BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৫১২ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১২৩ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৮২ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ৮ টা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন, চট্টগ্রামে ২৯৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৬ জন, খুলনায় ২০৬ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, রাজশাহীতে ১৬২ জন, রংপুরে ৪৪ জন এবং সিলেটে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৪৫৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী ।

  • ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে মুক্তিযোদ্ধা ও পেনশনের ভাতা

    ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে মুক্তিযোদ্ধা ও পেনশনের ভাতা

    একজনের বাবা সরকারি কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তার মাসিক পেনশন এবং মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে প্রশ্ন করে সন্তান। প্রশ্ন হলো- ১. বাবার মৃত্যুর পর তার মাসিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা শরীয়তের দৃষ্টিতে মা, ভাই ও বোনদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে? কে কতটুকু পাবে? উক্ত টাকা থেকে কি আমার মৃত বাবার পক্ষ থেকে যাকাত ও কুরবানি আদায় করতে হবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন- লন্ডনের সাফীর এডুকেশনের চেয়ারম্যান শায়খ ড. আবুল কালাম আজাদ মাদানী।

    তিনি উত্তরে লিখেছেন-

    الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

    আল্লাহ তাআলা আপনার বাবাকে ক্ষমা করুন, তার নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।

    আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে তিনটি বিষয়কে আলাদাভাবে বুঝতে হবে—মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি, মৃত্যুর পর সরকারপ্রদত্ত পারিবারিক পেনশন বা ভাতা এবং মৃত ব্যক্তির যাকাত ও কুরবানির বিধান।

    এই তিনটির বিধান সব ক্ষেত্রে এক নয়।

    ১. পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা কি মিরাস বা উত্তরাধিকার সম্পত্তি?

    ইসলামে মৃত ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদ তার বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে বণ্টিত হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকার যে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে, তা সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় না।

    এখানে দুটি পরিস্থিতি রয়েছে।

    প্রথম পরিস্থিতি: বাবার জীবদ্দশায় প্রাপ্য অর্থ

    আপনার বাবা জীবিত অবস্থায় যে বেতন, পেনশন, ভাতা বা অন্য কোনো অর্থের মালিক হয়েছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর আগে তা গ্রহণ করতে পারেননি, সেই অর্থ সাধারণভাবে তাঁর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।

    এ ধরনের অর্থ শরীয়তের মিরাসের বিধান অনুযায়ী বণ্টিত হবে।

    দ্বিতীয় পরিস্থিতি: বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য প্রদত্ত অর্থ

    সরকার যদি বাবার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, সন্তান বা নির্দিষ্ট উপকারভোগীদের জন্য নতুনভাবে পারিবারিক পেনশন বা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান করে, তাহলে সেই অর্থের প্রকৃতি ভিন্ন।

    যদি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী এটি নির্দিষ্ট জীবিত উপকারভোগীর নিজস্ব প্রাপ্য হয়, তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মৃত ব্যক্তির মিরাসে পরিণত হবে না।

    অতএব, মাসিক পারিবারিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতাকে সরাসরি মিরাস ধরে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ করে দেওয়া সঠিক হবে না। আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও অর্থের মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে।

    ২. বাংলাদেশের সরকারি পেনশনের ক্ষেত্রে কার অধিকার কতটুকু?

    বাংলাদেশ সরকারের পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, মূল পেনশনভোগী, তার স্ত্রী এবং যোগ্য প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার বিধানের আওতায় থাকতে পারেন। অন্যান্য সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা ও প্রযোজ্য শর্ত বিবেচ্য।

    সুতরাং আপনার মা জীবিত থাকলে এবং তিনি পারিবারিক পেনশনের বৈধ উপকারভোগী হলে, তার প্রাপ্য অর্থকে কেবল উত্তরাধিকারী হওয়ার কারণে সব ভাই-বোন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন না।

    অন্যদিকে, সরকারি আদেশ অনুযায়ী কোনো সন্তানও যদি পেনশনের অংশীদার হন, তাহলে তাঁর নির্ধারিত অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার ক্ষেত্রেও একই মৌলিক নীতি প্রযোজ্য। মৃত্যুর পর কারা ভাতা পাবেন এবং কীভাবে পাবেন, তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রযোজ্য বিধিমালা ও মঞ্জুরি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। ২০২৬ সালেও এ-সংক্রান্ত সরকারি ভাতা ও সুবিধার বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    এ কারণে আপনার মা, ভাই ও বোনদের প্রত্যেকের জন্য এখনই নির্দিষ্ট শতাংশ বলা সম্ভব নয়।

    ৩. বাবার প্রকৃত উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি কীভাবে বণ্টিত হবে?

    আল্লাহ তাআলা বলেন:

    يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ

    অর্থাৎ, “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন—একজন পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।” (সূরা আন-নিসা, ৪:১১)

    আর মৃত ব্যক্তি সন্তান রেখে গেলে তাঁর স্ত্রীর অংশ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

    فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ

    “আর তোমাদের সন্তান থাকলে তোমরা যা রেখে যাবে, তার এক-অষ্টমাংশ তাদের (স্ত্রীদের) জন্য।” (সূরা আন-নিসা, ৪:১২)

    অর্থাৎ, আপনার বাবার প্রকৃত মিরাসযোগ্য সম্পত্তিতে সাধারণভাবে: আপনার মা (বাবার একমাত্র স্ত্রী হলে) পাবেন এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ।

    অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রত্যেক ছেলে দুই অংশ এবং প্রত্যেক মেয়ে এক অংশ হিসেবে বণ্টিত হবে।

    তবে এই হিসাব তখনই প্রযোজ্য, যখন বাবার মৃত্যুকালে তাঁর বাবা-মা বা অন্য কোনো অংশপ্রাপ্ত ওয়ারিশ জীবিত ছিলেন না এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক বাধা নেই।

    উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকেন এবং অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয় ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত নিষ্পত্তির পর মিরাসযোগ্য সম্পত্তির বণ্টন হবে: স্ত্রী ১২.৫%, প্রথম ছেলে ২৯.১৬৬৭%, দ্বিতীয় ছেলে ২৯.১৬৬৭%, প্রথম মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%, দ্বিতীয় মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%। এই হিসাব কেবল মিরাসযোগ্য সম্পত্তির জন্য; সরকারি পারিবারিক পেনশন বা মৃত্যুর পর প্রদত্ত ভাতার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।

    ৪. মৃত বাবার পক্ষ থেকে কি যাকাত আদায় করতে হবে?

    এখানে দুটি বিষয় আলাদা।

    প্রথমত: বাবার জীবদ্দশার অনাদায়ী যাকাত। আপনার বাবার জীবদ্দশায় যদি যাকাত ফরজ হয়ে থাকে, অথচ তিনি তা আদায় না করে মারা যান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

    অনাদায়ী যাকাত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে পরিশোধের বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিশেষত হানাফি ফিকহে মৃত ব্যক্তি ওসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশদের ওপর তার সম্পত্তি থেকে যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক বলে গণ্য করা হয় না। তবে ওয়ারিশরা নিজেদের অংশ থেকে স্বেচ্ছায় আদায় করতে পারেন। অন্যান্য ফিকহি মত অনুযায়ী অনাদায়ী যাকাত মৃতের সম্পত্তি থেকে পরিশোধযোগ্য।

    সুতরাং বাবার অনাদায়ী যাকাতের পরিমাণ জানা থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমের সহায়তায় তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

    দ্বিতীয়ত: বাবার মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশন ও ভাতা। বাবা মারা যাওয়ার পর তার নামে নতুন করে যাকাত ফরজ হয় না। কিন্তু পেনশন বা ভাতা যিনি বৈধভাবে মালিকানায় পাবেন, তার অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত হবে।

    যদি তার সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তার নিজের ওপর যাকাত ফরজ হবে। যাকাতের সাধারণ হার ২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ, মায়ের মালিকানাধীন পেনশনের টাকা থেকে মৃত বাবার নামে প্রতি বছর যাকাত দিতে হবে—এমন কোনো বিধান নেই। তবে মায়ের নিজের যাকাত ফরজ হলে তিনি তা আদায় করবেন।

    ৫. বাবার পক্ষ থেকে কি প্রতিবছর কুরবানি দিতে হবে?

    না। মৃত বাবার নামে প্রতিবছর কুরবানি দেওয়া সন্তানদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। কুরবানি জীবিত ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ্য ও প্রযোজ্য ফিকহি বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

    হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কুরবানির দিনগুলোতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন, মুকিম মুসলিমের কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়।

    তাই আপনার মা, ভাই বা বোনদের মধ্যে যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করবেন।

    অবশ্য সন্তানরা চাইলে বাবার জন্য নফল কুরবানি করে সওয়াব পৌঁছাতে পারেন। এটি সওয়াবের কাজ হতে পারে, কিন্তু প্রতি বছর করা বাধ্যতামূলক নয়।

    বাবা যদি কুরবানির বিষয়ে কোনো বৈধ ওসিয়ত করে গিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিধান পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    ৬. আপনাদের এখন কী করা উচিত?

    প্রথমে বাবার পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মঞ্জুরি আদেশ এবং ওয়ারিশদের বিবরণ সংগ্রহ করুন।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের সম্মানী ভাতা বিতরণ আদেশ, ২০২১ সালের সংশোধনী এবং ২০২৫ সালের একাধিক ওয়ারিশের প্রাপ্যতার হার-সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ দেখে প্রকৃত প্রাপ্য নির্ধারণ করতে হবে।

    এখানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার সরকারি বিধানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জীবিত স্ত্রী সম্পূর্ণ ভাতা পেতে পারেন; আবার একাধিক যোগ্য উপকারভোগী থাকলে ভিন্ন বণ্টন হতে পারে। তাই এটিকে কুরআনের সাধারণ মিরাসের অনুপাতের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

    সারকথা হলো- ১. বাবার প্রকৃত পরিত্যক্ত সম্পত্তি শরীয়তের মিরাস অনুযায়ী বণ্টিত হবে। ২. মৃত্যুর পর সরকারপ্রদত্ত পারিবারিক পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি অনুযায়ী বৈধ প্রাপকের মালিকানায় যাবে। ৩. মৃত বাবার নামে নতুন করে যাকাত ফরজ হবে না। তবে তার জীবদ্দশার অনাদায়ী যাকাত থাকলে তার বিধান বিবেচনা করতে হবে। ৪. বাবার নামে প্রতি বছর কুরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাঁর জন্য নফল কুরবানি ও সদকা করা যেতে পারে। ৫. মা ও ভাই-বোনদের সঠিক অংশ নির্ধারণের আগে সরকারি মঞ্জুরি আদেশ ও সব ওয়ারিশের তথ্য যাচাই করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা আপনাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন এবং আপনাদের বাবার জন্য উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা করুন।

    آمين يا رب العالمين

  • ফ্রান্সের নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ফ্রান্সের নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতারা ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

    গতকাল বুধবার কাতার সফরকালে দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাখোঁ। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, গত শনিবারের সহিংসতার পর তথ্য নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে। ফলে বিদেশি নেতাসহ অনেকে অগ্রহণযোগ্য ও নির্বোধের মতো মন্তব্য করেছেন।

    এসব মন্তব্যের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্যও রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাখোঁ বলেন, ‘অন্যদের মধ্যে তিনিও আছেন।’

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চালানোর সময় ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসী, ‘জিহাদি’ও কমিউনিস্টদের দায়ী করেছেন।

    দোহায় সাংবাদিকদের মাখোঁ বলেন, ‘এ অঞ্চলে কিংবা আটলান্টিকের ওপারে-নির্বাচনী প্রচারে থাকা কিছু নেতা এমন সব বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী স্পষ্টতই ছড়াতে চাইছে।’

    মাখোঁর অভিযোগ, এসব নেতা নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ফ্রান্সকে ব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ছড়ানো হচ্ছে। এসব ছবিতে যা দেখানো হচ্ছে, তা আসলে ফ্রান্সে ঘটেনি। কেউ কেউ দাবি করছেন, অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল ঢল ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে। এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফ্রান্সের বিক্ষোভকে উগ্র ইসলামপন্থীদের আগ্রাসন বলে মন্তব্য করেছেন।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি। এর মধ্যেই নতুন করে সংকটে পড়েছে তাঁর সরকার। শনিবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করেছে সরকার।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের বড় অংশই প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু দ্রুত তা ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেয়। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ ও লিমোজ শহরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। লিমোজে টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, স্থাপনাটির একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

    আজ বৃহস্পতিবার প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় থাকবে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্ট ভবন এবং ল্যুভর জাদুঘরের মতো পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান। সহিংসতার কারণে কয়েকটি দেশ ফ্রান্সে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

  • ট্রাম্পকে আরেকবার সুযোগ দেবে ইরান

    ট্রাম্পকে আরেকবার সুযোগ দেবে ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকতার প্রমাণ দিলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা দেশটির জন্য আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।

    নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। তবে প্রকৃত আলোচনা-প্রক্রিয়ার পরিবর্তে নতুন করে আগ্রাসন চালানো ইরান মেনে নেবে না।

    তিনি লেখেন, আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক ইচ্ছার জোরালো প্রমাণ দেখতে পেলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধ বেছে নেয়, তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।

    তিনি তার পোস্টের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত নিজের সর্বশেষ মতামতধর্মী নিবন্ধের একটি লিংকও যুক্ত করেছেন। ওই নিবন্ধে তিনি সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান, আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকির পরিণতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

    বুধবার প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে আরাগচি মর্যাদাপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    তিনি যুক্তি দেন, আলোচনার সময় বারবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আস্থার পরিবেশ নষ্ট করেছে। সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাতের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর পড়া অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, সামরিক অভিযান চালানোর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।

    আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর দেশটিকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জলপথে ইরান তার ঐতিহাসিক ভূমিকা বজায় রাখবে।

    আরাগচি আরো স্পষ্ট করেছেন, ইরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ওয়াশিংটনকে আরো বড় কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।

  • এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

    এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

    ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। তাদের অনেকেরই বিশ্বাস, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সীমিত। আবার তারা ভয় পাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে উগ্র ইহুদি সরকার আবার ক্ষমতায় এলে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন আরো বাড়বে। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থাকলেও অনেকে ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের আশা, ভোটের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হতে পারে।

    আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থি জোট কিংবা নিজেদের জায়নবাদী বিরোধী জোট হিসেবে পরিচয় দেওয়া দলগুলো—কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। এ অবস্থায় আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির সমর্থন সরকার গঠনে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

    ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো পক্ষই এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার হিসেবে পরিচিত।

    প্রথমবার ভোট দেবেন লায়লা

    পূর্ব জেরুজালেমের বাইত হানিনা এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সি লায়লা আতামনেহ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। ইসরাইলের নির্বাচনের সময় তার মা-বাবার মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্ক হতো। তার বাবা আরব নেতৃত্বাধীন কোনো নির্বাচনি জোটকে ভোট দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তার মা বরাবরই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন।

    লায়লা বলেন, তার মায়ের ধারণা, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে সহায়তা করা। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের ইহুদি নাগরিকদের সমান অধিকার ভোগ করেন। অথচ বাস্তবে তাদের চরম অপমানের শিকার হতে হয় এবং পরে তাদের এমন সরকারের মুখোমুখি হতে হয়, যার মধ্যে উগ্রপন্থিদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

    তবু এবার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা। তার মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার লাখো ফিলিস্তিনির হয়ে কথা বলার দায়িত্বও তার রয়েছে। এসব অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। অথচ তার বিশ্বাস, ইসরাইলি দখলদারত্ব, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার সবচেয়ে বড় শিকার তারাই।

    লায়লা বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাকে এই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে হবে। একজন মানুষ হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারে না। কিন্তু আমার ভোটে যদি তাদের ১ শতাংশ আশাও তৈরি হয়, তাহলে আমি ভোট দেব।’

    তবে আরবি ভাষাভাষী লায়লার জন্য হিব্রু ভাষায় প্রচারিত নির্বাচনি খবর অনুসরণ করা কঠিন। তার মতে, নির্বাচনি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথাও দলগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে না।

    লায়লার এই দ্বিধা ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের একটি বড় অংশের মনোভাব তুলে ধরে। তারা মনে করেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না। আবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

    ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। তার সরকারের নীতির কারণে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, জীবিকা ও ভূমি ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    দখলদারত্বের ছায়ায় নির্বাচন

    হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আসাদ ঘানেম বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি আরো কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতি—সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    গালিলি অঞ্চলের একটি দ্রুজ গ্রামে বসবাসকারী ৩৬ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান নারী হানানের কাছেও এই হুমকি এখন আরো বাস্তব মনে হচ্ছে। গত মাসে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা গালিলির ফিলিস্তিনি জনপদ মাজদ আল-ক্রুমের কাছে একটি অবৈধ বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেন।

    এরপর ইসরাইলের উগ্রইহুদি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এআই দিয়ে তৈরি একটি নির্বাচনী প্রচার ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনিকে গালিলিতে বসবাসকারী তার এক আত্মীয়কে আতঙ্কিত কণ্ঠে ফোন করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ইহুদিরা আসছে’ এবং ‘তারা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তোমাদের সঙ্গেও তা-ই করবে’।

    হানান বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাকে আরো আতঙ্কিত করে। তার আশঙ্কা, বসতি স্থাপনকারীরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারেন এবং ফিলিস্তিনিদের আরো বেশি জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ভয় তাকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখছে না। বরং অন্যদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

    হানান বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের আগে নিজেকে বলি, এবার আর ভোট দেব না। কারণ, বাস্তবে মনে হয় না আরব প্রতিনিধিরা খুব বেশি কিছু করতে পারেন। নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং নতুন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতিও হতাশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে যাই। মনে হয়, হয়তো এবার কিছুটা পরিবর্তন আসবে।’

    দল নিষিদ্ধের চেষ্টা ঘিরে ক্ষোভ

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। জয়েন্ট লিস্ট হলো হাদাশ, বালাদ ও তা’আল দলের জোট। তবে পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

    কিন্তু বালাদ নেতা সামি আবু শাহাদেহ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে অধিকাংশ বিচারপতি তার প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে থাকতে পারেন।

    অনেক ফিলিস্তিনি এই ঘটনাকে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে তাদের সংশয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, আরব দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা ভোটারদের আরো বেশি সংগঠিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

    আরব-ইহুদি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ থাবেত আবু রাস বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। এ কারণেই আমরা আরো বেশি হারে ভোট দেব।’

    গত পাঁচটি নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার হার ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৬৫ শতাংশ। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে এই হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ।

    ফিলিস্তিনি নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট দিতে পারেন। তাদের লক্ষ্য এই হার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে সর্বশেষ প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নেতানিয়াহুকে হারিয়ে এহুদ বারাককে প্রধানমন্ত্রী হতে সহায়তা করেছিল।

    ওই নির্বাচনী প্রচারক বলেন, এবারও তারা ভোটার উপস্থিতি সেই পর্যায়ে নিতে চান। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বেশি ভোট ছোট উগ্রডানপন্থি দল আমচা ইসরাইল ও দ্য রিজার্ভিস্টসকে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে না-ও দিতে পারে। ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো দলকে পার্লামেন্টে আসন পেতে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। ছোট দলগুলো এই সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

    ঘানেমের মতে, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভোট বর্জনের ধারণা এখন তুলনামূলকভাবে ছোট একটি মত। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিপদের মধ্যে আছি। এই সরকারের মেয়াদ শেষ করতেও আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।’

    হানানও মনে করেন, ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া—এমন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটি বাস্তবে বিদ্যমান। তাই শুধু স্বপ্নের মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।

    নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ইহুদিদের সঙ্গে সমান হওয়ার অধিকার আমাদের যে একমাত্র দিনটিতে থাকে, সেটি হলো নির্বাচনের দিন।’

    সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, তবু জোটে অনীহা

    এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে। জনমত জরিপে ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জায়নবাদী দুই শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে না। ফলে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কাগজে-কলমে এই পরিস্থিতি আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক অবস্থানে নিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা রয়েছে বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের। বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেট বলেছেন, আরব দলগুলো জায়নবাদী নয়। তাই তাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা হবে না।

    সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু তাকে আরব দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তা’আল নেতা আহমদ তিবিকে ইঙ্গিত করে ‘তিবি ছাড়া গাদি নেই’—এ ধরনের স্লোগানও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    এ অবস্থায় ফিলিস্তিনি ভোটারদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত। একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ ধরে রাখা, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে এমন দলকে ভোট দেওয়া, যারা নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

    লায়লা আতামনেহ প্রথমে রা’আমকে ভোট দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নেগেভ অঞ্চলের বেদুইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলটির সমর্থন রয়েছে। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল এই দলটি নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়। উদারপন্থি জায়নবাদী দল ডেমোক্র্যাটসকেও বিবেচনায় নিয়েছিলেন তিনি।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদর্শগত কারণে জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে পারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন কিছু নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আছে, যেগুলো এত সহজে ছেড়ে দিতে পারি না। ফিলিস্তিনি হিসেবে আমাদের ফিলিস্তিনিদেরই সমর্থন করতে হবে।’

    ২০২১ সালে রা’আম ইসরাইলের সরকারে যোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল। প্রথম কোনো আরব দল হিসেবে তারা একটি বিস্তৃত জোট সরকারের অংশ হয়। ওই জোট অল্প সময়ের জন্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পেরেছিল।

    রা’আমের যুক্তি, সরকারে অংশ নিলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে দলটির এই অবস্থান সবাইকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঘানেমের অভিযোগ, রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস সামান্য বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার জন্যও অনেক ছাড় দেন। কিন্তু তাতে ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও অধিকারসংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার সমাধান হয় না।

    তবে ধারণা করা হচ্ছে, বেদুইন নাগরিকদের বড় অংশ রা’আমকে সমর্থন করবেন। তাদের প্রত্যাশা, দলটি আবারও সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে পারবে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারে অংশ নেওয়ার সময়কার মতো এবারও তারা সুবিধা আদায় করতে পারবে।

    থাবেত আবু রাস বলেন, বেদুইনদের রাজনৈতিক বক্তব্য মূলত নাগরিক অধিকারকেন্দ্রিক। তাদের প্রধান উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখা। সরকারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বীকৃতিহীন গ্রামগুলোর স্বীকৃতি, শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চান।

    দখলদারত্ব বন্ধের আগে মানুষকে বাঁচাতে চান

    ঘানেমের মতে, ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল। কারণ, নিজেদের সমাজের মধ্যে তাদের সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠেনি।

    তবে তিনি মনে করেন, জয়েন্ট লিস্ট সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিনি দলগুলো মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে ইয়িৎসহাক রবিনের সরকারকে সমর্থন করেছিল। এবারও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

    ঘানেম বলেন, নেতানিয়াহুকে সরাতে চাওয়া মানেই সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে হবে, এমন নয়। বরং বর্ণবাদী সরকারকে সরাতে চাওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    গত সপ্তাহে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নির্দিষ্ট শর্তে বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা এবং ইসরাইলের ফিলিস্তিনি জনপদগুলোতে সংগঠিত অপরাধ ও সহিংসতা মোকাবিলা করা।

    থাবেত আবু রাস আশা করছেন, নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির তাদের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সমঝোতায় আসবে।

    তিনি বলেন, ‘আরবরা যদি ১৫, ১৬ বা ১৭ জন নেসেট সদস্য নির্বাচিত করতে পারে, তাহলে সবাই তাদের দরজায় কড়া নাড়বে। প্রকাশ্যে তারা হয়তো তা স্বীকার করতে চাইবে না। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের বক্তব্য বদলে যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’

    আবু রাস নিজেও ইসরাইলি হামলায় গাজায় তার পরিবারের ৩৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। তার মতে, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠিত হলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নৃশংসতা বাড়ছে, তা অন্তত কিছুটা থামানো সম্ভব হতে পারে।

    আবু রাস বলেন, ‘দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর আগে আমি আমার মানুষকে বাঁচাতে চাই।’

    নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি উগ্রইহুদি সরকার গঠিত হওয়ার আশঙ্কায় লায়লা মনে করছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত তার মাকেও ভোট দিতে রাজি করাতে পেরেছেন।

    লায়লা বলেন, ‘খারাপ পরিস্থিতি আছে, আর আছে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি। আমরা অত্যন্ত খারাপের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকেই বেছে নেব। অন্তত একটি মৃত্যু, একটি বাড়ি ভেঙে ফেলার আদেশ কিংবা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঠেকাতে পারলেও সেটি কিছু না করার চেয়ে ভালো।’

    তবে কিছুক্ষণ থেমে তিনি আবারও সংশয়ের কথা জানান। তার আশঙ্কা, ভোট দিয়ে হয়তো ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি নতুন করে সাজানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা। লায়লার ভাষায়, ‘তখন মনে হয়, আমরা যেন একটা বদ্ধ গলিতে এসে দাঁড়িয়েছি।’

  • দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

    কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

    ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— শীর্ষক প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ।

    পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

    পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে।

    সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।

    আব্দুল মান্নান বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

    প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

    কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

    বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

    কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

    ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।

    ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

    পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

    ২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন বা প্রায় ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৯৩ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

    সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

    সেই হিসাবে গত ১৪ অক্টোবরের তুলনায় দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ১১৬ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলার।

    নিট রিজার্ভ কীভাবে হিসাব করা হয়?
    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

    সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা ও দেশের আন্তর্জাতিক দায় মেটানোর সামর্থ্য মূল্যায়নে রিজার্ভের এ হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

  • পেরুতে দাবানল, ১২ জনের মৃত্যু

    পেরুতে দাবানল, ১২ জনের মৃত্যু

    এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে পেরুতে জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, মৃতদের বেশির ভাগই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়।

    দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর দিকে সেখানে ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর কাছেই একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

    জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’

    আবার ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে কৃষকেরা প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব আগুন থেকেই অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত হয়। দাবানলে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০ বাড়ি।

    সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।

    এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।

    চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

  • শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপরীত চিত্র; মাদ্রাসায় বাড়ছে, স্কুলে কমছে

    শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপরীত চিত্র; মাদ্রাসায় বাড়ছে, স্কুলে কমছে

    দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে মাদ্রাসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষা ধারায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে।

    শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় শিক্ষার্থী ভর্তির এই বিপরীতমুখী প্রবণতা শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের পছন্দ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ চিত্র উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল (পাস ও অনার্স) এবং কামিল পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসা ২০২৪ সালে ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। এই সংখ্যা বেড়ে ২০২৫ সালে ৯ হাজার ২৯৬টি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি ছিল। তা বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি, শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এ হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে দেশে সব ধরনের মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, আগে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী খুঁজতে হতো, কিন্তু এখন এমনিতেই মাদ্রাসায় অনেক শিক্ষার্থী আসছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। ধর্মীয় কারণেও অনেকে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী। করোনার পর দেশে অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ার যোগসূত্র দেখছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।

    মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দাখিল মাধ্যমিক পর্যায়ের এবং আলিম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সমমানের। উচ্চ শিক্ষার স্তরে রয়েছে ফাজিল ও কামিল। দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম ও পরীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।

    মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছ চার লাখের বেশি
    ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি। এক বছরে বিদ্যালয় বেড়েছে ৯৪টি, অথচ শিক্ষার্থী কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

    এক বছরে স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। দেশে এ ধরনের স্কুল রয়েছে ১৪৩টি। ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২।

    কারণ অনুসন্ধানে গবেষণার তাগিদ
    মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার বিপরীতে মাদ্রাসায় বৃদ্ধির কারণ ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরিবর্তন, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা কিংবা শিক্ষার ব্যয়–কোন বিষয়টি এ প্রবণতায় কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কিনা– সেটিও স্পষ্ট নয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, সাম্প্রতিক নানা পরিস্থিতি, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এগুলোর সম্ভাব্য কারণ ও প্রকৃত চিত্র জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, মাধ্যমিকে এত শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণসহ প্রতিবেদনের অন্যান্য পরিসংখ্যানের প্রবণতা বুঝতে নিবিড় গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু শিক্ষার্থী বাড়া-কমার পরিসংখ্যান দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি বিচার করা যথেষ্ট নয়। ঝরে পড়ার হার, শিক্ষার মান, শিক্ষক সংখ্যা ও যোগ্যতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় বাস্তব চাহিদা নিরূপণ এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

  • ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে আসছেন সংগীতশিল্পী বালাম ও কোনাল। ‘নির্ঘুম রাত জানে’ শিরোনামে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতের জনপ্রিয় এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন আসিফ ইকবাল। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন। ঢাকার মগবাজারের ভেলোসিটি স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।

    গানটির কথা প্রসঙ্গে গীতিকার আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সব সময় মুখে বলা কথায় থাকে না; বরং নির্ঘুম রাত কিংবা কাজে মনোযোগ দিতে না পারার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়। অন্যের কাছ থেকে আবেগ লুকানো গেলেও নিজের কাছ থেকে তা আড়াল করা যায় না। এই উপলব্ধিই উঠে এসেছে ‘নির্ঘুম রাত জানে’ গানে।


    সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘চলচ্চিত্রে বালাম ও কোনাল একসঙ্গে বেশ কয়েকটি দারুণ গান উপহার দিয়েছেন। নতুন গানটিতেও দুজন অসাধারণ গেয়েছেন। আশা করছি শ্রোতারা গানটি বেশ উপভোগ করবেন।’

    এর আগে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গান দিয়ে আলোচনায় আসে বালাম-কোনাল জুটি। পরে ‘রাজকুমার’ সিনেমার টাইটেল গানেও কণ্ঠ দেন তারা। ‘হান্নান’ সিনেমাতেও এই জুটির গান রয়েছে। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বেশ আগে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে কাজ করেছেন বালাম ও কোনাল। ‘এইদিন সেই দিন ঈদ আনন্দ’ শিরোনামে ঈদ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের সূচনা সংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন বালাম।

    নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, ‘দর্শক এই সময়ে যে ধরনের গান শুনতে চান, এটি তেমনই। ভালোবাসার এমন এক অনুভূতি গানটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা মুখে প্রকাশ না করলেও মানুষের আচরণে ধরা পড়ে। পুরোনো গানের মতো বালাম ভাইয়ের সঙ্গে আমার গাওয়া নতুন গানটি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।’
    নতুন গানের পাশাপাশি কোনাল নাটকের গানেও কোনাল বেশ সরব। অন্যদিকে বালাম ব্যস্ত একাধিক গানের কাজ নিয়ে।

  • চীনের ‘গ্রে জোন’ কৌশল

    চীনের ‘গ্রে জোন’ কৌশল

    তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘গ্রে জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের কৌশল।

    তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে চীন সম্প্রতি প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র এপ্রিলে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়ে।

    সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সফরটি বাতিল করতে হয়েছিল। পরে মে মাসে এসওয়াতিনির রাজার উড়োজাহাজে করে তিনি সফর সম্পন্ন করেন।

    তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের তৎপরতাও বেড়েছে। এসব জাহাজের নজরদারি ও পরিদর্শনকে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং অন্য দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু তাইওয়ানের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করা নয়; বরং দেশটির মিত্রদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা যে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ালে তাদেরও কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে।

    তবে এই চাপের মধ্যেও জাপান ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী দেশগুলোর উচিত চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে আরো স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা।

  • স্বর্ণালঙ্কারের দাম  ভরিতে  ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে, সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা।

  • বিশ্বজেুড়ে বন্ধ অনেক ওয়েবসাইট?

    বিশ্বজেুড়ে বন্ধ অনেক ওয়েবসাইট?

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের ভিত্তি প্রযুক্তিতে গুরুতর ত্রুটি চোখের আড়ালে থেকে গিয়েছিল, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকাশ্যে আনতে সাহায্য করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সাইবার-নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে।

    দুর্বলতাগুলো পিএইচপি নামে একটি প্রোগ্রামিং ভাষার মধ্যে রয়েছে, যা ২০০০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    বুধবারের এই আবিষ্কারের প্রভাব সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে সরকার ও সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে এবং ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের একটি নতুন জরুরি সমাধান ইনস্টল করতে অথবা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে আহ্বান জানিয়েছে।

    সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থা উইজের গবেষকরা এই দুর্বলতাগুলো উন্মোচন করেছেন। এই ত্রুটিগুলোকে এআই দ্বারা এযাবৎকালের শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুতর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

    ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা হয়। এই আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা সমস্যা বলে অভিহিত করেছে ওপেনএআই।

    বেশিরভাগ মানুষ হয়তো পিএইচপি-এর নাম শোনেননি, কিন্তু তারা অবশ্যই প্রতিদিন এর সাথে কাজ করেন। এর পুরো নাম পিএইচপি: হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর।

    অনলাইন শপ, উইকিপিডিয়া এবং ওয়ার্ডপ্রেসসহ অসংখ্য প্ল্যাটফর্মকে শক্তি জোগায় এই পিএইচপি, যা ব্লগের মতো অনেক ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

    গরিলা সাইবার সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী পল স্পেন বিবিসিকে বলেছেন, আপনি যখন উইকিপিডিয়ার মতো কোনো ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন, তখন পিএইচপি হলো সেই কোড যা আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং ওয়েবে পড়ার উপযোগী করে তা উপস্থাপন করে।

    কিন্তু এমন একটি ত্রুটির কারণে, যার মাধ্যমে আক্রমণকারীরা প্রমাণীকরণ ছাড়াই প্রভাবিত ওয়েব সার্ভারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারত, পিএইচপির ওপর নির্মিত সবকিছুই অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল।

    স্পেন বলেছে, এআই এই ধরনের আক্রমণকে আরো সহজ ও দ্রুততর করে তুলতে পারে এবং অনুমান করছে যে এই ত্রুটিটি লাখ লাখ ওয়েবসাইটকে প্রভাবিত করতে পারে।

    অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার-নিরাপত্তা গবেষক জিল স্লে বলেছেন, হ্যাকার বা কোনো দেশ যদি এই ত্রুটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ওয়েবসাইট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়, তবে তা হবে ভয়াবহ।

    কোন কোন ওয়েবসাইট প্রভাবিত হয়েছে

    এই সতর্কবার্তার কারণে গেমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সরকারি পোর্টাল এবং অনলাইন ফোরাম পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পরিচালক সংস্থা উইকিমিডিয়া, যা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বেশ কিছু সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ফিনল্যান্ডের সরকার, এডিনবরা কাউন্সিল এবং বিবিসি তাদের সাইট ও পেজগুলো অফলাইন করে দিয়েছে এবং নেদারল্যান্ডসের সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থাও তাদের ওয়েবসাইটটি সরিয়ে নিয়েছে। কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য বোর্ডসহ স্কটল্যান্ডের বেশ কিছু সরকারি সংস্থাও তাদের ওয়েবসাইটগুলো অফলাইনে নিয়ে গেছে।

    কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, এই দুর্বলতার কারণে দুর্বলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ওয়েবসাইটগুলো, বিশেষ করে সীমিত নিরাপত্তা সংস্থানসম্পন্ন ছোট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    ইউএনএসডব্লিউ সিডনির সাইবার-নিরাপত্তা গবেষক সলিল কানহেরে বলেছেন, যেহেতু প্রযুক্তিগত বিবরণগুলো এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে, তাই আগামী সপ্তাহগুলোতে এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগানোর আরো প্রচেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ত্রুটিগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর কী ঘটল

    পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপাররা বুধবার তাদের সফটওয়্যারে বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতাগুলো সমাধান করার জন্য কিছু প্রাথমিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

    কোম্পানিটি বলছে, সকল পিএইচপি ব্যবহারকারীকে অবিলম্বে আপডেট করার জন্য দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের তাদের প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত করার জন্য সেই সতর্কবার্তাগুলোই পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা পিএইচপি ব্যবহারকারী সব সংস্থাকে তাদের সিস্টেম অবিলম্বে মেরামত করতে না পারলে অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    সংস্থাটি আরো বলেছে যে, এই ত্রুটিটি একটি সিস্টেমের ডেটাবেস হ্যাক করার জন্য একটি ‘সরাসরি পথ’ তৈরি করে দিতে পারে। সংস্থাটি জানায়, ‘এই ঝুঁকিগুলো এতটাই গুরুতর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলো জুড়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

    যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে এবং সংস্থাগুলোকে ‘আক্রমণকারী দ্বারা ইনস্টল করা ব্যাকডোর’ পরীক্ষা করতে বলেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় এর সমকক্ষরাও অনুরূপ সতর্কতা জারি করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনগণকে তাদের সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও তাদের সিস্টেম সুরক্ষিত করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন জানিয়েছে যে, পিএইচপি সমস্যাটি জনসমক্ষে আসার কয়েক দিন আগেই তারা একাধিকবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। সম্ভাব্য আক্রমণকারীরা কীভাবে এই দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল, তা জানা যায়নি।

    এআই কীভাবে দুর্বল স্থানগুলো খুঁজে বের করছে। নিরাপত্তা সংস্থা ক্যালিফ এবং উইজ-এর গবেষকরা এই দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করেছেন।

    গবেষকরা উন্নত এআই টুল ব্যবহার করেছেন, যা মানুষ বা পুরোনো সিস্টেমের চেয়ে অনেক দ্রুত কোড বিশ্লেষণ করে ত্রুটি খুঁজে বের করতে সক্ষম।

    কানহেয়ার বলেন, ‘আধুনিক সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল এবং কিছু দুর্বলতা বছরের পর বছর চোখের আড়ালে থেকে যেতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘মূল ত্রুটিগুলো নতুন ছিল না; যা বদলেছিল তা হলো সেগুলো খুঁজে বের করার আমাদের ক্ষমতা।’

    এই সপ্তাহে আবিষ্কারটির বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপাররা নিরাপত্তা ত্রুটি এবং এর ব্যাপকতা সম্পর্কে তড়িঘড়ি করে ঘোষণা দিতে বাধ্য হন।

    কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার গবেষণা কেন্দ্রের রায়ান কো বলেন, এই ত্রুটিগুলোর বেশিরভাগই অতীতে সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতির কারণে উদ্ভূত হয়েছে, যেগুলো নিরাপত্তার কথা মাথায় না রেখে শুধু কার্যকারিতার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    মানুষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য কী করতে পারে

    ওয়েবসাইট মালিকদের পিএইচপির সর্বশেষ সংস্করণ দিয়ে তাদের ওয়েবসাইট সুরক্ষিত করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    স্পেন বলেছেন, পিএইচপি সফটওয়্যার প্যাচটি বেশিরভাগ প্রযুক্তি দলের জন্য একটি ছোট ও সাধারণ সমাধান।

    মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা আগামী সপ্তাহগুলোতে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সফটওয়্যার বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসা আপডেটগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    কানহেরে বলেন, মূলত ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের ওপরই এর দায়ভার বর্তায়, তবে ব্যবহারকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিষেবাগুলো থেকে জারি করা যেকোনো নিরাপত্তা পরামর্শ, যেমন পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের অনুরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

    তিনি জনগণকে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রচারকে কাজে লাগিয়ে পাঠানো যেকোনো ফিশিং বার্তার ব্যাপারেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

  • লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জোসে মরিনহোর দল। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।

    নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকেরা। রিয়ালের হয়ে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। অন্যদিকে লাইপজিগের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিদিয়াম গোমিস।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল লাইপজিগ। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ২৮ মিনিটে রোমুলোর শট এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর গোলের সম্ভাবনা দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ৪৩ মিনিটে আরদা গুলেরের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়ালের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেডে বল পান আরদা গুলের। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তুরস্কের এই তরুণ ফুটবলার।

    ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস ধরে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি তার ১২তম গোল।

    এর দুই মিনিট পর, ৮৫ মিনিটে লাইপজিগের হয়ে ব্যবধান কমান বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। তবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শেষ করে দেয় রিয়াল। ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে দলের চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে। তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

    এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তালিকার ২৯ নম্বরে নেমে গেছে লাইপজিগ।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ের পর এবার রিয়ালের নজর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার দিকে। আগামী রোববার রাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি।

  • ঋণের কবলে বিশ্ব, বাড়ছে সুদের বোঝা

    ঋণের কবলে বিশ্ব, বাড়ছে সুদের বোঝা

    ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ঘাটতির প্রতিবাদে সম্প্রতি রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও অনেক বিক্ষোভই ছিল শান্তিপূর্ণ।

    সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে ফ্রান্সে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই এ বিক্ষোভ হয়।

    এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ঋণ সংকট ও সরকারের আর্থিক চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ঋণ নেওয়ায় অনেক দেশের সরকার এখন গভীর ঋণের জালে আটকা পড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়

    সাধারণ মানুষ যেভাবে ঋণ নেয়, সরকারও অনেকটা একইভাবে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।

    বন্ড কেনার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের সুদ দেয় সরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    ১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এই বন্ডের ‘ইল্ড’ বা বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত মুনাফা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা থেকে বোঝা যায়—কোনো দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাজারের কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    যেভাবে কাজ করে সরকারি বন্ড

    ১. সরকার ঋণ নেয়—একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কেনার জন্য ১০০ ইউরো প্রদান করেন।

    ২. সরকার সুদ প্রদান করে—১০ বছর ধরে প্রতি বছর বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ২ দশমিক ৫০ ইউরো (মোট ২৫ ইউরো) পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে, তিনি প্রতি বছর ৫ ইউরো (মোট ৫০ ইউরো) পাবেন।

    ৩. সরকার ঋণ পরিশোধ করে – ১০ বছর পর, বিনিয়োগকারী তার মূল বিনিয়োগ করা ১০০ ইউরো ফেরত পান।

    ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়

    বন্ডের দাম কমে গেলে সাধারণত এর ইল্ড বা সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

    কোনো পরিবার যেমন উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ধকী ঋণের চাপে পড়ে, তেমনি কোনো সরকারকেও তখন ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো জরুরি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।

    ইউরো অঞ্চল চালুর ঠিক পরপর, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ১০ বছর মেয়াদী ঋণের ব্যয় কখনোই ৫ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

    ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোন ঋণ সংকটের সময় গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটাপন্ন দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।

    দুই দেশের সুদের হারের এই ব্যবধান বাড়ার অর্থ হলো, ফ্রান্সকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা জার্মানির তুলনায় বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে বাজারের উদ্বেগও প্রতিফলিত হচ্ছে।

    ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের সুদের হারের তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। ইউরোর বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদের হারই কেবল ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।

    কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ঋণী

    সরকারি ঋণের পরিমাণে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এরপর চীনের ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপির অনুপাতে জাপানের ঋণ ১৯৯ শতাংশ।

    ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ঋণগ্রস্ত দেশ ফ্রান্স। ইতালির ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও জিডিপির অনুপাতে তা ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

    সুদ পরিশোধেই বছরে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের সমান। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান বাজারের দেশগুলো থেকে।

    বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

    ব্যয়ের এই পরিমাণ বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় করা ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

    সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হয়। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে। ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে কর বাড়ানোর পথেও হাঁটতে হতে পারে।

    এর প্রভাব শুধু সরকারি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে আবাসনঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে।

    ফলে একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরকারি সেবায় অর্থসংকট—দুই চাপই সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে এই অর্থনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    সরকারগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বজায় রাখা।

  • বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

    বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

    টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি লিব্রে ডি ব্রুক্সেলসের (ইউএলবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

    সংবাদপত্র ‘ল্য সোয়ারের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাংশ অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

    ‘জেন-জেড কাউন্টার-অ্যাটাক’ নামক একটি জোটের আহ্বানে সকাল থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। এই জোটে শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন, গবেষক, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    ক্যাম্পাসের কিছু ভবন অবরুদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। এই জোটটি বার্ষিক টিউশন ফি ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাচ্ছিল।

    ‘ওয়ালোনিয়া-ব্রাসেলস ফেডারেশন’র তথ্য অনুযায়ী, এই ফি বৃদ্ধির ফলে উচ্চশিক্ষার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    এ ছাড়া এই গোষ্ঠীটি ‘ল্যান্ডস্কেপ ডিক্রির’ (উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা) সংস্কার, নিম্নস্তরের শিক্ষায় অর্থায়ন হ্রাস, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী তরুণদের ওপর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

    জোটটি বৃহস্পতিবার ইউএলবিতে ক্লাস বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আউটসোর্সিং বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু

  • আল্লাহর কুদরত আঙুলের ডগায়

    আল্লাহর কুদরত আঙুলের ডগায়

    মানবদেহ মহান আল্লাহতায়ালার অপার সৃষ্টিনৈপুণ্যের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। মানুষের চোখ, কান, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই আঙুলের ডগায় থাকা সূক্ষ্ম রেখাগুলোও সৃষ্টির অসাধারণত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রত্যেক মানুষের আঙুলের ছাপের বিন্যাস স্বতন্ত্র হওয়ায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এটি ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্ষুদ্র এই রেখাগুলোর দিকে গভীরভাবে তাকালে উপলব্ধি করা যায়, মানবসৃষ্টির কত সূক্ষ্ম ব্যবস্থার মধ্যে আল্লাহতায়ালা তাঁর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন রেখেছেন।

    ১. আঙুলের ছাপ : ব্যক্তিপরিচয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

    মানুষের আঙুলের ছাপের রেখা, বাঁক ও বিন্যাস একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এমনকি একই ব্যক্তির দুই হাতের বিভিন্ন আঙুলের ছাপও এক নয়। এ বৈশিষ্ট্য ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান, পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় আঙুলের ছাপের ব্যবহার এর বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরে।

    আল্লাহতায়ালা মানুষের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আর-রুম : ২২) আয়াতটি মানুষের বৈচিত্র্যকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে; আঙুলের ছাপের বৈজ্ঞানিক বিষয়টি এর একটি উপলব্ধিযোগ্য উদাহরণ।

    ২. গর্ভে মানবদেহের সূক্ষ্ম বিকাশ

    মানুষের আঙুলের ছাপ জন্মের আগেই মাতৃগর্ভে গড়ে ওঠে। বংশগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি গর্ভে ভ্রূণের বিকাশকালীন পরিবেশও এর বিন্যাসে ভূমিকা রাখে। এ কারণে আঙুলের ছাপের রেখাগুলোতে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা আত-তিন : ৪)

    মানুষের শারীরিক গঠন ও এর সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে চিন্তা করলে এ আয়াতের তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। তবে আয়াতটি সরাসরি আঙুলের ছাপের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বর্ণনা করে না; বরং মানুষের সামগ্রিক সৃষ্টিগত মর্যাদা ও গঠনের কথা বলে।

    ৩. আঙুলের অগ্রভাগ সম্পর্কে কোরআনের তাৎপর্যপূর্ণ বর্ণনা

    আঙুলের ছাপের আলোচনায় সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আয়াত রয়েছে সুরা আল-কিয়ামাহতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিগুলো একত্র করতে পারব না? কেন নয়, আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।’ (সুরা আল-কিয়ামাহ : ৩-৪)

    আয়াত দুটির মূল বক্তব্য হলো, মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়। মানুষের অস্থিগুলো আবার একত্র করার পাশাপাশি আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্গঠন করার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতা তুলে ধরেছেন। আঙুলের অগ্রভাগের এই উল্লেখ মানুষের দেহের সূক্ষ্মতা নিয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে আয়াতের মূল প্রসঙ্গ কিয়ামতে পুনরুত্থান; এটিকে আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সরাসরি ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

    ৪. আঙুলের ছাপ ও আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান

    আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে আঙুলের ছাপ অপরাধস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। কোনো বস্তুতে থেকে যাওয়া আঙুলের ছাপের রেখা ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তার মিল যাচাই করা হয়। তবে এ ধরনের বিশ্লেষণের নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে ছাপের মান, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণপদ্ধতি ও বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের ওপর। তাই আঙুলের ছাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও যথাযথ যাচাই ছাড়া একে অব্যর্থ প্রমাণ বলা উচিত নয়।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও বহু নিদর্শন রয়েছে; তবু কি তোমরা দেখবে না?’ (সুরা আজ-জারিয়াত : ২০-২১) মানুষের দেহ ও প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এ আয়াতের আলোকে চিন্তা-গবেষণার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

    ৫. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আঙুলের ছাপের ভূমিকা

    অপরাধ তদন্তে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা যাচাই করা যায়। ব্যাংকিং, পরিচয়পত্র যাচাই, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো একটি প্রমাণের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও—যদিও তা তোমাদের নিজেদের, মা-বাবা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা আন-নিসা : ১৩৫) আয়াতটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি তুলে ধরে। আধুনিক তদন্তপ্রযুক্তির ব্যবহারেও এই নীতি অনুসরণ করা জরুরি।

    ৬. ডিজিটাল নিরাপত্তায় আঙুলের ছাপ

    বর্তমানে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, অফিসের প্রবেশব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়। এতে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়। তবে কোনো প্রযুক্তিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণ এবং বিকল্প যাচাইব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ইসলামে মানুষের সম্পদ ও অধিকার রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করলে ন্যায়বিচার করবে।’ (সুরা আন-নিসা : ৫৮) ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয়সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমানতদারি এবং ন্যায়সংগত আচরণের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক।

    ৭. নিজের মধ্যে আল্লাহর নিদর্শন অনুসন্ধান

    মানুষ অনেক সময় দূর আকাশ, পাহাড়-পর্বত কিংবা সমুদ্রের বিস্ময় দেখে অভিভূত হয়; অথচ নিজের শরীরের অসংখ্য সূক্ষ্ম ব্যবস্থার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেয় না। আঙুলের ডগার ক্ষুদ্র রেখা থেকে শুরু করে চোখের দৃষ্টিশক্তি, হৃদযন্ত্রের স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়মিততা—সবই মানুষকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে; আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তবু কি তোমরা দেখতে পাও না?’ (সুরা আজ-জারিয়াত : ২০-২১) এই আয়াত মানুষকে নিজের অস্তিত্ব ও চারপাশের সৃষ্টিজগৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানায়।

    মানুষের আঙুলের ডগায় থাকা সূক্ষ্ম রেখাগুলো শুধু পরিচয় শনাক্ত করার উপকরণ নয়; এগুলো মানবদেহের স্বাতন্ত্র্য ও জটিলতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। আধুনিক বিজ্ঞান এ বৈশিষ্ট্যের ব্যবহারিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছে, আর কোরআন মানুষকে নিজের অস্তিত্ব ও সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছে। সুরা আল-কিয়ামাহর ৩-৪ নম্বর আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করে কোরআন মানুষের চিন্তাকে সৃষ্টির সূক্ষ্মতার দিকে ফিরিয়ে দেয়। অতএব, নিজের দেহের ক্ষুদ্রতম বৈশিষ্ট্য নিয়েও চিন্তা করা, জ্ঞানচর্চা করা এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা—এসবই হতে পারে একজন সচেতন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

  • দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

    দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

    উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।

    তিনি জানিয়েছেন, চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ দুই দেশের সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী প্রচার চালানোর জন্য লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তের প্রতিরক্ষা ও দুর্গ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনের পর কিম ইয়ো জং বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ইউনিটগুলোও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।

    পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে দক্ষিণ কোরিয়াকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কষ্টদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন কিম ইয়ো জং।

    সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক মাইক প্রচার এবং বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে তাদের গুলিবর্ষণ ছিল বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের উদ্দেশে কিম ইয়ো জং আরও বলেন, সতর্কতামূলক গুলির কারণে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সামরিক সদস্যের সামান্য ক্ষতি হলেও উত্তর কোরিয়ার সেনারা দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো দয়া দেখাবে না।

    উত্তর কোরিয়ার এই হুমকির পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ও একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়ার নতুন করে লাউডস্পিকার চালুর প্রস্তুতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈরিতা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আসছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক হুমকি ও সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দুই কোরিয়া সীমান্ত এলাকায় লাউডস্পিকার ব্যবহার করে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার লাউডস্পিকারে কে-পপ গান ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রচার করা হতো। এসব সম্প্রচার উত্তর কোরিয়ার সরকারকে ক্ষুব্ধ করত। এর জবাবে পিয়ংইয়ংও সীমান্তে পাল্টা লাউডস্পিকার ব্যবহার করত।

    ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে। এরপর দুই দেশের মধ্যে ডিমিলিটারাইজড জোন বা অসামরিকীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

    ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা, ব্যারিকেড নির্মাণ ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মতো পদক্ষেপ জোরদার করেছে। দেশটি সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ী সীমান্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করছে বলে জানা গেছে।

    মাইন বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

    সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে মাইন বিস্ফোরণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, অসামরিকীকৃত অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার নতুন করে মাইন পুঁতে রাখার কারণে গত মাসে একটি বিস্ফোরণে দেশটির দুই সেনা গুরুতর আহত হন।

    তবে এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সাজানো।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে উল্লেখ করার পরিকল্পনা রয়েছে সিউলের। দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোরীয় যুদ্ধের অস্ত্রবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।

    একই সঙ্গে ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাবে সিউল। তবে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপরও জোর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

    সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি, মাইন বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে। হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    তিনি তাদের পরিবার, দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।

  • ৩০ বছরেও ক্ষমতা পাবেনা কংগ্রেস

    ৩০ বছরেও ক্ষমতা পাবেনা কংগ্রেস

    ভারতে আগামী ৩০ বছরেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে তাই তারা (কংগ্রেসে) ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে।

    বৃহস্পতিবার নিজের ৬২তম জন্মদিনে দিল্লিতে যমুনা নদী পরিষ্কারের জন্য ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন এই বিজেপি নেতা।

    অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান রাহুলরা। তাই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তাদের এত আপত্তি।

    এসআইআর বাতিলের দাবিতে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ রাজপথে নেমেছে। গত ১৩ অক্টোবর রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে মিছিলও হয়। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কেন্দ্রকে চাপে রেখেছিল। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের কারণে আন্দোলনের গতি থমকে যায়।

    সম্প্রতি বিজেপি এক ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করে, রাহুল চার দিনের ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বৃহস্পতিবার রাহুলের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, ‘আমি জানি আমার কথা আপনি এখন শুনতে পাবেন না। কারণ আপনি বিদেশে কোথাও বসে আছেন। তার কোনো ব্যাখ্যাও কোনো দিন আপনি দেন না। সে সব ঠিক আছে। ওটা আপনার ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু দিল্লিতে নামার পর আমার কথা শুনে রাখুন। আগামী ৩০ বছরেও আপনি ক্ষমতায় আসাতে পারবেন না।’

    ভোট চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি তো ভোটে জিতেই চলেছে। বিরোধীদের তাতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা ভোট চুরির অজুহাত নিয়ে এসেছে।’

    রাহুলকে উদ্দেশ করে সরাসরি অনুপ্রবেশকারীর প্রসঙ্গ তোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘রাহুলজি, আপনি শুধু ভোট চুরি নিয়ে কথা বলেন। কারণ, আপনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান। তাদের ভোটগুলোকে আগলে রাখতে চান।’

    অমিত শাহ আরও বলেন, ‘আমি যখন বলি বিজেপি আরও ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তখন বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তোলে। জিজ্ঞেস করে, ভোটের ফলাফল অমিত শাহ কীভাবে আগে থেকে জেনে যাচ্ছেন! আসলে অমিত শাহ তো এখানেই জন্মেছেন, এখানেই থাকেন এবং এখানেই মারা যাবেন। প্রতি ছয় মাস অন্তর আমাকে বিদেশে যেতে হয় না। আমি এই দেশের মানুষের মাঝে বাস করি।’

    বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘মানুষের রায় আপনারা এ ভাবে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে এবং জনরোষ সৃষ্টি করে বদলাতে পারবেন না। শুধু আন্দোলন করে, অবস্থানে বসে ভোটে জেতা যায় না।’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়ছেন আমিরাতের নুসেইবেহ

    জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়ছেন আমিরাতের নুসেইবেহ

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির বিশেষ দূত লানা নুসেইবেহ। আমিরাত সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার পর নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রার্থিতা ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে লানা নুসেইবেহ বলেন, পেশাগত জীবনের একটি বড় সময় তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে কাটিয়েছেন। তার ভাষায়, সংকল্পবদ্ধ কূটনীতি কী অর্জন করতে পারে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে, সেটিও দেখেছেন বলে জানান নুসেইবেহ। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এবং কাজ করার সক্ষমতাও কমে যায়।

    আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতার বিষয়ে মনোযোগ দিতে বর্তমানে আমিরাত সরকারের দায়িত্ব থেকে ছুটিতে রয়েছেন নুসেইবেহ।

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

    গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে ষষ্ঠ দফার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো একক প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লানা নুসেইবেহের প্রার্থিতা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো।

  • কলেজে ভর্তির সুযোগ চান এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা

    কলেজে ভর্তির সুযোগ চান এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা

    এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ এবং উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করা।

    তাঁরা বলেন, কোনো একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তাই শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মানবিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে অকৃতকার্যদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধা চান না; বরং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ এবং এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি চান। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

  • বিশ্বের ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ?

    বিশ্বের ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ?

    ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যে।

    ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভের কিছু ঘটনা সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। তবে অনেক বিক্ষোভই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মধ্যেই এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

    এই পরিস্থিতিতে সরকারের আর্থিক সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার এ সংকট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ায় অনেক ইউরোপীয় দেশ গভীর ঋণসংকটে পড়েছে। সেই ঋণের সুদও দিন দিন বাড়ছে।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়?

    সাধারণ মানুষ যেভাবে ঋণ নেন, সরকারও অনেকটা একই পদ্ধতিতে ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। এর বিনিময়ে সরকার বন্ড ক্রেতাদের সুদ দেয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

    ১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন এক ধরনের ঋণ, যা সরকার এক দশক পর পরিশোধ করে। এ বন্ডের ইল্ড বা ফলন হলো ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা পান। ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি দেশের সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

    বিষয়টি যেভাবে কাজ করে

    সরকার ঋণ নেয়: একজন বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি বন্ড কিনতে ১০০ ইউরো দেন। সরকার সুদ দেয়: পরবর্তী ১০ বছর প্রতি বছর বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ পান। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাবেন। আর সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে ৫ ইউরো করে ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো পাবেন।

    সরকার মূল অর্থ ফেরত দেয়: ১০ বছর শেষে বিনিয়োগকারী তার মূল ১০০ ইউরো ফেরত পান। বন্ডের দাম কমে গেলে এর ইল্ড বা ফলন বেড়ে যায়। ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। কোনো পরিবারের বাড়ির ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে যেমন মাসিক ব্যয় বাড়ে, তেমনি সরকারেরও সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যায়।

    সবচেয়ে বেশি ঋণ কোন দেশগুলোর?

    সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ।

    বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা ডলারে ঋণ নেওয়ার সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিকভাবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা দেশটির সরকারি ঋণের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও সীমাহীন নয়।

    এরপর রয়েছে চীন। দেশটির সরকারি ঋণ ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। জাপানের ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশি—১৯৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ।

    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার, যা জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ইতালির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার হলেও দেশটির ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ইতালির ঋণের বোঝা ফ্রান্সের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে জার্মানির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির মাত্র ৬৫ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ বেড়ে জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

    ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    সরকারি ঋণের পাশাপাশি পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণও বাড়ছে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি ডলার বেড়ে ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই ঋণের মধ্যে রয়েছে সরকার, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ।

    বিশ্বের প্রতিটি মানুষের হিসাবে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে।

    এই বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধ করাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

    এই অর্থ বিশ্বের সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় হওয়া ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়া ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের চেয়েও বেশি।

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে জনসেবামূলক খাতে। স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে অর্থ কমে আসে। সুদের বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে কর বাড়াতে অথবা সরকারি ব্যয় কমাতে হতে পারে।

    এ ছাড়া সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে। ফলে সরকারি ঋণের বোঝা শেষ প

  • ৭ দলের কওমি ঘরানার ‘সমমনা ইসলামী দল গঠন’

    ৭ দলের কওমি ঘরানার ‘সমমনা ইসলামী দল গঠন’

    কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। বৈঠকে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে সাতটি দল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।

    এ ছাড়া আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা ঐকমত্য পোষণ করেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদিতে ছয় মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    সৌদিতে ছয় মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    সৌদি আরবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৫৪ শতাংশ। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সবচেয়ে বেশি ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে। আগের শাসনামলগুলোর তুলনায় এটি রেকর্ড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে সৌদি আরব।

    বিদেশি নাগরিক ৫৯ জন

    ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৭টি দেশের নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৯ জন সৌদি নাগরিক, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৪৬ শতাংশ। বাকি ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট সংখ্যার ৫৪ শতাংশ।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ছয় মাসে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৬ শতাংশ। হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ২৫ জনের। এ ছাড়া হত্যা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তিনজনের।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা না করার মতো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আন্তর্জাতিক আইনে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড সীমিত রাখার যে ব্যাখ্যা রয়েছে, এসব দণ্ড তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে সংস্থাটি।

    এ ছাড়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৪টি কার্যকর করা হয়েছে তাজির বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির আওতায়। এ সংখ্যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

    সংস্থাটির দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ১০৮টি মামলার মধ্যে ৯১টি সম্পর্কে তাদের বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থার কাছে নথিভুক্ত তথ্য ছিল না। মোট মামলার ৮৪ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সৌদি আরবের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জটিলতা তুলে ধরে।

    রাজনৈতিক মামলায় মৃত্যুদণ্ড

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবের বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ধরনের মামলা মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

    এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, ২০২৬ সালের জুনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। এর আগে জাতিসংঘের নির্বিচার আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ তার আটককে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছিল।

    এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামে এক কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    ইএসওএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশবে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা অপরাধের কারণে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা হলেন ইউসুফ আল-মানাসিফ, জাওয়াদ কুরেইরিস, হাসান জাকি আল-ফারাজ, মাহদি আল-মোহসেন ও আলী আল-মাবিউক।

    কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিরা

    প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে খামিস মুশাইত কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ওয়ার্ডে রয়েছেন ৫৮ জন ইথিওপীয় নাগরিক। এ ছাড়া নজরান কারাগারে আরও পাঁচজন ইথিওপীয় ও পাঁচজন সোমালি নাগরিক এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিসরীয় নাগরিক রয়েছেন।

    এসব বন্দির মামলায় পেশাদার দোভাষীর অনুপস্থিতি, আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়া, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ না পাওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি।

    আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

    ইএসওএইচআর বলেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও প্রকাশ্যে ঘোষিত আইনি অঙ্গীকারের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়েই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। নির্যাতনবিরোধী সনদ এবং শিশু অধিকার সনদের অধীনে সৌদি আরবের বাধ্যবাধকতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, অন্যায্য বিচার, নির্যাতন, বৈষম্য এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা বাড়লেও সৌদি আরব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।

  • যশোরে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবি পাঁচ এমপির

    যশোরে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবি পাঁচ এমপির

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া- অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য থাকলেও সার ডিলার নিয়োগে তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক সরকারদলীয় ব্যক্তিদের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উপকরণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে অনেককে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

    সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রসুল কয়েকজন ডিলারের নাম উল্লেখ করে তাঁদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়ারী ইউনিয়নের হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এমন ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ ছাড়া মনিরামপুর পৌরসভার নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। একই উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দীনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কোনো বক্তব্য যোগ করা হয়নি।

    সার ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

    সংসদ সদস্যরা বলেন, সার ও বীজের সরবরাহ, বিতরণ, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এসব কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কমিটি গঠনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তাঁদের মতে, সার ডিলার নিয়োগ ও মনিটরিং কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে প্রকৃত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সার। তাই কৃষকদের কাছে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে ডিলার নিয়োগে সততা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে কথিত দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, সহসেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ দলীয় নেতারা।

  • নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তির সম্ভাব্য সময়

    নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তির সম্ভাব্য সময়

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পৃথক গেজেট জারির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত জনবলকে নতুন বেতন কাঠামোয় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট দ্রুত জারি করা হয়েছিল। তবে ওই সময় তাদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করতে ছয় মাস সময় লেগেছিল। ফলে এবারও কিছুটা সময় লাগছে। তবে ৮ম পে-স্কেলের মতো এত দীর্ঘ সময় লাগবে না।

    এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেল পাবেন বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

    তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়নিত আলোচনা হচ্ছে। হয়তো কিছুটা দেরি হবে। তবে শিক্ষকরাও নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন।

    জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে আনতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রয়োজন হবে পেনশন খাতে।

  • ১০ বছরেও ফিরবে না হাসিনা : স্পিকার

    ১০ বছরেও ফিরবে না হাসিনা : স্পিকার

    জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতায় থাকার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যে পরিবেশের কারণে কোনো সভ্য মানুষ নির্বাচনে আসত না। যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তারা নির্বাচন করার সাহস পেত না। অর্থ, বিত্ত-বৈভব এবং জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য, অসৎ ও সমাজের নিকৃষ্ট মানুষের দাপটের কারণে ভালো মানুষেরা নির্বাচন করতে পারতেন না।

    বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্পিকার আরও বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া একান্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছর মানুষ কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের এমন পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া বিকল্প কোনো কিছুর চিন্তা করার সুযোগ না থাকে।

    ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। দেশজুড়ে এখন জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার অভাবে মানুষ কাজ করতে পারছে না। ভোলার মানুষ ভোলার গ্যাস ভোগ করবে—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত।

    এ সময় জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। স্বাধীনতার পর দলটির সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    তবে বিরোধী দলের নেতৃত্ব পাওয়া আর কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করা এক বিষয় নয়। আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয়ের তদারকি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

    এক নজরে
    • ত্রয়োদশ সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
    • ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে।
    • জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসন শূন্য।
    • পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    ঐতিহাসিক পটভূমি

    আপনি Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি লিখেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা এই সংসদে নতুন কী দেখা যাচ্ছে, আর পুরোনো কোন প্রবণতাগুলো ফিরে আসছে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দলটি সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে এসেছে। একে প্রচলিত রাজনৈতিক বিন্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়। ২০১৩–১৪ সালের পর বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ২০২৬ সালে বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা তাই দলটির রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক জোটের অংশীদার থেকে প্রধান সংসদীয় বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পায়। ২০০১ সালে দলটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ হয় এবং দুই নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পৃথক অবস্থানে রয়েছে। তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেখা গেলেও এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব বুঝতে আরও নির্বাচন ও নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ প্রয়োজন।

    প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে এখন সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সংসদীয় নজরদারি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নও দলটির প্রধান দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার প্রবণতাও রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের স্বার্থ ও কৌশলে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় বিন্যাস সেই সম্পর্কের নতুন পর্যায় নির্দেশ করে।

    সংসদে জামায়াতে ইসলামী

    • ১৯৯১ ১৮টি আসন।
    • ২০০১ ১৭টি আসন; বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ, মন্ত্রিসভায় দুই নেতা।
    • ২০১৪ ও ২০১৮ সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
    • ২০২৬ প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী।

    “স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ দল সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদে ও রাজপথে বিরোধী রাজনীতি

    বিরোধী দল ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং ৬ সেপ্টেম্বর দুটি বিল নিয়ে ওয়াকআউট করেছে। জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসনও শূন্য রয়েছে। কখন বর্জন বৈধ রাজনৈতিক চাপ, আর কখন তা সংসদকে দুর্বল করে?

    সংসদীয় ওয়াকআউট প্রক্রিয়াগত অন্যায়ের প্রতিবাদে সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহৃত হলে কার্যকর রাজনৈতিক চাপ হতে পারে। কিন্তু এটি নিয়মিত বিরোধিতার প্রধান কৌশল হয়ে উঠলে সংসদীয় বিতর্ক ও প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা দুর্বল হয়। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী সদস্যদের ওয়াকআউট ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি উদাহরণ। জুন মাসে বিল উত্থাপন ও পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের সুযোগ নিয়ে আপত্তির পরও বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাদের দাবি ছিল, সংশোধিত সংস্করণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। বিরোধী সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করার পরও বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ১৩ জুলাই গঠিত বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন রাখা হলেও কমিটির কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তির কারণে জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা সদস্য মনোনয়ন দেয়নি। এসব ঘটনা দেখায়, ওয়াকআউট জনমনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে; কিন্তু সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা সীমিত করে।

    “বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতি এখনও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    ক্ষমতাসীন দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদে রয়েছে এবং ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৮টির সভাপতিত্ব করছে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারের বিরোধী দলকে প্রকৃত ভূমিকা দেওয়ার জন্য কী করা উচিত?

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের অর্থ এই নয় যে সংসদীয় কাঠামোতে বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত থাকবে। ১০ সেপ্টেম্বর ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের পর মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে ছিল।

    সরকার সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে বিরোধী দলকে কার্যকর তদারকির সুযোগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে বিরোধী সদস্যরা সরকারি নীতি পর্যালোচনা, নির্বাহী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এবং নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন। বিরোধী দলের সঙ্গে মতৈক্য থাকা জরুরি নয়; বরং তাদের প্রশ্ন তোলা ও সরকারি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ থাকা জরুরি। ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ব্যবস্থা নীতিগত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করেও সংসদীয় জবাবদিহি জোরদার করতে পারে।

    আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও সাংবিধানিক বিরোধ

    ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত-জোটের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু বিএনপি বলেছে পরিষদটি সংবিধানে নেই এবং তারা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি কি নীতিগত বিরোধ, নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব? এর সমাধান কীভাবে হতে পারে?

    ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় শপথ নিলেও প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের যুক্তি ছিল, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে, জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা উভয় শপথ গ্রহণ করেন।

    এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্কারের ম্যান্ডেটকে কীভাবে বৈধ সাংবিধানিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়া হবে। এর সমাধানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সাংবিধানিক বৈধতা পরস্পরের পরিপূরক হয়।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি বিরোধী দলের ধারণা কীভাবে বদলে দেয়? এখন বিরোধী দল কাদের প্রতিনিধিত্ব করে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। ফলে দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছে। তবে নির্বাচনে অনুপস্থিতি দলটির সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ নয়। জামায়াত এখন সংসদীয় বিরোধিতার প্রধান সাংগঠনিক শক্তি হলেও সরকারের বিরোধিতাকারী সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে, বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ও আওয়ামী লীগের সব সমর্থকের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা সংসদীয় বিরোধী দলের চেয়ে বিস্তৃত।

    “নির্বাচনের ব্যালটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তির বিলুপ্তি বোঝায় না।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদ থেকে রাজপথে: সংঘাত এড়ানোর উপায়

    ১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করেছিলেন যে আট দফা দাবি এক দফা দাবিতে পরিণত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উভয় পক্ষের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?

    জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের ১৯ সেপ্টেম্বরের সতর্কবার্তা সংসদীয় বিরোধ রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেয়। আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ১৯৯৬, ২০০৬–০৮ এবং ২০১৩–১৪ সালের রাজনৈতিক সংকট দেখায়, সংসদীয় আলোচনা ব্যাহত হলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা। রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধ অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত বিরোধের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা; বিরোধী দলেরও সংসদীয় প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।

    সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহি

    জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এখন সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (Public Accounts Committee—PAC) সভাপতিত্ব করছেন। এই কমিটি কতটা কার্যকর নজরদারি করতে পারে?

    জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সভাপতিত্বই কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে না। কমিটিটি সরকারি ব্যয়ের অপচয়, অননুমোদিত ব্যয়, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু কার্যকারিতা নির্ভর করে নিরীক্ষা আপত্তির ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর। তথ্যে প্রবেশাধিকার, নিয়মিত বৈঠক, বিশেষজ্ঞ সহায়তা, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নিশ্চিত করা জরুরি। দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নিরীক্ষা-প্রমাণকে অগ্রাধিকার দিলেই নজরদারি অর্থবহ হতে পারে।

    সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এবং কোন সংস্কার সংসদকে শক্তিশালী করতে পারে?

    সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব, তদন্ত এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক রাজনীতি, সংসদ বর্জন, নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রভাব এবং দুর্বল সংসদীয় তদারকি সরকার–বিরোধী সম্পর্ককে জটিল করেছে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে কার্যকর ভূমিকা দিলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংসদীয় বিতর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব, দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া, প্রকাশ্য শুনানি ও প্রতিবেদন প্রকাশের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির সংস্কার ও আন্তদলীয় সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সাংবিধানিক পরিবর্তন নতুন বিরোধ তৈরি করতে পারে। তাই বিরোধী দলের আইনগতভাবে সুরক্ষিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সংসদকে কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

    আরও পড়ার জন্য

  • পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    তারা কখনও ‘জিনের বাদশা’, কখনও তান্ত্রিক-কবিরাজ। আবার কখনও পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই জিনের বাদশাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পুলিশ জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

    এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

    চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

    পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে একটি বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি লামিন ইয়ামালকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে এই তুলনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়।

    ১৯ বছর বয়স মাত্র। এই বয়সেই লামিন ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম ফেভারিট। বার্সেলোনায় খেলছেন, তার পছন্দের জায়গা রাইট উইংয়ে, বাম পায়ের খেলোয়াড়… এমন সব সাদৃশ্যের কারণে তার সঙ্গে তুলনা চলছে লিওনেল মেসিরও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে গেছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকের কাছেও। সে বিষয়ে তিনি তার অভিমত দিয়েছেন।

    এনরিকে নিজে বার্সেলোনায় মেসির কোচ ছিলেন। তার অধীনে দল ট্রেবল জিতেছিল। তখন মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ মিলে দারুণ আক্রমণভাগ গড়েছিলেন।

    এই মৌসুমেও ইয়ামাল ভালো খেলছেন। গত মৌসুমের ভালো ফর্মটা তিনি ধরে রেখেছেন এবারও। ১১ ম্যাচে তিনি ৯টি গোল করেছেন। গোল করিয়েছেন আরও ১০টি। বুধবার রাতে তার দল বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে পিএসজির। সেই ম্যাচেও তিনি বার্সেলোনার মূল ভরসা হবেন বলে ধরা হচ্ছে।

    এনরিকে মনে করেন, ইয়ামালের উচিত নিজের পরিচয় গড়া। মেসির ছায়ায় থাকা তার জন্য ঠিক নয়। এই কোচ তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মেসিকে তিনি সর্বকালের সেরা মানেন। তাই অন্য কারও সঙ্গে তার তুলনা অন্যায়, এমনটাই এনরিকের মত।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় লামিন একটা কাজ খুব ভালো করছে। সে লামিন ইয়ামালই হতে চায়। সে খেলার নানা দিকে উন্নতি করছে। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় মেসির সঙ্গে অন্য কাউকে তুলনা করলে কেউই জিতবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লামিন নিজের সেরা রূপটা হতে চায়। অন্যের সঙ্গে নিজেকে না মেলানোই ভালো। সে খুব বুদ্ধিমান।’ নিজের পুরনো ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি এসব কথা বলেন।

    এনরিকে মানেন, ইয়ামাল পিএসজির জন্য বড় হুমকি। তার মতে, ইয়ামালকে থামানোর সেরা পথ হলো বার্সেলোনার হাতে বল কম দেওয়া। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের বিপক্ষে এটা করা কঠিন, তা তিনি স্বীকার করেছেন। তাই তিনি নিজের খেলোয়াড়দের বলেছেন, নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে। সবাইকে একসঙ্গে খেলতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘খুব সহজ। ওকে বল পেতে দেওয়া যাবে না। কারণ বল পেলেই বিপদ। লামিনকে আটকানোর সেরা উপায় হলো বার্সেলোনাকে বলই না পেতে দেওয়া। আমাদের জন্য এটাই আদর্শ অবস্থা। কিন্তু তা হবে না। কারণ বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন, আমরা জানি।’

    ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ আরেকটি কথাও বলেছেন। শুধু ইয়ামালকে নিয়ে ভাবলে পিএসজির চলবে না। কারণ বার্সেলোনার পুরো দলেই মান আছে। তাই পিএসজিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই মিলে রক্ষণ সামলাতে হবে।

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় আছে। শুধু লামিন নয়। রাফিনিয়া, পেদ্রি, কুবার্সি, হোয়ান গার্সিয়া… অনেকেই আছে। আমরা মনোযোগী ও সতর্ক থাকব। ওকে আমাদের দল হিসেবেই হারাতে হবে।’

  • সৌদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপনীয় নথি যা বলছে

    সৌদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপনীয় নথি যা বলছে

    সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সৌদি আরবের কারাগারে আটক ছিলেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

    ১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। চিঠিতে বলা হয়, সৌদির গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

    এই দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সৌদির কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে। সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তালিকায় তাঁদের কারও সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।

    সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতা–সংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকার তথ্য তালিকায় আছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

    চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি, কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদির কর্তৃপক্ষও এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

    রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে কনস্যুলেট। চিঠিতে বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

  • উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রায়হান কবীর রাব্বী (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা গোপন করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু মিয়ার লাশের দুই পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেগুলো একটি সবুজ রঙের ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও এর সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    গ্রেফতার রায়হান কবীর রাব্বী একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। তিনি নিহত বাচ্চু মিয়ার ভাতিজার ছেলে।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে দিবাগত রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব তৎপরতার ধারাবাহিকতায় রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত রয়েছেন কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় মিঠু মিয়ার বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে বাচ্চু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকার মরহুম সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে। রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি উলিপুরে বেড়াতে এসে তিনি ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেই বাড়ি থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ,আর

  • রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের কাউনিয়ায় পূজামণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাকিল আহমেদ (১৯) নামে এক ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কাউনিয়ার টেপামধুপুরের রাজীব চৈতারমোড় দীগলটারি দুর্গা মন্দিরে এ দুর্ঘটনা হয়।

    নিহত শাকিল টেপামধুপুর ইউনিয়নের মন্ডলটারী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে মধুপুর বাজারের মাহিন সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করত।

    কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল জানান, দশমী উপলক্ষে ডেকোরেটরের মালামাল খুলে নেয়া হয়। পরে বিদ্যুতের লাইনের জয়েন্ট থেকে জেনারেটরের তারের লাইন খোলার সময় শাকিল বিদ্যুতায়িত হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ,আর

  • শার্শায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ পাচারকারী গ্রেফতার

    শার্শায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ পাচারকারী গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন নামে এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার সকালে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকার একটি ইটভাটা-সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার আলাউদ্দিন শার্শা উপজেলার হাড়িখালী-যদুনাথপুর গ্রামের মরহুম গোলাম রসুলের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন আলাউদ্দিনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এ ঘটনায় চোরাচালান-সংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীতে পড়ে তানহা (২) নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত তানহা দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকার মো: তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির পাশের করতোয়া নদীতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর চাচা নূরনবী জানান, ‘বুধবার সকাল থেকেই তানহা বাড়িতে খেলাধুলা করছিল। নদীতে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও তিনি তাকে বাড়িতে দেখেছেন। পরে নদীর পাশ থেকে লোকজনের চিৎকার শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এ সময় নদী থেকে উদ্ধার করা ভাতিজিকে দেখতে পান তিনি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

    এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। দুই বছরের শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ,আর

  • বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঙ্গলবার রাতে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ের নায়ক ফিল ফোডেন। তিনি একাই করেছেন তিনটি গোল।

    গত দুই মৌসুম ভালো কাটেনি ফোডেনের। ২৬ বছর বয়সী এই ইংলিশ মিডফিল্ডার নিজেই মানসিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এই বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের দল থেকেও তিনি বাদ পড়েন। শনিবার ইপসউইচের বিপক্ষে গোল করার আগে প্রায় ১০ মাস তিনি কোনো গোল পাননি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর তার গোল ছিল না। তাই এই রাত তার জন্য বড় স্বস্তির।

    খেলার ১২ মিনিটেই সিটি এগিয়ে যায়। এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি কিক বারে লেগে ফিরে আসে, এলিয়ট অ্যান্ডারসন সুযোগ নিয়ে ১০ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে এসে এটিই তার সিটির হয়ে প্রথম গোল।

    ৩৪ মিনিটে ফোডেন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। রিকো লুইসের সঙ্গে দ্রুত পাস খেলে তিনি এইকের রক্ষণ ভেঙে দেন। এরপর দুরূহ কোণ থেকে বল জালের ছাদে পাঠান।

    বিরতির পর সিটি মনোযোগ হারায়। ৫২ মিনিটে স্তাভরোস পিলিওস এইকের হয়ে এক গোল শোধ করেন। এটাই ছিল তাদের প্রথম লক্ষ্যে নেওয়া শট। তবে ৫৭ মিনিটে সিটি আবার দুই গোলে এগিয়ে যায়। ফোডেন প্রতিপক্ষ বিপদসীমার কাছে বল বাড়ান। রায়ান শেরকি ঘুরে গিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন।

    ৬৫ মিনিটে রিকো লুইসের পাস থেকে বল পেয়ে ফোডেন ১৮ গজ দূর থেকে গোল করে বসেন। ৭৬ মিনিটে রায়ান মাকাইদুর ক্রস থেকে তিনি বল জালে ঠেলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। দুই বছর পর প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি।

    লিগ পর্বে এটি সিটির দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে তারা পোর্তোকে হারায়। গত সপ্তাহে শিরোপাধারী প্যারিস সাঁ-জার্মেইনের কাছে হেরে যায়। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচের ১০টিতেই তারা জিতেছে।

  • আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।

    তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।

  • মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বা ওয়ান শুটার গানসহ মো: ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফরহাদ হোসেন মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার (ছৈয়াল বাড়ি) এলাকার মরহুম আব্দুল কুদ্দুস ছৈয়ালের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চর ওয়েস্টার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (ওয়ান শুটার গান) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হলো ১০ মসজিদ

    আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হলো ১০ মসজিদ

    ভারতের আসামে বনভূমি ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে দুই দিনে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই তিন জেলায় সাম্প্রতিক অভিযানে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জমি দখলমুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একে প্রশাসনের “রুদ্র রূপ” বলেছেন।

    অভিযানের চিত্র

    সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁওয়ের লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর আগেই মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ ছাড়া হোজাইয়ের যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাটের ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়।

    রোববারের অভিযানে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে লুটুমাই বনাঞ্চলে। কর্মকর্তাদের হিসাবে সেখানে প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি খালি হয়েছে এবং ৫৬৩টি পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই দিন ১ হাজার ৬৬৯টি স্থাপনা ভাঙা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি মসজিদ। এখন বন কর্মকর্তারা এলাকার সীমানা সুরক্ষিত করছেন, যাতে নতুন করে কেউ জমি দখলের চেষ্টা না করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনভূমি দখলমুক্ত করার এ অভিযান আরও চলতে পারে।

    সরকারের বক্তব্য

    আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান। বন কর্মকর্তাদের দাবি, গত আগস্টে মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। এর ফলে অভিযানের আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ “কথিত দখলদার” নিজেরাই জায়গা খালি করে চলে যান। তাঁদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ মেনেই হয়েছে।

    আদালতের ভূমিকা

    উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলো গৌহাটি হাইকোর্টে গিয়েছিল, কিন্তু প্রতিকার পায়নি। গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

    বাসিন্দাদের দাবি

    লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের “অবৈধ দখলদার” বলতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য, পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। ব্রিটিশ আমলের “টাউঙ্গিয়া” ব্যবস্থায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি গড়ার সুযোগ দিয়েছিল। উচ্ছেদ হওয়া আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তাঁর পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএমএসইউ) পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেছেন, লুটুমাইয়ে উচ্ছেদের মুখে থাকা প্রায় ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০০-র মতো পরিবারকে ১৯৭৩ সালে সরকারই সেখানে বসিয়েছিল। এর মধ্যে ১৭৭টি মুসলিম পরিবার। সংগঠনটির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের কথা বলা হলেও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    আগের অভিযান ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

    লুটুমারি এলাকায় গত বছরের নভেম্বরেও আলাদা উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। তাতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদের অধিকাংশই মুসলিম।#

  • মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুই যুবক কারাগারে

    মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুই যুবক কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে ২০ পিস ইয়াবাসহ নিজাম (৪১) ও ইউনুস (২১) নামে দুই যুবককে আটক করেছে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) তাদেরকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার হিদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটক নিজাম হিদাগাড়ী এলাকার মরহুম মোরদুজ্জামানের ছেলে এবং ইউনুস একই এলাকার মোতালেবের ছেলে।

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়নস লিগে পরাজয়ের পরও নতুন রেকর্ড গড়েছে লা-লিগার চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। গত রাতে প্যারিসের পার্ক দ্যে প্রাঁসে বার্সেলোনা হেরেছে পিএসজির কাছে। ম্যাচের ফল ৪-২।

    এই হারের মধ্যেই বার্সা একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে যা এর আগে কেউ করতে পারেনি।

    এই মৌসুমে প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতায় হারল কোচ হান্সি ফ্লিকের দল। অথচ দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। গোল করেন দেজিরে দুয়ে। পরে লুকাস এরনান্দেজ আবার তাদের এগিয়ে দেন। দুবারই সমতা ফেরায় বার্সা। প্রথম সমতার গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। এই মৌসুমে তিনি নিয়মিত মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলটি করেন লামিন ইয়ামাল। তখন ম্যাচ ২-২ হয়ে যায়।

    কিন্তু শেষ দিকে খেলা ঘুরে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১০ মিনিটে গোল করেন ভিতিনহা ও ফাবিয়ান রুইস। এই দুই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় লুইস এনরিকের দলের। ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন লড়াই।

    বার্সার হার হয়েছে ঠিকই। তবে ফ্লিকের একাদশ বাছাইয়ের কারণে ক্লাবটির নামে একটি অসাধারণ রেকর্ড বসেছে। পরিসংখ্যান সংস্থা অপটাজো’র তথ্য অনুযায়ী, বার্সাই এখন প্রথম ও একমাত্র ক্লাব, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান শিরোপাধারীর বিপক্ষে শুরুর একাদশে চারজন কিশোর খেলোয়াড় নামিয়েছে।

    এসপার্ত ও ইয়ামাল ছাড়াও একাদশে ছিলেন পাউ কুবার্সি ও মার্ক বের্নাল। জার্মান কোচ চারজনকেই শুরু থেকে নামান। দ্বিতীয়ার্ধে বের্নাল ও এসপার্তকে তুলে নেওয়া হয়।

    চাইলে আরও দুই কিশোরকে নামাতে পারতেন ফ্লিক। বেঞ্চে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আলেক্স কাম্পোস ও স্ট্রাইকার হামজা আবদেলকারিম। কিন্তু দুজনের কেউই মাঠে নামেননি। মিশরের জাতীয় দলের খেলোয়াড় আবদেলকারিম এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের যুব দলের খেলোয়াড় কাম্পোস এখনো অভিষিক্তই হননি। এই মৌসুমে তিনি বার্সেলোনা বি দলের হয়ে উয়েফা ইউথ লিগে খেলছেন।

  • কালাই থানায় পুলিশের ওপর হামলা,আটক যুবক জেলে

    কালাই থানায় পুলিশের ওপর হামলা,আটক যুবক জেলে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জয়পুরহাটের কালাইয়ে থানার ভেতর কাঠের বাটাম নিয়ে প্রবেশ করে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে আসলাম হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

    বুধবার (২১ অক্টোবর) তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই যুবক কালাই থানা কম্পাউন্ডের ভেতর কাঠের বাটাম দিয়ে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার আসলাম হোসেন উপজেলার থুপসাড়া গ্রামের মুনসুর রহমানের ছেলে।

    থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা, এ সময় হাতে কাঠের বাটাম নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন আসলাম নামে ওই যুবক। পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয় ও থানায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি কনস্টেবল মো: মাহমুদুল হাসান রকিকে আঘাত করেন। পরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে কনস্টেবল মো: মাসুদ রানার পিঠে আঘাত করেন। এ সময় আরেক পুলিশ সদস্য এগিয়ে আসলে তার ডান হাতের আঙুলে আঘাত লাগে।

    পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে কাঠের বাটাম ফেলে সে দৌড়ে থানা কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে যান আসলাম।

    আহত পুলিশ সদস্যদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক আহসান হাবীব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযুক্ত আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়া আইনে একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ‘থানায় ঢুকে এক যুবক পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। ঘটনার সময় আমি মন্ত্রী মহোদয়ের ডিউটিতে ছিলাম। পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারী যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসলামকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ নামের নতুন এই প্রবিধানমালা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত ৪ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যসমূহের নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬টি শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রয়েছে।

    এর আওতায় পথের ধারে ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও বড় আকারের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, খাবারের ব্যবসায় জড়িত এমন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে।

    প্রবিধানের তফশিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্যব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে যারা বিশেষ ধরনের বা সুপার ফুড পণ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের লাইসেন্স নিতে হবে।

    রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ এবং ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে যারা পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসা করেন, নতুন এই নিয়মের আওতায় তাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

    এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করে, যেমন: শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরিকৃত বিশেষ ধরনের খাবার, এমন চার ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে এ প্রবিধানের মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণন।এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি-সম্পন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফশিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে।

    কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময় থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর এটি নবায়ন করতে হবে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্যব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হয়েছে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার নিম্নে প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ফি ১০হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

    প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা বুঝতে পারবে এবং যে কোনো অভিযোগ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেই করতে পারবে।

    প্রাথমিক অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।

  • কখনোই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আরাগচি

    কখনোই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আরাগচি

    ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে।

    তবে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক আল-আখবারিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য মেনে না নেওয়া। তার মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মূল সমস্যার অজুহাত মাত্র।

    আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান মেনে নিতে চায় না, যেখানে মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করা হবে এবং দেশটির ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এ কারণেই পরমাণু ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আলোচনা নিয়ে অবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর আগে তিন দফা আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে।

    গত বছরের জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, দুই দফা হামলার সময়ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এ ছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, যা পরে যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া ঠেকাতে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রেখেছে বলে জানান তিনি।

  • তিন দেশের সাথে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

    তিন দেশের সাথে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

    প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। এই সমঝোতার আওতায় যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়াবে দেশগুলো।বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

    আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চার দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

    দোহায় আয়োজিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের। এ ছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

    তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে এই সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আওতায় দেশগুলোর সহযোগিতা শুধু সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থা একীভূত করা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। অর্থাৎ, এই চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

    এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ফলে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ওই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, নতুন সমঝোতাটি প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতাকেন্দ্রিক; এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার নেই।

  • সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় মোহাম্মদ হানিফ (৫৫) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবার।

    নিহত মোহাম্মদ হানিফ চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ রিয়াদ (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে।

    পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, হানিফ মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘরের আলমারির মধ্যে রেখেছিলেন। তার ছেলে বখাটে মেহেরাজ স্থানীয় মাদককারবারিদের সাথে মিলে ওই টাকা চুরি করে নিয়ে খরচ করে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে নিজের ছেলেকে শাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মাদককারবারিদের সঙ্গ না দেয়ার জন্য নিষেধ করেন।

    এতে মাদককারবারিরা ক্ষুব্ধ হয়ে, গত ৯ অক্টোবর বাদ জুমা দুপুর ২টার দিকে জুমার নামাজ পড়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা মাদককারবারি বেলায়েত হোসেন মামুন, তার সহযোগী মো: শুভ ও রিয়াদসহ ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হানিফকে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান।

    সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’এ,আর

  • অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার বা চুক্তি হলো একটি পবিত্র প্রতিশ্রুতি, যা বিশ্বস্ততা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক। মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য পাপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে সাক্ষী রেখেছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।” (সুরা আন-নাহল: ৯১) এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, অঙ্গীকার পূর্ণ করা শুধু মানুষের সঙ্গে করা একটি সামাজিক দায় নয়, বরং আল্লাহর সামনে একটি ধর্মীয় দায়িত্ব।

    অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। ইতিহাসে দেখা যায়, আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে, কিন্তু তারা তা ভঙ্গ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের উপর লা‘নত পাঠিয়েছেন এবং তাদের অন্তর কঠিন করে দিয়েছেন। কোরআনে এসেছে, “সুতরাং তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে লা‘নত দিয়েছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে করেছি কঠোর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১৩) অতএব, মুসলমানদের উচিত অতীত জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

    অঙ্গীকার পূর্ণ না করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালার কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সুরা আল-ইসরা: ৩৪) এই সতর্কবাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা শুধু দুনিয়াবি কর্তব্য নয়, বরং আখেরাতের জবাবদিহির বিষয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা) অঙ্গীকার রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ আছে: যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন আমানত রাখা হয় তখন খেয়ানত করে।” (সহিহ বুখারি: ৩৩; মুসলিম: ৫৯) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা শুধু নৈতিক দুর্বলতা নয়, এটি ঈমানের পরিপন্থী কাজ।

    অঙ্গীকার পূরণে সমাজে আস্থা, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যেকের উচিত নিজের প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকা। মুসলমানের মুখ ও কাজ যেন এক হয়, কথায় যেন প্রতারণা না থাকে। কারণ ইসলাম সেই সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভর করতে পারে, বিশ্বাস রাখতে পারে।

    অঙ্গীকার পূর্ণ করা কেবল দুনিয়ার শান্তির পথ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের মাধ্যমও বটে। আল্লাহ আমাদের সকলকে অঙ্গীকার রক্ষাকারী, বিশ্বস্ত ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। আমিন।

  • সিনাই বলে কিছু থাকবে না, মিসরকে ইসরাইলি মন্ত্রীর হুমকি

    সিনাই বলে কিছু থাকবে না, মিসরকে ইসরাইলি মন্ত্রীর হুমকি

    সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে মিসরকে ফের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ । তিনি বলেন, মিসর ইসরাইলে হামলা চালালে দেশটিকে সিনাই উপদ্বীপ হারাতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্যের চেয়ে সামরিক সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এক সাক্ষাৎকারে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির দেওয়া আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি সিসি বলেছিলেন, তার কোনো আঞ্চলিক ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধেরও ইচ্ছা নেই। স্মোত্রিচ বলেন, সিসির দেওয়া এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি।

    স্মোত্রিচ বলেন, মিসর যদি বুঝতে পারে যে তারা পরবর্তীবার হামলা চালালে ‘সিনাই বলে কিছু থাকবে না’, ইসরাইল তখনই কেবল নিশ্চিত হবে। সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে স্মোত্রিচের আগের মন্তব্যের পরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মিসর ইসরাইলে হামলা চালালে দেশটিকে সিনাই হারাতে হবে।

    ইসরাইলি মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কায়রো একে ‘ফাঁকা হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষার সক্ষমতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে মিসর।

    গত সপ্তাহে ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধের বিজয়ের ৫৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর ৪৪তম সাংস্কৃতিক সেমিনারে ইসরাইলি মন্ত্রীরে বক্তব্যের জবাব দেন সিসি।

    সিসি বলেন, দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছে এবং হারানো সব ভূমি পুনরুদ্ধার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই এখন মিসরের প্রধান অগ্রাধিকার।

  • আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

    আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

    আজকের আধুনিক সভ্যতা প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে বিস্ময়কর উন্নতি অর্জন করেছে। মানুষ চাঁদে পা রেখেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যন্ত্রকে চিন্তাশীল করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও আত্মিক শূন্যতা বেড়েছে ভয়াবহভাবে। আজকের মানুষ জানে কীভাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট তৈরি করতে হয়, কিন্তু জানে না কীভাবে অন্তরের শান্তি অর্জন করতে হয়। এই নৈতিক সঙ্কটের মূলে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতি— যা মানুষকে আত্মিক জাগরণ, মানবিকতা ও নৈতিকতা শেখায়।

    ধর্মীয় শিক্ষা: মানুষের প্রকৃত পরিচয় গঠনের শিক্ষা

    ধর্মীয় শিক্ষা শুধু নামাজ, রোজা বা ইবাদতের পাঠ নয়; বরং এটি মানুষের জীবনবোধ, ন্যায়নীতি, চরিত্র ও মানবতার পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা। ইসলাম ধর্ম মানুষকে শিক্ষা দেয় কীভাবে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য দায়িত্বশীল জীবনযাপন করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেছেন— পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সুরা আলাক: ১)

    নবীজির প্রতি অবতীর্ণ ওহির এই প্রথম বাণী থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে জ্ঞানের সূচনা স্রষ্টার নাম স্মরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞানকে নৈতিকতা ও ঈমানের ভিত্তিতে গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। (তিরমিজি শরিফ: ২৬৪৬)

    এই হাদিসে “জ্ঞান” শব্দটি কেবল দুনিয়াবি বিদ্যা নয়; বরং সে জ্ঞান, যা মানুষকে আল্লাহর দিকে, ন্যায়ের দিকে ও মানবকল্যাণের দিকে পরিচালিত করে।

    সমাজের বাস্তব চিত্র

    আজকের সমাজে আমরা প্রযুক্তিগত উন্নতি দেখছি, কিন্তু নৈতিক অবক্ষয়ও সমানতালে বাড়ছে। পরিবার ভাঙছে, সন্তান পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্য হচ্ছে, দুর্নীতি ও প্রতারণা সাধারণ হয়ে গেছে। শিশু থেকে তরুণ প্রজন্ম পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় শিক্ষাব্যবস্থার মূল কেন্দ্রে যদি ধর্মীয় মূল্যবোধ না থাকে, তবে মানুষ যন্ত্রের মতো বুদ্ধিমান হলেও হৃদয়ে শূন্যতা থেকেই যাবে।

    বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতাও এই সংকট থেকে মুক্ত নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, বিদ্যালয় পর্যায়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা যথাযথভাবে চর্চা না হওয়ায় শিশুদের মাঝে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বা ব্যবসায়ে দক্ষ হলেও, সমাজ ও মানবতার প্রতি তাদের উপলব্ধি সীমিত।

    ধর্মীয় শিক্ষার অভাব: সমাজে নৈতিক সংকট

    যে সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা অনুপস্থিত, সেখানে মানুষ নিজের স্বার্থকেই একমাত্র সত্য মনে করে। ফলাফল— দুর্নীতি, লোভ, অন্যায়, সহিংসতা, পারিবারিক ভাঙন। অথচ ইসলাম শিক্ষা দেয়— নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়দের (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন এবং অশ্লীলতা মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সুরা নাহল: ৯০)

    এই আয়াতটি কেবল মসজিদে শোনার জন্য নয়, বরং প্রতিটি পরিবার, স্কুল ও অফিসে বাস্তবায়নের জন্য। যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই এই নীতি অন্তরে ধারণ করে বড় হয়, তবে সমাজে অন্যায়ের স্থান থাকবে না।

    ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিকতার সমন্বয়

    অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা মানেই আধুনিক শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা। বাস্তবে ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণাকে উৎসাহিত করে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। (ইবনে মাজাহ: ২২৪)

    এখানে ‘জ্ঞান’ বলতে ধর্মীয় ও প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি জ্ঞান উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। ইসলাম এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা চায়— যেখানে মানুষ বিজ্ঞান জানবে, তবে তা ব্যবহার করবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে।

    আজকের শিশু যদি একদিকে কোরআনের আলোয় হৃদয়কে শুদ্ধ করে, আর অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে সমাজ উন্নয়নের পথ খোঁজে— তবেই গঠিত হবে এক সভ্য, নৈতিক ও প্রগতিশীল জাতি।

    পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব

    পরিবার হলো শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। পিতা-মাতা যদি ঘরে ইসলামী আদর্শের চর্চা করেন, নামাজ, দয়া, সততা, সহমর্মিতার চর্চা করেন তাহলে সন্তান সেই মূল্যবোধের উত্তরাধিকারী হয়। বিদ্যালয়েও শিক্ষকরা যদি পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি চরিত্রগঠনমূলক ধর্মীয় শিক্ষা দেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় নয়, জীবনের প্রতিযোগিতাতেও সৎভাবে জয়ী হবে।

    আজকের পৃথিবী নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, কিন্তু মানুষ এখনো খুঁজছে শান্তি। সেই শান্তি টাকা, ক্ষমতা বা যন্ত্রের উন্নতিতে নেই; আছে আল্লাহর নির্দেশিত নৈতিক জীবনে। ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে শেখায় কীভাবে মানুষ হতে হয়। তাই আধুনিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা মানবতার বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেছেন— যে ব্যক্তি তার আত্মাকে পবিত্র করেছে, সে সফল হয়েছে। (সুরা শামস: ৯)

    ধর্মীয় শিক্ষা সেই আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যম, যা মানুষকে শুধু সফল নাগরিক নয়, বরং সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

  • শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    রাজধানীতে শীতের পরশ এখনো সেভাবে না লাগলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও টমেটোর মতো মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ছে বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে।

    শীতকালীন সবজির প্রতি রাজধানীবাসীর আগ্রহ বাড়লেও দাম অনেকেরই নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে নিছক দামের কারণেই। পেঁপে, পটোল, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া তুলনামূলক কম দামে অন্য সবজি পাওয়া কঠিন। ফলে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসার আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম। শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

    এদিকে, বাজারে আসা আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার আকার এখনো তুলনামূলক ছোট। টমেটোও এখনো তেমন পরিপক্ব হয়নি, সাদাটে ও সবুজ আভা তা জানান দিচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।

    গত রোববার রাত দেড়টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলা এসেছে। ট্রাক থেকে সবজি নামাতে ব্যস্ত কুলি ও ভ্যানচালকরা। কেউ আড়তের সামনে সবজি স্তূপ করে রাখছেন, কেউবা ফুটপাতে চট বিছিয়ে শুরু করেছেন বিক্রি। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ট্রাক থেকেই সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করছেন।

    বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে শিম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিমের দাম ৯৫ থেকে ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ভরা মৌসুমে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে পরিচিত মুলার কেজিও এখন পাইকারি বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর খুলনা থেকে আসা দেশি টমেটো প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিত্যদিনের বাজার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। পছন্দের সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও চড়া দামের কারণে অনেককে পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শীতকালীন সবজি এলেও বর্তমানে মূলত খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকেই আগাম সবজি আসছে। অন্য অঞ্চলে এসব সবজি এখনো বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে বলে আশা করা যায়।

    তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয়, আবার বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

    শাহজাহান নামে আরেক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচাবাজারের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে। রাতের তুলনায় ভোরে অনেক সবজির দাম কমে আসে। আগের রাতে শিম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভোরে তা নেমে ৯৫ টাকায় আসে। একইভাবে রাত ১১টা থেকে ১২টায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরের দিকে দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে আসে।

    খুচরা বাজারের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকাভেদে সবজির দামে পার্থক্য হয়। গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় যে দামে সবজি বিক্রি হয়, মহাখালী বা শ্যামলীতে তা তুলনামূলক কম হতে পারে। ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারেন। এজন্য খুচরা পর্যায়ের দাম বলা কঠিন।

    গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৬০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৭০-১০০, বেগুন ৮০-১৪০, করলা ৮০-১২০, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, টমেটো ১৬০-১৮০, শিম ১৫০-২০০, মিষ্টিকুমড়া ৬০, বরবটি ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ১২০-১৬০, শসা ৭০-৮০, পেঁপে ২০-২৫, কচু ৫০-৬০, ওল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬০-৮০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০-৪০ টাকা, প্রতি আঁটি পুঁইশাক ৪০-৫০ টাকা, লালশাক ২০-৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০-৭০ টাকা এবং মুলা ৫০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না: ইরান

    ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না: ইরান

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, দেশটির সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এর এক কণাও বিদেশে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, এই পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের জাতীয় সম্পদ।

    মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র আস্থা পুনর্গঠনে ইরানের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলেও জানান রেজাই।

    এদিকে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত পারাপার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানান মুনির। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখার কথা বলছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • ককরোচদের ভর্ৎসনা

    ককরোচদের ভর্ৎসনা

    দিল্লির যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে মোদি সরকার। তারপরও সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাকে ভর্ৎসনা করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

    বুধবার শুনানিতে আদালত বলে, ‘আপনারা (বিক্ষোভের) সামনের সারিতে রয়েছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন অন্যরা আপনাদের অনুসরণ করতে পারে। এমনও হতে পারে যে, সেখানে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

    আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, ‘যে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতির উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভকারীদের আটকানো নয়, বরং অন্যদেরও আটকানো। যাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অন্যেরা যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন।’

    অন্য দেশের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি এটা দেশের বাইরেও হয়েছে। ছাত্রবিক্ষোভ দিয়ে যেটা শুরু হয়েছিল, তা পরে অশান্ত হয়ে উঠেছে।’ তবে কোনো দেশের নাম আদালত উল্লেখ করেনি।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ, আশুতোষ ও কয়েকজন সিজেপি সমর্থক লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দেন তারা। পুলিশ তাদের প্রত্যেককে আটক করে। আশুতোষ ও সৌরভকে আগের বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে আশুতোষ, সৌরভ ও সিজেপি প্রধান দীপকেকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্ত কেন লঙ্ঘন করেছেন, সে প্রশ্ন তোলে আদালত।

  • জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম ছয় দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নিবন্ধনসংক্রান্ত সফটওয়্যার বিডিআরআইএসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়বেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কার্যক্রম বন্ধের তথ্য জানানো হয়।

    বুধবার দৈনিক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন করতে হবে। তবে ছয় দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়লাম।

    অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, এ কার্যক্রম বন্ধের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। তাঁর জন্মনিবন্ধন সনদে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

    এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে অনলাইন সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    নির্ধারিত সময়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সময়সূচি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ফ্রান্সে সেনাবাহিনী মোতায়েন

    ফ্রান্সে সেনাবাহিনী মোতায়েন

    ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে নিজেদের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছে সরকার।

    ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেন, আগামী শনিবার নজিরবিহীন বা বিশাল আকারের নিরাপত্তা কড়াকড়ি থাকবে। তিনি আরো জানান, ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ এবং অন্যান্য শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর আপাতত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

    পার্লামেন্টে উত্তপ্ত এক বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল সুরক্ষিত রাখতে না পারায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে কৌশল ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

    বিদ্যমান সংকটকে ‘সহিংসতা ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এই অস্থিরতার জন্য কট্টর বামপন্থিদের দায়ী করেন। অন্যদিকে, কট্টর বামপন্থিদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সরকার তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।

    সংঘর্ষের এই ভয়াবহতা এবং তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান অক্ষমতা পুরো ফ্রান্সকে স্তম্ভিত করেছে। আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

    গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার পর তুলনামূলক শান্ত একটি রাত কাটিয়েছে ফ্রান্স। অস্থিরতাকবলিত কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কারফিউ জারি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছে সরকার। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে জারি করা কিছু কারফিউসহ স্থানীয় পর্যায়ের এসব বিধিনিষেধ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    লেকর্নু স্বীকার করেছেন, সপ্তাহান্তে সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতা, পুলিশের স্থির অবস্থানভিত্তিক মোতায়েন এবং পূর্বনির্ধারিত পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল না করার সিদ্ধান্তকে তিনি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আমার অংশের দায় স্বীকার করছি’।

  • ফ্রান্সে বিক্ষোভের স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

    ফ্রান্সে বিক্ষোভের স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

    গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

    আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।

    তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

    কোথা থেকে এ স্লোগানের উৎপত্তি

    ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান।

    বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’

    একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রোফাইলে মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি দেখা গিয়েছিল।

    বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় স্ন্যাপচ্যাটের অন্য ব্যবহারকারীরা সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এরপর কী ঘটেছিল

    অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই হয়তো এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

    এরপর বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

    এখন স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

    ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেনি যে তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন।

    মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’

    কেন স্লোগানটি এত আলোড়ন তুলেছে

    শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চান, তাদের আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না। একই সঙ্গে সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতাও তারা তুলে ধরতে চান।

    বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাদানি সাবাদি বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তারা মনে করেন, যারা অবরোধ সৃষ্টি করছে বা সবকিছু ভাঙচুর করতে চাইছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষ।

    প্যারিসের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ফেদ্র কেমেনের মতে, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এখন জাতীয় পর্যায়ের একটি রসিকতায় পরিণত হয়েছে, কারণ ‘এটি একজন তরুণের কথাবার্তা অনুকরণ করার অত্যন্ত বাজে চেষ্টা’।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটিকে বর্ণবাদী আচরণের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যারা আসবে, তারা আরব।’

    ফ্রান্সের বাইরেও কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে স্লোগানটি

    ফ্রান্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বেলজিয়াম ও জার্মানির বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হয়েছে। সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে স্লোগানটি পুনরাবৃত্তি করেন।

    এই স্লোগানের জনপ্রিয়তা ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর কথাও মনে করিয়ে দেয়। সেখানেও শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে আখ্যায়িত করার পর আন্দোলনকারীরা সেই অপমানসূচক শব্দকেই নিজেদের আন্দোলনের নাম হিসেবে গ্রহণ করেন।

    কীভাবে শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ

    ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ স্কুলে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আরো শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং অতিরিক্ত চাপপূর্ণ সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানান।

    অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি ঘটনায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয় কিংবা ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ক্রমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য অধিকারভিত্তিক সংগঠনের জাতীয় আন্দোলন যুক্ত হয়। এর ফলে গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    পুলিশের কঠোর পদক্ষেপও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অসদাচরণের অন্তত ৩৪টি অভিযোগ তদন্ত করছে ফ্রান্সের সরকারি পুলিশ-নজরদারি সংস্থা।

  • ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল সামাজিক মাধ্যম এক্স

    ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল সামাজিক মাধ্যম এক্স

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    এক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সম্প্রতি এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। তবে বন্ধ করা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোন দেশের সঙ্গে কতটি অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এক্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ ও সেসবের প্রচার বাড়ানো হতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা দল বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কার্যক্রম চিহ্নিত ও বন্ধে কাজ করছে।

    এক্স আরো জানায়, স্প্যাম ছড়ানো নেটওয়ার্ক কিংবা সমন্বিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠী—উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘অথেনটিসিটি পলিসি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্ল্যাটফর্মটির অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন সমন্বিত কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা সক্রিয় রয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    এক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সম্প্রতি এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। তবে বন্ধ করা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোন দেশের সঙ্গে কতটি অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এক্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ ও সেসবের প্রচার বাড়ানো হতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা দল বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কার্যক্রম চিহ্নিত ও বন্ধে কাজ করছে।

    এক্স আরো জানায়, স্প্যাম ছড়ানো নেটওয়ার্ক কিংবা সমন্বিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠী—উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘অথেনটিসিটি পলিসি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্ল্যাটফর্মটির অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন সমন্বিত কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা সক্রিয় রয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বুধবার (২১অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।’ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।’

    এ সময় তিনি সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

    বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’ তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

    এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত সকল দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • মক্কা চুক্তির নথি প্রকাশ

    মক্কা চুক্তির নথি প্রকাশ

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে জোট রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে ভোটের প্রস্তাব করে চুক্তিটি স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    গত আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে অন্য দেশগুলো সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করবে। এই নীতিটি সামরিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর ৫ নম্বর আর্টিকেলের অনুরূপ।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিটি এককভাবে সংগ্রহ করেছে। চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

    চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকি কিংবা বিপদের মুখে পড়লে সেই হুমকি দূর করতে সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করবে।

    দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে অন্য সদস্যরা।

    এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা প্রয়োজনের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

    প্রতিরক্ষা শিল্প ও গোয়েন্দা সহযোগিতা

    ১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত চুক্তিতে শুধু পারস্পরিক সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ও রয়েছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক সরঞ্জাম যৌথভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

    যুদ্ধ ও শান্তিকাল; উভয় সময়েই দেশগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের পারস্পরিক বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করতে পারবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো।

    চুক্তিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তিন দেশ সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    সদস্যদেশগুলো শান্তিকাল, যুদ্ধকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে পরস্পরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবে। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে সরবরাহব্যবস্থার প্রাপ্যতা ও সামঞ্জস্যের ওপর।

    কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটি

    চুক্তির অষ্টম অনুচ্ছেদে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। কমিটির দায়িত্ব হবে যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং চুক্তি বাস্তবায়নের পথে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

    কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে তিন দেশের একেকটি দেশ বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন। মূল তিন দেশের সর্বসম্মতিতে এ চুক্তিতে অন্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ও নীতিও নির্ধারণ করতে পারবে কমিটি।

    চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মহাসচিব তিন দেশের মধ্য থেকে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের নাগরিক।

    ১০ বছর পর প্রত্যাহারের সুযোগ

    চুক্তিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়নি। অর্থাৎ, এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্যদেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না। ১০ বছর পার হলে কোনো দেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    চুক্তির আওতায় পাওয়া গোপনীয় তথ্য ও নথির সুরক্ষা প্রত্যাহার বা চুক্তির অবসানের পরও বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, চুক্তি শেষ হওয়ার আগে সম্মত হওয়া চলমান কার্যক্রম ও প্রকল্পের ওপর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে না।

    চুক্তি অনুযায়ী, এর ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে সদস্য দেশগুলো আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে তা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করবে। চুক্তিতে সংশোধন আনতে হলে মূল তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতি প্রয়োজন হবে।

    তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আররেব নিজ নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সবিচালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলির জমা দেওয়ার দিন থেকে এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় চুক্তিটির তিনটি মূল কপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনটি ভাষার পাঠ সমানভাবে প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হলেও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    নিচে চুক্তিটির পুরো তথ্য দেয়া হলো:

    অনুচ্ছেদ ১

    পক্ষগুলো একে অন্যের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করতে সহযোগিতা করবে। কোনো পক্ষের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকি বা বিপদের মুখে পড়লে, সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে পক্ষগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করবে।

    অনুচ্ছেদ ২

    কোনো পক্ষের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত পক্ষকে অন্য পক্ষগুলো অবিলম্বে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে তারা পরস্পরকে দিতে সক্ষম এমন পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাবে।

    জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পক্ষগুলো সহায়তার পরিধি ও ধরন নির্ধারণ করবে। বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে তারা সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    অনুচ্ছেদ ৩

    এ চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করবে; তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সম্মত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    অনুচ্ছেদ ৪

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিষয়ে পক্ষগুলো নিয়মিত পরামর্শ করবে। নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও বিপদ দূর করতে অভিন্ন মূল্যায়নের ভিত্তিতে তারা ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে একে অন্যকে সহায়তা করবে এবং একক ও যৌথ ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।

    অনুচ্ছেদ ৫

    আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন সব ধরনের ও প্রকাশের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা, যার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পর্যায়ের সহযোগিতাও রয়েছে, পক্ষগুলো আরও জোরদার করবে।

    অনুচ্ছেদ ৬

    যুদ্ধ ও শান্তিকাল; উভয় সময়েই পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া এবং এমন মোতায়েন ও কার্যক্রম উৎসাহিত করবে, যার লক্ষ্য পক্ষগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়ানো। এর মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা হবে।

    অনুচ্ছেদ ৭

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সহায়তা করবে। এসব সহযোগিতার ক্ষেত্র হবে:

    ১। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া;

    ২। বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন বাস্তবায়ন;

    ৩। যে কোনো পক্ষের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পক্ষগুলোর ভূখণ্ডে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সামরিক শিল্পকে সহায়তা করা;

    ৪। প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা;

    ৫। পক্ষগুলোর পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র।

    অনুচ্ছেদ ৮

    ১। মূল পক্ষগুলো একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এ কমিটিতে পক্ষগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উন্নয়ন এবং এ চুক্তি বাস্তবায়নের সময় উদ্ভূত হতে পারে এমন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা হবে কমিটির দায়িত্ব।

    কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে পক্ষগুলো বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে পক্ষগুলোর নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন।

    ২। প্রয়োজন মনে করলে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

    ৩। এ চুক্তিতে নির্ধারিত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি বা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    ৪। মূল পক্ষগুলোর সর্বসম্মতির ভিত্তিতে এ চুক্তিতে অন্য পক্ষের যোগদানের নিয়ম ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং অনুমোদনের ক্ষমতা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির থাকবে।

    ৫। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটিকে সহায়তা করতে সৌদি আরব রাজ্যে সদর দপ্তরসহ একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সচিবালয় সৌদি আরব রাজ্যের সঙ্গে সদর দপ্তরসংক্রান্ত একটি চুক্তি করবে। সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত নিয়ম এবং নীতিমালা পরবর্তী সময়ে মূল পক্ষগুলোর সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    ৬। সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব। মূল পক্ষগুলোর মধ্য থেকে পালাক্রমে তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

    ৭। এ অনুচ্ছেদের বিধানগুলো পক্ষগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

    অনুচ্ছেদ ৯

    গোয়েন্দা সহযোগিতা গভীর করতে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে পক্ষগুলো পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, উপাত্তের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।

    অনুচ্ছেদ ১০

    সরবরাহ ও সহায়তামূলক সেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্যের শর্তে পক্ষগুলো শান্তিকাল, যুদ্ধকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে একে অন্যকে সরবরাহসংক্রান্ত সহায়তা দেবে। এর মধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    অনুচ্ছেদ ১১

    আন্তর্জাতিক আইন এবং পক্ষগুলোর নিজ নিজ দেশের প্রাসঙ্গিক আইন অক্ষুণ্ন রেখে, এ চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে পক্ষগুলো চুক্তিটিকে গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও দেবে।

    অনুচ্ছেদ ১২

    পক্ষগুলো আগে যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তি করেছে, সেসব চুক্তি থেকে উদ্ভূত তাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতার ওপর এ চুক্তি কোনো প্রভাব ফেলবে না।

    অনুচ্ছেদ ১৩

    ১। এ চুক্তির আওতায় পাওয়া শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথির গোপনীয়তা পক্ষগুলো রক্ষা করবে এবং নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলবে।

    ২। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথি পক্ষগুলোর বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।

    ৩। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথিতে প্রবেশাধিকার শুধু প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।

    অনুচ্ছেদ ১৪

    এ চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে, পক্ষগুলোর মধ্যে পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

    অনুচ্ছেদ ১৫

    মূল পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতির মাধ্যমে এ চুক্তি সংশোধন করা যেতে পারে।

    অনুচ্ছেদ ১৬

    ১। প্রত্যেক পক্ষের জন্য প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসারে এ চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার তারিখে এটি কার্যকর হবে।

    ২। এ চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

    ৩। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পার হওয়ার পর যে কোনো পক্ষ এটি থেকে সরে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্য পক্ষগুলোকে প্রত্যাহারের অভিপ্রায় সম্পর্কে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    ৪। এ চুক্তির অবসান বা চুক্তি থেকে কোনো পক্ষের প্রত্যাহারের ফলে অবসান বা প্রত্যাহারের তারিখের আগে পক্ষগুলোর সম্মতিতে গৃহীত চলমান কার্যক্রম বা প্রকল্প প্রভাবিত হবে না।

    ৫। শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথির সুরক্ষা এবং সেগুলোর প্রকাশ রোধের বিষয়ে পক্ষগুলোর দায়িত্ব চুক্তির অবসান বা প্রত্যাহারের পরও অব্যাহত থাকবে।

  • ১৩ বছরে ৭২ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা, নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার

    ১৩ বছরে ৭২ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা, নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার

    বিগত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ মানুষ নিহত হয়েছেন। একইসময়ে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

    নিহতের মানুষের এই সংখ্যা একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরাইল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীতে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যার চেয়েও বেশি বলে দাবি করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

    জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্তায় বলা হয়, বিগত ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিগত এক যুগের বেশি সময়ে দেশে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ৭২ হাজার ৭ ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি শুধু গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য পেলেও দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র বলছে হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি।

    একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরাইল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীতে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেশি।
    কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা উপেক্ষা করে সড়কে বেপরোয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ত্রিমাত্রিক যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একচেটিয়া মানুষকে সড়কের ওপর নির্ভরশীল করার ভুলনীতি ব্যাপকভাবে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে এদেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই পথে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত ছিল। তখন সড়ক দুর্ঘটনাও ২০ শতাংশে সীমিত ছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ দাতা সংস্থা তাদের ঋণের জালে আবদ্ধ করার মানসিকতায় উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বেহিসাবি লুটপাট, পরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে। তাই সড়কে গণহত্যার দায় অতীতের সব সরকারকে নিতে হবে।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক সেক্টরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কের বিশৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, সড়কে নির্মাণ ত্রুটি, মাদকসেবন করে যানবাহন চালানো, বেপরোয়া গতি, অযোগ্য যানবাহনের ফিটনেস প্রদান, অযোগ্য চালকের হাতে লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্সবিহীন-প্রশিক্ষণহীন চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়াসহ নানান কারণে সড়কে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানান খাতে এগিয়ে গেলেও পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন যাবৎ দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাবে নিরাপদ নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর পরিবর্তে একের পর এক সড়ক সম্প্রসারণ, সড়কে বিনিয়োগ বাড়ানো, সড়কের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভাবে সড়কের উপর একচেটিয়া চাপ বেড়েছে। সে তুলনায় সড়কে ম্যাস ট্রানজিট বাড়েনি। ডেডিকেটেড বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়নি।

    মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, উন্নত গণপরিবহণের অভাবে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তিতে নাভিশ্বাস উঠছে। এহেন ভয়াবহ পরিবহনের সংকট পুঁজি করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি নসিমন-করিমন, পার্শ্ববর্তী দেশের তৈরি মাহিন্দ্রা, পিয়াজিও, পিকআপভ্যানকে লেগুনা হিসেবে বানিয়ে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের কারণে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা চরমভাবে বেড়েছে।

In English

English edition · Older English stories