BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

    আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

    বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়।

    এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

    জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তার আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

    এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • হার্ডডিস্কে তথ্য জমা থাকে কীভাবে

    হার্ডডিস্কে তথ্য জমা থাকে কীভাবে

    আমরা প্রতিদিন কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে অসংখ্য ছবি, ভিডিও, গান, নথি ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণ করে থাকি। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে ফাইল খুলে দেখি, আবার অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলি। কিন্তু একটা বিষয় কখনো কি ভেবে দেখেছি, এসব তথ্য আসলে কোথায় থাকে? কীভাবে থাকে? কম্পিউটার কীভাবে একটি ছবি, গান কিংবা লেখাকে সংরক্ষণ করে রাখে? আর বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কীভাবে সেই তথ্য অক্ষত থাকে?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রয়েছে ডিজিটাল স্টোরেজ প্রযুক্তির মধ্যে। প্রচলিত হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (HDD) থেকে আধুনিক সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD)—প্রতিটি প্রযুক্তিই তথ্য সংরক্ষণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। আজ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানব।

    HDD-এর তথ্য সংরক্ষণ

    এর পূর্ণরূপ Hard Disk Drive। এটি একটি ইলেকট্রোমেকানিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসÑঅর্থাৎ এর মধ্যে ইলেকট্রনিক সার্কিটের পাশাপাশি ঘূর্ণায়মান ও চলমান যন্ত্রাংশও থাকে। হার্ডডিস্কের ভেতরে এক বা একাধিক গোলাকার চাকতি থাকে, যেগুলোকে প্লেটার (Platter) বলা হয়। এগুলোর পৃষ্ঠে বিশেষ চৌম্বকীয় উপাদানের পাতলা স্তর থাকে। প্লেটারগুলো দ্রুতগতিতে ঘোরে এবং রিড-রাইট হেড নামের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের সাহায্যে সেখানে তথ্য লেখা ও পড়া হয়। কম্পিউটারে কোনো ফাইল সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলে অপারেটিং সিস্টেম ও ড্রাইভের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা তথ্যকে উপযুক্ত ডিজিটাল বিন্যাসে প্রস্তুত করে। এরপর হার্ডডিস্কের রাইট হেড প্লেটারের চৌম্বকীয় পৃষ্ঠে নির্দিষ্ট বিন্যাস তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় চৌম্বকীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপিত হয়। ড্রাইভের ইলেকট্রনিকস ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিক করে দেয় কোন জায়গায় কী তথ্য লেখা হবে। যখন কোনো ফাইল খোলা হয়, হার্ডডিস্কের রিড হেড সংশ্লিষ্ট স্থানের চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করে। ড্রাইভের ইলেকট্রনিকস সেই সংকেতকে ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়। এরপর অপারেটিং সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার তথ্যকে ছবি, লেখা, ভিডিও বা অন্য উপযোগী রূপে দেখায়। যেহেতু HDD-তে প্লেটার ঘোরে এবং হেডকে নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয়, তাই তথ্য খুঁজে পাওয়া ও পড়ার ক্ষেত্রে কিছু যান্ত্রিক সময় লাগে। এ কারণেই অনেক পরিস্থিতিতে HDD, SSD-এর তুলনায় ধীরগতির হয়।

    SSD-এর তথ্য সংরক্ষণ

    এর পূর্ণরূপ Solid State Drive। প্রচলিত HDD-এর মতো এতে ঘূর্ণায়মান প্লেটার বা চলমান রিড-রাইট হেড থাকে না। এর ফলে এটি দ্রুত তথ্য পড়তে পারে, কম শব্দ করে এবং যান্ত্রিক আঘাতের কারণে চলমান অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। বর্তমান SSD-এর একটি বড় অংশে NAND ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। এই মেমোরির কোষগুলো বৈদ্যুতিক চার্জের প্রভাবে তাদের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। সেই পরিবর্তন শনাক্ত করেই তথ্য পড়া হয়।

    মেমোরি সেল

    NAND ফ্ল্যাশ মেমোরির সেল সাধারণত ট্রানজিস্টরভিত্তিক কাঠামো দিয়ে তৈরি। এর নকশা অনুযায়ী, ফ্লোটিং-গেট বা চার্জ-ট্র্যাপ অঞ্চলে বৈদ্যুতিক চার্জ ধরে রাখা যায়। সেই চার্জ সেলের নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে। SSD-এর নিয়ন্ত্রক চিপ (Controller) এই বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে সংরক্ষিত তথ্য নির্ধারণ করে। তথ্য লেখার সময় সেলে চার্জের অবস্থা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিবর্তন করা হয়। NAND ফ্ল্যাশের নির্দিষ্ট নকশায় চার্জ স্থানান্তরের জন্য কোয়ান্টাম টানেলিংসহ বিভিন্ন ভৌত প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হতে পারে; তবে সব ধরনের ফ্ল্যাশ মেমোরির অভ্যন্তরীণ কাঠামো এক নয়।

    ফাইল ডিলিট করলে যা ঘটে

    কম্পিউটার বা ফোন থেকে কোনো ফাইল মুছে ফেললে সেটির তথ্য সবসময় সঙ্গে সঙ্গে স্টোরেজ থেকে সম্পূর্ণ মুছে যায় না। সাধারণত প্রথমে ফাইল সিস্টেমে ওই ফাইলের জায়গাকে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    নষ্ট হয় কেন

    কোনো স্টোরেজ ডিভাইসই চিরস্থায়ী নয়। তবে HDD ও SSD-এর সীমাবদ্ধতা ভিন্ন। HDD-তে মোটর, প্লেটার ও রিড-রাইট হেডের মতো যান্ত্রিক অংশ থাকে। আঘাত, অতিরিক্ত তাপ, যান্ত্রিক ক্ষয় বা ইলেকট্রনিক ত্রুটির কারণে ড্রাইভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ড্রাইভ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, বারবার ফাইল পড়তে সমস্যা বা কম্পিউটারে ড্রাইভ শনাক্ত না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। SSD-এর NAND ফ্ল্যাশ সেলে তথ্য লেখা ও মুছে ফেলার সহনক্ষমতা সীমিত। বারবার প্রোগ্রাম-ইরেজ চক্রের কারণে সময়ের সঙ্গে সেলের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক চিপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক অংশেও ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তবে HDD বা SSD—কোনটি কত দিন টিকবে তা ড্রাইভের মান, ব্যবহারের ধরন, তাপমাত্রা, লেখার পরিমাণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতি এর আয়ুষ্কালে প্রভাব ফেলে।

    HDD ও SSD ছাড়াও তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। CD ও DVD-এর মতো অপটিক্যাল ডিস্কে লেজারের সাহায্যে তথ্য পড়া হয়। ম্যাগনেটিক টেপ বড় পরিমাণ তথ্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও ব্যাকআপের কাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মেমোরি কার্ড ও USB ফ্ল্যাশ ড্রাইভেও NAND ফ্ল্যাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ক্লাউড স্টোরেজের ক্ষেত্রেও তথ্য কোনো জাদুকরী অদৃশ্য জায়গায় থাকে না। সাধারণত দূরবর্তী ডেটা সেন্টারের সার্ভার, স্টোরেজ ড্রাইভ, নেটওয়ার্ক ও ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের সমন্বয়ে এই সেবা পরিচালিত হয়। ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের অনুমোদিত তথ্য দেখতে, আপলোড করতে বা ডাউনলোড করতে পারেন।

    HDD নাকি SSD

    দুটিরই আলাদা সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে HDD তুলনামূলক কম খরচে বেশি ধারণক্ষমতা দিতে পারে। তাই বড় আকারের ফাইল, আর্কাইভ বা ব্যাকআপ সংরক্ষণে এটি এখনো উপযোগী। অন্যদিকে SSD দ্রুত বুট, দ্রুত ফাইল খোলা এবং সফটওয়্যার চালু করার সুবিধা দেয়। চলমান যন্ত্রাংশ না থাকায় যান্ত্রিক আঘাতজনিত ক্ষতির ঝুঁকিও কম। কোনটি বেছে নেওয়া ভালো, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর বাজেট, প্রয়োজনীয় ধারণক্ষমতা, পারফরম্যান্সের চাহিদা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম ও নিয়মিত ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য SSD এবং বড় ফাইল বা ব্যাকআপের জন্য HDD ব্যবহার করা কার্যকর সমাধান হতে পারে।

  • ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ, এখন কী হবে

    ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ, এখন কী হবে

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে স্পষ্ট আভাস মেলেনি। মঙ্গলবার ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও পেতে পারে ৫১টি আসন।

    ফলে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে।

    অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হলে সরকার গঠনে এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী

    আইজেনকোট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর জোট ‘চরম পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘এটি পুরোপুরি ধস। জনগণ তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছে।’

    তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্‌যাপনকে ‘অকাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’

    নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বারবার টিকে গেছেন।

    ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন আলজাজিরাকে বলেন, প্রাথমিক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি স্পষ্টভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও এখনই তার বিজয় কিংবা রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

    তিনি বলেন, জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তার বিরোধীদের পক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে। কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন

    প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তা এখনো তা নিশ্চিত নয়।

    ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন।

    তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে সম্ভাব্য দুই প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সরকার গঠনের জন্য কত সময় পাওয়া যাবে

    সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। শুরুতে তাকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে তা আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন।

    এ সময় দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে। সরকার গঠনের সমর্থন আদায়ে দলগুলো নীতিগত ছাড় এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারে।

    কোনো প্রার্থী ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে দুই নেতার মধ্যে মেয়াদ ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমঝোতাও হতে পারে।

    নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। কিছু সদস্য ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

    আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে

    প্রথম মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে ২৮ দিনের জন্য দায়িত্ব দিতে পারেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

    এরপরও সমঝোতা না হলে পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে এবং ইসরাইলিদের আবার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। নতুন নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। তত দিন নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    এর আগে কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল

    এর আগে কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরাইলে তিন দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুজনের পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

    তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকার ভেঙে পড়ে।

    বিরোধীরা কি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়বে

    বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয়েই অভিন্ন মূল্যবোধের অভাবের কথা উল্লেখ করে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

    ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাফ রোনেল বলেছেন, জরিপে নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকারের’ অবসানের ইঙ্গিত মিললেও অন্য নেতারা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজেদের আপত্তি ও বৈষম্যমূলক অবস্থান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

    তার মতে, অন্য দলগুলো যদি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি না হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইসরাইলে আবারো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

  • গণনার সময় যত বাড়ছে ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট

    গণনার সময় যত বাড়ছে ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে নেতানিয়াহুর ভোট।বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ পার্টি’ মোট বৈধ ভোটের ২১.৭ শতাংশ পেয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। তবে পূর্ববর্তী গণনার আপডেটের (২৩.২৪ শতাংশ) তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার কিছুটা কমেছে।অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ‘ইয়াশার পার্টি’ ১৫.৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে পূর্ববর্তী গণনার আপডেটের (১৫.৪১ শতাংশ) তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে।

    ফিলিস্তিন-ইসরাইলি জয়েন্ট লিস্ট ৯.২২ শতাংশ ভোট পেয়ে উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দলের প্রাপ্ত ভোট (৮.২২%) থেকে সামান্য বেশি।

    নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ঘোষিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ প্রাথমিক এবং ভোট গণনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট ৭৩ লাখ ৩০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

  • মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    গত ২৪ অক্টোবর মানিকের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। সাঈদী সাহেব কখনো রাজাকার ছিলেন না।

    “১৯৭১ সালে মানুষ তাকে চিনত না। তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। সাঈদী সাহেব একজন ভালো বয়ানকারী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ছিলেন।তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, সে কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে। সাঈদী সাহেবের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন সরকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সাঈদীর অনুসারীরা গার্ড অব অর্নার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরাও জানি, তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।”

    আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সেখানে চাপে হোক বা যেভাবেই হোক, মানিক পশারী সাঈদীর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। পরে আর যাচাই-বাছাই হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সরকারি নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেবে, কারণ তিনি এখনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সে কারনে সেখানে গার্ড অব অনার দিতে জামায়াত আপত্তি জানায়।

    গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সি মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বিকালে পুলিশ লাইনসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

    সুত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তার ছোটভাই চান মিয়া পশারী।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চান পশারী জানান, তিনি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। তবে সাঈদীর পক্ষে কথা বলায় তার ভাই মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, ‘তখন আমার ভাই (মানিক পশারী) মেট্রিক পাশ। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি। ’চান পশারী আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম ভাই (মানিক পশারী) দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই, সে ভালো বলতে পারে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে, তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় (তালিকা) নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই। কারণ সাঈদী রে ভালো বলছি এ কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোনো সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি, এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম, তাহলে তো আমার নামটা মুক্তিবাহিনীতে থাকত।’এদিকে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার ছোটভাই চান পশারীর একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায়— তিনি ও তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি আর্থিক লোভে না পড়লেও তার বড়ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এবং সাক্ষী দেয়।তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চান মিয়া পশারীর বাড়িতে যান এ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার নিজেরই।এক প্রশ্নের উত্তরে চান পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সেই সময় অনেক ছোট ছিল সাঈদী। রাজাকার ছিল রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, সেকেন্দার শিকদার।

    এদিন মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।’

    মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার ছলে বলেন, ‘হয় আমার ভাই রে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে।’অপরদিকে সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর আরেক বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

    মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। ’“কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি। আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।”সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’

    তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

    ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’ ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি

    একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’”

    মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল?

    মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

    মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    লাশ নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা

    স্বজন হারানোর শোক নিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। মেঝে ও বারান্দায় অসহায় স্বজনদের ছোটাছুটি। অনেক চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে না পারা। শেষ পর্যন্ত পিকআপ, ভ্যান, রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লাশ নিয়ে বাড়িতে যাত্রা। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতেও চরম ভোগান্তি। পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের মঙ্গলবার দিনব্যাপী ধর্মঘটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালজুড়ে এমন মানবিক সংকট তৈরি হয়।

    সরেজমিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখা যায়, পরিবহণ সংকটে রোগী ও স্বজনরা প্রায় দিশেহারা। কেউ চার-পাঁচ ঘণ্টা, কেউ সাত থেকে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না। তাই বিকল্প যানবাহনে রোগী ও লাশ নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।

    এদিন সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট, কলেজ গেট, নতুন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অনেক চালক রোগী পরিবহণ করেননি। সারাদিন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া মালিক সমিতির অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য জায়গা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও তেমন রোগী পরিবহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলো। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সময়মতো অন্য হাসপাতালে নিতে না পেরে উদ্বেগে স্বজনদের সময় কাটে।

    নারায়ণগঞ্জের মো. শাহীন তার ৭০ বছর বয়সি দাদি হালিমা বেগমকে সোমবার ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন শাহীন। কিন্তু তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    শাহীন জানান, সরকারি হাসপাতালে এসে এমন বিপদে পড়তে হবে, কখনো ভাবেননি তিনি। দাদি মারা যাওয়ার পর তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাননি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও চোখে পড়েনি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে চানখাঁরপুল মোড় থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

    একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েন যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন। তার বড় ভাগিনা মো. রাসেল (২২) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে রাসেল মারা যান। এরপর লাশ নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন মনির হোসেন। অনেক চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    মনির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে লাশ নেওয়ার গাড়ি না পেয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকতে হয়েছে। এত বড় সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি।’

    গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে খুলনা থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসেন আব্দুল আহাদ। পরে তার শাশুড়িকে কিডনি হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর থেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি আহাদ। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুধু এই তিনজনই নন, আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

    পার্কিং নিয়ে বিরোধে ধর্মঘট : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও আমাদের গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশ মামলা দেয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছি আমরা। পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

    হাসপাতালের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

    ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোগীদের একরকম জিম্মি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলেও তাদের নেওয়া হয়নি। পরে শাহবাগ থানাকে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর বাইরের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করিয়ে রোগী নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’ পরিচালকের বরাতে তিনি জানান, সংকট সমাধানে আজ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে বসতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • হাসিনাসহ খুনিদের ফাঁসি চায় শহীদ পরিবার ও জামায়াত

    হাসিনাসহ খুনিদের ফাঁসি চায় শহীদ পরিবার ও জামায়াত

    ঠবপতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক পূর্তি আজ বুধবার। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠাসহ অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার নির্দেশে সেদিন প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

    এরপর লাশের ওপর নৃত্য-উল্লাসে মেতে ওঠে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে সেদিন হাসিনার বাসভবন সুধাসদন থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয় বলেও জানা যায়।এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ও পাশবিকতায় জাতিসংঘসহ দেশে-বিদেশে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এ বিভীষিকাময় ঘটনায় পরে মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। হত্যার বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, পরবর্তী সময়ে নানাভাবে আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয় শহীদ পরিবারগুলো। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারের নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন তারা। ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনরায় সচল করা এবং প্রয়োজনে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে শহীদ পরিবার ও জামায়াত। এসব দাবির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ কলঙ্কজনক পল্টন ট্র্যাজেডির সেই ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করছে দলটি।

    লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করে গত সোমবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডবের ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। দেশের জনগণের দাবি—অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কী ঘটেছিল সেদিন

    ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা আন্দোলনের ডাক দেয় আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। দলীয়প্রধান হাসিনার নির্দেশে অস্ত্রসজ্জিত আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা ও অস্ত্র হাতে মুক্তাঙ্গন-পল্টন এলাকায় অবস্থান নেয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় তাণ্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে চালানো হয় হামলা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর।

    অন্যদিকে সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল জামায়াত। সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলাকালে বেলা ১১টায় লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশের উপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

    তাদের দফায় দফায় হামলা উপেক্ষা করে জামায়াতের সমাবেশ হয়। জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪-৫ মিনিট পর পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০-১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিন। এভাবে সেদিন জামায়াত ও শিবিরের ছয়জন নেতাকর্মী শহীদ এবং আহত হন সহস্রাধিক। মাগরিবের আজানের পর পল্টন মোড়ে বিডিআর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াত-শিবিরসহ চারদলীয় জোটের ৫৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন পাঁচ হাজারের বেশি। তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ান ইলেভেনের অবৈধ সরকার আসে এবং দেশ দুই বছর গণতন্ত্রহীন থাকে।

    বিচারের প্রত্যাশায় শহীদ পরিবার

    দুই দশকেও বিচার পায়নি লগি-বৈঠার হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবার। ঢাকা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিপনের মৃত্যুর ঘটনা স্বজনদের কাছে আজও বেদনার স্মৃতি। ছেলেকে হারানোর শোক এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার হতাশা তাদের দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

    শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে আমার দেশকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকার মামলা বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর চালু হয়নি। অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমাদের দিন কাটছে। মাসুমের বাবা কষ্ট নিয়েই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। আমি নিজেও স্কুলে চাকরি করতে পারিনি। আমার বাবাকেও তারা অত্যাচার করেছে। আমাদের জীবনে প্রতিদিনই ২৮ অক্টোবর আসে। আমরা এই ঘটনায় হাসিনার ফাঁসি চাই।

    শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের পিতা তাজুল ইসলাম জানান, ২৮ অক্টোবর মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়, তা আগে কখনো দেখিনি। হাসিনার হুকুমেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তাকে ফাঁসি দিতে হবে। তা নাহলে আমরা শান্তি পাব না।

    এদিকে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য বিচারের পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

    পল্টন থানায় মামলা, ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, এরপর থমকে যায় বিচার

    ঘটনার পরদিন ২৯ অক্টোবর পল্টন থানায় মামলা করেন জামায়াতের তৎকালীন পল্টন থানা আমির এটিএম সিরাজুল হক। এজাহারে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের ৪০ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাহারা খাতুন, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং সহস্রাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    তদন্ত শেষে হুকুমের আসামি হিসেবে হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল পল্টন থানা পুলিশ চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। ১১ এপ্রিল আদালতে সেটি গৃহীত হয়। হাসিনা, আব্দুল জলিল, নাসিম, মায়া, সাহারা খাতুন, ইনু, মেনন, নানক, ইকবাল ও হাজী সেলিমসহ ৪৬ জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে বিকালে আবার অদৃশ্য কারণে ওই চার্জশিট মুলতবি করে এবং অধিকতর তদন্তের নির্দেশ আসে। তারপর বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে ওই মামলার বিচার কাজ আর আলোর মুখ দেখেনি।

    ক্ষমতায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহার

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বিবেচনা করে ২০০৯ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এতে হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের ফলে পল্টনের হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণের সুযোগ আর থাকেনি।

    এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পক্ষের আইনজীবী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়ে ২০০৯ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যে কারণে এ বিষয়ে আর কিছু করা যায়নি। এরপর মামলার নথিপত্র, নকল বা অনুলিপি আমরা চেষ্টা করেও পাইনি। মামলাটি এখন পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।

    দুই দশক পর আবার বিচার দাবি

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। ২০২৫ সালেও জামায়াতের নেতারা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান। এবার দুই দশক পূর্তির প্রাক্কালে দলটি আবারও বিষয়টি সামনে এনেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নতুন করে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

    স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দেয় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। ঝড়টির বাইরের মেঘমালা ইতিমধ্যে স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে।

    ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বুধবার সকালেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল, ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

    আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি উঠতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও অত্যন্ত উত্তাল থাকবে।

    আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়তে পারে। কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার ওপর ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। গোদাবরী নদীর মোহনায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার হতে পারে।

    আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে। ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাছ ধরার ৩০ হাজারের বেশি নৌযান নিরাপদে সরিয়ে রাখা এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে বলা হয়েছে।

    অর্ণবের প্রভাবে প্রতিবেশী ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও পুরো স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষা করতে হবে।

  • জমির উর্বর মাটি না কাটার  আহ্বান

    জমির উর্বর মাটি না কাটার আহ্বান

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

    বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটাগুলোকে লক্ষ্য করে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এসব ভাটায় আগুন দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ইট তৈরিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

    পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    এ কারণে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় আগুন দেওয়া এবং ইট তৈরিতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা না করেন, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    সাতক্ষীরার জলাবদ্ধ পতিত জমিতে সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হচ্ছে পানি সিংড়া। বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায় না, সেসব জমিতে পানি সিংড়া চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। গত বছর জেলায় ১৬৪ হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া উৎপাদন ও বেচাকেনার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে অনেক জমি পানির নিচে থাকায় সেখানে আমন ধানের চাষ সম্ভব হয় না। এসব জমি পতিত ফেলে না রেখে কয়েক বছর ধরে পানি সিংড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। ধীরে ধীরে এ চাষ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাতেও।

    কৃষকেরা জানান, জলাবদ্ধ জমিতে ধান চাষ করা কঠিন হওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে পানি সিংড়া চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে এ ফল উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকা। বিপরীতে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। শীতকালীন ফল হলেও আগাম চাষের মাধ্যমে বাজারে আগে ফল সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।

    বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি মণ পানি সিংড়া ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

    পানি সিংড়া চাষের বিস্তারে গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের জমিতে পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহের জন্য শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

    ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকেরা জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করে তাঁরা ৪০০ টাকা মজুরি পান। এ আয় দিয়ে তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সহায়তা করছেন।

    এদিকে পানি সিংড়ার ব্যবসায়ীরাও এ ফলের বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন। তারা ক্ষেত থেকে প্রতি মণ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে বাজারে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকায় এ ব্যবসায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘পানি সিংড়া চাষের মাধ্যমে জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিশ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা পড়ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পানি সিংড়া অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এটি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

    কৃষিতে বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত সাতক্ষীরায় ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে বিকল্প ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। জলাবদ্ধ জমিতে পানি সিংড়ার আবাদ সেই সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    দেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মহাসড়কে নতুন এক মাইলফলক যোগ হতে চলেছে। সিলেট অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে কার্পাস তুলা চাষ।

    চা ও লেবুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষামূলক চাষেই মিলেছে তাক লাগানো বাম্পার ফলন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিবিড় পরিচর্যা ও উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই অর্জনে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার, যা গোটা অঞ্চলে কৃষিবিপ্লবের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    শ্রীমঙ্গলে প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য :

    উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সাইটুলা গ্রামের উদীয়মান কৃষক তাপস কুমার কুর্মী (৪০) চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রায় সাড়ে চার কেয়ার (প্রায় ১৫ শতক প্রতি কেয়ার) জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের ‘সিবি হাইব্রিড-১’ তুলার বীজ রোপণ করেন। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেতজুড়ে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা গোলাপী ও সাদা রঙের তুলাফুল ঝুলছে, যা দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে।

    কৃষক তাপস কুমার কুর্মী দৈনিক খোলা কাগজকে জানান, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ রোপণ ও পরিচর্যা পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাড়ে চার কেয়ার জমি থেকে প্রায় ৬০ মণ তুলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। প্রতি মণ তুলা ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার তুলা বিক্রির প্রত্যাশা তার।শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক হিসেবে আমরা প্রায় ৬০ মণ ফলন আশা করছি। তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে নতুন জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় সহযোগিতায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল উৎপাদনের লক্ষ্য :

    তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৫ লাখ বেল তুলার চাহিদা রয়েছে, যার বিপরীতে উৎপাদিত হয় মাত্র ২ লাখ বেল। বাকি তুলা আমদানিতে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

    এ বিষয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দীন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা যদি দেশে ১ কেজি তুলাও উৎপাদন করতে পারি, তবে প্রায় ৩ ডলার সাশ্রয় হয়। আমাদের ১৬ লাখ বেল তুলার মৌলিক চাহিদা পূরণে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলস কাজ করছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পতিত জমি থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উঁচু জমিগুলোকে টার্গেট করে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে ছয়-সাতটি নতুন অফিস স্থাপন এবং চলতি বছরই সিলেটে একটি নিজস্ব ইউনিট অফিস চালু করা সম্ভব হবে।’

    দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সফল রূপায়ণ :

    এর আগে সিলেট বিভাগে তুলা চাষের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতায় তা থমকে গিয়েছিল। তবে এবার শ্রীমঙ্গলে সেই ধারণার সফল পতন ঘটেছে।তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা স্টোর কাম ফিল্ডম্যান ও শ্রীমঙ্গল এরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক দেব রায় খোলা কাগজকে বলেন, ‘শুরুতে অতিবৃষ্টির বাধাকে পেরিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ বিঘার মতো জমিতে সুস্থ-সবল তুলা দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকদের এই অদম্য আগ্রহ দেখে আমরা আগামীতে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘কৃষি বিভাগ ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে। শ্রীমঙ্গল তথা এই অঞ্চলের জন্য তুলা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল।’

    ‘সিবি হাইব্রিড-১’ চাষের মূল বৈশিষ্ট্য :

    উচ্চফলনশীল এই জাতের বিশুদ্ধতার হার ৯৮ শতাংশ এবং অঙ্কুরোদগম হার ৭০ শতাংশের বেশি। ১৭০-১৮০ দিন জীবনকালের প্রতিটি তুলার বলের ওজন ৫-৬ গ্রাম হয়ে থাকে।

    রোপণের উপযুক্ত সময় :

    ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট (শ্রাবণ মাস) বীজ বা চারা রোপণের শ্রেষ্ঠ সময়।

    মাটি ও পরিচর্যা :

    পানি জমে না এমন উঁচু দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি উপযোগী এবং প্রথম ৬০-৭০ দিন খেত আগাছামুক্ত রাখতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রণোদনা ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজারের উঁচু পতিত জমিতে কার্পাস তুলার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। এটি কেবল স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করবে এক নতুন শক্ত ভিত।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উঁচু জমিতে তুলা চাষের এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সিলেট অঞ্চলে তুলা চাষ বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য দুই দেশের। বারনামার প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি এক ডলারের পণ্য কেনার বিপরীতে দেশটি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ড। ফাইল ছবি: রাফায়েল রাসেল, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • প্রথম দফার আলোচনা ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দুই পক্ষ আলোচনার কার্যপরিধিতে সই করেছে এবং ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
    • মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক রাশিদি সাইদ ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের দলের নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব খাদিজা নাজনীন। আলোচনার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
    • জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের মধ্যে টেকসই ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা।
    • ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময় সামনে রেখে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। আলোচনা শুরু হলেই শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয় না; সুবিধা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও তা কার্যকর হওয়ার ওপর।

    সোনারগাঁওয়ে আলোচনা

    প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হয়। কার্যপরিধিতে আলোচনার কাঠামো ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দেশ প্রাথমিক খসড়া বিনিময় করেছে। প্রথম দফায় খসড়ার ভাষা, বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের তালিকা ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে পণ্য, সেবা, শুল্কপ্রক্রিয়া ও পণ্যের উৎসবিধি রয়েছে। কোনো পণ্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে কি না, তা এই উৎসবিধি দিয়ে নির্ধারিত হয়।

    চৌধুরী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে। উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও রপ্তানির প্রতিযোগিতা ধরে রাখার একটি উপায় হিসেবে তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা বলেন। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা জানান। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় সমর্থনের জন্যও তিনি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

    সাইদ প্রস্তাবিত চুক্তিকে শুল্ক কমানোর বাইরেও বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। দুই পক্ষই বলে, ২০২৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা লাগবে।

    বাণিজ্যের দুটি হিসাব

    বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রায় ২৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য কেনে। এই আনুমানিক দুটি অঙ্কের যোগফল প্রায় ২৮৫ কোটি ডলার। তাই এগুলোকে নির্ভুল অঙ্ক ধরে উল্লিখিত মোটের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

    দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের হিসাব ভিন্ন সময়ের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। ঘাটতি প্রায় ২০১ কোটি ডলার। অর্থবছরের এই হিসাবের সঙ্গে পঞ্জিকাবর্ষের হিসাব তুলনা করে আগের বছরের তুলনায় পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি হলে তৈরি পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্য, চামড়া, জুতা, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্রকৌশলপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়তে পারে। কোন কোন পণ্যে শুল্কসুবিধা মিলবে এবং রপ্তানিকারকদের কোন উৎসবিধি মানতে হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

    চুক্তি ও উত্তরণ

    ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। দুটি চুক্তিই অনুসমর্থনের অপেক্ষায়। সই, অনুসমর্থন ও কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

    উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে। উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর। তবে ওই দিনই সব বাজারে সব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা শেষ হবে না। বাণিজ্যিক অংশীদারভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধা আলাদা। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তির সুবিধা নির্ভর করবে এর আওতা ও বাস্তবায়নের তারিখের ওপর।

    এরপর কী

    • খসড়া, পণ্যের তালিকা ও ২০২৭ সাল পর্যন্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার পর প্রথম দফা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
    • আনোয়ার ইব্রাহিমের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আলোচনাকে এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে। প্রথম দফার উদ্বোধনে সম্পন্ন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
    • রপ্তানিকারকদের জন্য চূড়ান্ত শুল্কতালিকা ও উৎসবিধি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর চুক্তি কার্যকরের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শেষ করতে হবে।
  • ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলে মঙ্গলবারের প্রথম বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশারের চেয়ে এগিয়ে আছে বেনজামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ। তবে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩ নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০ এবং বিরোধী জোটকে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন দিয়েছে।

    এগুলো সম্ভাব্য ফলের প্রাক্কলন, গণনা করা ভোটের ফল নয়। তিন সম্প্রচারমাধ্যম নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে আরব দলগুলোকে ১৭ থেকে ১৮টি দিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা এমন দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে, যারা একসঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করে প্রচার চালিয়েছে। ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোট চলাকালেও গাজা ও হেবরনে সামরিক অভিযান চলেছে।

    জেরুজালেমে নেসেট ভবন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টের ফাইল ছবি। ছবি: ক্লেমা১২, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় তা আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
    • কান, চ্যানেল ১২, চ্যানেল ১৩ ও আই২৪নিউজের প্রথম বুথফেরত জরিপে লিকুদ এগিয়ে ছিল। এই চার প্রাক্কলনে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই ৬১ আসন পায়নি। প্রধান তিন চ্যানেলে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও আই২৪নিউজ তাঁর জোটকে এগিয়ে রেখেছে।
    • কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১০ থেকে ১১টি এবং রাআম সাতটি আসন। আই২৪নিউজ জয়েন্ট লিস্টকে নয়টি ও রাআমকে সাতটি দিয়েছে। গাদি আইজেনকোট বলেছেন, তিনি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করবেন না। মনসুর আব্বাস বলছেন, রাআম পরিবর্তনের সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে।
    • ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান চলেছে। কানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর নিহতের সংখ্যা সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৯ এবং জাতিসংঘের কমিশনের নিজস্ব হিসাবে ১ হাজার ৪৩১।
    • ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। তিনি প্রথমে ২৮ দিন পাবেন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।

    ভোটের হারে রেকর্ডের গতি

    কমিটির হিসাবে, ইসরায়েলের সময় সকাল ১০টার মধ্যে ভোট পড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ। দুপুরে তা হয় ৩১.৫ শতাংশ, প্রায় ২৪ লাখ মানুষ। বেলা ২টায় ভোট পড়ে ৪৪.৯ শতাংশ, ২০২২ সালের একই সময়ের চেয়ে ছয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বিকেল ৪টার মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট দেন। সন্ধ্যা ৬টায় হার হয় ৬৬.৭ শতাংশ, ২০২২ সালের চেয়ে নয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ৮টায় তা দাঁড়ায় ৭৪.৩ শতাংশে, আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তখন পর্যন্ত ভোট পড়ে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৭টি। দুই আরব দলের শক্তি নির্ধারণে আরব ভোটারদের উপস্থিতির ভূমিকা আছে। তিবি তাঁদের উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলেছেন। স্থানীয় হিসাবে বিকেল নাগাদ রাহাতে ৩৭ শতাংশ এবং নাজারেথ ও তাইবেতে ২৫ শতাংশ ভোট পড়ে। রাত ৮টায় আরব৪৮ প্রকাশিত কমিটির তথ্যের তালিকায় সাখনিনে ৮৩.৫ শতাংশ, কাফর কাসিমে ৮১.৩ শতাংশ ও রাহাতে ৭৯.৮ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলা হয়।

    ভোট চলাকালে নির্বাচন চুরির চেষ্টার অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় ভোটের পরিস্থিতিকে জরুরি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লিকুদের প্রচারের অর্থসংক্রান্ত তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের খামসহ ধরার কথা পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীরা নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ নেই। দিনের শেষ দিকে লিকুদ রাত ১০টার পরও ভোট গ্রহণ চালানোর আবেদন করে। আইজেনকোট এর বিরোধিতা করেন, কমিটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং সময়মতো ভোট শেষ হয়। ব্যতিক্রম ছিল হেবরন। সেখানে রাত ৯টায় বন্ধ হওয়ার কথা থাকা কেন্দ্রগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।

    সরকার গঠনের হিসাব

    প্রথম বুথফেরত জরিপের তুলনায় কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে লিকুদ প্রথম। আলাদা আই২৪নিউজের প্রাক্কলনেও লিকুদ প্রথম, তবে সেখানে নেতানিয়াহুর জোটের মোট আসন বেশি। নিচের প্রতিটি সারি একটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রথম প্রাক্কলন। বিভিন্ন জরিপের সীমা মিলিয়ে কল্পিত কোনো পার্লামেন্টের হিসাব করা হয়নি।

    সম্প্রচারমাধ্যম লিকুদ ইয়াশার নেতানিয়াহুর জোট বিরোধী জোট আরব দলগুলো
    কান ২৫ ২১ ৫০ ৫৩ ১৭
    চ্যানেল ১২ ২৪ ২২ ৫০ ৫২ ১৮
    চ্যানেল ১৩ ২৫ ২৩ ৫০ ৫৩ ১৭
    আই২৪নিউজ ২৭ ২০ ৫৫ ৪৯ ১৬

    লিকুদ ও ইয়াশারের আসন নিজ নিজ জোটের মোটের মধ্যেই আছে; সেগুলো আবার যোগ করা যাবে না। প্রতিটি সারিতে শেষ তিন কলামের যোগফল ১২০। এই চারটি প্রথম প্রাক্কলনের কোনোটিতে প্রধান দুই জোটের কেউ ৬১ আসন পায়নি। এখানে চ্যানেল ১৪-এর বুথফেরত জরিপ নেই; এই প্রতিবেদন প্রথম জমা দেওয়ার সময় সেটি পাওয়া যায়নি।

    ভোটের আগের শেষ জরিপে প্রধান তিন চ্যানেল নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০, আই২৪নিউজ ৫৯ এবং চ্যানেল ১৪ দিয়েছিল ৬২ আসন। প্রধান তিন চ্যানেলের শেষ জরিপে লিকুদের ওপর ইয়াশারের যে এগিয়ে থাকা ছিল, প্রথম বুথফেরত জরিপে তা উল্টে যায়। প্রথম চার বুথফেরত জরিপে রিজার্ভিস্টস ও ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল ন্যূনতম ভোটের সীমার নিচে ছিল।

    কোনো সরকার সংসদীয় সমর্থন পাবে কি না, তাতে আরব দলগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাআম প্রথম চার প্রাক্কলনের প্রতিটিতে সাত আসন পেয়েছে। জয়েন্ট লিস্টে আছে হাদাশ, তাল ও বালাদ। সরকারে যোগ দেওয়া, বাইরে থেকে সমর্থন এবং সরকার গঠনের ভোটে বিরত থাকা আলাদা সিদ্ধান্ত। আইজেনকোট তাঁর আপত্তি জানিয়েছেন: “আমি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করব না।” কারণগুলোর মধ্যে তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে আরব দলগুলোর অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন। রয়টার্স তাঁর অস্বীকৃতিকে অংশীদারত্বের বিষয়ে বলা বক্তব্য হিসেবে জানিয়েছে। বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাবনা আলাদা প্রশ্ন। আব্বাসের মতে, আসনের হিসাব আইজেনকোটের অবস্থান বদলাতে পারে। তাঁর দল পরিবর্তনের নতুন সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বাইরে থেকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর নিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের পক্ষে ভোটও রয়েছে। নেতানিয়াহু বরাবরই ওই তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    নেতানিয়াহুর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থনের সঙ্গে একটি শর্তও আছে। তিনি রোববার বলেন, ইরানের হুমকি “চূড়ান্তভাবে” দূর করতে ট্রাম্প আবার ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, তবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলেই তা হবে। জবাবে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহু “ভয় দেখানো, মিথ্যা ও হুমকির প্রচারের” ওপর নির্ভর করছেন। জনগণের নির্বাচিত যেকোনো নেতার সঙ্গে ট্রাম্প “পূর্ণ সহযোগিতায়” কাজ করবেন বলে তিনি আস্থা জানান।

    ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান

    শুক্রবার একটি তল্লাশিচৌকিতে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান শুরু হয়। নির্বাচনের দিনও তা চলে। মঙ্গলবার শহরে অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি সেনারা স্টান গ্রেনেড ছোড়েন। সেনাবাহিনী বলেছে, অভিযান চালিয়ে যেতে গ্রেনেডটি ছোড়া হয়। নির্বাচনের দিনের জন্য পশ্চিম তীরের স্থল পারাপারপথগুলো বন্ধ করেছে সেনাবাহিনী। রোববার থেকে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

    বাস্তুচ্যুত মানুষের একাধিক হিসাব আছে, প্রতিটির কর্তৃপক্ষ আলাদা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানায়, শুক্রবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তিন হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। হেবরন পৌরসভার সোমবারের হিসাবে বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার ১৮৯ জন। রোববার পর্যন্ত ডেপুটি মেয়রের হিসাবে ৩৭৩ পরিবারের ২ হাজার ২৩১ জন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রায় দুই হাজারের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, হেবরনে হামাসসংক্রান্ত সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফিরতে পারবেন না। নেতানিয়াহু ও কাৎজ হেবরনে জেনিন শরণার্থীশিবিরের আদল প্রয়োগের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছেন: বাসিন্দাদের জোর করে সরানো, বাড়ি তল্লাশি, অস্ত্র জব্দ ও বুলডোজার দিয়ে সড়ক ভেঙে দেওয়া। জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, ব্যবস্থাগুলো শাস্তিমূলক ও ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া। সমষ্টিগত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং গোটা মহল্লা খালি ও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি জাতিগত নির্মূলের গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে বলে তিনি জানান। বাস্তুচ্যুত সবাইকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং বেআইনি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের জন্য ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের শুরু থেকে হতাহত বা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এমন দুই হাজারের বেশি বসতিস্থাপনকারীর হামলাও নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। আগের যেকোনো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।

    অভিযান এখনো চালানো উচিত কি না, তা নিয়ে সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। কান জানায়, চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির নেতৃত্বকে বলেছেন, অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়ার সামরিক যুক্তি আর নেই এবং সরিয়ে দেওয়া পরিবারগুলোকে ফিরতে না দেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জামির অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলে নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেনাবাহিনীর রোববারের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়, এলাকায় স্থাপনা ভাঙা হবে এবং বাড়িগুলো তল্লাশি করে সেনারা কোনো অস্ত্র পাননি। কানের বিবরণে প্রায় ৫০০ স্থাপনা তল্লাশি করে একটি রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে অস্ত্রের সংখ্যা আলাদা; পাওয়া বিবরণে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা নেই।

    নির্বাচনের দিনে গাজার যুদ্ধ

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে বলেন, সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি গুলি ও বিমান হামলায় ১১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের এক শিবিরে বিমান হামলায় হুসাম আল-জামলি, ২১, তামের আবু স্নেইমা, ২৪, এবং সাত বছরের এক মেয়ে নিহত হয়। পরে শিবিরে চতুর্থ একজনের মৃত্যুও নিশ্চিত হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এএফপিকে বলেছে, তারা প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর নিহতের বিষয়ে দুটি কর্তৃপক্ষ আলাদা হিসাব দিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর ১ হাজার ৫৫৯ জন নিহত ও ৫ হাজার ৬০৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ৭৪ হাজার ৫৫৫ জন। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন সোমবার জানায়, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে গেছে। ওই সময়ে কমিশনের নিজস্ব হিসাবে নিহত ১ হাজার ৪৩১ জন, যাঁদের অন্তত ৩০০ শিশু। কমিশনের ভাষ্য, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির রেখা বরাবর অন্তত নয়টি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণের এলাকা ৫৩ শতাংশ থেকে অন্তত ৬০ শতাংশে বাড়িয়েছে। ইসরায়েল প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অপতথ্য প্রচারের অংশ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখানে উদ্ধৃত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব সোমবার প্রকাশিত; এটি নির্বাচনের দিনের চূড়ান্ত প্রাণহানির হিসাব নয়।

    গণনার মধ্যে ইরান প্রসঙ্গ

    চ্যানেল ১২ রোববার জানায়, ইরানসংক্রান্ত অনির্দিষ্ট একটি সামরিক নির্দেশ পালনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছেন জামির। তিনি বিস্তারিত আলোচনা, আইনি নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সই চেয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রতিবেদনটিকে আবর্জনা বলে প্রত্যাখ্যান করে কোনো সংঘাতের কথা অস্বীকার করেন। সিএনএন সোমবার জানায়, নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটনকে চাপ দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সবুজসংকেত দেননি। হামলা হলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে জামিরের সতর্কতা ওয়াশিংটনের বিবেচনার বিষয়গুলোর একটি ছিল। নেতানিয়াহুর দপ্তর সিএনএনের খবরকে ভুয়া বলেছে। নির্বাচনের আগে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে মানেননি কাৎজ। মিডল ইস্ট মনিটর মঙ্গলবার জানায়, চ্যানেল ১২ ও ১৩ সোমবার সন্ধ্যায় এই বিরোধ নিয়ে আরও খবর প্রকাশ করেছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নির্বাচনে জিতলে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করবেন বলে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বলেছেন নেতানিয়াহু। চ্যানেল ১২ জানায়, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সোমবার লিকুদের আইনপ্রণেতাদের একত্র করার বৈঠক বাতিল করেন নেতানিয়াহু। সোমবার দেওয়া হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বক্তব্য হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালাবে না এবং অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

    বিরোধী নেতারা নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ইরানবিরোধ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। ইয়াইর লাপিদ লেখেন, শুধু নির্বাচন পিছিয়ে দিতে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছেন এবং তিনি বেসামাল হয়ে গেছেন। আইজেনকোট লেখেন, “নেতানিয়াহু, আমি আপনাকে দেখছি।” তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রাজনৈতিক খেলার হাতিয়ার নয়, তা বুঝতে অস্বীকার করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে চিঠি দেন আভিগদর লিবারম্যান। অন্যদিকে নেতানিয়াহু চ্যানেল ১৪-তে বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু করেছে। এখানে সেই সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবিই তুলে ধরা হচ্ছে। সোমবারের চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনার পর মঙ্গলবার তেহরানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী আলোচনাকে “খুব ভালো” বলেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে। সোমবার সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার হুতিদের দাবি সৌদি আরব এখনো নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে আঘাত করে আগুন ধরিয়েছে তারা। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাটি নিশ্চিত করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, শোধনাগারের টার্মিনালের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে তারা।

    এরপর কী

    • গণনা করা ফলের সঙ্গে এবার বুথফেরত জরিপ মিলবে। নির্বাচন কমিটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করার আশা করছে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করবে বুধবার, ৪ নভেম্বর। এত কাছাকাছি প্রাক্কলনে ৩.২৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটসীমার আশপাশের দল এবং নেসেটে গণনা করা দ্বৈত খামের ভোট আসনের চিত্র বদলাতে পারে।
    • প্রেসিডেন্ট হারজগ এরপর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। প্রথম মেয়াদ ২৮ দিন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন বাড়তে পারে। সরকার গঠিত না হলে দায়িত্ব অন্যের কাছে যায় অথবা আবার নির্বাচন হয়। অন্তর্বর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাজ করে।
    • প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেবরনে অভিযান চলবে। বিপরীতে সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করেছেন বলে খবর এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফিরতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান।
    • তেহরানের আলোচনা, অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ভোটগণনা থেকে আলাদা বিষয়।

    পটভূমি: ইসরায়েলের ভোটের আগে যুদ্ধ ও প্রচার

  • শিক্ষকেরা দাবিতে অনড়, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে লো পেন

    শিক্ষকেরা দাবিতে অনড়, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে লো পেন

    ফ্রান্সের শিক্ষকেরা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর বলেছেন, সরকারের শিক্ষা খাতের ছাড় আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ করবে না। নিরাপত্তা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মারিন লো পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরুর দুই দিন পর এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। ৩১ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ছবির ক্যাপশন: শিক্ষা আন্দোলনের একটি প্ল্যাকার্ডে বিদ্যালয়কে ভগ্নদশায় থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফাইল ছবি: FreCha, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • অরলেয়াঁয় ন্যাশনাল র‍্যালির সম্মেলনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন লো পেন। তিনি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ফেরানো, অপরাধী বিদেশিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন। জর্দান বারদেলা আবার দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁকে লো পেনের পছন্দ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
    • জুলাইয়ে আপিল আদালত তাঁর অর্থ আত্মসাতের দণ্ড বহাল রাখলেও সরকারি পদে থাকার কার্যকর নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ইতিমধ্যে ভোগ করা মেয়াদে আনে। কারাদণ্ডের মধ্যে এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারিতে কাটানোর বিধান রয়েছে। পরবর্তী আপিলের বিচার চলাকালে এর কার্যকর প্রয়োগ স্থগিত থাকতে পারে।
    • সরকারের সোমবারের প্যাকেজে কিছু উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৮-এ সীমিত করা, বিদ্যালয় সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো ঋণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ভর্তি পদ্ধতি বদলানোর কথা রয়েছে। বাজেটমন্ত্রী ব্যয় ৫০০ কোটি ইউরো বলেছেন। অন্য খাতে ব্যয় কমিয়ে তা সমন্বয় করা হবে।
    • শিক্ষার্থী নেতারা প্যাকেজকে প্রথম পদক্ষেপ বলেছেন এবং আন্দোলন চালানোর অঙ্গীকার করেছেন। পরবর্তী বিক্ষোভ শনিবার এবং দেশব্যাপী ধর্মঘট ৫ নভেম্বর হওয়ার কথা।

    অরলেয়াঁয় প্রচার শুরু

    অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন লো পেন: সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ফেরানো, অপরাধী বিদেশিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী ও মাদক পাচারকারীদের দমন। সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার আগে তিনি বলেন, “আমরা বলি, ‘আগে ভালো ছিল, আগামীকাল আরও ভালো হবে’।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ আমাদের।”

    অর্থনীতি নিয়ে তিনি ব্যয় সংযম, ব্যবসার কর কমানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। অবসরের বয়স আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করেন তিনি। ইউরোপের প্রশ্নে ফ্রান্সকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার কথা বলেননি। বরং ব্রাসেলসের প্রভাব কমানো, সীমান্ত ও আইনে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ফেরানো এবং বিদেশের যুদ্ধ থেকে ফ্রান্সকে দূরে রাখার কথা বলেছেন।

    সম্মেলনে নেতৃত্বের একটি স্থির জুটি তুলে ধরার আয়োজন ছিল। বারদেলা আবার ন্যাশনাল র‍্যালির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে লো পেনের পছন্দ বলা হয়। একটি ইহুদি শিক্ষার্থী ইউনিয়নের কর্মীরা তাঁর বক্তব্যে বাধা দেন। তরুণ বয়সে তিনি ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন, এমন অভিযোগের দিকে তাঁরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বারদেলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১১ সালে বাবা জ্যঁ-মারি লো পেনের কাছ থেকে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে দলটিকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন লো পেন। দলের ভাবমূর্তি নরম করা এবং অভিবাসনবিরোধী সমর্থকগোষ্ঠীর বাইরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো তাঁর প্রচেষ্টার অংশ।

    লো পেনের প্রচারের সামনে একটি অমীমাংসিত আইনি প্রক্রিয়াও রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্যারিসের একটি আদালত ২০২৫ সালের মার্চে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার দুই বছর স্থগিত। সঙ্গে ১ লাখ ইউরো জরিমানা এবং সরকারি পদে থাকার ওপর তাৎক্ষণিক পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৭ জুলাই প্যারিসের আপিল আদালত দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রেখে নিষেধাজ্ঞা ৪৫ মাসে নামায়, যার ৩০ মাস স্থগিত। বাকি ১৫ মাস তিনি ইতিমধ্যে ভোগ করেছিলেন। তাঁর কারাদণ্ড হয় তিন বছর, যার দুই বছর স্থগিত এবং এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারিতে কাটানোর কথা।

    তিনি কুর দ্য কাসাসিওঁতে আরও আপিলের ঘোষণা দেন। রায় নিয়ে লো মঁদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই আপিলের বিচার চলাকালে ইলেকট্রনিক নজরদারির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত থাকবে। নির্বাচনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা ও কারাদণ্ড কার্যকর করা দুটি আলাদা প্রশ্ন। প্রচারে শেষ পর্যন্ত কী বিধিনিষেধ থাকবে, তা ওই প্রক্রিয়ার ফলের ওপর নির্ভর করছে।

    ছাড় ও তার ব্যয়

    সেপ্টেম্বরে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় অবরোধ শুরু করেন। পরে সরকারি সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় শ্রমিক সংগঠন ও ইয়েলো ভেস্টের কর্মীরা। ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে সরকার ৭০ হাজার পুলিশ ও জঁদার্ম মোতায়েন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেছেন, পরবর্তী বিক্ষোভেও ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি থাকবে।

    সোমবার প্যারিসে শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৮-এ সীমিত করার অঙ্গীকার, বিদ্যালয় সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো ঋণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে শিক্ষার্থী অনুদান বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষায় আরও ১৫ হাজার আসন। শিক্ষার্থীরা যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতিকে সামাজিকভাবে অন্যায্য বলছেন, তা ২০২৮ সালের মধ্যে বদলানো হবে। ২০২৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের বিস্তারিত মানদণ্ড প্রকাশ এবং অনুরোধ পেলে প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থায় যে চাপ অনুভূত হচ্ছে, তা কমাতে হবে, এটা স্পষ্ট।” বাজেটমন্ত্রী দাভিদ আমিয়েল টিএফওয়ানকে বলেছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর ব্যয় ৫০০ কোটি ইউরো হতে পারে। অন্য খাতে ব্যয় কমিয়ে তা সমন্বয় করা হবে।

    ঋণ কমাতে বন্ডবাজারের চাপের মুখেও রয়েছে সরকার। ফলে ছাড়ের অর্থ জোগানোর সুযোগ সীমিত। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা লো পেনের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকা নির্বাচনের ফল নয়। আর শিক্ষা পরিবর্তনের সময়সূচি আসন্ন প্রচারের পরও বিস্তৃত।

    আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

    ছাড়গুলোকে শুরু হিসেবে নেওয়া হয়েছে, নিষ্পত্তি হিসেবে নয়। সোমবারের বৈঠকের পর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রতিনিধি লুই লেতুব্লোঁ বলেন, “আমাদের সব দাবি পূরণ হয়নি। যত দিন লাগে, আমরা চালিয়ে যাব।” শিক্ষার্থী নেতারা প্যাকেজকে ভালো প্রথম পদক্ষেপ বলেছেন এবং বিক্ষোভের সময়সূচিতে অনড় রয়েছেন।

    মঙ্গলবার শিক্ষক ইউনিয়ন এসএনইএস-এফএসইউর মহাসচিব সোফি ভেনেতিতে বলেছেন, আরও বেশি শ্রেণিকে শিক্ষার্থীসংখ্যার সীমার আওতায় আনতে হবে এবং আরও কর্মী নিয়োগ করতে হবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আজ মন্ত্রণালয় যা বলেছে, তা একটি জবাবের শুরু মাত্র।” তিনি আরও বলেন, “এতে ক্ষোভ নিভবে না।”

    ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করছেন। চেম্বার অব কমার্সের নেটওয়ার্ক সিসিআই ফ্রান্সের প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো বলেছেন, ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর সতর্কতা হিসেবে অনেক খুচরা বিক্রেতা দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। বিক্রি ব্যাপকভাবে কমেছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের দোকানিরা ক্লান্ত ও হতাশ, আর আমরা স্থানীয় বাণিজ্যকে মেরে ফেলছি।” মার্সেইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ স্বীকার করেছেন, ৫ নভেম্বরের বড় দেশব্যাপী কর্মসূচির আগে এই সপ্তাহান্তে আরও অস্থিরতা হতে পারে। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল রাখবেন এবং শহরকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ সরাতে কাজ করবেন।

    নুনেজ আরটিএলকে বলেছেন, শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি থাকবে। এর দুই সপ্তাহ আগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংসতা ও লুটপাটে গড়ায়। এরপর ফ্রান্সের কিছু এলাকায় কারফিউ ও বড় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আসে। শনিবার, ৩১ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হওয়ার কথা।

    এরপর যা হবে

    পরবর্তী বিক্ষোভের পরিকল্পনা ৩১ অক্টোবর, এরপর ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী কর্মসূচি। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষা প্যাকেজের ব্যয় সমন্বয় করতে কোথায় ব্যয় কমানো হবে, সরকারকে তা জানাতে হবে। প্রতিশ্রুত ভর্তি পদ্ধতির পরিবর্তন হওয়ার কথা ২০২৮ সালে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে। তখন ক্ষমতায় থাকা সরকারের ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

  • সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের যুদ্ধরত দুই পক্ষ, আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও সেনাবাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।এর মধ্যে ড্রোন হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। এল ফাশারের পতনের এক বছর পূর্তিতে ২৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। বেসামরিক মানুষকে অনাহারে রাখা ও তাঁদের ওপর যৌন সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ছবির ক্যাপশন: খার্তুমে নীল নদের ওপর এল মেক নিমির সেতুর ফাইল ছবি। এটি উপকেন্দ্রে প্রকাশিত হামলার স্থান নয়। ছবি: ক্রিস্টোফার মিশেল, CC BY 2.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে; আড়াআড়িভাবে কাটা।

    সংক্ষেপে

    • এল ফাশারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ঘোষিত প্যাকেজে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতাসহ নৃশংসতার সন্দেহ রয়েছে।
    • যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা। সংস্থাটি সব পক্ষের পরিকল্পিত অনাহার ও যৌন সহিংসতা নথিভুক্ত করেছে। এই সপ্তাহে সংস্থাটি জানিয়েছে, সুদানজুড়ে একই কৌশল এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।
    • সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়। মঙ্গলবার ওমদুরমানের একটি উপকেন্দ্রে হামলায় খার্তুমের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে।
    • চলতি বছরের শুরুর দিকে গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়, এল ফাশারের পতনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে পারত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বর্ষপূর্তিতে নিষেধাজ্ঞা

    উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশারের পতন ঘটে ১৮ মাসের অবরোধের পর। এই অবরোধে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ অনাহারের শিকার হন। শহরের পতনের পরের দিনগুলোতে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয় এবং নারী ও মেয়েদের ওপর ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালানো হয়। যাঁদের দায়ী মনে করে, তাঁদের নাম ঘোষণার জন্য যুক্তরাজ্য পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি বেছে নিয়েছে।

    তালিকায় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উদাহরণ হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। হুসেইন আবু জালাক আরএসএফের একজন কর্নেল। অবরোধের সময়কার নৃশংসতার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ পশুখাদ্য খেয়ে বাঁচতে বাধ্য হন। আল-কুব্বা নামে পরিচিত আল-নুর আহমেদ আদম শহর অবরোধ ও হামলায় উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় ১৫ জনের সবার ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। এর আগে যুদ্ধের অপরাধী ও তাঁদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্য পাঁচ দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

    তালিকার পেছনে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে কাজ করা তদন্ত সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদন। তাদের অনুসন্ধানে সংঘাতের উভয় পক্ষের মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অনাহার ও সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযান উঠে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে, “সুদানের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অনাহারকে এখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে”। তিনি এসব কাজকে “আমাদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলেছেন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে বাইরের সব সমর্থকের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন করে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় ৫০ লাখ পাউন্ড এবং মানবিক সহায়তায় ১ কোটি পাউন্ড। মানবিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাওইলার আশপাশের বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং এল ওবেইদে স্বাস্থ্যসেবা।

    এল ফাশারে এখনো আটকা বেসামরিক মানুষ

    যুদ্ধের আগে এল ফাশারে ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস ছিল। শহরে কাজ করা মানবিক সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এখন ৭০ হাজারের কম মানুষ রয়েছেন। দখলের সময় কতজন নিহত হয়েছেন এবং এখনো কতজন নিখোঁজ, সেই হিসাব অনিশ্চিত।

    যাঁরা রয়ে গেছেন, শহরের পতনের মধ্য দিয়ে তাঁদের অবরোধ শেষ হয়নি। অ্যামনেস্টির অক্টোবরের প্রতিবেদনে এল ফাশারে নির্বিচার আটক, নির্যাতন ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড চলার বিবরণ রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাসিন্দারা আরএসএফের নজরদারিতে রয়েছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ফেরার জন্য এল ফাশার নিরাপদ বলে আরএসএফের দাবি “সত্য থেকে সম্পূর্ণ দূরে”। তদন্তকারীদের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও একই পরিস্থিতি উঠে এসেছে। সিআইআরের ভিডিওতে আরএসএফ যোদ্ধাদের এল ফাশারের পানি সরবরাহ বন্ধ এবং ব্যবসায়ীদের খাদ্য আনতে বাধা দেওয়া নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। শহরটিকে অনাহারে রাখা অবরোধ শেষ হওয়ার এক বছর পরও এই আলোচনা চলছে।

    যে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল

    চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এল ফাশারের পতনের আগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় দুই যুদ্ধরত পক্ষই রয়েছে। তবে এল ফাশারে হামলা চালিয়েছিল আরএসএফ।

    নিষেধাজ্ঞায় ভ্রমণ বন্ধ এবং ব্রিটিশ আইনের আওতায় থাকা সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। ১৫ কমান্ডারের কারও এমন সম্পদ আছে কি না, যা বাস্তবে জব্দ হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা হয়নি।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাজারে ড্রোন হামলা

    সর্বশেষ ড্রোন হামলাগুলো বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও একটি বাজারে আঘাত হেনেছে। নিষেধাজ্ঞায় যে শহরের পতন স্মরণ করা হচ্ছে, তার বাইরেও এই হামলা হয়েছে। পৃথক হামলাগুলোর দায় নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

    সুদান ইলেকট্রিসিটি হোল্ডিং কোম্পানির হিসাবে, সোমবার সিঙ্গা, আল-হাওয়াতা, আল-ফাও, মাশকুর ও আল-জুনাইদের পাঁচটি উপকেন্দ্র ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেন্নার, গেদারেফ, হোয়াইট নাইল ও গেজিরা রাজ্যজুড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রিড বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সিঙ্গা উপকেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষীরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে বলেছেন, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর-পশ্চিম ওমদুরমানের আল-মারখিয়াত উপকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত করে। এতে খার্তুমের বড় অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়। সকাল গড়ানো পর্যন্ত মঙ্গলবারের হামলা কারা করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছিল না। কোম্পানি সোমবারের পাঁচ হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। সুদানের কর্তৃপক্ষ বারবার বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জন্য আরএসএফকে অভিযুক্ত করেছে। একই কোম্পানির একটি সূত্র পরে এএফপিকে বলেছে, আরএসএফের ড্রোন আল-মারখিয়াত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আরএসএফ এমন অভিযোগে সচরাচর মন্তব্য করে না। তাদের বক্তব্য, তারা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে।

    সোমবার রাতে দক্ষিণ দারফুরে আরএসএফের কার্যত রাজধানী নিয়ালার একটি বাজারে পৃথক হামলা হয়। নিয়ালা হাসপাতালের একজন চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে বলেছেন, ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আরএসএফ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা আরএসএফের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করেছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা, চিকিৎসাকর্মী তা বলতে পারেননি। প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব, বেসামরিক মৃত্যুর চূড়ান্ত মোট নয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর শুধু অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে। এসব হামলার জন্য দুই বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে কাজ করা তদন্তকারীরা এই ধরনকে অবরোধের একই কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করছেন: বেসামরিক অবকাঠামো ও মানবিক কার্যক্রমে ড্রোন হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে ত্রাণে বাধা দেওয়াকে নিয়মিত যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এরপর যা হবে

    নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী মাপকাঠি হলো কার্যকর প্রয়োগ এবং অন্য সরকারগুলো একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না। মিলিব্যান্ড আরএসএফ ও এসএএফকে ত্রাণবহরে হামলা বন্ধ করে মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছাতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উপকেন্দ্রগুলোতে হামলার পর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ফিরছে কি না, তার ওপরও জরুরি সেবা পাওয়া নির্ভর করবে।

  • বাংলাদেশের গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে

    বাংলাদেশের গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে

    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর বেলা প্রায় ১২টা ৪৩ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে পূর্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ সচিবালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বিচারকাজ চলতে থাকা একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই ঘণ্টায় জাতীয় উৎপাদন ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট কমে, যা দুপুরে উৎপাদিত বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। কারণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    ছবির ক্যাপশন: সন্ধ্যায় ঢাকার মালিবাগের ফাইল ছবি। এটি ২৭ অক্টোবরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ছবি নয়। ছবি: Sharminsumona, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, বেলা প্রায় ১২টা ৪৩ মিনিট থেকে মতিঝিল, গুলশান, রামপুরা ও মগবাজারসহ পূর্ব ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
    • দুপুর ১২টায় উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট, বেলা ১টায় তা ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে নামে। ওই ঘণ্টায় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ এবং কয়লাভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে। বেলা ৩টায় উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াট।
    • ট্রাইব্যুনাল আধঘণ্টা অপেক্ষার পর দিনের কার্যক্রম স্থগিত করে। একজন প্রসিকিউটর বলেছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগে কখনো বন্ধ হওয়ার কথা তাঁর মনে নেই।
    • বিদ্যুৎ বিভাগ বিপর্যয়কে কারিগরি ত্রুটি বলেছে। তাদের বক্তব্য, বিকেল গড়ানোর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরেছিল এবং অন্যত্র কাজ চলছিল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন সদস্য রাত ১০টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

    বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ

    পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, পূর্ব ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। বিদ্যুৎহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও ছিল: বাংলাদেশ সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিদ্যুৎ হারায়। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ চালু ও স্বাভাবিক ছিল।

    ট্রাইব্যুনালে বিভ্রাট বিচারকার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না ফিরলে আদালত কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দিনের বাকি সময় না বসার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ হওয়ার পূর্ববর্তী কোনো ঘটনা তাঁর মনে পড়ছে না।

    এক ঘণ্টায় উৎপাদনের বড় পতন

    পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ঘণ্টাভিত্তিক পরিসংখ্যানে বিপর্যয়ের মাত্রা পাওয়া যায়, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করেছে। দুপুর ১২টার ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট থেকে বেলা ১টায় উৎপাদন ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে নামে। এক ঘণ্টায় কমে ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বড় কয়েকটি কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ৪ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট থেকে ১ হাজার ৭৩৪ মেগাওয়াটে নামে। কমে ২ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট, প্রায় ৬০ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক উৎপাদন ৪ হাজার ৮৬৩ থেকে ২ হাজার ৯৪৭ মেগাওয়াটে নামে। কমে ১ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট, প্রায় ৩৯ শতাংশ। দুই জ্বালানি মিলিয়ে ওই ঘণ্টার উৎপাদন হ্রাসের ৪ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াটের হিসাব পাওয়া যায়। বেলা ৩টায় উৎপাদন বেড়ে ১০ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াট হয়েছিল। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য তখন ওই সময়ের পর আর হালনাগাদ হয়নি।

    প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকাকে বিপর্যয়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই বিবরণে পুরো কারিগরি ঘটনাক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ ও নিশ্চিত তালিকা তখনো পাওয়া যায়নি। উৎপাদন কমার হিসাব হারানো বিদ্যুৎ উৎপাদন বোঝায়; এটি নিজে থেকে কোন যন্ত্রাংশে ত্রুটি হয়েছে বা কী কারণ, তা প্রমাণ করে না।

    সকাল ১১টায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাহিদা ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট ও উৎপাদন ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বলেছিল। ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। আগের ওই ঘাটতির সঙ্গে পরের বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠা করেননি। এসব পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সম্পূর্ণ রিজার্ভ মার্জিন মাপে না বা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না।

    সকালে মন্ত্রীর বক্তব্য

    ওই দিন সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বুয়েটের রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্টে বক্তব্য দেন। তিনি বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা ও ভর্তুকি দিয়ে বিক্রির কথা বলেন। অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বদলালে ব্যাংক খাতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন। বিভিন্ন উৎসের উৎপাদন যুক্ত করতে গ্রিড আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এসব নীতিগত উদ্বেগ বিকেলের বিভ্রাটের কারণ প্রতিষ্ঠা করে না।

    এরপর যা হবে

    বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনাকে কারিগরি ত্রুটি হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরেছে এবং অন্যত্র পুনরুদ্ধার চলছিল। পরে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি নিয়ে সংবাদে বলা হয়, বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরুদ্ধার শেষ হয়েছিল। সঞ্চালন সংযোগ ফেরানো ও উৎপাদন পুনরুদ্ধার ভিন্ন মাপকাঠি। কোনোটিই একা প্রত্যেক গ্রাহকের স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করে না।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম এর আগে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, বিবিয়ানা-৩ ও আরএনপিএল ইউনিট-১সহ কেন্দ্রগুলো ফিরছিল। রাত ১০টার মধ্যে সরবরাহ স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেটি প্রত্যাশা ছিল, নিশ্চিত পুনরুদ্ধারের সময় নয়। তা মূল্যায়নে পরবর্তী উৎপাদন ও গ্রাহকসেবার তথ্য প্রয়োজন।

    ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর ও ২০১৪ সালের ১ নভেম্বরও বাংলাদেশে বড় গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। এসব পূর্বঘটনা প্রমাণ করে না যে সর্বশেষ ঘটনার কারণও একই। সঞ্চালনব্যবস্থা পরিচালনাকারী পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিকে তদন্তের মাধ্যমে কারিগরি ঘটনাক্রম নির্ধারণ করতে হবে।

  • ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতায় প্রবৃদ্ধিতে চাপ, বৈদেশিক হিসাবে স্বস্তি প্রবাসী আয়ে

    ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতায় প্রবৃদ্ধিতে চাপ, বৈদেশিক হিসাবে স্বস্তি প্রবাসী আয়ে

    ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কারণে ঋণ ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের প্রায় অর্ধেক। এই চিত্রের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে। প্রবাসী আয় বৃহত্তর বৈদেশিক হিসাবে সহায়তা করে, তবে পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি নিজে থেকে কমায় না।

    ছবির ক্যাপশন: রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ফাইল ছবি, পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন। ছবি: আবু নাঈম, CC BY 3.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • বিশ্বব্যাংকের হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও একই হারের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সরকারের লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশের বিপরীতে আইএমএফের পূর্বাভাস ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ।
    • ব্যাংকব্যবস্থায় তীব্র সংকট রয়েছে। জুনে মোট ঋণের ৩৩.২ শতাংশ খেলাপি হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকব্যবস্থার মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক ন্যূনতম হার ১০ শতাংশ। জুনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের সর্বনিম্ন।
    • এশিয়ান এজের প্রতিবেদনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ব্যাংক পুনর্গঠনে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ, আনুমানিক ৬ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বাজেটে বরাদ্দ ৪০ হাজার কোটি টাকা, ওই অঙ্কের ১৫ ভাগের এক ভাগ।
    • জুলাইয়ে আমদানি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ এবং রপ্তানি হয়েছে ৪৩৫ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাসে পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি ছিল ২০৯ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় বৈদেশিক লেনদেনের অর্থ জোগাতে সহায়তা করে। এটি রপ্তানি আয় বা ওই বাণিজ্যঘাটতির হ্রাস নয়।

    লক্ষ্যের নিচে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

    ঋণদাতা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসে ব্যবধান রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অক্টোবরের হালনাগাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও একই হার এবং পরের বছর ৩.৯ শতাংশে পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস রয়েছে। এগুলো বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন ও পূর্বাভাস, চূড়ান্ত জাতীয় হিসাবের বিকল্প নয়। অক্টোবরে প্রকাশিত আইএমএফের পূর্বাভাসের সংবাদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ বলা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

    আইএমএফের প্রকাশিত গতিপথে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশে নামার পর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে প্রায় ৩ শতাংশে ফেরার কথা রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। একটি মাসের বছরওয়ারি হার এবং পুরো বছরের গড় পূর্বাভাস ভিন্ন সময়কে বোঝায়। পরেরটি প্রতি মাসে ধারাবাহিক বৃদ্ধি হওয়ার পূর্বাভাস নয়। বিশ্বব্যাংকও দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার কথা জানিয়েছে।

    ব্যাংক খাতের সংকট

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনের বরাত দেওয়া এশিয়ান এজের বিবরণে ব্যাংক খাতকে সবচেয়ে তীব্র ঝুঁকি বলা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকব্যবস্থার মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ, নিয়ন্ত্রক ন্যূনতম হার ১০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও কঠোরভাবে তথ্য প্রকাশের ফলে মন্দঋণের ব্যাপকতা সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২০.২ শতাংশের তুলনায় ২০২৬ সালের জুনে পুরো ব্যাংকব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩৩.২ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যাংকের শ্রেণিভেদে অনুপাত আলাদা: ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ৫৮.৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩.২ শতাংশ।

    সবচেয়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুনের মধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে জামানত ছাড়া ৭৬ হাজার কোটি টাকা, প্রায় ৬২০ কোটি ডলার তারল্য সহায়তা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, নিয়ন্ত্রক ছাড় ও বারবার সহায়তা অব্যাহত থাকলে হিসাবের স্থিতি ঠিক করার কাজ বিলম্বিত হতে পারে এবং ব্যাংকব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    প্রতিবেদনের প্রাক্কলন, ব্যাংক পুনর্গঠনে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ, আনুমানিক ৬ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা ওই প্রাক্কলনের ১৫ ভাগের এক ভাগ। এই তুলনা প্রমাণ করে না যে পুরো পুনর্গঠনের খরচ এক বছরের বাজেট থেকেই মেটাতে হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৬.০৩ শতাংশে এবং জুনে ৪.৫ শতাংশে নেমেছে। শেষের হারটি ৩৩ বছরের সর্বনিম্ন, যা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের অর্থায়ন সীমিত করছে।

    বাণিজ্যঘাটতি ও প্রবাসী আয়ের সহায়তা

    প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুলাইয়ে আমদানি ছিল ৬৪৪ কোটি ডলার, আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৮.৬ শতাংশ বেশি। রপ্তানি ছিল ৪৩৫ কোটি ডলার। পার্থক্য ২০৯ কোটি ডলারের পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি। প্রবাসী আয় লেনদেনের ভারসাম্যের অন্য অংশে নথিভুক্ত হয়। পণ্যবাণিজ্যের ওই ঘাটতি না বদলিয়েও এটি চলতি হিসাব ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহের ওপর চাপ সামলাতে পারে। বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদে শক্তিশালী প্রবাসী আয় ও উন্নত রিজার্ভকে বৈদেশিক খাতের অভিঘাত সামলানোর উৎস বলা হয়েছে।

    জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রক্ষেপণ ও প্রধানমন্ত্রীর জিডিপির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এখনকার প্রাপ্তি নয়। ব্যাংক পুনর্গঠন, জ্বালানি সরবরাহ ও ঋণপ্রাপ্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ করার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। পাঁচ বছরের বেসরকারি বিনিয়োগের প্রক্ষেপণকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা বা ব্যাংকের হিসাবের স্থিতি ঠিক করতে ইতিমধ্যে পাওয়া অর্থ হিসেবে ধরা যায় না।

    এরপর যা হবে

    পরবর্তী তথ্য আসবে ঋণ, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের হিসাব এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমাধানে অর্থায়ন নিশ্চিত করা পরিকল্পনা থেকে। আইএমএফের কর্মসূচির পরবর্তী পর্যালোচনায় নীতিগত অঙ্গীকারও স্পষ্ট হবে। ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন বিবেচনাধীন। বাণিজ্যসুবিধার অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বাজারভেদে আলাদা; সবগুলোর জন্য ওই তারিখ নির্ধারণ করা যায় না।

  • বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল বাংলাদেশ-জাপান, ঋণ আলোচনা এখনো খোলা

    বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল বাংলাদেশ-জাপান, ঋণ আলোচনা এখনো খোলা

    ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের পর পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েনের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে দুই দেশ। নেতারা শিল্প অংশীদারত্বও উন্নীত করেছেন এবং সহযোগিতার পাঁচটি দলিলে সই করেছেন। সফরের আগে কর্মকর্তারা যে ঋণ প্যাকেজের কথা বলেছিলেন, প্রকাশিত শীর্ষ বৈঠকের বিবরণে তা ঘোষণা করা হয়নি। সফর চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

    ছবির ক্যাপশন: একটি কর্মশালায় পোশাক সেলাই করছেন কর্মীরা। ফাইল ছবি: Kroisenbrunner, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে যৌথ বিবৃতি দেন। এতে পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন, প্রায় ৬৩৪ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
    • দুই দেশ তাদের বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে “বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি”তে উন্নীত করেছে। মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়াই এর মূল বিষয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশ নিয়ে সহযোগিতার পাঁচটি দলিলে সই হয়েছে।
    • ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
    • তারেক রহমান একটি যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশন ও বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্কের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতি হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।

    কানতেইয়ে শীর্ষ বৈঠক

    তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ বৈঠক হয়। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়াতে তারেক রহমানের প্রশাসনের চেষ্টার প্রশংসা করেন তাকাইচি। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন, প্রায় ৬৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে তিনি স্বাগত জানান। এই উপলক্ষে বড় বিনিয়োগ ঘোষণাকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে পরিপূরক ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম সরবরাহব্যবস্থা গড়ার বিষয়েও তাঁরা একমত হন।

    বেসরকারি বিনিয়োগের এই প্রক্ষেপণ রাষ্ট্রীয় ঋণ বা কোম্পানিগুলোর বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নয়। বৈঠকের আগে কর্মকর্তারা প্রায় ২০০ কোটি ডলার জাপানি ঋণ ও আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশা করেছিলেন। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা। শীর্ষ বৈঠকের বিবরণে এর কোনোটিকেই সই হওয়া প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওই বিবরণে না থাকা মানে জাপান এগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তা নয়। আর বেসরকারি বিনিয়োগকে রাষ্ট্রীয় ঋণ থেকে বিয়োগ করা বা তার বিকল্প হিসেবে ধরা যায় না।

    সই হয়েছে সহযোগিতার পাঁচটি দলিল, চারটি সমঝোতাপত্র ও একটি অভিপ্রায়পত্র। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র হয়েছে। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যথাক্রমে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি সমঝোতাপত্র হয়েছে। পরিবেশ নিয়ে দুই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতাপত্র এবং জাপানের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ব্যুরোর সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি অভিপ্রায়পত্র হয়েছে।

    কেন্দ্রে মাতারবাড়ী

    এই দলিলগুলোর বৃহত্তর কাঠামো হলো দুই দেশের প্রধান উদ্যোগ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে “বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি”তে উন্নীত করা। উন্নীত উদ্যোগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে যুক্ত করে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খল এবং বাণিজ্য ও সরবরাহের প্রবেশপথ গড়ার কথা রয়েছে। এর কেন্দ্র ভৌগোলিক: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে বড় পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্রে গড়তে দুই দেশ কাজ করবে। বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করতে তারা সম্মত হয়েছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি এগোনো এবং ঢাকার মেট্রোরেল লাইনগুলোর নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতারা একমত হন।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ফেব্রুয়ারিতে সই হলেও এখনো কার্যকর হয়নি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তার জন্য এই ধাপ দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

    ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন। উত্তরণ ঘটলে একই দিনে সব বাণিজ্যসুবিধা শেষ হয় না। বাজার ও ব্যবস্থাভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধার শর্ত আলাদা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নির্দেশনায় উত্তরণের তারিখ থেকে এসব ব্যবস্থা আলাদা করে দেখা হয়েছে।

    বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ বেড়েছে। সংবাদে উদ্ধৃত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জাপানের অংশ ছিল ৩.২৫ শতাংশ। মোট ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে জাপানে গেছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের পুরো অর্থবছরে জাপানের অংশ ছিল ২.৯৩ শতাংশ। হিসাবগুলো ভিন্ন দৈর্ঘ্যের সময়ের, সরাসরি বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির হার নয়।

    জ্বালানি ও প্রস্তাব

    তারেক রহমানের বক্তব্যজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় ছিল। পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫ হাজার কোটি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য তিনি জাপানকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ চান তিনি। সফরের প্রথম দিন সোমবার চিবায় জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করেন তিনি। বাংলাদেশের সারশিল্প আধুনিকায়ন ও নবায়নযোগ্য প্রকল্পে বিনিয়োগ চাইতে মারুবেনির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    তাঁর দুটি কাঠামোগত প্রস্তাব ছিল অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা দ্রুত করতে যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশন এবং জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিকর্মীদের যুক্ত করতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক। শীর্ষ বৈঠকের সংবাদে কোনোটিকেই গৃহীত হিসেবে দেখানো হয়নি। দুটিই আলোচনায় দেওয়া প্রস্তাব। এগুলোর উদ্দেশ্য তুলে ধরতে তিনি নিজের ভাষায় বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতি হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়াতে পারে।”

    সফরে রোহিঙ্গা বিষয়ও তুলেছেন তারেক রহমান। সোমবার তারো আসোর নেতৃত্বাধীন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তিনি বিষয়টি তোলেন। বিভিন্ন রাজধানীতে ঢাকা যে প্রত্যাবাসনের দাবি জানায়, সেটিই তুলে ধরেন তিনি। শীর্ষ বৈঠকের প্রকাশিত বিবরণে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই কেন্দ্রে রয়েছে।

    এরপর যা হবে

    সফর চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ হলো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিনিয়োগ ঘোষণা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ করা এবং উন্নীত বিগ-বি উদ্যোগের প্রকল্প। পরে কোনো ঋণ চুক্তি হলে তার পরিমাণ, ঋণগ্রহীতা, শর্ত ও সইয়ের তারিখ আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

  • ভারতের ইয়ানাম উপকূলে অর্ণবের আঘাত হানার সময় এগিয়েছে

    ভারতের ইয়ানাম উপকূলে অর্ণবের আঘাত হানার সময় এগিয়েছে

    ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাব্য সময় এগিয়ে ২৮ অক্টোবরের প্রথম প্রহরে এনেছে। আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বাতাসের গতিও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের ২৭ অক্টোবরের ভোরের বুলেটিনে চার বন্দরে সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়।

    ছবির ক্যাপশন: কক্সবাজারের সৈকতের ফাইল ছবি, ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান পরিস্থিতি নয়। বাংলাদেশের ২৭ অক্টোবর ভোরের বুলেটিনে কক্সবাজারসহ চার বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছিল। ছবি: তারেক উদ্দিন আহমেদ, CC BY 2.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অবস্থান করায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
    • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর রাত ৩টায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র চট্টগ্রামের ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল। সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার, দমকায় ১৫০ কিলোমিটার। উত্তর বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।
    • ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সময় রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ইয়ানামের কাছে ও দক্ষিণে স্থলভাগে আঘাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাতাসের একটানা গতি ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকায় ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে। সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা পরিবর্তনশীল হিসাব, চূড়ান্ত মোট নয়।
    • বাংলাদেশ সম্ভাব্য স্থলভাগে আঘাতের এলাকার বাইরে থাকলেও উত্তাল সাগর ও বৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন আবহাওয়াবিদের আগের পূর্বাভাসে বুধ ও বৃহস্পতিবার উপকূলে এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রাজশাহীতে হালকা বৃষ্টির কথা বলা হয়েছিল।

    বন্দরে সতর্ক সংকেত

    মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা, চার সমুদ্রবন্দরকেই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়। রাতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার ভোরে অর্ণব অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

    রাত ৩টায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৫.৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মোংলা ও পায়রা, উভয় বন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১৮ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ায় ১৫০ কিলোমিটারে উঠছিল। কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরের সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় চলতে বলা হয়েছে।

    ৩ নম্বর সংকেত বন্দরে ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা। এর অর্থ সাগরের পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। সোমবার দুপুরে বন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ছিল। ওপরের অবস্থান ও বাতাসের তথ্য বাংলাদেশের রাত ৩টার বুলেটিনের, ২৭ অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান নয়।

    অন্ধ্রের দিকে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ

    ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সময় রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের উপকূলীয় বুলেটিনে বলা হয়েছে, অর্ণব ২৮ অক্টোবর রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে, ইয়ানামের কাছে ও দক্ষিণে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। বুলেটিন অনুযায়ী, দ্রুত এগোনোর কারণে সম্ভাব্য সময় এগিয়ে এসেছে। আঘাত হানার সময় সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকায় ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

    বুলেটিনে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন উপকূলীয় অংশে স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার ওপর ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার এবং গোদাবরীর মোহনার কাছে ২ থেকে ৩.৫ মিটার জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি, কম দৃশ্যমানতা ও বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। এগুলো পূর্বাভাস, ইতিমধ্যে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ নয়।

    বাংলাদেশ এই গতিপথের বাইরে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান পথ অন্ধ্র উপকূলের দিকে, যা বাংলাদেশে সরাসরি প্রভাব কম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ভারতে অর্ণব স্থলভাগে আঘাত হানার পর বুধ ও বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উপকূলে এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

    অন্য উপকূলে সরিয়ে নেওয়ার কাজ

    যে উপকূলের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি যাচ্ছে, সেখানে ব্যাপকভাবে মানুষ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন রয়টার্সকে বলেছেন, সোমবার রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছিল। আনুমানিক ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। জৈন বলেন, “সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।” প্রাথমিক হিসাবে, ১৬ জেলার ২ হাজার ৪৬০টি রাজস্ব গ্রাম ও ৯২টি শহরাঞ্চল সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের পথে রয়েছে। ১ হাজার ৭৬৩টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং ১১টি উচ্চঝুঁকির জেলায় জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছিল। রাজ্যের পৃথক হিসাবে প্রায় ৮৯ হাজার মানুষের জন্য ১০১টি ত্রাণশিবির প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়।

    অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু সোমবার কর্মকর্তাদের ঘূর্ণিঝড় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ নিচু এলাকা থেকে মানুষ সরানোর নির্দেশ দেয় এবং কিছু জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বন্ধ করে। সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয় এবং বিশাখাপত্তনমে কমলা সতর্কতা বহাল ছিল। সেখানে ইতিমধ্যে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।

    ঘূর্ণিঝড়ের দক্ষিণ পাশে থাকা শ্রীলঙ্কায় মুষলধারে বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতায় বিদ্যালয় বন্ধ করা হয় এবং সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত হানার এলাকার বাইরেও বৃষ্টি ও স্থানীয় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

    এরপর যা হবে

    গতিপথ, বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বন্দরের সংকেত বদলের ক্ষেত্রে আইএমডি ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনই কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা। প্রথম প্রহরের সময়সীমা একটি পূর্বাভাস, স্থলভাগে আঘাত হানার নিশ্চিত খবর নয়। পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে মানুষ সরানো ও স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতির খবর আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশের বাইরে স্থলভাগে আঘাতের পূর্বাভাস দেখে নিরাপদ মনে না করে মাছ ধরার নৌযানের কর্মীদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

  • স্মার্টফোন ও শৈশব: ঘুম, মনোযোগ ও বন্ধুত্বে কী প্রভাব পড়ছে

    স্মার্টফোন ও শৈশব: ঘুম, মনোযোগ ও বন্ধুত্বে কী প্রভাব পড়ছে

    রাত ক্রমেই গভীর হচ্ছে। চারদিকে নীরবতা, কিন্তু স্মার্টফোনের স্ক্রিন তখনো জ্বলছে। একটি ভিডিও শেষ হতে না হতেই শুরু হচ্ছে আরেকটি। রিলের ফাঁকে আসছে মেসেজ ও নোটিফিকেশন। ‘আরেকটু দেখেই ঘুমাব’—ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত গড়িয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না।

    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়। ক্লাসে মন বসে না, সারাদিন ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ থাকে। পড়াশোনা বা অন্য কাজে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন অভিজ্ঞতা অনেক পরিবারের কাছেই পরিচিত।

    স্মার্টফোন এখন শিশু-কিশোরদের পড়াশোনা, বিনোদন ও বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি শেখা, সৃজনশীলতা প্রকাশ এবং দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঘুম, মনোযোগ ও সামাজিক সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আইসিটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন সময়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের ৫৯.২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান শিশুদের আলাদাভাবে দেখায় না, তবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার সম্পর্কে ধারণা দেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে উৎপাদনশীলতায় এবং ২২ শতাংশ পড়াশোনার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলেছেন। তবে এগুলো অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব মূল্যায়ন; এসব তথ্য একা প্রমাণ করে না যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সমস্যাগুলোর কারণ।

    সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব

    স্মার্টফোনের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নিজেদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সহজ হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই জরিপে ৭৪ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাঁদের বন্ধুদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে তাঁরা কখনো কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে বাদ পড়ার অনুভূতি পান। অর্থাৎ, অনলাইন যোগাযোগে সংযোগ ও চাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই থাকতে পারে।

    বাংলাদেশেও অনলাইনে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৫ সালের ইউ-রিপোর্ট জরিপে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যকে মানসিক চাপের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রায় এক-সপ্তমাংশ বুলিং ও নেতিবাচক মন্তব্যের কথা বলেন। আরও ১৪ শতাংশ ক্ষতিকর বা মন খারাপ করা কনটেন্টকে মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    শিশু মনোবিজ্ঞানী ও প্লে থেরাপিস্ট মোস্তাক আহমেদ ইমরান দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনে বলেন, ছোট শিশুদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিন যদি মানুষের সঙ্গে সাড়া-প্রতিক্রিয়ামূলক যোগাযোগের জায়গা নিয়ে নেয়, তাহলে কথা বলার বিকাশে বিলম্ব ও সামাজিকভাবে গুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে সব স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুর এমন সমস্যা হয় না। ঝুঁকি বাড়তে পারে যখন ডিভাইস সরাসরি যোগাযোগ, খেলাধুলা ও পারিবারিক মেলামেশার বিকল্প হয়ে ওঠে।

    অভিভাবকদের অভিজ্ঞতাতেও বিষয়টি উঠে এসেছে। দুই সন্তানের মা ফাতেমা আক্তার সুইটি একই প্রতিবেদনে জানান, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের পর তাঁর বড় ছেলের বাইরে খেলতে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তিনি বলেন, বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে ছেলে নানা অজুহাত দেখায়। অন্যদিকে, ভিডিও দেখে সে রঙের নামও শিখেছে। তাই তিনি স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ও কনটেন্টের ওপর নজর রাখেন। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই থাকতে পারে।

    ঘুম

    ঘুমের সময় স্মার্টফোন ব্যবহার দৈনন্দিন রুটিনকে প্রভাবিত করতে পারে। শোয়ার আগে ভিডিও দেখা বা মেসেজের উত্তর দিতে গিয়ে ঘুমানোর সময় পিছিয়ে গেলে পরদিন ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাতের নোটিফিকেশন এবং একের পর এক ভিডিও দেখার অভ্যাসও সময়মতো ঘুমাতে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে ৪৫ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিজেদের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ৯–১২ ঘণ্টা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শেখা, মনোযোগ, আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে সিডিসি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার মতো অভ্যাসের পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের পরামর্শে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা এবং রাতে ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

    ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, রাতে ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখা এবং পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের নিয়ম চালু করা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

    মনোযোগ

    পড়াশোনার মাঝখানে বারবার নোটিফিকেশন দেখা বা নতুন ভিডিও খুলে ফেলা মনোযোগের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিছুক্ষণ ফোন দেখার পর বইয়ে ফিরে এলেও আগের কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগতে পারে। ফলে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজে সময় ভাগ করে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস অব সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনের ২০২৪ সালের Social Media and Adolescent Health প্রতিবেদন বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর বৈশিষ্ট্য কিশোরদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা, তা নির্ধারণ করা কঠিন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের ধরন এবং ব্যক্তিভেদে অভিজ্ঞতার পার্থক্যও বিবেচনায় নিতে হয়।

    তাই স্মার্টফোন ব্যবহার মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং দেখতে হবে, ফোন ব্যবহারের কারণে শিশু নিয়মিত পড়াশোনা, ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না।

    বয়স অনুযায়ী ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ, পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি নেওয়া মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি বই পড়া, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও হাতে-কলমে কাজের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

    অতিরিক্ত ব্যবহার

    কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, শুধু তা দিয়ে সমস্যার মাত্রা বোঝা যায় না। ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, এর কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া এবং অন্য কার্যক্রমের জায়গা ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসাও বিবেচনায় নিতে হয়।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে ৪৫ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী বলেছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। একই জরিপে ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমিয়েছেন। সমান সংখ্যক কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোনের ব্যবহার কমানোর কথাও বলেছেন। অর্থাৎ, অনেকে নিজেদের ব্যবহারের ধরন নিয়ে ভাবছেন এবং পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও কানাডার ৪৪টি দেশ ও অঞ্চলের ১১, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সমস্যাজনক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের লক্ষণ থাকা কিশোর-কিশোরীর হার ২০১৮ সালের ৭ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১১ শতাংশে ওঠে।

    প্রতিবেদনে সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, অন্য কাজের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। এটি ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও কানাডার তথ্য।

    সামাজিক মনোবিজ্ঞানী জোনাথন হাইট তাঁর The Anxious Generation বইয়ে স্বাধীনভাবে খেলাধুলা ও সরাসরি মেলামেশার সুযোগ কমে যাওয়া এবং ফোনকেন্দ্রিক শৈশবের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা, ঘুমের ঘাটতি ও মনোযোগে বারবার ব্যাঘাত শিশু-কিশোরদের সুস্থতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

    তবে গবেষকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিসের ২০২৪ সালের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান গবেষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কিশোরদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের একক কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। কিছু কিশোর অনলাইনে ক্ষতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেও অন্যরা বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

    অভিভাবকেরা কী করতে পারেন?

    বিডি গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে (McMaster University) স্বাস্থ্য গবেষণা পদ্ধতিবিদ্যায় (Health Research Methodology) পিএইচডি গবেষণারত তাসলিমা চৌধুরী সুন্না বলেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে শিশুদের খেলাধুলা ও বাইরের পরিবেশে সময় কাটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

    তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সন্তান কী ধরনের গেম খেলছে, ইন্টারনেটে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের অনলাইন অভিজ্ঞতা বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মার্টফোনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, তথ্য সংগ্রহ, সৃজনশীল কাজ এবং দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগে প্রযুক্তি কাজে আসে। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

    অভিভাবকেরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন:

    • শিশুর বয়স, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করুন।
    • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
    • পড়াশোনা, পারিবারিক খাবার ও একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন দূরে রাখুন।
    • বাইরে খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার সুযোগ বাড়ান।
    • অনলাইনে শিশু কী দেখছে ও কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তা নিয়ে দোষারোপ না করে খোলামেলা আলোচনা করুন।
    • কোনো ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা বা অনলাইন হয়রানির শিকার হলে যেন শিশু নির্ভয়ে জানাতে পারে, এমন পরিবেশ তৈরি করুন।
    • পরিবারের বড়রাও নিজেদের ফোন ব্যবহারের অভ্যাসে ভারসাম্য রাখুন।

    পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসেও যদি যার যার ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে শিশুদের কাছে ভিন্ন আচরণ আশা করা কঠিন। তাই পরিবারের খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা, নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানো এবং শিশুদের অনলাইন অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা ছোট হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। বয়সোপযোগী ডিজিটাল শিক্ষা, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ এবং হয়রানি বা ক্ষতিকর কনটেন্টের ক্ষেত্রে সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    স্মার্টফোন এখন জীবনের অংশ, আর ভবিষ্যতে প্রযুক্তির সঙ্গে শিশু-কিশোরদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তিকে বাদ দেওয়া নয়, বরং এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুত্ব ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের ভারসাম্য বজায় থাকে।

    —

  • আওয়ামী আমলে উন্নয়নের নামে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

    আওয়ামী আমলে উন্নয়নের নামে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

    উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি নিয়োগ, ঠিকাদারি বিল, ভ্যাট-কর আদায় থেকে শুরু করে বাজার ও মার্কেটের ভাড়া—স্থানীয় সরকার খাতের এমন ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে সরকারি তদন্তে।

    গত ১৭ বছরে এসব খাতে ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অধিকতর তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

    উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ ব্যয়ের নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছর এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তৈরি এ প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৬টি খাতে অনিয়মের এসব তথ্য পাওয়া যায়। প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসংগতি, সরকারি কোষাগারে ভ্যাট-কর জমা না দেওয়া, নির্মাণকাজের মান যাচাই ছাড়াই বিল পরিশোধ, নিয়োগে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

    গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পিরোজপুরে প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য

    তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর একটি পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে। এসব প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।

    এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, মোটরযান কেনা ও মেরামত, অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে বেতন-ভাতা প্রদান এবং সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণেও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও তিনটি মোটরযান-সংক্রান্ত ঘটনায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, গাড়ি মেরামতের অর্থ চালকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধের ঘটনায় ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকার অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সরকারি নকশা অনুসরণ না করে সড়ক নির্মাণ এবং পাঁচটি কালভার্ট নির্মাণ না করেও ব্যয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

    সিটি করপোরেশনে রাজস্ব ও ভাড়া আদায়ে অনিয়ম

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসবের মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়, ভ্যাট-কর জমা, ঠিকাদারি বিল, নির্মাণকাজ, বাজার ও মার্কেট বরাদ্দ এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রোড কাটিং ফি থেকে আদায় করা অর্থের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় দণ্ডসুদসহ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আরও কিছু কাজ ও সেবার বিপরীতে ভ্যাট কর্তন এবং জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নির্মাণকাজে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা না করেই ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল পরিশোধের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    বাজার ও মার্কেটের ভাড়া থেকে শতকোটি টাকার অনিয়ম

    সিটি করপোরেশনগুলোর বাজার, মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়া আদায় নিয়েও বড় অঙ্কের অনিয়মের তথ্য রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

    ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মার্কেট বা স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায় না করার ঘটনায় ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া আদায় না করার ঘটনায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য রয়েছে।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে অর্থবছর শেষে প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের তথ্য উল্লেখ করে একে আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সাবেক মেয়রদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অনিয়মের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়াদকালে নিয়োগ-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।ত

    বে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে পৃথক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলেও কোটি কোটি টাকার অনিয়ম

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পেও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নসরুলের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি প্রতিবেদনে রয়েছে। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের পাশাপাশি বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পানির গুণগতমান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও বিল পরিশোধ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। এ প্রকল্পে ২৪ কোটি টাকা বিল পরিশোধে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌ

    সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঠিকাদারদের জরিমানা আদায়েও অনিয়ম

    প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-পিইডিপি-৩-এর অর্থ ব্যবহারে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনে। তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলেও শতাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে বিলম্বজনিত জরিমানা আদায় করা হয়নি।

    কিছু ক্ষেত্রে কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ার পরও জরিমানার বড় অংশ মওকুফ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দায় নির্ধারণ ও আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

    দায়ীদের শনাক্তে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ

    স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার অভিযোগপত্র, প্রকল্পের অডিট প্রতিবেদন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বিভিন্ন খাতে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি দুদকের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা, দায়ী ব্যক্তি এবং অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট নিয়ে সুখবর

    ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট নিয়ে সুখবর

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ঢাকামুখী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বুধবার থেকে শুরু হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

    ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর বিমানবন্দরটিতে কয়েক দিন ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত তিনটা পর্যন্ত বিমানবন্দরটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। ফলে এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

    এর আগে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান। পরদিন ২২ অক্টোবর সকাল ৮টায় ৩৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট ছেড়ে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

  • ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

    ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তনে অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর। আগ্রহী গ্র্যাজুয়েটরা ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের আবেদনপ্রক্রিয়া চারটি ধাপে সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের প্রথম ধাপ শেষ করতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। আবেদন ফি পরিশোধের শেষ সময় ২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ সকাল ১১টায় ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সমাবর্তনে বক্তৃতা দেবেন জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আতসুশি সুনামি। তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট ফান্ডের অন্যতম দাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশিদকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তরা এ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। ২০২২ সালের ৫৩তম সমাবর্তনে যেসব ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটরাও এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

    সমাবর্তনের প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি সিনেট ভবন মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের জন্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • এআই ছবি চেনার ৬ উপায়, ডিটেক্টর দিয়ে কীভাবে শনাক্ত করবেন

    এআই ছবি চেনার ৬ উপায়, ডিটেক্টর দিয়ে কীভাবে শনাক্ত করবেন

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এ ধরনের ছবি। এতটাই বেড়েছে এর ব্যবহার যে, এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্ট বোঝাতে ‘এআই স্লপ’ শব্দটিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, বাস্তব ছবি ও কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবির পার্থক্য করাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে। আধুনিক ইমেজ জেনারেটরগুলো এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় বাস্তবের মতো ছবি তৈরি করতে পারে। তাই অনলাইনে কোনো ছবি দেখলেই সেটিকে সত্যি ধরে নেয়ার আগে কিছু বিষয় খেয়াল করা জরুরি।

    এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার ছয়টি সাধারণ লক্ষণ—

    ১. ছবির লেখাগুলো অস্বাভাবিক বা এলোমেলো
    এটি এআই ছবি শনাক্ত করার সবচেয়ে পুরোনো এবং সহজ উপায়গুলোর একটি। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, টি-শার্ট, সাইনবোর্ড কিংবা কোনো বিজ্ঞাপনের ছবিতে লেখা থাকলে সেটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। লেখাগুলো যদি বাঁকা, বিকৃত, অসম্পূর্ণ কিংবা অর্থহীন হয়, তাহলে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বর্তমানের এআই মডেলগুলো আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে লেখা তৈরি করতে পারে। তারপরও ছোটখাটো ভুল থেকে যেতে পারে। তাই কোনো ছবিকে সন্দেহ হলে সেটির লেখাগুলো জুম করে দেখা কার্যকর একটি পদ্ধতি। ২. অতিরিক্ত আঙুল বা অস্বাভাবিক শরীরের গঠন
    এআই মডেলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের হাত ও আঙুল তৈরি করতে সমস্যায় পড়েছে। যদিও প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে, তবুও কোথাও কোথাও অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, অস্বাভাবিক গাঁট কিংবা বিকৃত নখ দেখা যেতে পারে।

    শুধু হাত নয়, শরীরের অন্যান্য অংশও পরীক্ষা করুন। হাতের কবজি, কনুই, ঘাড়, পা কিংবা শরীরের অনুপাত অস্বাভাবিক কি না দেখুন। মুখের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। চোখের মণি সঠিক জায়গায় আছে কি না, নাকের গঠন স্বাভাবিক কি না কিংবা দাঁতের বিন্যাসে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না; এসবও এআই ছবির ইঙ্গিত হতে পারে। ৩. অতিরিক্ত নিখুঁত, অথচ অস্বাভাবিক চেহারা
    কখনো কোনো ছবি এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে সেটিকে কৃত্রিম বলে মনে হয় না। কিন্তু ভালো করে তাকালে বোঝা যায়, ছবির মানুষটির চেহারায় কিছু একটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে। চোখ হতে পারে অতিরিক্ত চকচকে বা প্রাণহীন। ত্বক হতে পারে অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, যেন কোনো প্লাস্টিকের পৃষ্ঠ। চুল হতে পারে অতিরিক্ত নিখুঁত। দাঁত পরস্পরের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিশে থাকতে পারে।

    অর্থাৎ, ছবিতে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও মানুষের চেহারায় যদি এক ধরনের ‘অস্বাভাবিক নিখুঁত’ ভাব থাকে, তাহলে সেটি এআই-তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করুন। ৪. হঠাৎ করেই সবকিছু অতিরিক্ত নিখুঁত
    ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা রেস্তোরাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও এখন এআই-তৈরি ছবি দেখা যাচ্ছে। কোনো খাবারের ছবি যদি অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখায়, মাংসের ওপর আলো ঠিকঠাক পড়ছে, খাবারের কোনো অংশে তেল বা দাগ নেই, খাবারের আকার-আকৃতি অবিশ্বাস্য রকম নিখুঁত; তাহলেও সন্দেহ করা যেতে পারে।

    বাস্তব খাবারের ছবিতে সাধারণত কিছুটা অসম্পূর্ণতা থাকে। আলো, ছায়া, খাবারের ছড়িয়ে পড়া অংশ কিংবা প্যাকেটের দাগ; এসব স্বাভাবিক। এআই-তৈরি ছবিতে এগুলো অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত থাকে। একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের লোগো বা বিজ্ঞাপনে হঠাৎ অত্যন্ত নিখুঁত ইলাস্ট্রেশন দেখা গেলেও সেটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে। ৫. ছবিতে অস্বাভাবিক বিশৃঙ্খলা
    এআই ছবির আরেকটি লক্ষণ হতে পারে ছবিতে অতিরিক্ত কিছু থাকা। অস্বাভাবিকভাবে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এমন নকশা, অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড, অসম্ভব কোণে পড়া ছায়া, বাস্তবতার সঙ্গে না মেলা প্রতিফলন কিংবা অস্বাভাবিক আলো; এসব ভালোভাবে খেয়াল করুন।

    কখনো পুরো ছবিটিই এমন মনে হতে পারে, যেন একসঙ্গে অনেক বেশি কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অতিরিক্ত নাটকীয় আলো, অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা এবং অপ্রয়োজনীয় ভিজ্যুয়াল উপাদান ছবিটিকে কৃত্রিম করে তুলতে পারে। ৬. অতিরিক্ত মসৃণতা ও ডিটেইলস হারিয়ে যাওয়া
    অতিরিক্ত নিখুঁত বা বিস্তারিত ছবি যেমন সন্দেহের কারণ হতে পারে, তেমনি উল্টোভাবে কোনো ছবিতে প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম বিবরণ না থাকাও এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো ছবি ‘রঙিন’ বা নতুন করে তৈরির ক্ষেত্রে বিষয়টি দেখা যায়। এআই ব্যবহারের ফলে পুরোনো ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার আলাদা বৈশিষ্ট্য কিংবা মানুষের পোশাকের সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যেতে পারে।

    ছবিটি তখন বাস্তব আলোকচিত্রের বদলে আঁকা ছবির মতো দেখাতে শুরু করে। অর্থাৎ, ছবির সামগ্রিক কাঠামো ঠিক থাকলেও সূক্ষ্ম বাস্তব বিবরণ হারিয়ে গেলে সেটিও সতর্ক হওয়ার কারণ।বিনামূল্যের এআই ডিটেক্টর ব্যবহার করুন

    চোখে দেখে সন্দেহ করার পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্যেও ছবি যাচাই করা যায়। গুগলের কিছু বিনামূল্যের টুল এ ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘Circle to Search’ ব্যবহার করে কোনো ছবি সম্পর্কে এআই-তৈরি কি না জানতে চাওয়া যায়। গুগল লেন্স-এর ‘About this image’ ফিচার থেকেও ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক থাকা ছবির ক্ষেত্রেও এসব টুল কাজে লাগতে পারে। এ ধরনের ওয়াটারমার্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে।

    এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপেও ছবি আপলোড করে ছবিটি গুগলের এআই দিয়ে তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাওয়া যায়। তবে এসব কোনো পদ্ধতিই শতভাগ নির্ভুল নয়। উন্নত এআই দিয়ে তৈরি ছবি অনেক সময় ডিটেক্টরের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

    এআই ইমেজ ডিটেক্টর কতটা নির্ভরযোগ্য?এআই ছবি শনাক্ত করার টুল সবসময় সঠিক ফল দেয় না। বিভিন্ন পরীক্ষায় এমন ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে এআই দিয়ে তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করেছে ডিটেক্টর। তাই শুধু একটি ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্য, ছবির উৎস এবং এর সঙ্গে থাকা তথ্যও যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ব্যক্তি, ঘটনা বা দাবির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করা হলে ছবিটির মূল উৎস খুঁজে দেখা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতিগুলোর একটি।

  • এআই বিনিয়োগে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

    এআই বিনিয়োগে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

    ব্যয় কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের যোগ্য কর্মীরা এ সুযোগ পেতে পারেন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোম্পানির মোট কর্মীবাহিনীর বড় একটি অংশ এর আওতায় আসবে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোসফট। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো কোম্পানিটিও এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, অর্থ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ প্লাস ডিভাইসেস বিভাগের কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যারা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন কিছু করার কথা ভাবছেন, তাদের কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে যেতে এ উদ্যোগ সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগ।

    এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ

    মাইক্রোসফট চলতি বছরের মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক সময়ে মাইক্রোসফটসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা সেন্টার ও উন্নত চিপ তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে এসব বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত আর্থিক মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

    আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে মাইক্রোসফটের। এর আগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটির নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। মাইক্রোসফটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সে হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগটি কর্মীবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।

    আগেও কর্মী কমানোর উদ্যোগ

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭ শতাংশ কর্মী ছিলেন। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। ওই সময় এক্সবক্স গেমিং ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে এ বিভাগে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পর মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম স্টুডিও থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

    মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিভাগের ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীরা নতুন স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির সুযোগ পাবেন। এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকবে। যোগ্য কর্মীদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা রয়েছে।

    আগের একটি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

  • এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন

    এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ৩১ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ‘আমার দেশ’-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।এর আগে ২৯ অক্টোবর এই ফল প্রকাশের কথা ছিল এবং এ বিষয়ে ২৬ অক্টোবর প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে থাকায় বিষয়টি তাকে অবহিত করা সম্ভব না হওয়ায় তখন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যায়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে ফল প্রকাশের নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।

    এদিকে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি থাকলেও তা ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন।

  • হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন। এই উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন, সিলেটে একজন, চট্টগ্রামে দুজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জন মারা গেছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জন।

    চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।

  • ডেঙ্গুতে ১০ মাসে ৪০০প্রাণহানি

    ডেঙ্গুতে ১০ মাসে ৪০০প্রাণহানি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,০৭১ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, খুলনায় ২৫০ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, রংপুরে ১১২ জন এবং সিলেটে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতাল অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছে ৬,৪১৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন।

  • সংস্কারের গণভোট বাস্তবায়নের পথ নিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদের বিরোধ

    সংস্কারের গণভোট বাস্তবায়নের পথ নিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদের বিরোধ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের সরকার ফেব্রুয়ারির সংস্কারের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করছে। বিএনপি সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের খসড়া করছে। বিরোধীরা চাইছে বাস্তবায়ন আদেশে বর্ণিত সংস্কার পরিষদ।

    সংশোধনী কারা লিখবে এবং কোন অঙ্গীকারগুলো বহাল থাকবে, তা নিয়েই মতভেদ। সরকার বলছে, সংবিধানের অধীনে সংসদকেই কাজ করতে হবে। জামায়াত ও এনসিপি বলছে, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা পরিষদ গঠন করতে হবে।

    জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদে সই করছেন মুহাম্মদ ইউনূস, ১৭ অক্টোবর ২০২৫। ছবি: তথ্য অধিদপ্তর, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে। একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়।
    • বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ১৮০ কার্যদিবসের মেয়াদের কথা ছিল। বিএনপির সংসদ সদস্যরা পরিষদের শপথ নেননি। পরিষদ কখনো বসেনি। মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার যে হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, তা নির্ভর করছে মেয়াদ কখন শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে বিতর্কিত একটি ব্যাখ্যার ওপর।
    • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১২ সদস্যের সংসদীয় সংশোধনী কমিটির সভাপতি। জামায়াত ও এনসিপি এতে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। মন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল আসতে পারে।
    • কমিটি বিলুপ্তি, পরিষদ গঠন এবং স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপি ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
    • তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য গণভোটের সুরক্ষাও বিবেচনা করছে সরকার। কমিটির কাজের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই সুরক্ষা এখনো আইনে পরিণত হয়নি।

    একই দিনে দুটি ভোট

    ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর এই সনদ তৈরি হয়। অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সনদ নিয়ে আলোচনা করে। রাজনৈতিক দলগুলো ১৭ অক্টোবর ২০২৫ এতে সই করে। সনদের ৮৪ প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতায় পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুরক্ষা।

    ১২ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষিত ২৯৭ সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জেতে ২০৯টিতে। সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বিধান আছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন সরকার ও তার মিত্রদের রয়েছে।

    ভোটাররা গণভোটের প্রস্তাবও সমর্থন করেন। প্রথম গেজেটে প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ ‘হ্যাঁ’ ও ২ কোটি ২১ লাখ ‘না’ ভোট ছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখের সংশোধিত গেজেটে, যা নিয়ে পরদিন খবর প্রকাশিত হয়, প্রায় ৪ কোটি ৭২ লাখ ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ‘না’ ভোট ছিল। বৈধ ভোটের আনুমানিক দুটি মোটের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ১১ লাখ। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও বসবেন, এমন একটি প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল ওই ভোট।

    সংসদ সদস্যদের শপথের আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি এনসিপি সনদে সই করে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদ ও পরিষদের দুটি শপথই নেন। বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদের শপথ নেন। দলটির বক্তব্য, পরিষদের দ্বিতীয় শপথের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

    পরিষদ ও মেয়াদ শুরুর বিতর্ক

    ৩১ মার্চ সালাহউদ্দিন সংসদে বলেন, বাস্তবায়ন আদেশ শুরু থেকেই অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এপ্রিলে প্রতিশ্রুতি দেন, ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদের মাধ্যমে সনদের “প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন ও প্রতিটি বিধান” বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের অবস্থান হলো, গণভোট নিজে সংবিধান সংশোধন করেনি; সাংবিধানিক পরিবর্তন সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে।

    প্রস্তাবিত ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত জানিয়েছিল। তারেক দুই পদেই আছেন। জাতীয় ভোটের অনুপাতের বদলে সংসদে আসনের শক্তি অনুযায়ী উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন চায় বিএনপি। গণভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সমর্থন পেলেও দলটির নথিভুক্ত আপত্তি দূর হয়নি।

    নাটশেল টুডের ১৭ অক্টোবরের সম্পাদকীয়তে হিসাব করা হয়, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার দিন ১২ মার্চ থেকে গণনা করলে পরিষদের ১৮০ কার্যদিবসের মেয়াদ প্রায় ১০ ডিসেম্বর শেষ হবে। সম্পাদকীয়তে বিপরীত ব্যাখ্যাও ছিল: পরিষদ কখনো বসেনি বলে এর সময় গণনাই শুরু হয়নি। সেখানে ১৪২ দিন পার হওয়া ও ৩৮ দিন বাকি থাকার হিসাবটি ১৭ অক্টোবরের গণনা; ২৭ অক্টোবরের চলতি হিসাব নয়।

    ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, পরিষদ নির্ধারিত সময় পার করলে সংস্কারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার একটি বিধান চূড়ান্ত আদেশে বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত পরিষদ কখনো বৈঠকে বসেনি।

    কমিটির কাজের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন

    জুলাইয়ে সংসদ সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন করে। জামায়াত ও এনসিপি এতে অংশ নিতে অস্বীকার করে। সালাহউদ্দিন বিরোধীদের প্রস্তাব আহ্বান করেছেন এবং সেগুলো বিবেচনা করা হবে বলেছেন।

    কমিটির সপ্তম বৈঠক, ১৩ অক্টোবরের আলোচনায়, বিশেষজ্ঞরা সংবিধান সংশোধনে বিচার বিভাগের এখতিয়ার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্প ব্যবস্থা এবং উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মত দেন। ওই আলোচনা পরবর্তী শনিবার, ২৪ অক্টোবরের বৈঠক থেকে আলাদা।

    কমিটির কাজে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১৭ অক্টোবর বলেন, ইশতেহারভিত্তিক পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া নোটটি ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত খসড়ায় ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সইয়ের দিন সরকারপক্ষের একজন প্রতিনিধি আলোচনা ছাড়াই সেটি যোগ করেন। সনদের পাঠ প্রস্তুত করা নিয়ে এটি এনসিপির অভিযোগ।

    সালাহউদ্দিন বলেছেন, কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চায় এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল আসতে পারে। সুপারিশের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিলের খসড়া করবে। এই সময়সূচি এখনো একটি পরিকল্পনা; সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী নয়।

    বিক্ষোভে যাচ্ছে বিরোধীরা

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যে গণভোটে তিনি নিজে ভোট দিয়েছেন, এখন তার ফল প্রত্যাখ্যান করছেন। পরওয়ার বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হলেও সরকার একটির ফল মানছে, অন্যটি প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।

    এনসিপি ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ ঘোষণা করেছে। সংসদীয় কমিটি বিলুপ্ত করে পরিষদ গঠনের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ চায় দলটি। মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দাবির কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানির ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার কথা বলছে তারা।

    গণভোটের সুরক্ষার প্রস্তাব

    সালাহউদ্দিন বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য গণভোটের শর্ত বিবেচনা করছে সরকার। এই ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন হয়। প্রস্তাবিত সুরক্ষা ভবিষ্যৎ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পক্ষে ব্যবস্থাটি বাতিলের ক্ষমতা সীমিত করবে।

    মন্ত্রী আরও বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবনা বা অন্য কিছু সুরক্ষিত বিধানে সংশোধনী আনলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোট লাগবে। সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারে এই দাবির প্রয়োগ নির্ভর করবে বিলের প্রকৃত বিধানগুলোর ওপর। এই প্রতিবেদনে বর্ণিত পর্যায়ে এমন কোনো বিল উত্থাপিত হয়নি।

    সরকার সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংশোধনীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াত ও এনসিপি পরিষদের দাবি বহাল রেখেছে। কমিটির পরিকল্পিত ডিসেম্বরের প্রতিবেদনের আগে এনসিপির পরবর্তী ঘোষিত বিক্ষোভ ৩০ অক্টোবর।

    এরপর কী

    • এনসিপির শাহবাগের বিক্ষোভ ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় হওয়ার কথা।
    • কমিটি ডিসেম্বরে প্রতিবেদন শেষ করতে চায়। সালাহউদ্দিন বলছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল উত্থাপিত হতে পারে।
    • পরিষদের মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার যেকোনো হিসাবই বিতর্কিত শুরুর তারিখের ওপর নির্ভরশীল। ১৭ অক্টোবরের অনুমিত হিসাব দিয়ে অবিতর্কিত আইনি মেয়াদসীমা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
    • বিলের বিষয়বস্তু ও পরবর্তী কোনো আইনি রায় নির্ধারণ করবে, গণভোট ও সংশোধনীর কোন প্রশ্নগুলো বাস্তবে উঠবে।
  • অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ- ইসলাম কী বলে?

    অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ- ইসলাম কী বলে?

    আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সারোগেসি’ বা অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ। কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে অক্ষম হলে অন্য একজন নারীর গর্ভে ভ্রূণ স্থাপন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মুসলিম সমাজে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে- ইসলামের দৃষ্টিতে অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ করা কি বৈধ?
    ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ সন্তান জন্মদানের সঙ্গে শুধু চিকিৎসা বা প্রযুক্তির বিষয় জড়িত নয়; এর সঙ্গে বংশপরিচয়, বৈবাহিক সম্পর্ক, মাতৃত্ব এবং উত্তরাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক বিষয়ও সম্পৃক্ত। এ কারণে কৃত্রিম প্রজনন বা সারোগেসি নিয়ে ইসলামী ফিকহবিদ ও আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

    সারোগেসি কী?
    সারোগেসি বলতে সাধারণত এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেখানে কোনো নারী অন্য দম্পতির জন্য গর্ভধারণ করেন এবং সন্তান জন্ম দেন। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। কখনো স্বামী-স্ত্রীর ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দিয়ে পরীক্ষাগারে ভ্রূণ তৈরি করে অন্য নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। আবার কখনো গর্ভধারণকারী নারীর ডিম্বাণুও ব্যবহার করা হয়।
    ইসলামী বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে প্রশ্ন আসে-সন্তানের জৈবিক পিতা-মাতা কারা, গর্ভধারণকারী নারী কে এবং সন্তানটির বংশপরিচয় কীভাবে নির্ধারিত হবে।

    স্বামী-স্ত্রীর ভ্রূণ হলেও অন্য নারীর গর্ভে?
    ইসলামী বিশ্বের অধিকাংশ সমসাময়িক ফিকহি প্রতিষ্ঠান ও আলেমের মত হলো, স্বামী-স্ত্রীর ভ্রূণ অন্য কোনো নারীর গর্ভে স্থাপন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার পদ্ধতি বৈধ নয়। কারণ, ইসলামে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করা হলেও ভ্রূণটি যদি তৃতীয় কোনো নারীর গর্ভে ধারণ করা হয়, তাহলে মাতৃত্বের পরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। যে নারী সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, তিনি কি মা হিসেবে গণ্য হবেন, নাকি যার ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ তৈরি হয়েছে তিনি মা- এ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষের বংশপরিচয় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সূরা আল-আহযাবের ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, সন্তানদের তাদের পিতার পরিচয়ে ডাকতে হবে; এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সংগত।
    ইসলামী শরিয়াহতে বংশপরিচয় বা ‘নসব’ সংরক্ষণ পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। তাই এমন কোনো পদ্ধতি যাতে সন্তানের বংশপরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে শরিয়াহ অত্যন্ত সতর্ক।

    কেন সারোগেসি নিয়ে আপত্তি?
    সারোগেসির ক্ষেত্রে প্রধান আপত্তিগুলোর একটি হলো তৃতীয় ব্যক্তির গর্ভধারণের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। ইসলামে বিবাহের বাইরে সন্তান উৎপাদনের কোনো সুযোগ নেই। বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে বৈবাহিক সম্পর্কের স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
    এ ছাড়া গর্ভধারণকারী নারীর সঙ্গে গর্ভস্থ সন্তানের একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। গর্ভধারণ, প্রসব ও মাতৃদুগ্ধের মতো বিষয়গুলো ইসলামী দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সন্তানটির প্রকৃত মাতৃত্ব কার- এ প্রশ্নটি শুধু জৈবিক নয়, বরং শরিয়াহ ও পারিবারিক অধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ কারণে অধিকাংশ ফিকহবিদ সারোগেসিকে অনুমোদন করেননি।
    স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন কি বৈধ?
    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলাদা করে বোঝা প্রয়োজন। সারোগেসি নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে ইসলামে সব ধরনের কৃত্রিম প্রজনন নিষিদ্ধ।
    চিকিৎসাগত প্রয়োজনে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে চিকিৎসা পদ্ধতিতে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে অনেক আলেম শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছেন। যেমন- ভ্রূণ তৈরিতে শুধু বৈধ স্বামী-স্ত্রীর প্রজনন উপাদান ব্যবহার করতে হবে এবং ভ্রূণটি স্ত্রীর নিজের জরায়ুতেই স্থাপন করতে হবে।
    অর্থাৎ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও তাতে তৃতীয় কোনো নারী বা পুরুষের প্রজনন উপাদান যুক্ত করা যাবে না। একইভাবে স্ত্রীর তৈরি ভ্রূণ অন্য কোনো নারীর গর্ভে স্থাপন করাও অধিকাংশ আলেমের মতে বৈধ নয়।

    ডিম্বাণু বা শুক্রাণু দান প্রসঙ্গে
    ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে স্পার্ম ডোনেশন বা ডিম্বাণু দানের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরিচিত পুরুষের শুক্রাণু বা অপরিচিত নারীর ডিম্বাণু ব্যবহার করে সন্তান জন্ম দেওয়া অধিকাংশ ইসলামী ফিকহবিদ বৈধ মনে করেন না।
    কারণ, এতে সন্তানের বংশপরিচয় নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। একজন পুরুষের শুক্রাণু এবং অন্য নারীর ডিম্বাণু ব্যবহার করে সন্তান জন্মালে শিশুটির জৈবিক পিতা-মাতা তার বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। ইসলামে বংশপরিচয় সংরক্ষণের যে নীতি রয়েছে, এ ধরনের পদ্ধতি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়।

    সন্তানের অধিকার কী হবে?
    সারোগেসির অন্যতম জটিল দিক হলো সন্তানের অধিকার। সন্তান জন্মের পর তার পরিচয়, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব, উত্তরাধিকার, মাহরাম সম্পর্ক এবং পারিবারিক অধিকার নির্ধারণ করতে হয়।
    ইসলাম শিশুর কোনো অপরাধ নেই—এই নীতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কোনো পদ্ধতি শরিয়াহসম্মত না হলেও সেই পদ্ধতির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুকে দায়ী করা যাবে না। শিশুর প্রতি অন্যায় করা, তাকে অবহেলা করা বা তার অধিকার নষ্ট করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
    তাই কোনো সারোগেসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তান জন্ম নিলে তার সঙ্গে মানবিক ও ন্যায়সংগত আচরণ করা জরুরি। তবে এই বাস্তবতা সারোগেসি প্রক্রিয়াটিকে শরিয়াহসম্মত করে না।

    চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কী করা উচিত?
    সন্তান লাভের আকাক্সক্ষা স্বাভাবিক। সন্তান না হওয়া অনেক দম্পতির জন্য কঠিন মানসিক পরীক্ষা হতে পারে। ইসলাম চিকিৎসা গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে না। বরং বৈধ উপায়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

    বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে সমস্যার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের আগে সেটি শরিয়াহসম্মত কি না, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
    যদি চিকিৎসার এমন কোনো পদ্ধতি হয় যেখানে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের প্রজনন উপাদান ব্যবহার করা হবে এবং ভ্রূণ স্ত্রীর নিজের গর্ভেই স্থাপন করা হবে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আলেম বা ইসলামী ফিকহ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

    ইসলামের মূল শিক্ষা
    ইসলামে সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত। সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা যেমন বৈধ, তেমনি সন্তান লাভের জন্য বৈধ পথ অনুসরণ করাও জরুরি। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মুসলমানের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে শরিয়াহর সীমারেখা অতিক্রম করা উচিত নয়।
    অন্য নারীর গর্ভে স্বামী-স্ত্রীর ভ্রূণ ধারণের বিষয়ে অধিকাংশ সমসাময়িক ইসলামী ফিকহবিদের মত হলো- এটি বৈধ নয়। এর প্রধান কারণ হলো বংশপরিচয় সংরক্ষণ, মাতৃত্বের পরিচয় স্পষ্ট রাখা এবং বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সীমা অক্ষুণ্ন রাখা।
    তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা নতুন পদ্ধতি নিয়ে ফিকহি আলোচনা চলমান রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি বৈধ কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটির প্রকৃতি, কার প্রজনন উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে, ভ্রূণ কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে এবং চিকিৎসাগত প্রয়োজন কতটা- এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। তাই সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সারোগেসি বা কৃত্রিম প্রজননের কোনো পদ্ধতি গ্রহণের আগে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ নয়, বিশ্বস্ত আলেম বা ইসলামী ফিকহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। এতে একদিকে চিকিৎসার সুযোগ নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে ইসলামী শরিয়াহর বিধানও যথাসম্ভব মেনে চলা যাবে।

  • বিয়ে নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

    বিয়ে নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

    বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো চুক্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র বিধান। পরিবার গঠনের ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন আল্লাহ। বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

    বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

    যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

    সামর্থ্যবান হলেই বিয়ে করা উত্তম। বিয়ে নিয়ে অনেকের কৌতুহল বা জানার আগ্রহ আছে। কেউ কেউ জানতে চান, কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে এটা কি আল্লাহ তাআলা আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন নাকি কর্মের মাধ্যমে এর পরিবর্তন হয়?

    সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের তাকদির লিপিবদ্ধ করেছেন আসমান-জমিন সৃষ্টির ৫০ বছর আগে এবং তিনি যার ভাগ্যে যা লিখেছেন, তাই ঘটবে। ’ (সহিহ মুসলিমের সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৭৯)

    আরেক হাদিসে আছে, ‘একদিন সাহাবিরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শুধু তাকদির বা ভাগ্যের ওপর ভরসা করে সব আমল ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানালে তিনি বললেন, তোমরা সৎ কাজ করে যাও। কেননা যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজবোধ্য হবে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য তেমন আমল এবং যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য তেমন আমল সহজ করে দেওয়া হয়েছে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৪৯)

    ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, জন্ম-মৃত্যুর মতো বিয়ে-শাদি ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত রয়েছে। তাকদিরে (ভাগ্য) লেখা রয়েছে। তাকদিরে যার সঙ্গে বিয়ের কথা লিখিত রয়েছে, তার সঙ্গেই বিয়ে হবে। তাকদিরে যা লেখা আছে, তা দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে।

    শত চেষ্টা করলেও কাউকে বিয়ে করা যাবে না, যদি না তাকদিরে লেখা থাকে বা আল্লাহর হুকুম হয়। সবকিছু আল্লাহর কাছে, তিনি যা চান, তাই হবে।

    বিয়ের ক্ষেত্রে কাউকে পছন্দনীয় হলে বৈধ চেষ্টার পাশাপাশি তাকে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই ভাগ্য (তাকদির) পরিবর্তন করতে পারে না। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

    আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে, এটা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। ’

  • ইসলাম নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আগ্রহ বাড়ছে

    ইসলাম নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আগ্রহ বাড়ছে

    দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের কেউ কেউ ইসলামের একত্ববাদ, নৈতিক শিক্ষা ও জীবনব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। মুসলিমদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টও এ আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

    কোরিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে ইকনা জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিশ ও ত্রিশের কোঠার তরুণ। তবে এ সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
    প্রতিবেদনে ‘ইউসুফ’ ছদ্মনামে পরিচিত ত্রিশোর্ধ্ব এক কোরীয় মুসলিমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় এবং তাঁদের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে ইসলামের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ইসলাম সম্পর্কে জানাশোনা বাড়লে তিনি ধর্মটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

    কোরীয় নওমুসলিমদের অনেকে ইসলামের একত্ববাদের শিক্ষা, সুস্পষ্ট ধর্মীয় মূলনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক নির্দেশনার বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয় বলে মনে করেন। তাঁদের কাছে এসব শিক্ষা জীবন ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। সিউলের কেন্দ্রীয় মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা
    দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইতাওয়ন এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলাম সম্পর্কে জানতে নিয়মিত আসেন আগ্রহী কোরীয়রা। সেখানে তাঁরা ইসলামের বিশ্বাস, ইবাদত ও জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। কেউ কেউ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর শাহাদাতাইন পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

    কোরীয় মুসলিম নারী ‘আরিয়ম’ জানান, ইসলামে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানের শিক্ষা তাঁর কাছে বিশেষভাবে অর্থবহ। কোরীয় ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গেও এই মূল্যবোধের মিল থাকায় পরিবারের কাছে নিজের ধর্মীয় সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা তাঁর জন্য সহজ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু তরুণ প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশার বাইরে ভিন্ন জীবনদর্শন খুঁজছেন। ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁদের কেউ কেউ নৈতিকতা, আত্মিক প্রশান্তি ও জীবনযাপনের অর্থ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়ছে পরিচিতি
    ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ভূমিকা রেখেছে। মুসলিমদের আচরণ, ধর্মীয় অনুশীলন ও দৈনন্দিন জীবন কাছ থেকে দেখে কেউ কেউ ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী হয়েছেন।

    এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোরীয় মুসলিমদের কেউ কেউ নিজেদের ধর্মীয় অভিজ্ঞতা, দৈনন্দিন জীবন ও মুসলিম সংস্কৃতি নিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে কোরীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকেরা মুসলিমদের জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।

    কোরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব আয়ানা জিহে মুন কিশোর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। ছোটবেলায় ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলাম সম্পর্কে জানার পর ধর্মটি নিয়ে তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী কোরীয় মুসলিম ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান।

    ইউটিউবার দাউদ কিমও তাঁর ভিডিওতে ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা ও মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতো পরিচিত ব্যক্তিদের কনটেন্টের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে আগে তেমন ধারণা না থাকা মানুষেরাও ধর্মটি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
    কোরীয় মুসলিম নারীদের কেউ কেউ হিজাবের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কোরীয় পোশাক হানবকের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন ধরনের ফ্যাশন তুলে ধরছেন। এর মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ ও কোরীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক একসঙ্গে উপস্থাপিত হচ্ছে।

    মুসলিম সমাজে খুঁজছেন আপনজনের অনুভূতি
    ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিম সমাজে নতুন সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আপনজনের অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কোরীয় নওমুসলিম। পরিচিতজনের কাছ থেকে কেউ কেউ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়লেও মুসলিমদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের মানসিক সমর্থন জুগিয়েছে।

    আরিয়ম জানান, সিউলের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথমবার যাওয়ার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি যেন নিজের ঘরে ফিরে এসেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মুসলিম সমাজের আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধও নতুন মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোরীয় উপদ্বীপে ইসলামের ঐতিহাসিক পরিচিতি
    দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম সম্পর্কে পরিচিতি নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে মুসলিম বণিক, অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোরীয় যুদ্ধের সময় তুর্কি মুসলিম সেনাদের উপস্থিতি দেশটিতে ইসলাম পরিচিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে বিদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের মাধ্যমে মুসলিম সমাজের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয়দের ইসলাম গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা বার্ষিক হিসাবের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ পরিসংখ্যান সীমিত। তবে নওমুসলিমদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিমদের সক্রিয় উপস্থিতি ইসলাম সম্পর্কে জানার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

    ইসলামের একত্ববাদ, নৈতিক জীবনব্যবস্থা, আত্মিক প্রশান্তির সন্ধান এবং মুসলিম সমাজের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক—বিভিন্ন কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু মানুষ ধর্মটি সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা দেশটিতে ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।

  • লুলা চতুর্থবার নির্বাচিত, বলসোনারোর ব্রাজিল ছাড়ার খবর রয়টার্সের

    লুলা চতুর্থবার নির্বাচিত, বলসোনারোর ব্রাজিল ছাড়ার খবর রয়টার্সের

    রোববার চতুর্থবার নির্বাচিত হন লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রয়টার্স মঙ্গলবার জানায়, আদালতের নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট জমা না দিয়ে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গেছেন।

    রয়টার্স দুটি সূত্রের বরাত দিয়েছে। পাসপোর্টের আদেশটি অর্থ পাচারের তদন্ত নিয়ে; ফ্লাভিও অনিয়ম অস্বীকার করেন। ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিয়মিত অভিবাসনপথ দিয়ে বের হননি। তাঁর আইনজীবী মন্তব্য করতে চাননি।

    সোমবার ফ্লাভিও প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিল চাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর প্রচারশিবির সিএনএন ব্রাসিলকে জানায়, ভোট বাতিল চাইবে না। এসব দাবি নির্বাচনী আচরণ নিয়ে; অর্থ পাচারের তদন্ত আলাদা মামলা।

    মিনাস জেরাইসের ইতাজুবার একটি ভোটকেন্দ্র, ২০১৬ সাল। ফাইল ছবি: মাতেউস এস. ফিগেইরেদো, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • রয়টার্সের খবর, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গেছেন। এটি সূত্রের বরাতে দেওয়া বিবরণ।
    • লুলা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২ ভোট (৫১.৭৯ শতাংশ), ফ্লাভিও বলসোনারো ৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১ ভোট (৪৮.২১ শতাংশ)। ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ। প্রথম দফায় লুলা পিছিয়ে ছিলেন ২২ লাখ ভোটে।
    • ১৯৮৫ সালের পর প্রথম দফায় হেরে দ্বিতীয় দফায় জেতা প্রথম প্রার্থী তিনি। চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি। তাঁর পাওয়া ভোট ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
    • রোববার বলসোনারো বলেছিলেন, আদালতের নির্দেশে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোয় এই ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব। সোমবার তিনি জানান, এর বদলে প্রচারণায় অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের আবেদন করবেন; তাঁর প্রচারশিবির বলছে, ভোট বাতিলের আবেদন করা হবে না।
    • লুলাকে দেশ চালাতে হবে এমন এক কংগ্রেসের সঙ্গে, যার দুই কক্ষেই বৃহত্তম দল বলসোনারোর লিবারেল পার্টি।
    • সোমবার ব্রাজিলের বাজারে বড় ধস নামে। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়ে এবং দিন শেষে প্রতি ডলার প্রায় ৫.৪০ রিয়ালে দাঁড়ায়। ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ থাকার পর শেয়ারসূচক ইবোভেসপা দিন শেষ করে ১৩.৯ শতাংশ কমে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে দেশটির ট্রেজারি।
    দফা লুলা ফ্লাভিও বলসোনারো
    প্রথম দফা, ৪ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) ৪৫.১৬% (৫,৩৮,৭৬,৬১৭) ৪৭.০৩% (৫,৬১,০৪,২৬৮)
    দ্বিতীয় দফা, ২৫ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) ৫১.৭৯% (৬,৪২,৫৬,২৩২) ৪৮.২১% (৫,৯৮,২৬,০৪১)

    ভোটের রাত

    রোববার ১২ কোটি ৮০ লাখের বেশি ব্রাজিলীয় ভোট দিয়েছেন। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকা, ১৫ কোটি ৮৭ লাখ মানুষের মধ্যে ভোট পড়েছে ৮০.৭৮ শতাংশ। প্রথম দফায় ২১.১ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি, এবার সেই হার কমে ১৯.২ শতাংশে নেমেছে। ব্রাজিলে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। আমাজোনাস রাজ্যের ইরানদুবার লাগো দো কাতালাওয়ে নদীতীরের বাসিন্দারা ডিঙি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে যান। রিও দি জেনেইরোর রোসিনিয়া বস্তিতে ভোরেই লম্বা সারি তৈরি হয়।

    লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি। পালাসিও দো প্লানালতো, সিসি বিওয়াই ২.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    তিন সপ্তাহ আগে প্রথম দফায় বলসোনারো জিতেছিলেন ২২ লাখ ভোটে। ভোটের দিন ৮০ বছর বয়সী লুলা দুই দফার মাঝে এক কোটির বেশি ভোট বাড়িয়েছেন। তাঁর ৬ কোটি ৪৩ লাখ ভোট ব্রাজিলের রেকর্ড, ২০২২ সালের চেয়ে ৩৯ লাখ বেশি। এবারের ব্যবধান ৪৪ লাখ ৩০ হাজার, যা চার বছর আগের ২১ লাখ ৪০ হাজারের দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর সবচেয়ে পুরোনো ঘাঁটি উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেই তিনি ২০২২ সালের চেয়ে প্রায় ১৯ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন।

    রোববার রাতে একবারই এগিয়ে থাকার পালা বদলায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিট থেকে ৩৮ মিনিট এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। এরপর বড় শহরগুলো ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফল আসতে থাকলে রাত ৮টা ২৪ মিনিটে লুলা আবার এগিয়ে যান। ৯৭.৬৯ শতাংশ কেন্দ্রের গণনা শেষে রাত ৯টা ৮ মিনিটে সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্ট (টিএসই) তাঁকে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করে।

    সাও পাওলোর একটি হোটেলে স্ত্রী রোজাঙ্গেলাকে নিয়ে ভোট গণনা দেখেন লুলা। ফল ঘোষণার পর রিওর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো থেকে গাড়ির হর্ন আর উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে। লাল পোশাকের এক নারী জাতীয় দলের হলুদ-সবুজ জার্সি পরা চার পুরুষের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “তোমরা হেরেছ! আরও কাঁদো!”

    দুই দফার মাঝের প্রচারণা

    দুই দফার মাঝে লুলার প্রচারশিবির রাস্তায় বড় বড় সমাবেশ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর প্রচার চালায়। লক্ষ্য ছিল প্রথম দফায় যাঁরা ভোট দিতে যাননি বা যাঁদের ভোট নানা প্রার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল, তাঁরা।

    বার্তা আদান-প্রদানের নেটওয়ার্কও ব্যবহার করে প্রচারশিবির। ফেডারেল ডেপুটি আন্দ্রে জানোনেস “এক্সেরসিতো দে লুলা” বা “লুলার সেনাবাহিনী” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ব্রাজিলের দৈনিক গাজেতা দো পোভোর তথ্যমতে, এতে যুক্ত ছিলেন প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ মানুষ।

    ভোট নিয়ে বিরোধ ও আইনি কৌশলে বদল

    রোববার ভোট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, আর তার শুরু বাস থেকে। কয়েকটি রাজ্যে গণপরিবহন চলেনি। বাইয়া রাজ্যের এক নির্বাচনী বিচারক জানান, অন্তত ৭৫টি সিটি বাস গ্যারেজ থেকেই বের হয়নি। তিনি সালভাদর শহরের পরিবহনসচিব পাবলো সুজাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সুজা তখন প্যারিসে ছিলেন। ভোট শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার বাইয়ার নির্বাচনী আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রত্যাহার করে, তবে তদন্ত চলছে। বাইয়ার ভোক্তা অধিকার সংস্থা প্রোকন-বিএর পরিদর্শকেরা রোববার সকালে সালভাদরে বাস কোম্পানিগুলোর ইয়ার্ডে ৯৪৪টি বাস আটকে থাকতে দেখেন। পাঁচ রাজ্যে পরিবহন বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্ত করছে ফেডারেল পুলিশ।

    এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন যেসব এলাকায় পরিবহন চলেনি, সেখানে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুযায়ী, ভোট শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে এই নির্দেশ আসে। তবে অনেক কেন্দ্রে তা পৌঁছায় বিকেল ৫টার পর, যখন বেশির ভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বিচারপতি জানিন পরে স্পষ্ট করেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্র বন্ধই থাকবে। টিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টার পর ভোট পড়েছে ৩৪ হাজার ৩৩০টি। যাঁরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, তাঁরা এই হিসাবে নেই।

    গণনা শেষ হওয়ার আগেই রোববার রাতে বলসোনারো নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “যে পরিস্থিতিতে এসব ঘটেছে, তাতে এই নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব।” তিনি নির্বাচন বাতিলের আবেদন করবেন বলেও জানান। ভোটের সময় বাড়ানোকে তিনি “প্রতারণা” ও “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন।

    তিনি আরও দুটি অভিযোগ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, বিচারপতি জানিন একসময় লুলার আইনজীবী ছিলেন এবং তিনি “খেলার মাঝখানে খেলার নিয়ম বদলে দিয়েছেন”। তিনি আরও দাবি করেন, লিবারেল পার্টির (পিএল) পর্যবেক্ষকদের আদালতের সুরক্ষিত কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টিএসই জানায়, এই দাবি মিথ্যা। আদালত বলেছে, সুরক্ষিত কক্ষটি সীমিত প্রবেশাধিকারের। পিএলের দুজন পর্যবেক্ষক ভোট একীভূতকরণ কক্ষ ও অনুমোদিত অন্য এলাকায় গিয়েছিলেন, যার হাজিরা রেকর্ড ও ভিডিও রয়েছে।

    আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে বলসোনারোর নিজের প্রচারশিবিরও সাও পাওলো, পারানা ও সান্তা কাতারিনায় ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। যে বর্ধিত সময় মঞ্জুর হয়েছে, তা এসেছে বাইয়ার বাস-সংকট নিয়ে লুলার জোটের আবেদনে। বলসোনারোর শিবিরও ভোটের সময় বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি।

    নির্বাচনী আদালতের প্রেসিডেন্ট কাসিও নুনেস মার্কেসকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দিয়েছিলেন জাইর বলসোনারো। তিনি বলেন, আদালতের “পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা” রয়েছে এবং সময় বাড়ানোয় ফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রসিকিউটর জেনারেল পাওলো গোনেত ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) পর্যবেক্ষক দলের প্রধান হোসে মিগেল ইনসুলসা বলেছেন, ব্রাজিলের নির্বাচনব্যবস্থা “খুবই মজবুত”।

    আইনি কৌশল বদলের খবর আসার আগে সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনবিষয়ক অধ্যাপক রুবেন্স বেসা রয়টার্সকে বলেন, নির্বাচন বাতিলের আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাঁর ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রভাবিত ভোট ফল বদলাতে পারে কি না, তা আদালতকে মূল্যায়ন করতে হবে। ইনফোমানিতে প্রকাশিত রয়টার্সের বিবরণটি সোমবার বিকেলের। ভোট বাতিল চাওয়া থেকে প্রচারশিবিরের সরে আসা নিয়ে সিএনএনের খবরের আগেই তা প্রকাশিত হয়।

    ফাটল ধরেছে বলসোনারোর নিজের শিবিরেও। সাও পাওলোর ভাইস গভর্নর ফেলিসিও রামুত, যাঁর গভর্নর বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছিলেন, ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ব্রাজিলকে এমন একটি পরিবর্তন দিতে কাজ করেছি, যা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করেছিলাম। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটার অন্য পথ বেছে নিয়েছেন, আর আমি ব্যালটের রায়কে সম্মান করি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, লিবারেল পার্টি নিজেও কোথাও কোথাও ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল।

    সোমবার ফ্লাভিও পথ বদলান। এক ভিডিওতে তিনি লুলার প্রচারশিবিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন, যার মধ্যে তাঁর ভাষায় ভুয়া খবরের একটি “শিল্প কারখানা”ও আছে। তিনি বলেন, “তাঁর সব অনিয়মের জন্য আমি লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের আবেদন করব।” তাঁর প্রচারশিবিরের সদস্যরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএন ব্রাসিলকে বলেছেন, ভোট বাতিলের কোনো আবেদন করা হবে না। আইনজীবী দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, লুলার নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের ২০টি আবেদন এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে, আরও আসবে। এই বিবরণ সিএনএনের প্রতিবেদনের; আদালতে জমা পড়া মামলার স্বাধীনভাবে যাচাই করা হিসাব নয়।

    ৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস

    প্রেসিডেন্ট পদের ফয়সালা হয়েছে রোববার। কংগ্রেসের ফয়সালা হয়েছিল তিন সপ্তাহ আগে, প্রথম দফার ভোটে, আর তা গেছে উল্টো দিকে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি চেম্বার অব ডেপুটিজের ৫১৩ আসনের মধ্যে ১২১টিতে জিতেছে, যা ১৯৯৮ সালের পর কোনো একক দলের সবচেয়ে বড় সংসদীয় দল। সিনেটের ৮১ আসনের মধ্যে দলটির ২৮টি পাওয়ার কথা। একটি হিসাবে ডানপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর হাতে মিলিয়ে সিনেটে ৫১টি ও চেম্বারে ২৯৪টি আসন। এই মতাদর্শগত শ্রেণিবিন্যাস সই করা কোনো সরকার গঠনের জোট নয়। লুলার আমলে প্রতিটি দল কীভাবে ভোট দেবে, তা এই হিসাব প্রতিষ্ঠা করে না। সিনেটের প্রেসিডেন্ট দাভি আলকোলুম্ব্রে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানের কথা উল্লেখ করে রোববারই লুলার জয় স্বীকার করেন।

    ব্রাসিলিয়ায় ব্রাজিলের জাতীয় কংগ্রেস ভবন। কায়াম্বে, সিসি বিওয়াই-এসএ ৩.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    বিজয় ভাষণে লুলা নিজেই সমস্যাটির কথা বলেন। “আমি জাতীয় ঐক্যের কথা বলব না, কারণ এই দেশে শব্দটি সব সময় খাটে না,” বলেন তিনি। “কংগ্রেস আমি বেছে নিইনি। জনগণ বেছে নিয়েছে, আর তাদের সঙ্গেই আমি কাজ করব।”

    বিদেশ থেকে অভিনন্দন, দেশে বাজারে ধস

    ইনফোমানির সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুলার জয় স্বীকার করা নেতাদের দেশের মধ্যে কানাডা, মেক্সিকো, চিলি ও পেরু রয়েছে। বিদেশি সরকারের ফল স্বীকার করে নেওয়া প্রচারে অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি করে না।

    সোমবার বিনিয়োগকারীরা ব্রাজিলের শেয়ার ও মুদ্রা বিক্রি করেন; বিশ্লেষকেরা সরকারের রাজস্বনীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দুটিই বিবেচনায় নিচ্ছিলেন। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়ে। শুক্রবার প্রতি ডলারের দাম ছিল ৪.৯৯৩ রিয়াল, সোমবার তা প্রায় ৫.৬০ রিয়াল ছোঁয়। ইনফোমানি জানায়, দিন শেষে প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ৫.৪০৩ রিয়াল। শেয়ারসূচক ইবোভেসপা একপর্যায়ে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। ১০ শতাংশ পতনের পর ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, ২০২০ সালের পর যা প্রথম। দিন শেষে সূচক ১৩.৯ শতাংশ কমে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে ব্রাজিলের ট্রেজারি।

    সাও পাওলোর বি৩ স্টক এক্সচেঞ্জ। সোমবার এর সূচক ইবোভেসপা ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। সিসি০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    বিশ্লেষকেরা প্রথমেই লুলার চতুর্থ মেয়াদে সরকারি ব্যয় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথা বলছেন। ডাচ ব্যাংক আইএনজির ক্রিস টার্নার বলেন, বাজারের প্রশ্ন হলো “বলসোনারো কত দ্রুত ফল মেনে নেন”, কারণ দ্রুত মেনে নিলে অনিশ্চয়তার বাড়তি ঝুঁকি কেটে যাবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মরিসিও মঙ্গে সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন লুলা কাকে অর্থমন্ত্রী করেন, সেদিকে।

    বলসোনারোর সমর্থক ৫১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রদ্রিগো ভ্যালেন্তিম এপিকে বলেন, “মানুষ কীভাবে লুলাকে ভোট দেয়, বুঝি না। দেশটা ভেঙে পড়ছে।” উইলসন সেন্টারের ব্রাজিল ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক পাওলো সোতেরো সিএনএনকে বলেন, ভোটের সময় বাড়ানো “কোনো অনিয়ম ছিল না”। পুনর্গণনা বা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাকে তিনি বলেছেন “খুবই, খুবই ক্ষীণ”।

    আইনি নজির ও বর্তমান অভিযোগ

    ব্রাজিল এমন পরিস্থিতি আগেও দেখেছে, উল্টো দিক থেকে। ২০২২ সালে লুলার কাছে হেরে জাইর বলসোনারো হার স্বীকার না করে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এবার তাঁর ছেলে মামলা নিয়ে যাচ্ছেন সেই একই নির্বাচনী আদালতে, যে আদালত ২০২২ সালের ফলের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার দলের আবেদন খারিজ করেছিল।

    প্রচারশিবিরের সরে আসার খবরটি ভোটের বৈধতা নিয়ে। প্রচারের আচরণ নিয়ে তাদের অভিযোগ নির্বাচনী আদালতের মূল্যায়নের বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। এমন কোনো মামলার সিদ্ধান্ত নিতে আদালতকে নির্দিষ্ট দাবি ও প্রমাণ পরীক্ষা করতে হবে।

    এরপর কী

    • ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হবে। লুলার চতুর্থ মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি।
    • প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিল চাইবেন বলে ফ্লাভিও জানিয়েছেন। তাঁর প্রচারশিবির সিএনএনকে বলেছে, ভোট বাতিল চাইবে না। আদালতে আসা দাবির নিষ্পত্তি আদালতকেই করতে হবে।
    • ভোটের পর প্রথমবারের মতো ৩ ও ৪ নভেম্বর সুদহার নিয়ে বৈঠকে বসবে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
    • ৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস প্রথম অধিবেশনে বসবে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
  • সিরাত পাঠ পাঁচ কারণে জরুরি

    সিরাত পাঠ পাঁচ কারণে জরুরি

    সিরাত। মানে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শ। আমাদের সিরাত পাঠ করতে হয়। কেন সিরাত পাঠ করতেই হবে? আজকে তুলে ধরবো সিরাত পাঠের অপরিহার্যতার পাঁচটি দিক। ১. একজন সভ্য-ভদ্র ও সুন্দর মানুষ হতে হলে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সজ্জিতকরণ অপরিহার্য। অন্যান্য গুণাবলি যতই উচ্চমানের হোক, যদি বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিপাটি না হয়, তবে সে মানুষ কখনই সভ্যজনদের মধ্যে গণ্য হতে পারে না। বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য চাই অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিচর্যা তথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চুল-দাড়ির কাট ও বিন্যাস, আতর ও সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি। সেই সঙ্গে মার্জিত পোশাক-আশাকও এর এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু রুচিবোধের পার্থক্য, স্থান-কাল ও পরিবেশ-পরিস্থিতির তারতম্য, আত্মমর্যাদাবোধের অভাব, হীনম্মন্যতা ও অনুকরণপ্রবণতা ইত্যাদি কারণে এ ক্ষেত্রে নানা রকমের ঢংঢাং পরিলক্ষিত হয়, যার অধিকাংশই ভদ্রজনোচিত নয়। আপনি যদি এ ক্ষেত্রে একজন সুন্দরতম মানুষ হিসেবে নিজেকে অলংকৃত করতে চান, তবে সব ভদ্রের সেরা ভদ্র সবচেয়ে মার্জিত জীবনসৌন্দর্যের অনন্য উপমা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ পাঠ করুন। সেখানেই আপনি পাবেন সুন্দরতম অঙ্গসজ্জা ও শ্রেষ্ঠতম বেশবিন্যাস, যার অনুসরণ আপনাকে করে তুলবে সুদর্শন ও মার্জিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত ও রাশভারী।

    ২. বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চেয়ে হৃদয়জগৎই মানুষের বেশি দামি, বরং এটাই তার প্রকৃত সারবত্তা। এটা বহু গুণের লালনক্ষেত্র, বিপুল সম্ভাবনার বিচিত্র ভুবন। এ ভুবনের চাষাবাদ, যথার্থ পরিচর্যা দ্বারা একজন মানুষ লোক থেকে লোকোত্তর পুরুষে পরিণত হতে পারে। আবার অবহেলা-অনাদরের ফলে এখানে এতটা আগাছা ও পাশববৃত্তির জন্ম নেয়, যা মানুষকে পরিণত করতে পারে হিংস্রতম হায়েনায়। কিন্তু আফসোস! আজকে এদিকটা নিদারুণভাবে উপেক্ষিত। মানুষের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যয় হচ্ছে বস্তুগত উন্নতির পেছনে।

    আপনি আখেরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠ করুন। যেখানে পাবেন সত্যবাদিতা, সাহসিকতা, কোমলতা, দৃঢ়তা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহানুভূতি-সহমর্মিতা, কল্যাণকামিতা, বদান্যতা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, স্নেহ-মমতা, পরমতসহিষ্ণুতা, আত্মসচেতনতা অর্থাৎ উন্নত চরিত্রের সব উপাদান।

    ৩. মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী। সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এই সামাজিক জীবনে আচার-আচরণের শিষ্টতা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্জিত আচরণ শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করে, পরকে আপন করে তোলে এবং সমাজে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে অশিষ্ট আচরণ এর বিপরীত ফল আনয়ন করে, যা মানবসমাজের পক্ষে কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। কিন্তু সমাজে কী সেই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিই বিরাজ করছে না? আমাদের শিষ্টতাবর্জিত আচরণ কী সে পরিস্থিতির জন্য বহুলাংশে দায়ী নয়? সুতরাং আমাদের সংশোধন দরকার। সর্বস্তরের মানুষের উচিত নিজের আচার-আচরণকে মার্জিত ও পরিশীলিত করে তোলা। আর নিঃসন্দেহে সে মার্জিত ব্যবহারের সবক পাওয়া যাবে সিরাত গ্রন্থে। মজলিসে কীভাবে বসতে হবে, আগন্তুককে কীভাবে বিদায় জানাতে হয়, আগন্তুককে কীভাবে সম্বোধন করতে হবে, অতিথিকে কীভাবে বিদায় জানাতে হয়, পথচারী আপনার কাছে কী ব্যবহার চায়, সাথি-সঙ্গী ও ছোটবড় ভেদে আচরণের কী তারতম্য হওয়া দরকার, ইশারা-ইঙ্গিতের প্রয়োগ কী রকম হওয়া চাই, প্রশ্ন ও উত্তরের ধরন কেমন হওয়া বাঞ্ছনীয় ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভের জন্য আমাদের অবশ্যই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ পাঠ করতে হবে।

    ৪. সবকিছুতে মধ্যম পন্থাই শ্রেষ্ঠ। প্রান্তিক কর্মপন্থা ও একদেশদর্শী মানসিকতা সবার কাছেই নিন্দনীয়। কাউকে ভালোবাসবেন, তো সে ভালোবাসার একটা মাত্রা থাকা চাই। আবার সংগত কোনো কারণে কারও সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি হলে, সে শত্রুতাও যেন সীমা না হারায়। অর্থ উপার্জন করুন, কিন্তু উন্মত্ত হয়ে নয়, আবার বিত্তে নিরাসক্তিও যেন বৈরাগ্যে পর্যবসিত না হয়। এমনিভাবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিমিতি রক্ষা করা চাই। ব্যয়কুণ্ঠা যেমন দোষ, তেমনই অমিতব্যয়ও প্রশংসনীয় কিছু নয়। মধ্যমপন্থার অনন্য শিক্ষা পাওয়া যায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতে।

    ৫. মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ওপর নানাবিধ দায়দায়িত্ব অর্পিত আছে। পারিবারিক, নৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রভৃতি। এসব দায়দায়িত্বের প্রতি আমরা খুব কমই সচেতন। যে ব্যক্তি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত পাঠ করবে, সে নিঃসন্দেহে এই সত্য মরমে মরমে উপলব্ধি করবেন। তাঁর গোটা জীবনই ছিল দায়িত্বসচেতনতার মূর্ত প্রতীক। সিরাতের পরতে পরতে রয়েছে দায়িত্বসচেতনতার অপূর্ব দীপ্তি।

  • মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ

    মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ

    একসময় মুসলিমদের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করতেন তিনি। পরিকল্পনা করেছিলেন একটি মসজিদে বোমা হামলা চালানোর। অথচ সেই মসজিদে গিয়ে মুসলিমদের আন্তরিক আচরণের মুখোমুখি হওয়ার পর বদলে যায় তার চিন্তাভাবনা।

    যে ইসলামকে তিনি মনে করতেন সন্ত্রাসের প্রতীক, সেই ইসলাম সম্পর্কেই জানতে শুরু করেন নতুন করে। একপর্যায়ে গ্রহণ করেন ইসলাম। সাবেক মার্কিন সেনা রিচার্ড ‘ম্যাক’ ম্যাককিনির জীবনের এই পরিবর্তন উঠে এসেছে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া প্রামাণ্যচিত্র Stranger at the Gate-এ।

    রিচার্ড ম্যাককিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুনসি শহরের বাসিন্দা। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে প্রায় ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তি একসময় মুসলিমদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন।

    আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষকের ছেলের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আহত ৫ শিক্ষার্থী তাঁর মনে জন্ম নেয় তীব্র বিদ্বেষ। সেই বিদ্বেষ থেকেই মুনসি শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রাণহানি ঘটানো।

    পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মসজিদটির পরিবেশ সম্পর্কে জানতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রিচার্ড।

    আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর ধারণা ছিল, মসজিদের ভেতরে গিয়ে এমন কিছু দেখতে পাবেন, যা মুসলিমদের প্রতি তাঁর ঘৃণাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি।

    মসজিদে উপস্থিত মুসলিমরা রিচার্ডকে শত্রু হিসেবে দেখেননি। বরং তাঁর সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করেন, তাঁকে আপন করে নেন। তাঁদের সৌজন্য, অতিথিপরায়ণতা ও মানবিক ব্যবহার রিচার্ডের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। যাদের সম্পর্কে তাঁর মনে এত দিন ভয় ও বিদ্বেষ জমে ছিল, তাঁদের মধ্যেই তিনি দেখতে পান আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা।

    এই অভিজ্ঞতা রিচার্ডকে নিজের বিশ্বাস ও ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মুসলিমদের সম্পর্কে তাঁর পূর্বধারণার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার বড় ধরনের পার্থক্য তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহী করে তোলে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর চিন্তাজগতের পরিবর্তন।

    এরপর ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন রিচার্ড। পড়েন পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ। ইসলামের শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁর আগের ধারণাগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ঘৃণা থেকে শুরু হওয়া তাঁর সেই যাত্রা শেষ হয় বিশ্বাস ও সম্প্রীতির পথে।

    রিচার্ডের জীবনের এই অসাধারণ পরিবর্তন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র Stranger at the Gate ২০২৩ সালে অস্কারের সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে একটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি সেখানকার মুসলিমদের আন্তরিকতা ও মানবিকতার সংস্পর্শে এসে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেন।

    রিচার্ড ম্যাককিনির গল্প কেবল একজন মানুষের ধর্মান্তরের ঘটনা নয়; এটি মানুষের প্রতি আচরণ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার শক্তিরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ঘৃণা একসময় তাঁকে ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, সেই ঘৃণার দেয়াল ভাঙতে ভূমিকা রেখেছিল কয়েকজন মানুষের আন্তরিক ব্যবহার। তাঁর জীবনের এই পরিবর্তন মনে করিয়ে দেয়, পূর্বধারণা ও বিদ্বেষের বিপরীতে মানবিক আচরণ কখনো কখনো মানুষের চিন্তা ও জীবনকে নতুন পথে পরিচালিত করতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

    শীর্ষনিউজ/এম

  • ‘স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব’

    ‘স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব’

    স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের ইতিহাস শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বামপন্থি নেতা সিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান স্বয়ং সংসদে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

    এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাসই হত্যা, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং মাত্র চারটি বাদে দেশের সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে বলা হয়েছিল—‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের যে রক্তমাখা ইতিহাস, তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই এ দেশে শুরু হয়েছে।’

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ মূলত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু সংগঠন।’

    তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে শীর্ষ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে, শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করা হয়েছে এবং দল নিষিদ্ধ করে নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতকে এ দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায়নি।

    বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখে, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরসহ বিগত ১৫ বছরের সব গণহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

  • সূরা আল ফিল অর্থসহ

    সূরা আল ফিল অর্থসহ

    আল ফিল

    সূরা ফীলের আরবি পাঠ ও বাংলা অর্থ

    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

    পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

    1. أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ

    তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক হাতিওয়ালাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন?

    1. أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ

    তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি?

    1. وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ

    এবং তিনি তাদের ওপর প্রেরণ করেছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি,

    1. تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ

    যারা তাদের ওপর নিক্ষেপ করেছিল পোড়ামাটির কাঁকর,

    1. فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ

    অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণভুষির (চর্বিত খড়কুটোর) মতো করে দেন।

    সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

    সূরা আল-ফীল (الفيل) পবিত্র কুরআনের ১০৫তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৫টি।

    • মূল বিষয়বস্তু: ইয়েমেনের শাসক আবরাহার হস্তীবাহিনী কর্তৃক কাবাঘর ধ্বংসের অপচেষ্টা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তা ব্যর্থ করে দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    • ঘটনার সাল: ৫৭০ বা ৭১ খ্রিস্টাব্দে (যা ঐতিহাসিকদের মতে ‘নবীজির জন্মের বছর’ বা ‘হাতিওয়ালাদের বছর’ হিসেবে পরিচিত)।
    • আক্রমণকারী: ইয়েমেনের খ্রিস্টান শাসক আবরাহা কাবাঘরের গুরুত্ব কমানোর জন্য সানায় একটি সুবিশাল গির্জা নির্মাণ করেছিলেন। যখন আরবরা তা অবমাননা করে, তখন সে পবিত্র কাবাঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটি বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করতে আসে।
    • আল্লাহর কুদরত: আবরাহার বাহিনী যখন কাবা আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে ছোট ছোট পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করে পুরো বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন।
  • রুহুল কবির রিজভীর সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    রুহুল কবির রিজভীর সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর মাইকেল মিলার।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর তিনটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান এবং বৈঠকে রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন এবং চলমান উন্নয়ন কাজ আরো গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

    এছাড়াও এ বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও স্হানীয় নির্বাচন এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশন নিয়েও আলোচনা করেন।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিস কামিলা পার্টিকা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম, এপিএস জাহেদুল আলম।

  • ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

    ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

    দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

    একই সাথে নাগরিক জীবনের সংকট নিরসন এবং জনগণের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে সফলভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় ধাপে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা এবং শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও এতে তুলে ধরা হবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন শেষে তা কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও বলেন, লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা সৃষ্টি করা হবে না বলে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোনো পক্ষ থেকে লংমার্চে অপতৎপরতা চালানো হলে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করে লংমার্চ সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য আপাতত সহনশীল কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। কিন্তু সরকারের আচরণে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি জনগণের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে ১১ দলীয় ঐক্য নীরব থাকবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে দেশবাসী হতভম্ব, স্তম্ভিত এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

    প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সফরে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদনমূলক সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সংসদের আসন্ন চতুর্থ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। অধিবেশনের আগে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ আবারও বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

    গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর যাওয়ার সময় কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরাএ ধরনের কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

    তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ লংমার্চে অংশ নেবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে আমি গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    লংমার্চের কর্মসূচির স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থানের সুযোগ-সুবিধা ও প্রবেশপথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা স্কুল এলাকায় স্থান সংকুলান ও প্রবেশপথের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যারা অভিযোগ করছেন, তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের অংশ নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের সংগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক নাগরিক, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

    এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ; এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আবু জাফর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ; এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী; এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন; বিডিপির সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রভাতী ট্রেন চান যশোরবাসী

    প্রভাতী ট্রেন চান যশোরবাসী

    রাজধানী ঢাকায় জরুরি দাপ্তরিক কাজ, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যেতে হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে কাজের সময়ের সমন্বয় না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এক দিনের কাজ সারতে দুই দিন ব্যয় করতে হয়। বাড়তি সময়ের পাশাপাশি গুনতে হয় অতিরিক্ত যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ। এমন পরিস্থিতিতে যশোর, বেনাপোল, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু হবে, যাতে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরে আসা যায়। এ প্রত্যাশা পূরণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসক, যশোরের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেলযাত্রার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে বর্তমানে চলাচলকারী ট্রেনের সময়সূচির কারণে যাত্রীরা রাজধানীতে গিয়ে একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফেরার সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও তাঁদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

    বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কাজ, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াতকারীদের জন্য উপযোগী সময়সূচিতে ট্রেন না থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষ পদ্মা সেতু রেলপথে ঢাকায় যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    কমিটির মতে, বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে সকালে ঢাকাগামী প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু করা হলে যাত্রীরা দিনের কাজ শেষ করে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। এতে কর্মঘণ্টা ও অর্থের সাশ্রয় হবে, কমবে অতিরিক্ত অবস্থানের প্রয়োজন। পাশাপাশি বেনাপোল স্থলবন্দর এবং যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে। ঢাকামুখী মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।

    স্মারকলিপিতে সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু; ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ; আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি এবং মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি সংযোজন, ট্রেনের সাধারণ ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা; অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। এ ছাড়া দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ফুল, ফল, সবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি যুক্ত করা হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারবেন। অন্যদিকে, সাধারণ শ্রেণির বগি ও সাশ্রয়ী ভাড়ার ব্যবস্থা থাকলে স্বল্প আয়ের মানুষও রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। অনলাইন টিকিটের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার বা অনলাইন নিবন্ধনে সমস্যায় পড়া যাত্রীরাও সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।

    কমিটি জানায়, এসব দাবির বিষয়ে এর আগে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট নিরসন, যাতায়াত ব্যয় কমানো এবং রাজধানীতে গিয়ে একই দিনে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টিতে ছয় দফা দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

  • কুমিল্লায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার

    কুমিল্লায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কটকবাজার এলাকা থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় পুরোনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও ম্যাগাজিন দুটি পাওয়া যায়।

    উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগাজিনের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র মামলা দায়েরের মাধ্যমে তা হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষা, অপরাধ দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর ভূমিকা পালন করছে।’ এ,আর

  • আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি, সরকারও বিব্রত হবে: রিজভী

    আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি, সরকারও বিব্রত হবে: রিজভী

    আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে বিব্রত ও ভীত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগের সুযোগ দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।

    তবে সস্তা বাহবা বা কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে বক্তব্য দিলে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলবে।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তরুণদের দক্ষ করে দেশের উৎপাদন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা বিএনপির লক্ষ্য। জাতির পুনর্গঠনে তরুণদের বিশৃঙ্খলার অংশ না করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    তারেক রহমানের ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র্য কমবে বলে অর্থনীতিবিদদের গবেষণার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।

    বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের সময়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছিল।

    যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে তিনি আশা করেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজীপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক জনের যাবজ্জীবন

    গাজীপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কওমি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো: ফারুক মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো: হাবিবুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ফারুক পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মধ্যপাড়া শুকুরের চালায় নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সে কালিয়াকৈর উপজেলার বান্নারা রাহে জান্নাত মাওয়া কওমি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক ও তার সহযোগীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আছমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

    মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন পুলিশ ফারুক ও অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ফারুক ২০১৮ সালের ২০ জুন জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেন। তবে হাবিবুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়।

    গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো: আবু তাহের নয়ন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। বর্তমান বিচারক মামলাজট কমানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আমরা আশাবাদী।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।’

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক ফারজানা ফেরদৌস গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ছিলেন। তিনি যোগদানের সময় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। যোগদানের পর প্রায় এক মাসের ব্যবধানে তিনি ১২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ও বহুল আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বাদী ও বিবাদী পক্ষ আপসে আগ্রহী হলে আইনসম্মতভাবে সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিপুলসংখ্যক মামলার জটের মধ্যে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়লে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, সময় ও অর্থের ব্যয় কমবে। একই সাথে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ,আর

  • রামগড়ে দরিদ্র পরিবারের পাশে বিজিবি

    রামগড়ে দরিদ্র পরিবারের পাশে বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির রামগড়ে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৩ ব্যাটালিয়ন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রামগড় জোন সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা তুলে দেন জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আহসান উল ইসলাম। এ সময় ৪৩ বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি জানায়, সহায়তার মধ্যে ছিল বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তা। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী এবং অসুস্থ ও দুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়।

    বিজিবি আরো জানায়, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আহসান উল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাও আমাদের দায়িত্ব। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি সব সময় কাজ করে যাবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলবে।’ এ,আর

  • কুড়িগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩

    কুড়িগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মনিকা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাটির চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ত‌বে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী বিদ্যা কানন স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি নাইট কোচ পেছন থেকে যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চারজন যাত্রী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু মনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহ‌তের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কু‌ড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর শাহে নেওয়াজ জানান, হাসপাতালে তিনজন এসেছিল, এর মধ্যে এক শিশুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি আমরা। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    কু‌ড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

    ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তহিরুলকে (৪৬) এক বছর এবং সেন্টু (৫৮), সজীব (৩৬), মহিদুল (৫০) ও মতিয়ারকে (৩৭) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ভেড়ামারার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা: গাজী আশিক বাহার। অভিযানকালে ভেড়ামারা থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও ইউএনও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও আমিরুল বলেন, ‘মাদকের মরণকামড় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে আমাদের এ উদ্যোগ। মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ আপোষহীন সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • সাঘাটায় নতুন আসমানি নিঃসন্তান দম্পতি

    সাঘাটায় নতুন আসমানি নিঃসন্তান দম্পতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একবেলা রান্না করে খেতে হয় তিন বেলা। সকালে ভাত জুটলেও রাতে খেতে হয় পান্তা। কখনো আবার অনাহারেই কাটে দিন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, তার ওপর অসুস্থতা। নেই চিকিৎসার টাকা, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা। জীবনের শেষ সময়ে এসে অভাব-অনটনে দিন কাটছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি নুরজাহান বেগম (৪৯) ও হাবিজার রহমানের (৫৩)। এ যেন রসুলপুরের সেই রহিম উদ্দীনের বাড়ীতে অসহায় দম্পতি আসমানি ।

    একসময় কৃষিশ্রমিকের আয়ে কোনোরকমে চলত সংসার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এখন বন্ধ উপার্জনের পথ। প্রতিবেশীদের সামান্য সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা। শেষ বয়সে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন এ দম্পতি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে রান্না করছেন নুরজাহান বেগম। এই রান্না দিয়েই চালাতে হবে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার। অভাবের সংসারে প্রতিদিন রান্না করার সামর্থ্য নেই তাদের। একবার রান্না করে তিন বেলা খেতে হয়। খাবার জুটলে খাওয়া হয়, না জুটলে থাকতে হয় অনাহারে। সংসারে নেই কোনো সন্তান। অসুস্থতার কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখন অসহায়। একদিকে খাবারের সঙ্কট, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাব সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

    স্থানীয় অনেকেই জানায়, হাবিজার রহমান একসময় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের পথ। অন্যদিকে পায়ে আঘাত পাওয়ায় নুরজাহানের স্বাভাবিক চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার টাকা না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। প্রতিবেশীদের কেউ সহযোগিতা করলে ওষুধ কেনা হয়, অন্যথায় বিনা চিকিৎসায় থাকতে হয়।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘গতকাল সকালে ভাত রান্না করেছিলাম। কিছু ভাত রাতে খেয়েছি। একবার রান্না করে তিন বেলা খেতে হয়। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। ছেলে-মেয়ে নেই। শেষ বয়সে এসে অনাহারে মরতে হচ্ছে। আপনারা একটু আমাদের দিকে তাকান।’

    হাবিজার রহমান বলেন, ‘স্ত্রী অসুস্থ, ওষুধ কেনার টাকা নেই। এক বেলা খেলে আরেক বেলা উপোস থাকতে হয়। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। পাশের বাড়ির সাহাবুল মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা দেন। তারও সংসার আছে। আপনারা যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।’

    গাছাবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, ‘নুরজাহান ও হাবিজার অনেক কষ্টে দিন কাটান। আমরা মাঝে মাঝে সহযোগিতা করি। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহাবুলও তাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেন। এভাবেই কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা। বিত্তবানরা পাশে না দাঁড়ালে তাদের কষ্টের অবসান হবে না।’

    স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘তারা না খেয়ে আছেন শুনলে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। যখন যা পারি, খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে আসি। কিন্তু আমাদেরও সংসার আছে। একার পক্ষে তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। সবাই মিলে এগিয়ে এলে পরিবারটির কিছুটা কষ্ট লাঘব হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘তাদের অবস্থা এমন যে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। অভাবের সংসার, দেখার মতো কেউ নেই। ছেলে-মেয়েও নেই। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরত।’

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। বিভিন্ন ভাতার মাধ্যমে সহযোগিতা করারও উদ্যোগ নেব।’

    সাঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। এখন জানলাম। তাদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’

    নিঃসন্তান এ দম্পতির কষ্ট লাঘবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা ও মানুষের মানবিক উদ্যোগে নুরজাহান ও হাবিজারের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। এ,আর

  • রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

    রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

    আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা।

    সোমবার পবিত্র রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

    তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    আমদানিকারকদের হিসাবে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাদের দাবি, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খেজুর আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    আমদানিকারকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে জটিলতা অব্যাহত থাকলে পণ্য সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের ক্ষেত্রে একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

    আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তাদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় শুল্কের পরিমাণ ও সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। আমদানিকারকদের যুক্তি, উচ্চ শুল্কের কারণে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

    আমদানি শুল্ক নির্ধারণের দায়িত্ব এনবিআরের হলেও এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, এ-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    আমদানিকারকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    রমজান সামনে রেখে আমদানি বেড়েছে

    পবিত্র রমজান সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

    এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের ৭ লাখ ৫ হাজার টনের তুলনায় ১ লাখ ১৮ হাজার টন বেশি।

    ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

    চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। এ সময়ে চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।

    রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন। এ সময়ে ছোলা আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।

    অন্যদিকে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। মসুর ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।

    এ সময়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার টন।

    বৈঠকে ব্যবসায়ীদের সময়মতো পণ্য আমদানি ও বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, এ জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের আমদানির প্রস্তুতি ও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সংকটে ছোট ডাল মিলগুলো

    ব্যবসায়ীরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে ছোট ডাল মিলগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় নানা সমস্যার কথাও বৈঠকে উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চায় রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক থাকুক। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। দেশে ছোলার চাহিদা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। আর ডালের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ডাল মিলগুলো এখন আর ব্যবসা করতে পারছে না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝতে হবে।

    হাজী নেসার উদ্দিন আরও জানান, বৈঠকে খেজুর ব্যবসায়ীরা আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

    রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

    বৈঠকে পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারগুলোতে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানান তারা।

    প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তন আসায় ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে, যার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে।

    তারা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।

    আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

    বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে।

    এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহের ওপর নজর রাখা প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

  • ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছিন আরাফাত গরুর খামারে বিপ্লব

    ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছিন আরাফাত গরুর খামারে বিপ্লব

    পড়াশোনা করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যস্ত থাকার কথা ছিল ফাইবার, সুতা, কাপড় কিংবা তৈরি পোশাক প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। কিন্তু প্রথাগত চাকুরির পেছনে না ছুটে তিনি বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী পথ। কাজ করছেন গরু, দুধ, ঘাস, গোবর, বায়ুগ্যাস, দই ও ঘি নিয়ে। আর এই ভিন্নধর্মী পেশায় গিয়ে অর্জনে যোগ করেছেন অভূতপূর্ব সাফল্য। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ও সফল খামারি মো. ইয়াছিন আরাফাত। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন বন্দরনগরী ভৈরব বাজারের শহীদ আশুরঞ্জন সড়ক এলাকায়।

    তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তার পিতা, এলাকার প্রখ্যাত শিল্পপতি, বিশিষ্ট দানবীর ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব মো. ফজলুর রহমানের মেধা, শ্রম ও অনুপ্রেরণা। যাকে সবাই ভালোবেসে এবং শ্রদ্ধা করে ডাকেন ‘বস্ ফজলু ভাই’ নামে। পিতা ও পুত্রের এই যুগলবন্দী উদ্যোগে কুলিয়ারচর ও ভৈরব অঞ্চলে সূচিত হয়েছে এক নতুন কৃষি-শিল্প বিপ্লব।জাতীয় বস্ত্রপ্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (এনআইটিইআর) থেকে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর নিজ জন্মভূমি কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে পিতা ফজলুর রহমানের অনুপ্রেরণায় নিজেদের ৩ একর জমির ওপর ২০১৮ সালে মাত্র ৪টি গাভী নিয়ে ‘বস্ এগ্রো ফার্ম’ নামের একটি ডেইরি খামার গড়ে তোলেন ইয়াছিন আরাফাত। তার সততা ও নিরলস পরিশ্রমে সেই ছোট্ট খামারটি আধুনিক উপায়ে ৪টি বিশাল শেডে আজ দেশি-বিদেশি জাতের দেড় শতাধিক গরুর এক বিশাল এগ্রো ফার্মে রূপ নিয়েছে।

    বর্তমানে খামারের প্রায় ৭০ শতাংশ গরুই নিজস্ব প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত। এর মধ্যে ৩০-৩৫টি দুগ্ধজাত গাভী রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন ৫০০-৫৫০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে।শুরুতে খামারের উৎপাদিত দুধ বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। পরবর্তী ইয়াছিন আরাফাত ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায় একটি আধুনিক দই ও ঘি তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। বিএসটিআইসহ সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে বাজারজাত শুরু হয় “বস” দই ও ঘি। গুণগত মানের কারণে খুব অল্প সময়েই ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাড়া ফেলেছে এই ব্র্যান্ড।

    এছাড়াও প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় খাদ্যের মাধ্যমে শতাধিক পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়। শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতারা খামার থেকেই পছন্দমতো পশু কিনে নেন, যা থেকে অর্জিত হয় মোটা অঙ্কের মুনাফা।এদিকে তার এই খামার এবং কারখানায় দক্ষ-অদক্ষ প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা খামারের যত্ন-পরিচর্যা ছাড়াও দই, ঘি তৈরি ও প্যাকেজিং কাজ করে থাকেন।

    ইয়াছিন আরাফাতের এই সমন্বিত খামারে রয়েছে বহুমুখী আয়ের উৎস। খামারের ভিতর দেড় একর জায়গায় দৃষ্টিনন্দন দুটি পুকুরে মিশ্র মাছের চাষের পাশাপাশি হাঁস এবং আঙিনায় দেশীয় মুরগী পালন করা হচ্ছে। এসব মাছ ও মুরগিসহ খামারের চারপাশে রোপণ করা কলা, মরিচ, লেবু, আম ও জামগাছ থেকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ফলমূল, মাছ ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় আসছে। খামারের গোবর থেকে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করছেন তাদের নিজস্ব ১০ একর ধান ও ঘাসের জমিতে। খামারের গোবর ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বায়ুগ্যাস প্ল্যান্ট। বর্তমানে ৪টি চুলার পারিবারিক রান্না শেষে উদ্বৃত্ত গ্যাস ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় জেনারেটর বসিয়ে খামারের শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদা এই প্ল্যান্ট থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।মারের পশুগুলোর প্রতি ইয়াছিন আরাফাতের ভালোবাসা এতই গভীর যে প্রতিদিন তিনি খামারে এসে প্রতিটি পশুকে নিজ হাতে আদর-যত্ন করেন। খাবার খাওয়ান। চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেন। খামারকে ঘিরে গড়ে তুলা হয়েছে একটি আলিশান প্রাসাদ ও দৃষ্টিনন্দন পুকুর ঘাট।

    জানা যায়, কুলিয়ারচরের পশ্চিম ও দক্ষিণ কর্ণারের শেষ প্রান্তে ফরিদপুর গ্রামের মরহুম মো. শহিদ মিয়ার ছেলে মো. ফজলুর রহমান বেশি দূর লেখাপড়া করতে না পারলেও স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে জীবনের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বন্দরনগরী ভৈরবে ছেলে আরাফাতের নামে গড়ে তুলেছেন ‘আরাফাত কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ (বস্ মশার কয়েল) প্রাইভেট লিমিটেড, যার চেয়ারম্যান তিনি। কেমিক্যাল, কয়েল ও বিভিন্ন ফুড প্রডাক্টের ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করে ইতোমধ্যে তিনি দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন।তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, অত্যন্ত অমায়িক ও বিনয়ী একজন মানুষ। নিজের প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। এলাকার দরিদ্র, অসহায় মানুষ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের অকাতরে দান ও সহযোগিতা করে তিনি লাভ করেছেন সর্বজনীন শ্রদ্ধা।

    তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘সফলতার জন্য শুধু অভিজ্ঞতা নয়, পরম দক্ষতা এবং কাজের প্রতি মায়া ও ভালোবাসা প্রয়োজন। যারা এই খাতে আসবেন, তাদের আবেগ ও মমতা নিয়ে আসতে হবে।’

    কুলিয়ারচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বস্ এগ্রো ফার্মের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘বস্ এগ্রো ফার্ম আমাদের নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের বর্তমান উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই অর্জিত সাফল্য আমাদের সবাইকে মিলে ধরে রাখতে হবে।’

    কুলিয়ারচরসহ আশেপাশের এলাকায় পুষ্টির চাহিদা পূরণে ফার্মটির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, কুলিয়ারচর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দুধ, মাংস ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

    এছাড়া কুলিয়ারচরের অন্যান্য ডেইরি ফার্মের তুলনায় বস্ এগ্রো ফার্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেইরি পণ্যের পাশাপাশি মিষ্টি, দই ও ঘির মতো বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনেও প্রতিষ্ঠানটি অনন্য ভূমিকা পালন করছে।’

    ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. শাহীনুল হক জানান, একজন উচ্চশিক্ষিত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার খামার সেক্টরে এসে যে চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনন্য। শিক্ষিত তরুণরা এভাবে এগিয়ে এলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে বড় পরিবর্তন আসবে। আমাদের দপ্তর থেকে তাদের সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন আমিষ ও পুষ্টিকর খাবার। প্রকৌশলী হয়েও ইয়াছিন আরাফাত চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে নিরাপদ দুধ, দই, ঘি ও মাছ সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন।’

    পিতা ও পুত্রের এমন অনন্য উদ্যোগ কিশোরগঞ্জ জেলা ছাপিয়ে এখন সারাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক মহা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

  • নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকের বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তবে সম্প্রতি ছোটপর্দায় তার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে একই ধরনের একঘেয়েমি চরিত্রকে দায়ী করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনের অগ্রাধিকার ও জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

    টিভি নাটক, ওটিটি এবং সিনেমা—এই তিন মাধ্যমে তাঁকে সমান্তরালে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে সাদিয়া বলেন, ‘নাটকে ইতোমধ্যে কাজ কমিয়ে দিয়েছি। নাটকের এখনকার গল্পগুলো খুব একটা ভালো লাগছে না, মনের মতোও হয় না। একটা সময় স্ক্রিপ্ট এত ভালো লাগত যে কোনটা রেখে কোনটা করব, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। কিন্তু এখন যেসব স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, তা আর টানে না। একই ধরনের চরিত্রের বারবার পুনরাবৃত্তি বা একঘেয়েমি এড়াতেই মূলত নাটকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি।’

    তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য একই ছাঁচে আটকে না থেকে ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরা ভীষণ জরুরি। দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার তাগিদ থেকেই এখন বড়পর্দা, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও নতুন ঘরানার প্রজেক্টগুলোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন তিনি।

    নিজের স্বভাব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় সোজা কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের জটিলতা এড়িয়ে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাই আমার পছন্দ।’

  • পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা করার দাবি

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা করার দাবি

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে চারটি জোটের ৩৫টি শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তিন বছরের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

    এ সময় গার্মেন্টস শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি তোলা হয়।

    শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদের জন্য তিন বছরের একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগের গ্রেড প্রথা পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণ, মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    গ্রেড-২-এ মূল মজুরি ৩০ হাজার ও মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা।

    গ্রেড-৩-এ মূল মজুরি ২৫ হাজার ও মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন গ্রেড-৪-এ মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়।

    চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচসহ দৈনিক খাবারের ব্যয় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা।

    শ্রমিক নেতারা বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের ব্যয় আরও বেশি। এসব বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কোনোভাবেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয়।

    নাহিদুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অনেকে।

  • লন্ডনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

    লন্ডনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

    ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সংসদীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ফিলিস্তিনের শত শত সমর্থক। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও অবরোধ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়ির সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা এবং ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর অপরাধের নিন্দা জানানো বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে স্লোগান দেন এবং দখলদারিত্বের অবসান, বাড়িঘর ধ্বংস বন্ধ ও পশ্চিম তীরের অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    ‘পশ্চিম তীর থেকে হাত সরাও, বর্ণবাদী বৈষম্যের অবসান ঘটাও’—এই মূল স্লোগান সামনে রেখে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি সেনাদের হামলা বৃদ্ধি এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকা ঠেকাতে তারা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ইসরাইলের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    ফিলিস্তিনপন্থী কয়েকটি সংগঠনের জোটের আহ্বানে এই জরুরি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব সংগঠনের মধ্যে ছিল ফিলিস্তিন সংহতি অভিযান, ফ্রেন্ডস অব আল-আকসা, ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি ফোরাম, স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন, মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অভিযান।

  • মেট্রোরেল; হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

    মেট্রোরেল; হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

    মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিস্টেম প্যাকেজের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার মেট্রো রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে।

    এলঅ্যান্ডটির ঘোষণা অনুযায়ী, চুক্তি দুটিকে তাদের বড় অঙ্কের প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ৫ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির বেশি মূল্যের কাজের এই শ্রেণিতে পড়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-১-এর আওতায় তাদের পরিবহন ব্যবসা বিভাগ এ দুটি কাজের চুক্তি পেয়েছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমো করপোরেশন পুরো রেলপথে ট্র্যাক নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করবে। পাশাপাশি প্রকল্পের সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাও চুক্তির আওতায় রয়েছে।

    জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটিতে দুটি রুট রয়েছে। এর মধ্যে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্বাচল রুট অন্তর্ভুক্ত। পুরো প্রকল্পে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেমের কাজ করেছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি ওই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

    এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেছেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিকব্যবস্থার কাজ নির্ধারিত সময়ে এবং মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা লাইন-১ প্রকল্পেও কাজে লাগানো হবে। একাধিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মেট্রোর কাজও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান (ওইএম) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক ব্যবস্থার নির্বিঘ্ন সমন্বয় ও বাস্তবায়নে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এলঅ্যান্ডটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    লাইন-১-এর গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলোর নির্মাণ ও স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কর্মীদের বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন মালিক

    কর্মীদের বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন মালিক

    চীনে নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাতায়াতের কষ্টের কথা ভেবে কয়েকজন কর্মীকে নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিয়েছেন এক রেস্তোরাঁমালিক। চীনের হেনান প্রদেশের জিয়াওজুও শহরে গরুর মাংসের হটপট রেস্তোরাঁর একটি চেইন পরিচালনা করেন মা ইয়ানলি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বৈদ্যুতিক স্কুটারে কাজে যাতায়াত করেন।

    শীত, বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ায় তাঁদের ভোগান্তি দেখে তিনি এই উদ্যোগ নেন।গত ২৪ সেপ্টেম্বর কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিএমডব্লিউর একটি শোরুমে যান মা ইয়ানলি। কর্মীদের বলা হয়েছিল, সেখানে একটি বৈঠক হবে। কিন্তু শোরুমে পৌঁছানোর পর তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের নতুন গাড়ি উপহার দেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ চীনা ইউয়ান বা ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কর্মীদের উপহার দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই গাড়িগুলো কিনেছিলেন মা ইয়ানলি।

    উপহার পাওয়া কর্মীদের একজন লি জিয়ে বলেন, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত! আগে কখনো এমন কিছু পাওয়ার কথা ভাবতেও সাহস করিনি।’ তিনি জানান, বিএমডব্লিউর শোরুমে যাওয়ার পথে মা ইয়ানলি তাঁকে বলেছিলেন, একটি বড় খেলনা উপহার দেবেন।

    কর্মীর লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে উদ্যোগ

    কর্মীদের এমন উপহার দেওয়ার পেছনের কারণও জানিয়েছেন মা ইয়ানলি। একদিন ঠান্ডার মধ্যে যাতায়াত করে কাজে ফেরার পর এক কর্মীর মুখ লাল হয়ে যেতে দেখেছিলেন তিনি। ঘটনাটি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।

    মা ইয়ানলি প্রশ্ন তোলেন, তিনি নিজে যখন আরামে যাতায়াত করতে পারেন, তখন কর্মীদের কেন এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কর্মীদের প্রতি তাঁর এই মনোভাব থেকেই গাড়ি উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

    ব্যবসার সাফল্যে কর্মীদের অবদান

    নিজের প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের সম্মিলিত অবদান রয়েছে বলে মনে করেন মা ইয়ানলি। তাঁর বিশ্বাস, ব্যবসা ভালো করলে কর্মীদেরও সেই সাফল্যের সুফল পাওয়া উচিত। কর্মীদের গাড়ি উপহার দেওয়াকে সেই ভাবনারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই কর্মীদের প্রতি মালিকের উদারতা ও তাঁদের ভোগান্তি নিয়ে ভাবনার প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি কর্মীদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে তাঁদের অংশীদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • আসামে হোটেলে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা

    আসামে হোটেলে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে অতর্কিত বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

    গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকার জিএস রোডের হোটেল বিলাস ইনে সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে । এই ঘটনায় পুলিশ দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    গোলাগুলির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভারালি, তার ছেলে দেবর্ষী কাশ্যপ এবং তার গাড়ির চালক। আরেক আহত নারায়ণ দাসসহ তিনজন গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    পুলিশ গোলাগুলির ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করছে।

    প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, গোলাগুলির আগে চারজন হোটেলে এসেছিলেন।
    জানা গেছে, এই ঘটনায় সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয়। ঘটনার ক্রম এবং এতে জড়িতদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহান্ত হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • নবাবগঞ্জে মাচায় কেরালা সীম চাষ যুবক রাজুর

    নবাবগঞ্জে মাচায় কেরালা সীম চাষ যুবক রাজুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আগাম জাতের কেরালা সীম চাষ করে সাফল্যের আশা দেখছেন কৃষক রাজু আহমেদ (৪০)। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ১৩৩টি সীমগাছ রোপণ করে ইতোমধ্যে ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে তার গাছে থোকায় থোকায় সীম ধরেছে। বাজারে প্রতি কেজি সীম ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়ার আশা করছেন এ কৃষক। বাজারদর ভালো থাকলে এ চাষ থেকে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

    উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের পাঁচগাছি ব্লকের মালদহ গ্রামের কৃষক রাজু আহমেদ প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে ব্যতিক্রমী কৌশলে সীমগাছের মাচা তৈরি করেছেন। তার দাবি, এ মাচায় সহজে সীম সংগ্রহ করা যায় ও গাছের পরিচর্যাও সহজ হয়। সীমের মৌসুম শেষ হলে একই মাচায় লাউ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বাড়তি খরচ ছাড়াই পরবর্তী ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

    কৃষক রাজু আহমেদ জানান, ২০ শতাংশ জমিতে ১৩৩টি কেরালা সীমগাছ চাষ করতে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, পরিচর্যা ও অন্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। রোপণের ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এ চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে একবার সীম সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তার গাছে প্রচুর সীম ধরেছে। বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে সীম বিক্রি করছেন তিনি।

    রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে একটু ব্যতিক্রমভাবে মাচা তৈরি করেছি। এতে সীম সংগ্রহ ও গাছের পরিচর্যা করা সহজ হচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ সীম চাষ করেছি। বর্তমানে গাছে থোকায় থোকায় সীম ধরেছে। ইতোমধ্যে একবার ফলন তুলেছি। আশা করছি, আগামী তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাব। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব। সীমের মৌসুম শেষ হলে একই মাচায় লাউ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    স্থানীয় কৃষক সোহেল রানা বলেন, ‘অল্প জমিতে নতুন জাতের সবজি চাষ কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই মাচায় পরবর্তী ফসল উৎপাদন করা গেলে জমি ও উপকরণের ব্যবহারও বাড়বে। তবে ভালো ফলন ও লাভের জন্য সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি বাজারদরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’

    নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগাম জাতের সবজি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সীম অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন কেরালা, ইপসা ইত্যাদি জাতের সীম চাষ করা হচ্ছে। এ জাতের সীম আগাম আসায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি একই মাচায় পর্যায়ক্রমে ভিন্ন ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিক খুলে দিতে পারে। তবে এ চাষে রাজু আহমেদের প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে মোট উৎপাদন, উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ওপর। এ,আর

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মিস সুইজারল্যান্ডের

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মিস সুইজারল্যান্ডের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বেত্রিস কিউল। ডেমোক্রেটিক পার্টির তৈরি একটি প্রতিবেদনে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কিছুদিন আগে কিউল দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তাকে যৌনভাবে লাঞ্ছিত করেন। এবার তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাতেই ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ।

    এতে বলা হয়, সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট সদস্যদের তদন্তের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস প্রতিবেদনটির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্পের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্রেটদের মরিয়া চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

    তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে রিপাবলিকানদের যে গতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে মার্কিনিদের মনোযোগ সরাতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্রেট কমিটির কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, তার বয়স যখন ২৪ বছর, তখন নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।

    কিউলের অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) তার ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন বলেও জানান। প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখাশোনা করব।’

    সংবাদ প্রতিবেদন

    কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টেইন তার কাছে আসেন। নিজেকে তিনি ‘ডনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে পরিচয় দেন এবং মার-আ-লাগোয় একটি পার্টিতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এপস্টেইন তাকে বলেন, ‘ডনের সঙ্গে আমরা অনেক পার্টির আয়োজন করি।’

    ট্রাম্পের দাবি, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের অবসান হয়েছিল। তিনি এপস্টেইনকে বারবার বিকৃত রুচির লোক বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ডেমোক্রেটদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে আমন্ত্রণ জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভেতরে প্রবেশের পর ট্রাম্প পেছন থেকে কিউলকে ধরে ফেলেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ সৃষ্টি হয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিউল ঘটনাটিকে ‘নৃশংস’ ধর্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার অভিযোগ, হামলার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। পাশাপাশি তাকে ঘটনা গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন। ট্রাম্প নাকি বলেছিলেন, ‘অনুষ্ঠান চলতেই হবে।’

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেয়া প্রাথমিক অভিযোগে কিউল বলেন, ১৯৯৩ সালে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌনভাবে লাঞ্ছিত করেন। সে সময় ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন। আমার পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

    শরীরের যেদিকে পেরেছেন, সেদিকেই হাত দিয়েছেন ও স্পর্শ করেছেন।’ তবে তখন কিউল বলেছিলেন, ঘটনা এর চেয়ে বেশি দূর গড়ায়নি। তার ভাষায়, ‘আমি যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বলেছিলাম, ‘আগে কথা বলি’ বা এ রকম কিছু। এরপর তিনি থেমে যান।’

    ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক এই মডেল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার শারীরিক গড়নের কারণেই কথিত হামলাটি আরও গুরুতর পর্যায়ে গড়ায়নি।

    পত্রিকাটি আরও জানিয়েছিল, কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধু বলেছেন, ট্রাম্পের অনা কাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের ঘটনা তিনি ওই বন্ধুকে প্রথম জানিয়েছিলেন ২০ বছর আগে। এরপর থেকে ঘটনাটি বর্ণনায় তার বক্তব্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    ২০২৪ সালে ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, এপস্টেইন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণ করা হয়েছে’।

    তিনি বলেন, ‘এই “প্রতিবেদন” উন্মত্ত ডেমোক্রেটদের আরেকটি মরিয়া প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জনের কারণে রিপাবলিকানদের যে গতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে মার্কিনিদের মনোযোগ সরাতেই তারা এটি করছে।

  • অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেন নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন ভারতের অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে একের পর এক রেকর্ড গড়লেন বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত।

    এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

    শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে কিউই বোলারদের দিশেহারা করে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন এই ওপেনার। অভিষেকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীও। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

    ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল রেকর্ডময়। মাত্র ২.২ ওভারে ৫০ রান তুলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দলীয় অর্ধশতকের যৌথ রেকর্ড গড়ে তারা। এরপর মাত্র পাঁচ ওভারেই একশ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে ভারত। পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৮ রান। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।

    অভিষেকের সেঞ্চুরিও রেকর্ডের তালিকায় নতুন সংযোজন। ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করে ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়ও রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে আছেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি শতক আছে শুধু রোহিত শর্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের, দুজনেরই পাঁচটি করে। আর সব ধরনের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অভিষেকের সেঞ্চুরি এখন ১১টি। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন বাবর আজমের ১৩টি ও ক্রিস গেইলের ২২টি সেঞ্চুরি।

    এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফিন অ্যালেন ১৯ বলে ৪০ এবং বেভন জ্যাকবস ২৩ বলে ৩৯ রান করেন। তবে তাদের গড়া ১৯৮ রানের পুঁজি ভারতের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি।

In English

English edition · Older English stories