BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি নিষিদ্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি নিষিদ্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

    নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার নীতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক স্তরে ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

    নোটিশে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবী দাবি, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হলে শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রাথমিক স্তরে যেকোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বই ও পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শৈশব থেকেই শিশুদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় আবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ এবং এনসিটিবির বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিশুদের স্বার্থে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আটক

    চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আটক

    যশোরের চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খড়িঞ্চা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আব্দুল মান্নান উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি খড়িঞ্চা গ্রামরে মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
    এলাকাবাসী জানান বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে তিনি বাদী হয়ে খড়িঞ্চা দাখিল মাদ্রাসা এলাকায় কথিত বোমা হামলার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশত নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়।

    চৌগাছা থানার নবাগত ওসি কাজী বাবুল হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • ৫১টি সুপারিশের মাত্র একটি গ্রহণ করেছে সরকার: স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান

    ৫১টি সুপারিশের মাত্র একটি গ্রহণ করেছে সরকার: স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান

    স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান কথা বলেছেন বিডি গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে।

    প্রশ্ন ১. আপনি স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পেছনে তাকালে কমিশনের কোন সুপারিশগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনগুলো গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে হয়?

    উত্তর: বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন ২০২৫ ছিল স্থানীয় সরকার সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত অষ্টম জাতীয় পর্যায়ের কমিশন। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারকে একটি শক্তিশালী, স্বশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ সুপারিশ করা ছিল কমিশনের দায়িত্ব।

    বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল, আগে গঠিত কমিশনের সুপারিশ, সাত বিভাগে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৬৪ জেলার ৪৬ হাজার ৮০ জন মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে কমিশন স্থানীয় সরকার সংস্কারে ৫১টি মূল সুপারিশ দেয়। এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকার এর মধ্যে মাত্র একটি সুপারিশ গ্রহণ করেছে।

    স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের (২০২৫) অন্যতম মূল সুপারিশ ছিল দলনিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ফিরিয়ে আনা, যা ২০১৫ সালের আগে প্রচলিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন চালু করে, ফলে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পান। এই বিধান স্থানীয় নির্বাচনকে চরম সহিংস করে তোলে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করে, সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে এবং স্থানীয় শাসনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একটি স্বাগত জানানোর মতো অগ্রগতি হলো, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বর্তমান সংসদ প্রচলিত আইন থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধান বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক স্থানীয় নির্বাচনের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে কমিশনের বহু সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও আরও কার্যকর করতে তিনটি বড় ক্ষেত্রের সুপারিশ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা উচিত। সেগুলো হলো:

    কাঠামোগত সংস্কার:

    বর্তমান স্থানীয় সরকারব্যবস্থা খণ্ডিত, কাঠামোগতভাবে অসংগতিপূর্ণ এবং এর সমন্বয় দুর্বল। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে এতে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের তিন স্তরে তিনটি প্রতিষ্ঠান: জেলা পর্যায়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে দুটি স্থানীয় সংস্থা রয়েছে: বড় শহরে সিটি করপোরেশন এবং ছোট শহরে পৌরসভা।

    গ্রাম পর্যায়ে শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই সরাসরি নির্বাচন হয়। উপজেলা পরিষদে আংশিক সরাসরি পদ্ধতি চালু আছে: শুধু চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা স্থানীয় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, আর উপজেলার ভেতরের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেন, যদিও এর পরিচালনায় তাঁদের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই। জেলা পরিষদ গঠিত হয় পরোক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। জেলার ভেতরের নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা এর সদস্য হিসেবে কাজ করেন, অথচ জেলা পরিষদের ওপর তাঁদের সরাসরি প্রতিনিধিত্বমূলক ম্যান্ডেট নেই। এই ব্যবস্থা কাঠামো ও জবাবদিহিতে ফাঁক তৈরি করে, যা জেলা পরিষদের কার্যকর কাজে বাধা দেয়। অন্যদিকে শহর পর্যায়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা দুটিই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংস্থা।

    কমিশনের সুপারিশ হলো, পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেরই (জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) একই নকশার কাঠামো থাকা উচিত, বিশেষ করে প্রতিটি স্তরে যৌক্তিক ওয়ার্ডব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যাতে সবগুলো একইভাবে কাজ করতে পারে।

    এর পাশাপাশি কমিশন সুপারিশ করেছে, দক্ষভাবে কাজ করার জন্য গ্রাম ও শহরের পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেই একই সাংগঠনিক কাঠামো থাকা উচিত। জাতীয় পর্যায়ের সংসদীয় সরকারব্যবস্থার আদলে কমিশন প্রস্তাব করেছে, প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দুটি আলাদা অংশ থাকবে: আইনসভা অংশ ও নির্বাহী অংশ। আইনসভা অংশে থাকবেন চেয়ারম্যান (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থার প্রধান) বা মেয়র (শহুরে স্থানীয় সংস্থার প্রধান) এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সব নির্বাচিত সদস্য। অন্যদিকে নির্বাহী অংশে থাকবেন চেয়ারম্যান এবং পাঁচ থেকে ছয়জন পূর্ণকালীন সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ, যাঁরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করবেন। গ্রাম ও শহরের স্থানীয় শাসনের জন্য একই ধরনের সাংবিধানিক কাঠামো ভারতে ১৯৯২ সালে সংবিধানের ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে চালু হয়, যা ১৯৯৩ সালে কার্যকর হয়।

    এই ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান বা মেয়রের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচিত সদস্যদের কর্তৃত্ব প্রয়োগের সুযোগ দেবে। এটি ক্ষমতার ভাগাভাগি বাড়াবে, গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় শাসনে জবাবদিহি বাড়াবে।

    নির্বাচনী সংস্কার:

    বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের জরুরি একটি সংস্কার হলো নির্বাচনী সংস্কার, যা আগে বলা কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন আইন ও পদ্ধতিতে হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান করতে প্রথমেই প্রতিটি স্তরে জনসংখ্যার আকার অনুযায়ী যৌক্তিকসংখ্যক ওয়ার্ড থাকা উচিত।

    বর্তমানে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যায় বড় পার্থক্য রয়েছে। কিছু ইউনিয়ন বড়, কিছু তুলনামূলক ছোট; আয়তন প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার থেকে ১ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত। যেমন, সব ইউনিয়ন পরিষদে ৯টি ওয়ার্ড থাকলেও ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত। এত বড় পার্থক্য সত্ত্বেও সব ইউনিয়ন পরিষদ নয়টি ওয়ার্ডে ভাগ করা, ফলে সম্পদের বণ্টন অসম এবং প্রায়ই অদক্ষ হয়। কমিশন প্রস্তাব করেছে, একেকটি ইউনিয়নে ৯ থেকে ৩৯টি ওয়ার্ড থাকতে পারে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ।

    অন্যদিকে উপজেলা ও জেলা পরিষদে কোনো ওয়ার্ড নেই। ইউনিয়ন পরিষদের মতো উপজেলা ও জেলা পরিষদকেও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নির্বাচনী ওয়ার্ডে পুনর্গঠন করা যায়। যেমন, উপজেলা পরিষদের ভেতরে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে তিনটি ওয়ার্ড হিসেবে ধরা যায়; তাহলে পাঁচ ইউনিয়নের একটি উপজেলায় মোট ১৫টি নির্বাচনী ওয়ার্ড হবে। একইভাবে জেলা পরিষদের ভেতরে প্রতিটি উপজেলাকে তিন থেকে পাঁচটি ওয়ার্ড হিসেবে ধরা যায়। এই ওয়ার্ডগুলো শুধু নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তৈরি হবে, যাতে প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বাড়ে।

    জাতীয় পর্যায়ে প্রচলিত সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে কমিশন চেয়ারম্যান (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থার নেতা) বা মেয়রের (শহুরে স্থানীয় সংস্থার নেতা) সরাসরি নির্বাচনের বিধান বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বদলে সদস্য (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থা) বা কাউন্সিলররা (শহুরে স্থানীয় সংস্থা) জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং পরে নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করবেন। কমিশন দেখেছে, বর্তমান ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান বা মেয়রের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো “এক ব্যক্তির শাসনে” পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্বাচিত সদস্যদের অর্থবহ ভূমিকা প্রায় থাকে না বা একেবারেই থাকে না। ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে কমিশন এই ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে, যার মাধ্যমে কর্তৃত্বের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আইনি সংস্কার:

    পাঁচটি স্থানীয় সংস্থা একই সময়ে গঠিত না হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় সরকার চলে পাঁচটি আলাদা আইন ও শত শত বিধিমালার অধীনে। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জারি করা বিপুলসংখ্যক পরিপত্র ও গেজেট রয়েছে। আইন ও বিধির এই আধিক্য স্থানীয় সরকারের কাজে বিভ্রান্তি ও দ্বৈততা তৈরি করে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়, স্থানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয় এবং সবচেয়ে বড় কথা, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদান ব্যাহত হয়। তা ছাড়া নির্বাহী আদেশে সময়ে সময়ে গেজেট ও পরিপত্র জারির বিদ্যমান বিধান রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

    শওকত আলী কমিশন ২০০৮-এর সুপারিশ অনুসরণ করে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন ২০২৫ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি ছাতা আইনের সুপারিশ করেছে। কমিশন গ্রাম ও শহরের স্থানীয় সংস্থার জন্য দুটি আলাদা ছাতা আইনের পরামর্শ দিয়েছে।

    প্রশ্ন ২. ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলো মূলত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা চালাচ্ছেন। সেবা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এর অর্থ কী দাঁড়িয়েছে?

    উত্তর: প্রশাসকেরা স্থানীয় সংস্থার ব্যবস্থাপনা হাতে নিলে কার্যত তাঁরাই হয়ে ওঠেন “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ”, যাঁরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো একইভাবে সেবা দিতে কম সক্ষম হতে পারেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অনেক নির্বাচিত স্থানীয় সরকার নেতা পদ শূন্য রেখে পালিয়ে যান। সেসব স্থানীয় সরকার সংস্থার কাজ চালু রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

    স্থানীয় সংস্থায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা সাধারণত শুধু রুটিন কাজ করেন এবং স্থানীয় চাহিদার প্রতি সীমিত সাড়া দিয়ে সেবা দেন। অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জবাবদিহি করেন, তাই কার্যকরভাবে সেবা দেওয়ার জন্য তাঁদের তাগিদ বেশি থাকে। তা ছাড়া এলাকার মানুষ প্রশাসকদের চেয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বেশি কাছের মনে করেন। এই দ্বিমুখী সম্পর্ক সেবা প্রদানে সাড়া ও জবাবদিহি শক্তিশালী করে। প্রশাসকেরা নেতৃত্বে থাকলে স্থানীয় সংস্থাগুলোতে এটির অভাব থাকে।

    প্রশ্ন ৩. নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে এবং এখন আগামী বছরের প্রথমার্ধে, ৬ জুনের আগে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। কী হলে স্থানীয় নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে, আর তা দলীয় প্রতীকে হওয়া উচিত নাকি প্রতীক ছাড়া?

    উত্তর: হ্যাঁ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং আমরা আশাবাদী যে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় নির্বাচন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তা ছাড়া স্থানীয় সরকার কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন করার সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নির্বাচনী সহিংসতা কমাতে এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বিবেচনা করতে পারে, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    প্রশ্ন ৪. কমিশন সুপারিশ করেছে, চেয়ারম্যান ও মেয়র সরাসরি নির্বাচিত না হয়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। এতে ভোটার ও পরিষদের জন্য কী বদলাবে?

    উত্তর: আগেই বলেছি, বর্তমান ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে, যেখানে চেয়ারম্যান বা মেয়র সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং অন্য নির্বাচিত সদস্যদের অর্থবহ ভূমিকা সামান্যই থাকে। নির্বাচন যদি শুধু সদস্য বা কাউন্সিলর পদে হয় এবং তাঁরা পরে নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করেন, তাহলে সদস্যরা ক্ষমতায়িত হবেন এবং চেয়ারম্যান বা মেয়রকে তাঁদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতা এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকাতে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, যা পরে সেবা প্রদানকে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে ভূমিকা রাখবে।

    প্রশ্ন ৫. পরিষদগুলো কেন্দ্রের অনুদানের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণের জন্য অর্থ ও কর্তৃত্বের দিক থেকে কী প্রয়োজন?

    উত্তর: আর্থিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের একটি বিকেন্দ্রীকৃত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর থাকা উচিত।

    বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন ছাড়া সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের বেতন দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্তরের জন্য আলাদা আর্থিক বরাদ্দ বা অনুদান দেওয়া হয়। উন্নয়ন সহযোগীরাও নানা ধরনের উল্লম্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ও স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে কম সমন্বয়ে। ফলে স্থানীয় সংস্থাগুলো নিজেদের বাজেট পরিচালনা এবং স্থানীয় অগ্রাধিকার অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে খুব সামান্য বা কোনো স্বায়ত্তশাসনই পায় না।

    আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এগিয়ে নিতে ২০২৫ সালের কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ বিকেন্দ্রীকৃত “জেলা পরিকল্পনা” প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে জেলা এবং এর অন্তর্ভুক্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা একত্র করা হবে। এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। জেলার জন্য বরাদ্দ অর্থ বণ্টন এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা জেলাকে দেওয়া উচিত। এই পদ্ধতি স্থানীয় আর্থিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে, উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় উন্নত করবে এবং সরকারি সম্পদ স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত অগ্রাধিকারের দিকে যাওয়া নিশ্চিত করবে।

    বাংলাদেশের সংবিধান সরকারকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশে স্থানীয় জনগণের নির্বাচিত একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা থাকবে। স্থানীয় সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোরও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যালয় আছে, যেগুলোকে একই ধরনের, পরস্পর জড়িয়ে যাওয়া দায়িত্ব দেওয়া আছে; এতে কাজের দ্বৈততা ও সম্পদের অপচয় হয়। সরকার ইতিমধ্যে ৯টি বিভাগ ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং ১৬টি বিভাগ উপজেলা পর্যায়ে হস্তান্তর করেছে। তবে এসব হস্তান্তর এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, কারণ এসব বিভাগের সংশ্লিষ্ট তহবিল, কর্মী ও অর্থ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা হয়নি।

    প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণকে দক্ষ ও কার্যকর করতে স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি বিভাগগুলোর দায়িত্বের সঙ্গে তাদের তহবিল ও কর্মীদেরও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা উচিত। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে, প্রশাসনিক দ্বৈততা কমবে এবং সমন্বয় ও সেবা প্রদান উন্নত হবে।

    প্রশ্ন ৬. সংসদ সদস্যদের কি স্থানীয় পরিষদে কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা উচিত, নাকি দুটিকে আলাদা রাখা উচিত?

    উত্তর: ভৌগোলিকভাবে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্বাচনী এলাকা এক হলেও তিনটি প্রধান কারণে স্থানীয় সরকার সংস্থায় সংসদ সদস্যদের কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা উচিত নয়:

    প্রথমত, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা; তাঁদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন এবং সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। তাই তাঁদের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা এবং জাতীয় নীতির পর্যায়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর যেন শোনা যায়, তা নিশ্চিত করা।

    দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। আইনপ্রণেতা সংসদ সদস্যদের এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের সুযোগ দিলে ক্ষমতা পৃথক্‌করণের নীতি দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, সংসদ সদস্যদের জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব যেন উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের (অর্থাৎ উপজেলা পরিষদের) নেতৃত্ব দিতে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের কর্তৃত্বকে ছাপিয়ে না যায়, সে জন্য তাঁদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা রাখা উচিত। তা না হলে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আধিপত্য করবেন, যা উপজেলা পরিষদের স্বায়ত্তশাসন ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন করবে।

    প্রশ্ন ৭. স্থানীয় পরিষদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন আছে। এসব আসনের কি প্রকৃত ক্ষমতা আছে, আর কী হলে তা বদলাবে?

    উত্তর: স্থানীয় পর্যায়ে এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই বিধান কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ আইন ১৯৯৭ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নারীদের তিনটি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান চালু করে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক নির্বাচিত নারী সদস্য তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন, যার প্রতিটিতে একজন নির্বাচিত পুরুষ সদস্যও আছেন। ফলে পুরুষ ও নারী সদস্যদের এখতিয়ারে প্রায়ই সংঘাত ও দ্বৈততা দেখা দেয়, যেখানে পুরুষ সদস্যরাই প্রায়ই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখেন। এভাবে বর্তমান ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    নারীর অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করতে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ ওয়ার্ড নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা যায়, যা পরপর নির্বাচনী চক্রে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে পূরণ হবে। যেমন, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোয় পরপর তিনটি নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডেই নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। প্রথম নির্বাচনে নারীরা সরাসরি তিনটি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, পাঁচ বছর পরের নির্বাচনে পরের তিনটি ওয়ার্ডে, এবং তার পরের নির্বাচনেও এভাবে চলবে।

    প্রশ্ন ৮. কোন একটি সংস্কার জেলা ও গ্রামের মানুষের কাছে রাষ্ট্রের পৌঁছানোর পথ সবচেয়ে বেশি উন্নত করবে?

    উত্তর: রাষ্ট্রকে তৃণমূলের মানুষের কাছাকাছি আনতে পারে, এমন একক কোনো সংস্কার চিহ্নিত করা কঠিন। তবে বৃহত্তর অর্থে এর জন্য প্রয়োজন একটি কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ নীতির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদানের উন্নতি, যা প্রশাসনিক ও আর্থিক দুই ধরনের বিকেন্দ্রীকরণই নিশ্চিত করবে। স্থানীয় সংস্থাগুলোর নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্বায়ত্তশাসন থাকা উচিত। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থানীয়ভাবে, জেলা পর্যায়ে প্রণয়ন করা উচিত। এ জন্য কমিশনের সুপারিশ করা জেলা পরিকল্পনার ধারণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আটক অফিস সহায়ক মো: শাহজামালকে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্নফাঁস তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলতেই বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কমিটির প্রধান অভিযুক্ত অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

    কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলে আসছিলেন। এছাড়া প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার একাধিক নথি তার কম্পিউটারে পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের তথ্যও খতিয়ে দেখছে তদন্ত দল।

    বুধবার রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও অভিযোগগুলো নিজে পর্যালোচনা করেন। এরপর রাতেই শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিস্তারিত তদন্তের পরই সব বিষয় পরিষ্কার করা যাবে। অভিযুক্ত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে। এ,আর

  • চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

    চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর (দৈনিক ইত্তেফাক), সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান ( দৈনিক আমার দেশ), সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুস শুকুর (দৈনিক যশোর), অধ্যক্ষ (ভারঃ) বি এম হাফিজুর রহমান , সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান (দৈনিক আজকের পত্রিকা), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম ( দৈনিক নয়া দিগন্ত), অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্ত ( দৈনিক যায়যায় দিন), ক্রিড়া সম্পাদক এম এ মান্নান (দৈনিক আমার সংবাদ), দপ্তর সম্পাদক রায়হান হোসেন ( দৈনিক যশোর), সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার দত্ত (দৈনিক কাল বেলা), প্রভাষক আজিজুর রহমান(দৈনিক সময়ের আলো), দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ( দৈনিক ভোরের ডাক), কালিমুল্লাহ সিদ্দীক (দৈনিক আগামীর সময়), আজম আশরাফুল ইসলাম ( দৈনিক জনবানী), ও কবি আবু জাফর বিশ্বাস প্রমুখ।

    এ মতবিনিময় সভায় ওসি কাজী বাবুল বলেন, চৌগাছা উপজেলা দেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমার প্রথম কাজ হবে মাদক ও চোরাচালানীদের প্রতিহত করা। সে জন্য সাংবাদিক ভাইদের একান্ত সহযোগীতা কামনা করছি।

  • পর্দা নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও করতে হবে

    পর্দা নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও করতে হবে

    পর্দা কি কেবল নারীর পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি পুরুষের দৃষ্টি ও আচরণও এর অন্তর্ভুক্ত? আমাদের সমাজে পর্দার প্রসঙ্গ উঠলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর পোশাক, চলাফেরা ও শালীনতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ, ইসলামে পর্দার বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে প্রথমে পুরুষদের সম্বোধন করে পর্দার স্পষ্ট নিদেশনা দিয়েছেন।
    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সূরা নূর : ৩০)। এর পরবর্তী আয়াতে নারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ (সূরা নূর : ৩১)। এই বর্ণনার ধারা থেকে স্পষ্ট প্রকাশ পায় যে, শালীন সমাজ গড়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পুরুষের চোখের সংযম দিয়ে শুরু হয়, আর নারীর শালীনতায় তা পূর্ণতা পায়। অর্থাৎ, পর্দার দায়িত্ব শুধু নারীর নয়; পুরুষেরও রয়েছে দৃষ্টি ও আচরণ সংযত রাখার দায়িত্ব।এর একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় বিদায় হজের ঘটনায়। হযরত ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) নবীজি (সা.)-এর পেছনে উটের পিঠে বসা ছিলেন। এ সময় খাশআম গোত্রের একজন অত্যন্ত সুন্দরী নারী মহানবী (সা.)-এর কাছে দ্বীনি বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে এলে ফজল (রা.) তাঁর দিকে তাকাতে থাকেন। তখন রসূল (সা.) ফজল (রা.)-এর মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫১৩)। ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, নারীর প্রতি দৃষ্টির সংযমের বিষয়টিও রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বের সঙ্গে শিক্ষা দিয়েছেন।
    এ প্রসঙ্গে জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি হঠাৎ কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন (সহিহ মুসলিম)। একইভাবে হযরত আলী (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন, এক দৃষ্টির পর আরেক দৃষ্টি যেন না দেওয়া হয়; কারণ প্রথম অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি ও পরবর্তী ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি এক বিষয় নয়। (সুনানে আবু দাউদ)। এসব নির্দেশনা পুরুষের দৃষ্টি সংযত রাখার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

    একটি সাধারণ দৃশ্য কল্পনা করা যাক— একজন নারী শালীন পোশাক পরে রাস্তায় চলছেন, অথচ কোনো ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করছেন কিংবা তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, পর্দার শিক্ষা কি শুধু ওই নারীর পোশাকেই সীমাবদ্ধ, নাকি ওই ব্যক্তির দৃষ্টি ও আচরণেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত? ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রত্যেক মানুষ নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ। কোনো নারীর পোশাক অন্যের অসদাচরণের অজুহাত হতে পারে না।


    দুঃখজনকভাবে, আমাদের সমাজে কোনো নারী পর্দা না করলে তাঁকেই অনেক সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ নারীর প্রতি অশালীন দৃষ্টি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কিংবা হয়রানির ক্ষেত্রে পুরুষদের দিকটি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। পর্দা কেবল বাহ্যিক আবরণের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িত দৃষ্টি-সংযম, শালীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক আচরণ। একজন নারী যেমন শালীনতা বজায় রেখে পর্দা রক্ষা করবেন, তেমনি একজন পুরুষও নিজের দৃষ্টি সংযত রেখে নারীর সম্মান রক্ষা করার মাধ্যমে পর্দা রক্ষা করবেন।সুতরাং, পর্দার আলোচনা হোক একতরফা সমালোচনার ঊর্ধ্বে। নারীর পোশাকের পাশাপাশি পুরুষের দৃষ্টি, আচরণ ও নৈতিক দায়িত্ব নিয়েও সমান গুরুত্বে কথা বলতে হবে। কারণ, পর্দা কোনো এক লিঙ্গের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিধান নয়; এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আত্মসংযম, শালীনতা ও পবিত্রতার শিক্ষা। যে সমাজ নারীর পর্দা নিয়ে সচেতন, কিন্তু পুরুষের দৃষ্টি-সংযম নিয়ে নীরব, সে সমাজ পর্দার প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে পারেনি।

  • বিপদের মুহূর্তে সর্বপ্রথম মুমিনের করণীয়

    বিপদের মুহূর্তে সর্বপ্রথম মুমিনের করণীয়

    মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির এক দীর্ঘ পথচলা। এই পথচলায় এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন কষ্টে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

    কিছু দুঃখ আছে, যা সবাইকে বলা যায় না; আবার কিছু ব্যথা এমন, যা ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন। এমন কঠিন সময়ে মুমিনের করণীয় হলো,

    ১. আল্লাহর কাছে দুঃখ নিবেদন করা : এমন সময় মানুষ এমন একজনকে খোঁজে, যার কাছে নির্ভয়ে মনের সব কথা বলা যায়। তাই একজন মুমিনের জন্য সেই আশ্রয় প্রথমে মানুষের কাছে নয়; আল্লাহর কাছে খুঁজতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনে আমরা এর অনন্য উদাহরণ দেখি।

    প্রিয় সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার গভীর বেদনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দুঃখ ও বেদনার কথা শুধু আল্লাহর কাছেই পেশ করছি।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৬)

    ২. কাউকে দোষারোপ না করে বিনয়াবনত হওয়া : দুঃখের সময় অনেক মানুষ অভিযোগে ডুবে যায়। কেউ ভাগ্যকে দোষারোপ করে, কেউ পরিস্থিতিকে, আবার কেউ মানুষকে। কিন্তু অভিযোগ হৃদয়ের ভার কমায় না; বরং হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

    ইসলাম অভিযোগের পরিবর্তে দোয়ার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি ইমানের পরিচয়। হজরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘদিন কঠিন রোগ ও পরীক্ষার মধ্যে থেকেও ধৈর্য হারাননি। তিনি বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো সর্বাধিক দয়ালু।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)

    এই সংক্ষিপ্ত দোয়ার মধ্যেই ছিল পূর্ণ আত্মসমর্পণ, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

    আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি ও সম্মান দান করেছিলেন।

    ৩. নির্জনে আল্লাহর স্মরণ করা : প্রতিটি মুমিনের জীবনে এমন কিছু সময় থাকা উচিত, যখন সে পৃথিবীর সব ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে শুধু তার রবের সঙ্গে কথা বলবে। রাতের নীরবতা, তাহাজ্জুদের সময়, ফরজ নামাজের পর কিংবা সিজদার মুহূর্ত—এসব সময় দোয়ার জন্য বিশেষ উপযোগী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদা অবস্থায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)

    ৪. আল্লাহর প্রতি দৃঢ়বিশ্বাষ রাখা : একজন প্রকৃত মুমিন জানেন, মহান আল্লাহ তার অন্তরের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস ও অশ্রুর খবর রাখেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের গোপন কথাও জানেন।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৩)

    এই বিশ্বাস মানুষের মনে আশা জাগায়; তাকে শক্তি দেয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

    ৫. আল্লাহকে আশ্রয় বানানো : মানুষের স্বভাব হলো, কষ্টে পড়লে মানুষের কাছে সান্ত্বনা খোঁজা। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার রবের ওপর আস্থা ও ভরসা। কোরআনে কারিমে এসেছে, ‘আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

    সারকথা, মানুষের জীবন নানা পরীক্ষায় পূর্ণ। তবে এই পরীক্ষার মাঝেই লুকিয়ে থাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ। তাই দুঃখ-কষ্টে অভিযোগ নয়; বরং ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণই হওয়া উচিত একজন মুমিনের প্রকৃত আশ্রয়।

  • স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার মোতোমাচি কারখানা (Toyota Motomachi Factory) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানাটি পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কারখানায় পৌঁছানোর পর টয়োটা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িতে ওঠার আমন্ত্রণ জানান। এসময় সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে গাড়িটিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা (Masahiko Moeda), টয়োটা সুশো করপোরেশনের মোবিলিটি বিভাগের সিইও শিগেরু হারাদা (Shigeru Harada) এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ (Shinichiro Otsuka) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা।

    ১৯৩৫ সালে তৈরি হয় টয়োডা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ টয়োডা মডেল এ১। আর এই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে তৈরি হয় টয়োডা মডেল এএ, যা টয়োটার প্রথম উৎপাদিত যাত্রীবাহী গাড়ি। বর্তমানে জাপানের টয়োটা সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে গাড়িটির প্রতিরূপ। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এখন জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে

    দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। হাওড়, বাওড়, নদীনালা এমনকি সমুদ্রেও মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে।

    আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ভালো গবেষণার ফলেই আজ আমরা মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সংকট উত্তরণে চলতি বছর থেকেই বড় ধরনের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

    মন্ত্রী এ সময় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাদ্য ব্যবহার থেকে বিরত থেকে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

    রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে পর্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় সরকার। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পেলে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

    বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড.মো: আমিরুল ইসলাম।

  • ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহু কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ?

    ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহু কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ?

    ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

    তবে বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে যদি নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে দেয়, তবু তাঁকে ও ইসরায়েলকে ঘিরে যেসব আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ চলছে, তা তাঁর সরকারের পতন সত্ত্বেও টিকে থাকবে।

    নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না বা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার মামলা থেমে যাবে না।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পদত্যাগ করলে বা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে নেতানিয়াহু সেই ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন, যা কয়েকটি দেশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করার বাহানা হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে তিনি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও বিদেশি জাতীয় আদালতগুলোয় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

    গাজায় অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা, হত্যা, নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

    গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণ বহরে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার ঘটনার জেরে নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তুরস্কের আদালতেও নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে বিচার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

    এরপর কী ঘটতে পারে

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কি বৈধ থাকবে?

    হ্যাঁ। পরোয়ানাটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি পদে বহাল থাকছেন কি না, তার ওপর এই অপরাধের বিচারকাজ নির্ভর করছে না।

    তবে বিচারকাজ কেবল তখনই শুরু হতে পারে, যদি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করা হয়।

    রোম সংবিধির ধারা ৫৮(৪) অনুসারে, আদালত অন্য কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকবে।

    আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য আদালত কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    তবে ইসরায়েল এখনো আদালতের এখতিয়ার নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে, যার মূল ভিত্তি হলো তারা আদালতের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’–এর সদস্য নয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে আইসিসির আপিল চেম্বার প্রাক্‌–বিচার চেম্বারকে ইসরায়েলের এ চ্যালেঞ্জটি পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেন। তবে বিচারকেরা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় পরোয়ানা স্থগিত রাখতে রাজি হননি।

    ইসরায়েলের দুটি আপিল এখনো বিচারাধীন।

    নেতানিয়াহু কি তাঁর দায়মুক্তি হারাবেন

    আইসিসি ও বিভিন্ন দেশের আদালতগুলোর ক্ষেত্রে দায়মুক্তির নিয়ম আলাদা।

    আইসিসির ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা নেতানিয়াহুকে কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।

    রোম সংবিধির ধারা ২৭–এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি পদমর্যাদা বিচারে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। আদালতের অবস্থান হলো, পদের সঙ্গে থাকা দায়মুক্তি বা ‘ইমিউনিটি’ কোনো আসামিকে তাঁর বিচারিক এখতিয়ার থেকে রক্ষা করে না কিংবা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ বাস্তবায়ন থেকে অব্যাহতি দেয় না।

    যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, সেসব দেশের নেতাদের ক্ষেত্রেও আদালত এই নীতি প্রয়োগ করেছেন।

    ২০১৯ সালে আইসিসির আপিল চেম্বার রায় দিয়েছিলেন, জর্ডানের দায়িত্ব ছিল সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল–বশিরকে গ্রেপ্তার করা, যদিও সুদান আইসিসির সদস্য ছিল না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গোলিয়া তার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে ২০২৪ সালেও বিচারকেরা পর্যবেক্ষণ দেন।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

    তবু কিছু সদস্যরাষ্ট্র যুক্তি দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত দায়মুক্তির ওপর ভিত্তি করে আইসিসির সদস্য নয়, এমন রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন নেতাকে গ্রেপ্তার করতে তারা বাধ্য নয়।

    মিডল ইস্ট আই আগেও ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য দুই ধরনের দায়মুক্তি স্বীকার করে, সেটা হচ্ছে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি। এটি একটি সীমিত গোষ্ঠীকে রক্ষা করে। অপরাধের ধরন যা–ই হোক না কেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে বিদেশের কোনো আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে তাঁরা সুরক্ষা পান। এটি সাময়িক ও তাঁরা পদত্যাগ করলে এটি শেষ হয়ে যায়।

    কার্যকর দায়মুক্তি, সরকারি ক্ষমতাবলে পরিচালিত কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং কর্মকর্তা পদ থেকে চলে গেলেও তা বহাল থাকে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের দায়মুক্তির ক্ষেত্রেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে বহু আগেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    নেতানিয়াহু পদত্যাগ করা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোগ করা ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন। তাঁর কাছে তখন শুধু কার্যকর দায়মুক্তিই অবশিষ্ট থাকবে।

    কোন কোন দেশ দায়মুক্তির দোহাই দিয়েছে

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্রান্স বলেছিল, আইসিসির বাইরের দেশগুলোর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যেসব দায়মুক্তি প্রযোজ্য, তা নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও খাটবে এবং গ্রেপ্তারের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার সময় এটি বিবেচনা করতে হবে। তবে দায়মুক্তি–বিষয়ক গবেষক ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানিও দায়মুক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, দায়মুক্তির বিষয়টিকে সম্মান জানাতে হবে।

    হাঙ্গেরি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেতানিয়াহুর সফরের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার না করার পক্ষে ধারা ৯৮–এর দায়মুক্তির যুক্তি উপস্থাপন করেছিল। পরবর্তী সময় আইসিসি রায় দেন, হাঙ্গেরি তার সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

    তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেও নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার নিশ্চিত হয়ে যাবে না। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই এবং তারা পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য সদস্যরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে।

    ইসরায়েলের পরবর্তী কোনো সরকার আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং তাঁকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

    বিদেশি আদালতে কি নেতানিয়াহুর বিচার হতে পারে

    একবার ক্ষমতা থেকে সরে গেলে নেতানিয়াহু তাঁর সেই ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন, যা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারপ্রধানকে বিদেশি জাতীয় কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে সুরক্ষা দেয়।

    বিশ্বের অনেক দেশ সর্বজনীন এখতিয়ারের অধীনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিধান রেখে থাকে। এটি তাদের আদালতকে দেশের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকলেও বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার সুযোগ দেয়।

    উদাহরণস্বরূপ, তুরস্ক ২০২৫ সালে গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ অবরোধের ঘটনায় নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভিরসহ বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

    ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারালে এ ধরনের মামলার জন্য বড় এক বাধা দূর হবে। তবে নেতানিয়াহু তখনো কার্যকর দায়মুক্তির (যা সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে করা কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত) সুযোগ পাবেন কি না, তা আদালতের প্রয়োগ করা আইনের ওপর নির্ভর করবে।

    সাবেক নেতারা অতীতেও এমন বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। চিলির অগাস্তো পিনোশে ১৯৯৮ সালে স্পেনের এক পরোয়ানায় লন্ডনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরের বছর হাউস অব লর্ডস রায় দেয়, নির্দিষ্ট কিছু নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পিনোশে দায়মুক্তি দাবি করতে পারেন না।

    বাশার আল–আসাদ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা বাতিল করে দেন। তবে আদালত জানিয়েছিলেন, তাঁর বিদায়ের পর নতুন পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে। আদালত এ–ও উল্লেখ করেন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের বিচারে কার্যকর দায়মুক্তি সাবেক নেতাদের কোনো সুরক্ষা দেয় না।

    নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক সফর তাঁর গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। তবে কিছু দেশ তাঁর উপস্থিতি ছাড়াই তদন্ত করতে এবং পরোয়ানা জারি করতে পারে।

    নেতানিয়াহুকে হেফাজতে নেওয়া বাস্তবিক এক চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কারণ, তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পারেন। এ ছাড়া ইসরায়েল রাষ্ট্রও তাঁকে হস্তান্তর করতে সম্মত না–ও হতে পারে।

    আইসিজের গণহত্যা মামলার কী হবে

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাটি করেছিল। সেই মামলা রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন এই মামলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

    সুতরাং প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে নেতানিয়াহু বিদায় নেওয়ার পরও তাঁর বক্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলো গণহত্যার অভিপ্রায়ের মূল প্রমাণ হিসেবেই বিচারে থেকে যাবে।

    ইসরায়েল ২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগের বিপরীতে তাদের পাল্টা যুক্তি দাখিল করেছে, যার মধ্যে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে।

    আদালত দক্ষিণ আফ্রিকাকে উত্তর দেওয়ার জন্য ২০২৭ পর্যন্ত এবং ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার জন্য ২০২৯ সালের ২২ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ওই মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে এখনো বহু বছর বাকি।

    নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার কী হবে

    প্রধানমন্ত্রী পদ হারালেও ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার শেষ হয়ে যাবে না।

    ২০২০ সাল থেকে তিনটি ভিন্ন মামলায় ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে। তবে তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

    নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিজের দোষ স্বীকার না করেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এপ্রিলে হারজগের কার্যালয় জানায়, ক্ষমার আবেদনে সাড়া দেওয়ার আগে দুই পক্ষকে আদালতের বাইরে কোনো সমঝোতায় আসার চেষ্টা করা উচিত।

    ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার না করা এবং রাজনীতি থেকে অবসর না নেওয়া পর্যন্ত হারজগ তাঁকে ক্ষমা করতে পারেন না।

  • ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলের অভিযোগ

    ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলের অভিযোগ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলে সুলাইমান খান এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতনের কারণে তাঁর বাবার জীবন চরম ঝুঁকিতে। পরিবার দাবি করছে, গত আগস্ট থেকে ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে চিকিৎসা নিতেও দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, তিনি আদালতের আদেশে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী।

    ইমরান খানের ছেলে বলেছেন, আগস্টের পর থেকে কেউ তাঁর বাবার কোনো খোঁজ পাননি। ওই সময় সাবেক এই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

    ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী যুক্তরাজ্যের ধনকুবের জেমাইমা গোল্ডস্মিথের ঘরে জন্ম নেওয়া সুলাইমান খান অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার জীবন বিপন্ন। এই দীর্ঘ কারাবাসের জন্য তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন।

    ৭৪ বছর বয়সী খান দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। তাঁর পরিবার বারবার কারাগারে তাঁর ওপর হওয়া আচরণ এবং তাঁর আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

    ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ককে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

    সুলাইমান খান বলেন, পরিবার ও তাঁর বাবার আইনজীবীরা কয়েক মাস ধরে তাঁর কাছ থেকে কোনো বার্তা পাচ্ছেন না।

    ইমরান খানের ছেলে বলেন, তাঁর বাবা আগেই সতর্ক করেছিলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মতো তাঁরও একই পরিণতি হতে পারে। ২০১৯ সালে বিচার চলাকালে মুরসি আদালতে মারা যান।

    সুলাইমান খান আরও লিখেছেন, ‘আগস্টের পর থেকে কেউ আমার বাবাকে দেখেননি বা তাঁর কাছ থেকে কিছু শোনেনি। আগস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাঁর ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। মিসর সরকার যেভাবে মুরসিকে হত্যা করেছিল, এই শাসকগোষ্ঠীও সেভাবে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে।’

    গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মুনির উপেক্ষা করছেন বলে সুলাইমান অভিযোগ করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীদের নিয়মিত দেখা করার অনুমতি দেওয়া হোক।

    সুলাইমান আরও যোগ করেন, এটা স্পষ্ট, তারা তাঁর বাবাকে হত্যার চেষ্টা করছে। কারণ, তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তারা তাঁকে ভয় পায়। যদি সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যায়, তবে দায় কার, তা নিয়ে কারও ভুল করা উচিত হবে না।’

    পাকিস্তানের সরকার নির্যাতন ও নির্জন কারাবাসের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    তথ্য মন্ত্রণালয় গত আগস্টে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ইমরান খানকে সরকারের কোনো আদেশে আটকে রাখা হয়নি; বরং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে সাজা ভোগকারী ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ বন্দী।

    পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর সুলাইমান খান ও তাঁর ভাই কাসিম খানকে তাঁদের বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালাতে পাকিস্তানে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদের মুখেই এসব অভিযোগ সামনে এল।

    পরিকল্পিত প্রতিবাদের আগেই গত সেপ্টেম্বরে ‘পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্স’-এর অধীনে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, গত সোমবার তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও ইমরান খান পাকিস্তানে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রতিবাদকারীরা ইমরান খানের মুক্তি, কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এবং তাঁর পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগের দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দিকে ‘লংমার্চ’-এর আয়োজন করেছিল।

    ১১ অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন।

    সরকার আফগানিস্তান সীমান্ত–সংলগ্ন ওই প্রদেশে সশস্ত্র জঙ্গিদের তৎপরতাকে জরুরি অবস্থার কারণ হিসেবে দেখায়। তবে পিটিআই এই পদক্ষেপকে ‘জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে একধরনের অভ্যুত্থান’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।

  • এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যার বিচার, অভিযুক্ত এমপিপুত্র মিন্টুর ফাঁসি এবং নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টু ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, এমপিপুত্র মিন্টুর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল থেমে থাকবে না। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজ ছাত্রদল প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে, তা ১০ মিনিটের জন্য হলেও।

    কর্মসূচিতে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল ইসলাম নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ান আলী, সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব কুইকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অবস্থান কর্মসূচি থেকে শাকিল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। অভিযোগ, প্রথমে তাকে গুলি করা হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

  • ইরানে  ট্রাম্প চাই যুদ্ধ, ভ্যান্সের শান্তি চেষ্টা  : নেপথ্যে কী?

    ইরানে ট্রাম্প চাই যুদ্ধ, ভ্যান্সের শান্তি চেষ্টা : নেপথ্যে কী?

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি দিয়েছেন। নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারো শুরুর শেষ মুহূর্তের এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আল জাজিরা (২৯ অক্টোবর) জানায়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভ্যান্সের চিঠিতে দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আলোচনার পথ খোঁজার কথা বলা হয়েছে। চিঠিটি ইরানের নেতারা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে নির্দিষ্ট কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত দেয়া হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কথা হয়েছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চিঠিতে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভ্যান্স নিজেই মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন। গত জুনে দুই দেশের আলোচনায়ও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রেজাইয়ের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন। ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনায় রাখতে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ইরান রাজি হলে আগামী সপ্তাহেই কাতার অথবা তুরস্কে বৈঠক হতে পারে।

    ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তেহরান ‘কূটনীতিকে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে’। বৃহস্পতিবার রেজাইয়ের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়ার কথা।

    আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, রেজাইকে চিঠি দেয়ার মধ্য দিয়ে তেহরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নিয়ে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

    ভ্যান্স কি ট্রাম্পকে থামাতে পারবেন?

    ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়ে ভ্যান্সের অনীহা ট্রাম্পের তুলনায় বেশি বলে মনে করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আগে তিনি আরো জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পক্ষে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়েও তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তবে এবার চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের নির্দেশে নেয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, ট্রাম্পই ভ্যান্সকে চিঠি পাঠাতে বলেছিলেন। পরে ট্রাম্প তা অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সাথে যোগাযোগের অনুমতি ভ্যান্সকে দিয়েছিলেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল ইরানকে ‘চিকিৎসাসামগ্রী ও বিভিন্ন জিনিস’ দিয়ে সহায়তা করা।

    আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর আলি ভায়েজের মতে, তেহরান ভ্যান্সকে এমন একজন হিসেবে দেখে, যিনি প্রেসিডেন্টের কাছে নিজের কথা পৌঁছাতে পারেন এবং ব্যর্থতার মূল্যও বোঝেন। তবে ভ্যান্সের মাধ্যমে যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য দূর করা সহজ নয়।

    সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুজবেহ পারসি ভ্যান্সকে ট্রাম্প প্রশাসনে ইরান বিষয়ে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো প্রভাব ভ্যান্সের কখনোই ছিল না।

    আজিজিও বলেছেন, ভ্যান্সের আপত্তি ও ভিন্নমত সত্ত্বেও এক বছরের কম সময়ে দুটি যুদ্ধ হয়েছে। তাই তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ ও সামরিক হুমকিকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখে দেখে। শেষ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পই নেন, আর তাঁকে বিশ্বাস করা কঠিন—এ বিষয়টি ইরানের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোকে কেন সতর্ক করছেন ট্রাম্প?

    ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার শিকার হলে আরো কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোও তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি ২১ অক্টোবর বলেন, ‘আমাদের কৌশল হলো, কোনো সীমারেখা না মানা।’

    এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা কি আসন্ন?

    অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। আলি ভায়েজের মতে, হামলার ঝুঁকি ‘বিপজ্জনকভাবে বেশি’। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংযমের অবসান ঘটাতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

    ভায়েজ বলেন, ‘সামরিক প্রস্তুতি চলছে, আর কূটনীতির জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে।’ নির্বাচনের পর ট্রাম্পের ক্ষমতা কমে যাবে—এমন ধারণাও ভুল হতে পারে। বরং তিনি আরো বড় ঝুঁকি নিতে পারেন।

    রুজবেহ পারসির আশঙ্কা, নতুন সামরিক অভিযান ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রমাণের চাপে রয়েছে। ফলে এবারের সামরিক সংঘাত আরো বড় হবে, ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতও বাড়বে।’

  • তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

    এরপর স্বজনেরা তাহসিফের মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসার উদ্দেশে রওনা হন।

    এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মরদেহের পেট ফোলা ছিল বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ সময় তাহসিফের খালাতো ভাই জহির হাসান মরদেহটি শনাক্ত করেন।

    তবে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

  • কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড

    কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

    প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।

    হানিফ ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

    গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

    এর আগে, ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

    ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই বছরের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

    মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • গাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬

    গাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬

    ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৩৮ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭৪ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৮৬৭ জন।

  • ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ

    ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ

    যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারি প্রোগ্রাম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এবারের ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কিনা, তা জানতে অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম সংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান, মূলত তাদের জন্যই এই ডাইভারসিটি ভিসা লটারি প্রোগ্রাম।

    ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে। এবার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে সারা দেশের উৎসাহী আবেদনকারীদের নজর এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তালিকার দিকে।

    ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

    ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, কেবল সেইসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ নামে পরিচিত।

    ডিভি লটারিতে সাধারণত আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নির্ধারিত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

    মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনসুক ওহতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবিলম্বে এই লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী, ডিভি লটারির যাবতীয় যোগ্যতার শর্তাবলি ও নির্দেশিকা ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

    এরপর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। আবেদনের প্রক্রিয়া শেষে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।

    ২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের শরণাপন্ন হয়। যার ভিত্তিতে আদালত দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারির এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতখানি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

  • তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তিনি নিহত তাহসিফ সাউরির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এভাবে একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশবাসীর মনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’

    তিনি অভিযোগ করেন, তাহসিফ সাউরির নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা ও গাফিলতি রয়েছে।

    অথচ এসব সংস্থা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার পর এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।

    তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং তার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ’

  • আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি বেন গাভিরের

    আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি বেন গাভিরের

    ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দেশটির আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

    চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি ও কয়েকজন মন্ত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির বলেন, কাতারের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরব দলগুলোর প্রধানদের গ্রেফতারের নির্দেশ ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে ‘আজ সকালেই’ দিতে হবে।

    জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    বেন-গভির কয়েকজন মন্ত্রীর তোলা অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে এ দাবি জানান। ওই মন্ত্রীদের অভিযোগ, আরব দলগুলো কাতারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। তবে তারাও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

    নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

  • নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে ইবাদত কবুল হয়: ছারছীনা পীর

    নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে ইবাদত কবুল হয়: ছারছীনা পীর

    ইবাদতের প্রকৃত মূল্য ও কবুলিয়ত নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ হযরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)। তিনি বলেছেন, নিয়ত যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না হয়, তবে ইবাদত থেকে প্রকৃত শিক্ষা ও আত্মিক উপকারিতা অর্জন ব্যাহত হয়।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মিরকুন্ডী দারুসসুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া কমপ্লেক্স ও ডা. ইয়াসির হাসান শেখ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় তাঁর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ইছালে ছওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিরকুন্ডী কবরস্থানসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    ছারছীনা দরবার শরীফের পীর সাহেব বলেন, যেকোনো নেক আমলের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ইবাদতে লোকদেখানো মনোভাব, দুনিয়াবি নাম-যশের আকাঙ্ক্ষা কিংবা অহংকার প্রবেশ করলে বাহ্যিকভাবে কষ্ট স্বীকার করেও ইবাদতের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না।

    তিনি বলেন, ইবাদতের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠন। নিয়তের বিশুদ্ধতা না থাকলে মানুষ এসব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

    বর্তমান সময়ে মানুষ আমলের বাহ্যিক রূপের প্রতি যতটা মনোযোগী, অন্তরের বিশুদ্ধতার প্রতি ততটা যত্নবান নয় বলে মন্তব্য করেন ছারছীনা পীর। তিনি বলেন, হাসাদ বা হিংসা, কিবর বা অহংকার এবং রিয়া বা লোকদেখানো মনোভাব থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখতে না পারলে ইবাদত কেবল প্রথাগত অনুশীলনে পরিণত হয়। এতে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যেকোনো ভালো কাজ শুরু করার আগে নিয়ত বিশুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

    বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ মাহফিলে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্চুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক এবং পীর সাহেবের সফরসঙ্গী মাওলানা মো. মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদসহ অন্যরা।

    মাহফিল শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত ও ঐক্য এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ছারছীনা পীর সাহেব।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে  সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে-বাজুস

    স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে-বাজুস

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা।

    স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী মজুরি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটি আরো বলেছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে অলঙ্কার বদলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। তবে অলঙ্কার বদল বা কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

    এর আগে, গতকাল বুধবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১২৮ বার সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

  • মানিক পশারীর দাফন ও সনদ যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

    মানিক পশারীর দাফন ও সনদ যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

    পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন ও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন ও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের নির্দেশনায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটিকে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, মানিক পশারীর মৃত্যু এবং তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাতিলের বিষয়ে তারা কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় সচেতন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো মুক্তিযোদ্ধা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে কিংবা কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর হয়ে ব্যবহৃত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে।

    মানিক পশারী ২০০৯ সালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ সাক্ষী ছিলেন। চলতি মাসের ২৪ অক্টোবর মানিক পশারীর মৃত্যুর পর পিরোজপুরে তার গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেন জামায়াত নেতারা।

  • মোদির কেন্দ্রে দুই আসনেই হার বিজেপির, শক্ত ঘাঁটি নাগপুরেও কংগ্রেসের জয়

    মোদির কেন্দ্রে দুই আসনেই হার বিজেপির, শক্ত ঘাঁটি নাগপুরেও কংগ্রেসের জয়

    ভারতের চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সামগ্রিক সাফল্যের মধ্যেও কয়েকটি আসনে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে দুটি আসনেই বিজেপির পরাজয়ের খবর এসেছে।

    অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বিধান পরিষদের একটি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তর নাগপুরে কংগ্রেসের এই জয়কে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের মোট ২৮টি আসনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কংগ্রেসের সামগ্রিক ফল আশানুরূপ হয়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি অধিকাংশ আসনে পরাজিত হয়েছে। তবে নাগপুরের আসনে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়ানজারির জয় দলটির জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

    নাগপুর দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও আরএসএসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় কংগ্রেসের জয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

    কর্নাটকে চার আসনেই হার কংগ্রেসের

    কর্নাটকে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিধান পরিষদ নির্বাচনে চারটি আসনেই পরাজিত হয়েছে কংগ্রেস। এর মধ্যে দলটির দখলে থাকা একটি আসনও রয়েছে। ফলে রাজ্যে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এবং নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    বিহারে শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় বড় পরিবর্তন

    বিহারের নির্বাচনি ফলেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাটনা, সারণ, দরভাঙ্গা ও তিরহুতের চারটি শিক্ষক নির্বাচনি এলাকার আসনে বর্তমান সদস্যরা পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, পাটনা, তিরহুত ও কোসি স্নাতক নির্বাচনি এলাকার আসনগুলোতে জয় ধরে রেখেছেন বর্তমান সদস্যরা।

    অর্থাৎ, শিক্ষক নির্বাচনি এলাকাগুলোতে প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তন ঘটলেও স্নাতক নির্বাচনি এলাকার তিনটি আসনে পুরোনো প্রতিনিধিরাই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

    পাটনা শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী চিকিৎসক সঞ্জীব কুমার বিজেপির নবল কিশোর যাদবকে পরাজিত করেছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে আসনটি নবল কিশোর যাদবের দখলে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল হারানো বিজেপির জন্য এ পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, দরভাঙ্গা শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় কংগ্রেসের মদন মোহন ঝা জন সুরাজের প্রার্থী সুরেশ প্রসাদ রায়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ ফল বিহারের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও প্রভাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

    সামগ্রিক ফলে এগিয়ে এনডিএ, তবে রয়েছে ভিন্ন চিত্রও

    চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সামগ্রিক সাফল্যের পাশাপাশি রাজ্যভেদে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতাও সামনে এসেছে। নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, বিহারে বিজেপির দীর্ঘদিনের দখলে থাকা আসন হারানো এবং কর্নাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের চারটি আসনেই পরাজয়—সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফল একক কোনো রাজনৈতিক প্রবণতাকে তুলে ধরছে না।

    তবে বিধান পরিষদের নির্বাচনকে সরাসরি লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ সীমিত। শিক্ষক ও স্নাতক নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের ধরন সাধারণ নির্বাচনের ভোটারদের থেকে আলাদা। ফলে এসব নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করলেও এর ভিত্তিতে আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় না।

    সব মিলিয়ে, চার রাজ্যের নির্বাচনে এনডিএর সামগ্রিক সাফল্যের মধ্যেও নাগপুরে কংগ্রেসের জয় এবং বিহার ও কর্নাটকে বিভিন্ন দলের পরাজয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি কেন্দ্র বারাণসীতে বিজেপির দুটি আসন হারানোর খবর সত্য হলে তা দলটির জন্য বাড়তি রাজনৈতিক চাপের কারণ হতে পারে।

  • অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়, বেড়েছে শিল্পের

    অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়, বেড়েছে শিল্পের

    স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। তবে অর্থনীতির এই কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি সরকারের রাজস্ব আহরণ। অর্থনীতির আকার বাড়লেও কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৬ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও করজালের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ‘অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’য় অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে জিডিপিতে একক খাত হিসেবে কৃষির অবদান ৪৯.৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১২ শতাংশের কাছাকাছি। সে হিসাবে পাঁচ দশকে জিডিপিতে কৃষির অবদান ৭৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে একই সময়ে শিল্পখাতের অবদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশের ব্যাল্যান্স শিট (১৯৭২-২০২৫) : পাঁচ দশকে অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সাবেক সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

    প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৪৯.৮ শতাংশ। ১৯৮০ সালে তা কমে ৪৪.২ শতাংশে, ২০০০ সালে ২৪.১ শতাংশে এবং ২০২০ সালে ১২.৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে কৃষির অবদান দেখানো হয়েছে ১১.৪২ শতাংশ।

    একই সময়ে বেড়েছে শিল্প খাতের অবদান । ১৯৭২ সালে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৯ শতাংশ। ২০০০ সালে তা বেড়ে ২৫.২ শতাংশে এবং ২০২৫ সালে ৩৪.০৩ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদন শিল্পের অবদানও বেড়েছে। ১৯৭২ সালে উৎপাদন শিল্পের অবদান ছিল ৩.১ শতাংশ, ২০২১ সালে তা ২১.৮৯ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে ৩৭.৬৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

    এশিয়াটিক সোসাইটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কৃষির জিডিপি অংশ কমে এলেও খাতটির গুরুত্ব কমেনি। দেশের মোট ভূমির বড় অংশ কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কৃষকের জন্য সহজ শর্তে মূলধন, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

    অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ২০২৫ সালের জন্য কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৬ শতাংশ দেখানো হয়েছে। বিপরীতে, অনেক দেশে জিডিপির অন্তত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ কর হিসেবে আহরণ করা হয়। এর কারণ করজালের সীমাবদ্ধতা, কর ফাঁকি, ব্যাপক কর অব্যাহতি, রাজস্ব আদায়ে জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি। এছাড়া অটোমেশনে ধীরগতি এবং আদায় করা কর যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়লেও সব যোগ্য করদাতা ও প্রযোজ্য খাত করের আওতায় না আসায় রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারায়ও ওঠানামা দেখা গেছে উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক এই চেয়ারম্যান জানান, ১৯৭২-১৯৮০ সময়ে বাংলাদেশের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৯৬ শতাংশ। ১৯৮১-১৯৯০ দশকে তা বেড়ে ৩.৮৪ শতাংশ, ১৯৯১-২০০০ দশকে ৪.৭৯ শতাংশ, ২০০১-২০১০ দশকে ৫.৫৮ শতাংশ এবং ২০১১-২০২০ দশকে ৬.৪৩ শতাংশে পৌঁছায়। তবে করোনা মহামারির পর ২০২১ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকেও প্রবৃদ্ধির পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা ৩.৪৯ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। একই সময়ে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ২,১৩৮ ডলার থেকে বেড়ে ২,৯১১ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল হয়েছে।

    বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শুধু জিডিপি বা মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি দিয়ে বিচার না করে আয়বণ্টন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং জীবনযাত্রার মানের দিকেও নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়বৈষম্য বেশি হলে প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না; ফলে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    প্রবন্ধের উপস্থাপক ড. আবদুল মজিদ তার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই অগ্রগতির জন্য উৎপাদনশীল খাতের বিকাশের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, আর্থিক খাতের দুর্বলতা কমানো এবং নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। অর্থনীতির আকার বাড়ার সুফল উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজে লাগাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

  • বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা

    বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা

    বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। ইরান যুদ্ধ, অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    একই সময়ে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন, এল নিনোর তীব্র প্রভাব এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্যের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে এ দাম আরও ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, একই সময়ে পণ্যের বাজারে একাধিক বড় ধরনের অভিঘাত তৈরি হয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

    এল নিনোর প্রভাবে কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি

    এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা, যার প্রভাবে চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা ও অতিরিক্ত তাপের কারণে কৃষি উৎপাদনকারীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে ফসলের উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে।

    জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাত আরও তীব্র না হলে ২০২৭ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির গতি কমে আসতে পারে।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ আরও বেড়েছে।

    বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাব অত্যন্ত তীব্র হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে হামলা বাড়লে কিংবা ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে, যা ২০২২ সালের মূল্যস্তরকেও ছাড়িয়ে যাবে।

    দরিদ্র দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা

    ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ঋণের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। মহামারির সময় বাদ দিলে চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে তেলের সরবরাহে সবচেয়ে বড় পতন।

    তবে চলতি বছর বিশ্বে তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে তেলের দাম আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার চাপ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারি ও ১৯৮০ সালের তেলসংকটের পর তেলের চাহিদা হ্রাসের ক্ষেত্রে এটি হবে তৃতীয় বৃহত্তম পতন।

    বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, খাদ্য, জ্বালানি ও সামগ্রিক পণ্যমূল্য নিয়ে সংস্থাটির বর্তমান পূর্বাভাস গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

  • ‘বিজেপি আর সাহস পাবে না’ রাহুল

    ‘বিজেপি আর সাহস পাবে না’ রাহুল

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

    এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

    পুলিশের বাধা কিংবা লাঠিচার্জের ভয় উপেক্ষা করে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিজেপি আর এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাবে না।

    জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিরোধীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববারের সমাবেশে ছাত্র ও তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে বিরোধী জোট।

    এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, এ সমাবেশ গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট চুরি বন্ধ এবং সংবিধান রক্ষার জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে যারা অসন্তুষ্ট, তাদের সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    রাহুলের ভাষ্য, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি তার আহ্বান, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য পাশে রেখে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে শামিল হতে হবে।

    পুলিশের বাধা কিংবা লাঠিচার্জের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি আর এসব করার সাহস পাবে না। সংবিধান রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কংগ্রেস নেতা।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। বিক্ষোভকারীদের আটক করা এবং আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলেছে তারা।

    এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিরোধী দলের একাধিক নেতা ও নেত্রী আটক হন। তাদের মধ্যে ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

    তবে ওই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী কিংবা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে দেখা যায়নি। একই দাবিতে আন্দোলন চললেও কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে সেই দূরত্ব কমার ইঙ্গিত মিলেছে। দুই বিরোধী নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের পর তাদের পাশে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।

    এরপর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র রোববারের সমাবেশেও সমর্থন জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলটি। এতে রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিতে দলটির নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    তবে সমাবেশে দলটির নেতারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে দলটির নেতা অভিজিৎ দীপও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

    জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট বিরোধী দল পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে এলেও এবার তাদের কর্মসূচিতে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধীর ছাত্র সংগঠনগুলোকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বানও বিরোধী শিবিরের তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    এখন রোববারের সমাবেশে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ কতটা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • জীবনে বরকত লাভের কিছু  আমল

    জীবনে বরকত লাভের কিছু আমল

    আরবি ‘বরকত’ শব্দের অর্থ প্রবৃদ্ধি, প্রাচুর্য, স্থায়ী কল্যাণ ও আল্লাহর অনুগ্রহ। তবে বরকত মানেই শুধু ধন-সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া নয়। বরং অল্পতেই তৃপ্তি পাওয়া, সীমিত সময়ে বেশি কল্যাণকর কাজ করতে পারা এবং জীবনে স্থায়ী প্রশান্তি অনুভব করাও বরকতের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    ইসলামে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে কল্যাণময় করে তুলতে বরকতের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন ১০টি আমল রয়েছে, যেগুলো জীবনে বরকত লাভের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

    ১. ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন করা

    জীবনে বরকত লাভের অন্যতম ভিত্তি হলো ইমান ও তাকওয়া। আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলা এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে মানুষ তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। পবিত্র কোরআনের সুরা আরাফের ৯৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনলে ও তাকওয়া অবলম্বন করলে তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকত উন্মুক্ত করে দেওয়া হতো।

    ২. নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও অনুসরণ করা

    পবিত্র কোরআন মানুষের জন্য হেদায়াত ও কল্যাণের উৎস। শুধু তিলাওয়াত নয়, এর শিক্ষা বোঝা এবং দৈনন্দিন জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। সুরা আনআমের ১৫৫ নম্বর আয়াতে কোরআনকে বরকতময় কিতাব হিসেবে উল্লেখ করে এর অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত কোরআন পাঠ ও তার শিক্ষা চর্চা পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

    ৩. দিনের শুরুতে কর্মতৎপর হওয়া

    দিনের প্রারম্ভিক সময়কে কাজে লাগানো বরকত লাভের আরেকটি মাধ্যম। অলসতা পরিহার করে ভোরে দিনের কাজ শুরু করলে সময়ের সদ্ব্যবহার ও কর্মদক্ষতা বাড়তে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের দিনের শুরুর সময়ে বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। হাদিসটি সুনানে আবু দাউদে (হাদিস: ২৬০৬) বর্ণিত হয়েছে।

    ৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

    পিতা-মাতা, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখাকে জীবিকা বৃদ্ধি ও আয়ু দীর্ঘ হওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। সহিহ বুখারির ৫৯৮৬ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

    ৫. হালাল উপার্জন ও ব্যবসায় সততা বজায় রাখা

    জীবনে বরকত লাভের জন্য উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম মেনে চলা এবং সততা বজায় রাখা জরুরি। ব্যবসায় পণ্যের গুণাগুণ ও ত্রুটি সম্পর্কে সত্য তথ্য দেওয়া ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আস্থা তৈরি করে। সহিহ বুখারির ২০৭৯ নম্বর হাদিসে ক্রয়-বিক্রয়ে সত্য বলা এবং পণ্যের ত্রুটি প্রকাশ করার সঙ্গে বরকতের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে অসৎ উপার্জন মানুষের নৈতিকতা ও মানসিক প্রশান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    ৬. তওবা ও ইস্তিগফার করা

    মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তাই নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সংশোধনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে ইস্তিগফারের সঙ্গে বৃষ্টি, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়।

    ৭. দান-সদকার অভ্যাস গড়ে তোলা

    দান-সদকা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেমন সামাজিক কল্যাণ বয়ে আনে, তেমনি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও একটি মাধ্যম। সুরা বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করা এবং সদকাকে বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান করা এবং তা আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ৮. আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা

    জীবনে ছোট-বড় যেকোনো প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা বরকত লাভের অন্যতম উপায়। কৃতজ্ঞতা মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখে এবং প্রাপ্ত নিয়ামতের মূল্য উপলব্ধি করতে শেখায়। সুরা ইব্রাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি তার নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন।

    ৯. একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করা

    পরিবারের সদস্য কিংবা অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে খাবার গ্রহণ ইসলামী আদবের অংশ। একসঙ্গে খাওয়া পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়ায়। সুনানে ইবনে মাজাহর ৩২৮৭ নম্বর হাদিসে একত্রে আহার করা এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করার নির্দেশনা এসেছে। এভাবে খাবার গ্রহণে বরকত লাভের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

    ১০. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা

    জীবনের প্রতিটি কাজে যথাসাধ্য চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং বৈধ উপায়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। ইসলামী শিক্ষায় এই আস্থা মানুষের অন্তরে ধৈর্য, সাহস ও প্রশান্তি জোগায়।

    বরকতময় জীবনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক আমল

    বরকত শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সময়ের সঠিক ব্যবহার, হালাল জীবিকা, পারিবারিক সম্প্রীতি, মানসিক প্রশান্তি ও কল্যাণকর কাজের মধ্যেও এর প্রকাশ ঘটে। ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন, কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, দান-সদকা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো আমলগুলো নিয়মিত জীবনে ধারণ করার মাধ্যমে একজন মানুষ বরকতময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকায় ফেরার ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে তার যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর তাকে বহনকারী বিমান টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল।

    তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

    এ ছাড়া বৈঠক করেন জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

    এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

    সফরের শেষ ভাগে টোকিওতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

  • কোরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা ও ফজিলত

    কোরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা ও ফজিলত

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন পবিত্র কোরআন উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে তার পাঠকারীর জন্য সম্মান প্রার্থনা করবে। কোরআন বলবে, ‘হে আমার রব! তাকে সম্মানিত করুন।’ তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরানো হবে। এরপর কোরআন আবার বলবে, ‘হে আমার রব! তাকে আরও সম্মানিত করুন।’ তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরানো হবে। অতঃপর কোরআন বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।’ তখন আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন।

    এরপর ওই ব্যক্তিকে বলা হবে, ‘তুমি কোরআন পড়তে থাকো এবং মর্যাদায় উন্নীত হতে থাকো।’ এভাবে কোরআনের প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১৫)

    অন্য এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরআন পাঠকারী, হাফেজ ও কোরআন অনুযায়ী আমলকারীকে কিয়ামতের দিন বলা হবে, ‘কোরআন পড়তে থাকো এবং জান্নাতের মর্যাদায় আরোহণ করতে থাকো। দুনিয়ায় যেভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে কোরআন তিলাওয়াত করতে, সেভাবেই পড়ো। কারণ, তোমার অবস্থান হবে সেই আয়াতের কাছে, যেখানে তোমার তিলাওয়াত শেষ হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৬৬; তিরমিজি, হাদিস: ২৯১৪)

    জান্নাতে কোরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সম্পর্কে হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরআন তিলাওয়াতকারী জান্নাতে প্রবেশ করার পর তাকে বলা হবে, ‘কোরআন পড়ো এবং জান্নাতের মর্যাদায় উন্নীত হতে থাকো।’ তখন সে কোরআন তিলাওয়াত করবে এবং প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার মর্যাদা এক ধাপ করে বৃদ্ধি পাবে। এভাবে সে তার মুখস্থ করা শেষ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১৩৬০; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৭৮০)

    কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি তা নিয়মিত চর্চা করা এবং মুখস্থ আয়াতগুলো ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কোরআন শেখার পর নিয়মিত তিলাওয়াত করেন না, ফলে একসময় শেখা আয়াত ভুলে যান। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআনের প্রতি যত্নশীল হওয়ার এবং নিয়মিত তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোরআনের প্রতি যত্নবান হও। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, বাঁধন থেকে উট যেভাবে দ্রুত বেরিয়ে যায়, তার চেয়েও দ্রুত কোরআন মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে।’ অর্থাৎ নিয়মিত চর্চা না করলে কোরআন মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৩৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮০)

    তাই কোরআন শেখা, নিয়মিত তিলাওয়াত করা, মুখস্থ আয়াতের চর্চা বজায় রাখা এবং কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক বজায় রাখলে দুনিয়ায় যেমন এর শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, তেমনি আখিরাতেও এর মর্যাদা ও ফজিলত লাভের আশা করা যায়।

  • জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী , জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

    জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী , জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

    বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফয়সল বলেন, ‘ এইমাত্র ভোট দিলাম। এখনই পরিবেশ নিয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েদারটা একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

    রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

  • সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ে শতভাগ আশাবাদী দেলাওয়ার হোসেন

    সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ে শতভাগ আশাবাদী দেলাওয়ার হোসেন

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছেন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন দেলাওয়ার হোসেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, সবাই যেন ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সাহসের সঙ্গে ভোট দেন। পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে আগামী দিনের স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়তে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    পরিচয়পত্রে ছবি না থাকায় উদ্বেগ

    ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোট কেবল শুরু হয়েছে। তাই এখনই পরিবেশ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। আরও কিছু সময় গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

    তবে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার বিষয়টি তার নজরে এসেছে বলে জানান তিনি। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গলায় থাকা পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই। সেখানে তিনি শুনেছেন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রেও ছবি নেই। ছবি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। অন্য কেউ তার পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখতে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।

    সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক হলেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

    তিনি বলেন, আগের দিন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আজ অন্তত জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশা করছেন। সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি তার এই প্রত্যাশা রয়েছে।

    তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে দলীয় সরকারের অধীনে ভবিষ্যতের স্থানীয় নির্বাচনসহ অন্য নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এতে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন।

    বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

    বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ঘটনার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তিনি বলেন, গতকাল রাজাগাঁও ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে গভীর রাতে বাইরে বের করেন। পরে তারাই ওই কর্মীকে ধরে ভিডিও করেন। কিন্তু তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    দেলাওয়ার হোসেনের ভাষ্য, নিজেদের দলের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে ভোট চাওয়ার অভিনয় করানো, পরে তাকে ধরে টিকটকের মতো ভিডিও তৈরি করে আনন্দ-উল্লাস করার ঘটনা বিস্ময়কর। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে জনগণের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা তৈরি হবে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

    শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি জায়গায় তার দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে জানাবেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান দেলাওয়ার হোসেন। সে সময় জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাত মাসের মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। ফলে তার সামনে আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আগের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী তাকে ভালো ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তার সামনে সময় আছে এবং সেটিই ছিল তার নিজের শেষ নির্বাচন। এ কারণে এবার ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ তাকেই ভোট দেবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    নির্বাচন থেকে মাঝপথে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এবং বিজয় অর্জনের লক্ষ্যেই নির্বাচনে নেমেছেন।

    তবে ভোটের পরিবেশের ওপর তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, মাগুরা, শেরপুর বা বগুড়ার মতো নির্বাচন করার চেষ্টা হলে—যেখানে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে পুরো নির্বাচন দখলে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়—তখন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    অন্যদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের ফল মেনে নিতে হবে। তবে অনিয়ম ও কারচুপি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

    তিনি বলেন, সারা দেশে এবার একটিই নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখছে। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের ওপর আস্থা রাখতে চান।

  • বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    ঘটনার পেছনে মূল ইন্ধন কার ছিল, লাশ বাড়িতে না নিয়ে কেন ইউএনও অফিস বা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মানিক পশারীর লাশ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপরে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    তাদের দাবি, গত শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে আসার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং তারা দফায় দফায় লাশ দাফনে বাধা দেন। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম নাঈম বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং পাড়েরহাট বাজারে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

    অপরদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তারা জানাজা বা দাফনে কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর মরহুম নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর জুলুমের প্রতিবাদ হিসেবে মিথ্যা সাক্ষীর গেজেটভুক্তি নিয়ে ফুঁসে উঠে সাধারণ জনতা।

    সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, জনরোষ ও দাফনে বাধার নেপথ্য কারণ কী ছিল, পশারী আদৌ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কী না এসব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতেই বুধবার ভোরে পিরোজপুর প্রতিনিধিকে নিয়ে এ প্রতিবেদক পৌঁছান সদর উপজেলার শঙ্করপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। কথা হয় মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। পাশাপাশি কথা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি ও জামায়াত নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। তবে সংবেদনশীল এ ইস্যুর গভীরে যেতে প্রশাসনের অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

    জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান।

    ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মানিক পশারী আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

    মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া ও গেজেটভুক্তি নিয়ে এলাকায় রয়েছে তীব্র বিতর্ক। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক গতকাল বুধবার আমার দেশকে জানান, তিনি ৪০ বছর আগের নির্বাচিত কমান্ডার থাকাকালে মানিকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০১৭ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হওয়ার আট বছর পর মানিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।

    তবে ২০১৭ সালের তালিকার হালনাগাদের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বর্তমানে একটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রম সমাপ্তির পর যে নতুন গেজেট হবে, সেটা হবে চূড়ান্ত।

    এখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ বাদ পড়ে থাকলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আবার যদি কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকে, সে বাদ যাবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি যাচাই করে দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালের কাছে মানিক পশারী নিজেই স্বীকার করছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। ২০১১ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি; তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আউয়ালের (সাইদুর রহমান) দেওয়া একটি ডিও লেটারের (আধাসরকারিপত্র) মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; মূলত আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্রতিদান হিসেবেই তাকে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল।

    গার্ড অব অনারে জনরোষ

    ২৪ অক্টোবর দুপুরে মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এক অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে গার্ড অব অনারে বাধা দেন।

    মানিকের মেয়ে-জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় মৃত্যুর পর দুপুর ১২টায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ বা চা-পাতা ছাড়াই লাশ রাখা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দাফনের কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় লাশ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    নিজ গ্রামে দাফনে তীব্র বাধা

    পুলিশ লাইনস থেকে লাশ শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মানিকের মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে আল্লামা সাঈদীর ওপর জুলুম করা হয়েছিল এমন আবেগ ও ক্ষোভ থেকে স্থানীয় জনগণ তার জন্য খুঁড়ে রাখা কবর মাটি ও বাঁশ দিয়ে ভরাট করে দেয়।

    পাড়েরহাট বাজারে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মঈনের নেতৃত্বে পিরোজপুরে মানিককে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    রাতের আঁধারে দাফন সম্পন্ন ও গ্রামপুলিশের বয়ান

    গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়ে তিনি মানিক পশারীর বোনদের পান এবং তারা ও স্থানীয় দুই ব্যক্তি মিলে কবর খনন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই সময় নারীরা মাটি সরাচ্ছিলেন মাত্র। পরে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে জানাজায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নিজ এলাকায় তার জানাজাও হয়নি।

    পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান

    ঘটনার সময় খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন জানিয়ে মানিকের বোন হেনা পশারী জানান, তার ভাই ওই মামলার বিষয়ে কখনো কিছু জানাননি। তবে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। কিন্তু তিনি সে বক্তব্য অস্বীকার করেন। তবে তার আগের বক্তব্যের ভিডিওচিত্র সাংবিদিকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    ভাগনে আজিজুল জানান, দাফনের জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কবর তৈরি করে তারা খাবার খেতে গেলে তার বাবা ফোন করে জানান, লোকজন আসছে; ফলে ভয়ে তারা আর সেখানে যাননি।

    শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ইন্ধন প্রসঙ্গে বক্তব্য

    আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী গতকাল বুধবার বলেন, মানিক পশারী ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধ করেননি। তাহলে তিনি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন? তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবে তিনি ডিও লেটার নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং ১০ বছর ধরে জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদেই সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেখানে জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরাই দাফনের কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

    জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জহিরুল হক ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা লাশ দাফনে কোনো বাধা দেননি। তাদের আপত্তি ছিল মানিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে দাফনে বাধা দেওয়ার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

    পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপের এক গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র করে লাশটি ইউএনও অফিস ও পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছিল। আমি চাই, সরকারি পর্যায়ে প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক লাশ কীভাবে সদরে বা ইউএনওর কাছে এলো এবং এর পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল।

    থমথমে জনপদ

    সরেজমিনে চিথলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মানিকের বাড়ি এখন তালাবদ্ধ ও নির্জন। গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান, প্রতিবেশী সাফিয়া বেগম এবং আরিফ জানান, এলাকার সার্বিক পরিবেশ থমথমে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অজানা আতঙ্কে কথা বলতে চায় না কেউই।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগন বলছেন, পিরোজপুরের ঘটনাটি কেবল একটি দাফনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাময়িক উত্তেজনা নয়; বরং এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তার বিপরীতে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জনক্ষোভের এক জটিল প্রতিফলন।

    তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

    মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট দিলেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা

    ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট দিলেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

    সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এর কিছু সময় পর শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।

    ভোট প্রদান শেষে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

    অপরদিকে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো শঙ্কা নেই। আবহাওয়া জনিত কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশা রাখছি।’

    এদিকে বিএনপি-জামায়াত ব্যতীত অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে দুই প্রার্থী খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা না হওয়ায় তারা ভোটা দিতে পারবেন না। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম তার নিজ কেন্দ্র বড়গাওয়ে ভোট দিয়েছেন।

    ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।

  • ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একসাথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

    নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

    এর আগে বুধবারই নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে পৌঁছে দেয়া হয়।

    জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নেতানিয়াহু

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নেতানিয়াহু

    ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৮। আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।

    এর ফলে, আরব দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় আসার কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা নেই।

    আইজেনকোটের জোট প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়ায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এই পদে থাকতে পারেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তত্ত্ববধায়ক সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।

    বুধবার ভোরে নিজ দল লিকুদের সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পুনরায় চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নির্বাচনি ফলাফলের প্রশংসা করে দাবি করেন, তার সমর্থন এতে ভূমিকা রেখেছে।

    অন্যদিকে, আইজেনকোট সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ায় তার পূর্ণ রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তিনি দেশটির নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাবে ইসরাইলের আর্থিক বাজারেও চাপ দেখা গেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা শেকেলের দর প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে দাঁড়ায়। তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল ইসরাইলের ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থি রাজনীতির প্রভাব আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম নির্বাচন। গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ছিল নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

    নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিরোধী জোটের সরকার গঠনের জন্য তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যেতে অনাগ্রহী।

  • মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কর্মীপ্রতি সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ হতে পারে—এমন প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ শুরু করেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী। এতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের খরচ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা প্রয়োজন। তা না হলে এজেন্সিগুলো ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, আগের নির্ধারিত ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    গত ১৫ অক্টোবর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও আসে। তবে কর্মীপ্রতি মোট খরচ, বিভিন্ন ধাপের ফি এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।

    ব্যয় নিয়ে এজেন্সিগুলোর দাবি

    শ্রমশক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত আগের অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। ২০২২ সালেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এবারও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহে ব্যয় হতো

    ২-৩ হাজার রিঙ্গিত। এখন তা বেড়ে ৮-১০ হাজার রিঙ্গিত হয়েছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর হিসাবে এই ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কর্মীপ্রতি খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

    তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মোট অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ছিল পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি, কল্যাণ ফি, বিমা বা ইন্স্যুরেন্স ফি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্তরে দালাল ও এজেন্সির সিন্ডিকেটের জন্য ওই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের খরচ দাঁড়িয়েছিল ৫-৬ লাখ টাকা। অথচ নেপালের নাগরিকদের খরচ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ফিলিপাইন নাগরিকদের খরচ হয় পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-এজেন্সির তালিকাভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। আরো পাসপোর্ট সংগ্রহ চলছে। তার দাবি, আগ্রহীদের অন্তত সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত না হওয়ায় এই অঙ্ক আরো বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদেরও অর্থ দিতে হয়। ফলে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কম খরচে কর্মী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তার আশঙ্কা, বর্তমান প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মীদের জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত বলেও মনে করেন তিনি।

    কর্মীদের দুশ্চিন্তা

    এদিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের আলমাছ আলী গ্রামে মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আড়াই বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত লাখ টাকার বেশি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

    ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা মুন্না মিয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবর দেখে পরিচিত একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মুন্না বলেন, এবার খরচ বেশি হবে জানিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

    সরকার নির্ধারণ করবে নতুন ব্যয়

    মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

    তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে তাদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং অথবা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়। তবে কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের নির্ধারিত ব্যয় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও একটি এজেন্সির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের সুযোগ ছিল। এরপরও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো যায়নি। এজেন্সি মালিকরা যেন কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয় এজন্য নতুন করে আরেকটি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।

    ওইপি ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে পুরো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত।

    তার মতে, মূল এজেন্সি ও সাব-এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ওইপি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    এখনই যারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাসপোর্ট জমা দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা যাচাই এবং প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না এবং এটা কেউ মানেনি। সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করা হবে।

    আগেও বেড়েছিল ব্যয়

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর ২০২২ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।

    ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়। সে সময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার চালুর পর প্রথমে ২৫টি এবং পরে ১০১টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তখনও কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছায়।

  • ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও এখনো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি সামষ্টিক অর্থনীতি। জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে আমদানির চাপ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উচ্চ। বিনিয়োগে কোনো সুখবর নেই। রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি। কর্মসংস্থানেও উন্নতি নেই।

    ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করে অর্থ বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আহ্বান করেছে অর্থ বিভাগ। সভায় অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনু বিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক সভাপতিত্ব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারের ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর বিবেচনা করে জুলাই-মার্চ মেয়াদি ৯ মাসের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব করা হবে।

    বিবিএসের তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এলেও তা এখনো আট শতাংশের ওপরে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশে আটকে আছে। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির ধারা শ্লথ। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ নেমেছে নিম্নতম স্তরে। ফলে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমন বাস্তবতায় বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগামী দিনে কোন খাতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজনÑসে বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

    বাড়ছে জ্বালানি আমদানির চাপ

    গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয়ের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫.১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে বাড়তি ডলারের চাহিদা, রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় এখন সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

    সবশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩২ শতাংশে উঠেছে। আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ।

    প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা

    অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা প্রবৃদ্ধিতে। বিবিএসের সবশেষ সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি এখনো আগের দশকের ছয় শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধির এই ধারা শ্লথ।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৫০ শতাংশ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক অর্থবছরে প্রায় আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

    তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। আইএমএফ চলতি সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আর্থিক, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপের কথা বলেছে। বিশ্বব্যাংকও অর্থনীতিতে ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের চাপ ও দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    বিনিয়োগে স্থবিরতা

    অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাগুলোর একটি এখন বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ। এর আগে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    কর্মসংস্থানে বাড়ছে চাপ

    অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির আকার সাত কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। আর প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর প্রায় ১৩-১৪ লাখ নতুন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
    ২৮ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট:
    জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে তাদের কর্মসূচিতে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিহত হন। ওই সময়ের সংঘর্ষের পর মরদেহের ওপর উল্লাসের দৃশ্য গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। তাদের অভিযোগ, মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার উদ্যোগ থাকলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
    প্রতিবছর ২৮ অক্টোবর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ঘটনাটি স্মরণ করেন এবং বিচারের দাবি জানান।

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি
    আলোচনা সভায় সাদিক কায়েম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ওই দিনের নৃশংসতার অভিযোগই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট কারণ।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পেছনে বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন ডাকসু ভিপি।

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

  • ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মৃত নারীদের মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার ও ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন ‘আলাপ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি দিপু সিকদার। এই হুমকির ঘটনার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ওই সাংবাদিক।

    জিডিতে সাংবাদিক দিপু সিকদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে মর্গের ভেতরে চলা নারকীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার পর থেকেই তাকে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, বরং মর্গের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

    হুমকির মূল হোতা হিসেবে মর্গের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী নূরে আলম শান্তর নাম উল্লেখ করেছেন দিপু সিকদার। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সাবেক মর্গ সহকারী শান্ত ফোন করে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন। এমনকি একপর্যায়ে ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে দিপুর ফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠান শান্ত।

    এর আগে গত ১৮ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘আলাপ’-এর মূল ওয়েবসাইট ও অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে ‘ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?’ শিরোনামে ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ওপর চালানো চরম বিকৃত যৌনাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদনটির বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি অভিযুক্ত দুজনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লাল এবং অন্যজন চাকরিচ্যুত মর্গ সহকারী নূরে আলম শান্ত। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তৎপরতা শুরু হয়।

    এদিকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক দিপু সিকদারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা, গোপন অনিয়ম উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য হাতিয়ার। পেশাগত দায়িত্ব পালনের দায়ে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি বা হয়রানির শিকার হতে হওয়া মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    সংগঠনটির সদস্য দিপু সিকদারের তোলা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ক্র্যাব। পাশাপাশি অভিযোগকারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

  • ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবর কিংবা চিতা। মৃত মানুষকে সব সমাজেই সম্মানের সাথে বিদায় দেওয়া হয়। এটাই সভ্যতার রীতি।

    কিন্তু মৃত্যুর পরও যদি একটা মরদেহ কারও যৌন লালসার শিকার হয়, তাহলে মরদেহের নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ‘আলাপ’এর অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা অস্বস্তিকর, ভয়াবহ এবং বিকৃত মানসিকতার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

    বিষয়টার নাম নেক্রোফিলিয়া। বাংলায় বলা হয় মৃতকামিতা, মানে মৃতদেহের প্রতি যৌন আকর্ষণ। একজন নারীর মরদেহ মর্গে পড়ে আছে আর এক বা একাধিক লোক তার সাথে যৌনাচার করছে!

    ব্যাপারটা ভাবতেই রাগে শরীর জ্বলে ওঠে, গা ঘিনঘিন করে। কিন্তু এটা সম্ভব, এবং বাংলাদেশেই ঘটছে। এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে, গ্রেফতারও হয়েছে ।

    পৃথিবীর এক কুখ্যাত অপরাধী

    বাংলাদেশের ঘটনায় যাওয়ার আগে একজন কুখ্যাত অপরাধীর কথা জেনে নিই, যিনি নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

    তার নাম জেফরি ডাহমার, বিশ্ব তাকে চেনে ‘মিলওয়াকি ক্যানিবাল’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে তিনি ১৭ জন তরুণ ও কিশোরকে হত্যা করেন।

    জেফরির অপরাধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলো একটি ছিলো তীব্র নেক্রোফিলিয়া। হত্যা করেই ক্ষান্ত হতেন না, মৃতদেহের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন আর লাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করে নিজের বাসাতেই রেখে দিতেন।

    জেফরির নেক্রোফিলিয়া পেছনে ছিলো চরম একাকিত্ব, ছেড়ে যাওয়ার ভয় ও নিয়ন্ত্রণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তিনি এমন সঙ্গী খুঁজতেন যে তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না, তর্ক করবে না এবং পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জীবিত কারো পক্ষে এভাবে নিজেকে সঁপে দেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি হত্যা করতেন আর মৃতদেহের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ খাটাতেন।

    পদ্ধতিটা ছিল এমন: প্রথমে ভুক্তভোগীদেরকে অচেতন করতেন, পানীয়ের সাথে উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিতেন, তারপর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতেন। তারপর দিনের পর দিন মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম করতেন। লাশ যাতে পচে না যায়, সেজন্য কখনো কখনো ফ্রিজে রেখে দিতেন।

    শেষ পর্যন্ত পুলিশ জেফরিকে ধরে জেলে পাঠায়। ১৯৯৪ সালে কারাগারের ভেতরেই এক কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদি তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

    জেফরির মতো আরো বহু মানুষ আছে পৃথিবীতে। কেউ ধরা পড়লে কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর অন্য ঘটনার আড়ালে চাপা পড়ে।

    ঢাকার এক মধ্যরাত

    ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাস। ঢাকা উত্তর সিটির একটি বাসায় মধ্যরাতে পুলিশ এসে হাজির। তাদের কাছে খবর ছিলো, ওই বাসায় থাকা এক নারীর কোন খোঁজ মিলছে না। পুলিশের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে ফেলা হলো ঘরের দরজা। ভেতরে পাওয়া গেল সেই নারীর মৃতদেহ।

    তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিলো সেটি এই গল্পের বিষয় নয়। গল্প হলো লাশ মর্গে নেবার পর কী ঘটেছিলো।

    সে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। খুব জরুরী বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছাড়া রাতে মর্গে ময়নাতদন্ত হয় না। তাই ময়নাতদন্ত না করে মরদেহটি রেখে দেয়া হয় হিমঘরে।

    এরপর নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন এলো। তাতে বলা হলো, সেই নারীর মৃত্যু ছিলো স্বাভাবিক, মানে হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা নয়। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো।

    কিন্তু একই সাথে মরদেহটি নিয়ে হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে কিছু সন্দেহ দেখা দেয়। অনুসন্ধানের মূল পর্বের শুরু এখান থেকেই।

    সন্দেহের কারণে মরদেহের ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় কিছু নমুনা পাঠানো হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি’র রাসায়নিক পরীক্ষাগারে। আর সেখানেই ধরা পড়ে, ওই নারীর মরদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি।

    মৃতদেহে শুক্রাণু এলো কিভাবে? প্রশ্নটি হাসপাতালের ফরেনসিক চিকিৎসকদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মরদেহটি ছিল হাসপাতালের মর্গে। তাহলে মর্গে কী করে এই ঘটনা ঘটলো?

    আর এটি একবারের ঘটনা নয়। এর কয়েকমাস আগেও এমন ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছিলো।

    একই মর্গে আরেকটি ঘটনা

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকাতে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তারও মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। যতদূর জানা যায়, সেদিন ময়নাতদন্ত শেষ হয়নি বলে লাশ মর্গেই রাখা ছিলো।

    ময়নাতদন্তের সময় ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পরে। সিআইডি’র ল্যাব পরীক্ষায় ওই নারীর মরদেহে একাধিক পুরুষের শুক্রাণু মেলে। ওই প্রতিবেদনের কপি আলাপ-এর কাছে রয়েছে।

    শুধু এই দুটো নয়, আরো তিনটি ঘটনার নথি বিশ্লেষণ করে, ফরেনসিক চিকিৎসক আর সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে কথা বলে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এ ধরনের যৌনচারের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    একবার নিজেকে এসব মৃত নারীদের স্বজনদের জায়গায় ভাবুন। ক্ষোভ, রাগ আর কষ্টের সীমা থাকবে না, অথচ কিছু করার নেই। সরকারি হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীর সাথে কেউ এমন কিছু করবে, এ আপনার কল্পনারও বাইরে।

    ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখ কপালে

    সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোরও একটি। এখানকার ঘটনাগুলো থেকে দেশের সব মর্গে মৃতদেহের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে আসে। এসব ঘটনা যখন প্রকাশিত হয় তখন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাও বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন চিকিৎসক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানান, গত এক বছরে ময়নতদন্তের সময় বেশ কয়জন নারীর মরদেহে তারা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি পেয়েছেন। তাদের মতে, সবকিছু বিবেচনা করলে এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে এই মর্গেই লাশের সঙ্গে যৌনাচার হয়েছে।

    এমনকি নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত, কাগজপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনাও তাদের নজরে এসেছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগ আর কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। এ কারণে কেউ কেউ তাদের ওপর ক্ষিপ্তও হয়েছে ।

    অভিযোগ রয়েছে, আগের মর্গ প্রধানের লোকজন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ঘুরিয়ে ‍দিতেও পরোক্ষভাবে চাপ দিয়েছে। একাধিক চিকিৎসক এটাও বলেছেন, ফরেনসিক বিভাগের দুজন মেডিক্যাল অফিসার মর্গের ওই সিন্ডিকেটকে সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছিলেন।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ যা বলছে

    মৃতকামিতার এসব ঘটনায় কলেজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কারণ, একই ঘটনা আগেও ঘটেছে এখানে।

    লাশকাটা ঘরে দিনে একাধিক মরদেহের পোস্টমর্টেম হয়। তবে মরদেহগুলো হাসপাতালে আসা মাত্রই পোস্টমর্টেম করা হয় না। মর্গে পৌঁছানোর পর একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হয়, পোস্টমর্টেমও তত দ্রুত হয়। দেরি হলে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। পরিচয়হীন, বেওয়ারিশ বা নানা জটিলতার কারণে কিছু মরদেহ দিনের পর দিন হিমঘরে পড়ে থাকে। আর মৃতকামিতার এই অপরাধগুলো ঘটে মর্গের ভেতরেই।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. অধ্যাপক মো. আঈনুল ইসলাম খান বলেন, ফরেনসিক চিকিৎসকদের কাছ থেকে মরদেহের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিলো। এরপর তদন্ত শুরু করে একটি প্রতিনিধিদল।

    প্রথমেই তদন্তকারীরা খোঁজ করেন সিসিটিভি ফুটেজের। কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময়ের কোনো ফুটেজ নেই, কারণ কেননা অপরাধীরা আগেই ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলেছিলো।

    প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও নেক্রোফিলিয়ার ঘটনাগুলো আরো সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে সুক্ষ করে দেখা হচ্ছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এই গুরুতর অভিযোগে মর্গ সহকারী শান্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার আগে মর্গ ইনচার্জ যতনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিরপুরে ডেন্টাল কলেজে ফিরিয়ে নিয়েছে। তার সময়েই মর্গ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান শান্ত। তদন্তে উঠে এসেছে যতন ও শান্ত দায়িত্বে থাকার সময়ই এসব ঘটনা ঘটেছে।

    অধ্যক্ষ আইনুল নিজেই অভিযোগ করে বলেন, “এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।”

    ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অন্তত পাঁচ জন চিকিৎসক অনেক দিন ধরেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, এই মর্গ ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।

    সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা. নাশাত জাবীন বলেন, ময়নাতদন্তকারীদের অভিযোগগুলো তারা গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। একটি দুটি নয়, বেশ কয়েকটি নারী মরদেহের সঙ্গে মৃত্যু-পরবর্তী যৌনাচার বা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা স্পষ্ট হতে থাকে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা কর্তৃপক্ষের আড়ালে করা হচ্ছিল।

    অনুসন্ধানে যা পাওয়া গিয়েছে

    মর্গের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে বাইরের ক্যামেরা থেকে মর্গ সহকারী শান্তর কিছু স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার আগে শান্ত মর্গে ঢুকেছেন এবং বের হয়েছেন। হাসপাতালের প্রাথমিক অনুসন্ধান দল এটি নিশ্চিত করেছে, আর তাই তাকে প্রধান সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছে ।

    ডা. নাশাত জানান, তাকে ও মর্গের প্রধানকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে তারা শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    শান্ত সাবেক মর্গ প্রধান যতন লালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনার ওই রাতে শান্তই মর্গে ছিলেন।

    অনুসন্ধান দলের একজন বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই রাতে ওই সময়ে মর্গে নতুন কোনো মরদেহ রিসিভ করা হয়নি।

    খোঁজখবর নিয়ে দলের সন্দেহ আরও দুজনের ওপর পড়ে। একজন তখনকার মর্গ প্রধান, আরেকজন লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ির এক চালক। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মর্গ ও ফরেনসিক বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত ও নথি খোয়া গেছে।

    একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করার পরপরই শান্ত তা টের পেয়ে যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগের মর্গ প্রধানকে সরিয়ে নতুন একজনকে ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ করে। কিন্তু শান্ত গং নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে, দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও বলে।

    যতন লাল ও শান্ত যা বলছেন

    সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লালের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নেক্রোফিলিয়া ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে।

    যতন লাল দাবি করেন, তার দায়িত্বকালে মর্গে যা ঘটেছে বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। শান্তকে মর্গের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো তার সময়েই ।

    মূল সন্দেহভাজন শান্তকে পাওয়া যায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। তিনি দাবি করেন, যতন লাল ছুটিতে থাকায় তিনি ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন। মর্গের বাইরের ছবি নিয়ে তার ব্যাখ্যা, লাশ আসলে তা গ্রহণ করতেই ভিতর বাইরে আসা-যাওয়া করেছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সেখানে রাতে “ভৈৗতিক কিছু থাকায়” এক জায়গায় থাকা সম্ভব হয় না। মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারে জড়িত নন বলেও দাবি করেন শান্ত।

    আগের ঘটনা: ২০১৯ সাল

    এবার একটু পেছনে যাওয়া যাক। তাহলে যতন লাল সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।

    ২০১৯ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সহকারী ছিলেন মুন্না ভগত। একাধিক মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। মুন্না ভগত হলেন যতন লালের ভাগ্নে আর তার নিয়োগও হয়েছিলো তার হাত ধরেই।

    ওই ঘটনায় যতন লালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার করা হয় তাকে।কারাভোগ করে এখন জামিনে রয়েছেন যতন লাল। কিন্তু ভাগ্নে মুন্না ভগত এখনো কারাগারে।

    ২০১৯ সালের ওই ঘটনাই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা, যা নিয়ে তখন বেশ আলোড়ন হয়েছিল।

    সিন্ডিকেট আতঙ্কে বর্তমান মর্গ ইনচার্জ

    জানু লাল ওরফে জীবন এখন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের প্রধান। আগেও তিনি একই কাজ করতেন। তিনিও মনে করেব এই হাসপাতালে মরদেহের সঙ্গে যৌনাচার করা হয়, এমন একটি চক্র থাকতে পারে।

    জীবন জানান ওই সিন্ডিকেটের লোকজন ষড়যন্ত্র করে আগে তাকে এই হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো। তার অভিযোগ এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলো যতন লাল নিজেই। এর কারণ হিসাবে জীবন জানান, সেসময় নারীদের মরদেহ গ্রহণের পর এক রকম থাকতো,আর সকালে সেই দেহটি অন্যরকম লাগতো। প্রায়ই এমনটা হওয়ায় সন্দেহ হয় মর্গ ইনচার্জ যতন লালকে। তিনি আরো জানান, তার কথায় কান দিতেন না যতন লাল।

    “আমাকে ফোন ছাড়াও রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত মানুষ এখান থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন,” বলে জানান যতন লাল।

    অন্যান্য মর্গেও একই ঘটনা

    সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গেও মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গেও যৌনাচারের অভিযোগে লাশ বাহক আবু সাঈদকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলো আবু সাঈদ।

    সিআইডি’র মিডিয়া বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন খান জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। দায়িত্বে থাকার সময় এই বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

    তবে ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় খুব বেশি তথ্য দিতে চায়নি সিআইডি।

    বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন ও আইনে কী আছে

    মনরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, নেক্রোফিলিয়া একটি ভয়াবহ রোগ। যার চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনো তেমন একটা নেই।

    এসব রোগীর ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নেক্রোফিলিয়া সংক্রান্ত সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা শাস্তির বিধান নেই। সুনির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এনিয়ে দেশের আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দণ্ডবিধি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন আইন না করেও ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সাজা দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

    আর নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা বাংলাদেশে কয়েকবার সামনে আসায় নারী মরদেহের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি মনে করেন, এমন ভয়ংকর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে অভিযুক্তদের আইনের কাঠামোর মধ্যে এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন,নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সুস্পষ্ট আইন না থাকায় নারী মৃতদেহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    মৃত্যুর পর কেউ আর প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ, এবং আমাদের ।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠছে, তাতে সেই নিরাপত্তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালের ঘটনা থেকে শুরু, সাম্প্রতিক অভিযোগ, বারবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসা, এগুলো শুধু কোনো একজনের বিকৃত আচরণের ব্যাপার না। এর সঙ্গে মর্গের ব্যবস্থাপনা, নজরদারি, জবাবদিহি, তদন্ত আর শাস্তির প্রশ্নও জড়িয়ে আছে।

    অভিযোগগুলোর সত্যি কি-না তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মরদেহ নিরাপদ রাখার মতো একটি কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের জন্য আইনি কাঠামো স্পষ্ট করা দরকার, আর অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

    সুত্র: আলাপ

  • মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তারা মেলার গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন।

    এ সময় এক শিক্ষার্থী বলেন, মেলা সরিয়ে নেয়ার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এজন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমরা আমাদের মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-9518689112563830&output=html&h=250&slotname=3120000199&adk=2264674136&adf=3209489870&pi=t.ma~as.3120000199&abgtt=6&w=300&lmt=1793206770&format=300×250&url=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2Farticle%2F54168&aiof=14&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&dt=1793206769541&bpp=1&bdt=340&idt=401&shv=r20261023&mjsv=m202610230101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D413c482519040d99%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MaLJGahh4ySNVcJvPHzpXn2-O6ONA&gpic=UID%3D000013ba94c506d4%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MbDxcWIBHke4fyyQAmpCJNGFEpASw&eo_id_str=ID%3D3dd5361830b7eef5%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DAA-Afja65-ni8rXeMlKtp3mtVd-s&prev_fmts=0x0%2C970x90%2C781x280&nras=1&correlator=5443120514693&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=7&u_h=954&u_w=1696&u_ah=901&u_aw=1696&u_cd=24&u_sd=1.132&adx=606&ady=1689&biw=1696&bih=807&scr_x=0&scr_y=0&eid=95400481%2C95404667%2C95405492%2C95405779%2C95406274%2C95390277&oid=2&pvsid=5729544798180353&tmod=2049258818&uas=0&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2F&fc=1920&brdim=-8%2C-8%2C-8%2C-8%2C1696%2C0%2C1723%2C923%2C1696%2C807&vis=1&rsz=%7C%7CeEbr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=0&bc=31&bz=1.02&ifi=4&uci=a!4&btvi=2&fsb=1&dtd=582

    এ বিষয়ে মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলব।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রূপান্তরের সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

    বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
    ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো বুয়েট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ মেলার আয়োজন হয়। একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট), জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।এবারের উৎসব থেকে ১২-দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। ঘোষণাপত্রে একটি স্বতন্ত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরশক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স উন্নয়ন, স্মার্ট অবকাঠামো ও ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রিন ফাইন্যান্স সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। একইসাথে, দেশিয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল শিল্পখাতগুলোয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি, ঘোষণাপত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এতে একটি ন্যায়সংগত, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে; যেখানে নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, এতে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, স্বাধীন পরিবেশগত ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ, শ্রমিকদের সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ দিন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলায় দেশিয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণা প্রদর্শন করেন। প্রযুক্তি মেলায় কর্পোরেট খাতের প্রতিষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হয়।উৎসবের শেষ দিনের প্রথম অংশে জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্যারালাল সংলাপ ও প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত। এসব অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এসব অভিজ্ঞতা থেকে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ বিকশিত হতে পারে সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়।তরুণদের নেতৃত্বে ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক সংলাপ আয়োজন করা হয়।
    শায়লা শবনম রিচির সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি কমাতে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    আগামী ১২ মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবুজায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি বলে দাবি জানান তারা। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিকল্প নেই উল্লেখ করে আলোচকরা এ খাতে প্রযুক্তি ও উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান বক্তারা।

    এছাড়া, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’ শীর্ষক আরও একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানে। একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে এই প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়াটিভের (জিজিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী প্রমুখ।

    প্যানেল আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কার্যকর ট্যারিফ ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, গবেষণায় অর্থায়ন, দেশিয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    এছাড়াও, শেষদিনে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আরও তিনটি আলাদা প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করতে দেশিয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, গবেষক, শিক্ষক, তরুণ উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যৌথ সমন্বয়ের আহ্বান করা হয়। একইসাথে, সরকারি নীতিমালা, বিশেষ সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের মতো বিষয়গুলো কীভাবে জাস্ট এনার্জির আলোকে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানে ন্যায়সংগত জ্বালানি ভবিষ্যতের গল্প তুলে ধরেন কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। এই উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির সুযোগ, সম্ভাবনা ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

    শেষ দিনের এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্ভাবক, তরুণ নেতৃত্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার লাভ করে ফেলাইট প্রকল্প। দ্বিতীয় কার্বন ক্রেডিট বিডি প্রকল্প এবং তৃতীয় হিসেবে পুরস্কার পায় আইইউবি ফর্মুলা-ই প্রকল্প। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়। এছাড়াও, সেরা তিনটি পোস্টার হিসেবে আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টার গৃহীত হয়।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং স্টান্ডিং কমিটি অন মিনিস্ট্রি অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারপার্সন জাহরাত আদিব চৌধুরী। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির (এএআইবিএস) বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) ও জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।

    দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস), বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), গ্রিনারি এনার্জি সল্যুশন লিমিটেড, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

  • স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতার শোক

    স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতার শোক

    স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

    পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, এই কঠিন সময়ে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং স্পেনের জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমি আশা করি, আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং চলমান উদ্ধার ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত সবার কাছে যথাসম্ভব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই শোকাবহ মুহূর্তে বাংলাদেশ স্পেনের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

  • ১১ অঞ্চলে রাতেই ঝড়ের আশঙ্কা, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

    ১১ অঞ্চলে রাতেই ঝড়ের আশঙ্কা, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

    ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

    বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ০৯ টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিনও দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১ নভেম্বর) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ায় তাপমাত্রা কমতে পারে।

  • বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।

    দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।

    এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

    এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।

  • আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে  স্কুল-মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা; শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে স্কুল-মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা; শিক্ষামন্ত্রী

    মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব। ’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব। ’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য। ’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি।

    টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।

    প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।

    এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে।

    এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।

    যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।

  • রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই বহুল আলোচিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। বিপরীতে এ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সংসদে নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আসনটিতে দুই দলেরই সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হওয়ায় এই উপনির্বাচন রূপ নিয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে।দুই দলের টানটান উত্তেজনার মাঝে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটদান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যালটে নিজেদের রায় জানাবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে—বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন নাকি জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন, এখন তারই অপেক্ষায় পুরো জনপদ।

  • স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে উৎসাহিত করতে ঢাকায় সচেতনতামূলক সেমিনার ও স্ক্রিনিং কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্তন ক্যানসার বিষয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। পরে আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

    অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ফোরামের অন্যতম সমন্বয়কারী ইকবাল মাহমুদ ও চিকিৎসক সাদিয়া হাবিব অর্পি।

    আলোচনা শেষে ফোরামের দুজন নারী চিকিৎসক আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সেবা দেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নয়জন মারা গেছেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮২ জন ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৬৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৮১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩১৩ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১৯৪ জন, রাজশাহীতে ২১৭ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন এবং রংপুরে ১১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

  • আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে বেলা ১১টায় মহাখালীতে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানকে সদস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১ শাখা) ইমতিয়াজ হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

    বুধবার মারধরের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ জাকি তার কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে বৈঠক করছেন, এমন সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে মারধর শুরু করেন এবং ধাক্কা দিতে দিতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা আগন্তুকদের বাধা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক জাকি আবার গিয়ে তার চেয়ারে বসেন।

    এ ব্যাপারে আইইডিসিআর পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না, মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি।

    সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে পরিচালক নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ড্যাবের কয়েকজন এসে পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

    মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই আমাদের লোক। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং এ ধরনের কোনো আচরণ সমর্থন করি না। যদি কেউ ড্যাবের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তবে আমরা কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। ড্যাব মহাসচিব আরও নিশ্চিত করেন, ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি ড্যাবের সদস্য বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।

    অন্যদিকে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুজনই আমাদের সংগঠনের সদস্য। তবে অভিযুক্ত ছেলেটি আইইডিসিআরের একটি প্রজেক্টে কাজ করত, সম্প্রতি তার চাকরি চলে গেছে। এটা নাকি অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে এ সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে আগের সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেন, তা-ও দেখার বিষয়ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, বুধবার সকালে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহিদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ বিষয়ে ডা. জাহিদকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাব সভাপতি ও মহাসচিব বরাবর উপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে।উল্লেখ, আইইডিসিআর হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, যা রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা জারির দায়িত্ব পালন করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।

  • স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত পুনর্বাসনসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের উদ্যোগে এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা ২০২৬’-এ সহায়তা দেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

    কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সেবার মানোন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ড. ভ্যালেরি এ টেলর এবং জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে আজাদ। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।

    কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিআরপি, কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, আইচি হেলথকেয়ার গ্রুপ এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী অধিবেশন, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন

    কর্মশালাভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশনের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক বা গুরুতর স্নায়বিক আঘাতের পর অনেক রোগীর চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর অবশিষ্ট কার্যক্ষমতা কাজে লাগানো, স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সেবার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনসেবায় সমন্বিত উদ্যোগকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আধুনিক ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের পথ সুগম হতে পারে।

  • সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দফাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আসাদুল্লাহ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রতিনিধি আফিল উদ্দিন দফাদার, মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক ওহিদুল ইসলাম বকুল,মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ওয়াজেদ আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, শফিউদ্দিন দেওয়ান, আজিম উদ্দিন দেওয়ান,সামছুল হুদা দফাদার প্রমুখ।

    মাদ্রাসার এই প্রধান গেটটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। সিংহঝুলি গ্রামের দুই জন বিশিষ্ট ব্যাক্তি শফিউদ্দিন দেওয়ান ও আনোয়ার হোসেন দেওয়ান এই নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছেন ।

    উল্লেখ্য তাদের পূর্বপুরুষরা এই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠা করতে ভুমিকা রেখেছিলেন।

  • ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।

    একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

    আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব শুধু একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়কেই নিতে হবে।’

    ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগেই প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।’

    নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। অন্যথায় কমিশন নিজেদের স্বাধীন ও শক্তিশালী দাবি করলেও তা প্রমাণিত হবে না।’

    বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘বৈঠকের পরিবেশ ও আশ্বাস ইতিবাচক হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল না থাকলে এসব উদ্যোগকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে আগামীকালের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল দেখেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নেবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।’

  • আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে এভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব।’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’

    তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য।’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’

    বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের সংকট এড়াতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় আরও দেড় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চারটি সারের চালানের ক্রয় মূল্য হবে আনুমানিক প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে এ সারের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

    আর চলতি অর্থবছরে চাহিদা সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন। এর বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও ৩ লাখ টন সার প্রয়োজন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে জুমে ভার্চুয়ালি সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবে কানাডা থেকে ৮০ হাজার এবং রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার কথা বলা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের ২ লাখ ৫০ হাজার টন সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মোট সাড়ে ৮ লাখ টন সার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের (সিসিসি) কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে দুই চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চার চালানে আমদানি করা হবে দেড় লাখ টন।

    কানাডা থেকে সপ্তম চালানের ৪০ হাজার টন সার ১ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ চালানের সার ডিসেম্বরে আনার পরিকল্পনা থাকলেও মজুত ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এ চালানের প্রতি টন সারের প্রস্তাবিত দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার। এতে ৪০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    অষ্টম চালানে কানাডা থেকে আরও ৪০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে নবম ও দশম চালানে ৩৫ হাজার টন করে ৭০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টন সার আমদানিতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সারের চাহিদা বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও অতিরিক্ত ৩ লাখ টন রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সে হিসাবে মোট প্রয়োজন ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টন।
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে এমওপি সারের চাহিদা দাঁড়াবে ৫ লাখ ৬ হাজার টন। আমদানির অনুমোদন, জাহাজে পরিবহন ও দেশের ভেতরে সরবরাহ করতে ৮০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে কৃষকের চাহিদা মেটানো এবং নিরাপত্তা মজুত বজায় রাখতে দ্রুত সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    আজকের সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার এক কোটি বস্তা কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে (ই-জিপি) ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে এসব বস্তা কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    ঢাকায় মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের শেষদিকে সবাই অপেক্ষায় ছিলো সাদমানের সেঞ্চুরির জন্য। তিন অঙ্ক থেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে আবার শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের।

    আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সাধারণ ছুটির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি এলাকার তফসিলি ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব শাখা ও উপশাখা বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

    আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

    অধ্যাপক কাজী আহমেদ ছবি: সংগৃহীত

    অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

    আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

    আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

    বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

    ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’

    কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’

    জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

    কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

  • নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    চলমান অর্থনীতির শ্লথগতি থেকে উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে ফের লুটপাট ও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা জরুরি।

    বুধবার ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

    ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির শ্লথ গতি এবং ব্যাংক ও শিল্প খাতের তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে অনেকেই নিয়মকানুন শিথিল করার কথা বলছেন। অতীতে ব্যাংক খাতে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল করার কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধারণ পরিস্থিতিতে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে হয়। তাই সংকট উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও তা যেন নতুন করে লুটপাট ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়াই বেসরকারি খাতে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ফলে ভুল পথে যাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে উদারীকরণ এবং বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা নানা বিতর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অতীতে কী কী ভুল করা হয়েছিল এবং সেসবের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অতীতের সংকট, সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রথমবার ঋণখেলাপির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার তা নষ্ট হয়েছে ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে, যা আরও বেশি মারাত্মক।

    ব্যাংকিং খাতের উত্থান-পতনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ের দশকে সংস্কারের পর বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই যত্রতত্র নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ায় এ খাতের আবারও অবনতি ঘটে।

    তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু আইন বা বিধিবিধান দিয়ে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং, করপোরেট ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায়ভাবে সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির হৃদ্‌পিণ্ডতুল্য এই আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে মুক্ত রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

    বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই সরকার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (অথবা প্রাতিষ্ঠানিক পদবি অনুযায়ী সঠিক পদ) জ্যঁ পেম।

In English

English edition · Older English stories