BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন

    ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকার ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় ও নিঃস্ব প্রবীণ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দম্পতির অর্থ সঙ্কটের সচিত্র সংবাদ প্রচার হওয়ার পর প্রশাসন এ উদ্যোগ নেয়। ঢাকা- ২০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তমিজ উদ্দিন ও ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে পুনর্বাসন সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা হস্তান্তর করেন।

    সোমবার (২ নভেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে এ পুনর্বাসন ও আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করেন তারা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ছেলে ও পুত্রবধূকে হারিয়ে এতিম নাতিকে নিয়ে ৮৯ বছর বয়সি হানেছ আলী ও ৭৯ বছর বয়সি সুফিয়া আক্তার দম্পতি বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও পানির নলকূপহীন একটি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের এই সঙ্কটের সচিত্র সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তাদেরকে সহায়তার উদ্যোগ নেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে ঘর মেরামতের জন্য টিন, নগদ অর্থ ও একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়ি প্রদান করা হয়েছে।

    সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ঘর মেরামতের জন্য দুই বান টিন, জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়ি, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ছয় হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রকিবুর রহমান ফরহাদ, দফতর সম্পাদক মিকাইল হোসেন ও ধামরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মোহিতুল ইসলাম প্রমুখ।

    সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ হানেছ আলী বলেন, ‘দুইটা ছেলে আর বউকে হারিয়ে এতিম নাতিটাকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। ঘরে আলো নাই, পানি নাই, টয়লেট নাই। সাংবাদিকরা আমাদের এ কষ্টের কথা তুলে ধরায় আজ সরকার আমাদের দিকে তাকিয়েছে। এখন একটা ভ্যানগাড়ি পেয়েছি, এটা নাতিটা চালিয়ে সংসার চালাতে পারবে। আমরা খুব খুশি।’

    বৃদ্ধ হানেছ আলীর নাতি বলেন, ‘বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দাদা-দাদি ভিক্ষা করে আমাকে বড় করেছেন। উপার্জনের জন্য প্রশাসন থেকে দেয়া এই ভ্যান গাড়িটি এখন আমার বেঁচে থাকার বড় সম্বল হলো। আমি এখন কাজ করে আমার দাদা-দাদিকে খাওয়াতে পারব।’

    ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন বলেন, ‘গণমাধ্যমে এ অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির মানবিক সঙ্কটের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। সংবাদটি দেখার পরপরই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তার ব্যবস্থা করেছি।’ এ,আর

  • সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করছে কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করছে কোস্ট গার্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জিম্মি পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের ফেলে যাওয়া চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    একই দিনে সুন্দরবনের অন্য একটি এলাকায় পৃথক অভিযানে আরো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। তবে দুটি অভিযানেই দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। সাত্তার বাহিনীর আস্তানা থেকে জিম্মি ৫ জেলেকে উদ্ধার করে তারা ।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনের গহীনে পালিয়ে যায় দস্যুরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তারা সবাই খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।

    কই দিনে বেলা ১১টায় সুন্দরবনের কুমড়োখালী থেকে চারটি একনলা বন্দুক, একটি শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুকের গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    বিসিজিএস তৌহিদের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মীর আকিব মোস্তাফিজ (এক্স), বিএন এসব তথ্য জানান।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোস্ট গার্ড। এ,আর

  • ঈশ্বরদীতে ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

    ঈশ্বরদীতে ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা তিন দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে মাঠের পর মাঠের ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও শীষসহ ধান পানিতে ডুবে আছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

    গত রোববার ও সোমবার উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া ও সাঁড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ধানের এমন ক্ষতিগ্রস্ত চিত্র দেখা গেছে। অনেক জমির ধান আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা থাকলেও অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে সেগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

    ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলায় মোট ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার ৫৬, বৃহস্পতিবার ২৬ ও শুক্রবার ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হেলালুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর গ্রামের কৃষক মুরাদ আলী এবার ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৫ ও ধানী গোল্ড জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে তাঁর প্রায় ১৫ বিঘা জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল। এখন ধান পানিতে তলিয়ে থাকায় ফলন ব্যাপক কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি শুকানোর পরও সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বিঘাপ্রতি চার-পাঁচ মণের বেশি পাওয়া কঠিন হতে পারে।’

    তিনি আরও বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বাকিতে জোগাড় করে চাষাবাদ করেছেন। ধান বিক্রি করে এসব বকেয়া পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন দেনা শোধ করা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এছাড়া মাটিতে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক খরচ গুনতে হবে।

    একই গ্রামের কৃষক কালু সরদার, মিজান মালিথা, মুজাহিদ মণ্ডল, শফি মণ্ডল, কোরবান মালিথা ও রবিউল জানান, তাঁদের এলাকার শত শত বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব জমিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, সেখানে এখন ৫-৭ মণ পাওয়াও অনিশ্চিত। বিশেষ করে যেসব ধানের শীষ সবেমাত্র বের হয়েছে, সেগুলোর ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন জানান, এবার আমন ধানের ফলন বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিশেষ করে ব্রি-১০৩ জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। এ,আর

  • কুমিল্লায় একযোগে ১৮ থানায় পুলিশের অভিযান, আটক ৩৮৫

    কুমিল্লায় একযোগে ১৮ থানায় পুলিশের অভিযান, আটক ৩৮৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

    পুলিশ জানায়, অভিযানে শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাসুদ রানা (২৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকেিমূলক পোস্ট দিয়ে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলনে প্ররোচনা দিচ্ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

    এ ছাড়া কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) আসামিদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি মাঠে থেকে এই অভিযানে অংশ নেন।

    কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনা এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।

    তিনি আরও জানান, অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক মাসে মোট ৫ হাজার ৮৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • শ্যামনগরে অনলাইন জুয়াচক্রের মূল হোতা আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

    শ্যামনগরে অনলাইন জুয়াচক্রের মূল হোতা আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন জুয়া পরিচালনার সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের এক তরুণকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবির একটি বিশেষ টিম শ্যামনগর থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উপজেলার গড়কুমারপুর গ্রামের মুকুল সানার বসতবাড়িতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে ওই বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে মুকুল সানার ছেলে সালাউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

    সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন

    চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে কলেজটি থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন মাত্র ১জন। এতে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শনিবার বেলা ১১ দিকে এইচএসসি ও সমমান পরিক্ষার ফল প্রকাশের পর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের তথ্য পাওয়া যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটি ২০০১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষকসহ ২২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত।

    এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। ফলাফলে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চার কলেজে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭৭ জন।

    এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। অন্যদিকে একটি মাত্র কারিগরি কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১ জন। ৫টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৪১০ জন কৃতকার্য হয়েছে।

    মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে এত সংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল কেন? তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

    অভিভাবকেরা মনে করেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর পিছনে একজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন অকৃতকার্য হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে শিক্ষার মান তলানিতে নেমেছে।

    একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।’

    কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগী এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক সংকটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল।

    আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব। এ,আর

  • মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তবর্তী চাপাতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কুসমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চাপাতলা গ্রামে ইসমাইলের ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্ত পিলার ৬১/১৮-আর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধানক্ষেতের মধ্যে লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

    খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরান আলম জানান, লাশের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। লাশের পরিচয় শনাক্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম চলছে।

    এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার ধানক্ষেতে অজ্ঞাত নারীর লাশ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পুলিশি তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা। এ,আর

  • একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি সওয়াব পাবে?

    একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি সওয়াব পাবে?

    জীবিত অবস্থায় যেমন সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা জরুরি, তেমনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত ও পরকালের কল্যাণের জন্য নেক আমল করে সওয়াব পৌঁছে দেওয়া বা ‘ঈসালে সওয়াব’ করা অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। অনেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা বা নফল ইবাদত করে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানীসহ অসংখ্য মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব বখশে দেন। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে— একসঙ্গে একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব ঈসাল করলে প্রত্যেকে কি পূর্ণ সওয়াব পাবেন, নাকি সেই সওয়াব ভাগ হয়ে সবার মাঝে বণ্টিত হবে?

    একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর বিধান: আলেমদের অভিমত

    কুরআন তিলাওয়াত কিংবা অন্য কোনো নফল ইবাদত করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো জায়েজ ও প্রমাণিত বিষয়। তবে একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব ঈসাল করা হলে সবাইকে পূর্ণ সওয়াব দেওয়া হবে, নাকি সবার মাঝে ভাগ করে সওয়াব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে ফকিহ ও মুজতাহিদ আলেমদের প্রধানত দুটি মত রয়েছে—

    প্রথম মত

    ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও হাম্মাদ মাক্কী (রহ.)-সহ কতিপয় আলেমের মতে, একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব পৌঁছানো হলে তা সকলের মাঝে বণ্টন বা ভাগ করে দেওয়া হয়।দ্বিতীয় মত

    হজরত ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.) ও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামি (রহ.)-সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে, একাধিক মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব বখশালে প্রত্যেকেই পৃথকভাবে পূর্ণ সওয়াব লাভ করেন।

    ফিকাহ ও হাদিসের গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় মতটিই অধিক অগ্রগণ্য। কারণ, মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ, রহমত ও দয়ার ভাণ্ডার অফুরন্ত; তাই একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব দান করলে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের আমলনামায় পূর্ণ সওয়াব দান করতে পারেন, যা তাঁর শানের সঙ্গে অধিক সংগতিপূর্ণ।

    প্রখ্যাত হানাফি ফকিহ আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) উল্লেখ করেন যে, ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.)-কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল— কেউ যদি কবরবাসীদের জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করে, তবে কি সেই সওয়াব তাদের সবার মাঝে বণ্টন হয়ে যাবে, নাকি প্রত্যেকের নিকট পূর্ণ সওয়াব পৌঁছাবে?

    উত্তরে তিনি বলেছিলেন, অনেক ফকিহ দ্বিতীয় মতের (সকলে সমান পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার) পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহর অবারিত করুণা ও অনুগ্রহের শানের সঙ্গে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।ঈসালে সওয়াবের সর্বোত্তম পদ্ধতি ও সুন্নাত তরিকা

    সওয়াব ঈসাল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তির পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর নিয়তে সওয়াব বখশে দেওয়া হলো সুন্নাহসম্মত ও সর্বোত্তম পদ্ধতি। কারণ, এতে আমলকারীর নিজস্ব সওয়াব বিন্দুমাত্রও হ্রাস পায় না, অথচ অগণিত মানুষের কাছে তা পৌঁছে যায়।

    নবী করিম (সা.) নফল ইবাদত ও কোরবানি করে তার সওয়াব সকল উম্মতের জন্য ঈসাল করেছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে এ বিষয়ে একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে—

    عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ… ثُمَّ أَخَذَهُ فَضَحَّى بِهِ، ثُمَّ قَالَ: «بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»

    ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) (কোরবানির জন্য) একটি শিংওয়ালা ভেড়া আনতে বললেন… এরপর তা জবাই করার সময় বললেন, ‘আল্লাহর নামে (কুরবানি করছি)।হে আল্লাহ! আপনি এটি কবুল করুন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে। ’ (মুসলিম ১৯৬৭)

    এই হাদিসের আলোকে আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেছেন, নফল সদকা বা ইবাদতকারীর জন্য উত্তম হলো, নির্দিষ্ট মৃত আত্মীয়দের পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর জন্য নিয়তে সওয়াব ঈসাল করা। কেননা, এই সওয়াব সবার নিকট পৌঁছে যায় এবং এতে আমলকারীর নিজের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস পায় না। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূল দৃষ্টিভঙ্গি।

    সারকথা হলো, আপনি যখন কোনো নফল ইবাদত বা এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করে একাধিক মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব ঈসাল করেন, তখন ইনশাআল্লাহ তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর অসীম রহমতে পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন। সওয়াব বখশানোর সময় নির্দিষ্ট বাবা-মা, দাদা-দাদী ও আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি সমস্ত মুমিন মুমিনাদের জন্যও নিয়্যত করা উচিত।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন এবং আমাদের মৃত প্রিয়জনদের নাজাতের উসিলা বানিয়ে দিন। আমিন।

  • কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট নয়, প্রধানমন্ত্রী চান সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ

    কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট নয়, প্রধানমন্ত্রী চান সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ

    কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী পন্থায় দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এ সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

    তারেক রহমান বলেন, সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।’

    তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।

    দেশে উদ্ভাবনী ধারণা ও জ্ঞানের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকজন তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশে এ ধরনের জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা চলতে থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘অর্থের অভাবে যাতে তারুণ্যের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

    আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকট

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

    তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ডিজেলের মজুত বাড়িয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বিগত সরকারগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও বাসাবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা

    তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে চায় সরকার।

    তিনি জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব ব্যবহার শেষে যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, তাদের কাছ থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এর সঙ্গে প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন তিনি। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পেরেছেন।

    তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানো হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।

    সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব

    সৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

    বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    কৃষিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে প্রবাসীদেরও সুযোগ

    বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সহজে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

    এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।

    এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক চত্বর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক চত্বর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর মান্দায় ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ চত্বর থেকে ময়না রাণী (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মান্দা উপজেলা সদরের প্রসাদপুর বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ময়না রাণী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার তিলিহারি মহাপাড়া এলাকার অনিল চন্দ্রের স্ত্রী। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    দেয়ালের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসাদপুর বাজারের হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মান্দা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর দেয়ালের ভিতরের বসার স্থানে ময়না রাণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা।

    মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

    নিহত ময়না রাণী কবে, কখন ওই ক্লিনিক চত্বরে এসেছেন এবং তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    যা বলছে পুলিশ

    মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবজাল হোসেন বলেন, ‘নিহত ওই নারী লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়নি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ এ,আর

  • পক্ষে আপিল হয়নি, শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

    পক্ষে আপিল হয়নি, শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

    তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ মঙ্গলবার চিঠি দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হবে।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

    শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজনের আপিলে আরেকজনের পার্ট তো কাভার করবে না। শেখ হাসিনার পক্ষে তো কোনো আপিল হয়নি।’

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি পাওয়া গেছে।

    ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো আসামি আপিল করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, আইনের ২১(১) ও ২১(২) ধারায় সরকার ও আসামি উভয় পক্ষের আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর আপিল দায়ের করা যাবে না।

    ভবিষ্যতে কোনো আসামি বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে আপিল করতে চাইলে সেটি গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেহেতু এটা একটা স্পেশাল ল, সেই স্পেশাল ল-এর উপরে কোনো ডিলে কনডোনেশনের সুযোগ থাকে না। লিমিটেশন অ্যাক্টের কোনো প্রয়োগ থাকে না। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষেত্রে রায়ের অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা নেই। আর আসামি যখন গ্রেপ্তার হবেন, তার রায় কার্যকর হবে।’

    সময় পার হওয়ার পরও আপিল বিভাগে আপিল গ্রহণের নজির থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সময়োত্তীর্ণ আপিল এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আপিল বিভাগে বিচারাধীন একটি আপিলের ক্ষেত্রেও প্রসিকিউশন সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরবে।

    প্রধান কৌঁসুলি জানান, যেসব আসামি পলাতক আছেন এবং যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ আছে, খুব দ্রুত তাদের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়া হবে।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো হিসাব নেই। সম্পত্তি শনাক্ত ও মূল্যায়নের পরই এর পরিমাণ জানা যাবে। ট্রাইব্যুনালের রায়টা হচ্ছে এভাবে যে, আসামিদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। এখন সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি কী আছে, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কী রকম আছে, তার ভ্যালুয়েশন কত, সেটা ওই সম্পত্তি শনাক্ত ও বিক্রয় সাপেক্ষে বোঝা যাবে। এখন এটা সরকার করবে।

    চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির বিষয়ে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিতে আইনগত বাধা নেই। এ বিষয়ে আলাদা বিধি প্রণয়ন করা গেলে তা আরও ভালো হবে।

    শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ে সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, রোম সংবিধিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রথম দিকের রায়গুলোতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও আইন অনুসরণ করেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেবেন বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

    ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার পর রায়ে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

  • লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান, নতুন সম্ভাবনা ব্রি ধান-১১৯

    লবণাক্ত জমিতে ফলবে বেশি ধান, নতুন সম্ভাবনা ব্রি ধান-১১৯

    দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততাপ্রবণ অঞ্চল ও প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদের উপযোগী ধান আবাদে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর মাধ্যমে।

    সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য এ জাতটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন ব্রি’র প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো: আল আমিন।

    ব্রি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এ ‘ব্রি ধান-১১৯’- নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছেন।

    লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণায় আরো যুক্ত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, সিনিয়র প্ল্যান্ট ব্রিডার নুসরাত জাহান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরমিন আক্তার সেতু এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিআরসিআইএল) রিবেত ফারজানা দিশা।

    উদ্ভাবিত এ জাতটির জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষ করা সম্ভব। এর ফলে রোপা আমন কেটে নেয়ার পর একই জমিতে সরিষা কিংবা সূর্যমুখীর মতো রবি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    গবেষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এর বীজ বপন করতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমিতে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা সারি ও গোছার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে (সারি ২০ সেমি ও গোছা ১৫ সেমি) প্রতি গর্তে দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এছাড়া বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লবণাক্ত ও অলবণাক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বোরো মৌসুমে চাষাবাদে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশও লাভ করেছে এ জাতটি। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে আমন ও বোরো উভয় মৌসুমেই এটি চাষ করা যাবে।

    কৃষি তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৭ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে, যেখানে পরিবেশ ও লবণাক্ততার তারতম্য ভেদে ফলন ৪.৮ থেকে ৭.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ‘ব্রি ধান-৭৩’-এর তুলনায় এ জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় এক টন বেশি। এ জাতের গাছগুলোর গড় উচ্চতা ১১৩ সেন্টিমিটার এবং কাণ্ড বেশ শক্ত হওয়ায় এগুলো সহজে হেলে পড়ে না। বিশেষ করে চারা অবস্থায় একটানা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার এবং অঙ্গজ থেকে প্রজনন পর্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন ধাপে ৮ থেকে ১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এ জাতটির।

    ‘ব্রি ধান-১১৯’-এর প্রতিটি শীষে প্রায় ২১৫টি পুষ্ট ধান পাওয়া যায়, যা ব্রি ধান ‘৭৩-এর তুলনায় ৭০ থেকে ৮০টি বেশি। পাশাপাশি শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে যায় না। এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা রঙের হয়ে থাকে এবং রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়; এতে অ্যামাইলোজের পরিমাণ রয়েছে ২৫.৯ শতাংশ।

    নতুন এ জাতটির বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রি ধান-১১৯’ জাতটির উদ্ভাবন দেশের কৃষি গবেষণাক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ধান উৎপাদনে সহায়তা জোগানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ গবেষণার প্রতিটি স্তরে তাদের পুরো দল অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে প্রধান গবেষক মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান জানান, কৃষকদের মাঠে এই জাতের সুফল পৌঁছে যাওয়াটাই তাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপরীক্ষা
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতটির উপযোগিতা যাচাইয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাঠপরীক্ষা চালানো হয়েছে। কক্সবাজারে ফসলের বৃদ্ধিকালে লবণাক্ততার ওঠানামার মধ্যেও কৌলিক সারিটির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। সাতক্ষীরার লবণাক্ত অঞ্চল এবং অলবণাক্ত অনুকূল পরিবেশেও পর্যায়ক্রমে ফলন পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে এর উপযোগিতা যাচাই করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লবণাক্ততার মাত্রা, স্থায়িত্ব, গাছের বৃদ্ধিপর্যায় এবং পরিচর্যার ওপর ফলন নির্ভর করে।

    আমনের পর বাড়তি ফসলের সুযোগ
    স্বল্প জীবনকালের কারণে ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শস্যবিন্যাসেও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রোপা আমন কাটার পর মধ্যম উঁচু থেকে উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ও লবণসহিষ্ণু সরিষা চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। এতে উপযোগী এলাকায় একই জমিতে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    অন্যদিকে, বোরো ধান কাটার পর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে মাটির জৈব পদার্থ ও উর্বরতা বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ ধানের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও জাতটি ভূমিকা রাখতে পারে।

    বোরো মৌসুমেও জাতটির চাষোপযোগিতা যাচাই করা হয়েছে। বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি স্থানে অলবণাক্ত পরিবেশে কৌলিক সারিটির ফলন মূল্যায়ন পরীক্ষা (পিভিটি) সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশ পাওয়া গেছে। জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে একই জাত আমন ও বোরো—উভয় মৌসুমে চাষ করা যাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা ও শস্যবিন্যাসের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

    চাষাবাদ ও সার ব্যবস্থাপনা
    রোপা আমন মৌসুমে ব্রি ধান১১৯ চাষের জন্য ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বীজ বপনের নির্দেশনা রয়েছে। ২৫-৩০ দিন বয়সী চারা প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ জাতের জন্য উপযুক্ত।

    হেক্টরপ্রতি প্রস্তাবিত সারের পরিমাণ ইউরিয়া ২৩৪ কেজি, টিএসপি ৮৭ কেজি, এমওপি ১১৭ কেজি, জিপসাম ৭৮ কেজি এবং জিংক সালফেট ১২ কেজি। শেষ জমি চাষের সময় সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম ও জিংক সালফেটের সাথে অর্ধেক এমওপি প্রয়োগ করতে হবে।

    ইউরিয়া সমান তিন কিস্তিতে দিতে হবে। রোপণের ১০-১৫ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং কাইচথোড় আসার পাঁচ থেকে সাত দিন আগে তৃতীয় কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক এমওপি শেষ কিস্তির ইউরিয়ার সাথে দিতে হবে।

    রোগ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বালাইনাশক ব্যবহারের আগে আক্রমণ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ অথবা কৃষি সম্প্রসারণকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতটির বীজ উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ব্রি’র কৌলিক সম্পদ ও বীজ বিভাগ, গাজীপুর। কৃষকপর্যায়ে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সাম্মাম চাষ, ৪০ শতক জমিতে

    সাম্মাম চাষ, ৪০ শতক জমিতে

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধুরুং খালের চরে একসময় চাষ হতো মূলা, বেগুনসহ প্রচলিত নানা সবজি। সেই জমিতেই এবার ফলেছে মরুভূমির ফল সাম্মাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে সাম্মাম চাষ করেছেন কৃষক মো. এখলাস (৪২)। পরীক্ষামূলক এ চাষে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮০০ কেজি ফল বিক্রি করে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। বাকি ফল বিক্রি করে মোট আয় ২ লাখ ৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন এ কৃষক।

    ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর বাইন্যাচোলা ব্রিজসংলগ্ন ধুরুং খালের চরে এখলাসের সাম্মামখেত। নুরুল আলম সরদার বাড়ির বাসিন্দা তিনি। তার বাবার নাম মৃত আবুল কাশেম। আগে থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এখলাস কলা, বড়ইসহ বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্য চাষ করতেন। একসময় গাছের ব্যবসাও করেছেন। তবে এবার নতুন কিছু করার পাশাপাশি লাভের আশায় প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে সাম্মাম চাষের উদ্যোগ নেন।

    এখলাস জানান, ইউটিউবে সাম্মাম চাষের ভিডিও দেখে প্রথমে আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরে অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করে গত ২২ আগস্ট ৪০ শতক জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করেন। প্রথমবারের এ চাষে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। চারা রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রায় প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে।

    সাম্মামের বাইরের অংশ হালকা সবুজ এবং ভেতরের শাঁস হলুদ রঙের। ফলটি খেতে মিষ্টি, তবে বিশেষ কোনো সুগন্ধ নেই। এখলাস বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে ফল বিক্রি করছেন। পাইকাররা সরাসরি খেত থেকে ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফটিকছড়ি সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসছেন।

    এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কেজি সাম্মাম বিক্রি করে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পেয়েছেন এখলাস। খেতে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ফল রয়েছে। সেগুলো বিক্রি হলে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন এ কৃষক।

    সাম্মাম চাষ ও অন্যান্য কৃষিকাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন চারজন শ্রমিক। ফসল উৎপাদনে জৈব সার ও সালফার ব্যবহার করেছেন তিনি। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন।

    ফটিকছড়িতে সাম্মাম চাষে এখলাস অবশ্য একমাত্র কৃষক নন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও পাঁচজন কৃষক এ ফলের চাষ করেছেন। তবে কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম চাষ করেছেন এখলাস। তাঁর খেতে ভালো ফলন হওয়ায় আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

    প্রথমবারের সাফল্যে আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করছেন এখলাস। শীতকাল পার হলে নতুন করে চাষ শুরু করতে চান তিনি। তাঁর আশা, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী মৌসুমে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

    কৃষক মো. এখলাস বলেন, ইউটিউবের ভিডিও দেখে সাম্মাম চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এবার পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। এতে আর্থিক লাভের পাশাপাশি নতুন ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও হয়েছে। প্রথমবারের সাফল্যে তিনি আশাবাদী। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ ফল চাষ করতে চান।

    কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শিবুরাম কৃষ্ণ দে বলেন, ইউটিউব দেখে এখলাস সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করেন। শুরু থেকেই তার উদ্যোগের খোঁজখবর রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যে খেতে গিয়ে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    খেতে কাজ করা শ্রমিক রমজান আলী বলেন, সাম্মাম তাদের কাছে নতুন ধরনের ফল। এ ফসল চাষ করতে গিয়ে নতুন অনেক কাজ শিখতে হয়েছে। মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করেছেন। খেতে ভালো ফলন হওয়ায় তারাও আনন্দিত।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, মরু অঞ্চলের ফল হিসেবে পরিচিত সাম্মাম ফটিকছড়িতে কয়েক বছর ধরে চাষ হচ্ছে। তবে এবার কৃষি উদ্যোক্তা এখলাসের উদ্যোগে কাঞ্চননগরের ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ হয়েছে। এতে তিনি ভালো সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, নতুন ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং সফল উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা কৃষি বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম। এখলাসের এ সাফল্য অন্য কৃষকদেরও প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করছেন তারা।

  • কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ- বিশ্বব্যাংক

    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ- বিশ্বব্যাংক

    জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। ২০৪৫ সালে দেশে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সময়কাল শিখরে পৌঁছাবে। অথচ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। অন্যদিকে বাড়তে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারলে জনসংখ্যাগত সুবিধা অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। ২০৪৫ সালে এ সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পেলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি বার্ধক্যপ্রবণ অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশও ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীপ্রধান দেশে পরিণত হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবছর গড়ে ০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর এই সুবিধা স্থায়ী হবে না। ২০০০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বার্ষিক অবদান কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে।

    বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো আগের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই নীতিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুস্থ প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখে দ্বিতীয় দফায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল বয়সকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি, নারীদের শ্রমবাজারে কম অংশগ্রহণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করেছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও জরুরি।

    প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘায়ু বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই অনেকের। স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং পেনশন ব্যবস্থাও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। আর প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কভারেজগুলোর একটি।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে। সময় থাকতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না গেলে এই পরিবর্তনের সুফল ধরে রাখা কঠিন হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাসের হাতছানি

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাসের হাতছানি

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক (৫১ জন) মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের।

    এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।

    নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী।

    তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী।

    এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরো বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে।

  • এনডিটিভির সাংবাদিক থেকে ওমর আব্দুল্লার স্ত্রী

    এনডিটিভির সাংবাদিক থেকে ওমর আব্দুল্লার স্ত্রী

    ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন ভারতের পরিচিত টেলিভিশন সাংবাদিক নিধি রাজদান। প্রায় দুই দশক তিনি দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে সাংবাদিকতা করেছেন।

    দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতেন নিধি। এছাড়া লেখালেখিতেও রয়েছে তার পরিচিতি।

    ১৯৭৭ সালের ১১ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় জন্ম নিধি রাজদানের। তার বাবা মহারাজ কৃষ্ণ রাজদান ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি একসময় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    দিল্লির অ্যাপিজে স্কুলে পড়াশোনা শেষে লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন নিধি। পরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন (আইআইএমসি) থেকে রেডিও ও টেলিভিশন সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

    ১৯৯৯ সালে এনডিটিভিতে যোগ দেন নিধি। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন। এ সময় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার’, ‘ইন্ডিয়া ডিসাইডস ৯’, ‘দ্য লিড’ ও ‘দ্য বিগ ফাইট’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। ২০২০ সালের জুনে এনডিটিভি ছাড়েন নিধি।

    টেলিভিশন সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন নিধি। তার কাজের বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর, তিব্বত এবং যুক্তরাজ্যে ট্রেন বোমা হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি।

    লেখক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় নিধির বই ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার: দ্য আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’। বইটি সমালোচকদের প্রশংসা পায়।

    সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন নিধি। জম্মু-কাশ্মীর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিবেদন তৈরির জন্য তিনি রামনাথ গোয়েঙ্কা অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন জার্নালিজম পান। এ ছাড়া কাঠুয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন নিধি। তবে ২০০৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

    সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওমর লেখেন, ‘গতকাল থেকে নতুন এক যাত্রা শুরু হলো।’ নিধিও একই মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কিভাবে পরিচয় হলো, তা জানায়নি দুজনের কেউ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। তবে দেশটির বিপুলসংখ্যক নাগরিক ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেন না। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরের তুলনায় কম থাকে।

    চলতি শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে ছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার অংশ নেন, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড।

    অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে এই হার কমে ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি হয়।

    তবে এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের সংখ্যা আগেরবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছিলেন প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

    এবারের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের নির্বাচনে দেওয়া মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ভোটের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে ভোট দেওয়ার ধরনে পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবণতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    আগাম ভোটের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এতে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি সত্যিই বাড়বে, নাকি ভোটাররা শুধু ভোট দেওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করছেন—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

  • ১ জানুয়ারি থেকে বিনা টিকিটে জাদুঘর ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

    ১ জানুয়ারি থেকে বিনা টিকিটে জাদুঘর ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

    আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বিনা টিকিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবে।

    শিক্ষার্থীদের দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা বিকাশে এক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার নগর ভবনে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ডিএসসিসি এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রথম পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো। আমরা চাই, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।

    তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগে সাড়া দেওয়ায় আমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

    সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

    স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, পরিবহন এবং খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

    আরও পড়ুন: দক্ষতা উন্নয়নে যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে চায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে সংস্থাটি। অন্যদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গাইডেড ট্যুর, প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবার ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানো হবে।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, মোটা অঙ্কের জরিমানা

    জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, মোটা অঙ্কের জরিমানা

    গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি সৌদি আরব থেকে পাচারের চেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে পানির চালান। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহদ কজওয়ে শুল্ক চেকপোস্টে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়ি তল্লাশি করে ডিকির ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাওয়া যায়। তবে পানি বহনের বিষয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষকে কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।

    রিয়াদের দ্বিতীয় প্রাথমিক শুল্ক কমিটির এক রায়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের পণ্য ঘোষণা না করে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা শুল্ক পাচার হিসেবে গণ্য।

    কমিটি জব্দ করা পানির সমমূল্য ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা করার পাশাপাশি পুরো চালান বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।

    এ ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলি ওই ব্যক্তির কারাদণ্ড, জরিমানা ও জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্তের আবেদন করেছিলেন। তবে তার আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কারাদণ্ডের আবেদন নাকচ করে কমিটি। তাদের মতে, আরোপিত জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্তের শাস্তিই যথেষ্ট।

    উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর অভিন্ন শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার আওতায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

  • যুক্তরাজ্যে ভিসানীতি পরিবর্তন, ৫ বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    যুক্তরাজ্যে ভিসানীতি পরিবর্তন, ৫ বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেতে ১৫ বছর অপেক্ষার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীরা আগের নিয়মেই পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে এ পরিবর্তন এসেছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাবানা মাহমুদ। কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ১৫ বছর করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতার বিরোধিতা ও সমালোচনার পর পরিচর্যাকর্মীদের জন্য নীতিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি পরিচর্যাকর্মী বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তারা আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হবেন। যারা ভিসার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তারা আরও পাঁচ বছরের ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    সোমবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়; বরং এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে করোনা মহামারির পর দেশের প্রয়োজনের সময় যেসব পরিচর্যাকর্মী যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তাদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    অন্য অভিবাসীদের জন্য নতুন সময়সীমা

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করেন— এমন অধিকাংশ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে কিছু পেশা ও শ্রেণির জন্য ছাড় রাখা হয়েছে।

    বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ বেতনভোগী এবং চিকিৎসক ও শিক্ষকের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবদান রাখা ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হবেন। আর বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা সর্বোচ্চ করদাতারা তিন বছর পর আবেদন করতে পারবেন।

    এ ছাড়া ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কিংবা অন্য অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ বা পড়াশোনা করলে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ২০ বছর এবং এসবের কোনোটিই না করলে ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজনৈতিক চাপ

    পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে সরকারের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের ফলে করদাতাদের ওপর কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    কনজারভেটিভদের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, লেবার পার্টির ভেতরের বিরোধিতার কারণেই মাহমুদ তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নতুন পরিকল্পনাতেও সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এর বিস্তারিত ব্যয়-প্রভাব পর্যালোচনা পরে প্রকাশ করা হবে।

    গত মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বিদেশি পরিচর্যাকর্মী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। তাদের জীবনকালের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২০ কোটি পাউন্ড। তাদের প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের হিসাব যুক্ত করলে এ ব্যয় বেড়ে ৯৫০ কোটি পাউন্ড হতে পারে।

    নতুন পরিকল্পনায় আগের নিয়মে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হারাতে পারেন— এমন মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৫ লাখ ১৭ হাজারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপরও প্রভাব

    নতুন সিদ্ধান্তের আগে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার শঙ্কায় ছিলেন যুক্তরাজ্যে কর্মরত অনেক অভিবাসী। তাদের একজন বাংলাদেশি রাঁধুনি আশফাক জুনেদ। বার্মিংহামে কর্মরত এই অভিবাসী বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময় ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন।

    এদিকে হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় নিট অভিবাসনের মাধ্যমে ২৬ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন ১৩ লাখ থেকে ২২ লাখ মানুষ। এ বিষয়ে সরকারের মধ্যম হিসাব ১৯ লাখ।

    তবে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। রিফিউজি কাউন্সিলের ইমরান হোসেন অনিয়মিত পথে আসা এবং কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত নন— এমন শরণার্থীদের ৩০ বছর অপেক্ষার প্রস্তাবকে অন্যায্য ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

  • দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণ এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

    বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কর্মকর্তারাও।

  • আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি

    আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি

    ঘন কুয়াশার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)।

    মঙ্গলবার সকালে এ সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবুধাবি পুলিশ।

    এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দেশটির আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকালে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবুধাবি পুলিশ গাড়িচালকদের সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত গতিসীমার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় আর্দ্রতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও কুয়াশা বা হালকা কুয়াশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি এবং দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা নেমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

    বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বইতে পারে। পরে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতিবেগ বাড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থাকবে বলে জানিয়েছে এনসিএম।

  • বেলফো থেকে নাকবা: সশস্ত্র ইহুদিদের কতটা জানত ব্রিটেন?

    বেলফো থেকে নাকবা: সশস্ত্র ইহুদিদের কতটা জানত ব্রিটেন?

    ফিলিস্তিনে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগের বছরগুলোতে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানত ব্রিটিশ প্রশাসন। এমনকি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তাও দিয়েছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে সংরক্ষিত একসময়কার গোপন গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাংয়ের মতো ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গ্রাম ধ্বংস, নারী ও শিশু হত্যা এবং ফিলিস্তিনের বাইরে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল।

    ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ঘোষণা করেন। তবে ওই ঘোষণায় স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিদ্যমান অ-ইহুদি জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না করার শর্তও রাখা হয়েছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার বড় অংশই ছিল অ-ইহুদি।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইহুদিবাদী আন্দোলন বেলফোর ঘোষণাকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে থাকে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত ছিলেন না।

    ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর এমআই৫-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের প্রধান জেমস রবার্টসন এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বেলফোর ঘোষণা ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনকে বাধ্য করেনি। তার মতে, ইহুদিবাদী আন্দোলন ঘোষণাটির মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিল।

    রবার্টসন ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ইহুদিবাদী আন্দোলনের তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন—ব্যাপক প্রচার, অনিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইহুদিবাদী আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবি ও সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

    সন্ত্রাসের নিন্দা করলেও সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ

    ব্রিটিশ নথিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হ্যারল্ড ম্যাকমাইকেল লন্ডনকে জানান, ইহুদি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠন সশস্ত্র হামলার নিন্দা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

    একই বছরের অক্টোবরে ম্যাকমাইকেল পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মূল্যায়ন ছিল, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহানুভূতি বাড়ছিল। তবে তার এই পর্যবেক্ষণ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়ের সবাই হামলাকারীদের সমর্থন করতেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

    ব্রিটিশ গোয়েন্দা নথিতে ইরগুনের প্রচারপত্রের কথাও রয়েছে। এসব প্রচারপত্রে ফিলিস্তিনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা বাড়ে যে, ফিলিস্তিন থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থামবে না।

    ইহুদি এজেন্সির কার্যালয়ে বোমা হামলা নিয়ে প্রশ্ন

    ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জেরুজালেমে ইহুদি এজেন্সির সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ব্রিটিশ আর্কাইভের নথিতে উঠে এসেছে। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। নিহত সবাই ছিলেন ইহুদি। এ ছাড়া ৩৩ জন গুরুতর আহত এবং ৫১ জন সামান্য আহত হন।

    ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ হাইকমিশনার স্যার অ্যালান কানিংহামের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি গাড়ি ইহুদি এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করেছিল।

    গাড়িটির চালক ছিলেন মার্কিন কনস্যুলেটে কর্মরত ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান আন্তন কামিলো দাউদ। তিনি গাড়িটি চত্বরে রেখে ট্যাক্সিতে করে চলে যান। ইহুদি এজেন্সির একজন নিরাপত্তাকর্মী গাড়িটি ও চালককে চিনতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে জানান। পরে ওই ট্যাক্সিচালক তদন্তকারীদের বলেন, দাউদ তাঁকে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িটি সেখানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।

    ব্রিটিশ তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, ইহুদি এজেন্সি তদন্তে সহযোগিতা করেনি। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাগানাহর সদস্যরা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নথিতে উত্থাপিত এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

    ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ব্রিটিশ উদ্বেগ

    ১৯৪৮ সালের মার্চে এমআই৫-এর পরিচালক পার্সি সিলিটো দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের টনটনে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, ইহুদি এজেন্সি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে তাদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভবিষ্যতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে এসব প্রতিনিধি কূটনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, যা বিদেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করতেন, নতুন রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা কাঠামো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটেনের কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ১৯৪৮ সালের একটি গোয়েন্দা নথিতে ইহুদি এজেন্সিকে সম্ভাব্য ইহুদি সরকারের মতো একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সেখানে নিজস্ব সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হাগানাহর নজরদারির কথাও উল্লেখ ছিল।

    ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা ও বাস্তুচ্যুতির তথ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছে

    ১৯৪৮ সালের এপ্রিল নাগাদ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গ্রামে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিস্তারিত তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। ৯ এপ্রিল জেরুজালেমের কাছাকাছি আল-কাস্তাল গ্রামে হামলার বিবরণ দিয়ে একটি বার্তা পাঠান হাইকমিশনার কানিংহাম। এতে বলা হয়, ইহুদিবাদী যোদ্ধারা মর্টার ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে গ্রামটির বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

    পরবর্তী একটি ব্রিটিশ বার্তায় এক ইহুদি মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই হামলায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    ওই মুখপাত্র আরো স্বীকার করেন, আল-কাস্তালে হামলার বিষয়ে হাগানাহর আগে থেকেই জানা ছিল। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বাইরেও তৎকালীন ট্রান্সজর্ডান পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    ব্রিটিশ নথিতে তিবেরিয়াস হ্রদের কাছে নাসর আল-দিন গ্রামে প্রায় ২০০ ইহুদিবাদী যোদ্ধার হামলার তথ্যও রয়েছে। ওই ঘটনায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। একই বছরের ১৪ এপ্রিল তিবেরিয়াসের একটি ফিলিস্তিনি বাজারে মর্টার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়।

    ইহুদি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরব লিজিয়নের ভূমিকা

    ব্রিটিশ আর্কাইভে সংরক্ষিত ১৯৪৮ সালের ২৮ মে তারিখের আরেকটি নথিতে জেরুজালেমের ইহুদি কোয়ার্টারের আত্মসমর্পণের পর সেখানকার ইহুদি বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের সঙ্গে জর্ডানের আরব লিজিয়নের আচরণের বিবরণ রয়েছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর জর্ডানের বাহিনীর কাছে ওই এলাকার আত্মসমর্পণের সময় লিজিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল-তাল।

    ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন স্পেনের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি পাবলো দে আজকারাতে। তার বিবরণ অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের পর ইহুদি বন্দি ও বেসামরিক নাগরিকদের হয়রানি করা হয়নি। আরব সেনারা বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের সহায়তা করেছিলেন। বিচ্ছিন্নভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটলে আরব লিজিয়ন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

    আল-তালের ভূমিকার প্রশংসা করে আজকারাতে বলেন, তার নেতৃত্বে পুরো অভিযানে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তার এই সাক্ষ্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পরে ব্রিটিশ ও মার্কিন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেরুজালেমে ব্রিটিশ মিশনের পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন কনস্যুলেটকে আরব লিজিয়নের আচরণ সম্পর্কে জানানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, এ বিবরণ মার্কিন সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছাবে।

    নথিতে উঠে আসা ব্রিটিশদের জানা তথ্য

    ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিক তথ্য ছিল। ব্যালফোর ঘোষণার ব্যাখ্যা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ—সবই এসব নথিতে উঠে এসেছে।

    ১৯৪৮ সালের নাকবার আগে ফিলিস্তিনে কী ধরনের সহিংসতা চলছিল এবং সে সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কতটা অবগত ছিল, তা বুঝতে এসব দলিল গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু

    জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু

    ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের নেতারা মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার পর এই প্রথম একসঙ্গে আলোচনায় বসবেন তারা। এরই মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    গত সপ্তাহের হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো শিবিরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর বিরোধীদের এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। সেখানে জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে।

    নির্বাচনে আইজেনকটের ব্লক ৪৮টি আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান তালিকাগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তারই দেওয়া উচিত।

    লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই।’

    আরব-প্রধান তালিকাগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, দলগুলো ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে’।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন আরব ইসরাইলি দলগুলোর নেতারা। তবে তারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। রা’আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এ সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার প্রধানরা একটি অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাদের বক্তব্য, তারা যে সরকারকে ‘বর্ণবাদী’ বলে মনে করেন, সেটির পতন ঘটানো।

    বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ

    আইজেনকটের ব্লকের দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা বিরোধী শিবিরের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। আইজেনকটের শিবিরে ডেমোক্র্যাটস পার্টির বামঘেঁষা নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

    আইজেনকটের দল সরাসরি ঘোষণা না দিলেও এ ধারণা নাকচ করেছে বলে মনে হচ্ছে। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

    ইসরাইলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দলের সমর্থনের সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।

    গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবিরে তার কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা এবং অতি-অর্থোডক্স শাস পার্টি তার নাম সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য অতি-অর্থোডক্স দলের অবস্থান অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়।

    সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

    ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তার হাতে সাত দিন সময় রয়েছে, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

    প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।

    দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় কোনো প্রার্থী বেছে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ করা না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    মহেশপুর সীমান্তে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তবর্তী চাপাতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কুসমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চাপাতলা গ্রামে ইসমাইলের ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্ত পিলার ৬১/১৮-আর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধানক্ষেতের মধ্যে লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

    খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরান আলম জানান, লাশের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। লাশের পরিচয় শনাক্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম চলছে।

    এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার ধানক্ষেতে অজ্ঞাত নারীর লাশ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পুলিশি তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা।

  • ট্রাম্পকে থামালেন আদালত

    ট্রাম্পকে থামালেন আদালত

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তন আনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো ২০ হাজারের বেশি ব্যালট গণনা বন্ধের চেষ্টা নাকচ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের নিয়ম পরিবর্তনে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তগুলো একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

    ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট গণনা বন্ধের চেষ্টা নাকচ

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো ২০ হাজারের বেশি ব্যালট গণনা বন্ধে ট্রাম্পের আবেদন খারিজ করে দেয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল এসব ব্যালটের গণনা আটকে দেওয়া। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতীয়ভাবে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ‘দারুণভাবে এগিয়ে চলছে’।

    আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল ঘোষণা ঠেকানোর মামলা খারিজ

    এর আগে রোববার একটি ফেডারেল আদালত আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের বিজয়ী ঘোষণা ঠেকাতে বিচার বিভাগের করা মামলা খারিজ করে দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল, রাজ্যটি যেন নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে না পারে।

    ডাকযোগে ভোটের নিয়ম সীমিত করার উদ্যোগে আদালতের বাধা

    গত আগস্টে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম সীমিত করতে ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগ আটকে দেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এরই মধ্যে দেশটিতে আগাম সরাসরি ভোট ও ডাকযোগে ভোট মিলিয়ে ৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

    অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার ব্যবহারে প্রশাসনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট

    তবে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্যও পেয়েছে। প্রশাসন অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য ফেডারেল সরকারের ‘সিস্টেম্যাটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস’ বা সেভ নামের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করা।

    গত ২৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়। এর ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই তথ্যভান্ডারের তথ্য মিলিয়ে দেখার সুযোগ পায়।

    সব মিলিয়ে, ভোটের নিয়ম পরিবর্তনে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগ আদালতে বাধার মুখে পড়লেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটের নিয়ম ও ভোটার তালিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই যে রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, এসব রায়ে তা স্পষ্ট।

  • শতবর্ষে লন্ডনের ফজল মসজিদ, প্রথম আজান হয় ১৯২৬ সালে

    শতবর্ষে লন্ডনের ফজল মসজিদ, প্রথম আজান হয় ১৯২৬ সালে

    যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ঐতিহাসিক ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের দ্বারপ্রান্তে। ১৯২৬ সালে মসজিদটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেখানে প্রথমবারের মতো মিনার থেকে আজান দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় কার্যক্রমের ইতিহাসে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    ফজল মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের মুসলিম প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কূটনীতিকেরা অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে শেখ আবদুল কাদির একটি রুপার চাবি দিয়ে মসজিদের দরজা খুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আমি এই ইবাদতখানা খুলে দিচ্ছি।’

    অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহিম দার্দ বক্তব্য দেন। তিনি মসজিদটিকে ইবাদত, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, মসজিদের পবিত্রতা ও মুসল্লিদের অধিকার বজায় রাখার নিয়ম মেনে অন্য ধর্মের মানুষও এটি পরিদর্শন করতে পারবেন।

    বক্তব্য পর্ব শেষে জি এফ মালিক মসজিদের চারটি মিনারের একটিতে উঠে আজান দেন। এর মধ্য দিয়ে মসজিদটিতে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নিয়মিত আজান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

    ফজল মসজিদ লন্ডনের অন্যতম ঐতিহাসিক মসজিদ হিসেবে পরিচিত। বিশ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং তাদের ধর্মীয় জীবন পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ইতিহাসের সঙ্গেও মসজিদটির প্রতিষ্ঠা জড়িত। ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় উপস্থিতি বিকাশের ইতিহাসেও তা উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে রয়েছে।

  • খুলনায় ঘরের সামনে ‘মুড়ির প্যাকেট’, ভেতরে নেয়ার পরই বিস্ফোরণ

    খুলনায় ঘরের সামনে ‘মুড়ির প্যাকেট’, ভেতরে নেয়ার পরই বিস্ফোরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার দিঘলিয়ায় মুড়ির প্যাকেটে দুর্বৃত্তদের রাখা বোমা বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে অবস্থিত মনিরুল ইসলামের বসতঘরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ঘরে ফেরার সময় নিজ বসতঘরের দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। তিনি কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভিতরে নিয়ে যান। প্যাকেটটি ঘরের ফ্লোরে রাখার সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মনিরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জামায়াত নেতাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দুর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • মতলবে একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি নাহিদ গ্রেফতার

    মতলবে একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি নাহিদ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একাধিক হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও মাদক মামলার আসামি মো: নাহিদকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মতলব উত্তরের দেওয়ান কান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাহিদ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার মো: হান্নান গাজীর ছেলে।

    পুলিশ জানায়, নাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    নাদিরা নূর জানান, পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমানের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ,আর

  • ‘যুক্তরাষ্ট্র শয়তানের আবাসস্থল’

    ‘যুক্তরাষ্ট্র শয়তানের আবাসস্থল’

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল-সাইয়েদ ‘উগ্রপন্থী’ মসজিদগুলোতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারের পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    ট্রাম্পের দাবি, ওই মসজিদগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তানের আবাসস্থল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তার এই অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট মসজিদগুলোর বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    ২০২৬ সালের মার্চে ডেট্রয়েটের ইসলামিক সেন্টারে রমজানের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন আল-সাইয়েদ। সেখানে তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও পর্যালোচনা করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ‘জাস্ট দ্য নিউজ’।

    ‘মিডল ইস্ট ফোরাম’ নামের একটি গবেষণা সংস্থা মিশিগানের বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ করে।

    সংস্থাটির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন বক্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তানের আবাসস্থল’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ইসরাইল ও ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তাদের; আল-সাইয়েদের নিজের বক্তব্য নয়।

    আল-সাইয়েদের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলেও, তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাস্ট দ্য নিউজের কাছে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড বা উগ্র ইসলামপন্থার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন : এগিয়ে আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন : এগিয়ে আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন মিশিগানে সিনেট আসনের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সোমবার সন্ধ্যায় দুই প্রার্থী পৃথক সমাবেশে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    নির্বাচনী প্রচারের শেষ সময়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটলেও জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন আল-সাইয়েদ। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের রোববার প্রকাশিত এক জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে রজার্সের পক্ষে সমর্থন ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। জরিপটির ভুলের সীমা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট।

    সোমবার রাতে রচেস্টার হিলসে সমাবেশে অংশ নেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য রজার্স। টম পেটির ‘আই ওন্ট ব্যাক ডাউন’ গান বাজতে থাকা অবস্থায় মঞ্চে উঠে তিনি নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হৃদয় ও আত্মার’ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন।

    সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত তো? দেশের বাকি অংশকে এই বার্তা দিতে প্রস্তুত তো যে, আমরাই ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের পরাজিত করেছি?’

    অন্যদিকে ডেট্রয়েটে শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের (ইউএডব্লিউ) সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতিকে সামনে আনেন আল-সাইয়েদ। তবে প্রচারের শেষ দিনগুলোতে তাকে ঘিরে ছড়ানো ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

    সমাবেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘জ্বালানির দাম যখন বেশি, মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন কেউ নির্বাচনে জিততে চাইলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা এসব নিয়ে কথা বলতে চায় না। তারা কথা বলতে চায় আমাকে নিয়ে, আমার নাম নিয়ে, আমার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে।’

    আল-সাইয়েদের পরিবার মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করে। তার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিহাদিদের ঢল’ নামবে।

    বিভিন্ন সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে ‘আবদুল রমজান’ বলেও উল্লেখ করেছেন। কখনো তার মধ্যনাম ‘মোহাম্মদ’ সামনে এনেও কটাক্ষ করেছেন।

    এসব আক্রমণের জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘ট্রাম্প আমার নাম জানেন কি না, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কারণ, আগামীকালের পর আমরা নিশ্চিত করব, তিনি আমাকে সিনেটর বলেই ডাকছেন।’

    তবে নির্বাচনের ঠিক আগে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতর থেকেই আল-সাইয়েদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তার কাছে হেরে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স রোববার প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানান। তার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন স্টিভেন্স। তিনি জানান, এল-সায়েদের প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন একটি বিজ্ঞাপন তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

    ওই বিজ্ঞাপনে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সঙ্গে নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছিল। এ ছাড়া আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারে তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    স্টিভেন্স লেখেন, ‘মাইক রজার্সের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু মিশিগানকে একজন সিনেটর নির্বাচন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন—এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর কাকে সমর্থন করা উচিত, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে।’

    নিজের সমর্থনের কারণে সমালোচনার মুখে পড়া ডেমোক্র্যাট সহকর্মীদেরও কটাক্ষ করেন স্টিভেন্স। আগামী জানুয়ারিতে তার বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ভূমিকা রাখার ইঙ্গিতও দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমরা আরো শক্তিশালী, আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাহসী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গড়ে তুলতে পারি। আর সেই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা আমার রয়েছে।’

    রজার্সের সমাবেশে স্টিভেন্সসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরলে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তকে ‘বিশেষ ধরনের সাহস’ বলে অভিহিত করেন রজার্স। এ সময় সমর্থকেরা ‘হ্যালি’ স্লোগান দেন।

    সব মিলিয়ে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচন এখন শুধু দুই দলের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই। আল-সাইয়েদকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি—সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচার আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • লালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু, থানায় মামলা

    লালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু, থানায় মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে শান্ত কুমার (২৫) ওরফে মো: আবু মুসা নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহত শান্ত কুমার বাঁশবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সবুজ কুমারের ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মো: আবু মুসা নাম ধারণ করেছিলেন।

    যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা

    ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে শান্ত কুমার চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    আইনি প্রক্রিয়া ও লাশ হস্তান্তর

    ঘটনার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা হেফাজতে নেয়।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফয়সাল বিন আহসান জানান, ‘ওই যুবক স্বেচ্ছায় চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ,আর

  • নিজের বাসায় ‘সোলার প্যানেল’ বসিয়ে জাতীয় গ্রিডে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    নিজের বাসায় ‘সোলার প্যানেল’ বসিয়ে জাতীয় গ্রিডে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি ইতোমধ্যে নিজের বাসায় ‘সোলার প্যানেল’ স্থাপন করেছি। আমার বাসায় ব্যবহারের পর বিদ্যুতের কিছু অতিরিক্ত ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছি। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে গেলে গ্রীষ্মের আগেই সরকার জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎযুক্ত করতে সক্ষম হবে।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’এ প্রতিপাদ্যে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পর্বের পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এক্সপোটি। এ সময় বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    প্রধামন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যেই ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

    এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতি সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে সরকার।

    তিনি জানান সরকারের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে। সেক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পর যারা বাড়তি সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে ক্রয় করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতির দাম কমানো হচ্ছে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনই একমাত্র লক্ষ্য নয়, জনগণের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুতের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।

    তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্পৃক্ত ৮ হাজারের বেশি নতুন ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ প্রতিষ্ঠান যারা আজকের এই আয়োজনের সঙ্গে রয়েছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করার পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহক প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, অনুগ্রহপূর্বক সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। অপরদিকে আমি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে বলছি- দয়া করে আপনারা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের সমস্যা সম্ভাবনার প্রতি আন্তরিক থাকুন।

    তিনি বলেন, কৃষিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সরকার পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত সেচ পাম্পে রূপান্তর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে হিমাগার, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস উপভোগের পাশাপাশি বাসা অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাল্ব, ফ্যান অথবা নানারকমের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বন্ধ রাখাও নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী যারা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের বিকাশে সক্রিয় রয়েছেন, তাদের প্রতি আহবান- শুধু বড় প্রকল্পে নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্বারা সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আপনাদের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও আমার বিশ্বাস।

    সরকার প্রধান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বিনিয়োগের সহজ সুযোগ রয়েছে। আমি চাই, আজকের এই সোলার এক্সপো কেবল দুই দিনের একটি প্রদর্শনী হয়ে যেন শেষ না হয়। এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হোক। নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হোক। ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি হোক। তরুণেরা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বাস্তব উদ্যোগ গড়ে উঠুক। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না বলে বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

  • গুনাহ থেকে মুক্তির দোয়া

    গুনাহ থেকে মুক্তির দোয়া

    তাওবা এবং ইগতিগফার আল্লাহর দরবারে এক অফুরন্ত রহস্যের নাম। যে রহস্য শুধুমাত্র তাওবাগ্রহণকারী এবং ক্ষমার অধিকারীই ভাল জানেন। আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে খুশী হন তখনই যখন বান্দা ভুল করে গুনাহ করার পর আবার ক্ষমার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে যায়। ফরিয়াদ করে হে আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আসুন আমরা তাওবা ও ইসতিগফারের

    গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও দু’টি দোয়া শিখে নিই-
    হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে ততক্ষণ আমি তোমার গুনাহ ক্ষমতা করতে থাকব, তোমার গুনাহের পরিমান যত বেশিই এবং যত বড়ই হোক না কেন। এ গুনাহের পরিমাণ যদি আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো। এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গুনাহসহ উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাক, তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে এগিয়ে যাব। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, দারেমি, মুস্তাদরেকে হাকেম)

    সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! ভয় কিসের? আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে তাওবা করি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

    দোয়া’টি হচ্ছে-
    ক. হাদিসে এসেছে-
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে “আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি”- তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, এমনকি সে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মত গুনাহ করলেও।’ (তিরমিজি, তা’লিকুর রাগীব, মুস্তাদরেকে হাকেম)

    খ. অন্যত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাইয়্যিদুল ইসতিগফার হল- বান্দা বলবে : “আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বাতু, ওয়া আউযুবিকা মিন র্শারিমা সানা’তু আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবুউ বিযামাবী ফাগফিরলী ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা”- যে ব্যক্তি পূর্ন বিশ্বাস সহকারে এ দোয়া দিনের বেলা পাঠ করে এবং সন্ধ্যা হবার পূর্বেই যদি মারা যায় তবে সে জান্নাতী। আর যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে রাতের বেলা এ দোয়া পাঠ করে এবং সকাল হবার পূর্বেই মারা যায়, তবে সে জান্নাতী। (বুখারি)

    সুতরাং আমরা তাওবা করব ইগতিগফার পড়ব। কেননা মুক্তির একমাত্র পথই হচ্ছে আল্লাহর দরবারর তাওবা এবং ইসতিগফার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পাপের কাফ্ফারা হল অনুতাপ। আর অনুতাপই হচ্ছে তাওবা।” মুসনাদে আহমাদ, তাবরানী, ইবনু মাজাহ)

    সুতরাং আমরা উপরোক্ত তাওবার দোয়া দুটি পড়ব আল্লাহর দরবারর রোনাজারির মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করব। আল্লাহ আমাদের ই’তিকাফের পূর্বে মাগফিরাতের দশকের মধ্যেই ক্ষমা করে জান্নাত কবুল করুন আমীন।

    তথ্যসূত্র : সহি বুখারি, মুসলিম, জামে আত-তিরমিজি, সুনানে ইবনু মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি, মুস্তাদরেকে হাকেম, তাবরানী, তা’লিকুর রাগীব

  • ‘জাকির নায়েককে ভারতে পাঠাবেনা মালয়েশিয়া’

    ‘জাকির নায়েককে ভারতে পাঠাবেনা মালয়েশিয়া’

    বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে তাকে প্রত্যর্পণ করার বিষয়ে নয়াদিল্লিকে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলেও দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানিয়েছেন, ২০১০ সালে ভারত সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মালয়েশিয়ার নিজস্ব অধিকার এবং দেশটির ১৯৯২ সালের ‘প্রত্যর্পণ আইন’-এর বিধিবিধানের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বজায় রাখা হয়েছে।

    সংসদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লিখিত জবাবে সাইফুদ্দিন নাসুশন জানান, সম্প্রতি ডা. জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি।

    এর আগে ভারত সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে হস্তান্তরের আবেদন জানায়। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছিল।

    সংসদে লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকার ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে তাকে প্রত্যর্পণ করার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।’

    বিরোধীদলীয় জোট পেরিকাতান ন্যাশনালের (পিএন) পেংক্যালান চেপা আসনের সংসদ সদস্য দাতুক ড. আহমদ মারজুক শ্যারির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

    ভারতের করা আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি, আবেদনের তারিখ এবং ভারতের দাখিল করা নথিপত্র মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত পূরণ করেছে কি না—তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ওই সংসদ সদস্য।

  • সীতাকুণ্ডে লরি-বাস সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত: মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ

    সীতাকুণ্ডে লরি-বাস সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত: মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও সংলগ্ন রেলপথ অবরুদ্ধ করে ফেলেন

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমিরাস্থ আইআইইউসি গেটের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ছাত্রীর নাম মাইশা মুসফিরাত (২১)। তিনি উপজেলার কুমিরাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী এবং মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে।

    ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিচার ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরাণোসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকের পরও অবরোধ তুলে নেননি শিক্ষার্থীরা, ফলে মহাসড়কের দুই পাশে ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকামুখী একটি কনটেইনারবাহী লরি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এলাকা অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ উল্টো দিকে মোড় নেয়। এ সময় প্রাইভেট কারটিকে বাঁচাতে গিয়ে দ্রুতগতির লরিটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকামুখী ৮ নম্বর পরিবহনের একটি মিনিবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে লরিটি মহাসড়কে উল্টে যায়।

    এ সময় বাস থেকে নামা দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চাপা পড়েন। এ ছাড়া বাসের ভেতরে থাকা ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও সংলগ্ন রেলপথ অবরুদ্ধ করে ফেলেন। তারা মহাসড়কে শৃঙ্খলা, ছাত্রী হত্যার বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ সহ মোট ছয় দফা দাবি ঘোষণা করে অবরোধ অব্যাহত রাখেন।

    প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেও বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ কাটাতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি লাইনে কয়েক হাজার গাড়ি আটকা পড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী জানান, ‘দুর্ঘটনায় তাদের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। দুজনই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের সকল ক্লাস ও পরিক্ষা বাতিল করা হয়েছে।’

    চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, ‘সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

    বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে উল্টে যাওয়া লরি ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে থানায় নেয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

    শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধের বিষয়ে সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ আরো জানান, ‘তাদের অবস্থানের কারণে ঢাকামুখী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চট্টগ্রামমুখী সড়কেও যানজট তৈরি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।’ এ,আর

  • জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি

    জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি

    বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন জামায়াত নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান।

    আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এসময় তাকে কারা ফটকে সংবর্ধনা দিতে জড়ো হন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

    এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আখতারুজ্জামানকে জামিন দেন।

    গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।

    ওই সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া ও মারধরের হুমকি দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এমনকি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয়।

    দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতি করলেও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। যদিও ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো তাকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি।

  • আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠিত করেছিল: স্পিকার

    আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠিত করেছিল: স্পিকার

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল এই নির্বাচনকে অত্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে প্রশংসা করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরায় এদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান পার্টনার ফর ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যান্ড এ্যাডভোকেসি নেক্সাসের প্রতিনিধিদল।

    এসময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

    স্পিকার আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায়, জুলুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠিত করেছিল। ‘২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশে পুনর্বার গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়। গণতন্ত্র ছাড়া একটি দেশে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হয় না।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং সার্বিক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে মত বিনিময় করেন। এছাড়াও সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংসদীয় বিতর্ক শ্রবণ ও অনুধাবন সহজতর করার বিষয়ে প্রতিনিধিদল তাদের মতামত প্রদান করেন।

    উল্লেখ্য, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং বি-স্ক্যান (B-SCAN) বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • ২৮ অক্টোবরের ‘ট্র্যাজেডি’ বনাম ‘লগি-বৈঠার তাণ্ডব’: শব্দের রাজনীতি ও রাজনৈতিক বয়ান

    লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম সুজন, শিক্ষক ও গবেষক

    কোনো রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক ঘটনাকে শুধু ‘ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করলে তার ভেতরের অপরাধ, দায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আড়াল হয়ে যেতে পারে। এই নিবন্ধের যুক্তি হলো, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার ঘটনাকে ‘ট্র্যাজেডি’ বলে নরম করে দেখার বদলে তার সহিংসতা, মানবিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে প্রশ্ন করা দরকার।

    ঘটনার নামকরণও রাজনৈতিক

    সমসাময়িক প্রতিবেদনে ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ও আহতের কথা এসেছে। একটি সমসাময়িক প্রতিবেদনে অন্তত চারজন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহতের কথা বলা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০০৬ সালের পর্যালোচনায় ওই অক্টোবরের রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৮ জন নিহত ও বহু আহতের কথা বলা হয়েছে। সংখ্যার পার্থক্য দেখায়, বিভিন্ন হিসাবকে এক করে ফেলা যায় না।

    লেখক মনে করেন, প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা এবং লাশের ওপর উল্লাসের অভিযোগকে সাধারণ বিয়োগান্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলে অপরাধের মাত্রা কমিয়ে দেখা হয়। তিনি একে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অমানবিকীকরণের ভাষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মূল্যায়নটি লেখকের মতামত, আদালতের রায় নয়।

    রুয়ান্ডার তুলনা

    রুয়ান্ডার ১৯৯৪ সালের গণহত্যায় তুতসিদের অমানবিক করে দেখাতে ‘তেলাপোকা’ ও ‘সাপ’-এর মতো ঘৃণাসূচক শব্দ ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। জাতিসংঘের রুয়ান্ডা-বিষয়ক উপকরণে ৭ এপ্রিলকে তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালের গণহত্যার স্মরণ দিবস বলা হয়েছে।

    লেখক এই ইতিহাসের সঙ্গে ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ‘সাপের মতো’ পেটানোর ভাষা ও দৃশ্যের তুলনা করেছেন। এটি একটি রাজনৈতিক-মনস্তাত্ত্বিক তুলনা; ২৮ অক্টোবরকে রুয়ান্ডার গণহত্যার সমতুল্য বলে কোনো আদালতের সিদ্ধান্ত নয়।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডার মিডিয়া কেসে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও গণহত্যায় উসকানির ভূমিকা নিয়ে বিচার করেছে। সেই আইনি নজির বাংলাদেশের ২৮ অক্টোবরের ওপর সরাসরি প্রযোজ্য—এমন দাবি করতে হলে আলাদা আইনি বিশ্লেষণ দরকার।

    ট্র্যাজেডি, কারবালা ও হ্যামলেট

    লেখকের মতে, ২৮ অক্টোবরের প্রকাশ্য সহিংসতার দৃশ্য করুণার পাশাপাশি ট্রমা, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তাই তিনি ‘ট্র্যাজেডি’ শব্দের পরিবর্তে রাজনৈতিক সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করতে চান। কারবালা, বিষাদ-সিন্ধু ও হ্যামলেটের উদাহরণ দিয়ে তিনি শোক, মর্যাদা, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং প্রতিপক্ষকে অমানবিক করার পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন।

    ইতিহাসের দায়

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০১৮ সালের সিদ্ধান্ত A/DEC/72/550 ৭ এপ্রিলকে ‘তুতসিদের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্মরণ দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করে। মূল খসড়ায় এই সিদ্ধান্তের নম্বর ভুল ছিল; এখানে তা সংশোধন করা হয়েছে।

    লেখকের মতে, ২৮ অক্টোবরকে এমনভাবে ইতিহাসে রাখা উচিত নয় যাতে পরিকল্পনা, সহিংসতা ও দায়ের প্রশ্ন হারিয়ে যায়। তিনি একে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে দেখেছেন। এই ভাষা তাঁর মতামতের অংশ। কোনো ঘটনার নামকরণ একা বিচার নয়; বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নথি, সাক্ষ্য, তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া দরকার।

  • মুসলিম সার্কেল অব কানাডার দিনব্যাপী লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

    মুসলিম সার্কেল অব কানাডার দিনব্যাপী লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

    কানাডার স্কারবরোয় মুসলিম সার্কেল অব কানাডার (এমসিসি) ইস্ট জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় এমসিসি সেন্টারে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি, ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং সমাজসেবায় সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    ‘Learn to Lead, Lead to Serve’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমসিসি ইস্ট জোনের সভাপতি লুৎফুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহীন সিদ্দিকী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার শাহীন সিদ্দিকী ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে দাওয়াহর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে তিনি ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি দাওয়াহর পাঁচটি মৌলিক নীতি এবং এ ক্ষেত্রে ৩৬০ ডিগ্রি বা সর্বাঙ্গীণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।এ ছাড়া কার্যকর দাওয়াহ, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব বিকাশে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসৃত দশটি শিক্ষাদান পদ্ধতি তুলে ধরেন তিনি। ব্যক্তিগত আচরণ, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে এমসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল করিম সোহাগ মুসলিম সমাজে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা, পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    এমসিসির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সায়েফ আহমেদ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যকর সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

    প্রশিক্ষণের পৃথক একটি পর্বে এমসিসির সাংগঠনিক পোর্টালের ব্যবহারবিধি নিয়ে আলোচনা করেন জমির সোহরাওয়ার্দী। তিনি পোর্টালের বিভিন্ন কার্যক্রম, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ে এর ব্যবহার সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন।

    দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, দাওয়াহ কার্যক্রম, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • আবারো বাড়ল এলপিজির দাম

    আবারো বাড়ল এলপিজির দাম

    বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই আবারো বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হবে।

    একই আদেশে অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। প্রতি লিটার ৮৪.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯১.৯৫ টাকা করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩.০৯ টাকা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিক্রেতাদের কমিশনও।

    গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।

  • ফেনীতে ৭২ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান

    ফেনীতে ৭২ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে ৬০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ১২ জন স্বেচ্ছাসেবককে সম্মাননা দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার। এছাড়া পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক হতদরিদ্র ব্যক্তিকে একটি অটোরিকশা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে শহরের মিড টাউন কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।

    আয়োজক কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মুখপাত্র ওসমান গনি রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ফেনীর সময়-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী ইউনিটের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন মামুন, স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী, জেড ইউ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন পাঠান, ক্রীড়া সংগঠক শরীফুল ইসলাম অপু ও স্বেচ্ছাসেবী ওমর উদ্দিন পৃথী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এম এ খালেক বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক পরিবার নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। এ সংগঠনগুলো অনেক মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরো সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো কাজ করতে পারবে। আমরাও চেষ্টা করব এ সংগঠনের পাশে থাকতে।’ এ,আর

  • ফেনীতে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও বিদেশী মদ উদ্ধার, আটক ৪

    ফেনীতে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও বিদেশী মদ উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১১ কেজি গাঁজা ও ৫৪ বোতল বিদেশী মদসহ চার মাদককারবারিকে আটক করেছে এসআরবি-৭। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি লবণবোঝাই কার্গো ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

    সোমাবার (২ নভেম্বর) ভোরে ও রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে মাদকসহ চারজনকে আটক করা হয়।

    এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্প সূত্র জানায়, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাঙ্গলকোটের দিকে বিদেশী মদ নেয়ার খবর পায় এসআরবি। খবর পেয়ে ভোরে চৌদ্দগ্রামের বিজয়করা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

    এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামানোর সঙ্কেত দিলে চালক ও যাত্রী পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সিএনজিচালক সাগর হোসেন (২৮) ও যাত্রী জয়নাল আবেদীনকে (২৭) আটক করা হয়। সেইসাথে অটোরিকশার যাত্রী সিটের পেছনে বিশেষ কৌশলে রাখা ছয়টি কার্টুন থেকে ৫৪ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়।

    এসআরবি সূত্র আরো জানায়, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে একটি লবণবোঝাই কার্গো ট্রাক চাপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটিকে ধাওয়া করে এসআরবি। এ সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বাবুর্চি বাজারস্থ হোটেল বাইপাসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

    দিবাগত রাত ১টার দিকে ট্রাকটি থামানোর সঙ্কেত দিলে চালক ও সহকারী পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রাকচালক মো: আজম আলী (৪০) ও সহকারী মো: ডাবলকে (৪০) আটক করা হয়। পরে ট্রাক থেকে ১১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় নয় টন লবণবোঝাই কার্গো ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।

    এসআরবি-৭, ফেনী ক্যাম্প কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালকের সহকারী নিহত, আহত ২

    দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালকের সহকারী নিহত, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের চালকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বারৈয়ারহাট মঈনউদ্দিন ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ট্রাকচালকের সহকারীর নাম মিলন (২০)। আহত দু’জন হলেন— ট্রাকচালক মানিক (৩৫) ও অপর হেলপার বিল্লাল (৩৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা অপর একটি ট্রাক সামনের ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই ট্রাকের হেলপার মিলন নিহত হন। এ সময় চালক ও অপর ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হন।

    জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, সকালে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে পেছনের ট্রাকের চালক ও সহকারী কেবিনে আটকে যায়। আমরা খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশসহ তাদের উদ্ধার করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাক দু’টি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া উদ্ধার হওয়া আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে দুই ট্রাকের সংঘর্ষের সংবাদটি আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, সংঘর্ষে পেছনের ট্রাকের চালক ও সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালকের সহকারীকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দু’টি থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ,আর

  • মুসলিম বলেই বলিউড অভিনেত্রী দিয়ার ভিডিও বার্তা সরালো মুম্বাই পৌরসভা

    মুসলিম বলেই বলিউড অভিনেত্রী দিয়ার ভিডিও বার্তা সরালো মুম্বাই পৌরসভা

    নির্দেশ ছিল বম্বে হাইকোর্টের। উদ্যোগ নিয়েছিল বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা। তাদের অনুরোধেই ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। কিন্তু বিজেপি–শিবসেনার আপত্তিতে পৌরসভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তা সরিয়ে দেওয়া হলো। কেন সরানো হলো, সেই কারণও স্পষ্ট, দিয়ার ‘ধর্ম’।

    দিয়া মির্জার বাবা ফ্র্যাঙ্ক হ্যান্ডরিচ ছিলেন জার্মান খ্রিষ্টান। পেশায় তিনি ছিলেন গ্রাফিকস ডিজাইনার। মা দীপা, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দু। দিয়ার জন্মের চার বছর পর মা–বাবার বিচ্ছেদ হলে দিয়ার মা হায়দরাবাদের আহমেদ মির্জাকে বিয়ে করেন। তাঁর স্নেহেই দিয়া পালিত। দিয়া সৎবাবার ‘মির্জা’ পদবিই ব্যবহার করে আসছেন।

    ৪৪ বছরের দিয়ারও দুই বিয়ে। তাঁর প্রথম স্বামী সাহিল সাংঘা। ২০২১ সালে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বৈভব রেখি নামের এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে।

    পৌরসভার অনুরোধে আতশবাজি ও দূষণের বিরুদ্ধে দিয়া ছাড়াও ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত, ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে, মারাঠি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াডের মতো ব্যক্তিরা। তাঁদের কারও ভিডিও বার্তা বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা মুছে দেয়নি। দিয়া মির্জা একমাত্র ব্যতিক্রম।

    উৎসবের সময় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি করে আতশবাজি। আতশবাজি নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার ব্যর্থতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বম্বে হাইকোর্ট। গত ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে বলেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত মানুষদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

    সেই অনুযায়ী বিনোদন জগতের বিভিন্ন তারকাকে অনুরোধ করে পৌরসভা। দিয়া তাদেরই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে। বম্বে পৌরসভাও বলেছিল, জনহিতের জন্য এ ধরনের কাজে তারকাদের পারিশ্রমিক নেওয়া অনুচিত।

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা কাজে নামে। তাদের অনুরোধ মেনে নানা তারকার আবেদন পৌরসভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলা হয়। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের চাপ ও বিরুদ্ধ প্রচার সইতে না পেরে বিজেপি–শিবসেনা পরিচালিত পৌরসভা দিয়ার ভিডিও সরিয়ে দেয়।

    বিজেপির মুম্বাই শাখার সভাপতি অমিত সাটম এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তা পোস্ট করেন। পৌরসভাকে ট্যাগ করে তাতে তিনি লেখেন, ‘দীপাবলি কীভাবে উদ্‌যাপন করা উচিত, সেই জ্ঞান আমরা দিয়া মীর্জার কাছ থেকে নেব না। আমাদের সংস্কৃতির শিকড় আমাদের ঐতিহ্যেই নিহিত রয়েছে।’

    বিজেপি নেতার ওই বার্তার পর আরও কয়েকজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের পোস্ট দেন। তারপরই বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা দিয়ার পোস্টটি মুছে দেয়। অন্য কারও পোস্টে অবশ্য হাত দেওয়া হয়নি।

    পৌরসভার এক কর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশেই ওই প্রচারাভিযান চালানো হয়েছে। তাই বায়ুদূষণ রোধে নিয়মমাফিক বাজি পোড়ানোর বার্তা রয়েছে। শুধু জনরোষের জন্য এক বিশেষ ব্যক্তির বার্তা সরানো হয়েছে।

    বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা এর আগে স্বচ্ছতা ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে কাজে নামিয়েছিল। তাঁকে দিয়ে প্রচার করিয়েছিল।

    দিয়া মির্জার বার্তা কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে পৌরসভার পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি বা ব্যাখ্যা অবশ্য দেওয়া হয়নি।

    দিয়ার বার্তার বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর শরিক রিপাবলিকান পার্টির নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালেও। তিনি বলেছেন, ‘দিয়া অভিনেত্রী। তিনি মুসলিম। তবে এটা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিষয় নয়। ভারতের সংবিধান সব ধর্মের মানুষদের নিজস্ব উৎসব পালনের অধিকার দিয়েছে। হিন্দুরা যেমন ঈদ উৎসবে যোগ দেন, মুসলিমরাও তেমন দীপাবলি পালন করেন। বাজি পোড়ানো দীপাবলির অঙ্গ। তা বন্ধ করা হলে দীপাবলির কিছু তাৎপর্য হারিয়ে যায়। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত দূষণ নিয়ে আমাদের সবারই সতর্ক থাকা উচিত। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ আছে।’

    শিবসেনার মুখপাত্র শায়না এনসিও এ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দীপাবলি আলোর উৎসব। দিয়া মির্জার নামেও ‘দীপ’ রয়েছে। দীপাবলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় আবেগ কতটা, তা ওঁর বোঝা উচিত। কেউ দূষণ ছড়ানো বা আতশবাজি পোড়ানোর প্রচার করছে না। আমাদের নিজেদেরও আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে। মুম্বাইয়ের জনগণের কী করা উচিত, সে বিষয়ে অন্য কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

    মুম্বাইয়ের মেয়র বিজেপি নেত্রী রীতু তাওড়ে অবশ্য বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার এই সিদ্ধান্তের এক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দিয়া মির্জাকে তিনি বরাবরের হিন্দুত্ববিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। রীতু তাওড়ে বলেছেন, ‘এর সঙ্গে কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের যোগসাজশ নেই। দিয়া মির্জা বারবার হিন্দুত্ববিরোধী ভূমিকা নিয়েছেন। সরকারবিরোধী মন্তব্য করেছেন। অতীতে দেখেছি, তিনি সব সময় বেছে বেছে কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করেন। সেটা করার অধিকার তাঁর আছে। কিন্তু বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার হ্যান্ডলে তা করা যাবে না।’

    রীতু তাওড়ে বলেন, ‘দিয়া মির্জার হিন্দুত্ববিরোধী অবস্থানের জন্যই ওঁর বার্তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।’

    কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আপত্তি ও বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার সিদ্ধান্তের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দিয়া নিজেও। আজ সোমবার তিনি বলেন, ‘বম্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাকে দিয়ে তারাই ভিডিও রেকর্ড করিয়েছে, তা নিয়ে অন্যরা কেন সমালোচনা করবেন?’

    দিয়া বলেন, বায়ুদূষণ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দূষণ কমানোর চেষ্টা সবারই করা উচিত। কারণ, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে এক বার্তায় এই অভিনেত্রী বলেছেন, ‘এই কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক দাবি করিনি। ভালো কাজের দিন আর নেই।’

    তবে দিয়া মির্জা সমর্থনও পেয়েছেন। হায়দরাবাদের দল অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) মুখপাত্র ওয়ারিশ পাঠান ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘অমিত সাটম, শুধু দিয়া মির্জাকেই কেন বাছলেন? একই আবেদন তো মাধুরী দীক্ষিতও করেছেন? নিশিগন্ধা ওয়াডও করেছেন? তাহলে কেন এই ভিন্নতা? একে ঐতিহ্যের পক্ষে দাঁড়ানো বলে না। বেছে বেছে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে দ্বিমুখী নীতিরই পরিচয় পাওয়া যায়। আসল কথা হলো, তাঁর নাম। নামটা দিয়া মির্জা। তাই না?’

  • নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট

    নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় আগুনের শিখা জ্বালিয়ে নতুন করে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান। দৈনিক মিলতে পারে সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

    সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে সুন্দলপুর সাউথ-১-এর একটি কুপে ডিলিং শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।

    তবে ডিএসটি পরীক্ষা শেষে গ্যাসের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে দৈনিক সাত মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাসের সন্ধান মিলবে এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর ডিলিং ইনসার্জ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কূপটিতে খনন কাজ শেষে আজ দুপুরে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। পরে অতিরিক্ত আগুনের উত্তাপ্ত হাওয়ার কারণে আগুনের শিখা বন্ধ করে দেয়া হয়।

    তিনি আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে নতুন করে আগুনের শিখা জ্বালানো হবে। এ,আর

  • নাঙ্গলকোটে ঋণের কিস্তি না দেয়ায় গৃহবধূকে গ্রেফতার করালো এনজিও, পরিবারের ক্ষোভ

    নাঙ্গলকোটে ঋণের কিস্তি না দেয়ায় গৃহবধূকে গ্রেফতার করালো এনজিও, পরিবারের ক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় সাজেদা ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দায়ের করা মামলায় ফাতেমা (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চারজানিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয় এবং সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    ভুক্তভোগী ফাতেমা চারজানিয়া গ্রামের সাগরের স্ত্রী। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।

    ফাতেমার দাবি, তিনি সাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেছেন। তা সত্ত্বেও এনজিও কর্তৃপক্ষ তার কাছে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার টাকা পাওনা দাবি করে আসছিল। রোববার সন্ধ্যায় এনজিওর লোকজন এসে জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং গভীর রাতে পুলিশ এনে তাকে ধরিয়ে দেয়।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজেদা ফাউন্ডেশনের শাখা ব্যবস্থাপক (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) ইমরুল কায়েস জানান, ওই গৃহবধূর কাছে তাদের ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টানা ৮-৯ মাস কোনো কিস্তি না দেয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হয়। তার নামে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং বিষয়টি তাকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে নারী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • শৈলকুপায় সেচের পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০, ভাঙচুর-গরু লুট

    শৈলকুপায় সেচের পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০, ভাঙচুর-গরু লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অন্যের জমির ওপর দিয়ে সেচ পাম্পের পাইপ নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে ঘটনায় ১০টি বাড়িঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং তিনটি গরু লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের দীগলগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেচ পাম্পের ফিতা অন্যের জমির ওপর দিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাতব্বর মাহাতাবের সমর্থকরা কাশেম মাতব্বরের সমর্থকদের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহাতাবের লোকজন কাশেম মাতব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় মুক্তার মোল্লা, কাশেম মোল্লা, ইনতাজ মোল্লা, মোন্তাজ মোল্লা, মিন্টু পুলিশ, লতিফ, ওহাব, তারিফ ও আরিফের বাড়িসহ অন্তত ১০ টি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং বিভিন্ন মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা লতিফ মুন্সীর তিনটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে ও মিলন মোল্লার একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

    শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ‘সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ এ,আর

  • মণিপুরে পৃথক ঘটনায় ৫ কুকি সদস্যকে হত্যা

    মণিপুরে পৃথক ঘটনায় ৫ কুকি সদস্যকে হত্যা

    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে পৃথক সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    গত শনিবার রাজ্য পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ননে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।

    পুলিশের আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ একই সম্প্রদায়ের অন্য দুই ব্যক্তির মৃতদেহ গতকাল রোববার সকালে নিরাপত্তাকর্মীদের তল্লাশি অভিযানের পর কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

    শীর্ষস্থানীয় কুকি উপজাতি সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা এই ঘটনাকে নিজেদের মাতৃভূমিতে সরাসরি প্ররোচনাহীন আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে।

    মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই সময়ই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে স্বজাতীয় মাতৃভূমির অধিকার আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুকি সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ এক নাগা পুরুষকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

    গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়ে যায়।

    সাম্প্রতিক এই কুকি-নাগা সংঘর্ষ মণিপুরে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে কুকি সম্প্রদায় মূলত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।

    এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন ৬০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই রাজ্যে রক্তপাত বন্ধে ব্যর্থতার কারণে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং পদত্যাগ করেছিলেন।

    মুখ্যমন্ত্রী না থাকায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য রাজ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল। চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নেওয়া হয় এবং ইউনম খেমচান্দ সিং মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • সুন্দরগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, আহত ২

    সুন্দরগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় এনামুল হক (৪০) নামে এক পান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোভ্যানচালকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন (৪২) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালহাটে (কামরাঙ্গার তল) রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত এনামুল হক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ইমাদপুর (হাজীপাড়া) গ্রামের মরহুম সোলেমানের ছেলে। গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেন একই এলাকায় মোন্তাজ আলীর ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে স্থানীয় একটি পানের বরজে কাজ করতে আসেন তিন শ্রমিক। এ সময় সুন্দরগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কের পাশে জামালহাট এলাকায় একটি অটোভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পান শ্রমিক এনামুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

    এছাড়া এ ঘটনায় অটোভ্যানচালকসহ দু’জন আহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। অপর আহত ভ্যানচালক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি চলে যান।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক পান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দু’জন গুরুতর আহত হন। নিহত পান শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • আগামী গ্রীষ্মে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্য

    আগামী গ্রীষ্মে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্য

    সোলার প্যানেল থেকে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎউৎপাদন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার- এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

    তিনি বলেন, এবারের গ্রীষ্মে জনগণ যতটুকু কষ্ট পেয়েছে, আগামী বছর যেন সেই কষ্ট না পান কিংবা পেলেও যেন সহনীয় মাত্রায় থাকে।

    এর সহজ সমাধান হলো রুফটপ সোলার।

    দেশের জনগণের ভোগান্তি কমানোই মুল লক্ষ্য বলেও অবহিত করেন তিনি।

    সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, সরকার চায় আগামী গ্রীষ্ম যেন মানুষের জন্য সহনীয় হয়। এ লক্ষ্যেই সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন: পাটওয়ারী

    শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন: পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন।

    সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একটি দেশের জাতীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে যদি শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেই দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। শ্রমিককে বঞ্চিত করে কোনো সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে না। বরং সেখানে লুটেরা অর্থনীতির জন্ম হয়, সম্পদের বৈষম্য বাড়ে, অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এক সময় রাষ্ট্র নিজেই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।

    তিনি লেখেন, আচ্ছা, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে আসলাম শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে, তাহলে প্রশ্ন হলো-গত ৫৪ বছরে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি? কেন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আজও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গা পায়নি?

    ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই নেতা লেখেন, শ্রমিকের পেটের ক্ষুধা, ন্যায্য মজুরি আর পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার আকুতিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের তকমা দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না।

    মানুষের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে ঠেলে দেওয়া আসলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো কৌশল।

    মনে রাখতে হবে, শ্রমিকেরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয় উল্লেখ করে তিনি লেখেন, তারা এই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, উৎপাদনের কারিগর এবং আমাদেরই ভাই-বোন, আমাদেরই সন্তান। তাদের ঘামেই কারখানা সচল থাকে, অর্থনীতির চাকা ঘোরে, দেশের প্রবৃদ্ধি আসে।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একজন শ্রমিকের পেটে ভাত থাকলে, গায়ে পরার কাপড় থাকলে, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ থাকলে, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকলে-তার জীবন অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ হতো।

    তখন তার ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের গল্প বানানোর সুযোগও অনেক কমে যেত।

    তিনি আরও লেখেন, অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন। শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন। আমাদের প্রত্যাশা খুব সাধারণ-যে দেশে একজন শ্রমিকের সন্তানও সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে, পড়াশোনা করবে, স্বপ্ন দেখবে এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়বে।

    শেষে তিনি লেখেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’-এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা শুধু কোনো বিত্তশালী পরিবারের জন্য নয়, বাংলার প্রতিটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্যও সত্য হোক। শ্রমিকের অধিকার কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, এটি তার ন্যায্য পাওনা। শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান হোক, সব জুলুমতন্ত্রের অবসান হোক।

  • উৎপাদন বেড়েছে পান বিক্রি বাজারে দাম নেই

    উৎপাদন বেড়েছে পান বিক্রি বাজারে দাম নেই

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে বেচাকেনা জমজমাট থাকলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

    রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোরে শুরু হয় বেচাকেনা, যা চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

    বাজারে পান বিক্রি করতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন চাষি সাহেদ মাঝী। তিনি বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তার কথায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় চাষিদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।

    চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারদর না বাড়ায় তারা প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছেন না। এতে চাষের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও ব্যাপক পরিসরে পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসেন।

    রায়পুরে পানের বেচাকেনার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পান সরবরাহ করা হয়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা সত্ত্বেও দাম কম থাকায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

  • ইঁদুর তাড়ানোর ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু

    ইঁদুর তাড়ানোর ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ জমিতে ইঁদুর তাড়ানোর জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইদুর রহমান জজ মিয়া (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের শিমুলকান্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সাইদুর রহমান জজ মিয়া ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগমের স্বামী। তিনি শিমুলকান্দি গ্রামের বাদশা বাড়ির মরহুম মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলকান্দি গ্রামে নিজেদের জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধান রক্ষার্থে ধানের গুছিতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ দিয়ে ফাঁদ পেতেছিলেন সাইদুর রহমান। প্রতিদিন রাতে তিনি ওই ফাঁদে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতেন এবং সকালে তা বন্ধ করতেন। সোমবার সকালেও প্রতিদিনের মতো সংযোগ বন্ধ করতে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • ট্রাম্পের অবকাশ যাপন কেন্দ্রের কাছাকাছি বিমান বিধ্বস্ত :নিহত ৯

    ট্রাম্পের অবকাশ যাপন কেন্দ্রের কাছাকাছি বিমান বিধ্বস্ত :নিহত ৯

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো অবকাশ যাপন কেন্দ্রের অনেকটা কাছেই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ৯ আরোহীর সবাই। দক্ষিণ ফ্লোরিডার ক্রেস্টহ্যাভেনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ট্রাম্পের পাম বিচ কাউন্টিতে অবস্থিত মার-এ-লাগো অবকাশযাপন কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯ মাইল দূরে।

    বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এর পর বিশাল অগ্নিগোলকের সৃষ্টি হয়। আগুনের গোলাটি ব্যস্ত সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি থেকে অল্প দূরে পড়ে।

    গাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজনের ধারণ করা ভিডিওতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। এতে দেখা যায়, রোববার বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটি আকাশ থেকে দ্রুত নিচে নেমে সড়কের পাশে আছড়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্ফোরিত হয়।

    দুর্ঘটনাস্থলে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পিচঢালা রাস্তার টুকরোর মধ্যে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া লোকজনকে বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিমানটি বাড়িঘর থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে এবং চলন্ত গাড়ি থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

    পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট ৬০ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেন। দুর্ঘটনার তদন্তে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বিষয়ক ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডকে (এনটিএসবি) সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) একটি দল পাঠাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেছেন, বিস্ফোরণস্থলের বাইরে মাটিতে থাকা কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন এমন কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ডিস্যান্টিস বলেন, এটি ছিল ভয়াবহ মাত্রার একটি দুর্ঘটনা। দেখে মনে হচ্ছিল, একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিচে নেমে আসছে। সড়কের পাশে এটি বিশাল একটি গর্ত তৈরি করেছে।

    রোববার পুরো অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত সতর্কতা জারি ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এর গন্তব্য ছিল বাহামাস।

    কী কারণে তা বিধ্বস্ত হয়েছে কিংবা এতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিং এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্বদিকে যাচ্ছিল।

    এ সময় পাইলটরা ঝাঁকুনিপূর্ণ আবহাওয়া, বিমানের গায়ে বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানান। পাশাপাশি আরও ২ হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান তারা।

    এর কিছুক্ষণ পরই বিমানটি খাড়া অবস্থায় নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং একপর্যায়ে প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে থাকে এটি। এতে বিমানটির গতি তার নকশায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, একপর্যায়ে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং বিপদসংকেত পাঠাতে থাকেন।

    মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগে বিমানটি তীব্রভাবে ডানদিকে কাত হয়ে যায়। লাইভএটিসি ডটনেটের ধারণ করা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিং অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে পাইলট বিমানের গায়ে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে তা ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল বলেও জানান তিনি।

    নিয়ন্ত্রকদের উদ্দেশে পাইলট বলেন, বিমানের গায়ে হালকা ও স্বচ্ছ বরফ জমছে, যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। পাশাপাশি মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি হচ্ছে। কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে আরও ওপরে ওঠার অনুমতি চাওয়ার পর বিমানটি উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এ সময় পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

    বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের কাছে পাইলটের পাঠানো বার্তায় শোনা যায়, ‘আমরা প্রতি মিনিটে ৮ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি। মেইডে, মেইডে- আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নেমে যাচ্ছি।’ এরপর পাইলট জানান, ‘আমরা অতিরিক্ত গতির পরিস্থিতিতে পড়েছি। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি।’ এরপরই ভয়াবহ পরিণতির কথা স্বীকার করে পাইলট বলেন, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’

    অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস জানান, বিমানটি ছিল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তবে এতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। এদিকে দুর্ঘটনার তদন্ত চলাকালে পাম বিচ কাউন্টির কর্তৃপক্ষ কাছাকাছি একটি মোবাইল হোম আবাসন এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থলের সড়ক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার গ্রিনএকরস এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাসের এই শহরটি ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল (১১ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

  • ঋণের নামে ১২২১ কোটি টাকা লোপাট, সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঋণের নামে ১২২১ কোটি টাকা লোপাট, সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঋণ সুবিধার অপব্যবহার করে ভুয়া রপ্তানি বিল তৈরি এবং অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ছেলেসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনটি ঘটনায় মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    সোমবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত তিন মামলার মধ্যে প্রথমটিতে ২২ জন, দ্বিতীয়টিতে ২২ জন এবং তৃতীয়টিতে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা নেওয়া, ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ছেলে ও বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এ এস এফ রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও এইচ শামসুদ্দোহা।

    এ ছাড়া স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

    দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

    পরে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ভুয়া লেনদেন দেখিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৫৮২ দশমিক ৭৫ ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ দশমিক ২৫ ডলার দেশে না এনে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।

    দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ইডিএফসহ ঋণ সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, প্রকৃত পণ্য আমদানি না করেই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন উপায়ে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

    তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে এ ঘটনায় প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

    তিনটি ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

  • গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের ভ্যানে আগুন

    গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের ভ্যানে আগুন

    ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে। এসব ঘটনায় শিল্প পুলিশ, মহানগর ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সোমবারের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে গুজব উল্লেখ করে তিনি শ্রমিক ও নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। একই সময়ে শফিপুর, চন্দ্রা, গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, মালেকের বাড়ি, কোনাবাড়ী ও সালনাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন।

    একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে সড়কে ঝুট কাপড়, বাঁশ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    বিক্ষোভের একপর্যায়ে মহানগরের নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের দুটি গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। পরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে বেলা ১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

    শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সোমবার সকালেও কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎসহ গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। তারা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল শুরু করা হয়।

    পুলিশ সুপার আরও জানান, শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিল্প পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সোমবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অথচ একটি কুচক্রী মহল সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক ও নগরবাসীকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান পুলিশ কমিশনার।

    এর আগে রোববারও গাজীপুরের মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। কয়েকটি কারখানার সামনে ভাঙচুর, ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুই দিনের এসব ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, জানমাল ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। সরকার এ বিষয়ে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী জানুয়ারি থেকে বেতন বাড়তে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পকারখানা সচল থাকলে শ্রমিক, গাজীপুর ও দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সতর্ক থেকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মজুরি বাড়াতে হবে। অন্যদিকে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • দুই গাভি থেকে খামার, শাকিলের সাফল্যে

    দুই গাভি থেকে খামার, শাকিলের সাফল্যে

    সংসারে অভাব, কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হয়নি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের শাকিল তালুকদারের (২৯)। এইচএসসি পাসের পরই নামতে হয় উপার্জনের লড়াইয়ে। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন খামার। দুটি গাভি ও ছয়টি ছাগল নিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ এখন বিস্তৃত হয়েছে গবাদিপশু পালন, মাছ চাষ ও কৃষিতে। বর্তমানে তার খামারে কাজ করছেন ১২ জন শ্রমিক। শাকিলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই গ্রামের প্রায় ৪০ জন তরুণও কৃষি ও খামারভিত্তিক কাজে যুক্ত হয়েছেন।

    শাকিল ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এইচএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা, সংসারের খরচ এবং ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়। তার মেজ ভাই একটি দোকানে কাজ করেন।

    পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে শাকিল উপলব্ধি করেন, স্বাবলম্বী হতে হলে নিজেকেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে। সেই চিন্তা থেকে ২০২১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ নেন। পরে ২০২৩ সালে একই অধিদপ্তর থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যুব ঋণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন গবাদিপশু পালন।

    প্রাথমিক পর্যায়ে তার খামারে ছিল দুটি গাভি ও ছয়টি ছাগল। গাভির দুধ বিক্রি করে যে অর্থ আয় হতো, তা আবার খামারের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর উদ্যোগের পরিসর। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১২টি গাভি ও ১০টি ছাগল।

    পশুপালনের পাশাপাশি কৃষি ও মাছ চাষেও যুক্ত হয়েছেন শাকিল। প্রায় তিন একর জমিতে আখ, মরিচ, টমেটো, ধান, ওলকচু, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও লতিরাজ কচুসহ বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি চাষ করছেন। এ ছাড়া দুটি পুকুরে করছেন মাছের চাষ। সব মিলিয়ে তার উদ্যোগে বর্তমানে ১২ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

    শাকিলের সাফল্য শুধু তার নিজের পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেনি, গ্রামের অন্য তরুণদেরও নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তাকে দেখে কেউ সবজি চাষে, কেউ মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। আবার কেউ কৃষিকে কেন্দ্র করে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এভাবে তাঁর সাফল্য অনুসরণ করে গ্রামের প্রায় ৪০ জন তরুণ কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিয়েছেন।

    নাজিরপুর গ্রামের মো. কবির হোসেন, আব্দুল গফুর ও শহীদ আলী বলেন, শাকিলের কাজ দেখে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার পরিকল্পনা ও কাজের ধরন অনুসরণ করে নিজেরাও সবজি ও মাছ চাষ শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্য, শাকিলকে দেখে তারা বুঝেছেন, চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তিনি গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা, যা তাদের গর্বিত করে।

    কৃষি ও খামার পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত শাকিল। তিনি আলমপুর ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপির দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অংশ নেন। নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সমাজের মানুষের জন্য কাজ করেও আত্মতৃপ্তি পান তিনি।

    শাকিলের সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, শাকিল অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন যুবক। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগিয়ে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার আরও উন্নতি কামনা করেন এই কর্মকর্তা।

    শাকিলের পথচলা দেখাচ্ছে, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নিজেও উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে দুটি গাভি থেকে শুরু করা তার উদ্যোগ আজ নিজের পরিবারের জীবিকার অবলম্বন হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

  • সিংড়ায় বিষ দিয়ে মাছ ও জীববৈচিত্র্য নিধনের অভিযোগ

    সিংড়ায় বিষ দিয়ে মাছ ও জীববৈচিত্র্য নিধনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় লাড়কিবাড়ী বিলে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করে প্রায় চার লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই বিলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। বিলের দখল নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মরে ভেসে থাকা মাছ দেখে বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। এলাকাবাসীর ধারণা, রোবাবর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা বিলে এ বিষ প্রয়োগ করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে উপজেলার কতুয়াবাড়ি ও লাড়কিবাড়ী বিলে সামাজিকভাবে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় লোকজন। সম্প্রতি ওই বিলে কতুয়াবাড়ি ও পারসাঐল গ্রামের আসাদুজ্জামান বাবু, আব্দুল কাইয়ুম, বিপ্লবুর রহমান সবুজসহ ৫০ ব্যক্তি প্রায় ৩০ লাখ টাকার রুই জাতীয় মাছ ছাড়েন।

    পরে, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ও রানা আহমেদের সাথে বিলের দখল নিয়ে এলাকাবাসীর বিরোধ দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি আসাদুজ্জামান বাবু ও আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে সামাজিকভাবে এ বিলে মাছ চাষাবাদ হয়ে আসছে। সম্প্রতি, সমাজের বাইরে গিয়ে দুই-একজন ব্যক্তি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।’

    আরেক মৎস্যচাষি বিপ্লবুর রহমান সবুজ বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ নিধনে তাদের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা এ বিষ প্রয়োগ করেছে, তা আমাদের জানা নেই।’

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ফলে ওই বিলের দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে: ইমরান খানকে বোম্বে হাইকোর্ট

    নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে: ইমরান খানকে বোম্বে হাইকোর্ট

    ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট বলেছেন, অভিনেতা ইমরান খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, শুধু হলফনামা জমা দিলেই চলবে না। মুম্বাইয়ে গত মাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নেয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের জারি করা ভারত ছাড়ার নোটিশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার এ নির্দেশ দেন আদালত।

    একই সঙ্গে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয়ের (এফআরআরও) জারি করা নোটিশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। তবে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিনেতাকে সতর্ক করেন বিচারপতিরা।

    আদালতে ইমরান খান বলেন, বিক্ষোভের আয়োজকদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভারতে থাকার সুযোগ দেয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান। তবে আদালত জানিয়ে দেন, শুধু হলফনামা যথেষ্ট নয়; তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

    এদিন আদালত বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে একই ধরনের কাজ করলে তাকে পরবর্তী ফ্লাইটেই ভারতে ফেরত পাঠানো হতো।’ ইমরান খানকে উদ্দেশ করে আদালত আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন।

    কিন্তু এত দিন কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। এত দিন পর এখন কেন বিক্ষোভে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ অভিনেতাকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিলেও আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে বসবাস করার সময় তিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না।


    বোম্বে আদালত বলেন, ‘আপনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন, এমনকি সেখানে ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু এখানে এসে কোনো বিষয়ে বিক্ষোভ করলে তা সহ্য করা হবে না।’

    আদালত ইমরান খানকে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বস্তি দিয়েছেন। শুনানিতে অভিনেতাকে ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি আদালত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার—নীতির কথাও উল্লেখ করেন। আদালত বলেন, ‘একসময় আপনি উদারতা দেখিয়ে বলবেন, এই মানুষটির এখানে বসবাস করা উচিত।’

    ইমরান খানের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা এফআরআরও আদালতকে জানিয়েছে, অভিনেতা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই ভারতে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অধিকার তার নেই।
    এফআরআরওর পক্ষে আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে ইমরান খানের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের মতো নয়; বরং তা সীমিত ও স্বতন্ত্র।

    তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের সাধারণ মানুষের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং ইনস্টাগ্রামে তার বিপুল জনপ্রিয়তা। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানতেন। তারপরও তিনি এতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    আদালতে করা আবেদনে ইমরান খান বলেছেন, তিনি বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তার পেশাগত ও পারিবারিক জীবনও এ দেশকে ঘিরে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো দুই বছর বাদ দিলে আমি পুরো সময় ভারতে বসবাস করেছি। ভারতই আমার বাড়ি। এখানে আমার সন্তান রয়েছে। আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনও এখানে প্রতিষ্ঠিত। আমার কাজ, পরিবার ও শিকড়—সবই ভারতে।’


    গত মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেয়ার পর বিপাকে পড়েন ইমরান খান। ওই ঘটনায় মুম্বাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও ওসিআই কার্ডধারী এই অভিনেতাকে পরে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়। সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেই বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।


In English

English edition · Older English stories