BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • ‘আইজিপি সাহেব, পুলিশকে বিতর্কিত করলেন, সরকারকেও বিব্রত করলেন’

    ‘আইজিপি সাহেব, পুলিশকে বিতর্কিত করলেন, সরকারকেও বিব্রত করলেন’

    ক্রসফায়ার’ বিষয়ক মন্তব্যের মাধ্যমে আইজিপি নিজেকে ও পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করেছেন এবং সরকার ও জনগণকে বিব্রত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

    মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি আইজিপির তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, ‘আইজিপি সাহেব!!!! কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেললেন!!! নিজে এবং সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করলেন। সরকার এবং জনগণকেও বিব্রত করলেন।’

    সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলা বা গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই সিনিয়র আইনজীবী আরো বলেন, ‘মিডিয়া ফেইস করাটা একটা বড় বিদ্যা। আয়ত্ত করুন।’

  • ২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত ২৯৫৭ জন

    ২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত ২৯৫৭ জন

    ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক)। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পুলিশের অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযানে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক)।

    আসকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে র‍্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৯ জন। সব মিলিয়ে পুলিশ, র‍্যাব এবং তাদের যৌথ অভিযানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪০ জন।

    দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণিত এসব ঘটনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আসকের পরিসংখ্যান মূলত বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলে ধরে; প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি বা দায় নির্ধারণের জন্য পৃথক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

    আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ কোনো ব্যক্তির নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ক্ষেত্রে এমন তথ্য না থাকার বিষয়টি পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে, ২০২৪ সালের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো অভিযানে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আসকের তথ্য বলছে, এ সময়েও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, পুলিশ ও র‍্যাবের হাতে এমন মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব, তাদের যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন। এর মধ্যে পুলিশের অভিযানে নিহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ। র‍্যাবের অভিযান রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাও এই দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানে স্থান পেয়েছে।

    উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পরিচিত। দীর্ঘ ২২ বছরের এই পরিসংখ্যান দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানসংক্রান্ত প্রাণহানির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসে।

  • অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

    জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

    তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

    তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।

    বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।

    ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

  • ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    পুলিশের আইজিপি অবশেষে মুখ দিয়ে মনের কথাটা বলে ফেলেছেন। সরকার যদি অনুমতি দেয় তাহলে উনার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ক্রসফায়ার করতে পুরোপুরি রেডি আছে। আসলে উনি বলতে চাইছেন, অনেকদিন ধরে ক্রসফায়ার করতে উনাদের হাত নিশপিশ করতেছে। যদি সরকার বাহাদুর একটু অনুমতি দেয়!

    সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব এসব কথা লিখেছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

    স্ট্যাটাসে তিনি আরো লেখেন, ‘হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু উনাদের মনের মধ্যে একটা করে খুনী হাসিনা বসবাস করে। শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষায় গুপ্ত হয়ে আছে, এই যা।

    যে কোন সভ্য দেশে আইজিপির মত পজিশান থেকে কেউ যদি এই রকম কথা বলত, তার আর চাকরি করতে পারার কথা না। জুলাইয়ের পরের বাংলাদেশেও করতে পারার কথা না।

    সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সংবিধানের অধীনে দেশকে, জনগণকে সার্ভিস দেয়া। সরকারের জন্য ভাড়াটে খুনীর কাজ করা না।’

  • বিদেশি ভাষা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

    বিদেশি ভাষা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

    উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বিদেশি ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। বিশ্বায়নের প্রভাবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি যেমন পরস্পরের কাছাকাছি আসছে, তেমনি বাড়ছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে কোন কোন বিদেশি ভাষা শেখা প্রয়োজন, তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

    মান্দারিন : গত দুই দশকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে মান্দারিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় পরিণত হয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগের উদ্ভব হওয়ায় মান্দারিনে দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য অভাবনীয় শিল্পের মধ্যে আছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিন্যান্স ও লজিস্টিকস। মান্দারিন চায়নিজ চীন ও তাইওয়ানের ৮১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা। এছাড়া ভাষাটি ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। সেই সূত্রে সিভিতে মান্দারিন ভাষার সংযোজন যেকোনো প্রার্থীর মান উন্নত করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে মান্দারিন চায়নিজ ভাষা শেখানো হয়। এছাড়া বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখায়।

    আরবি : তেলশিল্প, জ্বালানি খাত বা হাই-এন্ড কনস্ট্রাকশনের কর্মীদের জন্য আরবি ভাষার দক্ষতা আবশ্যক। বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন আরবি ভাষাভাষী লোক আছে। এই একটি ভাষা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ক্যারিয়ার তৈরির সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই ইংরেজির পাশাপাশি আরবি ভাষা শিক্ষা হতে পারে উন্নত ক্যারিয়ারের সেরা মাধ্যম। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশে মসজিদ-মাদরাসার আধিক্য থাকায় প্রচুর সুযোগ আছে আরবি শেখার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ভালো মানের দুটি আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র।

    জাপানিজ : ১২০ মিলিয়নেরও বেশি জাপানিজ ভাষাভাষী মানুষের দেশ জাপান। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল শিল্পের অত্যন্ত উন্নত স্তরের। সুতরাং গ্যাজেট-সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসার জন্য জাপানিজ ভাষা শেখা অবধারিত। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লজিস্টিকসে চাকরির সুযোগের জন্য প্রাসঙ্গিক শিল্পমান দক্ষতার সঙ্গে জাপানিজ ভাষার দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট জাপানিজ ভাষা শেখার জন্য সেরা জায়গা।

    জার্মান : ইউরোপকেন্দ্রিক ক্যারিয়ারে সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে জার্মান ভাষা শেখা। জার্মান ১০০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের ভাষা। এছাড়া অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে জার্মান বলা হয়। ইউরোপের অর্থনীতিতে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। এখানে ফিন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচার, ডিজাইন বা ফার্মাসিউটিক্যালস ক্ষেত্রগুলোয় পেশাদারের চাহিদা প্রচুর। বাংলাদেশে এরই মধ্যে জার্মান শেখার বিস্তর সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশের জার্মান দূতাবাস-স্বীকৃত গোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ।

    তুর্কি : বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা তুর্কি, যা একে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সর্বাধিক কথ্য মাতৃভাষার অন্তর্ভুক্ত করেছে। তুরস্ক ছাড়াও তুর্কিভাষী আছে বলকান, ককেশাস ও পশ্চিম ইউরোপে। তুর্কি অভিবাসীদের বৃহত্তম অংশটি বাস করেন জার্মানিতে, যেখানে জার্মানির পর তুর্কি দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা। এখানে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, এনার্জি, ট্যুরিজম, ফিন্যান্স, আইন ও ব্যবসার মতো বৈচিত্র্যময় খাতে অসংখ্য ক্যারিয়ারের সুযোগ বিদ্যমান। পাবলিক খাতে কর্মজীবনে আগ্রহীদের জন্য কূটনীতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রগুলোয় সক্রিয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং ফেলোশিপেরও ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে তুর্কি শেখার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট।

    স্প্যানিশ : বিশ্বব্যাপী ৪৮০ মিলিয়নেরও বেশি স্থানীয় ভাষাভাষীদের মধ্যে স্প্যানিশ ২১টি দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রমবর্ধমান বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগের গেটওয়ে। এখানে মানবসম্পদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মিডিয়া ও ব্যাংকিংয়ে। পাশাপাশি চিকিৎসা, সমাজসেবা, শিক্ষা ও বিপণনেও বেশ ভালো সুযোগ আছে । আমেরিকার শতকরা ৮৫ ভাগ নিয়োগকর্তা স্প্যানিশকে সবচেয়ে বেশি চাহিদাপূর্ণ বিদেশি ভাষা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। অনেকটা ইংরেজির মতো হওয়ায় সহজে যে কেউ স্প্যানিশ রপ্ত করতে পারেন। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন ও দীর্ঘ মেয়াদে স্প্যানিশ ভাষা শেখা যায়।

    রাশিয়ান : বিশ্বব্যাপী ২৫০ মিলিয়ন রাশিয়ান ভাষা ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই বাস করে রাশিয়ায়। অন্যরা সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র, যেমন ইউক্রেন, লাটভিয়া ও কাজাখস্তানের বাসিন্দা। রাশিয়ার ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির নেপথ্যে রয়েছে এর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ, খনি এবং তৈল ও জ্বালানি খাত। জার্মানির মতো রাশিয়াও বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পেশাগুলোয় জনপ্রিয়, তাই যেকোনো উদীয়মান বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদের জন্য রাশিয়া স্বর্গ হতে পারে। রাশিয়ান ভাষার জন্য উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র।

  • অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই পান সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ। ১৪১টি দেশের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর মাত্র একজনকে নির্বাচিত করা হয়—এমন একটি বৃত্তি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন। বর্তমানে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে উন্নয়ন অধ্যয়নে এমফিল করছেন। তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওডিআইডি ডিএসি স্কলারশিপ।

    আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে আগ্রহ নাজিফার শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভালো একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন খাতে কাজ এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য আবেদনপত্রে তুলে ধরার সক্ষমতা তাকে এই প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি অর্জনে সহায়তা করেছে।

    বিজ্ঞান থেকে উন্নয়ন অধ্যয়নে

    বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠলেও পরিবার থেকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাজিফা। ছোটবেলা থেকেই সমাজ, বৈষম্য, ক্ষমতার কাঠামো ও মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। শিক্ষাজীবনের শুরুতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতি, বিশ্বব্যবস্থা ও মানবসমাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সেই আগ্রহ থেকে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ত্রেন্তোতে এক সেমিস্টার অধ্যয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইরাসমাস প্লাস আইসিএম বৃত্তিও পান। ইতালিতে অবস্থানকালে সীমিত বাজেটে ইউরোপের ২১টি দেশ ভ্রমণ করেন নাজিফা। ভিন্ন সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরো প্রসারিত হয়।

    স্নাতক শেষে তিনি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ করেন। পরে মাই সোলি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার একাডেমিক আগ্রহকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ভালো ফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা

    এইউডব্লিউ থেকে ৩ দশমিক ৯-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে সুমা কাম লডে সম্মান অর্জন করেন নাজিফা। তবে তার শিক্ষাজীবনে সব সেমিস্টারের ফল সমান ছিল না। কয়েকটি কোর্সে প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় সুযোগ নিয়ে সেগুলো আবার সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ফলের উন্নতি ঘটান। অক্সফোর্ডে আবেদনের সময় উন্নয়ন অধ্যয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত স্নাতক পর্যায়ের কোর্সগুলোও জীবনবৃত্তান্তে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রথম বর্ষেই একটি একাডেমিক দলের দায়িত্ব পালন করেন। সহপাঠীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পিয়ার টিউটর হিসেবেও কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তবে আবেদনপত্রে শুধু পদবি বা দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কী কাজ করেছেন এবং কী প্রভাব তৈরি করেছেন, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

    উদ্দেশ্যপত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য

    অক্সফোর্ডে আবেদনের সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা উদ্দেশ্যপত্র লেখা। নিজের জীবনের সব ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে কেন উন্নয়ন অধ্যয়ন করতে চান, কোন গবেষণার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন এবং অক্সফোর্ডের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন নাজিফা। নিজের গবেষণার মূল প্রশ্নকে চারটি উপপ্রশ্নে ভাগ করে সেগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোর্সের সম্পর্ক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সহপাঠী এবং একাডেমিক পরিবেশে কী অবদান রাখতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেন।

    নাজিফার মতে, আবেদনপত্রে চমকপ্রদ শোনানোর চেয়ে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করলেও যদি উদ্দেশ্যপত্রটি একইভাবে প্রাসঙ্গিক থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে যথেষ্ট নির্দিষ্ট না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

    সুপারিশপত্রের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ

    আবেদনের প্রায় চার মাস আগে সম্ভাব্য সুপারিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজিফা। নিজের জীবনবৃত্তান্ত, উল্লেখযোগ্য কাজ ও অর্জনের তালিকা এবং কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, তা তাদের জানান। স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করায় এ প্রস্তুতি সহজ হয়।

    তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অক্সফোর্ডে ভর্তির পর যোগ্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বৃত্তিভেদে আবেদনপ্রক্রিয়া ও শর্ত আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাজিফার পরামর্শ, আবেদন করার আগেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে দুর্বলতা না ভেবে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি একটি বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। নাজিফার অক্সফোর্ডযাত্রা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে ভালো ফলের পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং নিজের সক্ষমতা যথাযথভাবে তুলে ধরার দক্ষতা।

  • ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি  বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই, ডাকাতি, অরাজকতা অনেক বেশি বেড়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেন, ঢাকাবাসী এখন রাতের বেলা বের হতে ভয় পায়। এই অরাজকতা কাদের প্রশ্রয়ে হচ্ছে সেটা এই ঘটনা থেকে খুবই স্পষ্ট।

    ‘অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের’ শীর্ষক সংবাদের ছবি শেয়ার করে সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীর সরকারি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে এত অস্ত্রের মজুত কেন? এসব অস্ত্র কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? এই অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই কি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়?’

  • ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত

    ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অন্যায়ের পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’

    তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষ কখনোই পছন্দ করে না। যারা এমন অপকর্ম করে, তারা সমাজে চূড়ান্তভাবে নিন্দিত হবে এবং তাদের এই অপকর্মের জন্য কোনো সমর্থন মিলবে না।’

  • ইরানকে ঠেকাতে গড়া জোট তেহরানে ইরানের সঙ্গেই বৈঠকে

    ইরানকে ঠেকাতে গড়া জোট তেহরানে ইরানের সঙ্গেই বৈঠকে

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাপ্রধানেরা সোমবার তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্য দেশ ও ইরানের মধ্যে এটিই প্রথম চতুর্পক্ষীয় বৈঠক। আলোচনা চালিয়ে যেতে সবাই একমত হয়েছেন, তবে কোনো সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। হরমুজ প্রণালি খোলার মূল দর-কষাকষি ওয়াশিংটনের হাতে, আর যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে ছিল না।

    সংক্ষেপে

    • সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। আয়োজক ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী।
    • চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে (ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম) শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো তারিখ, কাঠামো বা সমঝোতা নেই। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের সম্মতি নিয়ে বৈঠকেই একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আর গৃহীত হলে চুক্তির তিন দেশ ও কাতার এর নিশ্চয়তা দিতে পারে।
    • অতিথি তিন দেশ আগস্টে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য। চুক্তি অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা তিনজনের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।
    • হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ। জুনে যে সমঝোতা স্মারকে প্রণালি খোলার কথা ছিল, কয়েক সপ্তাহেই তা ভেঙে পড়ে। এখন বিতর্ক তার শর্ত নিয়ে: যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে ইরান প্রণালি খুলবে। ওয়াশিংটন এই শর্ত মানেনি, আর ইরান শনিবার নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
    • গত সপ্তাহের বড় উত্থানের পর সোমবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ২৪ ঘণ্টায় প্রণালি পার হয়েছে আটটি জাহাজ, যেখানে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ষাট।

    তেহরানে বৈঠক

    বৈঠকটির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান, ইরানের সমর্থনে তা অনুষ্ঠিত হয় (ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম)। গত সপ্তাহে তেহরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সৌদি আরব পাঠায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে, যুবরাজের ছোট ভাই। তুরস্ক পাঠায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বৈঠকে ছিলেন, আর আলোচনার আগে অতিথিরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন।

    ইরানের ভাষ্যে আলোচ্যসূচিতে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এ বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি, এবং ফিলিস্তিন ও লেবানন। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য একটি আঞ্চলিক অনাক্রমণ নেটওয়ার্ক গড়া; আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, হুতিদের হামলা, প্রণালি ও অবরোধও ছিল। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল আরও সীমিত: সামরিক উত্তেজনা যাতে ফিরে না আসে, সে জন্য যোগাযোগের পথ খোলা। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে একই বিষয়ে কাজ করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে।

    পেজেশকিয়ান অতিথিদের বলেন, ইরান আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত (ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম) এবং অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই মতভেদ মেটাতে চায়। তিনি আবারও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সতর্ক করেন, ইরানের ওপর নতুন হামলা অঞ্চলকে সহিংসতার নতুন চক্রে টেনে নেবে।

    আলোচনার টেবিলে প্রতিরক্ষা চুক্তি

    অতিথি তিন দেশ ৭ আগস্ট মক্কায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, সৌদি যুবরাজ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। চুক্তির মূল ধারা সম্মিলিত প্রতিরক্ষা: এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা। পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুসমর্থন করেছে; তুরস্কের সংসদে অনুসমর্থনের প্রক্রিয়া গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে, এখনো চলছে।

    সইয়ের পর যুদ্ধ চুক্তির সদস্যদের দরজায় পৌঁছেছে। গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা দখলের পর সৌদি আরব তাদের ওপর হামলা জোরদার করেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা বারবার সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, আর সোমবার তারা আবারও সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে; সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সৌদি আরব তা নিশ্চিত করেনি। ৫ অক্টোবর তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রিয়াদে জরুরি বৈঠকে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু এবং সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে একমত হন।

    আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোটটিকে মুসলিম ঐক্যের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছেন। ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত শনিবার বলেন, তেহরান চুক্তিটি পর্যালোচনা করবে এবং ভালো হলে সমর্থন দেবে। এদিকে মিসরের সংসদ সোমবার ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে অনুমতি দিয়েছে, রিয়াদ চাইলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দিতে। কায়রো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে।

    দর-কষাকষি বৈঠকের বাইরে

    কূটনীতির নিচে আসল বিষয় হরমুজ প্রণালি। সংঘাতের আট মাসে ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আর ইরানের নিজের বন্ধ রাখায় প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ। কাগজে শর্ত জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে, যার মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান ও কাতার: জাহাজ চলাচল শুরু হবে, অবরোধ উঠবে, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা। দুই পক্ষ নতুন করে হামলা শুরু করায় কয়েক সপ্তাহেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে; টিকে আছে কেবল শর্ত নিয়ে বিতর্ক। বৈঠকের আগে ইরান একটি সীমা টেনে দেয়: ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষের শর্ত, অর্থাৎ অবরোধ তোলা ও তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, যুক্তরাষ্ট্র না মানা পর্যন্ত তিন অতিথির সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

    ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ৪ অক্টোবর বলেন, সমঝোতার সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে। ১৭ অক্টোবর বাগদাদে ওআইসির বৈঠকে আরাগচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে, অর্থাৎ অবরোধ, তেল নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতা শেষ হলে, সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খোলার প্রস্তাব (ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম) এখনো বহাল।

    কী প্রস্তাব কখন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিরোধ আছে। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কূটনীতির চেষ্টায় ট্রাম্পের সম্মতি নিয়ে মুনির সোমবারের বৈঠকে ইরানকে এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষেরই কিছু আছে; গৃহীত হলে চুক্তির তিন দেশ ও কাতার নিশ্চয়তাদাতা হতে পারে। বৈঠকের আগে আল আরাবিয়া জানিয়েছিল, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। শনিবার ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা সেই খবরকে বানোয়াট বলে জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের কাছে কোনো নতুন প্রস্তাব যায়নি, এবং ইরান “অবরোধের বদলে প্রণালি” সমীকরণ মানে না। একই পথ নিয়ে ইসলামাবাদে তেহরানের রাষ্ট্রদূত ভিন্ন কথা বলেন: অবরোধ শেষ হলে প্রণালি খুলতে ইরান প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    ট্রাম্প দুই পথই খোলা রেখেছেন। তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৬ অক্টোবরের সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। ২৩ অক্টোবর ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তেহরান রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এ বছরের হামলা অভিযানের মতো “আরেকটি এপিক ফিউরি”। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা করলে উপসাগরের সমুদ্রতলের তারে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা তেহরান তৈরি রেখেছে। রোববারও ট্রাম্প নিজেকে চুক্তি আর নতুন পদক্ষেপের মধ্যে সিদ্ধান্তহীন বলেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের সামনে দুটি নির্বাচনের সময়সীমা: ইসরায়েলে ভোট মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর।

    প্রণালিতে দিনে আট জাহাজ

    তেলের বাজার কূটনীতির খবর শুনেছে, তবে সামান্যই গুরুত্ব দিয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ১১৫ দশমিক ৮১ ডলারে বন্ধ হয়, শুক্রবারের ১১৬ দশমিক ৭২ ডলার থেকে ৯১ সেন্ট কম, গত সপ্তাহের বড় উত্থানের পর। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গ্রীষ্ম থেকে তারা হরমুজ দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল বের করতে সহায়তা করেছে। জাহাজ চলাচলের হিসাব রাখা ডিটিএনের গণনায় ২৪ ঘণ্টায় আটটি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে, যেখানে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ষাট।

    এরপর কী

    • চার দেশ সংলাপ চালিয়ে যেতে একমত। দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখ ঘোষণা হয়নি।
    • ইসরায়েলে ভোট মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করেছেন, ইরান বা তার মিত্ররা নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে; সেনাবাহিনী বলছে, তারা হামলার জন্য প্রস্তুত।
    • তেহরানের টেবিলে যে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: নৌ অবরোধ উঠবে কি না, আর জুনের সমঝোতার শর্ত মানা হবে কি না। মধ্যস্থতাকারীরা ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন মাথায় রেখে কাজ করছেন।
    • চতুর্পক্ষীয় বৈঠক নিয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াই পরবর্তী লক্ষণীয় বিষয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই তা দেয়নি।
  • পিএইচপির ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা

    পিএইচপির ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা

    ইন্টারনেটের বড় একটি অংশের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি ধরা পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শনাক্ত করা এসব ত্রুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অজানা ছিল। ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই আক্রান্ত ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। এ ঘটনায় বুধবার বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে। তা সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজের গবেষকেরা ত্রুটিগুলো শনাক্ত করেন। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে এআইয়ের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি বলে বর্ণনা করেছে। আর যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হয়েছে, সেই প্রযুক্তির নির্মাতা ওপেনএআই একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে।

    পিএইচপি কী, কেন এত ঝুঁকি

    পিএইচপি হলো একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। এর পূর্ণরূপ পিএইচপি হলো হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর। নামটি অনেকের কাছে পরিচিত না হলেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। ২০০০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরিতে ভাষাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    অনলাইন কেনাকাটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, উইকিপিডিয়া এবং ওয়ার্ডপ্রেসসহ বহু ওয়েবসাইট পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল। ওয়ার্ডপ্রেস এমন একটি কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যার সাহায্যে ব্লগসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করা হয়।

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গরিলা সাইবার সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী পল স্পেন বলেন, কেউ যখন উইকিপিডিয়ার মতো কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, তখন পিএইচপির কোড প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা ওয়েবপেজে পাঠযোগ্যভাবে উপস্থাপন করে।

    কিন্তু এই প্রযুক্তির নিরাপত্তাত্রুটির কারণে এর ওপর নির্ভরশীল বহু ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়েছে। ত্রুটিটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা কোনো পরিচয় যাচাই বা অনুমোদন ছাড়াই আক্রান্ত ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে।

    পল স্পেনের মতে, এআইয়ের ব্যবহার এ ধরনের হামলাকে আরো সহজ ও দ্রুত করে তুলতে পারে। তার ধারণা, এই ত্রুটির কারণে লাখ লাখ ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জিল স্লে বলেন, হ্যাকার বা কোনো দেশ যদি এই ত্রুটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ওয়েবসাইট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

    বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধ

    নিরাপত্তাঝুঁকির সতর্কতা ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। গেমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সরকারি ওয়েবসাইট ও অনলাইন ফোরাম—বিভিন্ন ধরনের সেবা এর আওতায় এসেছে। মানচিত্রদেখুন

    অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উইকিমিডিয়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কয়েকটি সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ফিনল্যান্ড সরকার, এডিনবরা সিটি কাউন্সিল এবং বিবিসিও তাদের কিছু ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ বন্ধ রেখেছে। নেদারল্যান্ডসের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কাউন্সিল ও স্বাস্থ্য বোর্ডও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব ওয়েবসাইট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে। বিশেষ করে সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নের কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট সাইবার হামলার সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

    অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনএসডব্লিউ সিডনি) সাইবার নিরাপত্তা গবেষক সালিল কানহেরে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টা বাড়তে পারে। কারণ, ত্রুটিগুলোর কারিগরি বিবরণ এখন প্রকাশ্যে আসছে।

    ত্রুটি সারাতে জরুরি হালনাগাদ

    বছরের পর বছর ধরে সফটওয়্যারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নিরাপত্তাত্রুটিগুলো শনাক্ত হওয়ার পর বুধবার পিএইচপির উন্নয়নকারীরা সেগুলো ঠিক করতে নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশ করেছেন। পিএইচপির পক্ষ থেকে সব ব্যবহারকারীকে দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ করার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের একই পরামর্শ দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) পিএইচপি ব্যবহারকারী সব প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগ করতে বলেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিস্টেম বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    এনএসএ বলেছে, এই ত্রুটি কোনো সিস্টেমের ডেটাবেজে হামলা চালানোর সরাসরি পথ তৈরি করে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলোতে এই ঝুঁকি এতটাই গুরুতর যে সেখানে অবিলম্বে নিরাপত্তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীরা কোনো সিস্টেমে গোপনে প্রবেশের পথ বা ‘ব্যাকডোর’ তৈরি করে রেখেছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছে সংস্থাটি।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নাগরিকদের নিজেদের প্রকাশ্যে প্রবেশযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আজ রাতেই সবাইকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের জরুরি অনুরোধ রয়েছে। ’

    তাকাইচি আরো বলেন, দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা কঠিন হলে ঝুঁকি কমাতে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

    প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের সিস্টেম সুরক্ষিত করতে দ্রুত কাজ করছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন জানিয়েছে, পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার কয়েক দিন আগেই তারা একাধিক হামলার চেষ্টার লক্ষ্য হয়েছিল। সম্ভাব্য হামলাকারীরা কীভাবে ত্রুটিটির বিষয়ে জানতে পেরেছিল, তা এখনো জানা যায়নি।

    কীভাবে ত্রুটি খুঁজে পেল এআই

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিগুলো শনাক্ত করেন। এসব এআই ব্যবস্থা সফটওয়্যারের কোড বিশ্লেষণ করে মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে। আগের অনেক প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়েও এগুলো দ্রুত কাজ করতে সক্ষম।

    সালিল কানহেরে বলেন, আধুনিক সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল। এ কারণে কিছু নিরাপত্তাত্রুটি বছরের পর বছর শনাক্ত না-ও হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘মূল ত্রুটিগুলো নতুন নয়; পরিবর্তন এসেছে সেগুলো খুঁজে বের করার সক্ষমতায়। ’

    এ সপ্তাহে নিরাপত্তাত্রুটির আবিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএইচপির উন্নয়নকারীরা দ্রুত নিরাপত্তাত্রুটির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা সমস্যাটির ব্যাপকতা তুলে ধরেন।

    চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, এই ঘটনা দেখিয়েছে, এআই কীভাবে সফটওয়্যারের নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করতে পারে। তবে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলাকারীরাও দ্রুত আক্রমণাত্মক সরঞ্জাম ও হামলার কৌশল তৈরি করতে পারে।

    পিএইচপির নিরাপত্তা যাচাই করার জন্য ওপেনএআই একটি কর্মসূচিও প্রকাশ করেছে।

    অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার গবেষণা কেন্দ্রের রায়ান কো বলেন, অতীতে অনেক সফটওয়্যার তৈরির সময় নিরাপত্তার চেয়ে কার্যকারিতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসব সফটওয়্যারের কাঠামোগত দুর্বলতা থেকেই অনেক নিরাপত্তাত্রুটির সৃষ্টি হয়েছে।

    কীভাবে নিরাপদ থাকবেন

    বিশেষজ্ঞরা ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের পিএইচপির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করে নিজেদের ওয়েবসাইট সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    পল স্পেনের মতে, অধিকাংশ প্রযুক্তি দলের জন্য পিএইচপির নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা ছোট ও নিয়মিত কাজের অংশ। তাই দ্রুত হালনাগাদ সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়া উচিত।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা আগামী কয়েক সপ্তাহ বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে এবং সফটওয়্যার সরবরাহকারীদের হালনাগাদ করা নির্দেশনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা প্যাচ দ্রুত প্রয়োগের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের। ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। সালিল কানহেরে বলেন, আক্রান্ত সেবাগুলোর পক্ষ থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মতো কোনো নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হলে তা অনুসরণ করা উচিত।

    এ ছাড়া এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রচারের সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা ফিশিং বার্তা পাঠাতে পারে। এসব বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তাই অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কিংবা সন্দেহজনক বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

  • ১৪ কোটি টাকায় বিক্রি হলো অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার

    ১৪ কোটি টাকায় বিক্রি হলো অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার

    অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার ‘অ্যাপল-১’ নিলামে বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে। বাংলাদেশি মূল্য মুদ্রায় যার প্রায় ১৪ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ১২৩ টাকা )। বিরল ও সম্পূর্ণ সচল এই কম্পিউটারটি নিলামে বিক্রি হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যাটফিল্ড’ নামে পরিচিত কম্পিউটারটি কেনার জন্য দুই ক্রেতার মধ্যে প্রায় ২৮ মিনিট ধরে তীব্র দর-কষাকষি চলে। শেষ পর্যন্ত এর দাম ওঠে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

    কম্পিউটারটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক। এর গায়ে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াকের স্বাক্ষর রয়েছে। ১৯৭৬ সালে কম্পিউটারটির হার্ডওয়্যার নকশা তৈরি করেছিলেন তিনি। অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস কম্পিউটারটির বাণিজ্যিক বিক্রি ও বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    কম্পিউটারটির সঙ্গে নিলামে তোলা হয় স্টিভ জবসের লেখা ও স্বাক্ষর করা একটি চিঠি। ১৯৭৮ সালে লেখা চিঠিটি কম্পিউটারটির প্রথম মালিক ফ্রেড হ্যাটফিল্ডকে উদ্দেশ করে পাঠানো হয়েছিল। এতে জবস তাকে নতুন অ্যাপল-২ কম্পিউটারটি উন্নত করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।এ ছাড়া সংগ্রহে ছিল কম্পিউটারটির মূল ব্যবহারবিধি, বিভিন্ন হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ এবং অ্যাপল-১ মালিকদের ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য টাইপ করা একটি আমন্ত্রণপত্র।

    অ্যাপল-১ রেজিস্ট্রি অনুযায়ী, কম্পিউটারটি তালিকাভুক্ত রয়েছে ৪৮ নম্বরে। বিশ্বজুড়ে এ মডেলের ৭৫টিরও কম কম্পিউটার এখনো টিকে আছে বলে জানা যায়।

    ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ইতিহাসে মাইলফলক
    ১৯৭৬ সালে বাজারে আসা অ্যাপল-১ ছিল অ্যাপলের প্রথম পণ্য। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিকাশের ইতিহাসে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কম্পিউটারটি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এর বিরলতা, প্রযুক্তির ইতিহাসে গুরুত্ব এবং স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াকের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের স্মৃতিবিজড়িত উপকরণ এর আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।

    নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস জানিয়েছে, অ্যাপলের ৫০ বছর পূর্তির বছরে এই রেকর্ডমূল্যের বিক্রি প্রতিষ্ঠানটির শুরুর দিকের প্রযুক্তিপণ্যের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক মূল্যকে আবারও সামনে এনেছে।

  • রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক সাইদুর রহমান

    রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক সাইদুর রহমান

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান। তিনি এর আগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়।

    অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলামকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তমকেও সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

  • মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

    মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

    মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।

    আক্ষেপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বীন শিক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। এটা আমাদের জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। আগামীদিনের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্ম শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাহলে আগামীর যে বাংলাদেশ আমরা চাচ্ছি সেটা পাবো না। ’

    এহসানুল হক মিলন আরও বলেন,‘মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে আধুনিক করা যায় সেটার জন্য আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছি। আজকের সমাজে আমাদের বেঁচে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। ’

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূচির ঘোষণা

    পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূচির ঘোষণা

    নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ, বদলির ফল ঘোষণা এবং শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে এবার কঠোর আন্দোলনে নামছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হবে।

    সোমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির জন্য আবেদন গ্রহণের দেড় মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত শিক্ষকেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষকদের এই অহেতুক ভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে বদলির ফল প্রকাশ করতে হবে।

    পে স্কেলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকে নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে স্কেলের সুফল পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। এই ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে তাঁদের জন্য অবিলম্বে পে স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি নির্দেশনা জারি করতে হবে।

    এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামমাত্র উৎসব ভাতা প্রদানকে চরম বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য অবিলম্বে দূর করে আসন্ন ঈদে সরকারি শিক্ষকদের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে।

    এই তিন দফা যৌক্তিক দাবি আদায়ে আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

  • অনুমতি না নিয়ে গুদাম পরিদর্শন, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি

    অনুমতি না নিয়ে গুদাম পরিদর্শন, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি

    অনুমতি না নিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি করে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ায় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আবদুল আউয়ালকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। খাদ্যমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন আবদুল আউয়াল। এ সফরের জন্য ৮ অক্টোবর খাদ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়।

    তবে এপিএসের ওই সফর সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিষয়টি জানার পর তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরে আবদুল আউয়ালকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

    এদিকে, একই দিন জারি করা পৃথক এক আদেশে মিজানুর রহমানকে খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম যত দিন দায়িত্বে থাকবেন অথবা মিজানুর রহমানকে এপিএস পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, তত দিন এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৬৬

    হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৬৬

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৬৬ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৩৩ জনে পৌঁছেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৮ এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৮ জনের। মোট ১ হাজার ৪৬৬ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৪৭৮ জনের।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন  ভর্তি ২২১৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২২১৮

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৯ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪০ জন, ঢাকা বিভাগে ৯৪২ জন, খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪৬ জন, রংপুর বিভাগে ১১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪০ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জনে। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • পেঁপে খাওয়ার আগে সতর্ক হোন, ঝুঁকিতে কারা?

    পেঁপে খাওয়ার আগে সতর্ক হোন, ঝুঁকিতে কারা?

    পুষ্টিগুণে ভরপুর পেঁপে অনেকেরই অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল। ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও ফাইবারসমৃদ্ধ এই ফল হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। বিশেষ করে পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন নামক এনজাইম প্রোটিন হজমে দারুণ ভূমিকা রাখে। তবে সবার জন্য পেঁপে সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থা ও অ্যালার্জির কারণে এই ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া, ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের মতো বিষয়গুলো পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এসব পরিস্থিতিতে সবার জন্য সব ধরনের পেঁপে খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খেলে সতর্কতা

    গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে কাঁচা ও আধা পাকা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কাঁচা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স ও অন্যান্য উপাদান নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির উদ্বেগ রয়েছে। প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় জরায়ুর সংকোচনের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে প্রমাণ সীমিত। তবে ভালোভাবে পাকা পেঁপে ও কাঁচা পেঁপের ঝুঁকি এক নয়। তাই গর্ভাবস্থায় পেঁপে খেতে চাইলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে

    যাঁদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের পেঁপে খেলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ‘ল্যাটেক্স-ফ্রুট সিনড্রোম’ নামে পরিচিত এই সমস্যায় কিছু ফলের প্রোটিনের সঙ্গে ল্যাটেক্সের প্রোটিনের মিল থাকার কারণে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। পেঁপে খাওয়ার পর মুখ বা ঠোঁটে চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি কিংবা ঠোঁট ও মুখ ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে

    যাঁরা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের অধিক পরিমাণে পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ওষুধের সঙ্গে খাবারের উপাদানের পারস্পরিক বিক্রিয়া (ইন্টারঅ্যাকশন) থাকতে পারে। তবে সাধারণ পরিমাণে পাকা পেঁপে খেলেই রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বিশেষ করে ওয়ারফারিনের মতো ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাব্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা নিরাপদ। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।

    ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা চললে

    পেঁপেতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়ায় দারুণ সহায়ক। তবে ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি চলাকালে বেশি পরিমাণে পেঁপে খেলে কারও কারও উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। এ সময় পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানা বৃদ্ধি পেলে পেঁপে খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া উচিত। ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা তীব্র পেটব্যথা অনুভূত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ডায়াবেটিস থাকলে কি পেঁপে খাওয়া যাবে?

    পেঁপেতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফল খাওয়ার পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যতালিকার দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। তবে পেঁপে খেলেই রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়—এমন নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। যাঁরা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁদের নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফল খাওয়া উচিত। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনো জটিলতা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    তাহলে কি পেঁপে খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে?

    না। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পাকা পেঁপে খাওয়া সুষম খাদ্যতালিকার একটি চমৎকার অংশ হতে পারে। এতে থাকা ভিটামিন, ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া, ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। পেঁপে খাওয়ার পর কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে তা পরিহার করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নয়। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    এ সময় গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    নৈশভোজে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং এ উদ্যোগে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    জাপানের পক্ষে নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়াসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

  • ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে , কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

    ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে , কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এটি আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আজ সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক-৭) এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

    ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে আরও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে বুধবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।Advertisement

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে লাশের ওপর নৃত্য করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা সভ্য দুনিয়ায় চরম অসভ্যতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার না হলে এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হলে দেশ, জাতি কিংবা গণতন্ত্র—কোনোটাই রক্ষা পাবে না।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রক্তেভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে ২০০৬ সালের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত কালো দিন। সেদিন রাজপথে যে পাশবিকতা ও পৈশাচিকতার নগ্ন উল্লাস হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা দেখেছি, একটি লাশের ওপর কীভাবে নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।’

    সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলাম। ওই হামলায় আমিও গুরুতর আহত হই। আমাদের চোখের সামনে রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জসিম উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলামদের। শহীদ শিপনের অপরাধ ছিল সে সহপাঠীদের নামাজ পড়তে ও কোরআন শিখতে উৎসাহিত করত। অথচ তাকে শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, নির্মমভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার প্রতিটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছিল।’

    ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতেই সুপরিকল্পিতভাবে সেদিন লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, শীর্ষ জাতীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার মতো দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে ফ্যাসিবাদী শক্তি।

    বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের খুনিদের সাথে কোনো ধরনের আঁতাত করবেন না, তাদের সাথে একাকার হবেন না। অতীতে এই খুনিরাই গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সরকার যদি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তবে আপনারাও রক্ষা পাবেন না, জাতিও রক্ষা পাবে না।’

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা ২৮ অক্টোবরের হত্যা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে জুলাই গণবিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

  • ‘পানি’ ও ‘আম্মা’ বলা যাবে না, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

    ‘পানি’ ও ‘আম্মা’ বলা যাবে না, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

    পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপে আয়োজিত এক জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাষা-সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই সভায় তিনি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মা’-কে আর ‘আম্মা’ বলা যাবে না এবং ‘জল খাব’ কখনও ‘পানি খাব’ হবে না।

    একই মঞ্চ থেকে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও তীব্র সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে মহালয়ার দিনে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল।

    তবে তার এই ভাষাকেন্দ্রিক মন্তব্যের জেরে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি নিছক কোনো বক্তব্য নয়, বরং এর আড়ালে ভোটব্যাংকের স্বার্থে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতি লুকিয়ে রয়েছে।

    তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলা ভাষা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বা সম্প্রদায়ের সম্পত্তি নয়। এ ভাষায় যুগ যুগ ধরে সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও দেশি শব্দের অনায়াস মিশ্রণ ঘটেছে। কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন—সবার রচনাতেই ‘জল’ ও ‘পানি’ শব্দ দুটির স্বতঃস্ফূর্ত সহাবস্থান রয়েছে। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাচরণেও বহু অঞ্চলে ‘গঙ্গাজল’-এর পাশাপাশি ‘গঙ্গাপানি’ এবং সাধারণ আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘চোখের পানি’ শব্দবন্ধের বহুল প্রচলন রয়েছে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশের মতে, বেকারত্ব বা দুর্নীতির মতো জ্বলন্ত আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলো এড়িয়ে আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই ভাষা ও ধর্মকে এক করে ফেলা হচ্ছে। ‘জল’ ও ‘মা’ শব্দ দুটিকে ‘হিন্দুত্ব’ এবং ‘পানি’ ও ‘আম্মা’ শব্দ দুটিকে ‘মুসলিমত্ব’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টাকে তারা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশের পরিপন্থী ও সাংস্কৃতিক বিকৃতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

  • বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের মতো কমেছে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের অব্যাহত হামলায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে।

    এতে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে তেলের দামে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছিল তেল। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সেদিন তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়।

    পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

    সপ্তাহান্তেও হামলা অব্যাহত ছিল। শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। রোববার সৌদি আরব জানায়, তারা আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

    এর আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে রোববার আংশিক কার্যক্রমও শুরু হয়। তবে ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

    এদিকে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুতের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব। সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • ইয়েমেন নিয়ে সত্য হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

    ইয়েমেন নিয়ে সত্য হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

    সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় দেড় হাজার বছর আগের একটি প্রসিদ্ধ ভবিষ্যদ্বাণী ও দোয়া। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই হাদিসের বক্তব্য এবং বর্তমান ভূরাজনীতির সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।

    প্রায় ১৪০০ বছর আগে আরবের মাটিতে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা.) ইয়েমেন ও শামের জন্য বিশেষ বরকতের দোয়া করেছিলেন। একই সঙ্গে অপর এক অঞ্চল ‘নজদ’ সম্পর্কে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার এক গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

    সহীহ বুখারির বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের শাম (সিরিয়া ও সন্নিহিত অঞ্চল) এবং ইয়েমেনে বরকত দান করুন।’ সে সময় উপস্থিত সাহাবিরা নজদ অঞ্চলের জন্যও বরকতের দোয়া করার আরজি জানালে নবীজি (সা.) তা এড়িয়ে গিয়ে আবারও শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকত প্রার্থনা করেন। এরপর নজদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা দেখা দেবে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে।’

    হাদিসে উল্লেখিত ‘নজদ’ ঠিক কোন ভৌগোলিক এলাকা নির্দেশ করে, তা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের গবেষকদের মতে, বর্তমান সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চল—যেখানে রাজধানী রিয়াদের অবস্থান, সেটিই প্রাচীন নজদ। অপর এক পক্ষের মতে, প্রাচীন ইরাক সীমান্তের উচ্চভূমি অঞ্চলকে নজদ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

    তবে আধুনিক সময়ে এসে সেই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হওয়ার কারণ সৌদি-ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ এই লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইয়েমেন; বিপরীতে হুথিরাও সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

    সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে, যা লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। একদিকে নবীজি (সা.)-এর বরকতপূর্ণ দোয়ার অঞ্চল ইয়েমেনের লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ক্ষমতা ও ফিতনার বিস্তার—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে দেড় হাজার বছর আগের সেই ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

  • বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

    বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

    বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের সরকারি সফরে সকালে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে জাপান। এ উদ্যোগের আওতায় গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে।

    এ অঞ্চলে জাপানি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়লে দেশে উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও শিল্পদক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে বিনিয়োগ উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামীকাল ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

    দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। বুধবার তিনি ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।

    বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্প খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার

    রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার

    বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে তিন কর্মকর্তাকে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেন উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা।

    মনোনীত কর্মকর্তারা হলেন- বেসিক ব্যাংক পিএলসির জন্য জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল হুদা, জনতা ব্যাংক পিএলসির জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলম এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট পত্রে বলা হয়েছে, মনোনীত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ ব্যাংকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সম্মতি নির্দেশক্রমে জানানো হয়েছে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড পেল পত্নীতলার জামালপুর গ্রাম

    জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড পেল পত্নীতলার জামালপুর গ্রাম

    নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন আবাসন উদ্যোগ একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

    জানা গেছে, ২৬ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এই উদ্যোগটি ‘কালেক্টিভ হাউজিং অ্যাওয়ার্ড’ (Collective Housing Award)-এ ভূষিত হয়। ‘প্ল্যাটফর্ম অব কমিউনিটি অ্যাকশন অ্যান্ড আর্কিটেকচার’ (POCAA)-এর মাধ্যমে এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে এটি ‘কালেক্টিভ ইনিশিয়েটিভস অব দ্য কমিউনিটি’ (Collective Initiatives of the Community) ক্যাটাগরিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।

    একদল ভূমিহীন মানুষের আবাসন সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা, সঞ্চয়, যৌথ সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ৪৯টি ভূমিহীন পরিবার খাস জমিতে নিজেদের ঘর নির্মাণ করে।

    পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়োসানান ওয়ংসাওয়াত এবং ইউএন-হ্যাবিটাটের নির্বাহী পরিচালক আনাক্লাউদিয়া রসবাখ উপস্থিত ছিলেন।

    এ বিষয়ে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ’-এর স্থানীয় প্রতিনিধি আসির উদ্দিন বলেন, ‘একদল ভূমিহীন মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই আজ এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’

    পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা জানান, ‘জামালপুর গ্রামের মানুষের এই অর্জন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশসহ পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব, সম্মিলিত উদ্যোগ ও নিজস্ব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তোলা সম্ভব।’

  • পূর্ণ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

    পূর্ণ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক উপসচিব জেতী পু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আহসান হাবিব বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, অবসর গ্রহণের আগে তাকে নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রসঙ্গত, আহসান হাবিব বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বিসিএস পরীক্ষায় নিজ ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকেও প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

    কর্মজীবনে এনবিআর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

  • ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবতা নিয়ে সুশীল সমাজের উদ্দেশে কনকচাঁপার বার্তা

    ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবতা নিয়ে সুশীল সমাজের উদ্দেশে কনকচাঁপার বার্তা

    জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ইসলাম ধর্মের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সুশীল সমাজের উদ্দেশে এই বার্তা দেন তিনি।

    পোস্টের শুরুতে নিজের পরিচয় তুলে ধরে কনকচাঁপা লেখেন, তিনি একজন বাংলাদেশি, সচেতন নাগরিক এবং গর্বিত মুসলমান। সংগীতজগতের পাশাপাশি কোটি কোটি ভক্ত তার ভালোবাসার আয়না বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি সম্পর্কে তিনি জানান, তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং মা মোমেনাজাহান ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক। তার স্বামী মইনুল ইসলাম খান একজন সুরকার ও সংগীত পরিচালক। শৈশব ও কৈশোর ঢাকা শহরে কাটলেও তাদের শেকড় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে।

    নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা স্পষ্ট করে এই শিল্পী বলেন, ‘আমি আমার নিজ ধর্মের মৌলিকত্বে খুবই বিশ্বাস করি। অন্য সব ধর্মকেই আমি সম্মান করি কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার নিজ ধর্ম ইসলামকে, আমার স্রষ্টা আল্লাহকে, এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (স.) কে।’ কেয়ামত, রোজ হাশরের ময়দান, আল্লাহর বিচার এবং বেহেশতের জীবনের প্রতি নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

    নবীজিকে নিয়ে ব্যঙ্গ বা কটাক্ষকারীদের প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, যারা নবীজিকে ব্যঙ্গ করে বা ইসলামের আদবকে নিয়ে কটাক্ষ করে, তা ইসলাম বা নবীজির মর্যাদার কোনো ক্ষতি করে না এবং তাদের তিনি পাত্তাও দেন না। পবিত্র আল কুরআন পড়ার অভ্যাসের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি নিয়মিত আরবি ও বাংলায় অর্থ বুঝে কুরআন পাঠ করেন।

    মানবতা এবং ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে সুশীল সমাজের একাংশের ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে মানবতাই বড় ধর্ম। অবশ্যই মানুষের মানবিক গুণ থাকতেই হবে কিন্তু আমি যদি ধার্মিক বা ধর্মভীরু হয়ে মানবতার জন্য কাজ করি তাতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না। মানবসেবার অজুহাতে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ এড়িয়ে চলা আমার কাছে ফাঁকিবাজি মনে হয়।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানবতার জন্য কাজ করতে সুশীল হতে হবে আর সুশীল হলেই ধর্মকে অস্বীকার করতে হবে—এই ভাবনাগুলো আমার মনে করুণামিশ্রিত হাস্যরসের উদ্রেক করে।’

    সবশেষ পোস্টে নিজের বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কনকচাঁপা লেখেন, ‘মুক্ত কণ্ঠে বলতে চাই মুসলমানের ঘরে জন্মেছি বলে নয়, আমার মনের দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই, খুব ভালোবেসে আমি ইসলাম ধর্ম নিজের কলবে ধারণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।’ এ সময় তিনি সবার কাছে নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

  • মাগুরায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    মাগুরায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরা পৌর এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে ৯ ও ১০ বছরের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়ার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনরা জানায়, সোমবার দুপুরে দুই শিশু মোল্লাপাড়া এলাকার বালিয়ার মাঠে খেলতে যায়। এ সময় তারা পাশের একটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হরষিত বিশ্বাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। লাশ দু’টি মাগুরা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার পর পরিবারের নিকট লাশ দুইটি তুলে দেয়া হবে। এ,আর

  • ছেঁড়া টাকা কাউকে কি  দেওয়া যাবে ?

    ছেঁড়া টাকা কাউকে কি দেওয়া যাবে ?

    দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে টাকা পুরনো হয়ে যায়, আবার অনেক সময় কোনো কোনো নোট ছিঁড়ে যায়। টাকার ছেঁড়া নোট কাউকে দেওয়া যাবে? বা কেউ দিলে তা গ্রহণ করা যাবে?

    উত্তরে আলেমরা বলেন, কৌশলে বা লুকিয়ে অন্য কাউকে সেই ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেওয়া স্পষ্ট ধোঁকা ও প্রতারণা, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ধোকা দেয় সে আমার দলভুক্ত নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)

    অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোনো মুসলিমের জন্য ত্রুটিযুক্ত কোনো জিনিস তার অপর মুসলিম ভাইয়ের কাছে স্পষ্ট করে না জানিয়ে বিক্রি করা বা দেওয়া বৈধ নয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪৬)

    ইসলামী শরিয়তের নীতি হলো, কোনো পণ্যে বা টাকায় যদি ত্রুটি থাকে, তবে তা প্রকাশ করে দেওয়া আবশ্যক। যদি কোনো নোট এতোটা ছেঁড়া হয় যে, স্বাভাবিকভাবে দিলে সে তা নেবে না, এর স্পষ্ট অর্থ হলো অপর ব্যক্তি তা নিতে অনিচ্ছুক। অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে এমন নোট কৌশল কাউকে দেওয়া মানে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাই এমন নোট কাউকে না জানিয়ে দেওয়া যাবে না।

    কাউকে না জানিয়ে ছেঁড়া নোট দেওয়া অন্যায়। ইসলাম অন্যায় ও কৌশলে কাউকে ঠকানো পছন্দ করে না।

    তাই কেউ ছেঁড়া নোট দেওয়ার চেষ্টা করলে নেওয়ার সময় তাকে জানিয়ে দিতে হবে এমন নোট ব্যবহার করা কষ্টকর। তাই তার কাছ থেকে ভালো নোট চেয়ে নিতে হবে। এবং নিজেও অন্য কাউকে ছেঁড়া নোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে কখনো যদি নিজের কাছে ছেঁড়া নোট ছাড়া অন্য কোনো টাকা না থাকে তাহলে কোনো সাধারণ মানুষকে দেওয়ার আগে লুকিয়ে বা কৌশল অবলম্বন না করে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে হবে।

  • অক্টোবরে ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    অক্টোবরে ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ২৪ অক্টোবর দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

    এদিকে চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

  • ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসক, জরিমানা

    ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসক, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসা প্রদান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, অবৈধভাবে কেক তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কুঠিবয়ড়া, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।

    তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কুঠিবয়ড়া বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির দায়ে আনোয়ার মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ১০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংগ্রহের দায়ে কবির স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা, কুকাদইর এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক তৈরির করায় আনন্দ বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা ও পাথাইলকান্দী বাজারে ভুয়া ফেরদৌসী ডেন্টাল কেয়ারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আসাদুজ্জামান রোমেল। এ,আর

  • মাদরাসাকে যারা অবজ্ঞা করবেন, দুনিয়াতেও তারা অসম্মানিত হবেন: জামায়াত আমির

    মাদরাসাকে যারা অবজ্ঞা করবেন, দুনিয়াতেও তারা অসম্মানিত হবেন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদ্রাসা নিয়ে হাজার অবহেলা, অবজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এখন ভূতুড়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এমপিওভুক্ত যেসব মাদ্রাসা আছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো না। সিলেবাসকে সংকুচিত করা হয়েছে। এখন আবার কায়দা করে মাদ্রাসাকে স্কুল বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ১৪তম হিফজুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড ও কোরআন উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র যারা করছে, তারা কি আমাজনের জঙ্গল থেকে এসে করছে? না, এই দেশের মানুষেরাই, সন্তানেরাই করছে। তারা যখন মাদ্রাসার অঙ্গনে কোনো অনুষ্ঠানে যান, মনে হয় যেন তারাই সর্বোত্তম মুমিন মুসলমান। আবার মাদ্রাসার ব্যাপারে যখন পলিসি নির্ধারণ করেন, তখন এটার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

    জামায়াত আমির বলেন, মাদ্রাসাকে নিয়ে যারা অবহেলা-অবজ্ঞা করবেন কিংবা এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন, আমি নিশ্চিত, আখেরাতের পাল্লা আল্লাহ তাআলার হাতে। দুনিয়ায়ও আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মানের জায়গায় রাখবেন না। কারণ, তারা এই সমাজটা সুন্দর হোক, এটা চান না। তারা চান, শিক্ষিত হয়ে কিছু লুটেরা তৈরি হবে, তাদের মতো দেশটাকে লুটেপুটে খাবে। চুরি করবে, চাঁদাবাজি করবে, দখলবাণিজ্য করবে, দেশকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে বন্ধক রেখে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করবে। তাদের আত্মীয়, সন্তান-সন্ততি সব বিদেশে পাঠিয়ে দেবে। তারা শুধু দেশের প্রেমে মশগুল হয়ে এখানে পড়ে থাকবেন। কার্যত দেশটাকে তারা তাদের রুজি-রোজগারের একটা কৃষিক্ষেত্র বলে মনে করেন। আর এ দেশের মানুষকে তারা মনে করেন তাদের প্রজা।

    সমাজের এই ধারণা বদলানোর জন্যই কোরআনের শাসন যেমন প্রয়োজন, কোরআনের চর্চাও তেমন প্রয়োজন। এজন্য কোরআনের এই শিক্ষাকে যত বেশি বিকশিত করা হবে, সমাজ তত বেশি উপকৃত হবে।

    মাদ্রাসাশিক্ষা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখন সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা, কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকছেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভালো করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় নৈতিক ও আখলাকি শিক্ষা দেওয়া হয় বলে তারা মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সৎ মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠেন।

    মেধা ও চরিত্র উপেক্ষিত হলে সমাজ জঙ্গলে পরিণত হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এমন সংকটেই ভুগছে। তাই মাদ্রাসাশিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    এ সময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অধ্যাপক কামাল উদ্দীন আবদুল্লাহ জাফরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, সংসদ সদস্য মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী প্রমুখ।

  • দেশের  পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এর দর পতন

    দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এর দর পতন

    সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি কোম্পানির ১৪ কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার ৮২টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬০২ টাকা।

    ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৩ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৯০ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক সাত দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ৭৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫২টির কমেছে এবং ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো প্রাইম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সিটি ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মিতন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও মালেক স্পিনিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো সাইফ পাওয়ারটেক, খুলনা পাওয়ার, আরামিট সিমেন্ট, লিব্রা ইনফিউশনস, মিথুন নিটিং, জেএমআই সিরিঞ্জেস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রিমিয়ার লিজিং ও দেশ গার্মেন্টস।

    অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো পিপলস লিজিং, ফু-ওয়াং ফুডস, বিআইএফসি, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং, মালেক স্পিনিং, আনলিমা ইয়ার্ন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার কেমিক্যাল অ্যান্ড টেক্সটাইল ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য বাসি খাবার রেখে দেয়ার অভিযোগে ‘ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সদর হাসপাতাল রোড এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড ও শহীদ আবুল কাশেম রোড এলাকায় বাজার তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্যাস, ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও লন্ড্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়।

    অভিযানকালে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কাঁচা ও রান্না করা গোশত অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকরভাবে খোলা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের কাছে পরিবেশনের জন্য বাসি খাবারও জমিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আবিল শরীফকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।

    অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এছাড়া লন্ড্রিগুলোকে যথাযথ সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি, যৌক্তিক মূল্যে পণ্য কেনা-বেচা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। এ,আর

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের  কর্মসূচির ঘোষণা

    পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূচির ঘোষণা

    নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ, বদলির ফল ঘোষণা এবং শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে এবার কঠোর আন্দোলনে নামছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হবে।

    সোমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির জন্য আবেদন গ্রহণের দেড় মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত শিক্ষকেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষকদের এই অহেতুক ভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে বদলির ফল প্রকাশ করতে হবে।

    পে স্কেলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকে নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে স্কেলের সুফল পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। এই ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে তাঁদের জন্য অবিলম্বে পে স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি নির্দেশনা জারি করতে হবে।

    এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামমাত্র উৎসব ভাতা প্রদানকে চরম বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য অবিলম্বে দূর করে আসন্ন ঈদে সরকারি শিক্ষকদের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে।

    এই তিন দফা যৌক্তিক দাবি আদায়ে আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

  • ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

    ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

    ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে সই করেছেন উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) মো. মাসুদ আলী।

    আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক চেইন সমন্বয়ের স্বার্থে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ২৬ অক্টোবরের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়েছে।

    https://drive.google.com/file/d/1enpU7NmELTk8wGbGvTAa2dKzWQPyWb9s/view

    বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে বর্তমান পদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে।

    পাশাপাশি, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য মহাপরিদর্শক, নিবন্ধনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

  • লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি

    লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার লাকসামে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়ার অভিযোগে গোলাম মাহবুব ছোবহানী নামে এক সাংবাদিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) লাকসাম থানায় এ জিডি করেন তিনি।

    জিডি সূত্রে জানা যায়, গোলাম মাহবুব ছোবহানী লাকসাম প্রেস ক্লাবের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং দৈনিক মাতৃছায়া পত্রিকার লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি ও বাংলা নিউজ টুযেন্টি ফোর-এর ডিজিটাল বিভাগের কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ‘লাকসাম (সিটি নিউজ)’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন এবং একই নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মনজুরুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর লাকসাম কলেজের এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিজের পরিচালিত ‘লাকসাম সিটি নিউজ’ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাংবাদিক রুবেল। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে এবং পরবর্তীতে পেজের ইনবক্সে মনজুরুল হক নামের এক ব্যক্তি তাকে প্রকাশ অযোগ্য অশ্লীল শব্দোচ্চারণে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এতে ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে লাকসাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ পান তিনি। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

    অভিযোগকারী গোলাম মাহবুব ছোবহানী বলেন, ‘মনজুরুল আমাকে হুমকি, ধমকি ও অশালীন আচরণের যাবতীয় প্রমাণাদি আছে। আমি প্রাথমিকভাবে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে মামলা করব।’

    লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ,আর

  • ১৫ দিনে লালনের দানবাক্সে  মিলল ৮ লাখ টাকা

    ১৫ দিনে লালনের দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

    ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির মাজারের দানবাক্স। এবার দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

    সোমবার ( ২৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাভিদ সারওয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে খোলা হয় মাজারের দুটি দানবাক্স।

    এরআগে, গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয় দানবাক্সের টাকা। সেদিন দানবাক্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। পরে টাকাগুলো লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।

    এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসব ঘিরে বছরে চারবার দানবক্স খোলা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাতদিন পর দানবাক্স খুলে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে।

  • হুথিদের ভয়ে সৌদির ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

    হুথিদের ভয়ে সৌদির ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

    ইয়েমেনের হাউছিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশ প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। গত ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ৪ হাজার ৭১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    এ সময়ে মোট নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ৪ হাজার ৭৩৬টি। অর্থাৎ বাতিল হয়েছে প্রায় ৮৬ শতাংশ ফ্লাইট।

    বিমান চলাচলবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আল জাজিরা সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়।

    চলতি মাসে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হাউছিরা। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা।

    সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার হামলা হয়েছে। ব্যস্ততার দিক থেকে দেশটিতে এর অবস্থান জেদ্দার বিমানবন্দরের পরেই। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরটিতে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

    ১০ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে বিমানবন্দরটি আবারো চালু করেছে।

  • শ্রীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    শ্রীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে আনোয়ারের (৩৪) লাঠির আঘাতে বাবা আব্দুল সামাদ (৬২) নিহত হয়েছেন।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া সুটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আব্দুল সামাদের সাথে তার ছেলে আনোয়ারের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার লাঠি দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেন। এতে আব্দুল সামাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

    পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল সামাদের মৃত্যু হয়।

    শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ,আর

  • বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির  আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্য মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ সোমবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আর প্রথম দফা আলোচনা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। আলোচনা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া এবং মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্যমাত্রা

    জানা গেছে, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির চার মাসের মধ্যেই প্রথম দফার এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক এক সভার তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ ইতোমধ্যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)’ চূড়ান্ত করেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি অধ্যায়ের একটি খসড়া প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। উভয় দেশই আগামী এক বছরের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী।

    লক্ষ্য ২০২৭ : কৌশলগত বাণিজ্য চুক্তি

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দিনে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ জানিয়েছিলেন, আসন্ন ঢাকা আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের প্রসার এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।

    কেন প্রয়োজন এই এফটিএ?

    বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চালু থাকলেও কোনো প্রাধিকারমূলক বা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক ছাড়, বিশেষ বাজার সুবিধা কিংবা বাণিজ্য সহজীকরণের প্রাতিষ্ঠানিক সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ‘মেট্রেড’-এর তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ এফটিএর মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলো পরস্পরের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এর আওতায় শুল্ক কাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা খাত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়।

    জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির সময়কালটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা সংকুচিত হয়ে আসবে। সেই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দ্বিপক্ষীয় এফটিএ বড় ভূমিকা রাখবে।

    বিশেষ করে, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য যেমন—তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এফটিএ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন—জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক সামগ্রীর বাণিজ্য কাঠামোও এই চুক্তির মাধ্যমে সুসংগঠিত হবে।

    বাণিজ্যে বিশাল ঘাটতি কমানোর চ্যালেঞ্জ

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে এই বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট : ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় মাত্র ২৯৩.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয় ২.৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য। ফলে এক অর্থবছরেই বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৮ মাসেও এই ব্যবধান প্রায় একই রকম রয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ৩০৫.৫৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২৬ বিলিয়ন ডলার।

    বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, প্রক্রিয়াজাত শাকসবজি এবং মসলা। এর বিপরীতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে প্রধানত খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক পণ্য, ভারী যন্ত্রপাতি ও শিল্প রাসায়নিক আমদানি করে থাকে।

  • ফুকুদা আর নেই

    ফুকুদা আর নেই

    চীনের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, গত ২২ অক্টোবর ফুকুদা মারা যান।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এক বছর জাপানের নেতৃত্ব দেন ফুকুদা। আবের প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্ব মাত্র ১২ মাস স্থায়ী হয়েছিল।

    ক্ষমতায় থাকাকালে ফুকুদা চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    ২০০৮ সালের মে মাসে হু’র ওই সফরের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান জাপান সফর করেন।

    দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

    জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ফুকুদা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন।

    তবে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ফুকুদা ২০১৪ সালে চীন সফর করেন।

    এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। তার এই উদ্যোগ শি’র সাথে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করে।

    বেইজিং তাকে ‘পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে স্মরণ করেছে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মি. ইয়াসুও ফুকুদা চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু ছিলেন এবং চীন-জাপান সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন।’

    গুও ‘জাপানের প্রবীণ প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়কদের সততা ও দায়িত্ববোধের’ কথা উল্লেখ করেন এবং ‘জাপানের বর্তমান নেতৃত্বকে’ গভীরভাবে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।

    চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

  • ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।



    বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাষ্ট্রে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলতে পারেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, আদালতের বাইরে কাউকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া নয়। সরকারের অনুমতি থাকলেই কোনো নাগরিককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বৈধতা তৈরি হয় না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্যই সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

    তাঁরা বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশকে দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, শ্রমজীবী মানুষসহ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়িত করে। সেই অভিজ্ঞতার পরও পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বার্তা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

    এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের প্রতি আনুগত্যই হওয়া উচিত পুলিশের মূল অঙ্গীকার। আইজিপির বক্তব্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে কি না।

    বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ এবং স্বাধীন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হত্যার ক্ষমতা দেওয়ার মানসিকতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

    নেতারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর প্রধান ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বললে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আবার সামনে নিয়ে আসবে।

    বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না—এমন অঙ্গীকার চান।

    জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার কোনো স্থান থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • প্লাস্টিক কারখানায় আগুন; কেরানীগঞ্জে একজনের মৃত্যু, আহত ২

    প্লাস্টিক কারখানায় আগুন; কেরানীগঞ্জে একজনের মৃত্যু, আহত ২

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর এলাকায় প্লাস্টিকের কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সাকিব হাসান (১৮)।

    এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের নাম মানিক আহমেদ (৪০) ও রাকিব হোসেন (১৮)। তাদের ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ( মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে মানিক আহমেদকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

    সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নারিকেল বাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জামান।

    ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বীন জসিম জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

    তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নেভাতে সেখানে পৌঁছেন।
    প্রথমে ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৩টি এতে ইউনিট যোগ দেয়।

    আতাশুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, দুপুর ১২টায় কালিন্দী ইউনিয়নের আমান প্লাস্টিকের কারখানা আগুন লাগে। এ সময় কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য চেষ্টা করেন। পরে রাজধানী ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও টিম ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে সাকিব হাসানের মৃত্যু হয়।

    কাজী নজমুজ্জামান জানান, ৮ তলা ভবনের মালিক সাজাহান মজুমদার। ভবনটিতে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি হয়। খেলনা কেমিক্যাল তৈরির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

    তিনি জানান, আগুন লাগার পর শ্রমিকরা ছুটোছুটি করে নেমে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৮টি ইউনিট কাজ করে। ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, ভবনটিতে কেমিক্যাল মিশিয়ে খেলনা তৈরি হয়। কেমিক্যালের কারণেই আগুন লাগে।

  • আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।

    তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।

  • মৃত্যুর ৩৩ বছর পর আশীর্বাদ করলেন মোদিকে!

    মৃত্যুর ৩৩ বছর পর আশীর্বাদ করলেন মোদিকে!

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক ইমেজের সঙ্গে কথোপকথন করেন।

    ১৯৯৩ সালে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে ভবিষ্যতের কাজের জন্য তাঁর আশীর্বাদও চান মোদি। জবাবে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক ইমেজ বলেন, ‘ভারত আপনার সঙ্গে আছে, নরেন্দ্র।’

    কথোপকথনের সময় মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, এটা আমার পরম সৌভাগ্য। আজ আমি যে কাজ করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদ চাই।’ উত্তরে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার মোদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি এই অভিজ্ঞতাকে অনন্য আধ্যাত্মিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি এক অন্য ধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমাদের সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। চিন্ময় মিশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি “চিন্ময় চিন্তাধারা”রও প্রতিনিধিত্ব করে।’

    আয়োজনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, ‘চিন্ময়’ শব্দটি অমরত্বের প্রতীক। সে কারণে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন বিশেষ অর্থ বহন করছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার এই অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। হলোগ্রামের মাধ্যমে চিন্ময়জির দিব্য উপস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছে, যেন আমি ৩৩ বছর পিছিয়ে গিয়েছি।’

    ১৯৯৩ সালে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে মোদি বলেন, সেই সময় আধ্যাত্মিক নেতার স্নেহ ও আশীর্বাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, হলোগ্রাফিক কথোপকথনের মাধ্যমে তা আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, ‘এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন আমি সেই সময়টিতে ফিরে গিয়েছি। আমার কাছে এটি অত্যন্ত আবেগের মুহূর্ত।’ আয়োজনের জন্য চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে মোদি জানান, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের দিকে তাঁদের দেখা হয়েছিল। শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে তিনি স্বামী চিন্ময়ানন্দের কাছে গিয়েছিলেন।

    মোদি বলেন, ‘তিনি আমার অনুরোধ গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্ব ধর্ম সংসদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিকল্পনা ছিল অন্য রকম। অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ৩ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’ ১৯৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোয় অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে নিজের উপস্থিতির কথাও স্মরণ করেন মোদি। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে স্বামী চিন্ময়ানন্দের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন।

  • অসহায় গাজা

    অসহায় গাজা

    এতিম ৭১ হাজার শিশু, ৩ হাজারের নেই কেউই, স্বামীহারা ৬৪ হাজার নারী

    গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলা ও গণহত্যার ভয়াবহতায় অন্তত ৭১ হাজার শিশু এতিম হয়েছে। স্বামী হারিয়েছেন অন্তত ৬৪ হাজার নারী। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার শিশুর কোনো নিবন্ধিত অভিভাবক, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা দেখাশোনা করার মতো কেউই নেই। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও আশ্রয়সংকটের মধ্যে এসব শিশু ও নারীর জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

    লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্য প্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, গাজার সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী—২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যার পর থেকে ৫৪ হাজার ৪৬৮টি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজনকে অথবা দুজনকেই হারিয়েছে। ৭১ হাজার এতিম শিশু ও ৬৪ হাজার স্বামীহারা নারীর সামগ্রিক হিসাবের মধ্যে অবশ্য আগের বছরগুলোতে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলায় স্বামী বা মা-বাবাকে হারানো ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

    এতিম শিশুদের এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে তিন আবু আসের ভাইবোনের জীবনে। ১৬ বছর বয়সি মারিয়াম, ১৪ বছর বয়সি আয়া ও ১২ বছর বয়সি জিবরিল প্রতি দুই দিন পরপর এক খালার তাঁবু থেকে অন্য খালার তাঁবুতে যায়। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বাবাকে হারিয়েছিল তারা। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া হামলায় গাজা শহরে তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলে মা ইসলামের সঙ্গে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেয় তারা।

    ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১৯ দিন পর ইসরায়েলের একটি বোমা তাদের তাঁবুতে আঘাত হানে। তিন ভাইবোনের চোখের সামনেই নিহত হন তাদের মা। হামলায় আহতও হয় সবচেয়ে ছোট জিবরিল। বিস্ফোরণের সময় সে মায়ের কোলে বসে ছিল।

    শিশুদের দেখাশোনা করছেন তাদের মায়ের দিকের খালারা। তাঁদের দুজনও গণহত্যার সময় স্বামীকে হারিয়েছেন এবং নিজেদের সন্তানদের একাই বড় করছেন। স্বামীহারা খালা ওয়ারদা আল-মুজেইনি সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বলেন, শিশুদের কোনো স্থায়ী থাকার জায়গা নেই। তারা একেক খালার কাছে দুই রাত করে কাটায়। মুজেইনি বলেন, ‘আমরা তাদের মানসিকভাবে সামলে ওঠার চেষ্টা করি, বিশেষ করে সবচেয়ে ছোট জিবরিলকে। সে নিজের চোখের সামনে মাকে মারা যেতে দেখেছে।’

    নিজের স্বামীকেও ইসরায়েলের বিমান হামলায় হারিয়েছেন মুজেইনি। চার সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। কোনো চাকরি বা নির্ভরযোগ্য আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় দিনে একবেলা খাবার জোগাড় করতেও তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমার আরেক স্বামীহারা বোন এবং আমি নিজেদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেই সংগ্রাম করছি। কিন্তু আমাদের বোনের সন্তানদেরও দেখাশোনা করতে হচ্ছে, কারণ তাদের আর কেউ নেই।’

    তিন বোন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। কেউ পায়জামা কিনে দেন, কেউ চটি, আবার কেউ কয়েক দিনের হাতখরচ দেন।

    শিক্ষা ও শৈশব হারানোর ঝুঁকি

    গাজার সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজা আল-খালুত বলেন, এতিম শিশুদের দুর্ভোগ কেবল মা-বাবাকে হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিরাপত্তা, যত্ন, শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিশুকে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে এতিম শিশুদের স্কুলছুট হওয়া ও অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং পরিবারের উপার্জনকারীকে হারানোর কারণে শিশুশ্রমের ঝুঁকিও বাড়ছে।

    যেসব নারী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হয়ে পড়েছেন, তাঁদের একদিকে সন্তানদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাদের বড় করে তুলতে হচ্ছে।

    পাঁচ মিনিটে পুরো পরিবার হারানো

    গাজায় এমন শিশুও রয়েছে, যারা পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে। তাদের শোক ভাগ করে নেওয়ার মতো মা-বাবা কিংবা ভাইবোন কেউ নেই। এমনই একজন ওয়াফা আল-আত্তার। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর বয়স ছিল ১০ বছর। বাবার মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ার জন্য তিনি পাশের বাড়িতে থাকা চাচার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সময় মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় তাঁদের বাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলা হয়। এতে তাঁর বাবা আহমেদ, মা খাওলুদ এবং চার ভাইবোন নিহত হয়।

    নিহত ভাইবোনদের মধ্যে ছিল আট বছর বয়সি রিতাল, পাঁচ বছর বয়সি মুহাম্মদ, তিন বছর বয়সি ওবাদা এবং মাত্র নয় মাস বয়সি ইয়াজান। হামলায় আত্তার সামান্য আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রথমে পরিবারের পরিণতি জানানো হয়নি। পরে চাচা এসে তাঁকে মৃত্যুর খবর জানান। এখন ১৩ বছর বয়সি আত্তার মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘চোখের পলকেই আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

    তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে হারানোর বিষয়টি মেনে নিতে তাঁর কয়েক মাস লেগেছিল। প্রথম দিকে দাদা-দাদির সঙ্গে থাকতেন তিনি। বারবার মনে হতো, হামলার সময় পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে থাকলে হয়তো তাঁরও মৃত্যু হতো। আত্তার বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমার মনে হতো, বোমা হামলার সময় আমিও যদি তাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকতাম! আমারও যদি তাদের সঙ্গে মৃত্যু হতো!’

    পরে চাচা, চাচি ও তাঁদের নবজাতক সন্তানের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তিনি। চাচা-চাচির সান্ত্বনা তাঁকে কিছুটা সামলে উঠতে সাহায্য করে। তবে পরিবারের শূন্যতা কাটেনি। আত্তার বলেন, ‘তাঁরা আমাকে সাহায্য ও সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে আমার কষ্ট কিছুটা কমেছে। কিন্তু আমি জানি, আমার নিজের পরিবারের জায়গা অন্য কেউ কখনোই নিতে পারবে না।’

    গাজার সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা, এতিম শিশু ও স্বামীহারা নারীদের দুর্ভোগের প্রকৃত চিত্র শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এসব মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৮ জেলে আটক

    ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৮ জেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৮ জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তিন লাখ মিটার অবৈধ জাল, ৫০ কেজি মা ইলিশ ও তিনটি কাঠের ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিষেধাজ্ঞার ১৮তম দিনে এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড।

    পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মশিউর রহমানের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ১৮ জেলেকে প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দ করা ট্রলারগুলো নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এদিকে, জব্দ করা ৫০ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ,আর

  • টাকা ভর্তি হারানো ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়েছে  অটোরিকশা চালক শরীফ, সততার দৃষ্টান্ত

    টাকা ভর্তি হারানো ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়েছে অটোরিকশা চালক শরীফ, সততার দৃষ্টান্ত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া টাকাসহ একটি ব্যাগ প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অটোরিকশাচালক মো: শরীফ ইসলাম। ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় ব্যাগটি ফিরে পেয়ে চালক শরীফ ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মালিক মিলন বালা।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে জেলার সিপাহীপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল গ্রামের বাসিন্দা মিলন বালা অটোরিকশা থেকে নামার সময় অসাবধানতাবশত টাকাসহ ব্যাগটি গাড়িতে ফেলে চলে যান।

    পরে অটোরিকশাচালক মো: শরীফ ইসলাম ব্যাগটি দেখতে পেয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন। মালিককে খুঁজে না পেয়ে তিনি মুক্তারপুর ট্রাফিক দায়িত্বে নিয়োজিত এটিএসআই হাবিবুর রহমানকে বিষয়টি জানান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ব্যাগের প্রকৃত মালিক মিলন বালাকে শনাক্ত করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই শেষে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম পিপিএম মিলন বালার হাতে টাকাসহ ব্যাগটি তুলে দেন।

    হারানো ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন মিলন বালা। এ সময় তিনি অটোরিকশাচালক শরীফ ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

    অটোরিকশাচালক শরীফ ইসলামের এমন সততা ও দায়িত্বশীলতা সমাজে মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ,আর

  • দুর্গাপুরে ২০ বস্তা সার জব্দ, ভ্যানচালককে জরিমানা

    দুর্গাপুরে ২০ বস্তা সার জব্দ, ভ্যানচালককে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর দুর্গাপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে নেয়ার সময় ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সুকুমার নামে এক ভ্যানচালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উজানখলসী শেখের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জব্দ করা সারের মধ্যে ১০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দকৃত সার উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যানচালকসহ ভ্যানটি আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়া হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারগুলো জব্দ করেন। এ সময় ভ্যানচালক সুকুমারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভ্যানচালক সুকুমার উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের সুশীল চন্দ্রের ছেলে। তিনি জানান, অপরিচিত এক যুবক দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে তাহেরপুর বাজারের তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ২০ বস্তা সার নেয়ার জন্য তার ভ্যান ভাড়া করেন। পরে উজানখলসী শেখের মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় যুবক জুয়েল খায়রুলসহ কয়েকজন তাকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।

    স্থানীয় কৃষক আবু সালেহ বলেন, কৃষকরা ঠিকমতো সার পাচ্ছেন না। অথচ অসাধু সার বিক্রেতারা সার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মো: আব্দুল মজিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিব ফারজানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে। সার নিয়ে অনিয়ম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • গোপালগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ২৫

    গোপালগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ২৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জে যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের মারপিট ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    এর আগে হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশিদ জানান, ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে টহলরত পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ আহত হন দুইজন।

    পরদিন রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে আহত পুলিশ পরিদর্শক মো: ফুল মিয়া বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ,আর

  • দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

    দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

    দোহায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সোমবার ফোরামের সেন্টার স্টেজে আয়োজিত এই অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার (আইপিএ) প্রতিনিধিরাসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।

    জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই ফোরামের অংশ হিসেবে সকালে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা (প্রেজেন্টেশন) দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

    এতে সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, আধুনিক বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং চিকিৎসাসামগ্রী খাতের অপার সম্ভাবনার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে। এসব প্রকল্পে ডেভেলপার, অপারেটর, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

    নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “আমরা যেসব প্রকল্প উপস্থাপন করেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক অংশীদাররাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব এবং প্রকল্পগুলোতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেব।”

    ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়াতে পারে, তা নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে ফোরামের প্রথম দিন গত রোববার জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রিপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং পিপিপি (পিপিপি) প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং অন্যান্য স্থানে এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হবে।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগ বিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রিপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের ইতিবাচক উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি প্রস্তাব করেন, বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আঙ্কটাড যেন আরও বড় পরিসরে তুলে ধরে। পাশাপাশি, বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রপ্তানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করার (রিস্ক শেয়ারিং) কার্যকর ব্যবস্থাও সংস্থাটি বিবেচনা করতে পারে।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো: রুবেল (৩৯) নামে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মরহুম শাহ আলমের বড় ছেলে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন তিনি। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলেই রুবেল মারা যান।

    রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

    সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়  বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ৬০ সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০বিজিবি) একাধিক বিওপি এসব অভিযান পরিচালনা করে।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) মঈনপুর, সালদানদী ও শংকুচাইল বিওপির বিজিবি সদস্যদের পৃথক অভিযানে এসব চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

    ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

    সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য প্রবেশ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ১৫ দিনে লালন অ্যাকাডেমির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

    ১৫ দিনে লালন অ্যাকাডেমির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির দু’টি দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে আট লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে দানবাক্সের সিল ভেঙে টাকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর লালন অ্যাকাডেমি ভবনের চতুর্থ তলায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, লালন অ্যাকাডেমির সদস্য, সাধু ও সাংবাদিকরা।

    এর আগে, গত ১০ অক্টোবর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। দুই দফায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দানবাক্স থেকে পাওয়া গেল মোট ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯৮ টাকা। আগের দফায় পাওয়া অর্থ পরদিন লালন অ্যাকাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

    কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম জানান, সকলের উপস্থিতিতে আজ দ্বিতীয়বারের মতো লালন মাজারের দু’টি দানবাক্স খোলা হয়। এখান থেকে প্রাপ্ত টাকা আজ লালন অ্যাকাডেমির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।

    ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো বাউল, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এছাড়া সারা বছরই ভক্ত-অনুরাগীরা আখড়াবাড়িতে এসে দানবাক্সে অর্থ দান করেন।

    স্থানীয়রা জানান, বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হলেও আগে অর্থ গণনার বিষয়টি গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের সামনে প্রকাশ করা হতো না। এবার প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দর্শনার্থী ও সাধুরা।

    এর আগে, গত বছর লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় চার লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। আর তিরোধান দিবসের তিন দিন পর পাওয়া যায় নয় লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। আগামী দোল উৎসবের আগে আবারো দানবাক্স খোলা হবে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • ‘মোদির বাপও যাবে’

    ‘মোদির বাপও যাবে’

    মেজাজ হারিয়ে ভরা সভায় ‘কুমন্তব্য’ করে বিপাকে পড়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘বাপ তুলে অসম্মান করায়’ দেশজুড়ে বিজেপি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গমগমে রাজনৈতিক আবহে খাড়গের এই মন্তব্য এক অন্য মাত্রা জুড়েছে।

    ঘটনাস্থল বিহারের রাজধানী পাটনা। গতকাল রোববার সেখানে বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কংগ্রেসের এক সভায় কংগ্রেস সভাপতি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি কী কী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কীভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছেন, প্রতিষ্ঠান দুর্বল করছেন, তা জানিয়ে তিনি বলেন, এসআইআরে যারা কারচুপি করেছে কংগ্রেস তাদের জেলে পাঠাবে। মোদিকেও জেলে পাঠানো হবে।

    খাড়গের কথার মাঝেই সভা থেকে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘মোদি নেহি যায়েগা’ (মোদি ক্ষমতাচ্যুত হবেন না)। ওই মন্তব্য শুনে খাড়গে মেজাজ হারান। সাধারণত যিনি নম্র ও মৃদুভাষী, হঠাৎই তিনি উত্তেজিত হয়ে ওই তরুণের উদ্দেশে বলে ওঠেন, ‘মোদি কা বাপ ভি যায়েগা (মোদির বাপও যাবে), বাপ ভি যায়েগা।’

    খাড়গের ভাষণে বাধা দেওয়া ওই তরুণকে কংগ্রেস কর্মীরা সভা থেকে বের করে দেন। অভিযোগ তাঁকে মারধরও করা হয়। তরুণের নাম সন্তোষ কুমার। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তাঁকে ভুল বোঝা হয়েছে। তিনি নাকি বলেছিলেন, অত সহজে মোদি যাবেন না। তাঁকে সরাতে গেলে বিদ্রোহ করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ‘বাপ’ তুলে কথা বলার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির শীর্ষ নেতারা সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদী হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মোদিজির বাবার বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে কংগ্রেস সভাপতি শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দিন দিন অশালীন হচ্ছে।’

    অমিত শাহ লিখেছেন, ‘একের পর এক ভোটে হেরে কংগ্রেস হতাশা ও নৈরাশ্যে ডুবে গেছে। কুকথার রাজনীতি ছাড়া তাদের আর কিছু অবশিষ্ট নেই। তারা নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।’

    বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন থেকে শুরু করে দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরেরা কংগ্রেস নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। নীতিন নবীন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিয়ে কংগ্রেস ভাবে না। তারা শুধু কুমন্তব্য করতে জানে। ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে যায়।

    সম্বিত পাত্র বলেন, দিনের পর দিন কংগ্রেসের কুকথা মাত্রা ছাড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মাকে নিয়ে তারা মশকরা করেছে, এবার প্রয়াত বাবাকেও টেনে আনল। অনুরাগ ঠাকুর বলেন, আজ থেকে নয়, সেই শুরুর দিন থেকেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অপদস্থ করে চলেছেন। কুকথা বলে অসম্মানিত করে যাচ্ছেন। এবার তা এক নতুন মাত্রা পেল।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিহারের বেগুসরাই লোকসভা জয়ী গিরিরাজ সিং বলেন, এভাবে গালিগালাজ করে মোদিকে সরানো যাবে না। নরেন্দ্র মোদি আগামী ৩০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট সিং, এনডিএ শরিক লোকজনশক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ানও বিবৃতি দিয়ে কংগ্রেসের নিন্দা করেছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি, কুমন্তব্য প্রত্যাহার করে কংগ্রেস সভাপতির উচিত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।

    কংগ্রেস যদিও বলেছে, তাদের সভায় লোক ঢুকিয়ে বিজেপি-আরএসএস গোলমালে প্ররোচনা দিচ্ছে। এভাবেই তারা বিরোধী নেতাদের মনোযোগ নষ্ট করে।

    বিজেপি ঠিক করেছে, আজ সোমবার দেশের সব রাজ্যে, সব জেলায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা অশালীন মন্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাবেন।

    বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের পারস্পরিক ‘কুমন্তব্য’ ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, সে সময় অনেকেই তাঁকে ‘বুচার অব গুজরাট’ বা ‘গুজরাটের কসাই’ বলে অভিহিত করেছিলেন। গুজরাট দাঙ্গার কারণেই ওই সম্বোধন।

    ২০০৭ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধী নেই বিশেষণই কিছুটা ঘুরিয়ে মোদিকে ‘মৌত কা সওদাগর’ বা ‘মৃত্যুর সওদাগর’ বলেছিলেন। সেই থেকে একের পর এক কংগ্রেস নেতা মোদিকে নানাভাবে অসম্মান করেছেন।

    ২০১৭ সালে মণিশংকর আয়ার মোদিকে ‘নিচ আদমি’ বা ‘নিচু মনের মানুষ’ বলেছিলেন। সে নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছিল। মোদি নিজেই তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছিলেন। নিজের ‘অনগ্রসর’ জাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, কংগ্রেস তাঁকে জাত তুলে অসম্মান করেছে।

    ২০১২ সালে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে ‘রাবণের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, অহংকার ত্যাগ না করলে তাঁর দশাও রাবণের মতো হবে। ২০১৪ সালে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেছিলেন, মোদি একজন ‘কম্পালসিভ লায়ার’ বা অভ্যাসগত মিথ্যুক। মোদিকে চিদাম্বরম ‘এনকাউন্টার মুখ্যমন্ত্রীও’ বলেছিলেন।

    ‘অগ্নিবীর’ বিতর্কের সময় বিহারের কংগ্রেস নেতা সুবোধকান্ত সহায় বলেছিলেন, একনায়ক মোদির মৃত্যু হবে হিটলারের মতোই। ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভার ভোটের প্রচারে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছিলেন, মোদি এক ‘বিষাক্ত সাপ’।

    রাহুল গান্ধীও ছেড়ে দেননি মোদিকে। কংগ্রেস নেতা তাঁকে ‘চোরেদের সর্দার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সে নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও হয়েছিল। মোদি নিজেকে দেশের ‘চৌকিদার’ বলেছিলেন। রাহুল সেই কথার রেশ টেনে বলেছিলেন, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’।

    ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভার ভোটের আগে বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান অমিত মালভিয়া এক তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। তাতে দেখানো হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদিকে কংগ্রেস ও বিরোধীরা ৯১ বার গালিগালাজ করেছেন। মোদিও বিভিন্ন জনসভায় বলতে শুরু করেন, দিনে তিনি ২ থেকে ৩ কেজি গালাগালি হজম করেন। ২০ বছর ধরে তিনি ‘গালি ডায়েটে’ রয়েছেন। এই গালিই তাঁর শক্তির উৎস।

    ‘কুকথার’ ইতিহাসে মোদিও জ্বলজ্বল করছেন। ২০০৪ সালে লালকৃষ্ণ আদভানির ‘ভারত উদয় যাত্রা’ চলাকালে এক জনসভায় সোনিয়া গান্ধীর বিদেশি বংশোদ্ভূত চরিত্র নিয়ে মোদি তাঁকে ‘জার্সি কাউ’ বা জার্সি গরু বলেছিলেন। তাঁর ছেলে রাহুলকে বলেছিলেন, ‘হাইব্রিড বাছুর’।

    রাহুল গান্ধীকে ‘শাহি খানদান কে যুবরাজ’, ‘শেহজাদা’, ‘নামদার’, ‘পাপ্পু’ বলার পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বা ‘ফেইলড প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০১২ সালে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের প্রয়াত স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করকে ইঙ্গিত করে মোদি তাঁকে ‘৫০ কোটির গার্লফ্রেন্ড’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।

    মল্লিকার্জুন খাড়গে মেজাজ হারিয়ে নরেন্দ্র মোদির ‘বাপ’ তুলে যা বলেছেন, তা গত আড়াই দশকের রাজনৈতিক রেষারেষি ও ‘কুকথারই’ ধারাবাহিকতা। ভারতীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসর দিন দিন কীভাবে কলুষিত হচ্ছে, কীভাবে শিষ্টাচার ও শালীনতা উবে যাচ্ছে এটা তার আরও এক নমুনা।

  • কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত মদ্যপানে নিহত ২, আশঙ্কাজনক ১

    কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত মদ্যপানে নিহত ২, আশঙ্কাজনক ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে স্ত্রী ও দুটি করে কন্যাসন্তান।

    পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা। অনিশ্চয়তায় পড়েছে চার শিশুর ভবিষ্যৎ। একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ আরেক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    নিহতরা হলেন দিঘলীয়া গ্রামের মহেন্দ্র নাথ হালদারের ছেলে মনোতোষ হালদার (৩৮) ও গেদু বাড়ৈর ছেলে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ (৩৮)। মনোতোষ পেশায় ইজিবাইকচালক ছিলেন। কৃষ্ণকান্ত রাধাগঞ্জ বাজারে অনিল বাড়ৈর সাথে যৌথভাবে ডেকোরেটরের ব্যবসা করতেন। একই ঘটনায় অসুস্থ অনিল বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে শনিবার ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোতোষ এবং রোববার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কৃষ্ণকান্তের মৃত্যু হয়।

    গ্রাম পুলিশ সদস্য সৌরমান শেখ বলেন, পূজা শেষে প্যান্ডেলের মালামাল আনতে মনোতোষের ইজিবাইকে করে কৃষ্ণকান্ত ও অনিল মন্দিরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে তারা মদজাতীয় কিছু পান করেছিলেন। তবে তারা কী পান করেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    কৃষ্ণকান্তের ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ জানান, ডেকোরেটরের কাজ করতে গিয়ে তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। মনোতোষের ভাই উত্তম হালদার বলেন, ‘পানির মতো কোনো তরল পান করার পর তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

    কোটালীপাড়া থানার ডিউটি অফিসার পুতুল সেন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • নীলফামারীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

    নীলফামারীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারী জেলা সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ধারালো ছুরির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পথরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত বড় ভাই হলেন কেতাব উদ্দীন (৭০) এবং অভিযুক্ত ছোট ভাই আবুল হোসেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেতাব উদ্দীন ও তার ছোট ভাই আবুল হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই আবুল হোসেন ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে বড় ভাইয়ের ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে বড় ভাই কেতাব উদ্দীন গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিতে তার মৃত্যু হয়।

    সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক শাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে ছোট ভাই আবুল হোসেনের ছুরির আঘাতে বড় ভাই কেতাব উদ্দীন গুরুতর আহত হয়। পরে রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ,আর

In English

English edition · Older English stories