BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • খাদের কিনারে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    খাদের কিনারে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    মিডিয়ার চাপ সৃষ্টি করে বা সামরিক ভয় দেখিয়ে ইরানকে কোনোভাবেই নতজানু করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে এসব কৌশল অবলম্বন করছে।

    গালিবাফ আরও বলেন, আজকের ইরান অতীতের সেই দুর্বল বা পাহলভি আমলের ইরান নয়। বর্তমান ইরান এক অটুট আত্মবিশ্বাস, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইস্পাতকঠিন প্রতিজ্ঞার দুর্ভেদ্য দুর্গ, যেখানে দেশের সম্মান রক্ষায় কোনো বিদেশি শক্তির রক্তচক্ষু সহ্য করা হবে না।

    মার্কিন প্রশাসন নিজেদের ভুল হিসাব-নিকাশের কারণেই আজ এক গভীর অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মধ্যে ফেঁসে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই বিপদজনক পরিস্থিতি বা জাঁতাকল থেকে কীভাবে বের হতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই।

  • ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই-প্রধানমন্ত্রী

    ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই-প্রধানমন্ত্রী

    ইরাকে বর্তমানে কোনো মার্কিন সেনা অবস্থান করছে না, এমনকি উপদেষ্টা হিসেবেও কেউ নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আল-জাইদি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরাকি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সেনা উপস্থিতি না থাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ধরে রাখার পক্ষে দেওয়া আগের যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কোনো অস্ত্র থাকবে না—সরকারের এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।Advertisement

    তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো অস্ত্র থাকবে না।’

    আল-জাইদি জানান, তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে থাকা অস্ত্রের বিষয়ে সরকার সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া আরও চারটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ইরাক এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে; সশস্ত্র গোষ্ঠীর মালিকানাধীন কোনো রাষ্ট্র নয়।’

    ইরাক একসময় আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিদেশি দূতাবাসগুলো দেশ ছেড়ে যেতে পারত এবং ইরাকের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারত। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা ছিল, কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী কার্যত ইরাকি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তবে তার সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আল-জাইদি।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ইরাকের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাক দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে পেন্টাগন ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

    এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে জোটের সামরিক অভিযানের পরিবর্তে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন পর্যায় শুরু হয়। এর আওতায় প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে।

    আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াবে না ইরাক

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আল-জাইদি বলেন, ইরাক কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না। বরং দেশটি বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায়।

    তার মতে, পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক সংকটের সমাধান একটি চুক্তির মাধ্যমেই করতে হবে। ইরানের সঙ্গে ইরাকের সীমান্ত বন্ধ করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ উভয় দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

    আল-জাইদি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার অর্থ হলো নিজেদেরই অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করা।’

    হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল রপ্তানির উদ্যোগ

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এ পথের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে ইরাক। আল-জাইদি জানান, তুরস্কের জেইহান বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পথ পুনরায় চালু করা এবং রপ্তানির বিকল্প রুট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়লেও ইরাক সেই সুবিধা নিতে পারেনি।’ আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির তেল রপ্তানি কখনো বন্ধ হয়েছে, আবার কখনো চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ২০৩২ সালের মধ্যে ইরাকের দৈনিক তেল উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে ইরাকের ‘তৃতীয় নদী’ হিসেবে উল্লেখ করেন আল-জাইদি। তিনি জানান, জাতীয় বাজেট সংসদে অনুমোদিত হওয়ার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোকে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে তুরস্ক এবং সেখান থেকে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে যুক্ত

  • যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার

    যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার

    ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ ওরফে হিমাংশু রিটোলিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হিমাংশুর সহযোগী আরেক কুখ্যাত গ্যাংস্টার নীরজ ফরিদপুরিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে । মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই লাস ভেগাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই ভারতের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতেন হিমাংশু।

    নীরজ ফরিদপুরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক খুন এবং আরও অনেক অপরাধ করার অভিযোগ রয়েছে।

    আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হিমাংশু। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করা হয়।

    হরিয়ানার রোহতক জেলার রিটোলি গ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু কৈশোরেই অপরাধ দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিশোর সংশোধনাগার থেকে ২০২০ সালে আরও কয়েক জন বন্দিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানোর মতো অন্তত ১৮টি মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) নিখোঁজের তালিকায় হিমাংশুর নাম রয়েছে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশে বসে দিল্লি, হরিয়ানা এবং পঞ্জাবে নিজের অপরাধের ‘নেটওয়ার্ক’ বিস্তার করেছেন হিমাংশু। একাধিক শিল্পপতি, ব্যবসায়ীকে খুন, তাদের থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার নাম জড়িয়েছে। গ্যাংস্টার নীরজ ভওয়ানার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হিমাংশু। ওই গোষ্ঠী ভারতে সক্রিয় বিষ্ণোই গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী।

  • ইরানে আজই হামলা হতে পারে!

    ইরানে আজই হামলা হতে পারে!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে ফের যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আজ রোববারই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অবসানে ‘চমৎকার, বড় ও সুন্দর’ একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। প্রায় আট মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে।

    শনিবার সকালে ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কি না।

    জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’

    এক সাংবাদিক পাল্টা বলেন, ‘আমাদের তো প্রশ্ন করতেই হবে।’

    প্রশ্নটিকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিলেও ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    তিনি বলেন, ‘হয়তো আগামীকালই… হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার চমৎকার, বড় ও সুন্দর একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না।’

    ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সে কারণেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে আবারও দাবি করেন ট্রাম্প।

    শুক্রবারও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’ এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না।

    শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি না? অবশ্যই হতে পারে।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

    এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তেহরান। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

    গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানে ১৪ দফার একটি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করা হয়।

    তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আনে ইরান।

    এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সরকারকে উৎখাতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

  • সৌদি আরবে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

    সৌদি আরবে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

    সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি রিয়াদ। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনজীবীর সহায়তা এবং তাদের লাশের অবস্থান জানতে চেয়েছে ঢাকা।

    গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের পরিচয় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশ সরকার বা দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে জানানো হয়নি বলে ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    শরিয়াহ আইনে ‘তাজির’ কী?

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ‘তাজির’ ধারায়। ইসলামি ফৌজদারি আইনে তাজির বলতে এমন অপরাধের শাস্তি বোঝায়, যার জন্য কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক নির্দিষ্ট দণ্ডের পরিবর্তে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকে। অপরাধের ধরন, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামো বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে।

    ইসলামি ফৌজদারি আইন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত তিনটি শ্রেণির কথা আসে—হুদুদ, কিসাস ও তাজির। হুদুদে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে; কিসাস মূলত হত্যা বা শারীরিক ক্ষতির মতো অপরাধে প্রতিশোধমূলক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত; আর তাজিরের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণে বিচারিক বিবেচনার ভূমিকা থাকে।

    তবে তাজির ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক রয়েছে। কোনো একটি দেশের বিচারিক ব্যাখ্যা বা প্রয়োগকে ইসলামি আইনের সব মতের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সৌদি আরবের এই দুই মামলায় ঠিক কোন আইনি যুক্তি, প্রমাণ ও বিধানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা বোঝার জন্য আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রয়োজন।

    হুদুদ ও কিসাসের সঙ্গে তাজিরের পার্থক্য

    ইসলামি ফৌজদারি আইনের তিনটি শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলে সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থার বিতর্কটি আরও পরিষ্কার হয়।

    হুদুদ: ইসলামি আইনশাস্ত্রে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিকে হুদুদ বলা হয়। প্রচলিত আলোচনায় অবৈধ যৌন সম্পর্ক বা জিনা এবং চুরির মতো অপরাধ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন অপরাধ হুদুদের আওতায় পড়বে, তার সংখ্যা ও ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের শাস্তি প্রয়োগে প্রমাণের কঠোর শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

    কিসাস: হত্যা বা মানুষের জীবনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রতিদানমূলক বিচারব্যবস্থাকে কিসাস বলা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী প্রতিদানের প্রশ্ন আসে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষমা করতে পারে বা দিয়াত—অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ—গ্রহণ করতে পারে।

    তাজির: যেসব অপরাধ নির্দিষ্ট হদ্দ শাস্তির আওতায় পড়ে না কিংবা কিসাসের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির ব্যবস্থা হলো তাজির। অপরাধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হয়।

    সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তাজির বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই শ্রেণিতে বিচারকের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হতে পারে। ফলে কোন আচরণকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কেন নির্দিষ্ট শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব নির্ভর করে মামলার তথ্য, প্রযোজ্য বিধান ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।

    ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনের সম্পর্ক

    বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রধানত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে ইসলামি শরিয়াহ দেশটির আইনি ব্যবস্থার একটি প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইন, বিধিবিধান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বিচার ও শাসনব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে।

    সৌদি আরবের বিচারিক ব্যাখ্যায় ঐতিহাসিকভাবে হাম্বলি মাজহাবের প্রভাব রয়েছে। এই মাজহাব কোরআন ও হাদিসভিত্তিক বিধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে দেশটির বর্তমান বিচারব্যবস্থাকে শুধু একটি মাজহাবের ব্যাখ্যা দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না; রাষ্ট্রীয় বিধান ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত আইনি চর্চাও এতে ভূমিকা রাখে।

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামি ফৌজদারি আইন কোনো একক ও সর্বজনস্বীকৃত দণ্ডবিধি নয়। একই বিষয়ে বিভিন্ন আইনবিদের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সৌদি আরবে দেওয়া কোনো নির্দিষ্ট শাস্তিকে ইসলামী আইনের একমাত্র বা সর্বজনীন ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।

    বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

    তাজিরের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতার পরিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে যখন এ ধরনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন অপরাধের সংজ্ঞা, শাস্তির আইনি ভিত্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    আইনবিদ চিবলি মাল্লাতের ম্যাপিং সৌদি ক্রিমিনাল ল গবেষণায় সৌদি আরবের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় আইন এবং হুদুদ, কিসাস ও তাজিরের মতো ঐতিহ্যগত শ্রেণির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    তাজিরের আওতায় শাস্তি নির্ধারণে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকলেও সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কীভাবে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, প্রমাণের মান, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে স্বচ্ছতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

    দুই বাংলাদেশির মামলায় এসব বিষয় প্রকাশ্যে স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশের সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সৌদির কাছে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা

    জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পেছনের ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, ঘটনাটি কখন ও কোথায় ঘটেছিল এবং কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং তাদের লাশ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তারা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। লাশ সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—এ বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। দ্রুত এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

    বন্দির তালিকায় ছিল নাম, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না

    সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিদের তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য উল্লেখ ছিল না। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব বাংলাদেশকে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়—একজনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ব্যভিচারের অভিযোগ। তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ ছিল না।

    জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় স্মারকলিপি ও বন্দিদের তালিকায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নথি অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট এবং সিথিকে পরদিন আটক করা হয়েছিল। দুজনই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

    অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বন্দির তালিকায় থাকা অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রকাশ করা অভিযোগের সম্পর্ক কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    আপিল আদালতের রায় নিয়ে যা জানা গেছে

    সৌদি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, মামলাগুলো আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়েছে এবং ১৩ বিচারকের একটি আপিল প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিল। তবে বন্দিদের তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য না থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পায়নি।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বিচারিক অনুমোদনের পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, অভিযুক্তরা নিজেদের পক্ষে কীভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তাদের আইনজীবী ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নথি এখনো বাংলাদেশের হাতে আসেনি।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, রায়ের কপি ও অন্যান্য নথি হাতে পাওয়ার পরই বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হবে।

    ১৮ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে। ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করে। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ওই বৈঠকে আগের কূটনৈতিক চিঠির একটি অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের হাতে দেওয়া হয়।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

    দুই পরিবারের প্রশ্ন, লাশ ফেরানোর অনিশ্চয়তা

    নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান। তার পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগাম কিছু জানতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

    সিথি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। তার পরিবারের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরেও পরিবার বিস্মিত হয়েছে। তবে পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে সৌদি আদালতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

    প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশ্ন

    সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দেশটিতে আটক বা বিচারাধীন বাংলাদেশিদের বিষয়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন হলে কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নয়; বন্দিদের তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের চূড়ান্ত দণ্ডের তথ্য কেন বাংলাদেশের কাছে ছিল না, বিচার চলাকালে তারা যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং কূটনৈতিক মিশনকে কেন আগাম জানানো হয়নি—এসব বিষয়ও সামনে এসেছে।

    এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি ও সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থাকছে।

    বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। আপাতত ঢাকার অপেক্ষা আদালতের রায়, অভিযোগের বিস্তারিত এবং দুই বাংলাদেশির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের জন্য।

  • ভারতের অরুণাচলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

    ভারতের অরুণাচলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

    প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে ঘটেছে সহিংসতার ঘটনা। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কার্যালয়, পাসিঘাট থানা ও রাজ্যের শাসকদলের একাধিক নেতার বাড়ি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন শহরে জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র বহন এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    শনিবার জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিনের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বসিরাম সিরাম এই উত্তেজনার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের সমীক্ষায় সমর্থন আদায় করতে সরকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত মেগা বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও সরকারের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

    অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) নিয়ে যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভুয়া খবর প্রচার না করার আবেদন জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য সরকার। শনিবার রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অনুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল।

    আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। সরকারিভাবে বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই গত রাতে বৈঠক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ইরানি নেতাদের আর হত্যা করতে চাইনা- ট্রাম্প

    ইরানি নেতাদের আর হত্যা করতে চাইনা- ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতাদের হত্যা বন্ধ করতে হবে, যাতে আলোচনায় কারা যুক্ত রয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি নেতাদের হত্যা করা আমাকে বন্ধ করতে হবে। কারণ, শেষ পর্যন্ত আমাদের বুঝতে হবে, আমরা আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছি।’

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো বিমান নেই, জাহাজ নেই, কিছুই নেই। তাদের শীর্ষপর্যায়ের নেতা নেই। প্রথম স্তরের নেতা শেষ, দ্বিতীয় স্তরের নেতাও শেষ।’

    ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই দেন ট্রাম্প। তার দাবি, ওই চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বারাক হোসেন ওবামার করা সবচেয়ে খারাপ চুক্তিগুলোর একটি বাতিল করেছিলাম। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ), যাকে অনেকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি বলে থাকেন, সেটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সৌভাগ্যক্রমে, ঠিক সময়েই আমি চুক্তিটি বাতিল করেছিলাম।’

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালে এবং চলতি বছর পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

    ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে সামরিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য দিক থেকেও পরাজিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াচ্ছে ভারত

    ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াচ্ছে ভারত

    ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদা বাড়ার কারণে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং।

    এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগের কারণে ভারতীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, কামানের গোলা এবং ছোট ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা পণ্যের রপ্তানি রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। ইউরোর হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৬০ কোটি। ইউরোপের বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার চাহিদা বৃদ্ধির বড় ভূমিকা রয়েছে।

    ১০ বছরে বিস্তৃত হয়েছে প্রতিরক্ষা শিল্প

    গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে এ খাত মূলত ১৬টি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৮৪০টি বড় ও মাঝারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, যার মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

    সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগও বেড়েছে।

    ভারত বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কামান ও গোলাবারুদ, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র, হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে চাহিদা বৃদ্ধি

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

    ইউরোপের বাড়তি চাহিদা ভারতীয় উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রচলিত ধরনের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার রপ্তানি বেড়েছে।

    তবে ইউরোপে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হয়ে ওঠার দাবিটি রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ অবস্থানের পেছনে নির্দিষ্ট সময়কাল, পণ্যের শ্রেণি ও দেশভিত্তিক রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

    দেশীয় উৎপাদনে জোর, ইউরোপে যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনা

    ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, দেশটির সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বার্ষিক মূলধনি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ দেশের ভেতরে ব্যয় করার লক্ষ্য নিয়েছে। বছরে এ খাতে মূলধনি ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলার নয়, বরং ২০০০ থেকে ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলার—যার বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি জানান, ভারতীয় নকশায় তৈরি, দেশেই উন্নয়ন ও উৎপাদিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানো।

    ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজারে আরও বেশি অংশ নেওয়ার জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। একইভাবে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ভারতে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    রাজেশ কুমার সিংয়ের মতে, ভারত ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে সরবরাহব্যবস্থা আরও সমন্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ সহজ হবে। অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন বাজারের সম্ভাবনা

    ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের আরেকটি ক্ষেত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। প্রতিরক্ষা সচিব জানান, এ অঞ্চলের দেশগুলো ভারতীয় ছোট অস্ত্র, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং কামানব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

    ভারত একসময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার চেষ্টা করেছে দেশটি। ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থান ধরে রাখতে পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

    এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৮৮১ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো ২২ জনকে।

    আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় প্রদান, নিয়োগ কিংবা তাদের পরিচয় গোপন রাখার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী।

    এছাড়া ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। ভ্রমণের আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে আরো ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনকালীন মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশটির অভ্যন্তরে তাদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

    মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এসব অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

  • যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারীতে যুব উদ্যোগ সৃষ্টিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে শহরের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএস মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশন নামের যুব সংগঠন সভার আয়োজন করে।

    সভার উদ্বোধন করেন ইউএসএস-’র নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়। সভায় নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছবি রানী দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, দোস্ত এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, যুবদের মাধ্যমে সমজের পরিবর্তন আনা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে যুবদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকলে সমাজে অসঙ্গতি দূর হবে। বাল্য বিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জেন্ডার বৈষম্য রোধের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেকে বিকশিত করতে পারলে যেমন প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৃষ্টি, জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া সচেতনতা বিষয়ক এ সভায় ৩০ জন যুব অংশ নেয়।

  • মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

    মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব জুয়েল রানা।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তিনি ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ৪-এর (৩) উপধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা প্রাপ্য হবেন।

    ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে সে সময় আদালতে মামলা করেছিলেন নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

  • মসজিদ ভাঙার শঙ্কায় ভারতের মুসলমানরা

    মসজিদ ভাঙার শঙ্কায় ভারতের মুসলমানরা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত শতবর্ষী একটি মসজিদ উচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মসজিদটির ইমাম দাবি করেছেন, তাদের স্থাপনা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ভারতের মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মসজিদটি কোথায়, কেন উচ্ছেদের শঙ্কা

    নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের কাছেই রেসকোর্স মসজিদের অবস্থান। এটি রেসকোর্স ক্লাবের ভেতরে অবস্থিত। মসজিদটি নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। ২০০৯ সালে এটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

    মসজিদটির জমির মালিকানা ও বৈধতা নিয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের (এলঅ্যান্ডডিও) দাবি, জমিটি সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে স্থাপনাটি অননুমোদিতভাবে রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের দাবি, মসজিদ ও পাশের কবরস্থান ১৯৭৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দিল্লি প্রশাসনের সরকারি গেজেটে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে স্থাপনা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

    নোটিশ নিয়ে বক্তব্য

    মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের দাবি, ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মসজিদ ছেড়ে যেতে বলেছেন। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৯ অক্টোবর উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছে এবং ছয় দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। জমির মালিকানা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতা এবং মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

    পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ, নামাজে প্রবেশেও বিধিনিষেধ

    গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই সময় এলাকাটিতে বস্তি উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম চলছিল। এনডিএমসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান ভাঙার কাজ এবং জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়।

    দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ ১৯ ও ২১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানান। বোর্ডের দাবি, মসজিদটিতে দীর্ঘদিন ধরে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল এবং নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য পানি ও বিদ্যুৎ জরুরি।

    শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও পরে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মসজিদের ফটকে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকেলের দিকে অল্প কয়েকজনকে আসরের নামাজে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের জন্য আসা কয়েকজনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে মুসল্লিরা জানিয়েছেন। পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদ-সংশ্লিষ্টরা জেনারেটর ব্যবহার এবং অজুর জন্য ভূগর্ভস্থ পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছেন ।

    দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন খারিজ

    পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে ১৫ অক্টোবর আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, মসজিদের জমিতে আবেদনকারীর অধিকার, মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত রায়ের আওতার বাইরে কি না—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ রয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ওই রিট আবেদনের পরিসরে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

    আদালত আরো পর্যবেক্ষণ করেন, দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেনি।

    আশপাশে উচ্ছেদ অভিযান, বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবার

    মসজিদটির আশপাশে রেসকোর্স রোড এলাকায় বস্তি উচ্ছেদ অভিযানও চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার ওই এলাকায় জমির দখল নেওয়ার পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়েছে। রেসকোর্স ক্লাব ও আশপাশের বস্তি মিলিয়ে প্রায় ৫৩ একর এলাকায় উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। ওই এলাকার তিনটি বস্তি থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেওরা এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ওই এলাকার মুসল্লিদের যাতায়াত ও নিয়মিত নামাজ আদায় নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মসজিদ রক্ষায় ওয়াক্‌ফ বোর্ড ও মুসলিম সংগঠনগুলোর তৎপরতা

    মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ চেয়েছে। বোর্ডের দাবি, ১৯৭৭ সালের সরকারি গেজেটে সম্পত্তিটি ওয়াক্‌ফ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে মসজিদটির ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি ও দীর্ঘদিনের ব্যবহারও তুলে ধরা হয়েছে।

    অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দও বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ, পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে।

    মসজিদটির জমির মালিকানা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতা এবং নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের অসংগতি এখনো পুরোপুরি মেটেনি। পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ এবং মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধের মধ্যে শতবর্ষী এই স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

  • রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল। মহারাষ্ট্র থেকে আনা থাইল্যান্ডের লাল রক্ত তেঁতুলেই বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন নজরকাড়া থ্যাইল্যান্ডের রক্ত তেঁতুল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। একই গাছে দেখা মিলছে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফলের। বারোমাসি ফলন হওয়ায় এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    সরেজমিনে কৃষি উদ্যোগক্তা সজলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে রক্ত তেঁতুল। তেঁতুলের কথা শুনলেই জিহবায় জল আসে। তবে যদি হয় লাল রক্তের মতো তেঁতুল তাহলে কথায় নেই। ফলের আকর্ষণীয় রঙ সকলেরই নজর কাড়ছে। প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এর ভেতরের শাঁসের রঙ একেবারেই আলাদা—পাকলে তা গাঢ় লাল বা টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে।কৃষি উদ্যোক্তা সজল জানান, রক্ত তেঁতুল একটি লাভজনক জাত হিসেবে পরিচিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বারোমাসি ফলন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘুরতে যেয়ে ছাদে লাগানোর জন্য গাছ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বাবার কথা শুনে লাল রক্ত তেঁতুলের মাঠে বাগান করেন।

    তিনি জানান, লাল রক্ত তেঁতুল মিষ্টি হওয়ায় সকলের নিকট চাহিদা রয়েছে। একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানোর দুই বছর পরই তেঁতুল ধরা শুরু হয়। গাছও ছোট হয়। ছাদ বাগানেও লাগানো যায়। স্বাদ সাধারণত মিষ্টি কিংবা হালকা টক-মিষ্টি। রক্ত তেঁতুলের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর ভেতরের পাল্প। কাঁচা অবস্থায় শাঁস হালকা গোলাপি বা লালচে থাকলেও পরিপক্ব হলে তা গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে বাজারে প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।পরিপক্ব হলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ছবি : প্রতিনিধি

    উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং বা কলমের চারা রোপণের পর মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। গাছ খুব বেশি বড় বা ঘন ঝোপালো না হওয়ায় বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও এটি চাষ করা সম্ভব। এমনকি ড্রাম বা বড় টবেও রক্ত তেঁতুলের গাছ লাগানো যায়।

    কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও উচ্চমূল্যের ফলের জাত চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি ফলন হওয়ায় রক্ত তেঁতুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারজাতকরণ, চারা ও ফলের প্রকৃত বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আরও তথ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    আরও দেখুনজীবননগরের মাটিতে নতুন এ ফলের চাষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। কৃষি উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রক্ত তেঁতুল ভবিষ্যতে জীবননগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে।।

    এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগর কৃষিতে সমৃদ্ধ এবং সম্ভবনাময় উপজেলা। এখানে কৃষি উদ্যোক্তার হাত ধরে অনেক দেশি বিদেশি প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। নতুন করে লাল তেঁতুল চাষ হচ্ছে। বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। অল্প সময়ে লাভজনক চাষ হওয়ায় সবাই আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি লাল তেঁতুল চাষ করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা লাঘব হবে, অন্যদিকে বেকার যুবক উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

  • ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিয়ে জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন

    ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিয়ে জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন

    কেক কেটে আনন্দ উৎসব নয় বরং শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার এবং অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।

    রোববার বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত বিশেষ মগ।

    শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—নারীশিক্ষার প্রসার ঘটানো, ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় তাদের উৎসাহিত করা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাইসাইকেল পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় চার হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম দিনে মোকামতলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা প্রদান করা হয়।

    বাইসাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও তিনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন নানা মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছেন। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুশিবিরের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। নারীশিক্ষার সার্বিক উন্নয়নই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াতেই এই আয়োজনের সার্থকতা।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত প্রমুখ।

  • রুপা-বাবু-শ্যামল দত্তের তদন্ত প্রতিবেদন আবার পেছাল

    রুপা-বাবু-শ্যামল দত্তের তদন্ত প্রতিবেদন আবার পেছাল

    জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানির অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই সাংবাদিক হলেন- একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

    রোববার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের পক্ষে দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এ মামলায় মোট তিনজন আসামি। তিনজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরো দুই মাস সময় প্রয়োজন। পরে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদালত আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করেন।

    এর আগে গত ২৪ আগস্ট এই তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আজকের দিনটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কয়েকজন সাংবাদিক কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রসিকিউশনের দাবি, সাংবাদিকদের এসব উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।

  • বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল: আইজিপি

    বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল: আইজিপি

    ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় ডিলার দিয়ে মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল। কে আসবে, কে যাবে—এসব নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা দেশকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

    আজ রোববার বাগেরহাটে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাগেরহাটে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ কাজ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

    সমাবেশে মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই সংকটের মুখে পড়তে পারে: আজহারী

    পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই সংকটের মুখে পড়তে পারে: আজহারী

    দেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে মাদ্রাসাগুলোতে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    সম্প্রতি নিজের এক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অনেক মাদ্রাসা ও হিফজখানায় সিসি ক্যামেরা, যথাযথ তদারকি, মানসম্মত পরিবেশ ও উন্নত পাঠদানব্যবস্থার অভাব রয়েছে।

    এসব প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা মাদ্রাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার পেছনে মাদ্রাসাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

    মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেগুলো জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে।

    বরং দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনুমোদন ও নিবন্ধন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে শিশুদের মনস্তত্ত্ব বোঝার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, শিক্ষকদের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে দক্ষ হলেই চলবে না; শিশুদের মানসিক বিকাশ, আবেগ ও শেখার ধরন বুঝে তাদের সঙ্গে বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কালোতালিকাভুক্তির মতো পদক্ষেপ বিবেচনার কথা বলেন।

    মাদ্রাসায় শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেন আজহারী। তিনি বলেন, শিশুদের মনে ভয়, অপমান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে—এমন আচরণ শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা থাকতে হবে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার ভিত্তিতে।

    প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ও নিষিদ্ধ আচরণ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পদ্ধতি এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো নীতিমালায় স্পষ্ট থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অভিযোগকারীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি।

    গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ, একান্তে সাক্ষাৎ ও ব্যক্তিগত বার্তার ক্ষেত্রেও পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    আজহারী বলেন, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের একই ধরনের দায়িত্বে পুনর্নিয়োগ ঠেকাতেও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

    মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে আলিম-উলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সীমিত সামর্থ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

    মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, এ পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আত্মসমালোচনা, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়। দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে এখনই কার্যকর ও সময়োপযোগী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

  • বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান

    বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যেসব জায়গার আমূল পরিবর্তন দরকার, তার প্রত্যেকটিতে ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি তারা। নোট অব ডিসেন্টের ক্ষেত্রে সমঝোতার প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করবে না জামায়াত। ”

    রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, “নিজেদের ব্যর্থতা চাপা দিতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার। বিএনপি ৭০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে, এই কমিটিতে আমরা যাব না। ”

    তিনি আরও বলেন, “লংমার্চকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। করা হলে, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা লংমার্চ করেছিলাম। এবারও কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করব না। ”

    শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াত পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে—এরকম ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে সরকার। যেখানে বিএনপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিল। এখন তাদের নেতাদের পুনর্বাসন করছে তারা।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “যে সরকার মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ করতে পারে না, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। ”

  • সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করছে বিএনপি: ফুয়াদ

    সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করছে বিএনপি: ফুয়াদ

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান মেনে করা হয়নি বরং সংবিধান খেলাপ করেই হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে হয়েছে। ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণা মেনে এই সরকার গঠিত হয়নি। মানচিত্রদেখুন

    রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক বুদ্ধিজীবী হয়েছেন—যাদের আমরা আগে চিনতাম না—তারা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথমত, তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হরফে হরফে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা বলেন, গণভোটের ভাষা অনেক কঠিন, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না। এ দুটি যুক্তির মধ্যেই একটি জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা আমাদের জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে। রাজনৈতিকখবর পড়ুন

    তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান খেলাপ করেই করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার পুরোপুরি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।

    ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দিন শেষে বিপ্লবের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়, যা আবার বিএনপি মেনে নিতে নারাজ।

    তিনি বলেন, ‘কেবল নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু ন্যায্য, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে। বিএনপি এই যে প্রতারণা করছে, শেষ পর্যন্ত তা তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ’

  • ঠাকুরগাঁও-১ ভোট : বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

    ঠাকুরগাঁও-১ ভোট : বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

    আজ রোববার নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য এসংক্রান্ত চিঠি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে বহিরাগতদের ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের এই উপনির্বাচন। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    এ উপনির্বাবনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (প্রতীক: ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (প্রতীক : বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (প্রতীক : হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (প্রতীক : ডাব)।

  • এই সরকারের সময় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে: কর্নেল অলি

    এই সরকারের সময় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে: কর্নেল অলি

    সরকার (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে। নতুন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে না। পুরোনো কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে। ’

    তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। মানুষ রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    বিচারব্যবস্থা নিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। যারা সরকারের সঙ্গে আছে, তারা বিচার পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের বাইরে থাকা মানুষ বিচার পাচ্ছে না। নিজের ছেলের পুনর্গণনা-সংক্রান্ত একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ প্রয়োজনীয় যুক্তি ও কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব। ’

    ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যাংক প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে দেশে থাকা যেসব ব্যাংকমালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। ’

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক প্রবাসী দুই থেকে তিন বছর আগে ভিসা নিয়ে বিদেশে গেছেন। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইন অনুযায়ী নতুন ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন। এ জন্য এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও অনেকে অনুমতি পাচ্ছেন না। ’ বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যার সমাধান করা। প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রদূতদেরও দায়িত্ব হলো, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের নাগরিকদের সমস্যা সমাধান করা। ’

    এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা ফিরে এলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট আরও বাড়বে। তাই প্রবাসীদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। ’

    দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে অলি আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল নেই, কারণ প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে না। ’

    প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু সংসদ সদস্য এলাকায় গেলে তাদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) থাকতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আলাদা। ইউএনও ও ওসির কাজ সংসদ সদস্যদের পেছনে ঘোরা নয়, বরং নিজ নিজ দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করা। ’ প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়গুলো বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময় থাকতে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

    ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে এলডিপি চেয়ারম্যান জানান, সে সময় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমঝোতার প্রস্তাব তৈরি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪০ দিন আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামো ঠিক করার কথা ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কিছু শর্ত যুক্ত হওয়ায় সমঝোতা আর এগোয়নি।

    এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, সেদিন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসতে পারত বলে তিনি মনে করেন। ওই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার চারপাশে যারা আছেন, তাদের অনেকেই আপনাকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা রাখেন না। তাদের কারণে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আপনার শত্রু বিরোধী দল নয়, বরং আপনার আশপাশের ভুল পরামর্শদাতারা।

    দুর্গাপূজার সময় কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘মানুষের পেটে ভাত নেই, চোখে ঘুম নেই। অথচ এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের দুর্ভোগের দিকে নজর দিতে হবে।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিন। তাহলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
    সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারেই রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত রায় বাতিল হয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে। ‘

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। ‘

    গোপালগঞ্জে গতকাল পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ওই ঘটনার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    সাজেকে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিভিন্ন গ্রুপ সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সরকার ও সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

    পূর্বাচলে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শকের বাড়িতে অভিযান ও অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। কারও পরিচয় আমরা বিবেচনায় নেব না। ‘

    মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ বহু বছর পর এবার সারা দেশে চরম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছেএজন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

  • মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

    মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

    দেশের মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের ঝুঁকি কমাতে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৬’-এর আওতায় সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ, দরপত্র, কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের হিসাব সফটওয়্যারভিত্তিক নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণকে রুটিন, পর্যায়ক্রমিক, বিশেষ ও জরুরিÑএ চার ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের অবস্থা, যানবাহনের চাপ, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন মহাসড়কগুলোর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মেরামতের ব্যয় কমানো, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালা নিয়ে সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    খসড়া অনুযায়ী, মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা ও অনুমোদন থেকে শুরু করে বাজেট বরাদ্দ, দরপত্র, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ব্যয়ের তথ্য সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকবে। কাজের তথ্যের যথার্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়বদ্ধ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

    প্রতিটি কাজের ধরন, সড়কের অবস্থান, প্রাক্কলিত ব্যয়, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, কার্যাদেশ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতির তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কাজ শুরুর আগে, কাজ চলাকালে ও শেষে জিও-ট্যাগ করা ছবিও সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যবস্থায় একই সড়কাংশে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং প্রকৃত অগ্রগতি যাচাই সহজ হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    চার ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ

    নীতিমালার খসড়ায় রক্ষণাবেক্ষণকাজের ধরন অনুযায়ী পৃথক কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় থাকবে সড়কের গর্ত ও ফাটল মেরামত, শোল্ডার সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশন, সড়কচিহ্ন ও নিরাপত্তা উপকরণ মেরামত এবং সেতু-কালভার্টের নিয়মিত পরিচর্যা।

    পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় নির্দিষ্ট সময় পরপর সড়কের পৃষ্ঠ নবায়ন, ওভারলে, পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ এবং সেতুর বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হবে। এ ধরনের বড় কাজ কার্যাদেশ দেওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৯ মাসের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে।

    অন্যদিকে এক অর্থবছরে শেষ করা সম্ভব নয়, এমন বড় ধরনের কাজ বা কাঠামোগত উন্নয়ন বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, গভীর পেভমেন্ট পুনর্নির্মাণ, বড় ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, নতুন ইন্টারচেঞ্জ, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ সেতু প্রতিস্থাপনের মতো কাজ রয়েছে।

    বন্যা, ভূমিধস, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো আকস্মিক বিপর্যয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে অস্থায়ী সেতু, ডাইভারশন সড়ক এবং সড়কধস প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    ঝুঁকি বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ

    রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট বণ্টনে শুধু সড়কের দৈর্ঘ্য বা প্রচলিত বরাদ্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি, যানবাহনের চাপ ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়ায় সড়কের অবস্থা, আন্তর্জাতিক রাফনেস ইনডেক্স (আইআরআই), আগের তিন বছরে মেরামত না হওয়া সড়কের অনুপাত, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলবায়ু ঝুঁকিকে বাজেট নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

    সড়ক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এইচডিএম-৪/র‍্যামস) এবং ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (বিএমএস) কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মেরামতের প্রয়োজন নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। প্রতি বছর বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে কোন সড়ক বা সেতুতে আগে কাজ করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা কমাতে নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী কিংবা বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও খসড়ায় বলা হয়েছে।

    ঠিকাদারের মান যাচাইয়ে গুরুত্ব

    রক্ষণাবেক্ষণকাজের দরপত্র ও চুক্তি সম্পাদনে সরকারি ক্রয় আইন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঠিকাদারদের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস, নিয়মিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়টিও খসড়ায় রয়েছে।

    বড় মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের নির্ধারিত সেবামান বজায় রাখতে পারফরম্যান্স বেজড মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট (পিবিএমসি) অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে শুধু কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা নয়; বরং নির্ধারিত সেবামান বজায় রাখার ভিত্তিতে ঠিকাদারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারবে।

    এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু এবং জরাজীর্ণ সেতু-কালভার্ট পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন ও জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক নিরাপত্তায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার তাগিদ

    এদিকে সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রকৃত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    সম্প্রতি ‘ফ্রম ডেটা টু ডিসিশন : অ্যাডভান্সিং রোড সেফটি অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণ ও নকশা প্রণয়নে শুধু পরিবহন সুবিধা বিবেচনা না করে সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যতে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।

    স্বতন্ত্র তহবিলের পরামর্শ

    পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আমার দেশকে বলেন, উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ। দেশে অনেক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কয়েক বছর না যেতেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সময়মতো মেরামত করা না হলে একদিকে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে, অন্যদিকে সড়ক সংস্কারে ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। এটি একটি বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় না। এ কারণে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র তহবিল গঠন অনেক আগে থেকেই প্রয়োজন ছিল।

    তিনি বলেন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য সরকারের যে বরাদ্দ থাকে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ অবস্থায় নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তহবিল গঠন করা গেলে তা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধন ফি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ, বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের নির্দিষ্ট অংশ এবং জ্বালানি তেলের ওপর সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপের মাধ্যমে এ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। বিএনপির আগের আমলেই এ ধরনের তহবিল চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। এখন সেটি বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসেছে।

    তিনি আরো বলেন, প্রথমে তহবিলটি চালু করা জরুরি। এরপর মানুষ যখন এর সুফল দেখতে পাবে, তখন উন্নত ও টেকসই সড়ক নিশ্চিত করতে বাড়তি অর্থ দিতেও তাদের আপত্তি থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সড়ক পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পর মেরামতের পরিবর্তে আগেভাগে ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ‘প্রিভেনটিভ মেইনটেন্যান্স’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি।

  • দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহারের ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত এনে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা অপচয় হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ হয় ৫৭ টাকা।

    সম্পূর্ণ একটি বইয়ের একটি মাত্র দাড়িপাল্লা পতিক পরিবর্তন আনা আনছে এনসিটিবি। তবে প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি সেখানে অন্য একটি বইয়ে রয়েছে ধানের শীষ । সেখানে পরিবর্তন আনা হবেকিনা স্পষ্ট করেনি এনসিটিবি।

    গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বইটির মুদ্রণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় বইগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত এই পাঠ্যবইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।

    ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে বৃত্তাকার প্রতীক, দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ চিত্র, তৃতীয় স্তরে মস্তিষ্ক এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। জানা গেছে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি থাকলেও ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের সংস্করণে তা বদলে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নতুন নকশায় পুনরায় পুরোনো ছবিটি ফিরে আসে। এনসিটিবির দাবি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের বইয়ের পুরোনো নকশাটি ভুলবশত আবার যুক্ত হয়েছে।

    পাঠ্যপুস্তকে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারের ঘটনায় বই প্রণয়নপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটিকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠ্যপুস্তকে এ ধরনের প্রতীকের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো বিশেষ আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে, যা শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইটি প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণি মিলিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে।এনসিটিবির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এনসিটিবির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি

    প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবির অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের দাবি, প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে নৌকার ছবি অস্বাভাবিকভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    অ্যাকটিভিস্ট খালিদ মোহাম্মদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে অন্তত ৩০টি এবং তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ২৪টি নৌকার ছবি রয়েছে। দুই বই মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫৪টি।

    ভাইরাল পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অক্ষর পরিচয়, শব্দ শেখা ও ছবি দেখে চেনার পাঠে একই প্রতীক এতবার ব্যবহারের প্রয়োজন কী। পোস্টে আরো অভিযোগ করা হয়, এনসিটিবিতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

    পোস্টের মন্তব্যে সালমান শামিল নামে একজন লেখেন, একই প্রতীকের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শিশুদের মনে নৌকার প্রতীক গেথে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য এক অ্যাকটিভিস্টও তৃতীয় শ্রেণির বইয়ে নৌকার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তবে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরতে পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহার স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নদীপথ, যোগাযোগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নৌকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, একই ধরনের ছবির পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও বৈচিত্র্য বাড়াতে কতটা কার্যকর। এর পরিবর্তে পরিবেশ, পেশা, প্রাণী, উদ্ভিদ ও দৈনন্দিন জীবনের আরো বহুমাত্রিক চিত্র ব্যবহার করা যেত কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।

    প্রাথমিক শিক্ষায় ছবি শুধু অলংকার নয়, শেখার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই প্রতিটি ছবির পাঠের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা, বয়সভিত্তিক উপযোগিতা এবং শিক্ষাগত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা কাজ করেছে, প্রতিটি ছবির প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ছবি নির্বাচনে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না এটিও একটি প্রশ্নের বিষয় বলে মন্তব্য করেন একজন মন্তব্যকারী।

    শিশুদের উপযোগী মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরিতে বিষয়বস্তুর যথার্থতার পাশাপাশি চিত্রের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

  • আওয়ামী শিক্ষানীতি আর কতকাল চলবে

    আওয়ামী শিক্ষানীতি আর কতকাল চলবে

    এভাবে খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তরে মাদরাসা শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে একমুখী করা হয়। সেই কমিশনে মাদরাসা শিক্ষা এতই অবহেলিত ছিল, ২৯৮ পৃষ্ঠার কমিশন রিপোর্টে মাত্র আড়াই পৃষ্ঠা বরাদ্দ রাখা হয় মাদরাসা শিক্ষার বিবরণের জন্য।

    ড. কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আলোকে প্রণীত ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে সাধারণ শিক্ষায় ইসলাম শিক্ষার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। কুদরাত-এ-খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তর করা হয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা নিয়ে তখন অবকাঠামোগতভাবে বড় ধরনের বিশৃ্ঙ্খলা দেখা দেয় এবং পরে তা স্বাভাবিকভাবেই অকার্যকর হয়ে যায়। এই কমিশনের আলোকে ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে মাদরাসা শিক্ষার সিলেবাসে ব্যাপকভাবে সাধারণ শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। এর ফলে মাদরাসায় স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সাধারণ শিক্ষার প্রায় সব বিষয় বাধ্যতামূলক করা হলে দ্বিগুণ সিলেবাসের বোঝা চাপে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাথায়। ফলে মাদরাসা শিক্ষার নেতারা পরে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুললে সংশোধন করা হয় শিক্ষানীতি। কিন্তু তারপরও মাদরাসার সিলেবাস থেকে ধর্মীয় অনেক বিষয় বাদ দিতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার বই বাধ্যতামূলক করার কারণে।

    খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তর তথা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পাঠ্যপুস্তক না রেখে, সব ধর্মের মূল মানবিক ও নৈতিক বাণী নিয়ে একটি সমন্বিত ‘নীতিশিক্ষা’ নামক বই চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছিল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নীতির আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও উৎপাদনমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কারিগরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি করতে গিয়ে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল ধর্মীয় শিক্ষা। এ দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ কারিগরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলেন না কিন্তু বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে গিয়ে তখন সাধারণ শিক্ষা এবং মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার ওপর যেভাবে কুড়ালের কোপ বসানো হয়েছিল, এর বিরুদ্ধে তখন দেশের ৮০ ভাগ মানুষ ছিলেন তীব্র ক্ষুব্ধ।

    বাংলাদেশকে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে গোড়া থেকে তার ভিত্তি মজবুত করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনন, চিন্তা, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সেই ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মীয় চিন্তা, মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বদলে দেওয়া ছিল এর একটি উদ্দেশ্য। তবে ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। কিন্তু ২০০৮ সালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈনসহ বিভিন্ন মহলের গভীর ষড়যন্ত্রে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দিকে যাত্রা করানোর প্রকল্প হাতে নেয়।

    ভারতের মদতপুষ্ট এই দল শুধু ১৯৭৪ সালের খুদা কমিশনের রিপোর্ট নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি; বরং বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই ধ্বংস করার মিশন নেয় এবং তা সফল করে।

    শেখ হাসিনার আমলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ইতিহাসসহ বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ের অন্যতম বিষয় ছিল শেখ মুজিব ও শেখ পরিবারের বন্দনা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। প্রায় সব পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদে স্থান পেত শেখ হাসিনার ছবি ও একপক্ষীয় স্লোগান। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ইতিহাসের সম্পূর্ণ একতরফা ও বিকৃত বয়ান। কোনো কোনো পাঠ্যবইয়ে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা পড়ে বোঝার উপায় ছিল না এটা বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা কোনো বই। ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশায় উৎসাহিত করতে মাধ্যমিক স্তরে সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর প্রণীত বই বিতরণ করা হতো নানা কৌশলে। শেখ হাসিনার আমলে পাবলিক পরীক্ষা মানেই ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস। অতিশয় নিম্নমানের লেখা পাঠ্যবই, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন, প্রাথমিক এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা চালু, শিক্ষা প্রশাসনের চরম দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনাসহ নানা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষার নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চূড়ান্ত নাজেহালসহ নিবর্তনমূলক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনবিমুখ করে শুধু সনদ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। পুরো শিক্ষা প্রশাসনকে পরিণত করা হয় দলীয় চাটুকার ও অযোগ্য লোকদের আখড়ায়।

    চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি কমিশন গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত এই খাতের সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

    চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে পাঠ্যবইয়ে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ অন্তর্ভুক্তকরণ আর আওয়ামী-দলীয় একতরফা কিছু বয়ান বাদ দিলেই পাঠ্যবইয়ের মান ও শিক্ষার মান উন্নত হয়ে যায় না। বস্তুত সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই সম্পূর্ণ নতুন করে উপযুক্ত ও দক্ষ লোকদের মাধ্যমে প্রণয়ন করার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য দরকার একটি সম্পূর্ণ নতুন ও সময়োপযোগী শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি। তবে নতুন শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অতীতের কোনো শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি সামনে না রাখাই হবে উত্তম। বরং এর স্থলে জাপান, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের যেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো ও উন্নত, তা ভালো করে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য । তাদের শিক্ষাব্যবস্থা সামনে রেখে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজন, মূল্যবোধ, বর্তমান ও আগামীর কথা চিন্তা করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং সে আলোকে উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের বর্তমান যে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা, তা কোনো অবস্থাতেই বর্তমান প্রজন্মের উপযুক্ত নয়। ফলে বিদ্যমান পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা তাদের জন্য ভয়াবহ এক নির্যাতনমূলক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তাই এই শিক্ষাব্যবস্থা ঝেড়ে ফেলে আমূল পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, এআইসহ প্রযুক্তির দ্রুত ও অবিশ্বাস্য অগ্রগতির ফলে বিশ্বব্যাপী পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনেক কিছুই দ্রুত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। কাজেই নতুন একটি শিক্ষা কমিশন বা শিক্ষানীতির মাধ্যমে পুরোনো চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ কোনো কাজ আসবে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন লোকদের রাখতে হবে, যারা পরিবর্তনের এই ধারার সঙ্গে পুরোপুরিভাবে পরিচিত ও অবহিত। আর এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবশ্যই ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করতে হবে নতুন প্রজন্মের লোকদের সঙ্গে। তাদের কাছ থেকে জানতে হবে তারা কেমন পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থা চায় সে বিষয়ে।

    আর সবার আগে পুরো শিক্ষা প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সব প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং নীতিনির্ধারণী প্রতিটি পর্যায় থেকে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের। তা না হলে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা কঠিন বা অসম্ভব হবে। তার নজির আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান না করে পাঠ্যপুস্তকে প্রথমপর্যায়ে যে পরিবর্তন আনা হয়, তাতে জুলাই চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। কারণ পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটিতে স্থান পেয়েছিল ফ্যাসিবাদের একজন দোসর। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও সংস্কার আনা অপরিহার্য।

  • এইচএসসির ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

    এইচএসসির ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

    এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত হবে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্ত শিক্ষাবোর্ড।

    এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই।

    এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’

    নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতি নিয়ে নতুন একটি ‘আইডিয়া’ বা ধারণা পেয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ শনিবার সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়ে নতুন এ ধারণা উঠে আসে। সংসদ দুই কক্ষের হলে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায় কি না—এমন একটি ধারণা সভায় আলোচনায় আসে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার রূপরেখা কেমন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।কমিটির সভা শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বৈঠক শেষ হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে। এতে ৪৪ জন অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রধান ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক সংস্থা করা, মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানো, নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ বছর ও উচ্চকক্ষের মেয়াদ ৬ বছর করা, ৬৪ জেলা থেকে ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন করা, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট দেওয়া, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটির বিধান করা, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার মতো প্রস্তাব এসেছে।

    অবশ্য বাংলাদেশের মতো দেশে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সে প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন। এর বদলে একটি উপদেষ্টা পরিষদ করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে। এ ছাড়া সরকারি হিসাব, সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির মতো কয়েকটি কমিটির বাইরে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে দেওয়া; সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সরাসরি সংবিধান সংশোধন হয়ে যায় কি না—এ বিষয়েও আলোচনা হয়। বেশির ভাগ মত দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে সংসদকে সংশোধনী আকারে রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
    বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এবং কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নতুন ‘আইডিয়া’ এসেছে। ধারণাটি সম্পর্কেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।নতুন আইডিয়াটি এ রকম—যদি সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হয়, এর মেয়াদ নিম্নকক্ষের সঙ্গে শেষ হবে না। উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না, সে আলোচনা এসেছে। এ ক্ষেত্রে যদি উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃজন করা হয়, তাহলে উপরাষ্ট্রপতিকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিকল্প হিসেবে এসেছে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষের স্পিকার নির্বাচিত হবেন। তাঁকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না এবং অন্য উপদেষ্টাদেরও সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকে নিযুক্ত করা—সেটার একটা বিধান থাকতে পারে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ রকম মতামত এসেছে। এটা বিবেচনা করা যায়। তবে আরও প্রস্তাব এলে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে সেগুলো তুলে ধরবে। এ বিষয়ে সবাইকে লিখিত মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবার বক্তব্য ছিল বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রপতিকে বাইরে রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা প্রয়োজন। এটা নিয়ে ‘থিওরিটিক্যাল’ আলোচনা ছিল। কমিটি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত মতামত দিলে সুবিধা হবে। কমিটি প্রত্যেকের মতামতগুলো দেখবে। তাঁরা চান সমঝোতার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ঠিক হোক।

    নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গ
    অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব ক্ষেত্রে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্ন মত) আছে, সেখানে ছাড় দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখনো সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নেননি। তিনি বলেন, তাঁরা বিরোধী দলকে আহ্বান জানাচ্ছেন। যদি বিরোধী দল কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট শিথিল (ভিন্ন মত) করার কথা বলে, সেটা কমিটিতে এসে বিরোধী দলকে বলতে হবে। তখন কমিটি এটা বিবেচনা করতে পারে।

    বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘স্টিউটারি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটা নতুন ‘ডেফিনেশন’ তাঁরা দিতে চেয়েছেন। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন, কর্মপরিধি, প্রতিষ্ঠাগুলো কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে—সে রকম কোনো চিন্তাভাবনা করা যায় কি না, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়েও বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আগের সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়নি। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কমিটির আলোচনায় রয়েছে।

    লক্ষ্য অর্জন গুরুত্বপূর্ণ
    এর আগে দুপুরে বৈঠক থেকে বের হয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও তিনি কথা বলেছিলেন। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তিনি সে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছেন। এবার আশা করছেন, ভালো পরিবর্তন পাবেন। গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশাটা যেন মাথায় থাকে, সেটা তিনি সবার কাছে ‘আপিল’ করেছেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, বিরোধী দলগুলোর মতের ভিত্তিতে যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ঠিক করা হয়। তিনিসহ আরও কেউ কেউ বিরোধী দলকে আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার কথা বলেছেন। কমিটি বলেছে, তারা এ বিষয়ে অনেক রকম চেষ্টা করেছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ। এটার মধ্যে তিনি যেতে চান না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তনই একটা সংস্কার, যদি সেটা ইতিবাচক হয়। লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে কি না, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

    বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, রাগীব রউফ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, মনজিল মোর্শেদ প্রমুখ।

    বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।

  • মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দিয়ে হাসপাতালে এসিল্যান্ড

    মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দিয়ে হাসপাতালে এসিল্যান্ড

    আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’—পরপর ফেসবুকে এমন দুটি পোস্ট দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পোস্ট দুটি দেখে পুলিশসহ অনেকে তার বাসায় ছুটে যান। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে আরিফুর রহমানকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এসিল্যান্ড মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। গতকাল রাতে উপজেলা সদরে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন। ’

    ফেসবুক পোস্টে ইউএনওকে দায়ী করার কারণ জানতে চাইলে শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। পোস্ট দেওয়ার ছয় মিনিট আগেও তিনি আমার বাসায় ছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর কথা বলি, এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো। ’

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও জানান, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ছিল ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন। রাতে কেক কাটার আয়োজনে আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ তার বাসায় উপস্থিত হন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই আরিফুর ফেসবুকে পোস্ট দুটি দেন। এরপর অনেকে তার বাসায় যান। পুলিশও সেখানে যায়। বাসায় গিয়ে তাকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে আসেন। ওষুধ দেওয়ার পরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরে স্ত্রী তাকে সিলেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    ইউএনও আরও জানান, আরিফুরের স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তার আগে থেকেই মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির মরদেহ দেখার পর থেকে আরিফুর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে তার স্ত্রী ইউএনওকে জানিয়েছেন।

    ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অবস্থায় গতকাল রাতে আরিফুর এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। রাস্তায় যাদের পেয়েছেন, তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

    ফেসবুকে পোস্ট দেখে আরিফুরের বাসায় গিয়েছিলেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী। তিনি বলেন, ‘আরিফুরকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে। তখন সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রীর কথামতো একটি ঘুমের ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। তবে তাতে কাজ না হওয়ায় ইনজেকশন দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। সেটি না পাওয়ায় রাত ১টার দিকে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। ’

    ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আরিফুর রহমানের দাফতরিক মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি রাতেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন ইউএনও শিল্পী রানী।

    শনিবার বিকালে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এসিল্যান্ডের মুঠোফোন হ্যাক হয়েছে। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আরিফুর রহমানের মুঠোফোন হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন জামালগঞ্জ থানার ওসি। ’

    এদিকে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পেজ থেকে দাবি করা হয় এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হয়েছে। তবে কোনও যাচাই-বাছাই না করে এমন পোস্ট দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়।

  • ডেঙ্গু-পরবর্তী শিশুর ফলোআপ

    ডেঙ্গু-পরবর্তী শিশুর ফলোআপ

    হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (Discharge) পাওয়ার পর ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর ফলোআপের সময়সূচি সাধারণত শিশুর শারীরিক অবস্থা, ডেঙ্গুর তীব্রতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সবার জন্য একই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় চিকিৎসক যে নির্দেশনা দেন, তা অনুসরণ করা জরুরি।

    প্রথম ফলোআপ

    ছাড়পত্র পাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ করাতে হবে। বাড়ি ফেরার পর শিশুর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা, হেমাটোক্রিট এবং সার্বিক দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার কোনো লক্ষণ আছে কি না—তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তের পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

    দ্বিতীয় ফলোআপ

    জ্বর পুরোপুরি কমে যাওয়ার পর এবং বাড়ি ফেরার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী আরেকটি ফলোআপ করা যেতে পারে। এ সময় শিশু স্বাভাবিক খাবারে ফিরছে কি না—অতিরিক্ত দুর্বলতা বা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না এবং রক্তের উপাদানগুলোর মাত্রা স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ রক্ত গণনা (সিবিসি) বা অন্যান্য পরীক্ষা করানো হতে পারে।

    বিশেষ ক্ষেত্রে করণীয়

    শিশু অত্যন্ত দুর্বল থাকলে, রক্তে প্লেটলেট বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে কিংবা লিভার বা অন্য কোনো অঙ্গে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক ঘন ঘন ফলোআপের পরামর্শ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর বা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরো দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে পারে। ফলোআপের নির্দিষ্ট তারিখ ও নির্দেশনা হাসপাতালের ছাড়পত্রে (Discharge Certificate) উল্লেখ থাকলে তা অনুসরণ করতে হবে।

    শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

    ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও কিছু শিশুর শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য ও মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যা থাকতে পারে। এসব সমস্যা সব শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ১. চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা

    ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দিতে পারে। সামান্য হাঁটাচলা বা খেলাধুলা করলেও তারা ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে এবং আগের মতো শক্তি ফিরে পেতে সময় লাগতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি (Chronic Fatigue) কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠা ৬০-৭০ শতাংশ শিশুর মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়—এমন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া তা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা উচিত নয়। ক্লান্তির কারণ নির্ধারণে শিশুর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করা জরুরি।

    ২. লিভারের সমস্যা

    ডেঙ্গুর কারণে লিভারের এনজাইম—এসজিপিটি ও এসজিওটি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে জ্বর কমার পরও কিছু শিশুর ক্ষুধামান্দ্য, পেটের ওপরের ডান দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হতে পারে।

    ৩. চুল পড়া

    জ্বর কমার কিছুদিন পর কোনো কোনো শিশুর চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি অসুস্থতা ও শারীরিক ধকলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের চুল পড়া সাময়িক হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। তবে চুল পড়া অতিরিক্ত হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ৪. ক্ষুধামান্দ্য ও রুচি কমে যাওয়া

    ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর কিছু শিশুর ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। অসুস্থতার কারণে শরীর দুর্বল থাকলে স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে সময় লাগতে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই শিশুকে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ৬. পেশি ও গিঁটেব্যথা

    ডেঙ্গুর তীব্র জ্বর কমে যাওয়ার পরও কিছু শিশুর হাত-পা, মাংসপেশি ও গিঁটে হালকা ব্যথা বা আড়ষ্টতা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। ব্যথা তীব্র হলে, বাড়তে থাকলে বা শিশুর চলাফেরায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ৭. রক্তস্বল্পতা ও প্লেটলেটের মাত্রা কমে যাওয়া

    ডেঙ্গুর সময় রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রায় পরিবর্তন হতে পারে। কোনো কোনো শিশুর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে ফ্যাকাশে ভাব, দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় সাধারণত প্লেটলেটের মাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে রক্তের পরীক্ষার ফল ও শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নয়, শিশুর সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করা জরুরি।

    ৮. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা

    ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর সব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তবে অসুস্থতার পর কিছুদিন দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এ সময়ে শিশুর পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাবার এবং প্রয়োজনীয় তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত। নতুন কোনো সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    পরামর্শ

    শিশুকে পর্যাপ্ত তরল ও সুষম খাবার দিতে হবে। বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপ এবং অন্যান্য উপযুক্ত তরল দেওয়া যেতে পারে। ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ ও খিচুড়ির মতো পুষ্টিকর খাবার শিশুর সহনশীলতা অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে। শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিতে হবে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার আগপর্যন্ত জোর করে পড়াশোনা, খেলাধুলা বা ভারী কোনো কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়।

    এ সময় শিশুর মানসিক ও শারীরিক যত্ন অত্যন্ত জরুরি।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৯৮

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৯৮

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭৬ জনে। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।

  • চাঁদপুরে জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রশিক্ষণ

    চাঁদপুরে জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুর জেলা জামায়াতের মানবসম্পদ বিভাগের আয়োজনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং নির্বাচন বিভাগের সভাপতি ও পৌরসভা নির্বাচন বিভাগের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী।

    কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।

    প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কোর্ট ট্রেইনার সাদেক হোসেন ভূঁইয়া, মো. হারুন আর রশিদ ওসমানী, আবদুল মালেক, রুহুল আমিন খান ও কামরুজ্জামান সোহেল। এ,আর

  • উজিরপুরে যুবদল নেতা কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ৯

    উজিরপুরে যুবদল নেতা কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাস থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাওসার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।

    পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন মো: সজল মোল্লা (৩৮), মো: শামীম মোল্লা (৩৬), মো: তারিকুল ইসলাম (৩০), সোহাগ হোসেন (৩০), সাগর শেখ (২৬), মো: হাসিব শেখ (৩০), হাবিব শেখ (১৮), মো: মাহবুবুর রহমান (৫০) ও মো: শরিফ হোসাইন (৩০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারসহ কয়েকজন সজল মোল্লাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদিপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত বুধবার তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।

    শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জেরে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদের বিরুদ্ধে ইকবাল ও তার ছেলে সাজিদ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের বিরোধ আরো তীব্র হয়।

    স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এ ঘটনার খবর পেয়ে সজল ও শামীম একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে কাওসারকে পেয়ে সজল ও শামীমসহ তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত একটি মাইক্রোবাস করে পালানোর সময় নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ এ,আর

  • বকশীগঞ্জে নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বকশীগঞ্জে নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদীতে ডুবে সাথী আক্তার (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত সাথী আক্তার ভাটি কলকিহারা এলাকার জাকিরুল ইসলামের মেয়ে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সাথী তার ফুফু জুমুরী বেগমের সাথে বাড়ির পাশের ব্রহ্মপুত্র নদীতে কাপড় ধুতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত সে নদীর পানিতে ডুবে যায়। সাথীকে পানিতে ভেসে উঠতে না দেখে তার ফুফু চিৎকার শুরু করেন।

    পরে স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বেলা ১২টার দিকে নদী থেকে সাথীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • কুমিল্লায় বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নে মোবারক হোসেন (৮০) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে শাকপুর ইউনিয়নের চৌওড়ী এলাকায় শহীদ স্মৃতি ক্যাডেটের পাশের একটি বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোবারক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বরুড়া সদরের এমএস ফার্মেসির সামনে বসে লুঙ্গি সেলাইয়ের কাজ করতেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তবে পারিবারিক বিরোধের সাথে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬) নামে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৌরভ দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা। তবে নিহত অপরজনের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

    এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসের কমপক্ষে ১৫ যাত্রী। এদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, গত শুক্রবার রাতে রংপুর থেকে দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। শনিবার সকালে বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেড়তলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়।

    তিনি আরো জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ ও সৌরভের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • মাঝ আকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, নিহত ৪ পাইলট

    মাঝ আকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, নিহত ৪ পাইলট

    ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ চলাকালে মাঝ আকাশে দুটি সামরিক বিমানের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চার পাইলট নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিমানবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে ফার্নান্দো বিমানঘাঁটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমান দুটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এসএফ-২৬০ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান।

    ফিলিপাইন বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল অ্যালভিন ক্যাপিনগুইয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিমান দুটি ঘাঁটির সীমানার ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্য কেউ হতাহত হননি।’

    দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবাহিনীর এসএফ-২৬০ মডেলের সব বিমান সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে জানান ক্যাপিনগুইয়ান।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপাইনের সামরিক বিমান নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বেনগুয়েত প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলাকালে একই মডেলের আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হলে দুই সামরিক পাইলট নিহত হন।

  • মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ তরুণ নিহত

    মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ তরুণ নিহত

    যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার মন্ডলগাতি গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৮), যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে জয় (১৮) এবং একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর আলী (১৭)।

    আহত ব্যক্তিরা হলেন—যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে রোহান (১৯) এবং যশোর সদর উপজেলার মন্ডলগাতি গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রিফাত (১৭)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুনহাট বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন দুজন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে গভীর রাতে মোটরসাইকেল আরোহীরা কী কারণে মহাসড়কে চলাচল করছিলেন, তা স্থানীয়রা বা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

    যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজনকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াংয়ে বাঁধকেন্দ্রিক বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ কারণে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

    গতকাল শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আপার সিয়াং প্রকল্পকে কেন্দ্র সংঘর্ষে অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ২৩ অক্টোবর সিয়াং অঞ্চলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে শুরু করেন।

    ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন যেমন আদি বানে কেবাং, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখা ও অন্যান্য যৌথ সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।

    তাদের মূল দাবি চারটি—গ্রেপ্তার ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং বাঁধের আগাম সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ শনিবারও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

    পুলিশ প্রশাসন অবশ্য অন্য দাবি করেছে। সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম বলেন, সকালে ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

    অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটেও এমন সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বাঁধবিরোধী যুব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। গোলমালের সময় একাধিক পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বক্তব্য রাখার সময়ই আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।

    এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। তারা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

    মেগা বাঁধ ইস্যুতে রাজ্য সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দমন করছে, তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গ্রেপ্তার তরুণদের মুক্তি এবং সমীক্ষার কাজ বন্ধের বিষয়ে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

    কংগ্রেস বলেছে, মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে। বলপ্রয়োগ করে কখনো মানুষের সম্মতি পাওয়া যায় না। আদিবাসী সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে অবিলম্বে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।

  • তৃতীয় মেয়াদে ভোটে লড়ার দাবি ট্রাম্পের

    তৃতীয় মেয়াদে ভোটে লড়ার দাবি ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার তার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউ সিটিতে এক নির্বাচনি সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আইন অনুযায়ী আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়তো তার নেই।

    তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতারণার কারণে পুনরায় লড়ার অধিকার আমার আছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, তিনি তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

    তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।

    ফলে ট্রাম্পের এই দাবি সাংবিধানিক বাধার মুখে পড়বে। সমাবেশে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন, সংবিধানের এই বিধান বেশ স্পষ্ট এবং এর বিকল্প ব্যাখ্যা বা ফাঁকফোকর খুঁজে পাওয়া কঠিন।

    তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আগের মন্তব্য

    এর আগেও একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, সুযোগ পেলে তৃতীয়বার লড়তে তিনি ‘খুবই পছন্দ করবেন’। গত ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের এক জনসভায়ও আরেকটি মেয়াদ পূর্ণ করার সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন তিনি।

    গত বছর ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অনলাইন স্টোরে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা ক্যাপ বিক্রি শুরু হয়। জুলাইয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও তাকে ওই ক্যাপ পরতে দেখা যায়।

    ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা অবশ্য এসব বক্তব্যকে গুরুত্বহীন মন্তব্য বা রাজনৈতিক রসিকতা হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন গত বছর বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাটদের উসকে দিতে বা তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করতেই ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদের কথা বলেন।

    একই সঙ্গে ট্রাম্পকে আবার লড়ার সুযোগ দিতে সংবিধান সংশোধনের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না বলে জানান।

    তবে বিরোধীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নিছক কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

    এদিকে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আসন বাড়াতে সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। অনুসারীদের তিনি এমনভাবে ভোট দিতে বলেছেন, যেন তিনি নিজেই ব্যালটে আছেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই কৌশল রিপাবলিকানদের কতটা সুবিধা এনে দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

  • পুরো বিশ্বকে আলাদা করে ফেলবে ইরান?

    পুরো বিশ্বকে আলাদা করে ফেলবে ইরান?

    সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল কেটে গেলে মহাকাশের স্যাটেলাইট দিয়ে পুরো পৃথিবী সচল রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন বড় আলোচনা চলছে। ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ কি পারবে বিশ্বকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের আলোয় রাখতে? এর সহজ উত্তর হলো, সংকটকালে স্টারলিংক জরুরি যোগাযোগ টিকিয়ে রাখতে পারবে ঠিকই, তবে সমুদ্রতলের বিশাল কেবল নেটওয়ার্কের বিকল্প হয়ে ওঠার ক্ষমতা এর নেই।

    আমাদের আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানের ৯৯ শতাংশই ঘটে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১৭ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কে নানা কারণে প্রতি বছর প্রায় ২০০টির মতো দুর্ঘটনা ঘটে। একটি কেবল কাটা পড়লেই লাখ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সংকটে পড়েন এবং দেশের আন্তর্জাতিক ডাটা চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

    কেবল ও স্যাটেলাইটের এই ক্ষমতার তফাত বোঝা যায় সাধারণ অঙ্কের হিসাব থেকেই। সমুদ্রের একটি সাধারণ কেবল দিয়ে যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০ টেরাবিট বা ২০ হাজার গিগাবিট তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, তবে একটি ব্যাকআপ স্যাটেলাইট দিয়ে হয়তো যায় মাত্র ১ গিগাবিট।

    অর্থাৎ তথ্য সরানোর ক্ষমতায় কেবুলটি স্যাটেলাইটের চেয়ে প্রায় ২০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ফলে একটি মাত্র কেবলের সমপরিমাণ গতি বজায় রাখতে একই সঙ্গে হাজার হাজার স্যাটেলাইট লিংক চালু রাখতে হবে, যা বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়।

    সমুদ্রের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মেরামত করতে অনেক সময় কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। এই চরম সংকটের সময়ে স্টারলিংক বা অন্যান্য স্যাটেলাইট মূলত একটি বিকল্প নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে।

    এই প্রযুক্তি দুর্যোগের সময় হাসপাতাল, সরকারি জরুরি সেবা, সীমিত আর্থিক লেনদেন এবং বার্তা আদান-প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু পুরো জনগোষ্ঠীর একসাথে উচ্চমানের ভিডিও দেখা, বড় ডাটা ফাইল স্থানান্তর কিংবা বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ডাটা চাহিদা মেটানো স্যাটেলাইটের পক্ষে অসম্ভব।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে হলে শুধু স্যাটেলাইটের ওপর ভরসা করলে চলবে না। সমুদ্রের তলদেশের কেবল, মাটির নিচের ফাইবার এবং মহাকাশের স্যাটেলাইট—এই তিন প্রযুক্তির যৌথ সমন্বয়েই কেবল বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয় এড়িয়ে পুরো বিশ্বকে সচল রাখা সম্ভব।

  • নবাবগঞ্জে যুবককে ছুরিকাঘাত করে গরু চুরি

    নবাবগঞ্জে যুবককে ছুরিকাঘাত করে গরু চুরি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সবুজ মিয়া (৪০) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দু’টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ছোট মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া গরু দু’টির আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত যুবক সবুজ মিয়া ছোট মহেশপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা গোয়ালঘর থেকে একটি বড় ও একটি ছোট গরু বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সবুজ মিয়া বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে সবুজ মিয়ার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসার আশঙ্কায় দুর্বৃত্তরা গরু দু’টি বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে রাখা একটি পিকআপে তুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন আহত সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এমন ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।িএ,আর

  • ইজতেমার মাঠ সাদ পন্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন না

    ইজতেমার মাঠ সাদ পন্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন না

    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, সাদপন্থিরা আর কখনো টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করতে পারবে না।

    শনিবার দুপুরে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড শবগুজারি পয়েন্টে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে সাদপন্থিদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রাখতে হবে।

    তিনি আরও দাবি জানান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উক্ত মামলাগুলো বর্তমানে পিবিআইয়ের অধীনে তদন্তাধীন ।

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পিরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আফতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা।

  • সন্তানরা ভাঙচুর করলে দায় নিতে হবে অভিভাবকদের

    সন্তানরা ভাঙচুর করলে দায় নিতে হবে অভিভাবকদের

    ফ্রান্স ও ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিক্ষোভে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

    এতে জড়িত তরুণদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশের সরকার। ইতালিতে এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করা হয়েছে। ফ্রান্সেও একই ধরনের একটি খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হবে ২৭ অক্টোবর।

    ফ্রান্সে গত মাসে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি দৃশ্য। সেখানে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের বিক্ষোভস্থল থেকে টেনে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

    সন্তানদের ভাঙচুরের ঘটনায় অভিভাবকদের জরিমানা করার পরিকল্পনা বিবেচনায় থাকায় তাদের এমন উদ্যোগের কারণ থাকতে পারে।

    ফ্রান্সে প্রথমে বিদ্যালয়ের ভবনের দুরবস্থা, শিক্ষকের সংকট ও সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এতে যোগ দেন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ। ইতালির বিভিন্ন শহরেও তরুণদের নেতৃত্বে একই ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

    এসব বিক্ষোভের কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

    ফ্রান্স ও ইতালিতে এসব কী ঘটছে, অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অন্য দেশগুলোতে এ বিষয়ে কী ধরনের আইন রয়েছে, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন।

    ফ্রান্স ও ইতালিতে বিক্ষোভের কারণ কী?

    সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিসের উত্তরের শহরতলি সেইন-সাঁ-দেনিতে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা ও শিক্ষকের ঘাটতি ছিল তাদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়েও তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। ওই বাজেটে সরকারি ব্যয় থেকে কয়েক মিলিয়ন ইউরো কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্যারিসের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড তৈরি করেন। পরে ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রথম সপ্তাহেই শত শত বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়।

    একপর্যায়ে সরকারি খাতের কর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। পরিকল্পিত বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে অংশ নেন। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেট্রলের সংকট ও জ্বালানির দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষও বিক্ষোভে যোগ দেন। এসব কর্মসূচির অনেকগুলোই পরে দাঙ্গা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়।

    গত সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, সহিংসতার কোনো যুক্তি নেই। প্রয়োজন মনে করলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারির ঘোষণা দেয়।

    তবে গত শনিবার ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম ও পর্তুগালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন কয়েক লাখ মানুষ। বিক্ষোভগুলো মূলত বিচ্ছিন্নভাবে আয়োজিত হয়েছিল।

    ইতালির মিলানে সপ্তাহান্তের বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা দাঙ্গায় রূপ নেয়। মূলত তরুণদের কয়েকটি দল দোকানপাটে লুটপাট চালায়, জানালা ভাঙচুর করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর, রাস্তার পাথরের টুকরা ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারেন। তারা টেবিল দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডেও আগুন ধরিয়ে দেন।

    ইতালির বোলোনিয়া ও তুরিন শহরেও দাঙ্গার খবর পাওয়া যায়। তবে ফ্রান্স ও ইতালিতে এসব ঘটনায় কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    ইতালিতে অভিভাবকদের দায় বাড়াতে কী পদক্ষেপ?

    মঙ্গলবার ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার সহিংসতা মোকাবিলায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বছরের শেষ পর্যন্ত মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েন এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত সন্তানদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতা বাড়ানো।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজনের কোনো দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় কেউ জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মার্কিন ডলারে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৪৬০ ডলার।

    ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি বিক্ষোভকারীদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিকভাবে আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অপরাধ না করলেও তাদের আটক করা যেতে পারে, যদি তাদের বিপজ্জনক হওয়ার বিষয়ে প্রমাণ থাকে। আগে এ ধরনের ক্ষমতা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।

    নতুন ডিক্রির একটি অংশে ‘ভাঙলে দাম দিতে হবে’—এই নীতির আওতায় সন্তানদের অপরাধমূলক ভাঙচুরের জন্য অভিভাবকদের দায়ী করার আইন আরো কঠোর করা হয়েছে।

    ইতালির দেওয়ানি আইনের ২০৪৮ ধারায় আগে থেকেই বলা আছে, যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আইনগতভাবে স্বাধীন নয় এবং অভিভাবকের সঙ্গে বসবাস করে, তাদের বেআইনি কাজের কারণে ক্ষতি হলে মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তার দায় বহন করবেন। অভিভাবকত্বের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। পালক অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর।

    ইতালিতে কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি জব্দ করা কিংবা বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের দায় আদায় করতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় রাষ্ট্র সরাসরি অভিভাবকদের জরিমানা করতে পারবে অথবা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য তাদের সম্পত্তির ওপর দাবি জানাতে পারবে। পরিবার যে সরকারি ভর্তুকি বা সহায়তা পায়, সেখান থেকেও অর্থ কেটে নেওয়া যেতে পারে।

    ফ্রান্সে কী আইন রয়েছে?

    ফ্রান্সের দেওয়ানি আইনের ১২৪২ ধারা অনুযায়ী, যেসব মা-বাবা তাদের সন্তানের সঙ্গে বসবাস করেন এবং সন্তানের ওপর অভিভাবকত্বের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সন্তানদের ঘটানো ক্ষতির জন্য তাদেরও দেওয়ানি দায় রয়েছে।

    আইনে বলা হয়েছে, অভিভাবকত্বের ক্ষমতা থাকা মা-বাবা তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ঘটানো ক্ষতির জন্য যৌথভাবে ও সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন। তবে প্রশাসনিক বা বিচারিক সিদ্ধান্তে সন্তানকে কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে রাখা হলে এই বিধানের ব্যতিক্রম হতে পারে।

    গত বছর নতুন একটি আইনের মাধ্যমে ১২৪২ ধারায় সংশোধন আনা হয়। এর লক্ষ্য ছিল কিশোর অপরাধবিষয়ক বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের ভূমিকা আরো জোরদার করা। সংশোধনের ফলে দেওয়ানি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের একই বাড়িতে বসবাসের শর্তটি তুলে দেওয়া হয়।

    ফ্রান্সে সন্তানদের কারণে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে আদায় করা যায়। দায়বদ্ধতার বিমা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হলে অভিভাবকদের সম্পত্তি জব্দ করেও অর্থ আদায় করা হতে পারে। এ ধরনের বিমা প্রায়ই বাড়ির বিমার সঙ্গে যুক্ত থাকে। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে কি না, তা বিমার চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে।

    শুক্রবার ফরাসি বেতারমাধ্যম আরএফআই জানায়, সহিংস বিক্ষোভের জবাবে সরকার ‘দাঙ্গাকারীরা ক্ষতিপূরণ দেবে’—এমন একটি নতুন খসড়া আইন প্রস্তাব করছে। আগামী ২৭ অক্টোবর এ খসড়া নিয়ে সরকারের আলোচনা করার কথা রয়েছে।

    আইনটি পাস হলে ভাঙচুরের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। মার্কিন ডলারে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ২০০ ডলার। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধমূলক ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের মা-বাবাকে দায়ী করার বিধানও থাকতে পারে।

    আরএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনে দলগত দেওয়ানি দায়বদ্ধতার বিধান যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে কোনো দল ভাঙচুরের জন্য দায়ী হলে, সেই দলের এমন কাউকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে, যিনি নিজে সরাসরি ক্ষতি করেননি। এ ক্ষেত্রে তাকে সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতোই আর্থিক দায় বহন করতে হতে পারে।

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁন লেকর্নু এই আইনকে ‘একেবারেই অপরিহার্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির খরচ যেন করদাতাদের বহন করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই আইন প্রয়োজন।

    অন্য দেশগুলোতে কী নিয়ম রয়েছে?

    বিভিন্ন দেশেও সন্তানের ঘটানো ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের আর্থিক দায় বহনের বিধান রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব বিধানের শর্ত ও সীমা আলাদা।

    সুইডেনে কোনো শিশু অপরাধ করলে এবং তার কারণে অন্য কারো শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে, নির্দিষ্ট আইনি শর্ত ও সীমা অনুযায়ী মা-বাবা বা আইনগত অভিভাবকদের আর্থিক দায় বহন করতে হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রেও অঙ্গরাজ্যভেদে অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আলাদা আইন রয়েছে। এসব আইনের আওতায় কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি সম্পত্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা যানবাহন নষ্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিংবা স্থানীয় সরকার দেওয়ানি আদালতে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও দায় নির্ধারণের শর্ত ও ক্ষতিপূরণের সীমা অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী ভিন্ন।

  • ফেসবুক  সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের  পোস্ট, মামাকে হত্যা

    ফেসবুক সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের পোস্ট, মামাকে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মামা ফজলে আলী হাজারীকে (৬০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার বাসিন্দা। মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।

    জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সাথে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছুদিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

    সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেরিনকে নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেন। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    শুক্রবার রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান।

    কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    নিহতের ছেলে মো: ফয়সাল বলেন, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো: মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অন্যদিকে একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতারসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ,আর

  • কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি

    যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

    ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো চীনের প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    পিট হেগসেথের দাবি, মার্কিন কংগ্রেসের বিধিনিষেধের পরও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো ভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘স্লিপার অর্গানাইজেশন’ বা সুপ্ত সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নামে ও ভিন্ন সনদে ৮০টি নতুন প্রচারকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল একই—মেধাস্বত্ব চুরি করা এবং মার্কিন শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব বিস্তার করা।

    হেগসেথ আরো বলেন, চীন সরকারের সমর্থনে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করেছে। কংগ্রেসের বিধিনিষেধের পরও সেগুলো নতুন পরিচয়ে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পেন্টাগন পদ্ধতিগতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ভেঙে দিয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে দূতাবাস এ অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

  • টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত

    টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়ায়। তারা গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গাজীপুরা সাতাইশ চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

    স্থানীয়দের বরাতে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাকসুদুল আলম জানান, শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গুরুতর আহত তপন চন্দ্র দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি মাকসুদুল আলম আরো জানান, দু’জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাসে জনবল কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাসে জনবল কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের ওপর ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে অবস্থিত দূতাবাসে জনবল কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলো হলো—জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হামলার পরিকল্পনাও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হুমকির সঙ্গে দূতাবাসগুলোতে জনবল কমানোর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

    তবে দূতাবাসগুলো বন্ধ হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট চার দেশ থেকে মার্কিন কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়নি। সৌদি আরবে অবশ্য অপ্রয়োজনীয় মার্কিন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন হামলার সঙ্গে জনবল কমানোর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

    অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী।

    যুদ্ধের অচলাবস্থার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আবার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফেরাতে মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতি আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

  • আল-আকসার ইমামকে ধরে নিয়ে গেল ইসরাইলি বাহিনী

    আল-আকসার ইমামকে ধরে নিয়ে গেল ইসরাইলি বাহিনী

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ পড়ানোর পর ইমাম শেখ খালেদ আবু জুমাকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইলি বাহিনী।

    গতকাল শুক্রবার খুতবা দেওয়া ও নামাজ পড়ানোর পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-আকসা মসজিদের এক্স অ্যাকাউন্ট। তবে তার ওপর মসজিদে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

    খুতবায় শেখ খালেদ জমিতে অবিচল থাকা বা ‘রিবাত’ এবং ফিলিস্তিনিদের চলমান জলপাই সংগ্রহের মৌসুম নিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া কয়েকজন জনপরিচিত ব্যক্তির এমন মন্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন, যেগুলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননা করেছে বলে আল-আকসা মসজিদের এক্স অ্যাকাউন্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে জেরুজালেমের সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরিমা সাবরির ওপর আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। নতুন আদেশ অনুযায়ী, ৮৭ বছর বয়সি এই ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতা ২০২৭ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন না।

    কুদস প্রেস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর আদেশটি তার আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। জেরুজালেমে যাতায়াতের পথের একটি চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা শত শত ফিলিস্তিনির যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    এদিকে পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। শহরটিতে অবরোধও আরোপ করা হয়েছে। হেবরনের কাছে গুলির ঘটনায় ছয়জন ইসরাইলি আহত হওয়ার খবরের পর এ অভিযান শুরু হয়।

    সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় হামলার জন্য দায়ী বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরা নিহত হয়েছেন। এর পর পশ্চিম তীরজুড়েও ব্যাপক অবরোধ আরোপ করা হয়।

  • গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় আহত ২, গাড়ি ভাঙচুর

    গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় আহত ২, গাড়ি ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। হামলায় এক উপপরিদর্শকসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

    ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট ঘাট চরপাড়া এলাকায় নিয়মিত ডিউটি পালনকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উপ-পরিদর্শক মো: ফুল মিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় হামলাকারীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে।

    তিনি জানান, হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ,আর

  • ইসলামের সতর্কবার্তা করল মানুষের মনে আঘাত দেওয়া কি

    ইসলামের সতর্কবার্তা করল মানুষের মনে আঘাত দেওয়া কি

    মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবসময় হাতের আঘাত প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো কিছু শব্দই হয়ে ওঠে গভীর আঘাতের কারণ। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা হয়তো কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু সেই কথার কষ্ট অন্য মানুষের মনে থেকে যেতে পারে দীর্ঘদিন। ইসলাম তাই মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও দিয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

    কথাবার্তায় ভদ্রতা, সংযম ও সুন্দর আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কাউকে অপমান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা এমন কথা বলা, যাতে তার মনে কষ্ট তৈরি হয়—এসব থেকে মুসলমানদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    এই হাদিসে কথার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কথা বলার আগে সেটি অন্যের জন্য কল্যাণকর কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। ভালো কথা বলার সুযোগ না থাকলে নীরব থাকাও ইসলামের শিক্ষা।

    অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)এখানে জিহ্বাকে হাতের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ক্ষতি শুধু কাজের মাধ্যমে নয়, কথার মাধ্যমেও হতে পারে। কটু কথা, অপমান, গালি কিংবা কাউকে হেয় করার মাধ্যমে অন্যের মনে যে আঘাত দেওয়া হয়, ইসলাম তা থেকে সতর্ক করেছে।

    কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাও ইসলামে নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।” (সহিহ মুসলিম)

    তাই কারও চেহারা, সামর্থ্য, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, পেশা কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে বিদ্রূপ করা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না। বরং মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করাই ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    কথার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাগ নিয়ন্ত্রণ। রাগের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো কখনোই বলত না। পরে অনুতপ্ত হলেও বলা কথাটি আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই রাগের সময় নীরব থাকা, নিজেকে সংযত করা এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কথা বলা ইসলামী আদবের অংশ।

    ইসলামের সৌন্দর্য শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিও একজন মানুষের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, অন্যকে সম্মান করা এবং মুখের কথায় সংযমী থাকা তাই একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    একটি সুন্দর কথা যেমন মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি একটি কঠিন বাক্যও কাউকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। তাই কথা বলার আগে একটু থামা, ভাবা এবং প্রয়োজন হলে নীরব থাকা—এটাই হতে পারে ইসলামের সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।

  • বড়াইগ্রামে ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    বড়াইগ্রামে ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বড়াইগ্রামে ডোবা থেকে মুনজিলা খাতুন (৪) নামে এক শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের আদগ্রাম পাতিল বাবার মাজারের পাশে আনার আলীর ডোবা থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মুনজিলা কুন্ডুপাড়া গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে। তার মা রহিমা বেগম (৩০) তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন।

    স্থানীয়রা জানান, শিশুটিসহ তার মা রহিমা বেগম এক যুবকের সাথে পাতিল বাবার মাজার সংলগ্ন বাঁশ বাগানে ডোবার পাশে রাত্রিযাপন করেন। সকালে রাস্তায় এসে লোকজনকে তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ডোবায় ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আদগ্রামের শামসুল ইসলাম বলেন, শিশুটির পেটে কোনো পানি ছিল না। আমরা চাপ দিয়ে দেখেছি। রাতে হয়তো অনৈতিক কোনো কাজের জন্য শিশুটিকে নিয়ে তার মা এখানে এসেছিল। এ সময় কান্নাকাটি করায় তাকে মেরে পানিতে ফেলে দিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

    বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • নিজের পা নিজেই কাটলেন !

    নিজের পা নিজেই কাটলেন !

    রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলায় প্রথমে একটি পা হারান ইউক্রেনের সেনা কস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেঙ্কো। অন্য পা-ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকে বাঁচার আশায় শেষ পর্যন্ত নিজের সেই পা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলেন তিনি। এরপর প্রায় ৪৯১ দিন ধরে ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয় ভারী একটি ড্রোনের সাহায্যে।

    গত ৪ অক্টোবরের এই উদ্ধার অভিযানে ভ্লাসেঙ্কোকে একটি নিরাপত্তা বেল্টে বেঁধে ছয় পাখার বড় ড্রোনে তোলা হয়। ড্রোনটি তাকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় ড্রোনটি মাটি থেকে প্রায় ৭০ মিটার উঁচুতে উড়ছিল। পুরো উড্ডয়ন শেষ করতে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট।

    ভ্লাসেঙ্কোর এ ঘটনার বিবরণ দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও তার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযানের সময় ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতেও ঘটনার কিছু অংশ দেখা গেছে। তবে ঘটনার সব খুঁটিনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

    ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ভ্লাসেঙ্কো। গত বছরের মে মাসে তাকে সেখানে পাঠানো হয়। ওই এলাকায় রুশ ড্রোনের হামলার ঝুঁকি এত বেশি ছিল যে সেখানে চলাচল করাই ছিল প্রাণঘাতী।

    ভ্লাসেঙ্কোর সঙ্গে থাকা সহযোদ্ধা ‘বাসকি’ গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত হন। নিজের ৫০তম জন্মদিনে প্রাণ হারান তিনি। ওই হামলায় ভ্লাসেঙ্কোর বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডান পা-ও মারাত্মকভাবে আহত হয়।

    আহত অবস্থায় তিনি একটি পুরোনো ধাতব বয়লারের নিচে আশ্রয় নেন। জায়গাটি ছিল মাত্র ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া। সেখানেই আটকে পড়েন তিনি। সময়ের সঙ্গে তার বাম পায়ের ক্ষত পচে যেতে থাকে। ডান পায়ের হাড়ও বাইরে বেরিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশায় ছুরি দিয়ে নিজের ডান পা কেটে ফেলেন ভ্লাসেঙ্কো। রক্তপাত বন্ধ করতে ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধেন।

    দীর্ঘ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় আটকে থাকার পরও উদ্ধারের আশা ছাড়েননি তিনি। অক্টোবরে তার কাছে সরবরাহের একটি প্যাকেট পৌঁছায়। তাতে ছিল একটি নিরাপত্তাবেল্ট ও একটি মোবাইলফোন। ফোনে তাকে উদ্ধারের সময় কীভাবে বেল্ট ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনামূলক ভিডিও ছিল।

    এরপর তাকে উদ্ধারে ভারী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গুরজুফ ডিফেন্স তৈরি করেছে ছয় পাখার এই ড্রোন। এটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করতে পারে এবং একবারে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।

    উদ্ধার অভিযান সহজ ছিল না। ভ্লাসেঙ্কোকে বহনকারী ড্রোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি ছোট ড্রোন সেটিকে অনুসরণ করে। এ ছাড়া আরো চারটি ছোট ড্রোন, কামান এবং বড় পাখাযুক্ত ড্রোন দিয়ে রুশ ড্রোনের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান।

    উদ্ধারকারী দল ভ্লাসেঙ্কোকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেলেও সেই স্থানের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও বিপজ্জনক এলাকায় আটকে থাকা এক আহত সেনাকে উদ্ধার করতে ইউক্রেনের বাহিনীকে একাধিক ড্রোনের সমন্বয়ে অভিযান চালাতে হয়েছে। ঘটনাটি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারও দৃষ্টান্ত।

  • ‘ইসরাইলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হওয়ার পথে’

    ‘ইসরাইলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হওয়ার পথে’

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দেশটির জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিকল্প অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ইসরাইলি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। ফলে আগামী দিনে ইসরাইলকে বছরে বিপুল পরিমাণ মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে না-ও দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ব্লকচেইন প্রযুক্তিসহ বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, তার সরকার পুনর্নির্বাচিত হলে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে ইসরাইলের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মারাত্মক চাপে পড়বে।

    অন্য বিরোধী নেতা ইয়ার গোলানও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কৌশলগত জোট রক্ষা করা জরুরি।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পাওয়ার কথা ইসরাইলের। তবে সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে

  • মারা গেছেন মডেল-উপস্থাপক তুলনা

    মারা গেছেন মডেল-উপস্থাপক তুলনা

    মারা গেছেন মডেল ও উপস্থাপক তুলনা আল হারুন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর। তুলনার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই আয়াজ।

    পারিবারিক সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই মডেল ও উপস্থাপিকা। ব্রেন টিউমার থেকে তার ক্যানসার হয়েছিল। কয়েক বছর আগে অস্ত্রোপচারও করানো হয়।

    অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। তবে সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেহাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে হার্ট অ্যাটাক হয় তার। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ পিসিকালচার হাউজিংয়ের তিন নম্বর রোডে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রায়েবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেছেন তুলনা আল হারুন। মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনায় নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। শোবিজে কাজের সুবাদে সহকর্মী ও অনুরাগীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তুলনা।

    তুলনা আল হারুন দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাই আবদুল্লাহ আল হারুনের মেয়ে। তার বাবা আবদুল্লাহ আল হারুন জার্মানিতে থাকেন। তুলনারা দুই ভাই ও দুই বোন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

    যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

    মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় জনবল কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া নিচ্ছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি স্মারকলিপি পাঠান।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এমন গোয়েন্দা তথ্য সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কয়েকটি দেশে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    এক পৃষ্ঠার ওই স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, ব্যক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম কিংবা ষড়যন্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যাতে আরও বিস্তৃত পরিসরে তথ্যটি জানাতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী এর গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লেটন।

    শুক্রবার রাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। কর্মকর্তারা জানান, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, সম্ভাব্য হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পেছনে এসব গোয়েন্দা তথ্যও একটি কারণ। এর আগে সিএনএন এ খবর প্রকাশ করেছিল।

    এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও দাহরানের কনস্যুলেট থেকে পরিবারের সদস্য ও জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে শুক্রবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ।

  • কাউকে ভোট ডাকাতি করতে দেব না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    কাউকে ভোট ডাকাতি করতে দেব না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’

    বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি।

    সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’

    জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’

    ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    ইন্দোনেশিয়ায় ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় মাসের পর মাস ধরে শহর ও আশপাশের অঞ্চল ঢেকে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পালাংকারায়া শহরের শত শত শিক্ষার্থী। শুক্রবার তারা এ বিক্ষোভ করেন।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর মুখে ছিল সার্জিক্যাল মাস্ক। আকাশজুড়ে ছিল অস্বাভাবিক কমলা আভা, আর ঘন ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে এসেছিল ব্যাপকভাবে।

    এ পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আরও অর্থ বরাদ্দের সুযোগ তৈরি করতে সরকারকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

    বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশে অবস্থিত মধ্য কালিমান্তান প্রদেশে এসব দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

    প্রদেশটির গভর্নরের কার্যালয়ের বাইরের দেয়ালে সাঁটানো একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘কর্মকর্তারা নির্বোধ, অথচ তারা দারুণ সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। আর সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ।’

    বিক্ষোভকারীরা ইন্দোনেশিয়ার দেশাত্মবোধক গান ‘ইন্দোনেশিয়া পুসাকা’ গেয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সামান্য ধস্তাধস্তিও হয়।

    তবে কোনো হতাহতের ঘটনা বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। রাতে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।

    বিক্ষোভের নেতা ইউয়ুন সানজায়া সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘এই দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা যে অক্ষম, মধ্য কালিমান্তান প্রাদেশিক সরকারকে তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করার আহ্বান জানাচ্ছি। তাহলে পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’

    বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে ইন্দোনেশিয়া সরকার এ পরিসংখ্যান নিশ্চিতও করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি।

    দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুর পর্যন্ত।

    প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক অসন্তোষের পাশাপাশি নিজ দেশেও সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার জাভা দ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার স্কুল শিশুরা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছে।

    ওই দ্বীপের বেশ কয়েকটি জেলা ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলও দাবানলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • চাঁদাবাজি বন্ধে শিগগিরই নতুন আইন আসছে: আইজিপি

    চাঁদাবাজি বন্ধে শিগগিরই নতুন আইন আসছে: আইজিপি

    চাঁদাবাজি বন্ধে শিগগিরই নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের ভয়ে অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। নতুন আইন কার্যকর হলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ নিজে বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনার বয়রায় কেএমপির পুলিশ লাইনসে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। এমনকি সাক্ষ্য দিতেও ভয় পান। ফলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়। এ সমস্যা দূর করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনটি পাস হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। আবার বলপ্রয়োগ না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করা হয়। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশ কাজ করছে।

    কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এ বিষয়ে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিংকে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

    চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অভিযোগ না পেলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

In English

English edition · Older English stories