BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে উপাচার্যের (ভিসি) ভবনের পাশেই গরু জবাই করেছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত ‘শুক্রবারের গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভিসি ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়।

    এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গরুভোজ আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৪ অক্টোবর)। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
    বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার পেছনের কারণ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে গরুভোজের আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না।

  • সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অপরাধীদের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিককে দেয়ালে ঠেসে ধাক্কাধাক্কি করা, শার্টের কলার ধরে টানাটানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ সময় তার মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গণমাধ্যমের সংবাদদাতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কথা কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে কলা ভবনের পেছনের ঝোপে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন আবু তাহের। ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘ভিডিও যদি পোস্ট হয়, তোরে শেষ কইরা ফেলমু’, ‘ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু। ’

    প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত অভিযুক্তরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আব্দুল কাদির জিলানী, রায়হান আহমেদ, হোসাইন চৌধুরী, দিদারুল, মাছুদ রানা মবিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার। এছাড়া অশনাক্তকৃত রয়েছে আরও ২ জন।

    অভিযোগকারী আবু তাহের বলেন, কলা ভবনের পেছনে ঝোপের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করছিলেন। আমি দূর থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আমাকে ভিডিও করতে দেখে অন্যদের ডেকে জানান। এরপর কয়েকজন আমার কাছে এসে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তারা আমার সঙ্গে জোর জবরদস্তি করেন, দেয়ালে ঠেসে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। কয়েকজন আমার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভিডিও পোস্ট করলে আমাকে শেষ করে ফেলবেন। আমি কয়েকবার তাদের অনুরোধ করে ছেড়ে দিতে বলি। ভিডিওটি মুছে দিচ্ছি বলেও জানাই। কিন্তু এরপরও তারা আমাকে ছাড়েননি। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে আমাকে তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দেন।

    আবু তাহের জানান, এরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আবার তার কাছে এসে মুঠোফোন কেড়ে নেন। ফোনে থাকা ভিডিওটি মুছে ফেলার পর গ্যালারিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে তাকে ফোনটি ফেরত দেন তারা।

    এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান তালুকদারসহ একাধিক জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। দ্রুতই আমরা ব্যবস্থা নেব।

  • সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, বাড়ছে সতর্কতার তাগিদ

    সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, বাড়ছে সতর্কতার তাগিদ

    দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সবগুলোরই ক্রেডেনশিয়াল ওয়েবে পাওয়া গেছে। অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য এবং ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রেইন স্টেশন ২৩ আয়োজিত রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে

    সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এতে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকার ও শিক্ষাঙ্গণের প্রায় ১৫০ জন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাইবারস্টেশন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। তাদের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আমার হয়েছে। এটি সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধ ও মোকাবিলার কৌশল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

    এছাড়া, বাংলাদেশের ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং টেক স্পেশালিস্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, “যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা সামলাতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং অপরাধীরা অপব্যবহার করার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।”

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে।

    একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন করে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর এই তথ্য পাওয়া গেছে।

  • শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

    শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজন দেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রকাশ পায়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।

    তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপন করেন, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।

  • সুনামগঞ্জে চার শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

    সুনামগঞ্জে চার শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদানকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিন।

    সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মামুনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান, জেলা জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আজিজুল হক মাসুক এবং বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা লুতফুর রহমান প্রমুখ। এ,আর

  • ধর্মীয় স্বাধীনতায় অমুসলিমদের করণীয়

    ধর্মীয় স্বাধীনতায় অমুসলিমদের করণীয়

    ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে আমরা বুঝি, মানুষ স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো ধর্ম গ্রহণ করতে পারবে অথবা যেকোনো আকিদায় বিশ্বাসী হতে পারবে। অনুরূপভাবে, সে কোনো ধর্ম বা আকিদা গ্রহণ না করেও থাকতে পারবে। অর্থাৎ, যেকোনো ধর্ম বা আকিদা অবলম্বন করার বা না করার তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এতে তাকে কেউ জোর-জবরদস্তি করতে পারবে না। তবে তাকে জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে এবং যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে আহ্বান করা যাবে।ইসলাম একদিকে যেমন মানুষকে কোনো ধর্ম গ্রহণ করা বা না করার স্বাধীনতা প্রদান করেছে, অন্যদিকে যেকোনো মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করারও অধিকার দিয়েছে। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে কাউকে ধর্মে প্রবেশ করানো অবৈধ ঘোষণা করেছে। মদিনার আনসারদের মধ্যে এক ব্যক্তির দুই পুত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর পুত্রদ্বয় যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তাদের বাবা বল প্রয়োগ করে ইসলামে প্রবেশ করাতে চাইলে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন। তখন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আয়াত নাজিল হয়, ‘দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। কেননা, ভ্রান্ত মত ও পথ থেকে সঠিক মত ও পথ দিবালোকের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৫৬)

    মূল কথা হলো, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার জন্য কোনোপ্রকার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর ধর্মকে নিয়ে তালবাহানা করারও কোনো সুযোগ নেই।

    আরব পৌত্তলিকদের মহানবী (সা.)-এর প্রতি চরম নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি তাদের সঙ্গে শক্তি প্রদর্শনের কোনো পন্থাই অবলম্বন করেননি। কেননা, তিনি নিজের ও অন্যদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতাই চেয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবী (সা.)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে নবী! আপনি মুশরিকদের বলে দিন, তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম।’ (সুরা আল-কাফিরুন : ৬) অন্য আয়াতে কারিমায় বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি পরিষ্কার বলে দিন, এ হচ্ছে সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, এখন যে চায় সে তা গ্রহণ করুক এবং যে চায় অস্বীকার করুক। আমি (অস্বীকারকারী) জালিমদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত রেখেছি।’ (সুরা আল-কাহফ : ২৯)

    এসব আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ঈমান গ্রহণ বা কুফরি করা মানুষের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য মানুষের এ ইচ্ছা মহান আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীল। কেননা, আল্লাহতায়ালা সব বিষয় ও বস্তুর সৃষ্টিকর্তা। মানুষ তার কৃতকর্মের কারণেই পাপ-পুণ্যের অধিকারী হবে। এ ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, যে ধর্ম সত্য, তাতে দলভুক্ত করতে জোর-জবরদস্তি করতে হয় না।

    ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের মন জয় করা যায়। কেননা, হক বাতিল থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথকভাবে বিরাজমান। সুতরাং শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনই-বা কী?

    ইসলাম অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ও পর্বগুলো পালনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। অবশ্য, এটা রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের সীমার মধ্যে হতে হবে। এছাড়া মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমদের সব ধরনের লেনদেন ও কাজ-কারবারের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া যাবে না।

    অমুসলিমদের প্রতি ইসলামের বদান্যতার উদাহরণ থেকে সহজেই বোঝা যায়, কোনো মুসলমানের স্ত্রী খ্রিষ্টান বা ইহুদি হলে মুসলমান স্বামী ওই স্ত্রীকে তার গির্জায় যেতে নিষেধ করতে পারবেন না। বরং বিনা দ্বিধায় তাকে তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের স্বাধীনতা দিতে হবে।

    এছাড়া মুসলমানদের খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের শূকর বধে বাধা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের মদের পাত্রও ভেঙে ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, তারা শূকরের মাংস ভক্ষণ ও মদ্যপানে অভ্যস্ত। অনুরূপভাবে, ইসলাম অমুসলিমদের ব্যক্তিগত ক্রিয়াকর্ম পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। যেমন তাদের বৈবাহিক বন্ধন, তালাক, উত্তরাধিকার আইন ইত্যাদি।

    ইসলামে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে নিম্নোক্ত ঘটনাটি অতি চমকপ্রদ। একদা নজরান গোত্রের খ্রিষ্টানদের একদল দূত রাসুল (সা.)-এর কাছে আগমন করেন। তারা আসরের নামাজের পর মসজিদে নববিতে প্রবেশ করেন। তখন তাদের উপাসনার সময় উপস্থিত হয়। তারা উপাসনার জন্য দাঁড়ালে কতিপয় মুসলমান তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিষেধ করেন এবং বলেন, তাদের উপাসনা করতে দাও। এরপর তারা পূর্বমুখী হয়ে তাদের উপাসনা সম্পন্ন করেন।

    ইসলামে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার প্রতিফলন দেখা যায়। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমরা সুন্দরভাবে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে আসছেন। মুসলমানরা যখনই কোনো দেশ জয় করেছেন, তখন অমুসলিমদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মুসলমানরা অমুসলিম বিজয়ীদের মতো পরাজিতদের জোরপূর্বক তাদের ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা কখনো করেননি। ইতিহাসে এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায়। হিন্দুস্তানে সর্বদা অমুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অথচ মুসলমানরা আটশ বছর হিন্দুস্তান শাসন করেছেন। অন্যদিকে, স্পেনে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ। কিন্তু অমুসলিমদের হাতে স্পেনের শাসনভার চলে যাওয়ার পর এখন সেখানে মুসলমান নেই বললেই চলে। ভারতে মোদিজির শাসনামলে গত দশ বছরে ছয় হাজারের বেশি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ধর্মপালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গোরক্ষার নামে মুসলমানদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে।

    মহামতি সালাহউদ্দিন আইয়ুবির সময় বায়তুল মাকদাস বিজয়ের পর তিনি সব খ্রিষ্টানকে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন। এভাবে মুসলমানদের বিজিত দেশগুলোর অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলমানদের সন্ধি ও চুক্তিনামা পড়লেই সহজে মুসলমানদের বদান্যতা ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের এই বদান্যতা ও সহনশীলতার মাধ্যমেই ইসলামের এত বিস্তৃতি ঘটেছে।

    সুতরাং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির জন্য কাজ করলে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে—এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বমানবসমাজকে সত্যানুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন!

  • ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে শ্রমিকবাহী লেগুনায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আহত হয়েছেন আরো নয়জন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গুজিয়াম এলাকার বগার বাজারে নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাইম মিয়া (২৩) ও ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিগুরকান্দা গ্রামের রায়েরগ্রাম এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে কামাল ফকির (৪০)।

    আহতরা হলেন— গফরগাঁওয়ের সান্তা (২১), লিজা (২২), হাজেরা (৪৩), রুজিনা (৩০), শালিনা (২৭), আকলিমা (৩৬), অজুফা (৩০), রাসেল (২১) ও ত্রিশালের তাসলিমা (২২)।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের বগার বাজার এলাকার দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা রাতের পালার কাজ শেষে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি লেগুনায় ওঠেন। লেগুনাটি নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে ইউটার্ন নেয়ার সময় উল্টো পথে আসা ময়মনসিংহগামী একটি কাভার্ড ভ্যান সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হন নারীসহ আরো নয়জন।

    খবর পেয়ে ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

    দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের এজিএম সেলিম আল রাজী জানান, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য মিলের একজন কর্মকর্তা হাসপাতালে রয়েছেন।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, নিহত দু’জনের লাশ বডিব্যাগসহ ত্রিশাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, নিহতদের লাশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।

    ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    কুষ্টিয়ায় লালনমেলায় গাঁজা সেবনের প্রায় ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালনমেলা উপলক্ষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনের প্রায় দুই হাজার পিস সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লালনমেলার মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

    আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এ আয়োজনকে ঘিরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    লালনমেলার অনুষ্ঠানকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, লালন শাহের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির শর্ত ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে।

    শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো মতদ্বৈততা নেই; আলোচনার মাধ্যমে যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে দিনের শুরুতে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

  • গোমস্তাপুরে ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    গোমস্তাপুরে ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বৈধ ক্রয় রশিদ ছাড়া টিএসপি সার পরিবহনের দায়ে মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁর পরিবহন করা ১৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের আক্কেলপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী আল মাহমুদ।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, বৈধ ক্রয় রশিদ ছাড়া ১৮ বস্তা টিএসপি সার পরিবহনের সময় মো. ইসমাইলকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ও সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং সারগুলো জব্দের নির্দেশ দেন।

    অভিযানে প্রসিকিউশন দেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান আতিকুর রহমান।

    পরে জব্দ করা সার স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গানিউল ইসলাম ও ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের জিম্মায় দেওয়া হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারগুলো বিক্রি করা হয়। সার বিক্রির ২৪ হাজার ৩০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য আদায় করা হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • মিরপুরে মা সমাবেশ

    মিরপুরে মা সমাবেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০ নং খাঁড়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক জোমারত আলী, জামায়াতের বহলবাড়িয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিঠুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাহিদ আকবার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আব্দুল গফুর বলেন, আমাদের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের উপর আমাদের বংশ, দেশ ও জাতী নির্ভর করবে। তাই তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের পড়ালেখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে মায়েদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মা শুধু একজন অভিভাবকই নন, ছোট-ছোট শির্ক্ষাথীদের জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছোট শিশুরা প্রথম পর্যায়ে পরিবারের মধ্যে মায়ের কাছ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে থাকে। তাই আমাদের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় বেশির ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ বিধান রাখা হয়েছে। আমাদের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে মায়েদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    তিনি আরোও বলেন, মায়েরা যত উন্নতভাবে সন্তান পরিচালনা করবে, শিশুরা তত ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের উপরও জোর দিতে হবে। শুধু ভালো ছাত্র হলে চলবেনা, একইসাথে শিশুদের ভালো মানুষ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে মায়েদের ভূমিকা প্রধান। এ,আর

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।

  • কোটচাঁদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

    কোটচাঁদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর–মহেশপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার আজিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পৌর মেয়র পদপ্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মুহাঃ শরিফুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উদ্যোগের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ,আর

  • পরিবারের ভূমিকায় সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন

    পরিবারের ভূমিকায় সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন

    কবি হাফিজ ইব্রাহিম বলেছেন, ‘মা একটি বিদ্যালয়; তাকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে, একটি সৎ ও উত্তম জাতি গড়ে উঠবে।’ মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয় পরিবার। আরো বিশেষায়িত করে বললে, মা। একজন শিশু পৃথিবীতে আসার পরপরই প্রথম মাকে দেখে। মায়ের সঙ্গেই তার সময় কাটে হেসেখেলে। হাসিকান্নার ভেতর দিয়ে দেখতে দেখতে সে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। বাবাকে চেনে। চিনতে শুরু করে দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের। এভাবেই শিশু আচার-আচরণ ও মূল্যবোধ শিখতে শুরু করে পরিবার ও আপনজনদের কাছ থেকে। তাই ইসলাম পরিবারকে শুধু একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং ঈমান, নৈতিকতা, আদব-কায়দা ও মানবিক গুণাবলি গঠনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠশালা হিসেবে দেখে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরিম : ৬) এই আয়াতে মহান আল্লাহ আখিরাতের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের ওপর অর্পিত একটি মহান দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা, উত্তম চরিত্র ও আল্লাহভীতি শেখানো মা-বাবার প্রধান কর্তব্য।

    শিশুর প্রথম ভাষা, প্রথম আচরণ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম শৃঙ্খলা এবং প্রথম ধর্মীয় চেতনার সূচনা হয় পরিবারের মধ্যেই। তাই একটি পরিবারের পরিবেশ যেমন হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও অনেকাংশে তেমনই গড়ে উঠবে। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমার পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তুমি নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো।’ (সুরা ত্বহা : ১৩২) অর্থাৎ, ইসলামি শিক্ষা শুরু হবে পরিবার থেকেই। ঘরে যদি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ গড়ে ওঠে, তবে সন্তান স্বাভাবিকভাবেই সেই আদর্শে বেড়ে উঠবে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (বুখারি : ৮৯৩; মুসলিম : ১৮২৯) আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (তিরমিজি : ৩৮৯৫)

    এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত ধার্মিকতা শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিস্তার, ভোগবাদী সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা নতুন প্রজন্মকে নানা নৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্য উন্নত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করলেও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেন না। ফলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও চরিত্রবান মানুষের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়ছে না।

    শিশুর মন উর্বর জমির মতো। সেখানে যে বীজ বপন করা হবে, ভবিষ্যতে সেই ফলই পাওয়া যাবে। পরিবারে যদি সত্য, ন্যায়, সততা, ধৈর্য, দয়া, ক্ষমাশীলতা ও তাকওয়ার চর্চা হয়, তবে সন্তানও সেসব গুণ অর্জন করবে। আর যদি পরিবারে মিথ্যা, অশান্তি, রূঢ়তা ও অবহেলার পরিবেশ বিরাজ করে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর মনোজগতে গভীরভাবে পড়বে।

    ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি, মহানবী (সা.)-এর পরিবার ছিল আদর্শ পরিবারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেখানে পরস্পরের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল। আখলাক ও ইবাদতের পরিবেশ পূর্ণমাত্রায় বিরাজ করত। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই সাহাবায়ে কিরাম মানবতার শ্রেষ্ঠ প্রজন্মে পরিণত হয়েছিলেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার সন্তানকে উপকারী শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে অবহেলা করে এবং তাকে তার খেয়ালখুশিমতো চলতে দেয়, সে তার প্রতি চরম অন্যায় করে। অধিকাংশ সন্তানের বিপথগামিতার কারণ হলো মা-বাবার অবহেলা এবং তাদের দ্বীনের ফরজ ও সুন্নাহ শিক্ষা না দেওয়া।’ (তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ)

    এই বক্তব্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সন্তানকে শুধু সফল পেশাজীবী হিসেবেই নয়, বরং একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রতিটি পরিবারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আজ আমাদের প্রয়োজন এমন পরিবার, যেখানে প্রতিনিয়ত কোরআন তিলাওয়াত শোনা যায়। প্রতিটি সন্তানকে জামাতে নামাজের গুরুত্ব শেখানো হয়। মিথ্যা ও প্রতারণাকে ঘৃণা করতে শেখানো হয়। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করতে শেখানো হয়। এমন পরিবারই ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি এবং একটি কল্যাণময় সমাজ নির্মাণের প্রথম ধাপ।

    মনে রাখতে হবে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার পরিবারে। পরিবার যদি আদর্শ হয়, সমাজ হবে আদর্শ। সমাজ আদর্শ হলে রাষ্ট্রও ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ হবে। আসুন, আমরা আমাদের প্রতিটি পরিবারকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করি। কারণ, একটি সুশিক্ষিত, সচ্চরিত্র ও তাকওয়াসম্পন্ন পরিবারই পারে একটি নৈতিক, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় জাতি গড়ে তুলতে।

  • যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫জনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য রয়েছেন।

    এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে সংস্থাটির।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী আসাদুল হাবিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম, এনবিআরের কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ (নিলয়) এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য মফিজুল ইসলাম ওরফে রাফি, হাসিনুর রহমান সুজন ও এমদাদুর রহমান।

    এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

    ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

    ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।

  • কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের  ৫১৯ জন আটক

    কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৫১৯ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মাগরিবের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ নিয়ে আট দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে। তাদের মধ্যে অন্তত এক হাজার জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সাত দফার অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের প্রধানসহ মোট দুই হাজার ৯৫৩ জনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটকের পর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে।

    প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপকের একমাত্র সন্তান, সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম উঠে আসে। এরপর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। এ,আর

  • হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরের শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলে বেড়াতো নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আপামর জনতার দাবি ছিল ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের গন্তব্য হবে হাসিনার মতোই।’

    ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ পাবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ সরকারে সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে গত সরকারের মতো দলীয়করণ, লুটতরাজ, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসাচ্ছেন।’

    মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ঐক্য না থাকায় সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে রাসুল (সা.)- এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে জামায়াতে ইসলাম একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।’

    রুকনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সুরা কালাম বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রিকোয়েস্ট করে, তাই মানুষকে সম্মান করতে হবে, সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার, ভাল আচরণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু তলওয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি। রাসুলের আচরণে আকৃষ্ট হয়ে বিদায়ী হজে ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন। মৃত্যুর স্বাদ যখন তখন ভোগ করতে হবে, তাই উত্তম আমলের মধ্যে শেষটা হোক। কোন লোক সুদের সাথে জড়িত থাকবে না, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল সঃ আমলের তলোয়ার দিয়ে মদিনাসহ সারাদুনিয়া জয় করেছেন।’

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানব সৃষ্টি হয়েছে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

  • সিলেটে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেফতার

    সিলেটে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট এলাকায় বাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালক নাসির মিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ-পশ্চিম বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাসির সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন পীরেরগাঁও এলাকার সামছুল হকের ছেলে।

    এসআরবি-৯ সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন লালবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া সিদ্দিকা তার বড় মেয়ে তানিয়া বেগমকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় সুমাইয়ার আরেক মেয়ে ইনিয়া তাদের সাথে ছিল। টমটম করে বাড়ি ফেরার পথে বিমানবন্দর থানার কেওয়াছড়া এলাকার বুড়িবস্তি সেতুর ওপর বাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তারা দুজনসহ আরো কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া ও ইনিয়ার মৃত্যু হয়। আহত তানিয়া এখনো ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় সোমবার সুমাইয়ার স্বামী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এরপর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত শুরু করে এসআরবি। এরই প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাস চালক নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হবে?

    ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হবে?

    ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলোয় সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত থাকার এ সময়ে ‘মাদার অব অল বম্বস’ (শাব্দিক অর্থে ‘সব বোমার মা’) নামে পরিচিত ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’ বোমার ব্যবহার চলমান সংঘাতকে অনেক বড় আকারে উসকে দিতে পারে।

    বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এ বোমা ব্যবহারেও ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এমন হামলা একধরনের ‘রাজনৈতিক নাটক’ মঞ্চস্থ করা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

    কী এই ‘এমওএবি’ বোমা

    এমওএবি হলো সাড়ে ৮ হাজার কেজি (১৮ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ৮ টন) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক–সমৃদ্ধ এক বড় মারণাস্ত্র। ৯ হাজার ৮০০ কেজি (২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ড বা প্রায় ১০ টন) ওজনের এ বোমা সাধারণ চারটি প্রাইভেট কারের সমান ভারী এবং এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি (প্রায় ৩০ ফুট), যা একটি ছোট ইয়টের আকৃতির সঙ্গে তুলনীয়।

    আকারে অত্যন্ত বড় হওয়ায় কোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে এ বোমা ধরে না। ফলে সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো বা মালবাহী বিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়।

    ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম তৈরি হওয়া এ বোমার এ পর্যন্ত ১২ বার বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র আগে মাত্র একবারই এ বোমা ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’–এর (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

    কেমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে এ বোমা

    মাটি থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই এমওএবি বোমা। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এটি চারদিকে আগুনের মারাত্মক মরণঘাতী তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো ভবন, গুহার মুখ ও শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটানোই এ বোমার মূল উদ্দেশ্য।

    আরেক সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে জানান, এ বোমা বিস্ফোরণের জন্য মাটিতে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর তীব্র বিস্ফোরণ তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের (দশমিক ৬ মাইল) মধ্যের সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

    অবশ্য বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার মনে করেন, এ বোমার ধ্বংসক্ষমতা ও বিস্তৃতি কোন ধরনের ভূপ্রকৃতি বা কতটা জনবহুল এলাকায় এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যের বিরুদ্ধে এটি খুব একটা কার্যকর না–ও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চায়, তার মধ্যে ফোরদো প্রকল্প ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত।

    আগেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে এ বোমার ব্যবহার করেছে। তবে এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানার অনিশ্চয়তা ছাড়াও ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে এ বোমা বহনের উপযোগী বিমান মোতায়েন করা বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, ওই ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য উপযোগী স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো এত বড় আকৃতির বোমা বহন করতে পারে না।

    এ সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, বোমাটি ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা হলেও ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা না–ও যেতে পারে। তাঁর মতে, বোমাটি ব্যবহার করলে এমন একটি ‘দৃষ্টিনন্দন ঘটনা’ ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে খুব সামান্য ফলই বয়ে আনবে।

    এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করা যেকোনো কমান্ডারের কাছে আমার প্রশ্ন হবে অত্যন্ত সহজ—অস্ত্রটি এমন কী অর্জন করবে, যা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয় এবং এ বোমা ব্যবহারের ফলাফল কীভাবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতাকে এগিয়ে নেবে?’

    নিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোয় চলমান যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি খুঁজছেন, যেটি প্রমাণ করবে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই রয়ে গেছে।

    ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এমওএবি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হলে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, এমন প্রতিবেশী দেশগুলোও আক্রমণ করতে পারে।

    ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই কুয়েতের মতো দেশগুলোয় সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে আসছেন। এর মূল লক্ষ্য হবে মার্কিন সেনাদের বন্দী করে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

    রেজা নাগদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা শুরু করে, তবে তাদের এত সেনা বন্দী হবে যে তারা শেষ পর্যন্ত সাদা পতাকা ওড়াতে (আত্মসমর্পণ করতে) বাধ্য হবে।’

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো আরও সুরক্ষিত করে এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে পরবর্তী দফা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    গত রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি আবারও শুরু হয়, তবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোগুলোয় আঘাত হানবে। এর মধ্যে যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা মূল নিশানা হতে পারে।

  • দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে এসেছে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কোচবাহী রেকটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। নতুন এই কোচগুলো যুক্ত হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ভারতের রাইটস লিমিটেড এসব কোচ সরবরাহ করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

    শুক্রবার দুপুরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোচগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের পক্ষে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।

    বাংলাদেশের পক্ষে কোচ গ্রহণের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ, পাকশীর আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘২০০টি কোচের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ আজ দুপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এগুলো আমাদের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোচ। এসব কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।’

    তিনি বলেন, ‘প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে দু’টি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ ও দু’টি পাওয়ার কার রয়েছে।

    কোচগুলোর প্রাথমিক চলাচল পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ডিএমই রবিউল ইসলাম জানান, রেকটি চলার সময় তার কাছে কোচগুলোর চলাচল বেশ ভালো মনে হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক শব্দও পাওয়া যায়নি। কোচগুলোর মান ও চলাচল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা বন্দরে কোচ খালাসের কার্যক্রম শেষে সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিপ্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কোচগুলো রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরো আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ জানান, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ বাংলাদেশে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হবে। বাকি কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আসবে। এ,আর

  • কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা মহানগরীর ছত্রখিল এলাকায় কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছত্রখিল এলাকায় কাউছারের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে কী কারণে এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, যুবদল নেতা কাউছার মারা গেছেন বলে জেনেছি। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ,আর

  • বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং।

    বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন দ্রুত করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে স্মার্ট গ্রিড গড়ে তুলতে জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী পর্যায়ের সম্প্রসারণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    তিনি সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক শুল্ক ও কর হ্রাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

    ওয়াং চুনইং সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ জিটুজি গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

  • জীবননগরে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গাছ থেকে রায়েট (৫৭) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর মাঠপাড়া গ্রামে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

    মৃত রায়েট গয়েশপুর মাঠপাড়া গ্রামের মরহুম ফকির চানের ছেলে। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক বিকারগ্রস্থ ছিলেন।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কৃষক রায়েট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি মাঠের নিমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনার পর জীবননগর থানা পুলিশ লাশে সুরতহাল শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

    সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল ইসলাম পুকু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রায়েট মানসিকভাবে একটু
    ভারসাম্যহীন। ঘটনার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে তার লাশ মাঠের একটি নিমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।’

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘আপাতত বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব।’ এ,আর

  • আবার আটক ককরোচ প্রধান

    আবার আটক ককরোচ প্রধান

    আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ বা ‘পতাকা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান দীপকে। তবে কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।

    শুক্রবার বিকেল ৫টায় এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দীপকের দিল্লির বাসভবন ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ তাকে কর্মসূচি বাতিল করার জন্য আগেই নোটিশ দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

    আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতেই ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশের বাধায় দীপকে সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি।

    ঘটনাটি ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দীপককে ঠিক কোন আইনে আটক করা হয়েছে, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে— এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

  • জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৩ মাদক কারবারি আটক

    জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৩ মাদক কারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে আটক দুই মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন শুভ আহমেদ (২০), ইয়াসিন (২৬) ও সারোয়ার হোসেন হৃদয় (২৩)।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন এলাকায় মাদক কারবারের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ দুজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে রেলওয়ে পুলিশ। তাদের ফাঁড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে রাখা হয়। এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে একদল মাদক কারবারি ফাঁড়িতে হামলা চালায়। তারা তালাবদ্ধ কক্ষে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে পুলিশের টিএসআই নুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে রেলওয়ে পুলিশ মামলা করে। এরপর গাজীপুর সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হামলায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে।

    জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ এ,আর

  • পূজায় চারদিন বন্ধ রেড রোড?

    পূজায় চারদিন বন্ধ রেড রোড?

    নিরাপত্তা ও যানজটের যুক্তিতে কলকাতার রেড রোডে ঈদের জামাতের অনুমতি না দেওয়া হলেও দুর্গাপূজার আয়োজন ঘিরে টানা চার দিন সড়কটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে দ্বৈত নীতির প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানেও সাত দিন বন্ধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের নামাজের অনুমতি না দেওয়া হলেও দুর্গাপূজার আয়োজন ঘিরে টানা চার দিন সড়কটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ও যানজটের কারণ দেখিয়ে মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাত অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হলেও বড় ধর্মীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য দিনের পর দিন সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মহালয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজন, সাজসজ্জা, তিন হাজার ঢাকির প্রদর্শনী এবং মঞ্চসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রেড রোড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ১০ অক্টোবর গভীর রাত কিংবা ১১ অক্টোবর ভোর পর্যন্তও সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    এক ঘণ্টার ঈদের জামাতেও অনুমতি নেই

    কলকাতার রেড রোডে ঈদের জামাত দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ১৯১৯ সাল থেকে সেখানে ঈদের দিন নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট তথ্যে। কিন্তু এবার নিরাপত্তা ও যানজটের কারণ দেখিয়ে সেখানে ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মুসল্লিদের বিকল্প হিসেবে কলকাতার ময়দানে নামাজ আদায় করতে বলা হয়।

    এ সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র এক ঘণ্টার ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া হলেও অন্য অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি ও আয়োজনের জন্য কীভাবে টানা কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, যানজট ও নিরাপত্তার যুক্তি যদি ঈদের জামাত বন্ধের কারণ হয়, তাহলে অন্য বড় আয়োজনের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।

    যোগ দিবসেও সাত দিন বন্ধ ছিল রেড রোড

    এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষেও রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় এসে রেড রোডে নির্মিত বিশাল মঞ্চে যোগ দেন। তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৎকালীন রাজ্যপাল।

  • ‘বাংলাদেশ মডেলে’ সরকার উৎখাত করতে চাই কংগ্রেস: রাজনাথ

    ‘বাংলাদেশ মডেলে’ সরকার উৎখাত করতে চাই কংগ্রেস: রাজনাথ

    ভারতের দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সরকার অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার দাবি, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ তৈরি করে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিরোধীরা। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) লখনৌতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

    রাজনাথের দাবি, নির্বাচনী সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরোধিতার নামে তরুণদের রাজনৈতিক সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
    তিনি বলেন, দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে দাবার ঘুঁটি বানানোর চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে মডেল হিসেবে নিয়ে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে। আবার কেউ সরাসরি সরকার পতনের ডাক দিচ্ছে।

    রাজনাথের ভাষ্য, বিরোধীদের লড়াই নির্বাচনী সংস্কার, এসআইআর কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়। বরং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করাই তাদের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করেন রাজনাথ সিং। তার অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাহুল রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।

    রাজনাথ বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলির পাঁঠা বানানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী আচরণের মাধ্যমে ভারতের উন্নয়নযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব নয়। বিঘ্ন সৃষ্টির রাজনীতি বাদ দিয়ে রাহুল গান্ধীর উচিত জনগণের রায়কে সম্মান করা এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।

    ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগেরও জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগের পক্ষে কংগ্রেস কোনো আনুষ্ঠানিক আপিল করেনি। কারণ, এসব অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

  • শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে  শনিবার দেশের সব ব্যাংক খোলা থাকবে

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার দেশের সব ব্যাংক খোলা থাকবে

    দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসডিএডি) মো. আব্দুল মান্নানের সই করা এক সার্কুলারে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর পরিবর্তে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।

    তবে ছুটির মধ্যেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অনুযায়ী, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে গত ৭ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক দিনের অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পূর্বনির্ধারিত ছুটির তালিকায় ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ছিল। পরে ২২ অক্টোবরও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

    ফলে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    তবে এ অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই দিন ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসও খোলা থাকবে।

  • মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন ট্রাম্পের জন্য অগ্নিপরীক্ষা?

    মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন ট্রাম্পের জন্য অগ্নিপরীক্ষা?

    আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বদলে যেতে পারে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটে।
    আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এবারের নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় পরীক্ষা।

    নিজের চার বছরের মেয়াদের মাঝপথে এসে জনসমর্থনের কী অবস্থা, নির্বাচনে তারও একটি ইঙ্গিত মিলবে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে কী এই মধ্যবর্তী নির্বাচন?
    যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কংগ্রেসের নির্বাচন হয় প্রতি দুই বছর অন্তর। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বলে একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বলা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের পাশাপাশি কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ বিভিন্ন পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
    এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ নির্ধারিত হবে না। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ডনাল্ড ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে অনেকটা দেশটির আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে এর কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি বাংলাদেশের সংসদসহ অন্যান্য দেশের আইনসভার চেয়ে আলাদা।
    কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট।

    প্রতিনিধি পরিষদ: এ কক্ষে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য ৪৩৫ জন। অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়। সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। ফলে প্রতি দুই বছর অন্তর প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে নির্বাচন হয়।

    সিনেট: এ কক্ষে সদস্য ১০০ জন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব আসনে একসঙ্গে নির্বাচন হয় না; প্রতি দুই বছর অন্তর সাধারণত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।
    আইন প্রণয়ন ও সরকারি নীতির অগ্রগতিতে দুই কক্ষেরই ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেলেই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায় না, আবার সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রতিনিধি পরিষদে তা নিশ্চিত হয় না।

    কংগ্রেস হারালে চাপে পড়বেন ট্রাম্প?
    মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের বাকি সময়ে ট্রাম্প কংগ্রেসে কতটা সমর্থন পাবেন। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে নিজ দলের ভেতর মতবিরোধ থাকলে সেখানেও বাধা তৈরি হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ পাবে। প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে গেলে সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত এবং পর্যালোচনার ক্ষমতাও বাড়বে।

    অভিশংসন প্রক্রিয়াতেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের ভূমিকা আলাদা। প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর সিনেটে বিচার হয় এবং সেখানে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হলেই যে অভিশংসন বা অপসারণ ঘটবে, এমন নয়।
    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিভক্ত হলে সরকারি ব্যয়, করনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা করাও কঠিন হতে পারে।

    কমছে ট্রাম্পের জনসমর্থন?
    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জনমত জরিপ সংকলনকারী ওয়েবসাইট সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তার অনুমোদনের হার ছিল ৫০ শতাংশের কিছু বেশি। কিন্তু অক্টোবরের শুরুতে তা কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের ফল নিশ্চিত করে না।

    তবে ভোটারদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে জনমত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাবে।

    কোন বিষয়গুলো প্রভাব ফেলবে ভোটে?
    এ নির্বাচন কেবল ট্রাম্প ও তার বিরোধীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার লড়াই নয়। ভোটাররা নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক জায়গায় অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদেও প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
    জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, শিক্ষা এবং অর্থনীতির গতিপথ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানাতে রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। আবার কেউ প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য ও নজরদারি নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিতে পারেন।

    প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নিজ নিজ এলাকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবস্থানও ভোটের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। অঙ্গরাজ্য ও ভোটারগোষ্ঠীভেদে এসব ইস্যুর গুরুত্ব আলাদা হতে পারে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একই প্রার্থী তালিকা বা অভিন্ন ব্যালট থাকে না; ভোটার কোথায় বসবাস করেন, তার ওপর নির্বাচনের ধরন নির্ভর করে।

    কখন জানা যাবে ফল?
    ভোটগ্রহণ হবে ৩ নভেম্বর। তবে ভোটের রাতেই সব আসনের ফল জানা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো আসনে দ্রুত ফল নির্ধারিত হলেও ব্যবধান কম থাকলে গণনা শেষ করতে বেশি সময় লাগতে পারে। ডাকযোগে আসা ভোট গণনা, ফল যাচাই, পুনর্গণনা কিংবা আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে।

    প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পৃথক আসনগুলোর ফল যোগ করেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে। এক কক্ষে কোনো দল আসন বাড়ালেও অন্য কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নাও করতে পারে।
    তাই এবারের নির্বাচনে শুধু জাতীয় পর্যায়ের মোট ভোটের হিসাব নয়, প্রতিটি আসনের ফলও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেয়াদের বাকি সময় কংগ্রেসে কতটা রাজনৈতিক সমর্থন পাবেন এবং তার নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ কতটা সহজ বা কঠিন হবে।


  • পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    ‘কোনো গুজব, মিসইনফরমেশন ও ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হলে দায়মুক্তি পাবেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অপেশাদার কাজে জড়িত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতঃপূর্বে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে টেলিসংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। এক সময় মাদকের স্পট থেকে টাকা নেওয়া হতো। টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া হতো। এখন এসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের প্রধান (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরমাঠ পুলিশের উদ্দেশে এসব কথা বলেছেন।

    দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, বিতর্কিত ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে।

    তথ্য পাচারকারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কী বার্তা- জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য চাকরিতে থেকে ভেতরের তথ্য বাইরে পাচার করছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতে যেসব পুলিশ সদস্য দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেছেন তারা এখন পলাতক। পলাতক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কর্মরত যাদের যোগাযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, পুলিশে ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা হাতেগোনা। কোনো ষড়যন্ত্রকারীই আইনের বাইরে থাকবে না। গুজব ছড়ানো হচ্ছে-ফ্যাসিবাদ আমলের ১৭ বছরে যাদের নিয়োগ হয়েছে, তাদের চাকরি থাকবে না। এ ধরনের গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে রোনান সুলিভানকে।

    যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোনান সুলিভান এবার সরাসরি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, রোনান তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশা আল্লাহ আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময়। আমরা তাকেই স্কোয়াডে রাখব।’

    গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যে অবদান ছিল রোনানেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রি-কিক ও হেডে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

    দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ। রোনানের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পর এবার সিনিয়র পর্যায়েও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর।

    নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

  • ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে

    ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে

    দেশে খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় ও কর্মসংস্থানের সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের শেষ চার মাসে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে পারে দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ। বছরের শুরুর তুলনায় এ সংখ্যা ২৮ লাখ বেশি।আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০তম সম্মেলনে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করা হয়। খাদ্যপ্রাপ্তি ও পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরার এ দিনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ডব্লিউএফপির গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। পণ্যের উচ্চমূল্য ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বন্যায় কৃষিজমির ক্ষতি, শিশুদের অপুষ্টি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

    খাদ্যের জোগান থাকলেও তা কেনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বর্তমানে বাজারে মোটা চালের কেজি অন্তত ৫০ টাকা। খোলা আটার দামও কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক ব্যয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে খাবার কিনতে।খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয় ২০২২ সালের প্রথম দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা প্রায় এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরবর্তী কয়েক মাসও এ হার ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্যের দাম কমে আগের অবস্থায় ফেরেনি।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সেপ্টেম্বরের হিসাবে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে। অর্থাৎ, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি।

    অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৩ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে মানুষের আয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    কৃষি উৎপাদনেও দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ১৩ লাখ মানুষ। কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে কৃষির ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষের আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে প্রবাসী আয়ের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এ অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি ও পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

    খাদ্যের অভাবের পাশাপাশি পুষ্টিহীনতাও উদ্বেগজনক। ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়। অর্থাৎ বয়সের তুলনায় তাদের উচ্চতা কম। এ ছাড়া ১১ শতাংশ শিশু ক্ষীণকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম। দেশের প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে দুটিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অণুপুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান না পাওয়ায় শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।খাদ্য বিতরণে সরকারি কর্মসূচির তথ্যেও কিছুটা ঘাটতির চিত্র পাওয়া যায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৪৮ হাজার টন কম। তবে দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

    তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নারীপ্রধান পরিবার এবং দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং প্রকৃত অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার পরিধি বাড়াতে হবে।

    বাজারে কৃত্রিম সংকট ও পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেন সেলিম রায়হান। তার মতে, মজুতদারি প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি এবং খাদ্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলো হুথিরা

    যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলো হুথিরা

    ব্রিটেনের কাছ থেকে সৌদি আরবের কেনা একটি ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

    হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে যাওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

    যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অস্ত্র চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের কেনা যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম এই টাইফুন। ‘প্রজেক্ট সালাম’ নামের একটি চুক্তির অধীনে ৭২টি যুদ্ধবিমান কেনা হয়েছিল, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৪৩ কোটি পাউন্ড।

    লন্ডন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ‘গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হলে, এটি হবে ইরানের সরবরাহ করা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় এই মডেলের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার একটি বিরল ঘটনা।

    যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক স্টিভেন ওয়াগনার জানিয়েছেন, ভিডিওর বিমানটি ইউরোফাইটার টাইফুন বলেই মনে হচ্ছে। তবে বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কিনা, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    দ্য টেলিগ্রাফ-কে তিনি বলেন, ভিডিওর শুরুতে কিছুটা বিস্ফোরণের মতো দেখা গেলেও আমি সরাসরি কোনো বড় ধরনের বিধ্বংসী আঘাত দেখিনি। চালক কৌশলগত ম্যানুভার এবং ফ্লেয়ার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটি এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।’

    ওয়াগনার আরও বলেন, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত একটি সাধারণ ইরানি মোবাইল সিস্টেম। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এটি কতদিন ধরে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অবরুদ্ধ করার আগে না পরে সেখানে পৌঁছেছে।

    তিনি বুঝিয়ে বলেন, এ ধরনের মোবাইল সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমগুলো ওত পেতে থেকে টাইফুনের মতো চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর ওপর হঠাৎ হামলা চালায়।

    তিনি বলেন, ‘এসব মোবাইল সিস্টেম ফায়ার করার ঠিক আগমুহূর্তে চালু করা হয়। কারণ চালু রাখলে এর রাডার সংকেত সনাক্ত করে সৌদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। কাজ শেষেই এগুলো দ্রুত বন্ধ করে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

    এফ-৩৫-এর মতো স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলো এসব সিস্টেম থেকে কিছুটা নিরাপদ হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে তিনি জানান। তবে একটিমাত্র ক্ষতির ঘটনা দেখে সৌদি আরবের সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    ওয়াগনার বলেন, ‘সৌদিরা নিজেদের রক্ষা করতে অক্ষম—এ কথা বলা যাবে না। তবে এই চালক যে হুথিদের কৌশলের ফাঁদে পড়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এ ধরনের ভুল দ্বিতীয়বার নাও হতে পারে এবং প্রতিবার ব্যবহারের সঙ্গে এই কৌশলের কার্যকারিতাও কমবে। দুই পক্ষই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে।’

    এদিকে ইয়েমেনের মাটিতে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডের মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংঘাত চরম রূপ নিয়ে প্রথমবারের মতো ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনের আল-মাআশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

    ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হামলায় দুই নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সব সদস্য অক্ষত রয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা একে একটি ব্যর্থ হত্যাচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    এই হামলার ফলে ইয়েমেনিদের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যা সৌদি আরবের বাইরেও অন্য শক্তিগুলোকে টেনে আনতে পারে। অন্যদিকে সৌদি আরব অন্য মুসলিম দেশগুলো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হুথিদের বিশ্ব নৌ-বাণিজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে।

  • বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেছেন, ‘দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। প্রশাসনে যারা আছেন তাদের হয়তো বিষয়টি জানার কথা।

    বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল তারা। জনগণ তা হতে দেয়নি।

    তিনি বলেন, গ্যাসের যে সঙ্কট তা নিরসন হতে এক বছর সময় লাগবে। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমদানি করে সরকার গ্যাস দিয়ে যাচ্ছে।’

    শুক্রবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ লেগে গেল। ইরান,ইউক্রেন,এখন সৌদি আরবে চলছে। নানান কারণে অর্থনেতিক সঙ্কটে পড়েছি। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশ্বব্যাপী।

    মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের যে ক্ষতি করছে তা তো করেছেই। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। ইউরোপে ডিজেলের লিটার বাংলাদেশের টাকায় সাড়ে তিন শ টাকা। অথচ আমাদের দেশের কিছু অসভ্য লোক সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে অকারণে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বলে। বট বাহিনী মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বট বাহিনী লেগেই আছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এ সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে কোন আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দলের যারা খারাপ কাজ করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে আমরা প্রস্তুত। এছাড়া সরকার চেষ্টা করছে সবকিছু স্বাভাবিক করার।

    পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অর্জুন গাছের চারা রোপণ, পূজা মন্ডপে সরকারি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, গরীব-অসহায়দের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    উপজেলা অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) জোনাঈদ আফ্রাদ, ওসি মকবুল হোসেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান গামা,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাজহাজান শাওন,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন ও মহিলা দলের সভাপতি শান্তি আক্তার শিউলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • ইসলাম প্রচারের অস্তিত্ব সংকটে তিন গম্বুজ মসজিদ ও ইমামবাড়ি

    ইসলাম প্রচারের অস্তিত্ব সংকটে তিন গম্বুজ মসজিদ ও ইমামবাড়ি

    সিরাজগঞ্জে চলনবিলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর নানা কিংবদন্তি। কোথাও দাঁড়িয়ে আছে দেড়শ বছরের পুরোনো তিন গম্বুজবিশিষ্ট চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ, আবার কোথাও ধ্বংসস্তূপ আর লতাপাতার আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি।একসময় ধর্মীয় সাধনা ও ইসলাম প্রচারের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদের প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এসব স্থাপনা শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবেই নয়, চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

    বারুহাস গ্রামের পশ্চিমপাড়ার চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত দেল মাহমুদ চৌধুরী জামে মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৮৭৫ সালে নির্মিত এই মসজিদটি প্রায় দেড়শ বছর ধরে এলাকার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বহন করে আসছে।মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মোগল আমলের স্থাপত্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। চুন-সুড়কির গাঁথুনি, পুরু দেয়াল, তিনটি বড় গম্বুজ এবং পোড়ামাটির নকশা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজের পাশাপাশি ৮টি পিলারের ওপর তিনটি বড় মিনার ও পাঁচটি ছোট মিনার রয়েছে। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা মসজিদটির প্রাচীন যুগের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। ইতিহাসের পাতায় বারুহাসের নাম হয়তো এখনো টিকে আছে, কিন্তু অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই ইতিহাসের দৃশ্যমান চিহ্ন। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে দেড়শ বছরের মসজিদ আর শত শত বছরের ইমামবাড়ির স্মৃতিও একদিন হারিয়ে যেতে পারে।

    তাই চলনবিলের এই প্রাচীন জনপদের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। প্রতি সারিতে প্রায় ২০ জন করে তিন সারিতে ৬০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের অলংকরণ ও কারুকাজ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে চৌধুরী পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। আশপাশের ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ মসজিদটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। বর্তমানে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে।

    বারুহাস গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ১৮৭৫ সালে তাদের পূর্বপুরুষ দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। পূর্বপুরুষদের মতো তারাও এখানে নামাজ আদায় করছেন। সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. নাছিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, মসজিদটি তাদের গ্রামের ঐতিহ্য ও গর্বের বিষয়। সরকারি অনুদান পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ করা সম্ভব হবে।

    মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন জানান, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার (শুক্রবার) নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

    জৌলুস হারিয়েছে ইমামবাড়ি

    বারুহাসের আরেক ঐতিহাসিক নিদর্শন শাহ ইমাম (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ইমামবাড়ি। লোককথা ও স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এই স্থাপনা ও এর আশপাশের এলাকা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

    স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে আগত সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমাম (রহ.) চলনবিলের বারুহাস এলাকায় বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করেন। পরবর্তী সময়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলা পরিদর্শনে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শাহ ইমামের ইবাদত ও বসবাসের সুবিধার্থে কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ এবং একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করেন সম্রাট। পাশাপাশি ইসলাম প্রচারের জন্য তাকে করমুক্ত জমি দেওয়ার কথাও স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

    এই স্থাপনাগুলোকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বারুহাস ইমামবাড়ি। তবে এর সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কয়েকশ বছরের পুরোনো নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

    একসময় ইমামবাড়ি এলাকায় মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে সেগুলোর অধিকাংশই বিলুপ্ত। টিকে থাকা পুরোনো স্থাপনাগুলোর দেয়ালের আস্তরও খসে পড়ছে। ইট-সুরকির গাঁথুনিতে জন্মেছে লতাপাতা ও গাছগাছালি। স্থাপনাটির কারুকার্যের অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। একসময়কার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থানটি এখন কার্যত অবহেলিত।

    ইমামবাড়ির আশপাশে পুরোনো সমাধি ও একটি বড় পুকুর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর ও সংশ্লিষ্ট জমির কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেছে। তারা এসব জমি উদ্ধারের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ইমামবাড়ির অধিকাংশ স্থাপনাই এখন আর নেই। সমাধির সামনের প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা আয়তনের পুকুরটিও দখলের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে জমি উদ্ধার ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা হলে এলাকার ইতিহাস রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়ভাবে ইমামবাড়ির দেখভালের কোনো লোক নেই, তবে আশেপাশের বাসিন্দা মো. কাবুল সরকার ও রেজা (ফারুক) মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়রা স্থাপনাটির স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

    বারুহাসের পরিচয় কেবল পুরোনো এই মসজিদ ও ইমামবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামটির নামকরণ নিয়েও প্রচলিত রয়েছে নানা জনশ্রুতি।
    স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, নায়েব শেখ বাহারউদ্দিন, যিনি ‘বারু শেখ’ নামে পরিচিত ছিলেন, তার নাম থেকেই বারুহাস নামের উৎপত্তি।

    স্থানীয় ইতিহাসে আরও বলা হয়, প্রায় পাঁচশ বছর আগে ইয়েমেন থেকে আগত শেখ বংশের লোকজন ভদ্রাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। চলনবিলের উর্বর ভূমি ও নদীপথের যোগাযোগ এই জনপদের বিকাশে ভূমিকা রাখে। মোগল আমলে শাহ ইমামকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

    এলাকাটিতে জমিদারবাড়ি, পুরোনো মসজিদ, ইমামবাড়ি ও বেহুলার কূপের মতো বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের কথাও প্রচলিত রয়েছে। এসব নিদর্শন ঘিরে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলার আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমে ইমামবাড়ির অবশিষ্ট স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় জরিপের মাধ্যমে জমির সীমানা চিহিৃত করে দখলসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই, স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদের মূল স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা আমাদের অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক ও বাহক। এগুলো শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, বারুহাসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী, তিন গম্বুজ মসজিদটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে কীভাবে এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ক্যানসার গবেষকের প্রাণ গেল ক্যানসারেই

    ক্যানসার গবেষকের প্রাণ গেল ক্যানসারেই

    আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. রচনা শ্রফ মারা গেছেন। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে টার্মিনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা বা প্রোস্টেট ও গ্রন্থিভিত্তিক এক ধরনের আক্রমণাত্মক ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    নিউইয়র্ক পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, জীবনের পুরোটা সময় যে রোগ নিয়ে গবেষণা করে গেছেন এবং যা নিরাময়ের উপায় খুঁজেছেন, অত্যন্ত ট্র্যাজেডির বিষয়—শেষ পর্যন্ত সেই একই আগ্রাসী রোগের কাছেই তার জীবন প্রদীপ নিভে গেল।

    কে ছিলেন ড. রচনা শ্রফ?

    বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ড. শ্রফ ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত একজন চিকিৎসক-বিজ্ঞানী, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোলজিস্ট এবং অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালীর (বাইলার ডাক্ট) ক্যানসার চিকিৎসায় অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ।

    অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের প্রধান, অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটি ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনের সহযোগী পরিচালক এবং মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    এ ছাড়া তিনি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোলজির জন্য প্রথম ‘জন এফ. অ্যান্ড ভাল্লি এস. ডুভাল এনডাউড প্রফেসর’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং কলেজ অব মেডিসিন-টাসসনের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চের সহযোগী ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ৮০টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ লিখেছেন এবং জটিল ও বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (অ্যাসকো) সহ তার সহকর্মী ও বিভিন্ন পেশাদার সংগঠন তাকে একজন দয়ালু চিকিৎসক এবং অগ্রপথিক হিসেবে স্মরণ করছে, যিনি ক্যানসার রোগীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন।

    তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে তার স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি থেকে মেডিকেল ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১০ সালে টেক্সাস ইউনিভার্সিটি এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টার থেকে ফেলোশিপ শেষ করার পর, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে জিআই মেডিকেল অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি টাসসনে নিজের শিকড়ে ফিরে আসেন এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

    কীভাবে ধরা পড়েছিল রোগটি?

    চলতি বছরের শুরুর দিকে নিজের শরীরে একটি ফোলা লিম্ফ নোড দেখতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই মরণব্যাধির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লড়াই শুরু হয়।

    প্রাথমিকভাবে এটিকে এক ধরনের লিম্ফোমা বলে ধারণা করা হলেও, পরবর্তী চিকিৎসাগত মূল্যায়নে জানা যায় যে রোগটি ততক্ষণে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অত্যন্ত আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে।

    শেষ পর্যন্ত তার শরীরে টার্মিনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা ধরা পড়ে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর আস্তরণ সৃষ্টিকারী গ্রন্থি থেকে উৎপত্তি হওয়া এক ধরনের ক্যানসার।

    ব্যক্তিগত জীবন

    ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৩ বছর বয়সি পুত্র সন্তান শচীন এবং ১৭ বছর বয়সি কন্যাসন্তান সিমরনের জননী ছিলেন। তার স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ—যিনি একজন মেডিসিনের অধ্যাপক এবং ব্যানার মেডিকেল গ্রুপের অ্যালার্জি ক্লিনিকের সহযোগী পরিচালক— অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

  • একসাথে পাঁচ সরকারি চাকরি!

    একসাথে পাঁচ সরকারি চাকরি!

    যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি চাকরি করার অভিযোগে ৫৫ বছরের এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিচার চলছে। ওই ব্যক্তির নাম কাশিম চৌধুরী। তিনি অন্য চাকরির বিষয় গোপন রাখতে অসুস্থতার ছুটি নেওয়া, অনলাইন বৈঠকে ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং নিজেকে অসুস্থ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপ লাগানোর মতো কাজ করতেন।

    ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কাশিম পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করতেন তিনি।

    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর (ডেফরা), যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার চাকরি ছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

    আদালতের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির জন্য তার সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা নির্ধারিত ছিল ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ এক সপ্তাহে মোট সময় ১৬৮ ঘণ্টা। অর্থাৎ বিশ্রাম বা ঘুমের সময় বাদ দিলেও তার পক্ষে নির্ধারিত সব কর্মঘণ্টা পূরণ করা সম্ভব ছিল না।

    লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে কাশিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগে বিচার চলছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    আদালতে অভিযোগ করা হয়, এক চাকরির ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে অন্য চাকরির তথ্য গোপন রাখতে প্রায়ই অসুস্থতার ছুটি নিতেন কাশিম। অনলাইন বৈঠকের সময় ল্যাপটপে কারিগরি সমস্যার কথা জানাতেন কিংবা ক্যামেরা বন্ধ রাখতেন।

    তার তত্ত্বাবধায়কেরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, অন্য কোথাও চাকরি করার বিষয়ে তাদের কিছু জানাননি কাশিম। তাদের মূল্যায়নে, তার কাজের মান ছিল ‘অকার্যকর’ ও ‘দুর্বল’।

    শুনানিতে কাশিমের বিরুদ্ধে ওঠা একটি অদ্ভুত অভিযোগও সামনে এসেছে। আদালতকে জানানো হয়, ইউকেএইচএসএর এক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে অসুস্থতার ছুটি নিয়ে মাইক্রোসফট টিমসে বৈঠকের সময় নিজেকে অসুস্থ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপ লাগিয়েছিলেন তিনি।

  • বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় একজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ইলিশ মাছ, যা স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা। মা ইলিশ সংরক্ষণে তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একটি মামলা করা হয়। এতে একজনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এ ছাড়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জেলেদের মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন এবং বরিশালের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।

    ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে থাইল্যান্ড

    বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে থাইল্যান্ড

    কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে থাইল্যান্ড সরকার। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    গত ১৩ অক্টোবর থাইল্যান্ডের শ্রমনীতি-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে নতুন তিনটি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

    থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই খাতে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে গিয়ে নতুন দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

    সম্ভাব্য শ্রমিকের উৎস হিসেবে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শ্রমিক সংকট কমানোর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের উৎস আরও বিস্তৃত করতে চায় থাইল্যান্ড।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন দেশের জন্য এখনো নির্দিষ্ট নিয়োগ কোটা বা কর্মীর সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে নিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম দফার কর্মীরা থাইল্যান্ডে যেতে পারেন। এরপর বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে।

    থাইল্যান্ডের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে কর্মী নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি, সংখ্যা, বেতন, ভিসার শর্ত এবং আবেদনপ্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে জেলার ২০ জন কৃষকের হাতে এ মেশিন তুলে দেয়া হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঞ্চালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, প্রকৃত পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা ও ঘর নির্মাণের জন্য দেয়া হবে ৭ হাজার টাকা। একটি মেশিনের আওতায় ২০/২৫ মেট্রিক টন পেয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে।

    তিনি আরো বলেন,পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই পেঁয়াজ ভালো মত শুকিয়ে রাখতে হবে।

  • ৪ দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

    ৪ দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

    রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশ চারটি হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম।

    ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমর্থনের জেরে সংস্থাটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন তলানিতে ঠেকেছে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রির মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নিলেন। খবর রয়টার্সের।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জারি করা এই ডিক্রিতে যেসব কোম্পানির সম্পদের তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে আছে ফরাসি ফ্লোরিং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টার্কেট’, জার্মান প্যাকেজিং নির্মাতা ‘মেনশেন’, সুইডিশ প্যাকেজিং কোম্পানি ‘স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস’ এবং বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অনটেক্স’।

    এ ছাড়া এতে ‘ইভিওসিস’ নামক ইউরোপীয় মেটাল-প্যাকেজিং ব্যবসার রাশিয়ান সম্পদগুলোর উল্লেখ রয়েছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্যাকেজিং গ্রুপ ‘সোনোকো’ কিনে নিয়েছিল। ডিক্রিতে এই সম্পদগুলোকে সোনোকোর ডাচ ইউনিটের মালিকানাধীন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

    ক্রেমলিন এর আগে জানিয়েছিল, বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলোর ‘সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতায়’ জড়িত থাকার প্রতিক্রিয়ায়। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রক্রিয়াটি ‘পরিবর্তনযোগ্য’ অর্থাৎ চাইলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো, যখন শুক্রবার ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এমন খবরও শোনা যাচ্ছে, ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার কিছু সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

    রাশিয়া ইইউর তীব্র সমালোচনা করেছে; কারণ যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তারা রাশিয়ার প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করেছে এবং ইউরোপ ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে রুশ কোম্পানিগুলোর সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

    এর আগে গত মাসে খাদ্যপণ্য জায়ান্ট ‘নেস্লে’ এবং খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওশান’ ও ‘মেট্রো’র বিরুদ্ধেও রাশিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।

  • নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেন মাদুরো

    নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেন মাদুরো

    যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আনা নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের নতুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা। খবর বিবিসির।

    যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস, মাদক পাচার এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। গত সপ্তাহে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়।

    জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরো ও ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এরপর তাদের নিউইয়র্কে আনা হয়, যেখানে তারা বর্তমানে কারাবন্দি।

    এই দম্পতি নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন, সার্বভৌম দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্যতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি খারিজ করে দেওয়া উচিত। তাদের বিচারকাজ ২০২৭ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    গত সপ্তাহে দাখিল করা নতুন অভিযোগে সরকারি কৌঁসুলিরা দাবি করেছেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস ‘দমন-পীড়নের এক সহিংস ব্যবস্থা’ তৈরি ও বজায় রেখেছিলেন; যার ফলে ‘হাজার হাজার ভেনেজুয়েলীয়’ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, হয়রানির মুখে পড়েছেন অথবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    নিকোলাস মাদুরো মার্কিন সরকারের আনা নতুন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার আদালতে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা সাক্ষ্য আমি প্রত্যাখ্যান করছি।’

    একজন অনুবাদকের মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় মাদুরো বলেন, ‘আমি এই নথিপত্র পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি।’

    বিচারক আলভিন হেলারস্টেইন জানান, আদালত মাদুরোর পক্ষ থেকে ‘নির্দোষ’ হওয়ার আবেদনটি নথিভুক্ত করবে।

    ফ্লোরেসও একজন অনুবাদকের মাধ্যমে বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’

    মাদুরো ও ফ্লোরেসকে হালকা বাদামি রঙের কারা-পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ব্রুকলিনে বন্দি থাকার সময় তাদের ওজনও কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্যাতনের পদ্ধতির মধ্যে ছিল ‘বৈদ্যুতিক শক, শ্বাসরোধ করা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক নগ্ন করে রাখা, দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, অনাহারে রাখা, শাস্তিমূলক সেলে বন্দি রাখা এবং মানসিক নির্যাতন।’

    যুক্তরাষ্ট্র আরও অভিযোগ করেছে, মাদুরো ‘নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির’ বিরুদ্ধে নির্যাতনের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং এই ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন নাগরিকদেরও নির্যাতন করা হয়েছে।

    এর আগেই সরকারি কৌঁসুলিরা মাদুরো, তার স্ত্রী, ছেলে এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত কার্টেলগুলোর সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ এনেছিলেন।

    মাদুরো এর আগেও এমন অভিযোগগুলোকে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ‘সাম্রাজ্যবাদী’ পরিকল্পনার অংশ বলে অভিহিত করেছিলেন।

    মাদুরো ও তার স্ত্রীর আইনজীবীর যুক্তি, মাদুরো একটি সার্বভৌম দেশের নেতা, তাই তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতামুক্ত (সার্বভৌম দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্য)। তাদের দাবি, তাদের জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া বেআইনি।

    ফ্লোরেস বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালীন জামিনে মুক্তি পাওয়ার জন্য একজন বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা সফল হয়নি। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি হৃদরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন।

  • আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়ঘাটে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে । ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে বলে জানান, কৃষকরা।

    সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগ থেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধান কাটা চলবে। মূল মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের শুরুতে।

    এ বছর বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রভাব বা মারাত্মক রোগবালাই না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন বেশ ভালো ও আশানুরূপ হয়েছে। এতে কৃষকদের মনে আনন্দের হাসি ফুটেছে। তবে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কোনো কোনো কৃষক।

    উপজেলার রামেশরপুর গ্রাম এলাকার কৃষক নজির হোসেন জানান, সাধারন উঁচু জমিতে আগাম জাতের বিনা ৭ ধান চাষ করেছি । এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ২ বিঘা জমিতে এধান চাষ করেছেন ।

    তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। ‘আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়াও ভুট্টা চাষ করবেন বলে জানান।

    উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজু জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে তারা লাভবান হন। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৭,৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর । মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও খেতের অবস্থা ভালো রয়েছে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

    এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

  • ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    দেশের বস্ত্রশিল্পের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন বাড়িয়ে ১৯ লাখ বেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে বছরে ১৬ লাখ বেল তুলার চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বাসসকে বলেন, ‘দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় তুলার উৎপাদন বাড়াতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি।’

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুলা চাষের জমি বাড়িয়ে দুই লাখ হেক্টরে উন্নীত করার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ বেল, ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ লাখ বেল এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ বেল আঁশতুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিডিবি।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার ও নীলফামারী জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে।

    বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলায় উফশী ও পাহাড়ি—উভয় জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ জমিতে উফশী এবং ৩১ শতাংশ জমিতে পাহাড়ি তুলা চাষ করা হয়। প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে এসব তুলা চাষ করে বছরে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার বেল আঁশতুলা উৎপাদিত হচ্ছে।

    তুলার উৎপাদন বাড়ানোর কর্মসূচির আওতায় উঁচু চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, উপযোগী পাহাড়ি জমি, তুলনামূলক কম উর্বর ও কম উৎপাদনশীল জমি, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকা, বিভিন্ন ফলের বাগান, সবজি, ডাল ও মসলার সঙ্গে তুলার আন্তঃফসল চাষ সম্প্রসারণ এবং সরকারি খাসজমি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় দেশের তুলা উৎপাদনের সব সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে সিডিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায়ও স্থানীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো এবং বিপুল আমদানি ব্যয় কমাতে সিডিবিকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

  • নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: ওবামা

    নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: ওবামা

    ফিলিস্তিনিদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আর তাদের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার কারণে ইসরাইল নিজের নৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। সামরিক শক্তির দাপট দেখিয়ে কখনোই স্থায়ী শান্তি পাওয়া যায় না। ইসরাইলকে ঠিক এই সতর্কবার্তাই দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

    সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি নিতে গিয়েছিলেন ওবামা। সেখানেই এক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক সুসান ম্যাককের সঙ্গে আলোচনার সময় গাজা যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ওবামা বলেন, গাজার এই ধ্বংসযজ্ঞ আর রক্তপাত যেকোনো মানুষের মনকেই ব্যথিত করবে। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের কারণেই আজ এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

    ইউরোপে ইহুদিরা যে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, তা মেনে নিয়েই ওবামা মনে করিয়ে দেন—নিজেদের জমি হারিয়ে ফিলিস্তিনিরাও কম অন্যায়ের শিকার হয়নি। ইসরাইল সাধারণ মানুষের জমি দখল করেছে এবং শক্তির অপব্যবহার করেছে। তাই নিজের হারানো জমি ফেরত পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের লড়াই করাটা একবারে স্বাভাবিক।

    ওবামা আরও বলেন, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা কিংবা সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়াই শেষ কথা নয়। ‘আমরা শক্তিশালী তাই যা খুশি তা-ই করব, কাউকে ছাড় দেব না’—ইসরাইল সরকারের এমন চিন্তাভাবনা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের নৈতিক অবস্থান ধ্বংস করে দিচ্ছে।

  • তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার। ফলে ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের। অন্যদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে চাপে রয়েছে বেসরকারি খাত। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার চালু প্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে। এজন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তখন সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল।

    এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসেই এর প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের কোনো সময়েই এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারেনি।

    তিনি আরো বলেন, আগামীতে সরকারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ আরো বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো গেলেও তা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

    জাহিদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় আপাতত বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদের হার কমে আসায় ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ঋণের সুদহার আমানতের সুদহারের চেয়েও কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

    এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এ সময় লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

  • মাদক, জুয়া ও বালু উত্তোলনে বিরোধিতা করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    মাদক, জুয়া ও বালু উত্তোলনে বিরোধিতা করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক, জুয়ার আসর বন্ধ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানানোর জেরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন বিএনপি নেতা শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪২)।

    গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চর ধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে এবং গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছিলেন।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা ও নয়াভাঙনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে এসব অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথা প্রকাশ্যেই জানান তিনি।

    পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার জের ধরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালায় এবং তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

    পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বরিশাল যাবার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো: সোহেল রানা জানান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল হাসপাতালে নেয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এ,আর

  • নড়াইলে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে প্রতারণা, আটক ২

    নড়াইলে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে প্রতারণা, আটক ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অনলাইনে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মো: আলাউদ্দীন।

    গ্রেফতাররা হলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাটেশ্বরী দক্ষিণপাড়ার ওবাইদুল্লাহর ছেলে মোর্তজা (২৭) ও একই উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কামাল মোল্যার ছেলে বিকাশ এজেন্ট লিমন মোল্যা (২৭)।

    জানা গেছে, বুধবার রাত আড়াইটার দিকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনসহ প্রতারণালব্ধ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা জব্দ করা হয়।

    ওসি আলাউদ্দীন জানান, বেবি বাইক সপ বিডি, বেবি বাইক, কলম প্যাকেজিং চাকরির ডাক ২.০, মিশরীয় মুরগি সেল বাজার ২.০ এবং কম্বল.বিডি নামে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা দীর্ঘ দুই বছর ধরে অনলাইনে প্রতারণা করে আসছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    তিনি আরো জানান, ফেসবুকে পেজ খুলে বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে পণ্য দেয়ার কথা বলে ক্রেতার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত প্রতারকচক্রটি। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল মামুন শিকদারের কাছে প্রতারণার বিষয়টি অবগত করার পর চক্রটিকে গ্রেফতারে মাঠে নামে জেলা ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের টিম। তাদেরকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে শিশুর ‍মৃত্যু

    মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে শিশুর ‍মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে সাফুয়ান নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পৌরসদরের কাণ্ঠালিয়া এলাকা সংলগ্ন লৌহজং নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু সাফুয়ান কাণ্ঠালিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে।

    শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সবার অগোচরে শিশুটি লৌহজং নদীর পাড়ে চলে যায় এবং একপর্যায়ে গভীর পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। এ সময় নদীর অপর প্রান্ত থেকে কয়েকজন নারী প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশে কেউ না থাকায় তাকে বাঁচানো যায়নি। শিশুটিকে হাত নাড়াতে নাড়াতে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখেন ওই নারীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন স্থানীয়রা।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের একটি ডুবুরি দল শিশুটিকে উদ্ধারে বেলা ১১টা থেকে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার অভিযানকালে দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মাঝ নদী থেকে ওই শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দলের সদস্যরা।

    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের তিন ডুবুরিসহ সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। দুপুরে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • হাকিমপুরে মদসহ ভারতীয় কারবারি আটক

    হাকিমপুরে মদসহ ভারতীয় কারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের হিলিতে মদসহ অজিত কুমার ঘোষ (৪২) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে আটক করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিলির মধ্য বাসুদেবপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক অজিত কুমার ঘোষ ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম থানার মাদারগঞ্জ গ্রামের গ্রেন্দ্রনাথের ছেলে।

    আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাকিমপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বাদশা আলম জানান, বুধবার পুলিশের একটি টহল দলের কাছে খবর আসে, এক মাদককারবারি মাদক বিক্রির জন্য মাদকসহ মধ্য বাসুদেবপুর এলাকার গণেশ বাবুর চাতালের পাশে অবস্থান করছে। গোপন সূত্রে এমন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় এবং ভারতীয় ওই নাগরিককে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ভারতীয় চার বোতল মদ, একটি মোবাইল, আধার কার্ড ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

    তিনি আরো জানান, আটক ভারতীয় নাগরিক অজিত কুমার ঘোষকে আজ (বৃহস্পতিবার) দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়। এ,আর

  • কাঁচপুরে গ্যাসের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু

    কাঁচপুরে গ্যাসের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে গ্যাসের গতি বৃদ্ধির কম্প্রেসার লাইনের বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টায় বাড়ির গৃহকর্তার শ্যালক রিয়াজ ও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে গৃহকর্তা শরীফ হোসেন (৩৪) ও স্ত্রী রোজিনা আক্তারের (৩০) মৃত্যু হয়।

    জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, বিস্ফোরণে নিহত রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরীফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় অপর আহত বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রনি মিয়ার শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

    এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর সোনাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের শাহ আলম মিয়ার ‘ইসলাম টাওয়ার’ নামের ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গ্যাস লাইনের গতি বৃদ্ধির কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী শরীফ হোসেন, তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার, শ্যালক রিয়াজ ও ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রনি মিয়া দগ্ধ হন। এ,আর

  • রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

    রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জাতীয় ক্রিকেট লিগে অংশ নেয়া রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা বিভাগের তৎপরতায় এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে লাগেজগুলো উদ্ধার করা হয়।

    চুরি হওয়া লাগেজগুলোর মালিক— রাজশাহী বিভাগের স্পিনিং অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান, পেসার মোহর শেখ অন্তর, পেসার আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদ ও দলের টিম বয় আব্দুল কাদের। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে তাদের মোট আটটি লাগেজ চুরি হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাদতের বাড়ি থেকেই চুরি যাওয়া লাগেজগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

    রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চুরি হওয়া লাগেজগুলোর বেশিরভাগ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামাল ক্রিকেটারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে কত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

    রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোজাদ্দেদ জামানী গণমাধ্যমকে জানান, ক্রিকেটারদের মালামাল উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যান। সেখানে আটক মোজাম্মেল হকের পরনে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত পোশাক দেখতে পান।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা। দলের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে এর আগের রাতে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয় বিসিবির কাভার্ড ভ্যানটি।

    পথে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের তারাপুর মোড়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে কাভার্ড ভ্যানটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে তারা চলন্ত গাড়িটির তালা ভেঙে লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    পরে পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবকে জানান। পরে রাজশাহী নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে তিনি সংশ্লিষ্টদের চুরির বিষয়টি অবহিত করেন।

    কাভার্ড ভ্যান থেকে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবি ডিভিশন ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় বুধবার রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করে। এ,আর

  • বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পুকুরের পানিতে ডুবে আবিদ শেখ (৩) নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছোলনা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত আবিদ শেখ ছোলনা পূর্বপাড়া গ্রামের হাসেম শেখের নাতি এবং সৌদি আরবপ্রবাসী কামাল শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে দাদার সাথে ছোলনা এলাকার সিদ্দিকুর রহমান চেয়ারম্যানের পুকুরে গোসল করতে যায় আবিদ। গোসল শেষে দাদার সাথে বাড়িতে ফেরে সে। পরে বাড়িতে দাদাকে না পেয়ে তাকে খুঁজতে আবার ওই পুকুরপাড়ে যায় শিশুটি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় সে।

    এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে কুশাডাঙ্গা গ্রামের আলতাব হোসেন শিশুটিকে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখেন। তিনি দ্রুত পুকুরে নেমে আবিদকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা: সাদ বিন মেহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

    আবিদের বাবা কামাল শেখ জীবিকার প্রয়োজনে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ,আর

  • পাথরঘাটায় কারাগারে সেনা সদস্যসহ চারজন

    পাথরঘাটায় কারাগারে সেনা সদস্যসহ চারজন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার পাথরঘাটায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় সেনা সদস্যসহ চারজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ এ আদেশ দেন।

    কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন উপজেলার ছোট পাথরঘাটা এলাকার মৃত আব্দুস সোবাহান দফাদারের ছেলে সেনা সদস্য মো. এরশাদ ও তার ভাই মো. জাকির হোসেন, ইউনুস মাঝির ছেলে আলামিন ও একই এলাকার কামাল হোসেন।

    তবে মামলার অপর দুই আসামি ইউনুস মাঝির ছেলে আব্দুল জলিল ও আবু সালেহ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর আগে মামলার বাদী গোলাম রব্বানীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক ৩৪.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন গোলাম রব্বানী ও তার মায়ের নামে। সেই থেকে গোলাম রব্বানী ও তার পরিবার ওই জমি ভোগ দখল করে আসছে। গোলাম রব্বানী আমতলী কলেজের প্রভাষক হওয়ার কারণে পাথরঘাটায় কম থাকেন।
    এ সুযোগে মামলার প্রধান আসামি সেনা সদস্য মো. এরশাদ ও তার ভাই জাকির হোসেনসহ অন্য আসামিরা মিলে পাকা ভবন নির্মাণ করার জন্য দখল করেন। ঘটনাস্থলে এসে জমির মালিক গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকি দেন তারা। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ মার্চ গোলাম রব্বানী পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে চার আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন জানান, ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়ের করা মামলায় সেনা সদস্য এরশাদ ও তার ভাইসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ৩ ও ৬ নম্বর আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ,আর

  • চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রেমিক যুগলের মৃত্যু

    চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রেমিক যুগলের মৃত্যু

    যশোরের চৌগাছায় পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে অয়ন (২০) ও মিথিলা (১৮) নামে দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪ টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের টালিখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত অয়ন যশোরের মহেশপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। মিথিলা চৌগাছা পৌর শহরের বাকপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌগাছা থেকে যশোরের দিকে যাওয়ার পথে টালিখোলা এলাকায় মোটরসাইকেলটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী অয়ন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলের চালক মিথিলা।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত মিথিলাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

    মিথিলার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা দুজন চৌগাছার আড়ারদাহ এলাকায় একটি কফি হাউসে যাচ্ছিলেন।

    অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • মনের অশান্তি দূর করার দোয়া

    মনের অশান্তি দূর করার দোয়া

    দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, হতাশা ও মানসিক চাপে অশান্তি আসা স্বাভাবিক। মন অস্থির থাকলে কোনো কাজেই মন বসে না, সবকিছুই যেন বিষাদময় মনে হয়। এমন মুহূর্তে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সুন্নাহসম্মত জিকির ও দোয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ কিছু দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় চাইতেন। নিচে মনের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার চারটি ছোট ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ দোয়া তুলে ধরা হলো:

    ১. রহমত লাভের দোয়া
    আরবি:

    اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو فَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

    উচ্চারণ:

    ‘আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইন, ওয়া আসলিহ লি শানি কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। ’

    অর্থ:

    ‘হে আল্লাহ, আমি একমাত্র আপনার রহমতেরই আশা করি। তাই এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। বরং আমার যাবতীয় বিষয় আপনি সুন্দরভাবে সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নেই। ’

    (সুনানে আবু দাউদ: ৫০০২)

    ২. বিপদে ও মানসিক কষ্টে প্রশান্তির দোয়া
    আরবি:

    لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

    উচ্চারণ:

    ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম। ’

    অর্থ:

    ‘মহীয়ান ও সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আসমানসমূহ ও জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। ’

    (সহিহ মুসলিম: ৬৬৭২)

    ৩. দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে আশ্রয়ের দোয়া
    আরবি:

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

    উচ্চারণ:

    ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল। ’

    অর্থ:

    ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের চাপ/প্রাধান্য থেকে পানাহ চাই। ’

    (সহিহ বুখারি: ২৬৯৪)

    ৪. অস্থিরতা দূর করার দোয়া
    আরবি:

    اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لاَ أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا

    উচ্চারণ:

    ‘আল্লাহু আল্লাহু রাব্বি, লা উশরিকু বিহি শাইআ। ’

    অর্থ:

    ‘আল্লাহ, পরম সত্তা আল্লাহই আমার প্রভু; আমি তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করি না। ’

    (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৫)

    মনের অস্থিরতা ও পেরেশানি অনুভব করলে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা এবং একাগ্রচিত্তে ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়াগুলো বারবার পাঠ করা উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের মনকে অশান্তি থেকে মুক্ত রেখে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিন।

  • পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    কয়েক বছর আগেও ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা যে ৮০ শতক জমি পড়ে ছিল অলসভাবে। এক ব্যবসায়ীর অদম্য চেষ্টায় আজ সেখানে ফলছে সোনালি সম্ভাবনা। পতিত জমিকে উর্বর শস্য খেতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫)। মূল ব্যবসার পাশাপাশি বিষমুক্ত এ সবজি বাগান এখন তার জীবনের গতি বদলে দেওয়া নির্ভরযোগ্য বাড়তি আয়ের পথ।

    ২০২২ সালে বাড়ির পাশে পারিবারিক ২০ শতক অনাবাদি জমি কাজে লাগানোর চিন্তা করেন মতিন। পাশের মালিকের আরও ৬০ শতক জমি পড়ে থাকতে দেখে উদ্যোগ বাড়ান তিনি। বছরে ২৫ হাজার টাকায় তা ইজারা নিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু হয় জমি প্রস্তুতের কাজ।

    প্রথমবার স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা মূলধনে চাষ করেন টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা। প্রথম মৌসুমেই মেলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়। এমন অভাবনীয় সাফল্য মতিনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সাল থেকে একক উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে মাঠে নামেন তিনি। দোকানের কেনাবেচা আর কৃষিকাজ দুই সামলানো কঠিন হলেও একাগ্রতা হারাননি মতিন। ভোররাতে ফজরের নামাজ শেষেই তিনি ছুটে যান খেতে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফিরে গোসল-নাশতা সেরে খোলেন দোকান। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন স্থায়ী শ্রমিকও নিয়োগ

    দিয়েছেন।

    মতিনের এ বাগান স্থানীয় একজনের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন এ উদ্যোক্তা। প্রথমবার সরাসরি মাটিতে সবজি চাষ করেছিলেন মতিন। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি সরে গিয়ে নানা সমস্যা হতো। তাই দ্বিতীয়বার চাষপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন। জমিতে ব্যবহার করছেন মাটির পুষ্টি রক্ষায় ‘মালচিং পেপার’, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ‘পলিশেড’ এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলনে ‘গ্রাফটিং’ (কলম) পদ্ধতি। রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া মূলত জৈব সার দিয়েই চাষ হচ্ছে সবজি। ফলে বাজারে তার বাগানের ফসলের চাহিদা অন্য যেকোনো খেতের চেয়ে অনেক বেশি।

    বর্তমানে ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ হাসছে মতিনের খেতে। মতিনের ভাষ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করেন। শীতকালে চাষ করেন লাউ, টমেটো ও আলু।বাজারদর ও সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আবদুল মতিন জানান, খেতের টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা এবং লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রির পর শীতের মুখ দেখার আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

    কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘জায়গাটা বেকার পড়ে আছিল, তাই কাজে লাগাইলাম। খেতের সবজিতে নিজেদের ঘরের চাহিদাতো মিটছেই, দুই ভাইয়ের পরিবারকেও দিচ্ছি।’

    তার ভাষ্যে, স্থানীয় কিছু পাইকার তার কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। আবার তার দোকানের সামনেও কিছু সবজি নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে অনেকে এক-দুই কেজি করে কিনে নেন। বাজারে নেওয়ার আগেই সবজি বিক্রি হয়ে যায়। ব্যবসার পাশাপাশি এটি তার বাড়তি আয়ের পথ হয়েছে।

    শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানও করেছেন মতিন। বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা লাগিয়েছেন। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি।

    গ্রীষ্মে শীতের সবজি মতিন জানান, জমিতে জৈব সারই বেশি ব্যবহার করেন। কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। টমেটো, লাউ ও শসা সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালে বাজারে এ সব সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণেই গ্রীষ্মকালীন চাষে এ সব সবজি রাখছেন। মতিনের এ অভূতপূর্ব সাফল্য নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগেরও।

    উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে গত ২৪ আগস্ট মতিনের বাগানেই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করা যায়-মতিন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুরো এলাকার জন্যই তিনি এখন অনুপ্রেরণা। অনাবাদি জমিতে বুনে দেওয়া সেই ছোট স্বপ্নটি আজ পুরো উপজেলার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপ নিয়েছে।

  • বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ১ ঘণ্টা যানজট

    বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ১ ঘণ্টা যানজট

    পার্বতীপুর থেকে বুড়িমারীগামী একটি লোকাল ট্রেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার স্টেশনে যাত্রীবাহী বগি রেখে ইঞ্জিন চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে বগিগুলো আটকে থাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরে লালমনিরহাট থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে বগিগুলো উদ্ধার করে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

    রোববার সকাল ১০টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার স্টেশনের ১০০ গজ দূরে এই ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি তুষভান্ডার স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর বগিগুলো মূল ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লেভেল ক্রসিং ব্যারিকেড এলাকার ওপর থেমে যায়। তবে ট্রেনচালক বগি বিচ্ছিন্নের বিষয়টি বুঝতে না পেয়ে ইঞ্জিন নিয়ে একাই প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে এগিয়ে যান। রেললাইন ও মহাসড়কের সংযোগস্থলে বগিগুলো আটকা পড়ে থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম জানান, লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর বগি আটকে থাকায় পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে শত শত যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের প্রায় এক ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

    তুষভান্ডার স্টেশন মাস্টার জামান মাহমুদ আপেল জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় দপ্তর থেকে দ্রুত একটি বিকল্প উদ্ধারকারী ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ইঞ্জিনটি এসে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়ে ট্রেনটি বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মূলত ইঞ্জিনের সঙ্গে বগির সংযোগকারী হুক খুলে যাওয়ার কারণেই এটি হয়েছে। তবে এই সময়ে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

  • চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, আজীবন ভাড়া ফ্রি

    চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, আজীবন ভাড়া ফ্রি

    ঢাকা থেকে বাবার বাড়ি ফিরছিলেন পোশাকশ্রমিক আবিদা বেগম (২৮)। সন্তান প্রসবের তখনো ২০ দিন বাকি। কিন্তু পথেই শুরু হয় তীব্র প্রসববেদনা। চলন্ত বাসেই জন্ম নিল তাঁর দ্বিতীয় সন্তান—ফুটফুটে এক ছেলে শিশু। আর সেই শিশুর জন্মের খবর শুনে মা ও শিশুর আজীবন বাসভাড়া ফ্রি করে দিয়েছে বাস কর্তৃপক্ষ।

    ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসে। আজ বৃহস্পতিবার আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি প্রতিনিধিদল আবিদার বাড়িতে উপহার নিয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

    আবিদা বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। কাজের সুবাদে তিনি সপরিবারে ঢাকার জিরানীতে বসবাস করতেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর সন্তান প্রসবের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নেন আবিদা। চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল আরও ২০ দিন পর। সেই অনুযায়ী গত শুক্রবার প্রথম সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওঠেন ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী আনাস এন্টারপ্রাইজের বাসে।

    পথে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় চলন্ত বাসে হঠাৎ তীব্র প্রসববেদনা ওঠে আবিদার। তাঁর চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে দেন চালক ও সুপারভাইজার। পুরুষ যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসের নারী যাত্রীদের সহায়তায় চলন্ত বাসেই দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের জন্ম দেন আবিদা।

    বাসের সুপারভাইজার মজনু মিয়া বলেন, হঠাৎ বাসে প্রসূতি মায়ের চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে দিয়ে পুরুষ যাত্রীদের বাইরে নামিয়ে নিয়ে আসি। এরপর অন্য নারী যাত্রীরা সহায়তা করলে আবিদা নামে সেই প্রসূতি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে বাসমালিক মা-ছেলের আজীবন বাসভাড়া ফ্রি ঘোষণা করেছেন।

    শিশুটির জন্মের পর বাসযাত্রীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। সুপারভাইজার মজনু মিয়া যাত্রীদের মিষ্টিমুখ করান। পরে পরিবারের সদস্যরা বাসটির নামের সঙ্গে মিল রেখে নবজাতকের নাম রাখেন ‘আনাস হাসান’।

    এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আনাস এন্টারপ্রাইজের মালিক খুশি হয়ে নবজাতকের বাড়িতে উপহার পাঠান। একই সঙ্গে আবিদা ও তাঁর নবজাতক ছেলের আজীবন বাসভাড়া ফ্রি ঘোষণা করেন।

    আবিদার বাবা আবেদ আলী বলেন, ‘মেয়ে আবিদাকে আমাদের বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে নিয়ে ফিরছিলাম। ডাক্তার বলেছিলেন, আরও ২০ দিন সময় লাগবে। কিন্তু এরই মধ্যে সেদিন চলন্ত বাসেই আরেক নাতির জন্ম হয়েছে। মা-ছেলে দুজনই সুস্থ আছে। সকলে তাদের জন্য দোয়া করবেন।’

    ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন বলেন, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

In English

English edition · Older English stories