BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তিতে রসূল সা:শেখানো ৫টি আমল

    অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তিতে রসূল সা:শেখানো ৫টি আমল

    জীবনে কখনো সুসময় আসে, আবার কখনো অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। আয় কমে যাওয়া, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সাহায্য কামনা করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    ইসলামে অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তির জন্য দোয়া, ইস্তেগফার, তাকওয়া এবং হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ঋণের বোঝা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। অর্থনৈতিক সংকটে যেসব আমল ও করণীয় অনুসরণ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো-

    ১. ঋণমুক্তির দোয়া পড়া

    ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি ঋণমুক্তির উপায় জানতে চাইলে তিনি নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দেন।

    দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

    অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল দিয়ে আমাকে এমনভাবে যথেষ্ট করে দিন, যাতে হারামের প্রয়োজন না হয়। আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত রাখুন। (তিরমিজি: ৩৫৬৩)

    এই দোয়ায় হালাল উপার্জনের মাধ্যমে অভাব দূর করা এবং অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত থাকার প্রার্থনা রয়েছে। তাই ঋণের চাপে থাকা ব্যক্তিরা আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়াটি পড়তে পারেন।

    ২. দুশ্চিন্তা ও ঋণের ভার থেকে মুক্তির দোয়া

    অর্থনৈতিক সংকট শুধু আর্থিক সমস্যাই তৈরি করে না, মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে। ঋণ পরিশোধের চিন্তা, সংসারের খরচ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া শিখিয়েছেন।

    দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

    অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের কাছে পরাভূত হওয়া থেকে। (বুখারি: ৬৩৬৯)

    দোয়াটিতে ঋণের বোঝার পাশাপাশি মানসিক অস্থিরতা, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে মুক্তির প্রার্থনাও রয়েছে।

    ৩. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

    অভাব-অনটন থেকে মুক্তি ও রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তেগফার। ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    পবিত্র কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)

    এই আয়াতগুলোতে ইস্তেগফারের সঙ্গে আল্লাহর নেয়ামত, ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত ইস্তেগফার করা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তবে ইস্তেগফারকে সম্পদ বৃদ্ধির যান্ত্রিক নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

    ৪. তাকওয়া অবলম্বন ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা

    অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাকওয়া অবলম্বন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়া অর্থ আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করা।

    আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: ২-৩)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিপদের সময় একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং তাঁর বিধান মেনে চলা। অর্থকষ্টের কারণে হারাম উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়া উচিত নয়। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং বৈধ উপায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করাই প্রকৃত তাওয়াক্কুল।

    ৫. হালাল উপার্জন ও ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা

    ইসলাম দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের জন্য পরিশ্রম করার নির্দেশনা দিয়েছে। তাই অর্থকষ্টে পড়লে শুধু দোয়া করে বসে না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী খরচ কমানো, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে কিস্তি বা পরিশোধের সময় নিয়ে আলোচনা করা উচিত। পাশাপাশি সুদ, প্রতারণা ও অন্যায় উপায়ে অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছার গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে তা পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।’ (বুখারি: ২৩৮৭)

    এ হাদিস থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিক নিয়তের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধের চেষ্টা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    অর্থকষ্ট ও ঋণের বোঝা মানুষের জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। তবে এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, নিয়মিত ইস্তেগফার করা, তাকওয়া অবলম্বন এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো পড়ার পাশাপাশি আর্থিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তাই বিপদের সময় তার রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে দোয়া, তওবা, পরিশ্রম ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করতে হবে।

  • যেসব কারণে এত বাজেভাবে হেরেছেন রিপাবলিকানরা

    যেসব কারণে এত বাজেভাবে হেরেছেন রিপাবলিকানরা

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে আসন হারাতে হয়। তবে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়কে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ, ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচারণা, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন—এই পাঁচটি বিষয় রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    ১. জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভোটার

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভোটারদের এই অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

    নির্বাচনের আগে উত্তর ক্যারোলাইনার এক ভোটার বলেন, ‘গ্যাসের দাম, মুদিপণ্যের দাম, সবকিছুরই দাম বাড়ছে।’

    তিনি জানান, এবার রিপাবলিকানদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

    জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলারের সামান্য নিচে ছিল।

    ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব উঠে এসেছে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জন (৭৯ শতাংশ) ভোটার বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ও তাদের পরিবার মাঝারি বা গুরুতর দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

    জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বেশি এ জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের নীতির কারণেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

    ২. ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ

    জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইরান যুদ্ধ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

    এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর। পেট্রলপাম্পে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে তাদের।

    যুদ্ধটি অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) সমর্থকদের অনেকের কাছেও এটি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না।

    একটি জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন (৬৩ শতাংশ) বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তিন-চতুর্থাংশ ভোটার (৭৪ শতাংশ) জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    নির্বাচনের পরদিন সকালে পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না।

    ৩. ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচারণা

    ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পেছনে শক্তিশালী প্রার্থীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিশেষ করে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে নিজেদের গ্রহণযোগ্য ও আন্তরিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন।

    প্রচারণায় তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সুসংহত বার্তা দিয়েছেন।

    টেক্সাসে সাবেক শিক্ষক জেমস টালারিকো এবং কানসাসে যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন নিজেদের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক অবস্থান এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    সাউথ ক্যারোলাইনায় অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুস। সাবেক এই শিশু বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। দেশটির অনেক নাগরিকই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন।

    মিশিগানে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল আল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের ধরে রেখেছেন। তার প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল, ‘রাজনীতি থেকে অর্থ দূর করুন, অর্থ আপনার পকেটে আনুন।’

    জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে প্রচারণার প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প দুবার জয়ী হওয়া এই রাজ্যে ৩৯ বছর বয়সি অসফের সহজ জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জল্পনা আরো বাড়াবে।

    এমনকি ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের প্রশংসা করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা ভালো কাজ করেছে।’

    অন্যদিকে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী দুর্বল প্রচারণার কারণে সমালোচিত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    ৪. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া রিপাবলিকানদের জন্য বোঝা

    ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান দুটি বিষয়—নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ—সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও।

    এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। এতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি রাজ্য এবার রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    নির্বাচনি প্রচারণায় সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ট্রাম্প ভোটারদের এমনভাবে কল্পনা করতে বলেন, যেন ব্যালটে তার নাম রয়েছে।

    তবে মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রে এক দশকের বেশি সময় ধরে থাকা ট্রাম্পের পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় রিপাবলিকান প্রচারণার কেন্দ্রে ট্রাম্পকে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তা দলের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে জনমত জরিপে দেখা যায়, অনেক মার্কিন নাগরিক চেয়েছিলেন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাদের উদ্বেগকে ট্রাম্প আরো গুরুত্ব দিন।

    কিন্তু সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শেষ নির্বাচনি ভাষণে তিনি হোয়াইট হাউসের পেছনে অবস্থিত রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

    ৫. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তাদের সমর্থন ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই প্রবণতা পাল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসীয় আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি আসনেই জয় পেয়েছেন।

    নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে। তথ্য প্রতিবেদক জেফ অ্যাডেলসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জনতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি।

    অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে ক্ষোভের মধ্যেই ভোটারদের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।

    কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতেও সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচন এখনো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলোম জয়ী হলে ১৯৮২ সালের পর তিনিই হবেন মিসিসিপি থেকে সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট।

  • হরমুজে মাইনে আঘাত পেয়ে ট্যাংকারে আগুন

    হরমুজে মাইনে আঘাত পেয়ে ট্যাংকারে আগুন

    হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে। এতে জাহাজটির যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর বিবৃতির বরাতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় একটি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পায়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্যাংকারটি তার শনাক্তকরণ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তেহরান বারবার জাহাজমালিকদের সতর্ক করে জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ। সমন্বয় ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অবৈধ জাহাজের জন্য এটি বন্ধ রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কানাডিয়ানদের ‘বিজয়’

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কানাডিয়ানদের ‘বিজয়’

    যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের যে ফল এসেছে, অনেক কানাডিয়ানই হয়তো এমনটাই চেয়েছিলেন। কারণ ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক জয়কে আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক মিত্রদের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বুধবার সকালে বলেন, ‘আমি আনন্দে রাস্তায় ডিগবাজি খাচ্ছিলাম।’

    তিনি একে ‘কানাডার জন্য একটি বিজয়’ বলে বর্ণনা করেন।

    মঙ্গলবার রাতের এই ফলাফল হয়তো খুব শিগগিরই কানাডাকে ওই শুল্ক থেকে স্বস্তি এনে দেবে না। তবে বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো অটোয়ার জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যাতে তারা ভালো কোনো সমঝোতা করতে পারে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

    ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ ও চাক শুমার, যাদের রাজনৈতিক প্রভাব এখন আরো বেড়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    তবু কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ শুল্কনীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে না-ও পারে। কারণ ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বেশির ভাগই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

  • আমি মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা

    আমি মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা

    ক্যাথলিক স্কুল ও বিভিন্ন ধর্মের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন নেটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশনে বড় হওয়া আদিবাসী নারী অ্যাঞ্জেলা। জন্মগতভাবে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলা জানান, অন্যান্য ধর্মের নানা মতবাদ তাকে বিভ্রান্ত করলেও ইসলামের শিক্ষার মাঝে তিনি তার দীর্ঘদিনের আত্মিক জিজ্ঞাসার প্রকৃত উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।

    এবাউট ইসলামকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেছেন।

    অ্যাঞ্জেলা বলেন, ‘আমার নাম অ্যাঞ্জেলা। সত্যি বলতে, আমার ইসলামের পথে যাত্রা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, তা আমি নিজেও খুব একটা জানি না। আমি একজন আমেরিকান হিসেবে বেড়ে উঠেছি। আমার শৈশব কেটেছে একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায়। জায়গাটি হয়তো আপনাদের অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। তবে আমরা ছিলাম খুবই আধ্যাত্মিক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি সব সময় সৃষ্টিকর্তার কথা বলতেন। তারা আমাকে নানা গল্প শোনাতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব কথা শুনে বড় হয়েছি। আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমাদের সব আদিবাসী শিশুকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সম্ভবত তাদের ধারণা ছিল, এভাবে আমাদের আরও বেশি আমেরিকান করে তোলা যাবে। সেখানে আমি দুই বছর কাটিয়েছি। কিন্তু সেখানকার কোনো কিছুই আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ওই দুই বছরে আমি শুধু একটি বিষয়ই বুঝতে পেরেছিলাম আমি নিশ্চিতভাবেই ক্যাথলিক নই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, ‘তোমার ধর্ম কী?’ আমি বলতাম, ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না।’ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করি, কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। এটি আমাদের জীবনযাপনেরই একটি অংশ। আমরা দিনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রার্থনার মধ্যে কাটাই। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সব সময় বলতেন, আমাদের এমনভাবে চলতে হবে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপই একটি প্রার্থনা। তাদের কথা ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রার্থনা হয়। আর তুমি যদি এভাবে জীবনযাপন করতে পারো, তাহলে বুঝবে তুমি সঠিকভাবে জীবন কাটাচ্ছ।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এই জীবনধারার কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। তাই যখন কেউ প্রশ্ন করত, ‘তোমার ধর্ম কী?’ তখন আমি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম। সব ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা একসময় আমি অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। সব ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলাম। যে ধর্ম সম্পর্কেই কিছু জানার সুযোগ পেতাম, আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইতাম, ‘এটা আসলে কী?’

    তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে আমার মনে হতো, ‘এটা তো ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’ আমি দিনে যতবারই প্রার্থনা করি না কেন, কখনোই তো সৃষ্টিকর্তা হয়ে যেতে পারব না। এটা তো সম্ভব নয়। এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। একসময় একজন মুসলিমের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘আরে! তুমি সত্যিই এসব করো? আমিও তো এমনটাই করি। ধীরে ধীরে আমার মনে হতে লাগল, ইসলাম সম্পর্কে আরও বেশি করে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। আমি ইন্টারনেটে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব পড়তে শুরু করলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবকিছুই আমার কাছে বেশ অর্থবহ মনে হতে লাগল। এর বেশির ভাগ বিষয়ই ছিল এমন, যা আমি আমার দাদা-দাদির কাছ থেকে আগেই শুনেছিলাম।’

    পবিত্র কোরআন পাঠ প্রসঙ্গে অ্যাঞ্জেলা বলেন ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। একদিন একটি মুদি দোকানে গিয়ে ছোট্ট একটি বইয়ের ঝুড়ি দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষ তাদের পুরোনো বই জমা দিত। অন্যরা সেসব বই কিনত, আর বিক্রির অর্থ দান করা হতো দাতব্য কাজে। বইয়ের স্তূপের একেবারে ওপরে ছিল ইসলামবিষয়ক বেশ কয়েকটি বই। আমি মনে মনে বললাম, ‘বাহ! দারুণ তো।’

    তিনি বলেন, ‘আমি পুরো স্তূপের বইগুলো কিনে বাড়ি ফিরলাম। এরপর সেগুলো পড়তে শুরু করলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, ‘এ তো সত্যিই অর্থবহ।’ এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম, পবিত্র কোরআন পড়ার চেষ্টা করব। আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম। প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কারণ, কোরআনে পড়া অনেক বিষয় আমার দাদার কাছ থেকে শোনা কথার সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল না। কিছু বিষয় আমার কাছে ভিন্ন মনে হচ্ছিল। তবুও আমি কোরআন পড়তে থাকলাম। একসময় আমার মনে হলো, ‘বাহ! আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি। অথচ কখনো জানতামই না।’ ধীরে ধীরে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হতে লাগল। ইসলামকে আমার কাছে অর্থবহ মনে হতে শুরু করল। আর আজ আমি এখানে।’

  • নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত

    নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে কৃষক বাবা আফসার শেখ (৬০) নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ছেলে খায়রুল শেখ (২৪) পলাতক রয়েছেন।

    পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বেকার ছেলে খায়রুল নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মায়ের সাথে বাগ্বিতণ্ডা করত। টাকা না পেয়ে মাঝে-মধ্যে বাড়ির বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র ভাঙচুরও করত। এরই জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবা আফসার শেখের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে খায়রুল। একপর্যায়ে খায়রুল বটি দিয়ে হাত, বুক, পেট ও মাথায় কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করে। এ সময় খায়রুলের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ঘটনার পর খায়রুল পালিয়ে যায়।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পলাতক ছেলে খায়রুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাঠে নামছেন ৭ লাখের বেশি মানুষ

    ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাঠে নামছেন ৭ লাখের বেশি মানুষ

    জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে সাত লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ) সদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।

    ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নগুলোর সমন্বিত জোটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্যারিসের বাইরে পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখ এবং রাজধানীতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন।

    উচ্চ বেতন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে এ আন্দোলনে শ্রমিক, সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এবারও ঠিক একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইজিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

    নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ’ নিশ্চিত করাই এ ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে আয়োজকদের করা আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে প্রশাসনিক আদালত। পুলিশ প্রিফেকচারের নির্ধারিত রিপাবলিক স্কয়ার থেকে নাসিওঁ স্কয়ার পর্যন্ত মিছিলের পথ বহাল রেখেছে আদালত।

    এর আগে ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বাস্তিল স্কয়ার থেকে জাতীয় পরিষদের কাছের কনকর্ড স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রাজধানীতে গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতা এবং সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়নি।

    এদিকে, দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহন খাতেও ব্যাপক বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক রেল চলাচলে মাঝারি থেকে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়তে পারে। এ রুটে প্রতি ১০টি উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের মধ্যে একটি বাতিল হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • চৌগাছায় সোনার দোকানে চুরি

    চৌগাছায় সোনার দোকানে চুরি

    এম এ রহিম,চৌগাছা, (যশোর):
    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ব্যাংক সড়কের বীণা জুয়েলার্সে দুর্ধষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে এ চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারনা করছেন। জুয়েলার্সের মালিক ইমরান হোসেন মিঠু জানান চোরেরা চার ভরি স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার বিশ ভরি ও নগদ টাকাসহ প্রায় দশ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন চোরেদের আটকের ব্যাপারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ,আর

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে কয়েক মাস ধরেই মতবিরোধ চলছে। এরআগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন এবং যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে সতর্ক করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শও দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে সীমিত পরিসরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে হামলা চালালেও তা নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

    এদিকে, নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। তবে নির্বাচনের আগে হামলা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিকমাধ্যমে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’ তার মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার দলটির পাশ থেকে সরে গেছেন।

    ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

    বর্তমানে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।

    কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে প্রশাসনের একাংশ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে। সব মিলিয়ে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ইরান নীতি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

  • বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

    বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

    কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এসব ভিডিও। সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পাওয়ার আগেই নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছিল টিকটক।

    সম্প্রতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এতে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরানো ভিডিওর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যাচাইয়ের পর ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বজুড়েও এ সময়ে বিপুলসংখ্যক ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। তিন মাসে বিভিন্ন কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১৮ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এসব ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল। আর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়। যাচাইয়ের পর ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৩টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওর পাশাপাশি মন্তব্য ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে টিকটক। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৩টি মন্তব্য সরানো হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮। এ ছাড়া ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী বলে সন্দেহ হওয়ায় আরও ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরিয়ে দেওয়া ভিডিওগুলোর ধরন সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে টিকটক। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভিডিওতে সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু ছিল। নিরাপত্তাসংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গের কারণে সরানো হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও। বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের কারণে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শালীনতা ও আচরণসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা কনটেন্টের কারণে সরানো ভিডিওর হার ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিকটক।

  • শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

    শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

    শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার দেশের সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

    এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা রয়েছেন।

    তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

    এনবিআর সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তালিকায় আরো রয়েছেন ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

  • সাইয়েদ-জুকাকু, দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

    সাইয়েদ-জুকাকু, দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

    তবে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আলোচনায় উঠে এসেছেন আরেকজন—স্ত্রী সারা জুকাকু। পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এই নারী শুধু একজন সম্ভাবনাময় মার্কিন রাজনীতিকের জীবনসঙ্গী নন, তার পারিবারিক শিকড় ছড়িয়ে আছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকাল পর্যন্ত।

    আবদুল আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সারার শিক্ষাজীবন, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের গল্পও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রায় দুই দশকের এই সংসারে একদিকে রয়েছে মিসরীয়-আমেরিকান সংস্কৃতি, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য। তাদের পরিবারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান।

    সারার গল্পের বিশেষত্ব হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার—সবকিছুর মধ্যেও তিনি ধরে রেখেছেন নিজের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক। স্বামীর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্জনের মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সারা যেন দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির এক অনন্য সংযোগ হয়ে উঠেছেন।

    মিশিগানে জন্ম, শিকড় কর্ণাটকের ভাটকালে

    সারা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠলেও তার পরিবারের শিকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকালে। তাদের পরিবার নাওয়ায়াথ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ম্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের দক্ষিণ ভারতের এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক কয়েক প্রজন্মের সম্পর্ক এখনো বজায় রয়েছে।

    সারার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিডি জাট্টির অধীনে তিনি অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্থানীয় পর্যায়ে ভাটকালের উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, সড়ক নির্মাণ, নগর পরিকল্পনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার অবদানের কথা এখনো স্মরণ করেন স্থানীয়রা। ভাটকালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থা আনজুমান হামি-ই-মুসলিমিন তাদের প্রশাসনিক ভবনের নামও রেখেছে তার নামে।

    জুকাকু শামসুদ্দিন মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান। তার পরিবারে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা বেগম, ছয় মেয়ে ও চার ছেলে। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তাদের অনেকে বেঙ্গালুরুতে বসতি গড়েন। এই পরিবারেরই একজন সারার বাবা চিকিৎসক ডা. জুকাকু এস তাইয়েব।

    চিকিৎসক বাবার হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি

    সারার বাবা তাইয়েবের শৈশব কেটেছে ভাটকালে। ১৯৭৬ সালে তিনি বেঙ্গালুরুর ব্যাঙ্গালোর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে মধ্যপ্রাচ্যে কিছু সময় কাটিয়ে ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে স্থায়ী হন।

    সেখানে তিনি কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের মধ্যেও ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও সারার কাছে ভাটকাল ছিল অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ছোটবেলায় তিনি বেঙ্গালুরু ও ভাটকাল সফর করেছেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পূর্বপুরুষের শহর সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।

    সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও সারা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ভারত সফর করতেন। ভাটকালে গিয়ে তারা পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও দাদার পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতেন। বর্তমানে এসব সফরের সংখ্যা কমে গেছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সারাও পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। সেখানে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    পড়াশোনা অক্সফোর্ড ও কলাম্বিয়ায়, পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

    সারা জুকাকুর নিজের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও নিকট প্রাচ্যবিষয়ক বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার জন্য ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাগেলোস কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে। ২০১৫ সালে সেখান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে মনোরোগবিদ্যায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

    সারা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগবিদ্যায় রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিশিগানের অ্যান আরবারে ব্যক্তিগত চেম্বারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখেন।

    অর্থাৎ স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সারার রয়েছে নিজস্ব পেশাগত পরিচিতি। চিকিৎসক হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীর রাজনৈতিক পথচলাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় থেকে দুই দশকের সংসার

    আবদুল আল-সাইয়েদ ও সারার পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থী সংগঠন মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা। ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের প্রেম ও বিয়ের আগের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত উঠে আসে।

    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দুজনের প্রেমের সময় দেখা-সাক্ষাৎ হতো পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে। বিয়ের আগে তারা শারীরিক স্পর্শ থেকেও বিরত ছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

    ২০০৬ সালের মে মাসে তাদের বিয়ে হয়। তখন সারার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে তাদের সম্পর্কের ভিত হয়ে উঠেছে পারস্পরিক আস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন। তাদের পরিচয় থেকে বিয়ে—পুরো ঘটনাই যেন দুই ভিন্ন পারিবারিক সংস্কৃতির এক মিলন।

    দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার, রাজনীতির মঞ্চেও পাশে সারা

    আবদুল ও সারার সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে—এমিলি ও সেরিন। তারা মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবন যতটা প্রকাশ্য, সারা ও তাদের দুই মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন ততটাই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন পরিবারটি। তবে ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনে সারাকে স্বামীর পাশে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে।

    বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ডেট্রয়েটে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। স্বামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সারা বলেন, আবদুল নিজের পরিবারের জন্য যেভাবে সব সময় পাশে থাকেন, মিশিগানের পরিবারগুলোর প্রতিও তিনি একইভাবে দায়িত্বশীল থাকবেন।

    নির্বাচনী প্রচারে তার উপস্থিতি শুধু একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং স্বামীর রাজনৈতিক দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবনের একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবেও তাকে সামনে নিয়ে আসে।

    এক নির্বাচনী সমাবেশে স্বামীকে নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘ওকে কে কী করতে বলবে, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না—শুধু আমি ছাড়া!’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা ও খুনসুটির প্রতিফলন দেখা যায় এই মন্তব্যে।

    ‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’

    আবদুল আল-সাইয়েদের পারিবারিক পরিচয় মিসরীয়-আমেরিকান। তার বাবা মোহাম্মদ আল-সাইয়েদ মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। অন্যদিকে স্ত্রী সারার পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ ভারতে। ফলে তাদের সংসারে দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে।

    দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবদুল প্রায়ই রসিকতা করেন। তার এমন একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে—‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি।’

    আরেকবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নিজেকে ‘দেশি নারীদের’ মধ্যে ঘেরা বলেও মজা করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বোঝাতে ‘দেশি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

    এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, স্ত্রীর ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্যকে তিনি কতটা আপন করে নিয়েছেন। তাদের সংসারে মিসরীয় সংস্কৃতি ও দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে।

    ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস, ভাটকালেও আনন্দ

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসরের পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলেই থাকল।

    তবে তার এই বিজয়ের আনন্দ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের কর্ণাটকের ভাটকালেও তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস।

    সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা আবদুলের সাফল্যে গর্বিত। তাদের কাছে তিনি একজন মূল্যবোধসম্পন্ন ও জনসেবায় নিবেদিত মানুষ।

    পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা না করলেও সারার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়।

    আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয় তাই ভাটকালের জুকাকু পরিবারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে পরিবারের পূর্বপুরুষ একসময় দক্ষিণ ভারতের একটি শহরের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই পরিবারেরই একজন উত্তরসূরি আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হতে যাওয়া একজন নেতার জীবনসঙ্গী।

  • বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। আগামী এক মাসের মধ্যেই শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

    ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও ইউনিটভিত্তিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি কার্যক্রম।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনলাইনে ভর্তির আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি। ওই দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। তবে পরীক্ষার পদ্ধতি ও পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    ‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্য ইউনিটগুলোর পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি। তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ মার্চ, ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ মার্চ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু: নতুন ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু: নতুন ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৬।

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • সৌদির কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের

    সৌদির কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের

    যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ বছর ধরে চালানো বিমান হামলা ও অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা এই অর্থ চাইছে।

    পাশাপাশি, ইয়েমেনের শাসক হিসেবে আনসারুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আরামকো স্থাপনা, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হুথিদের হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশেপাশে ভূখণ্ড দখলের ঘটনার পর রিয়াদ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

    হুথিদের ভাষ্যমতে, ৫১ বিলিয়ন ডলারের এই অঙ্কটি সৌদি আরবের হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের কারণে হওয়া ক্ষতির বিপরীতে চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা হলেও, সমঝোতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারের কোঠাতেই রয়েছে।

  • হামের টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন

    হামের টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন

    হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এ-সংক্রান্ত দায়দায়িত্বও পর্যালোচনা করবে কমিশন। হামের প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং টিকার সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিশন গঠন করা হলো।

    বুধবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’-এর ৩ ধারায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।

    বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কমিশনের কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে কেন বিলম্ব হয়েছে, কোথায় অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় কতটুকু, তা খুঁজে বের করবে কমিশন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিশন। কমিশনের বিবেচনায় এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়েও সুপারিশ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    তদন্তের প্রয়োজনে কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে কমিশনের।

    গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ অনুসরণ করে তদন্তকাজ সম্পন্ন

    করতে হবে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিশনকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা, ব্যয় নির্বাহ এবং জনবল সরবরাহ করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

    এ ছাড়া কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ অথবা এর অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বিভাগটি। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কমিশন গঠনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বললেন, গত ৫০ বছরে দেশে যে শিল্প-কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্প-কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ।

    সম্প্রতি ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে লাগাতার বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। ভাঙচুর চালানো হয় বিভিন্ন অবকাঠামোতে।

    এসব কর্মকাণ্ডকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী ভাই-বোন কিংবা শ্রমিক কখনো শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না।

    বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

    এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে অবগত। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন। ’

    বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

    পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

    এর আগে সকালে মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

  • ১৩১ বার পেছাল সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

    ১৩১ বার পেছাল সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। এ নিয়ে ১৩১ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় পেলো তদন্ত সংস্থা।

    বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    উল্লেখ, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

    এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    গত ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

  • মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    একইসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশ ও চীন একসাথে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

    এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব কথা জানিয়েছেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    আরও পড়ুন: বুড়িমারী সীমান্তে বিজিবি-স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা

    মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসায় চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • কমলাপুরে বৈদ্যুতিক তার ‘চুরি’ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    কমলাপুরে বৈদ্যুতিক তার ‘চুরি’ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর কমলাপুরে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রোমান প্রধান ওরফে লালন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন কমলাপুর পানির ট্যাংকির বিপরীত পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রোমান প্রধান মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চর জগমোহন গ্রামের সিরাজ বেপারীর ছেলে। তিনি রাজধানীর মান্ডার প্রথম গলিতে রাজা মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এরশাদ হোসেন জানান, ভোর রাতের কোনো এক সময় কমলাপুর পানির ট্যাংকির বিপরীত পাশে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রোমান। পরে পথচারীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এসআই এরশাদ হোসেন আরো জানান, তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ,আর

  • দেশে আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশে আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম তিন হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করে ভ্যাটসহ দুই লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    তেজাবি (পাকা) স্বর্ণের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রূপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশাভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

    বাজুস আরো জানিয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সাথে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    এছাড়া মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার বিনিময়ের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ভ্যাট নেয়া যাবে না।

    এর আগে, গত ২ নভেম্বর সকালে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেট দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    এদিকে দেশের বাজারে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট রূপা প্রতি ভরি তিন হাজার ৪৯৯ টাকায়, ২১ ক্যারেট তিন হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট দুই হাজার ৯১৬ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির রূপা দুই হাজার ২১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • আশুগঞ্জে স্ত্রীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    আশুগঞ্জে স্ত্রীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দগ্ধ ইখতারা সরকার (৩০) নামে ওই গৃহবধূর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত শনিবার ভোরে উপজেলার চরচারতলা এলাকার সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ইখতারা ওই এলাকার ঈদন সরকারের মেয়ে। তার স্বামী জাহাঙ্গীরের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের পাশাপাশি স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করতেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে মারধরের শিকার হয়ে দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।

    স্বজনদের দাবি, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। পরদিন ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ইখতারার মা ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢুকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তার চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।

    ইখতারার গলা ও কণ্ঠনালীসহ শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    আশুগঞ্জ থানার ওসি মো: আনিসুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এ,আর

  • জীবননগরে রেলস্টেশন চালুর দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ

    জীবননগরে রেলস্টেশন চালুর দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, রেলপথ সংস্কার ও নিয়মিত ট্রেন চলাচলের দাবিতে রেলপথ অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে অবরোধ কর্মসূচির কারণে উভয়দিকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন রক্ষা ও উন্নয়ন সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে জীবননগর ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

    আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো— ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে একজন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দিতে হবে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত রেলপথের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে এবং এই রুটে নিয়মিত রেলসেবা চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

    কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আবেগের সাথে জড়িয়ে আছে। এক সময় এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত ট্রেন চলাচলের অভাবে স্টেশনটি কার্যত তার স্বাভাবিক কার্যক্রম হারিয়েছে। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

    তারা আরো বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশন এভাবে অবহেলিত থাকতে পারে না। জনস্বার্থে স্টেশনটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, রেলপথ সংস্কার এবং নিয়মিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিম খান, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা হারুন অর-রশিদ প্রমুখ।

    মানববন্ধন কর্মসূচিতে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আনসারবাড়ীয়া স্টেশনটি চালুর দাবি জানান।

    উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন সচল ও উন্নয়নের দাবিতে স্থানীয় জনগণ আন্দোলন, মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তবে দীর্ঘদিনেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে আবারো আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের রেলসেবার দাবি বাস্তবায়ন করবে। এ,আর

  • পুলিশকে আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    পুলিশকে আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    চলমান আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যা হয়েছে কোথাও যদি হয়ে থাকে, এটাকে আন্দোলন নাকি রাজনৈতিক এজেন্ডা নাকি সহিংসতা, এটা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। ’

    তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি ছিল আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা

    সরকার যথেষ্ট আগেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছে। শ্রমিকপক্ষ নাম দেওয়ার পরদিনই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ‘মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর পরপর মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে হারে বৃদ্ধি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করে যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। ’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব। সরকারের উদ্দেশ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।

    চলমান সহিংসতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন যে সমস্ত কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তার দাবি কী? কোনো দাবি তো নেই। তারা কিছু এখানে শ্রমিক নয়, সেরকম ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নামে তারা অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা করছে, অগ্নিসংযোগ করছে, কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। ’

    তিনি বলেন, এ ঘটনায় অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এমন কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মাফিয়া শক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কোনো ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার কথা শুনতে প্রস্তুত। এ জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। তারাও স্বীকার করেছেন, বর্তমান সহিংসতা শ্রমিকদের আন্দোলন নয়। বরং কেউ কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ নিচ্ছেন।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর অনেক সদস্য হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তারা যথাসম্ভব শ্রমিকদের গায়ে হাত দেননি। কারণ, শ্রমিকদের কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে তারা জানেন।

    শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। তাই এখন আন্দোলনের প্রশ্ন আসে না।

    তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ডকে নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হলে সেটি সবচেয়ে ভালো হবে।

    সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি আটক হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই। আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

  • নলডাঙ্গায় সারের জন্য কৃষকের দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

    নলডাঙ্গায় সারের জন্য কৃষকের দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় চাহিদামতো সার না পেয়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। ডিলারের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ অনুযায়ী সার থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছেন এবং পর্যাপ্ত মজুত নেই বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার মাধনগর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে সারের তীব্র সঙ্কট ও তা সংগ্রহে কৃষকদের সীমাহীন ভোগান্তি ও হাহাকারের চিত্র দেখা যায়।

    এদিকে কৃষকদের অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা থেকে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা প্রচুর। অনেকে ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। কৃষকরা সার নিতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই বিভিন্নভাবে টোকেন দিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়েও সার নিয়ে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে টোকেন নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার অনেকে চাষাবাদ না করলেও ভ্যান ভরে সার নিয়ে যাচ্ছে।

    তাই সার বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কৃষকরা অনুরোধ করেন, সঠিক তদারকির মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হোক। যাতে প্রকৃত কৃষক তার চাহিদা অনুযায়ী সার পায়।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, সারের কোনো সঙ্কট নেই। সারের কোনো কৃত্রিম সঙ্কট যেন তৈরি না হয় এবং ডিলাররা যাতে সঠিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

    এছাড়া কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। এ,আর

  • কাউখালী উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু

    কাউখালী উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মো: শাহজাহান (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহজাহান পিরোজপুর সদর উপজেলার মাসুমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাউখালী উপজেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিরাজ হোসেনের বাবা। কয়েক দিন আগেই তিনি ছেলের বাসায় বেড়াতে আসেন।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মো: শাহজাহান কাউখালী উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসল শেষে তিনি আর বাসায় ফিরে যাননি। পরে দুপুরে এলাকাবাসী পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

    কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: নাহিদ হাসান জানান, পানিতে ডুবেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: এবাদ আলী বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুকুর থেকে বৃদ্ধ শাহজাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ,আর

  • কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোনারগাঁও থেকে গ্রেফতার

    কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোনারগাঁও থেকে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১১।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১১-এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)-এর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন।

    এসআরবি-১১-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগারে সঙ্ঘটিত দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্য বন্দীদের সাথে তিনিও পালিয়ে যান।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ আগস্ট সকালে কারাবন্দীরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কারারক্ষীদের জিম্মি করেন। পরে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে।

    এসআরবি জানায়, কারাগার থেকে পালানোর পর আবু মোকারম গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

    এসআরবি আরো জানায়, ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় করা ওই মামলায় আবু মোকারম ছিলেন এক নম্বর আসামি।

    পারিবারিক শত্রুতার জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

    গ্রেফতার আসামি আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দ্রনাইশ থানার উত্তর বরকল গ্রামের আবু তালেবের ছেলে।

    গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ,আর

  • রামগড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    রামগড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজসহ সুপায়ন মারমা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীত গ্রুপের চাঁদা সংগ্রহকারী সদস্য বলে জানা যায়।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার প্রেমতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক সুপায়ন মারমা লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার মরমছড়ি গ্রামের মৃত রেদাচাই মারমার ছেলে।

    সেনাবাহিনী জানায়, ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির সিন্ধুকছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সালের নেতৃত্বে একটি টহল দল রামগড়ের দুর্গম প্রেমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুপায়ন মারমাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চাঁদা সংগ্রহের বই, নগদ এক হাজার ৩১৯ টাকা, দু’টি মোবাইল ফোন, একটি দেশীয় তৈরি লোকাল গান (এলজি) ও দুটি তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। পরে, রামগড় থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক সুপায়নকে থানায় নিয়ে যায়।

    রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এ,আর

  • ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যান দ্বিখণ্ডিত, চালক নিহত

    ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যান দ্বিখণ্ডিত, চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের ঝিকরগাছায় খুলনাগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় আতিয়ার রহমান (৫৫) নামে এক কাভার্ড ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীরদরগাহ ফিলিং স্টেশন থেকে জয়কৃষ্ণপুরগামী সড়কের একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আতিয়ার রহমান ঝিকরগাছার কাটাখাল কলোনিপাড়ার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে মুরগির খাদ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান জয়কৃষ্ণপুরগামী সড়কের একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। এ সময় খুলনাগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে আসে এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে ভ্যানটির কেবিন মূল বডি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয় লোকজন চালককে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের দাবি, অরক্ষিত রেলক্রসিংটিতে কোনো গেটম্যান নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।

    যশোর জিআরপি পুলিশের এসআই লিটন বলেন, খুলনাগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এক কাভার্ড ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই, তবু চলছে প্রোপাগান্ডা

    হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই, তবু চলছে প্রোপাগান্ডা

    মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। তবে তার দেশে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা প্রোপাগান্ডা। নাশকতার মাধ্যমে সারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টাও করা হচ্ছে।

    এরই অংশ হিসেবে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে দলটির বেশকিছু নেতাকর্মীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

    ফ্যাসিস্ট হাসিনার কথিত ‘ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা’কে ঘিরে দেশ-বিদেশে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এর অংশ হিসেবে তারা নাশকতা আর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের নামে দলের তথাকথিত ‘শক্তি প্রদর্শন’-এর চেষ্টা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোপন লবিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃতপক্ষে হাসিনা দেশে ফিরবেন না। তবে জুলাই বিপ্লবের পর ভয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া নেতাকর্মীদের মনোবল ফেরানো, ঝিমিয়ে পড়াদের চাঙা রাখা এবং দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানান দিতে এ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের মাঠে ধরে রাখতে নতুন কোনো ঘোষণা আসবে।

    বিগত দেড় দশকের নির্বিচারে গুম-হত্যা, ভোটাধিকার হরণ, আর্থিক খাতের লুটপাট, আয়নাঘরের নির্যাতন এবং জুলাই বিপ্লবের সময় ১,৪০০ মানুষকে হত্যার দায় নিয়ে হাসিনার দেশে ফেরার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলেন, জুলাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তীব্র ঘৃণা ও ঐতিহাসিক গণধিক্কারের কারণে রাজনৈতিকভাবে তার ফেরার পথ চিরতরে অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজনকে সুযোগ হিসেবে নিতে চায় ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ। তারা নাশকতা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

    ছাত্র-জনতার বিপ্লবে চব্বিশের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা। পলাতক অবস্থাতেই জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আদালতের আদেশের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে চিঠি (কূটনৈতিক পত্র) দেয় বাংলাদেশ। পরে ভারতের তরফ থেকে বিষয়টিকে আইনি উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।

    দুই দেশের চিঠি চালাচালির মধ্যেই প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাতে হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অপতৎপরতা শুরু হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নগণ্যসংখ্যক নেতাকর্মী দিয়ে ঝটিকা মিছিল শুরু করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলটির বিদেশে পলাতক নেতারাও প্রস্তুতি সভাসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমসহ আওয়ামী বয়ান তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ইউটিউব চ্যানেলে টকশো, পডকাস্টসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ হাসিনার সাক্ষাৎকারও নিচ্ছেন। বিদেশে পলাতক নেতারা হাসিনার সঙ্গে ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার ঘোষণাও দেন। কেউ কেউ হেলিকপ্টারে আসার কথাও বলেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থকরা এও বলতে শুরু করেছেন, হাসিনা দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। ব্যাপক হারে গুজব ছড়ানো ও ফেক নিউজ প্রচারের ঘটনাও ঘটছে। নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তারা জনগণের মাঝে বিশ্বাস তৈরি করাতে চাচ্ছেন, হাসিনা ফিরবেনই।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার দূরত্ব বৃদ্ধির সুযোগে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। দলটিকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের ঠেলাঠেলির ফাঁকে ওই দলই সুবিধা পাচ্ছে। এ সময় দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে তারা। চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গেও তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উসকে দেওয়া, শিল্পাঞ্চলগুলোয় কৃত্রিম শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে অর্থনীতিকে পঙ্গু করার পাঁয়তারা এবং গোপনে ঝটিকা মিছিলের ভিডিও তৈরি করে বিদেশে অবস্থানরত নেতৃত্বকে নিজেদের সক্রিয়তা দেখানোর অপপ্রয়াস নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাক শ্রমিকদের কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগ সন্ধানী ও ফ্যাসিস্টের সমর্থকরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছেন। তারা ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী এর সঙ্গে জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    এদিকে, হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে তার দলের একটি অংশকে সক্রিয় করতে পারলেও বড় অংশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধরপাকড়ের মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বড় অংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করে। পাশাপাশি দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকা একটি অংশও আত্মপ্রকাশ করে নিজ নিজ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনাসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করার সুযোগ পায়। তবে হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় এসব নেতাকর্মী আবার চাপে পড়েছেন। ডিসেম্বর সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও শুরু করেছেন তল্লাশি কার্যক্রম। এতে অনেকটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আবার গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাড়িঘর ছেড়ে পলাতক জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

    একদিকে হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, অন্যদিকে আইনি বাস্তবতা এবং ভিসা বা ট্রাভেল পাসজনিত বাস্তবতার পাশাপাশি সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে তার এই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    দেশে ফেরার প্রস্তুতি প্রশ্নে সম্প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, তার প্রস্তুতি তেমন কিছু না। কারণ, তার পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড বন্ধ। টিকিট করতে গেলে করা যায় না। তবে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে জানান, যেভাবে হোক তিনি যাওয়ার একটি ব্যবস্থা করবেন। দেশে ফেরার বিষয়ে সবকিছু গুছিয়ে ফেলেছেন বলেও জানান তিনি।

    এদিকে, বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুত করার খবর প্রচার হলেও বিষয়টি সত্য নয় বলে হাসিনা নিজেই উল্লেখ করেন। এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমাকে ট্রাভেল পাসের জন্য বলতে হবে—হয় আমার পাসপোর্ট অ্যাক্টিভেট করে দিতে হবে, না হয় আমাকে ট্রাভেল পাস দিতে হবে, যাতে আমি দেশে ফিরতে পারি। ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট না পেলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান। তবে ব্যবস্থাটা কী, তা জানাতে রাজি হননি।

    তার দেশে ফেরার ইস্যুতে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন হাসিনা নিজেই। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্প্রতি অনলাইনে যুক্ত হয়ে হাসিনা সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং আঘাত এলে পাল্টা আঘাতের নির্দেশ দেন। এ সময় সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় জড়ো হবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। জবাবে হাসিনা কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এত লম্বা লম্বা কথা বলো, আওয়ামী লীগ অফিসটা তো এখনো উদ্ধার করতে পারোনি। এক-দেড়শ লোক নিয়ে গেলে কি তোমাদের মেরেকেটে শেষে করে দেবে? আবার বলছ লাখ লাখ লোক আনবে। বাস্তবসম্মত কথা বলবা।’

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে প্রকারান্তরে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’

    আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট আমলে গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্প্রতি একটি টকশোতে যুক্ত হয়ে বলেন, হাসিনার সঙ্গে তার মাঝেমধ্যে কথা হয়। তিনি দেশে ফেরার কথা তাকে একাধিকবার বলেছেন। যেভাবে হোক, যে করেই হোক, তিনি ফিরবেন। উনি একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কবে ফিরবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি। হয়তোবা ওনার সময় চূড়ান্ত হয়নি। আর হলেও তা প্রকাশ করার সময় হয়নি বলেই বলেননি।

    সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টারাও হাসিনার দেশে আসার ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। তবে হাসিনার দেশে আসার হুমকিতে তারা বিচলিত নন। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ তাকে ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার গলায় মালা যাওয়ার আগেই আইনের হ্যান্ডকাফ হাতে পৌঁছে যাবে।

    প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে হাসিনাকে ফেরত পেতে প্রতিবেশী দেশের কাছে বারবার আবেদন করার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কে কখন আসতে চায় বা না চায়, এটা নিয়ে সরকার মোটেও বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যে যখনই আসুক, তাদের আইনানুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। এ দেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে বলে মনে করি না। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

    তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘উনি ঘোষণা দিয়েছেন, উনি আসবেন কি আসবেন না, এটা সময় বলে দেবে। তবে আমি মনে করি, ওই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়নি। কারণ, চব্বিশের হত্যা ও অত্যাচারের ট্রমা থেকে দেশের মানুষ এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না। তাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনা স্বেচ্ছায় এলে সরকার খুশি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যাকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের ধরেবেঁধে আনতে হলো না। উনি এলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে ন্যায়বিচার দিয়ে আমরা প্রতিশোধ নেব।

    হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই—এমনটি জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই ছয় মাস আলোচনায় থাকলেন। নিশ্চিত থাকুন—এরপর বলবেন ডিসেম্বরে না, জুনে আসব। এতে নতুন করে আরো ছয় মাস আলোচনায় থাকবেন। পরে বলবেন ডিসেম্বর। এভাবে চলতে থাকবে।

    এক ডাকাত পালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেব পতনের পর পালিয়ে যাননি। উনি কী এমন করেছেন যে, বায়তুল মোকাররমের ইমাম নিয়ে পালিয়ে যেতে হলো? সেই মানুষ আবার দেশে আসবেন! অসম্ভব।’

    হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক। আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত এবং হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ ও আদালতের দণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। দেশে ফিরলে তাকে প্রথমেই আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। বয়স ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে আরো জটিল করে তুলেছে। তার দেশে ফেরার এ ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার একটি কৌশল বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

    হাসিনাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জেনেছি, নির্বাচনের আগে উভয় দলই আওয়ামী লীগের ভোট ও সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। পরে তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটিকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে বিএনপি কিংবা জামায়াত—কোনো দলের জন্যই তা স্বস্তিদায়ক হবে না। হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলকে সংগঠিত ও সক্রিয় করার অংশ বলে অভিমত অধ্যাপক সাহাবুলের।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল আমার দেশকে বলেন, হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু ‘ঘোষণা’ হিসেবেই মনে করার সুযোগ রয়েছে। যদিও তার চেহারা দেখা যায়নি, কণ্ঠ শোনা গেছে। ওই কণ্ঠকে আপাতত অস্বীকার করা যাচ্ছে না। অপরদিকে তার ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেশ-বিদেশে যেসব পদক্ষেপ দেখছি, সেটাও বিবেচনায় নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    এর আগেও হাসিনা চট করে চলে আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, পার্থক্যের জায়গা হলো, এবার তিনি অনেকটা টাইমফ্রেম ঘোষণা করেছেন। কাজেই বিষয়টি আমলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার দেশে এলে যে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, সেটাও ভাবনার বিষয়। তবে তার দেশে ফেরাকে যারা হুমকি মনে করেন, সেটা বর্তমান সরকার হোক বা বিরোধী দল হোক, সবারই বিষয়টি আমলে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    তিনি বলেন, হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে থাকলে সেটা ভিন্ন কথা।

    ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা তৈরির সর্বাত্মক চেষ্টা করবে বলে মনে করেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। আমার দেশকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা বলা মুশকিল। এগুলো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বিষয়। তবে তারা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

    জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে সরকার ও বিরোধী দলসহ ফ্যাসিস্টবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্যের বিকল্প নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রবল জনমত তৈরি করতে হবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশে খুন-গুম, লুটতরাজ, অর্থপাচারসহ যেসব অরাজকতা সৃষ্টি করেছিলেন, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সদা জাগ্রত করতে হবে।

    ( সুত্র: দৈনিক আমার দেশ )

  • টাঙ্গাইলে শিশুপুত্র হত্যার দায়ে সৎ মায়ের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশুপুত্র হত্যার দায়ে সৎ মায়ের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে সাবরিনা নাহার সিনথী নামে এক সৎ মাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এই দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সিনথী (২৪) রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মো: আলাউদ্দিনের মেয়ে।

    টাঙ্গাইল দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমন ২০০৯ সালে কালিহাতীর এলেঙ্গায় লিজা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে সাইফ আহমেদ নামে এক ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু মনোমালিন্যের কারণে ইমনের সাথে লিজার তালাক হয়ে যায়।

    পরে ২০১৮ সালে প্রেমের সূত্র ধরে সিনথীকে বিয়ে করেন ইমন। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী সিনথীকে নিয়ে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। আর শিশু সাইফ থাকতো তার দাদার কাছে।

    ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ইমন তার ছেলে সাইফকে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরদিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইমন বাইরে থাকার সুযোগে সিনথী পরিকল্পিতভাবে সাইফকে ওড়না দিয়ে হাত-পা ও নাক-মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে এবং পরে পানি ভরা বালতিতে মাথা ডুবিয়ে হত্যা করেন।

    এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি শিশু সাইফের দাদা সরোয়ার হোসেন টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে সিনথীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একপর্যায়ে শিশু সাইফকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সিনথী।

    ২০২০ সালের ১৪ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। বিচার শেষে সৎ মা সিনথীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

    আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শেফালী আক্তার। এ,আর

  • ভারতে আ.লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে চৌগাছার শফিকুল আটক

    ভারতে আ.লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে চৌগাছার শফিকুল আটক

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ধুলিয়ানী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার কাবিলপুর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

    শফিকুল ইসলাম উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের সোনাই মণ্ডলের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতার একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।

    শফিকুলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালের ২৪ মে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জেলার ১৪ জন শীর্ষ মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন। ওই তালিকার চার নম্বরে ছিলেন শফি মেম্বার ওরফে শফিকুল ইসলামের নাম।

    পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলে ওই সময় তিনি বিদেশে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৭ সালের ২৮ মে চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

    স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও চৌগাছায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা বজায় রাখতে শফিকুলেরে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় তার বাড়ি হওয়ায় ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রক্ষায়ও তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন বার্তা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

    চৌগাছা থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী বাবুল হোসেন শফিকুলের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শফি মেম্বার ওরফে শফিকুলের বিরুদ্ধে ডজনের বেশি মাদক মামলা রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • মার্কিন নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই সিনেটরের জয়

    মার্কিন নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই সিনেটরের জয়

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক। জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। এ ছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সদস্য আবুল খানও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।

    জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে শেখ রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সাধারণ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হয়নি তাকে। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফলে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পান তিনি। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয় ৫ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছিলেন।

    বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন শেখ রহমান।

    এদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলেও তার জয়ের তথ্য উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনে তিনি মোট কত ভোট পেয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

    মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন।

    অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম ৩০ আসন থেকেও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খান। এ আসনে দুজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনি ফলাফলের তালিকায়ও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই আসন থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

    বাংলাদেশের পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এর আগে ছয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আরেকটি অর্জন যোগ করল।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা হলেন শেখ রহমান, নাবিলা ইসলাম পার্কস, নূরুন নবী, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খান। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে নাবিলা ইসলাম পার্কস ও নূরুন নবীর প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে এবারের নির্বাচনে তাদের ফলাফল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

  • মহেশপুর ৫৮ বিজিবি আটক করল বিপুল পরিমাণ মাদকদব্য।

    মহেশপুর ৫৮ বিজিবি আটক করল বিপুল পরিমাণ মাদকদব্য।

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ান(৫৮ বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষার সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করেছে।

    গত ৩ নভেম্বর২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ৮:৩০ ঘটিকায় মহেশপুর ব্যাটালিয়ান(৫৮ বিজিবির অধীনস্থ সামন্তা বিওপির সিমানা এলাকার সীমান্ত পিলার ৫৯/২ এস হতে আনুমানিক০১কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুন কোলা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের কাঁচা রাস্তা হতে হাবিলদার মোঃ একলিম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। আসামি বিহীন২৯০ বোতল ভারতীয় সিরাপ( wincerex syrup) আটক করা হয়।আজ ৪ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ

    আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় মহেশপুর ব্যাটালিয়ান(৫৮ বিজিবি এর অধীনস্থ মাধবখালি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সিমান্ত পিলার৭১/ এম পি হতে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের মোঃ আলমের আমবাগানের মধ্য হতে নায়েক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। আসামি বিহীন ভারতীয় ১০০১ পিস ভায়াগ্রা আটক করা হয়। সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ( ৫৮বিজিবি)তথা মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান মহেশপুর সীমান্তে মাদক, চোরা চালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ সহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক ও সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে। মহেশপুরের স্থানীয় মানুষ মহেশপুর ব্যাটেলিয়ানের প্রতিনিয়ত এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রশংসা করছে। এ,আর

  • দিনাজপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু

    দিনাজপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে রুনা লায়লা (৪৭) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তরে গণকবর বস্তিসংলগ্ন রহমতনগর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুনা লায়লা সৈয়দপুরের আল-ফারুক স্কুলের বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।

    পার্বতীপুর রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুন নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    জানা গেছে, বুধবার সকালে রুনা লায়লাকে গুলপাড়া রেলগেট এলাকায় রেললাইনের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করে স্থানীয় কয়েকজন তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    এ বিষয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুন নবী জানান, শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: ১৯ নভেম্বর রায়  আন্তর্জাতিক আদালতের

    রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: ১৯ নভেম্বর রায় আন্তর্জাতিক আদালতের

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে আদালত এ ঘোষণা দিয়েছে।

    আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এ রায় ঘোষণা করা হবে। ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে। মামলার কার্যক্রমে ১১টি দেশও অংশ নিয়েছে।

    ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা সনদ অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে গাম্বিয়া। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলাটি দায়েরের সিদ্ধান্তকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। কয়েক দশক ধরে তারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে আসছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর রাখাইন রাজ্য থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ওই অভিযানে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

    জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেছে। কানাডাভিত্তিক অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির এক প্রতিবেদনেও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে।

    দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ে গণহত্যা সনদের অধীনে মিয়ানমারের দায় ও আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

  • এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর

    এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর

    এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ৫ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফি জমা দেওয়া যাবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার ফি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে। টাকা জমা দেওয়ার রসিদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে।

    পরীক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় প্রতি বিষয়ের জন্য ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতি বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা ফি দিতে হবে। এর সঙ্গে কেন্দ্র ফি বাবদ দিতে হবে ৪৫০ টাকা। সে হিসাবে এক বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মোট ৬০০ টাকা জমা দিতে হবে।

    পরীক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা ও ফরম পূরণের তালিকা শিগগিরই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ফি জমা দেওয়ার এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর তালিকা যাচাই করে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নেওয়া হবে। তালিকার প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বাক্ষর থাকতে হবে। পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ তালিকার প্রিন্ট কপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে।

    এর আগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থী।

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১,২৬৯

    হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১,২৬৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০১ জন রোগী।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৬৬

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৬৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৮৬৬ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৬৮ জন, ময়মনসিংহে ৬৬, চট্টগ্রামে ২৫৬, খুলনায় ২১৫, রাজশাহীতে ১৭১, রংপুরে ৭১, বরিশাল বিভাগে ২০৬ জন এবং সিলেটে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫,৯৩৬ জন। আর হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৪৫ জনের।

    চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই যথাক্রমে খুলনা বিভাগে ৮২, চট্টগ্রামে ৪৩, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩০, রাজশাহীতে ২৯, রংপুরে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন মারা গেছেন।

  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আঁশজাতীয় খাবার

    স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আঁশজাতীয় খাবার

    খাদ্য আঁশ বা ফাইবার শুধু হজমে সাহায্য করে না, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এসব বিষয় স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের এক আলোচনা সভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনের মাধ্যমে স্ট্রোকের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

    উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। খাদ্য আঁশ অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর কার্যক্রমে সাহায্য করে। এসব জীবাণু আঁশ ভেঙে কিছু উপকারী পদার্থ তৈরি করে, যা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ডাল, শাকসবজি, ফলমূল ও গোটা শস্যে প্রচুর আঁশ থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

    কোলেস্টেরল কমাতে

    রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেড়ে গেলে রক্তনালির দেয়ালে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে পারে। এতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। আঁশসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে ওটস, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, পেয়ারা, আপেল, ঢ্যাঁড়শ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। এসব খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে

    রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেশি থাকে।

    খাদ্য আঁশ খাবার হজম ও শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সাহায্য করে। এতে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

    তাই সাদা চালের ভাতের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে লাল চাল, লাল আটার রুটি, ডাল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ আস্ত ফলে আঁশ থাকে। ইটিংওয়েল সাময়িকীতে উল্লেখিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ গ্রাম খাদ্য আঁশ গ্রহণ করলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ১০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম হতে পারে। তবে এই ফলাফল ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

    কীভাবে আঁশের পরিমাণ বাড়াবেন

    খাদ্য আঁশের পরিমাণ বাড়াতে প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারেন।

    • প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি খান।

    • পেয়ারা, আপেল ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ ফল খান।

    • নিয়মিত ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটি খান।

    • সম্ভব হলে পরিশোধিত শস্যের বদলে লাল আটা ও গোটা শস্য বেছে নিন।

    • খাবারে ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ান।

    • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    হঠাৎ করে অনেক বেশি আঁশ খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো ভালো।

    স্ট্রোক প্রতিরো

    ধে আরো যা জরুরি

    শুধু আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি দূর হয় না; রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করাও জরুরি। খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমাতে হবে। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ ও গোটা শস্যের সমন্বয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত খাদ্য আঁশ রাখা রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এসব অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • কীটনাশক ছাড়াই সবজি চাষ সবজি চাষ সাফল্য

    কীটনাশক ছাড়াই সবজি চাষ সবজি চাষ সাফল্য

    রাসায়নিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ছাড়াই উপকারী এন্ডোফাইটিক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে বর্ষাকালে বেগুন ও ঢ্যাঁড়শ চাষে আশাব্যঞ্জক সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) গবেষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল হকের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়, যেখানে সহযোগিতা করেছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রকল্প।

    এর আগে এ পদ্ধতিতে আলু চাষেও সফলতা এসেছিল। গবেষক দলের তথ্য অনুযায়ী, একই কৃষিজমিতে প্রায় চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগের ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় ইউরিয়া ও টিএসপি সারের ব্যবহার কমানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও মাটির উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যেও নিচু জমিতে চাষ করা বেগুন ও ঢ্যাঁড়শ গাছে কোনো ভাইরাসজনিত রোগ, ঢলে পড়া বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়নি।এ গবেষণার অংশ হিসেবে দেশে তরল জৈবসার উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষায়িত যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।

    গবেষকেরা জানান, ‘সয়েল মাইক্রোবায়োম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ধারণার এই প্রযুক্তি আমদানিনির্ভরতা ও রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে দেশব্যাপী এর কার্যকারিতা ছড়িয়ে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বারি, বার্ক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পরীক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করেছেন তারা।

  • তহবিল সংকটে টিসিবি

    তহবিল সংকটে টিসিবি

    ভর্তুকি দরে পণ্য বিক্রি করে তহবিল সংকটে পড়েছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সরকারের কাছে ভর্তুকি বাবদ আটকে গেছে ১,২১৮ কোটি টাকা। টাকা ছাড় করতে আবেদন করলেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

    অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে করা এলসির বিপরীতে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিষদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর সুদের অঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন ব্যাংকগুলোর মোট পাওনার সঙ্গে ৪০ লাখ টাকা হারে সুদ যুক্ত হচ্ছে। ফলে দায় বাড়ছে সরকারের। টিসিবি বলছে, অর্থের অভাবে কম দামে পণ্য বিক্রির কার্যক্রমও চাপের মুখে পড়ছে। নতুন করে পণ্য সরবরাহে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    টিসিবির হিসাবে, অতীতের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও স্মার্ট কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের কাছে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় সে জন্য ভর্তুকির অর্থ দ্রুত ছাড়ে জরুরি উদ্যোগ নিতে টিসিবির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    জানা গেছে, টিসিবি বর্তমানে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করছে। বাজারদরের তুলনায় কম দামে এসব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমিয়ে রাখাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়মতো ভর্তুকির অর্থ ছাড় না হলে টিসিবির নিয়মিত পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে উপকারভোগী নিম্ন আয়ের কোটি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

    অন্যদিকে, ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হলে সরকারের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    প্রতিদিন বাড়ছে ৪০ লাখ টাকার সুদের বোঝা

    জানা গেছে, ভর্তুকির অর্থ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে টিসিবির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর দায়ের চাপ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়ার বিপরীতে দৈনিক ব্যাংক সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ২৩০ টাকা। টিসিবি জানিয়েছে, যথাসময়ে ভর্তুকির অর্থ ছাড় না করা হলে এই সুদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই অতিরিক্ত আর্থিক দায় হিসেবে চেপে বসবে।

    পণ্য ক্রয়ে ব্যাংকগুলোর অনীহা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

    জানা গেছে, সময়মতো অর্থ না হওয়ায় ব্যাংক থেকে নেওয়া এলটিআরগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলো টিসিবির আমদানি করা পণ্যের বা স্থানীয়ভাবে কেনা পণ্যের বিল পরিশোধের জন্য নতুন করে ট্রাস্ট রিসিট বা ঋণ দিচ্ছে না। ফলে নতুন করে চাল, ডাল, তেল বা চিনি ক্রয়ের জন্য এলসি খোলা যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া টিসিবির চিঠিতে এসব তথ্য জানিয়ে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    টিসিবির বক্তব্য

    টিসিবির মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন বলেন, টিসিবির নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হয়। এ ভর্তুকির অর্থ সরকারই পরিশোধ করে থাকে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকির অর্থ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১-এর যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান বলেন, টিসিবিকে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। সংস্থাটির ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের আবদুলের জয় দেখে ভারতের ‘আবদুলদের’ উদ্দীপ্ত হতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের আবদুলের জয় দেখে ভারতের ‘আবদুলদের’ উদ্দীপ্ত হতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম হিসেবে জয়ী হয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়কে সামনে এনে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

    এনডিটিভি বুধবার (৪ নভেম্বর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়া এল-সাইয়েদের বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ওয়াইসি বলেছেন, এই ফলাফলে ভারতের মুসলমানদের জন্যও একটি বার্তা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের জন্য, যাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রায়ই বিদ্রূপ করা হয়।

    এক্সে দেয়া এক পোস্টে ওয়াইসি বলেন, ‘মিশিগানে একজন আবদুল জিতেছেন। এবার উত্তর প্রদেশের আবদুলকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি হিন্দিতে আরো লেখেন, ‘সংঘরা অনেক চেষ্টা করেছে ‘আবদুল’ নামটিকে বিদ্রূপের বিষয় বানাতে। এবার আমাদের দেখিয়ে দেয়ার সময় এসেছে, আবদুল আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করে না। আমরা আর কারো সামনে জায়নামাজ বিছিয়ে দেব না।’

    ওয়াইসির এই বক্তব্যের লক্ষ্য উত্তর প্রদেশের প্রচলিত নির্বাচনী রাজনীতি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু মুসলমানদের কাছে ভোট চাওয়া হয়। কিন্তু বিনিময়ে তাঁদের যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেয়া হয় না।

    উত্তর প্রদেশে কয়েক মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজ্যটির মোট ভোটারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মুসলমান। সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আবদুল’ নামটি প্রায়ই মুসলিম সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    ওয়াইসির দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং সমাজবাদী পার্টির মতো আঞ্চলিক বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে আসছে। দলটির অভিযোগ, বিজেপি মুসলমানদের নিশানা করছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো মুসলমানদের কেবল নিজেদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে ৪২ বছর বয়সী আবদুল এল-সাইয়েদের জয়ের খবর মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো প্রচার করার কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াইসি এসব মন্তব্য করেন।

  • ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির করায় একজন গ্রেপ্তার

    ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির করায় একজন গ্রেপ্তার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহান আল্লাহ তাআলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুজন সাহা (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার সকালে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুজন সাহা কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কর্মকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর বাসাইল উপজেলার ভবানী বাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে রফিকুল ইসলাম মাদানীর আগমন উপলক্ষে ‘বাসাইল সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সুজন সাহার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বল্লা এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বল্লা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    খবর পেয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

    পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে সাটুরিয়ার বালিয়াটি এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুজন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তার সুজন সাহা বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।

  • জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা

    জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা

    আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে এতথ্য জানিয়েছেন।

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।

    পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।

    এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    ছয় সদস্যের বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন।

    শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

    ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

  • সুদের সঙ্গে জড়িত পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে: কী বলে ইসলাম

    সুদের সঙ্গে জড়িত পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে: কী বলে ইসলাম

    মেয়ের বিয়ে প্রতিটি মা-বাবার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রত্যেক সচেতন অভিভাবকেরই চাওয়া থাকে, মেয়ের জামাতা যেন দ্বীনদার, সৎ, নৈতিক চরিত্রবান এবং দায়িত্বশীল হন। কারণ বিয়ে কেবল দুজন মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন নয়; এটি একটি নতুন পারিবারিক জীবনের সূচনা, যা উভয় পক্ষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেক সময় দেখা যায়, প্রস্তাব আসা পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সরাসরি সুদ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মনে সংশয় জাগে—সুদ বা হারাম উপার্জনে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত? তার এই উপার্জনের প্রভাব কি নতুন সংসারজীবনে পড়বে? পাত্রের অন্যান্য গুণ ভালো হলেও কেবল সুদি পেশায় থাকার কারণে অভিভাবকের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে বিষয়টির শরয়ি সমাধান বিশ্লেষণ করা যাক।

    ১. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা ও অবস্থান

    ইসলামি শরিয়তে সুদকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ—যেকোনোভাবে সুদের প্রক্রিয়ায় জড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন— وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫)

    মুমিনদের সুদের যাবতীয় অবশিষ্টাংশ বর্জনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮)

    সুদের পাপের বিস্তৃতি কেবল এর প্রত্যক্ষ গ্রহীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই সমান অপরাধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

    সুতরাং সুদি কারবারকে কোনোভাবেই হালকা বা সাধারণ পেশা ভাবার অবকাশ নেই; এটি আল্লাহর বিধানে চূড়ান্ত পর্যায়ের অবাধ্যতা।

    ২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে কি বৈধ?

    বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পাত্রের ব্যক্তিগত সুদি কারবারে লিপ্ত থাকা এবং তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনের বৈধতার শরয়ি দিকটির সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা জরুরি।

    ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া আকদ বা বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জেনেবুঝে হারাম সুদি লেনদেনে অবিচল থাকে এবং তা থেকে তওবা না করে, তবে তা তার দ্বীনদারির মারাত্মক ঘাটতি ও নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ।

    এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে সে যদি সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে মেয়ের দ্বীন ও আখিরাতের সুরক্ষায় তাকে পাত্র হিসেবে প্রত্যাখ্যান করাই বিচক্ষণ অভিভাবকের দায়িত্ব।

    শাইখ ইবনে বায (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন এবং বিকল্প কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তা ছাড়তে নারাজ; এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে কি না? জবাবে তিনি পরিষ্কারভাবে অভিমত দেন—পাত্রের মানসিকতা ও অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সে ওই চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে পাত্রস্থ না করাই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের পেশাগত স্বচ্ছতার বিষয়ে আপসহীন থাকা এবং তাকে হালাল উপার্জনে ফিরে আসার জোরালো তাগিদ দেওয়া।

    ৩. পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারি ও চরিত্রের অগ্রাধিকার

    পাত্রের পদমর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে তার দ্বীনদারির মূল্যায়নকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি ইরশাদ করেছেন— إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ ‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (জামে তিরমিজি: ১০৮৪)

    এই নির্দেশনায় স্পষ্ট যে, বৈষয়িক প্রাচুর্য, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি বা সামাজিক প্রতিপত্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বরং পাত্রের নিয়মিত সালাত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, আমানতদারি, হালাল-হারামের বাছবিচার ও সুন্দর আচরণই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি।

    ৪. পরিবারে হারাম উপার্জনের প্রভাব

    হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকত ও মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয় এবং মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে। একজন মুমিনের প্রতিটি লোকমা হালাল হওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

    তবে ব্যবহারিক মাসআলার ক্ষেত্রে স্বামীর উপার্জনে হারামের মিশ্রণ থাকলেই সংসারের প্রতিটি পাই-পয়সা স্ত্রীর জন্য ঢালাওভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। উপার্জনের প্রকৃত ধরন, অর্থের মূল উৎস এবং স্ত্রীর নিরুপায় অবস্থার ওপর অনেক বিধান নির্ভর করে। তা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের বরকত নিশ্চিত করতে বিয়ের প্রস্তাবের সময়ই পাত্রের উপার্জনের মাধ্যম শতভাগ হালাল করার ব্যাপারে শর্ত দেওয়া আবশ্যক।

    ৫. পাত্র অতীত থেকে তওবা করলে করণীয়

    কোনো পাত্র অতীতে সুদের কারবারে জড়িত থাকলেও যদি সে আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে তা পুরোপুরি পরিহার করে এবং হালাল বিকল্পের সন্ধানে সচেষ্ট হয়, তবে তার অতীতের কারণে তাকে আজীবনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা শরিয়তের উদ্দেশ্য নয়। মহান আল্লাহ তাওবাকারীদের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রেখে ঘোষণা করেন— قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

    সুতরাং পাত্রের মধ্যে যদি আন্তরিক তাওবার প্রতিফলন দেখা যায় এবং সে বৈধ উপার্জনের প্রতি যত্নবান হয়, তবে তার সার্বিক দ্বীনদারি বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে।

    ৬. কন্যার স্পষ্ট মতামত ও সম্মতি

    পাত্র নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় কন্যার মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ ইসলামে নেই। জোরপূর্বক অভিভাবকের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে আদেশ করেছেন— لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ ‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬, সহিহ মুসলিম: ১৪১৯)

    মেয়ের বিয়ে কেবল একজন সচ্ছল ব্যক্তির হাতে কন্যাকে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি এমন একজন দ্বীনি অভিভাবক ও জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বিষয়, যার ছায়াতলে একটি মেয়ে নিরাপদে তাঁর ঈমান ও আমল সংরক্ষণ করতে পারবে।

    সুদি কারবারে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আইনগতভাবে বাতিল না হলেও, সচেতনভাবে সুদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিকে জামাতা হিসেবে বরণ না করাই সতর্কতামূলক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত। আর যে ব্যক্তি ভুল বুঝতে পেরে সুদের কারবার ছেড়ে হালাল পথে ফিরে এসেছে, তার প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা ইসলামের ক্ষমার নীতির অংশ।

  • প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস

    প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস

    ডেমোক্রেট নেতা হাকিম জেফ্রিস মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন। আগামী ৩রা জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার নির্বাচিত হতে হলে প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ভোটে জেফ্রিসকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি স্পিকার পদে দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচিত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছরে নিম্নকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন তিনি। তবে তার জন্য এই পথ খুব একটা মসৃণ হবে না। খবর সিএনএন।

    সিএনএন জানায়, জেফ্রিসকে দলের ভেতরে আদর্শগত এবং প্রজন্মগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দলের নতুন সমাজতান্ত্রিক অংশের সমর্থন আদায় করা তার জন্য কঠিন হতে পারে, যারা বর্তমান নেতাদের কাজের ধরনে অসন্তুষ্ট। এছাড়া ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এবং ইসরাইল ইস্যুতে তার কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থানের কারণে দলের কর্মী ও আন্দোলনকারীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে তাকে।

    তবে জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। তিনি বড় কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো, ধনীদের ওপর কর আরোপ এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চান।

    তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলের ভেতরের দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংঘাত সামলানো। কংগ্রেসের সদস্যদের শেয়ার ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো সংস্কারমূলক প্রস্তাবগুলো পাস করানো নিয়েও দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। গত বছর রিপাবলিকানদের একটি বিলে সম্মতি দেয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতাদের বা ‘কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস’-এর ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন জেফ্রিস।

    তবে বর্তমানে সেই ফাটল অনেকটাই জোড়া লেগেছে। সিএনএনের মতে, জেফ্রিস এখন ডেমোক্রেট দলের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। ট্রাম্পের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে দলের অবস্থান আরও মজবুত করতে চান তিনি।

  • রিপাবলিকানদের ৩ দশকের সিনেট আসন কেড়ে আনলেন অ্যানি অ্যানড্রুজ

    রিপাবলিকানদের ৩ দশকের সিনেট আসন কেড়ে আনলেন অ্যানি অ্যানড্রুজ

    নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্র্থী অ্যানি অ্যানড্রুজ। তিন দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা এই আসন পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি।

    বলেছেন, দেশবাসী দেখিয়ে দিয়েছে কী সম্ভব। সিনেট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত জয় উদ্যাপন করে এ কথা বলেছেন অ্যানি অ্যানড্রুজ।

    তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা এইমাত্র ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্রেটদের হাতে চলে এসেছে।

    তিনি হবেন সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত প্রথম নারী মার্কিন সিনেটর। বিজয় উদ্যাপনে অ্যানি অ্যানড্রুজ মঞ্চে আসেন ডলি পার্টনের জনপ্রিয় গান ‘নাইন টু ফাইভ’-এর সঙ্গে। এ সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা উল্লাস, স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

  • একনেক সভায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেক সভায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১১টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প। ১. ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। ২. ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালগুলোর পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ’ (১ম পর্ব) প্রকল্প। ৩. ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প। ৪. ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (SIDP)’ প্রকল্প। ৫. ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩ (৩য় সংশোধিত)’।

    এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্প।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনীতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি ৫) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প’।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৫টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডশেন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার আধুনিকীরণ। ২. দেশের শিশু কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। ৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়সহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। ৪. ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)। ৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।

  • চাপে ফেলবে ডেমোক্র্যাটরা

    চাপে ফেলবে ডেমোক্র্যাটরা

    মার্কিন সিনেট ও হাউজ, উভয় ক্ষেত্রেই, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে লাভ কি?

    আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে, যা দেশটির আইন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি শাখা।

    কংগ্রেসের, সিনেট ও হাউজে, বর্তমানে, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছিল এককোথায় অনেক। তবে, এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।

    মূলত, ডেমোক্র্যাটরা যখন কংগ্রেস ফিরে পাবে, তখন তারা আরও সহজে আইন পাস করতে পারবে। একইসঙ্গে, ওয়ার কিংবা বাজেট, উভয় ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের ডিসিশন কিংবা এজেন্ডাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে তারা।

    শুরু তাই নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তও ইনিশিয়েট করতে পারবে তারা। ফলে, ট্রাম্পের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এতো সহজ হবে না।

  • মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

    মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি তার ওপর বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, তবে তিনি ইসরাইলে চলে যাবেন এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন মন্তব্য করে রসিকতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

    মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরাইলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো আমার ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তবে আমি ইসরাইলে চলে যাব এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হব।’

    একই সাক্ষাতকারে ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের পর থেকে ওয়াশিংটন আর ইসরাইলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করবে না।

    ট্রাম্পের মতে, ইসরাইলের আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই এবং কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিবিদ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার হাতিয়ার হিসেবে ইসরাইলকে এই তহবিল দেওয়ার বিষয়টি ব্যবহার করছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমরা ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে থাকি। কয়েক মাস আগে আমরা এই সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা করেছি।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একমত হয়েছি যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরাইলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ইসরাইলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’

  • ১০০ বছর পর কানসাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত

    ১০০ বছর পর কানসাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত

    প্রায় ১০০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করে তিনি এ জয় পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    হ্যামিল্টন ও মার্শালের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনের ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই কানসাসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য রয়েছে। সর্বশেষ ১৯৩২ সালে অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার প্রতিষ্ঠাতা হ্যামিল্টন নির্বাচনি প্রচারে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যান্য গ্রামীণ অঙ্গরাজ্যের মতো কানসাসেও ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষি ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সোমবার হ্যামিল্টন বলেন, ‘আমাদের সব সময় বলা হয়, রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কিন্তু এবার আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা করছি। আগামী দুই বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।’

    অন্যদিকে মার্শাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পও তার পক্ষে প্রচার চালান।

    প্রচারে মার্শাল ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্পের বরাদ্দ কমানোর পক্ষে ভোট দেওয়ায় তার এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    পেশায় চিকিৎসক মার্শাল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ (এমএএইচএ) নীতির সমর্থক। এ নীতির সমালোচকদের দাবি, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। করোনাভাইরাস মহামারির সময় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

    এছাড়া চিকিৎসক থাকাকালে সাবেক প্রায় ৭০০ রোগীর বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যয়ের বকেয়া আদায়ে মামলা করেছিলেন মার্শাল—নিউইয়র্ক টাইমসের এমন এক প্রতিবেদনের কারণে নির্বাচনি প্রচারে চাপে পড়েন তিনি। হ্যামিল্টনের প্রচারশিবির এ বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রায় ১১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা কানসাসের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন।

  • ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন

    ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ উভয় পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পাবে দলটি।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সীমিত করতে পারবে তারা।

    এর আগে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিরোধীরা কোনো প্রস্তাব পাঠালে তিনি ভেটো দেবেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

    অভিশংসন প্রক্রিয়া যেভাবে কাজ করে

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের একমাত্র ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট কমিটির তদন্তের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আর্টিকেল পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তোলা হয়।

    সংবিধানে অভিশংসনের তিনটি ভিত্তি উল্লেখ রয়েছে—রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুসগ্রহণ এবং গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলে বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।

    সিনেটে বিচারকাজে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। ১০০ সিনেটর উপস্থিত থাকলে প্রয়োজন হবে ৬৭ ভোট। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তও নিতে পারে সিনেট।

    ট্রাম্পের তৃতীয় অভিশংসন নিয়ে যা বলছেন ডেমোক্র্যাটরা

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে সেপ্টেম্বরে প্রশ্ন করা হলে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, তারা কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতা স্টিভ স্ক্যালিসের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জিতলে প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন উদ্যোগ নেবে।

    প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি, অভিবাসন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা, করপোরেট মুনাফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকানীতি নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেবেন তারা।

    এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, উৎপাদন ও খনিজ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

    তবে এসব তদন্তে অভিশংসনের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সেই পথে হাঁটবেন কি না, তা রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    এর আগে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প

    প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে অভিশংসিত করলেও সিনেটে দুবারই সেই প্রস্তাব আটকে যায়।

    ২০১৯ সালে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা আটকে রেখে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের রাজনৈতিক ক্ষতি করতে ইউক্রেনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়। তবে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিনেটে দুই অভিযোগেই তিনি খালাস পান। কেবল রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

    এরপর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার ঘটনায় দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে চালানো ওই হামলায় একজন ট্রাম্প সমর্থক নিহত হন এবং বহু পুলিশ সদস্য আহত হন।

    ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১০ জন রিপাবলিকানও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

    তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটের বিচারে ৫৭ জন সিনেটর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিলেও প্রয়োজনীয় ৬৭ ভোট না পাওয়ায় টিকে যান তিনি। এ সময় সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।

    দুই দফা অভিশংসনের পরও ক্ষমতা হারাতে হয়নি ট্রাম্পকে। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

  • জুমার দিন যে আমল বেশি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

    জুমার দিন যে আমল বেশি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

    মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন শুক্রবার। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

    শুক্রবারের প্রধান আমল জুমার নামাজ আদায় করা। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)ফজিলতপূর্ণ এ দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু আমল করতেন। সাহাবিদেরও সেসব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদে যাওয়া, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা, গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা, দোয়া করা এবং বেশি বেশি দরুদ পড়া ইত্যাদি।উল্লিখিত আমলের মধ্যে বেশি বেশি দরুদ পড়ার কথা বলেছেন মহানবী (সা.)। কারণ, জুমার দিনের এ বিশেষ আমলটি তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

    মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন যেভাবে

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ (রহমত) পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

    এখানে দশটি দরুদ উল্লেখ করা হলো—

    ১. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।২. উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ।

    অর্থ: আল্লাহ মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনান নাসায়ি, হাদিস: ১৭৪৬)

    ৩. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মি (নিরক্ষর) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৮১)

    ৪. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি রহমত বর্ষণ করো তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এবং সব মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৪৪৫. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা, ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাতি।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তাঁকে তুমি কেয়ামতের (কেয়ামতের) দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ জায়গা দিয়ো। আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৯৩৬)

    ৬. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।

    অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (মুসনাদে৭. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।

    অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২২৬)৮. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি, ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ফিল আলামিনা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।

    অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ করো যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।’ (সুনানে

  • যুদ্ধকে  ‘না’ বলে দিয়েছে মার্কিন জনগণ: ইরানের স্পিকার

    যুদ্ধকে ‘না’ বলে দিয়েছে মার্কিন জনগণ: ইরানের স্পিকার

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।

    সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে—মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। আমরা তাদের এই বার্তাকে সমর্থন করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সরকার যদি জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী মহল ও ব্ল্যাকমেইলারদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে, তবে আমাদের ‘না’ যে দুঃস্বপ্নের রূপ নিতে পারে, তা তারা বুঝতে পারবে।’

  • জনগণ ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে: বারাক ওবামা

    জনগণ ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে: বারাক ওবামা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তার দলের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পরিবর্তন চায়। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওবামা লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমেরিকান জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

    তারা এমন রাজনীতি চায়, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করে এবং এমন নেতাদের চায়, যারা তাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে।’

    মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ওবামা বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হলো হাতা গুটিয়ে কাজে নেমে পড়া, যেখানে আমাদের ক্ষমতা আছে সেখানে পরিবর্তন আনা, আরও ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি তৈরি করা।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আল-সাইয়েদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল আল-সাইয়েদ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেন ৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ।

    পেশায় মহামারিবিদ ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল-সাইয়েদ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনী প্রচারে তাকে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ চালান। তবে সব বাধা পেরিয়ে জয় পান তিনি।

    বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি আমেরিকাকে ভালোবাসি।’ প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ঘৃণাকে বেছে নিয়েছেন, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশাকে।’

    নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসরাইল সরকারের কঠোর সমালোচক আল-সাইয়েদকে ঠেকাতে প্রো-ইসরাইলপন্থি একটি সংগঠন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিন কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। প্রাইমারিতে পরাজিত প্রার্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সও শেষ মুহূর্তে আল-সাইয়েদের সমর্থন প্রত্যাহার করে রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেন।

  • ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১১টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প। ১. ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। ২. ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালগুলোর পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ’ (১ম পর্ব) প্রকল্প।

    ৩. ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প। ৪. ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (SIDP)’ প্রকল্প। ৫. ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩ (৩য় সংশোধিত)’।

    এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্প।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনীতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি ৫) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প’।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৫টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডশেন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার আধুনিকীরণ। ২. দেশের শিশু কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। ৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়সহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। ৪. ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)। ৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।

  • রিপাবলিকানদের আসনে বিজয়ী নাবিলা সৈয়দ

    রিপাবলিকানদের আসনে বিজয়ী নাবিলা সৈয়দ

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ। রিপাবলিকান প্রার্থী ডারবি হিলসকে হারিয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছেন তিনি।

    শিকাগোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলি এলাকার এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নাবিলার এই জয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইলিনয়ের পালাটাইন এলাকায়। তার পরিবারের শিকড় ভারতের হায়দরাবাদে। তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আগ্রহী নাবিলা ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পড়াশোনা শেষে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে নাগরিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি উচ্চবিদ্যালয়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষক হিসেবে তরুণদের পরামর্শ দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি।

    ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন নাবিলা। সে সময় তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ নারীদের একজন এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম মুসলিম প্রতিনিধিদের একজন।

    প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, ভোটাধিকার, শিশুদের যত্ন ও শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করেছেন নাবিলা।

    তার উদ্যোগে জেনেরিক ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, অঙ্গদাতাদের জন্য বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা এবং ১৬ বছর বয়সীদের আগাম ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ তৈরিসহ বেশ কয়েকটি আইন পাস হয়েছে। আইনসভায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা-সংক্রান্ত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    এবার সিনেট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ডারবি হিলস। নির্বাচনে হিলসকে পরাজিত করে ২৬তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন নাবিলা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর অঙ্গরাজ্যের আইনসভার উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন তিনি।

    নাবিলার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ইলিনয়ের মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করে স্থানীয় পর্যায় থেকে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে পৌঁছানো তার এই পথচলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নেতৃত্বের উপস্থিতিও তুলে ধরছে।

  • রঙিন ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি- ফুলকপি চাষে সাফল্য,চাষে সাফল্য

    রঙিন ডুমুরিয়ায় রঙিন বাঁধাকপি- ফুলকপি চাষে সাফল্য,চাষে সাফল্য

    সবুজ পাতার ভেতর হলুদ,কোথাও পিংক-বেগুনি আবার কোথাও নীল রঙ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ফুটে আছে সুন্দর কোন ফুল। তবে এটা ফুল নয়, শীতকালীন সবজি ফুলকপি এবং বাঁধাকপির ক্ষেত। মনোরম এই দৃশ্য চোখে পড়বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই গ্রামে ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়- চাষ করা হলুদ, গোলাপি ও হালকা লাল রঙের বাহারি ফুলকপি এখন শোভা পাচ্ছে তার জমিতে। যা শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই ডুমুরিয়া বাজারে এনেছে বিপুল ‌ ক্রেতার সাড়া।কৃষি বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সকারি উদ্যোগে খুলনার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হচ্ছে। পোকা দমনেব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ। ফলনও হচ্ছে বেশ ভালো। বাজারে ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজি চাষ করে যে লোকসান হয়েছে, সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা। পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন ফুলকপি। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির সাফল্যে খুশি কৃষকরা।

    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের রঙিন বাঁধাকপি ফুলকপি চাষিরা বলছেন, সাদা কপি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এ কপি এখনও বাজারে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের খর্নিয়া গ্রামের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল‌ ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন রঙিন ফুলকপি। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১০০০/চারা প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। চারা ছাড়াও বাধা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সার, কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

    আবু হানিফ মোড়লের মতো মৃতূ্ন‌্যজয় আরও চারজন রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষীদের এনে দিয়েছে সাফল্য। সাদা ফুলকপি যেখানে বিক্রি হয় প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫টাকায়, সেখানে তার চাষ করা রঙিন বাঁধাকপি ও্ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ইতোমধ্যেই ৭ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। তিনি আশা করছেন, বাকি ফসল থেকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

    কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আবু হানিফ মোড়ল‌ ও মৃত্যুঞ্জয় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন এই রঙিন ফুলকপি। পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করেছেন হলুদ ফাঁদ, যা কপিগুলোকে করেছে স্বাস্থ্যকর এবং বিষমুক্ত।বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ‌আব্দুল‌ জলিল‌ বলেন, ‘এ কপির পুষ্টি এবং গুণাগুণ অনেক ভালো। রঙিন ফুলকপি বাজারে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দামও মিলছে আশানুরূপ।

    স্থানীয় ক্রেতা আকিরুল জানান, ২৫ টাকা দরে রঙিন ফুলকপি কিনেছেন তিনি। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। এর আগে দুইবার খেয়েছেন। তাই আবারও নিলেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘এই রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপির পুষ্টিগুণ সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ বছর ডুমুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে ২৫ একর জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাজারে এর উচ্চ চাহিদা থাকায় আগামী বছর আরও বেশি কৃষক এই চাষে যুক্ত হবেন।’

    ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে ব্যতিক্রমী শীতকালীন সবজি রঙিন বাঁধাকপি ,ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষকরা। কোনোটি হলুদ, কোনোটি পিংক-বেগুনি। আর এসব ফুলকপি কোনও প্রকার কীটনাশক ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই এই ফুলকপি করা হচ্ছে।কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন ইউনাইটেড সিড কোম্পানির বীজ পেয়ে তিনি ১০শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। শুধুমাত্র জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই চাষ করেছি এই ফুলকপি। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও ভালো।’

    কৃষক ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। চাষে পোকা দমনে ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার করে ২২ শতক জমিতে প্রায় দেড় হাজার কপি হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতিটি কপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছি। আরও আছে। লোকজন রঙিন জাতের কপি কিনতে বেশ আগ্রহী। অল্প টাকা খরচ করে আমি বেশ লাভ পেয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের কপির চাষ করব।’

    উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার বলেন, ‘বাড়ির অদূরে জমিতে সাদা, গোলাপি, সবুজ, হলুদ- চার প্রকারের ফুলকপি এবং ব্রকলি, চায়নিজ ক্যাবেজ, রেড ক্যাবেজ, সাধারণ বাঁধাকপিসহ মোট ৫হাজার চারা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারজাত করে দামও ভালো পেয়েছি। কিন্তু অন্যান্য শীতকালীন সবজি চাষে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক আফসোস। তবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে লোকসান পুষিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’ছামিদুল আরও বলেন, এ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছি ৬০ হাজার টাকায়। জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, রসুন, টমেটো লাগিয়েছি। এর মধ্যে ৪ হাজার রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপির চারা স্থানীয় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি। অবশিষ্ট চারাগুলো কিনতে হয়েছে প্রতি পিস ১ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এর পর জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, শ্রমিকবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।’

    খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে জেলায় রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হচ্ছে। চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে ভাল চাহিদা থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন জাতের এই ফুলকপির চাষ বাড়বে। অন্য কৃষকরাও এ জাতের রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

    ক্ষেতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব পদ্ধতিতে বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার। ফলনও বেশ ভালো। রঙিন ফুলকপি ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর মধ্যে ভিটামিন এ, সি এবং ক’সহ বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন রয়েছে। এতে রয়েছে মিনারেলস, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। সেই সাথে এ ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।’

In English

English edition · Older English stories