BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ, ১৩ জনের জেল

    শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ, ১৩ জনের জেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১৩ জনের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল আসার পর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

    সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাদের আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের (সংক্ষিপ্ত বিচার) মাধ্যমে এ দণ্ড দেওয়া হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

    শৈলকুপা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে তিনজনকে আট মাস করে, দুজনকে এক বছর করে এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আরো ১০ থেকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মনোহরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৪০), ব্রহ্মপুর সাহাপাড়ার রাজু শাহ (২৫), শেখপাড়া পদমদির রয়েল খান ওরফে রাসেল (২৫), মাইলমারী ২ নম্বর মির্জাপুরের রইচ উদ্দিন মণ্ডল (৪৬), শেখপাড়ার ইউনুস মণ্ডল (৪৫), ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরউমরাপুর গ্রামের মো. হোসেন (২২), ঝিনাইদহের হামদু কাঞ্চনপুরের বিপুল মণ্ডল (৩৫), কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. হাসিব (২০), মো. ফরহাদ হোসেন (২০), মো. আল আমিন (২৬), মো. সাব্বির হোসেন (২৫), মো. সিরাজুল বিশ্বাস (৩২) এবং মো. শাহিন হোসেন (২৮)।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লাহ বলেন, ‘মাদক ওঅপরাধমুক্ত জেলা গঠনের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    ক্যানসার রোগীর মুখের একটি ছবি বিশ্লেষণ করেই তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। একই সঙ্গে রোগীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় তার জৈবিক বয়স কত, সেটিও নির্ণয় করতে পারবে নতুন এ প্রযুক্তি। চিকিৎসকদের দাবি, ভবিষ্যতে রোগীর চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা।

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অলাভজনক সমন্বিত শিক্ষাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের বিশেষজ্ঞরা এআই টুলটি তৈরি করেছেন। ৪ কোটির বেশি মুখের ছবি ব্যবহার করে এটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব ছবিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বয়সের মানুষের মুখ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট ডিজিটাল হেলথ সাময়িকীতে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গবেষকেরা একই মডেলের ভিত্তিতে দুটি পৃথক টুল তৈরি করেছেন। এফএএইচআর-ফেসএজ রোগীর মুখের ছবি থেকে তার জৈবিক বয়স অনুমান করার পাশাপাশি ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পূর্বাভাস দেয়। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল জৈবিক বয়সের হিসাবের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।

    দুটি টুল একই এআই মডেল থেকে তৈরি হলেও রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভিন্ন ও পরিপূরক তথ্য শনাক্ত করতে পারে। এ ছাড়া বয়স ও মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণের জন্য এগুলো মুখের আলাদা আলাদা অংশ বিশ্লেষণ করে।

    এফএএইচআর-ফেসএজ নাকের দুই পাশ থেকে ঠোঁটের কোণ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাঁজ, চোখের কোটরের ঠিক ওপরের কপালের অংশ এবং কপালের দুই পাশের অঞ্চল বিশ্লেষণ করে। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল চোখের নিচের অংশ ও নাকের ওপরের সংযোগস্থলের আশপাশের অঞ্চলকে গুরুত্ব দেয়।

    গবেষণাটির সহ-জ্যেষ্ঠ লেখক হুগো অ্যার্টস বলেন, ক্যানসার রোগীদের মুখের ছবি থেকে সরাসরি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে শেখার মাধ্যমে মুখ বিশ্লেষণভিত্তিক এআই প্রযুক্তি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তার ভাষ্য, তাদের জানা মতে, সাধারণ একটি ছবি ব্যবহার করে এআই মডেলের মাধ্যমে ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সরাসরি অনুমানের এটিই প্রথম উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রে রেডিওথেরাপি নেওয়া ক্যানসার রোগীদের ওপর প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, এফএএইচআর-ফেসএজের হিসাবে যেসব রোগীকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর বেশি বয়সী দেখাচ্ছিল, চার বছরের গড় পর্যবেক্ষণকালে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্য রোগীদের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি ছিল। বিপরীতে, যাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর কম বয়সী দেখাচ্ছিল, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল ১৭ শতাংশ কম।

    অ্যার্টস বলেন, ৪ কোটির বেশি ছবি থেকে মুখের সাধারণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে শেখাই এ প্রযুক্তির মূল অগ্রগতি। পরে সেই জ্ঞান ব্যবহার করে জৈবিক বয়স ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণ করা যায়। প্রতিটি নতুন কাজের জন্য শুরু থেকে আলাদা মডেল তৈরি করার পরিবর্তে এই পদ্ধতিতে একাধিক স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

    গবেষকদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে অনুমান করা জৈবিক বয়সের সঙ্গে মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এটি নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা সহ্য করা বা চিকিৎসার পর বেঁচে থাকার সক্ষমতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ভবিষ্যতে বড় অস্ত্রোপচার কিংবা ক্যানসারের অন্যান্য চিকিৎসার পর রোগীর মৃত্যুঝুঁকি ও জটিলতার আশঙ্কা নির্ধারণেও এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে, নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা মূল্যায়নে এটি চিকিৎসকদের সাহায্য করতে পারে।

    ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. রেমন্ড ম্যাক বলেন, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেডিওথেরাপি, অস্ত্রোপচার কিংবা শরীরজুড়ে কাজ করে এমন ওষুধের চিকিৎসার মতো নিবিড় চিকিৎসা দেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, মুখের ছবির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মূল্যায়নকে আরও পরিমাপযোগ্য, ধারাবাহিক ও সহজলভ্য করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা যাবে, তবে চিকিৎসকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হিসেবে নয়।

  • ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    ভাঙনে ২০০ একর জমি দুই মাসে পদ্মায় বিলীন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একসময় যে জমিতে সবুজ পানপাতায় ভরে থাকত বরজ, সেই জমি এখন পদ্মার পেটে। কারও কয়েক বিঘা জমি, কারও সাজানো পানবরজ সবই কেড়ে নিয়েছে নদী। নিঃস্ব হয়ে কেউ দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়, কেউবা জীবিকার তাগিদে ছেড়ে যাচ্ছেন ভিটেমাটি।

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এভাবেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন শত শত কৃষক। গত দুই মাসেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০ শত ফসলি জমি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পানচাষিরা। হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজারও।

    স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমির অধিকাংশেই হতো পান চাষ। জমির পাশাপাশি পানবরজ হারিয়ে কয়েক শত কৃষক এখন দিশেহারা। সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন চলছে।

    নদীর পানি কমার পর ভাঙন আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন ও তাগাদা দেওয়া হলেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কুচিয়ামোড়া এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ নেই। বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০ জন পানচাষির তালিকা করেছে। গত এক বছরে তারা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। এত বড় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সহজ নয়।

    রায়টা এলাকার পানচাষি হাসান আলী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তার চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানবরজ নদীতে বিলীন হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে। দুঃখ সইতে না পেরে তার ছোট ভাই কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে গেছেন। মাধবপুরের পানচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পাড়ে তাদের সাত বিঘা জমি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র চার কাঠা।’

    দীর্ঘদিনের আবাদি জমি হারিয়ে তার প্রশ্ন—এই দুঃখ কাকে বলবেন পান চাষকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার। এ বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষিজমি নয়, স্থানীয় পান অর্থনীতিও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা বলেন, ‘ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা করা করা হচ্ছে।’

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এলাকায় সরেজমিনে দেখেছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ভাঙনে প্রতিদিন জমি হারানোর বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আশ্বাসের চেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে পদ্মার ভাঙনে আরও জমি, পানবরজ ও মানুষের জীবিকার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এ,আর

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর

    বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর করণীয় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের হিসাব হাতে-কলমে করতে হওয়ায় তাদের নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কার্যক্রমের ওপর।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এটি অর্থ বিভাগের হাতে। অর্থ বিভাগ যখন পৃথকভাবে গেজেট জারি করবে, তখন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।’

    নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে

    নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কত টাকা বকেয়া পাওনা হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়ার বিবরণী পাওয়া যায়।

    তবে ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত নতুন পে স্কেলের সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

    এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; কেবল একটি অনানুষ্ঠানিক হিসাব সহায়ক। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    ক্যালকুলেটর ফরম পূরণের নিয়ম

    ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য ছাপা বিবরণীর শুরুতে থাকবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও হিসাব করা যাবে।

    গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি তালিকা থেকে বেছে নিতে হবে।

    ৩০ জুনের মূল বেতন: পে স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় নিজের বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন বেছে অঙ্কটি লিখতে হবে।

    ১ জুলাইয়ের মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে যে মূল বেতন গ্রহণ করেছেন, সেটি দিতে হবে।

    কর্মস্থল ও বাড়িভাড়া: বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে পে স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনে তা সংশোধন করা যাবে।

    বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—নির্বাচিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।

    ঐচ্ছিক তথ্য ও হিসাবের বিবরণী

    পে স্লিপে বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়া যাবে। আইবাস++ বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও ইনপুট হিসেবে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ওই অঙ্ক ধরেই হিসাব করবে।

    প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচে হিসাবের বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে দেখানো হবে।

    মাসিক হিসাবের মধ্যে থাকবে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনে তোলা বাড়িভাড়ার সমন্বয়। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা—১০ বা ১৫ শতাংশ—বিয়োগ করে হিসাব দেখানো হবে।তবে ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে চূড়ান্ত বেতন হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নির্ভুল হিসাবের জন্য মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

  • পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক, একজনের কারাদণ্ড

    পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক, একজনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় পাচারের সময় ৭০ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সার পাচারের দায়ে কুড়িগ্রামের দুলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুইজন সার ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সাপ্টিবাড়ি বাজারের একটি গুদাম থেকে পিকআপ ও ভ্যানে করে এসব সার পাচারের জন্য তোলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে সারবোঝাই যানবাহনগুলো আটক করেন।

    আটক করা সারের মধ্যে ৫১ বস্তা ইউরিয়া ও ১৯ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।

    খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও আদিতমারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজা বেগম ঘটনাস্থলে যান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার পাচারের দায়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর বাসিন্দা দুলাল মিয়াকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই সার ডিলারকে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজা বেগম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার ডিলারদের নানা অসংগতি পেয়েছি। তাই তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাচারকারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করতে চায় কারিগরি বোর্ড

    ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করতে চায় কারিগরি বোর্ড

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান বিগত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে তাগিদপত্র জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এ তাগিদপত্র জারি করা হয়েছে।

    শিক্ষা বোর্ডের তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনের শর্তাবলীতে উল্লেখ আছে যে, প্রতিষ্ঠানে পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে অনুমোদন বাতিল করা হবে।

    এছাড়া, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০ এর বিধি ৫.৪ মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি, পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

    এছাড়া পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করা ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে গত ১ অক্টোবর তারিখের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য দ্বিতীয় দফায় ওয়েবসাইটের নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

    যে সব প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি ব্যাখ্যা প্রদান করেনি তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয় শিক্ষা বোর্ডের নোটিশে।

    অনুমোদন বাতিল করতে চাওয়া ২৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা

  • ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু নয়’

    ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু নয়’

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নয়। ইসরাইলকে মার্কিন মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রতি তার কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘যে মিত্র আপনার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আপনাকে এমন যুদ্ধে জড়াতে চায়, যে যুদ্ধে আপনার জড়ানো উচিত নয়, সে কোনো মিত্র নয়।’

    ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বোঝাতে তিনি বন্ধুত্বের উদাহরণ টেনে বলেন, এমন একজন বন্ধুর কথা ভাবুন, যে আপনার সন্তানদের অর্থ বারবার নেয়, অথচ তাদের পেছনে তাদের নিয়েই কথা বলে এবং অন্য বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়।

    সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার সন্তানকে কী বলতেন? সম্ভবত বলতেন, সে আসলে আপনার বন্ধু নয়।’

    এল-সাইয়েদ আরও বলেন, ‘আমাদের এখন উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে ইসরাইল আসলে আমাদের বন্ধু নয়।’

    এল-সাইয়েদের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি তার শ্যালিকা মিরিয়াম জুকাকুর বিরুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকা-সংক্রান্ত একটি ফেডারেল মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তার শ্যালিকা কোনো অন্যায় করেননি। তার নাম ও পরিচয়ের কারণে ইসলামবিদ্বেষ থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এল-সাইয়েদ বলেন, ‘এখানে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধরনের নামের কারণে মানুষকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো ব্যক্তিরা এ ধরনের কাঠামো তৈরি করে, এটি তারই ফল।’

    এল-সাইয়েদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইহুদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কয়েকটি ‘অপরিবর্তনীয়’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাব্বি ও অন্যান্য ইহুদি নেতা।

    তাদের আশঙ্কা, এল-সাইয়েদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    এদিকে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে হতাশ ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ডেমোক্র্যাট-সমর্থক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সম্প্রতি এল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারেও যুক্ত হয়েছেন।

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    রংপুরে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে বাস থামিয়ে গাড়িতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় গাড়ির গেটের কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলান, নিজেই সেলফি তোলেন এবং ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী উপহার দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আনন্দ উপভোগ করেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের উন্নয়নে ডাবল শিফট চালু, ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ এবং একটি অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন অধ্যক্ষ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের দেখতে পেয়ে বাস থামান প্রধানমন্ত্রী।

    কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তাদের কী প্রয়োজন। এ সময় তিনি কলেজের ইতিহাস ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।

    অধ্যক্ষ বলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জানতে চান। একপর্যায়ে কলেজের কী কী প্রয়োজন, তা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঠদানের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন।অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ডাবল শিফট চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ভবন এবং একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবিও জানান। এসব প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে।

  • ২৩০০ চাকরিতে আবেদন করেও বেকার পিএইচডিধারী

    ২৩০০ চাকরিতে আবেদন করেও বেকার পিএইচডিধারী

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন জ্যাক ওয়েইস। গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি মিলেছে নোবেল কমিটির কাছ থেকেও। অথচ এত অর্জন ও যোগ্যতা থাকার পরও স্থায়ী চাকরি জোটেনি ৩০ বছর বয়সি এই তরুণের। ২০২৪ সালে পিএইচডি শেষ করার পর থেকে তিনি দুই হাজার ৩০০টির বেশি চাকরিতে আবেদন করেছেন। তবু মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির বাসিন্দা ওয়েইস এখন থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। চাকরির সন্ধানে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও আবেদন করেছেন তিনি। এমনকি সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ থেকে শুরু করে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক বিক্রিকারী একটি প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করেছেন।

    সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে তার এই সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছে।

    ওয়েইস রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কর্মসূচিতে যোগ দেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল রাসায়নিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি এবং অণুর মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়া। বরফ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তার গবেষণাকর্ম ২০২৪ সালে নোবেল কমিটির এক আলোচনায় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    এত উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে গবেষণার পদ এবং জাতীয় গবেষণাগারগুলোর মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো উত্তর পাননি। কিছু আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

    পরে বিভিন্ন শিল্প খাত ও অঞ্চলে চাকরির জন্য আবেদন করতে শুরু করেন ওয়েইস। কিন্তু সেখানেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন কোনো সুফল মেলেনি। কেউ কেউ তাকে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখতে পরামর্শ দেন।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে বিশেষজ্ঞ নিয়োগকারী একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ পান ওয়েইস। সেখানে ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তবে কাজের ধারাবাহিকতা ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পেলেও অন্য সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়।

    একপর্যায়ে কাজের পরিমাণ আরও কমতে থাকে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো কাজই পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

    এখন নতুন করে পেশা বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন ওয়েইস। আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টাও করছেন। এআই-চালিত একটি ড্রোন তৈরির কাজ করছেন তিনি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসী আগাছা অপসারণে ব্যবহার করা যাবে।

    ওয়েইসের বাবা-মা দুজনই চিকিৎসক। ছেলের এত যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। তার মা হলি কারভার্স ছেলের চাকরির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছেন, নিয়োগদাতাদের কাছে নেতিবাচক মনে হতে পারে এমন কোনো বিষয় রয়েছে কি না। কিন্তু স্পষ্ট কোনো সমস্যা খুঁজে পাননি তিনি।

    ছেলের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে হলি বলেন, ‘এটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা কীভাবে করব, তা বুঝতে পারছি না।’

    ওয়েইসের বাবা জন ওয়েইস বলেন, ‘আমি জীবনে কখনোই ভাবিনি, এই ছেলেটিকে চাকরি পাওয়ার জন্য এমন সংগ্রাম করতে হবে।’

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক লিন্ডসে এলিস যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে চাকরি প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় ওয়েইসের সাক্ষাৎকার নেন। তার মতে, ওয়েইসের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, এটি এমন এক শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে চাকরিতে নিয়োগের গতি কমে গেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমবাজারকে কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী কম নিয়োগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মরত কর্মীরাও আগের মতো সহজে চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। ফলে যারা নতুন করে চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য শূন্য পদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

    সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানেও এই সংকটের প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি এবং এর পরবর্তী সময়কে এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

    ওয়েইসের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা, গবেষণার স্বীকৃতি ও বিশেষায়িত দক্ষতা থাকলেই বর্তমান শ্রমবাজারে চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। বরং নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

  • ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে থমকে আছে মণিপুর

    ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে থমকে আছে মণিপুর

    তিন নারীকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় উত্তাল ভারতের মণিপুর রাজ্য। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই তিন বেসামরিক নাগরিকের হত্যার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট চলছে, যার ফলে জনজীবন সম্পূর্ণ থমকে গেছে।

    গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইম্ফল পূর্ব জেলার উয়ুমপক ও নংশুম এলাকার পাহাড়ি পাদদেশে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে—নংশুমের লৈরেনপাকপাম ইনাওবি মেইতেই (৪০) ও অরিবাম নোনি মেইতেই (৩৫) এবং উয়ুমপক মামাং লৈকাইয়ের ক্ষিথ্রিময়ুম সুশীল সিং (৩০)। এছাড়া এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীর শাস্তির দাবিতে ‘নেটিভ পিপল কমিটি মণিপুর’ (এনপিসি) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের সমর্থনে সকাল থেকেই কানসিপুর, খুরাই ও পাটসোইসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করেন সমর্থকরা।

    এর আগে শোকার্ত গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের দাবিতে দুই নারীর মরদেহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ইউমনম খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের সামনে নিয়ে এসে আবেগঘন বিক্ষোভ করেন। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছিল, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একটি বিরোধী প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এই ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে জরুরি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় কার্যক্রম।

  • ‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো: বিরোধী দলীয় নেতা

    ‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো: বিরোধী দলীয় নেতা

    প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো।

    মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজ হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের এই পদক্ষেপ এবং ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক সমাজ ও দেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে। তবে তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।

    তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে রিট

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে রিট

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি এর কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের কমিটি গঠন নীতিমালা এখনো বহাল আছে। ওই নীতিমালা বহাল থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন স্থগিতের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ড দিতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই রিটা ফাইল করা হয়েছে।

    গত ১৫ অক্টোবর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।

  • ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা

    ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা

    আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।

    এর আগে বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।

    জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

    জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

    রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

    সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • আমাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

    আমাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন। দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হওয়ার মধ্যেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

    ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও কমিয়ে দিতে পারে।

    জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা ওয়াশিংটন করছে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তবে তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।’

    গত সপ্তাহজুড়ে দুই নেতার মধ্যে নজিরবিহীন কঠোর ভাষায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। জেলেনস্কি বলেন, স্বৈরশাসকদের প্রতি ট্রাম্পের সহজাত অনুরাগ রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প ইউক্রেনের জনগণকে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রোববার যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুদ্ধ চলাকালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে তিনি তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এমন ইঙ্গিত দিলেন।

    তবে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাকে তিনি গুরুত্বহীন করে দেখান। রাশিয়া বারবার এমন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণ ভোট দিতে পারবেন। এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেন ইউক্রেনের বিপুলসংখ্যক নাগরিক।

    ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয় গত ৯ অক্টোবর। ওই দিন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলার প্রবেশ করতে পারে।

    এরপর ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার দাবি জানান। যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার এসব শোধনাগার। ট্রাম্পের যুক্তি, ইউক্রেন হামলা বন্ধ করলে রাশিয়ার তেল আবারও বিশ্ববাজারে আসতে পারবে।

    গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সংঘাতের আগ্রাসী পক্ষ রাশিয়ার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। শান্তিচুক্তির আলোচনায় ক্রেমলিনকে উৎসাহিত করতে কেন বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। ট্রাম্প লেখেন, জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি’।

    সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হতে পারে। তার এ বক্তব্যে ইউক্রেনে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। দেশটির আশঙ্কা, ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছেন। শেষ পর্যন্ত দুই নেতা মিলে ইউক্রেনের ওপর নিজেদের স্বার্থবিরোধী কোনো সমঝোতা চাপিয়ে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছে কিয়েভ।

    ইউক্রেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপদ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সীমিত করছে ওয়াশিংটন। সম্মুখসারির সামরিক অভিযান পরিচালনায় এ নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব তথ্যের মাধ্যমে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

    ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহে দুই দফায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাননি। জেলেনস্কি বলেন, রোববার রাতেও একই ঘটনা ঘটেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে ‘আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা’ পাওয়া যায়নি।

    তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ‘তাদের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সফটওয়্যারজনিত সমস্যার’ কারণে। তবে রোববার রাতের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টার দিকে কিয়েভে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার রাত তিনটার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলার আগে সতর্কবার্তা এসেছিল।

    ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২৭০টি ড্রোন ছুড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৪০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কয়টি ভূপাতিত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হার প্রকাশ না করার নতুন নীতি নিয়েছে কিয়েভ। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি।

    রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউক্রেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ব্লুমবার্গকে জেলেনস্কি বলেন, প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দেরি করছে ওয়াশিংটন।

    প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি কিয়েভে হামলার ধরনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাল্টা হামলার বিকট শব্দ শোনা যেত। এখন বেশির ভাগ সময় শোনা যায় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিস্ফোরণ। সেগুলো ঠেকানোর মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না।

    রোববার রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কেন্দ্রজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শেষ হওয়ার পর সেই বিকট শব্দ থেমে যায়। চারপাশে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।

    কিয়েভের কেন্দ্রের একটি এলাকায় হামলার কয়েক সেকেন্ড পর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গান ভেসে আসে। রাতের নীরবতা ভেঙে শোনা যাচ্ছিল, ‘আমি কীভাবে তোমাকে ভালো না বেসে পারি, আমার কিয়েভ’।

    ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ইউক্রেনের রাজধানীকে নিয়ে লেখা এই গীতিময় গানটি এখন হামলার মধ্যেও কিয়েভের মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নুর মোহাম্মদ (৩৯) নামের এক এজেন্ট ব্যবসায়ীকে মারাত্মক আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামারের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত নুর মোহাম্মদ দক্ষিণ দেওয়ানের খামার গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি দেওয়ানের খামারের মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নয়ন টেলিকম স্টোর নামের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করেন। দুর্বৃত্তরা তাকে নিজ বাড়ির সামনে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে তার নিকটে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    নুর মোহাম্মদের বড় ভাই নুরন্নবী বলেন, ‘সোমবার রাতে নুরমোহাম্মদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে দেরি করছিল। তার বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে আমাদের মা বাড়ির গেটের বাইরে বের হন। পরে নুর মোহাম্মদকে আহত অবস্থায় বাড়ির নিকটস্থ রাস্তায় পড়ে থেকে কাতরাতে দেখেন।’

    তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে। তার কাছে থাকা সারাদিনের ব্যবসার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে হাসপালতালে নেয়ার পথে তাকে থানায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছবি তুলে রেখেছে এবং আগে চিকিৎসা করাতে বলেছে।’

    মঙ্গলবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নুর মোহাম্মদের জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় চোরের দল: স্পিকার

    আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় চোরের দল: স্পিকার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

    স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ভেবেছে লুটপাট করে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। মনে করেছিল এভাবেই জীবন যাবে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এরইমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের অনেক নেতার শাস্তি হয়েছে। শেখ হাসিনারও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে স্পিকারকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার আরও বলেন, ‌‌‘বর্তমানে প্রত্যেক মানুষের বাক-স্বাধীনতা আছে। তারা সরকার ও সরকারপ্রধানের সমলোচনা করতে পারবে। একজন মহিলা এমপি বিরুদ্ধে একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।

    প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। যদিও সে কাজটি ভালো করেছিল। পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করতে গিয়েছিল সে। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। যা অতীতে কোনো দল তার দলের এমপি ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপসহীন হওয়ায় সম্ভব হয়েছে।’

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, থানার ভরপ্রাপ্ত (ওসি) নজরুল ইসলাম মজুমদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবাল প্রমুখ।

  • সবজি কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়ার স্বক্ষমতা বাড়িয়েছে 

    সবজি কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়ার স্বক্ষমতা বাড়িয়েছে 

    মোবাইল ফোনের সুবাদে গ্রামীণ সবজি চাষিরা শহরের বাজারে তাদের উৎপাদিত পন্যের তাৎক্ষণিক দাম জানতে পারেন। দেশের উত্তরাঞ্চেলের সবজি বিকিকিনির অন্যতম বৃহৎ বাজার বগুড়ার মহাস্থানের কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এখন তারা তাদের উৎপাদিত সবজির দামের একটি বাস্তবসম্মত ধারণা নিয়েই বাজারে আসেন।

    তাদের মতে, মোবাইল ফোনের কল্যাণে পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য সহজে পাওয়া এটি তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত দাম সরবরাহ এবং চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

    উন্নয়ন বিষয়ক সাহিত্যে উদ্ধৃত গবেষণাগুলো ইঙ্গিত করে যে, মোবাইল সংযোগ তথ্য অনুসন্ধানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। সবজি চাষিরা এখন প্রায়ই ফসল কাটার আগে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ভয়েস কল এবং এসএমএস সেবা ব্যবহার করেন।
    বগুড়া সদর উপজেলার রহমতবালা গ্রামের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম (৩৬) এক একর জমিতে মূলা, লাউ, কুমড়া এবং বরবটি চাষ করেছেন। ২ অক্টোবর, তিনি মহাস্থান সবজি বাজারে মূলা নিয়ে আসেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “তিন দিন আগে আমি জানতাম প্রতি মণের (৪০ কিলোগ্রাম) দাম প্রায় ১,০০০ টাকা ছিল, কিন্তু আজ তা প্রতি মণ ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে গেছে। এটি বেশি সরবরাহের কারণে এবং কারণ গরম আবহাওয়ায় চাষ করলে এই সবজির মান কখনও কখনও ভালো হয় না।”

    “কৃষকরা দাম ঠিক করার জন্য একত্রিত হতে পারেন না। কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন আছে, তাই উভয়েই সরবরাহ এবং চাহিদা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন।”শিবগঞ্জের উথলী থেকে আসা রাব্বি মোল্লা (২৫), এবার প্রায় ৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহের আগে অন্যান্য কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে একটি ধারণা নিয়ে নেন।

    তিনি বলেন, “আমি ক্ষেত থেকে কিছু ফুলকপি বিক্রি করেছি। আমি এখানে (মহাস্থানে) আসি বেশি দামের আশায়। কখনও দাম বাড়ে, কখনও কমে। যখন ঢাকা বা অন্যান্য শহরে সবজির চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তখনই পাইকার এবং ব্যবসায়ীরা আমাদের ভালো দাম দেন।”

    দামের পরিস্থিতি বুঝে, অনেক পাইকার কৃষকদের কাছ থেকে মৌসুমি সবজি কিনে মহাস্থানভিত্তিক আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন, যারা ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে তাদের সমকক্ষদের কাছে পণ্য পাইকারি পরিমাণে বিক্রি করেন।

    এমনই একজন ব্যবসায়ী শিবগঞ্জের বিচোকের মাসুম ইসলাম (২৭)। তিনি বলেন, “আমি আজ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ১,৬০০ টাকায় করলা কিনেছি, ১,৮০০ টাকায় বিক্রি করার আশা করছি। আমরা এটি পেতে সংগ্রাম করছি কারণ আমরা আগে থেকে সঠিক দাম জানি না,” তিনি বলেন, মহাস্থানের পাইকাররা শহরের পাইকারদের কাছ থেকে পাওয়া অর্ডারের ওপর এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সবজি কেনেন। বর্তমানে শসা, বেগুন, ঝিঙে, কুমড়া, বরবটি এবং জলপাই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

    “সরবরাহ যত বেশি, আমাদের লাভজনকতাও তত বেশি। কিন্তু যখন ঢাকায় চাহিদা বেশি থাকে, কৃষকরাও বেশি দাম চান। সবাই ফোন বা ফেসবুকের মাধ্যমে চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর নজর রাখে। কৃষকরা এখন যেকোনো দাম বৃদ্ধির একটি অংশ পান,”-বলেন বগুড়ার লাহিড়ীপাড়ার আবদুল হামিদ প্রামাণিক (৪৮)। যিনি প্রায় এক দশক ধরে সবজির পাইকারি ব্যবসা করছেন।

    মহাস্থান বাণিজ্যকেন্দ্র বিভিন্ন শহরে সবজি সরবরাহ করে। এখানে প্রায় ২০০ জন পাইকার এবং ৭০ জন পাইকারি ব্যবসায়ী (বাণিজ্যিক আড়তের মালিক) রয়েছেন। তাদের মধ্যে আল-মামুন (৪০) এমনই একটি আড়তের মালিক। প্রতিষ্ঠানের সাম মাইশা ট্রেডার্স। তিনি তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানান, কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা কৃষকদের একটি ন্যায্য দাম নিশ্চিত করছে।

    তিনি আরও বলেন, “এটি ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। এখন কৃষক বিক্রি দর এবং পাইকারি দরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা জায় না। অবশ্যই যেকোনো দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের প্রভাবিত করে, কিন্তু কৃষকরা উপকৃত হন।”

    ঢাকার মিরপুরের বিশাল ভাণ্ডার পাইকারি আড়তের প্রতিনিধি হিসেবে হেফজুল বারী ফকির (৪০) মহাস্থানেই থাকেন। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সবজির চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য দামের নির্দেশনা পাই। এর পর কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবজি কিনি এবং সেগুলো ঢাকায় পরিবহন করি। কিন্তু অনেক সময়ই ঢাকা থেকে দেওয়া দামে সবজি কেনা যায় না। আর কখনও কখনও সম্ভব্য দামের চেয়ে কম দামেও কিনতে পারি। আবশ্য তা ঘটে প্রধানত: সবজির কম বেশি সরবরাহের ওপর।” উল্লেখ করেন তিনি।

    “কৃষকদের বাজারের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং তারা যে ব্যক্তি তাদের ভালো দাম দেয়, তার কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। উৎপাদন কমে গেলে, অথবা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে, সবজির দাম বেড়ে যায়।”
    সবজি পচনশীল এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা হিসাব করেছেন যে, ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর আগে উৎপাদিত সবজির ৩০% নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা এখন দ্রুত দামের তথ্য পেতে সক্ষম হওয়ায়, এটি তাদের দ্রুত সবজি বিক্রি করতে সহায়তা করা উচিত। আশা করা হচ্ছে, এটি নষ্ট হওয়া কমাবে।

  • ইসরাইলে সাত বছরে ছয় ভোট, কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর

    ইসরাইলে সাত বছরে ছয় ভোট, কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর

    ইসরাইলের আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে উঠতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য। তার নেতৃত্বাধীন জোট ও ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুর্নীতির মামলায় বিচার চলার মধ্যেই নির্বাচনে লড়ছেন ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু। গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

    ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির হিসাবে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় ৭৩ লাখ নাগরিক এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়ও যারা লাইনে থাকবেন, তারা ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের দিন দেশটিতে সরকারি ছুটি থাকবে।

    নেসেটে প্রবেশের জন্য কোনো দলকে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের কোনো সীমা নেই।

    ইসরাইলে ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। দেশটির কোনো দলই এখন পর্যন্ত এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

    নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না। নির্বাচনের পর দলগুলোকে জোট গঠন করে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরো ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।

    জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দল ৩০ শতাংশ ভোট পেলে সাধারণত প্রায় ৩০ শতাংশ আসন পায়। তবে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারা দলগুলোর ভোট আসন বণ্টনের হিসাব থেকে বাদ পড়ে। এ কারণে ছোট দলগুলো প্রায়ই নির্বাচনের আগে একীভূত হয় বা জোট গঠন করে।

    ভোটাধিকার নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য প্রায় ৭৩ লাখ ইসরাইলি নাগরিক। তবে দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভোট দিতে পারেন না।

    গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি এমন একটি সরকারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, যে সরকার তাদের সীমান্ত, চলাচল ও আইনি অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

    ইহুদি ইসরাইলি নাগরিকদের পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরাইলি বসতির বাসিন্দারাও ভোট দিতে পারেন। তারা এমন পার্লামেন্ট নির্বাচন করেন, যে পার্লামেন্ট তাদের বসবাসের এলাকার ওপর আইন প্রণয়ন করে।

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অধিকাংশ ফিলিস্তিনির ইসরাইলি নাগরিকত্ব নেই; তাদের রয়েছে বসবাসের অনুমতি। তারা জেরুজালেমের নগর পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, কিন্তু নেসেট নির্বাচনে পারেন না।

    এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বৈষম্য দেখা যায়। সেখানে কোনো ইসরাইলি বসতির বাসিন্দা ভোট দিতে পারেন, অথচ কাছাকাছি বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পরিবার একই সামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে থেকেও সেই অধিকার পায় না।

    বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন না। কারণ, দেশটিতে সাধারণভাবে ডাকযোগে বা অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। নির্বাচনের দিন ভোটারকে শারীরিকভাবে ইসরাইলে থাকতে হয়। তবে কূটনীতিক ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে দায়িত্ব পালনকারীরা ব্যতিক্রম। তারা ২০ অক্টোবর ইসরাইলি মিশনগুলোতে ভোট দেন।

    নির্বাচনে যেসব বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে

    এবারের নির্বাচনে ইসরাইলিদের সামনে রয়েছে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে অব্যাহতি, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। ঘটনার তিন বছর পরও সরকার এ বিষয়ে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। ওই হামলার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এই সুবিধার সমর্থকেরা বলেন, এর মাধ্যমে পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ রক্ষা করা হয়।

    তবে সমালোচকদের যুক্তি, এতে অন্য নাগরিকদের ওপর সামরিক দায়িত্বের অসম বোঝা চাপানো হয়।

    বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমানোর জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগ যুদ্ধ শুরুর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকেরা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মনে করেন। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, আদালত নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

    যুদ্ধ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষ স্থিতিশীলতা চান। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো সক্রিয় রয়েছে।

    জীবনযাত্রার ব্যয়ও বড় ইস্যু। পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক কম মজুরি আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে। এতে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বেড়েছে।

    বিদায়ী সরকারের আসনসংখ্যা

    জুলাইয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সময় নেতানিয়াহুর জোটের হাতে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬০টি ছিল। জোটে লিকুদের ৩২টি, শাসের ১১টি, রিলিজিয়াস জায়োনিজমের সাতটি, ইতামার বেন গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিতের ছয়টি এবং নিউ হোপের চারটি আসন ছিল। শাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকার ছেড়ে গেলেও জোটে থেকে যায়। আর নিউ হোপ এবারের নির্বাচনে লিকুদের সঙ্গে একীভূত হবে।

    বিরোধী দলগুলোর হাতে ছিল ৫৯টি আসন। এর মধ্যে ইয়েশ আতিদের ২৪টি, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের আটটি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি, ইসরাইল বেইতেনুর ছয়টি, হাদাশ-তাআল ও রা’আমের পাঁচটি করে এবং লেবার পার্টির চারটি আসন ছিল। নোআমের একটি আসন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

    কারা নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

    দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চললেও আবার নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন উগ্রডানপন্থী জোটের বিপরীতে রয়েছে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি বড় বিরোধী দলের জোট। এসব দলের নেতারা নির্বাচনের আগে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ না করার এবং ভোটের পর সরকার গঠনে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।

    সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে বিরোধীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নতুন দল ইয়াশার জনমত জরিপে লিকুদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়ছে।

    বিরোধী জোটে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন টুগেদার তালিকা, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরাইল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি।

    নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন উগ্রডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোতরিচ, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের দলগুলো এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট।

    গত মাসে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। আদালতের মতে, দল দুটিকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করার মতো প্রমাণ ছিল না।

    জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম দল বালাদের নেতা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিক সামি আবু শাহাদেহ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অধিকাংশ বিচারক তাঁর অযোগ্যতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারেন।

    নির্বাচনের পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা এসব দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

    সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন

    আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ২০১৯ সালের পর ইসরাইলের ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন। তবে ৩৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম নেসেটের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক অস্থিরতার শুরু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। ওই সময় নেতানিয়াহুর লিকুদ ও বেনি গান্টজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি ৩৫টি করে আসন পেয়েছিল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় নির্বাচনেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি এবং লিকুদ ৩২টি আসন পায়। দুই নির্বাচনেই কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে পারেনি।

    ২০২০ সালের মার্চে তৃতীয় নির্বাচনে লিকুদ ৩৬টি এবং ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি আসন পায়। এরপর নেতানিয়াহু ও গান্টজের নেতৃত্বে ঐক্য সরকার গঠিত হলেও এক বছরের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে।

    ২০২১ সালের মার্চে লিকুদ ৩০টি এবং ইয়েশ আতিদ ১৭টি আসন পায়। এরপর নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে আট দলের জোট সরকার গঠিত হয়। ওই জোটে আরব দল রা’আমও ছিল। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তবে সেই সরকারও এক বছর টিকেছিল।

    ২০২২ সালের নভেম্বরে আবার ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। ওই নির্বাচনে লিকুদ ৩২টি এবং ইয়েশ আতিদ ২৪টি আসন পায়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে কোনো জোটকেই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দেখা যাচ্ছে না।

    prime minister

    ইসরাইলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

    ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর দেশটিতে মোট ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু। তিন দফায় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ মোট ১৯ বছর—১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯, ২০০৯ থেকে ২০২১ এবং ২০২২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।

    তার কাছাকাছি রয়েছেন ডেভিড বেন-গুরিয়ন। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সাল এবং পরে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে যে ফলই আসুক, নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

  • নবাবগঞ্জে রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতি : আটক ৮

    নবাবগঞ্জে রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতি : আটক ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া দুটি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাকিল সরকার (২৬) ও রুহুল আমিন (৩৫), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রাশেদ মিয়া ওরফে রাশেদুল (৩০), রবিউল প্রধান ওরফে রুবেল (৩৫), সাজু মিয়া (৫৩), আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাহিন মিয়া (৩০) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিরাজ মিয়া (২৬)। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া সড়কের জামালপুর এলাকায় গাছ কেটে অবরোধ করে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে আটকা পড়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি প্রাইভেট কার, সবজিবাহী একটি পিকআপভ্যান ও মুরগিবাহী একটি গাড়ি।

    এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। পরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আট সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপফো ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের পাঁচটি স্মার্টফোন এবং একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এ,আর

  • স্বর্ণখনি ধসে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১৫

    স্বর্ণখনি ধসে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১৫

    দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় একটি অবৈধ স্বর্ণখনি ধসে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সাতজন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ১২ থেকে ১৫ জন খনিশ্রমিক। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

    দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইস্কুয়ান্দে পৌরসভার গ্রামীণ চামবেরো এলাকায়। খনিটি অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন নারিনোর গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার।

    গভর্নর এসকোবার জানিয়েছেন, খনিতে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর আরো ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নারিনোর দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মকর্তা হোর্হে তোভার কাস্তিয়ো এ তথ্য জানিয়েছেন।

    কাস্তিয়ো বলেন, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছে। সান্তা বারবারা দে ইস্কুয়ান্দে ঘন বৃষ্টিবনে ঘেরা একটি এলাকা। সেখানে নৌকা অথবা ছোট বিমানে করে যাওয়া যায়। দুর্গম অবস্থানের কারণে উদ্ধার ও জরুরি তৎপরতা পরিচালনায় যোগাযোগ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর এসকোবার খনিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হলো মানুষের জীবন বাঁচানো, তাদের পরিবারের পাশে থাকা এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করা।’

    কলম্বিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে অনানুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রণহীন খনির কার্যক্রম বেশ প্রচলিত। এসব খনিতে প্রায়ই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে না। ফলে সেখানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত আগস্টে নারিনো বিভাগের পলিকারপা পৌরসভায় একই ধরনের এক খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

  • চরভদ্রাসনে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রলারেই নারীর মৃত্যু

    চরভদ্রাসনে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রলারেই নারীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক নারীকে চিকিৎসার জন্য চরহাজীগঞ্জ বাজারে নেয়ার পথে ট্রলারের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চরাঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবকরা। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণস্থানে সেতু নির্মাণেরও দাবি উঠেছে।

    মৃত নারী চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী হাশেম মোল্লা মনির খানের বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য ট্রলারে করে চরহাজীগঞ্জ বাজারে নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচানোর আশায় চিকিৎসার জন্য যাত্রা শুরু করেও শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয় স্বামীকে। পরে স্ত্রীর লাশ নিয়ে দাফনের উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রলারে চরের দিকে রওনা দেন তিনি। ঘটনাটি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    মৃত নারীর স্বামী হাশেম মোল্লা বলেন, ‘আমার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাকে চিকিৎসার জন্য চরহাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে আমার স্ত্রী মারা যান। আমি অনেক অসহায় অবস্থায় পড়েছি। স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের চরাঞ্চলে কাছাকাছি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ হতো। আমি চাই, আর কোনো স্বামীকে যেন আমার মতো এভাবে স্ত্রীকে হারিয়ে অসহায় হতে না হয়। আমাদের চরে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।’

    স্থানীয় সমাজসেবক ফয়সাল হোসেন শাওন বলেন, ‘হরিরামপুর ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি। এখানকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভঙ্গুর। এ ছাড়া হাজার বিঘা ও চর সালেপুরের মধ্যবর্তী সালেপুর মরা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে কমপক্ষে ২০ শয্যার একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।’

    স্থানীয় সমাজসেবক মোস্তফা কবির বলেন, ‘চরভদ্রাসনের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একজন অসুস্থ নারীকে চিকিৎসার জন্য নেয়ার পথে ট্রলারের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। চরাঞ্চলের মানুষকে জরুরি চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, প্রসবকালীন জটিলতা ও অন্যান্য জরুরি অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাই।’

    চর হরিরামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’

    চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে ট্রলারে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি আমাকে কেউ আগে জানাননি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব এবং ঘাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলব। হঠাৎ অসুস্থ কোনো রোগী ঘাটে এলে যেন দ্রুত পারাপারের ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব। জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’

    চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, ভঙ্গুর রাস্তাঘাট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসুবিধার অভাবে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নদীপথনির্ভর যাতায়াতের কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এ অবস্থায় চরাঞ্চলে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল বা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা গেলে মানুষের যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ আরো সহজ হতে পারে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসবে। চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ,আর

  • ফ্রান্সে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ

    ফ্রান্সে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ

    ফরাসি সরকার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দাঙ্গার জেরে প্যারিসসহ বেশ কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠায় সোমবার কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নো দেশজুড়ে পুরোপুরি কারফিউ জারির বিষয়টি নাকচ করলেও স্থানীয়ভাবে আংশিক কারফিউ দেয়া বেশি যৌক্তিক বলে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি বদ্ধপরিকর বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। প্যারিস পুলিশ রাত ৮টা থেকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে।

    ট্রেড ও রিটেইল ফেডারেশন জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে প্রায় তিন হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে ডিওর, রোলেক্স, লুই ভিটন, রালফ লরেন এবং গুচির মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের শোরুম ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। লুট হওয়া পণ্য অনলাইনে বিক্রি ঠেকাতে ডিজিটাল বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনানফ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় প্রায় এক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন এবং এক বিক্ষোভকারী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    তিনি তাকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই এবং লিওঁর মেয়ররা অভিযোগ করেছেন, তারা নিজেদের শহরকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত বলে মনে করছেন।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতালি, বেলজিয়াম এবং আলবেনিয়াতেও বিক্ষোভ হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ফ্রান্সে ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকতে বলেছে। এদিকে ফ্রান্সে যখন দাঙ্গার রেশ কাটানোর কাজ চলছে, তখন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম কমানোর লক্ষ্যে উপসাগরীয় সফরে কুয়েত পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।

  • কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লো্বাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৬) নামের এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেন্ডি গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্বপন উপজেলা সদরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার ‘শ্রুতি টেইলার্স’-এর মালিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় স্বপনের লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা কাউখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ কাউখালী থানায় নেয়া হয়।

    স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বপনের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। তিনি দোকানের কাজে মনোযোগ না দিয়ে মোবাইল ফোনে গেম খেলায় বেশি সময় ব্যয় করতেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হত। ঘটনার আগে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’এ,আর

  • সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন

    সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার জেলার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাব্বির আলম, দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন অর রশিদ, এনটিভি তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামাউন আহমেদ, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন, দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক মো: আ: মান্নান, গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস, কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক, দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি মো: বাবুল মিয়া ও দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

    এসময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধ, আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারে মাদক-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ,আর

  • নগদ লেনদেনে ব্যয় ২৮ গুণ বেশি : বাংলাদেশ ব্যাংক

    নগদ লেনদেনে ব্যয় ২৮ গুণ বেশি : বাংলাদেশ ব্যাংক

    নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে যে ব্যয় হয়, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ২৮ গুণ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ : আ কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা ওই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মাথাপিছু হিসাবে বছরে নগদ লেনদেনের ব্যয় নয় হাজার ৯৩৮ টাকা। বিপরীতে ডিজিটাল লেনদেনে এ ব্যয় মাত্র ৩৪৮ টাকা। এই ব্যবধান নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সাথে উল্লেখযোগ্য ব্যয় জড়িত। ব্যাংক নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে নোট ছাপানো, পরিবহন ও বাজারে এর প্রচলন বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়।

    তিনি বলেন, নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ব্যাংক নোট পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া হয়ে যায়। সেগুলোর পরিবর্তে নতুন নোট ছাপাতে হয়। ফলে অর্থনীতিতে এ-সংক্রান্ত ব্যয় বারবার তৈরি হয়।

    সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়লে এসব ব্যয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকায় দুর্নীতি, চুরি ও অর্থের অপব্যবহার কমাতেও তা সহায়তা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেনের কারণে ব্যাংকগুলোকে বছরে প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভোক্তাদের এ-সংক্রান্ত বার্ষিক ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যয় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

    নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার এসব ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা ছাপানো ও বিতরণ, অর্থ পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ পরিচালনা এবং টাকা তোলা, বহন ও ব্যবহারে মানুষের ব্যয় করা সময়ের মূল্য।

    গবেষণায় ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকারের রাজস্ব হারানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছায়া অর্থনীতির কারণে বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির এক দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং নগদ লেনদেনের মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

    রাজস্ব হারানোর এ ব্যয় হিসাবের বাইরে রাখলেও নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    নগদ লেনদেনের তুলনায় ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় অনেক কম হলেও এ ব্যবস্থার আর্থিক ও পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে, এ ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় প্রায় পাঁচ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে প্রায় তিন হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

    ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া বেশি মাশুল, লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং ইন্টারনেট সংযোগের অনির্ভরযোগ্যতা।

    এছাড়া প্রতারণা, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতার কারণে অনেক গ্রাহক ও ব্যবসায়ী ইলেকট্রনিক লেনদেনে আগ্রহী হচ্ছেন না।

    নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নে ডেস্কভিত্তিক গবেষণা, পেমেন্ট ব্যবস্থার তথ্য ও নীতিমালা পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে ২১টি সাক্ষাৎকার এবং পাঁচটি দলভিত্তিক আলোচনা পরিচালনা করা হয়েছে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তরের প্রসার ঘটলেও দেশের লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ অর্থের আধিপত্য এখনো রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশের বেশি এখনো নগদে সম্পন্ন হয়।

    গবেষণায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচের সংবেদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মুনাফার পরিমাণ এমনিতেই কম। এর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের অতিরিক্ত মাশুল মুনাফা আরো কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লেনদেনের পদ্ধতি, অর্থ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে এবং কী পরিমাণ খরচ হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।

    ভোক্তাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা দেয়। তবে এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য সেবা, সহজে অভিযোগ জানানোর ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুললেই হবে না। সাশ্রয়ী সেবা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎসাহিত করা সম্ভব।

    এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তসংযোগযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে জাতীয় মানদণ্ড হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবস্থাকে আরো আকর্ষণীয় করতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    এ উদ্যোগের লক্ষ্য কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের পথে বাধা কমানো। তবে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের কাছে ব্যবস্থাটি কতটা সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে তার ওপর।

    গবেষণার ফলাফল বলছে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানো গেলে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেনের ব্যয় কমানো সম্ভব। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক রেকর্ড সংরক্ষিত হয়, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরো কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়লে ব্যাংক নোট ছাপানো, পরিবহন, পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

    তবে নগদনির্ভরতা থেকে ডিজিটাল লেনদেনে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করা, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগ বাড়ানো, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব দূর করা এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে মানুষের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

    গবেষণায় ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

    গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে আয়ের স্তর ও ব্যবসার ধরন নির্বিশেষে সবার জন্য ডিজিটাল লেনদেনকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে হবে।

  • ২৫ নভেম্বর চুড়ান্ত ভোটার তালিকা

    ২৫ নভেম্বর চুড়ান্ত ভোটার তালিকা

    জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদের পর ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে ভোটার তালিকা। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসির এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা এর আগে যাদের জন্ম, তাদের মধ্যে যারা এ বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হবেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য ৫ নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ হবে। এসব নির্বাচনের তফসিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল গত আগস্টে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

    তবে ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে আবারও ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালু করে নির্বাচন কমিশন।

  • পোরশায় নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত

    পোরশায় নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর পোরশায় মাটিকাটা নদীতে মাছ ধরার রিং জাল বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সেলিম রেজা (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার মাটিকাটা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সেলিম রেজা উপজেলার পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামের মো নুর বক্সের ছেলে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাটিকাটা নদীতে মাছ ধরার রিং জাল পাতা নিয়ে পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামের সেলিম রেজার সাথে নিতপুর ইউনিয়নের জেলেপাড়া গ্রামের কামরুল হোসেনের ছেলে মোস্তাকিমের (২৫) বাকবিতন্ডা শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোস্তাকিম ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম রেজার মাথায় শক্ত বস্তু দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন সেলিম রেজা।

    পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পোরশা উপজেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মো: এবাদুল হক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাছ ধরার রিং জাল বসানোকে কেন্দ্র করে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, আটক ৮৪

    অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, আটক ৮৪

    অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেয়া রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন।

    পিওএইচএস ১ হাউজিংয়ের পুলিশ ফাঁড়ি-সংলগ্ন আড়াইতলা ভবনে সোমবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া অভিযান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।

    এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জহির বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হযয়েছে।

    ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে ভাড়া বুকিং করে এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। পার্টি থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির পেতেন, ৩০ শতাংশ নিতেন তাঁর স্টাফরা।

    ইলিয়াস কবির আরও জানান, সব পার্টির দুজন হোস্ট রয়েছেন ওই বাড়িতে। তাঁদের মধ্যে মাহাবুল আলম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

    অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তাঁর বাসায় অভিযানের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

  • খাবার অপচয়ে শীর্ষে মালদ্বীপ, বছরে নষ্ট ১৩২ কেজি

    খাবার অপচয়ে শীর্ষে মালদ্বীপ, বছরে নষ্ট ১৩২ কেজি

    বিশ্বজুড়ে পরিবেশন করা প্রতি পাঁচ প্লেট খাবারের প্রায় এক প্লেটই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে পড়ে। সব মিলিয়ে বছরে নষ্ট হওয়া খাবারের পরিমাণ ১০০ কোটি টনের বেশি। অথচ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। অর্থাৎ, প্রতি ১৩ জনে একজন পর্যাপ্ত খাবার পায়নি।

    বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা টানা তৃতীয় বছরের মতো কমলেও তা এখনো করোনাভাইরাস মহামারির আগের সময়ের চেয়ে বেশি। জাতিসংঘের ‘স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ বেশি।

    বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। ২০২৫ সালে মহাদেশটির প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে, যা আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার প্রতি পাঁচজনে একজন এবং বিশ্বে মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেক। এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভুগেছে ২৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ, যা জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

    ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকেও দেশভিত্তিক পরিস্থিতির একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। অপুষ্টি, বয়সের তুলনায় শিশুদের উচ্চতা কম হওয়া (স্টান্টিং), উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়া (ওয়েস্টিং) এবং শিশুমৃত্যুর হার বিবেচনায় ১০০ স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। কোনো দেশের স্কোর ৩৫ বা তার বেশি হলে ক্ষুধার পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    সূচকে আটটি দেশে ক্ষুধার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি আফ্রিকায়। ১২২টি দেশের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে সোমালিয়া। এরপর রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, চাদ ও মাদাগাস্কার। সুদান, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি ও ইয়েমেনের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তবে সংঘাত ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে এসব দেশের সুনির্দিষ্ট স্কোর নির্ধারণ করা যায়নি।

    ক্ষুধার এমন পরিস্থিতির বিপরীতে বিশ্বে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ খাবার মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, উৎপাদিত খাবারের প্রায় ১৩ শতাংশ ফসল কাটার পর থেকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়। গুদামজাতকরণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এ ক্ষতি হয়। ফলমূল ও শাকসবজিতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দোকানে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়া এসব খাবারের বার্ষিক বাজারমূল্য ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

    অন্যদিকে, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) হিসাব অনুযায়ী, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়িতে ভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ করা খাবারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফেলে দেওয়া হয়। ২০২২ সালে এভাবে অপচয় হয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাবার। ২০ টন ধারণক্ষমতার ট্রাকে এসব খাবার পরিবহন করতে হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ ট্রাক।

    খাবার অপচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ঘটে বাসাবাড়িতে। মোট অপচয়ের ৬০ শতাংশই হয় সেখানে। রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অপচয় হয় ২৮ শতাংশ এবং দোকানপাটে ১২ শতাংশ।

    বিশ্বে গড়ে প্রত্যেক মানুষ বছরে প্রায় ১৩২ কেজি খাবার নষ্ট করে। এর মধ্যে ৭৯ কেজি খাবার অপচয় হয় বাসাবাড়িতে। তবে দেশভেদে এ চিত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউএনইপির তথ্য অনুযায়ী, উষ্ণ আবহাওয়ার দেশগুলোতে বাসাবাড়িতে খাবার অপচয়ের প্রবণতা বেশি। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তাজা কৃষিপণ্যের বেশি ব্যবহার এবং রেফ্রিজারেটর বা হিমায়ন সুবিধার সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

    মাথাপিছু খাবার অপচয়ে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে বছরে জনপ্রতি প্রায় ২৬০ কেজি খাবার নষ্ট হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। এরপর রয়েছে সিরিয়া, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, সিশেলস, মেক্সিকো ও তিউনিসিয়া। এসব দেশে মাথাপিছু বছরে ২১০ কেজির বেশি খাবার নষ্ট হয়। বিপরীতে, খাবার অপচয় কম এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, যেখানে মাথাপিছু বছরে প্রায় ৩৯ কেজি বা তারও কম খাবার নষ্ট হয়।

    খাবার নষ্ট ও অপচয়ের আর্থিক ক্ষতিও বিপুল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়। খাবার ফেলে দেওয়ার সঙ্গে তা উৎপাদনে ব্যবহৃত অর্থ, জমি ও জ্বালানিও অপচয় হয়।

    বিশ্বে প্রায় ১৪০ কোটি হেক্টর বা ৩৫০ কোটি একর জমিতে এমন খাবার উৎপাদন করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত কেউ খায় না। এ জমির পরিমাণ বিশ্বের মোট কৃষিজমির প্রায় ২৮ শতাংশ, যা পুরো কানাডার আয়তনের চেয়েও বেশি।

    এ ছাড়া বিশ্বে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের জন্য দায়ী নষ্ট ও অপচয় হওয়া খাবার। এর মধ্যে ভাগাড়ে পচতে থাকা খাবার থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসও রয়েছে।

  • ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় নিহত ৫০

    ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় নিহত ৫০

    সোমবার হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইয়েমেনে এক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকার জানায়, শাবওয়ায় নতুন নিরাপত্তা কর্মীদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে এর সংযোগ নেই উল্লেখ করে একে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। তবে হুতিরা ভিন্ন কথা বলছে।

    তারা জানায়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সমাবেশে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে সৌদি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা ইয়েমেনিদের এ ধরনের শিবির থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে। হুতিরা তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটছে না। তাদের সামরিক মুখপাত্র জানান, তারা সৌদি আরবের গভীরে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছেন।

    নিজ সীমান্তের ভেতরে এই হামলা বৃদ্ধির কারণে ইয়েমেনিরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ এখন তাদের কাছাকাছি চলে আসছে। উভয় পক্ষই হামলা জোরদার করার হুমকি দিচ্ছে। সৌদি আরব তাদের বিমান হামলা বাড়িয়েছে। এতে ইয়েমেন জুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • কিমের মৃত্যুর গুঞ্জন, প্রকাশ্যে এলো নতুন ছবি

    কিমের মৃত্যুর গুঞ্জন, প্রকাশ্যে এলো নতুন ছবি

    মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণে মারা গেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এমন গুজবে পুরো দেশ এমনকি বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। কিন্তু মৃত্যু বা কোমায় চলে যাওয়ার দাবির পক্ষে মেলেনি কোনো প্রমাণ। এর মধ্যেই পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শনে কিমের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

    তারা প্রমাণ দিতে চেয়েছে নেতা কিম জং উন সুস্থ আছেন। স্বাভাবিক আছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন যাচাইহীন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর তার নতুন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে দেশটি। ছবিতে কিমকে পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোদং সিনমুনে ছবিগুলো প্রকাশিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, ৪২ বছর বয়সী কিম মারা গেছেন অথবা কোমায় চলে গেছেন।

    তাকে চিকিৎসার জন্য চীনের বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, হালকা গোলাপি রঙের পোশাক পরা এক নারীর হাতে থাকা ছোট্ট গোলাপি জুতা পরীক্ষা করতে সামনের দিকে ঝুঁকে আছেন কিম।

    অন্য একটি ছবিতে তাকে দুই হাত প্রসারিত করে এবং মুখ খোলা অবস্থায় দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তৃতীয় ছবিতে একটি ম্যানিকুইনে প্রদর্শিত মরিচা-রঙের নারীদের কোটের হাতার দিকে হাত বাড়াতে দেখা যায় কিমকে।

    এ সময় তার পেছনে কয়েকজন সহযোগীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। কিমের প্রকাশ্য উপস্থিতির ছবি সামনে আসার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেন।

    প্রথমে তিনি দাবি করেন, কিম মারা গেছেন এবং উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সংকটের আশঙ্কায় বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ে ৯ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। পরে তিনি অভিযোগ করেন, কিমের মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণ হওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য বেইজিংয়ের পেকিং ইউনিয়ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একদল চিকিৎসককে উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

    ওয়ানজুনের বর্ণনা অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা একপর্যায়ে কোমায় চলে যান। পরে তাকে বেইজিংয়ে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। তিনি আরও দাবি করেন, কিমের মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির কোনোটির সঙ্গেই কোনো প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়— এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।


    প্রমাণ না থাকলেও এসব গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশটির প্রভাবশালী নেতা কিমের বোন কিম ইয়ো জং গোপনীয়তানির্ভর এই শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা নতুন নয়। কিমের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব থাকায় তার অনুপস্থিতি বা প্রকাশ্যে আসার খবর প্রায়ই নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়।


    কিমের মৃত্যুর সাম্প্রতিক গুঞ্জন ২০২০ সালের একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সে সময় উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে আইনপ্রণেতা হওয়া জি সিয়ং-হো দাবি করেন, হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কিম মারা গেছেন বলে তিনি ‘৯৯ শতাংশ’ নিশ্চিত। কিন্তু পরে কিমকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।

    নিজের ভুল দাবির জন্য ক্ষমাও চান জি। এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবরের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। পোশাক ও জুতা প্রদর্শনীতে কিমের নতুন ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সেই গুঞ্জন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকাশিত ছবিগুলোর তারিখ ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলে শুধু ছবি দেখেই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

  • সোনা ও রুপার আজকের বাজার দর

    সোনা ও রুপার আজকের বাজার দর

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক দিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

    গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণ ও রুপার এই দর কার্যকর করেছে বাজুস। নতুন করে দাম নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ দরেই স্বর্ণ ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।

    বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা।

    ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ৬২৪ টাকা।

    উল্লেখ্য, স্বর্ণ ও রুপার গহনা কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের বাইরে প্রযোজ্য মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হতে পারে। তাই কেনার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চূড়ান্ত মূল্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

  • সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালককে হত্যার চেষ্টা, আটক ৩

    সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালককে হত্যার চেষ্টা, আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে নুরুজ্জামান নামে এক চালককে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে হত্যার চেষ্টার সময় তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুরের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

    আটক তিন অভিযুক্ত ফাসিদ, সিয়াম ও ওহিদুল ইসলাম রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে তিন অভিযুক্ত ছিনতাইকারী গাবতলী থেকে তিনি ছিনতাইকারী ভিকটিমের অটোরিকশায় ওঠেন। বেড়িবাঁধ এলাকায় আসার পর তারা চালককে বলিয়ারপুর যেতে বলেন। পরে বলিয়ারপুরের ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় আসলে অভিযুক্তদের একজন হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের গলায় রশি প্যাঁচিয়ে ধরে এবং অন্য দুইজন তার হাত-পায়ে রশি প্যাঁচাতে থাকে। এ সময় ভিকটিম ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলে টহল পুলিশের সদস্যরা তার চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায়। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে।

    আটক তিন অভিযুক্ত সাভার মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের ও আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির আল হাসান জানান, ‘আর দুই মিনিট পর গেলেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে ফেলত। পুলিশের দ্রুত অভিযানে ভুক্তভোগী প্রাণে রক্ষা পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।’ এ,আর

  • বগুড়ায় ভাগাড়ে পাওয়া গেল জাল টাকার বস্তা!

    বগুড়ায় ভাগাড়ে পাওয়া গেল জাল টাকার বস্তা!

    বগুড়া মহানগরীর চারমাথা-গোদারপাড়ায় বর্জ্যের ভাগাড়ে পড়ে থাকা একটি বস্তা থেকে জাল টাকা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জাল এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে বর্জ্যের ভাগাড়ে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সেখানে ভিড় করেন তারা। বস্তার ভেতরে টাকা দেখতে পেয়ে অনেকেই সেগুলো আসল টাকা মনে করে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরে জানা যায়, বস্তায় থাকা টাকাগুলো জাল। এর মধ্যে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট ছিল। নোটগুলোর পেছনে ছোট করে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ছিল ‘অনলি ফর শুটিং’।

    স্থানীয়দের দাবি, বস্তাটিতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছিল। কেউ কেউ এর পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। জাল টাকার নোট ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জাল এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। জাল টাকার উৎস এবং কারা এগুলো সেখানে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। টাকার পেছনে ছোট করে ‘অনলি ফর শুটিং’ লেখা আছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পরিবারকে সময় দিতে পদ ছাড়লেন মাইক্রোসফটের শীর্ষ কর্মকর্তা

    পরিবারকে সময় দিতে পদ ছাড়লেন মাইক্রোসফটের শীর্ষ কর্মকর্তা

    বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের (এসভিপি) লোভনীয় পদ ও ২৩ বছরের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টেনে ভারতে ফিরে আসছেন কেশবন শানমুগম। ভারতে থাকা বয়স্ক বাবা-মায়ের পাশে সময় কাটাতে তিনি চাকরি থেকে অবসরের এই ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন ঘোষণা দিয়েছেন।

    মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্যতম নীতি-নির্ধারণী ভূমিকায় ছিলেন কেশবন। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের বহুল আলোচিত ‘এক্সেল কো-পাইলট’ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ‘এজেন্টিক এআই’ প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল নেতৃত্বস্থানীয়। সিলিকন ভ্যালিসহ বিশ্বজুড়ে যখন এআই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, ঠিক সেই শীর্ষ মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তিবিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    তবে তুখোড় পেশাগত সাফল্য ও বৈশ্বিক খ্যাতির চেয়ে বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা এবং পরিবারকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে দেওয়া এক আবেগাপ্লুত পোস্টে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কেশবন শানমুগম লেখেন, “মাইক্রোসফটে চমৎকার ২৩টি বছর কাটালাম। ভারতে বসবাসকারী আমার বয়স্ক বাবা-মায়ের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই আমি চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছি।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এক্সেল কো-পাইলট’-এর মতো রোমাঞ্চকর কাজ এবং দারুণ সব মেধাবী সহকর্মীদের ছেড়ে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে কাজ ও ক্যারিয়ারের চেয়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের পাশে থাকাকেই তিনি সবচেয়ে সঠিক ও অর্থপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।

  • কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না আলবার্টা

    কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না আলবার্টা

    কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না আলবার্টা। সেখানে স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন তিন-চতুর্থাংশ ভোটার। ফলে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটের উদ্যোগে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা।

    কানাডার আলবার্টা প্রদেশের অধিকাংশ ভোটার দেশটির সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বলেছেন, স্বাধীনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আলবার্টাবাসী স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, কানাডাকেই বেছে নিয়েছে আলবার্টা। আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবে থাকবে, নাকি দেশটি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে- এ প্রশ্নে ভোটগ্রহণ করা হয়। প্রাথমিক হিসাবে, ভোট গণনায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ লাখ ৭০৭ জন কানাডার প্রদেশ হিসেবে আলবার্টার অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৯১ জন সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার প্রশ্নে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সোমবার মত দিয়েছেন। মোট ভোট পড়েছে ১৭ লাখের বেশি। ভোটকেন্দ্রগুলোর ৭০ শতাংশের কিছু বেশি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ফল মঙ্গলবার প্রকাশ করার কথা। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে বৃহস্পতিবার। কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে শিবির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজেদের সাফল্যের দাবি করছে। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস দুসে লিখেছেন, ভোট গণনা চললেও কানাডার অংশ হিসেবে থাকার পক্ষের শিবিরের জয় অনেকটাই স্পষ্ট।

    তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন থেমে যাবে না। দুসলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একসময় প্রান্তিক অবস্থানে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখন ভোটের ব্যালটে জায়গা করে নিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা যুক্তি দিয়ে যাবে যে আলবার্টার দাবিগুলো পূরণ করতে হলে প্রদেশটিকে স্বাধীন হতে হবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জেফরি র‌্যাথ বলেছেন, তাদের আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না।

  • আগামী বছরের মধ্যেই ‘ভয়ংকর’ হয়ে উঠবে এআই

    আগামী বছরের মধ্যেই ‘ভয়ংকর’ হয়ে উঠবে এআই

    ২০২৭ সালকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অতি-দ্রুত উন্নয়ন এবং একের পর এক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন এক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত সেফগার্ড ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকাশমান ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ প্রযুক্তি তৈরির অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমেছে শীর্ষ কোম্পানিগুলো, যা পুরো মানবজাতির অস্তিত্বকে এক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য ডেইলি শো’তে সঞ্চালক জন স্টুয়ার্টের মুখোমুখি হয়ে এবং পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এক নীতিনির্ধারণী শুনানিতে অংশ নিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই গবেষক এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ বন্ধে অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

    টকশোতে কক্সন জানান, ওপেনএআইতে তিন বছর গবেষক হিসেবে কাজ করার পর কৌতূহল থেকে তিনি অ্যানথ্রোপিকে যোগ দিয়েছিলেন। এই সময়ে দুটি বড় ঘটনা তার ভেতরে গভীর আতঙ্কের জন্ম দেয়। প্রথমটি হলো মডেলগুলোর বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির অবিশ্বাস্য হার এবং দ্বিতীয়টি হলো ওপেনএআই-এর সাম্প্রতিক একটি সাইবার নিরাপত্তা দুর্ঘটনা।

    এআই মডেলগুলোর ‘ক্ষমতা বৃদ্ধির হারের’ আলোকে যেসব এআই মডেল আগামী বছর বা আগামী বছরের শুরুতে প্রশিক্ষিত হবে, সেগুলো কতটা বুদ্ধিমান হবে তার দিকে ইঙ্গিত করে কক্সন বলেন, ‘সেগুলো হতে যাচ্ছে খুব, খুবই বুদ্ধিমান। আর সেটার সঙ্গে ওপেনএআই হ্যাকিংয়ের ঘটনা মিলালে আপনি বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এটা বেশ ভয়ংকর।’

    সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাই মাসে ওপেনএআই-এর অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ‘ওপেনএআই হাগিং ফেস’ নামক এক আশঙ্কাজনক ঘটনা ঘটে। কম নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবস্থায় থাকা একাধিক এআই মডেল নিজেদের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন রাখার নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে। মডেলগুলো কোনো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অননুমোদিত উপায়ে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে, সিস্টেমে থাকা দুর্বলতার সুযোগ নেয় এবং নিজেদের গবেষণা পরিবেশের সীমানা পেরিয়ে এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে পড়ে।

    ওপেনএআই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এই ঘটনাকে সমগ্র এআই শিল্পের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ না থাকলে এআই মডেলগুলো কতটা স্বয়ংক্রিয়, অধ্যবসায়ী এবং ক্ষতিকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। যদিও ঘটনাটি একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারে ঘটেছিল, এর পর থেকে মডেল উন্নয়ন ও ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নজরদারি এবং স্যান্ডবক্স পরিবেশ আরও কঠোর করা হয়েছে। এই ঘটনাটির প্রসঙ্গ টেনে কক্সন বলেন, ‘এআই এজেন্টগুলো যেভাবে হ্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

    গত ৫ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এক শুনানিতে উপস্থিত হয়ে নীতি নির্ধারকদের সতর্ক করেন কক্সন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না কীভাবে কোনো এআই সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।’ তিনি স্পষ্ট জানান, সাময়িকভাবে এআই বন্ধ করার ‘কিল সুইচ’ (Kill switch) ব্যবস্থাগুলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান দেবে না। তাই ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল উন্নয়নের গতি কমানো ছাড়া উপায় নেই। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা প্রদান ও এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনি কাঠামো গঠনের প্রস্তাব এনেছেন।

    অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল পর্যায় ও ওয়াশিংটনে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ) নামে একটি নতুন ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমেরিকার এই বিশেষ টিমে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জে ক্লেটন, এফটিসি চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রিউ ফার্গুসন এবং ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের টেকনোলজি অফিসার এমিল মাইকেলের মতো শীর্ষ ব্যক্তিরা রয়েছেন—যা জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার বড় পদক্ষেপ।

    দ্য ডেইলি শোতে কক্সন মন্তব্য করেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো প্রথাগত চাকরি থাকবে না। এআই প্রস্তুতকারকরা মূলত এমন একটি জগতের কল্পনাই করছেন।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, মানুষের সমস্ত দৈহিক ও মানসিক শ্রম যখন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির হাতে চলে যাবে, তখন সেই অর্থনৈতিক উৎপাদনের ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’-এর মতো কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বণ্টন করা সম্ভব হবে।

  • বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক ১

    বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ায় টহল পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে রতন নামে আটক এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পরে আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটক রতন বগুড়া সদর উপজেলার উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাদল বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় সামুদ্রিক নৌ যানের চালক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় পকেটমারের চেষ্টার অভিযোগে রতনকে আটক করতে গেলে তার সহযোগী ও স্থানীয় কয়েকজন নারী পুলিশের ওপর চড়াও হন। তারা রতনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে এএসআই উজ্জ্বল সামান্য আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতনকে থানায় নিয়ে যায়। আহত এএসআইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, রতনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দ্রুত বিচার আইনে বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা রয়েছে। এ,আর

  • সাইবার নিরাপত্তায় জটিলতা তৈরি করছে এআই প্রযুক্তি

    সাইবার নিরাপত্তায় জটিলতা তৈরি করছে এআই প্রযুক্তি

    বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। তবে এআই-এর এই দ্রুত উত্থান সাইবার প্রতিরক্ষা খাতকে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যে ফেলছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এন-এবল’ প্রকাশিত ‘দ্য এআই ফগ রিপোর্ট: হোয়েন দ্য সিগন্যাল বিকামস দ্য নয়েজ’ শীর্ষক এক নতুন গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে ফ্রন্টিয়ার এআই-এর যুগে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নিজেদের প্রসার ঘটাচ্ছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য জুড়ে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং পেশাজীবীদের নিয়ে পরিচালিত ৫৯৫ জনের ওপর চালানো একটি জরিপে দেখা গেছে, নিরাপত্তা শিল্প বর্তমানে একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৬.১% প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের সিকিউরিটি সিস্টেমে ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪.২% প্রতিষ্ঠানের অ্যালার্ট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।যেসব প্রতিষ্ঠানে সতর্কবার্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪০.২% এ সতর্কবার্তার জন্য শনাক্তকরণ টুলসের সংখ্যা বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ২৬.২% উত্তরদাতা এআই-এর সাহায্যে দ্রুততর আক্রমণ এবং ২০.১% একাধিক কারণের যৌথ প্রভাবককে দায়ী মনে করেন।

    উত্তরদাতাদের ৮৪.৫% নিশ্চিত করেছেন, গত ১ বছরে তারা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন।

    এন-এবল-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, বিদ্যমান সিকিউরিটি প্রযুক্তির ওপর কেবল একের পর এক এআই-এর স্তর যোগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে কাজের অনাবশ্যক জটিলতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে নিরাপত্তা কর্মীদের মনোযোগ দিতে সাহায্য করাই হওয়া উচিত এআই সিকিউরিটি সমাধানগুলোর মূল লক্ষ্য।

    জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি (৫৬.০%) মনে করেন—সাইবার আক্রমণ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে তা ঠেকানো পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনাই এআই-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। উত্তরদাতাদের চাহিদার তালিকায় বার বারই একগাদা তথ্যের চেয়ে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যা স্পষ্ট করে দেয় যে—সংকেতের পরিমাণের চেয়ে তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    এআই-এর মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত এমন প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি উত্তরদাতা (৩৭.৮%) মনে করেন, সাইবার হুমকির পরিধি বিস্তৃতভাবে শনাক্ত করা এবং সঠিক তথ্য নিখুঁতভাবে তুলে ধরা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ৩২.৬% গুরুত্ব দিয়েছেন হুমকির বিস্তৃত শনাক্তকরণের ওপর এবং ২৯.৬% উত্তরদাতা বেছে নিয়েছেন ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্ট কমিয়ে নিশ্চিত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট পাওয়ার বিষয়টিকে।

  • নির্বাচনের আগেই কি ম্যাক্রনের পতন?

    নির্বাচনের আগেই কি ম্যাক্রনের পতন?

    জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতনের মুখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এখন বাম ও ডানপন্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে তার মধ্যপন্থী শিবির। দেশজুড়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়ার পর রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ স্বীকার করেন। পাশাপাশি দাঙ্গাকারীদের সমালোচনা করে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।

    কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য শুনতে চাননি ২০ বছর বয়সী ইয়ানিস। তিনি প্যারিসের ঠিক দক্ষিণ-পূর্বে ইভ্রি-সুর-সেন শহরতলির বাসিন্দা। ইয়ানিস বলেন, ম্যাক্রন তার চিরাচরিত ধারার বক্তৃতা দিয়েছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেননি।

    আমরা আবারও রাস্তায় নামব। যত দিন না কিছু পরিবর্তন হচ্ছে, তত দিন একের পর এক বিক্ষোভ চলবে। প্রতি সপ্তাহান্তে, বিরতিহীনভাবে চলবে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে অনলাইন আল জাজিরা।

    গত সপ্তাহান্তে সহিংস বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে জমে থাকা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির তরুণদের মধ্যে অন্তত ম্যাক্রনের প্রতিনিধিত্ব করা মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দ্রুত কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই অস্থিরতা ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র করেছে। রাস্তায় দৃশ্যমান হতাশার সমাধান হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

    জনতুষ্টিবাদী বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ উৎসাহের সঙ্গে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরি লা পেন বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া বিশৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এটিকে নিরাপত্তা ও কর্তৃত্বের সংকট হিসেবে তুলে ধরেছেন। মধ্যপন্থী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ‘প্রাথমিক মহড়া’ চালাতে উগ্র বামপন্থীরা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে কট্টর বাম ও কট্টর ডানÑ উভয় পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশজুড়ে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হলেও সেই পরিবর্তন ঠিক কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে ঐকমত্য নেই। দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ম্যাক্রনকে আগামী নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে হবে।

    ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। প্যারিস-১২ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ইউপিইসির জনআইন বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেলিগ নবলি বলেন, প্রার্থীদের সামনে অবস্থান নেয়া এবং তরুণদের দাবির জবাব দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের উদ্দেশে বার্তা দেয়া তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। সেই বার্তা ফাঁপা হলে চলবে না; তাদের দাবির উত্তর দিতে হবে।

    সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা উন্নত বিদ্যালয়, আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং অধিকতর সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আন্দোলন দ্রুত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও সামনে চলে আসে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের তুলনামূলক কম ভোটদানের প্রবণতা এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় পেনশনের মতো বিষয় ও বয়স্ক ভোটারদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণে তাদের সমস্যাগুলো সাধারণত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে না। এবারের বিক্ষোভ সেই সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

  • একদল  ওপার থেকে পয়সা দিচ্ছে, আরেক দল দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে

    একদল ওপার থেকে পয়সা দিচ্ছে, আরেক দল দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে

    পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনজীবনকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে যে একদল সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, আর দেশে বসে থাকা অপর একটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

    মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং টিকিট বিক্রি করার রাজনীতি করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলোই আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে।’

    দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশ থেকে এসে কেউ আমাদের দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে।’

    জনসভায় তিনি উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু এবং শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে বক্তব্য শেষ করেন।

  • ৭১ বছরে কোরআনের হাফেজা মিশরীয় নারী

    ৭১ বছরে কোরআনের হাফেজা মিশরীয় নারী

    লেখাপড়া শেখার সুযোগ হয়নি, এমনকি পড়তে বা লিখতেও জানেন না তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে শুনতে পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয় মিশরের সানা আবদেল সাত্তারের। সেই ভালোবাসা থেকেই একসময় কোরআন মুখস্থ করার উদ্যোগ নেন তিনি।

    জীবনের নানা দায়িত্ব ও প্রতিকূলতার কারণে হিফজের সেই চেষ্টা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবুও নিজের সংকল্প থেকে সরে যাননি সানা। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পর অবশেষে ৭১ বছর বয়সে এসে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন তিনি।

    সানার এই অনুপ্রেরণাদায়ী কোরআন হিফজের গল্প তুলে ধরেছে ভারতীয় উর্দু সংবাদমাধ্যম ইউএনএ নিউজের একটি প্রতিবেদন।

    সানা আবদেল সাত্তার মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা। ৭১ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর বর্তমানে নিয়মিত তা পুনরাবৃত্তি করছেন। মিসরীয় সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রতিদিন প্রায় পাঁচ পারা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন।

    সানা পড়তে বা লিখতে জানেন না। তাই অন্যদের মতো সরাসরি কোরআন গ্রন্থ পড়ে তিনি হাফেজা হননি। বরং শুনে শুনে, মনে রেখে এবং বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তিনি পুরো কোরআন নিজের বুকে ধারণ করেছেন। জীবনের শুরুর দিক থেকেই কোরআনের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শোনা ছিল তার কোরআনের সঙ্গে পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম।

    জীবনের বিশের কোঠার শুরুতে তিনি কোরআন হিফজ শুরু করেন। তবে পথটি সহজ ছিল না। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিন সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি পরিবারের নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে।

  • ইতালিতে বিক্ষোভে সেনা মোতায়েন

    ইতালিতে বিক্ষোভে সেনা মোতায়েন

    শুরুটা হয়েছিল ফ্রান্সে। তবে তা আর আটকে থাকনি দেশটিতে। প্যারিসের দাবানল ছড়িয়েছে মিলানেও। ইতালির এই শহরে অনুন্নত সরকারি পরিষেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে।

    দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইতালি সরকার। এর জেরে শহরটির বিলাসবহুল দোকানগুলো আগেভাগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে।

    সোমবার ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, মিলানকে রক্ষায় আরও ৫০০ সেনা মাঠে নামানো হচ্ছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে এই সহিংসতা নিয়ে সোমবার মন্ত্রী ও নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আরেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের ওপর এই হামলার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা রোধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    বিলাসবহুল বিপণিবিতানে লুটপাট: মিলানের ভিয়া মন্তেনাপোলিওনে এলাকার বিলাসবহুল শপিং ডিস্ট্রিক্টে শ্যানেল, টিফানি এবং ডিওর-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো সতর্কতা হিসেবে তাদের প্রদর্শনীর জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে। শত শত হুড-পরিহিত বিক্ষোভকারী সপ্তাহান্তে শহরের কেন্দ্রে ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়। এদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, স্পোর্টস রিটেইলার ডেকাথলন, আর্কটেরিক্স এবং মোবাইল অপারেটর ভোডাফোনের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। লেভিস, আন্ডার আর্মার এবং ডেকাথলন তাদের জানালার কাচ পিচবোর্ড ও কাঠের প্যানেল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। ইতালির পুলিশ জানায়, রোববার মিলানে বিক্ষোভের সময় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়।

    এর মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। শনিবার বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো এবং তুরিনের মতো উত্তরের অন্যান্য শহরেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। তুরিনে ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • নেতানিয়াহুকে ভ্যান্সের ‘না’

    নেতানিয়াহুকে ভ্যান্সের ‘না’

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়ালেন। ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

    এয়ার ফোর্স টুতে সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, তিনি কেবল মার্কিন প্রার্থীদেরই সমর্থন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেই তার সম্পূর্ণ মনোযোগ। ইসরাইলের নির্বাচনে তিনি জড়াতে চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তাকে সমর্থন করার পক্ষেও নই, আবার বিপক্ষেও নই। আমি ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াচ্ছি না।

    তবে ইসরাইলের নির্বাচন নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও চলতি বছরের শুরুতে হাঙ্গেরির নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানাতে বুদাপেস্ট সফর করেছিলেন ভ্যান্স। যদিও ওই নির্বাচনে হেরে যান দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী অরবান।


    ভ্যান্সের এই মন্তব্যের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। চলতি মাসের শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের রাজনীতিতে না জড়ানোর কথা বললেও শনিবার নেতানিয়াহুকে পূর্ণ সমর্থন জানান ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    এদিকে ইসরাইলি নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক অঘোষিত সফরে ইসরাইল গেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১৫ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১, খুলনায় ১৪১, রাজশাহীতে ১২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৩, চট্টগ্রামে ১০৫, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১১০, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৭২ এবং সিলেটে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫৭ জনের। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৯৭ জন। আক্রান্তদের ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

    অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২১৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জনের। এ সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭। এর মধ্যে সন্দেহজনক রোগী ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯৯ জনের হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ শিশু।

  • চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা ও ডিগনিটি কিডস্ বিতরণ

    চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা ও ডিগনিটি কিডস্ বিতরণ


    যশোরের চৌগাছায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একীভূত শিক্ষায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও সহায়তা বৃদ্ধিবিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভা এবং ডিগনিটি ডিগনিটি কিডস্ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চৌগাছা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনে আশরাফ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, সিডিডির সহযোগিতায় এবং লিলিয়ন ফন্ডসের অর্থায়নে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    আশরাফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রাসেল আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।
    আশরাফ ফাউন্ডেশনের ফিল্ড ট্রেইনার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম বজলুর রশিদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন এবং আশরাফ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আশিষ কে চ্যাটার্জি।
    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, রশিদুল ইসলাম ও মুনতাহিনা বিলকিস, ইউআরসি ইন্সপেক্টর নাজমিন নাহার এবং আশরাফ ফাউন্ডেশনের সিবিআর কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বকুলসহ প্রতিবন্ধী যুবকেরা।
    সভায় একীভূত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ১৩ জন প্রতিবন্ধী কিশোরীদের মধ্যে ডিগনিটি কিডস্ বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • মহেশপুরে তেল,গ্যাস বিদ্যুৎ ও সারসংকট নিয়ে জামায়াতের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    মহেশপুরে তেল,গ্যাস বিদ্যুৎ ও সারসংকট নিয়ে জামায়াতের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে ,তেল গ্যাস বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র সারসংকট এবং সারের ডিলার নিয়োগ, ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগ ও দলীয়করণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর)২০২৬ ইং উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ তেল গ্যাস বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ওসার সংকটসহ সরকারী বিভিন্ন সেক্টরে দলীয়করণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। উক্ত মানব বন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , মহেশপুর -কোটচাঁদপুরের গণমানুষের নেতা ঝিনাইদহ ৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি ও আসন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই। মহেশপুর উপজেলা চত্বর থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য এই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা দুই মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। তাদের নূন্যতম মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই তারা শান্ত। কিন্তু বর্তমানে দেশে যে সরকার কাজ করছে, তারা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতের মত স্বৈরাচারী সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সহ নৃত্য প্রজননীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের আজ সাধারণ জীবন জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অতীতে সরকার যেভাবে দলীয়করণ করে দেশটাকে এক দলীয় শাসনের দিকে নিয়ে গেছিল , বর্তমান সরকার ও সেদিকেই যাচ্ছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হাই বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে জেগে উঠতে বলেন এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান। তা না হলে জনস্রোতের মুখে যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে বলে জানান। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামাত ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার আমির মোঃ ফারুক আহমেদ, বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, কর্মপরিষদ সদস্য বৃন্দ ও আদর্শ প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান মোঃ লুৎফর রহমান সহ মহেশপুর পৌর শাখার আমির মোঃ নওফেল হোসেন। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা জামায়াতে নেতৃবৃন্দ। এ,আর

  • মৌমাছি: আল্লাহর মানুষের প্রতি অসীম দয়ার অনন্য নিদর্শন

    মৌমাছি: আল্লাহর মানুষের প্রতি অসীম দয়ার অনন্য নিদর্শন

    মহাবিশ্বের বিশাল আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য, নদী-সাগর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ—সবকিছুর সৃষ্টি ও জীবনচক্রের মাঝে এক পরম কুশলী সৃষ্টিকর্তার মহাপরিকল্পনা লুকিয়ে রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন- “আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি, যদিও কাফিরদের ধারণা তাই। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ। (আস সোয়াদ: ২৭) তিনি আরও জানিয়েছেন -পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকে তিনি মূলত মানুষের সেবা ও কল্যাণের জন্য অনুগত (তাশখীর) করে দিয়েছেন।

    প্রকৃতির এই চিরন্তন সত্য ও ঐশ্বরিক অনুগতকরণের সবচেয়ে জীবন্ত এবং বিস্ময়কর নিদর্শন হলো একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গ—মৌমাছি। মৌমাছির নিখুঁত জীবনধারা, সমাজ ব্যবস্থা এবং মধু উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মানুষের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। পবিত্র কুরআনের ১৬ নম্বর সূরার নাম ‘আন-নাহল’ যার আভিধানিক অর্থ ‘মৌমাছি’। এই সূরার ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মৌমাছির সৃষ্টি রহস্য তুলে ধরেছেন। আল্লাহ বলেন: “আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি ইলহাম (অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ প্রদান) করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর। অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তোমার পালনকর্তার সহজ পথ অনুসরণ কর…”

    এখানে ব্যবহৃত ‘ইলহাম’ বা ‘ইঙ্গিত’ শব্দটির অর্থ হলো জন্মগত প্রবৃত্তি। আল্লাহ মৌমাছির ভেতরে এমন এক স্বয়ংক্রিয় জ্যামিতিক ও প্রকৌশলগত জ্ঞান স্থাপন করেছেন, যার কারণে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তারা মোম দিয়ে নিখুঁত ছয় কোণাবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠের চাক তৈরি করতে পারে। মাইলের পর মাইল দূরে উড়ে গিয়েও তারা ঠিক পথ চিনে নিজের চাকে ফিরে আসে, কারণ আল্লাহ তাদের জন্য যাতায়াতের পথকে অত্যন্ত সহজ ও সুগম করে দিয়েছেন।

    সূরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় (মধু) নির্গত হয়, যা মানুষের জন্য আরোগ্য (শিফা) স্বরূপ। ফুলের রস ও পরাগরেণুর ভিন্নতার কারণে মধুর রঙও আলাদা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং রাসায়নিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং শক্তিদায়ক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। কুরআনে এই মধুকে ‘মৌমাছির জন্য আরোগ্য’ বলা হয়নি, বলা হয়েছে ‘মানুষের জন্য আরোগ্য’ (ফিহি শিফাউন লিন্নাস), যা প্রমাণ করে এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত মানুষের সেবায় নিয়োজিত।

    মৌমাছির জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করলে এক পরম বিস্ময় জাগ্রত হয়। জীববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণী কেবল নিজের বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই শক্তি ও শ্রম ব্যয় করে। কিন্তু মৌমাছি এর এক বিরাট ব্যতিক্রম। একটি কর্মী মৌমাছি তার পুরো জীবনে মাত্র এক চা-চামচের ১২ ভাগের ১ ভাগ মধু তৈরি করতে পারে। আর মাত্র এক পাউন্ড মধু তৈরি করতে মৌমাছিদের প্রায় ২০ লক্ষ ফুলে বসতে হয় এবং প্রায় ৫৫,০০০ মাইল পথ উড়তে হয়। এই তীব্র হাড়ভাঙা খাটুনির পর তৈরি হওয়া মধুর সিংহভাগই তারা নিজেদের জন্য ব্যবহার করতে পারে না। মানুষেরা তা চাক থেকে সংগ্রহ করে নেয়। যদিও তারা শীতকালের জন্য এই খাদ্য জমা করে, কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রবৃত্তিতে এমন এক প্রাচুর্য ও দূরদর্শিতা দিয়েছেন যে, তারা প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি মধু উৎপাদন করে। নিজেরা তা পুরোপুরি ভোগ না করে মানুষের জন্য রেখে যায়। মৌমাছির এই স্বভাবটি প্রমাণ করে যে, তাদের এই প্রোগ্রামিং বা আচরণ স্বয়ংক্রিয় নয়, বরং আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন একটি সফটওয়্যার বা প্রবৃত্তি (ইলহাম) সেট করে দিয়েছেন, যা অবচেতনভাবেই মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত।

    অনেকে মনে করতে পারেন, মৌমাছিরা শুধু মানুষের জন্যই মধু বানায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সত্য হলো, মৌমাছিরা মূলত শীতকালের জন্য বা প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য এই খাদ্য জমা করে, যখন প্রকৃতিতে কোনো ফুল থাকে না।

    আল্লাহ মৌমাছিকে এমন এক দূরদর্শিতা ও সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি দিয়েছেন, যা অনেক পশুরও নেই। তারা জানে কীভাবে মোম দিয়ে নিখুঁত জ্যামিতিক প্রকোষ্ঠ তৈরি করে বছরের পর বছর মধু সংরক্ষণ করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা প্রয়োজনের চেয়ে এত বেশি মধু তৈরি করে যে, মানুষ তাদের চাক থেকে মধু কেটে নেওয়ার পরও তাদের টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত মধু চাকে অবশিষ্ট থাকে। প্রকৃতির এই নিখুঁত ব্যালেন্স বা ভারসাম্য সৃষ্টিকর্তার পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

    একটি মৌমাছির চাকে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সেখানে রানী মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছিদের কাজ সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট।

    কর্মী মৌমাছিরা নিরলসভাবে কাজ করতে করতে এক সময় উড়ন্ত অবস্থাতেই ডানা ভেঙে বা ক্লান্ত হয়ে মারা যায়। তারা তাদের নিজেদের সুখ বা ভোগের কথা চিন্তা করে না, বরং পুরো চাক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে।

    এই যে নিখুঁত নিয়মানুবর্তিতা, একে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় “ইউসোশ্যালিটি” (Eusociality) বা পরম সামাজিক আচরণ বলা হয়। এই ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাথায় এত জটিল সামাজিক বুদ্ধি কে দিল? পবিত্র কুরআন এর উত্তর দেয়—তাদের পালনকর্তা তাদের মনে এই ওহী বা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তাদের এই ‘রোবোটিক’ নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, তারা কোনো অন্ধ বিবর্তনের ফসল নয়, বরং এক মহান সৃষ্টিকর্তার নিখুঁত পরিকল্পনার (Divine Engineering) অধীনে পরিচালিত।

    মৌমাছির এই জীবন প্রণালী মানুষের অহংকার এবং স্বার্থপরতার গালে এক বিরাট চড়। আল্লাহ মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা করেছেন। অথচ একটি ক্ষুদ্র মৌমাছি নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো পৃথিবীর উদ্ভিদজগৎ (পরাগায়নের মাধ্যমে) এবং মানবজাতিকে (মধুর মাধ্যমে) বাঁচিয়ে রাখছে।

    এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন:

    1.প্রকৃত সফল জীবন সেটিই, যা অন্যের কল্যাণে আসে। 2.আল্লাহর দেওয়া মেধা ও মেধাশক্তিকে অলস বসিয়ে না রেখে মৌমাছির মতো নিরলসভাবে কাজে লাগানো উচিত।

    মৌমাছি নিজের অজান্তেই আল্লাহর এক মহান সেনাদল হিসেবে কাজ করছে। তারা মধু তৈরি করে, সংরক্ষণ করে এবং মানুষের জন্য তা ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এটি কোনো অন্ধ বিবর্তন বা কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না; এটি হলো সেই পরম কুশলী, সর্বজ্ঞাত আল্লাহর নিখুঁত প্রকৌশল (Divine Engineering), যা মানুষকে প্রতিনিয়ত আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হতে আহ্বান জানায়।

    মহাবিশ্বের এই বিশাল আয়োজন, মৌমাছির মধু কিংবা চতুষ্পদ জন্তুকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার মূল কারণ হলো—আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে এক অনন্য মর্যাদা ও সম্মান (তাকরীম) দান করেছেন। সূরা আল-ইসরা-এর ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি বনী আদমকে (মানবজাতিকে) সম্মানিত করেছি…”

    মানুষকে সুন্দরতম অবয়ব, স্বাধীন ইচ্ছা (Free Will) এবং খলিফা বা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। এই মর্যাদার কারণেই দুনিয়াকে চন্দ্র, সূর্য, বাতাস ও ফলমূল দিয়ে একটি নিখুঁত স্বর্গীয় বাগান হিসেবে মানুষের জন্য সাজানো হয়েছে।

    মানুষকে আল্লাহ যে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব ও মেধা দিয়েছেন, তার অন্যতম প্রধান কাজ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। কুরআনের পরিভাষায় একে ‘তাফাক্কুর’ বলা হয়। সূরা আল-ইমরানের ১৯০-১৯১ নম্বর আয়াতে রাত-দিনের আবর্তন এবং আসমান-জমিনের সৃষ্টি নিয়ে বুদ্ধিমানদের চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মৌমাছির ক্ষুদ্র জীবন, শৃঙ্খলা এবং পরাগায়নের (Pollination) মাধ্যমে পৃথিবীর খাদ্য শৃঙ্খল সচল রাখার বৈজ্ঞানিক রহস্য নিয়ে মানুষ যখন গবেষণা করে, তখন তার ঈমান এক অকাট্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসম্পন্ন দৃঢ় ঈমানে রূপান্তরিত হয়। মেধা ব্যবহার না করে যারা সত্যের সন্ধান করে না, কুরআন তাদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ঘোষণা করেছে।

    মৌমাছির স্বার্থহীন পরোপকারিতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের উচিত তার মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করা। একজন মুমিনের এই সমাজসেবা ও কল্যাণের পেছনে দুটি প্রধান চালিকাশক্তি থাকে:

    * আল্লাহর সন্তুষ্টি (রেজায়ে ইলাহী): কোনো নাম, যশ বা খ্যাতির আশা না করে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সেবা করা। হাদিসে কুদসী অনুযায়ী, একজন অসুস্থ বা ক্ষুধার্ত মানুষের সেবা করার অর্থ স্বয়ং আল্লাহর সেবা করা।

    * সদকায়ে জারিয়া (স্থায়ী পুণ্য): মানুষ মৃত্যুর পর তার আমলনামা বন্ধ হয়ে গেলেও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব জারি থাকে। মেধা ও বিজ্ঞান ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ যখন কোনো নতুন আবিষ্কার (যেমন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বা কল্যাণকর প্রযুক্তি) রেখে যায়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সাহায্য করে, তখন মৃত্যুর পরও কবরে তার পুণ্য পৌঁছাতে থাকে।

    উপসংহার

    সূরা আন-নাহলের বার্ধক্য ও মৃত্যুর অমোঘ নিয়মের (আয়াত ৭০) দিকে তাকালে বোঝা যায় মানুষের এই পার্থিব জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত স্বাধীন ইচ্ছা ও মেধারূপী যে ‘মহা-আমানত’ আসমান-জমিন ভয় পেয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল, মানুষ তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। অতএব, একটি ক্ষুদ্র মৌমাছি যদি নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো পৃথিবীর উদ্ভিদজগৎ ও মানবজাতিকে মধুর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তবে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব আরও অনেক বেশি। মানুষের উচিত অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে, মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করা এবং নিরেট আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করা।

    মহাবিশ্বের বিশাল আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য, নদী-সাগর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ—সবকিছুর সৃষ্টি ও জীবনচক্রের মাঝে এক পরম কুশলী সৃষ্টিকর্তার মহাপরিকল্পনা লুকিয়ে রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন- “আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি, যদিও কাফিরদের ধারণা তাই। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ। (আস সোয়াদ: ২৭)

    তিনি আরও জানিয়েছেন -পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকে তিনি মূলত মানুষের সেবা ও কল্যাণের জন্য অনুগত (তাশখীর) করে দিয়েছেন।

    প্রকৃতির এই চিরন্তন সত্য ও ঐশ্বরিক অনুগতকরণের সবচেয়ে জীবন্ত এবং বিস্ময়কর নিদর্শন হলো একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গ—মৌমাছি। মৌমাছির নিখুঁত জীবনধারা, সমাজ ব্যবস্থা এবং মধু উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মানুষের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। পবিত্র কুরআনের ১৬ নম্বর সূরার নাম ‘আন-নাহল’ যার আভিধানিক অর্থ ‘মৌমাছি’। এই সূরার ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মৌমাছির সৃষ্টি রহস্য তুলে ধরেছেন। আল্লাহ বলেন: “আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি ইলহাম (অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ প্রদান) করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর। অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তোমার পালনকর্তার সহজ পথ অনুসরণ কর…”

    এখানে ব্যবহৃত ‘ইলহাম’ বা ‘ইঙ্গিত’ শব্দটির অর্থ হলো জন্মগত প্রবৃত্তি। আল্লাহ মৌমাছির ভেতরে এমন এক স্বয়ংক্রিয় জ্যামিতিক ও প্রকৌশলগত জ্ঞান স্থাপন করেছেন, যার কারণে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তারা মোম দিয়ে নিখুঁত ছয় কোণাবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠের চাক তৈরি করতে পারে। মাইলের পর মাইল দূরে উড়ে গিয়েও তারা ঠিক পথ চিনে নিজের চাকে ফিরে আসে, কারণ আল্লাহ তাদের জন্য যাতায়াতের পথকে অত্যন্ত সহজ ও সুগম করে দিয়েছেন।

    সূরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় (মধু) নির্গত হয়, যা মানুষের জন্য আরোগ্য (শিফা) স্বরূপ। ফুলের রস ও পরাগরেণুর ভিন্নতার কারণে মধুর রঙও আলাদা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং রাসায়নিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং শক্তিদায়ক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। কুরআনে এই মধুকে ‘মৌমাছির জন্য আরোগ্য’ বলা হয়নি, বলা হয়েছে ‘মানুষের জন্য আরোগ্য’ (ফিহি শিফাউন লিন্নাস), যা প্রমাণ করে এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত মানুষের সেবায় নিয়োজিত।

    মৌমাছির জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করলে এক পরম বিস্ময় জাগ্রত হয়। জীববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণী কেবল নিজের বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই শক্তি ও শ্রম ব্যয় করে। কিন্তু মৌমাছি এর এক বিরাট ব্যতিক্রম। একটি কর্মী মৌমাছি তার পুরো জীবনে মাত্র এক চা-চামচের ১২ ভাগের ১ ভাগ মধু তৈরি করতে পারে। আর মাত্র এক পাউন্ড মধু তৈরি করতে মৌমাছিদের প্রায় ২০ লক্ষ ফুলে বসতে হয় এবং প্রায় ৫৫,০০০ মাইল পথ উড়তে হয়। এই তীব্র হাড়ভাঙা খাটুনির পর তৈরি হওয়া মধুর সিংহভাগই তারা নিজেদের জন্য ব্যবহার করতে পারে না। মানুষেরা তা চাক থেকে সংগ্রহ করে নেয়। যদিও তারা শীতকালের জন্য এই খাদ্য জমা করে, কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রবৃত্তিতে এমন এক প্রাচুর্য ও দূরদর্শিতা দিয়েছেন যে, তারা প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি মধু উৎপাদন করে। নিজেরা তা পুরোপুরি ভোগ না করে মানুষের জন্য রেখে যায়। মৌমাছির এই স্বভাবটি প্রমাণ করে যে, তাদের এই প্রোগ্রামিং বা আচরণ স্বয়ংক্রিয় নয়, বরং আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন একটি সফটওয়্যার বা প্রবৃত্তি (ইলহাম) সেট করে দিয়েছেন, যা অবচেতনভাবেই মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত।

    অনেকে মনে করতে পারেন, মৌমাছিরা শুধু মানুষের জন্যই মধু বানায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সত্য হলো, মৌমাছিরা মূলত শীতকালের জন্য বা প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য এই খাদ্য জমা করে, যখন প্রকৃতিতে কোনো ফুল থাকে না।

    আল্লাহ মৌমাছিকে এমন এক দূরদর্শিতা ও সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি দিয়েছেন, যা অনেক পশুরও নেই। তারা জানে কীভাবে মোম দিয়ে নিখুঁত জ্যামিতিক প্রকোষ্ঠ তৈরি করে বছরের পর বছর মধু সংরক্ষণ করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা প্রয়োজনের চেয়ে এত বেশি মধু তৈরি করে যে, মানুষ তাদের চাক থেকে মধু কেটে নেওয়ার পরও তাদের টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত মধু চাকে অবশিষ্ট থাকে। প্রকৃতির এই নিখুঁত ব্যালেন্স বা ভারসাম্য সৃষ্টিকর্তার পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

    একটি মৌমাছির চাকে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সেখানে রানী মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছিদের কাজ সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট।

    কর্মী মৌমাছিরা নিরলসভাবে কাজ করতে করতে এক সময় উড়ন্ত অবস্থাতেই ডানা ভেঙে বা ক্লান্ত হয়ে মারা যায়। তারা তাদের নিজেদের সুখ বা ভোগের কথা চিন্তা করে না, বরং পুরো চাক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে।

    এই যে নিখুঁত নিয়মানুবর্তিতা, একে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় “ইউসোশ্যালিটি” (Eusociality) বা পরম সামাজিক আচরণ বলা হয়। এই ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাথায় এত জটিল সামাজিক বুদ্ধি কে দিল? পবিত্র কুরআন এর উত্তর দেয়—তাদের পালনকর্তা তাদের মনে এই ওহী বা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তাদের এই ‘রোবোটিক’ নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, তারা কোনো অন্ধ বিবর্তনের ফসল নয়, বরং এক মহান সৃষ্টিকর্তার নিখুঁত পরিকল্পনার (Divine Engineering) অধীনে পরিচালিত।

    মৌমাছির এই জীবন প্রণালী মানুষের অহংকার এবং স্বার্থপরতার গালে এক বিরাট চড়। আল্লাহ মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা করেছেন। অথচ একটি ক্ষুদ্র মৌমাছি নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো পৃথিবীর উদ্ভিদজগৎ (পরাগায়নের মাধ্যমে) এবং মানবজাতিকে (মধুর মাধ্যমে) বাঁচিয়ে রাখছে।

    এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন:

    1.প্রকৃত সফল জীবন সেটিই, যা অন্যের কল্যাণে আসে। 2.আল্লাহর দেওয়া মেধা ও মেধাশক্তিকে অলস বসিয়ে না রেখে মৌমাছির মতো নিরলসভাবে কাজে লাগানো উচিত।

    মৌমাছি নিজের অজান্তেই আল্লাহর এক মহান সেনাদল হিসেবে কাজ করছে। তারা মধু তৈরি করে, সংরক্ষণ করে এবং মানুষের জন্য তা ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এটি কোনো অন্ধ বিবর্তন বা কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না; এটি হলো সেই পরম কুশলী, সর্বজ্ঞাত আল্লাহর নিখুঁত প্রকৌশল (Divine Engineering), যা মানুষকে প্রতিনিয়ত আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হতে আহ্বান জানায়।

    মহাবিশ্বের এই বিশাল আয়োজন, মৌমাছির মধু কিংবা চতুষ্পদ জন্তুকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার মূল কারণ হলো—আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে এক অনন্য মর্যাদা ও সম্মান (তাকরীম) দান করেছেন। সূরা আল-ইসরা-এর ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি বনী আদমকে (মানবজাতিকে) সম্মানিত করেছি…”

    মানুষকে সুন্দরতম অবয়ব, স্বাধীন ইচ্ছা (Free Will) এবং খলিফা বা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। এই মর্যাদার কারণেই দুনিয়াকে চন্দ্র, সূর্য, বাতাস ও ফলমূল দিয়ে একটি নিখুঁত স্বর্গীয় বাগান হিসেবে মানুষের জন্য সাজানো হয়েছে।

    মানুষকে আল্লাহ যে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব ও মেধা দিয়েছেন, তার অন্যতম প্রধান কাজ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। কুরআনের পরিভাষায় একে ‘তাফাক্কুর’ বলা হয়। সূরা আল-ইমরানের ১৯০-১৯১ নম্বর আয়াতে রাত-দিনের আবর্তন এবং আসমান-জমিনের সৃষ্টি নিয়ে বুদ্ধিমানদের চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মৌমাছির ক্ষুদ্র জীবন, শৃঙ্খলা এবং পরাগায়নের (Pollination) মাধ্যমে পৃথিবীর খাদ্য শৃঙ্খল সচল রাখার বৈজ্ঞানিক রহস্য নিয়ে মানুষ যখন গবেষণা করে, তখন তার ঈমান এক অকাট্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসম্পন্ন দৃঢ় ঈমানে রূপান্তরিত হয়। মেধা ব্যবহার না করে যারা সত্যের সন্ধান করে না, কুরআন তাদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ঘোষণা করেছে।

    মৌমাছির স্বার্থহীন পরোপকারিতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের উচিত তার মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করা। একজন মুমিনের এই সমাজসেবা ও কল্যাণের পেছনে দুটি প্রধান চালিকাশক্তি থাকে:

    * আল্লাহর সন্তুষ্টি (রেজায়ে ইলাহী): কোনো নাম, যশ বা খ্যাতির আশা না করে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সেবা করা। হাদিসে কুদসী অনুযায়ী, একজন অসুস্থ বা ক্ষুধার্ত মানুষের সেবা করার অর্থ স্বয়ং আল্লাহর সেবা করা।

    * সদকায়ে জারিয়া (স্থায়ী পুণ্য): মানুষ মৃত্যুর পর তার আমলনামা বন্ধ হয়ে গেলেও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব জারি থাকে। মেধা ও বিজ্ঞান ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ যখন কোনো নতুন আবিষ্কার (যেমন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বা কল্যাণকর প্রযুক্তি) রেখে যায়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সাহায্য করে, তখন মৃত্যুর পরও কবরে তার পুণ্য পৌঁছাতে থাকে।

    উপসংহার

    সূরা আন-নাহলের বার্ধক্য ও মৃত্যুর অমোঘ নিয়মের (আয়াত ৭০) দিকে তাকালে বোঝা যায় মানুষের এই পার্থিব জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত স্বাধীন ইচ্ছা ও মেধারূপী যে ‘মহা-আমানত’ আসমান-জমিন ভয় পেয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল, মানুষ তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। অতএব, একটি ক্ষুদ্র মৌমাছি যদি নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো পৃথিবীর উদ্ভিদজগৎ ও মানবজাতিকে মধুর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তবে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব আরও অনেক বেশি। মানুষের উচিত অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে, মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করা এবং নিরেট আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করা।

  • লেবুর পানি কিডনির জন্য উপকারী হতে পারে?

    লেবুর পানি

    লেবুর পানি কিডনির জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে। পর্যাপ্ত পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিছু ধরনের কিডনি পাথর প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

    লেবুতে সাইট্রেট থাকে। প্রস্রাবে পর্যাপ্ত সাইট্রেট থাকলে ক্যালসিয়ামজাতীয় ক্রিস্টাল একত্র হয়ে কিডনিতে পাথর তৈরির প্রবণতা কমতে পারে। তাই লেবু বা অন্যান্য সাইট্রাসজাতীয় পানীয় কিছু ক্ষেত্রে কিডনি পাথর প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

    তবে এখানে মূল বিষয় হলো পানি। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর তৈরির উপাদানগুলো জমাট বাঁধার সুযোগ কমে। কিডনি পাথর প্রতিরোধে পানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    এবিষয়ে ডা. আশিক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, লেবুর পানি কেবল ওজন কমানোর কোনো ম্যাজিক নয়, এটি আপনার কিডনির জন্যও দারুণ একটি প্রাকৃতিক ঢাল!

    তিনি আরও বলেন, কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের অতিরিক্ত জমা। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ‘সাইট্রিক অ্যাসিড’ থাকে। এটি প্রস্রাবের সাথে মিশে ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি হওয়া থেকে বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    প্র্যাকটিক্যাল টিপস হিসেবে ডা. আশিক আহমেদ তুলে ধরেন, প্রতিদিন এক গ্লাস পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস চিপে সকালে খেতে পারেন। ইতোমধ্যে কিডনিতে বড় আকারের পাথর বা তীব্র ব্যথা থাকলে দ্রুত ইউরোলজিস্ট দেখাবেন।

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হাইকমিশনার এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে নোলেজ করিডোর প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে দেশটির উন্নত শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    একই সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

    এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল।

  • ধামরাইয়ে সাবেক কাউন্সিলর আরিফ গ্রেপ্তার

    ধামরাইয়ে সাবেক কাউন্সিলর আরিফ গ্রেপ্তার

    ঢাকা জেলার ধামরাই পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।

    আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

    ডিবি পুলিশ জানায়, আরিফুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রোববার তাকে হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়ে

  • কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। প্রচলিত সোনালি ধানের পাশাপাশি মাঠজুড়ে নতুন এ জাতের ধান কৃষকদের মধ্যে তৈরি করেছে আগ্রহ ও আশা। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ ফসল স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর পৌরসভার দেবীপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহান ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধানের আবাদ করেছেন। নতুন এ ফসলের পরিচর্যা, ফলন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

    কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘ব্ল্যাক রাইস আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন। তাই ঝুঁকি বিবেচনায় পরীক্ষামূলকভাবে আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছি। উদ্যোগটি সফল হলে আশপাশের অন্য কৃষকেরাও এ ধান চাষে আগ্রহী হবেন।’

    কৃষকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় ১৬-১৮ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি মণ ধানের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৪ হাজার টাকা ধরা হলে বিঘাপ্রতি মোট বিক্রয় আয় হতে পারে ৬৪-৭২ হাজার টাকা। তবে এটি সম্ভাব্য আয়ের হিসাব; উৎপাদন খরচ, প্রকৃত ফলন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত মুনাফা।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো চালে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক উপাদান থাকায় এর রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়। এতে খাদ্য-আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যে কালো চালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের এ ফসলের বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের পাশাপাশি উপযুক্ত বাজার ও কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

    দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইসের আবাদ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এবারের ফলন, উৎপাদন খরচ ও বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আবাদের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ এবং পালি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে খেতগুলো পরিচর্যা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সন্তোষজনক ফলন এবং প্রত্যাশিত বাজারমূল্য পাওয়া গেলে কালো ধানের আবাদ দুর্গাপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    রাজশাহী অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে আউশ ও আমন ধানের চাষ হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে গভীর নলকূপ ও আধুনিক সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ধারাবাহিকতায় দুর্গাপুরে কালো ধানের পরীক্ষামূলক চাষকে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে মাঠের ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারে ক্রেতাদের প্রকৃত চাহিদার ওপর।#

  • ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে লাশ

    ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে লাশ

    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। গত এক মাসে রাজ্যটিতে সহিংসতায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ সোমবার কাংপোকপি ও ইম্ফল সীমান্তে সশস্ত্র হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

    এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিহতদের লাশ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে রেখে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    গত তিন বছর ধরে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মণিপুরে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে কুকি ও নাগাদের সংঘাতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শেষ এক মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউ খেমচাঁদ সিং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপযুক্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও সহিংসতা থামছে না; বরং প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ছে।

    গত ৯ ও ১০ তারিখে কামজং, কাংপোকপি ও উরখুল জেলায় সংঘর্ষে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়। গত শনিবার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কুকি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি নিহত এবং চারজন আহত হন। এরপর ওই জেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ২৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    গত রবিবার রাতে থৌবাল জেলার খাঙ্গাবক গ্রামে একটি কনসার্ট চলাকালীন দুষ্কৃতীদের পাথর নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে লাইশরাম রাকেশ নামের এক ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। বেশ কিছু বাড়িঘর ও যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় থৌবালে কঠোর বিধিনিষেধ ও কারফিউ জারি করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী নংশুম ও খোংবাল থাংখুল জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে গিয়ে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ নিয়ে সরাসরি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • ধামইরহাটে বাঁশঝাড় থেকে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ধামইরহাটে বাঁশঝাড় থেকে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় বাঁশঝাড় থেকে সোমবার সকালে হালিমা বেগম নামে একজন নারীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনা উপজেলা আলমপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর তালবোনা এলাকার। নিহত হালিমা বেগম ওই এলাকার মৃত আলিমউদ্দিন মন্ডলের মেয়ে। তিনি বাবার বাড়িতে ভাইদের সঙ্গে বসবাস করতেন।

    নিহতের ছোট ভাই মজনু হোসেন জানান, আমার বোন হালিমা বেগম গত রবিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পরেন। সোমবার ভোরে তার লাশ বাড়ির পূর্বদিকে একটি বাঁশঝাড়ে দেখতে পাওয়া যায়।

    পরে আমরা থানা পুলিশে খবর দিলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন। নিহত হালিমা বেগমের প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর থেকে সে তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বসবাস করত। তার শরীরে ও কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেউ তাকে হত্যা করে বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

    ধামইরহাট থানার ওসি মিন্ট রহমান জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ,আর

  • এবার ইতালিতে বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ

    এবার ইতালিতে বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ

    ফ্রান্সের পর এবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের আরেকে দেশ ইতালি। শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে রোববার যখন আগের দিনের তুলনায় যখন আরো বেশি করে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। খবর আনাদোলুর।

    ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিক্ষোভের ঘটনায় ১৯৭ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর আগে শনিবার সহিংসতা, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের ১২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

    জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত করের বোঝার প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শনি ও রোববার মিলানে প্রায় পাঁচ হাজার, তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

    মিলানে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে পাথর, বোতল ও আতশবাজি ছুড়ে মারেন। এ সময় ব্যারিকেডও ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়িও ধ্বংস করা হয়।

    ছবি: সংগৃহীত।
    ছবি: সংগৃহীত।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের সহিংসতায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ ডলার।

    তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পেট্রোলবোমা হিসেবে পরিচিত ‘মলোটভ ককটেল’ বহনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে।

    বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

    মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের পেছনের কারণগুলো বোঝা গেলেও পুলিশকে লক্ষ্য করে সহিংসতা এবং শহরজুড়ে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকে সহিংসতা ছড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহারকারীদের এড়িয়ে চলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব আবারও উত্থাপন করবে। প্রস্তাবটিতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের নামে সংঘটিত সহিংসতার স্পষ্ট নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

  • লালপুরে খালা বাড়ীর পদ্মায় গোসলে নেমে শিক্ষার্থী নিহত

    লালপুরে খালা বাড়ীর পদ্মায় গোসলে নেমে শিক্ষার্থী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারাল ১২ বছরের শিশু তামিম। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত তামিম লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকার বীরোপাড়া গ্রামের মিঠুন আলীর ছেলে। সে বীরোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তামিম মেজ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার তামিম খালার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার খালাতো ভাই সিয়ামের সঙ্গে বিলমাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাটে গোসল করতে যায় তামিম।

    দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘাট থেকে নদীতে লাফ দিলে সে পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় খালাতো ভাই সিয়াম ও ঘাটে উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে খালার বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা মিলে বেলা ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করেন।

    খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লতিফুল বারীর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গাড়িতে করে দ্রুত তামিমকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এ,আর

  • বরিশালে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

    বরিশালে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। সোমবার সকাল সাতটার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. নয়ন (২৫) ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তারা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালভিটা লেনের কাশেম মহলে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশালের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে নগরীর বিএম কলেহজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনকভাবে তাদের তল্লাশি চালিয়ে ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ,আর

  • ছদ্মবেশে রিকশার গ্যারেজে ডিবির অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ৩

    ছদ্মবেশে রিকশার গ্যারেজে ডিবির অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাধারণ এক অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশ গ্যারেজে অভিযান চালায় ডিবি ঢাকা জেলা উত্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: শাহাদত হোসেন। এসময় ওই গ্যারেজ থেকে অস্ত্র কেনাবেচার সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে এবং উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি।

    রোববার (১৮ই অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন জহুরুল, আলভী ও মামুন। এরা সবাই শুটার সাদ্দামের সহযোগি বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকরা কিছুদিন আগে জামিনে কারামুক্ত হয়। এরপর থেকেই পুনরায় ওই গ্যারেজে অস্ত্র বেচাকেনাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম শুরু করে। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দামের সহযোগী ও আউকপাড়া এলাকায় সাদ্দামের পক্ষে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এর আগে এই অপরাধীদের ধরতে এসআই শাহাদতের নেতৃত্বে ডিবির পক্ষ থেকে আরো দুই-তিনবার অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    রোববার রাতে এসআই শাহাদতসহ ডিবির একটি টিম পুরোপুরি কৌশল বদলান। অপরাধীদের চোখ ফাঁকি দিতে ডিবির সদস্যরা লুঙ্গি পড়ে সাধারণ অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। এই অভিনব ছদ্মবেশেই সুকৌশলে গ্যারেজের ভেতরে প্রবেশ করে চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলা হয়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ওই গ্যারেজে অস্ত্র বেচাকেনার সময় অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো: সাইদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটিকে ধরার চেষ্টা চলছিল ও অবশেষে সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ,আর

  • লালন আখড়ার প্রধান ফটকের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

    লালন আখড়ার প্রধান ফটকের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফকির লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে একটি ব্যাগ থেকে বোমাসদৃশ বস্তু, দুই লিটার পেট্রল ও দুটি সার্কিটসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত আড়াইটার দিকে বোম ডিসপোজাল টিমের এসআরইউ ইউনিটের সদস্যরা বস্তুটি নিস্ক্রিয় করেন।

    এদিকে আখড়াবাড়িতে চলছে ফকির লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনের উৎসব। আজ সোমবার রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হওয়ার কথা।

    পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে একটি সাদা রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার। ব্যাগটি খুলে তিনি লাল রঙের টেপ দিয়ে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু, প্রায় দুই লিটার পেট্রল ও দুটি সার্কিটসদৃশ বস্তু দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি কুমারখালী থানা পুলিশ ও মেলা আয়োজক কমিটিকে জানান।

    খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জায়গাটি ঘিরে রাখেন। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বম্ব ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন।

    থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার পর আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যাগটি সেখানে রেখেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ,আর

  • ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভ

    ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভ

    স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন তরুণেরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।

    ফ্রান্সে দীর্ঘ সময় ক্লাস, শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বচ্ছ ভর্তিপ্রক্রিয়ার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভ চলাকালে অনেক সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক পদ খালি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মাসের পর মাস পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাইরে আরও অনেকে এই বিক্ষোভে যোগ দেন। জ্বালানিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আওয়াজ তোলেন তাঁরা। আর এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তাঁরা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন।

    ফ্রান্সের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি) বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছে। সংগঠনটি দ্রব্যমূল্য কমানো, পেনশন বাড়ানো এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমানুয়েল মাখোঁর সময়ও প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ে তাঁর সরকার কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়ল।

    এদিকে ফ্রান্সের প্রতিবেশী স্পেনে গত সেপ্টেম্বরে বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন আন্দোলনকারীরা।

    মারিকারমেন আবাসকাল নামের ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে তাঁর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্পেনে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। একটি বিনিয়োগ তহবিল ওই বৃদ্ধার বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করার পর তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই হারান। পরে ওই বৃদ্ধা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই সপ্তাহ পর মারা যান।

    বিক্ষোভকারীরা বাড়িভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং বিনিয়োগ তহবিলের সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।

    একই দাবিতে গত শনিবার পর্তুগালের লিসবনেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। দেশটিতে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ির দাম ১২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড় বৃদ্ধির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতালির মিলানেও বিক্ষোভ হয়েছে। গত শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু একপর্যায়ে তা সহিংস হয়ে ওঠে।

    মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে থাকেন। তাঁরা টেবিল ব্যবহার করে তৈরি ব্যারিকেডেও আগুন ধরিয়ে দেন।

    অন্যদিকে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে আন্দোলন গত রোববার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও নিম্নমানের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে তাঁরা সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট।

    আলবেনিয়ায় জাতীয় পতাকা হাতে এক বিক্ষোভকারী

    আলবেনিয়ায় জাতীয় পতাকা হাতে এক বিক্ষোভকারী।

    বিক্ষোভ কখন শুরু হয়েছে

    গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর থেকে বিক্ষোভ জোরদার হতে থাকে। গত শনিবার তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই দিন ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়।

    অন্যদিকে আলবেনিয়ায় গ্রীষ্মকাল থেকেই আন্দোলন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়েজামাই জ্যারেড কুশনারের সমর্থনে নেওয়া একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

    বিক্ষোভে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে

    ফ্রান্সের সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় আরও তিন হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। স্কুলসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা হবে।

    আগামী বছরের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছু ফি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা–ও বাতিল করা হয়েছে।

    সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি জ্বালানির দাম নিয়ে বিক্ষোভের পর ফ্রান্সের সরকার কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের জন্য পেট্রলে ভর্তুকি বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়।

    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা দিতে জরুরি আবাসন আইন পাসের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসে ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর বিরোধিতায় আইনটি পাস হয়নি।

    এরপর সানচেজ ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানান। নতুন সংস্কার কার্যকর করতে তাঁর আরও বিস্তৃত প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিক্ষোভ থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে সংকট মোকাবিলায় বৈঠক করবেন। এরপর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সরকার বিক্ষোভকারীদের আর ছাড় দিতে চায় না। তিনি ‘কট্টর বামপন্থী’ বিক্ষোভকারীদের ফ্রান্সজুড়ে ভবনে লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য দায়ী করেছেন।

    ২০২৭ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

    সরকার সংসদের স্থায়ী পরিষদের মাধ্যমে অন্তত কিছু আবাসনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ পাস করাতে পারলে স্পেনে আগামী নির্বাচনের আগেই বিক্ষোভ কমে আসতে পারে।

    আগামী মাসের নির্বাচনে জিতলে আরও বাড়ি নির্মাণ এবং আবাসনসংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সানচেজের সমাজতান্ত্রিক দল ও কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি।

In English

English edition · Older English stories