BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • চারঘাটে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

    চারঘাটে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

    উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ফসলের বাইরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, কমলা, বারোমাসি আম, মিষ্টি আমড়া, তুলা, উচ্চমূল্যের সবজি ও পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। চারঘাটের ফতেহপুর গ্রামের হানিফ মণ্ডলের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তোলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারিতে মাল্টার পাশাপাশি কমলা, আঙুর, আতা, আনার ও আম চাষ হচ্ছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন তিনি। তার উদ্যোগ দেখে অন্য তরুণরাও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এদিকে চারঘাটে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষেও সাফল্য আসছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে সঠিক ফসল নির্বাচন, উৎপাদন খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া বিকল্প ফসল চাষের উপযোগী। এসব ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

  • ইতিহাসে ঐতিহ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

    ইতিহাসে ঐতিহ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

    বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মসজিদ। এমনকি রাজধানী ঢাকাকে বলা হয় ‘মসজিদের নগরী’। দেশের প্রতিটি প্রান্তে আজানের সুমধুর ধ্বনিতে একদিকে যেমন সকাল শুরু হয়, অন্যদিকে তেমনি সন্ধ্যাও নামে মুয়াজ্জিনের আহ্বানে।

    এসব মসজিদের কোনোটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী, আবার কোনোটি আধুনিক স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ করছে অসংখ্য দর্শনার্থীকে। বিশাল গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, কারুকার্যময় দেয়াল কিংবা বিস্তৃত প্রাঙ্গণ—প্রতিটি স্থাপনার সৌন্দর্যের ধরন আলাদা।

    বাংলাদেশের মসজিদ স্থাপত্যে যেমন সুলতানি আমলের ঐতিহ্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে আধুনিক নির্মাণশৈলীর বৈচিত্র্য। সেই বৈচিত্র্যের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো দেশের পাঁচটি বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এসব মসজিদের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও বিশেষত্ব।

    ১. বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা

    বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব ফটক ও মিনার
    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ফটক ও মিনার, ঢাকা। ছবি: T. Galib, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

    ঢাকার ব্যস্ত কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা বায়তুল মোকাররম শুধু বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদই নয়, স্থাপত্যের দিক থেকেও এটি বেশ স্বতন্ত্র। শহরের ব্যস্ততার মধ্যে এর বিশাল ঘনকাকার অবয়ব সহজেই চোখে পড়ে। প্রচলিত মসজিদের নকশা থেকে কিছুটা ভিন্ন এই স্থাপনাটি দেশের আধুনিক মসজিদ স্থাপত্যের অন্যতম পরিচিত নিদর্শন।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি। এর নকশা করেন স্থপতি টি. আবদুল হুসেন থারিয়ানি। নির্মাণকাজ শুরুর প্রায় তিন বছর পর, ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার, এখানে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    বায়তুল মোকাররমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক এর ঘনকাকার নকশা, যা পবিত্র কাবা শরিফের স্থাপত্যরীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। আটতলা এই মসজিদের মূল নামাজকক্ষের ছাদে প্রচলিত গম্বুজ নেই। মসজিদের এই ব্যতিক্রমী নকশা ও সংযত অলংকরণই একে দেশের অনেক পরিচিত মসজিদ থেকে আলাদা করেছে।

    বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বায়তুল মোকাররমে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশাল ধারণক্ষমতা, স্বতন্ত্র স্থাপত্য এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান—সব মিলিয়ে মসজিদটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও স্থাপত্য ঐতিহ্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

    ২. ২০১ গম্বুজ মসজিদ, টাঙ্গাইল

    কেন্দ্রীয় গম্বুজ ঘিরে ২০১ গম্বুজ মসজিদের ছোট গম্বুজের সারি
    ওপর থেকে টাঙ্গাইলের ২০১ গম্বুজ মসজিদ। ছবি: Md shahanshah bappy, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

    টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত ২০১ গম্বুজ মসজিদ। ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী, অসংখ্য গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনারের কারণে মসজিদটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে।

    ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রধান আকর্ষণ এর ২০১টি গম্বুজ। এর মধ্যে রয়েছে একটি বড় কেন্দ্রীয় গম্বুজ, যেটিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে ২০০টি ছোট গম্বুজ। গম্বুজগুলোর পাশাপাশি মসজিদের চারপাশে থাকা মিনারগুলোও এর স্থাপত্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

    মসজিদটির সবচেয়ে আলোচিত স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর ৪৫১ ফুট উচ্চতার মিনার। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম উঁচু কংক্রিটের মিনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিশাল গম্বুজের বিন্যাস ও সুউচ্চ মিনারের সমন্বয়ে মসজিদটি বাংলাদেশের আধুনিক ইসলামি স্থাপত্যের একটি ব্যতিক্রমী নিদর্শন হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালে আরব নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় মসজিদটিতে একসঙ্গে ১৫ হাজারের বেশি মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

    ৩. বাইতুল আমান জামে মসজিদ (গুঠিয়া মসজিদ), বরিশাল

    গুঠিয়া মসজিদ, মিনার ও চারপাশের বাগান
    ওপর থেকে বরিশালের গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্স। ছবি: Azim Khan Ronnie, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত বাইতুল আমান জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে গুঠিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। সাদা রঙের বিশাল মসজিদ ভবন, সুউচ্চ মিনার, পুকুর ও ফুলের বাগান—সব মিলিয়ে পুরো কমপ্লেক্সটি দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

    ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দা এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে। নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাঁর ছোট ভাই মো. আমিনুল ইসলাম নিপু।

    মসজিদটির স্থাপত্যে রয়েছে ২০টি গম্বুজ এবং প্রায় ১৯৩ ফুট উঁচু একটি মিনার। এর নকশায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে। তবে গুঠিয়া মসজিদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও চোখে পড়ার মতো। ভেতরের দেয়ালে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি, রঙিন কাচ, মার্বেল পাথর ও সিরামিকের কাজ মসজিদের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

    মসজিদের মূল প্রবেশপথের পাশে রয়েছে একটি বড় পুকুর। পুকুরের পানিতে মসজিদের প্রতিবিম্ব দেখা যায়, যা পুরো স্থাপনাটিকে অন্য রকম সৌন্দর্য দেয়। চারপাশে ফুলের বাগান, পাকা হাঁটার পথ এবং প্রবেশপথের দুটি ফোয়ারা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় মসজিদ ও এর আশপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।

    মসজিদটির পাশেই রয়েছে ২০ হাজারের বেশি মানুষের ধারণক্ষমতার একটি ঈদগাহ মাঠ। এ ছাড়া কমপ্লেক্সে রয়েছে এতিমখানা, হাফেজি মাদ্রাসা, কবরস্থান ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশাপাশি স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্স বরিশালের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

    ৪. ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট

    ষাট গম্বুজ মসজিদের লাল ইটের দেয়াল ও গম্বুজের সারি
    বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: Belayet, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

    বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পঞ্চদশ শতকে নির্মিত এই মসজিদ বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন। বিশাল ইটের ভবন, পুরু দেয়াল, খিলান ও সারিবদ্ধ পাথরের স্তম্ভ মসজিদটির স্থাপত্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৪৪২ সালে এবং ১৪৫৯ সালে তা সম্পন্ন হয় বলে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। খান জাহান আলীর উদ্যোগে নির্মিত এই স্থাপনা একসময় শুধু নামাজের স্থান হিসেবেই নয়, মাদ্রাসা ও সভাকক্ষ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এর নির্মাণশৈলীতে মধ্যযুগীয় বাংলার স্থাপত্যদক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।

    নাম ষাট গম্বুজ হলেও মসজিদটির ছাদে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ। এর মধ্যে ৭০টি অর্ধগোলাকার এবং মাঝের সারিতে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী চৌচালা ঘরের ছাদের আদলে তৈরি সাতটি গম্বুজ। চার কোণের মিনার বা বুরুজের ওপর থাকা আরও চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। অন্যদিকে, মসজিদের ভেতরে উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে ১০টি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে। এই স্তম্ভগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে মসজিদের বিশাল ছাদ ও গম্বুজের কাঠামো।

    মসজিদের লাল ইটের দেয়াল, খিলান এবং পোড়ামাটির অলংকরণ এর সৌন্দর্যকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে। বিশাল প্রার্থনাকক্ষের ভেতরে সারিবদ্ধ স্তম্ভ ও খিলানের বিন্যাস স্থাপনাটির নির্মাণকৌশলের পরিচয় বহন করে।

    বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী ১৯৮৫ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই ঐতিহাসিক নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশলের সমন্বয়ে এটি বাংলাদেশের মধ্যযুগীয় ইসলামি ঐতিহ্যের এক মূল্যবান নিদর্শন।

    ৫. পাগলা বড় জামে মসজিদ, সুনামগঞ্জ

    মোগল প্রাসাদের আদলে নির্মিত পাগলা বড় জামে মসজিদের সম্মুখভাগ
    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পাগলা বড় জামে মসজিদ। ছবি: স্বরুপ চক্রবর্তী, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে মহাসিং নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা বড় জামে মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি রায়পুর বড় জামে মসজিদ নামেও পরিচিত। মোগল প্রাসাদের আদলে নির্মিত দ্বিতল এই মসজিদটি এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী ও কারুকাজের জন্য পরিচিত।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াসিন মির্জা ভারতের কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণের সময় সেখানকার স্থাপত্যশৈলী দেখে নিজ গ্রামে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মসজিদটির প্রধান স্থপতি ছিলেন মুমিন আস্তাগার। নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসিন মির্জার ভাই ইউসুফ মির্জাও মসজিদটি নির্মাণে যুক্ত ছিলেন।

    মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর তিনটি বড় গম্বুজ ও ছয়টি সুউচ্চ মিনার। দ্বিতল ভবনটির বাইরের নকশায় যেমন মোগল প্রাসাদের স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে, তেমনি ভেতরেও রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ। মসজিদের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে সাদা ও কালো পাথর। পাথরখচিত মেহরাব, নকশা করা প্রবেশপথ এবং দেয়ালের অলংকরণ এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।

    নির্মাণশৈলীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মসজিদটির মূল কাঠামো ইটের গাঁথুনির ওপর নির্মিত; এতে প্রচলিত রডের ব্যবহার করা হয়নি। নিচতলার ছাদ নির্মাণেও ব্যবহার করা হয়েছে রেললাইনের স্লিপার। মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মহাসিং নদী। নদীর তীরঘেঁষা অবস্থান, সামনের ঈদগাহ মাঠ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরো স্থাপনাটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।

    বাংলাদেশের মসজিদ স্থাপত্যের সৌন্দর্য কেবল বিশাল গম্বুজ কিংবা সুউচ্চ মিনারে সীমাবদ্ধ নয়। কোথাও শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস ও সুলতানি আমলের নির্মাণশৈলী, কোথাও আধুনিক স্থাপত্যের বৈচিত্র্য, আবার কোথাও বিস্তৃত প্রাঙ্গণ ও নান্দনিক নকশায় ফুটে উঠেছে এই স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    আলোচিত পাঁচটি মসজিদ বাংলাদেশের সেই বৈচিত্র্যময় স্থাপত্যঐতিহ্যেরই কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এসব স্থাপনা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এসব মসজিদের স্থাপত্যসৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রাখতে প্রয়োজন যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ।

  • এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন আরেক স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধসহ চার দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম। কিন্তু আজ দুঃখজনকভাবে দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের স্পষ্ট ওয়াদা—পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, এই দুই অপশক্তিকেই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে পরাজিত করা হবে।’

    সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং চারদিকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন আজ পুরোপুরি নাজেহাল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এ ব্যর্থতার মূল দায় বর্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ওপর।’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে উল্টো গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে অনতিবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের সব প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করছে। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং গণমিছিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।

    এ সমাবেশ থেকেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম।

  • তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য দিলেন দীপ

    তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য দিলেন দীপ

    তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার সঙ্গে থাকা কথিত ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, ঘটনার দিন তারা দুজন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ সেখান থেকে পালিয়ে যান।

    তদন্ত কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দীপকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।

    এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্য ও উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের বিষয়ে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআই নৌ পুলিশকে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।

    এর আগে গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তার বাবা।

  • ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি চাষে সাফল্য

    ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি চাষে সাফল্য

    ডুমুরিয়া খুলনা‌ ‌‌ সবুজ পাতার ভেতর হলুদ,কোথাও পিংক-বেগুনি আবার কোথাও নীল রঙ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ফুটে আছে সুন্দর কোন ফুল। তবে এটা ফুল নয়, শীতকালীন সবজি ফুলকপি এবং বাঁধাকপির ক্ষেত। মনোরম এই দৃশ্য চোখে পড়বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

    রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই গ্রামে ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়- চাষ করা হলুদ, গোলাপি ও হালকা লাল রঙের বাহারি ফুলকপি এখন শোভা পাচ্ছে তার জমিতে। যা শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই ডুমুরিয়া বাজারে এনেছে বিপুল ‌ ক্রেতার সাড়া।

    কৃষি বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সকারি উদ্যোগে খুলনার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হচ্ছে। পোকা দমনেব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ। ফলনও হচ্ছে বেশ ভালো। বাজারে ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজি চাষ করে যে লোকসান হয়েছে, সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা। পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন ফুলকপি। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির সাফল্যে খুশি কৃষকরা।

    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের রঙিন বাঁধাকপি ফুলকপি চাষিরা বলছেন, সাদা কপি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এ কপি এখনও বাজারে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের খর্নিয়া গ্রামের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল‌ ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন রঙিন ফুলকপি। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১০০০/চারা প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। চারা ছাড়াও বাধা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সার, কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

    আবু হানিফ মোড়লের মতো মৃতূ্ন‌্যজয় আরও চারজন রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষীদের এনে দিয়েছে সাফল্য। সাদা ফুলকপি যেখানে বিক্রি হয় প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫টাকায়, সেখানে তার চাষ করা রঙিন বাঁধাকপি ও্ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ইতোমধ্যেই ৭ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। তিনি আশা করছেন, বাকি ফসল থেকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

    কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আবু হানিফ মোড়ল‌ ও মৃত্যুঞ্জয় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন এই রঙিন ফুলকপি। পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করেছেন হলুদ ফাঁদ, যা কপিগুলোকে করেছে স্বাস্থ্যকর এবং বিষমুক্ত।

    বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ‌আব্দুল‌ জলিল‌ বলেন, ‘এ কপির পুষ্টি এবং গুণাগুণ অনেক ভালো। রঙিন ফুলকপি বাজারে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দামও মিলছে আশানুরূপ।

    স্থানীয় ক্রেতা আকিরুল জানান, ২৫ টাকা দরে রঙিন ফুলকপি কিনেছেন তিনি। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। এর আগে দুইবার খেয়েছেন। তাই আবারও নিলেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘এই রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপির পুষ্টিগুণ সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ বছর ডুমুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে ২৫ একর জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাজারে এর উচ্চ চাহিদা থাকায় আগামী বছর আরও বেশি কৃষক এই চাষে যুক্ত হবেন।’

    ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে ব্যতিক্রমী শীতকালীন সবজি রঙিন বাঁধাকপি ,ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষকরা। কোনোটি হলুদ, কোনোটি পিংক-বেগুনি। আর এসব ফুলকপি কোনও প্রকার কীটনাশক ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই এই ফুলকপি করা হচ্ছে।

    কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন ইউনাইটেড সিড কোম্পানির বীজ পেয়ে তিনি ১০শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। শুধুমাত্র জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই চাষ করেছি এই ফুলকপি। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও ভালো।’

    কৃষক ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। চাষে পোকা দমনে ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার করে ২২ শতক জমিতে প্রায় দেড় হাজার কপি হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতিটি কপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছি। আরও আছে। লোকজন রঙিন জাতের কপি কিনতে বেশ আগ্রহী। অল্প টাকা খরচ করে আমি বেশ লাভ পেয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের কপির চাষ করব।’

    উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার বলেন, ‘বাড়ির অদূরে জমিতে সাদা, গোলাপি, সবুজ, হলুদ- চার প্রকারের ফুলকপি এবং ব্রকলি, চায়নিজ ক্যাবেজ, রেড ক্যাবেজ, সাধারণ বাঁধাকপিসহ মোট ৫হাজার চারা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারজাত করে দামও ভালো পেয়েছি। কিন্তু অন্যান্য শীতকালীন সবজি চাষে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক আফসোস। তবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে লোকসান পুষিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’

    ছামিদুল আরও বলেন, এ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছি ৬০ হাজার টাকায়। জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, রসুন, টমেটো লাগিয়েছি। এর মধ্যে ৪ হাজার রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপির চারা স্থানীয় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি। অবশিষ্ট চারাগুলো কিনতে হয়েছে প্রতি পিস ১ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এর পর জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, শ্রমিকবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।’

    খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে জেলায় রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হচ্ছে। চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে ভাল চাহিদা থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন জাতের এই ফুলকপির চাষ বাড়বে। অন্য কৃষকরাও এ জাতের রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

    ক্ষেতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব পদ্ধতিতে বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার। ফলনও বেশ ভালো। রঙিন ফুলকপি ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর মধ্যে ভিটামিন এ, সি এবং ক’সহ বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন রয়েছে। এতে রয়েছে মিনারেলস, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। সেই সাথে এ ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।’

  • ডুমুরিয়ায় অসময়ে সজিনায় ভরে গেছে।

    ডুমুরিয়ায় অসময়ে সজিনায় ভরে গেছে।

    খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজনের কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সজনে দেয়।

    বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজনে ৫০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।

    উপজেলার ডুমুরিয়া , খর্নিয়া,চুকনগর, আঠারো মাইল, টিপনা নতুন রাস্তাবাজার,সরাফপুর , বানিয়া খালি হাট থেকে এসব সজনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।

    তরুণ উদ্যোক্তা গনি গাজী জানান, তিনি সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরিই তার লক্ষ্য।

    তিনি জানান, সজনে গাছের বয়স ১০-১২ মাস হলেই তাতে সজনে ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮-১০ মণ পর্যন্ত সজনে ধরে। উৎপাদন খরচ একেবারেই কম বলে এ ফসল চাষ বেশ লাভজনক বলে তিনি জানান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউ এস আই ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।

    ডুমুরিয়া উপজেলার এস এ পিপিও আলি হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় সজনে গাছ আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।

    বাংলাদেশ অর্থনীতি

    তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার উপজেলায় কমপক্ষে দুশ মেট্রিক টন সজনে উৎপাদিত হবে, বাজার দর হিসাবে যার মূল্য সর্বনিম্ন এক কোটি টাকা।

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-6140828263407584&output=html&h=280&num_ads=1&adk=1988962500&adf=2288682361&abgtt=6&w=740&fwrn=4&fwrnh=100&lmt=1793366370&rafmt=1&armr=3&sem=mc&pwprc=4277122822&ad_type=text_image&format=740×280&url=https%3A%2F%2Fwww.bhorerkagoj.net%2Fagriculture%2F779751&fwr=0&pra=3&rh=185&rw=740&rpe=1&resp_fmts=3&aiof=14&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&fa=27&dt=1793366370575&bpp=1&bdt=2619&idt=0&shv=r20261028&mjsv=m202610270101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D8e240e6e83610426%3AT%3D1793286993%3ART%3D1793366327%3AS%3DALNI_MY-ErKwo88heAXPAlK7ID2VR9RwCg&gpic=UID%3D000015c664d1d692%3AT%3D1793286993%3ART%3D1793366327%3AS%3DALNI_Majt64ozp01G5L0TI9tZ6lYBo9mIw&eo_id_str=ID%3D4a82c7005147a6d2%3AT%3D1793286993%3ART%3D1793366327%3AS%3DAA-AfjaScduMhRDmx4xymqfcr7l-&prev_fmts=0x0%2C300x250%2C740x280%2C740x280&nras=4&correlator=4005504535301&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=6&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1032&u_aw=1920&u_cd=24&u_sd=1&adx=526&ady=3234&biw=1902&bih=871&scr_x=0&scr_y=612&eid=95404664%2C95405491%2C95405932%2C95406273%2C95407880%2C95408372%2C95405501%2C122881932&oid=2&pvsid=6520460423701286&tmod=942969073&uas=0&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.bhorerkagoj.net%2Fagriculture&fc=1408&brdim=-7%2C47%2C-7%2C47%2C1920%2C0%2C1918%2C992%2C1902%2C871&vis=1&rsz=%7C%7Cs%7C&abl=NS&fu=128&bc=31&plas=277x686_l%7C277x686_r&bz=1.01&ifi=5&uci=a!5&btvi=3&fsb=1&dtd=337

    খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমী এবং বারমাসী। খুলনায় বারমাসী জাতের সজনের আবাদ কম হলেও এখন তা বেড়েছে। সজনে গাছের জন্য কোনো চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের মাঝে সজনের চারা বিতরণ করে সজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় সজনে গাছের ডালগুলোতে সজিনায় ভরে গেছে। কৃষকরা সজিনার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। অনাদরে-অবহেলায় রাস্তার ধারে, বসত-বাড়ির আঙ্গিনায়, মাঠে-ঘাটে বেড়ে উঠা হাজার হাজার সজনে গাছের ডালগুলো সজিনায় ভরে উঠেছে। এ বছর ডুমুরিয়া সুস্বাদু সবজি হিসাবে সমাদৃত আর ঔষধি গুণের কারণে ‘সুপার ফুড’ হিসাবে খ্যাত সজনের বাম্পার ফলনে খুশি সংশ্লিষ্টরা।

    খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজনের কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সজনে দেয়।

    বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজনে ৫০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।

    উপজেলার ডুমুরিয়া , খর্নিয়া,চুকনগর, আঠারো মাইল, টিপনা নতুন রাস্তাবাজার,সরাফপুর , বানিয়া খালি হাট থেকে এসব সজনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।

    তরুণ উদ্যোক্তা গনি গাজী জানান, তিনি সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরিই তার লক্ষ্য।

    তিনি জানান, সজনে গাছের বয়স ১০-১২ মাস হলেই তাতে সজনে ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮-১০ মণ পর্যন্ত সজনে ধরে। উৎপাদন খরচ একেবারেই কম বলে এ ফসল চাষ বেশ লাভজনক বলে তিনি জানান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউ এস আই ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।

    ডুমুরিয়া উপজেলার এস এ পিপিও আলি হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় সজনে গাছ আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।

    বাংলাদেশ অর্থনীতি

    খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমী এবং বারমাসী। খুলনায় বারমাসী জাতের সজনের আবাদ কম হলেও এখন তা বেড়েছে। সজনে গাছের জন্য কোনো চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের মাঝে সজনের চারা বিতরণ করে সজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

  • কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৩৫১

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৩৫১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অংশ নেয়। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা ও কুমিল্লা মহানগরীর যেসব স্থানে কিশোরদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

    তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট পাঁচ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিন হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া দুই হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ,আর

  • চৌগাছায় জামায়াতের মিছিল সমাবেশ

    চৌগাছায় জামায়াতের মিছিল সমাবেশ

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    ৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চের সমর্থনে যশোরের চৌগাছায় পথসভা ও মিছিল করেছে উপজেলা জামায়াত।

    শুক্রবার বিকেলে উপজেলা শাখার উদ্যোগে শহরে একটি মিছিল করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ।

    বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, সেক্রেটারী ডা. জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

  • ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য ও সামরিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এমন সংঘাত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত ফল না এনে উল্টো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে পারে।

    ইরানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে দেশটির অভ্যন্তরে পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মাহদি নিকসেফাত মোতলাঘ ও কিয়াভাশ কালহোরের বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন, যখন একটি যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে সেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকে অপরিহার্য মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়াকে আরো বড় সামরিক অভিযানের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ে, কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জনের পথ তত কঠিন হয়ে ওঠে।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন সংঘাতে জড়িয়েছে, সেটিই এখন মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাবের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের এমন একটি ধারণার কথা উঠে এসেছে যে, অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে দেশটির সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে ইরানে আবার হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং নতুন করে চাপ প্রয়োগ করলে এবার চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে—এমন প্রত্যাশা আবারও সামনে এসেছে।

    লেখকদের মতে, এই ধারণার মধ্যে পুরোনো একটি ভুল হিসাব রয়েছে। সেটি হলো, কোনো প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে ফেলতে পারলেই তার আচরণ নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেও কোনো দেশ প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

    নিয়ন্ত্রণযোগ্য শত্রুর ধারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুল

    বিশ্লেষণে ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য শত্রু’ ধারণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কোনো প্রভাবশালী শক্তির জন্য একটি পরিচিত প্রতিপক্ষ অনেক সময় সামরিক জোট সংগঠিত করা, বিদেশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তার নামে মিত্রদের পাশে রাখার যুক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে শত্রুর হুমকি, তার সঙ্গে সংঘাতের ব্যয় এবং সংঘাতের সমাপ্তি—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রত্যাশা থাকে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতিতেও ইরানকে এমন একটি প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দেশটির সঙ্গে সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার একই সঙ্গে দেশটিকে এতটাই দুর্বল মনে করা হয় যে, তারা সংঘাতের নিয়ম বা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না।

    এ প্রসঙ্গে জার্মান আইনবিদ ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক কার্ল স্মিটের সুরক্ষা ও আনুগত্যবিষয়ক তত্ত্বের উল্লেখযোগ্য। কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র যখন অন্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নেয়, তখন সেই নিরাপত্তার হুমকি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক আনুগত্য তৈরিতেও তার ভূমিকা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কিন্তু কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যদি মিত্রদের নিরাপত্তাই আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে সেই নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    সামরিকভাবে কোনো দেশকে ধ্বংস করার সক্ষমতা থাকা আর সংঘাতের পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ন থাকলেও সংকট নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

    ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেয়নি ওয়াশিংটন?

    ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল বলে মনে করেন লেখকেরা। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাত করতে সক্ষম হলেও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়নি। ইরানের ক্ষেত্রেও সামরিক হামলার মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করা এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটানোর মধ্যে বড় ধরনের বাধা রয়েছে।

    ইরানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয়ের বিভিন্ন ভিত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা দেশটিকে টিকে থাকার সক্ষমতা দিয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা সামরিক কমান্ডারকে সরিয়ে দিলেই পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যাবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কোনো সরকার দুর্বল হয়ে পড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

    ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এই বাস্তবতাকে ভিন্ন মাত্রায় সামনে এনেছে। এসব হামলায় ইরানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যে রাজনৈতিক ফল চেয়েছিল, অর্থাৎ ইরানকে তাদের নির্ধারিত ভবিষ্যৎ মেনে নিতে বাধ্য করা, তা এখনো অর্জিত হয়নি।

    ট্রাম্প প্রথমদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে একদিকে চাপ বাড়ানোর চিন্তা চলছে, অন্যদিকে সম্মানজনকভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোঁজা হচ্ছে।

    দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই হিসাবও বদলে যায়। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করার সঙ্গে যুক্ত করেন, তাহলে ইরানের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্বীকার করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো তার কাছে পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মিত্রদের আস্থার সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।

    তৃতীয় দফা হামলার ঝুঁকি কেন বাড়ছে

    যুদ্ধের সমাপ্তি মানেই যে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান ঘটবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং বিপদ তৈরি হচ্ছে যুদ্ধের সমাপ্তিকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে। ওয়াশিংটন যদি মনে করে, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়, তাহলে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথগুলো নিজেরাই সংকুচিত করবে।

    এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় দফায় বড় ধরনের হামলাকে আগের দুই দফা অভিযানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।

    প্রতিবারই এমন হামলার পক্ষে একই ধরনের যুক্তি দেওয়া হয়—এবারের চাপই হবে চূড়ান্ত। কিন্তু প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না এলে আগের হামলাগুলোকে সঠিক প্রমাণ করতে আরও চাপ প্রয়োগের দাবি ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে। কারণ কোনো নেতা যদি সংঘাত থেকে সরে আসাকে পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে সেই পরাজয় এড়াতে তিনি উল্টো যুদ্ধে আরো বেশি জড়িয়ে পড়তে পারেন।

    অন্যদিকে ইরানও সংঘাতের শুরুতে যেমন অবস্থায় ছিল, এখন আর তেমন নেই। হামলার অভিজ্ঞতা দেশটির হুমকি মোকাবিলার কৌশল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। সামরিক কমান্ডারদের পরিবর্তে নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রতিপক্ষের ওপর বিভিন্ন উপায়ে ক্ষতির চাপ তৈরি করার সক্ষমতা ইরানকে অভিযোজনের সুযোগ দিয়েছে।

    তবে যুদ্ধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান সব ধরনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত। সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো টিকে থাকলেও দেশটির জনগণ অর্থনৈতিক চাপ, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং সম্পদের সংকটে ভুগতে পারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের যেকোনো হামলা ব্যর্থ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে বাড়ছে যুক্তি

    ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যুদ্ধ সহ্য করার সক্ষমতা থাকলেও তা ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা শুরু হওয়া ঠেকাতে পারছে না। ইরান হয়তো প্রতিপক্ষকে সহজে বিজয়ী হতে দেবে না, কিন্তু বারবার হামলা, পুনর্গঠন এবং নতুন করে সামরিক হুমকির চক্রের মধ্যে আটকে থাকার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    যদি যুদ্ধবিরতির পরও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা থেকে যায়, তাহলে ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। রাষ্ট্র ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করলেও প্রতিপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

    এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারকেরা যদি মনে করেন, প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দিয়ে যুদ্ধের ব্যয় বাড়ানো গেলেও নতুন হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি আরো শক্তিশালী হতে পারে।

    এ ধরনের বিতর্কের লক্ষণ ইতিমধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে দেখা যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকজন কট্টরপন্থি রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও বিশ্লেষক পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা থেকে সরে আসা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি তুলছেন।

    তবে ইরান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরং দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশে পারমাণবিক নীতির পরিবর্তনের পক্ষে আলোচনা বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

    তৃতীয় দফার সামরিক হামলাও যদি ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী যুক্তি পাবে। তাদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে বোমা হামলা বন্ধ হওয়া ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই নতুন করে হামলা ঠেকানোর উপায় হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রস্তাব সামনে আসতে পারে।

    তবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের রাজনৈতিক আগ্রহ, এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি—এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে ইরান চাইলেই সহজে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে, এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং এ পথে এগোনোর চেষ্টা নতুন করে সামরিক হামলার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

    ইসরাইলের হিসাব ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ

    এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সরকার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আবার বাড়তে শুরু করলে নতুন করে হামলার দাবি উঠতে পারে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ইসরাইলের নিরাপত্তার হিসাব বিবেচনা করলেই চলবে না। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের নিরাপত্তা, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোর সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। ইরানের প্রতিটি পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে নতুন মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ হিসেবে দেখলে সংঘাতের চক্র আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    সংঘাত এড়াতে প্রয়োজন স্থায়ী সমঝোতা

    নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে হলে উভয় পক্ষের হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আনা জরুরি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যাচাইযোগ্য সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি দেশটির ওপর নতুন করে হামলার ঝুঁকি কমানোর বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বাস্তব সুযোগও তৈরি করতে হবে।

    শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির আশ্বাস দিয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চিন্তা থেকে সরিয়ে রাখা কঠিন হবে। বরং দেশটির জন্য একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করা গেলে পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি দুর্বল হতে পারে।

    নিজেদের বৈশ্বিক ক্ষমতা ও আধিপত্য ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বজুড়ে নিজেদের অবস্থান হারানোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। ইরানের আত্মসমর্পণকেই যদি মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের ক্ষমতাকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়বহুল সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলবে।

    তৃতীয় দফায় যুদ্ধ শুরু হলে ওয়াশিংটন হয়তো আবারও প্রমাণ করতে চাইবে যে, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু তেহরান যদি বারবার হামলার অভিজ্ঞতা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে ভবিষ্যতে নিজেদের ওপর হামলার ব্যয় স্থায়ীভাবে বাড়াতে হবে, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের তাগিদ আরও জোরালো হতে পারে।

    অর্থাৎ, নিজেদের বৈশ্বিক আধিপত্য রক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক ঝুঁকি নিতে পারে, তা শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারে। যে পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোর যুক্তিতে এত সামরিক অভিযান, সেই অভিযানই উল্টো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

  • রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

    রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

    পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

    এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

    এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিকভাবে তাপশক্তি উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এই তাপশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে একাধিক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ ‘স্টেজ বি-১’ পর্যায়ের কার্যক্রমও প্রায় সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

    এরপর শুরু হবে ‘স্টেজ বি-২’ পর্যায়ের কার্যক্রম। এ ধাপে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তী সময়ে শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় চুল্লির ভেতরে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পর জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।

    এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

  • পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

    পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

    পাবনার মালঞ্চিতে একটি বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার ব্রিজের কাছে সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

    মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ওই ঘরে বজ্রপাত হলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কিশোর ও তরুণ। ’

    তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’ এ ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

  • ইয়েমেনে হতাহত ৯ হাজারের বেশি, বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৭৬ হাজার

    ইয়েমেনে হতাহত ৯ হাজারের বেশি, বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৭৬ হাজার

    ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ। সংঘাতের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    বিশেষ করে তাইজ প্রদেশে ওষুধ, জ্বালানি ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় ১ হাজার ৬৭৭ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭২ জনে। মাত্র ছয় দিনেই নতুন করে ৫৫৯ জন হতাহত হয়েছেন।

    পর্যালোচনাধীন সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন হতাহত হয়েছেন। আগের প্রতিবেদনে দৈনিক হতাহতের গড় সংখ্যা ছিল ১৬৮। অর্থাৎ হতাহতের দৈনিক গড় সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এলেও দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে এখনো প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনভুক্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মারিবে। সেখানে মোট ১৪৩ জন হতাহতের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৪৫ জন। এরপর রয়েছে তাইজ প্রদেশ। সেখানে ২৩৭ জন হতাহতের মধ্যে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লাহজ প্রদেশে ১৫৮ জন হতাহতের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

    এদিকে গত ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩০১ জনে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় ৪৬ শতাংশ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজ প্রদেশে।

    এডেন থেকে তাইজ ও দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতের পথে বিধিনিষেধ থাকায় ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। ওষুধ, জ্বালানি ও পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

    স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মারিব প্রদেশের ৩১টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ছয়টি এখনো চালু রয়েছে। ফলে সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    ইয়েমেনে চলমান এই পরিস্থিতির সূত্রপাত গত জুনের শেষ দিকে। ওই সময় দেশটির সরকারি বাহিনী ও হুথি আন্দোলনের যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

    ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরো বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসাসামগ্রী, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

  • ইরানের সাত শর্ত না মানলে আলোচনা না: গালিবাফ

    ইরানের সাত শর্ত না মানলে আলোচনা না: গালিবাফ

    ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মেনে না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের এ অবস্থান তুলে ধরেন গালিবাফ।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে। মধ্যস্থতাকারীদের কাছে একাধিকবার এসব শর্তের বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরো বলেন, চাপ সৃষ্টি কিংবা নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তেহরানকে তার অবস্থান থেকে সরানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নিলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।

  • সার সিন্ডিকেটের হাতে কৃষক জিম্মি

    সার সিন্ডিকেটের হাতে কৃষক জিম্মি

    পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছেন। অনেক ডিলার সারের মূল্যতালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নেন। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কতিপয় অসাধু ডিলার সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সামনের রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা এসব অভিযোগ করেন।

    অভিযোগে বলা হয়, সার মজুত করে কতিপয় ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ কৃষক সার পাচ্ছেন না। এ কারণে অনেকে জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বক্তারা এর প্রতিকার দাবি করেন।

    সারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা, ছাত্রদলের উপজেলা আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীম প্রমুখ।

    অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং গোডাউনে সার মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। তবে বেশি দাম দিলেই সার মিলছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চাটমোহর রেলবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী এবং মির্জাপুরের একজন ডিলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিক্রেতা একাধিক গুদামে শত শত বস্তা ডিএপি, পটাশ, এমওপি ও ইউরিয়া সার মজুত করে এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

    সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা। চাটমোহর উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১২ জন, বিএডিসির ডিলার ১৭ জন এবং খুচরা সার বিক্রেতা ৬৯ জন। অভিযোগ রয়েছে, এঁদের অধিকাংশই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে কৃষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। চলতি অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।

    তাঁরা কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সার পাচ্ছেন না।

    এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির বিষয়টি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

  • কালীগঞ্জে ৪০ বস্তা ভেজাল সার জব্দ

    কালীগঞ্জে ৪০ বস্তা ভেজাল সার জব্দ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলার বাইরে নিয়ে বিক্রির চেষ্টাকালে ৪০ বস্তা টিএসপি সারসহ একটি পিকআপ ভ্যান এবং দুই ব্যক্তিকে গভীর রাতে আটক করেছে থানা পুলিশ। পরে শুক্রবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জব্দকৃত সার ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় তা ধ্বংস করা হয়।জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরচাঁদা বাজার থেকে ৪০ বস্তা টিএসপি সার পিকআপ ভ্যানে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে জব্দকৃত সার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলীর উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।

  • হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ৪ তেলবাহী জাহাজে আগুন

    হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ৪ তেলবাহী জাহাজে আগুন

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের প্রধান চলাচলপথগুলো মাইনমুক্ত করেছে।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়।

    বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী আরো একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার খবর জানায়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে একটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের সময় জাহাজটি মাইনে আঘাত পায়।

    আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নৌচলাচল-সংক্রান্ত সব যন্ত্র বন্ধ করে দিয়েছিল এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল।

    তবে এসব ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে এবং জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানায়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে।

    এর আগে একই এলাকায় আরো দু’টি ঘটনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি ছোট পালতোলা নৌযান সামুদ্রিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পর আগুন ধরে ডুবে যায়।

    অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান একাধিক জাহাজ সমুদ্রের মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারো দাবি করে, জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

    তবে বৃহস্পতিবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এ দাবি চ্যালেঞ্জ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, ‘শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ দিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণের দাবি প্রমাণ করুন।’

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

    এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।

    রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত তাদের সহায়তায় উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রফতানি করেছে।

    ইরান ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অনুমোদনহীন বলে বিবেচনা করে।

    বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টকমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তাদের কান দেয়া উচিত নয়।’

    এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটকের দাবিও করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ ড্রোনটি আটক করেছে।’

    তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মহেশপুরে সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

    মহেশপুরে সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকের সারের কার্ড ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল বেলা মহেশপুর উপজেলার জিতারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জেতারপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে নূর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের হাদান মন্ডলের ছেলে মইদুল ইসলামের সঙ্গে কৃষকের সারের কার্ড নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে থানাপুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সারের কার্ড নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ,আর

  • জুম্মার দিনে যে সব আমল করবেন

    জুম্মার দিনে যে সব আমল করবেন

    জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে এ দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশনা এসেছে।

    তাই জুমার দিনে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে দরুদ পাঠের অভ্যাস করতে পারেন। পাশাপাশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারেও সময় দেওয়া যেতে পারে।

    জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক সমাবেশের দিন নয়; এটি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াতুন নাফস) ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও সুযোগ। তাই নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করুন।

    মুসলমানদের কাছে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি আমল হলো—জুমার নামাজ, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ ও দোয়া করা।

    ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব তুলে ধরে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেখান থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৪)

    জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এ নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন, পরিষ্কার পোশাক পরা, সময়মতো মসজিদে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা সুন্নতসম্মত আমলের অন্তর্ভুক্ত।

    ইসলামিবই খুঁজুন

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ

    অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।” (সুরা জুমুআ, আয়াত ৯)জুমার দিনে যে ৪ আমল করবেন

    ১. গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়

    জুমার দিনের প্রধান ইবাদত হলো জুমার নামাজ। তাই এ নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে এবং মনোযোগসহ খুতবা শুনে নামাজ আদায় করা এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে জুমার দিন গোসল করে, আগেভাগে মসজিদে গিয়ে, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৫)

    জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় এসেছে, এ সুরা পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত নূর লাভের কথা বলা হয়েছে। (সুনানে বায়হাকি)

    ইসলামিবই খুঁজুন

    তাই জুমার দিনে সময় বের করে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করতে পারেন। আরবি পড়তে অসুবিধা হলে শুদ্ধভাবে পড়া শেখার পাশাপাশি এর বাংলা অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।

    ৩. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খুঁজুন

    জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন—এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

    একটি বর্ণনায় জুমার দিন আসরের পর দিনের শেষ সময়ে সেই মুহূর্ত খোঁজার কথা বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮)

    তাই আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করতে পারেন। নিজের, পরিবার ও সবার কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত চাইতে পারেন।৪. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন

    জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে এ দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশনা এসেছে।

    তাই জুমার দিনে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে দরুদ পাঠের অভ্যাস করতে পারেন। পাশাপাশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারেও সময় দেওয়া যেতে পারে।

    জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক সমাবেশের দিন নয়; এটি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াতুন নাফস) ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও সুযোগ। তাই নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করুন।

  • কুলাউড়ায় সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর  করুণ মৃত্যু

    কুলাউড়ায় সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর করুণ মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিষাক্ত সাপের দংশনে সুনিয়া আক্তার (১৬) নামে এক মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সুনিয়া আক্তার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের কুদ্দুছ মিয়া ড্রাইভারের দ্বিতীয় মেয়ে। সে চৌধুরী বাজার জিএস কুতুবশাহ আলিম মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুনিয়ার দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। আগামী রোববার তার শেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে সামনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সুনিয়াকে বিষাক্ত সাপে দংশন করে। পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো: আনু মিয়া সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • ঘাটাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    ঘাটাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেউলাবাড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মধুপুর থেকে আনারস ভর্তি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে ঘাটাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের সাথে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ তিন যাত্রী আহত হন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে মধুপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘাটাইল ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনাস্থলে একজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। বাকি আহত তিনজনকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠান।’

    ঘাটাইল থানার ওসি মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের লাশ থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ,আর

  • কুধারণা পোষণ করা হারাম

    কুধারণা পোষণ করা হারাম

    মানুষের নেক আমল ধ্বংস হওয়ার জন্য কুধারণাই যথেষ্ট। ইসলামে অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ করা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বিস্তারিতভাবে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, বেশি ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। কারণ কোনো কোনো ধারণা ও অনুমান গুনাহ। অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না। আর তোমাদের কেউ যেন কারও গিবত না করে। এমন কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছে, যে তার নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? দেখো, তা খেতে তোমাদের ঘৃণা হয়। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ অধিক পরিমাণে তাওবা কবুলকারী এবং দয়ালু’ (সুরা হুজরাত-১২)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়-তিনটি কাজ হারাম। এক. মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখা। দুই. কারও দোষত্রুটি তালাশ করা। তিন. কারও সম্পর্কে গিবত বা সমালোচনা করা। উল্লিখিত আয়াতে এ তিনটি বিষয়ই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো প্রত্যেকটা কবিরা গুনাহ অর্থাৎ সবচেয়ে বড় গুনাহ। কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘এদের মধ্যে দ্বিতীয় একটি দল হচ্ছে নিরক্ষরদের। তাদের কিতাবের জ্ঞান নেই, নিজেদের ভিত্তিহীন আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো নিয়ে বসে আছে এবং নিছক অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করে চলছে। কাজেই তাদের জন্য ধ্বংস অবধারিত, যারা স্বহস্তে শরিয়তের লিখন লেখে, তারপর লোকেদের বলে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এভাবে তারা এর বিনিময়ে সামান্য স্বার্থ লাভ করে। তাদের হাতের এই লিখন তাদের ধ্বংসের কারণ এবং তাদের এই উপার্জনও তাদের ধ্বংসের উপকরণ’ (সুরা আল বাকারা ৭৮-৭৯)। এ আয়াতে অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করাকে ধ্বংসের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদিসে কুধারণা থেকে বেঁচে থাকার প্রতি নির্দেশ এসেছে। কারণ মানুষের প্রতি কুধারণা বহু অপরাধের জন্ম দেয়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাবধান! তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে।

  • জেলি-সয়াবিন মিশিয়ে নকল দুধ তৈরী, অর্থ জরিমানা- ২ জনের কারাদণ্ড

    জেলি-সয়াবিন মিশিয়ে নকল দুধ তৈরী, অর্থ জরিমানা- ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের দায়ে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভেজাল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণসহ ৩২০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কৈডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ জব্দ করা হয় এবং দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    জেলা এনএসআই, পাবনার গোপন তথ্য ও সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৫২ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশার ও মো: সবুজ। তাদের মধ্যে আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে মো: সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযানকালে ভেজাল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত দুই হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন ও ৩২০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়।

    অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল, ভাঙ্গুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা। এ,আর

  • জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের আলোচনা

    জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের আলোচনা

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ু অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরারজ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার লন্ডনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং জলবায়ু বিষয়ক যুক্তরাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি র‌্যাচেল কাইটের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    কার্বন বাজার এবং সবুজ ও নীল অর্থনীতিতে (গ্রিন অ্যান্ড ব্লু ইকোনমি) বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার উপায়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

    শামা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জলবায়ুবিষয়ক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

    উভয় পক্ষ নারী ও শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেছে এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখেছে।

    এছাড়া, বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেয়ার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে আসন্ন ‘কপ৩১’-এর অগ্রাধিকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন এবং অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়।

    যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ, সরকার গঠন করছে কারা?

    ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ, সরকার গঠন করছে কারা?

    ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হলেও কে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনবিশিষ্ট ইসরাইলি পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, কিন্তু প্রধান কোনো দলই এককভাবে সেই সংখ্যাটি স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা।

    বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয়ের জন্যই সরকার গঠনের পথ বেশ কঠিন। কোনো শিবিরের দখলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ১৯টি আসন পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখানো আরব দলগুলো নতুন সরকার তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে।

    যেকোনো সম্ভাব্য জোট গঠনের স্বার্থেই রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন কিছু কঠিন আপস করতে হবে, যা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলগুলো যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতেই দেশকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। আর সেই সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই ক্ষমতায় বহাল থাকবে।

    আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট

    হিসাবের খাতায় আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে সাথে নেন, তবে তার পক্ষে ৬৭ আসনের একটি শক্তিশালী জোট গঠন করা সবচেয়ে সহজ হয়। তারা সরাসরি সরকারে যোগ না দিলেও বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু আইজেনকোট ও তার ইহুদি মিত্রদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।

    দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক, যাদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ইসরাইলের ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না। এর আগে কেবল ২০২১ সালেই একটি আরব দল জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল এবং সেই সরকার মাত্র ১৮ মাস টিকে ছিল। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই এই ধরনের জোটকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে বিরোধীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।

    জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন

    বিকল্প পথ হিসেবে নেতানিয়াহু চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকোট ও তার ডানপন্থী সহযোগীদের নিজেদের পক্ষে টেনে আনতে। এমনটি সম্ভব হলে নেতানিয়াহু ৬৭টি আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন এবং আরব দলগুলোর পাশাপাশি অতি-অর্থোডক্স ও উগ্র-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিরোধী দলে চলে যাবে। এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে।

    তবে এই পথটিতে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা এবং চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে আইজেনকোট ও তার সহযোগীরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে না বসার শপথ নিয়েছিলেন। তাছাড়া নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার কখনোই সেই ঘটনাগুলোর কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত অনুমোদন করবে না, যা বিরোধী জোটের ভোটারদের প্রধান দাবি। একই সঙ্গে এই জোটের জন্য নেতানিয়াহুকে তার দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্রদেরও ত্যাগ করতে হবে।

    বিরোধী জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা

    নেতানিয়াহু বর্তমানে বিরোধী শিবিরের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তাদের ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন। তিনি তার সাবেক ডানপন্থী মিত্র নাফতালী বেনেট কিংবা অবিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের নিজের দলে ফেরানোর চেষ্টা করতে পারেন।

    তারা অধিকৃত অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ নীতি সমর্থন করায় আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধা তাদের জন্য কঠিন, কিন্তু একই সাথে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিনের চরম ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে অতি-অর্থোডক্সদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বেনেট ও লিবারম্যান চরম বিরোধী। অপরদিকে আইজেনকোটের জন্য নেতানিয়াহুর শিবির থেকে কাউকে ভাঙিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব, কারণ নেতানিয়াহুর দলের সদস্যরা তাঁর প্রতি অত্যন্ত অনুগত।

    পুনরায় নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা

    যদি কোনো দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ইসরাইল আবারও একটি নির্বাচনের দিকে হেঁটে যাবে, যা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

    এই পরিস্থিতি বিরোধী শিবিরের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে যে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক এসেছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে এই সময়টুকুকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু তার জোটকে আরও শক্ত করার সুযোগ পাবেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর একইভাবে চরম অচলাবস্থার কারণে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে পাঁচ বার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসরাইলে।

  • পাকা ধান মাঠে পড়ে, ধেয়ে আসছে ‘অর্ণব’!

    পাকা ধান মাঠে পড়ে, ধেয়ে আসছে ‘অর্ণব’!

    পুজোর আগে একটানা বৃষ্টিতে কার্যত নাজেহাল হয়ে ওঠে বঙ্গবাসী। প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় রীতিমতো বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। জমিতে জল দাঁড়িয়ে বিঘার পর বিঘায় নষ্ট হয়েছে ফসল। যদিও মাঝের কয়েকদিনের কাঠফাটা রোদ্দুরে কিছুটা হলেও শুকিয়েছে মাঠ। কিন্তু নতুন করে অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাসে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হুগলির কৃষকদের। সামনেই মাঠের ধান তোলা হবে। রয়েছে আলুর সিজল। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সকালেই পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণবে’। আবহাওয়াবিদদের কথায়, আগামী দু’দিনে তা আরও শক্তিবৃদ্ধি করে বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে আছড়ে পড়তে চলেছে অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে। তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। তবে সাইক্লোন ‘অর্ণবে’র প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র গতিবিধির উপর। সেদিকে নজর রেখেছেন আবহবিদরা।

    তবে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলি জেলার সিঙ্গুর, ধনেখালি, আরামবাগ-সহ বিভিন্ন চাষ প্রধান এলাকার কৃষকদের মধ্যে। আমন ও আউশ ধানের ক্ষতির পাশাপাশি আলু চাষের প্রস্তুতিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এমনিতেই সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কখনও জলসংকট, কখনও অতিবৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে। আর এবার ‘অর্ণব’। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। বর্তমানে সিঙ্গুর, হরিপাল, ধনেখালি, আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে রয়েছে আমন ও আউশ ধান। অনেক জমিতে এখনও আমন ধানের শিষ বের হয়নি, আবার কোথাও শিষ বের হওয়া ও ফুল আসার প্রক্রিয়া চলছে। এই অবস্থায় ভারী বৃষ্টি হলে ও ঝড়ো হাওয়া বইলে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। তাতে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে বলে তাঁদের উদ্বেগ। এমনকী ধান বাঁচানো নিয়েও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।

    স্থানীয় এক কৃষকের কথায়, নতুন করে বৃষ্টি হলে মাঠে থাকা সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে। বাড়তে পারে শোষক পোকার আক্রমণও। এই পরিস্থিতিতে ধান কেটে ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা কৃষকদের। তিনি আরও জানান, জমি তৈরি করে জ্যোতি আলু-সহ বিভিন্ন প্রজাতির আলুর লাগানোর প্রস্তুতি চলছিল।কিন্তু টানা বৃষ্টি হলে জমিতে জল জমে মাটি কাদায় পরিণত হতে পারে। তাতে আলু রোপণের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চাষের কাজও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের। এহেন পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকেই এখন নজর কৃষকদের।

  • দামুড়হুদায় বিষধর রাসেল ভাইপার উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর

    দামুড়হুদায় বিষধর রাসেল ভাইপার উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঠ থেকে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর রাসে ভাইপার সাপ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় এক কৃষক।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাপটিকে খুলনা বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে। এ লক্ষ্যে খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল দামুড়হুদার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মুন্সিপুর গ্রামের শিমুলতলা মাঠে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। পরে একইদিন রাত ৯টার দিকে সাপটি দামুড়হুদা উপজেলা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শিমুলতলা মাঠে একটি গাড়ল ভেড়াকে দংশন করার চেষ্টা করছিল সাপটি। এ সময় বিষয়টি মুন্সিপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে কৃষক হাসানের নজরে আসে। পরে তিনি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সাপটিকে আহত করে আটক করেন। এরপর সেটিকে একটি খাচায় বন্দি করে রাখা হয়।

    সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটি দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ সময় সাপটির আকৃতি ও বিষধর স্বভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড শাহাজামাল ওরফে রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।

    দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) সুরেশ মিস্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কাজে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এ কারণে সাপটি আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই।

    অন্যদিকে, জীবননগর ডেপুটি রেঞ্জার শরিফুল ইসলাম কাজল সাপটি রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিষধর সাপ। সাপটিকে নিরাপদে অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। দলটি সাপটিকে নিয়ে গিয়ে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে।

    সীমান্তবর্তী মাঠে বিষধর রাসেল ভাইপার আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এ,আর

  • আপাতত চালু হচ্ছে না ‘ডিভি লটারি’

    আপাতত চালু হচ্ছে না ‘ডিভি লটারি’

    যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার গ্রিন কার্ডের লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কার্যক্রম এখনই চালু হচ্ছে না। ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারির আবেদন নেওয়া শুরু করার যে আদেশ নিম্ন আদালত দিয়েছিলেন, মার্কিন আপিল আদালত তাতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের স্থগিত করে রাখা ডিভি লটারির চাকা আপাতত থমকেই রইল।

    ঘটনাটি শুরু হয় ‘রেড ইগল ল’ নামের একটি অভিবাসন আইন সংস্থার মামলাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর নতুন বছরের ডিভি লটারি চালু না করায় সংস্থাটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর নিম্ন আদালত আদেশ দেন যে, রোববারের (১ নভেম্বর) মধ্যেই আবেদন নেওয়া শুরু করতে হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার সেই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে জরুরি আবেদন করে। বৃহস্পতিবার তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে নিম্ন আদালতের সেই আদেশটি আটকে দেন।

    আপিল আদালত অবশ্য পরিষ্কার বলেছেন, পররাষ্ট্র দফতর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ডিভি লটারি বন্ধ রেখেছে, যা একদমই অনুচিত। তবে মামলাকারী আইন ফার্মটির এই বিষয়ে সরাসরি আইনি অধিকার (লিগ্যাল স্ট্যান্ডিং) রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারকেরা। তাদের মতে, এই আইনটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি, কোনো ল ফার্মের ব্যবসার জন্য নয়।

    ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ডিভি লটারির মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের কম অভিবাসনের দেশগুলো থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষকে লটারির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়া হতো। হুট করে এই আবেদন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার আমেরিকার স্বপ্নপ্রত্যাশী মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় পড়েছেন।

    অন্যদিকে, হেরে গেলেও মাঠ ছাড়ছে না আইন সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পড়াশোনা বা কাজের ভিসায় থাকা কোনো বিদেশি নাগরিককে সামনে রেখে খুব শিগগিরই তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নামবে। আপাতত আপিল আদালতে মূল মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকছে গ্রিন কার্ডের এই স্বপ্নদুয়ার।

  • নভেম্বর থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

    নভেম্বর থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

    ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

    টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’

    টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করে আরও কয়েকটি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।

    আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে টিসিবি।

    ইতোমধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

    ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরো বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।’

    তিনি জানান, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর।

    বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

    টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র চার মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা।

    নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।

    তিনি বলেন, ‘সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।’

    নতুন পণ্যগুলো বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে কি না, জানতে চাইলে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।’

    তিনি বলেন, একসঙ্গে সব পরিবর্তন না এনে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে টিসিবি। এর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ নিত্যপণ্য কিনতে পারেন।

    এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

    পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

    পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।

    টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই ভর্তুকির বোঝা কমাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে আয়ও বাড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’

    নতুন মসলা, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা বাড়লে টিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্যগুলোও বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। এ কারণেই চার থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    টিসিবি থেকে নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে কিনতে পারলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

    বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পেঁয়াজ কেনে টিসিবি

    পণ্য সংগ্রহ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনগত প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও কেনা হচ্ছে।

    তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে না টিসিবি। বাজারে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে এসব পণ্য কেনা হয়।

    তিনি বলেন, ‘২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।’

    তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজন দেখা দিলেই পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সারা বছর এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা নেই টিসিবির।

    এ ধরনের নীতি অনুসরণের ফলে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে।

  • ধুনটে  স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

    ধুনটে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রূপালী খাতুনকে (৩৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন স্বামী নূরুল ইসলাম (৩৮)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।

    আটক নূরুল ইসলাম উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের ইশার আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী নূরুল ইসলামের সাথে স্ত্রী রূপালী খাতুনের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নূরুল ইসলাম স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

    ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার বিষয়টি আসামির বক্তব্যে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • অস্ত্র সরবরাহের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরে শ্রমিকদের ধর্মঘট

    অস্ত্র সরবরাহের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরে শ্রমিকদের ধর্মঘট

    অস্ত্র সরবরাহের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বন্দর শ্রমিকরা। ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে এই ধর্মঘট পালন করা হবে। যুদ্ধ ও অস্ত্র রপ্তানির জন্য বন্দর ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করছেন তারা। এতে ভূমধ্যসাগরীয় কার্গো চলাচল ৪০ শতাংশ ব্যাহত হতে পারে। আটকে যেতে পারে ২ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৪ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা) পণ্য। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেনের বাস্ক অঞ্চল, তুরস্ক এবং মরক্কোর বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নগুলো প্রথমে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। এখন ২৫টির বেশি ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। ইউরোপ ও এর বাইরের প্রধান শিপিং হাবগুলোতে প্রতিবাদের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে হামবুর্গ, ভ্যালেন্সিয়া, লা হাভরে, পিরাস, জেনোয়া এবং ভারতের নাভা শেভা বন্দর উল্লেখযোগ্য।

    জেনোয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সীমিত প্রভাবের আশা করছে। পিরাস বন্দর কর্তৃপক্ষ গ্রিক দ্বীপপুঞ্জের ফেরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। জার্মানির ভেরডি, ফ্রান্সের সিজিটি এবং ভারতের ডব্লিউটিডব্লিউএফআই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে। গাজার অবরোধ ভেঙে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টাকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাও ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইতালির ইউনিয়ন ইউএসবি একই দিনে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। গ্রিসের শ্রমিকরা সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করবেন না।

    গত মে মাসে ইউরোপের শ্রমিকরা ‘ইস্তাম্বুল ঘোষণা’র মাধ্যমে যুদ্ধাঞ্চলে অস্ত্র পরিবহন বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। ইতালির বন্দরগুলো ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটির উদ্দেশ্যে পাঠানো অস্ত্রের চালান আটকে দিয়ে এর আগেও প্রতিবাদ করেছে।

  • আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করবেনা নেতানিয়াহু

    আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করবেনা নেতানিয়াহু

    ইসরাইলে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলেছে তার দল লিকুদ।

    ইসরাইলে সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু লিখেছেন, ‘তাদের সঙ্গে সরকার গঠন করা নিষিদ্ধ।’ এর মাধ্যমে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক জোট গঠনের বিরোধিতা স্পষ্ট করেছেন তিনি।

    নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর নেতানিয়াহুর দল লিকুদ অভিযোগ করেছে, দলগুলো ‘নির্বাচন চুরি’ করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

    নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের কথা জানিয়েছে ইসরাইলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। তবে নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতার সমীকরণ

    ইসরাইলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ ও তার মিত্রদের জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন।

    অপরদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে মোট ১৯টি আসন, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ অর্জন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

    সরকার গঠনে আরব দলগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিরোধী শিবিরের পক্ষে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বিরোধী জোটের মধ্যেও আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন কিংবা তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

    ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা ঠেকাতে নেতানিয়াহু ও তার মিত্রদের বক্তব্য বিরোধী শিবিরের ওপর চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে।

    সব মিলিয়ে নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরাইলে দীর্ঘ রাজনৈতিক দর-কষাকষির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে, নাকি রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

  • দাবানলে ইন্দোনেশিয়ায় একমাসে মৃত্যু ৩ হাজার ৫৬০

    দাবানলে ইন্দোনেশিয়ায় একমাসে মৃত্যু ৩ হাজার ৫৬০

    ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট বায়ুদূষণের কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর এএফপির।

    হেলসিংকিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশটির প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণের শিকার হয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বন ও ভূমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে ইন্দোনেশিয়ার বায়ুমানের আরো অবনতি ঘটে। এতে দূষণজনিত সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা আগস্টের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে ৩ হাজার ৫৬০ জনে পৌঁছায়।

    গবেষণায় বায়ুদূষণের অতিক্ষুদ্র কণা পিএম ২.৫-এর স্বল্পমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে যেসব মৃত্যু ঘটেছে, সেগুলোই এ পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই ঘটেছে বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলে।

    গবেষণায় দাবানলের ধোঁয়ার পাশাপাশি শহর ও শিল্পকারখানার দূষণও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব উৎস থেকে ছড়ানো দূষণের কারণে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই আরো প্রায় ১ হাজার ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ফলে দাবানলসহ বিভিন্ন উৎসের বায়ুদূষণে ওই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা আনুমানিক ৫ হাজার ৩১০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

  • ভারতে পাইলটসহ ৬ যাত্রী নিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    ভারতে পাইলটসহ ৬ যাত্রী নিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার যোশীমঠের কাছে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাইলটসহ ছয়জন আরোহী ছিলেন। হেলিকপ্টারটি বদরীনাথ থেকে দেরাদুন যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্লি এক্স-রে কোম্পানির পরিচালিত হেলিকপ্টারটি হাতি পর্বতের কাছে নিখোঁজ হয়। পরে সেটির সন্ধানে আরো দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ।

    সংবাদমাধ্যম এএনআইকে যোশীমঠ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মনোহর কানিয়াল জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২১ মিনিটে যোশীমঠের মহকুমা প্রশাসনের কাছ থেকে চায়ি গ্রামের ওপরের এলাকায় হেলিকপ্টারটির জরুরি অবতরণ বা বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

    উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ইউকাডা) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বদরীনাথ থেকে সাহাস্ত্রধারাগামী ট্রান্স ভারত হেলিকপ্টারটির অবস্থান চায়ি গ্রামের ওপরের সেনা ক্যাম্পের কাছে শনাক্ত হয়েছে।

    উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, যোশীমঠের কাছের চায়ি গ্রামের পাশে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধামি বলেন, তিনি নিজে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • ইথিওপিয়ায় আশ্রয়শিবিরে ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ১৪

    ইথিওপিয়ায় আশ্রয়শিবিরে ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ১৪

    ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে একাধিক ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার চালানো এসব হামলায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল উত্তর-পূর্বে এ ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।

    তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইয়াসিন (ছদ্মনাম) নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আশ্রয়শিবিরটিতে পরপর চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে নিহত ১৪ জনকে সেখানে দাফন করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুও রয়েছে।

  • ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা

    ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা

    গরু জবাই, গরুর গোশত খাওয়া কিংবা গবাদিপশু পরিবহনের অভিযোগে ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা নতুন নয়। কখনো গরু পাচারের সন্দেহে, কখনো মাংস বহনের অভিযোগে, আবার কখনো গবাদিপশুর ব্যবসার কারণে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতার শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা। এসব ঘটনায় অনেক সময় হামলাকারীরা নিজেদের ‘গোরক্ষক’ পরিচয় দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।

    এবার মধ্যপ্রদেশে দামোহ জেলায় মহিষ পরিবহনের সময় দুই মুসলিম ব্যবসায়ী ও এক গাড়িচালককে আটক করে বেধড়ক মারধর করেছে একদল লোক। হামলাকারীরা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় হিন্দোরিয়া থানার অধীন হারদুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, দুই ব্যবসায়ীর হাত-পা বেঁধে একটি মাঠের মধ্যে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করছে একদল লোক। এ সময় তাদের ঘিরে রেখেও কয়েকজনকে আঘাত করতে দেখা যায়।

    নির্যাতনের শিকার দুই ব্যবসায়ীর নাম আবিদ কুরেশি ও হাসান কুরেশি। তারা স্থানীয় মহিষ ব্যবসায়ী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়িতে করে মহিষ নিয়ে যাওয়ার সময় একদল লোক তাদের পথ আটকে দেয়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের আবিদ জানান, মহিষগুলো চুরি করা নয়, তা প্রমাণ করতে হামলাকারীদের কেনার রসিদ দেখিয়েছিলেন তারা। কিন্তু হামলাকারীরা তাদের কথা শোনেনি।

    আবিদ বলেন, তারা আমাদের কথা শোনেনি। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করি, কিন্তু তারা আমাদের ধরে ফেলে। মহিষগুলো যে চুরি করা নয়—বারবার একথা বলা সত্ত্বেও তারা আমাদের বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশ এলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাই।

    আবিদের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আহত তিনজনের মধ্যে দুজন দামোহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুরে পাঠানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা-সংক্রান্ত ধারায় দুই ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

    সংবাদমাধ্যম মাকতুবকে দামোহের পুলিশ সুপার আনন্দ কালাদাগি বলেন, মুসলিম ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

    পুলিশ সুপার বলেন, একটি ছোট ভ্যানে এক বা দুটি প্রাণী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও তাতে সাত থেকে আটটির বেশি মহিষ নেওয়া হচ্ছিল। এ ছাড়া প্রাণীগুলোকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র গুজ্জরও দুজনকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ।

    মধ্যপ্রদেশের দামোহের এই ঘটনা ভারতে গবাদিপশু পরিবহন ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ। এর আগেও গরু জবাই কিংবা গবাদিপশু পাচারের সন্দেহে মুসলিম ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব হামলার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দামোহের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে পুলিশ। ফলে হামলার বিচার এবং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও এর তদন্ত—এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

  • দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের দাবি আইআরজিসির

    দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের দাবি আইআরজিসির

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। অনুমোদনহীন পথে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা এবং নৌযান দুটির নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার অভিযোগে সেগুলো আটক করা হয়েছে।

    আইআরজিসির গণমাধ্যম শাখার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাংকার দুটি তাদের নেভিগেশন ও পজিশনিং সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল। এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় তারা ‘অননুমোদিত পথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করছিল।

    বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়, বারবার বেতার সংকেতের মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও ট্যাংকার দুটি তা উপেক্ষা করে। একপর্যায়ে সেগুলো একটি ‘বিপজ্জনক এলাকায়’ প্রবেশ করে এবং কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আইআরজিসির নৌবাহিনী সেগুলো থামিয়ে দেয়।

    তবে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে আটক ট্যাংকার দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এবং সেগুলোর গন্তব্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আইআরজিসি।

  • রাজনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প

    রাজনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানে প্রায় মরণঘাতী আঘাত হানতে পারেন। জনমত জরিপগুলো সঠিক হলে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক পতন ঘটতে পারে ট্রাম্পের।

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার দুই মেয়াদের মধ্যে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। ইরানের সঙ্গে এখনো অমীমাংসিত যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের অসন্তোষ আরো বেড়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের গড় জনসমর্থন প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনাকে অনেক বেশি বলে মনে করছেন। সিনেটেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কঠিন। অতীতে জনমত জরিপ ভুল প্রমাণিত হয়েছে, এবারও হতে পারে।

    তবে কোনো না কোনোভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সেটি ছোট ঢেউ হোক, বিশাল সুনামি হোক কিংবা মাঝামাঝি কোনো কিছু।

    তবে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যত্রও। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক ধারার উত্থান ঘটেছিল—জাতীয়তাবাদ, জনতুষ্টিবাদ এবং প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও মিত্রদের প্রতি অবজ্ঞা—গণতান্ত্রিক বিশ্বের বড় একটি অংশে সেই ধারার প্রভাব এখন ক্রমেই কমে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই শুধু একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর মধ্য দিয়ে সামনে আসছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রবণতা শক্তিশালী হয়েছিল, সেটি কি এখন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে?

    জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক অসন্তোষ। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় দুই বছর পার হতে চললেও অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট নয়।

    বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বেড়েছে পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম। ফলে মূল্যস্ফীতি এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপেও এই অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধকেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    জরিপে আরো দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার অসন্তুষ্ট। অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটারের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দলটির প্রতি ভোটারদের ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে, এমনটিও নয়। জরিপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

    ইউরোপেও চাপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অনুসারীরা

    যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশলের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ এ ক্ষেত্রে আলোচিত উদাহরণ। ব্রেক্সিট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ এবং রিফর্ম ইউকে দলের নেতা ফারাজ দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান, জাতীয়তাবাদ ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনাকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বেশ কিছু মিল রয়েছে।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দল রিফর্ম ইউকের জনসমর্থনে ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে দলটির জনসমর্থন ৩০ শতাংশের বেশি থাকলেও ২০২৬ সালের আগস্টে তা কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে আসে। রাজনৈতিক বিতর্ক, দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর উত্থানও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    তবে ইউরোপের সব ডানপন্থি বা জাতীয়তাবাদী দলের জনপ্রিয়তা কমছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের ন্যাশনাল র‍্যালি এখনো দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের মতো দলগুলো প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করছে।

    ইউরোপের কয়েকটি বড় গণতান্ত্রিক দেশে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির প্রভাব এখনো বাড়ছে। ফ্রান্সে ন্যাশনাল র‍্যালি এবং যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের অবস্থান সেই প্রবণতার উদাহরণ। এসব দলের উত্থান প্রচলিত রক্ষণশীল দলগুলোকে অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের মতো ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।

    অর্থাৎ ইউরোপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মডেলের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমনটি বলা যাবে না। বরং কোথাও এই ধারার জনপ্রিয়তা কমছে, আবার কোথাও তা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতির প্রতি আগের মতো নিঃশর্ত সমর্থন সব জায়গায় থাকছে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক মডেলের মূল ভিত্তি কি দুর্বল হচ্ছে?

    ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প শুধু রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিই বদলে দেননি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন একটি প্রবণতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তার রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

    ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার কথা বলেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ, বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপ নেন।

    একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নকে রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন।

    এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অনেক দেশের রাজনীতিকদেরও আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী নেতারা ট্রাম্পের মতো করে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা, অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন।

    কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই রাজনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। শুধু জাতীয়তাবাদী বক্তব্য কিংবা প্রচলিত ব্যবস্থার বিরোধিতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

    ট্রাম্পের প্রভাব কি এত সহজে শেষ হবে?

    তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রত্যাশিত ফল না পেলেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে, এমনটা মনে করার কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার ব্যক্তিগত সমর্থকগোষ্ঠী এখনো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। রিপাবলিকান পার্টির বড় একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশলও তার প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা বাড়বে।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও ট্রাম্পের বিরোধিতার বাইরে গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

    এ ছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন শুধু একজন নেতার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, বাণিজ্যনীতি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থার মতো বিষয়গুলো এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমলেও এসব ইস্যুতে তার অনুসারীদের অবস্থান পুরোপুরি হারিয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    অন্যদিকে ইউরোপেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী এই ধারার উত্থান-পতন ঘটছে। তাই কোনো একটি দেশের নির্বাচনী ফল দিয়ে পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন।

    সব মিলিয়ে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব ও রাজনৈতিক আদর্শের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফল খারাপ হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং তার অনুসারীদের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হবে।

    তবে ট্রাম্প-যুগের অবসান ঘটছে কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। বরং বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা টিকে থাকে, সেটিই আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    তথ্যসূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, স্কাই নিউজ ও সিবিএস নিউজ

  • ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বোঝাতে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বক্তব্যের শব্দচয়ন সংশোধন করে তিনি বলেছেন, সেখানে তার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন লেখেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই। তিনি লিখেছেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল আমার বক্তব্যের মূল কথা। শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে শেষে তিনি লেখেন, সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।

  • শীতে বাড়তে পারে  শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

    শীতে বাড়তে পারে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

    শীতের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের শরীরেও নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস, ধুলাবালু ও বায়ুদূষণ এবং শ্বাসতন্ত্রের জীবাণুর সংক্রমণের কারণে এ সময়ে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা : বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণে এসব সমস্যা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির কণা এবং দূষিত হাতের সংস্পর্শে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা, গলাব্যথা, কাশি, মাথাব্যথা ও কখনো জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ সর্দি, ভাইরাসজনিত গলাব্যথা, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। এর পাশাপাশি কানের সংক্রমণ, সাইনাসের প্রদাহ, হাঁপানির অবনতি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, পানি ও উপযুক্ত তরল পান করুন। কুসুম গরম পানি গ্রহণ করতে পারেন। নাক বন্ধ থাকলে জীবাণুমুক্ত স্যালাইন ব্যবহার করা যায়। এক বছরের বেশি বয়সিদের কাশিতে সামান্য মধু উপকার দিতে পারে; তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না।

    হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট : ঠান্ডা বাতাস, ধুলাবালু, ধোঁয়া, অ্যালার্জি এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ, বুক চেপে আসা, কাশি ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। এসব উপসর্গ হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্টের কারণে দেখা দিতে পারে। গুরুতর শ্বাসকষ্ট, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    ধোঁয়া ও ধুলাবালু এড়িয়ে চলুন, ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ইনহেলার ব্যবহার করুন। গরম পানির পাত্র থেকে বাষ্প নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসার অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

    চুলকানি ও ঠোঁট ফাটা : বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, কড়া সাবান এবং ত্বকের যথাযথ পরিচর্যার অভাবে চুলকানি ও ঠোঁট ফাটা হতে পারে। ত্বক খসখসে হওয়া, চুলকানি, লালচে দাগ, ঠোঁট ফেটে যাওয়া ও ত্বকে ছোট ফাটল তৈরি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অতিরিক্ত চুলকানোর কারণে ক্ষত ও জীবাণুর সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করুন। গোসলের পরপরই সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার লাগান। ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ক্ষতস্থানে পুঁজ, তীব্র লালভাব বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • হাম ও উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু ১২৫১

    হাম ও উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু ১২৫১

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ২ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১,৩১৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ শিশু। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,৩৯১ শিশু। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ২৫১ শিশু। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ শিশুর। বাকী ১১৪৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। আর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৩ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো হাম ও ডেঙ্গু বিষয়ক পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ জন। এখন পর্যন্ত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২৩ হাজার ৭৭০ জন। এছাড়াও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ২ হাজার ৬৩৯ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৩৯৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর মধ্যে সিলেট ও খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯৭ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর হামের রোগী পাওয়া গেছে ৩৬ জন।

  • এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কাল

    এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কাল

    চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।

    আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

    উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

    এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাবে।

    গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে তা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

    সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

    এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন অংশ নেন।

    এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

  • প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি নিষিদ্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি নিষিদ্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

    নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার নীতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক স্তরে ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

    নোটিশে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবী দাবি, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হলে শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রাথমিক স্তরে যেকোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বই ও পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শৈশব থেকেই শিশুদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় আবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ এবং এনসিটিবির বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিশুদের স্বার্থে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আটক

    চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আটক

    যশোরের চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খড়িঞ্চা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আব্দুল মান্নান উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি খড়িঞ্চা গ্রামরে মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
    এলাকাবাসী জানান বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে তিনি বাদী হয়ে খড়িঞ্চা দাখিল মাদ্রাসা এলাকায় কথিত বোমা হামলার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশত নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়।

    চৌগাছা থানার নবাগত ওসি কাজী বাবুল হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • ৫১টি সুপারিশের মাত্র একটি গ্রহণ করেছে সরকার: স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান

    ৫১টি সুপারিশের মাত্র একটি গ্রহণ করেছে সরকার: স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান

    স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান কথা বলেছেন বিডি গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে।

    প্রশ্ন ১. আপনি স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পেছনে তাকালে কমিশনের কোন সুপারিশগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনগুলো গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে হয়?

    উত্তর: বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন ২০২৫ ছিল স্থানীয় সরকার সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত অষ্টম জাতীয় পর্যায়ের কমিশন। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারকে একটি শক্তিশালী, স্বশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ সুপারিশ করা ছিল কমিশনের দায়িত্ব।

    বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল, আগে গঠিত কমিশনের সুপারিশ, সাত বিভাগে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৬৪ জেলার ৪৬ হাজার ৮০ জন মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে কমিশন স্থানীয় সরকার সংস্কারে ৫১টি মূল সুপারিশ দেয়। এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকার এর মধ্যে মাত্র একটি সুপারিশ গ্রহণ করেছে।

    স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের (২০২৫) অন্যতম মূল সুপারিশ ছিল দলনিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ফিরিয়ে আনা, যা ২০১৫ সালের আগে প্রচলিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন চালু করে, ফলে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পান। এই বিধান স্থানীয় নির্বাচনকে চরম সহিংস করে তোলে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করে, সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে এবং স্থানীয় শাসনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একটি স্বাগত জানানোর মতো অগ্রগতি হলো, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বর্তমান সংসদ প্রচলিত আইন থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধান বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক স্থানীয় নির্বাচনের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে কমিশনের বহু সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও আরও কার্যকর করতে তিনটি বড় ক্ষেত্রের সুপারিশ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা উচিত। সেগুলো হলো:

    কাঠামোগত সংস্কার:

    বর্তমান স্থানীয় সরকারব্যবস্থা খণ্ডিত, কাঠামোগতভাবে অসংগতিপূর্ণ এবং এর সমন্বয় দুর্বল। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে এতে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের তিন স্তরে তিনটি প্রতিষ্ঠান: জেলা পর্যায়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে দুটি স্থানীয় সংস্থা রয়েছে: বড় শহরে সিটি করপোরেশন এবং ছোট শহরে পৌরসভা।

    গ্রাম পর্যায়ে শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই সরাসরি নির্বাচন হয়। উপজেলা পরিষদে আংশিক সরাসরি পদ্ধতি চালু আছে: শুধু চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা স্থানীয় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, আর উপজেলার ভেতরের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেন, যদিও এর পরিচালনায় তাঁদের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই। জেলা পরিষদ গঠিত হয় পরোক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। জেলার ভেতরের নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা এর সদস্য হিসেবে কাজ করেন, অথচ জেলা পরিষদের ওপর তাঁদের সরাসরি প্রতিনিধিত্বমূলক ম্যান্ডেট নেই। এই ব্যবস্থা কাঠামো ও জবাবদিহিতে ফাঁক তৈরি করে, যা জেলা পরিষদের কার্যকর কাজে বাধা দেয়। অন্যদিকে শহর পর্যায়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা দুটিই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংস্থা।

    কমিশনের সুপারিশ হলো, পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেরই (জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) একই নকশার কাঠামো থাকা উচিত, বিশেষ করে প্রতিটি স্তরে যৌক্তিক ওয়ার্ডব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যাতে সবগুলো একইভাবে কাজ করতে পারে।

    এর পাশাপাশি কমিশন সুপারিশ করেছে, দক্ষভাবে কাজ করার জন্য গ্রাম ও শহরের পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেই একই সাংগঠনিক কাঠামো থাকা উচিত। জাতীয় পর্যায়ের সংসদীয় সরকারব্যবস্থার আদলে কমিশন প্রস্তাব করেছে, প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দুটি আলাদা অংশ থাকবে: আইনসভা অংশ ও নির্বাহী অংশ। আইনসভা অংশে থাকবেন চেয়ারম্যান (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থার প্রধান) বা মেয়র (শহুরে স্থানীয় সংস্থার প্রধান) এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সব নির্বাচিত সদস্য। অন্যদিকে নির্বাহী অংশে থাকবেন চেয়ারম্যান এবং পাঁচ থেকে ছয়জন পূর্ণকালীন সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ, যাঁরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করবেন। গ্রাম ও শহরের স্থানীয় শাসনের জন্য একই ধরনের সাংবিধানিক কাঠামো ভারতে ১৯৯২ সালে সংবিধানের ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে চালু হয়, যা ১৯৯৩ সালে কার্যকর হয়।

    এই ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান বা মেয়রের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচিত সদস্যদের কর্তৃত্ব প্রয়োগের সুযোগ দেবে। এটি ক্ষমতার ভাগাভাগি বাড়াবে, গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় শাসনে জবাবদিহি বাড়াবে।

    নির্বাচনী সংস্কার:

    বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের জরুরি একটি সংস্কার হলো নির্বাচনী সংস্কার, যা আগে বলা কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন আইন ও পদ্ধতিতে হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান করতে প্রথমেই প্রতিটি স্তরে জনসংখ্যার আকার অনুযায়ী যৌক্তিকসংখ্যক ওয়ার্ড থাকা উচিত।

    বর্তমানে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যায় বড় পার্থক্য রয়েছে। কিছু ইউনিয়ন বড়, কিছু তুলনামূলক ছোট; আয়তন প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার থেকে ১ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত। যেমন, সব ইউনিয়ন পরিষদে ৯টি ওয়ার্ড থাকলেও ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত। এত বড় পার্থক্য সত্ত্বেও সব ইউনিয়ন পরিষদ নয়টি ওয়ার্ডে ভাগ করা, ফলে সম্পদের বণ্টন অসম এবং প্রায়ই অদক্ষ হয়। কমিশন প্রস্তাব করেছে, একেকটি ইউনিয়নে ৯ থেকে ৩৯টি ওয়ার্ড থাকতে পারে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ।

    অন্যদিকে উপজেলা ও জেলা পরিষদে কোনো ওয়ার্ড নেই। ইউনিয়ন পরিষদের মতো উপজেলা ও জেলা পরিষদকেও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নির্বাচনী ওয়ার্ডে পুনর্গঠন করা যায়। যেমন, উপজেলা পরিষদের ভেতরে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে তিনটি ওয়ার্ড হিসেবে ধরা যায়; তাহলে পাঁচ ইউনিয়নের একটি উপজেলায় মোট ১৫টি নির্বাচনী ওয়ার্ড হবে। একইভাবে জেলা পরিষদের ভেতরে প্রতিটি উপজেলাকে তিন থেকে পাঁচটি ওয়ার্ড হিসেবে ধরা যায়। এই ওয়ার্ডগুলো শুধু নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তৈরি হবে, যাতে প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বাড়ে।

    জাতীয় পর্যায়ে প্রচলিত সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে কমিশন চেয়ারম্যান (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থার নেতা) বা মেয়রের (শহুরে স্থানীয় সংস্থার নেতা) সরাসরি নির্বাচনের বিধান বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বদলে সদস্য (গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থা) বা কাউন্সিলররা (শহুরে স্থানীয় সংস্থা) জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং পরে নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করবেন। কমিশন দেখেছে, বর্তমান ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান বা মেয়রের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো “এক ব্যক্তির শাসনে” পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্বাচিত সদস্যদের অর্থবহ ভূমিকা প্রায় থাকে না বা একেবারেই থাকে না। ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে কমিশন এই ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে, যার মাধ্যমে কর্তৃত্বের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আইনি সংস্কার:

    পাঁচটি স্থানীয় সংস্থা একই সময়ে গঠিত না হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় সরকার চলে পাঁচটি আলাদা আইন ও শত শত বিধিমালার অধীনে। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জারি করা বিপুলসংখ্যক পরিপত্র ও গেজেট রয়েছে। আইন ও বিধির এই আধিক্য স্থানীয় সরকারের কাজে বিভ্রান্তি ও দ্বৈততা তৈরি করে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়, স্থানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয় এবং সবচেয়ে বড় কথা, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদান ব্যাহত হয়। তা ছাড়া নির্বাহী আদেশে সময়ে সময়ে গেজেট ও পরিপত্র জারির বিদ্যমান বিধান রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

    শওকত আলী কমিশন ২০০৮-এর সুপারিশ অনুসরণ করে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন ২০২৫ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি ছাতা আইনের সুপারিশ করেছে। কমিশন গ্রাম ও শহরের স্থানীয় সংস্থার জন্য দুটি আলাদা ছাতা আইনের পরামর্শ দিয়েছে।

    প্রশ্ন ২. ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলো মূলত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা চালাচ্ছেন। সেবা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এর অর্থ কী দাঁড়িয়েছে?

    উত্তর: প্রশাসকেরা স্থানীয় সংস্থার ব্যবস্থাপনা হাতে নিলে কার্যত তাঁরাই হয়ে ওঠেন “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ”, যাঁরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো একইভাবে সেবা দিতে কম সক্ষম হতে পারেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অনেক নির্বাচিত স্থানীয় সরকার নেতা পদ শূন্য রেখে পালিয়ে যান। সেসব স্থানীয় সরকার সংস্থার কাজ চালু রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

    স্থানীয় সংস্থায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা সাধারণত শুধু রুটিন কাজ করেন এবং স্থানীয় চাহিদার প্রতি সীমিত সাড়া দিয়ে সেবা দেন। অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জবাবদিহি করেন, তাই কার্যকরভাবে সেবা দেওয়ার জন্য তাঁদের তাগিদ বেশি থাকে। তা ছাড়া এলাকার মানুষ প্রশাসকদের চেয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বেশি কাছের মনে করেন। এই দ্বিমুখী সম্পর্ক সেবা প্রদানে সাড়া ও জবাবদিহি শক্তিশালী করে। প্রশাসকেরা নেতৃত্বে থাকলে স্থানীয় সংস্থাগুলোতে এটির অভাব থাকে।

    প্রশ্ন ৩. নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে এবং এখন আগামী বছরের প্রথমার্ধে, ৬ জুনের আগে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। কী হলে স্থানীয় নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে, আর তা দলীয় প্রতীকে হওয়া উচিত নাকি প্রতীক ছাড়া?

    উত্তর: হ্যাঁ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং আমরা আশাবাদী যে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় নির্বাচন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তা ছাড়া স্থানীয় সরকার কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন করার সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নির্বাচনী সহিংসতা কমাতে এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বিবেচনা করতে পারে, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    প্রশ্ন ৪. কমিশন সুপারিশ করেছে, চেয়ারম্যান ও মেয়র সরাসরি নির্বাচিত না হয়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। এতে ভোটার ও পরিষদের জন্য কী বদলাবে?

    উত্তর: আগেই বলেছি, বর্তমান ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে, যেখানে চেয়ারম্যান বা মেয়র সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং অন্য নির্বাচিত সদস্যদের অর্থবহ ভূমিকা সামান্যই থাকে। নির্বাচন যদি শুধু সদস্য বা কাউন্সিলর পদে হয় এবং তাঁরা পরে নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করেন, তাহলে সদস্যরা ক্ষমতায়িত হবেন এবং চেয়ারম্যান বা মেয়রকে তাঁদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতা এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকাতে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, যা পরে সেবা প্রদানকে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে ভূমিকা রাখবে।

    প্রশ্ন ৫. পরিষদগুলো কেন্দ্রের অনুদানের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণের জন্য অর্থ ও কর্তৃত্বের দিক থেকে কী প্রয়োজন?

    উত্তর: আর্থিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের একটি বিকেন্দ্রীকৃত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর থাকা উচিত।

    বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন ছাড়া সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের বেতন দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্তরের জন্য আলাদা আর্থিক বরাদ্দ বা অনুদান দেওয়া হয়। উন্নয়ন সহযোগীরাও নানা ধরনের উল্লম্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ও স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে কম সমন্বয়ে। ফলে স্থানীয় সংস্থাগুলো নিজেদের বাজেট পরিচালনা এবং স্থানীয় অগ্রাধিকার অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে খুব সামান্য বা কোনো স্বায়ত্তশাসনই পায় না।

    আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এগিয়ে নিতে ২০২৫ সালের কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ বিকেন্দ্রীকৃত “জেলা পরিকল্পনা” প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে জেলা এবং এর অন্তর্ভুক্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা একত্র করা হবে। এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। জেলার জন্য বরাদ্দ অর্থ বণ্টন এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা জেলাকে দেওয়া উচিত। এই পদ্ধতি স্থানীয় আর্থিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে, উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় উন্নত করবে এবং সরকারি সম্পদ স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত অগ্রাধিকারের দিকে যাওয়া নিশ্চিত করবে।

    বাংলাদেশের সংবিধান সরকারকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশে স্থানীয় জনগণের নির্বাচিত একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা থাকবে। স্থানীয় সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোরও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যালয় আছে, যেগুলোকে একই ধরনের, পরস্পর জড়িয়ে যাওয়া দায়িত্ব দেওয়া আছে; এতে কাজের দ্বৈততা ও সম্পদের অপচয় হয়। সরকার ইতিমধ্যে ৯টি বিভাগ ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং ১৬টি বিভাগ উপজেলা পর্যায়ে হস্তান্তর করেছে। তবে এসব হস্তান্তর এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, কারণ এসব বিভাগের সংশ্লিষ্ট তহবিল, কর্মী ও অর্থ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা হয়নি।

    প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণকে দক্ষ ও কার্যকর করতে স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি বিভাগগুলোর দায়িত্বের সঙ্গে তাদের তহবিল ও কর্মীদেরও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা উচিত। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে, প্রশাসনিক দ্বৈততা কমবে এবং সমন্বয় ও সেবা প্রদান উন্নত হবে।

    প্রশ্ন ৬. সংসদ সদস্যদের কি স্থানীয় পরিষদে কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা উচিত, নাকি দুটিকে আলাদা রাখা উচিত?

    উত্তর: ভৌগোলিকভাবে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্বাচনী এলাকা এক হলেও তিনটি প্রধান কারণে স্থানীয় সরকার সংস্থায় সংসদ সদস্যদের কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা উচিত নয়:

    প্রথমত, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা; তাঁদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন এবং সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। তাই তাঁদের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা এবং জাতীয় নীতির পর্যায়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর যেন শোনা যায়, তা নিশ্চিত করা।

    দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। আইনপ্রণেতা সংসদ সদস্যদের এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের সুযোগ দিলে ক্ষমতা পৃথক্‌করণের নীতি দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, সংসদ সদস্যদের জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব যেন উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের (অর্থাৎ উপজেলা পরিষদের) নেতৃত্ব দিতে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের কর্তৃত্বকে ছাপিয়ে না যায়, সে জন্য তাঁদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা রাখা উচিত। তা না হলে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আধিপত্য করবেন, যা উপজেলা পরিষদের স্বায়ত্তশাসন ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন করবে।

    প্রশ্ন ৭. স্থানীয় পরিষদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন আছে। এসব আসনের কি প্রকৃত ক্ষমতা আছে, আর কী হলে তা বদলাবে?

    উত্তর: স্থানীয় পর্যায়ে এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই বিধান কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ আইন ১৯৯৭ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নারীদের তিনটি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান চালু করে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক নির্বাচিত নারী সদস্য তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন, যার প্রতিটিতে একজন নির্বাচিত পুরুষ সদস্যও আছেন। ফলে পুরুষ ও নারী সদস্যদের এখতিয়ারে প্রায়ই সংঘাত ও দ্বৈততা দেখা দেয়, যেখানে পুরুষ সদস্যরাই প্রায়ই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখেন। এভাবে বর্তমান ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    নারীর অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করতে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ ওয়ার্ড নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা যায়, যা পরপর নির্বাচনী চক্রে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে পূরণ হবে। যেমন, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোয় পরপর তিনটি নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডেই নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। প্রথম নির্বাচনে নারীরা সরাসরি তিনটি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, পাঁচ বছর পরের নির্বাচনে পরের তিনটি ওয়ার্ডে, এবং তার পরের নির্বাচনেও এভাবে চলবে।

    প্রশ্ন ৮. কোন একটি সংস্কার জেলা ও গ্রামের মানুষের কাছে রাষ্ট্রের পৌঁছানোর পথ সবচেয়ে বেশি উন্নত করবে?

    উত্তর: রাষ্ট্রকে তৃণমূলের মানুষের কাছাকাছি আনতে পারে, এমন একক কোনো সংস্কার চিহ্নিত করা কঠিন। তবে বৃহত্তর অর্থে এর জন্য প্রয়োজন একটি কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ নীতির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদানের উন্নতি, যা প্রশাসনিক ও আর্থিক দুই ধরনের বিকেন্দ্রীকরণই নিশ্চিত করবে। স্থানীয় সংস্থাগুলোর নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্বায়ত্তশাসন থাকা উচিত। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থানীয়ভাবে, জেলা পর্যায়ে প্রণয়ন করা উচিত। এ জন্য কমিশনের সুপারিশ করা জেলা পরিকল্পনার ধারণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আটক অফিস সহায়ক মো: শাহজামালকে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্নফাঁস তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলতেই বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কমিটির প্রধান অভিযুক্ত অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

    কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলে আসছিলেন। এছাড়া প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার একাধিক নথি তার কম্পিউটারে পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের তথ্যও খতিয়ে দেখছে তদন্ত দল।

    বুধবার রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও অভিযোগগুলো নিজে পর্যালোচনা করেন। এরপর রাতেই শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিস্তারিত তদন্তের পরই সব বিষয় পরিষ্কার করা যাবে। অভিযুক্ত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে। এ,আর

  • চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

    চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় নবাগত ওসি কাজী বাবুলের সাথে প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর (দৈনিক ইত্তেফাক), সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান ( দৈনিক আমার দেশ), সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুস শুকুর (দৈনিক যশোর), অধ্যক্ষ (ভারঃ) বি এম হাফিজুর রহমান , সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান (দৈনিক আজকের পত্রিকা), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম ( দৈনিক নয়া দিগন্ত), অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্ত ( দৈনিক যায়যায় দিন), ক্রিড়া সম্পাদক এম এ মান্নান (দৈনিক আমার সংবাদ), দপ্তর সম্পাদক রায়হান হোসেন ( দৈনিক যশোর), সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার দত্ত (দৈনিক কাল বেলা), প্রভাষক আজিজুর রহমান(দৈনিক সময়ের আলো), দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ( দৈনিক ভোরের ডাক), কালিমুল্লাহ সিদ্দীক (দৈনিক আগামীর সময়), আজম আশরাফুল ইসলাম ( দৈনিক জনবানী), ও কবি আবু জাফর বিশ্বাস প্রমুখ।

    এ মতবিনিময় সভায় ওসি কাজী বাবুল বলেন, চৌগাছা উপজেলা দেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমার প্রথম কাজ হবে মাদক ও চোরাচালানীদের প্রতিহত করা। সে জন্য সাংবাদিক ভাইদের একান্ত সহযোগীতা কামনা করছি।

  • পর্দা নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও করতে হবে

    পর্দা নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও করতে হবে

    পর্দা কি কেবল নারীর পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি পুরুষের দৃষ্টি ও আচরণও এর অন্তর্ভুক্ত? আমাদের সমাজে পর্দার প্রসঙ্গ উঠলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর পোশাক, চলাফেরা ও শালীনতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ, ইসলামে পর্দার বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে প্রথমে পুরুষদের সম্বোধন করে পর্দার স্পষ্ট নিদেশনা দিয়েছেন।
    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সূরা নূর : ৩০)। এর পরবর্তী আয়াতে নারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ (সূরা নূর : ৩১)। এই বর্ণনার ধারা থেকে স্পষ্ট প্রকাশ পায় যে, শালীন সমাজ গড়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পুরুষের চোখের সংযম দিয়ে শুরু হয়, আর নারীর শালীনতায় তা পূর্ণতা পায়। অর্থাৎ, পর্দার দায়িত্ব শুধু নারীর নয়; পুরুষেরও রয়েছে দৃষ্টি ও আচরণ সংযত রাখার দায়িত্ব।এর একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় বিদায় হজের ঘটনায়। হযরত ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) নবীজি (সা.)-এর পেছনে উটের পিঠে বসা ছিলেন। এ সময় খাশআম গোত্রের একজন অত্যন্ত সুন্দরী নারী মহানবী (সা.)-এর কাছে দ্বীনি বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে এলে ফজল (রা.) তাঁর দিকে তাকাতে থাকেন। তখন রসূল (সা.) ফজল (রা.)-এর মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫১৩)। ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, নারীর প্রতি দৃষ্টির সংযমের বিষয়টিও রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বের সঙ্গে শিক্ষা দিয়েছেন।
    এ প্রসঙ্গে জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি হঠাৎ কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন (সহিহ মুসলিম)। একইভাবে হযরত আলী (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন, এক দৃষ্টির পর আরেক দৃষ্টি যেন না দেওয়া হয়; কারণ প্রথম অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি ও পরবর্তী ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি এক বিষয় নয়। (সুনানে আবু দাউদ)। এসব নির্দেশনা পুরুষের দৃষ্টি সংযত রাখার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

    একটি সাধারণ দৃশ্য কল্পনা করা যাক— একজন নারী শালীন পোশাক পরে রাস্তায় চলছেন, অথচ কোনো ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করছেন কিংবা তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, পর্দার শিক্ষা কি শুধু ওই নারীর পোশাকেই সীমাবদ্ধ, নাকি ওই ব্যক্তির দৃষ্টি ও আচরণেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত? ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রত্যেক মানুষ নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ। কোনো নারীর পোশাক অন্যের অসদাচরণের অজুহাত হতে পারে না।


    দুঃখজনকভাবে, আমাদের সমাজে কোনো নারী পর্দা না করলে তাঁকেই অনেক সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ নারীর প্রতি অশালীন দৃষ্টি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কিংবা হয়রানির ক্ষেত্রে পুরুষদের দিকটি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। পর্দা কেবল বাহ্যিক আবরণের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িত দৃষ্টি-সংযম, শালীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক আচরণ। একজন নারী যেমন শালীনতা বজায় রেখে পর্দা রক্ষা করবেন, তেমনি একজন পুরুষও নিজের দৃষ্টি সংযত রেখে নারীর সম্মান রক্ষা করার মাধ্যমে পর্দা রক্ষা করবেন।সুতরাং, পর্দার আলোচনা হোক একতরফা সমালোচনার ঊর্ধ্বে। নারীর পোশাকের পাশাপাশি পুরুষের দৃষ্টি, আচরণ ও নৈতিক দায়িত্ব নিয়েও সমান গুরুত্বে কথা বলতে হবে। কারণ, পর্দা কোনো এক লিঙ্গের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিধান নয়; এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আত্মসংযম, শালীনতা ও পবিত্রতার শিক্ষা। যে সমাজ নারীর পর্দা নিয়ে সচেতন, কিন্তু পুরুষের দৃষ্টি-সংযম নিয়ে নীরব, সে সমাজ পর্দার প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে পারেনি।

  • বিপদের মুহূর্তে সর্বপ্রথম মুমিনের করণীয়

    বিপদের মুহূর্তে সর্বপ্রথম মুমিনের করণীয়

    মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির এক দীর্ঘ পথচলা। এই পথচলায় এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন কষ্টে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

    কিছু দুঃখ আছে, যা সবাইকে বলা যায় না; আবার কিছু ব্যথা এমন, যা ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন। এমন কঠিন সময়ে মুমিনের করণীয় হলো,

    ১. আল্লাহর কাছে দুঃখ নিবেদন করা : এমন সময় মানুষ এমন একজনকে খোঁজে, যার কাছে নির্ভয়ে মনের সব কথা বলা যায়। তাই একজন মুমিনের জন্য সেই আশ্রয় প্রথমে মানুষের কাছে নয়; আল্লাহর কাছে খুঁজতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনে আমরা এর অনন্য উদাহরণ দেখি।

    প্রিয় সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার গভীর বেদনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দুঃখ ও বেদনার কথা শুধু আল্লাহর কাছেই পেশ করছি।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৬)

    ২. কাউকে দোষারোপ না করে বিনয়াবনত হওয়া : দুঃখের সময় অনেক মানুষ অভিযোগে ডুবে যায়। কেউ ভাগ্যকে দোষারোপ করে, কেউ পরিস্থিতিকে, আবার কেউ মানুষকে। কিন্তু অভিযোগ হৃদয়ের ভার কমায় না; বরং হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

    ইসলাম অভিযোগের পরিবর্তে দোয়ার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি ইমানের পরিচয়। হজরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘদিন কঠিন রোগ ও পরীক্ষার মধ্যে থেকেও ধৈর্য হারাননি। তিনি বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো সর্বাধিক দয়ালু।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)

    এই সংক্ষিপ্ত দোয়ার মধ্যেই ছিল পূর্ণ আত্মসমর্পণ, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

    আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি ও সম্মান দান করেছিলেন।

    ৩. নির্জনে আল্লাহর স্মরণ করা : প্রতিটি মুমিনের জীবনে এমন কিছু সময় থাকা উচিত, যখন সে পৃথিবীর সব ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে শুধু তার রবের সঙ্গে কথা বলবে। রাতের নীরবতা, তাহাজ্জুদের সময়, ফরজ নামাজের পর কিংবা সিজদার মুহূর্ত—এসব সময় দোয়ার জন্য বিশেষ উপযোগী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদা অবস্থায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)

    ৪. আল্লাহর প্রতি দৃঢ়বিশ্বাষ রাখা : একজন প্রকৃত মুমিন জানেন, মহান আল্লাহ তার অন্তরের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস ও অশ্রুর খবর রাখেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের গোপন কথাও জানেন।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৩)

    এই বিশ্বাস মানুষের মনে আশা জাগায়; তাকে শক্তি দেয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

    ৫. আল্লাহকে আশ্রয় বানানো : মানুষের স্বভাব হলো, কষ্টে পড়লে মানুষের কাছে সান্ত্বনা খোঁজা। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার রবের ওপর আস্থা ও ভরসা। কোরআনে কারিমে এসেছে, ‘আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

    সারকথা, মানুষের জীবন নানা পরীক্ষায় পূর্ণ। তবে এই পরীক্ষার মাঝেই লুকিয়ে থাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ। তাই দুঃখ-কষ্টে অভিযোগ নয়; বরং ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণই হওয়া উচিত একজন মুমিনের প্রকৃত আশ্রয়।

  • স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার মোতোমাচি কারখানা (Toyota Motomachi Factory) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানাটি পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কারখানায় পৌঁছানোর পর টয়োটা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িতে ওঠার আমন্ত্রণ জানান। এসময় সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে গাড়িটিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা (Masahiko Moeda), টয়োটা সুশো করপোরেশনের মোবিলিটি বিভাগের সিইও শিগেরু হারাদা (Shigeru Harada) এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ (Shinichiro Otsuka) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা।

    ১৯৩৫ সালে তৈরি হয় টয়োডা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ টয়োডা মডেল এ১। আর এই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে তৈরি হয় টয়োডা মডেল এএ, যা টয়োটার প্রথম উৎপাদিত যাত্রীবাহী গাড়ি। বর্তমানে জাপানের টয়োটা সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে গাড়িটির প্রতিরূপ। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এখন জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে

    দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। হাওড়, বাওড়, নদীনালা এমনকি সমুদ্রেও মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে।

    আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ভালো গবেষণার ফলেই আজ আমরা মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সংকট উত্তরণে চলতি বছর থেকেই বড় ধরনের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

    মন্ত্রী এ সময় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাদ্য ব্যবহার থেকে বিরত থেকে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

    রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে পর্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় সরকার। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পেলে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

    বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড.মো: আমিরুল ইসলাম।

  • ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহু কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ?

    ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহু কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ?

    ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

    তবে বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে যদি নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে দেয়, তবু তাঁকে ও ইসরায়েলকে ঘিরে যেসব আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ চলছে, তা তাঁর সরকারের পতন সত্ত্বেও টিকে থাকবে।

    নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না বা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার মামলা থেমে যাবে না।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পদত্যাগ করলে বা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে নেতানিয়াহু সেই ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন, যা কয়েকটি দেশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করার বাহানা হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে তিনি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও বিদেশি জাতীয় আদালতগুলোয় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

    গাজায় অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা, হত্যা, নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

    গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণ বহরে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার ঘটনার জেরে নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তুরস্কের আদালতেও নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে বিচার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

    এরপর কী ঘটতে পারে

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কি বৈধ থাকবে?

    হ্যাঁ। পরোয়ানাটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি পদে বহাল থাকছেন কি না, তার ওপর এই অপরাধের বিচারকাজ নির্ভর করছে না।

    তবে বিচারকাজ কেবল তখনই শুরু হতে পারে, যদি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করা হয়।

    রোম সংবিধির ধারা ৫৮(৪) অনুসারে, আদালত অন্য কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকবে।

    আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য আদালত কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    তবে ইসরায়েল এখনো আদালতের এখতিয়ার নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে, যার মূল ভিত্তি হলো তারা আদালতের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’–এর সদস্য নয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে আইসিসির আপিল চেম্বার প্রাক্‌–বিচার চেম্বারকে ইসরায়েলের এ চ্যালেঞ্জটি পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেন। তবে বিচারকেরা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় পরোয়ানা স্থগিত রাখতে রাজি হননি।

    ইসরায়েলের দুটি আপিল এখনো বিচারাধীন।

    নেতানিয়াহু কি তাঁর দায়মুক্তি হারাবেন

    আইসিসি ও বিভিন্ন দেশের আদালতগুলোর ক্ষেত্রে দায়মুক্তির নিয়ম আলাদা।

    আইসিসির ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা নেতানিয়াহুকে কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।

    রোম সংবিধির ধারা ২৭–এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি পদমর্যাদা বিচারে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। আদালতের অবস্থান হলো, পদের সঙ্গে থাকা দায়মুক্তি বা ‘ইমিউনিটি’ কোনো আসামিকে তাঁর বিচারিক এখতিয়ার থেকে রক্ষা করে না কিংবা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ বাস্তবায়ন থেকে অব্যাহতি দেয় না।

    যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, সেসব দেশের নেতাদের ক্ষেত্রেও আদালত এই নীতি প্রয়োগ করেছেন।

    ২০১৯ সালে আইসিসির আপিল চেম্বার রায় দিয়েছিলেন, জর্ডানের দায়িত্ব ছিল সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল–বশিরকে গ্রেপ্তার করা, যদিও সুদান আইসিসির সদস্য ছিল না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গোলিয়া তার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে ২০২৪ সালেও বিচারকেরা পর্যবেক্ষণ দেন।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

    তবু কিছু সদস্যরাষ্ট্র যুক্তি দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত দায়মুক্তির ওপর ভিত্তি করে আইসিসির সদস্য নয়, এমন রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন নেতাকে গ্রেপ্তার করতে তারা বাধ্য নয়।

    মিডল ইস্ট আই আগেও ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য দুই ধরনের দায়মুক্তি স্বীকার করে, সেটা হচ্ছে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি। এটি একটি সীমিত গোষ্ঠীকে রক্ষা করে। অপরাধের ধরন যা–ই হোক না কেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে বিদেশের কোনো আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে তাঁরা সুরক্ষা পান। এটি সাময়িক ও তাঁরা পদত্যাগ করলে এটি শেষ হয়ে যায়।

    কার্যকর দায়মুক্তি, সরকারি ক্ষমতাবলে পরিচালিত কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং কর্মকর্তা পদ থেকে চলে গেলেও তা বহাল থাকে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের দায়মুক্তির ক্ষেত্রেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে বহু আগেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    নেতানিয়াহু পদত্যাগ করা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোগ করা ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন। তাঁর কাছে তখন শুধু কার্যকর দায়মুক্তিই অবশিষ্ট থাকবে।

    কোন কোন দেশ দায়মুক্তির দোহাই দিয়েছে

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্রান্স বলেছিল, আইসিসির বাইরের দেশগুলোর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যেসব দায়মুক্তি প্রযোজ্য, তা নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও খাটবে এবং গ্রেপ্তারের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার সময় এটি বিবেচনা করতে হবে। তবে দায়মুক্তি–বিষয়ক গবেষক ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানিও দায়মুক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, দায়মুক্তির বিষয়টিকে সম্মান জানাতে হবে।

    হাঙ্গেরি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেতানিয়াহুর সফরের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার না করার পক্ষে ধারা ৯৮–এর দায়মুক্তির যুক্তি উপস্থাপন করেছিল। পরবর্তী সময় আইসিসি রায় দেন, হাঙ্গেরি তার সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

    তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেও নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার নিশ্চিত হয়ে যাবে না। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই এবং তারা পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য সদস্যরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে।

    ইসরায়েলের পরবর্তী কোনো সরকার আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং তাঁকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

    বিদেশি আদালতে কি নেতানিয়াহুর বিচার হতে পারে

    একবার ক্ষমতা থেকে সরে গেলে নেতানিয়াহু তাঁর সেই ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন, যা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারপ্রধানকে বিদেশি জাতীয় কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে সুরক্ষা দেয়।

    বিশ্বের অনেক দেশ সর্বজনীন এখতিয়ারের অধীনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিধান রেখে থাকে। এটি তাদের আদালতকে দেশের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকলেও বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার সুযোগ দেয়।

    উদাহরণস্বরূপ, তুরস্ক ২০২৫ সালে গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ অবরোধের ঘটনায় নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভিরসহ বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

    ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারালে এ ধরনের মামলার জন্য বড় এক বাধা দূর হবে। তবে নেতানিয়াহু তখনো কার্যকর দায়মুক্তির (যা সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে করা কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত) সুযোগ পাবেন কি না, তা আদালতের প্রয়োগ করা আইনের ওপর নির্ভর করবে।

    সাবেক নেতারা অতীতেও এমন বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। চিলির অগাস্তো পিনোশে ১৯৯৮ সালে স্পেনের এক পরোয়ানায় লন্ডনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরের বছর হাউস অব লর্ডস রায় দেয়, নির্দিষ্ট কিছু নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পিনোশে দায়মুক্তি দাবি করতে পারেন না।

    বাশার আল–আসাদ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা বাতিল করে দেন। তবে আদালত জানিয়েছিলেন, তাঁর বিদায়ের পর নতুন পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে। আদালত এ–ও উল্লেখ করেন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের বিচারে কার্যকর দায়মুক্তি সাবেক নেতাদের কোনো সুরক্ষা দেয় না।

    নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক সফর তাঁর গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। তবে কিছু দেশ তাঁর উপস্থিতি ছাড়াই তদন্ত করতে এবং পরোয়ানা জারি করতে পারে।

    নেতানিয়াহুকে হেফাজতে নেওয়া বাস্তবিক এক চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কারণ, তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পারেন। এ ছাড়া ইসরায়েল রাষ্ট্রও তাঁকে হস্তান্তর করতে সম্মত না–ও হতে পারে।

    আইসিজের গণহত্যা মামলার কী হবে

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাটি করেছিল। সেই মামলা রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন এই মামলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

    সুতরাং প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে নেতানিয়াহু বিদায় নেওয়ার পরও তাঁর বক্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলো গণহত্যার অভিপ্রায়ের মূল প্রমাণ হিসেবেই বিচারে থেকে যাবে।

    ইসরায়েল ২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগের বিপরীতে তাদের পাল্টা যুক্তি দাখিল করেছে, যার মধ্যে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে।

    আদালত দক্ষিণ আফ্রিকাকে উত্তর দেওয়ার জন্য ২০২৭ পর্যন্ত এবং ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার জন্য ২০২৯ সালের ২২ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ওই মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে এখনো বহু বছর বাকি।

    নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার কী হবে

    প্রধানমন্ত্রী পদ হারালেও ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার শেষ হয়ে যাবে না।

    ২০২০ সাল থেকে তিনটি ভিন্ন মামলায় ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে। তবে তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

    নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিজের দোষ স্বীকার না করেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এপ্রিলে হারজগের কার্যালয় জানায়, ক্ষমার আবেদনে সাড়া দেওয়ার আগে দুই পক্ষকে আদালতের বাইরে কোনো সমঝোতায় আসার চেষ্টা করা উচিত।

    ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার না করা এবং রাজনীতি থেকে অবসর না নেওয়া পর্যন্ত হারজগ তাঁকে ক্ষমা করতে পারেন না।

  • ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলের অভিযোগ

    ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলের অভিযোগ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলে সুলাইমান খান এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতনের কারণে তাঁর বাবার জীবন চরম ঝুঁকিতে। পরিবার দাবি করছে, গত আগস্ট থেকে ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে চিকিৎসা নিতেও দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, তিনি আদালতের আদেশে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী।

    ইমরান খানের ছেলে বলেছেন, আগস্টের পর থেকে কেউ তাঁর বাবার কোনো খোঁজ পাননি। ওই সময় সাবেক এই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

    ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী যুক্তরাজ্যের ধনকুবের জেমাইমা গোল্ডস্মিথের ঘরে জন্ম নেওয়া সুলাইমান খান অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার জীবন বিপন্ন। এই দীর্ঘ কারাবাসের জন্য তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন।

    ৭৪ বছর বয়সী খান দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। তাঁর পরিবার বারবার কারাগারে তাঁর ওপর হওয়া আচরণ এবং তাঁর আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

    ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ককে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

    সুলাইমান খান বলেন, পরিবার ও তাঁর বাবার আইনজীবীরা কয়েক মাস ধরে তাঁর কাছ থেকে কোনো বার্তা পাচ্ছেন না।

    ইমরান খানের ছেলে বলেন, তাঁর বাবা আগেই সতর্ক করেছিলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মতো তাঁরও একই পরিণতি হতে পারে। ২০১৯ সালে বিচার চলাকালে মুরসি আদালতে মারা যান।

    সুলাইমান খান আরও লিখেছেন, ‘আগস্টের পর থেকে কেউ আমার বাবাকে দেখেননি বা তাঁর কাছ থেকে কিছু শোনেনি। আগস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাঁর ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। মিসর সরকার যেভাবে মুরসিকে হত্যা করেছিল, এই শাসকগোষ্ঠীও সেভাবে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে।’

    গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মুনির উপেক্ষা করছেন বলে সুলাইমান অভিযোগ করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীদের নিয়মিত দেখা করার অনুমতি দেওয়া হোক।

    সুলাইমান আরও যোগ করেন, এটা স্পষ্ট, তারা তাঁর বাবাকে হত্যার চেষ্টা করছে। কারণ, তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তারা তাঁকে ভয় পায়। যদি সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যায়, তবে দায় কার, তা নিয়ে কারও ভুল করা উচিত হবে না।’

    পাকিস্তানের সরকার নির্যাতন ও নির্জন কারাবাসের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    তথ্য মন্ত্রণালয় গত আগস্টে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ইমরান খানকে সরকারের কোনো আদেশে আটকে রাখা হয়নি; বরং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে সাজা ভোগকারী ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ বন্দী।

    পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর সুলাইমান খান ও তাঁর ভাই কাসিম খানকে তাঁদের বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালাতে পাকিস্তানে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদের মুখেই এসব অভিযোগ সামনে এল।

    পরিকল্পিত প্রতিবাদের আগেই গত সেপ্টেম্বরে ‘পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্স’-এর অধীনে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, গত সোমবার তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও ইমরান খান পাকিস্তানে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রতিবাদকারীরা ইমরান খানের মুক্তি, কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এবং তাঁর পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগের দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দিকে ‘লংমার্চ’-এর আয়োজন করেছিল।

    ১১ অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন।

    সরকার আফগানিস্তান সীমান্ত–সংলগ্ন ওই প্রদেশে সশস্ত্র জঙ্গিদের তৎপরতাকে জরুরি অবস্থার কারণ হিসেবে দেখায়। তবে পিটিআই এই পদক্ষেপকে ‘জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে একধরনের অভ্যুত্থান’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।

  • এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যার বিচার, অভিযুক্ত এমপিপুত্র মিন্টুর ফাঁসি এবং নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টু ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, এমপিপুত্র মিন্টুর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল থেমে থাকবে না। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজ ছাত্রদল প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে, তা ১০ মিনিটের জন্য হলেও।

    কর্মসূচিতে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল ইসলাম নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ান আলী, সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব কুইকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অবস্থান কর্মসূচি থেকে শাকিল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। অভিযোগ, প্রথমে তাকে গুলি করা হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

  • ইরানে  ট্রাম্প চাই যুদ্ধ, ভ্যান্সের শান্তি চেষ্টা  : নেপথ্যে কী?

    ইরানে ট্রাম্প চাই যুদ্ধ, ভ্যান্সের শান্তি চেষ্টা : নেপথ্যে কী?

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি দিয়েছেন। নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারো শুরুর শেষ মুহূর্তের এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আল জাজিরা (২৯ অক্টোবর) জানায়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভ্যান্সের চিঠিতে দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আলোচনার পথ খোঁজার কথা বলা হয়েছে। চিঠিটি ইরানের নেতারা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে নির্দিষ্ট কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত দেয়া হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কথা হয়েছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চিঠিতে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভ্যান্স নিজেই মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন। গত জুনে দুই দেশের আলোচনায়ও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রেজাইয়ের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন। ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনায় রাখতে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ইরান রাজি হলে আগামী সপ্তাহেই কাতার অথবা তুরস্কে বৈঠক হতে পারে।

    ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তেহরান ‘কূটনীতিকে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে’। বৃহস্পতিবার রেজাইয়ের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়ার কথা।

    আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, রেজাইকে চিঠি দেয়ার মধ্য দিয়ে তেহরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নিয়ে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

    ভ্যান্স কি ট্রাম্পকে থামাতে পারবেন?

    ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়ে ভ্যান্সের অনীহা ট্রাম্পের তুলনায় বেশি বলে মনে করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আগে তিনি আরো জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পক্ষে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়েও তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তবে এবার চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের নির্দেশে নেয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, ট্রাম্পই ভ্যান্সকে চিঠি পাঠাতে বলেছিলেন। পরে ট্রাম্প তা অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সাথে যোগাযোগের অনুমতি ভ্যান্সকে দিয়েছিলেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল ইরানকে ‘চিকিৎসাসামগ্রী ও বিভিন্ন জিনিস’ দিয়ে সহায়তা করা।

    আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর আলি ভায়েজের মতে, তেহরান ভ্যান্সকে এমন একজন হিসেবে দেখে, যিনি প্রেসিডেন্টের কাছে নিজের কথা পৌঁছাতে পারেন এবং ব্যর্থতার মূল্যও বোঝেন। তবে ভ্যান্সের মাধ্যমে যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য দূর করা সহজ নয়।

    সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুজবেহ পারসি ভ্যান্সকে ট্রাম্প প্রশাসনে ইরান বিষয়ে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো প্রভাব ভ্যান্সের কখনোই ছিল না।

    আজিজিও বলেছেন, ভ্যান্সের আপত্তি ও ভিন্নমত সত্ত্বেও এক বছরের কম সময়ে দুটি যুদ্ধ হয়েছে। তাই তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ ও সামরিক হুমকিকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখে দেখে। শেষ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পই নেন, আর তাঁকে বিশ্বাস করা কঠিন—এ বিষয়টি ইরানের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোকে কেন সতর্ক করছেন ট্রাম্প?

    ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার শিকার হলে আরো কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোও তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি ২১ অক্টোবর বলেন, ‘আমাদের কৌশল হলো, কোনো সীমারেখা না মানা।’

    এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা কি আসন্ন?

    অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। আলি ভায়েজের মতে, হামলার ঝুঁকি ‘বিপজ্জনকভাবে বেশি’। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংযমের অবসান ঘটাতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

    ভায়েজ বলেন, ‘সামরিক প্রস্তুতি চলছে, আর কূটনীতির জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে।’ নির্বাচনের পর ট্রাম্পের ক্ষমতা কমে যাবে—এমন ধারণাও ভুল হতে পারে। বরং তিনি আরো বড় ঝুঁকি নিতে পারেন।

    রুজবেহ পারসির আশঙ্কা, নতুন সামরিক অভিযান ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রমাণের চাপে রয়েছে। ফলে এবারের সামরিক সংঘাত আরো বড় হবে, ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতও বাড়বে।’

  • তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

    এরপর স্বজনেরা তাহসিফের মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসার উদ্দেশে রওনা হন।

    এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মরদেহের পেট ফোলা ছিল বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ সময় তাহসিফের খালাতো ভাই জহির হাসান মরদেহটি শনাক্ত করেন।

    তবে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

  • কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড

    কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

    প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।

    হানিফ ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

    গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

    এর আগে, ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

    ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই বছরের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

    মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • গাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬

    গাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬

    ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৩৮ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭৪ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৮৬৭ জন।

  • ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ

    ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ

    যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারি প্রোগ্রাম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এবারের ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কিনা, তা জানতে অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম সংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান, মূলত তাদের জন্যই এই ডাইভারসিটি ভিসা লটারি প্রোগ্রাম।

    ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে। এবার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে সারা দেশের উৎসাহী আবেদনকারীদের নজর এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তালিকার দিকে।

    ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

    ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, কেবল সেইসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ নামে পরিচিত।

    ডিভি লটারিতে সাধারণত আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নির্ধারিত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

    মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনসুক ওহতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবিলম্বে এই লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী, ডিভি লটারির যাবতীয় যোগ্যতার শর্তাবলি ও নির্দেশিকা ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

    এরপর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। আবেদনের প্রক্রিয়া শেষে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।

    ২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের শরণাপন্ন হয়। যার ভিত্তিতে আদালত দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারির এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতখানি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

  • তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তিনি নিহত তাহসিফ সাউরির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এভাবে একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশবাসীর মনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’

    তিনি অভিযোগ করেন, তাহসিফ সাউরির নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা ও গাফিলতি রয়েছে।

    অথচ এসব সংস্থা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার পর এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।

    তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং তার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ’

  • আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি বেন গাভিরের

    আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি বেন গাভিরের

    ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দেশটির আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

    চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি ও কয়েকজন মন্ত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির বলেন, কাতারের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরব দলগুলোর প্রধানদের গ্রেফতারের নির্দেশ ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে ‘আজ সকালেই’ দিতে হবে।

    জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    বেন-গভির কয়েকজন মন্ত্রীর তোলা অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে এ দাবি জানান। ওই মন্ত্রীদের অভিযোগ, আরব দলগুলো কাতারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। তবে তারাও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

    নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

In English

English edition · Older English stories