BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী , জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

    জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী , জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

    বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফয়সল বলেন, ‘ এইমাত্র ভোট দিলাম। এখনই পরিবেশ নিয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েদারটা একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

    রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

  • সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ে শতভাগ আশাবাদী দেলাওয়ার হোসেন

    সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ে শতভাগ আশাবাদী দেলাওয়ার হোসেন

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছেন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন দেলাওয়ার হোসেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, সবাই যেন ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সাহসের সঙ্গে ভোট দেন। পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে আগামী দিনের স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়তে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    পরিচয়পত্রে ছবি না থাকায় উদ্বেগ

    ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোট কেবল শুরু হয়েছে। তাই এখনই পরিবেশ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। আরও কিছু সময় গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

    তবে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার বিষয়টি তার নজরে এসেছে বলে জানান তিনি। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গলায় থাকা পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই। সেখানে তিনি শুনেছেন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রেও ছবি নেই। ছবি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। অন্য কেউ তার পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখতে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।

    সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক হলেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

    তিনি বলেন, আগের দিন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আজ অন্তত জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশা করছেন। সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি তার এই প্রত্যাশা রয়েছে।

    তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে দলীয় সরকারের অধীনে ভবিষ্যতের স্থানীয় নির্বাচনসহ অন্য নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এতে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন।

    বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

    বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ঘটনার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তিনি বলেন, গতকাল রাজাগাঁও ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে গভীর রাতে বাইরে বের করেন। পরে তারাই ওই কর্মীকে ধরে ভিডিও করেন। কিন্তু তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    দেলাওয়ার হোসেনের ভাষ্য, নিজেদের দলের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে ভোট চাওয়ার অভিনয় করানো, পরে তাকে ধরে টিকটকের মতো ভিডিও তৈরি করে আনন্দ-উল্লাস করার ঘটনা বিস্ময়কর। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে জনগণের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা তৈরি হবে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

    শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি জায়গায় তার দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে জানাবেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান দেলাওয়ার হোসেন। সে সময় জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাত মাসের মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। ফলে তার সামনে আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আগের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী তাকে ভালো ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তার সামনে সময় আছে এবং সেটিই ছিল তার নিজের শেষ নির্বাচন। এ কারণে এবার ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ তাকেই ভোট দেবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    নির্বাচন থেকে মাঝপথে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এবং বিজয় অর্জনের লক্ষ্যেই নির্বাচনে নেমেছেন।

    তবে ভোটের পরিবেশের ওপর তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, মাগুরা, শেরপুর বা বগুড়ার মতো নির্বাচন করার চেষ্টা হলে—যেখানে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে পুরো নির্বাচন দখলে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়—তখন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    অন্যদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের ফল মেনে নিতে হবে। তবে অনিয়ম ও কারচুপি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

    তিনি বলেন, সারা দেশে এবার একটিই নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখছে। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের ওপর আস্থা রাখতে চান।

  • বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    ঘটনার পেছনে মূল ইন্ধন কার ছিল, লাশ বাড়িতে না নিয়ে কেন ইউএনও অফিস বা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মানিক পশারীর লাশ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপরে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    তাদের দাবি, গত শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে আসার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং তারা দফায় দফায় লাশ দাফনে বাধা দেন। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম নাঈম বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং পাড়েরহাট বাজারে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

    অপরদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তারা জানাজা বা দাফনে কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর মরহুম নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর জুলুমের প্রতিবাদ হিসেবে মিথ্যা সাক্ষীর গেজেটভুক্তি নিয়ে ফুঁসে উঠে সাধারণ জনতা।

    সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, জনরোষ ও দাফনে বাধার নেপথ্য কারণ কী ছিল, পশারী আদৌ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কী না এসব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতেই বুধবার ভোরে পিরোজপুর প্রতিনিধিকে নিয়ে এ প্রতিবেদক পৌঁছান সদর উপজেলার শঙ্করপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। কথা হয় মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। পাশাপাশি কথা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি ও জামায়াত নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। তবে সংবেদনশীল এ ইস্যুর গভীরে যেতে প্রশাসনের অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

    জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান।

    ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মানিক পশারী আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

    মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া ও গেজেটভুক্তি নিয়ে এলাকায় রয়েছে তীব্র বিতর্ক। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক গতকাল বুধবার আমার দেশকে জানান, তিনি ৪০ বছর আগের নির্বাচিত কমান্ডার থাকাকালে মানিকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০১৭ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হওয়ার আট বছর পর মানিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।

    তবে ২০১৭ সালের তালিকার হালনাগাদের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বর্তমানে একটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রম সমাপ্তির পর যে নতুন গেজেট হবে, সেটা হবে চূড়ান্ত।

    এখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ বাদ পড়ে থাকলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আবার যদি কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকে, সে বাদ যাবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি যাচাই করে দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালের কাছে মানিক পশারী নিজেই স্বীকার করছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। ২০১১ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি; তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আউয়ালের (সাইদুর রহমান) দেওয়া একটি ডিও লেটারের (আধাসরকারিপত্র) মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; মূলত আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্রতিদান হিসেবেই তাকে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল।

    গার্ড অব অনারে জনরোষ

    ২৪ অক্টোবর দুপুরে মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এক অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে গার্ড অব অনারে বাধা দেন।

    মানিকের মেয়ে-জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় মৃত্যুর পর দুপুর ১২টায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ বা চা-পাতা ছাড়াই লাশ রাখা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দাফনের কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় লাশ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    নিজ গ্রামে দাফনে তীব্র বাধা

    পুলিশ লাইনস থেকে লাশ শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মানিকের মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে আল্লামা সাঈদীর ওপর জুলুম করা হয়েছিল এমন আবেগ ও ক্ষোভ থেকে স্থানীয় জনগণ তার জন্য খুঁড়ে রাখা কবর মাটি ও বাঁশ দিয়ে ভরাট করে দেয়।

    পাড়েরহাট বাজারে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মঈনের নেতৃত্বে পিরোজপুরে মানিককে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    রাতের আঁধারে দাফন সম্পন্ন ও গ্রামপুলিশের বয়ান

    গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়ে তিনি মানিক পশারীর বোনদের পান এবং তারা ও স্থানীয় দুই ব্যক্তি মিলে কবর খনন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই সময় নারীরা মাটি সরাচ্ছিলেন মাত্র। পরে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে জানাজায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নিজ এলাকায় তার জানাজাও হয়নি।

    পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান

    ঘটনার সময় খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন জানিয়ে মানিকের বোন হেনা পশারী জানান, তার ভাই ওই মামলার বিষয়ে কখনো কিছু জানাননি। তবে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। কিন্তু তিনি সে বক্তব্য অস্বীকার করেন। তবে তার আগের বক্তব্যের ভিডিওচিত্র সাংবিদিকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    ভাগনে আজিজুল জানান, দাফনের জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কবর তৈরি করে তারা খাবার খেতে গেলে তার বাবা ফোন করে জানান, লোকজন আসছে; ফলে ভয়ে তারা আর সেখানে যাননি।

    শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ইন্ধন প্রসঙ্গে বক্তব্য

    আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী গতকাল বুধবার বলেন, মানিক পশারী ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধ করেননি। তাহলে তিনি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন? তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবে তিনি ডিও লেটার নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং ১০ বছর ধরে জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদেই সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেখানে জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরাই দাফনের কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

    জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জহিরুল হক ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা লাশ দাফনে কোনো বাধা দেননি। তাদের আপত্তি ছিল মানিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে দাফনে বাধা দেওয়ার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

    পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপের এক গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র করে লাশটি ইউএনও অফিস ও পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছিল। আমি চাই, সরকারি পর্যায়ে প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক লাশ কীভাবে সদরে বা ইউএনওর কাছে এলো এবং এর পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল।

    থমথমে জনপদ

    সরেজমিনে চিথলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মানিকের বাড়ি এখন তালাবদ্ধ ও নির্জন। গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান, প্রতিবেশী সাফিয়া বেগম এবং আরিফ জানান, এলাকার সার্বিক পরিবেশ থমথমে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অজানা আতঙ্কে কথা বলতে চায় না কেউই।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগন বলছেন, পিরোজপুরের ঘটনাটি কেবল একটি দাফনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাময়িক উত্তেজনা নয়; বরং এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তার বিপরীতে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জনক্ষোভের এক জটিল প্রতিফলন।

    তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

    মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট দিলেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা

    ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট দিলেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

    সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এর কিছু সময় পর শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।

    ভোট প্রদান শেষে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

    অপরদিকে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো শঙ্কা নেই। আবহাওয়া জনিত কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশা রাখছি।’

    এদিকে বিএনপি-জামায়াত ব্যতীত অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে দুই প্রার্থী খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা না হওয়ায় তারা ভোটা দিতে পারবেন না। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম তার নিজ কেন্দ্র বড়গাওয়ে ভোট দিয়েছেন।

    ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।

  • ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একসাথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

    নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

    এর আগে বুধবারই নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে পৌঁছে দেয়া হয়।

    জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নেতানিয়াহু

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নেতানিয়াহু

    ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৮। আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।

    এর ফলে, আরব দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় আসার কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা নেই।

    আইজেনকোটের জোট প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়ায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এই পদে থাকতে পারেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তত্ত্ববধায়ক সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।

    বুধবার ভোরে নিজ দল লিকুদের সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পুনরায় চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নির্বাচনি ফলাফলের প্রশংসা করে দাবি করেন, তার সমর্থন এতে ভূমিকা রেখেছে।

    অন্যদিকে, আইজেনকোট সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ায় তার পূর্ণ রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তিনি দেশটির নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাবে ইসরাইলের আর্থিক বাজারেও চাপ দেখা গেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা শেকেলের দর প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে দাঁড়ায়। তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল ইসরাইলের ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থি রাজনীতির প্রভাব আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম নির্বাচন। গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ছিল নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

    নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিরোধী জোটের সরকার গঠনের জন্য তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যেতে অনাগ্রহী।

  • মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কর্মীপ্রতি সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ হতে পারে—এমন প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ শুরু করেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী। এতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের খরচ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা প্রয়োজন। তা না হলে এজেন্সিগুলো ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, আগের নির্ধারিত ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    গত ১৫ অক্টোবর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও আসে। তবে কর্মীপ্রতি মোট খরচ, বিভিন্ন ধাপের ফি এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।

    ব্যয় নিয়ে এজেন্সিগুলোর দাবি

    শ্রমশক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত আগের অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। ২০২২ সালেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এবারও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহে ব্যয় হতো

    ২-৩ হাজার রিঙ্গিত। এখন তা বেড়ে ৮-১০ হাজার রিঙ্গিত হয়েছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর হিসাবে এই ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কর্মীপ্রতি খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

    তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মোট অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ছিল পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি, কল্যাণ ফি, বিমা বা ইন্স্যুরেন্স ফি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্তরে দালাল ও এজেন্সির সিন্ডিকেটের জন্য ওই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের খরচ দাঁড়িয়েছিল ৫-৬ লাখ টাকা। অথচ নেপালের নাগরিকদের খরচ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ফিলিপাইন নাগরিকদের খরচ হয় পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-এজেন্সির তালিকাভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। আরো পাসপোর্ট সংগ্রহ চলছে। তার দাবি, আগ্রহীদের অন্তত সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত না হওয়ায় এই অঙ্ক আরো বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদেরও অর্থ দিতে হয়। ফলে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কম খরচে কর্মী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তার আশঙ্কা, বর্তমান প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মীদের জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত বলেও মনে করেন তিনি।

    কর্মীদের দুশ্চিন্তা

    এদিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের আলমাছ আলী গ্রামে মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আড়াই বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত লাখ টাকার বেশি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

    ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা মুন্না মিয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবর দেখে পরিচিত একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মুন্না বলেন, এবার খরচ বেশি হবে জানিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

    সরকার নির্ধারণ করবে নতুন ব্যয়

    মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

    তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে তাদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং অথবা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়। তবে কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের নির্ধারিত ব্যয় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও একটি এজেন্সির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের সুযোগ ছিল। এরপরও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো যায়নি। এজেন্সি মালিকরা যেন কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয় এজন্য নতুন করে আরেকটি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।

    ওইপি ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে পুরো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত।

    তার মতে, মূল এজেন্সি ও সাব-এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ওইপি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    এখনই যারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাসপোর্ট জমা দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা যাচাই এবং প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না এবং এটা কেউ মানেনি। সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করা হবে।

    আগেও বেড়েছিল ব্যয়

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর ২০২২ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।

    ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়। সে সময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার চালুর পর প্রথমে ২৫টি এবং পরে ১০১টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তখনও কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছায়।

  • ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও এখনো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি সামষ্টিক অর্থনীতি। জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে আমদানির চাপ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উচ্চ। বিনিয়োগে কোনো সুখবর নেই। রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি। কর্মসংস্থানেও উন্নতি নেই।

    ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করে অর্থ বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আহ্বান করেছে অর্থ বিভাগ। সভায় অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনু বিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক সভাপতিত্ব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারের ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর বিবেচনা করে জুলাই-মার্চ মেয়াদি ৯ মাসের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব করা হবে।

    বিবিএসের তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এলেও তা এখনো আট শতাংশের ওপরে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশে আটকে আছে। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির ধারা শ্লথ। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ নেমেছে নিম্নতম স্তরে। ফলে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমন বাস্তবতায় বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগামী দিনে কোন খাতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজনÑসে বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

    বাড়ছে জ্বালানি আমদানির চাপ

    গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয়ের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫.১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে বাড়তি ডলারের চাহিদা, রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় এখন সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

    সবশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩২ শতাংশে উঠেছে। আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ।

    প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা

    অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা প্রবৃদ্ধিতে। বিবিএসের সবশেষ সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি এখনো আগের দশকের ছয় শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধির এই ধারা শ্লথ।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৫০ শতাংশ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক অর্থবছরে প্রায় আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

    তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। আইএমএফ চলতি সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আর্থিক, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপের কথা বলেছে। বিশ্বব্যাংকও অর্থনীতিতে ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের চাপ ও দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    বিনিয়োগে স্থবিরতা

    অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাগুলোর একটি এখন বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ। এর আগে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    কর্মসংস্থানে বাড়ছে চাপ

    অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির আকার সাত কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। আর প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর প্রায় ১৩-১৪ লাখ নতুন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
    ২৮ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট:
    জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে তাদের কর্মসূচিতে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিহত হন। ওই সময়ের সংঘর্ষের পর মরদেহের ওপর উল্লাসের দৃশ্য গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। তাদের অভিযোগ, মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার উদ্যোগ থাকলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
    প্রতিবছর ২৮ অক্টোবর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ঘটনাটি স্মরণ করেন এবং বিচারের দাবি জানান।

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি
    আলোচনা সভায় সাদিক কায়েম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ওই দিনের নৃশংসতার অভিযোগই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট কারণ।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পেছনে বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন ডাকসু ভিপি।

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

  • ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মৃত নারীদের মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার ও ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন ‘আলাপ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি দিপু সিকদার। এই হুমকির ঘটনার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ওই সাংবাদিক।

    জিডিতে সাংবাদিক দিপু সিকদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে মর্গের ভেতরে চলা নারকীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার পর থেকেই তাকে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, বরং মর্গের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

    হুমকির মূল হোতা হিসেবে মর্গের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী নূরে আলম শান্তর নাম উল্লেখ করেছেন দিপু সিকদার। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সাবেক মর্গ সহকারী শান্ত ফোন করে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন। এমনকি একপর্যায়ে ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে দিপুর ফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠান শান্ত।

    এর আগে গত ১৮ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘আলাপ’-এর মূল ওয়েবসাইট ও অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে ‘ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?’ শিরোনামে ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ওপর চালানো চরম বিকৃত যৌনাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদনটির বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি অভিযুক্ত দুজনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লাল এবং অন্যজন চাকরিচ্যুত মর্গ সহকারী নূরে আলম শান্ত। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তৎপরতা শুরু হয়।

    এদিকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক দিপু সিকদারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা, গোপন অনিয়ম উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য হাতিয়ার। পেশাগত দায়িত্ব পালনের দায়ে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি বা হয়রানির শিকার হতে হওয়া মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    সংগঠনটির সদস্য দিপু সিকদারের তোলা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ক্র্যাব। পাশাপাশি অভিযোগকারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

  • ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবর কিংবা চিতা। মৃত মানুষকে সব সমাজেই সম্মানের সাথে বিদায় দেওয়া হয়। এটাই সভ্যতার রীতি।

    কিন্তু মৃত্যুর পরও যদি একটা মরদেহ কারও যৌন লালসার শিকার হয়, তাহলে মরদেহের নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ‘আলাপ’এর অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা অস্বস্তিকর, ভয়াবহ এবং বিকৃত মানসিকতার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

    বিষয়টার নাম নেক্রোফিলিয়া। বাংলায় বলা হয় মৃতকামিতা, মানে মৃতদেহের প্রতি যৌন আকর্ষণ। একজন নারীর মরদেহ মর্গে পড়ে আছে আর এক বা একাধিক লোক তার সাথে যৌনাচার করছে!

    ব্যাপারটা ভাবতেই রাগে শরীর জ্বলে ওঠে, গা ঘিনঘিন করে। কিন্তু এটা সম্ভব, এবং বাংলাদেশেই ঘটছে। এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে, গ্রেফতারও হয়েছে ।

    পৃথিবীর এক কুখ্যাত অপরাধী

    বাংলাদেশের ঘটনায় যাওয়ার আগে একজন কুখ্যাত অপরাধীর কথা জেনে নিই, যিনি নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

    তার নাম জেফরি ডাহমার, বিশ্ব তাকে চেনে ‘মিলওয়াকি ক্যানিবাল’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে তিনি ১৭ জন তরুণ ও কিশোরকে হত্যা করেন।

    জেফরির অপরাধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলো একটি ছিলো তীব্র নেক্রোফিলিয়া। হত্যা করেই ক্ষান্ত হতেন না, মৃতদেহের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন আর লাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করে নিজের বাসাতেই রেখে দিতেন।

    জেফরির নেক্রোফিলিয়া পেছনে ছিলো চরম একাকিত্ব, ছেড়ে যাওয়ার ভয় ও নিয়ন্ত্রণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তিনি এমন সঙ্গী খুঁজতেন যে তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না, তর্ক করবে না এবং পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জীবিত কারো পক্ষে এভাবে নিজেকে সঁপে দেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি হত্যা করতেন আর মৃতদেহের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ খাটাতেন।

    পদ্ধতিটা ছিল এমন: প্রথমে ভুক্তভোগীদেরকে অচেতন করতেন, পানীয়ের সাথে উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিতেন, তারপর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতেন। তারপর দিনের পর দিন মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম করতেন। লাশ যাতে পচে না যায়, সেজন্য কখনো কখনো ফ্রিজে রেখে দিতেন।

    শেষ পর্যন্ত পুলিশ জেফরিকে ধরে জেলে পাঠায়। ১৯৯৪ সালে কারাগারের ভেতরেই এক কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদি তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

    জেফরির মতো আরো বহু মানুষ আছে পৃথিবীতে। কেউ ধরা পড়লে কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর অন্য ঘটনার আড়ালে চাপা পড়ে।

    ঢাকার এক মধ্যরাত

    ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাস। ঢাকা উত্তর সিটির একটি বাসায় মধ্যরাতে পুলিশ এসে হাজির। তাদের কাছে খবর ছিলো, ওই বাসায় থাকা এক নারীর কোন খোঁজ মিলছে না। পুলিশের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে ফেলা হলো ঘরের দরজা। ভেতরে পাওয়া গেল সেই নারীর মৃতদেহ।

    তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিলো সেটি এই গল্পের বিষয় নয়। গল্প হলো লাশ মর্গে নেবার পর কী ঘটেছিলো।

    সে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। খুব জরুরী বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছাড়া রাতে মর্গে ময়নাতদন্ত হয় না। তাই ময়নাতদন্ত না করে মরদেহটি রেখে দেয়া হয় হিমঘরে।

    এরপর নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন এলো। তাতে বলা হলো, সেই নারীর মৃত্যু ছিলো স্বাভাবিক, মানে হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা নয়। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো।

    কিন্তু একই সাথে মরদেহটি নিয়ে হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে কিছু সন্দেহ দেখা দেয়। অনুসন্ধানের মূল পর্বের শুরু এখান থেকেই।

    সন্দেহের কারণে মরদেহের ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় কিছু নমুনা পাঠানো হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি’র রাসায়নিক পরীক্ষাগারে। আর সেখানেই ধরা পড়ে, ওই নারীর মরদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি।

    মৃতদেহে শুক্রাণু এলো কিভাবে? প্রশ্নটি হাসপাতালের ফরেনসিক চিকিৎসকদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মরদেহটি ছিল হাসপাতালের মর্গে। তাহলে মর্গে কী করে এই ঘটনা ঘটলো?

    আর এটি একবারের ঘটনা নয়। এর কয়েকমাস আগেও এমন ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছিলো।

    একই মর্গে আরেকটি ঘটনা

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকাতে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তারও মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। যতদূর জানা যায়, সেদিন ময়নাতদন্ত শেষ হয়নি বলে লাশ মর্গেই রাখা ছিলো।

    ময়নাতদন্তের সময় ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পরে। সিআইডি’র ল্যাব পরীক্ষায় ওই নারীর মরদেহে একাধিক পুরুষের শুক্রাণু মেলে। ওই প্রতিবেদনের কপি আলাপ-এর কাছে রয়েছে।

    শুধু এই দুটো নয়, আরো তিনটি ঘটনার নথি বিশ্লেষণ করে, ফরেনসিক চিকিৎসক আর সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে কথা বলে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এ ধরনের যৌনচারের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    একবার নিজেকে এসব মৃত নারীদের স্বজনদের জায়গায় ভাবুন। ক্ষোভ, রাগ আর কষ্টের সীমা থাকবে না, অথচ কিছু করার নেই। সরকারি হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীর সাথে কেউ এমন কিছু করবে, এ আপনার কল্পনারও বাইরে।

    ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখ কপালে

    সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোরও একটি। এখানকার ঘটনাগুলো থেকে দেশের সব মর্গে মৃতদেহের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে আসে। এসব ঘটনা যখন প্রকাশিত হয় তখন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাও বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন চিকিৎসক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানান, গত এক বছরে ময়নতদন্তের সময় বেশ কয়জন নারীর মরদেহে তারা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি পেয়েছেন। তাদের মতে, সবকিছু বিবেচনা করলে এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে এই মর্গেই লাশের সঙ্গে যৌনাচার হয়েছে।

    এমনকি নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত, কাগজপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনাও তাদের নজরে এসেছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগ আর কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। এ কারণে কেউ কেউ তাদের ওপর ক্ষিপ্তও হয়েছে ।

    অভিযোগ রয়েছে, আগের মর্গ প্রধানের লোকজন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ঘুরিয়ে ‍দিতেও পরোক্ষভাবে চাপ দিয়েছে। একাধিক চিকিৎসক এটাও বলেছেন, ফরেনসিক বিভাগের দুজন মেডিক্যাল অফিসার মর্গের ওই সিন্ডিকেটকে সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছিলেন।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ যা বলছে

    মৃতকামিতার এসব ঘটনায় কলেজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কারণ, একই ঘটনা আগেও ঘটেছে এখানে।

    লাশকাটা ঘরে দিনে একাধিক মরদেহের পোস্টমর্টেম হয়। তবে মরদেহগুলো হাসপাতালে আসা মাত্রই পোস্টমর্টেম করা হয় না। মর্গে পৌঁছানোর পর একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হয়, পোস্টমর্টেমও তত দ্রুত হয়। দেরি হলে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। পরিচয়হীন, বেওয়ারিশ বা নানা জটিলতার কারণে কিছু মরদেহ দিনের পর দিন হিমঘরে পড়ে থাকে। আর মৃতকামিতার এই অপরাধগুলো ঘটে মর্গের ভেতরেই।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. অধ্যাপক মো. আঈনুল ইসলাম খান বলেন, ফরেনসিক চিকিৎসকদের কাছ থেকে মরদেহের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিলো। এরপর তদন্ত শুরু করে একটি প্রতিনিধিদল।

    প্রথমেই তদন্তকারীরা খোঁজ করেন সিসিটিভি ফুটেজের। কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময়ের কোনো ফুটেজ নেই, কারণ কেননা অপরাধীরা আগেই ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলেছিলো।

    প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও নেক্রোফিলিয়ার ঘটনাগুলো আরো সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে সুক্ষ করে দেখা হচ্ছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এই গুরুতর অভিযোগে মর্গ সহকারী শান্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার আগে মর্গ ইনচার্জ যতনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিরপুরে ডেন্টাল কলেজে ফিরিয়ে নিয়েছে। তার সময়েই মর্গ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান শান্ত। তদন্তে উঠে এসেছে যতন ও শান্ত দায়িত্বে থাকার সময়ই এসব ঘটনা ঘটেছে।

    অধ্যক্ষ আইনুল নিজেই অভিযোগ করে বলেন, “এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।”

    ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অন্তত পাঁচ জন চিকিৎসক অনেক দিন ধরেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, এই মর্গ ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।

    সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা. নাশাত জাবীন বলেন, ময়নাতদন্তকারীদের অভিযোগগুলো তারা গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। একটি দুটি নয়, বেশ কয়েকটি নারী মরদেহের সঙ্গে মৃত্যু-পরবর্তী যৌনাচার বা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা স্পষ্ট হতে থাকে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা কর্তৃপক্ষের আড়ালে করা হচ্ছিল।

    অনুসন্ধানে যা পাওয়া গিয়েছে

    মর্গের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে বাইরের ক্যামেরা থেকে মর্গ সহকারী শান্তর কিছু স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার আগে শান্ত মর্গে ঢুকেছেন এবং বের হয়েছেন। হাসপাতালের প্রাথমিক অনুসন্ধান দল এটি নিশ্চিত করেছে, আর তাই তাকে প্রধান সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছে ।

    ডা. নাশাত জানান, তাকে ও মর্গের প্রধানকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে তারা শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    শান্ত সাবেক মর্গ প্রধান যতন লালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনার ওই রাতে শান্তই মর্গে ছিলেন।

    অনুসন্ধান দলের একজন বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই রাতে ওই সময়ে মর্গে নতুন কোনো মরদেহ রিসিভ করা হয়নি।

    খোঁজখবর নিয়ে দলের সন্দেহ আরও দুজনের ওপর পড়ে। একজন তখনকার মর্গ প্রধান, আরেকজন লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ির এক চালক। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মর্গ ও ফরেনসিক বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত ও নথি খোয়া গেছে।

    একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করার পরপরই শান্ত তা টের পেয়ে যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগের মর্গ প্রধানকে সরিয়ে নতুন একজনকে ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ করে। কিন্তু শান্ত গং নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে, দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও বলে।

    যতন লাল ও শান্ত যা বলছেন

    সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লালের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নেক্রোফিলিয়া ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে।

    যতন লাল দাবি করেন, তার দায়িত্বকালে মর্গে যা ঘটেছে বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। শান্তকে মর্গের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো তার সময়েই ।

    মূল সন্দেহভাজন শান্তকে পাওয়া যায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। তিনি দাবি করেন, যতন লাল ছুটিতে থাকায় তিনি ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন। মর্গের বাইরের ছবি নিয়ে তার ব্যাখ্যা, লাশ আসলে তা গ্রহণ করতেই ভিতর বাইরে আসা-যাওয়া করেছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সেখানে রাতে “ভৈৗতিক কিছু থাকায়” এক জায়গায় থাকা সম্ভব হয় না। মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারে জড়িত নন বলেও দাবি করেন শান্ত।

    আগের ঘটনা: ২০১৯ সাল

    এবার একটু পেছনে যাওয়া যাক। তাহলে যতন লাল সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।

    ২০১৯ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সহকারী ছিলেন মুন্না ভগত। একাধিক মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। মুন্না ভগত হলেন যতন লালের ভাগ্নে আর তার নিয়োগও হয়েছিলো তার হাত ধরেই।

    ওই ঘটনায় যতন লালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার করা হয় তাকে।কারাভোগ করে এখন জামিনে রয়েছেন যতন লাল। কিন্তু ভাগ্নে মুন্না ভগত এখনো কারাগারে।

    ২০১৯ সালের ওই ঘটনাই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা, যা নিয়ে তখন বেশ আলোড়ন হয়েছিল।

    সিন্ডিকেট আতঙ্কে বর্তমান মর্গ ইনচার্জ

    জানু লাল ওরফে জীবন এখন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের প্রধান। আগেও তিনি একই কাজ করতেন। তিনিও মনে করেব এই হাসপাতালে মরদেহের সঙ্গে যৌনাচার করা হয়, এমন একটি চক্র থাকতে পারে।

    জীবন জানান ওই সিন্ডিকেটের লোকজন ষড়যন্ত্র করে আগে তাকে এই হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো। তার অভিযোগ এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলো যতন লাল নিজেই। এর কারণ হিসাবে জীবন জানান, সেসময় নারীদের মরদেহ গ্রহণের পর এক রকম থাকতো,আর সকালে সেই দেহটি অন্যরকম লাগতো। প্রায়ই এমনটা হওয়ায় সন্দেহ হয় মর্গ ইনচার্জ যতন লালকে। তিনি আরো জানান, তার কথায় কান দিতেন না যতন লাল।

    “আমাকে ফোন ছাড়াও রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত মানুষ এখান থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন,” বলে জানান যতন লাল।

    অন্যান্য মর্গেও একই ঘটনা

    সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গেও মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গেও যৌনাচারের অভিযোগে লাশ বাহক আবু সাঈদকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলো আবু সাঈদ।

    সিআইডি’র মিডিয়া বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন খান জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। দায়িত্বে থাকার সময় এই বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

    তবে ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় খুব বেশি তথ্য দিতে চায়নি সিআইডি।

    বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন ও আইনে কী আছে

    মনরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, নেক্রোফিলিয়া একটি ভয়াবহ রোগ। যার চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনো তেমন একটা নেই।

    এসব রোগীর ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নেক্রোফিলিয়া সংক্রান্ত সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা শাস্তির বিধান নেই। সুনির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এনিয়ে দেশের আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দণ্ডবিধি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন আইন না করেও ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সাজা দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

    আর নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা বাংলাদেশে কয়েকবার সামনে আসায় নারী মরদেহের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি মনে করেন, এমন ভয়ংকর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে অভিযুক্তদের আইনের কাঠামোর মধ্যে এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন,নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সুস্পষ্ট আইন না থাকায় নারী মৃতদেহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    মৃত্যুর পর কেউ আর প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ, এবং আমাদের ।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠছে, তাতে সেই নিরাপত্তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালের ঘটনা থেকে শুরু, সাম্প্রতিক অভিযোগ, বারবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসা, এগুলো শুধু কোনো একজনের বিকৃত আচরণের ব্যাপার না। এর সঙ্গে মর্গের ব্যবস্থাপনা, নজরদারি, জবাবদিহি, তদন্ত আর শাস্তির প্রশ্নও জড়িয়ে আছে।

    অভিযোগগুলোর সত্যি কি-না তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মরদেহ নিরাপদ রাখার মতো একটি কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের জন্য আইনি কাঠামো স্পষ্ট করা দরকার, আর অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

    সুত্র: আলাপ

  • মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তারা মেলার গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন।

    এ সময় এক শিক্ষার্থী বলেন, মেলা সরিয়ে নেয়ার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এজন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমরা আমাদের মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-9518689112563830&output=html&h=250&slotname=3120000199&adk=2264674136&adf=3209489870&pi=t.ma~as.3120000199&abgtt=6&w=300&lmt=1793206770&format=300×250&url=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2Farticle%2F54168&aiof=14&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&dt=1793206769541&bpp=1&bdt=340&idt=401&shv=r20261023&mjsv=m202610230101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D413c482519040d99%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MaLJGahh4ySNVcJvPHzpXn2-O6ONA&gpic=UID%3D000013ba94c506d4%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MbDxcWIBHke4fyyQAmpCJNGFEpASw&eo_id_str=ID%3D3dd5361830b7eef5%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DAA-Afja65-ni8rXeMlKtp3mtVd-s&prev_fmts=0x0%2C970x90%2C781x280&nras=1&correlator=5443120514693&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=7&u_h=954&u_w=1696&u_ah=901&u_aw=1696&u_cd=24&u_sd=1.132&adx=606&ady=1689&biw=1696&bih=807&scr_x=0&scr_y=0&eid=95400481%2C95404667%2C95405492%2C95405779%2C95406274%2C95390277&oid=2&pvsid=5729544798180353&tmod=2049258818&uas=0&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2F&fc=1920&brdim=-8%2C-8%2C-8%2C-8%2C1696%2C0%2C1723%2C923%2C1696%2C807&vis=1&rsz=%7C%7CeEbr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=0&bc=31&bz=1.02&ifi=4&uci=a!4&btvi=2&fsb=1&dtd=582

    এ বিষয়ে মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলব।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রূপান্তরের সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

    বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
    ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো বুয়েট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ মেলার আয়োজন হয়। একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট), জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।এবারের উৎসব থেকে ১২-দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। ঘোষণাপত্রে একটি স্বতন্ত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরশক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স উন্নয়ন, স্মার্ট অবকাঠামো ও ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রিন ফাইন্যান্স সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। একইসাথে, দেশিয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল শিল্পখাতগুলোয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি, ঘোষণাপত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এতে একটি ন্যায়সংগত, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে; যেখানে নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, এতে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, স্বাধীন পরিবেশগত ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ, শ্রমিকদের সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ দিন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলায় দেশিয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণা প্রদর্শন করেন। প্রযুক্তি মেলায় কর্পোরেট খাতের প্রতিষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হয়।উৎসবের শেষ দিনের প্রথম অংশে জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্যারালাল সংলাপ ও প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত। এসব অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এসব অভিজ্ঞতা থেকে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ বিকশিত হতে পারে সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়।তরুণদের নেতৃত্বে ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক সংলাপ আয়োজন করা হয়।
    শায়লা শবনম রিচির সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি কমাতে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    আগামী ১২ মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবুজায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি বলে দাবি জানান তারা। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিকল্প নেই উল্লেখ করে আলোচকরা এ খাতে প্রযুক্তি ও উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান বক্তারা।

    এছাড়া, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’ শীর্ষক আরও একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানে। একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে এই প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়াটিভের (জিজিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী প্রমুখ।

    প্যানেল আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কার্যকর ট্যারিফ ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, গবেষণায় অর্থায়ন, দেশিয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    এছাড়াও, শেষদিনে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আরও তিনটি আলাদা প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করতে দেশিয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, গবেষক, শিক্ষক, তরুণ উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যৌথ সমন্বয়ের আহ্বান করা হয়। একইসাথে, সরকারি নীতিমালা, বিশেষ সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের মতো বিষয়গুলো কীভাবে জাস্ট এনার্জির আলোকে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানে ন্যায়সংগত জ্বালানি ভবিষ্যতের গল্প তুলে ধরেন কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। এই উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির সুযোগ, সম্ভাবনা ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

    শেষ দিনের এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্ভাবক, তরুণ নেতৃত্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার লাভ করে ফেলাইট প্রকল্প। দ্বিতীয় কার্বন ক্রেডিট বিডি প্রকল্প এবং তৃতীয় হিসেবে পুরস্কার পায় আইইউবি ফর্মুলা-ই প্রকল্প। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়। এছাড়াও, সেরা তিনটি পোস্টার হিসেবে আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টার গৃহীত হয়।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং স্টান্ডিং কমিটি অন মিনিস্ট্রি অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারপার্সন জাহরাত আদিব চৌধুরী। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির (এএআইবিএস) বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) ও জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।

    দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস), বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), গ্রিনারি এনার্জি সল্যুশন লিমিটেড, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

  • স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতার শোক

    স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতার শোক

    স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

    পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, এই কঠিন সময়ে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং স্পেনের জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমি আশা করি, আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং চলমান উদ্ধার ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত সবার কাছে যথাসম্ভব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই শোকাবহ মুহূর্তে বাংলাদেশ স্পেনের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

  • ১১ অঞ্চলে রাতেই ঝড়ের আশঙ্কা, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

    ১১ অঞ্চলে রাতেই ঝড়ের আশঙ্কা, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

    ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

    বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ০৯ টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিনও দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১ নভেম্বর) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ায় তাপমাত্রা কমতে পারে।

  • বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।

    দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।

    এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

    এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।

  • আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে  স্কুল-মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা; শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে স্কুল-মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা; শিক্ষামন্ত্রী

    মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব। ’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব। ’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য। ’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি।

    টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।

    প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।

    এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে।

    এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।

    যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।

  • রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই বহুল আলোচিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। বিপরীতে এ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সংসদে নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আসনটিতে দুই দলেরই সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হওয়ায় এই উপনির্বাচন রূপ নিয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে।দুই দলের টানটান উত্তেজনার মাঝে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটদান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যালটে নিজেদের রায় জানাবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে—বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন নাকি জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন, এখন তারই অপেক্ষায় পুরো জনপদ।

  • স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে উৎসাহিত করতে ঢাকায় সচেতনতামূলক সেমিনার ও স্ক্রিনিং কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্তন ক্যানসার বিষয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। পরে আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

    অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ফোরামের অন্যতম সমন্বয়কারী ইকবাল মাহমুদ ও চিকিৎসক সাদিয়া হাবিব অর্পি।

    আলোচনা শেষে ফোরামের দুজন নারী চিকিৎসক আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সেবা দেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নয়জন মারা গেছেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮২ জন ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৬৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৮১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩১৩ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১৯৪ জন, রাজশাহীতে ২১৭ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন এবং রংপুরে ১১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

  • আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে বেলা ১১টায় মহাখালীতে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানকে সদস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১ শাখা) ইমতিয়াজ হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

    বুধবার মারধরের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ জাকি তার কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে বৈঠক করছেন, এমন সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে মারধর শুরু করেন এবং ধাক্কা দিতে দিতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা আগন্তুকদের বাধা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক জাকি আবার গিয়ে তার চেয়ারে বসেন।

    এ ব্যাপারে আইইডিসিআর পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না, মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি।

    সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে পরিচালক নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ড্যাবের কয়েকজন এসে পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

    মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই আমাদের লোক। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং এ ধরনের কোনো আচরণ সমর্থন করি না। যদি কেউ ড্যাবের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তবে আমরা কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। ড্যাব মহাসচিব আরও নিশ্চিত করেন, ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি ড্যাবের সদস্য বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।

    অন্যদিকে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুজনই আমাদের সংগঠনের সদস্য। তবে অভিযুক্ত ছেলেটি আইইডিসিআরের একটি প্রজেক্টে কাজ করত, সম্প্রতি তার চাকরি চলে গেছে। এটা নাকি অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে এ সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে আগের সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেন, তা-ও দেখার বিষয়ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, বুধবার সকালে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহিদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ বিষয়ে ডা. জাহিদকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাব সভাপতি ও মহাসচিব বরাবর উপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে।উল্লেখ, আইইডিসিআর হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, যা রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা জারির দায়িত্ব পালন করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।

  • স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত পুনর্বাসনসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের উদ্যোগে এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা ২০২৬’-এ সহায়তা দেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

    কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সেবার মানোন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ড. ভ্যালেরি এ টেলর এবং জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে আজাদ। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।

    কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিআরপি, কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, আইচি হেলথকেয়ার গ্রুপ এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী অধিবেশন, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন

    কর্মশালাভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশনের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক বা গুরুতর স্নায়বিক আঘাতের পর অনেক রোগীর চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর অবশিষ্ট কার্যক্ষমতা কাজে লাগানো, স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সেবার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনসেবায় সমন্বিত উদ্যোগকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আধুনিক ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের পথ সুগম হতে পারে।

  • সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দফাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আসাদুল্লাহ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রতিনিধি আফিল উদ্দিন দফাদার, মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক ওহিদুল ইসলাম বকুল,মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ওয়াজেদ আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, শফিউদ্দিন দেওয়ান, আজিম উদ্দিন দেওয়ান,সামছুল হুদা দফাদার প্রমুখ।

    মাদ্রাসার এই প্রধান গেটটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। সিংহঝুলি গ্রামের দুই জন বিশিষ্ট ব্যাক্তি শফিউদ্দিন দেওয়ান ও আনোয়ার হোসেন দেওয়ান এই নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছেন ।

    উল্লেখ্য তাদের পূর্বপুরুষরা এই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠা করতে ভুমিকা রেখেছিলেন।

  • ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।

    একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

    আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব শুধু একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়কেই নিতে হবে।’

    ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগেই প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।’

    নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। অন্যথায় কমিশন নিজেদের স্বাধীন ও শক্তিশালী দাবি করলেও তা প্রমাণিত হবে না।’

    বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘বৈঠকের পরিবেশ ও আশ্বাস ইতিবাচক হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল না থাকলে এসব উদ্যোগকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে আগামীকালের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল দেখেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নেবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।’

  • আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে এভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব।’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’

    তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য।’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’

    বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের সংকট এড়াতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় আরও দেড় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চারটি সারের চালানের ক্রয় মূল্য হবে আনুমানিক প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে এ সারের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

    আর চলতি অর্থবছরে চাহিদা সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন। এর বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও ৩ লাখ টন সার প্রয়োজন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে জুমে ভার্চুয়ালি সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবে কানাডা থেকে ৮০ হাজার এবং রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার কথা বলা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের ২ লাখ ৫০ হাজার টন সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মোট সাড়ে ৮ লাখ টন সার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের (সিসিসি) কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে দুই চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চার চালানে আমদানি করা হবে দেড় লাখ টন।

    কানাডা থেকে সপ্তম চালানের ৪০ হাজার টন সার ১ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ চালানের সার ডিসেম্বরে আনার পরিকল্পনা থাকলেও মজুত ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এ চালানের প্রতি টন সারের প্রস্তাবিত দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার। এতে ৪০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    অষ্টম চালানে কানাডা থেকে আরও ৪০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে নবম ও দশম চালানে ৩৫ হাজার টন করে ৭০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টন সার আমদানিতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সারের চাহিদা বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও অতিরিক্ত ৩ লাখ টন রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সে হিসাবে মোট প্রয়োজন ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টন।
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে এমওপি সারের চাহিদা দাঁড়াবে ৫ লাখ ৬ হাজার টন। আমদানির অনুমোদন, জাহাজে পরিবহন ও দেশের ভেতরে সরবরাহ করতে ৮০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে কৃষকের চাহিদা মেটানো এবং নিরাপত্তা মজুত বজায় রাখতে দ্রুত সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    আজকের সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার এক কোটি বস্তা কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে (ই-জিপি) ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে এসব বস্তা কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    ঢাকায় মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের শেষদিকে সবাই অপেক্ষায় ছিলো সাদমানের সেঞ্চুরির জন্য। তিন অঙ্ক থেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে আবার শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের।

    আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সাধারণ ছুটির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি এলাকার তফসিলি ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব শাখা ও উপশাখা বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

    আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

    অধ্যাপক কাজী আহমেদ ছবি: সংগৃহীত

    অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

    আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

    আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

    বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

    ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’

    কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’

    জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

    কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

  • নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    চলমান অর্থনীতির শ্লথগতি থেকে উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে ফের লুটপাট ও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা জরুরি।

    বুধবার ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

    ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির শ্লথ গতি এবং ব্যাংক ও শিল্প খাতের তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে অনেকেই নিয়মকানুন শিথিল করার কথা বলছেন। অতীতে ব্যাংক খাতে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল করার কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধারণ পরিস্থিতিতে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে হয়। তাই সংকট উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও তা যেন নতুন করে লুটপাট ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়াই বেসরকারি খাতে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ফলে ভুল পথে যাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে উদারীকরণ এবং বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা নানা বিতর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অতীতে কী কী ভুল করা হয়েছিল এবং সেসবের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অতীতের সংকট, সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রথমবার ঋণখেলাপির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার তা নষ্ট হয়েছে ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে, যা আরও বেশি মারাত্মক।

    ব্যাংকিং খাতের উত্থান-পতনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ের দশকে সংস্কারের পর বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই যত্রতত্র নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ায় এ খাতের আবারও অবনতি ঘটে।

    তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু আইন বা বিধিবিধান দিয়ে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং, করপোরেট ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায়ভাবে সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির হৃদ্‌পিণ্ডতুল্য এই আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে মুক্ত রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

    বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই সরকার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (অথবা প্রাতিষ্ঠানিক পদবি অনুযায়ী সঠিক পদ) জ্যঁ পেম।

  • আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা (কার্যক্রম) নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় গুরুতর উদ্বেগ জানিয়ে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


    শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী স্টিভেন পাওয়েলস কেসি (কিংস কাউন্সেল) এই আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন প্রথমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা শুধু বহালই রাখেনি, বরং আনুষ্ঠানিক রূপও দিয়েছে।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। দলটির অংশগ্রহণের পক্ষে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুসংহত করার চেষ্টা সাংবিধানিকভাবে অসংগত। এর ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশের আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং এর সমর্থকদের ওপর চলমান হামলার কারণে আইনজীবী নিয়োগ ও আইনি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির কয়েকটি ধারার লঙ্ঘন। এর মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার-সংক্রান্ত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংগঠন করার স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকারী ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ।

    আবেদনে আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি যথাযথ আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধ উদ্দেশ্য নেই বলেও এতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্য ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাটিকে বর্ণনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এবং এর অপব্যবহার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনার পক্ষে করা আবেদনে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

    আবেদনে তাদের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

    বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রমজানে পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা নেই

    রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।

    তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

    ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই

    ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।

  • আবারো কমল সোনার দাম

    আবারো কমল সোনার দাম

    যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম সামান্য কমেছে।

    বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে (বুলিয়ন মার্কেট) সোনার দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী সোনার ফিউচার মূল্য ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০.২০ ডলারে নেমেছে।

    সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।

    ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে নীতিগত সুদহার বিষয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

    জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সোনার দামের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বুধবার গ্রিনিচমান সময় সন্ধ্যা ৬টায় সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে সংস্থাটি।

    তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে লেনদেন করছেন বিনিয়োগকারীরা।

    এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।

    স্বাধীন আর্থিক বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, পিসিইর তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক হলে এবং ফেড বাজারের ধারণার চেয়ে কম কঠোর অবস্থান নিলে সোনার দাম আবারও বাড়তে পারে।

    মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা, শক্তিশালী ডলার এবং দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার প্রত্যাশার কারণে ২০২৬ সালে সোনার সম্ভাব্য দামের পূর্বাভাস টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো কমিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তবে রয়টার্সের এক জরিপে ২০২৭ সালে সোনার দাম আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা।

    একই জরিপে ২০২৬ সালে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামের পূর্বাভাসও টানা তৃতীয় প্রান্তিকে কমানো হয়েছে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৩৮.৫০ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭.৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

  • ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬

    ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬

    দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। এবারের দ্বিতীয় আয়োজনে আগের বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

    আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি, এক্সপোর উদ্বোধন করবেন।

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এর পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও কিচেনওয়্যার, আসবাব ও গৃহসজ্জা, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), কাগজ ও প্যাকেজিং, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিরামিক ও টেবিলওয়্যার—এই ১২টি খাত এবারের প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ইপিবি। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    এক্সপোকে আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের উপযোগী করে তুলতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, জয়েন্ট চেম্বার, বায়ার্স ফোরাম এবং বিভিন্ন দেশের ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এর আগে এক্সপো আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে এ আয়োজন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’।

    ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন সফল করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সোর্সিং কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।

  • সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    যশোরের চৌগাছায় সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দফাদার।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আসাদুল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রতিনিধি আফিল উদ্দিন দফাদার, মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক ওহিদুল ইসলাম বকুল, মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ওয়াজেদ আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, শফিউদ্দিন দেওয়ান, আজিম উদ্দিন দেওয়ান,সামছুল হুদা দফাদার প্রমুখ।

    মাদ্রাসার এই প্রধান গেটটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। সিংহঝুলি গ্রামের দুই জন বিশিষ্ট ব্যাক্তি শফিউদ্দিন দেওয়ান ও আনোয়ার হোসেন দেওয়ান এই নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছেন । উল্লেখ্য তাদের পূর্বপুরুষরা এই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠা করতে ভুমিকা রেখেছিলেন।

  • জাতিসংঘে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

    কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিরা।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় একপর্যায়ে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতাসীনদের সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

    ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চিৎকার করতে থাকেন। তারা টেবিলে আঘাত করে বক্তব্যের মধ্যে আপত্তি জানান। এ সময় খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে প্রতিনিধিদলকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

    ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনছেন।’ এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা কল্পনা করে দেখা উচিত।

    এ সময় ওয়াল্টজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’

    একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান। তখন ওয়াল্টজ তাকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন খলিলুর রহমান। পরে অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা না করার শর্ত দেওয়া হয়।

    এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন।

    পরে বড় ধরনের আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রস্তাবটির ওপর বুধবার ভোট হওয়ার কথা ছিল।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি লেখেন, ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নন। এমনকি তিনি গ্রিন বেরেটস নামে পরিচিত মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর কোনো ইউনিটে কিংবা সিগন্যালের কোনো গ্রুপেও নেই। এসব ক্ষেত্রে ওয়াল্টজ নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।

    গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য তৈরি একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে আসে। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন।

    কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর একটি প্রস্তাব তোলা হয়। এবারের বিতর্কেও ওয়াশিংটনের অবরোধনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

  • ইসরাইলের নির্বাচনে মুসলিম দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে

    ইসরাইলের নির্বাচনে মুসলিম দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে দেশটির মুসলিম ও আরব দলগুলো। ৪০ লাখেরও বেশি ভোট গণনার পর দেখা গেছে, আরব-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে।

    দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে আরব দলগুলোর এই আকাশচুম্বী সাফল্য ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে এবং তাদেরকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বা ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

    ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে আরব দলগুলো পেয়েছিল মাত্র ১০টি আসন। এবার সেই আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে চলেছে।

    আরব জোটের বিপুল উত্থান

    ইসরাইলের নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির আরব দলগুলোর মধ্যে প্রধান নির্বাচনী জোট জয়েন্ট লিস্ট একাই ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা ‘রা’আম’ পাচ্ছে ৬টি আসন। ফলে পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে এই দুই দলের যৌথ আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৯টিতে।

    নজিরবিহীন এ ফলাফলের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে মুসলিম ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০২২ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বেদুইন অধ্যুষিত অঞ্চলসহ আরব লোকালয়গুলোতে ভোট দেওয়ার তীব্র স্রোত দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে পার্লামেন্টে বড় চমক দেখাল মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো।

    সরকার গঠনে মুসলিমদের ওপর নির্ভরশীলতার সমীকরণ

    ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য যেকোনো জোটের প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে গণনাকৃত ফলাফলে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৪টি আসন। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি, ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, শাস ৭টি, উগ্র ডানপন্থী ওজমা ইয়েহুদিত ৭টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পাচ্ছে।

    অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মাঠে নামা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পাচ্ছে মাত্র ৪৭টি আসন। এর মধ্যে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট ‘বি’ইয়াখাদ’ ১১টি, ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি আসন পেতে পারে।

    ফলে ডান বা মধ্যপন্থী—কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।

    ‘কিংমেকার’ মুসলিম দলগুলো, কাটছে না অনিশ্চয়তা

    ফলাফল পর্যালোচনায় স্পষ্ট যে, আরব-মুসলিম দলগুলোর ১৯টি আসনের সমর্থন ছাড়া কোনো জোটেরই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা বা দীর্ঘমেয়াদে সরকার পরিচালনা করা অসম্ভব। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণে মুসলিম আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

    তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের মুখেও সরকার গঠন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কারণ গাদি আইজেনকট ও নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের কট্টর নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রবল বিরোধিতা করছেন। একমাত্র ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন।

    এদিকে রা’আম নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, আরব সমাজের উন্নয়ন, অধিকার রক্ষা ও অপরাধ নির্মূলে সুনির্দিষ্ট সমঝোতার ভিত্তিতেই তারা সরকারে যুক্ত হওয়া বা বাইরে থেকে আস্থা ভোটে সমর্থনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    যদি শেষ পর্যন্ত বিরোধী বা ক্ষমতাসীন দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং মুসলিম দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ইসরাইলের রাজনীতি চরম অচলাবস্থায় পড়বে এবং দেশটিতে পুনরায় নতুন জাতীয় নির্বাচনের ডাক দিতে হবে।

  • পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে বেচাকেনা জমজমাট থাকলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

    রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোরে শুরু হয় বেচাকেনা, যা চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

    বাজারে পান বিক্রি করতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন চাষি সাহেদ মাঝী। তিনি বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তার কথায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় চাষিদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।

    চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারদর না বাড়ায় তারা প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছেন না। এতে চাষের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও ব্যাপক পরিসরে পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসেন।

    রায়পুরে পানের বেচাকেনার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পান সরবরাহ করা হয়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা সত্ত্বেও দাম কম থাকায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

  • শিগগিরই পুতিন ও জেলেনস্ক বৈঠক : ট্রাম্প

    শিগগিরই পুতিন ও জেলেনস্ক বৈঠক : ট্রাম্প

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে শিগগিরই বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে। আমার মনে হয়, এতে অনেক অগ্রগতি হতে পারে।’

  • ইরানকে কাতারের নতুন শান্তি প্রস্তাব

    ইরানকে কাতারের নতুন শান্তি প্রস্তাব

    ইরানের সাথে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে তেহরানের কাছে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। তবে ইরানে আবারো হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান মিলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

    দুবাই থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জানায়, গত রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পৌঁছে দেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষ নাগাদ প্রস্তাবের বিষয়ে জবাব দিতে পারে ইরান।

    প্রস্তাবে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাত দিনের একটি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। এ সময় প্রতিদিনই উভয় পক্ষকে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কয়েকটি দেশ চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবে। তবে দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, বুধবার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের তা বলতে পারব না। তবে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছে তিনি এ কথা বলেন।

    ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তি করতে চায়। তবে দেশটির নেতারা মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত আলোচনা পিছিয়ে দিতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্য, আলোচনায় দেরি করলে ইরানের অবস্থার উন্নতি হবে না।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছি। তাদের আর্থিক ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছি। তাদের হাতে টাকা নেই। মূল্যস্ফীতি বিশ্বের সর্বোচ্চ, ৩০০ শতাংশ। সরকার শেষ। তবে দেখা যাক কী হয়।’

    অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্পের সাথে মিলে ইরানের হুমকি ‘চিরতরে’ দূর করার বিরল সুযোগ পেয়েছে ইসরাইল।

    ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৬৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৪টি আসন পেতে পারে। সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। স্বতন্ত্র আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন ১৮। সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। দুই পক্ষই সরকার গঠনের চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধ

    হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বুধবার ইরান ও কাতারের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মাহমুদ মালেকি বলেন, কাতারের উচিত সদিচ্ছার পরিচয় দেয়া এবং তেহরানের ভাষায় ‘আগ্রাসীরা’ যাতে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

    এর আগে কাতারের গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ইব্রাহিম সুলতান আল-হাশমি হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচলের প্রতি সম্মান দেখাতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানান।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে সামরিক অভিযান শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। রাশিয়ায় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের সম্মেলনে বৈশ্বিক গ্যাস বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    আরাগচি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক বৈঠককে তিনি সংলাপ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, স্থায়ী সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

    এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ১৬টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ভ্রমণকারীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    কাতারের প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এ প্রস্তাব আলোচনার পথ খুলবে, নাকি নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।

  • স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ৩০

    স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ৩০

    স্পেনের মাদ্রিদে দ্রুতগতির দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩০ জনে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রেল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আদিফ’ জানিয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদের সাথে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলকে সংযোগকারী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

    কাস্তিয়া লা মানচার আঞ্চলিক সরকার দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

  • ‘আমরা পুড়লে তোমরাও পুড়বে’

    ‘আমরা পুড়লে তোমরাও পুড়বে’

    বেলজিয়ামের ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী মায়া গুরদেল একটি ডেস্কে বসে দেশের শাসকদের বিরুদ্ধে স্লোগান লিখছেন। তার লেখা স্লোগান, ‘আমরা পুড়লে তোমরাও পুড়বে!’ ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র দ্য হাঙ্গার গেমস থেকে নেওয়া এই স্লোগান বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন তরুণ আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জেন-জিদের নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভের পেছনেও রয়েছে ক্ষোভ, হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।

    প্যারিসের শহরতলি থেকে বেলগ্রেডের জনচত্বর—সর্বত্রই রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ।

    তাদের দাবিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে মিলে যায়। জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, দুর্নীতি, আবাসনসংকট ও নিজেদের কথা কেউ শুনছে না—এমন বঞ্চনাবোধ।

    কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব বিক্ষোভ সহিংস রূপও নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শুধু ফ্রান্সেই হাজার হাজার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ ।

    তবে এই সপ্তাহান্তে তারা প্রকৃত পরিবর্তনও আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে চলা আন্দোলনের পর হওয়া নির্বাচনে সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচের পতন ঘটেছে।

    বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী স্তাশা পিলেতিচ বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই আমাদের মনে হয়েছে স্বস্তি ও মুক্তি। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিজয়ের অনুভূতি পাচ্ছি। মনে হচ্ছে, অবশেষে আমরা বিক্ষোভের পর্যায় পেরিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পথে এগিয়েছি।’

    ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    মিলানে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কিয়ারা মনে করেন, ‘মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই আন্দোলনগুলো মূলত ক্ষোভের বিস্ফোরণ থেকে জন্ম নিয়েছে, যা সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে।’

    তার ভাষায়, ‘শাসকগোষ্ঠী আমার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করেছে, তা হলো ভবিষ্যৎ কল্পনা করার, স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাটুকুও কেড়ে নেওয়া।’ কিয়ারা বলেন, ইতালির শিক্ষার্থীরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ভবনগুলোও জরাজীর্ণ।

    তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার পাশাপাশি সামনে রয়েছে এমন চাকরি, যেখানে বেতন কম এবং যে কাজের জন্য আমরা যোগ্যতা অর্জন করিনি। আর রয়েছে ছোট, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বাসায় থাকার অনিশ্চয়তা-সম্ভবত নিজের শহরের বাইরে, যে শহরে আমরা থাকতে চাইনি।’

    ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম জেন-জি নামে পরিচিত। গত কয়েক বছরে এই প্রজন্মের নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ, ২০২৫ সালে নেপাল এবং চলতি বছর ভারতেও তরুণদের আন্দোলন আলোচনায় এসেছে। এবার ইউরোপ হয়ে উঠেছে এই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র।

    ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক জরিপ অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের ৪০ শতাংশের উদ্বেগের প্রধান কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধি।

    একই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নয় কোটি ২৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য বা সামাজিক বঞ্চনার ঝুঁকিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ঝুঁকির হার ছিল সর্বোচ্চ, ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    বয়স্ক প্রজন্মের আর্থিক দায়ভার বহন করা নিয়েও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বয়স্ক ভোটাররা তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় ভোট দেন, ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়।

    ফ্রান্সের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওএফসিইর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি হলেও দেশের মোট সম্পদের ৬০ শতাংশ তাদের মালিকানায়।

    জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং অবসরের বয়স বাড়ানো কিংবা পেনশনের সুবিধা কমানোর বিষয়ে ভোটারদের অনীহার কারণে ফ্রান্সে সরকারি ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত পেনশন। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এই ব্যয়।

    তবে জিডিপির অনুপাতে সরকারি পেনশনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে গ্রিস ও ইতালি ফ্রান্সের চেয়েও এগিয়ে। ২০২৫ সালের ওইসিডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশ দুটি তাদের জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ পেনশনে ব্যয় করে। বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ব্যয়ের হার ৪ শতাংশের নিচে।

    ইউরোপের তরুণেরা ঐক্যবদ্ধ

    প্যারিসের উত্তরের এক শহরতলির ১৭ বছর বয়সী উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী বিলাল নারজিসি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘শোচনীয়’ পরিবেশ ও কর্মীসংকটের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দেন।

    তিনি বলেন, আগে সেখানে ইঁদুর দেখা যেত। গত বছর বিদ্যালয়ের আঙিনায় ছাদ ধসে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে এতে কেউ আহত হয়নি বলে জানান তিনি।

    নারজিসির মতে, বিক্ষোভ প্রমাণ করেছে, ইউরোপের তরুণেরা ঐক্যবদ্ধ।

    তিনি বলেন, একটি বিষয়ে আমরা সবাই একমত-তরুণদের সঙ্গে অতিরিক্ত শিশুসুলভ আচরণ করা হয় এবং তাদের কথা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না।

    ফরাসি সরকারের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে পেনশন খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিপরীতে, শিক্ষা খাতে ব্যয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ৩২ শতাংশই ব্যয় হয় পেনশন বাবদ। ফলে শিক্ষার অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ সংকুচিত হচ্ছে।

    বেলজিয়ামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন গুরদেলও।

    তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেছি। কেউ আমাদের কথা শোনেনি। কিন্তু মানুষ যখন আবর্জনায় আগুন দিতে শুরু করল, কিংবা এ ধরনের কাজ করল, তখনই গণমাধ্যম ও ক্যামেরা আমাদের দিকে নজর দিল।’

    বিক্ষোভের বিস্তার এখনো থামেনি। জীবনযাত্রার ব্যয়, বৈষম্য, যুদ্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতির প্রতিবাদে চলতি সপ্তাহান্তে জার্মানিতেও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

    আলবেনিয়াতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে রাজধানী তিরানা ছাড়িয়ে তা অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

    ১৯ বছর বয়সী স্থাপত্যের শিক্ষার্থী জাইকে কুর্তি বলেন, ‘আমাদের কথা না শুনেই প্রধানমন্ত্রী ১৩০ দিন কাটিয়ে দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আলবেনিয়ার কোনো শিক্ষার্থীকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, সে নিজের ভবিষ্যৎ কোথায় দেখে, সবাই বলবে-দেশের বাইরে। এখানে আপনার প্রতিভা থাকলেও লাভ নেই। যার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে, শেষ পর্যন্ত আপনি তার কাছে হেরে যাবেন।’

    আন্দোলনের পরের চ্যালেঞ্জ শাসন পরিচালনা

    সার্বিয়ার শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এমন এক সাফল্য অর্জন করেছে, যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিক্ষোভকারীদের কাছে এখনো স্বপ্নের মতো।

    তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সামনে রয়েছে আরও কঠিন পরীক্ষা—দেশ পরিচালনা। শিক্ষার্থী কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থীদের কারোই সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই।

    কিন্তু এ নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন আরেক বিক্ষোভকারী লুকা স্তোয়াকোভিচ।

    তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা দেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন, তা আমরা দেখেছি।

  • বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

    আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

    বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়।

    এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

    জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তার আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

    এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • হার্ডডিস্কে তথ্য জমা থাকে কীভাবে

    হার্ডডিস্কে তথ্য জমা থাকে কীভাবে

    আমরা প্রতিদিন কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে অসংখ্য ছবি, ভিডিও, গান, নথি ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণ করে থাকি। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে ফাইল খুলে দেখি, আবার অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলি। কিন্তু একটা বিষয় কখনো কি ভেবে দেখেছি, এসব তথ্য আসলে কোথায় থাকে? কীভাবে থাকে? কম্পিউটার কীভাবে একটি ছবি, গান কিংবা লেখাকে সংরক্ষণ করে রাখে? আর বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কীভাবে সেই তথ্য অক্ষত থাকে?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রয়েছে ডিজিটাল স্টোরেজ প্রযুক্তির মধ্যে। প্রচলিত হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (HDD) থেকে আধুনিক সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD)—প্রতিটি প্রযুক্তিই তথ্য সংরক্ষণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। আজ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানব।

    HDD-এর তথ্য সংরক্ষণ

    এর পূর্ণরূপ Hard Disk Drive। এটি একটি ইলেকট্রোমেকানিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসÑঅর্থাৎ এর মধ্যে ইলেকট্রনিক সার্কিটের পাশাপাশি ঘূর্ণায়মান ও চলমান যন্ত্রাংশও থাকে। হার্ডডিস্কের ভেতরে এক বা একাধিক গোলাকার চাকতি থাকে, যেগুলোকে প্লেটার (Platter) বলা হয়। এগুলোর পৃষ্ঠে বিশেষ চৌম্বকীয় উপাদানের পাতলা স্তর থাকে। প্লেটারগুলো দ্রুতগতিতে ঘোরে এবং রিড-রাইট হেড নামের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের সাহায্যে সেখানে তথ্য লেখা ও পড়া হয়। কম্পিউটারে কোনো ফাইল সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলে অপারেটিং সিস্টেম ও ড্রাইভের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা তথ্যকে উপযুক্ত ডিজিটাল বিন্যাসে প্রস্তুত করে। এরপর হার্ডডিস্কের রাইট হেড প্লেটারের চৌম্বকীয় পৃষ্ঠে নির্দিষ্ট বিন্যাস তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় চৌম্বকীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপিত হয়। ড্রাইভের ইলেকট্রনিকস ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিক করে দেয় কোন জায়গায় কী তথ্য লেখা হবে। যখন কোনো ফাইল খোলা হয়, হার্ডডিস্কের রিড হেড সংশ্লিষ্ট স্থানের চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করে। ড্রাইভের ইলেকট্রনিকস সেই সংকেতকে ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়। এরপর অপারেটিং সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার তথ্যকে ছবি, লেখা, ভিডিও বা অন্য উপযোগী রূপে দেখায়। যেহেতু HDD-তে প্লেটার ঘোরে এবং হেডকে নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয়, তাই তথ্য খুঁজে পাওয়া ও পড়ার ক্ষেত্রে কিছু যান্ত্রিক সময় লাগে। এ কারণেই অনেক পরিস্থিতিতে HDD, SSD-এর তুলনায় ধীরগতির হয়।

    SSD-এর তথ্য সংরক্ষণ

    এর পূর্ণরূপ Solid State Drive। প্রচলিত HDD-এর মতো এতে ঘূর্ণায়মান প্লেটার বা চলমান রিড-রাইট হেড থাকে না। এর ফলে এটি দ্রুত তথ্য পড়তে পারে, কম শব্দ করে এবং যান্ত্রিক আঘাতের কারণে চলমান অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। বর্তমান SSD-এর একটি বড় অংশে NAND ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। এই মেমোরির কোষগুলো বৈদ্যুতিক চার্জের প্রভাবে তাদের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। সেই পরিবর্তন শনাক্ত করেই তথ্য পড়া হয়।

    মেমোরি সেল

    NAND ফ্ল্যাশ মেমোরির সেল সাধারণত ট্রানজিস্টরভিত্তিক কাঠামো দিয়ে তৈরি। এর নকশা অনুযায়ী, ফ্লোটিং-গেট বা চার্জ-ট্র্যাপ অঞ্চলে বৈদ্যুতিক চার্জ ধরে রাখা যায়। সেই চার্জ সেলের নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে। SSD-এর নিয়ন্ত্রক চিপ (Controller) এই বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে সংরক্ষিত তথ্য নির্ধারণ করে। তথ্য লেখার সময় সেলে চার্জের অবস্থা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিবর্তন করা হয়। NAND ফ্ল্যাশের নির্দিষ্ট নকশায় চার্জ স্থানান্তরের জন্য কোয়ান্টাম টানেলিংসহ বিভিন্ন ভৌত প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হতে পারে; তবে সব ধরনের ফ্ল্যাশ মেমোরির অভ্যন্তরীণ কাঠামো এক নয়।

    ফাইল ডিলিট করলে যা ঘটে

    কম্পিউটার বা ফোন থেকে কোনো ফাইল মুছে ফেললে সেটির তথ্য সবসময় সঙ্গে সঙ্গে স্টোরেজ থেকে সম্পূর্ণ মুছে যায় না। সাধারণত প্রথমে ফাইল সিস্টেমে ওই ফাইলের জায়গাকে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    নষ্ট হয় কেন

    কোনো স্টোরেজ ডিভাইসই চিরস্থায়ী নয়। তবে HDD ও SSD-এর সীমাবদ্ধতা ভিন্ন। HDD-তে মোটর, প্লেটার ও রিড-রাইট হেডের মতো যান্ত্রিক অংশ থাকে। আঘাত, অতিরিক্ত তাপ, যান্ত্রিক ক্ষয় বা ইলেকট্রনিক ত্রুটির কারণে ড্রাইভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ড্রাইভ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, বারবার ফাইল পড়তে সমস্যা বা কম্পিউটারে ড্রাইভ শনাক্ত না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। SSD-এর NAND ফ্ল্যাশ সেলে তথ্য লেখা ও মুছে ফেলার সহনক্ষমতা সীমিত। বারবার প্রোগ্রাম-ইরেজ চক্রের কারণে সময়ের সঙ্গে সেলের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক চিপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক অংশেও ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তবে HDD বা SSD—কোনটি কত দিন টিকবে তা ড্রাইভের মান, ব্যবহারের ধরন, তাপমাত্রা, লেখার পরিমাণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতি এর আয়ুষ্কালে প্রভাব ফেলে।

    HDD ও SSD ছাড়াও তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। CD ও DVD-এর মতো অপটিক্যাল ডিস্কে লেজারের সাহায্যে তথ্য পড়া হয়। ম্যাগনেটিক টেপ বড় পরিমাণ তথ্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও ব্যাকআপের কাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মেমোরি কার্ড ও USB ফ্ল্যাশ ড্রাইভেও NAND ফ্ল্যাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ক্লাউড স্টোরেজের ক্ষেত্রেও তথ্য কোনো জাদুকরী অদৃশ্য জায়গায় থাকে না। সাধারণত দূরবর্তী ডেটা সেন্টারের সার্ভার, স্টোরেজ ড্রাইভ, নেটওয়ার্ক ও ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের সমন্বয়ে এই সেবা পরিচালিত হয়। ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের অনুমোদিত তথ্য দেখতে, আপলোড করতে বা ডাউনলোড করতে পারেন।

    HDD নাকি SSD

    দুটিরই আলাদা সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে HDD তুলনামূলক কম খরচে বেশি ধারণক্ষমতা দিতে পারে। তাই বড় আকারের ফাইল, আর্কাইভ বা ব্যাকআপ সংরক্ষণে এটি এখনো উপযোগী। অন্যদিকে SSD দ্রুত বুট, দ্রুত ফাইল খোলা এবং সফটওয়্যার চালু করার সুবিধা দেয়। চলমান যন্ত্রাংশ না থাকায় যান্ত্রিক আঘাতজনিত ক্ষতির ঝুঁকিও কম। কোনটি বেছে নেওয়া ভালো, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর বাজেট, প্রয়োজনীয় ধারণক্ষমতা, পারফরম্যান্সের চাহিদা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম ও নিয়মিত ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য SSD এবং বড় ফাইল বা ব্যাকআপের জন্য HDD ব্যবহার করা কার্যকর সমাধান হতে পারে।

  • ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ, এখন কী হবে

    ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ, এখন কী হবে

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে স্পষ্ট আভাস মেলেনি। মঙ্গলবার ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও পেতে পারে ৫১টি আসন।

    ফলে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে।

    টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যানেল ১৪-এর বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৬০, আইজেনকোটের জোট ৪৩ এবং আরব দলগুলো ১৭টি আসন পেতে পারে। এই প্রাক্কলনেও কোনো জোট ৬১ আসনে পৌঁছায়নি।

    অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হলে সরকার গঠনে এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর নেসেট নির্বাচনে সর্বোচ্চ। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন দিনটিকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন। রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেছেন, তাঁদের দল প্রাপ্ত জনরায়কে দেশের নতুন বাস্তবতায় রূপ দেবে।

    দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী

    আইজেনকোট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর জোট ‘চরম পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘এটি পুরোপুরি ধস। জনগণ তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছে।’

    তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্‌যাপনকে ‘অকাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’

    নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বারবার টিকে গেছেন।

    ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন আলজাজিরাকে বলেন, প্রাথমিক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি স্পষ্টভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও এখনই তার বিজয় কিংবা রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

    তিনি বলেন, জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তার বিরোধীদের পক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে। কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    পলিটিকোর কাছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এক বিশ্লেষক বলেছেন, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা নেতানিয়াহুর হাতে থাকবে। এটি তত্ত্বাবধায়ক সময়ের একটি উদ্ধৃত বিশ্লেষণ; নতুন হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি নয়।

    প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন

    প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তা এখনো তা নিশ্চিত নয়।

    ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন।

    তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে সম্ভাব্য দুই প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সরকার গঠনের জন্য কত সময় পাওয়া যাবে

    সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। শুরুতে তাকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে তা আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন।

    এ সময় দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে। সরকার গঠনের সমর্থন আদায়ে দলগুলো নীতিগত ছাড় এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারে।

    কোনো প্রার্থী ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে দুই নেতার মধ্যে মেয়াদ ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমঝোতাও হতে পারে।

    নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। কিছু সদস্য ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

    আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে

    প্রথম মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে ২৮ দিনের জন্য দায়িত্ব দিতে পারেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

    এরপরও সমঝোতা না হলে পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে এবং ইসরাইলিদের আবার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। নতুন নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। তত দিন নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    এর আগে কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল

    এর আগে কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরাইলে তিন দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুজনের পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

    তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকার ভেঙে পড়ে।

    বিরোধীরা কি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়বে

    বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয়েই অভিন্ন মূল্যবোধের অভাবের কথা উল্লেখ করে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

    ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাফ রোনেল বলেছেন, জরিপে নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকারের’ অবসানের ইঙ্গিত মিললেও অন্য নেতারা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজেদের আপত্তি ও বৈষম্যমূলক অবস্থান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

    তার মতে, অন্য দলগুলো যদি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি না হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইসরাইলে আবারো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

  • গণনার সময় যত বাড়ছে ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট

    গণনার সময় যত বাড়ছে ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে নেতানিয়াহুর ভোট।বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ পার্টি’ মোট বৈধ ভোটের ২১.৭ শতাংশ পেয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। তবে পূর্ববর্তী গণনার আপডেটের (২৩.২৪ শতাংশ) তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার কিছুটা কমেছে।অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ‘ইয়াশার পার্টি’ ১৫.৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে পূর্ববর্তী গণনার আপডেটের (১৫.৪১ শতাংশ) তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে।

    ফিলিস্তিন-ইসরাইলি জয়েন্ট লিস্ট ৯.২২ শতাংশ ভোট পেয়ে উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দলের প্রাপ্ত ভোট (৮.২২%) থেকে সামান্য বেশি।

    নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ঘোষিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ প্রাথমিক এবং ভোট গণনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট ৭৩ লাখ ৩০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

  • মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    গত ২৪ অক্টোবর মানিকের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। সাঈদী সাহেব কখনো রাজাকার ছিলেন না।

    “১৯৭১ সালে মানুষ তাকে চিনত না। তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। সাঈদী সাহেব একজন ভালো বয়ানকারী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ছিলেন।তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, সে কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে। সাঈদী সাহেবের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন সরকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সাঈদীর অনুসারীরা গার্ড অব অর্নার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরাও জানি, তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।”

    আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সেখানে চাপে হোক বা যেভাবেই হোক, মানিক পশারী সাঈদীর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। পরে আর যাচাই-বাছাই হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সরকারি নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেবে, কারণ তিনি এখনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সে কারনে সেখানে গার্ড অব অনার দিতে জামায়াত আপত্তি জানায়।

    গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সি মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বিকালে পুলিশ লাইনসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

    সুত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তার ছোটভাই চান মিয়া পশারী।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চান পশারী জানান, তিনি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। তবে সাঈদীর পক্ষে কথা বলায় তার ভাই মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, ‘তখন আমার ভাই (মানিক পশারী) মেট্রিক পাশ। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি। ’চান পশারী আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম ভাই (মানিক পশারী) দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই, সে ভালো বলতে পারে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে, তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় (তালিকা) নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই। কারণ সাঈদী রে ভালো বলছি এ কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোনো সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি, এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম, তাহলে তো আমার নামটা মুক্তিবাহিনীতে থাকত।’এদিকে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার ছোটভাই চান পশারীর একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায়— তিনি ও তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি আর্থিক লোভে না পড়লেও তার বড়ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এবং সাক্ষী দেয়।তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চান মিয়া পশারীর বাড়িতে যান এ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার নিজেরই।এক প্রশ্নের উত্তরে চান পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সেই সময় অনেক ছোট ছিল সাঈদী। রাজাকার ছিল রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, সেকেন্দার শিকদার।

    এদিন মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।’

    মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার ছলে বলেন, ‘হয় আমার ভাই রে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে।’অপরদিকে সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর আরেক বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

    মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। ’“কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি। আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।”সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’

    তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

    ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’ ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি

    একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’”

    মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল?

    মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

    মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    লাশ নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা

    স্বজন হারানোর শোক নিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। মেঝে ও বারান্দায় অসহায় স্বজনদের ছোটাছুটি। অনেক চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে না পারা। শেষ পর্যন্ত পিকআপ, ভ্যান, রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লাশ নিয়ে বাড়িতে যাত্রা। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতেও চরম ভোগান্তি। পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের মঙ্গলবার দিনব্যাপী ধর্মঘটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালজুড়ে এমন মানবিক সংকট তৈরি হয়।

    সরেজমিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখা যায়, পরিবহণ সংকটে রোগী ও স্বজনরা প্রায় দিশেহারা। কেউ চার-পাঁচ ঘণ্টা, কেউ সাত থেকে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না। তাই বিকল্প যানবাহনে রোগী ও লাশ নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।

    এদিন সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট, কলেজ গেট, নতুন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অনেক চালক রোগী পরিবহণ করেননি। সারাদিন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া মালিক সমিতির অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য জায়গা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও তেমন রোগী পরিবহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলো। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সময়মতো অন্য হাসপাতালে নিতে না পেরে উদ্বেগে স্বজনদের সময় কাটে।

    নারায়ণগঞ্জের মো. শাহীন তার ৭০ বছর বয়সি দাদি হালিমা বেগমকে সোমবার ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন শাহীন। কিন্তু তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    শাহীন জানান, সরকারি হাসপাতালে এসে এমন বিপদে পড়তে হবে, কখনো ভাবেননি তিনি। দাদি মারা যাওয়ার পর তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাননি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও চোখে পড়েনি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে চানখাঁরপুল মোড় থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

    একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েন যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন। তার বড় ভাগিনা মো. রাসেল (২২) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে রাসেল মারা যান। এরপর লাশ নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন মনির হোসেন। অনেক চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    মনির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে লাশ নেওয়ার গাড়ি না পেয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকতে হয়েছে। এত বড় সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি।’

    গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে খুলনা থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসেন আব্দুল আহাদ। পরে তার শাশুড়িকে কিডনি হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর থেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি আহাদ। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুধু এই তিনজনই নন, আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

    পার্কিং নিয়ে বিরোধে ধর্মঘট : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও আমাদের গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশ মামলা দেয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছি আমরা। পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

    হাসপাতালের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

    ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোগীদের একরকম জিম্মি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলেও তাদের নেওয়া হয়নি। পরে শাহবাগ থানাকে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর বাইরের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করিয়ে রোগী নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’ পরিচালকের বরাতে তিনি জানান, সংকট সমাধানে আজ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে বসতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • হাসিনাসহ খুনিদের ফাঁসি চায় শহীদ পরিবার ও জামায়াত

    হাসিনাসহ খুনিদের ফাঁসি চায় শহীদ পরিবার ও জামায়াত

    ঠবপতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক পূর্তি আজ বুধবার। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠাসহ অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার নির্দেশে সেদিন প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

    এরপর লাশের ওপর নৃত্য-উল্লাসে মেতে ওঠে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে সেদিন হাসিনার বাসভবন সুধাসদন থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয় বলেও জানা যায়।এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ও পাশবিকতায় জাতিসংঘসহ দেশে-বিদেশে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এ বিভীষিকাময় ঘটনায় পরে মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। হত্যার বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, পরবর্তী সময়ে নানাভাবে আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয় শহীদ পরিবারগুলো। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারের নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন তারা। ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনরায় সচল করা এবং প্রয়োজনে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে শহীদ পরিবার ও জামায়াত। এসব দাবির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ কলঙ্কজনক পল্টন ট্র্যাজেডির সেই ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করছে দলটি।

    লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করে গত সোমবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডবের ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। দেশের জনগণের দাবি—অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কী ঘটেছিল সেদিন

    ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা আন্দোলনের ডাক দেয় আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। দলীয়প্রধান হাসিনার নির্দেশে অস্ত্রসজ্জিত আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা ও অস্ত্র হাতে মুক্তাঙ্গন-পল্টন এলাকায় অবস্থান নেয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় তাণ্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে চালানো হয় হামলা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর।

    অন্যদিকে সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল জামায়াত। সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলাকালে বেলা ১১টায় লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশের উপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

    তাদের দফায় দফায় হামলা উপেক্ষা করে জামায়াতের সমাবেশ হয়। জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪-৫ মিনিট পর পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০-১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিন। এভাবে সেদিন জামায়াত ও শিবিরের ছয়জন নেতাকর্মী শহীদ এবং আহত হন সহস্রাধিক। মাগরিবের আজানের পর পল্টন মোড়ে বিডিআর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াত-শিবিরসহ চারদলীয় জোটের ৫৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন পাঁচ হাজারের বেশি। তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ান ইলেভেনের অবৈধ সরকার আসে এবং দেশ দুই বছর গণতন্ত্রহীন থাকে।

    বিচারের প্রত্যাশায় শহীদ পরিবার

    দুই দশকেও বিচার পায়নি লগি-বৈঠার হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবার। ঢাকা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিপনের মৃত্যুর ঘটনা স্বজনদের কাছে আজও বেদনার স্মৃতি। ছেলেকে হারানোর শোক এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার হতাশা তাদের দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

    শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে আমার দেশকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকার মামলা বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর চালু হয়নি। অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমাদের দিন কাটছে। মাসুমের বাবা কষ্ট নিয়েই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। আমি নিজেও স্কুলে চাকরি করতে পারিনি। আমার বাবাকেও তারা অত্যাচার করেছে। আমাদের জীবনে প্রতিদিনই ২৮ অক্টোবর আসে। আমরা এই ঘটনায় হাসিনার ফাঁসি চাই।

    শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের পিতা তাজুল ইসলাম জানান, ২৮ অক্টোবর মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়, তা আগে কখনো দেখিনি। হাসিনার হুকুমেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তাকে ফাঁসি দিতে হবে। তা নাহলে আমরা শান্তি পাব না।

    এদিকে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য বিচারের পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

    পল্টন থানায় মামলা, ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, এরপর থমকে যায় বিচার

    ঘটনার পরদিন ২৯ অক্টোবর পল্টন থানায় মামলা করেন জামায়াতের তৎকালীন পল্টন থানা আমির এটিএম সিরাজুল হক। এজাহারে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের ৪০ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাহারা খাতুন, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং সহস্রাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    তদন্ত শেষে হুকুমের আসামি হিসেবে হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল পল্টন থানা পুলিশ চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। ১১ এপ্রিল আদালতে সেটি গৃহীত হয়। হাসিনা, আব্দুল জলিল, নাসিম, মায়া, সাহারা খাতুন, ইনু, মেনন, নানক, ইকবাল ও হাজী সেলিমসহ ৪৬ জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে বিকালে আবার অদৃশ্য কারণে ওই চার্জশিট মুলতবি করে এবং অধিকতর তদন্তের নির্দেশ আসে। তারপর বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে ওই মামলার বিচার কাজ আর আলোর মুখ দেখেনি।

    ক্ষমতায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহার

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বিবেচনা করে ২০০৯ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এতে হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের ফলে পল্টনের হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণের সুযোগ আর থাকেনি।

    এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পক্ষের আইনজীবী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়ে ২০০৯ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যে কারণে এ বিষয়ে আর কিছু করা যায়নি। এরপর মামলার নথিপত্র, নকল বা অনুলিপি আমরা চেষ্টা করেও পাইনি। মামলাটি এখন পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।

    দুই দশক পর আবার বিচার দাবি

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। ২০২৫ সালেও জামায়াতের নেতারা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান। এবার দুই দশক পূর্তির প্রাক্কালে দলটি আবারও বিষয়টি সামনে এনেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নতুন করে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

    স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দেয় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। ঝড়টির বাইরের মেঘমালা ইতিমধ্যে স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে।

    ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বুধবার সকালেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল, ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

    আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি উঠতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও অত্যন্ত উত্তাল থাকবে।

    আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়তে পারে। কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার ওপর ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। গোদাবরী নদীর মোহনায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার হতে পারে।

    আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে। ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাছ ধরার ৩০ হাজারের বেশি নৌযান নিরাপদে সরিয়ে রাখা এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে বলা হয়েছে।

    অর্ণবের প্রভাবে প্রতিবেশী ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও পুরো স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষা করতে হবে।

  • জমির উর্বর মাটি না কাটার  আহ্বান

    জমির উর্বর মাটি না কাটার আহ্বান

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

    বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটাগুলোকে লক্ষ্য করে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এসব ভাটায় আগুন দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ইট তৈরিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

    পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    এ কারণে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় আগুন দেওয়া এবং ইট তৈরিতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা না করেন, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    সাতক্ষীরার জলাবদ্ধ পতিত জমিতে সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হচ্ছে পানি সিংড়া। বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায় না, সেসব জমিতে পানি সিংড়া চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। গত বছর জেলায় ১৬৪ হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া উৎপাদন ও বেচাকেনার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে অনেক জমি পানির নিচে থাকায় সেখানে আমন ধানের চাষ সম্ভব হয় না। এসব জমি পতিত ফেলে না রেখে কয়েক বছর ধরে পানি সিংড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। ধীরে ধীরে এ চাষ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাতেও।

    কৃষকেরা জানান, জলাবদ্ধ জমিতে ধান চাষ করা কঠিন হওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে পানি সিংড়া চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে এ ফল উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকা। বিপরীতে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। শীতকালীন ফল হলেও আগাম চাষের মাধ্যমে বাজারে আগে ফল সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।

    বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি মণ পানি সিংড়া ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

    পানি সিংড়া চাষের বিস্তারে গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের জমিতে পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহের জন্য শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

    ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকেরা জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করে তাঁরা ৪০০ টাকা মজুরি পান। এ আয় দিয়ে তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সহায়তা করছেন।

    এদিকে পানি সিংড়ার ব্যবসায়ীরাও এ ফলের বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন। তারা ক্ষেত থেকে প্রতি মণ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে বাজারে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকায় এ ব্যবসায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘পানি সিংড়া চাষের মাধ্যমে জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিশ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা পড়ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পানি সিংড়া অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এটি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

    কৃষিতে বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত সাতক্ষীরায় ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে বিকল্প ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। জলাবদ্ধ জমিতে পানি সিংড়ার আবাদ সেই সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    দেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মহাসড়কে নতুন এক মাইলফলক যোগ হতে চলেছে। সিলেট অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে কার্পাস তুলা চাষ।

    চা ও লেবুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষামূলক চাষেই মিলেছে তাক লাগানো বাম্পার ফলন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিবিড় পরিচর্যা ও উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই অর্জনে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার, যা গোটা অঞ্চলে কৃষিবিপ্লবের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    শ্রীমঙ্গলে প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য :

    উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সাইটুলা গ্রামের উদীয়মান কৃষক তাপস কুমার কুর্মী (৪০) চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রায় সাড়ে চার কেয়ার (প্রায় ১৫ শতক প্রতি কেয়ার) জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের ‘সিবি হাইব্রিড-১’ তুলার বীজ রোপণ করেন। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেতজুড়ে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা গোলাপী ও সাদা রঙের তুলাফুল ঝুলছে, যা দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে।

    কৃষক তাপস কুমার কুর্মী দৈনিক খোলা কাগজকে জানান, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ রোপণ ও পরিচর্যা পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাড়ে চার কেয়ার জমি থেকে প্রায় ৬০ মণ তুলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। প্রতি মণ তুলা ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার তুলা বিক্রির প্রত্যাশা তার।শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক হিসেবে আমরা প্রায় ৬০ মণ ফলন আশা করছি। তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে নতুন জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় সহযোগিতায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল উৎপাদনের লক্ষ্য :

    তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৫ লাখ বেল তুলার চাহিদা রয়েছে, যার বিপরীতে উৎপাদিত হয় মাত্র ২ লাখ বেল। বাকি তুলা আমদানিতে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

    এ বিষয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দীন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা যদি দেশে ১ কেজি তুলাও উৎপাদন করতে পারি, তবে প্রায় ৩ ডলার সাশ্রয় হয়। আমাদের ১৬ লাখ বেল তুলার মৌলিক চাহিদা পূরণে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলস কাজ করছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পতিত জমি থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উঁচু জমিগুলোকে টার্গেট করে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে ছয়-সাতটি নতুন অফিস স্থাপন এবং চলতি বছরই সিলেটে একটি নিজস্ব ইউনিট অফিস চালু করা সম্ভব হবে।’

    দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সফল রূপায়ণ :

    এর আগে সিলেট বিভাগে তুলা চাষের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতায় তা থমকে গিয়েছিল। তবে এবার শ্রীমঙ্গলে সেই ধারণার সফল পতন ঘটেছে।তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা স্টোর কাম ফিল্ডম্যান ও শ্রীমঙ্গল এরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক দেব রায় খোলা কাগজকে বলেন, ‘শুরুতে অতিবৃষ্টির বাধাকে পেরিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ বিঘার মতো জমিতে সুস্থ-সবল তুলা দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকদের এই অদম্য আগ্রহ দেখে আমরা আগামীতে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘কৃষি বিভাগ ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে। শ্রীমঙ্গল তথা এই অঞ্চলের জন্য তুলা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল।’

    ‘সিবি হাইব্রিড-১’ চাষের মূল বৈশিষ্ট্য :

    উচ্চফলনশীল এই জাতের বিশুদ্ধতার হার ৯৮ শতাংশ এবং অঙ্কুরোদগম হার ৭০ শতাংশের বেশি। ১৭০-১৮০ দিন জীবনকালের প্রতিটি তুলার বলের ওজন ৫-৬ গ্রাম হয়ে থাকে।

    রোপণের উপযুক্ত সময় :

    ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট (শ্রাবণ মাস) বীজ বা চারা রোপণের শ্রেষ্ঠ সময়।

    মাটি ও পরিচর্যা :

    পানি জমে না এমন উঁচু দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি উপযোগী এবং প্রথম ৬০-৭০ দিন খেত আগাছামুক্ত রাখতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রণোদনা ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজারের উঁচু পতিত জমিতে কার্পাস তুলার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। এটি কেবল স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করবে এক নতুন শক্ত ভিত।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উঁচু জমিতে তুলা চাষের এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সিলেট অঞ্চলে তুলা চাষ বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য দুই দেশের। বারনামার প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি এক ডলারের পণ্য কেনার বিপরীতে দেশটি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ড। ফাইল ছবি: রাফায়েল রাসেল, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • প্রথম দফার আলোচনা ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দুই পক্ষ আলোচনার কার্যপরিধিতে সই করেছে এবং ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
    • মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক রাশিদি সাইদ ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের দলের নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব খাদিজা নাজনীন। আলোচনার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
    • জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের মধ্যে টেকসই ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা।
    • ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময় সামনে রেখে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। আলোচনা শুরু হলেই শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয় না; সুবিধা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও তা কার্যকর হওয়ার ওপর।

    সোনারগাঁওয়ে আলোচনা

    প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হয়। কার্যপরিধিতে আলোচনার কাঠামো ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দেশ প্রাথমিক খসড়া বিনিময় করেছে। প্রথম দফায় খসড়ার ভাষা, বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের তালিকা ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে পণ্য, সেবা, শুল্কপ্রক্রিয়া ও পণ্যের উৎসবিধি রয়েছে। কোনো পণ্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে কি না, তা এই উৎসবিধি দিয়ে নির্ধারিত হয়।

    চৌধুরী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে। উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও রপ্তানির প্রতিযোগিতা ধরে রাখার একটি উপায় হিসেবে তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা বলেন। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা জানান। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় সমর্থনের জন্যও তিনি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

    সাইদ প্রস্তাবিত চুক্তিকে শুল্ক কমানোর বাইরেও বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। দুই পক্ষই বলে, ২০২৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা লাগবে।

    বাণিজ্যের দুটি হিসাব

    বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রায় ২৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য কেনে। এই আনুমানিক দুটি অঙ্কের যোগফল প্রায় ২৮৫ কোটি ডলার। তাই এগুলোকে নির্ভুল অঙ্ক ধরে উল্লিখিত মোটের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

    দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের হিসাব ভিন্ন সময়ের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। ঘাটতি প্রায় ২০১ কোটি ডলার। অর্থবছরের এই হিসাবের সঙ্গে পঞ্জিকাবর্ষের হিসাব তুলনা করে আগের বছরের তুলনায় পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি হলে তৈরি পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্য, চামড়া, জুতা, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্রকৌশলপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়তে পারে। কোন কোন পণ্যে শুল্কসুবিধা মিলবে এবং রপ্তানিকারকদের কোন উৎসবিধি মানতে হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

    চুক্তি ও উত্তরণ

    ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। দুটি চুক্তিই অনুসমর্থনের অপেক্ষায়। সই, অনুসমর্থন ও কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

    উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে। উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর। তবে ওই দিনই সব বাজারে সব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা শেষ হবে না। বাণিজ্যিক অংশীদারভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধা আলাদা। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তির সুবিধা নির্ভর করবে এর আওতা ও বাস্তবায়নের তারিখের ওপর।

    এরপর কী

    • খসড়া, পণ্যের তালিকা ও ২০২৭ সাল পর্যন্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার পর প্রথম দফা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
    • আনোয়ার ইব্রাহিমের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আলোচনাকে এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে। প্রথম দফার উদ্বোধনে সম্পন্ন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
    • রপ্তানিকারকদের জন্য চূড়ান্ত শুল্কতালিকা ও উৎসবিধি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর চুক্তি কার্যকরের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শেষ করতে হবে।
  • ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলে মঙ্গলবারের প্রথম বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশারের চেয়ে এগিয়ে আছে বেনজামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ। তবে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩ নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০ এবং বিরোধী জোটকে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন দিয়েছে।

    এগুলো সম্ভাব্য ফলের প্রাক্কলন, গণনা করা ভোটের ফল নয়। তিন সম্প্রচারমাধ্যম নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে আরব দলগুলোকে ১৭ থেকে ১৮টি দিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা এমন দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে, যারা একসঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করে প্রচার চালিয়েছে। ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোট চলাকালেও গাজা ও হেবরনে সামরিক অভিযান চলেছে।

    জেরুজালেমে নেসেট ভবন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টের ফাইল ছবি। ছবি: ক্লেমা১২, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় তা আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
    • কান, চ্যানেল ১২, চ্যানেল ১৩ ও আই২৪নিউজের প্রথম বুথফেরত জরিপে লিকুদ এগিয়ে ছিল। এই চার প্রাক্কলনে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই ৬১ আসন পায়নি। প্রধান তিন চ্যানেলে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও আই২৪নিউজ তাঁর জোটকে এগিয়ে রেখেছে।
    • কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১০ থেকে ১১টি এবং রাআম সাতটি আসন। আই২৪নিউজ জয়েন্ট লিস্টকে নয়টি ও রাআমকে সাতটি দিয়েছে। গাদি আইজেনকোট বলেছেন, তিনি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করবেন না। মনসুর আব্বাস বলছেন, রাআম পরিবর্তনের সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে।
    • ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান চলেছে। কানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর নিহতের সংখ্যা সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৯ এবং জাতিসংঘের কমিশনের নিজস্ব হিসাবে ১ হাজার ৪৩১।
    • ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। তিনি প্রথমে ২৮ দিন পাবেন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।

    ভোটের হারে রেকর্ডের গতি

    কমিটির হিসাবে, ইসরায়েলের সময় সকাল ১০টার মধ্যে ভোট পড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ। দুপুরে তা হয় ৩১.৫ শতাংশ, প্রায় ২৪ লাখ মানুষ। বেলা ২টায় ভোট পড়ে ৪৪.৯ শতাংশ, ২০২২ সালের একই সময়ের চেয়ে ছয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বিকেল ৪টার মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট দেন। সন্ধ্যা ৬টায় হার হয় ৬৬.৭ শতাংশ, ২০২২ সালের চেয়ে নয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ৮টায় তা দাঁড়ায় ৭৪.৩ শতাংশে, আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তখন পর্যন্ত ভোট পড়ে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৭টি। দুই আরব দলের শক্তি নির্ধারণে আরব ভোটারদের উপস্থিতির ভূমিকা আছে। তিবি তাঁদের উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলেছেন। স্থানীয় হিসাবে বিকেল নাগাদ রাহাতে ৩৭ শতাংশ এবং নাজারেথ ও তাইবেতে ২৫ শতাংশ ভোট পড়ে। রাত ৮টায় আরব৪৮ প্রকাশিত কমিটির তথ্যের তালিকায় সাখনিনে ৮৩.৫ শতাংশ, কাফর কাসিমে ৮১.৩ শতাংশ ও রাহাতে ৭৯.৮ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলা হয়।

    ভোট চলাকালে নির্বাচন চুরির চেষ্টার অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় ভোটের পরিস্থিতিকে জরুরি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লিকুদের প্রচারের অর্থসংক্রান্ত তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের খামসহ ধরার কথা পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীরা নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ নেই। দিনের শেষ দিকে লিকুদ রাত ১০টার পরও ভোট গ্রহণ চালানোর আবেদন করে। আইজেনকোট এর বিরোধিতা করেন, কমিটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং সময়মতো ভোট শেষ হয়। ব্যতিক্রম ছিল হেবরন। সেখানে রাত ৯টায় বন্ধ হওয়ার কথা থাকা কেন্দ্রগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।

    সরকার গঠনের হিসাব

    প্রথম বুথফেরত জরিপের তুলনায় কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে লিকুদ প্রথম। আলাদা আই২৪নিউজের প্রাক্কলনেও লিকুদ প্রথম, তবে সেখানে নেতানিয়াহুর জোটের মোট আসন বেশি। নিচের প্রতিটি সারি একটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রথম প্রাক্কলন। বিভিন্ন জরিপের সীমা মিলিয়ে কল্পিত কোনো পার্লামেন্টের হিসাব করা হয়নি।

    সম্প্রচারমাধ্যম লিকুদ ইয়াশার নেতানিয়াহুর জোট বিরোধী জোট আরব দলগুলো
    কান ২৫ ২১ ৫০ ৫৩ ১৭
    চ্যানেল ১২ ২৪ ২২ ৫০ ৫২ ১৮
    চ্যানেল ১৩ ২৫ ২৩ ৫০ ৫৩ ১৭
    আই২৪নিউজ ২৭ ২০ ৫৫ ৪৯ ১৬

    লিকুদ ও ইয়াশারের আসন নিজ নিজ জোটের মোটের মধ্যেই আছে; সেগুলো আবার যোগ করা যাবে না। প্রতিটি সারিতে শেষ তিন কলামের যোগফল ১২০। এই চারটি প্রথম প্রাক্কলনের কোনোটিতে প্রধান দুই জোটের কেউ ৬১ আসন পায়নি। এখানে চ্যানেল ১৪-এর বুথফেরত জরিপ নেই; এই প্রতিবেদন প্রথম জমা দেওয়ার সময় সেটি পাওয়া যায়নি।

    ভোটের আগের শেষ জরিপে প্রধান তিন চ্যানেল নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০, আই২৪নিউজ ৫৯ এবং চ্যানেল ১৪ দিয়েছিল ৬২ আসন। প্রধান তিন চ্যানেলের শেষ জরিপে লিকুদের ওপর ইয়াশারের যে এগিয়ে থাকা ছিল, প্রথম বুথফেরত জরিপে তা উল্টে যায়। প্রথম চার বুথফেরত জরিপে রিজার্ভিস্টস ও ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল ন্যূনতম ভোটের সীমার নিচে ছিল।

    কোনো সরকার সংসদীয় সমর্থন পাবে কি না, তাতে আরব দলগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাআম প্রথম চার প্রাক্কলনের প্রতিটিতে সাত আসন পেয়েছে। জয়েন্ট লিস্টে আছে হাদাশ, তাল ও বালাদ। সরকারে যোগ দেওয়া, বাইরে থেকে সমর্থন এবং সরকার গঠনের ভোটে বিরত থাকা আলাদা সিদ্ধান্ত। আইজেনকোট তাঁর আপত্তি জানিয়েছেন: “আমি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করব না।” কারণগুলোর মধ্যে তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে আরব দলগুলোর অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন। রয়টার্স তাঁর অস্বীকৃতিকে অংশীদারত্বের বিষয়ে বলা বক্তব্য হিসেবে জানিয়েছে। বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাবনা আলাদা প্রশ্ন। আব্বাসের মতে, আসনের হিসাব আইজেনকোটের অবস্থান বদলাতে পারে। তাঁর দল পরিবর্তনের নতুন সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বাইরে থেকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর নিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের পক্ষে ভোটও রয়েছে। নেতানিয়াহু বরাবরই ওই তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    নেতানিয়াহুর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থনের সঙ্গে একটি শর্তও আছে। তিনি রোববার বলেন, ইরানের হুমকি “চূড়ান্তভাবে” দূর করতে ট্রাম্প আবার ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, তবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলেই তা হবে। জবাবে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহু “ভয় দেখানো, মিথ্যা ও হুমকির প্রচারের” ওপর নির্ভর করছেন। জনগণের নির্বাচিত যেকোনো নেতার সঙ্গে ট্রাম্প “পূর্ণ সহযোগিতায়” কাজ করবেন বলে তিনি আস্থা জানান।

    ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান

    শুক্রবার একটি তল্লাশিচৌকিতে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান শুরু হয়। নির্বাচনের দিনও তা চলে। মঙ্গলবার শহরে অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি সেনারা স্টান গ্রেনেড ছোড়েন। সেনাবাহিনী বলেছে, অভিযান চালিয়ে যেতে গ্রেনেডটি ছোড়া হয়। নির্বাচনের দিনের জন্য পশ্চিম তীরের স্থল পারাপারপথগুলো বন্ধ করেছে সেনাবাহিনী। রোববার থেকে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

    বাস্তুচ্যুত মানুষের একাধিক হিসাব আছে, প্রতিটির কর্তৃপক্ষ আলাদা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানায়, শুক্রবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তিন হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। হেবরন পৌরসভার সোমবারের হিসাবে বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার ১৮৯ জন। রোববার পর্যন্ত ডেপুটি মেয়রের হিসাবে ৩৭৩ পরিবারের ২ হাজার ২৩১ জন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রায় দুই হাজারের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, হেবরনে হামাসসংক্রান্ত সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফিরতে পারবেন না। নেতানিয়াহু ও কাৎজ হেবরনে জেনিন শরণার্থীশিবিরের আদল প্রয়োগের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছেন: বাসিন্দাদের জোর করে সরানো, বাড়ি তল্লাশি, অস্ত্র জব্দ ও বুলডোজার দিয়ে সড়ক ভেঙে দেওয়া। জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, ব্যবস্থাগুলো শাস্তিমূলক ও ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া। সমষ্টিগত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং গোটা মহল্লা খালি ও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি জাতিগত নির্মূলের গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে বলে তিনি জানান। বাস্তুচ্যুত সবাইকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং বেআইনি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের জন্য ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের শুরু থেকে হতাহত বা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এমন দুই হাজারের বেশি বসতিস্থাপনকারীর হামলাও নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। আগের যেকোনো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।

    অভিযান এখনো চালানো উচিত কি না, তা নিয়ে সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। কান জানায়, চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির নেতৃত্বকে বলেছেন, অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়ার সামরিক যুক্তি আর নেই এবং সরিয়ে দেওয়া পরিবারগুলোকে ফিরতে না দেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জামির অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলে নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেনাবাহিনীর রোববারের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়, এলাকায় স্থাপনা ভাঙা হবে এবং বাড়িগুলো তল্লাশি করে সেনারা কোনো অস্ত্র পাননি। কানের বিবরণে প্রায় ৫০০ স্থাপনা তল্লাশি করে একটি রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে অস্ত্রের সংখ্যা আলাদা; পাওয়া বিবরণে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা নেই।

    নির্বাচনের দিনে গাজার যুদ্ধ

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে বলেন, সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি গুলি ও বিমান হামলায় ১১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের এক শিবিরে বিমান হামলায় হুসাম আল-জামলি, ২১, তামের আবু স্নেইমা, ২৪, এবং সাত বছরের এক মেয়ে নিহত হয়। পরে শিবিরে চতুর্থ একজনের মৃত্যুও নিশ্চিত হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এএফপিকে বলেছে, তারা প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর নিহতের বিষয়ে দুটি কর্তৃপক্ষ আলাদা হিসাব দিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর ১ হাজার ৫৫৯ জন নিহত ও ৫ হাজার ৬০৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ৭৪ হাজার ৫৫৫ জন। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন সোমবার জানায়, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে গেছে। ওই সময়ে কমিশনের নিজস্ব হিসাবে নিহত ১ হাজার ৪৩১ জন, যাঁদের অন্তত ৩০০ শিশু। কমিশনের ভাষ্য, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির রেখা বরাবর অন্তত নয়টি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণের এলাকা ৫৩ শতাংশ থেকে অন্তত ৬০ শতাংশে বাড়িয়েছে। ইসরায়েল প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অপতথ্য প্রচারের অংশ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখানে উদ্ধৃত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব সোমবার প্রকাশিত; এটি নির্বাচনের দিনের চূড়ান্ত প্রাণহানির হিসাব নয়।

    গণনার মধ্যে ইরান প্রসঙ্গ

    চ্যানেল ১২ রোববার জানায়, ইরানসংক্রান্ত অনির্দিষ্ট একটি সামরিক নির্দেশ পালনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছেন জামির। তিনি বিস্তারিত আলোচনা, আইনি নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সই চেয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রতিবেদনটিকে আবর্জনা বলে প্রত্যাখ্যান করে কোনো সংঘাতের কথা অস্বীকার করেন। সিএনএন সোমবার জানায়, নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটনকে চাপ দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সবুজসংকেত দেননি। হামলা হলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে জামিরের সতর্কতা ওয়াশিংটনের বিবেচনার বিষয়গুলোর একটি ছিল। নেতানিয়াহুর দপ্তর সিএনএনের খবরকে ভুয়া বলেছে। নির্বাচনের আগে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে মানেননি কাৎজ। মিডল ইস্ট মনিটর মঙ্গলবার জানায়, চ্যানেল ১২ ও ১৩ সোমবার সন্ধ্যায় এই বিরোধ নিয়ে আরও খবর প্রকাশ করেছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নির্বাচনে জিতলে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করবেন বলে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বলেছেন নেতানিয়াহু। চ্যানেল ১২ জানায়, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সোমবার লিকুদের আইনপ্রণেতাদের একত্র করার বৈঠক বাতিল করেন নেতানিয়াহু। সোমবার দেওয়া হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বক্তব্য হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালাবে না এবং অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

    বিরোধী নেতারা নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ইরানবিরোধ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। ইয়াইর লাপিদ লেখেন, শুধু নির্বাচন পিছিয়ে দিতে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছেন এবং তিনি বেসামাল হয়ে গেছেন। আইজেনকোট লেখেন, “নেতানিয়াহু, আমি আপনাকে দেখছি।” তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রাজনৈতিক খেলার হাতিয়ার নয়, তা বুঝতে অস্বীকার করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে চিঠি দেন আভিগদর লিবারম্যান। অন্যদিকে নেতানিয়াহু চ্যানেল ১৪-তে বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু করেছে। এখানে সেই সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবিই তুলে ধরা হচ্ছে। সোমবারের চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনার পর মঙ্গলবার তেহরানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী আলোচনাকে “খুব ভালো” বলেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে। সোমবার সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার হুতিদের দাবি সৌদি আরব এখনো নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে আঘাত করে আগুন ধরিয়েছে তারা। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাটি নিশ্চিত করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, শোধনাগারের টার্মিনালের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে তারা।

    এরপর কী

    • গণনা করা ফলের সঙ্গে এবার বুথফেরত জরিপ মিলবে। নির্বাচন কমিটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করার আশা করছে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করবে বুধবার, ৪ নভেম্বর। এত কাছাকাছি প্রাক্কলনে ৩.২৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটসীমার আশপাশের দল এবং নেসেটে গণনা করা দ্বৈত খামের ভোট আসনের চিত্র বদলাতে পারে।
    • প্রেসিডেন্ট হারজগ এরপর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। প্রথম মেয়াদ ২৮ দিন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন বাড়তে পারে। সরকার গঠিত না হলে দায়িত্ব অন্যের কাছে যায় অথবা আবার নির্বাচন হয়। অন্তর্বর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাজ করে।
    • প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেবরনে অভিযান চলবে। বিপরীতে সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করেছেন বলে খবর এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফিরতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান।
    • তেহরানের আলোচনা, অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ভোটগণনা থেকে আলাদা বিষয়।

    পটভূমি: ইসরায়েলের ভোটের আগে যুদ্ধ ও প্রচার

  • শিক্ষকেরা দাবিতে অনড়, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে লো পেন

    শিক্ষকেরা দাবিতে অনড়, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে লো পেন

    ফ্রান্সের শিক্ষকেরা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর বলেছেন, সরকারের শিক্ষা খাতের ছাড় আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ করবে না। নিরাপত্তা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মারিন লো পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরুর দুই দিন পর এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। ৩১ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ছবির ক্যাপশন: শিক্ষা আন্দোলনের একটি প্ল্যাকার্ডে বিদ্যালয়কে ভগ্নদশায় থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফাইল ছবি: FreCha, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • অরলেয়াঁয় ন্যাশনাল র‍্যালির সম্মেলনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন লো পেন। তিনি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ফেরানো, অপরাধী বিদেশিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন। জর্দান বারদেলা আবার দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁকে লো পেনের পছন্দ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
    • জুলাইয়ে আপিল আদালত তাঁর অর্থ আত্মসাতের দণ্ড বহাল রাখলেও সরকারি পদে থাকার কার্যকর নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ইতিমধ্যে ভোগ করা মেয়াদে আনে। কারাদণ্ডের মধ্যে এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারিতে কাটানোর বিধান রয়েছে। পরবর্তী আপিলের বিচার চলাকালে এর কার্যকর প্রয়োগ স্থগিত থাকতে পারে।
    • সরকারের সোমবারের প্যাকেজে কিছু উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৮-এ সীমিত করা, বিদ্যালয় সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো ঋণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ভর্তি পদ্ধতি বদলানোর কথা রয়েছে। বাজেটমন্ত্রী ব্যয় ৫০০ কোটি ইউরো বলেছেন। অন্য খাতে ব্যয় কমিয়ে তা সমন্বয় করা হবে।
    • শিক্ষার্থী নেতারা প্যাকেজকে প্রথম পদক্ষেপ বলেছেন এবং আন্দোলন চালানোর অঙ্গীকার করেছেন। পরবর্তী বিক্ষোভ শনিবার এবং দেশব্যাপী ধর্মঘট ৫ নভেম্বর হওয়ার কথা।

    অরলেয়াঁয় প্রচার শুরু

    অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন লো পেন: সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ফেরানো, অপরাধী বিদেশিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী ও মাদক পাচারকারীদের দমন। সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার আগে তিনি বলেন, “আমরা বলি, ‘আগে ভালো ছিল, আগামীকাল আরও ভালো হবে’।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ আমাদের।”

    অর্থনীতি নিয়ে তিনি ব্যয় সংযম, ব্যবসার কর কমানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। অবসরের বয়স আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করেন তিনি। ইউরোপের প্রশ্নে ফ্রান্সকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার কথা বলেননি। বরং ব্রাসেলসের প্রভাব কমানো, সীমান্ত ও আইনে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ফেরানো এবং বিদেশের যুদ্ধ থেকে ফ্রান্সকে দূরে রাখার কথা বলেছেন।

    সম্মেলনে নেতৃত্বের একটি স্থির জুটি তুলে ধরার আয়োজন ছিল। বারদেলা আবার ন্যাশনাল র‍্যালির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে লো পেনের পছন্দ বলা হয়। একটি ইহুদি শিক্ষার্থী ইউনিয়নের কর্মীরা তাঁর বক্তব্যে বাধা দেন। তরুণ বয়সে তিনি ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন, এমন অভিযোগের দিকে তাঁরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বারদেলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১১ সালে বাবা জ্যঁ-মারি লো পেনের কাছ থেকে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে দলটিকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন লো পেন। দলের ভাবমূর্তি নরম করা এবং অভিবাসনবিরোধী সমর্থকগোষ্ঠীর বাইরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো তাঁর প্রচেষ্টার অংশ।

    লো পেনের প্রচারের সামনে একটি অমীমাংসিত আইনি প্রক্রিয়াও রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্যারিসের একটি আদালত ২০২৫ সালের মার্চে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার দুই বছর স্থগিত। সঙ্গে ১ লাখ ইউরো জরিমানা এবং সরকারি পদে থাকার ওপর তাৎক্ষণিক পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৭ জুলাই প্যারিসের আপিল আদালত দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রেখে নিষেধাজ্ঞা ৪৫ মাসে নামায়, যার ৩০ মাস স্থগিত। বাকি ১৫ মাস তিনি ইতিমধ্যে ভোগ করেছিলেন। তাঁর কারাদণ্ড হয় তিন বছর, যার দুই বছর স্থগিত এবং এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারিতে কাটানোর কথা।

    তিনি কুর দ্য কাসাসিওঁতে আরও আপিলের ঘোষণা দেন। রায় নিয়ে লো মঁদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই আপিলের বিচার চলাকালে ইলেকট্রনিক নজরদারির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত থাকবে। নির্বাচনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা ও কারাদণ্ড কার্যকর করা দুটি আলাদা প্রশ্ন। প্রচারে শেষ পর্যন্ত কী বিধিনিষেধ থাকবে, তা ওই প্রক্রিয়ার ফলের ওপর নির্ভর করছে।

    ছাড় ও তার ব্যয়

    সেপ্টেম্বরে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় অবরোধ শুরু করেন। পরে সরকারি সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় শ্রমিক সংগঠন ও ইয়েলো ভেস্টের কর্মীরা। ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে সরকার ৭০ হাজার পুলিশ ও জঁদার্ম মোতায়েন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেছেন, পরবর্তী বিক্ষোভেও ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি থাকবে।

    সোমবার প্যারিসে শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৮-এ সীমিত করার অঙ্গীকার, বিদ্যালয় সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো ঋণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে শিক্ষার্থী অনুদান বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষায় আরও ১৫ হাজার আসন। শিক্ষার্থীরা যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতিকে সামাজিকভাবে অন্যায্য বলছেন, তা ২০২৮ সালের মধ্যে বদলানো হবে। ২০২৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের বিস্তারিত মানদণ্ড প্রকাশ এবং অনুরোধ পেলে প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থায় যে চাপ অনুভূত হচ্ছে, তা কমাতে হবে, এটা স্পষ্ট।” বাজেটমন্ত্রী দাভিদ আমিয়েল টিএফওয়ানকে বলেছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর ব্যয় ৫০০ কোটি ইউরো হতে পারে। অন্য খাতে ব্যয় কমিয়ে তা সমন্বয় করা হবে।

    ঋণ কমাতে বন্ডবাজারের চাপের মুখেও রয়েছে সরকার। ফলে ছাড়ের অর্থ জোগানোর সুযোগ সীমিত। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা লো পেনের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকা নির্বাচনের ফল নয়। আর শিক্ষা পরিবর্তনের সময়সূচি আসন্ন প্রচারের পরও বিস্তৃত।

    আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

    ছাড়গুলোকে শুরু হিসেবে নেওয়া হয়েছে, নিষ্পত্তি হিসেবে নয়। সোমবারের বৈঠকের পর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রতিনিধি লুই লেতুব্লোঁ বলেন, “আমাদের সব দাবি পূরণ হয়নি। যত দিন লাগে, আমরা চালিয়ে যাব।” শিক্ষার্থী নেতারা প্যাকেজকে ভালো প্রথম পদক্ষেপ বলেছেন এবং বিক্ষোভের সময়সূচিতে অনড় রয়েছেন।

    মঙ্গলবার শিক্ষক ইউনিয়ন এসএনইএস-এফএসইউর মহাসচিব সোফি ভেনেতিতে বলেছেন, আরও বেশি শ্রেণিকে শিক্ষার্থীসংখ্যার সীমার আওতায় আনতে হবে এবং আরও কর্মী নিয়োগ করতে হবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আজ মন্ত্রণালয় যা বলেছে, তা একটি জবাবের শুরু মাত্র।” তিনি আরও বলেন, “এতে ক্ষোভ নিভবে না।”

    ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করছেন। চেম্বার অব কমার্সের নেটওয়ার্ক সিসিআই ফ্রান্সের প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো বলেছেন, ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর সতর্কতা হিসেবে অনেক খুচরা বিক্রেতা দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। বিক্রি ব্যাপকভাবে কমেছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের দোকানিরা ক্লান্ত ও হতাশ, আর আমরা স্থানীয় বাণিজ্যকে মেরে ফেলছি।” মার্সেইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ স্বীকার করেছেন, ৫ নভেম্বরের বড় দেশব্যাপী কর্মসূচির আগে এই সপ্তাহান্তে আরও অস্থিরতা হতে পারে। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল রাখবেন এবং শহরকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ সরাতে কাজ করবেন।

    নুনেজ আরটিএলকে বলেছেন, শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি থাকবে। এর দুই সপ্তাহ আগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংসতা ও লুটপাটে গড়ায়। এরপর ফ্রান্সের কিছু এলাকায় কারফিউ ও বড় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আসে। শনিবার, ৩১ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হওয়ার কথা।

    এরপর যা হবে

    পরবর্তী বিক্ষোভের পরিকল্পনা ৩১ অক্টোবর, এরপর ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী কর্মসূচি। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষা প্যাকেজের ব্যয় সমন্বয় করতে কোথায় ব্যয় কমানো হবে, সরকারকে তা জানাতে হবে। প্রতিশ্রুত ভর্তি পদ্ধতির পরিবর্তন হওয়ার কথা ২০২৮ সালে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে। তখন ক্ষমতায় থাকা সরকারের ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

  • সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের যুদ্ধরত দুই পক্ষ, আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও সেনাবাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।এর মধ্যে ড্রোন হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। এল ফাশারের পতনের এক বছর পূর্তিতে ২৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। বেসামরিক মানুষকে অনাহারে রাখা ও তাঁদের ওপর যৌন সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ছবির ক্যাপশন: খার্তুমে নীল নদের ওপর এল মেক নিমির সেতুর ফাইল ছবি। এটি উপকেন্দ্রে প্রকাশিত হামলার স্থান নয়। ছবি: ক্রিস্টোফার মিশেল, CC BY 2.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে; আড়াআড়িভাবে কাটা।

    সংক্ষেপে

    • এল ফাশারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ঘোষিত প্যাকেজে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতাসহ নৃশংসতার সন্দেহ রয়েছে।
    • যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা। সংস্থাটি সব পক্ষের পরিকল্পিত অনাহার ও যৌন সহিংসতা নথিভুক্ত করেছে। এই সপ্তাহে সংস্থাটি জানিয়েছে, সুদানজুড়ে একই কৌশল এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।
    • সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়। মঙ্গলবার ওমদুরমানের একটি উপকেন্দ্রে হামলায় খার্তুমের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে।
    • চলতি বছরের শুরুর দিকে গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়, এল ফাশারের পতনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে পারত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বর্ষপূর্তিতে নিষেধাজ্ঞা

    উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশারের পতন ঘটে ১৮ মাসের অবরোধের পর। এই অবরোধে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ অনাহারের শিকার হন। শহরের পতনের পরের দিনগুলোতে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয় এবং নারী ও মেয়েদের ওপর ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালানো হয়। যাঁদের দায়ী মনে করে, তাঁদের নাম ঘোষণার জন্য যুক্তরাজ্য পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি বেছে নিয়েছে।

    তালিকায় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উদাহরণ হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। হুসেইন আবু জালাক আরএসএফের একজন কর্নেল। অবরোধের সময়কার নৃশংসতার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ পশুখাদ্য খেয়ে বাঁচতে বাধ্য হন। আল-কুব্বা নামে পরিচিত আল-নুর আহমেদ আদম শহর অবরোধ ও হামলায় উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় ১৫ জনের সবার ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। এর আগে যুদ্ধের অপরাধী ও তাঁদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্য পাঁচ দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

    তালিকার পেছনে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে কাজ করা তদন্ত সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদন। তাদের অনুসন্ধানে সংঘাতের উভয় পক্ষের মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অনাহার ও সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযান উঠে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে, “সুদানের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অনাহারকে এখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে”। তিনি এসব কাজকে “আমাদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলেছেন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে বাইরের সব সমর্থকের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন করে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় ৫০ লাখ পাউন্ড এবং মানবিক সহায়তায় ১ কোটি পাউন্ড। মানবিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাওইলার আশপাশের বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং এল ওবেইদে স্বাস্থ্যসেবা।

    এল ফাশারে এখনো আটকা বেসামরিক মানুষ

    যুদ্ধের আগে এল ফাশারে ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস ছিল। শহরে কাজ করা মানবিক সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এখন ৭০ হাজারের কম মানুষ রয়েছেন। দখলের সময় কতজন নিহত হয়েছেন এবং এখনো কতজন নিখোঁজ, সেই হিসাব অনিশ্চিত।

    যাঁরা রয়ে গেছেন, শহরের পতনের মধ্য দিয়ে তাঁদের অবরোধ শেষ হয়নি। অ্যামনেস্টির অক্টোবরের প্রতিবেদনে এল ফাশারে নির্বিচার আটক, নির্যাতন ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড চলার বিবরণ রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাসিন্দারা আরএসএফের নজরদারিতে রয়েছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ফেরার জন্য এল ফাশার নিরাপদ বলে আরএসএফের দাবি “সত্য থেকে সম্পূর্ণ দূরে”। তদন্তকারীদের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও একই পরিস্থিতি উঠে এসেছে। সিআইআরের ভিডিওতে আরএসএফ যোদ্ধাদের এল ফাশারের পানি সরবরাহ বন্ধ এবং ব্যবসায়ীদের খাদ্য আনতে বাধা দেওয়া নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। শহরটিকে অনাহারে রাখা অবরোধ শেষ হওয়ার এক বছর পরও এই আলোচনা চলছে।

    যে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল

    চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এল ফাশারের পতনের আগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় দুই যুদ্ধরত পক্ষই রয়েছে। তবে এল ফাশারে হামলা চালিয়েছিল আরএসএফ।

    নিষেধাজ্ঞায় ভ্রমণ বন্ধ এবং ব্রিটিশ আইনের আওতায় থাকা সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। ১৫ কমান্ডারের কারও এমন সম্পদ আছে কি না, যা বাস্তবে জব্দ হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা হয়নি।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাজারে ড্রোন হামলা

    সর্বশেষ ড্রোন হামলাগুলো বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও একটি বাজারে আঘাত হেনেছে। নিষেধাজ্ঞায় যে শহরের পতন স্মরণ করা হচ্ছে, তার বাইরেও এই হামলা হয়েছে। পৃথক হামলাগুলোর দায় নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

    সুদান ইলেকট্রিসিটি হোল্ডিং কোম্পানির হিসাবে, সোমবার সিঙ্গা, আল-হাওয়াতা, আল-ফাও, মাশকুর ও আল-জুনাইদের পাঁচটি উপকেন্দ্র ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেন্নার, গেদারেফ, হোয়াইট নাইল ও গেজিরা রাজ্যজুড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রিড বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সিঙ্গা উপকেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষীরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে বলেছেন, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর-পশ্চিম ওমদুরমানের আল-মারখিয়াত উপকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত করে। এতে খার্তুমের বড় অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়। সকাল গড়ানো পর্যন্ত মঙ্গলবারের হামলা কারা করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছিল না। কোম্পানি সোমবারের পাঁচ হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। সুদানের কর্তৃপক্ষ বারবার বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জন্য আরএসএফকে অভিযুক্ত করেছে। একই কোম্পানির একটি সূত্র পরে এএফপিকে বলেছে, আরএসএফের ড্রোন আল-মারখিয়াত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আরএসএফ এমন অভিযোগে সচরাচর মন্তব্য করে না। তাদের বক্তব্য, তারা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে।

    সোমবার রাতে দক্ষিণ দারফুরে আরএসএফের কার্যত রাজধানী নিয়ালার একটি বাজারে পৃথক হামলা হয়। নিয়ালা হাসপাতালের একজন চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে বলেছেন, ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আরএসএফ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা আরএসএফের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করেছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা, চিকিৎসাকর্মী তা বলতে পারেননি। প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব, বেসামরিক মৃত্যুর চূড়ান্ত মোট নয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর শুধু অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে। এসব হামলার জন্য দুই বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে কাজ করা তদন্তকারীরা এই ধরনকে অবরোধের একই কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করছেন: বেসামরিক অবকাঠামো ও মানবিক কার্যক্রমে ড্রোন হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে ত্রাণে বাধা দেওয়াকে নিয়মিত যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এরপর যা হবে

    নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী মাপকাঠি হলো কার্যকর প্রয়োগ এবং অন্য সরকারগুলো একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না। মিলিব্যান্ড আরএসএফ ও এসএএফকে ত্রাণবহরে হামলা বন্ধ করে মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছাতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উপকেন্দ্রগুলোতে হামলার পর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ফিরছে কি না, তার ওপরও জরুরি সেবা পাওয়া নির্ভর করবে।

In English

English edition · Older English stories