BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপ এবং এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই উদ্বেগের কথা জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হওয়ার ঘটনায় আমি তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

    তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

    উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। লালটেপ মোড়ানো আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়।

    খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

  • রাজপথে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না: ঢাকা দক্ষিণ প্রশাসক

    রাজপথে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না: ঢাকা দক্ষিণ প্রশাসক

    রাজধানীর রাজপথ দখল করে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। তবে নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ফুটপাত পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কলাবাগানের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

    আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। অন্যদিকে, নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ সেখানে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ কারণে অনেকেই ওই এলাকায় যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। পরিস্থিতি পরিবর্তনে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজপথে কোথাও হকার বসতে পারবেন না। নির্ধারিত নিয়ম সবাইকে মেনে চলতে হবে। তবে নিয়ম-নীতির আওতায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হলে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

    নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা সমস্যা থাকলে তা জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

    একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক স্বস্তি ও নগরজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের সীমিত জনবল ও সক্ষমতা দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিলের অপব্যবহারের কারণে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, কোন এলাকার সড়ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা কোথায় উন্নয়ন প্রয়োজন, তা বিবেচনায় নিয়ে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা এলাকার পরিচয় নয়, বরং প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    বিভিন্ন ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, সিটি করপোরেশন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, তবে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। কাজের গতি ও পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।

    রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

  • জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর

    জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সোমবার শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন।

    এর আগে ৪ অক্টোবর একই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। এক দিনের রিমান্ড শেষে সেদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    গত ২ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।গ্রেফতারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।

    এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: নিরাপত্তা জোরদার

    ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: নিরাপত্তা জোরদার

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ির বিষয়ে জানানো হয়, সাধারণ টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। এছাড়া নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানসহ বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    তফশিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ও বিজিবির এ ব্যাপক প্রস্তুতির ফলে ভোটাররা একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো

    বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে জাপানের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন।

    সাক্ষাৎকালে তারো আসো বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। দেশটিতে বর্তমানে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারও আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ইপিএ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রসারিত হবে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে তারো আসোর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অবদানের জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরকালে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপরীতে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অতীত সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো সবসময়ই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।

    সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    অন্যদিকে জাপানের প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির জাতীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা।

  • সরকারি এলপিজি নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তদন্ত চান হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকারি এলপিজি নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তদন্ত চান হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকারি ভর্তুকির ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ৭৭৭ টাকা। অথচ সাধারণ মানুষ এই দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না কেন— সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সরকারি এলপিজি বিতরণব্যবস্থায় অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    সোমবার সকালে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

    পোস্টে হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ১২ কেজি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানির ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারনির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। দুই ধরনের সিলিন্ডারের দামে বড় ব্যবধান থাকলেও সরকারি ভর্তুকির সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তার পোস্টে বলা হয়, প্রতি বছর বাজারে ১৮ থেকে ২০ লাখ সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিলিন্ডারের বড় একটি অংশ নির্ধারিত গ্রাহকদের কাছে না পৌঁছে কথিত ‘কাগুজে ডিলার’ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানির গুদামে চলে যায়। পরে সেগুলো আবার রিফিল করে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়।

    এভাবে প্রতি বছর সরকারের অন্তত ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অর্থে ভর্তুকি দেওয়া হলেও সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে কোনো অসাধু চক্রের মুনাফার উৎসে পরিণত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি সরকারি এলপিজি বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং ভর্তুকিমূল্যের সিলিন্ডার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি জনগণের অধিকার—সিন্ডিকেটের মুনাফা নয়। ’

  • পিএসসির সদস্য হলেন শেখ হাসিনার ছবি সরানো জাবি অধ্যাপক

    পিএসসির সদস্য হলেন শেখ হাসিনার ছবি সরানো জাবি অধ্যাপক

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক শামীমা সুলতানাকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে অন্য যেকোনো পেশা বা ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।

    সংবিধানের ১৩৯ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া- এই দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সে সময় পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকবেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নিজের কার্যালয় থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে আলোচনায় আসেন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। তখন তিনি জাবির বাংলা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। পরে তার কার্যালয়ে বসা অবস্থায় একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ছবিতে তার পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেখা গেলেও শেখ হাসিনার ছবি ছিল না।

  • সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার : আইজিপি

    সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার : আইজিপি

    সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) চকবাজারে ‘কমিউনিটি ব্যাংক’-এর ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা, তা করা যাবে না।

    আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানোও ঠিক নয়।

    এদিকে, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারের সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

    এছাড়া গত দুই মাসে ২৭ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান আইজিপি।

  • সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বুধবার ভারতে আঘাত হানতে পারে

    সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বুধবার ভারতে আঘাত হানতে পারে

    বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি আরো শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এ জন্য চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।আজ সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-৬-এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

    সোমবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলেও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি আরো শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এ জন্য চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    আজ সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-৬-এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

    সোমবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলেও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর

    সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর

    চাকরির জন্য আবেদন করেন একজন, আর নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন অন্যজন। সরকারি নিয়োগে এমন ভুয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ৯ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার সময় ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়েছেন ৩ শতাধিক। তাঁদের তাৎক্ষণিক সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় এমন প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির ঘটনা বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। এর জন্য শুধু সংক্ষিপ্ত বিচার করলেই হবে না। প্রতারণার দায়ে জড়িত আবেদনকারী ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই নিয়মিত মামলা এবং তাঁদের আজীবন পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।’ বায়োমেট্রিকসহ পরীক্ষা পদ্ধতিও উন্নত করা দরকার। যাতে একজনের পরীক্ষায় অন্যজন অংশ গ্রহণের সুযোগ না পায়। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার জন্য নতুন নীতিমালা করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণামূলকভাবে অংশগ্রহণের ঘটনায় ৩১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলা দায়েরের পর সংক্ষিপ্ত সাজার মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে। বিচারক নিয়োগের এই পরীক্ষায় ২৪৬ জনকে আটক করে ১০৫টি মামলা করা হয়েছে। কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় আটক করা হয়েছে ৩০ জনকে আর মামলা করা হয়েছে তিনটি।

    এর বাইরে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটক হয়েছেন দুজন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের নিয়োগ পরীক্ষায় দুজন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় তিনজন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটজন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় আটক হয়েছেন ২৮ জন। যাঁদের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের গেস্ট ফ্যাকাল্টি ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ বলেন, একজনের হয়ে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর জন্য আবেদনকারী ও প্রক্সি দিতে আসা উভয়কে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের অন্তত পাঁচ বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।

  • চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী লুলা

    চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী লুলা

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট।

    সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন তিনি।

    তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে জয় পেতে লুলাকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেন তিনি।

    এর আগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবারও দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

    তবে এবারের জয় তার জন্য সহজ ছিল না। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দফায় লুলাকে পেছনে ফেলেছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে লুলা ফল ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, এমনটা অনেকেই মনে করেননি।

    লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রবণতার বিপরীতেও অবস্থান নিয়েছেন লুলা। অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে ভোটাররা ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাখ্যান করে ডানপন্থীদের বেছে নিচ্ছেন। আর্জেন্টিনা, চিলি ও কলম্বিয়ার মতো বড় দেশগুলোতেও বর্তমানে রক্ষণশীল নেতারা ক্ষমতায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচনে জয় ধরে রাখলেন বামপন্থী নেতা লুলা।সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স

  • দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয়

    দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয়

    সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। রোববারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। এর মধ্য দিয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

    জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

    তবে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন আরো জোরালো হয়।

    টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভুসিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি। শিক্ষার্থীদের তালিকা জয়ী হয়েছে।’

    তার এই ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। গাড়ির হর্ন, মানুষের নাচ আর শিক্ষার্থীদের ‘বিজয়’ ও ‘তার খেলা শেষ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।

    প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাবের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্যও সার্বিয়ার এই ফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

    প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।

    বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাজিচ শিক্ষার্থীদের সদর দপ্তর থেকে বলেন, ‘প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্‌যাপন করছি, আগামীকাল ভবিষ্যৎ গড়ব।’

    রেকর্ড ভোটার উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জয়

    রোববার ভোটগ্রহণের দিন দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এমনকি বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ভুসিচকেও।

    জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

    ভোটার কাতারিনা পেত্রোভিচ বলেন, ‘এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আমাকে অবাক করেনি। কারণ, গত দুই বছরে বড় ও শক্তিশালী একটি গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে।’

    দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন ভুসিচ। ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে তার অবস্থান ছিল শক্তিশালী। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অনেকেই এত দ্রুত তার পরাজয় স্বীকারের বিষয়টি কল্পনাও করেননি।

    ভুসিচের সমর্থকেরা তার সরকারের সময়ে অর্থনীতির আধুনিকায়ন এবং নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের কৃতিত্ব তুলে ধরেন।

    পরাজয় স্বীকার করলেও ভুসিচ বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী, কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু আমাদের সংগঠন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’

  • জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন।

    সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

    প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • খাবারের তালিকায় পুষ্টির সংকট : আলু-পেঁপেতেই চলছে সংসার

    খাবারের তালিকায় পুষ্টির সংকট : আলু-পেঁপেতেই চলছে সংসার

    রাজধানীর রামপুরায় তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন গৃহকর্মী খালেদা বেগম ও নিরাপত্তাকর্মী আলফাজ। দুজনের মাসিক আয় সবমিলিয়ে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দুই সন্তান স্কুলে পড়াশোনা করে, যার পেছনে মাসে খরচ হয় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। জুলাই পর্যন্ত বাসাভাড়া ছিল সাত হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে তা বেড়ে হয়েছে আট হাজার টাকা। এছাড়া, হাঁপানিতে আক্রান্ত আলফাজের ওষুধের পেছনে মাসে খরচ হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। সব খরচ মেটানোর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হাতে থাকে সামান্য কিছু টাকা।

    বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি। ফলে খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার। বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ সময় আলু, পেঁপে ও ডাল দিয়েই দিন পার করছে পরিবারটি।

    আলাপকালে খালেদা বেগম বলেন, ‘বাজারের জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, আয় সেভাবে বাড়েনি। এর মধ্যে গত দুই মাস ধরে বাড়িভাড়া এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু ভালো-মন্দ খাওয়ার সামর্থ্যও আর নেই। গত কোরবানির ঈদের পর আর মাংস কেনার সুযোগ হয়নি। মাছের দাম এতটাই চড়া যে তা কিনতে গেলে চাল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামি সবজি কিনতে হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আলু আর পেঁপের সঙ্গে একটু ডাল দিয়ে আমাদের সংসারের খাবার চলে। ছোট ছেলে-মেয়েরা খেতে চায় না, তারপরও পেটে ক্ষুধা লাগলে ঠিকই খায়। মাসের শেষ সপ্তাহে চলতে খুব কষ্ট হয়। তখন প্রতি বেলাতেই ভাতের সঙ্গে আলু বা পেঁপের ভর্তা দিয়েই সংসার চলে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আলু আর পেঁপের সঙ্গে একটু ডাল দিয়ে আমাদের সংসারের খাবার চলে। ছোট ছেলে-মেয়েরা খেতে চায় না, তারপরও পেটে ক্ষুধা লাগলে ঠিকই খায়। মাসের শেষ সপ্তাহে চলতে খুব কষ্ট হয়। তখন প্রতি বেলাতেই ভাতের সঙ্গে আলু বা পেঁপের ভর্তা দিয়েই সংসার চলে।’সরকারি কোনো সহায়তা পান কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা বলেন, আগে তার একটি টিসিবির কার্ড থাকলেও গত ছয় মাস ধরে সেটিও বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে চলতে থাকলে একসময় দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    খালেদা বেগমের পরিবারের মতো সীমিত আয়ের বহু মানুষকে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে খাদ্যের মান ও বৈচিত্র্য কমাতে হচ্ছে। এতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বাজারের জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, আয় সেভাবে বাড়েনি। এর মধ্যে গত দুই মাস ধরে বাড়িভাড়া এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু ভালো-মন্দ খাওয়ার সামর্থ্যও আর নেই। গত কোরবানির ঈদের পর আর মাংস কেনার সুযোগ হয়নি। মাছের দাম এতটাই চড়া যে তা কিনতে গেলে চাল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামি সবজি কিনতে হয়।— খালেদা বেগম, গৃহকর্মী

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। অথচ জাতীয় মজুরি হার সূচক বেড়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় না বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমছে।

    জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও এই চাপকে আরও তীব্র করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন ব্যয় ও ধানের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চালের বাজারেও।

    এদিকে, গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে প্রকাশিত ২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের (জিএইচআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুধা দূরীকরণে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি আগের তুলনায় কিছুটা মন্থর হয়েছে। ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং দেশের ক্ষুধার মাত্রা এখনও ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২০ থাকলেও সর্বশেষ মূল্যায়নে তা কমে হয়েছে ১৯ দশমিক ২। অর্থাৎ আট বছরে স্কোর কমেছে শূন্য দশমিক ৮ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। যেখানে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্কোর ৪২ শতাংশের বেশি কমেছিল।

    শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির কিছু সূচকও বেশ উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় ওজন কম থাকার হার ২০১৮ সালের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে, দীর্ঘ মেয়াদে খর্বকায়তার হার কিছুটা কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ দেশের প্রতি চার শিশুর প্রায় একজনের বয়স অনুপাতে উচ্চতা কম।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সার্বিক জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও তা কমে বর্তমানে ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।

    তবে, ২০২২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ‘নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক পারিবারিক নির্দেশিকা’য় দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। নির্দেশিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার থেকে বঞ্চিত এবং প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত সমস্যায় ভুগছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতার শিকার, যা কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    ওই নির্দেশিকায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক খাদ্যতালিকায় চাল বা গম, শ্বেতসারসমৃদ্ধ মূল ও কন্দজাতীয় খাবার, মাছ-মাংস, ডাল, দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্য, মৌসুমি ফল, শাকসবজি এবং ডিম রাখার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ২৭০ থেকে ৪২০ গ্রাম চাল বা গম, ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম শ্বেতসারসমৃদ্ধ মূল, কন্দ ও কলা, মাঝারি আকারের এক থেকে চার টুকরো মাছ বা মাংস, এক থেকে দুই কাপ ডাল, অন্তত এক কাপ দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য, ন্যূনতম দুটি মৌসুমি ফল, ১০০ গ্রাম সবজি বা ২০০ গ্রাম শাক এবং অন্তত একটি ডিম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।

    এদিকে, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) ২০২২’-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বকায় (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা), ২২ শতাংশ কম ওজনের এবং ১১ শতাংশ কৃশকায় (উচ্চতার তুলনায় কম ওজন) সমস্যায় ভুগছে।

    খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘব ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সরকার জনকল্যাণমূলক সহায়তা দিতে গেলে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয় কিংবা কর বাড়াতে হয়। আবার সাধারণ মানুষের হাতে হঠাৎ অতিরিক্ত অর্থ তুলে দিলে তা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, এই পরিস্থিতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে বৈশ্বিক সংকটও যুক্ত।’খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা জরুরি। যাদের পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।—সাইকা সিরাজ, বাংলাদেশ প্রতিনিধি, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের সবাইকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে কেবল সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পরিবর্তন আনতে হবে। ফাস্টফুড, চিপস ও চকলেটের মতো অপ্রয়োজনীয় খাবারের বাড়তি খরচ কমিয়ে কম খরচে পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

    অধ্যাপক আব্দুল হামিদ আরও উল্লেখ করেন, সরকারের আকার ছোট করার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে অপচয় রোধ করা জরুরি। বিশেষ করে প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অপচয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে, এই ধরনের পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এছাড়া, বিকল্প খাদ্যের নামে বাজারে আসা কৃত্রিম বা ফোর্টিফায়েড ফুড-এর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাঁটি খাবার ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক বা সহজ সমাধান নেই।

    এমন পরিস্থিতিতে মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে সয়াবিন, পেয়ারা, কলা, শাকসবজি, ডাল ও ছোট মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সম্ভব হলে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখার তাগিদ দেন।

    সাইকা সিরাজ আরও বলেন, ‘পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা জরুরি। যাদের পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের ট্রাকে পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্কুল মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

  • নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে   বিচার শুরু

    নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    অভিযুক্তদের তালিকায় নেতানিয়াহু ছাড়াও রয়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

    তুরস্কের প্রসিকিউটররা তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক রাখা, গুরুতর ডাকাতি, জাহাজ ছিনতাই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছেন। ফিলিস্তিনে গণহত্যার অভিযোগও রয়েছে মামলায়।

    জুলাই মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আগস্টে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য তুরস্কের অনুরোধের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করল।

    গাজামুখী ত্রাণবহরে হামলার অভিযোগ

    মামলার মূল বিষয় ২০২৫ সালের গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান। গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে সেখানে আটকে পড়া মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ত্রাণবহর যাত্রা করেছিল।

    ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ৫০টির বেশি জাহাজ যাত্রা শুরু করে। পথে তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলের কাছে বহরটির কয়েকটি নৌযানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী নৌযানগুলো আটক করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বহরে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তাদের অভিযোগ, আটকের পর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অপমানজনক আচরণ এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

    ১০১ ভুক্তভোগীর পক্ষে বিচার

    আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে তুরস্ক মধ্যস্থতা করে। পরে কয়েক শ অংশগ্রহণকারীকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও নোভারা মিডিয়ার এক অবদানকারীও ছিলেন।

    ইস্তাম্বুলে তাদের সঙ্গে কাজ করেন আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দল। নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান মামলায় ১০১ জন ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আইনি দল বলেছে, এ বিচার শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নয়, বরং অপরাধের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    আইনি দলের ভাষ্য, অনাহারে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্র সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করলে, সেই অভিযানের নির্দেশনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিচারিক জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক এখতিয়ারে মামলা

    বিদেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার সুযোগ দেয় সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার বা ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন। তুরস্ক এই নীতির আওতায় মামলাটি পরিচালনা করছে।

    এ নীতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কোনো দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে সংঘটিত না হলেও করা যেতে পারে। তবে মামলার বিচারিক এখতিয়ার, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং অভিযুক্তদের দায় নির্ধারণ আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে।

    ইতালিতেও তদন্তের মুখে ইসরাইলি কর্মকর্তারা

    ইস্তাম্বুলে বিচার শুরুর পাশাপাশি ইতালির রোমেও গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ইতালীয় ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে বেন-গভির, কাৎজ, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির এবং আরো ১১ জন রয়েছেন।

    তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অপহরণ, শারীরিক ক্ষতি, ডাকাতি, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জাহাজডুবির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তুরস্ক ও ইতালিতে চলমান এসব আইনি পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগে বাধা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু হওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; তাদের দায় আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

  • চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই অনুমোদন

    চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই অনুমোদন

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কমিটির পৃথক দুটি সভায় এসব বই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত বই দুটি হলো—‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।

    চতুর্থ শ্রেণির বই অনুমোদনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই অনুমোদনের জন্য অনুষ্ঠিত পৃথক সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খানসহ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির অন্যান্য সদস্য অংশ নেন।

  • ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্য প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    তারা বলছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এড়াতেই তারা ক্লাসে ফিরতে চান। এ জন্য শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কবে তারা ক্লাসে ফিরছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অপরদিকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার চুয়েট পরিদর্শনে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি। ওই দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

    রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রোববারের সাধারণ সভায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বুধবার কমিটির সদস্যরা চুয়েট পরিদর্শন করবেন। এ সময় তারা পৃথক সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

    শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা আরো জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়।’

    একই দিন চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। ওই সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।’ ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন। এই উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন, সিলেটে একজন, চট্টগ্রামে দুজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জন মারা গেছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জন।

    চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২২৪৯

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২২৪৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৪৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬০৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২২৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২০১ জন, খুলনা বিভাগে ২৯৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২৪ জন, রংপুর বিভাগে ৮২ এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন।

  • দিনাজপুরে পূর্ণভবা নদীতে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে একজনের মৃত্যু

    দিনাজপুরে পূর্ণভবা নদীতে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে একজনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের পূর্ণভবা নদীতে নৌকায় পারাপারের সময় পানিতে পড়ে ডুবে আফজাল (৫৫) নামে এক কৃষক নিখোঁজ হয়েছেন। পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কয়েক ঘণ্টার অভিযান শেষে নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত আফজাল বিরল উপজেলার ১১ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের মরহুম গেদু মোহাম্মদের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১১ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বুজরুক বসন্তপুর মাদরাসা-সংলগ্ন পূর্ণভবা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নৌকায় নদী পারাপারের সময় আফজাল পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়।

    খবর পেয়ে দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার ফিরোজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো: ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং ডুবুরি খাদিমুল ইসলামসহ একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে নদী থেকে আফজাল হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।আইনি প্রক্রিয়া শেষে আফজাল হোসেনের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • সিলেটে এসআরবির অভিযানে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, গোলাবারুদ, সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার

    সিলেটে এসআরবির অভিযানে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, গোলাবারুদ, সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট নগরীর খাদিমনগরে একটি জঙ্গল থেকে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, গোলাবারুদ ও পুলিশের লুণ্ঠিত একটি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের পীরেরগাঁও এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি ওয়ান শুটার পাইপগান, চারটি পাওয়ার জেল, চারটি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, একটি সেফটি ফিউজ, চারটি শর্টগানের কার্তুজ ও একটি অবিস্ফোরিত সাউন্ড গ্রেনেড। তবে এ সময় এর সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    এসআরবি-৯ সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পীরেরগাঁও এলাকার একটি জঙ্গলে এসআরবির একটি দল তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে জঙ্গলে পড়ে থাকা একটি পলিথিনের ব্যাগ থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) এর সত্যতা নিশ্চিত করে এসআরবি-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিডিমূলে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসআরবি-৯-এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ,আর

  • বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৫

    বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি-১) বিশেষ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আটক পাঁচজনকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া ও লাউচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক পাঁচজন হলেন— ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয় (২৭), বৈষ্ণবপাড়ার সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো: সিফাত (২০), গাজীপুরের মো: রুবেল মিয়া (২৭) ও নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়ার মো: ফুরকান হোসেন (১৯)।

    ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৈষ্ণবপাড়ায় সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ উদয়কে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ২১৭ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। যার আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এছাড়া ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোসা: ফারহানা ইয়াসমিন জানান, মাদক কারবারিতে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। এ,আর

  • মুকসুদপুরে পিকআপের চাপায় অটোভ্যানযাত্রী বাবা-মেয়ে নিহত

    মুকসুদপুরে পিকআপের চাপায় অটোভ্যানযাত্রী বাবা-মেয়ে নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দ্রুতগতির পিকআপের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের যাত্রী বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উপজেরার গেড়াখোলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো— ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবনবেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫) ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার (৬)।

    মুকসুদপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জগামী একটি মাছবাহী পিকআপ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে অটোভ্যানে থাকা বাবা রঞ্জু ও মেয়ে সামিরা গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাবা-মেয়ের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • ৪ বছরের সাজায় ২০ বছর পলাতক, অবশেষে পুলিশের খাচায়

    বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাদক মামলায় চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসুদ মিয়াকে (৫৫) দীর্ঘ ২০ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ধুনট থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি বুড়িভিটা গ্রামের বুলু মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে মাদকদ্রব্য বিক্রির সময় তৎকালীন শাহজাহানপুর থানা-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মাসুদ মিয়া। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বগুড়ার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত ২০০৬ সালে উক্ত মামলায় মাসুদ মিয়াকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    তবে রায় ঘোষণার আগেই মাসুদ মিয়া উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এর পর থেকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ছদ্মবেশে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় পলাতক ছিলেন।

    ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাজা এড়িয়ে পলাতক থাকা আসামি মাসুদ মিয়াকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • লৌহজংয়ে ১৬২০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি আটক

    লৌহজংয়ে ১৬২০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক হাজার ৬২০ পিস ইয়াবাসহ দীপালী বেগম (৩৫) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১০-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) লিজা আক্তার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার লৌহজং উপজেলার কনকসার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ওই নারীকে আটক করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসআরবি-১০ শ্রীনগর ক্যাম্পের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১১টার দিকে লৌহজং থানাধীন কনকসার এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে এক হাজার ৬২০ পিস ইয়াবাসহ একই গ্রামের দীপালী বেগমকে আটক করা হয়।

    আটক নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে লৌহজং থানায় দু’টি মাদক মামলা রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ,আর

  • চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

    চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে চালকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এই দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে বাসচালক মো: আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও বাসের সুপারভাইজার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমরাও খান দিপু জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যান।

    পরে চলন্ত বাসে আসামিরা ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মোবাইলফোন ছিনতাই করে নেয় তারা।

    পরদিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামায়। এ সময় ভুক্তভোগী নারী ওই এলাকায় টহলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ অভিযুক্তদের আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় ভুক্তভোগী নারী মামলা করেন।

    টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার শেষে রায় ঘোষণার পর আসামিদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ,আর

  • চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর রাণীনগরে পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) গ্রেফতার আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এর আগে, শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাতে উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের জামাল সরদারের বাড়ি থেকে তার ছেলে ফেরদৌস সরদারের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শনিবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে কাশিমপুর সোনার পাড়া গ্রামের আলাউদ্দীনের ছেলে মজিবর রহমান ওরফে ডুবাকে (৪৩) আটক করে। আটক মজিবর রহমান ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ফেরদৌস সরদার।

    তিনি জানান, মজিবর রহমানের দেয়া তথ্যমতে, পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কাশিমপুর গ্রামের আনোয়ার সোনারের ছেলে সাইদুল সোনার (৩২) ও আতাইকুলা গ্রামের মোজাম হোসেনের ছেলে সাগর হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করে।

    পরে, গ্রেফতার আসামিদের দেয়া তথ্যমতে, পুলিশ উপজেলার করজগ্রাম এলাকার সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আসামিদের রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িত আরো কয়েকজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • মার্কিনদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে প্রস্তুত ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

    মার্কিনদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে প্রস্তুত ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

    ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্রগুলোও ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

    এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের একটি লিখিত নথি (মেমো) দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এমন সময়ে জে ক্লেটনের এ সতর্কবার্তা এল, যখন সৌদি আরবে নিজেদের মিশনে কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে ওয়াশিংটন।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করলে ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেয়।

    হুতিরা ইরানের পক্ষে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। প্রায় আট মাস ধরে চলা এ যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সংঘাতেও রূপ নিয়েছে। এ আঞ্চলিক যুদ্ধের একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাত।

    চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে আবার বড় পরিসরে সামরিক হামলা শুরু করলে ইরানও আরও জোরালো জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ উল্লেখ একটি বার্তায় ক্লেটন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে লিখেছেন, ‘বিশেষ করে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আমরা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি যে মার্কিন কর্মকর্তাদের হামলার নিশানা করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান।’

    ক্লেটন আরও লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু দেশে মার্কিনদের বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

    এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ওই মেমোর একটি অনুলিপি সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও পাঠানো হয়েছে। মেমোটি গোপনীয় শ্রেণির ছিল না।

    মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি থেকে চলে আসার নির্দেশ দিয়েছে।

    এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা হালনাগাদ করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরায়েল। ইরানের মিত্র হুতিদের কাছ থেকে হামলার হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়।

  • শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে নয় হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    এক প্রেস রিলিজে তিনি বলেন, হাতিয়া থানাধীন নলচিরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন হাতিয়া একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা নয় হাজার ৫০০ লিটার অবৈধ ও অপরিশোধিত পামওয়েল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বোটও জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিসিজি স্টেশন দক্ষিণ জোন মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দকৃত পামওয়েল ও বোটের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, ৫ দিন পর যুবকের মৃত্যু

    মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, ৫ দিন পর যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লো্বাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে গাছে উঠে চালতা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর দগ্ধ তাওহীদ (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত তাওহীদ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকার নুরনবীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আচার তৈরির জন্য চালতা সংগ্রহ করতে কড়ইচড়া ইউনিয়নের ছালাবান্দা এলাকায় যান তাওহীদ। সেখানে একটি গাছে উঠে চালতা পাড়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

    পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের আত্মীয় শফিকুল ইসলাম ছিবল ও সালাউদ্দিন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তাওহীদের শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যায়। তাকে প্রথমে মাদারগঞ্জ, পরে জামালপুর হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়।

    একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন তাওহীদের বাবা নুরনবী। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে চালতা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিল। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য আমরা প্রথমে মাদারগঞ্জ, পরে জামালপুর হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসা করিয়েও তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার ছেলেকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। যারা আমার ছেলেকে ভালো হতে দেখার আশা করেছিলেন, তাদের সবার কাছে দোয়া চাই।’

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীস রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেয়ার আবেদন করা হয়। পরে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • ইরানে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের’ কড়া সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা

    ইরানে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের’ কড়া সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা

    যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার জন্য কেউ কখনো দাবি জানায়নি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ হামলার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।

    ওবামার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ওবামাকে আক্রমণ করে ট্রাম্প লেখেন, ওবামা একজন অত্যন্ত অযোগ্য প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসন অতীতে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়ে তুষ্ট করেছিল এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।

  • মহালছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    মহালছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মাহফুজা আক্তার মনি (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরের দাবি, মাহফুজা আত্মহত্যা করেছে। তবে, ভুক্তভোগী মাহফুজার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

    রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহফুজা আক্তার মনি উপজেলা সদর ইউনিয়নে মো: মজিবুর রহমানের মেয়ে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের মো: নুর আলমের ছেলে মো: সুজনে (২০) সাথে মাহফুজা আক্তার মনির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

    মাহফুজা আক্তার মনির শ্বশুর মো: নুর আলম জানান, গতকাল রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মিলিয়ে দেন। রাতে সবাই একসাথে ভাত খাওয়ার পর ঘুমাতে চলে যান, ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে বাহিরে গেলে তিনি তার ছেলে সুজনের ঘরের দরজা খোলা দেখে সুজনকে ডাকেন। সুজন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, পাশে তার সন্তান থাকলেও স্ত্রী মাহফুজা পাশে নেই। এরপর ডাকাডাকি শুরু করে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির একটি খালি ঘরের দরজা বন্ধ থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর ওই ঘরের দরজা খুলে মাহফুজার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মাহফুজার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় মাহফুজাকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    নিহতের মামা মো: সমের আলী বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার ভাগ্নিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার ভাগ্নি ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, ঝুলে থাকার বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

    এ বিষয়ে মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ,আর

  • নেতানিয়াহুর বিকল্প ব্যবস্থায় পানি ঢাললো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    নেতানিয়াহুর বিকল্প ব্যবস্থায় পানি ঢাললো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি প্রস্তাব ঘিরে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বা ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা নেমে এলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ (ডিজিটাল মুদ্রা) ব্যবহারের কথা বলেছিলেন তিনি।

    তবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ইসরাইল’ তার এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ব্যাংকটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

    এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে ইসরাইলের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতি সামলাতেই তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির কথা জানান।

    নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, বিকল্প মুদ্রার পেছনে না ছুটে বিশ্ববাজার ও বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা করা এবং নিষেধাজ্ঞা আটকানোর দিকেই সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

    এদিকে বিরোধী দলের নেতারাও নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এবং ইয়োভ হোরোউইৎস সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর চেষ্টা না করে বিকল্প ব্যবস্থার বাহানা তৈরি করা একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইসরাইল থেকে নিজেদের টাকা তুলে নিতে পারেন, যা অর্থনীতিকে চরম সংকটে ফেলবে।

  • সবজি-মাছে স্বস্তি, চাল-মুরগির চাপে মধ্যবিত্ত

    সবজি-মাছে স্বস্তি, চাল-মুরগির চাপে মধ্যবিত্ত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাসের শেষ সপ্তাহে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় শাকসবজির দাম কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।সবজি ও মাছের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও চাল এবং ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। ফলে একদিকে সবজি ও মাছ কিনতে কিছুটা কম টাকা খরচ করতে হলেও অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক খাদ্যব্যয় সামাল দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজার, জগত বাজার, মেড্ডা বাজার ও কাউতলী বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা বাজারে সবজি নিয়ে আসছেন। পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদেরও ভিড় দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, কাঁচা মরিচ, করলা, ধনেপাতা, টমেটো ও লাউয়ের দাম কমেছে।

    অন্যদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ কেজির বস্তায় চালের দাম ৭০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।কমেছে সবজির দাম

    গত সপ্তাহে প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি পটল ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৯০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে।

    এ ছাড়াও প্রতি কেজি করলা ৯০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা থেকে ৭০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।কমেছে মাছ ও ডিমের দাম

    শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি নামতে শুরু করায় এবং মাসের শেষ সপ্তাহে ক্রেতা কম আসায় মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে রুই ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ৩২০ টাকা। কাতলা ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৫০ টাকা, গ্রাসকার্প ৩২০ টাকা থেকে ২৯০ টাকা, কার্ফু ৩০০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি হয়েছে।

    ডিমের দামও গত এক সপ্তাহে হালিপ্রতি ৪-৫ টাকা কমেছে। লাল ডিম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৬ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৪ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি কক ৮৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

    দাম কমায় সবজি ও মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের মোট খরচ চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম ও মাংসের মতো অন্যান্য পণ্যের দামের ওপরও নির্ভর করে।

    চাল ও মুরগিতে বাড়তি খরচ

    সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। অর্থা
    ৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

    ২৫ কেজির বস্তায় আটাশ চালের দাম গত সপ্তাহে ছিল ১২৮০ টাকা, এখন ১৩৫০ টাকা। বিআর-২৯ চাল ১২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৩০ টাকা, নাজিরশাইল ১৭০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা, কাটারিভোগ ১৯৫০ টাকা থেকে ২১৫০ টাকা এবং মিনিকেট ১৬০০ টাকা থেকে ১৭৫০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মৌসুমী বোরো চালের। গতু সপ্তাহে এর দাম ছিল ২৩৫০ টাকা, এখন ২৮০০ টাকা।

    যেসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৫০ টাকা ও মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ১ হাজার টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ টাকা, ডায়মন্ড আলু ২০ টাকা ও দেশি আলু ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর চাপ

    নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ে। তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্যপণ্য কেনায় ব্যয় হয়। চাল, ডাল ও মাংসের মতো পণ্যের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সবজির দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও চালের দাম বাড়ায় সামগ্রিক ব্যয় কমছে না। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    বাজারে সবজি কিনতে আসা শিক্ষক আবদুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাজারের সবকিছুই নাগালের বাইরে। সবজির দাম আপাতত কম হলেও অন্য জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

    মাছ কিনতে আসা ক্রেতা নীহার রঞ্জন সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা কম। তবে দাম বাড়ার সময় যে পরিমাণ বাড়ে, সে তুলনায় দাম কমে না। এ কারণে আমাদের মতো নিম্নবিত্তের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়।

    মেড্ডা বাজারে সবজি কিনতে আসা রইস মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারের অবস্থা টালমাটাল। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, এখন তৃপ্তি মিটিয়ে খাবার খাওয়ার দিন শেষ। সবজি কিনতে পারলে মাছ কিনতে পারি না, মাছ কিনতে পারলে মাংস কিনতে পারি না।

    আনন্দ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শিপলু ও ওয়াসিম মিয়া জানান, মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে ক্রেতা কম। এ ছাড়াও নদীতে পানি নেমে যাওয়ায় চাষের মাছের চাহিদা কম, তাই এখন মাছের দাম কম।

    মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাশেদ মিয়া বলেন, এখন শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় মুরগিতে ভাইরাসের ক্ষতি বেশি হয়, যে কারণে দাম বাড়ছে।

    চালের দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের মেসার্স জালাল এন্টারপ্রাইজের প্রবাস উদ্দিন জানান, বর্তমান মৌসুমে পুরোনো চাল শেষ পর্যায়ে। পুরোনো চালের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।

    সবজির দাম কমার বিষয়ে সবজি বিক্রেতা মো. মাহবুব বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ক্রেতা কম, আর শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়ায় দাম কমছে।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    ক্রেতারা বলছেন, সবজি ও মাছের বাজারে সাময়িক স্বস্তি মিললেও চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নিত্যদিনের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। এক খাতে সামান্য সাশ্রয় হলেও অন্য খাতের বাড়তি খরচে মাসের শেষে টানাটানি থেকেই যাচ্ছে। তাই সিন্ডিকেট রোধ, সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও জোরদার বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, শীতকালীন সবজি ও মাছের দাম কিছুটা কমলেও চাল ও মুরগির মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি চরম উদ্বেগের। বিশেষ করে নতুন চাল আসার ঠিক আগমুহূর্তে পুরোনো চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান না চালিয়ে চালের মিল পর্যায়ে ও পাইকারি আড়তগুলোতে তদারকি বাড়ানো জরুরি। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং ও বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • খাদের কিনারে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    খাদের কিনারে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    মিডিয়ার চাপ সৃষ্টি করে বা সামরিক ভয় দেখিয়ে ইরানকে কোনোভাবেই নতজানু করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে এসব কৌশল অবলম্বন করছে।

    গালিবাফ আরও বলেন, আজকের ইরান অতীতের সেই দুর্বল বা পাহলভি আমলের ইরান নয়। বর্তমান ইরান এক অটুট আত্মবিশ্বাস, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইস্পাতকঠিন প্রতিজ্ঞার দুর্ভেদ্য দুর্গ, যেখানে দেশের সম্মান রক্ষায় কোনো বিদেশি শক্তির রক্তচক্ষু সহ্য করা হবে না।

    মার্কিন প্রশাসন নিজেদের ভুল হিসাব-নিকাশের কারণেই আজ এক গভীর অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মধ্যে ফেঁসে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই বিপদজনক পরিস্থিতি বা জাঁতাকল থেকে কীভাবে বের হতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই।

  • ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই-প্রধানমন্ত্রী

    ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই-প্রধানমন্ত্রী

    ইরাকে বর্তমানে কোনো মার্কিন সেনা অবস্থান করছে না, এমনকি উপদেষ্টা হিসেবেও কেউ নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আল-জাইদি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরাকি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সেনা উপস্থিতি না থাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ধরে রাখার পক্ষে দেওয়া আগের যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কোনো অস্ত্র থাকবে না—সরকারের এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।Advertisement

    তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো অস্ত্র থাকবে না।’

    আল-জাইদি জানান, তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে থাকা অস্ত্রের বিষয়ে সরকার সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া আরও চারটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ইরাক এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে; সশস্ত্র গোষ্ঠীর মালিকানাধীন কোনো রাষ্ট্র নয়।’

    ইরাক একসময় আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিদেশি দূতাবাসগুলো দেশ ছেড়ে যেতে পারত এবং ইরাকের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারত। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা ছিল, কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী কার্যত ইরাকি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তবে তার সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আল-জাইদি।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ইরাকের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাক দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে পেন্টাগন ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

    এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে জোটের সামরিক অভিযানের পরিবর্তে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন পর্যায় শুরু হয়। এর আওতায় প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে।

    আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াবে না ইরাক

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আল-জাইদি বলেন, ইরাক কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না। বরং দেশটি বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায়।

    তার মতে, পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক সংকটের সমাধান একটি চুক্তির মাধ্যমেই করতে হবে। ইরানের সঙ্গে ইরাকের সীমান্ত বন্ধ করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ উভয় দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

    আল-জাইদি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার অর্থ হলো নিজেদেরই অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করা।’

    হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল রপ্তানির উদ্যোগ

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এ পথের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে ইরাক। আল-জাইদি জানান, তুরস্কের জেইহান বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পথ পুনরায় চালু করা এবং রপ্তানির বিকল্প রুট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়লেও ইরাক সেই সুবিধা নিতে পারেনি।’ আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির তেল রপ্তানি কখনো বন্ধ হয়েছে, আবার কখনো চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ২০৩২ সালের মধ্যে ইরাকের দৈনিক তেল উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে ইরাকের ‘তৃতীয় নদী’ হিসেবে উল্লেখ করেন আল-জাইদি। তিনি জানান, জাতীয় বাজেট সংসদে অনুমোদিত হওয়ার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোকে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে তুরস্ক এবং সেখান থেকে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে যুক্ত

  • যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার

    যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার

    ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ ওরফে হিমাংশু রিটোলিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হিমাংশুর সহযোগী আরেক কুখ্যাত গ্যাংস্টার নীরজ ফরিদপুরিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে । মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই লাস ভেগাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই ভারতের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতেন হিমাংশু।

    নীরজ ফরিদপুরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক খুন এবং আরও অনেক অপরাধ করার অভিযোগ রয়েছে।

    আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হিমাংশু। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করা হয়।

    হরিয়ানার রোহতক জেলার রিটোলি গ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু কৈশোরেই অপরাধ দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিশোর সংশোধনাগার থেকে ২০২০ সালে আরও কয়েক জন বন্দিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানোর মতো অন্তত ১৮টি মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) নিখোঁজের তালিকায় হিমাংশুর নাম রয়েছে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশে বসে দিল্লি, হরিয়ানা এবং পঞ্জাবে নিজের অপরাধের ‘নেটওয়ার্ক’ বিস্তার করেছেন হিমাংশু। একাধিক শিল্পপতি, ব্যবসায়ীকে খুন, তাদের থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার নাম জড়িয়েছে। গ্যাংস্টার নীরজ ভওয়ানার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হিমাংশু। ওই গোষ্ঠী ভারতে সক্রিয় বিষ্ণোই গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী।

  • ইরানে আজই হামলা হতে পারে!

    ইরানে আজই হামলা হতে পারে!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে ফের যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আজ রোববারই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অবসানে ‘চমৎকার, বড় ও সুন্দর’ একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। প্রায় আট মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে।

    শনিবার সকালে ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কি না।

    জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’

    এক সাংবাদিক পাল্টা বলেন, ‘আমাদের তো প্রশ্ন করতেই হবে।’

    প্রশ্নটিকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিলেও ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    তিনি বলেন, ‘হয়তো আগামীকালই… হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার চমৎকার, বড় ও সুন্দর একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না।’

    ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সে কারণেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে আবারও দাবি করেন ট্রাম্প।

    শুক্রবারও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’ এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না।

    শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি না? অবশ্যই হতে পারে।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

    এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তেহরান। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

    গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানে ১৪ দফার একটি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করা হয়।

    তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আনে ইরান।

    এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সরকারকে উৎখাতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

  • সৌদি আরবে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

    সৌদি আরবে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

    সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি রিয়াদ। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনজীবীর সহায়তা এবং তাদের লাশের অবস্থান জানতে চেয়েছে ঢাকা।

    গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের পরিচয় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশ সরকার বা দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে জানানো হয়নি বলে ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    শরিয়াহ আইনে ‘তাজির’ কী?

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ‘তাজির’ ধারায়। ইসলামি ফৌজদারি আইনে তাজির বলতে এমন অপরাধের শাস্তি বোঝায়, যার জন্য কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক নির্দিষ্ট দণ্ডের পরিবর্তে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকে। অপরাধের ধরন, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামো বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে।

    ইসলামি ফৌজদারি আইন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত তিনটি শ্রেণির কথা আসে—হুদুদ, কিসাস ও তাজির। হুদুদে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে; কিসাস মূলত হত্যা বা শারীরিক ক্ষতির মতো অপরাধে প্রতিশোধমূলক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত; আর তাজিরের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণে বিচারিক বিবেচনার ভূমিকা থাকে।

    তবে তাজির ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক রয়েছে। কোনো একটি দেশের বিচারিক ব্যাখ্যা বা প্রয়োগকে ইসলামি আইনের সব মতের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সৌদি আরবের এই দুই মামলায় ঠিক কোন আইনি যুক্তি, প্রমাণ ও বিধানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা বোঝার জন্য আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রয়োজন।

    হুদুদ ও কিসাসের সঙ্গে তাজিরের পার্থক্য

    ইসলামি ফৌজদারি আইনের তিনটি শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলে সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থার বিতর্কটি আরও পরিষ্কার হয়।

    হুদুদ: ইসলামি আইনশাস্ত্রে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিকে হুদুদ বলা হয়। প্রচলিত আলোচনায় অবৈধ যৌন সম্পর্ক বা জিনা এবং চুরির মতো অপরাধ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন অপরাধ হুদুদের আওতায় পড়বে, তার সংখ্যা ও ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের শাস্তি প্রয়োগে প্রমাণের কঠোর শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

    কিসাস: হত্যা বা মানুষের জীবনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রতিদানমূলক বিচারব্যবস্থাকে কিসাস বলা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী প্রতিদানের প্রশ্ন আসে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষমা করতে পারে বা দিয়াত—অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ—গ্রহণ করতে পারে।

    তাজির: যেসব অপরাধ নির্দিষ্ট হদ্দ শাস্তির আওতায় পড়ে না কিংবা কিসাসের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির ব্যবস্থা হলো তাজির। অপরাধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হয়।

    সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তাজির বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই শ্রেণিতে বিচারকের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হতে পারে। ফলে কোন আচরণকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কেন নির্দিষ্ট শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব নির্ভর করে মামলার তথ্য, প্রযোজ্য বিধান ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।

    ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনের সম্পর্ক

    বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রধানত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে ইসলামি শরিয়াহ দেশটির আইনি ব্যবস্থার একটি প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইন, বিধিবিধান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বিচার ও শাসনব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে।

    সৌদি আরবের বিচারিক ব্যাখ্যায় ঐতিহাসিকভাবে হাম্বলি মাজহাবের প্রভাব রয়েছে। এই মাজহাব কোরআন ও হাদিসভিত্তিক বিধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে দেশটির বর্তমান বিচারব্যবস্থাকে শুধু একটি মাজহাবের ব্যাখ্যা দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না; রাষ্ট্রীয় বিধান ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত আইনি চর্চাও এতে ভূমিকা রাখে।

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামি ফৌজদারি আইন কোনো একক ও সর্বজনস্বীকৃত দণ্ডবিধি নয়। একই বিষয়ে বিভিন্ন আইনবিদের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সৌদি আরবে দেওয়া কোনো নির্দিষ্ট শাস্তিকে ইসলামী আইনের একমাত্র বা সর্বজনীন ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।

    বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

    তাজিরের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতার পরিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে যখন এ ধরনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন অপরাধের সংজ্ঞা, শাস্তির আইনি ভিত্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    আইনবিদ চিবলি মাল্লাতের ম্যাপিং সৌদি ক্রিমিনাল ল গবেষণায় সৌদি আরবের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় আইন এবং হুদুদ, কিসাস ও তাজিরের মতো ঐতিহ্যগত শ্রেণির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    তাজিরের আওতায় শাস্তি নির্ধারণে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকলেও সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কীভাবে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, প্রমাণের মান, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে স্বচ্ছতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

    দুই বাংলাদেশির মামলায় এসব বিষয় প্রকাশ্যে স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশের সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সৌদির কাছে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা

    জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পেছনের ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, ঘটনাটি কখন ও কোথায় ঘটেছিল এবং কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং তাদের লাশ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তারা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। লাশ সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—এ বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। দ্রুত এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

    বন্দির তালিকায় ছিল নাম, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না

    সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিদের তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য উল্লেখ ছিল না। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব বাংলাদেশকে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়—একজনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ব্যভিচারের অভিযোগ। তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ ছিল না।

    জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় স্মারকলিপি ও বন্দিদের তালিকায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নথি অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট এবং সিথিকে পরদিন আটক করা হয়েছিল। দুজনই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

    অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বন্দির তালিকায় থাকা অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রকাশ করা অভিযোগের সম্পর্ক কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    আপিল আদালতের রায় নিয়ে যা জানা গেছে

    সৌদি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, মামলাগুলো আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়েছে এবং ১৩ বিচারকের একটি আপিল প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিল। তবে বন্দিদের তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য না থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পায়নি।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বিচারিক অনুমোদনের পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, অভিযুক্তরা নিজেদের পক্ষে কীভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তাদের আইনজীবী ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নথি এখনো বাংলাদেশের হাতে আসেনি।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, রায়ের কপি ও অন্যান্য নথি হাতে পাওয়ার পরই বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হবে।

    ১৮ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে। ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করে। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ওই বৈঠকে আগের কূটনৈতিক চিঠির একটি অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের হাতে দেওয়া হয়।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

    দুই পরিবারের প্রশ্ন, লাশ ফেরানোর অনিশ্চয়তা

    নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান। তার পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগাম কিছু জানতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

    সিথি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। তার পরিবারের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরেও পরিবার বিস্মিত হয়েছে। তবে পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে সৌদি আদালতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

    প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশ্ন

    সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দেশটিতে আটক বা বিচারাধীন বাংলাদেশিদের বিষয়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন হলে কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নয়; বন্দিদের তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের চূড়ান্ত দণ্ডের তথ্য কেন বাংলাদেশের কাছে ছিল না, বিচার চলাকালে তারা যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং কূটনৈতিক মিশনকে কেন আগাম জানানো হয়নি—এসব বিষয়ও সামনে এসেছে।

    এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি ও সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থাকছে।

    বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। আপাতত ঢাকার অপেক্ষা আদালতের রায়, অভিযোগের বিস্তারিত এবং দুই বাংলাদেশির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের জন্য।

  • ভারতের অরুণাচলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

    ভারতের অরুণাচলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

    প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে ঘটেছে সহিংসতার ঘটনা। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কার্যালয়, পাসিঘাট থানা ও রাজ্যের শাসকদলের একাধিক নেতার বাড়ি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন শহরে জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র বহন এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    শনিবার জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিনের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বসিরাম সিরাম এই উত্তেজনার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের সমীক্ষায় সমর্থন আদায় করতে সরকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত মেগা বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও সরকারের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

    অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) নিয়ে যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভুয়া খবর প্রচার না করার আবেদন জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য সরকার। শনিবার রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অনুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল।

    আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। সরকারিভাবে বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই গত রাতে বৈঠক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ইরানি নেতাদের আর হত্যা করতে চাইনা- ট্রাম্প

    ইরানি নেতাদের আর হত্যা করতে চাইনা- ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতাদের হত্যা বন্ধ করতে হবে, যাতে আলোচনায় কারা যুক্ত রয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি নেতাদের হত্যা করা আমাকে বন্ধ করতে হবে। কারণ, শেষ পর্যন্ত আমাদের বুঝতে হবে, আমরা আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছি।’

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো বিমান নেই, জাহাজ নেই, কিছুই নেই। তাদের শীর্ষপর্যায়ের নেতা নেই। প্রথম স্তরের নেতা শেষ, দ্বিতীয় স্তরের নেতাও শেষ।’

    ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই দেন ট্রাম্প। তার দাবি, ওই চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বারাক হোসেন ওবামার করা সবচেয়ে খারাপ চুক্তিগুলোর একটি বাতিল করেছিলাম। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ), যাকে অনেকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি বলে থাকেন, সেটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সৌভাগ্যক্রমে, ঠিক সময়েই আমি চুক্তিটি বাতিল করেছিলাম।’

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালে এবং চলতি বছর পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

    ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে সামরিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য দিক থেকেও পরাজিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াচ্ছে ভারত

    ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াচ্ছে ভারত

    ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদা বাড়ার কারণে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং।

    এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগের কারণে ভারতীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, কামানের গোলা এবং ছোট ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা পণ্যের রপ্তানি রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। ইউরোর হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৬০ কোটি। ইউরোপের বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার চাহিদা বৃদ্ধির বড় ভূমিকা রয়েছে।

    ১০ বছরে বিস্তৃত হয়েছে প্রতিরক্ষা শিল্প

    গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে এ খাত মূলত ১৬টি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৮৪০টি বড় ও মাঝারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, যার মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

    সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগও বেড়েছে।

    ভারত বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কামান ও গোলাবারুদ, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র, হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে চাহিদা বৃদ্ধি

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

    ইউরোপের বাড়তি চাহিদা ভারতীয় উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রচলিত ধরনের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার রপ্তানি বেড়েছে।

    তবে ইউরোপে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হয়ে ওঠার দাবিটি রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ অবস্থানের পেছনে নির্দিষ্ট সময়কাল, পণ্যের শ্রেণি ও দেশভিত্তিক রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

    দেশীয় উৎপাদনে জোর, ইউরোপে যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনা

    ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, দেশটির সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বার্ষিক মূলধনি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ দেশের ভেতরে ব্যয় করার লক্ষ্য নিয়েছে। বছরে এ খাতে মূলধনি ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলার নয়, বরং ২০০০ থেকে ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলার—যার বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি জানান, ভারতীয় নকশায় তৈরি, দেশেই উন্নয়ন ও উৎপাদিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানো।

    ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজারে আরও বেশি অংশ নেওয়ার জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। একইভাবে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ভারতে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    রাজেশ কুমার সিংয়ের মতে, ভারত ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে সরবরাহব্যবস্থা আরও সমন্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ সহজ হবে। অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন বাজারের সম্ভাবনা

    ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের আরেকটি ক্ষেত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। প্রতিরক্ষা সচিব জানান, এ অঞ্চলের দেশগুলো ভারতীয় ছোট অস্ত্র, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং কামানব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

    ভারত একসময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার চেষ্টা করেছে দেশটি। ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থান ধরে রাখতে পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

    এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৮৮১ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো ২২ জনকে।

    আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় প্রদান, নিয়োগ কিংবা তাদের পরিচয় গোপন রাখার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী।

    এছাড়া ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। ভ্রমণের আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে আরো ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনকালীন মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশটির অভ্যন্তরে তাদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

    মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এসব অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

  • যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারীতে যুব উদ্যোগ সৃষ্টিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে শহরের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএস মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশন নামের যুব সংগঠন সভার আয়োজন করে।

    সভার উদ্বোধন করেন ইউএসএস-’র নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়। সভায় নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছবি রানী দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, দোস্ত এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, যুবদের মাধ্যমে সমজের পরিবর্তন আনা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে যুবদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকলে সমাজে অসঙ্গতি দূর হবে। বাল্য বিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জেন্ডার বৈষম্য রোধের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেকে বিকশিত করতে পারলে যেমন প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৃষ্টি, জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া সচেতনতা বিষয়ক এ সভায় ৩০ জন যুব অংশ নেয়।

  • মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

    মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব জুয়েল রানা।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তিনি ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ৪-এর (৩) উপধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা প্রাপ্য হবেন।

    ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে সে সময় আদালতে মামলা করেছিলেন নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

  • মসজিদ ভাঙার শঙ্কায় ভারতের মুসলমানরা

    মসজিদ ভাঙার শঙ্কায় ভারতের মুসলমানরা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত শতবর্ষী একটি মসজিদ উচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মসজিদটির ইমাম দাবি করেছেন, তাদের স্থাপনা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ভারতের মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মসজিদটি কোথায়, কেন উচ্ছেদের শঙ্কা

    নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের কাছেই রেসকোর্স মসজিদের অবস্থান। এটি রেসকোর্স ক্লাবের ভেতরে অবস্থিত। মসজিদটি নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। ২০০৯ সালে এটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

    মসজিদটির জমির মালিকানা ও বৈধতা নিয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের (এলঅ্যান্ডডিও) দাবি, জমিটি সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে স্থাপনাটি অননুমোদিতভাবে রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের দাবি, মসজিদ ও পাশের কবরস্থান ১৯৭৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দিল্লি প্রশাসনের সরকারি গেজেটে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে স্থাপনা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

    নোটিশ নিয়ে বক্তব্য

    মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের দাবি, ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মসজিদ ছেড়ে যেতে বলেছেন। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৯ অক্টোবর উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছে এবং ছয় দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। জমির মালিকানা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতা এবং মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

    পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ, নামাজে প্রবেশেও বিধিনিষেধ

    গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই সময় এলাকাটিতে বস্তি উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম চলছিল। এনডিএমসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান ভাঙার কাজ এবং জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়।

    দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ ১৯ ও ২১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানান। বোর্ডের দাবি, মসজিদটিতে দীর্ঘদিন ধরে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল এবং নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য পানি ও বিদ্যুৎ জরুরি।

    শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও পরে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মসজিদের ফটকে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকেলের দিকে অল্প কয়েকজনকে আসরের নামাজে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের জন্য আসা কয়েকজনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে মুসল্লিরা জানিয়েছেন। পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদ-সংশ্লিষ্টরা জেনারেটর ব্যবহার এবং অজুর জন্য ভূগর্ভস্থ পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছেন ।

    দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন খারিজ

    পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে ১৫ অক্টোবর আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, মসজিদের জমিতে আবেদনকারীর অধিকার, মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত রায়ের আওতার বাইরে কি না—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ রয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ওই রিট আবেদনের পরিসরে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

    আদালত আরো পর্যবেক্ষণ করেন, দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেনি।

    আশপাশে উচ্ছেদ অভিযান, বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবার

    মসজিদটির আশপাশে রেসকোর্স রোড এলাকায় বস্তি উচ্ছেদ অভিযানও চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার ওই এলাকায় জমির দখল নেওয়ার পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়েছে। রেসকোর্স ক্লাব ও আশপাশের বস্তি মিলিয়ে প্রায় ৫৩ একর এলাকায় উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। ওই এলাকার তিনটি বস্তি থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেওরা এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ওই এলাকার মুসল্লিদের যাতায়াত ও নিয়মিত নামাজ আদায় নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মসজিদ রক্ষায় ওয়াক্‌ফ বোর্ড ও মুসলিম সংগঠনগুলোর তৎপরতা

    মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ চেয়েছে। বোর্ডের দাবি, ১৯৭৭ সালের সরকারি গেজেটে সম্পত্তিটি ওয়াক্‌ফ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে মসজিদটির ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি ও দীর্ঘদিনের ব্যবহারও তুলে ধরা হয়েছে।

    অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দও বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ, পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে।

    মসজিদটির জমির মালিকানা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতা এবং নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের অসংগতি এখনো পুরোপুরি মেটেনি। পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ এবং মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধের মধ্যে শতবর্ষী এই স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

  • রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল। মহারাষ্ট্র থেকে আনা থাইল্যান্ডের লাল রক্ত তেঁতুলেই বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন নজরকাড়া থ্যাইল্যান্ডের রক্ত তেঁতুল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। একই গাছে দেখা মিলছে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফলের। বারোমাসি ফলন হওয়ায় এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    সরেজমিনে কৃষি উদ্যোগক্তা সজলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে রক্ত তেঁতুল। তেঁতুলের কথা শুনলেই জিহবায় জল আসে। তবে যদি হয় লাল রক্তের মতো তেঁতুল তাহলে কথায় নেই। ফলের আকর্ষণীয় রঙ সকলেরই নজর কাড়ছে। প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এর ভেতরের শাঁসের রঙ একেবারেই আলাদা—পাকলে তা গাঢ় লাল বা টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে।কৃষি উদ্যোক্তা সজল জানান, রক্ত তেঁতুল একটি লাভজনক জাত হিসেবে পরিচিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বারোমাসি ফলন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘুরতে যেয়ে ছাদে লাগানোর জন্য গাছ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বাবার কথা শুনে লাল রক্ত তেঁতুলের মাঠে বাগান করেন।

    তিনি জানান, লাল রক্ত তেঁতুল মিষ্টি হওয়ায় সকলের নিকট চাহিদা রয়েছে। একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানোর দুই বছর পরই তেঁতুল ধরা শুরু হয়। গাছও ছোট হয়। ছাদ বাগানেও লাগানো যায়। স্বাদ সাধারণত মিষ্টি কিংবা হালকা টক-মিষ্টি। রক্ত তেঁতুলের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর ভেতরের পাল্প। কাঁচা অবস্থায় শাঁস হালকা গোলাপি বা লালচে থাকলেও পরিপক্ব হলে তা গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে বাজারে প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।পরিপক্ব হলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ছবি : প্রতিনিধি

    উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং বা কলমের চারা রোপণের পর মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। গাছ খুব বেশি বড় বা ঘন ঝোপালো না হওয়ায় বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও এটি চাষ করা সম্ভব। এমনকি ড্রাম বা বড় টবেও রক্ত তেঁতুলের গাছ লাগানো যায়।

    কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও উচ্চমূল্যের ফলের জাত চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি ফলন হওয়ায় রক্ত তেঁতুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারজাতকরণ, চারা ও ফলের প্রকৃত বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আরও তথ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    আরও দেখুনজীবননগরের মাটিতে নতুন এ ফলের চাষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। কৃষি উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রক্ত তেঁতুল ভবিষ্যতে জীবননগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে।।

    এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগর কৃষিতে সমৃদ্ধ এবং সম্ভবনাময় উপজেলা। এখানে কৃষি উদ্যোক্তার হাত ধরে অনেক দেশি বিদেশি প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। নতুন করে লাল তেঁতুল চাষ হচ্ছে। বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। অল্প সময়ে লাভজনক চাষ হওয়ায় সবাই আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি লাল তেঁতুল চাষ করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা লাঘব হবে, অন্যদিকে বেকার যুবক উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

  • ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিয়ে জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন

    ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিয়ে জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন

    কেক কেটে আনন্দ উৎসব নয় বরং শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার এবং অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।

    রোববার বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত বিশেষ মগ।

    শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—নারীশিক্ষার প্রসার ঘটানো, ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় তাদের উৎসাহিত করা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাইসাইকেল পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় চার হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম দিনে মোকামতলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা প্রদান করা হয়।

    বাইসাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও তিনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন নানা মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছেন। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুশিবিরের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। নারীশিক্ষার সার্বিক উন্নয়নই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াতেই এই আয়োজনের সার্থকতা।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত প্রমুখ।

  • রুপা-বাবু-শ্যামল দত্তের তদন্ত প্রতিবেদন আবার পেছাল

    রুপা-বাবু-শ্যামল দত্তের তদন্ত প্রতিবেদন আবার পেছাল

    জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানির অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই সাংবাদিক হলেন- একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

    রোববার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের পক্ষে দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এ মামলায় মোট তিনজন আসামি। তিনজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরো দুই মাস সময় প্রয়োজন। পরে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদালত আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করেন।

    এর আগে গত ২৪ আগস্ট এই তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আজকের দিনটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কয়েকজন সাংবাদিক কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রসিকিউশনের দাবি, সাংবাদিকদের এসব উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।

  • বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল: আইজিপি

    বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল: আইজিপি

    ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত সরকার পাড়া-মহল্লায় ডিলার দিয়ে মাদকের আখড়া তৈরি করেছিল। কে আসবে, কে যাবে—এসব নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা দেশকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

    আজ রোববার বাগেরহাটে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাগেরহাটে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ কাজ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

    সমাবেশে মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই সংকটের মুখে পড়তে পারে: আজহারী

    পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই সংকটের মুখে পড়তে পারে: আজহারী

    দেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে মাদ্রাসাগুলোতে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    সম্প্রতি নিজের এক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অনেক মাদ্রাসা ও হিফজখানায় সিসি ক্যামেরা, যথাযথ তদারকি, মানসম্মত পরিবেশ ও উন্নত পাঠদানব্যবস্থার অভাব রয়েছে।

    এসব প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা মাদ্রাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার পেছনে মাদ্রাসাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

    মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেগুলো জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে।

    বরং দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনুমোদন ও নিবন্ধন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে শিশুদের মনস্তত্ত্ব বোঝার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, শিক্ষকদের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে দক্ষ হলেই চলবে না; শিশুদের মানসিক বিকাশ, আবেগ ও শেখার ধরন বুঝে তাদের সঙ্গে বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কালোতালিকাভুক্তির মতো পদক্ষেপ বিবেচনার কথা বলেন।

    মাদ্রাসায় শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেন আজহারী। তিনি বলেন, শিশুদের মনে ভয়, অপমান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে—এমন আচরণ শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা থাকতে হবে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার ভিত্তিতে।

    প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ও নিষিদ্ধ আচরণ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পদ্ধতি এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো নীতিমালায় স্পষ্ট থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অভিযোগকারীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি।

    গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ, একান্তে সাক্ষাৎ ও ব্যক্তিগত বার্তার ক্ষেত্রেও পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    আজহারী বলেন, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের একই ধরনের দায়িত্বে পুনর্নিয়োগ ঠেকাতেও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

    মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে আলিম-উলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সীমিত সামর্থ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

    মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, এ পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আত্মসমালোচনা, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়। দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে এখনই কার্যকর ও সময়োপযোগী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

  • বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান

    বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যেসব জায়গার আমূল পরিবর্তন দরকার, তার প্রত্যেকটিতে ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি তারা। নোট অব ডিসেন্টের ক্ষেত্রে সমঝোতার প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করবে না জামায়াত। ”

    রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, “নিজেদের ব্যর্থতা চাপা দিতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার। বিএনপি ৭০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে, এই কমিটিতে আমরা যাব না। ”

    তিনি আরও বলেন, “লংমার্চকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। করা হলে, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা লংমার্চ করেছিলাম। এবারও কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করব না। ”

    শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াত পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে—এরকম ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে সরকার। যেখানে বিএনপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিল। এখন তাদের নেতাদের পুনর্বাসন করছে তারা।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “যে সরকার মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ করতে পারে না, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। ”

  • সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করছে বিএনপি: ফুয়াদ

    সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করছে বিএনপি: ফুয়াদ

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান মেনে করা হয়নি বরং সংবিধান খেলাপ করেই হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে হয়েছে। ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণা মেনে এই সরকার গঠিত হয়নি। মানচিত্রদেখুন

    রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক বুদ্ধিজীবী হয়েছেন—যাদের আমরা আগে চিনতাম না—তারা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথমত, তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হরফে হরফে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা বলেন, গণভোটের ভাষা অনেক কঠিন, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না। এ দুটি যুক্তির মধ্যেই একটি জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা আমাদের জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে। রাজনৈতিকখবর পড়ুন

    তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান খেলাপ করেই করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার পুরোপুরি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।

    ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দিন শেষে বিপ্লবের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়, যা আবার বিএনপি মেনে নিতে নারাজ।

    তিনি বলেন, ‘কেবল নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু ন্যায্য, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে। বিএনপি এই যে প্রতারণা করছে, শেষ পর্যন্ত তা তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ’

  • ঠাকুরগাঁও-১ ভোট : বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

    ঠাকুরগাঁও-১ ভোট : বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

    আজ রোববার নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য এসংক্রান্ত চিঠি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে বহিরাগতদের ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের এই উপনির্বাচন। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    এ উপনির্বাবনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (প্রতীক: ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (প্রতীক : বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (প্রতীক : হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (প্রতীক : ডাব)।

  • এই সরকারের সময় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে: কর্নেল অলি

    এই সরকারের সময় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে: কর্নেল অলি

    সরকার (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে। নতুন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে না। পুরোনো কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে। ’

    তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। মানুষ রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    বিচারব্যবস্থা নিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। যারা সরকারের সঙ্গে আছে, তারা বিচার পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের বাইরে থাকা মানুষ বিচার পাচ্ছে না। নিজের ছেলের পুনর্গণনা-সংক্রান্ত একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ প্রয়োজনীয় যুক্তি ও কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব। ’

    ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যাংক প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে দেশে থাকা যেসব ব্যাংকমালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। ’

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক প্রবাসী দুই থেকে তিন বছর আগে ভিসা নিয়ে বিদেশে গেছেন। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইন অনুযায়ী নতুন ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন। এ জন্য এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও অনেকে অনুমতি পাচ্ছেন না। ’ বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যার সমাধান করা। প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রদূতদেরও দায়িত্ব হলো, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের নাগরিকদের সমস্যা সমাধান করা। ’

    এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা ফিরে এলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট আরও বাড়বে। তাই প্রবাসীদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। ’

    দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে অলি আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল নেই, কারণ প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে না। ’

    প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু সংসদ সদস্য এলাকায় গেলে তাদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) থাকতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আলাদা। ইউএনও ও ওসির কাজ সংসদ সদস্যদের পেছনে ঘোরা নয়, বরং নিজ নিজ দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করা। ’ প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়গুলো বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময় থাকতে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

    ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে এলডিপি চেয়ারম্যান জানান, সে সময় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমঝোতার প্রস্তাব তৈরি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪০ দিন আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামো ঠিক করার কথা ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কিছু শর্ত যুক্ত হওয়ায় সমঝোতা আর এগোয়নি।

    এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, সেদিন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসতে পারত বলে তিনি মনে করেন। ওই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার চারপাশে যারা আছেন, তাদের অনেকেই আপনাকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা রাখেন না। তাদের কারণে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আপনার শত্রু বিরোধী দল নয়, বরং আপনার আশপাশের ভুল পরামর্শদাতারা।

    দুর্গাপূজার সময় কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘মানুষের পেটে ভাত নেই, চোখে ঘুম নেই। অথচ এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের দুর্ভোগের দিকে নজর দিতে হবে।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিন। তাহলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
    সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারেই রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত রায় বাতিল হয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে। ‘

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। ‘

    গোপালগঞ্জে গতকাল পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ওই ঘটনার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    সাজেকে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিভিন্ন গ্রুপ সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সরকার ও সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

    পূর্বাচলে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শকের বাড়িতে অভিযান ও অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। কারও পরিচয় আমরা বিবেচনায় নেব না। ‘

    মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ বহু বছর পর এবার সারা দেশে চরম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছেএজন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

  • মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

    মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

    দেশের মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের ঝুঁকি কমাতে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৬’-এর আওতায় সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ, দরপত্র, কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের হিসাব সফটওয়্যারভিত্তিক নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণকে রুটিন, পর্যায়ক্রমিক, বিশেষ ও জরুরিÑএ চার ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের অবস্থা, যানবাহনের চাপ, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন মহাসড়কগুলোর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মেরামতের ব্যয় কমানো, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালা নিয়ে সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    খসড়া অনুযায়ী, মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা ও অনুমোদন থেকে শুরু করে বাজেট বরাদ্দ, দরপত্র, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ব্যয়ের তথ্য সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকবে। কাজের তথ্যের যথার্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়বদ্ধ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

    প্রতিটি কাজের ধরন, সড়কের অবস্থান, প্রাক্কলিত ব্যয়, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, কার্যাদেশ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতির তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কাজ শুরুর আগে, কাজ চলাকালে ও শেষে জিও-ট্যাগ করা ছবিও সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যবস্থায় একই সড়কাংশে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং প্রকৃত অগ্রগতি যাচাই সহজ হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    চার ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ

    নীতিমালার খসড়ায় রক্ষণাবেক্ষণকাজের ধরন অনুযায়ী পৃথক কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় থাকবে সড়কের গর্ত ও ফাটল মেরামত, শোল্ডার সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশন, সড়কচিহ্ন ও নিরাপত্তা উপকরণ মেরামত এবং সেতু-কালভার্টের নিয়মিত পরিচর্যা।

    পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় নির্দিষ্ট সময় পরপর সড়কের পৃষ্ঠ নবায়ন, ওভারলে, পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ এবং সেতুর বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হবে। এ ধরনের বড় কাজ কার্যাদেশ দেওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৯ মাসের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে।

    অন্যদিকে এক অর্থবছরে শেষ করা সম্ভব নয়, এমন বড় ধরনের কাজ বা কাঠামোগত উন্নয়ন বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, গভীর পেভমেন্ট পুনর্নির্মাণ, বড় ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, নতুন ইন্টারচেঞ্জ, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ সেতু প্রতিস্থাপনের মতো কাজ রয়েছে।

    বন্যা, ভূমিধস, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো আকস্মিক বিপর্যয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে অস্থায়ী সেতু, ডাইভারশন সড়ক এবং সড়কধস প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    ঝুঁকি বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ

    রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট বণ্টনে শুধু সড়কের দৈর্ঘ্য বা প্রচলিত বরাদ্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি, যানবাহনের চাপ ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়ায় সড়কের অবস্থা, আন্তর্জাতিক রাফনেস ইনডেক্স (আইআরআই), আগের তিন বছরে মেরামত না হওয়া সড়কের অনুপাত, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলবায়ু ঝুঁকিকে বাজেট নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

    সড়ক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এইচডিএম-৪/র‍্যামস) এবং ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (বিএমএস) কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মেরামতের প্রয়োজন নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। প্রতি বছর বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে কোন সড়ক বা সেতুতে আগে কাজ করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা কমাতে নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী কিংবা বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও খসড়ায় বলা হয়েছে।

    ঠিকাদারের মান যাচাইয়ে গুরুত্ব

    রক্ষণাবেক্ষণকাজের দরপত্র ও চুক্তি সম্পাদনে সরকারি ক্রয় আইন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঠিকাদারদের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস, নিয়মিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়টিও খসড়ায় রয়েছে।

    বড় মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের নির্ধারিত সেবামান বজায় রাখতে পারফরম্যান্স বেজড মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট (পিবিএমসি) অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে শুধু কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা নয়; বরং নির্ধারিত সেবামান বজায় রাখার ভিত্তিতে ঠিকাদারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারবে।

    এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু এবং জরাজীর্ণ সেতু-কালভার্ট পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন ও জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক নিরাপত্তায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার তাগিদ

    এদিকে সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রকৃত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    সম্প্রতি ‘ফ্রম ডেটা টু ডিসিশন : অ্যাডভান্সিং রোড সেফটি অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণ ও নকশা প্রণয়নে শুধু পরিবহন সুবিধা বিবেচনা না করে সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যতে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।

    স্বতন্ত্র তহবিলের পরামর্শ

    পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আমার দেশকে বলেন, উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ। দেশে অনেক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কয়েক বছর না যেতেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সময়মতো মেরামত করা না হলে একদিকে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে, অন্যদিকে সড়ক সংস্কারে ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। এটি একটি বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় না। এ কারণে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র তহবিল গঠন অনেক আগে থেকেই প্রয়োজন ছিল।

    তিনি বলেন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য সরকারের যে বরাদ্দ থাকে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ অবস্থায় নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তহবিল গঠন করা গেলে তা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধন ফি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ, বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের নির্দিষ্ট অংশ এবং জ্বালানি তেলের ওপর সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপের মাধ্যমে এ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। বিএনপির আগের আমলেই এ ধরনের তহবিল চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। এখন সেটি বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসেছে।

    তিনি আরো বলেন, প্রথমে তহবিলটি চালু করা জরুরি। এরপর মানুষ যখন এর সুফল দেখতে পাবে, তখন উন্নত ও টেকসই সড়ক নিশ্চিত করতে বাড়তি অর্থ দিতেও তাদের আপত্তি থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সড়ক পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পর মেরামতের পরিবর্তে আগেভাগে ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ‘প্রিভেনটিভ মেইনটেন্যান্স’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি।

  • দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহারের ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত এনে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা অপচয় হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ হয় ৫৭ টাকা।

    সম্পূর্ণ একটি বইয়ের একটি মাত্র দাড়িপাল্লা পতিক পরিবর্তন আনা আনছে এনসিটিবি। তবে প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি সেখানে অন্য একটি বইয়ে রয়েছে ধানের শীষ । সেখানে পরিবর্তন আনা হবেকিনা স্পষ্ট করেনি এনসিটিবি।

    গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বইটির মুদ্রণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় বইগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত এই পাঠ্যবইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।

    ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে বৃত্তাকার প্রতীক, দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ চিত্র, তৃতীয় স্তরে মস্তিষ্ক এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। জানা গেছে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি থাকলেও ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের সংস্করণে তা বদলে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নতুন নকশায় পুনরায় পুরোনো ছবিটি ফিরে আসে। এনসিটিবির দাবি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের বইয়ের পুরোনো নকশাটি ভুলবশত আবার যুক্ত হয়েছে।

    পাঠ্যপুস্তকে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারের ঘটনায় বই প্রণয়নপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটিকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠ্যপুস্তকে এ ধরনের প্রতীকের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো বিশেষ আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে, যা শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইটি প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণি মিলিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে।এনসিটিবির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এনসিটিবির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি

    প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবির অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের দাবি, প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে নৌকার ছবি অস্বাভাবিকভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    অ্যাকটিভিস্ট খালিদ মোহাম্মদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে অন্তত ৩০টি এবং তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ২৪টি নৌকার ছবি রয়েছে। দুই বই মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫৪টি।

    ভাইরাল পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অক্ষর পরিচয়, শব্দ শেখা ও ছবি দেখে চেনার পাঠে একই প্রতীক এতবার ব্যবহারের প্রয়োজন কী। পোস্টে আরো অভিযোগ করা হয়, এনসিটিবিতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

    পোস্টের মন্তব্যে সালমান শামিল নামে একজন লেখেন, একই প্রতীকের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শিশুদের মনে নৌকার প্রতীক গেথে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য এক অ্যাকটিভিস্টও তৃতীয় শ্রেণির বইয়ে নৌকার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তবে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরতে পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহার স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নদীপথ, যোগাযোগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নৌকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, একই ধরনের ছবির পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও বৈচিত্র্য বাড়াতে কতটা কার্যকর। এর পরিবর্তে পরিবেশ, পেশা, প্রাণী, উদ্ভিদ ও দৈনন্দিন জীবনের আরো বহুমাত্রিক চিত্র ব্যবহার করা যেত কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।

    প্রাথমিক শিক্ষায় ছবি শুধু অলংকার নয়, শেখার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই প্রতিটি ছবির পাঠের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা, বয়সভিত্তিক উপযোগিতা এবং শিক্ষাগত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা কাজ করেছে, প্রতিটি ছবির প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ছবি নির্বাচনে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না এটিও একটি প্রশ্নের বিষয় বলে মন্তব্য করেন একজন মন্তব্যকারী।

    শিশুদের উপযোগী মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরিতে বিষয়বস্তুর যথার্থতার পাশাপাশি চিত্রের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

In English

English edition · Older English stories