BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুল ইসলাম হাওলাদার দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রামের মরহুম মমিন উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন-চার বছর আগে আপন ছোট ভাই বেল্লাল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় নিহতদের বোন ফিরোজা বেগম কাঁঠালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর এক বছর আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন নুরুল ইসলাম।

    স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মামলার বাদী ও নিহতের বোন ফিরোজা বেগম জমি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। এ সময় নুরুল ইসলাম মামলাটি তুলে নেয়ার অনুরোধ জানালে দুই ভাই বোনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

    স্বজনরা আরো জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে এক প্রতিবেশীর আমগাছের ডালের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন নুরুল ইসলাম। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

    নিহতের ছেলে অটোচালক সাকিব হাওলাদার ও স্ত্রী পাখি বেগম জানান, দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে হয়তো নুরুল ইসলাম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

    কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ, আর

  • ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে মেরে ইজিবাইকের যাত্রী  নিহত, শিশু আহত

    ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে মেরে ইজিবাইকের যাত্রী নিহত, শিশু আহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় কল্যাণী অধিকারী (৫৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইক থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ঋতুপর্ণা অধিকারী (১০) নামে এক শিশু।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নরনিয়া বাস টার্মিনালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কল্যাণী অধিকারী কেশবপুর উপজেলা সদরের সাহাপাড়া এলাকার আনন্দ অধিকারীর স্ত্রী এবং শিশু ঋতুপর্ণা একই এলাকার গোপাল অধিকারীর মেয়ে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চুকনগর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ইজিবাইক কেশবপুর যাচ্ছিল। ইজিবাইকটি চুকনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০ মিটার দূরে নরনিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকে থাকা যাত্রী কল্যাণী অধিকারী ইজিবাইক থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া শিশু ঋতুপর্ণা অধিকারীও ইজিবাইক থেকে পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

    খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সার্জেন্ট দিপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পালিয়ে যায়। তবে ইজিবাইকটি খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। এ,আর

  • তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে আব্দুল জলিল নামে এক বিএডিসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহিষলুটি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জানা গেছে, মহিষলুটি বাজারের মমতাজ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কৃষকদের অভিযোগ তিনি দীর্ঘদিন সরকারি মূল্যের চেয়ে বিশি দামে সার বিক্রি করে আসছিলেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেশি দামে সার বিক্রি ও স্টক খাতায় কৃষকের মোবাইল নম্বর না থাকায় আব্দুল জলিলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান।

    এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমিলিয়া জান্নাত জানান, সারের পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ রয়েছে। সার বিক্রির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কেউ দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইউএনও নুসরাত জানান, কৃষকদের অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সরিষা মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষককে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যায়। তাই বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

  • আবার বন্ধ হলো হরমুজ

    আবার বন্ধ হলো হরমুজ

    পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সম্প্রতি ওই সমুদ্রপথে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটার পর ইরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, প্রণালিটি আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং কোনো দেশের জাহাজই এটি ব্যবহার করতে পারবে না।Advertisement

    আইআরজিসি নেভি শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক কড়া হুশিয়ারিতে জানিয়েছে, যারা ইরানের এই নির্দেশ অমান্য করে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের চরম মাশুল গুনতে হবে। মার্কিন বাহিনীর ওপর ভরসা করার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে, জাহাজগুলোকে আগুনে পুড়েই তা টের পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে পানিতে পুঁতে রাখা একটি মাইনের আঘাতে একটি বিশাল তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যাওয়ার মাধ্যমে। এরপরের দিন থেকে সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকাতেও আরও অন্তত দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া যায়। একের পর এক এই বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনার পরই গোটা অঞ্চলের থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিল।

  • চৌগাছায় পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম সবুজের জানাজা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম সবুজের জানাজা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক ওবায়দুল ইসলাম সবুজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ আসর পাশাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
    শনিবার সকালে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯ টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। হাম ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ ছালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস ও মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা এনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও অ্যাডভোকেট আলিমুদ্দিন খান , বিএনপি নেতা পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।
    জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওবায়দুল ইসলাম সবুজের মৃত্যুতে পাশাপোল ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
    মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ,আর

  • যন্তর মন্তর যেভাবে হলো কেন্দ্রবিন্দু

    যন্তর মন্তর যেভাবে হলো কেন্দ্রবিন্দু

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন ও রাজপথের আন্দোলনের প্রতীক যন্তর মন্তরকে আর বিক্ষোভের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে যন্তর মন্তর থেকে প্রতিবাদের তকমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এখন থেকে বড় ধরনের গণজমায়েত ও বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে দেখা যায়, ১৭২৪ সালের দিকে জয়পুরের মহারাজা সাওয়াই দ্বিতীয় জয় সিংহ মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের নির্দেশে এই জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রাচীনকালে খালি চোখে নক্ষত্র ও গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এটি তৈরি করা হয়। ইট ও সুরকি দিয়ে তৈরি এই চত্বরে সম্রাট যন্ত্র, রাম যন্ত্র, জয় প্রকাশ যন্ত্র ও মিশ্র যন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলো ছিল, যা মূলত সময় ও গ্রহের অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হতো।

    পরবর্তী সময়ে ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে যন্তর মন্তর এক অনন্য স্থান করে নেয়। আগে ইন্ডিয়া গেটের বোট ক্লাব কিংবা রামলীলা ময়দানে বড় বড় রাজ রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতো। তবে সংসদ ভবনের ৩ কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছে নিজেদের দাবি আদায়ের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হয়ে ওঠে। কড়া নিরাপত্তার কারণে সংসদ ঘেরাও অসম্ভব হলে যন্তর মন্তরকেই প্রতিকী পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হতো, যেখানে সংসদ চলাকালীন জনপ্রতিনিধিরাও এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে পারতেন।

    ভারতের আধুনিক ইতিহাসের বহু বড় বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নীরব সাক্ষী এই স্থানটি। ২০১১ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারে এই যন্তর মন্তরেই ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেছিলেন, যা তৎকালীন সরকার ও দুর্নীতি দমন আইন পাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ২০১২ সালের আলোচিত ‘নির্ভয়া’ ঘটনার পর হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ এই স্থানেই জমায়েত হয়ে কঠোর আইনের দাবি জানিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নতুন নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের সময় বহু মানুষকে এই চত্বরেই একত্রিত হতে দেখা যায়।

    সাম্প্রতিক ইতিহাসেও এর প্রভাব বজায় ছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও এপ্রিলে কুস্তি ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগির ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক ও বাজরং পুনিয়ারা দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এমনকি ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনও এই যন্তর মন্তরেই অনুষ্ঠিত হয়, যা ব্যাপক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। দীর্ঘসময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়া ঐতিহাসিক এই স্থানটি এখন থেকে ফের কেবল তার প্রাচীন স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের জন্যই পরিচিতি পাবে।

  • সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে চাই ইরান: আরাগচি

    সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে চাই ইরান: আরাগচি

    সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি।

    বাগদাদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে বৈঠকে আরাগচি বলেন, ইয়েমেনকে ঘিরে গত ১২ বছরের উত্তেজনা ও সংঘাত প্রমাণ করেছে, এ সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

    ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে দুই মন্ত্রী বৈঠক করেন। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে দায়ী করেন আরাগচি। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলা বিভিন্ন রূপে এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দখলদারত্ব ও গণহত্যা বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • মহেশপুর প্রেস ক্লাবের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    মহেশপুর প্রেস ক্লাবের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    পরিবেশ রক্ষা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে দুই দিনের সফরে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী ও ডিমেরচর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর প্রেস ক্লাব। এ সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে বনের বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ পরিবেশদূষণকারী বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

    মহেশপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ দুই দিনের সফরে সুন্দরবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। অভিযানে সংগৃহীত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যথাযথভাবে ধ্বংস করার জন্য কটকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান এবং কচিখালীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ মজুমদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জোয়ারের পানির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ভেসে আসে। পরে এসব বর্জ্য বনের স্থলভাগে আটকে থেকে দীর্ঘদিন পরিবেশ দূষণ করে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও জলজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

    এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মহেশপুর প্রেস ক্লাবের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সুন্দরবনকে দূষণমুক্ত রাখতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও পর্যটকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।

    মহেশপুর প্রেস ক্লাবের(গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর-২৬)দুই দিনের এ সফরে কটকা, কচিখালী ও ডিমেরচর এলাকায় বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।এসময় ইতিবাচক কাজের স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শরণখোলার এসিএফ শরিফুল ইসলাম। এই বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য অরিন্দম দেবনাথ । মহেশপুর প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব দেন সভাপতি আব্দুর রহমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবর আলী বাবু। বর্জ্য অপসারণে অংশ গ্রহন করেন- আবুল কাসেম,মাহামুদুল হাসান মিলন, ওসমান গনি, মেহেদী হাসান সিরাজি,নাজমুল হাসান, আব্দল হামিদ, শামীম আহমেদ, আব্দুল হালিম চঞ্চল, খালিদ হোসেন, আসাদুল শাহাদাৎ হোসেন ও নাঈম। এ,আর

  • মহেশপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে  শাড়ি বিতরণে এমপি মতিয়ার রহমান

    মহেশপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণে এমপি মতিয়ার রহমান

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঝিনাইদহের মহেশপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় ১৮৪ জনের মাঝে বিনামূল্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

    শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার’, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত শাড়ি উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রভাষক মোঃ মতিয়ার রহমান।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রঞ্জন কুমার, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার এবং মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ,আর

  • সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপে শ্রীলঙ্কার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়

    সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপে শ্রীলঙ্কার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়

    জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের জেরে শনিবার পুরো শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় চাহিদার তুলনায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বেশি হওয়ায় গ্রিডে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

    রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা (ইডিএল) জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডের ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে এ বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুনাথিলাকা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে। এ কাজে সহযোগিতার জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাগুলো বিচ্ছিন্ন রাখতে মালিকদের অনুরোধ করেছেন তিনি।

    এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও একইভাবে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়েছিল। সেদিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তখন ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

    শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অথচ দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

    কর ছাড়ের সুবিধা পেয়ে দেশটিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। গ্রাহকেরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। তবে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এতে ২০২৪ সালের তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা ৩৮৮ শতাংশ বাড়বে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • অভিজিৎকে মুক্তির নির্দেশ আদালতের

    অভিজিৎকে মুক্তির নির্দেশ আদালতের

    ভারতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আটকের এক দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার দিল্লির একটি আদালত তার মুক্তির নির্দেশ দেন। এ জন্য তাকে ৫০ হাজার রুপির বন্ড জমা দিতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিজিৎ। নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।

    অভিজিতের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও শুক্রবার আটক করা হয়েছিল। শনিবার ভোরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিজিৎকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভকারীদের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের আগাম আটক করা হয়। তবে পুলিশি বাধার মধ্যেও শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি ছোট মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    দিল্লি পুলিশ আইনের আওতায় আটকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎকে নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎকে আটক করা হয়েছিল। সে সময়ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় এক বছরের জন্য শান্তি বিঘ্নিত করবেন না—এমন অঙ্গীকারনামায় তাকে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল।

    মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন নেহা বোরা। তিনি এসব আটকের ঘটনাকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি জানান তিনি।

  • আন্দোলনে যোগ দিল থালাপতি বিজয়ের দল

    আন্দোলনে যোগ দিল থালাপতি বিজয়ের দল

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চেন্নাইতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)।

    বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।

    ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ের এ কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।

    ১০ অক্টোবর চেন্নাইতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর দলটি কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিল।

    কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ ফার্স্ট’ জানিয়েছে, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় এবং তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলির নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বেশ কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।

    সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের বিজয়ের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম বৈঠক।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি ভোটারকে সুপরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই মুসলিম, ক্ষুদ্র-জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। শুধু তামিলনাড়ু থেকেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

  • সাফে খেলবে তো ভারত?

    সাফে খেলবে তো ভারত?

    টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত। ছয় দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তবুও আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত কেমন দল নিয়ে খেলবে, তা এখনো অজানা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

    সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) অবশ্য জানিয়েছে, ভারত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা দেয়নি। তবে মাঠের প্রস্তুতি ও দল গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

    ভারতের সামনে বড় বাধা আন্তর্জাতিক সূচির সংঘাত। ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে দেশটির জাতীয় দল। সেখানে ১২ ও ১৫ নভেম্বর স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা তাদের।

    অথচ ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলবে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর। ৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা ভারতের। তাদের প্রথম ম্যাচটি ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই। এই সময়ে ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়। চলমান ঘরোয়া মৌসুমের ব্যস্ততার মধ্যে ভারতীয় সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাবগুলোও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়তে অনাগ্রহী। ফলে সিনিয়র দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নিয়ে সাফে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে ভারতের জন্য।

    এই পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর বিকল্পও ভেবেছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবগুলো। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ইউনিটি কাপের ক্যাম্প থেকে মোহনবাগান নিজেদের খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে নেওয়ার পর দুর্বল দল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়েছিল ভারত। তবে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে সাফে ভালো করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েই শিরোপা জিতেছিল দলটি।

    ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দলটির নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর। সাফ এক বিবৃতিতে সেই খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআইএফএফের কাছ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা আসেনি। ঘোষিত ছয় দলকে নিয়েই নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে সাফের বক্তব্যে ভারতের দল নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

    টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, অথচ এখনো দল ঘোষণা করেনি এআইএফএফ। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য সিনিয়র দলকে প্রস্তুত করা এবং ঘরোয়া ক্লাবগুলোর অনীহার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় ভারত নিজেদের সেরা দল, নাকি অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু করে এখন ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন পিতা-পুত্র হযরত আলী ও রাসেল হোসেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর পরিশ্রমে তাদের এ উদ্যোগ এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

    উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠে সেতুসংলগ্ন কৃষিজমিতে ২০১৪ সালে তারা এ বাগান ও নার্সারি গড়ে তোলেন। পাঁচ বিঘার পেয়ারা বাগান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ৭০ বিঘায় পৌঁছেছে।

    বাগানে উৎপাদন বাড়াতে তারা ইন্টারনেটে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও সার প্রয়োগের কৌশল শেখেন। পরে সেসব পদ্ধতি নিজেদের বাগানে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উৎপাদন।

    বর্তমানে বাগানের ৩০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, কলা, আঙুর, বরই, সফেদা, স্ট্রবেরি ও লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ হচ্ছে।রাসেল হোসেন জানান, বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এতে ফলের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক পরিচর্যার কারণে গত বছরের তুলনায় পেয়ারার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এসব পেয়ারার চাহিদাও ভালো।

    হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করছেন। এতে ক্রেতারা তাজা ফল পাচ্ছেন, পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হযরত আলী ও রাসেল হোসেনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও আধুনিক ও লাভজনক মিশ্র ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তরুণদের কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। হযরত আলী ও রাসেলের উদ্যোগ প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কৃষিকে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব। নিজ এলাকায় থেকেই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও তাঁদের সাফল্যে ফুটে উঠেছে।

  • রাশিয়ার ওপর শুল্ক আইন স্থগিত করলেন ট্রাম্প

    রাশিয়ার ওপর শুল্ক আইন স্থগিত করলেন ট্রাম্প

    রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার এক দিন আগেই তা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত মাসে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি আইনে সই করেছিলেন তিনি।


    ওই আইনে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস এক নির্বাহী আদেশ প্রকাশ করেছে। ওই আদেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ওপর এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি করতেই গত মাসে ওই আইন পাস করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার প্রতি অপেক্ষাকৃত নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি ইউক্রেনে একজন নতুন নেতা নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।


    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপে রয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা।

    দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারত।

    আইনটি কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনত, তাদের পণ্যেও এ শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

    ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, তিনি বা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন ট্রাম্প।

    এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, ‘পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আবারও আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের শাস্তি দিতে প্রণীত আইনটির বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিপ্রায়কেও তিনি উপেক্ষা করেছেন।’

    সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল নিয়ে একটি চুক্তির কারণেও কয়েকজন মার্কিন সিনেটরের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সদস্যরাও ছিলেন।

    ওই চুক্তিতে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিনিময়ে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানির দাম কমানো। তবে সমালোচক আইনপ্রণেতারা বলেছিলেন, এ চুক্তির

  • ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি?

    ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি?

    আগামীকাল রোববার ভুটানের থিম্পু সফরে যাওয়ার কথা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর।

    সরাসরি থিম্পুর ফ্লাইট না থাকায় বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করতে পারেন ফিফা সভাপতি। থিম্পু যাওয়ার পথে ঢাকায় ট্রানজিট নেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    দুই সপ্তাহ আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের। তখনই এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যাত্রাপথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোনো বিমানবন্দরে ট্রানজিট নিতে পারেন ফিফা সভাপতি। তবে ইনফান্তিনো বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি বাফুফে। তারপরও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

    এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান বাফুফের সাধারণ সম্পাদক। ফিফা সভাপতি ঢাকায় ট্রানজিট নিলে এবং তিনি চাইলে, যাতে দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়েই প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
    ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরের ভিআইপি জোনে অবস্থান করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহসভাপতিরা। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে ফিফা সভাপতির যাত্রাপথ ও ট্রানজিট নেওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

  • ভারত এখন ফুটন্ত পরিস্থিতির ন্যায়- সালমান রুশদি

    ভারত এখন ফুটন্ত পরিস্থিতির ন্যায়- সালমান রুশদি

    ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    নিউইয়র্কে এক রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত নৈশভোজে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ ব্রিটিশ সাহিত্যিক বলেন, ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি গেরুয়া শিবিরেরও সমালোচনা করেন।

    এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজিত ওই নৈশভোজে বক্তব্য দেন রুশদি। তিনি বলেন, ‘ভারতের অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা দীর্ঘদিন পর আমাদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।’

    রুশদি বলেন, ‘ভারতে একটা ঘটনা ঘটছে বটে। পরিস্থিতি ফুটন্ত অবস্থায় রয়েছে। আমি এমন একটা কথা বলব, যা হয়তো রেস্তোরাঁয় বলা উচিত নয়—ককরোচদের আন্দোলনকে “উদ্‌যাপন” করুন। ভারতের অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েরা দীর্ঘদিন পর আমাদের মধ্যে একটা আশার আলো জাগিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান।’

    সালমান রুশদির ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন সাংবাদিক ও লেখক অমিতাভ কুমার।

    রুশদি শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, একসময় ভারতে বিভিন্ন ধর্মের উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিতেন। এর মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ। তিনি বলেন, তিনি যখন ‘বোম্বেতে’ বড় হচ্ছিলেন, তখন কেউ হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান না পার্সি—তা দেখা হতো না। সবাই একসঙ্গে সবকিছু উদ্‌যাপন করত। কিন্তু ভারতে এখন তা দেখা যায় না।

    সালমান রুশদির বক্তব্যের পর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মহল এবং ডানপন্থী চিন্তকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একসময় ‘ইসলামি কট্টরপন্থা’র বিরুদ্ধে লেখনীর জন্য হিন্দুত্ববাদী মহল রুশদিকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক’ হিসেবে প্রশংসা করলেও মোদি সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার হওয়ায় এখন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ তারা।

    অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রুশদির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নিউইয়র্কের ওই নৈশভোজে তরুণদের আন্দোলনকে সমর্থনের মাধ্যমে রুশদি ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সংবেদনশীল জায়গাটিতে আঘাত করেছেন। এ জন্য তাঁকে এখন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মূল অনুষ্ঠানের বাইরে তাঁর জন্মদিনও পালিত হয়। সেখানে তিনি নিজেকে ‘ককরোচদের মা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ভারতে ‘আরশোলারা’ গণতন্ত্রের জন্য লড়ছে এবং এ জন্য মা হিসেবে তিনি গর্বিত।

  • ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড়ের ঢালে ঢালে বাড়ছে কলার আবাদ। কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রান্তিক কৃষকেরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কলা সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে সারসংকট, সরকারি প্রণোদনার অভাব ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না চাষিরা।

    উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে বছরজুড়েই বাংলা, চাপা, সাগর, সরবি ও কাঁচকলার চাষ হয়। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কলার ফলন বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রবিবারেই পানবাজার ও আমতলী নদীঘাট থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ছড়া কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিমুখ কর্মকারপাড়া এলাকার দুই তরুণ কৃষক মো. হাসান ও খুরশেদ আলম ১০ একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। তাঁরা জানান, প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০টি কলার ছড়া বিক্রি করেন। ছড়াপ্রতি দাম পান ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা গেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

    কলা পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। চকরিয়ার ব্যবসায়ী মো. শামশুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও টোলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলা পরিবহনে ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আকার ও গুণগত মানের কারণে পাহাড়ি কলার চাহিদা ভালো।

    কৃষকদের মতে, পর্যাপ্ত সার, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আলীকদমে কলা চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আলীকদমে মোট ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি ও পাহাড়ের ঢালে কলার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা কলা ৬৭৭ হেক্টর, চাপা কলা ৩৫৪ হেক্টর, সাগর কলা ৫২ হেক্টর, সরবি কলা ২৭ হেক্টর এবং কাঁচকলার আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, পাহাড়ের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই কলাগাছ বেড়ে ওঠে। চারার আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা, মরা পাতা অপসারণ এবং অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলার মতো পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষ করা হয় বলে এ কলার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি।

    তিনি আরও বলেন, উপজেলায় সারের চারজন ডিলার থাকলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব কৃষকের মধ্যে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় জনগণ হতাশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনআস্থা অর্জনে জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় জামায়াতের গাজীপুর মহানগরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

    সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে।

    এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দের। স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।’

    বরগুনার আহত নেতার পাশে
    সন্ত্রাসী হামলায় আহত বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসানকে দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই চিফ হুইপকে ফোন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তে দায়ীদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছি। দেশে সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই।

    হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
    এর আগে ৫ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেন জামায়াত আমির। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও অর্ধকোটি নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • রোহিঙ্গা মামলার রায়ে বদলে যাচ্ছে গণহত্যার সংজ্ঞা

    রোহিঙ্গা মামলার রায়ে বদলে যাচ্ছে গণহত্যার সংজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গাম্বিয়া। রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে করা এই মামলার রায় আসন্ন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের হেগের এই আদালত রায় ঘোষণা করতে পারে। মামলার যে রায় দেয়া হতে পারে তাতে বদলে যেতে পারে বিশ্বের গণহত্যার সংজ্ঞা।

    মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ নিপীড়নের বিচারিক স্বীকৃতিই মিলবে না, বরং আন্তর্জাতিক আইনে ‘গণহত্যা’র সংজ্ঞায়ন এবং গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

    বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। আদালত যদি মিয়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে এটিই হবে আইসিজের ইতিহাসে সরাসরি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা চালানোর প্রথম রায়।

    কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দাবি
    রোহিঙ্গা সাক্ষীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা লিগ্যাল অ্যাকশন ওয়ার্ল্ডওয়াইড (ল’)-এর নির্বাহী পরিচালক আন্তোনিয়া মালভে জানান, বিশ্ব আদালতের এই রায় কক্সবাজারের শরণার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬ ভাগ রোহিঙ্গা মনে করে তাদের জন্য আসল বিচার হলো মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া এবং নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয়ের অধিকার নিশ্চিত করা।

    তারা শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা অপরাধীদের সাজাই চায় না, বরং সমস্যার মূল উৎপাটন চায়। তারা ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বাতিল, ভিটেমাটি ফেরত এবং পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা দাবি করছে।

    গণহত্যার প্রমাণ ও মিয়ানমারের যুক্তি
    চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুনানির সময় হেগের আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন তিনজন রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শী। তারা স্বজনদের হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। শুনানিতে উঠে আসে যে সেনারা প্রজননক্ষম বয়সের রোহিঙ্গা নারীদের চিহ্নিত করে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে।

    গাম্বিয়ার আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, অন্তত ৮ লাখ মানুষের ওপর চলা এই নির্বিচার নিপীড়ন, শিশুদের হত্যা এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছনের দিকে গুলি চালানো কোনোভাবেই সাধারণ কোনো অভিযান হতে পারে না। এটি ছিল স্পষ্টত একটি পুরো জাতিকে নির্মূল করার সুপরিকল্পিত অভিপ্রায়।

    অন্যদিকে মিয়ানমারের প্রধান প্রতিরক্ষা যুক্তি ছিল— তারা কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ পরিচালনা করেছে। তবে আইনজীবীরা এর জবাবে আদালতে তুলে ধরেন যে, কোনো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অজুহাতে নারী ও শিশুদের পুড়িয়ে মারা কিংবা বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া আইনসিদ্ধ হতে পারে না।

    এমনকি এক পর্যায়ে মিয়ানমার দাবি করে তারা নিধন করতে চায়নি, বরং দেশছাড়া করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্বিচারে হত্যা করে বিতাড়িত করাও গণহত্যার অংশ। বৃটেন, কানাডা, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলোও আইসিজেতে গাম্বিয়ার যুক্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

    ইসরাইল ও গাজা মামলার সমীকরণ
    ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল বেকার জানান, আইসিজের এই আসন্ন রায় আন্তর্জাতিক গণহত্যার আইনকে নতুন রূপ দিতে পারে। বিশেষ করে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের আড়ালে গণহত্যা চললে তা কীভাবে প্রমাণ করা যাবে, সে সংক্রান্ত নজির তৈরি হবে এখানে।

    গাজায় চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসরাইলও একই ধরনের যুক্তি দিয়ে আসছে যে তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়ছে, বেসামরিক নাগরিকদের নির্মূল করছে না। ফলে আইসিজে যদি মিয়ানমারের ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের’ অজুহাত প্রত্যাখ্যান করে গণহত্যার চূড়ান্ত রায় দেয়, তবে তা আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরাইলবিরোধী মামলায় তেল আবিবকে চরম আইনি চাপে ফেলবে।

    রায় কার্যকরের জটিলতা
    আইসিজের রায় চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হলেও তা সরাসরি কার্যকরের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা বা পুলিশ বাহিনী আদালতের নেই। কোনো দেশ রায় মানতে অস্বীকার করলে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ওঠে, যেখানে মিয়ানমারের পক্ষে রাশিয়া ও চীনের ভেটো দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

    তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে গিয়েও এই রায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্বমঞ্চে বিচ্ছিন্নতা এড়াতে যেকোনো ভবিষ্যৎ বর্মি সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় মানার দায় নিতেই হবে।

  • কৃষকরা শসা চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন

    কৃষকরা শসা চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো।

    কৃষকরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৫০-৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এ বছর আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার আবাদ। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল। কোথাও থরে থরে ঝুলছে শসা। কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসাভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাজারে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

    জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘শসার বীজ রোপণের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।’বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা বিক্রি করা যায় প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বছর মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। উপজেলায় প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। এ কারণে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।’

  • টেসলার উড়ন্ত গাড়ি সেকেন্ডেই গতি তোলে ৬০ মাইল

    টেসলার উড়ন্ত গাড়ি সেকেন্ডেই গতি তোলে ৬০ মাইল

    বহু প্রতীক্ষিত পরবর্তী প্রজন্মের রোডস্টার গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রদর্শনীর মাধ্যমে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। প্রদর্শনীতে এটি কমপ্রেসড-এয়ার থ্রাস্টার ব্যবহার করে বাতাসে উড়ে কলাকৌশল প্রদর্শন করে। এ খবর প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ । টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষামূলক কেন্দ্রে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়।

    সেখানে গাড়িটিকে শূন্যে উড়তে, মধ্যাকাশে ঘুরপাক খেতে এবং এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে দেখা যায়। প্রদর্শনীর পর টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেন, দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আসলেই উড়ন্ত গাড়ি থাকছে। টেসলার ভেহিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি যোগ করেন, উড়ন্ত গাড়ি এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।

    রোমাঞ্চকর এই প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নতুন রোডস্টার একটি বিশাল বাঁকানো র‌্যাম্প বেয়ে দ্রুতগতিতে উঠছে। ফ্যান-ভিত্তিক সাকশন সিস্টেমের কারণে এটি পুরোপুরি উল্টো অবস্থায়ও ট্র্যাকের সঙ্গে আটকে থাকে। এরপর কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটি র‌্যাম্প থেকে শূন্যে উৎক্ষেপণ করে, মাঝ আকাশে ভেলকি দেখিয়ে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। অন্য এক প্রদর্শনীতে গাড়িটি কয়েকটি কার ও সেমি-ট্রাকের ওপর দিয়ে উড়ে ও পাশ ফিরে গিয়ে অন্য প্রান্তে সফলভাবে অবতরণ করে।

    মাস্ক জানান, রোডস্টারের বিশেষ কিছু সংস্করণ শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেবে এবং এর সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি। টেসলা জানায়, সাধারণ গাড়ির গতি চাকার গ্রিপের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই থ্রাস্টার সিস্টেম টায়ারগুলোর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তি তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি একে মানুষের চালিত গাড়িগুলোর ইতিহাসের ‘সেরা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করেছে। টেসলার কর্মকর্তারা জানান, ২০২৮ সাল থেকে এই গাড়ির মূল উৎপাদন শুরু হবে।

    ২০১৭ সালে যখন রোডস্টারের প্রাথমিক কনসেপ্ট আনা হয়েছিল, তখন এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা)। উন্মোচনের পর টেসলার বুকিং পেজে দেখা যায়, ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের অগ্রিম বুকিং ফি ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং অ্যাক্সিলারেশন থ্রাস্টারসমৃদ্ধ ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণের বুকিং ফি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা)। এছাড়া ‘রকেট’ নামের একটি বিশেষ সংস্করণ কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে দেয়া হবে, যা একক আসনের এবং এতে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সিস্টেম থাকবে।

  • এবার সিনা ফার্মায় আগুন,  ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    এবার সিনা ফার্মায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। আজ শনিবার বিকেলে কারখানাটিতে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী  মৃত্যু

    কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

    কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাবিধুর। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

    নিহত শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. জেয়াদুল কবির এবং মায়ের নাম কাজল রেখা।

  • তথ্য কমিশনের প্রধান হলেন নাহরিন ইসলাম খান

    তথ্য কমিশনের প্রধান হলেন নাহরিন ইসলাম খান

    তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।

    একই সঙ্গে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার নির্ধারণ করবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • নিজ কলেজে প্রধানমন্ত্রী

    নিজ কলেজে প্রধানমন্ত্রী

    রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শনের একপর্যায়ে নিজের এক সময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। নিজের একসময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

    ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২৪-এর আন্দোলন সফল করেছিলে। এটা কি কোনো একক দল করেছিল? সবাই মিলে করেছিল, তাই না?’

    তিনি বলেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশ পুনর্গঠন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

    ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাতাস ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছে আমার দুটি আবেদন—দেশকে পরিষ্কার রাখবে এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবে। এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের।’

  • প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ২০ ডিসেম্বর, সূচি প্রকাশ

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ২০ ডিসেম্বর, সূচি প্রকাশ

    চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২০ ডিসেম্বর। চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি, ২২ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত এবং ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত এবং সভার সিদ্ধান্তের ৩ নম্বর ক্রমিকের ‘খ’ ও ‘ঘ’ অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৭২

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৭২

    সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

    হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ সময় হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধের উপায় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকের মৃত্যু হয়।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। আর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।

    তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।

  • চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। পরে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    পরিদর্শনকালে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টারের এলাকা, চলাচলের পথ ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

    তারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

  • সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত লিংকের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

    শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের সব অঞ্চলের পরিচালক ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মাউশি অধিদপ্তরের সব দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার যেসব ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হলো।

  • ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসার, ঝুঁকিতে কারা?

    ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসার, ঝুঁকিতে কারা?

    ধূমপান না করলেও ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। বংশগত বৈশিষ্ট্য, জিনগত পরিবর্তন ও পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সম্প্রতি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর টিস্যু পরীক্ষায় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। তাঁর ধূমপানের অভ্যাস বা অতীতে ধূমপানের ইতিহাস জানা যায়নি।

    ভ্যাটিকান জানায়, পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরে পরীক্ষা করে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের সঙ্গে ধূমপান জড়িত। তবে অধূমপায়ীরাও এ রোগে আক্রান্ত হন। দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা অধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

    ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

    পারিবারিক ইতিহাস, বিরল জিনগত পরিবর্তন, ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া ও রেডনের মতো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাইপ, চুরুটসহ তামাকজাত দ্রব্য এবং অতিরিক্ত গাঁজা সেবনও ঝুঁকির কারণ।

    সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইজিএফআর টি৭৯০এম নামের বিরল জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় এ পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধূমপান করেননি, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ৬২ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

    যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় লক্ষণ দেখা যায় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাশির সঙ্গে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ল্যারি রবিনসনের মতে, অধূমপায়ীদের মধ্যে রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসার সময় রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।

    উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী, যাঁদের ধূমপানের ইতিহাস অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার এবং যাঁরা বর্তমানে ধূমপান করেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ছেড়েছেন, তাঁদের প্রতিবছর লো-ডোজ সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সবার জন্য এ পরীক্ষা প্রয়োজন নয়; ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • পরিকল্পনা জানলেও পুলিশকে তথ্য দিচ্ছে না এআই

    পরিকল্পনা জানলেও পুলিশকে তথ্য দিচ্ছে না এআই

    কেউ হত্যাকাণ্ড বা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে—এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনে এমন ইঙ্গিত মিললেও পুলিশকে জানানো হচ্ছে না কেন? ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা রক্ষা, নাকি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হামলা ঠেকানো—কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো? কানাডায় স্কুলে বন্দুক হামলার আগে হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের তথ্য সামনে আসার পর এ প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে। এআইয়ের কাছে সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আইনজ্ঞ ও গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।

    ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে ভয়াবহ বন্দুক হামলা চালায় ১৮ বছর বয়সি জেসি ভ্যান রুটসেলার। প্রথমে সে নিজের বাড়িতে মা ও সৎভাইকে হত্যা করে। পরে টাম্বলার রিজের একটি স্কুলে গিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ আরো ছয়জনকে হত্যা করে। এরপর সে নিজেও আত্মহত্যা করে। প্রায় চার দশকের মধ্যে এটি ছিল কানাডায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্কুলে বন্দুক হামলা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার আগে জেসি গণহত্যা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন করেছিল। গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জেসির সঙ্গে হামলার পরিকল্পনায় ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনে।

    এ ঘটনায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া সরকার ওপেনএআই ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগে বলা হয়, হামলা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি এবং জেসির কথোপকথন সম্পর্কে তাদের জানাশোনা ছিল। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও আলাদাভাবে মামলা করেছেন। কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে না পারার ব্যর্থতার জন্য ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    এ বিষয়ে আলজাজিরা মন্তব্য জানতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটি সাড়া দেয়নি।

    তবে কথোপকথনে সহিংসতার ইঙ্গিত পেলেই পুলিশকে জানানো উচিত কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী জেনিন ইউনুসের মতে, বাধ্যতামূলক নজরদারি ও তথ্য প্রকাশের নিয়ম নাগরিক স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। মানুষের ব্যক্তিগত চিন্তা বা অস্বস্তিকর ভাবনা পুলিশকে জানানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলে অনেকে এআই চ্যাটবট ব্যবহার এড়িয়ে যেতে পারেন।

    অন্যদিকে, এআইয়ের মাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা সংঘটনে সহায়তা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব কতটুকু, তা নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    গত আগস্টে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক এক ব্যবহারকারীর কথোপকথনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেইকে হত্যার হুমকির ইঙ্গিত পেয়ে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশকে সতর্ক করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যবহারকারী এআর-১৫ রাইফেলের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং আমোদেইকে নিজের নিশানায় রেখেছেন বলে দাবি করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তি পরে সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, তিনি মজা করেছিলেন এবং কাউকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়নি, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক ফজল বারেজ বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলো কাল্পনিক আলোচনা ও বাস্তবে সহিংসতা ঘটানোর বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার মধ্যে নির্ভরযোগ্যভাবে পার্থক্য করতে পারে না। সতর্ক করার সীমা খুব নিচে নির্ধারণ করা হলে লেখক ও গবেষকদের কথোপকথনও ভুলভাবে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আবার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করতে একাধিক কথোপকথনের ধরন ও ধারাবাহিকতা পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিচ্ছাকৃতভাবে সহিংস চিন্তা মাথায় আসা আর বাস্তবে হামলার পরিকল্পনা করা এক বিষয় নয়। কোনো কথোপকথনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তির উদ্দেশ্য, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও আচরণের ধারাবাহিকতা বোঝা জরুরি।

    ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক চিনমায়ি শর্মা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করার দায়িত্বের সঙ্গে এআই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের কিছুটা মিল রয়েছে। তবে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রশিক্ষিত কর্মী, সুস্পষ্ট মানদণ্ড ও প্রয়োগযোগ্য নিয়ম নেই। ফলে কোন কথোপকথন পুলিশকে জানানো হবে, তা নির্ধারণে পক্ষপাতের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বক্তব্য অতিরিক্ত সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে।

    কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডার ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের অধ্যাপক ব্রায়ান চোইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করার আইনি বাধ্যবাধকতা কিছু পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বর্তমান আইনি নজির অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, চ্যাটবট কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোচিকিৎসক নয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ কোনো সম্পর্কও নেই। তবে অবহেলা বা পণ্যের দায়সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকতে পারে। যদিও তা প্রমাণ করা কঠিন।

    সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে হুমকি শনাক্ত ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যই ভাগ করা উচিত, যাতে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, তাদের কথোপকথন কখন পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে সেই তথ্য অন্যের কাছে প্রকাশ করা হতে পারে।

    তবে হত্যার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো কখন পুলিশকে জানাবে, আর কখন ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করবে—এ প্রশ্নের কোনো সর্বজনস্বীকৃত সমাধান এখনো নেই।

  • হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৫

    হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৫

    দেশে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৫০ জনের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৫ জনের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

    নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৭ জনে। এ ছাড়া একই সময়ে আরও ৯৫০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯০ জন।

  • কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    শনিবার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।

    এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

    স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

    পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় হাম আক্রান্তে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু

    চৌগাছায় হাম আক্রান্তে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু

    যশোরের চৌগাছায় হাম আক্রান্ত হয়ে অবাইদুল ইসলাম সবুজ (৪০) নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    অবাইদুল ইসলাম সবুজ চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    স্বজনরা জানান, গত ৯ অক্টোবর সবুজ জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথম দুই দিন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। জ্বর না কমায় ১১ অক্টোবর তাঁকে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান তিনি হাম জ্বরে আক্রান্ত। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আগে থেকেই হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

    সবুজ পাশাপোল গ্রামের আব্দুস সামাদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন। অবাইদুল ইসলাম সবুজের বৈবাহিক জীবনে ৪ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

    বিষয়টি জানতে চাইলে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ হামজ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।

    তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    শনিবার আসরের নামাজের পর পাশাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

  • জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে উপাচার্যের (ভিসি) ভবনের পাশেই গরু জবাই করেছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত ‘শুক্রবারের গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভিসি ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়।

    এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গরুভোজ আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৪ অক্টোবর)। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
    বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার পেছনের কারণ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে গরুভোজের আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না।

  • সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অপরাধীদের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিককে দেয়ালে ঠেসে ধাক্কাধাক্কি করা, শার্টের কলার ধরে টানাটানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ সময় তার মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গণমাধ্যমের সংবাদদাতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কথা কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে কলা ভবনের পেছনের ঝোপে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন আবু তাহের। ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘ভিডিও যদি পোস্ট হয়, তোরে শেষ কইরা ফেলমু’, ‘ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু। ’

    প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত অভিযুক্তরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আব্দুল কাদির জিলানী, রায়হান আহমেদ, হোসাইন চৌধুরী, দিদারুল, মাছুদ রানা মবিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার। এছাড়া অশনাক্তকৃত রয়েছে আরও ২ জন।

    অভিযোগকারী আবু তাহের বলেন, কলা ভবনের পেছনে ঝোপের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করছিলেন। আমি দূর থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আমাকে ভিডিও করতে দেখে অন্যদের ডেকে জানান। এরপর কয়েকজন আমার কাছে এসে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তারা আমার সঙ্গে জোর জবরদস্তি করেন, দেয়ালে ঠেসে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। কয়েকজন আমার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভিডিও পোস্ট করলে আমাকে শেষ করে ফেলবেন। আমি কয়েকবার তাদের অনুরোধ করে ছেড়ে দিতে বলি। ভিডিওটি মুছে দিচ্ছি বলেও জানাই। কিন্তু এরপরও তারা আমাকে ছাড়েননি। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে আমাকে তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দেন।

    আবু তাহের জানান, এরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আবার তার কাছে এসে মুঠোফোন কেড়ে নেন। ফোনে থাকা ভিডিওটি মুছে ফেলার পর গ্যালারিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে তাকে ফোনটি ফেরত দেন তারা।

    এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান তালুকদারসহ একাধিক জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। দ্রুতই আমরা ব্যবস্থা নেব।

  • সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, বাড়ছে সতর্কতার তাগিদ

    সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, বাড়ছে সতর্কতার তাগিদ

    দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সবগুলোরই ক্রেডেনশিয়াল ওয়েবে পাওয়া গেছে। অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য এবং ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রেইন স্টেশন ২৩ আয়োজিত রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে

    সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এতে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকার ও শিক্ষাঙ্গণের প্রায় ১৫০ জন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাইবারস্টেশন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। তাদের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আমার হয়েছে। এটি সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধ ও মোকাবিলার কৌশল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

    এছাড়া, বাংলাদেশের ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং টেক স্পেশালিস্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, “যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা সামলাতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং অপরাধীরা অপব্যবহার করার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।”

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে।

    একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন করে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর এই তথ্য পাওয়া গেছে।

  • শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

    শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজন দেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রকাশ পায়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।

    তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপন করেন, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।

  • সুনামগঞ্জে চার শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

    সুনামগঞ্জে চার শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদানকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিন।

    সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মামুনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান, জেলা জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আজিজুল হক মাসুক এবং বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা লুতফুর রহমান প্রমুখ। এ,আর

  • ধর্মীয় স্বাধীনতায় অমুসলিমদের করণীয়

    ধর্মীয় স্বাধীনতায় অমুসলিমদের করণীয়

    ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে আমরা বুঝি, মানুষ স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো ধর্ম গ্রহণ করতে পারবে অথবা যেকোনো আকিদায় বিশ্বাসী হতে পারবে। অনুরূপভাবে, সে কোনো ধর্ম বা আকিদা গ্রহণ না করেও থাকতে পারবে। অর্থাৎ, যেকোনো ধর্ম বা আকিদা অবলম্বন করার বা না করার তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এতে তাকে কেউ জোর-জবরদস্তি করতে পারবে না। তবে তাকে জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে এবং যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে আহ্বান করা যাবে।ইসলাম একদিকে যেমন মানুষকে কোনো ধর্ম গ্রহণ করা বা না করার স্বাধীনতা প্রদান করেছে, অন্যদিকে যেকোনো মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করারও অধিকার দিয়েছে। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে কাউকে ধর্মে প্রবেশ করানো অবৈধ ঘোষণা করেছে। মদিনার আনসারদের মধ্যে এক ব্যক্তির দুই পুত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর পুত্রদ্বয় যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তাদের বাবা বল প্রয়োগ করে ইসলামে প্রবেশ করাতে চাইলে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন। তখন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আয়াত নাজিল হয়, ‘দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। কেননা, ভ্রান্ত মত ও পথ থেকে সঠিক মত ও পথ দিবালোকের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৫৬)

    মূল কথা হলো, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার জন্য কোনোপ্রকার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর ধর্মকে নিয়ে তালবাহানা করারও কোনো সুযোগ নেই।

    আরব পৌত্তলিকদের মহানবী (সা.)-এর প্রতি চরম নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি তাদের সঙ্গে শক্তি প্রদর্শনের কোনো পন্থাই অবলম্বন করেননি। কেননা, তিনি নিজের ও অন্যদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতাই চেয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবী (সা.)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে নবী! আপনি মুশরিকদের বলে দিন, তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম।’ (সুরা আল-কাফিরুন : ৬) অন্য আয়াতে কারিমায় বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি পরিষ্কার বলে দিন, এ হচ্ছে সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, এখন যে চায় সে তা গ্রহণ করুক এবং যে চায় অস্বীকার করুক। আমি (অস্বীকারকারী) জালিমদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত রেখেছি।’ (সুরা আল-কাহফ : ২৯)

    এসব আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ঈমান গ্রহণ বা কুফরি করা মানুষের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য মানুষের এ ইচ্ছা মহান আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীল। কেননা, আল্লাহতায়ালা সব বিষয় ও বস্তুর সৃষ্টিকর্তা। মানুষ তার কৃতকর্মের কারণেই পাপ-পুণ্যের অধিকারী হবে। এ ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, যে ধর্ম সত্য, তাতে দলভুক্ত করতে জোর-জবরদস্তি করতে হয় না।

    ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের মন জয় করা যায়। কেননা, হক বাতিল থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথকভাবে বিরাজমান। সুতরাং শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনই-বা কী?

    ইসলাম অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ও পর্বগুলো পালনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। অবশ্য, এটা রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের সীমার মধ্যে হতে হবে। এছাড়া মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমদের সব ধরনের লেনদেন ও কাজ-কারবারের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া যাবে না।

    অমুসলিমদের প্রতি ইসলামের বদান্যতার উদাহরণ থেকে সহজেই বোঝা যায়, কোনো মুসলমানের স্ত্রী খ্রিষ্টান বা ইহুদি হলে মুসলমান স্বামী ওই স্ত্রীকে তার গির্জায় যেতে নিষেধ করতে পারবেন না। বরং বিনা দ্বিধায় তাকে তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের স্বাধীনতা দিতে হবে।

    এছাড়া মুসলমানদের খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের শূকর বধে বাধা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের মদের পাত্রও ভেঙে ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, তারা শূকরের মাংস ভক্ষণ ও মদ্যপানে অভ্যস্ত। অনুরূপভাবে, ইসলাম অমুসলিমদের ব্যক্তিগত ক্রিয়াকর্ম পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। যেমন তাদের বৈবাহিক বন্ধন, তালাক, উত্তরাধিকার আইন ইত্যাদি।

    ইসলামে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে নিম্নোক্ত ঘটনাটি অতি চমকপ্রদ। একদা নজরান গোত্রের খ্রিষ্টানদের একদল দূত রাসুল (সা.)-এর কাছে আগমন করেন। তারা আসরের নামাজের পর মসজিদে নববিতে প্রবেশ করেন। তখন তাদের উপাসনার সময় উপস্থিত হয়। তারা উপাসনার জন্য দাঁড়ালে কতিপয় মুসলমান তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিষেধ করেন এবং বলেন, তাদের উপাসনা করতে দাও। এরপর তারা পূর্বমুখী হয়ে তাদের উপাসনা সম্পন্ন করেন।

    ইসলামে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার প্রতিফলন দেখা যায়। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমরা সুন্দরভাবে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে আসছেন। মুসলমানরা যখনই কোনো দেশ জয় করেছেন, তখন অমুসলিমদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মুসলমানরা অমুসলিম বিজয়ীদের মতো পরাজিতদের জোরপূর্বক তাদের ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা কখনো করেননি। ইতিহাসে এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায়। হিন্দুস্তানে সর্বদা অমুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অথচ মুসলমানরা আটশ বছর হিন্দুস্তান শাসন করেছেন। অন্যদিকে, স্পেনে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ। কিন্তু অমুসলিমদের হাতে স্পেনের শাসনভার চলে যাওয়ার পর এখন সেখানে মুসলমান নেই বললেই চলে। ভারতে মোদিজির শাসনামলে গত দশ বছরে ছয় হাজারের বেশি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ধর্মপালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গোরক্ষার নামে মুসলমানদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে।

    মহামতি সালাহউদ্দিন আইয়ুবির সময় বায়তুল মাকদাস বিজয়ের পর তিনি সব খ্রিষ্টানকে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন। এভাবে মুসলমানদের বিজিত দেশগুলোর অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলমানদের সন্ধি ও চুক্তিনামা পড়লেই সহজে মুসলমানদের বদান্যতা ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের এই বদান্যতা ও সহনশীলতার মাধ্যমেই ইসলামের এত বিস্তৃতি ঘটেছে।

    সুতরাং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির জন্য কাজ করলে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে—এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বমানবসমাজকে সত্যানুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন!

  • ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে শ্রমিকবাহী লেগুনায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আহত হয়েছেন আরো নয়জন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গুজিয়াম এলাকার বগার বাজারে নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাইম মিয়া (২৩) ও ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিগুরকান্দা গ্রামের রায়েরগ্রাম এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে কামাল ফকির (৪০)।

    আহতরা হলেন— গফরগাঁওয়ের সান্তা (২১), লিজা (২২), হাজেরা (৪৩), রুজিনা (৩০), শালিনা (২৭), আকলিমা (৩৬), অজুফা (৩০), রাসেল (২১) ও ত্রিশালের তাসলিমা (২২)।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের বগার বাজার এলাকার দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা রাতের পালার কাজ শেষে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি লেগুনায় ওঠেন। লেগুনাটি নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে ইউটার্ন নেয়ার সময় উল্টো পথে আসা ময়মনসিংহগামী একটি কাভার্ড ভ্যান সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হন নারীসহ আরো নয়জন।

    খবর পেয়ে ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

    দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের এজিএম সেলিম আল রাজী জানান, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য মিলের একজন কর্মকর্তা হাসপাতালে রয়েছেন।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, নিহত দু’জনের লাশ বডিব্যাগসহ ত্রিশাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, নিহতদের লাশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।

    ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালনমেলা উপলক্ষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনের প্রায় দুই হাজার পিস সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লালনমেলার মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

    আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এ আয়োজনকে ঘিরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    লালনমেলার অনুষ্ঠানকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, লালন শাহের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির শর্ত ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে।

    শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো মতদ্বৈততা নেই; আলোচনার মাধ্যমে যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে দিনের শুরুতে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

  • গোমস্তাপুরে ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    গোমস্তাপুরে ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বৈধ ক্রয় রশিদ ছাড়া টিএসপি সার পরিবহনের দায়ে মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁর পরিবহন করা ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের আক্কেলপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী আল মাহমুদ।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, বৈধ ক্রয় রশিদ ছাড়া ১৮ বস্তা টিএসপি সার পরিবহনের সময় মো. ইসমাইলকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ও সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং সারগুলো জব্দের নির্দেশ দেন।

    অভিযানে প্রসিকিউশন দেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান আতিকুর রহমান।

    পরে জব্দ করা সার স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গানিউল ইসলাম ও ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের জিম্মায় দেওয়া হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারগুলো বিক্রি করা হয়। সার বিক্রির ২৪ হাজার ৩০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য আদায় করা হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • মিরপুরে মা সমাবেশ

    মিরপুরে মা সমাবেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০ নং খাঁড়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক জোমারত আলী, জামায়াতের বহলবাড়িয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিঠুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাহিদ আকবার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আব্দুল গফুর বলেন, আমাদের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের উপর আমাদের বংশ, দেশ ও জাতী নির্ভর করবে। তাই তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের পড়ালেখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে মায়েদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মা শুধু একজন অভিভাবকই নন, ছোট-ছোট শির্ক্ষাথীদের জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছোট শিশুরা প্রথম পর্যায়ে পরিবারের মধ্যে মায়ের কাছ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে থাকে। তাই আমাদের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় বেশির ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ বিধান রাখা হয়েছে। আমাদের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে মায়েদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    তিনি আরোও বলেন, মায়েরা যত উন্নতভাবে সন্তান পরিচালনা করবে, শিশুরা তত ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের উপরও জোর দিতে হবে। শুধু ভালো ছাত্র হলে চলবেনা, একইসাথে শিশুদের ভালো মানুষ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে মায়েদের ভূমিকা প্রধান। এ,আর

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।

  • কোটচাঁদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

    কোটচাঁদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর–মহেশপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার আজিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পৌর মেয়র পদপ্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মুহাঃ শরিফুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উদ্যোগের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ,আর

  • পরিবারের ভূমিকায় সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন

    পরিবারের ভূমিকায় সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন

    কবি হাফিজ ইব্রাহিম বলেছেন, ‘মা একটি বিদ্যালয়; তাকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে, একটি সৎ ও উত্তম জাতি গড়ে উঠবে।’ মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয় পরিবার। আরো বিশেষায়িত করে বললে, মা। একজন শিশু পৃথিবীতে আসার পরপরই প্রথম মাকে দেখে। মায়ের সঙ্গেই তার সময় কাটে হেসেখেলে। হাসিকান্নার ভেতর দিয়ে দেখতে দেখতে সে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। বাবাকে চেনে। চিনতে শুরু করে দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের। এভাবেই শিশু আচার-আচরণ ও মূল্যবোধ শিখতে শুরু করে পরিবার ও আপনজনদের কাছ থেকে। তাই ইসলাম পরিবারকে শুধু একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং ঈমান, নৈতিকতা, আদব-কায়দা ও মানবিক গুণাবলি গঠনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠশালা হিসেবে দেখে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরিম : ৬) এই আয়াতে মহান আল্লাহ আখিরাতের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের ওপর অর্পিত একটি মহান দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা, উত্তম চরিত্র ও আল্লাহভীতি শেখানো মা-বাবার প্রধান কর্তব্য।

    শিশুর প্রথম ভাষা, প্রথম আচরণ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম শৃঙ্খলা এবং প্রথম ধর্মীয় চেতনার সূচনা হয় পরিবারের মধ্যেই। তাই একটি পরিবারের পরিবেশ যেমন হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও অনেকাংশে তেমনই গড়ে উঠবে। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমার পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তুমি নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো।’ (সুরা ত্বহা : ১৩২) অর্থাৎ, ইসলামি শিক্ষা শুরু হবে পরিবার থেকেই। ঘরে যদি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ গড়ে ওঠে, তবে সন্তান স্বাভাবিকভাবেই সেই আদর্শে বেড়ে উঠবে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (বুখারি : ৮৯৩; মুসলিম : ১৮২৯) আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (তিরমিজি : ৩৮৯৫)

    এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত ধার্মিকতা শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিস্তার, ভোগবাদী সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা নতুন প্রজন্মকে নানা নৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্য উন্নত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করলেও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেন না। ফলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও চরিত্রবান মানুষের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়ছে না।

    শিশুর মন উর্বর জমির মতো। সেখানে যে বীজ বপন করা হবে, ভবিষ্যতে সেই ফলই পাওয়া যাবে। পরিবারে যদি সত্য, ন্যায়, সততা, ধৈর্য, দয়া, ক্ষমাশীলতা ও তাকওয়ার চর্চা হয়, তবে সন্তানও সেসব গুণ অর্জন করবে। আর যদি পরিবারে মিথ্যা, অশান্তি, রূঢ়তা ও অবহেলার পরিবেশ বিরাজ করে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর মনোজগতে গভীরভাবে পড়বে।

    ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি, মহানবী (সা.)-এর পরিবার ছিল আদর্শ পরিবারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেখানে পরস্পরের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল। আখলাক ও ইবাদতের পরিবেশ পূর্ণমাত্রায় বিরাজ করত। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই সাহাবায়ে কিরাম মানবতার শ্রেষ্ঠ প্রজন্মে পরিণত হয়েছিলেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার সন্তানকে উপকারী শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে অবহেলা করে এবং তাকে তার খেয়ালখুশিমতো চলতে দেয়, সে তার প্রতি চরম অন্যায় করে। অধিকাংশ সন্তানের বিপথগামিতার কারণ হলো মা-বাবার অবহেলা এবং তাদের দ্বীনের ফরজ ও সুন্নাহ শিক্ষা না দেওয়া।’ (তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ)

    এই বক্তব্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সন্তানকে শুধু সফল পেশাজীবী হিসেবেই নয়, বরং একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রতিটি পরিবারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আজ আমাদের প্রয়োজন এমন পরিবার, যেখানে প্রতিনিয়ত কোরআন তিলাওয়াত শোনা যায়। প্রতিটি সন্তানকে জামাতে নামাজের গুরুত্ব শেখানো হয়। মিথ্যা ও প্রতারণাকে ঘৃণা করতে শেখানো হয়। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করতে শেখানো হয়। এমন পরিবারই ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি এবং একটি কল্যাণময় সমাজ নির্মাণের প্রথম ধাপ।

    মনে রাখতে হবে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার পরিবারে। পরিবার যদি আদর্শ হয়, সমাজ হবে আদর্শ। সমাজ আদর্শ হলে রাষ্ট্রও ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ হবে। আসুন, আমরা আমাদের প্রতিটি পরিবারকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করি। কারণ, একটি সুশিক্ষিত, সচ্চরিত্র ও তাকওয়াসম্পন্ন পরিবারই পারে একটি নৈতিক, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় জাতি গড়ে তুলতে।

  • যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫জনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য রয়েছেন।

    এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে সংস্থাটির।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী আসাদুল হাবিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম, এনবিআরের কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ (নিলয়) এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য মফিজুল ইসলাম ওরফে রাফি, হাসিনুর রহমান সুজন ও এমদাদুর রহমান।

    এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

    ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

    ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।

  • কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের  ৫১৯ জন আটক

    কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৫১৯ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মাগরিবের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ নিয়ে আট দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে। তাদের মধ্যে অন্তত এক হাজার জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সাত দফার অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের প্রধানসহ মোট দুই হাজার ৯৫৩ জনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটকের পর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে।

    প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপকের একমাত্র সন্তান, সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম উঠে আসে। এরপর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। এ,আর

  • হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরের শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলে বেড়াতো নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আপামর জনতার দাবি ছিল ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের গন্তব্য হবে হাসিনার মতোই।’

    ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ পাবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ সরকারে সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে গত সরকারের মতো দলীয়করণ, লুটতরাজ, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসাচ্ছেন।’

    মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ঐক্য না থাকায় সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে রাসুল (সা.)- এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে জামায়াতে ইসলাম একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।’

    রুকনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সুরা কালাম বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রিকোয়েস্ট করে, তাই মানুষকে সম্মান করতে হবে, সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার, ভাল আচরণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু তলওয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি। রাসুলের আচরণে আকৃষ্ট হয়ে বিদায়ী হজে ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন। মৃত্যুর স্বাদ যখন তখন ভোগ করতে হবে, তাই উত্তম আমলের মধ্যে শেষটা হোক। কোন লোক সুদের সাথে জড়িত থাকবে না, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল সঃ আমলের তলোয়ার দিয়ে মদিনাসহ সারাদুনিয়া জয় করেছেন।’

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানব সৃষ্টি হয়েছে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

  • সিলেটে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেফতার

    সিলেটে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট এলাকায় বাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালক নাসির মিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ-পশ্চিম বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাসির সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন পীরেরগাঁও এলাকার সামছুল হকের ছেলে।

    এসআরবি-৯ সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন লালবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া সিদ্দিকা তার বড় মেয়ে তানিয়া বেগমকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় সুমাইয়ার আরেক মেয়ে ইনিয়া তাদের সাথে ছিল। টমটম করে বাড়ি ফেরার পথে বিমানবন্দর থানার কেওয়াছড়া এলাকার বুড়িবস্তি সেতুর ওপর বাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তারা দুজনসহ আরো কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া ও ইনিয়ার মৃত্যু হয়। আহত তানিয়া এখনো ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় সোমবার সুমাইয়ার স্বামী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এরপর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত শুরু করে এসআরবি। এরই প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাস চালক নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হবে?

    ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হবে?

    ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলোয় সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত থাকার এ সময়ে ‘মাদার অব অল বম্বস’ (শাব্দিক অর্থে ‘সব বোমার মা’) নামে পরিচিত ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’ বোমার ব্যবহার চলমান সংঘাতকে অনেক বড় আকারে উসকে দিতে পারে।

    বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এ বোমা ব্যবহারেও ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এমন হামলা একধরনের ‘রাজনৈতিক নাটক’ মঞ্চস্থ করা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

    কী এই ‘এমওএবি’ বোমা

    এমওএবি হলো সাড়ে ৮ হাজার কেজি (১৮ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ৮ টন) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক–সমৃদ্ধ এক বড় মারণাস্ত্র। ৯ হাজার ৮০০ কেজি (২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ড বা প্রায় ১০ টন) ওজনের এ বোমা সাধারণ চারটি প্রাইভেট কারের সমান ভারী এবং এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি (প্রায় ৩০ ফুট), যা একটি ছোট ইয়টের আকৃতির সঙ্গে তুলনীয়।

    আকারে অত্যন্ত বড় হওয়ায় কোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে এ বোমা ধরে না। ফলে সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো বা মালবাহী বিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়।

    ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম তৈরি হওয়া এ বোমার এ পর্যন্ত ১২ বার বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র আগে মাত্র একবারই এ বোমা ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’–এর (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

    কেমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে এ বোমা

    মাটি থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই এমওএবি বোমা। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এটি চারদিকে আগুনের মারাত্মক মরণঘাতী তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো ভবন, গুহার মুখ ও শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটানোই এ বোমার মূল উদ্দেশ্য।

    আরেক সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে জানান, এ বোমা বিস্ফোরণের জন্য মাটিতে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর তীব্র বিস্ফোরণ তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের (দশমিক ৬ মাইল) মধ্যের সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

    অবশ্য বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার মনে করেন, এ বোমার ধ্বংসক্ষমতা ও বিস্তৃতি কোন ধরনের ভূপ্রকৃতি বা কতটা জনবহুল এলাকায় এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যের বিরুদ্ধে এটি খুব একটা কার্যকর না–ও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চায়, তার মধ্যে ফোরদো প্রকল্প ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত।

    আগেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে এ বোমার ব্যবহার করেছে। তবে এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানার অনিশ্চয়তা ছাড়াও ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে এ বোমা বহনের উপযোগী বিমান মোতায়েন করা বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, ওই ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য উপযোগী স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো এত বড় আকৃতির বোমা বহন করতে পারে না।

    এ সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, বোমাটি ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা হলেও ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা না–ও যেতে পারে। তাঁর মতে, বোমাটি ব্যবহার করলে এমন একটি ‘দৃষ্টিনন্দন ঘটনা’ ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে খুব সামান্য ফলই বয়ে আনবে।

    এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করা যেকোনো কমান্ডারের কাছে আমার প্রশ্ন হবে অত্যন্ত সহজ—অস্ত্রটি এমন কী অর্জন করবে, যা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয় এবং এ বোমা ব্যবহারের ফলাফল কীভাবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতাকে এগিয়ে নেবে?’

    নিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোয় চলমান যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি খুঁজছেন, যেটি প্রমাণ করবে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই রয়ে গেছে।

    ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এমওএবি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হলে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, এমন প্রতিবেশী দেশগুলোও আক্রমণ করতে পারে।

    ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই কুয়েতের মতো দেশগুলোয় সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে আসছেন। এর মূল লক্ষ্য হবে মার্কিন সেনাদের বন্দী করে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

    রেজা নাগদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা শুরু করে, তবে তাদের এত সেনা বন্দী হবে যে তারা শেষ পর্যন্ত সাদা পতাকা ওড়াতে (আত্মসমর্পণ করতে) বাধ্য হবে।’

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো আরও সুরক্ষিত করে এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে পরবর্তী দফা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    গত রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি আবারও শুরু হয়, তবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোগুলোয় আঘাত হানবে। এর মধ্যে যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা মূল নিশানা হতে পারে।

  • দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে এসেছে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কোচবাহী রেকটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। নতুন এই কোচগুলো যুক্ত হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ভারতের রাইটস লিমিটেড এসব কোচ সরবরাহ করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

    শুক্রবার দুপুরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোচগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের পক্ষে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।

    বাংলাদেশের পক্ষে কোচ গ্রহণের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ, পাকশীর আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘২০০টি কোচের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ আজ দুপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এগুলো আমাদের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোচ। এসব কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।’

    তিনি বলেন, ‘প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে দু’টি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ ও দু’টি পাওয়ার কার রয়েছে।

    কোচগুলোর প্রাথমিক চলাচল পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ডিএমই রবিউল ইসলাম জানান, রেকটি চলার সময় তার কাছে কোচগুলোর চলাচল বেশ ভালো মনে হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক শব্দও পাওয়া যায়নি। কোচগুলোর মান ও চলাচল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা বন্দরে কোচ খালাসের কার্যক্রম শেষে সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিপ্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কোচগুলো রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরো আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ জানান, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ বাংলাদেশে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হবে। বাকি কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আসবে। এ,আর

  • কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা মহানগরীর ছত্রখিল এলাকায় কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছত্রখিল এলাকায় কাউছারের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে কী কারণে এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, যুবদল নেতা কাউছার মারা গেছেন বলে জেনেছি। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ,আর

  • বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং।

    বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন দ্রুত করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে স্মার্ট গ্রিড গড়ে তুলতে জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী পর্যায়ের সম্প্রসারণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    তিনি সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক শুল্ক ও কর হ্রাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

    ওয়াং চুনইং সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ জিটুজি গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

In English

English edition · Older English stories