বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই আবারো বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হবে।
একই আদেশে অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। প্রতি লিটার ৮৪.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯১.৯৫ টাকা করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩.০৯ টাকা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিক্রেতাদের কমিশনও।
গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
ফেনীতে ৬০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ১২ জন স্বেচ্ছাসেবককে সম্মাননা দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার। এছাড়া পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক হতদরিদ্র ব্যক্তিকে একটি অটোরিকশা দেয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে শহরের মিড টাউন কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মুখপাত্র ওসমান গনি রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ফেনীর সময়-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী ইউনিটের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন মামুন, স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী, জেড ইউ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন পাঠান, ক্রীড়া সংগঠক শরীফুল ইসলাম অপু ও স্বেচ্ছাসেবী ওমর উদ্দিন পৃথী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এম এ খালেক বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক পরিবার নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। এ সংগঠনগুলো অনেক মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরো সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো কাজ করতে পারবে। আমরাও চেষ্টা করব এ সংগঠনের পাশে থাকতে।’ এ,আর
ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১১ কেজি গাঁজা ও ৫৪ বোতল বিদেশী মদসহ চার মাদককারবারিকে আটক করেছে এসআরবি-৭। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি লবণবোঝাই কার্গো ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
সোমাবার (২ নভেম্বর) ভোরে ও রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে মাদকসহ চারজনকে আটক করা হয়।
এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্প সূত্র জানায়, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাঙ্গলকোটের দিকে বিদেশী মদ নেয়ার খবর পায় এসআরবি। খবর পেয়ে ভোরে চৌদ্দগ্রামের বিজয়করা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামানোর সঙ্কেত দিলে চালক ও যাত্রী পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সিএনজিচালক সাগর হোসেন (২৮) ও যাত্রী জয়নাল আবেদীনকে (২৭) আটক করা হয়। সেইসাথে অটোরিকশার যাত্রী সিটের পেছনে বিশেষ কৌশলে রাখা ছয়টি কার্টুন থেকে ৫৪ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি সূত্র আরো জানায়, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে একটি লবণবোঝাই কার্গো ট্রাক চাপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটিকে ধাওয়া করে এসআরবি। এ সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বাবুর্চি বাজারস্থ হোটেল বাইপাসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
দিবাগত রাত ১টার দিকে ট্রাকটি থামানোর সঙ্কেত দিলে চালক ও সহকারী পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রাকচালক মো: আজম আলী (৪০) ও সহকারী মো: ডাবলকে (৪০) আটক করা হয়। পরে ট্রাক থেকে ১১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় নয় টন লবণবোঝাই কার্গো ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।
এসআরবি-৭, ফেনী ক্যাম্প কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের চালকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বারৈয়ারহাট মঈনউদ্দিন ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালকের সহকারীর নাম মিলন (২০)। আহত দু’জন হলেন— ট্রাকচালক মানিক (৩৫) ও অপর হেলপার বিল্লাল (৩৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা অপর একটি ট্রাক সামনের ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই ট্রাকের হেলপার মিলন নিহত হন। এ সময় চালক ও অপর ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, সকালে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে পেছনের ট্রাকের চালক ও সহকারী কেবিনে আটকে যায়। আমরা খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশসহ তাদের উদ্ধার করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাক দু’টি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া উদ্ধার হওয়া আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে দুই ট্রাকের সংঘর্ষের সংবাদটি আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, সংঘর্ষে পেছনের ট্রাকের চালক ও সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালকের সহকারীকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দু’টি থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ,আর
নির্দেশ ছিল বম্বে হাইকোর্টের। উদ্যোগ নিয়েছিল বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা। তাদের অনুরোধেই ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। কিন্তু বিজেপি–শিবসেনার আপত্তিতে পৌরসভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তা সরিয়ে দেওয়া হলো। কেন সরানো হলো, সেই কারণও স্পষ্ট, দিয়ার ‘ধর্ম’।
দিয়া মির্জার বাবা ফ্র্যাঙ্ক হ্যান্ডরিচ ছিলেন জার্মান খ্রিষ্টান। পেশায় তিনি ছিলেন গ্রাফিকস ডিজাইনার। মা দীপা, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দু। দিয়ার জন্মের চার বছর পর মা–বাবার বিচ্ছেদ হলে দিয়ার মা হায়দরাবাদের আহমেদ মির্জাকে বিয়ে করেন। তাঁর স্নেহেই দিয়া পালিত। দিয়া সৎবাবার ‘মির্জা’ পদবিই ব্যবহার করে আসছেন।
৪৪ বছরের দিয়ারও দুই বিয়ে। তাঁর প্রথম স্বামী সাহিল সাংঘা। ২০২১ সালে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বৈভব রেখি নামের এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে।
পৌরসভার অনুরোধে আতশবাজি ও দূষণের বিরুদ্ধে দিয়া ছাড়াও ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত, ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে, মারাঠি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াডের মতো ব্যক্তিরা। তাঁদের কারও ভিডিও বার্তা বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা মুছে দেয়নি। দিয়া মির্জা একমাত্র ব্যতিক্রম।
উৎসবের সময় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি করে আতশবাজি। আতশবাজি নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার ব্যর্থতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বম্বে হাইকোর্ট। গত ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে বলেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত মানুষদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
সেই অনুযায়ী বিনোদন জগতের বিভিন্ন তারকাকে অনুরোধ করে পৌরসভা। দিয়া তাদেরই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে। বম্বে পৌরসভাও বলেছিল, জনহিতের জন্য এ ধরনের কাজে তারকাদের পারিশ্রমিক নেওয়া অনুচিত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা কাজে নামে। তাদের অনুরোধ মেনে নানা তারকার আবেদন পৌরসভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলা হয়। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের চাপ ও বিরুদ্ধ প্রচার সইতে না পেরে বিজেপি–শিবসেনা পরিচালিত পৌরসভা দিয়ার ভিডিও সরিয়ে দেয়।
বিজেপির মুম্বাই শাখার সভাপতি অমিত সাটম এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তা পোস্ট করেন। পৌরসভাকে ট্যাগ করে তাতে তিনি লেখেন, ‘দীপাবলি কীভাবে উদ্যাপন করা উচিত, সেই জ্ঞান আমরা দিয়া মীর্জার কাছ থেকে নেব না। আমাদের সংস্কৃতির শিকড় আমাদের ঐতিহ্যেই নিহিত রয়েছে।’
বিজেপি নেতার ওই বার্তার পর আরও কয়েকজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের পোস্ট দেন। তারপরই বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা দিয়ার পোস্টটি মুছে দেয়। অন্য কারও পোস্টে অবশ্য হাত দেওয়া হয়নি।
পৌরসভার এক কর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশেই ওই প্রচারাভিযান চালানো হয়েছে। তাই বায়ুদূষণ রোধে নিয়মমাফিক বাজি পোড়ানোর বার্তা রয়েছে। শুধু জনরোষের জন্য এক বিশেষ ব্যক্তির বার্তা সরানো হয়েছে।
বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা এর আগে স্বচ্ছতা ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে কাজে নামিয়েছিল। তাঁকে দিয়ে প্রচার করিয়েছিল।
দিয়া মির্জার বার্তা কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে পৌরসভার পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি বা ব্যাখ্যা অবশ্য দেওয়া হয়নি।
দিয়ার বার্তার বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর শরিক রিপাবলিকান পার্টির নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালেও। তিনি বলেছেন, ‘দিয়া অভিনেত্রী। তিনি মুসলিম। তবে এটা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিষয় নয়। ভারতের সংবিধান সব ধর্মের মানুষদের নিজস্ব উৎসব পালনের অধিকার দিয়েছে। হিন্দুরা যেমন ঈদ উৎসবে যোগ দেন, মুসলিমরাও তেমন দীপাবলি পালন করেন। বাজি পোড়ানো দীপাবলির অঙ্গ। তা বন্ধ করা হলে দীপাবলির কিছু তাৎপর্য হারিয়ে যায়। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত দূষণ নিয়ে আমাদের সবারই সতর্ক থাকা উচিত। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ আছে।’
শিবসেনার মুখপাত্র শায়না এনসিও এ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দীপাবলি আলোর উৎসব। দিয়া মির্জার নামেও ‘দীপ’ রয়েছে। দীপাবলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় আবেগ কতটা, তা ওঁর বোঝা উচিত। কেউ দূষণ ছড়ানো বা আতশবাজি পোড়ানোর প্রচার করছে না। আমাদের নিজেদেরও আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে। মুম্বাইয়ের জনগণের কী করা উচিত, সে বিষয়ে অন্য কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
মুম্বাইয়ের মেয়র বিজেপি নেত্রী রীতু তাওড়ে অবশ্য বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার এই সিদ্ধান্তের এক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দিয়া মির্জাকে তিনি বরাবরের হিন্দুত্ববিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। রীতু তাওড়ে বলেছেন, ‘এর সঙ্গে কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের যোগসাজশ নেই। দিয়া মির্জা বারবার হিন্দুত্ববিরোধী ভূমিকা নিয়েছেন। সরকারবিরোধী মন্তব্য করেছেন। অতীতে দেখেছি, তিনি সব সময় বেছে বেছে কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করেন। সেটা করার অধিকার তাঁর আছে। কিন্তু বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার হ্যান্ডলে তা করা যাবে না।’
রীতু তাওড়ে বলেন, ‘দিয়া মির্জার হিন্দুত্ববিরোধী অবস্থানের জন্যই ওঁর বার্তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।’
কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আপত্তি ও বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার সিদ্ধান্তের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দিয়া নিজেও। আজ সোমবার তিনি বলেন, ‘বম্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাকে দিয়ে তারাই ভিডিও রেকর্ড করিয়েছে, তা নিয়ে অন্যরা কেন সমালোচনা করবেন?’
দিয়া বলেন, বায়ুদূষণ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দূষণ কমানোর চেষ্টা সবারই করা উচিত। কারণ, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে এক বার্তায় এই অভিনেত্রী বলেছেন, ‘এই কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক দাবি করিনি। ভালো কাজের দিন আর নেই।’
তবে দিয়া মির্জা সমর্থনও পেয়েছেন। হায়দরাবাদের দল অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) মুখপাত্র ওয়ারিশ পাঠান ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘অমিত সাটম, শুধু দিয়া মির্জাকেই কেন বাছলেন? একই আবেদন তো মাধুরী দীক্ষিতও করেছেন? নিশিগন্ধা ওয়াডও করেছেন? তাহলে কেন এই ভিন্নতা? একে ঐতিহ্যের পক্ষে দাঁড়ানো বলে না। বেছে বেছে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে দ্বিমুখী নীতিরই পরিচয় পাওয়া যায়। আসল কথা হলো, তাঁর নাম। নামটা দিয়া মির্জা। তাই না?’
নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় আগুনের শিখা জ্বালিয়ে নতুন করে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান। দৈনিক মিলতে পারে সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে সুন্দলপুর সাউথ-১-এর একটি কুপে ডিলিং শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।
তবে ডিএসটি পরীক্ষা শেষে গ্যাসের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে দৈনিক সাত মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাসের সন্ধান মিলবে এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর ডিলিং ইনসার্জ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কূপটিতে খনন কাজ শেষে আজ দুপুরে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। পরে অতিরিক্ত আগুনের উত্তাপ্ত হাওয়ার কারণে আগুনের শিখা বন্ধ করে দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে নতুন করে আগুনের শিখা জ্বালানো হবে। এ,আর
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় সাজেদা ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দায়ের করা মামলায় ফাতেমা (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চারজানিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয় এবং সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী ফাতেমা চারজানিয়া গ্রামের সাগরের স্ত্রী। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
ফাতেমার দাবি, তিনি সাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেছেন। তা সত্ত্বেও এনজিও কর্তৃপক্ষ তার কাছে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার টাকা পাওনা দাবি করে আসছিল। রোববার সন্ধ্যায় এনজিওর লোকজন এসে জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং গভীর রাতে পুলিশ এনে তাকে ধরিয়ে দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজেদা ফাউন্ডেশনের শাখা ব্যবস্থাপক (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) ইমরুল কায়েস জানান, ওই গৃহবধূর কাছে তাদের ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টানা ৮-৯ মাস কোনো কিস্তি না দেয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হয়। তার নামে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং বিষয়টি তাকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে নারী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অন্যের জমির ওপর দিয়ে সেচ পাম্পের পাইপ নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে ঘটনায় ১০টি বাড়িঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং তিনটি গরু লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের দীগলগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেচ পাম্পের ফিতা অন্যের জমির ওপর দিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাতব্বর মাহাতাবের সমর্থকরা কাশেম মাতব্বরের সমর্থকদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহাতাবের লোকজন কাশেম মাতব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মুক্তার মোল্লা, কাশেম মোল্লা, ইনতাজ মোল্লা, মোন্তাজ মোল্লা, মিন্টু পুলিশ, লতিফ, ওহাব, তারিফ ও আরিফের বাড়িসহ অন্তত ১০ টি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং বিভিন্ন মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা লতিফ মুন্সীর তিনটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে ও মিলন মোল্লার একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ‘সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ এ,আর
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে পৃথক সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
গত শনিবার রাজ্য পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ননে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
পুলিশের আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ একই সম্প্রদায়ের অন্য দুই ব্যক্তির মৃতদেহ গতকাল রোববার সকালে নিরাপত্তাকর্মীদের তল্লাশি অভিযানের পর কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।
শীর্ষস্থানীয় কুকি উপজাতি সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা এই ঘটনাকে নিজেদের মাতৃভূমিতে সরাসরি প্ররোচনাহীন আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে।
মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই সময়ই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে স্বজাতীয় মাতৃভূমির অধিকার আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুকি সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ এক নাগা পুরুষকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।
গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক এই কুকি-নাগা সংঘর্ষ মণিপুরে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে কুকি সম্প্রদায় মূলত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন ৬০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই রাজ্যে রক্তপাত বন্ধে ব্যর্থতার কারণে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং পদত্যাগ করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী না থাকায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য রাজ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল। চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নেওয়া হয় এবং ইউনম খেমচান্দ সিং মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় এনামুল হক (৪০) নামে এক পান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোভ্যানচালকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন (৪২) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালহাটে (কামরাঙ্গার তল) রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এনামুল হক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ইমাদপুর (হাজীপাড়া) গ্রামের মরহুম সোলেমানের ছেলে। গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেন একই এলাকায় মোন্তাজ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে স্থানীয় একটি পানের বরজে কাজ করতে আসেন তিন শ্রমিক। এ সময় সুন্দরগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কের পাশে জামালহাট এলাকায় একটি অটোভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পান শ্রমিক এনামুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এছাড়া এ ঘটনায় অটোভ্যানচালকসহ দু’জন আহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। অপর আহত ভ্যানচালক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি চলে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক পান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দু’জন গুরুতর আহত হন। নিহত পান শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর
সোলার প্যানেল থেকে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎউৎপাদন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার- এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, এবারের গ্রীষ্মে জনগণ যতটুকু কষ্ট পেয়েছে, আগামী বছর যেন সেই কষ্ট না পান কিংবা পেলেও যেন সহনীয় মাত্রায় থাকে।
এর সহজ সমাধান হলো রুফটপ সোলার।
দেশের জনগণের ভোগান্তি কমানোই মুল লক্ষ্য বলেও অবহিত করেন তিনি।
সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, সরকার চায় আগামী গ্রীষ্ম যেন মানুষের জন্য সহনীয় হয়। এ লক্ষ্যেই সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একটি দেশের জাতীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে যদি শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেই দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। শ্রমিককে বঞ্চিত করে কোনো সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে না। বরং সেখানে লুটেরা অর্থনীতির জন্ম হয়, সম্পদের বৈষম্য বাড়ে, অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এক সময় রাষ্ট্র নিজেই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।
তিনি লেখেন, আচ্ছা, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে আসলাম শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে, তাহলে প্রশ্ন হলো-গত ৫৪ বছরে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি? কেন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আজও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গা পায়নি?
ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই নেতা লেখেন, শ্রমিকের পেটের ক্ষুধা, ন্যায্য মজুরি আর পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার আকুতিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের তকমা দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না।
মানুষের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে ঠেলে দেওয়া আসলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো কৌশল।
মনে রাখতে হবে, শ্রমিকেরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয় উল্লেখ করে তিনি লেখেন, তারা এই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, উৎপাদনের কারিগর এবং আমাদেরই ভাই-বোন, আমাদেরই সন্তান। তাদের ঘামেই কারখানা সচল থাকে, অর্থনীতির চাকা ঘোরে, দেশের প্রবৃদ্ধি আসে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একজন শ্রমিকের পেটে ভাত থাকলে, গায়ে পরার কাপড় থাকলে, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ থাকলে, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকলে-তার জীবন অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ হতো।
তখন তার ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের গল্প বানানোর সুযোগও অনেক কমে যেত।
তিনি আরও লেখেন, অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন। শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন। আমাদের প্রত্যাশা খুব সাধারণ-যে দেশে একজন শ্রমিকের সন্তানও সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে, পড়াশোনা করবে, স্বপ্ন দেখবে এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়বে।
শেষে তিনি লেখেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’-এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা শুধু কোনো বিত্তশালী পরিবারের জন্য নয়, বাংলার প্রতিটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্যও সত্য হোক। শ্রমিকের অধিকার কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, এটি তার ন্যায্য পাওনা। শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান হোক, সব জুলুমতন্ত্রের অবসান হোক।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে বেচাকেনা জমজমাট থাকলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোরে শুরু হয় বেচাকেনা, যা চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
বাজারে পান বিক্রি করতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন চাষি সাহেদ মাঝী। তিনি বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তার কথায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় চাষিদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।
চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারদর না বাড়ায় তারা প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছেন না। এতে চাষের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও ব্যাপক পরিসরে পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসেন।
রায়পুরে পানের বেচাকেনার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পান সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা সত্ত্বেও দাম কম থাকায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ জমিতে ইঁদুর তাড়ানোর জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইদুর রহমান জজ মিয়া (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের শিমুলকান্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইদুর রহমান জজ মিয়া ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগমের স্বামী। তিনি শিমুলকান্দি গ্রামের বাদশা বাড়ির মরহুম মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলকান্দি গ্রামে নিজেদের জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধান রক্ষার্থে ধানের গুছিতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ দিয়ে ফাঁদ পেতেছিলেন সাইদুর রহমান। প্রতিদিন রাতে তিনি ওই ফাঁদে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতেন এবং সকালে তা বন্ধ করতেন। সোমবার সকালেও প্রতিদিনের মতো সংযোগ বন্ধ করতে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো অবকাশ যাপন কেন্দ্রের অনেকটা কাছেই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ৯ আরোহীর সবাই। দক্ষিণ ফ্লোরিডার ক্রেস্টহ্যাভেনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ট্রাম্পের পাম বিচ কাউন্টিতে অবস্থিত মার-এ-লাগো অবকাশযাপন কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯ মাইল দূরে।
বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এর পর বিশাল অগ্নিগোলকের সৃষ্টি হয়। আগুনের গোলাটি ব্যস্ত সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি থেকে অল্প দূরে পড়ে।
গাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজনের ধারণ করা ভিডিওতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। এতে দেখা যায়, রোববার বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটি আকাশ থেকে দ্রুত নিচে নেমে সড়কের পাশে আছড়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্ফোরিত হয়।
দুর্ঘটনাস্থলে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পিচঢালা রাস্তার টুকরোর মধ্যে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া লোকজনকে বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিমানটি বাড়িঘর থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে এবং চলন্ত গাড়ি থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট ৬০ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেন। দুর্ঘটনার তদন্তে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বিষয়ক ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডকে (এনটিএসবি) সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) একটি দল পাঠাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেছেন, বিস্ফোরণস্থলের বাইরে মাটিতে থাকা কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন এমন কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ডিস্যান্টিস বলেন, এটি ছিল ভয়াবহ মাত্রার একটি দুর্ঘটনা। দেখে মনে হচ্ছিল, একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিচে নেমে আসছে। সড়কের পাশে এটি বিশাল একটি গর্ত তৈরি করেছে।
রোববার পুরো অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত সতর্কতা জারি ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এর গন্তব্য ছিল বাহামাস।
কী কারণে তা বিধ্বস্ত হয়েছে কিংবা এতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিং এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্বদিকে যাচ্ছিল।
এ সময় পাইলটরা ঝাঁকুনিপূর্ণ আবহাওয়া, বিমানের গায়ে বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানান। পাশাপাশি আরও ২ হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান তারা।
এর কিছুক্ষণ পরই বিমানটি খাড়া অবস্থায় নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং একপর্যায়ে প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে থাকে এটি। এতে বিমানটির গতি তার নকশায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, একপর্যায়ে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং বিপদসংকেত পাঠাতে থাকেন।
মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগে বিমানটি তীব্রভাবে ডানদিকে কাত হয়ে যায়। লাইভএটিসি ডটনেটের ধারণ করা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডিং অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে পাইলট বিমানের গায়ে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে তা ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল বলেও জানান তিনি।
নিয়ন্ত্রকদের উদ্দেশে পাইলট বলেন, বিমানের গায়ে হালকা ও স্বচ্ছ বরফ জমছে, যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। পাশাপাশি মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি হচ্ছে। কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে আরও ওপরে ওঠার অনুমতি চাওয়ার পর বিমানটি উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এ সময় পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের কাছে পাইলটের পাঠানো বার্তায় শোনা যায়, ‘আমরা প্রতি মিনিটে ৮ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি। মেইডে, মেইডে- আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নেমে যাচ্ছি।’ এরপর পাইলট জানান, ‘আমরা অতিরিক্ত গতির পরিস্থিতিতে পড়েছি। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি।’ এরপরই ভয়াবহ পরিণতির কথা স্বীকার করে পাইলট বলেন, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’
অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস জানান, বিমানটি ছিল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তবে এতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। এদিকে দুর্ঘটনার তদন্ত চলাকালে পাম বিচ কাউন্টির কর্তৃপক্ষ কাছাকাছি একটি মোবাইল হোম আবাসন এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থলের সড়ক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার গ্রিনএকরস এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাসের এই শহরটি ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল (১১ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ঋণ সুবিধার অপব্যবহার করে ভুয়া রপ্তানি বিল তৈরি এবং অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ছেলেসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনটি ঘটনায় মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত তিন মামলার মধ্যে প্রথমটিতে ২২ জন, দ্বিতীয়টিতে ২২ জন এবং তৃতীয়টিতে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা নেওয়া, ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ছেলে ও বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এ এস এফ রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও এইচ শামসুদ্দোহা।
এ ছাড়া স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
পরে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ভুয়া লেনদেন দেখিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৫৮২ দশমিক ৭৫ ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ দশমিক ২৫ ডলার দেশে না এনে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।
দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ইডিএফসহ ঋণ সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, প্রকৃত পণ্য আমদানি না করেই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন উপায়ে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে এ ঘটনায় প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তিনটি ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে। এসব ঘটনায় শিল্প পুলিশ, মহানগর ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সোমবারের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে গুজব উল্লেখ করে তিনি শ্রমিক ও নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। একই সময়ে শফিপুর, চন্দ্রা, গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, মালেকের বাড়ি, কোনাবাড়ী ও সালনাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন।
একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে সড়কে ঝুট কাপড়, বাঁশ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে মহানগরের নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের দুটি গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। পরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে বেলা ১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সোমবার সকালেও কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎসহ গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। তারা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল শুরু করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিল্প পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সোমবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অথচ একটি কুচক্রী মহল সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক ও নগরবাসীকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান পুলিশ কমিশনার।
এর আগে রোববারও গাজীপুরের মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। কয়েকটি কারখানার সামনে ভাঙচুর, ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুই দিনের এসব ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, জানমাল ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। সরকার এ বিষয়ে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী জানুয়ারি থেকে বেতন বাড়তে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পকারখানা সচল থাকলে শ্রমিক, গাজীপুর ও দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সতর্ক থেকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মজুরি বাড়াতে হবে। অন্যদিকে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসারে অভাব, কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হয়নি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের শাকিল তালুকদারের (২৯)। এইচএসসি পাসের পরই নামতে হয় উপার্জনের লড়াইয়ে। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন খামার। দুটি গাভি ও ছয়টি ছাগল নিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ এখন বিস্তৃত হয়েছে গবাদিপশু পালন, মাছ চাষ ও কৃষিতে। বর্তমানে তার খামারে কাজ করছেন ১২ জন শ্রমিক। শাকিলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই গ্রামের প্রায় ৪০ জন তরুণও কৃষি ও খামারভিত্তিক কাজে যুক্ত হয়েছেন।
শাকিল ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এইচএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা, সংসারের খরচ এবং ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়। তার মেজ ভাই একটি দোকানে কাজ করেন।
পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে শাকিল উপলব্ধি করেন, স্বাবলম্বী হতে হলে নিজেকেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে। সেই চিন্তা থেকে ২০২১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ নেন। পরে ২০২৩ সালে একই অধিদপ্তর থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যুব ঋণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন গবাদিপশু পালন।
প্রাথমিক পর্যায়ে তার খামারে ছিল দুটি গাভি ও ছয়টি ছাগল। গাভির দুধ বিক্রি করে যে অর্থ আয় হতো, তা আবার খামারের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর উদ্যোগের পরিসর। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১২টি গাভি ও ১০টি ছাগল।
পশুপালনের পাশাপাশি কৃষি ও মাছ চাষেও যুক্ত হয়েছেন শাকিল। প্রায় তিন একর জমিতে আখ, মরিচ, টমেটো, ধান, ওলকচু, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও লতিরাজ কচুসহ বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি চাষ করছেন। এ ছাড়া দুটি পুকুরে করছেন মাছের চাষ। সব মিলিয়ে তার উদ্যোগে বর্তমানে ১২ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
শাকিলের সাফল্য শুধু তার নিজের পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেনি, গ্রামের অন্য তরুণদেরও নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তাকে দেখে কেউ সবজি চাষে, কেউ মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। আবার কেউ কৃষিকে কেন্দ্র করে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এভাবে তাঁর সাফল্য অনুসরণ করে গ্রামের প্রায় ৪০ জন তরুণ কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিয়েছেন।
নাজিরপুর গ্রামের মো. কবির হোসেন, আব্দুল গফুর ও শহীদ আলী বলেন, শাকিলের কাজ দেখে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার পরিকল্পনা ও কাজের ধরন অনুসরণ করে নিজেরাও সবজি ও মাছ চাষ শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্য, শাকিলকে দেখে তারা বুঝেছেন, চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তিনি গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা, যা তাদের গর্বিত করে।
কৃষি ও খামার পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত শাকিল। তিনি আলমপুর ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপির দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অংশ নেন। নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সমাজের মানুষের জন্য কাজ করেও আত্মতৃপ্তি পান তিনি।
শাকিলের সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, শাকিল অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন যুবক। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগিয়ে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার আরও উন্নতি কামনা করেন এই কর্মকর্তা।
শাকিলের পথচলা দেখাচ্ছে, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নিজেও উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে দুটি গাভি থেকে শুরু করা তার উদ্যোগ আজ নিজের পরিবারের জীবিকার অবলম্বন হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
নাটোরের সিংড়ায় লাড়কিবাড়ী বিলে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করে প্রায় চার লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই বিলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। বিলের দখল নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মরে ভেসে থাকা মাছ দেখে বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। এলাকাবাসীর ধারণা, রোবাবর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা বিলে এ বিষ প্রয়োগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে উপজেলার কতুয়াবাড়ি ও লাড়কিবাড়ী বিলে সামাজিকভাবে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় লোকজন। সম্প্রতি ওই বিলে কতুয়াবাড়ি ও পারসাঐল গ্রামের আসাদুজ্জামান বাবু, আব্দুল কাইয়ুম, বিপ্লবুর রহমান সবুজসহ ৫০ ব্যক্তি প্রায় ৩০ লাখ টাকার রুই জাতীয় মাছ ছাড়েন।
পরে, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ও রানা আহমেদের সাথে বিলের দখল নিয়ে এলাকাবাসীর বিরোধ দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি আসাদুজ্জামান বাবু ও আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে সামাজিকভাবে এ বিলে মাছ চাষাবাদ হয়ে আসছে। সম্প্রতি, সমাজের বাইরে গিয়ে দুই-একজন ব্যক্তি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।’
আরেক মৎস্যচাষি বিপ্লবুর রহমান সবুজ বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ নিধনে তাদের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা এ বিষ প্রয়োগ করেছে, তা আমাদের জানা নেই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ফলে ওই বিলের দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর
ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট বলেছেন, অভিনেতা ইমরান খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, শুধু হলফনামা জমা দিলেই চলবে না। মুম্বাইয়ে গত মাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নেয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের জারি করা ভারত ছাড়ার নোটিশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার এ নির্দেশ দেন আদালত।
একই সঙ্গে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয়ের (এফআরআরও) জারি করা নোটিশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। তবে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিনেতাকে সতর্ক করেন বিচারপতিরা।
আদালতে ইমরান খান বলেন, বিক্ষোভের আয়োজকদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভারতে থাকার সুযোগ দেয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান। তবে আদালত জানিয়ে দেন, শুধু হলফনামা যথেষ্ট নয়; তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিন আদালত বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে একই ধরনের কাজ করলে তাকে পরবর্তী ফ্লাইটেই ভারতে ফেরত পাঠানো হতো।’ ইমরান খানকে উদ্দেশ করে আদালত আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন।
কিন্তু এত দিন কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। এত দিন পর এখন কেন বিক্ষোভে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ অভিনেতাকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিলেও আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে বসবাস করার সময় তিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না।
বোম্বে আদালত বলেন, ‘আপনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন, এমনকি সেখানে ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু এখানে এসে কোনো বিষয়ে বিক্ষোভ করলে তা সহ্য করা হবে না।’
আদালত ইমরান খানকে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বস্তি দিয়েছেন। শুনানিতে অভিনেতাকে ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি আদালত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার—নীতির কথাও উল্লেখ করেন। আদালত বলেন, ‘একসময় আপনি উদারতা দেখিয়ে বলবেন, এই মানুষটির এখানে বসবাস করা উচিত।’
ইমরান খানের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা এফআরআরও আদালতকে জানিয়েছে, অভিনেতা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই ভারতে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অধিকার তার নেই। এফআরআরওর পক্ষে আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে ইমরান খানের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের মতো নয়; বরং তা সীমিত ও স্বতন্ত্র।
তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের সাধারণ মানুষের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং ইনস্টাগ্রামে তার বিপুল জনপ্রিয়তা। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানতেন। তারপরও তিনি এতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
আদালতে করা আবেদনে ইমরান খান বলেছেন, তিনি বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তার পেশাগত ও পারিবারিক জীবনও এ দেশকে ঘিরে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো দুই বছর বাদ দিলে আমি পুরো সময় ভারতে বসবাস করেছি। ভারতই আমার বাড়ি। এখানে আমার সন্তান রয়েছে। আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনও এখানে প্রতিষ্ঠিত। আমার কাজ, পরিবার ও শিকড়—সবই ভারতে।’
গত মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেয়ার পর বিপাকে পড়েন ইমরান খান। ওই ঘটনায় মুম্বাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও ওসিআই কার্ডধারী এই অভিনেতাকে পরে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়। সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেই বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে সরকার কাজ করছে।
সোমবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা জানান, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির নানা অপচেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা বিএনপি সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের বিষয়টি মানুষের জানা। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন নেতাকে কীভাবে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, সেটিও সবার জানা। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিএনপিকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। যাঁর জনপ্রিয়তা বেশি এবং নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাকেই প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমার তারিখ নির্ধারিত হলে সে অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রফতানি দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দুই পোশাক কারখানা ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) পৃথক তদন্তে এ রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে।
আজ সোমবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে সাত কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইসির তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দু’টির কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করে। পাশাপাশি আমদানি ও রফতানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সাথে মিলিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।
রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় দুই হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ২৩৭ টন বা ৭৮ শতাংশ কাপড় কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। রফতানির হিসাবেও এসব কাপড়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির রফতানির নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। যেসব ৩১টি ইউডিতে কোনো রফতানি হয়নি, সেগুলোর ৩০টিতেই আমদানি করা কাপড়ের পুরোটা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আংশিক রফতানি হওয়া ১০টি ইউডিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।
পরিদর্শনে পুরো কারখানায় ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় পাওয়া যায়। এই কাপড়ের পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবৈধভাবে সরিয়ে নেয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লিশা টেক্সের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় এক লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রফতানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রফতানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই মূসক পরিশোধ না করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট সাত কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিআইসির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোট গণনার পর বিভিন্ন জরিপ সংস্থার প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাবে তিনি প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট।
প্রাথমিক ফলাফল চূড়ান্ত হলে বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হবেন ৬২ বছর বয়সি ইয়োতোভা।
পরাজয় মেনে নিয়ে গিউরভ বলেছেন, বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা যেভাবে ভোট দিয়েছেন, সেটিই তাদের সিদ্ধান্ত। তাই এই ফলাফল মেনে নিতে হবে। সোমবারের আগে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।
এ নির্বাচনে ইয়োতোভাকে সমর্থন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভের রাশিয়াপন্থি হিসেবে পরিচিত প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টি। দলটির জন্য এটি ছিল বড় একটি নির্বাচনী পরীক্ষা। গত এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে ২৪০ আসনের মধ্যে ১৩১টি পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়োতোভা জয়ী হলে প্রেসিডেন্টের পদও ক্ষমতাসীন জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একটি পক্ষের হাতে বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যপূর্ণ নজরদারি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
গত জানুয়ারিতে রাদেভ প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দায়িত্ব নেন ইয়োতোভা। এবার সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের মেয়াদ নিশ্চিত করতে লড়ছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বুলগেরিয়ার সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতিও অব্যাহত রাখবেন ইয়োতোভা। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও তার অবস্থান রয়েছে।
রোববার ভোট দেওয়ার পর ইয়োতোভা বলেন, তিনি এমন একটি বুলগেরিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যে দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং শক্তিশালী ইউরোপের মধ্যে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিসম্পন্ন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিয়েছি।’
বুলগেরিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটো এবং ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। দেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে দেশটির জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এ নিয়ে বুলগেরিয়ার সমাজে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ইয়োতোভা ও রাদেভ—দুজনই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলেছেন। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তারা স্পষ্ট অবস্থান এড়িয়ে গেছেন।
নির্বাচনের আগে টেলিভিশন বিতর্কে গিউরভের সঙ্গে আলোচনায় ইয়োতোভা বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তার ভাষায়, ‘শান্তি আসতে পারে কেবল আলোচনার মাধ্যমে।’
এ ছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী ছয়টি দেশকে নিয়ে একটি নিরাপত্তা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। ওই বৈঠকে দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও বলেন।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সরাসরি সরকার পরিচালনা করেন না এবং বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি সংসদে পাস হওয়া আইনে ভেটো দিতে পারেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন।
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সোমবার অধিকাংশ সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সাথে কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। তবে লেনদেনের পরিমাণ ৪১৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫১ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, ডিএস৩০ সূচক ২০৪২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২৬ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ কম। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ১০৩৭ দশমিক ৮১ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা কমেছে ৮ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ।
ডিএসইতে আজ মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে, ২৪৯টির কমেছে এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইতে আজ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯৪টি ট্রেডের মাধ্যমে মোট ১৭ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫১টি শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।
ডিএসইতে আজ মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ১১১ কোটি ৯৭ লাখ ১১ হাজার ১৬৪ টাকা।
বিভাগভিত্তিক লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৫৫টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত ছিল। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে, ৩০টির কমেছে এবং ছয়টির অপরিবর্তিত ছিল।
‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং ৩৪টির অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের ৩২টি ইস্যুর মধ্যে একটির দাম বেড়েছে, ২৭টির কমেছে এবং চারটির অপরিবর্তিত ছিল।
এছাড়া করপোরেট বন্ডের তিনটি ইস্যুর মধ্যে একটির দাম বেড়েছে এবং দু’টির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের একটি ইস্যুর দাম কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই সোমালি জলদস্যুরা উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলে একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই করেছে। ট্রলারটিতে ২১ ইরানি জেলে ও দুজন সোমালি রক্ষীসহ মোট ২৩ ক্রু ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও) এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের স্থানীয় সময় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ‘আজিনি’ নামের ইরানি ট্রলারটিতে উঠে পড়ে এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ঘটনাটি সোমালিয়ার বন্দর শহর ‘বান্দার বেইলা’ থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটি জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি তৈরির সময় পর্যন্ত ট্রলারের ক্রুদের অবস্থা বা নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ১২ জলদস্যু ট্রলারটি এবং এর ২৩ ক্রুকে জিম্মি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আজিনি’ ট্রলারটির গঠনশৈলী অনেকটা সেই ধরনের নৌযানের মতো, যা সোমালি জলদস্যুরা সাধারণত ‘মাদার শিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য বেছে নেয়। ছোট ছোট নৌযান ছিনতাই করে জলদস্যুরা সেগুলোকে ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।
এর মাধ্যমে তারা উপকূল থেকে অনেক দূরে তাদের স্পিডবোটগুলো পৌঁছাতে পারে না সেখানে গিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম হয়। এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, শনিবার নাগাদ ট্রলারটি আরও প্রায় ১১০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে সরে গেছে, যার ফলে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি চলে এসেছে।
কেন্দ্রটি সতর্ক করে বলেছে, ইরানি ট্রলারটিকে জলদস্যুরা পরবর্তী অভিযানের জন্য ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালি জলদস্যুরা জাহাজ ছিনতাইয়ের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কেবল গ্রীষ্মকালেই তারা প্রায় ছয়টি জাহাজ দখল করেছে। এসব হামলার কিছু ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ‘অনার ২৫’ নামের একটি ছিনতাই হওয়া তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারের অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে গ্রেফতার করে। তবে অভিযানের আগেই ট্যাংকারে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন জিম্মি নিহত হয়েছিলেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (সেভেন সিস্টার্স) বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে ৭৬৫ কেভির হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের (করিডর) অনুমোদন চেয়েছে ভারত।
তবে সমান সুযোগ ও আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া ভারতকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে একক কোনো লাইন না দেওয়ার বিষয়ে শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে ঢাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৯-১০ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে বিদ্যুৎ সচিবদের ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে এতে মালদ্বীপ, ভারত, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে ভারত তাদের সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পার্বতীপুর দিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার করিডর ব্যবহারের অনুমতি চায়। ভারত জানায়, এই লাইন দিয়ে বাংলাদেশও চাইলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সমান সুযোগ ছাড়া বাংলাদেশ এই করিডরের অনুমতি দেবে না।
বাংলাদেশ মনে করে নেপাল, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আলাদা গ্রিড লাইন থাকা দরকার। এই লাইন আঞ্চলিক গ্রিড লাইনও হতে পারে। তিনি বলেন, এই গ্রিড লাইন ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ বা নেপাল-ভারত-বাংলাদেশও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বিপাক্ষিক নয়, বাংলাদেশ চাইছে আঞ্চলিক গ্রিড লাইন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগে ১৯-২০ জুলাই দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে ভারতের করিডর প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। ওই নথিপত্রে ২০২৫ সালে লাইনের নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৮ সালে শেষ করার তাগিদ ছিল। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
৬ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না।
ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রাহুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘অসমে আসুন, আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করতে গিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন হিমন্ত।
রোববার (২ নভেম্বর) হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর কড়া বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামেন হিমন্ত।
বক্তব্যে হিমন্ত বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এখানে কোনো জায়গা নেই। রাহুলজি, বাংলাদেশিদের প্রতি আপনার যদি এতই দরদ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে যান। সেখানে গিয়ে নির্বাচন লড়ুন।’ এরপর রাহুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বরং আসামে আসুন। আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’
বাংলাদেশের প্রতি রাহুলের কথিত সহানুভূতির প্রসঙ্গ টেনে হিমন্ত আরও বলেন, আসামে এলে তিনি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাহুলের জন্য প্যারাসুটে অবতরণের ব্যবস্থা করবেন।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, কংগ্রেস আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। হিমন্ত বলেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হয় জনগণের ভোটে। ভোটাররা ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের মাধ্যমে সরকার বদল করেন।
কংগ্রেস শুধু ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রেই নয়, ব্যালট পেপারেও পরাজিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন হিমন্ত।
এর আগে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশ করে বিরোধী জোট। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল গান্ধী। তাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
রাহুল বলেন, ‘আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে-ই হোন না কেন, সংবিধানের চেয়ে বড় কেউ নন।’
রাহুলের বক্তব্যের পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়।
খুলনায় রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর ঘাট থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহেরচর এলাকার জেলখানা ঘাটসংলগ্ন আলম মেম্বারের ঘাট থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রথমে নদীর কাঁদার মধ্যে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ভাটায় নদীর পানি কমে গেলে সেখানে আরো একটি লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশকে জানানো হলে রূপসা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া দু’জনের মধ্যে একজনের পরিচয় মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫)। তিনি রূপসা উপজেলার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপরজনের নাম রেজাউল করিম (৩০)। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোহাগ বি কোম্পানির সদস্য ছিলেন। তবে তাদের মৃত্যুর ও লাশ নদীতে আসার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, লাশ দুটি নদীর চরে আটকে ছিল এবং সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। উভয়ের মাথায় ক্ষতচিহ্নও দেখা গেছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর জোয়ারের পানিতে সেগুলো ভেসে ওই এলাকায় এসেছে।’
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামে তাঁতীদলের এক নেতা নিহত হন। এর আগে শনিবার রাতে নগরের দারোগাপাড়া এলাকায় চাপাতির কোপে শহিদুল (৩৫) নামে এক যুবক খুন হন। এ,আর
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রোববারের (২ নভেম্বর) এ কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সমাবেশ থেকে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারেরও সমালোচনা করেন বিরোধী নেতারা। তাদের বক্তব্যে সংবিধান, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, কেউ যত ক্ষমতাশালী বা ধনী হোন না কেন, সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। রাহুলের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথভাবে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
মমতার দাবি, এই আন্দোলন কোনো দলের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়; বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার উদ্যোগ। গণতন্ত্র রক্ষায় তরুণদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
সমাবেশে মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবসহ অন্য বিরোধী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ২১টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি কেবল কংগ্রেসের দলীয় সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৃহত্তর বিরোধী মঞ্চের রূপ পেয়েছে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও রয়েছে। কমিশনের যুক্তি, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করা এবং ভুয়া, মৃত কিংবা একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম বাদ দেওয়া।
এ আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরেও ছাত্র ও যুব সংগঠনের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। জ্ঞানেশ কুমার ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লিতে প্রথম দিকের যুব আন্দোলনগুলোর অন্যতম মুখ ছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ৩১ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মমতা তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দেন।
তবে পরদিন রামলীলা ময়দানের বিরোধী জোটের সমাবেশে অংশ নেয়নি সিজেপি। অভিজিৎ দীপক জানান, তাদের সংগঠন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। কোনো রাজনৈতিক জোটের অংশ না হয়েও ভোট চুরির অভিযোগের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগঠনের আন্দোলনকে তারা সমর্থন করবেন।
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরাও এর আগে আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন প্রয়োজন। ফলে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর অবস্থানও আন্দোলনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
সমাবেশ ঘিরে দিল্লির ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, কর্মসূচির কারণে দিল্লির ২০ থেকে ২৫টি বড় বাজারের প্রায় আড়াই লাখ দোকান বন্ধ ছিল। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা, পরিবহণ, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা। তবে এটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নিজস্ব হিসাব; ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
উৎসবের মৌসুমে এমন ক্ষতির দাবি সামনে আসায় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাহুল গান্ধী অবশ্য আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিজেপিও সমাবেশের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমাবেশটির তাৎপর্য শুধু জনসমাগমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলো একটি অভিন্ন ইস্যুতে কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, সেটিই ছিল বড় পরীক্ষা। প্রবীণ সাংবাদিক ভূপেন্দ্র চৌবে এনডিটিভির আলোচনায় বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবির চেয়েও বিরোধী ঐক্য জোরদারের প্রচেষ্টা এ সমাবেশের বড় তাৎপর্য।
তবে এক দিনের সমাবেশে তৈরি হওয়া ঐক্যকে স্থায়ী নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাজ্যভিত্তিক আসন সমঝোতা, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ বিরোধী জোটের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপি অবশ্য বিরোধীদের এ কর্মসূচিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন হিসেবে মানতে নারাজ। দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সমাবেশকে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক প্রদর্শনী বলে কটাক্ষ করেছেন। ফলে একই কর্মসূচিকে ঘিরে দুই শিবিরের বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বিভাজন দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটাধিকার, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং বিরোধী ঐক্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই হয় এবং তা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন এমন মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’।
কার্লসনের দাবি, পাহাড়টির প্রায় ৩০০ ফুট গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে ইসরাইলি গোয়েন্দারা দাবি করছেন। প্রচলিত কোনো মার্কিন অস্ত্র দিয়ে এসব স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব নয়—এমন যুক্তিতে পারমাণবিক হামলার পক্ষে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ট্রাম্পের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন নেতানিয়াহু । এ পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করতে তিনি মার্কিন প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরও চাপ দিচ্ছেন।
কার্লসনের আশঙ্কা, ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের পানির উৎস হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে। রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, উত্তর কোরিয়াও এ ঘটনাকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যুক্তি হিসেবে দেখাতে পারে। এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে।
তবে কার্লসনের দাবি, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে। তার মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা জরুরি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইসরাইল হলো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ। ইসরাইল গাজা ও লেবাননে তাদের নৃশংসতার মাত্রা আরো বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শীতকাল এগিয়ে আসছে। অথচ বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলোর প্রবেশও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুত মানুয়ের পরিস্থিতিকে এক বিপর্যয়কর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির প্রতি ‘অনুভূতিহীন’ হয়ে পড়েছে।
বাঘাই বলেন, ‘মানুষের জীবনকে কেবল পরিসংখ্যানের পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং নৃশংসতাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা—এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রবণতা, যা মানব বিবেককে হুমকির মুখে ফেলে।’
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যখন নিজস্ব সংবিধি অনুযায়ী ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন আদালত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিণত করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরব দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে এক বৈঠকে চিনপিং বলেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন গভীর পরিবর্তনের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সি চিন পিংয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হওয়া উচিত নয়। এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সুরক্ষা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে চীন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাসংকট সমাধানে ‘প্রজ্ঞা ও কার্যকর সমাধান’ দিতে বেইজিং অবদান রাখতে চায়।
রোববার দুই দিনের সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছান ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো ওমানি রাষ্ট্রপ্রধান চীন সফর করছেন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, মিশিগান, টেক্সাস, কানসাস, মেইন ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। আলাস্কাতেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা। অন্যদিকে আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ছয়টিতেই ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান এগিয়ে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের হাতে থাকা সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। তবে রিপাবলিকান-অধ্যুষিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আসন পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ থাকায় শুরু থেকেই ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন সমীকরণ ছিল।
কিন্তু নতুন জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর রয়েছেন এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্য আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।
টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জয়ী হননি। অন্যদিকে কানসাসে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটে জয় পেয়েছিলেন ১৯৩২ সালে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সিনেট ব্যাটলগ্রাউন্ড মিশিগানেও দলটির প্রার্থী দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্রপাতের আগেই জরিপটি পরিচালিত হয়েছিল। এছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনাকে জরিপের আওতায় রাখা হয়নি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন এবং রিপাবলিকানরা নির্বাচনি প্রচারে ব্যয় কমিয়ে এনেছে।
জরিপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ এবং অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে ভোটারদের হতাশা রিপাবলিকানদের অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাতটি অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
দুই বছর আগে ট্রাম্প এসব অঙ্গরাজ্যের পাঁচটিতে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। সেই বিবেচনায় বর্তমান জরিপে তার প্রতি সমর্থনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে একাধিক স্থানে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা উঠে এসেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজায় এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনামূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেপজা) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায়, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠন করাকে অধিক কার্যকর বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে জয়পুরহাট ও বগুড়ার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ দুটি জেলাকে কেন্দ্র করে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।জয়পুরহাট দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে পরিচিত। এ জেলার অর্থনীতির বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, আলু, ভুট্টা, সরিষা, শাকসবজি এবং বিভিন্ন মৌসুমি কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জেলার কৃষকরা জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি এসব পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে আরও গতিশীলতা আসতে পারে। বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে আধুনিক সংরক্ষণাগার, বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, প্যাকেজিং কারখানা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে উৎপাদনস্থলের কাছাকাছি এসব সুবিধা তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, অপচয় কমানো এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজাকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত জমির তথ্য পাঠিয়েছে। এ কারণে ওই স্থানে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জেলাটির কৃষি উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং যোগাযোগসুবিধা কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। ধান, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বগুড়ার ভূমিকা রয়েছে।
বগুড়ার কৃষির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষির সঙ্গে ব্যবসা ও শিল্পের সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা গেলে কাঁচামালের স্থানীয় চাহিদা তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও শিল্পকারখানার কর্মীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ স্থান সম্পর্কে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা প্রশাসনকে পাঠাতে বলা হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উৎপাদন থেকে রপ্তানি-এক ছাতার নিচে কৃষির সব কার্যক্রম
কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মূল লক্ষ্য শুধু জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন নয়, বরং কৃষির সঙ্গে শিল্প, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংযোগ তৈরি করা। বর্তমানে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত। কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখানে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বাছাই, আধুনিক হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, প্যাকেজিং, পরীক্ষাগার, মান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এর ফলে কাঁচা কৃষিপণ্য বিক্রির পরিবর্তে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে অধিক মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে আলু থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, ফল থেকে জুস ও পাল্প, শাকসবজি থেকে হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানিযোগ্য খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের শিল্পের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। ফলে কৃষকদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহারও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ইপিজেড নয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত
সভায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কৃষিসচিব মো. সেলিম খান সভায় উল্লেখ করেন, কৃষি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভায় উপস্থিত সদস্যরাও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রস্তাবিত অঞ্চলগুলোতে শুধু রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ এবং রপ্তানি-উভয় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বিবেচনায় আসবে।
সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সালেহ আহমেদ বলেন, প্রাপ্ত জমির তালিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত স্থান নির্বাচনের আগে প্রস্তাবিত জমিগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) অথবা মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গেল সোর্স পদ্ধতিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রস্তুত করে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে।
পঞ্চগড়সহ অন্য জেলাও বিবেচনায়
কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুধু জয়পুরহাট ও বগুড়ায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। উত্তরাঞ্চলের একাধিক উপযুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জমিসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কিছু জেলা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাওয়া গেছে।
পঞ্চগড় জেলায় ইতোমধ্যে তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া ২১৭ দশমিক ৭৮ একর অকৃষি খাসজমি রয়েছে। ওই জমিতে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে জয়পুরহাট ও বগুড়ার সম্ভাব্য স্থানগুলোর পাশাপাশি পঞ্চগড়ের জমিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার উপযুক্ত স্থানগুলোও এ পরিকল্পনার আওতায় আসতে পারে।
বাস্তবায়নের আগে বড় পরীক্ষা সম্ভাব্যতা যাচাই
কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রস্তাবিত স্থানগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই। জমির পরিমাণ ও মালিকানা, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রাপ্যতা, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্যের সরবরাহ, বাজারের অবস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এ যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া কোন স্থানে কী ধরনের কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা সবচেয়ে লাভজনক হবে, সে বিষয়েও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে জয়পুরহাট ও বগুড়ার কৃষিপণ্যের ধরন, উৎপাদনের পরিমাণ, মৌসুমি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণ করে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা জরুরি।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের লক্ষ্যে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রস্তুত করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ কাজে ইনভেস্ট বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগিতা করবে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পের আর্থিক, কারিগরি ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবসম্মত স্থান নির্বাচন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং কৃষকের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের প্রাথমিক অগ্রযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি শুধু উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও রপ্তানির নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে কৃষিসচিব মো. সেলিম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তারাপানি মৌজা এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভাকে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ দুটি স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার উপযুক্ত স্থানগুলোও বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে জমি চূড়ান্ত করার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামোগত সুবিধা, কৃষিপণ্যের প্রাপ্যতা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় টার্মস অব রেফারেন্স প্রস্তুত করবে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ এ কাজে সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শুধু কয়েকটি শিল্পকারখানা স্থাপন করা নয়, বরং কৃষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও রপ্তানিকারকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষির বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
ভারতের আসামের ধুবড়ি জেলায় বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে গত রোববার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫৫০টি পরিবার, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বাঙালি মুসলিম। আলমগঞ্জের নবম ব্লকে প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে কর্তৃপক্ষ ৫০টিরও বেশি বুলডোজার ব্যবহার করে।
রোববার সকাল ৬টায় কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। যে এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়, সেখানে ৫৫০টি পরিবারের প্রায় চার হাজার মানুষ বসবাস করতেন। উচ্ছেদ চলাকালে বাসিন্দারা ‘কামেল পীর সাহাবুদ্দিন আউলিয়া মাজার’-এ প্রার্থনা করেন এবং উচ্ছেদ অভিযানের সময় মাজারটি ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
ধুবড়ি জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ জানিয়েছেন, প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি খালি করার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
দিবাকর নাথ বলেন, ‘পুরো এলাকাটি প্রায় ৮০০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত, যেখানে প্রায় ৮০০টি পরিবার বসবাস করে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বিষয়ে প্রায় ১৬০ জন আবেদনকারীর মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, প্রশাসন আদালতে হলফনামা জমা দেবে এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি এই অভিযানকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদ শুরুর আগেই প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাসিন্দাদের জমি খালি করার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।
উচ্ছেদের কয়েক দিন আগেই কর্তৃপক্ষ বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে বাসিন্দারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। কিছু পরিবার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি প্রতিকারের আশায় সেখানে থেকে গিয়েছিল। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোববারের অভিযানে একটি স্কুল ভবন, একটি মাজার এবং অন্যান্য উপাসনালয় ভাঙা হয়নি।
আসামে বিভিন্ন বসতি লক্ষ্য করে যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলছে, এটি তারই সর্বশেষ ঘটনা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, নাগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় দুই দিনব্যাপী এক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এক হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে বনভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বর্ণবৈষম্যের সমতুল্য হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসব উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বন্দুক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়ার পর্যন্ত নৈশক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি ও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য এবং পুলিশের বিবৃতির ভিত্তিতে হতাহতদের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় রোববার ভোরে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ডিপ এলাম ডালাসের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন এলাকা। সেখানে অসংখ্য বার, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব ও সংগীত পরিবেশনার স্থান রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
ডালাস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম গুলির ঘটনা ঘটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে রাত ১২টা ২০ মিনিটে। দ্বিতীয়টি রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে এবং তৃতীয়টি রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে।
তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়। আহত ১৫ জনের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই হাসপাতালে পৌঁছান।
ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানান, হ্যালোইন উপলক্ষে আগে থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি অবস্থান করা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
ফ্লোরিডা ও মিসিসিপিতেও প্রাণহানি
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে পৃথক দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন নিহত হয়েছেন। জ্যাকসনভিল পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন।
শহরটির আরেকটি এলাকায় রোববার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে চলা একটি পার্টি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত হন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। আহত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নৈশক্লাবে গুলিতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওকলাহোমা সিটির একটি ট্রেলার পার্কে হ্যালোইন পার্টি চলাকালে গোলযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে এক ব্যক্তি পায়ে একাধিক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে গাড়ির ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। তবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও স্টেডিয়ামের বাইরেও গুলি
হ্যালোইন উৎসবের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানের আশপাশে একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই ডজনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আলাবামার বার্মিংহামে লেজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের বাইরে গুলিতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর আগে স্টেডিয়ামটিতে আলাবামা এঅ্যান্ডএম ও আলাবামা স্টেটের মধ্যে ‘ম্যাজিক সিটি ক্লাসিক’ নামে পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছে গুলিবিদ্ধ আটজনকে সহায়তা করেন পুলিশ সদস্যরা। ঘটনাস্থলেই ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অন্য সাতজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইলিনয়ের প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ইন্ডিয়ানার ব্লুমিংটনে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছেও গুলির শব্দ শুনতে পান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে হ্যালোইনের পাশাপাশি হোমকামিং উৎসব চলছিল।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাতের মতো ক্ষত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তিনিই গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ডেলাওয়ারের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছে গুলিতে ছয়জন আহত হয়েছেন। আরকানসাসের ফায়েটভিলেও বন্দুক হামলায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সেখানে একটি বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে।
সহিংসতা ঠেকানো কঠিন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি ঠেকানো পুলিশের জন্য কঠিন বলে মনে করছেন বন্দুক সহিংসতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় বিচার বিভাগের ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকসের পরিচালক ছিলেন অ্যালেক্সিস পিকেরো। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির অপরাধবিজ্ঞানী।
নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষে প্রতিটি বার বা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অবস্থান করা সম্ভব নয়। ফলে উৎসবের সময় বিভিন্ন স্থানে একযোগে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন, মূলগ্রাম, মথুরাপুর ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় পৌর সদরের উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত সরকারের দলীয় (আওয়ামী) পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবৈধভাবে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রকৃত ও অভিজ্ঞ পুরনো সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে চরম অনিয়মের মাধ্যমে এসব ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত ডিলারশিপ বাতিল করে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ সার ব্যবসায়ীদের পুনরায় ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানান। একই সাথে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলম মাহমুদ, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এ এম জাকারিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল করিম তারেক, হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজির সরকার, গুনাইগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মওলা, বিলচলন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো: আফসার আলী নেভী, ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম এবং মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী।
এ সময় উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর
দক্ষিণাঞ্চলের খাল-বিল ও ছোট নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ এলাকায় বছরের দীর্ঘ সময় জমি পানিতে ডুবে থাকে। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি দোবরা এবং নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের অনেক এলাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে সবজির চারা উৎপাদন ও চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে।এ পরিস্থিতিতে পানিকে বাধা না ভেবে চাষাবাদের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কচুরিপানা, শ্যাওলা, দুলালিলতাসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ দিয়ে পানির ওপর ভাসমান বেড তৈরি করে তাতে সবজির চারা উৎপাদন করছেন তারা। তুলনামূলক কম খরচে চারা উৎপাদন এবং জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ থাকায় এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। একসময় যেসব জলজ উদ্ভিদকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হতো, সেগুলোই এখন ভাসমান কৃষির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার অংশ।
এই ভাসমান কৃষির উপকরণ কেনাবেচাকে ঘিরেই জমে ওঠে নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা হাট। শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এই হাটে ভোরের আলো ফুটতেই নদীর বুকে সারি সারি নৌকায় শুরু হয় বেচাকেনা। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিক্রেতারা নৌকায় করে নিয়ে আসেন শ্যাওলা, কচুরিপানা, দুলালিলতাসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ। এসব উপকরণ কিনতে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় ঘুরে বেড়ান কৃষকেরা। দরদাম শেষে কেউ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে যান, আবার কেউ কেনেন নৌকাভর্তি জলজ উদ্ভিদ। এভাবেই শুরু হয় ভাসমান বেডে সবজির চারা উৎপাদনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম।হাটে শ্যাওলা বিক্রি করতে আসা ইব্রাহিম বলেন, মোল্লারহাট থেকে শ্যাওলা নিয়ে আসি। কুড়ি হিসেবে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। ভালো দিনে আট-নয় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, বাজার খারাপ গেলে পাঁচ হাজার টাকার মতো হয়।শ্যাওলা কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, ভাসমান বেড তৈরি করে সবজির চারা উৎপাদনের জন্যই তিনি শ্যাওলা কিনছেন।
কৃষকেরা হাট থেকে কচুরিপানা, শ্যাওলা ও প্রয়োজনীয় লতাপাতা কিনে নিয়ে যান নিজেদের এলাকায়। সেগুলো দিয়ে তৈরি করেন ভাসমান বেড। তবে বেডে চারা উৎপাদনের আগে শুরু হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেখানে যুক্ত রয়েছেন গ্রামের বহু নারী।
ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপে নারীরা দুলালিলতা দিয়ে তৈরি করেন ‘ম্যাদা’। স্থানীয়ভাবে পাওয়া এই লতা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সাজিয়ে তৈরি করা হয় বীজ বপনের উপযোগী কাঠামো। এতে বেগুন, মরিচ, লাউ, করলা, মিষ্টিকুমড়া, শসাসহ বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়। বীজ থেকে চারা গজানোর পর যত্নসহকারে সেগুলোর পরিচর্যা করা হয়। চারা কিছুটা বড় হলে তা ভাসমান বেডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিয়মিত পরিচর্যার পর চারা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওএই প্রাথমিক কাজের বড় একটি অংশ সামলান গ্রামের নারীরা। কেউ লতা সংগ্রহ করেন, কেউ ম্যাদা তৈরি করেন, আবার কেউ বীজ বপন ও অঙ্কুরিত চারার পরিচর্যা করেন। বাড়ির আশপাশে কিংবা জলাভূমির কাছে বসেই চলে তাদের কাজ। ভাসমান কৃষির এই প্রক্রিয়ায় নারীদের শ্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অনেকের আয় সীমিত।
নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রামের নুরজাহান বেগম তাদেরই একজন। কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে ২০০৫ সাল থেকে ভাসমান বেডে সবজির চারা উৎপাদনের কাজ করছেন। নিজের কাজের পাশাপাশি গ্রামের অসচ্ছল ও কর্মহীন নারীদেরও এ কাজে যুক্ত করেছেন তিনি। বর্তমানে তার উদ্যোগে কাজ করছেন প্রায় ১০ জন নারী।
নুরজাহান বেগম বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০০৫ সাল থেকে এই কাজ করছি। অনেক পরিবার দুঃখ-কষ্টে আছে। আমি তাদের সামনে এগিয়ে নিতে চাই, কিন্তু পারছি না। সরকার যদি বিনা সুদে ঋণ দিত, তাহলে সামনে এগোতে পারতাম, আরও নারীদের কাজ করাতে পারতাম। ঘরে বসে থাকা নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।
কাজের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী এ কাজে মজুরি নির্ধারিত হয়। স্থানীয়ভাবে প্রতি এক হাজার ম্যাদা তৈরি করে একজন নারী শ্রমিক পান প্রায় ১৫০ টাকা। দিনভর কাজ করেও অনেকের আয় থাকে ২০০ টাকার আশপাশে। ফলে সংসারের খরচ চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
বলদিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করি। সারা দিন এত পরিশ্রম করেও ২০০ টাকা আয় করতে অনেক কষ্ট হয়। নারীদের আর কোনো কাজ নেই, তাই এগুলোই করি। আমাদের ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ভালো হতো। এক হাজার ম্যাদা বানিয়ে দেড়শ টাকা পাই। তাতে কি আর সংসার চলে।
স্থানীয় নারীরা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, ব্যবসা পরিচালনা ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেলে তাদের কাজের দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ছোট পরিসরে কাজ করা অনেক নারী নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন। এতে একদিকে তাদের আয় বাড়বে, অন্যদিকে গ্রামে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ভাসমান বেডে চারার পরিচর্যা ও বিপণন
নারীদের হাতে বীজ থেকে চারা গজানোর প্রাথমিক কাজ শেষ হলে সেগুলো ভাসমান বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। জলাভূমির ওপর কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি এসব বেডে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয় চারা। এরপর চলে নিয়মিত পরিচর্যা। কৃষকেরা চারায় প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করেন, আগাছা ও লতা পরিষ্কার করেন এবং চারা বিক্রির উপযোগী করে তোলেন। ভাসমান এসব বেডে একসঙ্গে উৎপাদিত হয় বিভিন্ন জাতের সবজির হাজার হাজার চারা।ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনকারী কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, এখানে সকাল ৬টায় আসি কাজ করতে। বেডে চারা রোপণ করি, ওষুধ দিই, লতা পরিষ্কার করি। এই জায়গার চারা ঢাকা যায়, খুলনা যায়, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ অনেক জায়গায় যাই। প্রতিবছর এখানে লাখ লাখ চারা উৎপাদন হয়। এই জায়গায় পেঁপে, লাউ, করলা, বেগুন, মরিচ, মিষ্টিকুমড়ার চারা উৎপাদন হয়। বিভিন্ন রকমের সবজির চারা প্রতি পিস তিন টাকা থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
বেডে উৎপাদিত চারা বিক্রির জন্য কৃষকেরা বৈঠাকাটা ও আশপাশের বিভিন্ন হাটে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ চারা কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। পরে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে এসব চারা পৌঁছে যায় কৃষকদের হাতে। এভাবে কয়েকটি পর্যায় পেরিয়ে ভাসমান বেডে উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়।
পিরোজপুর পৌর শহরে সবজির চারা খুচরা বিক্রি করেন রফিক শেখ। তিনি বলেন, নাজিরপুরের ভাসমান বেডের চারা এনে এখানে বিক্রি করি। আমরা বিভিন্ন জাতের সবজির চারা ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ভাসমান বেড থেকে পাঁচ থেকে সাত টাকা করে প্রতি পিস কিনে আনি।
জাত, আকার, চাহিদা ও বাজারের ওপর নির্ভর করে চারার দাম কমবেশি হয়। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের এই পার্থক্য থেকে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মেটানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আয় হয়। ফলে চারা উৎপাদনকারী কৃষক, পাইকার, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও খুচরা বিক্রেতাকে নিয়ে এই কৃষিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
সম্ভাবনা ও চাহিদা
নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজির চারা এখন স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, নাজিরপুর এবং নেছারাবাদে ভাসমান বেডে চারা উৎপাদন হয়। উৎপাদিত সবজির চারা খুলনা, যশোর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাচ্ছে। এই পেশায় প্রায় ছয় হাজার কৃষক জড়িত। তাদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় এক কোটি বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারার আনুমানিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এই পেশার ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষও। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য জলজ উদ্ভিদ এবং পানিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা এই কৃষিব্যবস্থা দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তবে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়াতে আধুনিক চাষপদ্ধতি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভাসমান কৃষির প্রাথমিক ধাপে কাজ করা নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের শ্রমের মূল্য বাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার পথও তৈরি হতে পারে।
প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে চাষাবাদের মাধ্যমে দূষণের সমস্যা নিরসন করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) এই প্লাস্টিক ফার্মিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।এর অংশ হিসেবে প্রথমে বিভিন্ন জলাশয় থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করা হয়। এরপর এই পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে মাটি ও কম্পোস্টের মাধ্যমে বীজ বপন করা হয়। প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন গবেষণার পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও পিরোজপুরের ভূমিহীন কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে কর্মকর্তারা অঞ্চলের ভূমিহীন কৃষকদের প্লাস্টিক ফার্মিং পদ্ধতি শেখান। এছাড়া, গ্রামে গ্রামে কৃষকদের প্লাস্টিক ফার্মিং শেখাতে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখানোর কর্মসূচি এবং একটি ওয়েবসাইট প্রস্তুত করা হয়।
ফলে ২০টি গ্রামের ২ হাজার ১০০ জন কৃষক প্লাস্টিক ফার্মিংয়ের আওতায় আসেন এবং তারা নিজস্ব প্রচেষ্টায় শীতকালীন শাকসবজি ফলনে বেশ সফল হন। প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসের পাশাপাশি, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারসহ ভূমিহীন কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগটি ভবিষ্যতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
তেলেভাজা সিঙ্গারা প্রায় সকলেরই পরিচিত। কিন্তু পুকুরের জলে জন্মানো সিঙ্গারার কথা শুনেছেন কি? দেখতে অনেকটা সিঙ্গারার মতো, তবে এটি কোনও তেলেভাজা খাবার নয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই জলজ ফলের নাম পানিফল। শীতের মরশুম শুরু হতেই নদিয়ার বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে এই মরশুমি ফলের। শুধু স্বাদে নয়, চাষ ও বিক্রির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে পানিফল।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি নদিয়া জেলার কালীনয়নপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পানিফলের চাষ হয়। মূলত পুকুর ও জলাশয়ের জলে এই ফলের উৎপাদন হয়। শীতকালীন ফল হওয়ায় বছরের অন্য সময়ে বাজারে এর তেমন দেখা মেলে না। তবে শীতের শুরুতেই বাজারে আসতে শুরু করে পানিফল। ট্রেন, বাস, রেলস্টেশন থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার—বিভিন্ন জায়গাতেই এই ফলের বিক্রি চোখে পড়ে। মরশুমি এই ফল কিনতে ক্রেতাদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যায়।পানিফলের চাহিদার অন্যতম কারণ এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ। সিঙারার মতো দেখতে হওয়ায় অনেকের কাছে এটি জলের সিঙারা নামেও পরিচিত। খোসা ছাড়িয়ে সরাসরি খাওয়া যায় এই ফল। শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার হয়ে উঠেছে। তবে পানিফলের গুরুত্ব শুধু খাদ্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ফলের চাষ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। চাষিরা জলাশয়ে পানিফল উৎপাদন করে যেমন বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনই হকার ও খুচরো বিক্রেতারাও এই মরশুমি ফল বিক্রি করে উপার্জন করছেন। শীতের কয়েকটি মাস পানিফলের ব্যবসা অনেক গ্রামীণ পরিবারের কাছে বাড়তি রোজগারের পথ খুলে দেয়। সব মিলিয়ে, পুকুরের জলে জন্মানো এই ‘জলের সিঙ্গারা’ এখন নদিয়ার শীতের বাজারে পরিচিত মুখ। একদিকে মানুষের রসনাতৃপ্তি, অন্যদিকে চাষি ও বিক্রেতাদের বাড়তি উপার্জন—দুইয়ের যোগসূত্রেই পানিফল হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মরশুমি অবলম্বন।
: যশোরের জিআই পণ্য খেজুর গুড় সংগ্রহ মওসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার এ উপলক্ষে জেলার চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও গাছি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, চৌগাছা উপজেলায় প্রায় দুই লাখ খেজুর গাছ রয়েছে। এরমধ্যে অন্তত ৩০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে যা থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। একটা খেজুর গাছ থেকে প্রতি মওসুমে প্রায় ৮০ লিটার রস পাওয়া যায়। উক্ত রস থেকে প্রায় ১০ কেজি গুড় উৎপাদন করা সম্ভব। সেই হিসেবে চৌগাছা উপজেলায় প্রতি মওসুমে প্রায় ৯ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদন হয়ে থাকে এবং সমগ্র যশোর জেলায় চলতি মওসুমে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদন হবে। প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আশেক হাসান তার বক্তৃতায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী চৌগাছার খেজুর গুড় উৎপাদনের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছেন। এছাড়া কৃষি মন্ত্রী মহোদয় চৌগাছা উপজেলাকে বিশেষ কৃষি অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি আরো বলেন,সরকার চলতি মওসুম থেকে খেজুর গুড় বিদেশে রপ্তানি করার ব্যাপারে কার্যকর ভুমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, একজন উদ্যোক্তা খেজুরের রস থেকে সিরাপ তৈরি করে চলতি মওসুমেই বিদেশে রপ্তানি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে গাছীদের মাঝে প্রণোদনা তুলে দেন জেলা প্রশাসক। প্রণোদনার মধ্যে ছিল খেজুর গাছের চারা, গাছ কাটা দা,রস সংগ্রহের ভাড় (পাত্র) ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জিএমএ মুনীব, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেসবাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাষ্টার কামাল আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল প্রমুখ। এ,আর
নবীন কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও কর্মজীবনে এর কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নব-যোগদান করা কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সব কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’
তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ প্রতিপালন করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও আনসার অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সংঘাতময় ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করে। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্য তিনি নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৮০ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ২৫ জন কর্মকর্তা সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ (১ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।
মন্ত্রী-এমপিদের তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিতে এই তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই সচিবের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রী।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চার যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে সুবিধা পাইয়ে দিতে মন্ত্রী-এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের এমন তদবিরের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পছন্দমতো বদলি ও পদায়ন পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুপারিশ করাচ্ছেন। কখনো মৌখিক, আবার কখনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের মাধ্যমে এসব তদবির করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে আসার পর এ প্রবণতা বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দায়িত্বপালনকারী অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তাকে জেলা পর্যায়ে বদলি করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বড় অংশই ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মন্ত্রী-এমপিঘনিষ্ঠ। বিএনপি সরকার গঠনের পরও ক্ষমতাচ্যুত সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সরানো হয়। তবে সম্প্রতি ওইসব কর্মকর্তার অনেকেই বিএনপির মন্ত্রী-এমপিদের আনুকূল্য পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার বদলি পদায়নের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে ডিও লেটার পাঠাচ্ছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনিকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করেন। পরদিন একই কর্মকর্তার বদলির সুপারিশ করে একই সচিবকে চিঠি দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুই চিঠির বক্তব্যও প্রায় অভিন্ন।
চিঠিতে মনিরুজ্জামানকে সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ও তার পরিবার জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় একটি নির্মাণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। এতে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ চলছে। শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে ঢাকা মেট্রো এলাকায় বদলির সুপারিশ করা হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে চিঠি দিয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের চার যুগ্ম সচিবের পদোন্নতি বিবেচনার অনুরোধ জানান। তারা হলেন—জাহিদুল ইসলাম, ড. আমজাদ হোসেন, মল্লিকা খাতুন ও মাহফুজুর রহমান। মন্ত্রী তাদের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেন। পরে উপদেষ্টা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার খুবই কঠোর। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির বন্ধে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ বিধি অনুযায়ী এ ধরনের তদবিরকে বিধিমালার লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদবিরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য তার ডসিয়ারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ নির্দেশনা অনুসারে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা সরকারের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়নসহ চাকরিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির করছেন। এ ধরনের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। সুপারিশের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শৃঙ্খলাপরিপন্থি ও আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব জমিতে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুম হারাচ্ছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তালা উপজেলার শাকদাহ বিল। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ একসময় এই বিলে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় গবাদিপশুর চারণভূমিও কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে ফসল হারানোর পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ধানের জাত এবং বিকল্প চাষপদ্ধতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকায় আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা রয়েছে তালা উপজেলায়। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় অনেক জমিতে আমন চাষ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব জমিতে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুম হারাচ্ছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তালা উপজেলার শাকদাহ বিল। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ একসময় এই বিলে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় গবাদিপশুর চারণভূমিও কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে ফসল হারানোর পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ধানের জাত এবং বিকল্প চাষপদ্ধতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় একমাত্র পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে পারলেন না ১২ শিক্ষক। কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। কলেজ শাখায় ১২ জন শিক্ষক পাঠদান করালেও একমাত্র পরীক্ষার্থীর পাস করতে না পারার ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী সঞ্জীব বর্মন একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। সে সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ আগামীতে ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও পদ নিয়ে নানা জটিলতার ঘটনাও ঘটে।
কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এটি এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে অফিস সহায়কসহ কলেজে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
অধ্যক্ষের দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীসংকটের সমাধান হয়নি। ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পরীক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চালকলের ছাই, বর্জ্য, পলিথিন ও দূষিত পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খাজানগর-কবুরহাট এলাকার কৃষিজমি ও জনবসতি। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় পরিবেশ দূষণ বন্ধে মিল মালিকদের দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা পেরিয়ে গেছে দুই মাসের বেশি সময়। কিন্তু দূষণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ২৯ জুলাই খাজানগরের চালকলগুলোতে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে অভিযান চালায় পরিবেশ রক্ষা কমিটি। এ সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণে মিল মালিকদের দুই মাসের সময় দেওয়া হয়। অভিযানে মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল ওয়াজিউর রহমান মিল মালিকদের সতর্ক করে বলেন, এভাবে পরিবেশ দূষণ করা যাবে না। মিল মালিকদের সদিচ্ছার অভাবে যেভাবে দূষণ হচ্ছে, দুই মাস পর যেন আর এমন পরিস্থিতি দেখতে না হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরসংলগ্ন স্বর্গপুর গ্রামের কৃষক মন্টু সাধু বলেন, চালকলের ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, নোংরা পানি ও ছাই এসে পড়ছে তাঁদের আবাদি জমিতে। এতে জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন ১০ মণও পাওয়া যাচ্ছে না।
মন্টু সাধুর অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা বলে, ‘ময়লা পানি ও ছাই এভাবেই যাবে।’ কৃষি কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি তাঁরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেও মিল মালিকদের রোষানলে পড়তে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
খাজানগর এলাকার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি কর্মকর্তা এসে মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।’ এলাকার গৃহবধূ শ্যামলী খাতুন বলেন, ‘ছাই ও দূষণের কারণে সন্তানদের নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মিল মালিকদের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও সেই সময় পার হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং ভোগান্তি বেড়েছে।’
কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘যেসব মিল মালিকের বিরুদ্ধে ছাই ছড়ানো ও বায়ুদূষণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পরিবেশদূষণ বন্ধে নিয়মিত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দূষণকারী চালকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ২৭টি মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে মিলগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—অতি দূষণকারী, মধ্যম দূষণকারী, নিম্ন দূষণকারী ও গ্রহণযোগ্য। এর মধ্যে অতি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
ভাগ্য কখন যে কাকে কোথায় নিয়ে যায়, কেউ বলতে পারে না। আজ যে ধনী, কাল সে পথের ফকির। আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। এমনই এক গল্পের নায়ক রিয়েল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার ইয়ান দিওমান্দে।
পুরনো কাপড়, ছেঁড়া মোজা কিংবা ন্যাকড়া পেঁচিয়ে বানানো ফুটবল। কখনো ভাগ্য ভালো থাকলে জুটত প্লাস্টিকের বল। আরও বেশি ভাগ্যবান হলে পুরোনো চামড়ার একটা ফুটবল।
আইভরিকোস্টের আবিদজান শহরের ইয়োপুগন এলাকার সিকোজি মহল্লায় এভাবেই ফুটবল খেলত একদল শিশু। পায়ের নিচে কখনো মাটি, কখনো সিমেন্টের রাস্তা। আশপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় বাঁচিয়ে বল নিয়ে ছুটে চলা। পায়ে জুতা নেই। থাকলেও স্যান্ডেল। সেই শিশুদের একজনের নাম ইয়ান দিওমান্দে।
যে মহল্লায় তিন বেলা খাবার জোটানোই স্বপ্ন, সেখানে ফুটবল বুট তো রাজকীয় বিলাসিতা! অথচ ওই ছেলেটার স্বপ্ন ছিল রাজকীয়ই। একদিন আফ্রিকার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হবে সে। স্বপ্নটা যে একদিন সত্যি হওয়ার পথে এত দূর এগোবে, কে জানত! দিওমান্দে এখন রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার। যে পায়ে একদিন জুতাও ছিল না, সেই পায়ে এখন ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে অভিজাত ক্লাবের স্বপ্ন। যেন রূপকথার কোনো গল্প!
কিন্তু রূপকথার শুরুটা মোটেও সুন্দর ছিল না। কাজের সন্ধানে বাবা চলে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। মা আর বোন রোকসানের কাছে বেড়ে ওঠা দিওমান্দের। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। আনন্দ বলতে ফুটবল। আর সেই ফুটবলে ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা অন্য রকম।
ড্রিবলিংয়ে অবিশ্বাস্য দক্ষতা। শটে প্রচণ্ড শক্তি। পাড়ার লোকজন তাই নাম দিয়েছিল ‘রবার্তো কার্লোস’। ব্রাজিলের সেই বিখ্যাত বাঁ পায়ের ফুটবলারের নামে। একদিন রাস্তার ফুটবলে বদলে গেল জীবন।
দেজ বাম্বা নামের এক ব্যবসায়ী ও ফুটবল প্রতিভা অন্বেষকের চোখে পড়ল ছেলেটা। বাম্বা তাঁকে নিয়ে গেলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত এএফআই সুদ কোমোয়ে একাডেমিতে। আবিদজান থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে আসুবার সেই একাডেমিতে ২০১৪ সালে পৌঁছাল ১০ বছরের দিওমান্দে। সেখানে আরও ৪০ জন প্রতিভাবান শিশু। অনেকের জীবনেই প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ। দিনে তিন বেলা, কখনো চার বেলা খাবার! দিওমান্দের কাছে যেন স্বর্গ।
একাডেমির দায়িত্বে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ হোসে হুলিয়ান লোপেস। এখন স্পেনের ভালদেমোরো ফুটবল একাডেমির সমন্বয়ক। তাঁর স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল সেই ছোট্ট ছেলেটা। লোপেসের ভাষায়, ‘প্রথম দেখাতেই বুঝেছিলাম, বল পায়ে ছেলেটা বিশেষ কিছু। ড্রিবলিং করত, ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জ জানাত, ভেতরে ঢুকে পড়ত। অসম্ভব সাহসী ছিল।’ এতটাই প্রতিভাবান যে অনূর্ধ্ব-১২ থেকে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৪ দলে তুলে নেওয়া হয়।
সমস্যা ছিল একটাই। বল পেলে থামতে চাইত না দিওমান্দে। নিজেদের গোলপোস্টের কাছ থেকে ড্রিবলিং শুরু করে পাঁচ-ছয়জন বড় ফুটবলারকে কাটিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে পৌঁছে যেত। কখনো গোল, কখনো বল হারানো। লোপেসের প্রথম কাজ ছিল তাঁকে থামতে শেখানো। কখন ড্রিবলিং করতে হবে, কখন পাস দিতে হবে, সেটা বোঝানো। ছেলেটা শিখতও অবিশ্বাস্য দ্রুততায়। লোপেস বলেন, ‘কোনো কিছু বোঝানোর সময় ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত, এখনো মনে আছে। শুধু কী করতে হবে, তা নয়, কেন করতে হবে, সেটাও বুঝতে চাইত।’
শুধু মাঠে নয়, পড়াশোনাতেও মেধাবী। একাডেমিতে আসা ৮০ শতাংশ শিশুই পড়তে বা লিখতে জানত না। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। দিওমান্দে দুই জায়গাতেই এগিয়ে। আর ফুটবল? লোপেসের স্মৃতিচারণা, ‘ড্রিবলিং আর শুটিং ছিল জন্মগত। আমরা ওকে প্রথম বুটজোড়া দিলাম। তারপর যেন উড়তে শুরু করল! অন্য ছেলেরা শট নিয়ে গোলপোস্টের কাছেও পৌঁছাতে পারত না। আর ও কর্নার নিত অবিশ্বাস্য দক্ষতায়।’
সর্বশেষ দলবদল উইন্ডোয় রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় কিনেছে। আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন দিওমান্দে।
বয়সে পাঁচ বছরের বড় ছেলেদের বিপক্ষেও ভয় পেত না। নিয়মিত লিগ না থাকায় একাডেমি প্রীতি ম্যাচ খেলত বিভিন্ন দলের সঙ্গে। সেখানে মূলত ডান উইংয়ে খেলত দিওমান্দে। ডিফেন্ডারদের জন্য ছিল মূর্তিমান আতঙ্ক। বাঁ উইংয়ে খেলা শুরু আরও পরে। আফ্রিকান ট্যালেন্ট এলিট একাডেমির পরিচালক ফ্রান কাস্তানিয়ো প্রথম তাঁকে দেখেন অনূর্ধ্ব-১৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাই টুর্নামেন্টে। বয়স তখন মাত্র ১৫। কাস্তানিয়োর স্মৃতিতে, ‘প্রথম মুহূর্তেই নজর কেড়েছিল। দুই উইংয়ে খেলতে পারত। গতি, শক্তি, দক্ষতা, গোল করার ক্ষমতা, সবই ছিল। টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকটি গোলও করেছিল। বাকিদের চেয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল।’
এমন প্রতিভার গন্তব্য ইউরোপই হওয়ার কথা। কিন্তু বাধা ফিফার নিয়ম। ১৮ বছরের আগে ইউরোপে গিয়ে খেলার সুযোগ নেই। ১৬ বছরে চুক্তি করা গেলেও খেলা যায় না। তাই দিওমান্দেকে যেতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। অথচ তাঁর একাডেমি বছরে দুবার স্পেনে টুর্নামেন্ট খেলতে যেত। দিওমান্দেকে দেখে মুগ্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের সাহস করেনি কেউ। সেই ছেলেই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল রিয়াল মাদ্রিদে।
ইয়ান দিওমান্দে রয়টার্স
সর্বশেষ দলবদল উইন্ডোয় রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় কিনেছে। আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন দিওমান্দে। শুরুটা ছিল মন্থর। রিয়ালের জার্সিতে প্রথম গোল ১০ অক্টোবর, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে।
ওই গোলে ১-০ ব্যবধানে জেতে দল। এরপর ছন্দ পেয়েছেন দ্রুত। লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে সাবেক ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে বদলি নেমে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দিয়েছেন অ্যাসিস্ট, আবার নিজে করেছেন দলের চতুর্থ গোলটিও। সব মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে এই মৌসুমে ১৩ ম্যাচে খেলেছেন ৬৫৬ মিনিট। ৩ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট। লা লিগায় শুরুর একাদশে পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন, পাঁচটিতেই জিতেছে রিয়াল। তাই কোচ হোসে মরিনিওর ‘পয়মন্ত’ হিসেবেও আলোচনায় এসেছেন।
আইভরিকোস্টে এখন উৎসব! দেশটির বাস্কেটবল দলের স্প্যানিশ কোচ মিগেল আনহেল ওইয়ো আবিদজান থেকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে বলেছেন, ‘এখানে সবাই শুধু দিওমান্দেকে নিয়েই কথা বলছে। চরম দারিদ্র্য থেকে প্রতিভা, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, ও তার প্রমাণ।’
এখন দিওমান্দে সেই ভালোবাসাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। দেশটির মানুষের কাছে তাঁর নাম উঠে আসছে দ্রগবা ও ইয়াইয়া তোরের মতো কিংবদন্তিদের পাশে।
দেশটির রাস্তায় এমনিতেই রিয়াল মাদ্রিদের সাদা আর বার্সেলোনার নীল-মেরুন জার্সি পরিচিত দৃশ্য। এখন সাদার আধিপত্য বাড়ছে। ওইয়োর কথায়, ‘পুরো দেশ যেন সাদা হয়ে যাচ্ছে।’
স্পোর্ট আইভরির সাংবাদিক কাদের গিলাভোগির মতে, এই উন্মাদনার পেছনে ইতিহাসও আছে। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে চেলসি ও বার্সেলোনার বিতর্কিত ম্যাচের পর দিদিয়ের দ্রগবার প্রতি সমর্থন থেকে অনেক আইভরিয়ান বার্সেলোনার বিপক্ষে চলে যান। জোসে মরিনিওর জনপ্রিয়তাও রিয়ালের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
এখন দিওমান্দে সেই ভালোবাসাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। দেশটির মানুষের কাছে তাঁর নাম উঠে আসছে দ্রগবা ও ইয়াইয়া তোরের মতো কিংবদন্তিদের পাশে। গিলাভোগি বলছেন, শুরুর মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা কাটিয়ে দিওমান্দে এখন নিজের সামর্থ্য দেখাচ্ছেন। দেশের তরুণদের জন্য হয়ে উঠেছেন উদাহরণ।
এমবাপ্পের সঙ্গে দিওমান্দে রয়টার্স
অথচ এই খ্যাতির মধ্যেও শিকড় ভোলেননি দিওমান্দে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছেন। নিয়মিত অর্থ পাঠান নিজের পুরোনো মহল্লায়। সেই সিকোজিতে, যেখানে একদিন ন্যাকড়ার ফুটবল নিয়ে দৌড়াতেন। তাঁর এই পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন বোন রোকসান। সেই প্রিয় বোন আর বেঁচে নেই। আফ্রিকার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হওয়ার স্বপ্নটা দেখেছিলেন তাঁরই উৎসাহে।
লোপেসের একাডেমির ১১ জন এখন ইউরোপে খেলেন। ২০ জনের বেশি আইভরিকোস্টের প্রথম বিভাগে। কিন্তু দিওমান্দের গল্পটা তাঁর কাছে আলাদা। কেন আলাদা? একাডেমির ছেলেদের কাছে একবার জানতে চেয়েছিলেন লোপেস, সেখানে থাকার সবচেয়ে বড় আনন্দ কী? উত্তর এসেছিল, ‘প্রতিদিন খেতে পারা।’ সেই শিশুদেরই একজন আজ রিয়াল মাদ্রিদে।
ফুটবল কখনো কখনো শুধু জীবন বদলায় না। একটা শিশুকে আকাশের ঠিকানাও দিয়ে দেয়।
মাঠজুড়ে পাকা আমন ধান। কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও চলছে ঘরে ফসল তোলার প্রস্তুতি। অথচ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কৃষকদের মনে নেই ধান কাটার চিরচেনা আনন্দ। সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত ধান কাটার মৌসুমে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকে। মাঠে ধান কাটতে কাটতে চলে জারি গান, গল্প আর হাসি-আনন্দ। ধান ঘরে তোলার পর শুরু হয় পরবর্তী কৃষিকাজ। কিন্তু এবার উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের অসংগতিতে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ফসল ঘরে তুলেও খরচের টাকা উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলেও প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি মণ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করলে আয় হয় ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচের চেয়ে আয় কম হচ্ছে। এর বাইরে জমির ইজারা বা ‘পারিবারিক শ্রমের মূল্য’ হিসাব করলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কৃষক জফের আলী বলেন, ‘সার, কীটনাশক, সেচ ও ডিজেলের দামসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। শুধু বাড়েনি কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য। সরকার নির্ধারিত দামে যে সার ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রির কথা, সেই সার কিনতে হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এক বস্তা সার কিনতেই প্রায় আড়াই মণ ধানের দাম চলে যাচ্ছে। তাহলে কৃষক বাঁচবে কীভাবে, আর আবাদই বা করবে কীভাবে? সরকারের কাছে অনুরোধ, ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করুন। তাহলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।’
ধানচাষি হানিফ আলী বলেন, ‘২৫ কাঠা জমিতে ধান আবাদ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ধান বিক্রি করে সেই টাকাও উঠছে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে আসেন না। বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমরা আবাদ করব কীভাবে? প্রতিদিন সবকিছুর দাম বাড়ছে, আর কৃষক শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ ধানচাষি জাকের আলী বলেন, ‘আমন ধানে সাধারণত আট থেকে ১০ বার সেচ দিতে হয়। কিন্তু এবার দিতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বার। বৃষ্টি না হওয়ায় ধান আবাদ করতে গিয়ে কৃষকের কষ্ট বেড়েছে। দিন যত যাচ্ছে, খরচ তত বাড়ছে। অথচ ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।’
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরে আমন আবাদ বেড়েছে ২০০ হেক্টর।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলায় আগাম আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য কৃষি অফিস কাজ করছে। পাশাপাশি সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
পছন্দের দুই দেহরক্ষীর ৩০ গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ইন্দিরা
দিনটি আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই ছিল। সকাল থেকে চারপাশ রোদ-ঝলমলে। অন্যান্য কর্মব্যস্ত দিনের মতো আজও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সাড়ে সাতটার মধ্যে তিনি তৈরি হয়ে যান। আলমারি থেকে বেছে নেন কালো পাড়ের গেরুয়া রঙের একটি শাড়ি। দিনের শুরুতেই বিদেশি এক তথ্যচিত্র নির্মাতার সঙ্গে শুটিং আছে। তাই, হয়তো এই শাড়িটি বেছে নিয়েছিলেন।
শাড়ি পরে তৈরি হয়ে আসেন নাশতার টেবিলে। নাশতার পর মেকআপম্যান তাঁর মুখে সামান্য পাউডার ও ব্লাশার লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হাজির হন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কে পি মাথুর, নিয়মমাফিক তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
দিনটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দিনের প্রথম সাক্ষাৎসূচি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া ছিল পিটার উস্তিনভকে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন।
৯টা ১০ মিনিটে ইন্দিরা বাসভবনের বাইরে পা রাখেন। কালো রঙের ছাতা নিয়ে তাঁর পাশে হাঁটছিলেন সিপাহি নারায়ণ সিং। প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছিলেন তাঁর দপ্তরের দিকে।
কিছুটা পেছনে ছিলেন ইন্দিরার ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান। তাঁর পেছনে ব্যক্তিগত পরিচারক নাথু রাম। আর সবার পেছনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা রামেশ্বর দয়াল।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে তাঁর দপ্তর। এই দুই ভবনের মধ্যে যাতায়াতের একটা সংযোগ পথ ছিল। সেই পথের ফটকের সামনে গিয়ে ইন্দিরা তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ধাওয়ানকে নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ইন্দিরা। হঠাৎ গুলির শব্দ। একটি নয়, দুটি নয়, পরপর তিনটি।
সেখানে থাকা লোকজন বিস্ফারিত চোখে প্রধানমন্ত্রীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন, বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটছে। কয়েক সেকেন্ড পর একটি চিত্কার শোনা যায়, ‘গুলি চালাও…।’ কাছেই গর্জে ওঠে একটি সাবমেশিনগান।
সেদিন নিজের পছন্দের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। দেশটির রাজনীতির ইতিহাসে সূচনা হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের।
ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদছবি: সংগৃহীত
‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই’
রাজনীতিতে আপসহীন ও দৃঢ় মানসিকতার জন্য ইন্দিরা গান্ধী ‘ভারতের লৌহমানবী’ হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, সাহসিকতার নাম–যশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৪ সালের মাঝামাঝি ইন্দিরা ‘কঠিন’ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের মূল্য তাঁকে জীবন দিয়ে শোধ করতে হয়েছিল। তাঁর ওই কঠিন সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে পরিচিত।
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাতে ১৯৮৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সামরিক অভিযানই ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে পরিচিত।
রক্তক্ষয়ী ওই অভিযানের পর ইন্দিরা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভারতে ও বিদেশে শিখদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। অনেকে এ অভিযানকে শিখ ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে চিহ্নিত করেন। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক শিখ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
স্বর্ণমন্দিরে অভিযানের পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তারা প্রধানমন্ত্রীর শিখ নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশও করেছিল।
গোয়েন্দাদের সুপারিশ–সংবলিত ফাইল যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল, তখন তিনি নিজে সেই সুপারিশ নাকচ করে দেন। সুপারিশের নথি ইন্দিরার টেবিলে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি সুপারিশের ফাইলে তাঁর নোট লিখেছিলেন, ‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই?’
‘অপারেশন ব্লু স্টার’
নিজের চতুর্থ মেয়াদের শুরুতেই ভারতের রাজনৈতিক অখণ্ডতার প্রশ্নে একের পর এক সংকটে পড়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকার। বেশ কয়েকটি রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘খালিস্তান’ নামে পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করে দেয়। নিয়মিত সংঘাত–সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল।
রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে পাঞ্জাবের শিখ নেতা জারনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালেকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু এই যোগসূত্র একসময় বুমেরাং হয়। ভিন্দ্রানওয়ালে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চলে যান। তিনি খালিস্তানপন্থী আন্দোলনে নাম লেখান।
১৯৮২ সালে ভিন্দ্রানওয়ালে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সে ঘাঁটি গাড়েন। অস্ত্রশস্ত্রসহ সেখানে তিনি গড়ে তোলেন শক্ত ঘাঁটি। উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম দিকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৮৪ সালের জুনে স্বর্ণমন্দিরে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন ইন্দিরা।
‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামের রক্তক্ষয়ী এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্বর্ণমন্দির থেকে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করা হয়।
সরকারি হিসাবে, এ অভিযানে ৮৩ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। আহত হন প্রায় আড়াই শ সেনা। অন্যদিকে ৪৯২ জন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বেসামরিক ব্যক্তি এ অভিযানে নিহত হন।
যদিও অন্যদের হিসাব বলছে, হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া অভিযানে স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
ইন্দিরা গান্ধীছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
রক্তাক্ত মৃত্যুর শঙ্কা
স্বর্ণমন্দিরে অভিযানের পর থেকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি তাঁর দেহরক্ষীর তালিকা থেকে শিখ দেহরক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল।
কিন্তু ইন্দিরা নিজে শিখ দেহরক্ষীদের পছন্দ করতেন। তাই, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ আমলে নেননি। যদিও তিনি নিজেও খুব সম্ভবত তাঁর ওপর হামলার ঝুঁকির বিষয়টির কতটা গুরুতর, তা আঁচ করতে পেরেছিলেন।
১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর, দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার মাত্র এক দিন আগে ইন্দিরা নিজের প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছিলেন।
৩০ অক্টোবর ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে একটি সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন ইন্দিরা। ভাষণটি যথারীতি লিখেছিলেন তাঁর গণমাধ্যম উপদেষ্টা এইচ ওয়াই শারদা প্রসাদ। ভাষণ দিতে দিতে হঠাৎ স্ক্রিপ্ট থেকে সরে যান ইন্দিরা। তিনি তাঁর মতো করে বলতে থাকেন।
ইন্দিরা সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি আজ এখানে রয়েছি, কাল না–ও থাকতে পারি। আমি থাকলাম কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না; অনেক দিন বেঁচেছি। আমি গর্বিত যে আমি পুরো জীবনটাই দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পেরেছি। আর শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব। আর যেদিন মরে যাব, আমার রক্তের প্রতিটি ফোঁটা ভারতকে আরও মজবুত করার কাজে লাগবে।’
এই ভাষণই শেষ পর্যন্ত ইন্দিরার জীবনের শেষ ভাষণে পরিণত হয়। ভাষণ শেষে তিনি রাজ্যপালের বাসভবনে যান। তখন রাজ্যপাল বিশ্বম্ভরনাথ পান্ডে তাঁকে বলেছিলেন, ‘একটা রক্তাক্ত মৃত্যুর কথা বলে আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।’
জবাবে ইন্দিরা বলেছিলেন, ‘আমি যা বলেছি, তা নিজের মনের কথা। এটা আমি বিশ্বাস করি।’
ওডিশা থেকে সেদিন রাতেই নয়াদিল্লিতে ফেরেন ইন্দিরা।
৩০টির বেশি গুলিতে ঝাঁঝরা হয় ইন্দিরার দেহ
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে ইন্দিরার দপ্তর ছিল। এই দুই ভবনের মধ্যে যাতায়াতের পথটিতে একটি ফটক ছিল। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর সকালে নিজের বাসভবন থেকে কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। শিখ নিরাপত্তাকর্মী বিয়ন্ত সিং যখন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, সে সময় ইন্দিরা তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ধাওয়ানকে নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ইন্দিরা।
দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ফটকের পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি হঠাৎ তাঁর পয়েন্ট ৩৮ রিভলবার বের করে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
বিয়ন্তের ছোড়া প্রথম গুলিটি ইন্দিরার পেটে লাগে। গুলি থেকে বাঁচতে ইন্দিরা তাঁর ডান হাত ওপরে তুলেছিলেন। তখন কাছ থেকে পরপর আরও দুটি গুলি ছোড়েন বিয়ন্ত। এই দুটি গুলি ইন্দিরার বুকে ও কোমরে লাগে।
মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই একটি অটোমেটিক সাবমেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক শিখ নিরাপত্তাকর্মী সতবন্ত সিং। গুলিতে ইন্দিরার লুটিয়ে পড়া দেখে তিনি হয়তো খানিকটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
বিয়ন্ত সিং নিজে গুলি চালানোর পর চিৎকার করে সতবন্তকে বলেন, ‘গুলি চালাও।’
গর্জে ওঠে সতবন্তের অটোমেটিক সাবমেশিনগান। সেটিতে থাকা প্রায় ২৮ থেকে ৩০টি গুলি বৃষ্টির মতো প্রধানমন্ত্রীর দিকে ছুটে যায়।
অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা এ ঘটনায় এতটাই হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁরা কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পাননি।
বিয়ন্ত ও সতবন্ত নিজেদের অস্ত্র মাটিতে ফেলে দেন। বিয়ন্ত বলেন, ‘আমাদের যা করার ছিল, সেটা করেছি। এবার আপনাদের যা করার করুন।’
গুলিতে ঝাঁঝরা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা মাটিতে পড়ে ছিলেন। প্রথম প্রতিক্রিয়া দেখান সিপাহি নারায়ণ সিং, তিনি ইন্দিরার মাথার ওপর ছাতা ধরে ছিলেন। ছাতা ছুড়ে ফেলে তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। গুলির শব্দ শুনে ইন্দো–তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) ও অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন।
গোলমালের শব্দ শুনে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ ও রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী বাইরে ছুটে বেরিয়ে আসেন। তাঁর পরনে তখনো ঘরের পোশাক। ততক্ষণে রক্তাক্ত ইন্দিরাকে মাটি থেকে তুলে একটি সাদা রঙের অ্যাম্বাসেডর গাড়ির দিকে ছুটছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সোনিয়া পেছন পেছন দৌড়ে যেতে যেতে ‘মাম্মি, মাম্মি’ বলে চিৎকার করছিলেন।
গাড়ির পেছনের আসনে ইন্দিরাকে শুইয়ে দেওয়া হয়, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল তাঁর দেহ। গাড়িতে উঠে শাশুড়ির মাথা কোলে তুলে নেন সোনিয়া। সাদা অ্যাম্বাসেডর ছোটে তিন কিলোমিটার দূরে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালের দিকে।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সব সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স রেডি থাকে। কিন্তু সেদিন সেটি ছিল না।
ঝড়ের বেগে কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি পৌঁছে যায় হাসপাতালে। হতবিহ্বল চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারছিলেন না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা দুই আততায়ীকে গুলি করে ধরাশায়ী করেন। বিয়ন্ত সিং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্য আততায়ী সতবন্ত সিংকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর বিচার হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইন্দিরা গান্ধীকে যে তাঁর নিজের পছন্দের দেহরক্ষীরাই হত্যা করবে, এমনটা কেউ কল্পনাও করেননি।
নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিয়ন্ত সিংকে দেখিয়ে ইন্দিরা বেশ গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমার চারপাশে যদি তাঁর মতো শিখরা থাকে, তাহলে আমাকে কোনো কিছু নিয়ে ভয় পেতে হবে না।’
১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা জারির কারণে ইন্দিরা গান্ধী ভীষণ সমালোচিত হয়েছিলেনছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
১৯৬৬ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ইন্দিরাকে কংগ্রেসের নেতা ঘোষণা করা হয়। আর সেই সুবাদে তিনি হন প্রধানমন্ত্রী। একজন নারীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টাইম সাময়িকী তখন তাঁকে নিয়ে প্রচ্ছদ করেছিল।
১৯৬৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত একটানা তিন মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা। এই সময়কালের মধ্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির মামলায় ১৯৭৫ সালের ১২ জুন ইন্দিরাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এ ঘটনার জেরে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইন্দিরার পরামর্শে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি।
ইন্দিরা দাবি করেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। জরুরি অবস্থা ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলাসহ বাইরের হুমকি সামলানো যাবে না। জরুরি অবস্থা কাজে লাগিয়ে দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তবে সমালোচকেরা এই জরুরি অবস্থাকে ভারতের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে ভারতের প্রজাতন্ত্রের আত্মাকেই স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বহাল ছিল। অভিযোগ আছে, ২১ মাসের জরুরি অবস্থা চলাকালে ভারতে মৌলিক অধিকার স্থগিত ছিল, রোধ করা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা হয়েছিল নির্মমভাবে।
জরুরি অবস্থা জারি করাসহ নানা বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে ইন্দিরা ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে গিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে তিনি নিজের আসনে হেরে যান। নির্বাচনে তাঁর দলেরও ভরাডুবি হয়। তবে ১৯৮০ সালের নির্বাচনে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ইন্দিরা আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
ইন্দিরা গান্ধীছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
কে ছিলেন ইন্দিরা
ইন্দিরার জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। বাবা পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। মা কমলা নেহরু। দাদা মতিলাল নেহরু।
মতিলাল ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর ছেলে জওহরলালও ছিলেন ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের অন্যতম নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
পিতামহ ও পিতার পথ ধরে ইন্দিরা শৈশব-কৈশোরেই ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলেন। এমনকি ২৫ বছর বয়সেই তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। তিনি ২৪৩ দিন কারাবন্দী ছিলেন।
ইন্দিরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। এক বছর করে পড়েছেন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ও অক্সফোর্ডের সামারভিল কলেজে। তবে তিনি পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি।
১৯৩৮ সালে ইন্দিরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে তিনি ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন। ফিরোজ ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামী, রাজনীতিক, সাংবাদিক। ইন্দিরা-ফিরোজ দম্পতির দুই ছেলে। রাজীব ও সঞ্জয় গান্ধী।
ইন্দিরা ১৯৫৫ সালে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। ১৯৫৮ সালে তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সংসদীয় পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন ১৯৫৯ সালে।
১৯৬৪ সালে ইন্দিরার বাবা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মারা যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলালের উত্তরসূরি হন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। তিনি ইন্দিরাকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করেন। ১৯৬৪-৬৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা। এ ছাড়া ১৯৬৪ সালেই তিনি ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য হন। দুই বছর পর লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে হওয়ার ইন্দিরার রক্তেই ছিল রাজনীতি। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ভারতের মতো একটি বিশাল এবং নানা ধর্ম–মতের দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। সরকারপ্রধান, দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ, নিতে হয়েছে কঠিন কঠিন সব সিদ্ধান্ত।
ইন্দিরার নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময়ে তুমুল আলোচনা–সমালোচনা হয়েছিল। দেশে জরুরি অবস্থা জারি অথবা অপারেশন ব্লু স্টার—কয়েক দশক আগে তাঁর নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা নিয়ে এখনো তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
১৯৬৬ সালে ২৪ জানুয়ারি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মৃত্যুর আগপর্যন্ত টানা প্রায় ১৮ বছরে তিনি ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এই ১৮ বছরের মধ্যে তিন বছর তিনি ক্ষমতায় ছিলেন না।
ইন্দিরাকে নিয়ে ভারতীয় সমাজে বিভক্তি সব সময়ই ছিল। কেউ তাঁকে বলতেন ‘মাদার ইন্দিরা’, আবার কেউ তাঁকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে দেখতেন।
ইন্দিরাকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি যা–ই থাকুক, তাঁর নেতৃত্ব যে ভারতকে বদলে দিয়েছিল এবং দেশটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, তা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ইন্দিরা নিহত হওয়ার পর তাঁর বড় ছেলে রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। পরে তাঁকেও মায়ের মতো একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল।
ভিডিওবার্তায় সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য আমাদের কী বার্তা দেয়?’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করুন, প্রতিবাদলিপি পাঠান, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিন।
‘কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ-এর কপি ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্যটি মোটেও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।’
রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তিও থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা আরও সংযম, পরিশীলিত আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশা করি।’
‘মনে রাখতে হবে, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি সরকারের সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতাও থাকতে হবে’, যোগ করেন এনসিপির এই নেতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছি, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করা অপরাধ হবে না, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আচরণে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই আচরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রে ক্ষমতার দম্ভ নয়, জবাবদিহিই হোক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।’
অবৈধভাবে মাছ আহরণ, পোনা নিধন ও পরিবেশগত প্রতিকূলতায় সুন্দরবনে অন্তত ছয় প্রজাতির মাছের মজুদ কমছে। বিপরীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধিসহ পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাবে নয় প্রজাতির মাছের মজুদ বাড়তির দিকে। বাকি প্রজাতিগুলোর মজুদ রয়েছে সহনীয় বা স্থিতিশীল পর্যায়ে। প্রায় দুই বছর ধরে পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব অ্যাকুয়েটিক রিসোর্সেস অব দ্য সুন্দরবন’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অলুয়া বা আমাদি, পারশে, ভেটকি বা কোরাল, পোয়া, দাতিনা, গ্যাগড়া টেংরা, পাঙ্গাস, হরিণা চিংড়ি ও চাকা চিংড়ির মজুদ বাড়তির দিকে। অন্যদিকে পায়রা বা চিত্রা বা বিষতারা, নোনা টেংরা, কাইন মাগুর, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও শীলা কাঁকড়ার মজুদ কমছে। মাছের মজুদের এই পরিবর্তনের পেছনে অবৈধ আহরণ, ছোট পোনা ধরা এবং পরিবেশগত চাপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হকের নেতৃত্বে আট গবেষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেন। বন অধিদপ্তরের ‘প্রটেকশন অব সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) গবেষণাটি বাস্তবায়ন করে।
গবেষণা দলের প্রধান ড. এম এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ ছিল মাছের বর্তমান অবস্থা, মজুদের পরিমাণ, হুমকি ও ভবিষ্যতের ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। দেখা গেছে, আগে সুন্দরবনে বড় প্রজাতির মাছের, যেমন ভেটকির প্রাচুর্য বেশি থাকলেও এখন ছোট আকারের প্রজাতিগুলোর প্রাচুর্য কিছুটা বেড়েছে।’
তিনি বলেন, প্রায় ১৫টি মাছ ও চিংড়ির প্রজাতির মজুদ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টির মজুদ কমতির দিকে। যেসব প্রজাতির মজুদ কমছে, সেগুলো রক্ষায় জালের ফাঁস ও মাছ আহরণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
গবেষণায় সাতক্ষীরা রেঞ্জে ভেটকি মাছের অতিরিক্ত আহরণ, খুলনা ও শরণখোলা এলাকায় পাঙ্গাসের মজুদের ওপর চাপ এবং শরণখোলায় গ্যাগড়া টেংরা অতিরিক্ত আহরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রজাতির আহরণ নিয়ন্ত্রণে কোটা নির্ধারণ, প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা এবং পোনা সংরক্ষণের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে শীলা কাঁকড়া, গলদা ও বাগদা চিংড়ির আহরণেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিষ দিয়ে মাছ ধরা বড় হুমকি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জলজসম্পদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরার পাশাপাশি অন্যান্য মাছ, পোনা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীও মারা যায়। পোনা সংগ্রহের সময় কাঙ্ক্ষিত প্রজাতি রেখে অন্য জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও চলমান ইকোলজিক্যাল মনিটরিং অব সুন্দরবন প্রকল্পের টিম লিডার ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার জন্য মাছ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবৈধ শিকার, বিষ প্রয়োগ এবং ছোট পোনা ধরা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রজননের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
নতুন সাত প্রজাতির সন্ধান গবেষণায় সুন্দরবনে আগে নথিভুক্ত হয়নি এমন সাত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি মাছ ও দুটি চিংড়ির প্রজাতি রয়েছে। নতুন শনাক্ত মাছের মধ্যে এক ঠুঁইটা, কুলি বেলে, সবুজ বাইল বা ফোঁটা বেলে, ফোঁটা বাট ও বড় আইশ পারশে উল্লেখযোগ্য। নতুন দুটি চিংড়ি হলো মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি।
গবেষণা দলের প্রধান এনামুল হক জানান, দুই বছরের সমীক্ষায় প্রায় ২৬১ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী গবেষণার তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবনে বর্তমানে প্রায় ৩৮২ প্রজাতির মাছের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রথমবারের মতো ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতিতে সাতটি প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান এনামুল হক বলেন, সামগ্রিকভাবে সুন্দরবনের মাছের অবস্থা সন্তোষজনক হলেও মানবসৃষ্ট চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তিন দিন টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিনের সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।
ফলে এ সময়ে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।
ফলে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরেও অনুরূপ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
ভারতের দিল্লির ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধ ক্রমেই বাড়ছে। দুই পক্ষের পালটাপালটি অভিযোগের মধ্যে আবারও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন রাহুল। তার অভিযোগ, বিজেপি ব্যবসায়ীদের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশ ও মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রোববার (১ নভেম্বর) একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি জোর করে সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা মানুষজন কেনাকাটা করতে পারছেন না।
ভিডিওতে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছিলাম, মিছিল ও বিশাল সমাবেশে আসার সময় যেন কেনাকাটা করেন, কিছু জিনিসপত্র কেনেন। কিন্তু এখানে কনট প্লেসে আসার পথে আমরা জানতে পারি, বিজেপি জোর করে প্রতিটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের কারা ক্ষতি করছে এবং কীভাবে করছে, তা আপনাদের জানা উচিত।’
এর আগে উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করার জন্য রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে দায়ী করেছিলেন বিজেপি নেতারা।
ধনতেরাস, দীপাবলি ও ছট পূজার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের বিক্রেতা ও দোকানিরা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ উৎসবের এই সময়টিতে উপার্জন করেন। তার অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকটের প্রতি উদাসীন রাহুল গান্ধী।
নাড্ডা বলেন, চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিটিআই) পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল ওই চিঠিতে।
নাড্ডার দাবি, আগের প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ সমাবেশের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা ৯ দিন এগিয়ে এনে ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি (শনিবার ও রোববার) পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসন ভোগান্তি হ্রাস এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শীত নামার আগেই ভারতের দিল্লির বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দেশটির রাজধানী শহরের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এছাড়াও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১ নভেম্বর থেকে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএস৬ মানদণ্ড পূরণ করে না, এমন যানবাহন ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে চলাচল করতে পারবে না। তবে বৈদ্যুতিক ও সিএনজিচালিত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স এবং দমকলের গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
নিয়ম অমান্য করলে ই-চালান পাঠানো হবে। এ জন্য বিশেষ নজরদারি দল, স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা এবং এআই প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে দিল্লিতে নির্মাণকাজ ও ভবন ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কিছু সরকারি প্রকল্প এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
যানজট কমাতে সরকারি অফিসের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অফিস সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং দিল্লি সরকারের অফিস সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) ছাড়া দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি পাওয়া যাবে না। এ নিয়ম কার্যকরে রাজধানীর ৫০০টি পেট্রল পাম্পে বসানো হয়েছে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা।
এর আগে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে গত ২১ অক্টোবর দিল্লিতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (জিআরএপি) প্রথম পর্যায় কার্যকর করা হয়েছিল।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জার্মানি। এসব দাবির পাশাপাশি দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগও চেয়েছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জার্মানির ৩৪টি শহরে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন। তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি রেগেল্ট’ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ শহরেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো ও নতুন করে সেনা নিয়োগের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জানান তারা।
বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালুর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগের দাবিসংবলিত ব্যানার বহন করতেও দেখা যায়।
দিনের বেলায় অধিকাংশ স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বার্লিনে পুলিশের হিসাবে, ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। যদিও আয়োজকদের দাবি, সেখানে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। অন্যদিকে হামবুর্গে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জন।
সবচেয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয় ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন দোকানের কাঁচ ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি বিপণিবিতান ও কেনাকাটার এলাকায় লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশের দিকে মলোটভ ককটেলও ছোড়া হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব হামলার জন্য প্রায় ১০০ জন বামপন্থি উগ্রবাদীকে দায়ী করেছেন।
এদিকে কোলন ক্যাথেড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও সাইকেল ছুড়ে মারেন। বার্লিনেও সন্ধ্যায় পৃথক একটি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। পাশাপাশি ৫৬ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীকে সাময়িক আটক করা হয়। হামবুর্গ, ব্রেমেন ও বন শহরেও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে।
তবে পুলিশ ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পুরো জেন-জি বিক্ষোভকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি মূল বিক্ষোভকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন।
জার্মানির এই আন্দোলন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। শিক্ষা গবেষক নিনা কোলেক সতর্ক করে বলেছেন, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে তাদের মধ্যে পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই তাদের এ বেতনকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নতুন বেতনকাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রীর ঘোষণায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও বর্ধিত বেতন কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে তাদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, স্তর ও বিষয় অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কাঠামোতে প্রত্যেকে নিজ নিজ চাকরির গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাবেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারির পর সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়াও পেয়েছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।
নতুনকরে হামলা হলে যুদ্ধের আর কোন সীমানা থাকবেনা। পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে এবারের সংঘাত আর পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল রোববার (১ নভেম্বর) জানায়, শনিবার এক বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সাথে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আকরামনিয়া জানান, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা আগের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে বৈঠকে সতর্ক করেছিলেন নেতা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার আগ্রাসন চালালে ইরানের জবাব হবে আগের চেয়ে ‘আরো ভয়াবহ ও ব্যাপক’। বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের হামলার সময় আগ্রাসীদের যে জবাব দেয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে
আকরামনিয়া বলেন, আগের যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে শুরু করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর পর থেকে বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি আরো জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আরো বেশি স্থাপনা ও সম্পদ যুক্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে নাগালের মধ্যে থাকা যেকোনো জায়গায় মার্কিন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে, ঠিক করতে পারবেন না ট্রাম্প
ইরানের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে। যুদ্ধের স্থায়িত্ব কিংবা কখন কী শর্তে এর অবসান হবে, তা এককভাবে ঠিক করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগের যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে অস্ত্রশস্ত্র আধুনিক করা, নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা এবং উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধকৌশল চালুর কাজ চলছে।
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণেও জোর
আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় যে নীতি মূলত প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে। নেতার নির্দেশনায় ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ এখন ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অসম যুদ্ধের সক্ষমতা, নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত কৌশল উদ্ভাবন এবং উপযুক্ত যুদ্ধপদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের পাশাপাশি নতুন আক্রমণ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও বাহিনীর কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে।
একাধিক দিক থেকে হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি
আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হয়েছে। একাধিক দিক থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইসলামি বিপ্লববিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে ইরানের পশ্চিম সীমান্তে স্থলযুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় সেনা মোতায়েন এবং আগাম সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরান সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ফলে গোষ্ঠীগুলো তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি।
হয় ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন দেবেন, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজ দায়িত্বে বেছে নেবেন। যেকোনো একটি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নষ্ট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সংসদে গণতন্ত্রের বয়ান দেবেন—এ বক্তব্য আমরা মেনে নেব না।
শনিবার রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসুর মেয়াদ শেষ হলো, কিন্তু তফসিল দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, তাদের চাঁদাবাজ বাহিনী, তাদের রক্ষীবাহিনী এই নির্বাচনে আগের মতো গোহারা হারবে। সুতরাং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট নিতে হবে যে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক বা না থাকুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।
সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার প্রথম কয়েকটি ধাপে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকসু, জাকসু, ডাকসু ও রাকসু যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা পাঁয়তারা করছে, কীভাবে নানা কারিকুলামের মাধ্যমে সেখানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখানকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতেই হবে। বিএনপি ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর বাংলাদেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়নি। কেন দেয়নি? কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের ভোটকে ভয় পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভোটকে তারা ভয় পায়, তরুণ প্রজন্মের ভোটকে তারা ভয় পায়।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সকাল থেকে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা নেমেছে। তারা সড়ক অবরোধ করে তাদের দাবি জানাচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
এদিকে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির প্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা।