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ ও গোটা শস্যের সমন্বয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত খাদ্য আঁশ রাখা রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এসব অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • কীটনাশক ছাড়াই সবজি চাষ সবজি চাষ সাফল্য

    কীটনাশক ছাড়াই সবজি চাষ সবজি চাষ সাফল্য

    রাসায়নিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ছাড়াই উপকারী এন্ডোফাইটিক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে বর্ষাকালে বেগুন ও ঢ্যাঁড়শ চাষে আশাব্যঞ্জক সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) গবেষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল হকের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়, যেখানে সহযোগিতা করেছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রকল্প।

    এর আগে এ পদ্ধতিতে আলু চাষেও সফলতা এসেছিল। গবেষক দলের তথ্য অনুযায়ী, একই কৃষিজমিতে প্রায় চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগের ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় ইউরিয়া ও টিএসপি সারের ব্যবহার কমানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও মাটির উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যেও নিচু জমিতে চাষ করা বেগুন ও ঢ্যাঁড়শ গাছে কোনো ভাইরাসজনিত রোগ, ঢলে পড়া বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়নি।এ গবেষণার অংশ হিসেবে দেশে তরল জৈবসার উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষায়িত যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।

    গবেষকেরা জানান, ‘সয়েল মাইক্রোবায়োম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ধারণার এই প্রযুক্তি আমদানিনির্ভরতা ও রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে দেশব্যাপী এর কার্যকারিতা ছড়িয়ে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বারি, বার্ক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পরীক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করেছেন তারা।

  • তহবিল সংকটে টিসিবি

    তহবিল সংকটে টিসিবি

    ভর্তুকি দরে পণ্য বিক্রি করে তহবিল সংকটে পড়েছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সরকারের কাছে ভর্তুকি বাবদ আটকে গেছে ১,২১৮ কোটি টাকা। টাকা ছাড় করতে আবেদন করলেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

    অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে করা এলসির বিপরীতে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিষদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর সুদের অঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন ব্যাংকগুলোর মোট পাওনার সঙ্গে ৪০ লাখ টাকা হারে সুদ যুক্ত হচ্ছে। ফলে দায় বাড়ছে সরকারের। টিসিবি বলছে, অর্থের অভাবে কম দামে পণ্য বিক্রির কার্যক্রমও চাপের মুখে পড়ছে। নতুন করে পণ্য সরবরাহে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    টিসিবির হিসাবে, অতীতের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও স্মার্ট কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের কাছে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় সে জন্য ভর্তুকির অর্থ দ্রুত ছাড়ে জরুরি উদ্যোগ নিতে টিসিবির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    জানা গেছে, টিসিবি বর্তমানে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করছে। বাজারদরের তুলনায় কম দামে এসব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমিয়ে রাখাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়মতো ভর্তুকির অর্থ ছাড় না হলে টিসিবির নিয়মিত পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে উপকারভোগী নিম্ন আয়ের কোটি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

    অন্যদিকে, ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হলে সরকারের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    প্রতিদিন বাড়ছে ৪০ লাখ টাকার সুদের বোঝা

    জানা গেছে, ভর্তুকির অর্থ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে টিসিবির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর দায়ের চাপ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়ার বিপরীতে দৈনিক ব্যাংক সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ২৩০ টাকা। টিসিবি জানিয়েছে, যথাসময়ে ভর্তুকির অর্থ ছাড় না করা হলে এই সুদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই অতিরিক্ত আর্থিক দায় হিসেবে চেপে বসবে।

    পণ্য ক্রয়ে ব্যাংকগুলোর অনীহা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

    জানা গেছে, সময়মতো অর্থ না হওয়ায় ব্যাংক থেকে নেওয়া এলটিআরগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলো টিসিবির আমদানি করা পণ্যের বা স্থানীয়ভাবে কেনা পণ্যের বিল পরিশোধের জন্য নতুন করে ট্রাস্ট রিসিট বা ঋণ দিচ্ছে না। ফলে নতুন করে চাল, ডাল, তেল বা চিনি ক্রয়ের জন্য এলসি খোলা যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া টিসিবির চিঠিতে এসব তথ্য জানিয়ে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    টিসিবির বক্তব্য

    টিসিবির মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন বলেন, টিসিবির নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হয়। এ ভর্তুকির অর্থ সরকারই পরিশোধ করে থাকে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকির অর্থ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১-এর যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান বলেন, টিসিবিকে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। সংস্থাটির ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের আবদুলের জয় দেখে ভারতের ‘আবদুলদের’ উদ্দীপ্ত হতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের আবদুলের জয় দেখে ভারতের ‘আবদুলদের’ উদ্দীপ্ত হতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম হিসেবে জয়ী হয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়কে সামনে এনে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

    এনডিটিভি বুধবার (৪ নভেম্বর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়া এল-সাইয়েদের বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ওয়াইসি বলেছেন, এই ফলাফলে ভারতের মুসলমানদের জন্যও একটি বার্তা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের জন্য, যাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রায়ই বিদ্রূপ করা হয়।

    এক্সে দেয়া এক পোস্টে ওয়াইসি বলেন, ‘মিশিগানে একজন আবদুল জিতেছেন। এবার উত্তর প্রদেশের আবদুলকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি হিন্দিতে আরো লেখেন, ‘সংঘরা অনেক চেষ্টা করেছে ‘আবদুল’ নামটিকে বিদ্রূপের বিষয় বানাতে। এবার আমাদের দেখিয়ে দেয়ার সময় এসেছে, আবদুল আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করে না। আমরা আর কারো সামনে জায়নামাজ বিছিয়ে দেব না।’

    ওয়াইসির এই বক্তব্যের লক্ষ্য উত্তর প্রদেশের প্রচলিত নির্বাচনী রাজনীতি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু মুসলমানদের কাছে ভোট চাওয়া হয়। কিন্তু বিনিময়ে তাঁদের যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেয়া হয় না।

    উত্তর প্রদেশে কয়েক মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজ্যটির মোট ভোটারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মুসলমান। সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আবদুল’ নামটি প্রায়ই মুসলিম সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    ওয়াইসির দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং সমাজবাদী পার্টির মতো আঞ্চলিক বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে আসছে। দলটির অভিযোগ, বিজেপি মুসলমানদের নিশানা করছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো মুসলমানদের কেবল নিজেদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে ৪২ বছর বয়সী আবদুল এল-সাইয়েদের জয়ের খবর মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো প্রচার করার কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াইসি এসব মন্তব্য করেন।

  • ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির করায় একজন গ্রেপ্তার

    ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির করায় একজন গ্রেপ্তার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহান আল্লাহ তাআলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুজন সাহা (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার সকালে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুজন সাহা কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কর্মকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর বাসাইল উপজেলার ভবানী বাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে রফিকুল ইসলাম মাদানীর আগমন উপলক্ষে ‘বাসাইল সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সুজন সাহার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বল্লা এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বল্লা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    খবর পেয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

    পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে সাটুরিয়ার বালিয়াটি এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুজন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তার সুজন সাহা বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।

  • জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা

    জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা

    আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে এতথ্য জানিয়েছেন।

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।

    পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।

    এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    ছয় সদস্যের বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন।

    শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

    ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

  • সুদের সঙ্গে জড়িত পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে: কী বলে ইসলাম

    সুদের সঙ্গে জড়িত পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে: কী বলে ইসলাম

    মেয়ের বিয়ে প্রতিটি মা-বাবার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রত্যেক সচেতন অভিভাবকেরই চাওয়া থাকে, মেয়ের জামাতা যেন দ্বীনদার, সৎ, নৈতিক চরিত্রবান এবং দায়িত্বশীল হন। কারণ বিয়ে কেবল দুজন মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন নয়; এটি একটি নতুন পারিবারিক জীবনের সূচনা, যা উভয় পক্ষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেক সময় দেখা যায়, প্রস্তাব আসা পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সরাসরি সুদ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মনে সংশয় জাগে—সুদ বা হারাম উপার্জনে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত? তার এই উপার্জনের প্রভাব কি নতুন সংসারজীবনে পড়বে? পাত্রের অন্যান্য গুণ ভালো হলেও কেবল সুদি পেশায় থাকার কারণে অভিভাবকের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে বিষয়টির শরয়ি সমাধান বিশ্লেষণ করা যাক।

    ১. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা ও অবস্থান

    ইসলামি শরিয়তে সুদকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ—যেকোনোভাবে সুদের প্রক্রিয়ায় জড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন— وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫)

    মুমিনদের সুদের যাবতীয় অবশিষ্টাংশ বর্জনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮)

    সুদের পাপের বিস্তৃতি কেবল এর প্রত্যক্ষ গ্রহীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই সমান অপরাধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

    সুতরাং সুদি কারবারকে কোনোভাবেই হালকা বা সাধারণ পেশা ভাবার অবকাশ নেই; এটি আল্লাহর বিধানে চূড়ান্ত পর্যায়ের অবাধ্যতা।

    ২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে কি বৈধ?

    বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পাত্রের ব্যক্তিগত সুদি কারবারে লিপ্ত থাকা এবং তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনের বৈধতার শরয়ি দিকটির সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা জরুরি।

    ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া আকদ বা বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জেনেবুঝে হারাম সুদি লেনদেনে অবিচল থাকে এবং তা থেকে তওবা না করে, তবে তা তার দ্বীনদারির মারাত্মক ঘাটতি ও নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ।

    এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে সে যদি সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে মেয়ের দ্বীন ও আখিরাতের সুরক্ষায় তাকে পাত্র হিসেবে প্রত্যাখ্যান করাই বিচক্ষণ অভিভাবকের দায়িত্ব।

    শাইখ ইবনে বায (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন এবং বিকল্প কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তা ছাড়তে নারাজ; এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে কি না? জবাবে তিনি পরিষ্কারভাবে অভিমত দেন—পাত্রের মানসিকতা ও অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সে ওই চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে পাত্রস্থ না করাই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের পেশাগত স্বচ্ছতার বিষয়ে আপসহীন থাকা এবং তাকে হালাল উপার্জনে ফিরে আসার জোরালো তাগিদ দেওয়া।

    ৩. পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারি ও চরিত্রের অগ্রাধিকার

    পাত্রের পদমর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে তার দ্বীনদারির মূল্যায়নকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি ইরশাদ করেছেন— إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ ‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (জামে তিরমিজি: ১০৮৪)

    এই নির্দেশনায় স্পষ্ট যে, বৈষয়িক প্রাচুর্য, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি বা সামাজিক প্রতিপত্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বরং পাত্রের নিয়মিত সালাত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, আমানতদারি, হালাল-হারামের বাছবিচার ও সুন্দর আচরণই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি।

    ৪. পরিবারে হারাম উপার্জনের প্রভাব

    হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকত ও মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয় এবং মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে। একজন মুমিনের প্রতিটি লোকমা হালাল হওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

    তবে ব্যবহারিক মাসআলার ক্ষেত্রে স্বামীর উপার্জনে হারামের মিশ্রণ থাকলেই সংসারের প্রতিটি পাই-পয়সা স্ত্রীর জন্য ঢালাওভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। উপার্জনের প্রকৃত ধরন, অর্থের মূল উৎস এবং স্ত্রীর নিরুপায় অবস্থার ওপর অনেক বিধান নির্ভর করে। তা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের বরকত নিশ্চিত করতে বিয়ের প্রস্তাবের সময়ই পাত্রের উপার্জনের মাধ্যম শতভাগ হালাল করার ব্যাপারে শর্ত দেওয়া আবশ্যক।

    ৫. পাত্র অতীত থেকে তওবা করলে করণীয়

    কোনো পাত্র অতীতে সুদের কারবারে জড়িত থাকলেও যদি সে আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে তা পুরোপুরি পরিহার করে এবং হালাল বিকল্পের সন্ধানে সচেষ্ট হয়, তবে তার অতীতের কারণে তাকে আজীবনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা শরিয়তের উদ্দেশ্য নয়। মহান আল্লাহ তাওবাকারীদের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রেখে ঘোষণা করেন— قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

    সুতরাং পাত্রের মধ্যে যদি আন্তরিক তাওবার প্রতিফলন দেখা যায় এবং সে বৈধ উপার্জনের প্রতি যত্নবান হয়, তবে তার সার্বিক দ্বীনদারি বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে।

    ৬. কন্যার স্পষ্ট মতামত ও সম্মতি

    পাত্র নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় কন্যার মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ ইসলামে নেই। জোরপূর্বক অভিভাবকের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে আদেশ করেছেন— لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ ‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬, সহিহ মুসলিম: ১৪১৯)

    মেয়ের বিয়ে কেবল একজন সচ্ছল ব্যক্তির হাতে কন্যাকে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি এমন একজন দ্বীনি অভিভাবক ও জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বিষয়, যার ছায়াতলে একটি মেয়ে নিরাপদে তাঁর ঈমান ও আমল সংরক্ষণ করতে পারবে।

    সুদি কারবারে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আইনগতভাবে বাতিল না হলেও, সচেতনভাবে সুদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিকে জামাতা হিসেবে বরণ না করাই সতর্কতামূলক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত। আর যে ব্যক্তি ভুল বুঝতে পেরে সুদের কারবার ছেড়ে হালাল পথে ফিরে এসেছে, তার প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা ইসলামের ক্ষমার নীতির অংশ।

  • প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস

    প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস

    ডেমোক্রেট নেতা হাকিম জেফ্রিস মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন। আগামী ৩রা জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার নির্বাচিত হতে হলে প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ভোটে জেফ্রিসকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি স্পিকার পদে দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচিত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছরে নিম্নকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন তিনি। তবে তার জন্য এই পথ খুব একটা মসৃণ হবে না। খবর সিএনএন।

    সিএনএন জানায়, জেফ্রিসকে দলের ভেতরে আদর্শগত এবং প্রজন্মগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দলের নতুন সমাজতান্ত্রিক অংশের সমর্থন আদায় করা তার জন্য কঠিন হতে পারে, যারা বর্তমান নেতাদের কাজের ধরনে অসন্তুষ্ট। এছাড়া ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এবং ইসরাইল ইস্যুতে তার কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থানের কারণে দলের কর্মী ও আন্দোলনকারীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে তাকে।

    তবে জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। তিনি বড় কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো, ধনীদের ওপর কর আরোপ এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চান।

    তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলের ভেতরের দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংঘাত সামলানো। কংগ্রেসের সদস্যদের শেয়ার ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো সংস্কারমূলক প্রস্তাবগুলো পাস করানো নিয়েও দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। গত বছর রিপাবলিকানদের একটি বিলে সম্মতি দেয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতাদের বা ‘কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস’-এর ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন জেফ্রিস।

    তবে বর্তমানে সেই ফাটল অনেকটাই জোড়া লেগেছে। সিএনএনের মতে, জেফ্রিস এখন ডেমোক্রেট দলের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। ট্রাম্পের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে দলের অবস্থান আরও মজবুত করতে চান তিনি।

  • রিপাবলিকানদের ৩ দশকের সিনেট আসন কেড়ে আনলেন অ্যানি অ্যানড্রুজ

    রিপাবলিকানদের ৩ দশকের সিনেট আসন কেড়ে আনলেন অ্যানি অ্যানড্রুজ

    নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্র্থী অ্যানি অ্যানড্রুজ। তিন দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা এই আসন পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি।

    বলেছেন, দেশবাসী দেখিয়ে দিয়েছে কী সম্ভব। সিনেট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত জয় উদ্যাপন করে এ কথা বলেছেন অ্যানি অ্যানড্রুজ।

    তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা এইমাত্র ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্রেটদের হাতে চলে এসেছে।

    তিনি হবেন সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত প্রথম নারী মার্কিন সিনেটর। বিজয় উদ্যাপনে অ্যানি অ্যানড্রুজ মঞ্চে আসেন ডলি পার্টনের জনপ্রিয় গান ‘নাইন টু ফাইভ’-এর সঙ্গে। এ সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা উল্লাস, স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

  • একনেক সভায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেক সভায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১১টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প। ১. ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। ২. ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালগুলোর পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ’ (১ম পর্ব) প্রকল্প। ৩. ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প। ৪. ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (SIDP)’ প্রকল্প। ৫. ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩ (৩য় সংশোধিত)’।

    এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্প।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনীতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি ৫) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প’।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৫টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডশেন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার আধুনিকীরণ। ২. দেশের শিশু কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। ৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়সহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। ৪. ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)। ৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।

  • চাপে ফেলবে ডেমোক্র্যাটরা

    চাপে ফেলবে ডেমোক্র্যাটরা

    মার্কিন সিনেট ও হাউজ, উভয় ক্ষেত্রেই, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে লাভ কি?

    আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে, যা দেশটির আইন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি শাখা।

    কংগ্রেসের, সিনেট ও হাউজে, বর্তমানে, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছিল এককোথায় অনেক। তবে, এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।

    মূলত, ডেমোক্র্যাটরা যখন কংগ্রেস ফিরে পাবে, তখন তারা আরও সহজে আইন পাস করতে পারবে। একইসঙ্গে, ওয়ার কিংবা বাজেট, উভয় ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের ডিসিশন কিংবা এজেন্ডাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে তারা।

    শুরু তাই নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তও ইনিশিয়েট করতে পারবে তারা। ফলে, ট্রাম্পের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এতো সহজ হবে না।

  • মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

    মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি তার ওপর বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, তবে তিনি ইসরাইলে চলে যাবেন এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন মন্তব্য করে রসিকতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

    মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরাইলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো আমার ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তবে আমি ইসরাইলে চলে যাব এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হব।’

    একই সাক্ষাতকারে ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের পর থেকে ওয়াশিংটন আর ইসরাইলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করবে না।

    ট্রাম্পের মতে, ইসরাইলের আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই এবং কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিবিদ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার হাতিয়ার হিসেবে ইসরাইলকে এই তহবিল দেওয়ার বিষয়টি ব্যবহার করছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমরা ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে থাকি। কয়েক মাস আগে আমরা এই সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা করেছি।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একমত হয়েছি যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরাইলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ইসরাইলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’

  • ১০০ বছর পর কানসাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত

    ১০০ বছর পর কানসাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত

    প্রায় ১০০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করে তিনি এ জয় পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    হ্যামিল্টন ও মার্শালের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনের ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই কানসাসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য রয়েছে। সর্বশেষ ১৯৩২ সালে অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার প্রতিষ্ঠাতা হ্যামিল্টন নির্বাচনি প্রচারে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যান্য গ্রামীণ অঙ্গরাজ্যের মতো কানসাসেও ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষি ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সোমবার হ্যামিল্টন বলেন, ‘আমাদের সব সময় বলা হয়, রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কিন্তু এবার আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা করছি। আগামী দুই বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।’

    অন্যদিকে মার্শাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পও তার পক্ষে প্রচার চালান।

    প্রচারে মার্শাল ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্পের বরাদ্দ কমানোর পক্ষে ভোট দেওয়ায় তার এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    পেশায় চিকিৎসক মার্শাল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ (এমএএইচএ) নীতির সমর্থক। এ নীতির সমালোচকদের দাবি, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। করোনাভাইরাস মহামারির সময় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

    এছাড়া চিকিৎসক থাকাকালে সাবেক প্রায় ৭০০ রোগীর বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যয়ের বকেয়া আদায়ে মামলা করেছিলেন মার্শাল—নিউইয়র্ক টাইমসের এমন এক প্রতিবেদনের কারণে নির্বাচনি প্রচারে চাপে পড়েন তিনি। হ্যামিল্টনের প্রচারশিবির এ বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রায় ১১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা কানসাসের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন।

  • ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন

    ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ উভয় পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পাবে দলটি।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সীমিত করতে পারবে তারা।

    এর আগে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিরোধীরা কোনো প্রস্তাব পাঠালে তিনি ভেটো দেবেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

    অভিশংসন প্রক্রিয়া যেভাবে কাজ করে

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের একমাত্র ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট কমিটির তদন্তের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আর্টিকেল পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তোলা হয়।

    সংবিধানে অভিশংসনের তিনটি ভিত্তি উল্লেখ রয়েছে—রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুসগ্রহণ এবং গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলে বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।

    সিনেটে বিচারকাজে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। ১০০ সিনেটর উপস্থিত থাকলে প্রয়োজন হবে ৬৭ ভোট। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তও নিতে পারে সিনেট।

    ট্রাম্পের তৃতীয় অভিশংসন নিয়ে যা বলছেন ডেমোক্র্যাটরা

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে সেপ্টেম্বরে প্রশ্ন করা হলে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, তারা কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতা স্টিভ স্ক্যালিসের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জিতলে প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন উদ্যোগ নেবে।

    প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি, অভিবাসন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা, করপোরেট মুনাফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকানীতি নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেবেন তারা।

    এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, উৎপাদন ও খনিজ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

    তবে এসব তদন্তে অভিশংসনের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সেই পথে হাঁটবেন কি না, তা রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    এর আগে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প

    প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে অভিশংসিত করলেও সিনেটে দুবারই সেই প্রস্তাব আটকে যায়।

    ২০১৯ সালে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা আটকে রেখে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের রাজনৈতিক ক্ষতি করতে ইউক্রেনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়। তবে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিনেটে দুই অভিযোগেই তিনি খালাস পান। কেবল রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

    এরপর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার ঘটনায় দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে চালানো ওই হামলায় একজন ট্রাম্প সমর্থক নিহত হন এবং বহু পুলিশ সদস্য আহত হন।

    ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১০ জন রিপাবলিকানও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

    তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটের বিচারে ৫৭ জন সিনেটর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিলেও প্রয়োজনীয় ৬৭ ভোট না পাওয়ায় টিকে যান তিনি। এ সময় সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।

    দুই দফা অভিশংসনের পরও ক্ষমতা হারাতে হয়নি ট্রাম্পকে। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

  • জুমার দিন যে আমল বেশি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

    জুমার দিন যে আমল বেশি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

    মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন শুক্রবার। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

    শুক্রবারের প্রধান আমল জুমার নামাজ আদায় করা। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)ফজিলতপূর্ণ এ দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু আমল করতেন। সাহাবিদেরও সেসব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদে যাওয়া, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা, গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা, দোয়া করা এবং বেশি বেশি দরুদ পড়া ইত্যাদি।উল্লিখিত আমলের মধ্যে বেশি বেশি দরুদ পড়ার কথা বলেছেন মহানবী (সা.)। কারণ, জুমার দিনের এ বিশেষ আমলটি তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

    মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন যেভাবে

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ (রহমত) পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

    এখানে দশটি দরুদ উল্লেখ করা হলো—

    ১. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।২. উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ।

    অর্থ: আল্লাহ মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনান নাসায়ি, হাদিস: ১৭৪৬)

    ৩. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মি (নিরক্ষর) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৮১)

    ৪. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি রহমত বর্ষণ করো তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এবং সব মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৪৪৫. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা, ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাতি।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তাঁকে তুমি কেয়ামতের (কেয়ামতের) দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ জায়গা দিয়ো। আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৯৩৬)

    ৬. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।

    অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (মুসনাদে৭. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২২৬)৮. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি, ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ফিল আলামিনা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।

    অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ করো যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।’ (সুনানে

  • যুদ্ধকে  ‘না’ বলে দিয়েছে মার্কিন জনগণ: ইরানের স্পিকার

    যুদ্ধকে ‘না’ বলে দিয়েছে মার্কিন জনগণ: ইরানের স্পিকার

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।

    সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে—মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। আমরা তাদের এই বার্তাকে সমর্থন করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সরকার যদি জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী মহল ও ব্ল্যাকমেইলারদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে, তবে আমাদের ‘না’ যে দুঃস্বপ্নের রূপ নিতে পারে, তা তারা বুঝতে পারবে।’

  • জনগণ ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে: বারাক ওবামা

    জনগণ ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে: বারাক ওবামা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তার দলের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পরিবর্তন চায়। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওবামা লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমেরিকান জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

    তারা এমন রাজনীতি চায়, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করে এবং এমন নেতাদের চায়, যারা তাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে।’

    মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ওবামা বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হলো হাতা গুটিয়ে কাজে নেমে পড়া, যেখানে আমাদের ক্ষমতা আছে সেখানে পরিবর্তন আনা, আরও ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি তৈরি করা।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল আল-সাইয়েদ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেন ৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ।

    পেশায় মহামারিবিদ ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল-সাইয়েদ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনী প্রচারে তাকে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ চালান। তবে সব বাধা পেরিয়ে জয় পান তিনি।

    বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি আমেরিকাকে ভালোবাসি।’ প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ঘৃণাকে বেছে নিয়েছেন, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশাকে।’

    নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসরাইল সরকারের কঠোর সমালোচক আল-সাইয়েদকে ঠেকাতে প্রো-ইসরাইলপন্থি একটি সংগঠন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিন কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। প্রাইমারিতে পরাজিত প্রার্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সও শেষ মুহূর্তে আল-সাইয়েদের সমর্থন প্রত্যাহার করে রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেন।

  • ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১১টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প। ১. ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। ২. ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালগুলোর পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ’ (১ম পর্ব) প্রকল্প।

    ৩. ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প। ৪. ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (SIDP)’ প্রকল্প। ৫. ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩ (৩য় সংশোধিত)’।

    এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্প।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনীতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি ৫) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প’।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৫টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডশেন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার আধুনিকীরণ। ২. দেশের শিশু কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। ৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়সহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। ৪. ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)। ৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।

  • রিপাবলিকানদের আসনে বিজয়ী নাবিলা সৈয়দ

    রিপাবলিকানদের আসনে বিজয়ী নাবিলা সৈয়দ

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ। রিপাবলিকান প্রার্থী ডারবি হিলসকে হারিয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছেন তিনি।

    শিকাগোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলি এলাকার এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নাবিলার এই জয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইলিনয়ের পালাটাইন এলাকায়। তার পরিবারের শিকড় ভারতের হায়দরাবাদে। তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আগ্রহী নাবিলা ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পড়াশোনা শেষে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে নাগরিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি উচ্চবিদ্যালয়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষক হিসেবে তরুণদের পরামর্শ দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি।

    ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন নাবিলা। সে সময় তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ নারীদের একজন এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম মুসলিম প্রতিনিধিদের একজন।

    প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, ভোটাধিকার, শিশুদের যত্ন ও শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করেছেন নাবিলা।

    তার উদ্যোগে জেনেরিক ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, অঙ্গদাতাদের জন্য বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা এবং ১৬ বছর বয়সীদের আগাম ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ তৈরিসহ বেশ কয়েকটি আইন পাস হয়েছে। আইনসভায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা-সংক্রান্ত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    এবার সিনেট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ডারবি হিলস। নির্বাচনে হিলসকে পরাজিত করে ২৬তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন নাবিলা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর অঙ্গরাজ্যের আইনসভার উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন তিনি।

    নাবিলার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ইলিনয়ের মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করে স্থানীয় পর্যায় থেকে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে পৌঁছানো তার এই পথচলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নেতৃত্বের উপস্থিতিও তুলে ধরছে।

  • রঙিন ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি- ফুলকপি চাষে সাফল্য,চাষে সাফল্য

    রঙিন ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি- ফুলকপি চাষে সাফল্য,চাষে সাফল্য

    সবুজ পাতার ভেতর হলুদ,কোথাও পিংক-বেগুনি আবার কোথাও নীল রঙ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ফুটে আছে সুন্দর কোন ফুল। তবে এটা ফুল নয়, শীতকালীন সবজি ফুলকপি এবং বাঁধাকপির ক্ষেত। মনোরম এই দৃশ্য চোখে পড়বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই গ্রামে ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়- চাষ করা হলুদ, গোলাপি ও হালকা লাল রঙের বাহারি ফুলকপি এখন শোভা পাচ্ছে তার জমিতে। যা শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই ডুমুরিয়া বাজারে এনেছে বিপুল ‌ ক্রেতার সাড়া।কৃষি বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সকারি উদ্যোগে খুলনার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হচ্ছে। পোকা দমনেব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ। ফলনও হচ্ছে বেশ ভালো। বাজারে ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজি চাষ করে যে লোকসান হয়েছে, সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা। পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন ফুলকপি। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির সাফল্যে খুশি কৃষকরা।

    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের রঙিন বাঁধাকপি ফুলকপি চাষিরা বলছেন, সাদা কপি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এ কপি এখনও বাজারে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের খর্নিয়া গ্রামের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল‌ ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন রঙিন ফুলকপি। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১০০০/চারা প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। চারা ছাড়াও বাধা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সার, কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

    আবু হানিফ মোড়লের মতো মৃতূ্ন‌্যজয় আরও চারজন রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষীদের এনে দিয়েছে সাফল্য। সাদা ফুলকপি যেখানে বিক্রি হয় প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫টাকায়, সেখানে তার চাষ করা রঙিন বাঁধাকপি ও্ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ইতোমধ্যেই ৭ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। তিনি আশা করছেন, বাকি ফসল থেকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

    কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আবু হানিফ মোড়ল‌ ও মৃত্যুঞ্জয় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন এই রঙিন ফুলকপি। পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করেছেন হলুদ ফাঁদ, যা কপিগুলোকে করেছে স্বাস্থ্যকর এবং বিষমুক্ত।বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ‌আব্দুল‌ জলিল‌ বলেন, ‘এ কপির পুষ্টি এবং গুণাগুণ অনেক ভালো। রঙিন ফুলকপি বাজারে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দামও মিলছে আশানুরূপ।

    স্থানীয় ক্রেতা আকিরুল জানান, ২৫ টাকা দরে রঙিন ফুলকপি কিনেছেন তিনি। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। এর আগে দুইবার খেয়েছেন। তাই আবারও নিলেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘এই রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপির পুষ্টিগুণ সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ বছর ডুমুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে ২৫ একর জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাজারে এর উচ্চ চাহিদা থাকায় আগামী বছর আরও বেশি কৃষক এই চাষে যুক্ত হবেন।’

    ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে ব্যতিক্রমী শীতকালীন সবজি রঙিন বাঁধাকপি ,ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষকরা। কোনোটি হলুদ, কোনোটি পিংক-বেগুনি। আর এসব ফুলকপি কোনও প্রকার কীটনাশক ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই এই ফুলকপি করা হচ্ছে।কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন ইউনাইটেড সিড কোম্পানির বীজ পেয়ে তিনি ১০শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। শুধুমাত্র জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই চাষ করেছি এই ফুলকপি। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও ভালো।’

    কৃষক ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। চাষে পোকা দমনে ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার করে ২২ শতক জমিতে প্রায় দেড় হাজার কপি হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতিটি কপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছি। আরও আছে। লোকজন রঙিন জাতের কপি কিনতে বেশ আগ্রহী। অল্প টাকা খরচ করে আমি বেশ লাভ পেয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের কপির চাষ করব।’

    উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার বলেন, ‘বাড়ির অদূরে জমিতে সাদা, গোলাপি, সবুজ, হলুদ- চার প্রকারের ফুলকপি এবং ব্রকলি, চায়নিজ ক্যাবেজ, রেড ক্যাবেজ, সাধারণ বাঁধাকপিসহ মোট ৫হাজার চারা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারজাত করে দামও ভালো পেয়েছি। কিন্তু অন্যান্য শীতকালীন সবজি চাষে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক আফসোস। তবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে লোকসান পুষিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’ছামিদুল আরও বলেন, এ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছি ৬০ হাজার টাকায়। জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, রসুন, টমেটো লাগিয়েছি। এর মধ্যে ৪ হাজার রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপির চারা স্থানীয় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি। অবশিষ্ট চারাগুলো কিনতে হয়েছে প্রতি পিস ১ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এর পর জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, শ্রমিকবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।’

    খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে জেলায় রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হচ্ছে। চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে ভাল চাহিদা থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন জাতের এই ফুলকপির চাষ বাড়বে। অন্য কৃষকরাও এ জাতের রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

    ক্ষেতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব পদ্ধতিতে বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার। ফলনও বেশ ভালো। রঙিন ফুলকপি ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর মধ্যে ভিটামিন এ, সি এবং ক’সহ বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন রয়েছে। এতে রয়েছে মিনারেলস, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। সেই সাথে এ ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।’

  • নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী আবের কাওয়াস

    নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী আবের কাওয়াস

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। কুইন্সের এই আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন তিনি। তার জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন ছিল নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ)। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পান। এরপর সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। প্রাথমিক ফলাফলে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

    নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আবের কাওয়াসের বাবা-মা ফিলিস্তিনি শরণার্থী। শৈশবেই তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠিন অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে। কাওয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোট থাকতেই তার বাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে এবং পরে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। বাবার আটক ও বহিষ্কারের পর পরিবারের আর্থিক সংকটও তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

    কাওয়াস সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠী, অভিবাসী এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    নিউইয়র্কের আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনে প্রধান অ্যাডভোকেসি সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (সিইউএনওয়াই) ল স্কুলের ‘ক্রিয়েটিং ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ উদ্যোগে অংশীদারত্ববিষয়ক সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

    রাজনীতিতে আসার আগে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন ‘ফাইট ফর ১৫’, অভিবাসন সংস্কার এবং পুলিশের নজরদারি ও হয়রানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার-আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন কাওয়াস। নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থি অধিকার আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানির সঙ্গে ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ প্রচারাভিযান গড়ে তোলার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধ করা।

    কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ছিল সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসীদের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার সর্বজনীন সুযোগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশুদের যত্নসেবা সহজলভ্য করা এবং ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়নের পক্ষেও প্রচার চালিয়েছেন তিনি।

    ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে সরব ছিলেন কাওয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় না করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তার নির্বাচনী প্রচারে আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার সংকটের পাশাপাশি অভিবাসীদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।

    নিউইয়র্কের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া, সানিসাইড, উডসাইড, রিজউড, মাসপেথ, লং আইল্যান্ড সিটি, এলমহার্স্ট, গ্লেনডেল ও জ্যাকসন হাইটসের কিছু অংশ রয়েছে। অভিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি—এমন এসব এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন কাওয়াস। তার নির্বাচিত হওয়া স্থানীয় পর্যায়ের দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সংগঠনের কাজকে আইনসভায় নিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা।

  • ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ, তবুও কি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

    ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ, তবুও কি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

    এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1 Antigen) টেস্টটি অবশ্যই জ্বর শুরুর প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে করতে হবে। জ্বর শুরুর পাঁচ-ছয় দিন পর এই টেস্ট করা হলে রক্তে অ্যান্টিজেনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ডেঙ্গু থাকা সত্ত্বেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। অন্যদিকে, আইজিএম অ্যান্টিবডি (IgM Antibody) টেস্টটি জ্বর শুরুর পাঁচ দিন পর করা উচিত। জ্বরের প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি করা হলে শরীরে তখনো অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ার কারণে রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

    এছাড়া ডেঙ্গু ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট বা সেরোটাইপের কারণে (যেমন : Den-2 ইনফেকশন) এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এনএস১ টেস্টে নেগেটিভ ফল আসতে পারে, যা ফলস নেগেটিভ হিসেবে পরিচিত।

    সে ক্ষেত্রে ডেঙ্গুজ্বর নির্ণয়ে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (RT-PCR) তীব্র পর্যায়ে ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) শনাক্তকরণের জন্য একটি দ্রুত, অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নির্দিষ্ট পরীক্ষা। এটি একটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড আণবিক কৌশল। সাধারণত লক্ষণ শুরুর প্রথম পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে, যখন ভাইরাল লোড সর্বোচ্চ থাকে, তখন এই পরীক্ষা করা হয়। পাঁচ থেকে সাত দিন পর RT-PCR নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি বাতিল করা যায় না। তাই IgM ELISA-এর মতো সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    নেগেটিভ হলে করণীয় কী

    লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন। রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও উচ্চ বা মৃদু জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা কিংবা বমি বমি ভাব থাকলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    সিবিসি (CBC) টেস্ট করুন

    চিকিৎসকেরা সাধারণত ডেঙ্গু টেস্টের রিপোর্টের চেয়ে রক্তের প্লেটলেট ও শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) সংখ্যা বেশি গুরুত্ব দেন। প্লেটলেট দ্রুত কমতে থাকলে ডেঙ্গু সন্দেহে চিকিৎসা করা হয়।

    ওষুধের সতর্কতা

    রিপোর্ট নেগেটিভ হোক বা পজিটিভ, জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল খাবেন। কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAIDs খাবেন না। কারণ, এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

    মনে রাখবেন, প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণগুলো মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে দ্বিতীয়বার ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট (ADE)-এর কারণে রোগের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার পরের তিন থেকে সাত দিন সবচেয়ে বিপজ্জনক।

    হাসপাতালে কখন যাবেন

    * মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হলে

    * অবিরাম বমি বা রক্তবমি হলে

    * কালো রঙের পায়খানা হলে

    * তীব্র পেটব্যথা হলে

    * ত্বকে তীব্র ফুসকুড়ি বা দাগ দেখা দিলে

    * রক্তচাপ কমে গেলে ও মাথা ঘুরলে

    * শরীর, হাত বা পা হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে গেলে

    * দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হলে বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

    এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর

  • বিজয়ের পর প্রথম ভাষণে যা বললেন ইলহান ওমর

    বিজয়ের পর প্রথম ভাষণে যা বললেন ইলহান ওমর

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সোমালি বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ইলহান ওমর। টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) হিসেবে জয়লাভের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বিদ্বেষ ও ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্য ও ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    নির্বাচনি ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর সমর্থকদের সামনে দেওয়া এক আবেগঘন বিজয়ী ভাষণে ইলহান ওমর বলেন, ‘মিনেসোটা ও পুরো দেশজুড়ে আমরা যে অসাধারণ ফলাফল দেখছি, তা তখনই সম্ভব হয় যখন আপনি সহমর্মিতা, সাহসিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন। যখন আপনি আপনার প্রতিবেশীর যত্ন নেবেন এবং নিজের আদর্শ অনুযায়ী ভোট দেবেন।’

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তৎকালীন প্রশাসনের ধারাবাহিক আক্রমণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন তারা মিনেসোটাবাসীর ওপর চড়াও হয়েছিল, আমরা কেবল রাজপথে নেমে প্রতিবেশীদের রক্ষা করেই থেমে থাকিনি; আমরা জানতাম নির্বাচনের দিন এলে ব্যালট বাক্সে এর মোক্ষম জবাব দিতে হবে। ভোটের মাধ্যমে আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি—মিনেসোটা এমন কোনো জায়গা নয়, যেখানে যা খুশি তা-ই করা যায়।’

    নিজের ওপর চালানো ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের জবাব দিয়ে ইলহান ওমর উল্লেখ করেন, বিরোধীরা ভেবেছিল ভয়ভীতি ও আক্রমণ চালিয়ে তার সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে এবং তারা হয়তো ভোটকেন্দ্রে যাবে না।

    কিন্তু সাধারণ মানুষ উল্টো বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়ে সেই অপচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওহাইও, মেইন ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা কারও রাজনৈতিক খেয়ালের গুটি হতে প্রস্তুত নয়।

    ভাষণে মিনেসোটাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইলহান ওমর বলেন, ‘আমার পরিবারকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়া এবং নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মিনেসোটাকে ধন্যবাদ। আমাকে ও আমার ভাই-বোনদের শিক্ষিত করার সুযোগ দেওয়া এবং আমার বাবাকে মর্যাদার সঙ্গে অবসরে যাওয়ার অধিকার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘মিনেসোটা কেবল একজন তরুণ শরণার্থীকে আশ্রয়ই দেয়নি, বরং তাকে বেছে নিয়ে দেশের নীতি নির্ধারণের জন্য কংগ্রেসে পাঠিয়েছে।’

    বক্তব্যের শেষভাগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। কংগ্রেসের নজরদারি কমিটির আসন্ন চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়ার একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘হয়রানি ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের দিন শেষ। এবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সময় শুরু হয়েছে।’

  • নিউইয়র্কের প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম কংগ্রেস হলেন শেভালিয়ের

    নিউইয়র্কের প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম কংগ্রেস হলেন শেভালিয়ের

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। রিপাবলিকান প্রার্থী জোমো উইলিয়ামসকে পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদে যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তার জয় নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আফ্রো-লাতিনা পরিচয়ের পাশাপাশি মুসলিম হিসেবে তার কংগ্রেসে প্রবেশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

    ডোমিনিকান অভিবাসী পরিবারের সন্তান শেভালিয়ের নিউইয়র্কে বেড়ে উঠেছেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পড়াশোনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি আইন সহকারী, তদন্তকারী, শিক্ষক ও সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। হারলেমের নেবারহুড ডিফেন্ডার সার্ভিসেসে তদন্তকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফ্যামিলিজ ফর ফ্রিডমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

    শেভালিয়েরের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে ২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে। সেখানে নিউইয়র্কের ১৩তম আসনের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করে তিনি আলোচনায় আসেন। প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পান, আর এসপাইয়াত পান ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগে এসপাইয়াত ২০১৭ সাল থেকে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। শেভালিয়েরের এই জয়কে দলটির নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উত্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসন নীতি, আবাসনসংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেন শেভালিয়ের। তিনি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করা, সরকারি আবাসন খাতে অর্থায়ন বাড়ানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেন। তার প্রচারে বিনা মূল্যে শিশুযত্নের ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

    ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও সরব ছিলেন শেভালিয়ের। ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংহতি শিবিরে যুক্ত হন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তার বিরোধিতা তার রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। অভিবাসীদের পরিবার বিচ্ছিন্ন করার নীতির বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন তিনি।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন পেয়েছিলেন শেভালিয়ের। মামদানির নির্বাচনী প্রচারেও তিনি সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। তার জয় প্রতিনিধি পরিষদে প্রগতিশীল রাজনীতিকদের উপস্থিতি বাড়াবে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে দায়িত্ব নেবেন তিনি।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলবে ডেমোক্র্যাটরা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলবে ডেমোক্র্যাটরা

    ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে এবার সক্রিয় হতে পারেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। যুদ্ধের সমাপ্তি এবং সম্ভাব্য প্রস্থান কৌশল নির্ধারণ করা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ইরান থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল খুঁজে বের করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সমন্বয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসে তেমন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। অথচ মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই যুদ্ধের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কংগ্রেসের।

    ফ্রেডেরিকসেনের মতে, অধিকাংশ আমেরিকানই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম যুক্তি হিসেবেও পারমাণবিক হুমকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।

    তবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন বারবার যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। তার ভাষায়, জনগণকে বারবার এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি।

    ফ্রেডেরিকসেন বলেন, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তদারকি করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার দায়িত্ব কংগ্রেসের। এবার ডেমোক্র্যাটরা সেই দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী হবেন বলে তিনি মনে করেন।

  • কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও পেল ডেমোক্র্যাটরা

    কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও পেল ডেমোক্র্যাটরা

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেরও নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ২২০ আসনে জয় পেয়েছে। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৬ আসন।

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে ২৫টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন ২১৮ আসন।

  • সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, চাপে ট্রাম্প

    সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, চাপে ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল। আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে দলটির।

    এ নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে বড় চমক এসেছে সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায়। এ দুই অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

    সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। প্রায় তিন দশক পর এ অঙ্গরাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন। ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।

    এ আসনটি আগে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দখলে ছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহামকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যানি অ্যান্ড্রুজের কাছে পরাজিত হন।

    নর্থ ক্যারোলাইনাতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। অঙ্গরাজ্যটির সাবেক দুই মেয়াদের গভর্নর কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরেকটি সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। এ আসনের আগের সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

    সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হলো। নতুন আইন পাস, বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

    সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজনে তাঁকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।

    এদিকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না। তাই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দায় তাঁর নয়। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ফরজ ও নফল ইবাদত : বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

    ফরজ ও নফল ইবাদত : বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

    ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুসংহত জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা বান্দার সুবিধার্থে সব ইবাদতকে সমানভাবে বাধ্যতামূলক না করে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন, যার মধ্যে ফরজ ও নফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পর্যাপ্ত দ্বীনি জ্ঞানের অভাবে আমরা অনেক সময় ফরজের তুলনায় নফলকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাই ইবাদতের সঠিক ক্রম ও মর্যাদা সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    ফরজ ইবাদত বলতে সেসব আবশ্যক আমলকে বোঝানো হয়, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব ইবাদত পালন না করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করলে তা মারাত্মক গোনাহের কারণ হয়। ফরজ ইবাদতের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত, রমজান মাসের রোজা, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় এবং সামর্থ্য থাকলে জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা। এগুলো ইসলামের মূল ভিত্তির অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর ওপর একজন মুসলিমের ঈমানি ও আমলি জীবন দাঁড়িয়ে থাকে।

    অন্যদিকে নফল ইবাদত হলো সেই সব আমল, যা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় আদায় করা হয়। এগুলো পালন করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু না করলে গোনাহ হয় না। নফল সালাতের মধ্যে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, আওয়াবিন, সালাতুত তাসবিহ ইত্যাদি রয়েছে। নফল রোজার মধ্যে আরাফার দিনের রোজা, আশুরার রোজা, শাবান মাসের রোজা এবং সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা ও দান-সাদকা করাও গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

    নফল ইবাদতের গুরুত্ব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই; বরং নফল ইবাদতের মাধ্যমেই একজন বান্দা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নৈকট্য অর্জন করে। যেমন হাদিসে এসেছে— রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা ফরজ আমল দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে। এরপর সে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার আরো কাছাকাছি হয়, এমনকি আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে; চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে; পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে যদি কিছু চায়, আমি তা দান করি। যদি আশ্রয় চায়, আমি তা প্রদান করি।’ (বুখারি : ৬৫০২)

    কিন্তু এই হাদিসকে কেন্দ্র করেই আমাদের সমাজে একটি মারাত্মক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন, ফরজ আদায় না করলেও বেশি বেশি নফল ইবাদত করলে আল্লাহ তা ফরজের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করে নেবেন। বাস্তবে এই ধারণার কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই।

    উদাহরণস্বরূপ, অনেককে দেখা যায় ফরজ নামাজে অবহেলা করে শবে বরাত বা শবে কদরের রাতের নফল নামাজে বিশেষ আগ্রহ দেখাতে। আবার কেউ রমজানের ফরজ রোজা পূর্ণ না রেখে শাওয়ালের নফল রোজা পালন করেন। জাকাতের ক্ষেত্রে ফরজ হিসাব না করে দান-সাদকা দিয়ে দায় সেরে নেওয়ার প্রবণতাও ব্যাপক। এমনকি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ফরজ হজ আদায় না করে বারবার ওমরাহ পালন করাকেও কেউ কেউ যথেষ্ট মনে করেন। অথচ ওমরাহ একটি নফল ইবাদত হলেও সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবার হলেও হজ করা ফরজ। আর এটি কোনোভাবেই নফল দ্বারা প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।

    ইসলামের শিক্ষা হলো— প্রথমে ফরজ আদায়, এরপর নফল। ফরজ আমলে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তাআলা তার অনুগ্রহে নফল আমলের মাধ্যমে তা পূর্ণ করে দিতে পারেন। কিন্তু ফরজই যদি আদায় না করা হয়, তাহলে নফলের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। বিষয়টি বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। ধরা যাক কোনো পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর ১০০। কেউ যদি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮০ নম্বর পায়, বাকি ২০ নম্বর বাড়তি কাজ দেখে দেওয়া হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি পরীক্ষাতেই অংশ নেয়নি, তার অতিরিক্ত কাজের কোনো মূল্যায়নই হবে না। ফরজ ও নফল ইবাদতের সম্পর্কও ঠিক তেমনই।

    তাই ফরজ পরিত্যাগ করে নফল আদায় করা উচিত নয়, কারণ রাসুল (সা.)-এর বাণী— ‘তুমি স্বেচ্ছায় ফরজ নামাজ ত্যাগ কোরো না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ত্যাগ করে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে যায়।’ (ইবনু মাজাহ : ৪০৩৪)। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে ব্যবধান শুধু নামাজের। যে নামাজ ত্যাগ করল, সে কাফের হয়ে গেল।’ (তিরমিজি : ২৬২১)

    এখানে মূলত ফরজ নামাজের কথা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ফরজ নামাজ ত্যাগ করল, তাকে কুফরির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অথচ নফল দ্বারা এমন ফরজ আমরা পরিপূর্ণ করতে চাই। অতএব, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ তাআলার বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, ফরজ ও নফল ইবাদতের পার্থক্য অনুধাবন করা এবং আমলের ক্ষেত্রে সঠিক অগ্রাধিকার বজায় রাখা। নিজে জানার পাশাপাশি অন্যদেরও এই ভুল ধারণা থেকে সংশোধন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন মুসলিম প্রার্থী

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন মুসলিম প্রার্থী

    যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের সাক্ষী হয়েছে দেশটির রাজনীতি। প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ফিলিস্তিনি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রতিনিধির প্রবেশ—এবারের নির্বাচনে মুসলিমদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাশাপাশি নারী, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বেও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নজির।

    মিশিগানে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। তার জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন তিনি। নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক আদম হামাওয়ি।

    এ ছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নাবিলা সৈয়দ এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে আবের কাওয়াসের জয়ও মুসলিম ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

    মুসলিমদের যেসব ঐতিহাসিক অর্জন

    ১. আবদুল আল-সাইয়েদ—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

    মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার জয় নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হলেন তিনি।

    ৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও তার প্রচারে গুরুত্ব পায়।

    তবে প্রচারের সময় তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করেন। এসব বিতর্কের মধ্যেই জয় পেলেন তিনি।

    ২. আদম হামাওয়ি—নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য

    নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হলেন তিনি।

    মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সময় আহত সেনাদের চিকিৎসা করেছেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তার জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দিতে যান।

    নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন হামাওয়ি।

    ৩. নাবিলা সৈয়দ—ইলিনয় সিনেটে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্ব

    ইলিনয়ের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নাবিলা সৈয়দ। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, বিপরীতে হিলস পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ। আসনটি আগে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করা এই রাজনীতিক ভোক্তা অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    ৪. আবের কাওয়াস—নিউইয়র্কে প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী

    নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তার জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী নির্বাচিত হলেন তিনি। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক। তার বাবা-মা ফিলিস্তিনি।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসীদের সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ছিল তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সংগঠকের কাজ করেছেন কাওয়াস।

    ৫. রুয়া রোমান—জর্জিয়ায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের অগ্রযাত্রা

    জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুয়া রোমানের প্রতিনিধিত্বও নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে তিনি জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী ও প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৭ম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে উচ্চকক্ষে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন তিনি। প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকান প্রার্থী আইজাজ শেখের বিরুদ্ধে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

    ৬. ইলহান ওমর—কংগ্রেসে আবারও নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারীদের একজন

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৫ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। রাশিদা তালিবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। তার পুনর্নির্বাচন মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।

    ৭. রাশিদা তালিব—ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের আরেক জয়

    মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান তালিব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম দুই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনপ্রণেতার একজন। কংগ্রেসে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত তিনি। নতুন মেয়াদে তাঁর জয় কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করল।

    ৮. আন্দ্রে কারসন—কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের মুসলিম প্রতিনিধি

    ইন্ডিয়ানার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে আসেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত দ্বিতীয় মুসলিম সদস্য কারসন। তার আগে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কারসন কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ, পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, পরিবহন ও কর্মসংস্থান নিয়েও তার ভূমিকা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

    মুসলিমদের বাইরেও যেসব ইতিহাস তৈরি হয়েছে

    ১. ডেব হাল্যান্ড—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর

    নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হলেন তিনি। লেগুনা পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর সদস্য হাল্যান্ড এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ২. কেইশা ল্যান্স বটমস—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর

    জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন তিনি। একই সঙ্গে জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নরও হচ্ছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র বটমস। এর আগে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ৩. বায়রন ডোনাল্ডস—ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর

    ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হলেন। তাঁর এই জয় ফ্লোরিডার রাজনীতিতে নতুন নজির তৈরি করেছে।

    ৪. জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন—ইলিনয় থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর

    ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান ডন ট্রেসিকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন। তিনি বিদায়ী সিনেটর ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর মধ্য দিয়ে ইলিনয় থেকে নির্বাচিত দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হলেন তিনি। বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সঙ্গে স্ট্র্যাটন দায়িত্ব নিলে ইলিনয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য, যেখান থেকে একই সময়ে দুজন ভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের নারী সিনেটর দায়িত্ব পালন করবেন।

    ৫. ক্রিস পাপাস—প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর

    নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সাবেক সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। এর আগে পাপাস ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম প্রকাশ্যে এলজিবিটিকিউ কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ৬.স্টেসি প্লাসকেট—যুক্তরাষ্ট্রের অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর

    যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন স্টেসি প্লাসকেট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের নয়, বরং দেশটির অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

    যেসব ফল এখনো চূড়ান্ত নয়

    আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা। প্রাথমিক ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকলেও সেখানে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনা পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত দ্বিতীয় আদিবাসী নারী হতে পারেন। তবে মিনেসোটার পেগি ফ্লানাগান ইতোমধ্যে সিনেটে প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট অ্যামি ক্লোবুচার জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

    সামগ্রিক চিত্র

    ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে আবদুল আল-সাইয়েদের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়া, আদম হামাওয়ির নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং নাবিলা সৈয়দ ও আবের কাওয়াসের মতো নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    একই সঙ্গে ডেব হাল্যান্ড, কেইশা ল্যান্স বটমস, বায়রন ডোনাল্ডস, জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন ও ক্রিস পাপাসের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ার চিত্র তুলে ধরেছে। এসব বিজয় কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়; বরং দেশটির নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের কাঠামোতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।

  • শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে

    শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

    ভিডিও বার্তায় জামায়াতের আমির বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

    গাজীপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

    তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে জীবনধারণ করা শ্রমিকদের জন্য অসম্ভব। তাদের দাবি বিবেচনা করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার এখনো করতে পারেনি। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে কথাটি যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে।

    জামায়াতের আমির বলেন, এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।

    আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন।

    একই সঙ্গে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সহজ হয়ে যাবে।

    বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আরও কথা হবে, আরও দেখা হবে।

  • রহস্যঘেরা ‘আল্লাহর মসজিদ’, ইতিহাস না অলৌকিকতা?

    রহস্যঘেরা ‘আল্লাহর মসজিদ’, ইতিহাস না অলৌকিকতা?

    জনশ্রুতি আছে, কয়েকশ বছর আগে এক নিঝুম রাতে অলৌকিকভাবে মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠেছিল এই ইমারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের চোখে এটি সুলতানি আমলের অনবদ্য স্থাপত্য, আর স্থানীয়দের বিশ্বাসে এটি ‘আল্লাহর কুদরত’। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামে অবস্থিত ৯ গম্বুজের এই প্রাচীন স্থাপনাটি এখন দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

    বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে কসবা গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে লালচে ইট আর পাথরের কারুকাজখচিত এই নয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। বর্গাকার এই স্থাপনাটি মূলত বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে পরিচিত।

    কষ্টিপাথর ও বেলেপাথরের চারটি বিশাল স্তম্ভের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে পুরো কাঠামোটি। এর উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়ালে খোদাই করা আছে নান্দনিক ফুল, লতাপাতা ও জ্যামিতিক নকশা। যদিও কোনো শিলালিপি না থাকায় এর সঠিক নির্মাণকাল জানা সম্ভব হয়নি, তবে এর নির্মাণশৈলী সাক্ষ্য দেয় যে, এটি প্রায় ৭০০ বছর আগে প্রখ্যাত সুফি সাধক খান জাহান আলী (রহ.) এর শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

    মসজিদটিকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে ডালপালা মেলেছে রোমাঞ্চকর সব লোককথা। স্থানীয় প্রবীণদের দাবি, এটি কোনো মানুষের তৈরি নয়, বরং ‘এক রাতেই’ এটি অলৌকিকভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল।

    আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো, মসজিদের পাথরের স্তম্ভগুলো থেকে এক সময় রহস্যময় তেল চুঁইয়ে পড়ত। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ছিল, এই তেল ব্যবহারে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে। সেই বিশ্বাসের টানে আজও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

    তবে মসজিদের বর্তমান খাদেম বাবুল ফকির বলেন, মানুষের ভক্তি থেকেই এসব গল্পের জন্ম। এক সময় মানুষ নিজেরা ভক্তি করে পিলারে তেল মাখত, পরবর্তীতে সেটিই লোকমুখে অলৌকিক তেল হিসেবে পরিচিতি পায়।

    মসজিদ সংলগ্ন বিশাল পুকুরটি নিয়েও লোককথার শেষ নেই। প্রচলিত আছে, কয়েকশ বছর আগে এই পুকুরের পাড়ে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য থালা-বাসন চাইলে অলৌকিকভাবে তা পানি থেকে ভেসে উঠত। কিন্তু কোনো এক মানুষের অসাধুতা বা চুরির কারণে সেই ‘অলৌকিক ভাণ্ডার’ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

    প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে কসবা মসজিদ প্রাঙ্গণ। কেউ আসেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের টানে, কেউবা আসেন আত্মিক প্রশান্তির খোঁজে। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে মোমবাতি ও আগরবাতি নিয়ে আসেন মানতকারীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারীদের জন্য এখানে রয়েছে নামাজের সুব্যবস্থা।

    মানত পূরণ করতে আসা আছমা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, নাতির অসুস্থতার সময় মানত করেছিলাম। আজ নাতিকে সাথে নিয়ে আল্লাহর ঘরে শুকরিয়া জানাতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়।

    ইতিহাসবিদের কাছে এটি প্রাচীন বাংলার সুলতানি ঐতিহ্যের স্মারক, আর সাধারণের কাছে এটি পরম করুণাময়ের এক বিশেষ নিদর্শন। ইতিহাস আর অলৌকিকত্বের এই অপূর্ব সহাবস্থানই কসবা গ্রামের ‘আল্লাহর মসজিদ’কে করে তুলেছে অনন্য। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক জীবন্ত দলিল।

  • ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, দেখুন তালিকা

    ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, দেখুন তালিকা

    ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এর মধ্যে ৭ দিন সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) হওয়ায় কার্যকর সরকারি ছুটি পাওয়া যাবে ২২ দিন।

    গত সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রণীত এ ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

    পরে সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ছুটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০২৭ সালের জন্য ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

    সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

    জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আগামী বছর ১৫ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারসহ মোট ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে।

    নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন

    বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন ছুটি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারসহ মোট ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে।

    ঐচ্ছিক ছুটি

    ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসব উদযাপনের জন্য ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটির তালিকা

    শবে বরাত: ২৪ জানুয়ারি (রোববার)

    একুশে ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস): ২১ ফেব্রুয়ারি (রোববার)

    জুমাতুল বিদা: ৫ মার্চ (শুক্রবার)

    শবে কদর: ৭ মার্চ (রোববার)

    ঈদুল ফিতর: ১০ মার্চ (বুধবার)

    ঈদুল ফিতর (দ্বিতীয় দিন): ১১ মার্চ (বৃহস্পতিবার)

    ঈদুল ফিতর (তৃতীয় দিন): ১২ মার্চ (শুক্রবার)

    স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ (শুক্রবার)

    বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ): ১৪ এপ্রিল (বুধবার)

    মে দিবস: ১ মে (শনিবার)

    ঈদুল আজহা: ১৭ মে (সোমবার)

    ঈদুল আজহা (দ্বিতীয় দিন): ১৮ মে (মঙ্গলবার)

    ঈদুল আজহা (তৃতীয় দিন): ১৯ মে (বুধবার)

    বুদ্ধ পূর্ণিমা: ২০ মে (বৃহস্পতিবার)

    আশুরা: ১৬ জুন (বুধবার)

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস: ৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)

    ঈদে মিলাদুন্নবী: ১৫ আগস্ট (রোববার)

    জন্মাষ্টমী: ২৫ আগস্ট (বুধবার)

    দুর্গাপূজা: ৮ অক্টোবর (শুক্রবার)

    দুর্গাপূজা (দ্বিতীয় দিন): ৯ অক্টোবর (শনিবার)

    বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার)

    বড়দিন: ২৫ ডিসেম্বর (শনিবার)

    ( সুত্র: দৈনিক যুগান্তর )

  • সোম ও বৃহস্পতিবার রোজায় ফজিলত

    সোম ও বৃহস্পতিবার রোজায় ফজিলত

    ইসলামে নফল ইবাদতের মধ্যে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত এই দুই দিন রোজা রাখতেন। হাদিসে এ রোজার ফজিলত ও তাৎপর্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং আমলের মর্যাদা বৃদ্ধির আশায় অনেক মুসলমান এই দুই দিন নফল রোজা পালন করেন।

    আমলনামা আল্লাহর কাছে উপস্থাপনের দিন

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হয়। তাই তিনি পছন্দ করতেন, রোজা রাখা অবস্থায় তার আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হোক। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৭)

    সোমবারের বিশেষ তাৎপর্য

    সোমবার দিনটি মহানবী (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। এ দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং এ দিনেই তার ওপর ওহি নাজিল হয়।

    সোমবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

    ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ

    সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ক্ষমা করেন। তবে যেসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও শত্রুতা রয়েছে, তাদের ক্ষমার বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।

    এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। (হাদিস: ২৫৬৫)

    যেভাবে পালন করবেন এই রোজা

    সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা নফল ইবাদত। মুসলমানরা চাইলে শুধু সোমবার, শুধু বৃহস্পতিবার অথবা দুই দিনই রোজা রাখতে পারেন। এ জন্য সুবহে সাদিকের আগে সাহ্‌রি খেয়ে রোজার নিয়ত করতে হবে এবং সূর্যাস্তের পর ইফতার করতে হবে।

    রোজা পালনের পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিরোধ দূর করার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

    সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা ফরজ নয়, বরং সুন্নত ও নফল ইবাদত। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত এ আমল করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা যায়।

  • হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

    হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

    তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোন মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিংবা আটকের পর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে—তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আটকের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মামলা বা অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক পরিচয়

    ইকবাল সোবহান চৌধুরী দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একজন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭২ সালে দ্য বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতা শুরু হয়। পরে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক হন। পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

    তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একটি অংশের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণমাধ্যমের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

    শেখ হাসিনা সরকারের তথ্য উপদেষ্টা

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ২০১৩ সালে তাকে শেখ হাসিনার তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ও খণ্ডকালীন গণমাধ্যম উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।

    সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তেও একবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে তার বক্তব্য নেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

    ওই সময় টাস্কফোর্সের প্রধান ও পিবিআইপ্রধান মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের পর ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে ওই জিজ্ঞাসাবাদকে বর্তমান আটকের কারণ হিসেবে দেখানোর মতো কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন

    ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকার ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় ও নিঃস্ব প্রবীণ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দম্পতির অর্থ সঙ্কটের সচিত্র সংবাদ প্রচার হওয়ার পর প্রশাসন এ উদ্যোগ নেয়। ঢাকা- ২০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তমিজ উদ্দিন ও ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে পুনর্বাসন সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা হস্তান্তর করেন।

    সোমবার (২ নভেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে এ পুনর্বাসন ও আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করেন তারা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ছেলে ও পুত্রবধূকে হারিয়ে এতিম নাতিকে নিয়ে ৮৯ বছর বয়সি হানেছ আলী ও ৭৯ বছর বয়সি সুফিয়া আক্তার দম্পতি বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও পানির নলকূপহীন একটি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের এই সঙ্কটের সচিত্র সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তাদেরকে সহায়তার উদ্যোগ নেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে ঘর মেরামতের জন্য টিন, নগদ অর্থ ও একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়ি প্রদান করা হয়েছে।

    সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ঘর মেরামতের জন্য দুই বান টিন, জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়ি, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ছয় হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রকিবুর রহমান ফরহাদ, দফতর সম্পাদক মিকাইল হোসেন ও ধামরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মোহিতুল ইসলাম প্রমুখ।

    সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ হানেছ আলী বলেন, ‘দুইটা ছেলে আর বউকে হারিয়ে এতিম নাতিটাকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। ঘরে আলো নাই, পানি নাই, টয়লেট নাই। সাংবাদিকরা আমাদের এ কষ্টের কথা তুলে ধরায় আজ সরকার আমাদের দিকে তাকিয়েছে। এখন একটা ভ্যানগাড়ি পেয়েছি, এটা নাতিটা চালিয়ে সংসার চালাতে পারবে। আমরা খুব খুশি।’

    বৃদ্ধ হানেছ আলীর নাতি বলেন, ‘বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দাদা-দাদি ভিক্ষা করে আমাকে বড় করেছেন। উপার্জনের জন্য প্রশাসন থেকে দেয়া এই ভ্যান গাড়িটি এখন আমার বেঁচে থাকার বড় সম্বল হলো। আমি এখন কাজ করে আমার দাদা-দাদিকে খাওয়াতে পারব।’

    ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন বলেন, ‘গণমাধ্যমে এ অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির মানবিক সঙ্কটের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। সংবাদটি দেখার পরপরই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তার ব্যবস্থা করেছি।’ এ,আর

  • সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করছে কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করছে কোস্ট গার্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জিম্মি পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের ফেলে যাওয়া চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    একই দিনে সুন্দরবনের অন্য একটি এলাকায় পৃথক অভিযানে আরো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। তবে দুটি অভিযানেই দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। সাত্তার বাহিনীর আস্তানা থেকে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করে তারা ।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনের গহীনে পালিয়ে যায় দস্যুরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তারা সবাই খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।

    কই দিনে বেলা ১১টায় সুন্দরবনের কুমড়োখালী থেকে চারটি একনলা বন্দুক, একটি শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুকের গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    বিসিজিএস তৌহিদের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মীর আকিব মোস্তাফিজ (এক্স), বিএন এসব তথ্য জানান।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোস্ট গার্ড। এ,আর

  • ঈশ্বরদীতে ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

    ঈশ্বরদীতে ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা তিন দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে মাঠের পর মাঠের ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও শীষসহ ধান পানিতে ডুবে আছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

    গত রোববার ও সোমবার উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া ও সাঁড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ধানের এমন ক্ষতিগ্রস্ত চিত্র দেখা গেছে। অনেক জমির ধান আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা থাকলেও অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে সেগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

    ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলায় মোট ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার ৫৬, বৃহস্পতিবার ২৬ ও শুক্রবার ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হেলালুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর গ্রামের কৃষক মুরাদ আলী এবার ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৫ ও ধানী গোল্ড জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে তাঁর প্রায় ১৫ বিঘা জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল। এখন ধান পানিতে তলিয়ে থাকায় ফলন ব্যাপক কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি শুকানোর পরও সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বিঘাপ্রতি চার-পাঁচ মণের বেশি পাওয়া কঠিন হতে পারে।’

    তিনি আরও বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বাকিতে জোগাড় করে চাষাবাদ করেছেন। ধান বিক্রি করে এসব বকেয়া পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন দেনা শোধ করা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এছাড়া মাটিতে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক খরচ গুনতে হবে।

    একই গ্রামের কৃষক কালু সরদার, মিজান মালিথা, মুজাহিদ মণ্ডল, শফি মণ্ডল, কোরবান মালিথা ও রবিউল জানান, তাঁদের এলাকার শত শত বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব জমিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, সেখানে এখন ৫-৭ মণ পাওয়াও অনিশ্চিত। বিশেষ করে যেসব ধানের শীষ সবেমাত্র বের হয়েছে, সেগুলোর ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন জানান, এবার আমন ধানের ফলন বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিশেষ করে ব্রি-১০৩ জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। এ,আর

  • কুমিল্লায় একযোগে ১৮ থানায় পুলিশের অভিযান, আটক ৩৮৫

    কুমিল্লায় একযোগে ১৮ থানায় পুলিশের অভিযান, আটক ৩৮৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

    পুলিশ জানায়, অভিযানে শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাসুদ রানা (২৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকেিমূলক পোস্ট দিয়ে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলনে প্ররোচনা দিচ্ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

    এ ছাড়া কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) আসামিদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি মাঠে থেকে এই অভিযানে অংশ নেন।

    কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনা এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।

    তিনি আরও জানান, অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক মাসে মোট ৫ হাজার ৮৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • শ্যামনগরে অনলাইন জুয়াচক্রের মূল হোতা আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

    শ্যামনগরে অনলাইন জুয়াচক্রের মূল হোতা আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন জুয়া পরিচালনার সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের এক তরুণকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবির একটি বিশেষ টিম শ্যামনগর থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উপজেলার গড়কুমারপুর গ্রামের মুকুল সানার বসতবাড়িতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে ওই বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে মুকুল সানার ছেলে সালাউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

    সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন

    চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে কলেজটি থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন মাত্র ১জন। এতে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শনিবার বেলা ১১ দিকে এইচএসসি ও সমমান পরিক্ষার ফল প্রকাশের পর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের তথ্য পাওয়া যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটি ২০০১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষকসহ ২২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত।

    এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। ফলাফলে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চার কলেজে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭৭ জন।

    এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। অন্যদিকে একটি মাত্র কারিগরি কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১ জন। ৫টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৪১০ জন কৃতকার্য হয়েছে।

    মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে এত সংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল কেন? তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

    অভিভাবকেরা মনে করেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর পিছনে একজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন অকৃতকার্য হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে শিক্ষার মান তলানিতে নেমেছে।

    একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।’

    কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগী এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক সংকটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল।

    আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব। এ,আর

  • মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তবর্তী চাপাতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কুসমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চাপাতলা গ্রামে ইসমাইলের ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্ত পিলার ৬১/১৮-আর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধানক্ষেতের মধ্যে লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

    খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরান আলম জানান, লাশের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। লাশের পরিচয় শনাক্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম চলছে।

    এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার ধানক্ষেতে অজ্ঞাত নারীর লাশ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পুলিশি তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা। এ,আর

  • একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি সওয়াব পাবে?

    একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি সওয়াব পাবে?

    জীবিত অবস্থায় যেমন সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা জরুরি, তেমনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত ও পরকালের কল্যাণের জন্য নেক আমল করে সওয়াব পৌঁছে দেওয়া বা ‘ঈসালে সওয়াব’ করা অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। অনেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা বা নফল ইবাদত করে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানীসহ অসংখ্য মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব বখশে দেন। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে— একসঙ্গে একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব ঈসাল করলে প্রত্যেকে কি পূর্ণ সওয়াব পাবেন, নাকি সেই সওয়াব ভাগ হয়ে সবার মাঝে বণ্টিত হবে?

    একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর বিধান: আলেমদের অভিমত

    কুরআন তিলাওয়াত কিংবা অন্য কোনো নফল ইবাদত করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো জায়েজ ও প্রমাণিত বিষয়। তবে একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব ঈসাল করা হলে সবাইকে পূর্ণ সওয়াব দেওয়া হবে, নাকি সবার মাঝে ভাগ করে সওয়াব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে ফকিহ ও মুজতাহিদ আলেমদের প্রধানত দুটি মত রয়েছে—

    প্রথম মত

    ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও হাম্মাদ মাক্কী (রহ.)-সহ কতিপয় আলেমের মতে, একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব পৌঁছানো হলে তা সকলের মাঝে বণ্টন বা ভাগ করে দেওয়া হয়।দ্বিতীয় মত

    হজরত ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.) ও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামি (রহ.)-সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে, একাধিক মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব বখশালে প্রত্যেকেই পৃথকভাবে পূর্ণ সওয়াব লাভ করেন।

    ফিকাহ ও হাদিসের গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় মতটিই অধিক অগ্রগণ্য। কারণ, মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ, রহমত ও দয়ার ভাণ্ডার অফুরন্ত; তাই একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব দান করলে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের আমলনামায় পূর্ণ সওয়াব দান করতে পারেন, যা তাঁর শানের সঙ্গে অধিক সংগতিপূর্ণ।

    প্রখ্যাত হানাফি ফকিহ আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) উল্লেখ করেন যে, ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.)-কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল— কেউ যদি কবরবাসীদের জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করে, তবে কি সেই সওয়াব তাদের সবার মাঝে বণ্টন হয়ে যাবে, নাকি প্রত্যেকের নিকট পূর্ণ সওয়াব পৌঁছাবে?

    উত্তরে তিনি বলেছিলেন, অনেক ফকিহ দ্বিতীয় মতের (সকলে সমান পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার) পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহর অবারিত করুণা ও অনুগ্রহের শানের সঙ্গে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।ঈসালে সওয়াবের সর্বোত্তম পদ্ধতি ও সুন্নাত তরিকা

    সওয়াব ঈসাল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তির পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর নিয়তে সওয়াব বখশে দেওয়া হলো সুন্নাহসম্মত ও সর্বোত্তম পদ্ধতি। কারণ, এতে আমলকারীর নিজস্ব সওয়াব বিন্দুমাত্রও হ্রাস পায় না, অথচ অগণিত মানুষের কাছে তা পৌঁছে যায়।

    নবী করিম (সা.) নফল ইবাদত ও কোরবানি করে তার সওয়াব সকল উম্মতের জন্য ঈসাল করেছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে এ বিষয়ে একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে—

    عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ… ثُمَّ أَخَذَهُ فَضَحَّى بِهِ، ثُمَّ قَالَ: «بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»

    ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) (কোরবানির জন্য) একটি শিংওয়ালা ভেড়া আনতে বললেন… এরপর তা জবাই করার সময় বললেন, ‘আল্লাহর নামে (কুরবানি করছি)।হে আল্লাহ! আপনি এটি কবুল করুন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে। ’ (মুসলিম ১৯৬৭)

    এই হাদিসের আলোকে আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেছেন, নফল সদকা বা ইবাদতকারীর জন্য উত্তম হলো, নির্দিষ্ট মৃত আত্মীয়দের পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর জন্য নিয়তে সওয়াব ঈসাল করা। কেননা, এই সওয়াব সবার নিকট পৌঁছে যায় এবং এতে আমলকারীর নিজের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস পায় না। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূল দৃষ্টিভঙ্গি।

    সারকথা হলো, আপনি যখন কোনো নফল ইবাদত বা এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করে একাধিক মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব ঈসাল করেন, তখন ইনশাআল্লাহ তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর অসীম রহমতে পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন। সওয়াব বখশানোর সময় নির্দিষ্ট বাবা-মা, দাদা-দাদী ও আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি সমস্ত মুমিন মুমিনাদের জন্যও নিয়্যত করা উচিত।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন এবং আমাদের মৃত প্রিয়জনদের নাজাতের উসিলা বানিয়ে দিন। আমিন।

  • কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট নয়, প্রধানমন্ত্রী চান সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ

    কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট নয়, প্রধানমন্ত্রী চান সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ

    কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী পন্থায় দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এ সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

    তারেক রহমান বলেন, সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।’

    তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।

    দেশে উদ্ভাবনী ধারণা ও জ্ঞানের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকজন তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশে এ ধরনের জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা চলতে থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘অর্থের অভাবে যাতে তারুণ্যের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

    আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকট

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

    তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ডিজেলের মজুত বাড়িয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বিগত সরকারগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও বাসাবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা

    তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে চায় সরকার।

    তিনি জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব ব্যবহার শেষে যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, তাদের কাছ থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এর সঙ্গে প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন তিনি। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পেরেছেন।

    তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানো হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।

    সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব

    সৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

    বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    কৃষিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে প্রবাসীদেরও সুযোগ

    বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সহজে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

    এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।

    এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক চত্বর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক চত্বর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর মান্দায় ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ চত্বর থেকে ময়না রাণী (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মান্দা উপজেলা সদরের প্রসাদপুর বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ময়না রাণী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার তিলিহারি মহাপাড়া এলাকার অনিল চন্দ্রের স্ত্রী। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    দেয়ালের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসাদপুর বাজারের হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মান্দা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর দেয়ালের ভিতরের বসার স্থানে ময়না রাণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা।

    মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    নিহত ময়না রাণী কবে, কখন ওই ক্লিনিক চত্বরে এসেছেন এবং তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    যা বলছে পুলিশ

    মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবজাল হোসেন বলেন, ‘নিহত ওই নারী লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়নি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ এ,আর

  • পক্ষে আপিল হয়নি, শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

    পক্ষে আপিল হয়নি, শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

    তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ মঙ্গলবার চিঠি দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হবে।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

    শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজনের আপিলে আরেকজনের পার্ট তো কাভার করবে না। শেখ হাসিনার পক্ষে তো কোনো আপিল হয়নি।’

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি পাওয়া গেছে।

    ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো আসামি আপিল করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, আইনের ২১(১) ও ২১(২) ধারায় সরকার ও আসামি উভয় পক্ষের আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর আপিল দায়ের করা যাবে না।

    ভবিষ্যতে কোনো আসামি বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে আপিল করতে চাইলে সেটি গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেহেতু এটা একটা স্পেশাল ল, সেই স্পেশাল ল-এর উপরে কোনো ডিলে কনডোনেশনের সুযোগ থাকে না। লিমিটেশন অ্যাক্টের কোনো প্রয়োগ থাকে না। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষেত্রে রায়ের অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা নেই। আর আসামি যখন গ্রেপ্তার হবেন, তার রায় কার্যকর হবে।’

    সময় পার হওয়ার পরও আপিল বিভাগে আপিল গ্রহণের নজির থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সময়োত্তীর্ণ আপিল এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আপিল বিভাগে বিচারাধীন একটি আপিলের ক্ষেত্রেও প্রসিকিউশন সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরবে।

    প্রধান কৌঁসুলি জানান, যেসব আসামি পলাতক আছেন এবং যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ আছে, খুব দ্রুত তাদের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়া হবে।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো হিসাব নেই। সম্পত্তি শনাক্ত ও মূল্যায়নের পরই এর পরিমাণ জানা যাবে। ট্রাইব্যুনালের রায়টা হচ্ছে এভাবে যে, আসামিদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। এখন সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি কী আছে, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কী রকম আছে, তার ভ্যালুয়েশন কত, সেটা ওই সম্পত্তি শনাক্ত ও বিক্রয় সাপেক্ষে বোঝা যাবে। এখন এটা সরকার করবে।

    চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির বিষয়ে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিতে আইনগত বাধা নেই। এ বিষয়ে আলাদা বিধি প্রণয়ন করা গেলে তা আরও ভালো হবে।

    শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ে সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, রোম সংবিধিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রথম দিকের রায়গুলোতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও আইন অনুসরণ করেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেবেন বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

    ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার পর রায়ে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

  • লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান, নতুন সম্ভাবনা ব্রি ধান-১১৯

    লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান, নতুন সম্ভাবনা ব্রি ধান-১১৯

    দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততাপ্রবণ অঞ্চল ও প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদের উপযোগী ধান আবাদে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর মাধ্যমে।

    সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য এ জাতটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন ব্রি’র প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো: আল আমিন।

    ব্রি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এ ‘ব্রি ধান-১১৯’- নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছেন।

    লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণায় আরো যুক্ত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, সিনিয়র প্ল্যান্ট ব্রিডার নুসরাত জাহান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরমিন আক্তার সেতু এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিআরসিআইএল) রিবেত ফারজানা দিশা।

    উদ্ভাবিত এ জাতটির জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষ করা সম্ভব। এর ফলে রোপা আমন কেটে নেয়ার পর একই জমিতে সরিষা কিংবা সূর্যমুখীর মতো রবি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    গবেষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এর বীজ বপন করতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমিতে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা সারি ও গোছার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে (সারি ২০ সেমি ও গোছা ১৫ সেমি) প্রতি গর্তে দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এছাড়া বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লবণাক্ত ও অলবণাক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বোরো মৌসুমে চাষাবাদে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশও লাভ করেছে এ জাতটি। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে আমন ও বোরো উভয় মৌসুমেই এটি চাষ করা যাবে।

    কৃষি তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৭ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে, যেখানে পরিবেশ ও লবণাক্ততার তারতম্য ভেদে ফলন ৪.৮ থেকে ৭.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ‘ব্রি ধান-৭৩’-এর তুলনায় এ জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় এক টন বেশি। এ জাতের গাছগুলোর গড় উচ্চতা ১১৩ সেন্টিমিটার এবং কাণ্ড বেশ শক্ত হওয়ায় এগুলো সহজে হেলে পড়ে না। বিশেষ করে চারা অবস্থায় একটানা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার এবং অঙ্গজ থেকে প্রজনন পর্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন ধাপে ৮ থেকে ১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এ জাতটির।

    ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর প্রতিটি শীষে প্রায় ২১৫টি পুষ্ট ধান পাওয়া যায়, যা ব্রি ধান ‘৭৩-এর তুলনায় ৭০ থেকে ৮০টি বেশি। পাশাপাশি শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে যায় না। এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা রঙের হয়ে থাকে এবং রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়; এতে অ্যামাইলোজের পরিমাণ রয়েছে ২৫.৯ শতাংশ।

    নতুন এ জাতটির বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রি ধান-১১৯’ জাতটির উদ্ভাবন দেশের কৃষি গবেষণাক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ধান উৎপাদনে সহায়তা জোগানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ গবেষণার প্রতিটি স্তরে তাদের পুরো দল অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে প্রধান গবেষক মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান জানান, কৃষকদের মাঠে এই জাতের সুফল পৌঁছে যাওয়াটাই তাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপরীক্ষা
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতটির উপযোগিতা যাচাইয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাঠপরীক্ষা চালানো হয়েছে। কক্সবাজারে ফসলের বৃদ্ধিকালে লবণাক্ততার ওঠানামার মধ্যেও কৌলিক সারিটির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। সাতক্ষীরার লবণাক্ত অঞ্চল এবং অলবণাক্ত অনুকূল পরিবেশেও পর্যায়ক্রমে ফলন পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে এর উপযোগিতা যাচাই করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লবণাক্ততার মাত্রা, স্থায়িত্ব, গাছের বৃদ্ধিপর্যায় এবং পরিচর্যার ওপর ফলন নির্ভর করে।

    আমনের পর বাড়তি ফসলের সুযোগ
    স্বল্প জীবনকালের কারণে ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শস্যবিন্যাসেও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রোপা আমন কাটার পর মধ্যম উঁচু থেকে উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ও লবণসহিষ্ণু সরিষা চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। এতে উপযোগী এলাকায় একই জমিতে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    অন্যদিকে, বোরো ধান কাটার পর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে মাটির জৈব পদার্থ ও উর্বরতা বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ ধানের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও জাতটি ভূমিকা রাখতে পারে।

    বোরো মৌসুমেও জাতটির চাষোপযোগিতা যাচাই করা হয়েছে। বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি স্থানে অলবণাক্ত পরিবেশে কৌলিক সারিটির ফলন মূল্যায়ন পরীক্ষা (পিভিটি) সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশ পাওয়া গেছে। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে একই জাত আমন ও বোরো—উভয় মৌসুমে চাষ করা যাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা ও শস্যবিন্যাসের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

    চাষাবাদ ও সার ব্যবস্থাপনা
    রোপা আমন মৌসুমে ব্রি ধান১১৯ চাষের জন্য ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বীজ বপনের নির্দেশনা রয়েছে। ২৫-৩০ দিন বয়সী চারা প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ জাতের জন্য উপযুক্ত।

    হেক্টরপ্রতি প্রস্তাবিত সারের পরিমাণ ইউরিয়া ২৩৪ কেজি, টিএসপি ৮৭ কেজি, এমওপি ১১৭ কেজি, জিপসাম ৭৮ কেজি এবং জিংক সালফেট ১২ কেজি। শেষ জমি চাষের সময় সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম ও জিংক সালফেটের সাথে অর্ধেক এমওপি প্রয়োগ করতে হবে।

    ইউরিয়া সমান তিন কিস্তিতে দিতে হবে। রোপণের ১০-১৫ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং কাইচথোড় আসার পাঁচ থেকে সাত দিন আগে তৃতীয় কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক এমওপি শেষ কিস্তির ইউরিয়ার সাথে দিতে হবে।

    রোগ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বালাইনাশক ব্যবহারের আগে আক্রমণ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ অথবা কৃষি সম্প্রসারণকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতটির বীজ উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ব্রি’র কৌলিক সম্পদ ও বীজ বিভাগ, গাজীপুর। কৃষকপর্যায়ে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সাম্মাম চাষ, ৪০ শতক জমিতে

    সাম্মাম চাষ, ৪০ শতক জমিতে

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধুরুং খালের চরে একসময় চাষ হতো মূলা, বেগুনসহ প্রচলিত নানা সবজি। সেই জমিতেই এবার ফলেছে মরুভূমির ফল সাম্মাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে সাম্মাম চাষ করেছেন কৃষক মো. এখলাস (৪২)। পরীক্ষামূলক এ চাষে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮০০ কেজি ফল বিক্রি করে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। বাকি ফল বিক্রি করে মোট আয় ২ লাখ ৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন এ কৃষক।

    ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর বাইন্যাচোলা ব্রিজসংলগ্ন ধুরুং খালের চরে এখলাসের সাম্মামখেত। নুরুল আলম সরদার বাড়ির বাসিন্দা তিনি। তার বাবার নাম মৃত আবুল কাশেম। আগে থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এখলাস কলা, বড়ইসহ বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্য চাষ করতেন। একসময় গাছের ব্যবসাও করেছেন। তবে এবার নতুন কিছু করার পাশাপাশি লাভের আশায় প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে সাম্মাম চাষের উদ্যোগ নেন।

    এখলাস জানান, ইউটিউবে সাম্মাম চাষের ভিডিও দেখে প্রথমে আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরে অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করে গত ২২ আগস্ট ৪০ শতক জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করেন। প্রথমবারের এ চাষে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। চারা রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রায় প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে।

    সাম্মামের বাইরের অংশ হালকা সবুজ এবং ভেতরের শাঁস হলুদ রঙের। ফলটি খেতে মিষ্টি, তবে বিশেষ কোনো সুগন্ধ নেই। এখলাস বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে ফল বিক্রি করছেন। পাইকাররা সরাসরি খেত থেকে ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফটিকছড়ি সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসছেন।

    এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কেজি সাম্মাম বিক্রি করে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পেয়েছেন এখলাস। খেতে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ফল রয়েছে। সেগুলো বিক্রি হলে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন এ কৃষক।

    সাম্মাম চাষ ও অন্যান্য কৃষিকাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন চারজন শ্রমিক। ফসল উৎপাদনে জৈব সার ও সালফার ব্যবহার করেছেন তিনি। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন।

    ফটিকছড়িতে সাম্মাম চাষে এখলাস অবশ্য একমাত্র কৃষক নন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও পাঁচজন কৃষক এ ফলের চাষ করেছেন। তবে কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম চাষ করেছেন এখলাস। তাঁর খেতে ভালো ফলন হওয়ায় আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

    প্রথমবারের সাফল্যে আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করছেন এখলাস। শীতকাল পার হলে নতুন করে চাষ শুরু করতে চান তিনি। তাঁর আশা, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী মৌসুমে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

    কৃষক মো. এখলাস বলেন, ইউটিউবের ভিডিও দেখে সাম্মাম চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এবার পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। এতে আর্থিক লাভের পাশাপাশি নতুন ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও হয়েছে। প্রথমবারের সাফল্যে তিনি আশাবাদী। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ ফল চাষ করতে চান।

    কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শিবুরাম কৃষ্ণ দে বলেন, ইউটিউব দেখে এখলাস সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করেন। শুরু থেকেই তার উদ্যোগের খোঁজখবর রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যে খেতে গিয়ে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    খেতে কাজ করা শ্রমিক রমজান আলী বলেন, সাম্মাম তাদের কাছে নতুন ধরনের ফল। এ ফসল চাষ করতে গিয়ে নতুন অনেক কাজ শিখতে হয়েছে। মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করেছেন। খেতে ভালো ফলন হওয়ায় তারাও আনন্দিত।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, মরু অঞ্চলের ফল হিসেবে পরিচিত সাম্মাম ফটিকছড়িতে কয়েক বছর ধরে চাষ হচ্ছে। তবে এবার কৃষি উদ্যোক্তা এখলাসের উদ্যোগে কাঞ্চননগরের ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ হয়েছে। এতে তিনি ভালো সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, নতুন ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং সফল উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা কৃষি বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম। এখলাসের এ সাফল্য অন্য কৃষকদেরও প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করছেন তারা।

  • কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ- বিশ্বব্যাংক

    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ- বিশ্বব্যাংক

    জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। ২০৪৫ সালে দেশে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সময়কাল শিখরে পৌঁছাবে। অথচ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। অন্যদিকে বাড়তে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারলে জনসংখ্যাগত সুবিধা অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। ২০৪৫ সালে এ সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পেলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি বার্ধক্যপ্রবণ অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশও ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীপ্রধান দেশে পরিণত হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবছর গড়ে ০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর এই সুবিধা স্থায়ী হবে না। ২০০০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বার্ষিক অবদান কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে।

    বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো আগের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই নীতিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুস্থ প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখে দ্বিতীয় দফায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল বয়সকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি, নারীদের শ্রমবাজারে কম অংশগ্রহণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করেছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও জরুরি।

    প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘায়ু বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই অনেকের। স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং পেনশন ব্যবস্থাও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। আর প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কভারেজগুলোর একটি।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে। সময় থাকতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না গেলে এই পরিবর্তনের সুফল ধরে রাখা কঠিন হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাসের হাতছানি

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাসের হাতছানি

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক (৫১ জন) মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের।

    এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।

    নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী।

    তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী।

    এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরো বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে।

  • এনডিটিভির সাংবাদিক থেকে ওমর আব্দুল্লার স্ত্রী

    এনডিটিভির সাংবাদিক থেকে ওমর আব্দুল্লার স্ত্রী

    ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন ভারতের পরিচিত টেলিভিশন সাংবাদিক নিধি রাজদান। প্রায় দুই দশক তিনি দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে সাংবাদিকতা করেছেন।

    দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতেন নিধি। এছাড়া লেখালেখিতেও রয়েছে তার পরিচিতি।

    ১৯৭৭ সালের ১১ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় জন্ম নিধি রাজদানের। তার বাবা মহারাজ কৃষ্ণ রাজদান ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি একসময় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    দিল্লির অ্যাপিজে স্কুলে পড়াশোনা শেষে লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন নিধি। পরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন (আইআইএমসি) থেকে রেডিও ও টেলিভিশন সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

    ১৯৯৯ সালে এনডিটিভিতে যোগ দেন নিধি। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন। এ সময় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার’, ‘ইন্ডিয়া ডিসাইডস ৯’, ‘দ্য লিড’ ও ‘দ্য বিগ ফাইট’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। ২০২০ সালের জুনে এনডিটিভি ছাড়েন নিধি।

    টেলিভিশন সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন নিধি। তার কাজের বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর, তিব্বত এবং যুক্তরাজ্যে ট্রেন বোমা হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি।

    লেখক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় নিধির বই ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার: দ্য আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’। বইটি সমালোচকদের প্রশংসা পায়।

    সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন নিধি। জম্মু-কাশ্মীর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিবেদন তৈরির জন্য তিনি রামনাথ গোয়েঙ্কা অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন জার্নালিজম পান। এ ছাড়া কাঠুয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন নিধি। তবে ২০০৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

    সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওমর লেখেন, ‘গতকাল থেকে নতুন এক যাত্রা শুরু হলো।’ নিধিও একই মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কিভাবে পরিচয় হলো, তা জানায়নি দুজনের কেউ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। তবে দেশটির বিপুলসংখ্যক নাগরিক ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেন না। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরের তুলনায় কম থাকে।

    চলতি শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে ছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার অংশ নেন, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড।

    অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে এই হার কমে ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি হয়।

    তবে এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের সংখ্যা আগেরবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছিলেন প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

    এবারের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের নির্বাচনে দেওয়া মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ভোটের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে ভোট দেওয়ার ধরনে পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবণতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    আগাম ভোটের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এতে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি সত্যিই বাড়বে, নাকি ভোটাররা শুধু ভোট দেওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করছেন—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

  • ১ জানুয়ারি থেকে বিনা টিকিটে জাদুঘর ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

    ১ জানুয়ারি থেকে বিনা টিকিটে জাদুঘর ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

    আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বিনা টিকিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবে।

    শিক্ষার্থীদের দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা বিকাশে এক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার নগর ভবনে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ডিএসসিসি এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রথম পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো। আমরা চাই, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।

    তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগে সাড়া দেওয়ায় আমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

    সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

    স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, পরিবহন এবং খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

    আরও পড়ুন: দক্ষতা উন্নয়নে যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে চায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে সংস্থাটি। অন্যদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গাইডেড ট্যুর, প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবার ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানো হবে।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, মোটা অঙ্কের জরিমানা

    জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, মোটা অঙ্কের জরিমানা

    গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি সৌদি আরব থেকে পাচারের চেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে পানির চালান। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহদ কজওয়ে শুল্ক চেকপোস্টে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়ি তল্লাশি করে ডিকির ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাওয়া যায়। তবে পানি বহনের বিষয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষকে কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।

    রিয়াদের দ্বিতীয় প্রাথমিক শুল্ক কমিটির এক রায়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের পণ্য ঘোষণা না করে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা শুল্ক পাচার হিসেবে গণ্য।

    কমিটি জব্দ করা পানির সমমূল্য ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা করার পাশাপাশি পুরো চালান বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।

    এ ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলি ওই ব্যক্তির কারাদণ্ড, জরিমানা ও জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্তের আবেদন করেছিলেন। তবে তার আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কারাদণ্ডের আবেদন নাকচ করে কমিটি। তাদের মতে, আরোপিত জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্তের শাস্তিই যথেষ্ট।

    উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর অভিন্ন শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার আওতায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

  • যুক্তরাজ্যে ভিসানীতি পরিবর্তন, ৫ বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    যুক্তরাজ্যে ভিসানীতি পরিবর্তন, ৫ বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেতে ১৫ বছর অপেক্ষার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীরা আগের নিয়মেই পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে এ পরিবর্তন এসেছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাবানা মাহমুদ। কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ১৫ বছর করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতার বিরোধিতা ও সমালোচনার পর পরিচর্যাকর্মীদের জন্য নীতিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি পরিচর্যাকর্মী বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তারা আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হবেন। যারা ভিসার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তারা আরও পাঁচ বছরের ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    সোমবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়; বরং এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে করোনা মহামারির পর দেশের প্রয়োজনের সময় যেসব পরিচর্যাকর্মী যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তাদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    অন্য অভিবাসীদের জন্য নতুন সময়সীমা

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করেন— এমন অধিকাংশ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে কিছু পেশা ও শ্রেণির জন্য ছাড় রাখা হয়েছে।

    বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ বেতনভোগী এবং চিকিৎসক ও শিক্ষকের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবদান রাখা ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হবেন। আর বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা সর্বোচ্চ করদাতারা তিন বছর পর আবেদন করতে পারবেন।

    এ ছাড়া ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কিংবা অন্য অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ বা পড়াশোনা করলে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ২০ বছর এবং এসবের কোনোটিই না করলে ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজনৈতিক চাপ

    পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে সরকারের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের ফলে করদাতাদের ওপর কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    কনজারভেটিভদের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, লেবার পার্টির ভেতরের বিরোধিতার কারণেই মাহমুদ তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নতুন পরিকল্পনাতেও সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এর বিস্তারিত ব্যয়-প্রভাব পর্যালোচনা পরে প্রকাশ করা হবে।

    গত মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বিদেশি পরিচর্যাকর্মী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। তাদের জীবনকালের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২০ কোটি পাউন্ড। তাদের প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের হিসাব যুক্ত করলে এ ব্যয় বেড়ে ৯৫০ কোটি পাউন্ড হতে পারে।

    নতুন পরিকল্পনায় আগের নিয়মে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হারাতে পারেন— এমন মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৫ লাখ ১৭ হাজারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপরও প্রভাব

    নতুন সিদ্ধান্তের আগে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার শঙ্কায় ছিলেন যুক্তরাজ্যে কর্মরত অনেক অভিবাসী। তাদের একজন বাংলাদেশি রাঁধুনি আশফাক জুনেদ। বার্মিংহামে কর্মরত এই অভিবাসী বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময় ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন।

    এদিকে হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় নিট অভিবাসনের মাধ্যমে ২৬ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন ১৩ লাখ থেকে ২২ লাখ মানুষ। এ বিষয়ে সরকারের মধ্যম হিসাব ১৯ লাখ।

    তবে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। রিফিউজি কাউন্সিলের ইমরান হোসেন অনিয়মিত পথে আসা এবং কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত নন— এমন শরণার্থীদের ৩০ বছর অপেক্ষার প্রস্তাবকে অন্যায্য ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

  • দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণ এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

    বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কর্মকর্তারাও।

  • আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি

    আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি

    ঘন কুয়াশার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)।

    মঙ্গলবার সকালে এ সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবুধাবি পুলিশ।

    এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দেশটির আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকালে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবুধাবি পুলিশ গাড়িচালকদের সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত গতিসীমার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় আর্দ্রতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও কুয়াশা বা হালকা কুয়াশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি এবং দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা নেমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

    বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বইতে পারে। পরে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতিবেগ বাড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থাকবে বলে জানিয়েছে এনসিএম।

  • বেলফো থেকে নাকবা: সশস্ত্র ইহুদিদের কতটা জানত ব্রিটেন?

    বেলফো থেকে নাকবা: সশস্ত্র ইহুদিদের কতটা জানত ব্রিটেন?

    ফিলিস্তিনে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগের বছরগুলোতে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানত ব্রিটিশ প্রশাসন। এমনকি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তাও দিয়েছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে সংরক্ষিত একসময়কার গোপন গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাংয়ের মতো ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গ্রাম ধ্বংস, নারী ও শিশু হত্যা এবং ফিলিস্তিনের বাইরে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল।

    ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ঘোষণা করেন। তবে ওই ঘোষণায় স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিদ্যমান অ-ইহুদি জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না করার শর্তও রাখা হয়েছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার বড় অংশই ছিল অ-ইহুদি।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইহুদিবাদী আন্দোলন বেলফোর ঘোষণাকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে থাকে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত ছিলেন না।

    ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর এমআই৫-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের প্রধান জেমস রবার্টসন এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বেলফোর ঘোষণা ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনকে বাধ্য করেনি। তার মতে, ইহুদিবাদী আন্দোলন ঘোষণাটির মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিল।

    রবার্টসন ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ইহুদিবাদী আন্দোলনের তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন—ব্যাপক প্রচার, অনিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইহুদিবাদী আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবি ও সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

    সন্ত্রাসের নিন্দা করলেও সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ

    ব্রিটিশ নথিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হ্যারল্ড ম্যাকমাইকেল লন্ডনকে জানান, ইহুদি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠন সশস্ত্র হামলার নিন্দা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

    একই বছরের অক্টোবরে ম্যাকমাইকেল পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মূল্যায়ন ছিল, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহানুভূতি বাড়ছিল। তবে তার এই পর্যবেক্ষণ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়ের সবাই হামলাকারীদের সমর্থন করতেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

    ব্রিটিশ গোয়েন্দা নথিতে ইরগুনের প্রচারপত্রের কথাও রয়েছে। এসব প্রচারপত্রে ফিলিস্তিনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা বাড়ে যে, ফিলিস্তিন থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থামবে না।

    ইহুদি এজেন্সির কার্যালয়ে বোমা হামলা নিয়ে প্রশ্ন

    ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জেরুজালেমে ইহুদি এজেন্সির সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ব্রিটিশ আর্কাইভের নথিতে উঠে এসেছে। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। নিহত সবাই ছিলেন ইহুদি। এ ছাড়া ৩৩ জন গুরুতর আহত এবং ৫১ জন সামান্য আহত হন।

    ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ হাইকমিশনার স্যার অ্যালান কানিংহামের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি গাড়ি ইহুদি এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করেছিল।

    গাড়িটির চালক ছিলেন মার্কিন কনস্যুলেটে কর্মরত ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান আন্তন কামিলো দাউদ। তিনি গাড়িটি চত্বরে রেখে ট্যাক্সিতে করে চলে যান। ইহুদি এজেন্সির একজন নিরাপত্তাকর্মী গাড়িটি ও চালককে চিনতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে জানান। পরে ওই ট্যাক্সিচালক তদন্তকারীদের বলেন, দাউদ তাঁকে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িটি সেখানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।

    ব্রিটিশ তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, ইহুদি এজেন্সি তদন্তে সহযোগিতা করেনি। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাগানাহর সদস্যরা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নথিতে উত্থাপিত এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

    ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ব্রিটিশ উদ্বেগ

    ১৯৪৮ সালের মার্চে এমআই৫-এর পরিচালক পার্সি সিলিটো দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের টনটনে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, ইহুদি এজেন্সি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে তাদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভবিষ্যতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে এসব প্রতিনিধি কূটনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, যা বিদেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করতেন, নতুন রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা কাঠামো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটেনের কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ১৯৪৮ সালের একটি গোয়েন্দা নথিতে ইহুদি এজেন্সিকে সম্ভাব্য ইহুদি সরকারের মতো একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সেখানে নিজস্ব সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হাগানাহর নজরদারির কথাও উল্লেখ ছিল।

    ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা ও বাস্তুচ্যুতির তথ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছে

    ১৯৪৮ সালের এপ্রিল নাগাদ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গ্রামে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিস্তারিত তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। ৯ এপ্রিল জেরুজালেমের কাছাকাছি আল-কাস্তাল গ্রামে হামলার বিবরণ দিয়ে একটি বার্তা পাঠান হাইকমিশনার কানিংহাম। এতে বলা হয়, ইহুদিবাদী যোদ্ধারা মর্টার ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে গ্রামটির বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

    পরবর্তী একটি ব্রিটিশ বার্তায় এক ইহুদি মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই হামলায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    ওই মুখপাত্র আরো স্বীকার করেন, আল-কাস্তালে হামলার বিষয়ে হাগানাহর আগে থেকেই জানা ছিল। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বাইরেও তৎকালীন ট্রান্সজর্ডান পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    ব্রিটিশ নথিতে তিবেরিয়াস হ্রদের কাছে নাসর আল-দিন গ্রামে প্রায় ২০০ ইহুদিবাদী যোদ্ধার হামলার তথ্যও রয়েছে। ওই ঘটনায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। একই বছরের ১৪ এপ্রিল তিবেরিয়াসের একটি ফিলিস্তিনি বাজারে মর্টার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়।

    ইহুদি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরব লিজিয়নের ভূমিকা

    ব্রিটিশ আর্কাইভে সংরক্ষিত ১৯৪৮ সালের ২৮ মে তারিখের আরেকটি নথিতে জেরুজালেমের ইহুদি কোয়ার্টারের আত্মসমর্পণের পর সেখানকার ইহুদি বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের সঙ্গে জর্ডানের আরব লিজিয়নের আচরণের বিবরণ রয়েছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর জর্ডানের বাহিনীর কাছে ওই এলাকার আত্মসমর্পণের সময় লিজিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল-তাল।

    ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন স্পেনের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি পাবলো দে আজকারাতে। তার বিবরণ অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের পর ইহুদি বন্দি ও বেসামরিক নাগরিকদের হয়রানি করা হয়নি। আরব সেনারা বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের সহায়তা করেছিলেন। বিচ্ছিন্নভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটলে আরব লিজিয়ন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

    আল-তালের ভূমিকার প্রশংসা করে আজকারাতে বলেন, তার নেতৃত্বে পুরো অভিযানে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তার এই সাক্ষ্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পরে ব্রিটিশ ও মার্কিন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেরুজালেমে ব্রিটিশ মিশনের পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন কনস্যুলেটকে আরব লিজিয়নের আচরণ সম্পর্কে জানানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, এ বিবরণ মার্কিন সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছাবে।

    নথিতে উঠে আসা ব্রিটিশদের জানা তথ্য

    ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিক তথ্য ছিল। ব্যালফোর ঘোষণার ব্যাখ্যা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ—সবই এসব নথিতে উঠে এসেছে।

    ১৯৪৮ সালের নাকবার আগে ফিলিস্তিনে কী ধরনের সহিংসতা চলছিল এবং সে সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কতটা অবগত ছিল, তা বুঝতে এসব দলিল গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

In English

English edition · Older English stories