BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    যারা মানুষ খুন করেছে, গণহত্যা করেছে, জুলুম নির্যাতন করেছে, তারপরও ক্ষমা চায়নি, অনুশোচনা করেনি, সেই জালিম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। ফ্যাসিবাদ, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে এ দেশের জনগণকে উদ্ধার করতে ১৬-১৭ বছর লেগেছে। আলেম-ওলামা এবং ছাত্রসমাজের কত শহীদ হয়েছেন, সেই শহীদদের নাম এখনো সবাই জানে না। কবরের ঠিকানা জানি না। এত রক্তদানের মধ্য দিয়ে আমরা ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।’

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাব মতে, ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে ফ্যাসিবাদীদের সময়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। আমিও তার মধ্যে একজন ছিলাম। রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন। আমি বেঁচে আছি আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর রহমতে। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই? তাহলে সেই ক্ষেত্র আজ কারা তৈরি করে দিচ্ছে? ’

    তিনি বলেন, ‘যারা গার্মেন্টসে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তাদের পেছনে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশে দোসর আছে, যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে। অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের ধারে-কাছেও কিছু নেই। যারা নিজেদের ইসলামী দল বলে ঘোষণা করছে। তাদের দলীয় মনোগ্রাম থেকে ‌আকিমুদ্দিন বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দালিলিল প্রমাণ সেটা বলে না।’

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তারা কখনো তাদের ইশতেহারে বলেনি, তারা ইসলামী শাসন চায়। তারা কখনো বলেনি, তারা এ দেশে শরিয়াভিত্তিক আইন-কানুন চায়, শরিয়া চালু করতে চায়। বরং উল্টো বলেছে, তারা শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। আমরা ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছি, কোরআন পাঠ করেছি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা এ দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছি, যেখানে আমাদের সবারই একটি জাতীয় পরিচয় আছে।তিনি বলেন, ‘এ দেশে আমরা কখনো জাতির মধ্যে বিভেদ দেখতে চাই না। যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, তাদের কার্যক্রমে ধর্মীয় কোনো প্রতিফলন নেই। তারা কেবলই এ দেশে বিভক্তির সৃষ্টি করছে। তারা স্বাধীনতার পূর্ব থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করে এ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আবার তারা সেই রাস্তায় গিয়েছে।’

  • তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে

    তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে। যদিও টানা দুই দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবু সাপ্তাহিক হিসাবে বড় দরপতনের পথেই রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমতে পারে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের জানুয়ারি মাসের সরবরাহ চুক্তির দাম আগের দিনের তুলনায় ১ ডলার ৫৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ৮৬ সেন্টে দাঁড়ায়।

    একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ৬২ সেন্টে ওঠে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ল।

    তবে দৈনিক এই মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্টের দাম ১২ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।

    ৩০ অক্টোবর ডিসেম্বর মাসের সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জানুয়ারি মাসের চুক্তির দাম বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দামও চলতি সপ্তাহে ১২ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে।

    এর আগে বুধবার এক দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর এই দরপতন ঘটে।

    ওই দিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

    বাজারে এই দরপতনের পেছনে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। এ উদ্বেগই বিশ্ববাজারে তেলের দামের আরো বড় পতন ঠেকাতে ভূমিকা রাখছে।

  • বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল।

    তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

    আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

    তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

    ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

    ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • রাজধানীর বাজারে কমেছে সবজি-মাছের দাম, অপরিবর্তিত ডিম-মুরগি

    রাজধানীর বাজারে কমেছে সবজি-মাছের দাম, অপরিবর্তিত ডিম-মুরগি

    রাজধানীর বাজারে কমেছে সবজি ও মাছের দাম। মৌসুমি ও শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মাছের বাজারেও রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও কৈয়ের দাম কমেছে। তবে মুরগি ও ডিমের দাম আগের মতোই রয়েছে।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

    বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁপে ২০ টাকায়।

    এ ছাড়া পটল ৩০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ টাকা ও বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা জানান, বাজারে মৌসুমি ও শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে।

    সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।

    সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, ‘এখন বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো। মৌসুমি সবজিও বেশি আসছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।

    সবজি কিনতে আসা ক্রেতা করিম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এবার সবজির দাম কিছুটা কম। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমের মতো সবজি কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারের খরচ কিছুটা কমবে। তবে সব পণ্যের দাম আরও কমলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো। ’

    মাছের বাজারেও দাম কমেছে কয়েক ধরনের মাছের। বর্তমানে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২০০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় তেলাপিয়া ও কৈ মাছের দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। রুই ও কাতলার দামও আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

    মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমেছে।

    অন্যদিকে, মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ডিমের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    মুরগি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজি ও মাছের দাম কমেছে, এটা স্বস্তির বিষয়। তবে মুরগি ও ডিমের দাম আগের মতোই রয়েছে। বাজারের সবকিছু মিলিয়ে কেনাকাটা করতে হয়, তাই সব পণ্যেই কমা দরকার। ’

  • যেখানে কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব

    যেখানে কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে একসময় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ করা হতো, মসজিদের ইমাম-কারির চাকরি চলে যেত কিংবা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হতো—আজ সেখানেই প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার এই মুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করতে চাই। যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ আসত, ভিসি অফিস মসজিদের তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত, রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান বা কোনো ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি করা হতো—আজ সেই বটতলাতেই ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশনা উৎসবের সাক্ষী হচ্ছে। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ’

    ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে ফরহাদ বলেন, ‘আজকে আমরা বলতে পারি, ২৪-এর শহীদদের রক্তের বিনিময়ে, আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এখানে কাউকে ইসলামের কালচার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো হাফেজকে ভয় পেতে হয় না যে তিলাওয়াত করলে চাকরি যাবে; কোনো শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত হতে হয় না যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হবে। বিগত দেড় দশকের চরম দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার বর্ণনা দিয়ে শিবির নেতা বলেন, ‘গত ১৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের চরম নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পেলে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে বলা হতো—তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছে। অথচ বাস্তবে তাদের সামনে জঙ্গি উপাদান হিসেবে সাজিয়ে রাখা হতো আমাদের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন। তিনি আরো বলেন, ‘আজ এই ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে আমরা আমাদের সেই সব প্রকাশনা তুলে ধরেছি। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা আজ এসে নিজেরাই পর্যবেক্ষণ ও বিচার করুক—কী উপাদান আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল? মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম। আমরা চাইতাম তরুণ প্রজন্ম একটি আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠুক এবং আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হোক। আর এই সত্যের বাণীকেই তারা ভয় পেত। ’

    সবশেষে তিনি বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছরই শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার এই লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম

    আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম

    সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে টাকা দিতে না হলে ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

    মাসুদুজ্জামান মাসুদ আরো বলেন, ‘যেখানেই কাগজ লাগে, সেখানেই আমাদের টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা এই টাকা তো আমার শ্রমিকদের দিতে পারত।’

    তিনি বলেন, কিছু নেতৃবৃন্দ ৩০ হাজার টাকার দাবি তুলেছেন। সেটা মজুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে অথবা মজুরি বোর্ড সেই চিন্তাভাবনা করে গঠন করা হবে। সেই সময়টুকু না দিয়ে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় আগের দিনই আক্রমণ করা হলো, ভাঙচুর করা হলো, জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এর পেছনে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের কথা আমরা জানতে পারি।

    শ্রমিকদের আন্দোলন প্রতিহত করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।

  • ১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী’

    ১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী’

    ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটি যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমে আলোচনায় আসছে পৃথিবীর ধ্বংস বা মহাপ্রলয়ের একটি পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী। ৬৬ বছর আগে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূত্র ধরে নতুন করে ছড়াচ্ছে এই আলোচনা। তবে গবেষকেরা কি সত্যিই বলেছিলেন, ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে? নাকি এর পেছনে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক হিসাব, যার ব্যাখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি?

    এই আলোচনার সূত্র ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এর একটি গবেষণা। তিন গবেষক হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার, প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়ট যৌথভাবে গবেষণাটি করেন। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’। অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর শুক্রবারকে মহাপ্রলয়ের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    গবেষণায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ধারা বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, সেই প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে মানুষের সংখ্যা গাণিতিকভাবে অসীমে পৌঁছাবে।

    কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ওই দিন পৃথিবীর সব মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গবেষণার শিরোনামে ‘ডুমসডে’ বা মহাপ্রলয় শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এর উদ্দেশ্য ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি তাত্ত্বিক সীমা তুলে ধরা।

    গবেষণার পেছনের হিসাব

    অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়টের সঙ্গে গবেষণাটি প্রস্তুত করেন।

    এ জন্য তারা বিশ্বের জনসংখ্যার ঐতিহাসিক বিভিন্ন হিসাব ব্যবহার করেন। খ্রিস্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা সম্পর্কে করা ২৪টি অনুমান এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জনসংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন।

    গবেষকেরা জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে একটি নির্দিষ্ট হারে চলতে থাকা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেননি। তারা ব্যবহার করেন ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’ বা দ্রুততর জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারণা। এই মডেলে শুধু জনসংখ্যা বাড়ে না, সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও আরো বেড়ে যায়।

    মডেলটির মূল ধারণা ছিল, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্পর্ক ও জোট গঠনের সক্ষমতা নতুন নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে মানুষ পরিবেশের কিছু সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে। ফলে বেঁচে থাকা ও প্রজননের সক্ষমতাও বাড়ে।

    ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর এই সমীকরণ প্রয়োগ করে গবেষকেরা একটি বিশেষ গাণিতিক ফল পান। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মডেলটি ২০২৬.৮৭ সালে একটি ‘সিঙ্গুলারিটি’ বা গাণিতিক অসীমতার বিন্দুতে পৌঁছায়। সংখ্যাটিকে ক্যালেন্ডারের হিসাবে রূপান্তর করলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পাওয়া যায়। এ থেকেই গবেষণার শিরোনামে ১৩ নভেম্বরের উল্লেখ আসে।

    অর্থাৎ গবেষকেরা বলেছিলেন, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলতে থাকলে নির্দিষ্ট ওই সময়ে তাঁদের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী জনসংখ্যা অসীমে পৌঁছাবে।

    পৃথিবী ধ্বংসের কোনো পূর্বাভাস ছিল না

    গবেষণার শিরোনাম দেখে পৃথিবীর শেষ বা মানবজাতির বিলুপ্তির ভবিষ্যদ্বাণী বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গবেষকদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন।

    তারা পৃথিবীর সঙ্গে কোনো গ্রহাণুর সংঘর্ষ, সূর্যের বিস্ফোরণ কিংবা ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কথা বলেননি। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে মানবজাতি কবে বিলুপ্ত হবে, সেই তারিখও তারা নির্ধারণ করেননি।

    এখানে ‘অসীম’ বলতে পৃথিবীতে বাস্তবে মানুষের সংখ্যা অসীম হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক মডেলকে ভবিষ্যতের দিকে সম্প্রসারণ করলে যে তাত্ত্বিক ফল পাওয়া যায়, সেটিই বোঝানো হয়েছে।

    বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যা অসীম হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। গবেষকেরা তাদের মডেলে ধরে নিয়েছিলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনের পরিস্থিতি ও প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু পরিবেশ, সম্পদ ও জনসংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলা অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের মডেল বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র দিতে পারে না। এসব উপাদান জন্মহার ও মৃত্যুহার পরিবর্তন করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিপথও বদলে দিতে পারে।

    ১৯৬৪ সালের সংবাদপত্রের কাটিং ঘিরে নতুন আলোচনা

    পুরোনো এই গবেষণার পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে মিসরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’-তে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ। ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত ওই লেখার লেখক ছিলেন মিশেল তাকলার। নিবন্ধটির শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    সম্প্রতি মিশরের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুরোনো ওই সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ছবি পুনঃপ্রকাশ করেছে। ছয় দশকের বেশি সময় পর এটি আবারও মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে।

    তবে সংবাদপত্রের নিবন্ধ ও মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সঙ্গে যুক্ত জনসংখ্যাবিষয়ক গবেষণাটি ১৯৬০ সালে হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার ও তার সহকর্মীরা প্রকাশ করেছিলেন। এটি মিশেল তাকলারের গবেষণা ছিল না।

    তাকলারের নিবন্ধের বিষয়বস্তু নিয়েও সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এটিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিবেদনে সৌর কার্যকলাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে।

    তাই এসব বিষয়কে এক করে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। মূল নিবন্ধের পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করে বৈজ্ঞানিক উৎসের সঙ্গে তুলনা না করা পর্যন্ত এসব দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

    সৌর কার্যকলাপ নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান

    মিশেল তাকলারের নিবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর ব্যতিক্রমী সৌর কার্যকলাপ দেখা দিতে পারে। এর ফলে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে।

    তবে সৌরঝড়ের বাস্তব অস্তিত্বের সঙ্গে নির্দিষ্ট একটি দিনে পৃথিবী ধ্বংসের দাবিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

    সৌর কার্যকলাপ একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। সূর্য নির্দিষ্ট চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এসব চক্রে তার সক্রিয়তার মাত্রা পরিবর্তিত হয়। কখনো সূর্য থেকে করোনাল মাস ইজেকশন বা শক্তিশালী সৌর পদার্থের নির্গমন এবং সোলার ফ্লেয়ার বা সৌরশিখা দেখা যায়। এসব ঘটনা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

    শক্তিশালী সৌরঝড়ের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃত্রিম উপগ্রহ ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এ ধরনের ঝুঁকি থাকার অর্থ এই নয় যে সূর্য কোনো নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবী ধ্বংস করবে।

    ১৯৬০ সালে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত জনসংখ্যাবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরের সৌর কার্যকলাপ কিংবা ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ুগত দুর্যোগের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    ১৩ নভেম্বর নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই

    ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীকে ঘিরে কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিপদের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়ে কথা বলেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদ।

    তিনি বলেন, চলতি বছর সৌর কার্যকলাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি বিজ্ঞানীদের কাছে কয়েক দশক ধরে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এটি আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।

    মুজাহেদ বলেন, সৌর কার্যকলাপ প্রাকৃতিক চক্র অনুসরণ করে। সৌরঝড় মহাবিশ্বের শুরু থেকেই বিদ্যমান। তবে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে বিজ্ঞানীরা এখন আগের তুলনায় এসব ঘটনা আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ, নজরদারি ও পূর্বাভাস দিতে পারছেন।

    তিনি আরো বলেন, ১৩ নভেম্বর এমন কোনো পরিচিত বা প্রত্যাশিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নেই, যা পৃথিবীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বা আতঙ্কের কারণ হতে পারে।

    গাণিতিক সমীকরণ কিংবা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মডেলের মাধ্যমে পৃথিবীর সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণের ধারণাও নাকচ করেন তিনি। মুজাহেদের ভাষ্য, জ্যোতির্বিদ্যা বা মহাকাশতত্ত্বে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই, যা পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে আসার প্রমাণ দেয়।

    তার মতে, ১৩ নভেম্বর নিয়ে প্রচারিত দাবিগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বা কোনো বৈজ্ঞানিক সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। বরং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাধ্যমে এসব দাবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    কেন ভুল প্রমাণিত হয়েছে ১৯৬০ সালের হিসাব

    পুরোনো গবেষণার হিসাবের প্রধান দুর্বলতা ছিল, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে বলে ধরে নেওয়া। কিন্তু গত কয়েক দশকে বিশ্বের জনমিতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তন জন্মহার, মৃত্যুহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

    জনমিতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র ১৯৬০ সালের গবেষকদের ব্যবহৃত গাণিতিক মডেলের সঙ্গে মেলেনি।

    গবেষণাটি প্রকাশের সময় বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩০০ কোটি। বর্তমানে তা ৮০০ কোটির বেশি। তবে এই সংখ্যা গবেষকদের মডেলে অনুমান করা অসীমতার কাছাকাছিও নয়।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাবেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমে ২১০০ সালে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে নেমে আসতে পারে।

    জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতেই বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। এর একটি কারণ, বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ বেশ কয়েকটি দেশে জন্মহার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কমছে।

    এতে জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের ধরনও বদলে যাচ্ছে। অনেক দেশে এখন শুধু অতিরিক্ত জনসংখ্যা নয়, বরং জন্মহার কমে যাওয়া, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    সব মিলিয়ে ১৯৬০ সালের গবেষণাটি ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ। সেটিকে পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে, এমন কোনো প্রমাণও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।

  • হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানের কড়া বার্তা

    হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানের কড়া বার্তা

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারতের রাজনীতি ও মোদি সরকারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে রো খান্নার প্রতি আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিদ গৌরব সাবনিস। জবাবে খান্না বলেন, তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের কঠোর বিরোধিতা করেছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও সমাজে সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেছেন।

    গৌরব সাবনিস তার পোস্টে লেখেন, নিজেকে প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় দিলেও ভারতে মোদি সরকারের আমলে রাজনৈতিক বন্দিত্ব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে রো খান্না নীরব রয়েছেন। হিন্দুত্ববাদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং মোদি সরকারের বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

    এর জবাবে রো খান্না লেখেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের নিন্দা জানিয়েছি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও অন্তর্ভুক্তির পক্ষে রাজপথে কথা বলা শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়েছি। আমার দাদা মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ ছিলেন। আমি গান্ধী ও নেহরুর বহুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাস করি।

    রো খান্না যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাবশালী প্রগতিশীল কণ্ঠগুলোর একজন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি, যার আওতায় সিলিকন ভ্যালির একটি অংশ রয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারশিবিরের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী রিতেশ ট্যান্ডনকে ৪২ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ষষ্ঠ মেয়াদে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খান্না।

    এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দলটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প-পরবর্তী মার্কিন রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন।

  • জামায়াত-এনসিপির সম্পর্কে টানাপোড়েন, নেপথ্যে কী?

    জামায়াত-এনসিপির সম্পর্কে টানাপোড়েন, নেপথ্যে কী?

    জানা গেছে, স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে এনসিপির অসন্তোষ এই দূরত্বের অন্যতম কারণ। সবশেষ জোটের লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিও দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও উভয়পক্ষই জোটে ভাঙনের আশঙ্কা নাকচ করেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটিতে আলোচনা শুরু হলে এনসিপিসহ কয়েকটি দল জোটগতভাবে অথবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে জামায়াতসহ কয়েকটি দল এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আলাদাভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়।

    জামায়াতের যুক্তি, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো আলাদাভাবে অংশ নিয়েছে। একই নীতি এবারও অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তে এনসিপির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সমঝোতার আশা ছেড়ে দলটি ঢাকাসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করে। পরে অবশ্য ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করে এনসিপি। যদিও এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জামায়াত সংসদে ও রাজপথে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।

    এনসিপি নেতাদের একাংশ মনে করেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সাংগঠনিক সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়ে এনসিপির প্রার্থীরা ভালো ফল করেছিলেন। আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও এ ধরনের সহযোগিতা বা সমর্থন পেলে ভালো ফল করা সম্ভব। এ কারণেই জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে আগ্রহী দলটি। কিন্তু জামায়াতের অনাগ্রহের কারণেই স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা হচ্ছে না।

    অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচনে আসন ছাড় দিতে গিয়ে তৃণমূলে দলটির সাংগঠনিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেক ত্যাগী প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতা করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। তাই তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

    এছাড়া সরকারি বিভিন্ন মহল থেকেও ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙন বা প্রধান দুটি দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর নানা চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ আছে। তাছাড়া সরকারের সঙ্গে দল দুটির বর্তমান সম্পর্ক বা বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও পরস্পরবিরোধী অবস্থান বা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সবশেষ লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী বহর ও পথসভা-সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে তাদের দূরত্বের প্রশ্ন প্রকাশ্য রূপ নেয়। তবে বিশেষ কোনো কারণে কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি, আলাদাভাবে নির্বাচন বা সরকারের কোনো ষড়যন্ত্র থাকলেও তা ১১ দলীয় ঐক্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে উভয়পক্ষ।

    জোটে ভাঙন দেখছে না শরিকরা

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে আরো ১৩টি আসন যুক্ত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৯টি, এনসিপির দুটি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার একটি করে মোট ১৩টি আসন যুক্ত হয়। বর্তমানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন।

    সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে অন্য শরিকদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির ঐক্য ও সুসম্পর্কই প্রকাশ পেয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দল দুটির সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াতের বক্তব্য

    ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আমার দেশকে বলেন, অতীতে জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে জোট করে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকারের অংশীদার বা রাজপথের আন্দোলনে শরিক ছিল, তখনো স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে সবাই আলাদাভাবে অংশ নেয়। দেশের জোটগত রাজনীতির ইতিহাসে এমন রীতিই চলে আসছে। সে অনুযায়ী এবারও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলোর আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় কোনো দলের প্রার্থী না থাকলে বা স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হলে তাতে বাধা নেই। এতে ১১ দলীয় ঐক্য বা জামায়াত-এনসিপির সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই ঐক্য অটুট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপি নেতাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা জামায়াতকে কোনোকিছু জানায়নি। অবশ্য ওই লংমার্চের পরের সমাবেশগুলোতে এনসিপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

    জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এ বিষয়ে আমার দেশকে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির আলোচনার পর শীর্ষ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর অর্থ জোটে ভাঙন নয়। গত ২৭ অক্টোবর ১১ দলের বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    দূরত্বের নেপথ্যে দুই কারণ এনসিপির

    বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও এনসিপির মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। দলটির একাংশের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে থেকেও সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে আপসকামী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। জামায়াতের বক্তব্য-বিবৃতিতে সরকার বা সরকারি দলের জনবিরোধী ইস্যুতে এক ধরনের কুসুম কুসুম বিরোধিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শক্ত ও জোরালো অবস্থান না নিয়ে জামায়াত নমনীয়তা বা শৈথিল্য দেখাচ্ছে। এনসিপি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে আগ্রহী হওয়ায় দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

    সম্প্রতি দলের কয়েকজন নেতার বক্তব্যেও বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। গত শনিবার যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যেও এ অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর সৌজন্য বিনিময়ের সমালোচনা করেন তিনি। যদিও ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে ও রোববার ঢাকায় বিক্ষোভ করে জামায়াত।

    দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক হিসেবে এনসিপিকে ছাড় না দেওয়ার বিষয়টি। বিশেষ করে ঢাকায় একটিসহ একাধিক সিটিতে সমঝোতা চেয়েছিল এনসিপি। সে লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চেষ্টাও চালায় এনসিপি। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত এনসিপিও এককভাবে স্থানীয় সব নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী বদল করে তাদের পক্ষে শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে স্থানীয়ভাবে জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    অবশ্য এনসিপি নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ায় এনসিপির একক শক্তি বোঝা যায়নি। এখন স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূলে দলের অবস্থান স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে দলের ভিত্তি আরো মজবুত হবে।

    এনসিপি নেতাদের বক্তব্য

    জামায়াত-এনসিপির অন্তরালের এই দূরত্ব প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। সবশেষ গত শনিবার ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো নেতা অংশ নেননি। যদিও এর আগে জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও রংপুরÑদুই লংমার্চেই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতা অংশ নেন। এবারের লংমার্চ ছিল তার ব্যতিক্রম। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ না নিলেও বহরে যুক্ত হন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মুস্তাফিজ ও ফরিদুল হক, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    তবে এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়তে পারে বলে যে গুঞ্জন রটেছে, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, একাধিক ইস্যুতে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে না এনসিপি। জামায়াতের দিক থেকেও জোট ভাঙার চেষ্টা নেই বলে বিশ্বাস করেন তারা। বরং বিরোধী জোট ভাঙার জন্য সরকারি মহল চেষ্টা করছে বলে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন।

    দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, এনসিপি ১১ দলীয় ঐক্যেই আছে। জোট ভাঙার গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জোট ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    গত রোববার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে জোটে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য একটি সম্প্রসারিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। দ্রুত এই কমিটি মাঠে কাজ শুরু করবে।

    তবে তিনি বলেন, এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জোটে থাকলেও অন্য কোনো দলের নেতাদের সব বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি তারা অনুসরণ করবেন না। সরকার কিংবা বিরোধী দলের কেউ ভুল করলে তার জবাবদিহি চাইবেন। তিনি মন্তব্য করেন, আমরা কোনো জোটের রাজনীতি করি না, কোনো বিরোধী দলের রাজনীতিও করি না।

    নির্বাচনি প্রস্তুতিতে দুই দল

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপি নিজস্ব প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। জামায়াত ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ।

    অন্যদিকে গত ২৯ মার্চ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তবে পরে ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করে দলটি। গত ৩০ অক্টোবর ঢাকার দুই সিটিতে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

  • ডেঙ্গু আক্রান্তে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫

    ডেঙ্গু আক্রান্তে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৫৩৫ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু ও হাম বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৭২১ জন, ময়মনসিংহে ৮৮, চট্টগ্রামে ২৭৫, খুলনায় ১৬১, রাজশাহীতে ১০৪, রংপুরে ৪৩ এবং বরিশাল বিভাগে ১৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতাল অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছে ৫,৭৭৩ জন। আর হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫৫ জনের। চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এবার সবেচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই যথাক্রমে খুলনা বিভাগে ৮৪, চট্টগ্রামে ৪৬, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩০, রাজশাহীতে ২৯, রংপুরে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন মারা গেছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশু মৃত্যূ, আক্রান্ত ১৩১৪

    হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশু মৃত্যূ, আক্রান্ত ১৩১৪

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ দুই হাজার ৩৯৪ জন।

  • কৃষক ও শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে  করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেএগিয়ে আসার আহ্বান

    কৃষক ও শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেএগিয়ে আসার আহ্বান

    নীলফামারীর ডিমলা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও অবহেলিত অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণে কৃষক ও শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে ব্যাংকসহ দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার জনতা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উচ্চফলনশীল বোরো ধানের (ব্রী-ধান ১০৩) উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

    সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় এনসিসি ব্যাংক পিএলসি এই কৃষি সহায়তা বিতরণের আয়োজন করে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী তুহিন বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে নীলফামারী ও রংপুর বিভাগের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে বৈষম্যের শিকার। আমাদের অঞ্চলকে মঙ্গাপীড়িত বা পিছিয়ে পড়া হিসেবে দেখার দিন শেষ করতে হবে। আমাদের সন্তানেরা যেন অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ জন্য এনসিসি ব্যাংকের মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও মেধাভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ তৈরি করে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।’

    কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে জাতীয় অর্থনীতি কখনোই টেকসই হবে না। এনসিসি ব্যাংক নিরলস চেষ্টা করে যেভাবে দেড়-দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকদের হাতে সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ করে উন্নত জাতের বীজ ও উপকরণ পৌঁছে দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের সবগুলো ব্যাংক যদি এভাবে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে এবং মেহনতি মানুষের সুবিধায় এগিয়ে আসতো, তবে দেশে কোনো অভাবই থাকতো না।’

    এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম। তিনি বলেন, ‘দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে বর্তমান সরকারের গৃহীত কৃষি নীতিমালার আলোকে এনসিসি ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সারা বাংলাদেশের ২০ থেকে ৩০টি উপজেলায় সরাসরি কৃষি সহায়তার কাজ করছে। প্রান্তিক কৃষকদের শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না।

    অনুষ্ঠানে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী, মহিলা দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যাপিকা মোছা. সেতারা সুলতানা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী প্রধানসহ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিদের সাথে নিয়ে ৫০০ কৃষকের হাতে বোরো চাষের বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন।

  • যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দখলমুক্ত হলো লেবুতলার সেই সরকারি বাইপাস সড়ক

    যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দখলমুক্ত হলো লেবুতলার সেই সরকারি বাইপাস সড়ক

    দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় অবৈধ দখলে থাকা যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের বীর নারায়ণপুরসহ চার গ্রামের সরকারি বাইপাস সড়কটি অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কটির দখল করা অংশ উদ্ধার করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশা দেখছেন লেবুতলা, বীর নারায়ণপুর, শুর্শনাদাহ ও ফুলবাড়ী গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ।
    গত ১৫ আগস্ট সরকারি সড়কটি অবৈধ দখলে থাকার বিষয়ে দৈনিক নতুন সকালের বার্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সড়কটি পরিমাপ করা হয় এবং সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো হয়। গ্রাম পুলিশ এ সড়কের সীমানায় লাল ফ্ল্যাগ টানিয়ে চিহ্নিত করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সড়ক দখলমুক্ত করার কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বিভিন্ন সহযোগীতা করেন।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি বাইপাস সড়কটি লেবুতলা, বীর নারায়ণপুর ও শুর্শনাদাহ গ্রামের মাঠের মধ্য দিয়ে বীর নারায়ণপুর ঈদগাহ হয়ে যশোর উপশহর-তৈলকূপ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে কয়েকজন ব্যক্তি দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও মাঝের অংশ বন্ধ থাকায় পুরো সড়কটি ব্যবহার করতে পারতেন না এলাকাবাসী।
    এতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
    জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৩ অক্টোবর তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কটির বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে রাখার বিষয়টি দেখতে পান। এরপর সড়কটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
    ভূমি অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডের ১ নম্বর খতিয়ান এবং মৌজা নকশায় সড়কটি সরকারি চলাচলের রাস্তা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট।
    দীর্ঘ কয়েক দশক পর সরকারি সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হলে সরকারি এই বাইপাস সড়কটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে নৌকা বাইচ,হাজারো দর্শকের উল্লাস

    উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে নৌকা বাইচ,হাজারো দর্শকের উল্লাস

    নদীর বুকে মাঝিদের কণ্ঠে জয়ধ্বনি আর নৌকাবাইচের গান। রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিদের বৈঠার টানে এগিয়ে চলছে নৌকা। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শকের উল্লাসে যেন ফিরে এসেছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরচেনা এক উৎসব। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরের সন্ধ্যা নদীতে এমনই এক উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ। শুধু নদীর পাড় থেকেই নয়, ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলারে করেও অনেকে নদীতে অবস্থান নিয়ে উপভোগ করেন এই প্রতিযোগিতা।

    বিকেল ৪টায় শিকারপুর বন্দর এলাকা থেকে নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামের ৮টি সুবিশাল নৌকা অংশ নেয়।

    উদ্বোধনের পর শুরু হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একসঙ্গে মাঝিদের বৈঠার টান, কাঁসির আওয়াজ আর জয়ধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সন্ধ্যা নদী। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতাটি মেজর এম এ জলিল সেতু (ইচলাদী সেতু) এলাকায় এসে শেষ হয়।

    অনুষ্ঠানের আয়োজক ও পরিকল্পনাকারী উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পরিচিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

    উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস বরিশালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেস্কো।

    নৌকাবাইচ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সেতুর ইচলাদী প্রান্তে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসি এবং আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজলসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

  • ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ভাঙনের শঙ্কা!

    ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ভাঙনের শঙ্কা!

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে নামতে পারেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা রুবিও ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে তার সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের আগেই দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্তত চার থেকে পাঁচজন সদস্য নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রশাসন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ওয়াশিংটনের একজন রাজনৈতিক সূত্রের মতে, ইরান যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়া এবং এর দায় ট্রাম্পের ওপর চাপানো রুবিওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    রুবিওর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানো তার জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। কারণ, বর্তমানে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রুবিও এগিয়ে রয়েছেন বলে তার ধারণা। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তার রাজনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষতি করতে পারে।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’

    এদিকে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে নীরব হয়ে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান দায়িত্বে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তাকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ দেশটির তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে রুবিও ভালো ধারণা তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার তাকে অত্যন্ত মেধাবী এবং আলোচনার ক্ষেত্রে দক্ষ বলে মনে করেন।

    যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রুবিও কী করেন, তা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, রুবিও প্রশাসনে বেশি দিন থাকবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না। তিনি একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন এবং তারা আশা করছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
    তবে ট্রাম্পের প্রশাসনে রুবিওর অবস্থানও বেশ প্রভাবশালী।

    একসময় ট্রাম্প তাকে ‘লিটল মার্কো’ বলে কটাক্ষ করলেও বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা—দুই দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করছেন তিনি।

    সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের পর তিনিই এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা ব্যক্তি।

    অন্যদিকে, প্রশাসনে থাকাকালে লাতিন আমেরিকা নীতিতে রুবিওর ভূমিকা নিয়েও ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনের অভিযোগে ছোট নৌযানে মার্কিন হামলা এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

    গত সেপ্টেম্বরে নিজের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও বলেছিলেন, আপাতত তার এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি মনোযোগী। তবে ভ্যান্স নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি সরে দাঁড়াবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    এদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন সূত্রের দাবি, রুবিওর পদত্যাগের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। বরং নির্বাচনের পর প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি দায়িত্বে থেকে যেতে পারেন।

    রুবিওর পদত্যাগের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে আখ্যা দেন।

    এছাড় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • যশোরে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক বাবুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    যশোরে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক বাবুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক আশিকুর রহমান ওরফে বাবু (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার ভাই ভাই স্টোরের সামনে অভিযান চালায় চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আশিকুর রহমান ওরফে বাবুকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত লুঙ্গির পেছনে লাল কসটেপ দিয়ে মোড়ানো সাদা পলিথিনের ভেতর থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল দুই লাখ টাকা। এ ঘটনায় এসআই সৈয়দ বায়েজীদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামী বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আদেশ দিয়েছেন।

  • পীরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে আগুন

    পীরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে আগুন

    ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ইসাহাক আলী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে জনতা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বোর্ডহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইসাহাক আলীর বাড়ি উপজেলার ভেবড়া গ্রামে।

    স্থানীয়রা জানান, এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী মাদক নিয়ে বোর্ডহাট এলাকায় আসলে তাকে আটক করার চেষ্টা করে সাধারণ জনতা। এ সময় নিজের মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে যান ইসাহাক। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

    পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইসহাক একজন মাদক ব্যবসায়ী। জনগণ তার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • ৪০০ কোটি টাকার সুপারি বাণিজ্যের

    ৪০০ কোটি টাকার সুপারি বাণিজ্যের

    সুপারি উৎপাদন ও বাণিজ্য ঘিরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রতিবছরই তৈরি হয় বড় অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এখন চলছে সুপারির জমজমাট কেনাবেচা। এ বছর ফলন কিছুটা কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় প্রতি পোন সুপারির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২২০ টাকায়। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পাকা, শুকনা ও ভেজানো সুপারি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

    উপজেলার মীরগঞ্জ, রাখালিয়া, মোল্লার হাট, বাসাবাড়ি, মিতালি বাজার, বাবুর হাট ও হায়দরগঞ্জ হাটে সুপারির বড় বাজার রয়েছে। এর মধ্যে মীরগঞ্জ ও হায়দরগঞ্জ অন্যতম প্রধান বাজার। মৌসুমে এসব বাজারে কৃষক, পাইকার, মজুতদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে।

    রায়পুরে উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব সুপারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও সুপারি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রায়পুর।স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বাগানের সুপারি পেকে ওঠে। নভেম্বরে পুরোপুরি পেকে যায়। এ সময় কৃষকেরা বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। পাইকার ও মজুতদারেরা এসব সুপারি কিনে একাংশ পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, অন্য অংশ শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে বাজারের চাহিদা ও দাম অনুযায়ী সেগুলো বিক্রি করা হয়।

    উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সুপারি পাইকার জামাল হোসেন বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সুপারি কেনাবেচার মূল মৌসুম। এ সময় ভেজানো সুপারির মজুতদারেরা বিভিন্ন বাজার থেকে দলবদ্ধভাবে সুপারি কেনেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে বাজারে সুপারির দাম বাড়তে থাকে। তখন ভেজানো সুপারির চাহিদা ও বিক্রি বেশি থাকে।’

    এ বছর ফলন কম হলেও দাম বাড়ায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সুপারি সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যয় বাদ দিলে তাদের প্রকৃত লাভের পরিমাণ বাগানভেদে ভিন্ন হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয়। তবে আবাদি জমির বাইরে বাড়ির আঙিনা, উঁচু জমি ও বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে সুপারির বাগান। এসব বাগান উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    শুধু সুপারি নয়, নারিকেল ও ডাব উৎপাদনেও রায়পুরের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা। এসব কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর জেলায় উৎপাদিত সুপারির অর্ধেকের বেশি আসে রায়পুর উপজেলা থেকে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পাকা, শুকনা ও ভেজানো সুপারি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সুপারি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নারিকেল ও ডাব বিক্রি থেকেও বড়ো অংকের আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সুপারি, নারিকেল ও ডাবের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা আরও উন্নত করা গেলে রায়পুরের অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়বে। বিশেষ করে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ খাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে।’

  • ১০ বছরে পাকিস্তানের দেনা বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার

    ১০ বছরে পাকিস্তানের দেনা বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার

    এক দশকে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮ দশমিক ৬৭৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ দশমিক ১০৭ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬ (আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন) এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের পরিমাণ ১০৭ দশমিক ০৭৬ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের গ্যারান্টিবিহীন ঋণ ১৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

    সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে পাকিস্তানের দেনা ৫৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে ৪২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

    একক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা চীন। দেশটির কাছে পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যার কাছে পাকিস্তানের দেনা ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ঋণের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।


    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের গড় মেয়াদ ১৬ বছর। এর মধ্যে চার বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় রয়েছে। এসব ঋণের গড় সুদের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি ঋণের গড় সুদের হার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এসব ঋণ পরিশোধের গড় মেয়াদ তিন বছর এবং এক বছর ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান (মেনাপ) অঞ্চলে ঋণ পরিশোধ এবং সুদ পরিশোধের অনুপাতের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের বৈদেশিক ঋণ ও মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) অনুপাত ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের মধ্যে এক বছরে এটিই ছিল সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের কিছু সূচকে উন্নতি হলেও ঋণ জমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
    ২০২৫ সালে পাকিস্তানের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।

    দেশটি পাকিস্তানের ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মেয়াদ বাড়িয়েছে। একই বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (বর্ধিত তহবিল সুবিধা) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই উন্নয়ন তহবিল সুবিধা) আওতায় পাকিস্তানকে নতুন করে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে।


    দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এ অর্থ দেয়া হয়েছে।

  • ঝিনাইদহে কৃষকদের জন্য ব্যতিক্রমী মাঠপাঠশালা : মাঠই শ্রেণিকক্ষ, কৃষকরাই শিক্ষার্থী

    ঝিনাইদহে কৃষকদের জন্য ব্যতিক্রমী মাঠপাঠশালা : মাঠই শ্রেণিকক্ষ, কৃষকরাই শিক্ষার্থী

    কৃষির মাঠই তাদের শ্রেণিকক্ষ, আর কৃষক-কৃষাণীরাই শিক্ষার্থী। সেখানে হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টিবাগান গড়ে তোলা, আধুনিক চাষাবাদ ও অল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়ার কৌশল। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নাম ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’। মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ উদ্যোগের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে চাষাবাদের প্রচলিত ধারণা।

    শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর পাশাপাশি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

    প্রশিক্ষণে কৃষকদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টিবাগান তৈরি, সার ও বীজের সঠিক ব্যবহার, রোগবালাই দমন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের কৌশল শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।

    আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা এবং বানিয়াকান্দর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহানারা খাতুন।

    কৃষাণী বিথী খাতুন বলেন, আগে নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাষাবাদ করতেন। এখন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার, বীজ ও ফসলের পরিচর্যা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাচ্ছেন। এতে কম খরচে ভালো ফলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কৃষক রিপন হোসেন বলেন, এ স্কুল থেকে পুষ্টি ও সবজি চাষের নানা কৌশল শিখেছেন। সেগুলো কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে বেশি সবজি উৎপাদন করতে পারছেন।

    শিক্ষার্থী নিশিতা বিশ্বাস বলেন, ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার কৌশল শিখছেন। এতে নিরাপদ ফসল উৎপাদনে তাঁর উৎসাহ বেড়েছে।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে দক্ষ করে তুলতেই পার্টনার ফিল্ড স্কুলের আয়োজন। কৃষকরা যেন কম খরচে বেশি উৎপাদনের পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারেন, সেটিই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

  • জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলার নবনির্বাচিত আমিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলার নবনির্বাচিত আমিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সেশনের নবনির্বাচিত আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ৩টায় কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়ায় অবস্থিত আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার জেলা কর্মপরিষদ ও জেলা মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে তিনি যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের ইন্তেকালের পর তিনি পুনরায় জেলা আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    নবনির্বাচিত জেলা আমিরের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ২০২৭-২০২৮ সেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

  • ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের বিষয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

    ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের বিষয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

    ইরানের বিরুদ্ধে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হবে কিনা, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন তিনি।


    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে ব্যাপক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা কিংবা সমঝোতায় পৌঁছানো—এই তিনটি বিকল্প এখন বিবেচনায় রয়েছে।

    এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া এবং তা যেন আর কখনো পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হবে। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’


    মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবারই প্রথম ইরান নিয়ে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা।

    দুই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    এদিকে, ট্রাম্প যখন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ইরানকে ঘিরে জোরদার হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা।


    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন।

    কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই দিনের মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বৃহত্তর চুক্তির জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এতে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং দেশটির জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে।


    এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন আঞ্চলিক সূত্রগুলো।

    দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। এরপর ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হবে।
    অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ক্রেমলিনে বৈঠক করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন রেজাই।
    বৈঠকের পর রেজাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা তিনি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তা করার বিষয়ে পুতিন তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।


    রেজাই বলেন, ‘আমরা পুতিনকে জানিয়েছি, কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাদের সাতটি শর্ত রয়েছে। আমেরিকানরা এসব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।’

    এদিকে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।


    যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে কিনা, তার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন।

    মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে এটি সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাবে না।

  • বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, আটক ৪ নারী

    বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, আটক ৪ নারী

    বগুড়ার সোনাতলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া গ্রামের সালাম মাস্টারের ছেলে গোলাম কবির সুমন (৩৬)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শুক্রবার সকালে সোনাতলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল কুমার দাস ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে যান। পরে পুলিশ সদস্যরা সুমনকে আটক করে পিকআপে তোলার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সুমনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানটিও ভাঙচুর করেন।

    খবর পেয়ে সোনাতলা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • টেকনাফের পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ, উদ্ধারে অভিযান

    টেকনাফের পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ, উদ্ধারে অভিযান

    কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার পর পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    শুক্রবার বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নে নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বে পাহাড়ে মৃতদেহের সন্ধান পায় পুলিশ।

    কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ থাকার খবর পেয়েছেন তারা। মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। এ সময় যৌথ বাহিনী ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সশস্ত্র অপরাধীদের আস্তানা নির্মূলে পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মানববন্ধনের বিষয়েও আমরা খোঁজখবর রাখছি।

    তিনি বলেন, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • কেরালার মেয়ে এখন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র

    কেরালার মেয়ে এখন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র

    ভারতের কেরালার ত্রিশূরে জন্ম নেয়া নিত্যা রমন এবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাজনীতিক বিদায়ী মেয়র কারেন বাসকে পরাজিত করে শহরটির নেতৃত্বে বসছেন।

    তার এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র পেতে যাচ্ছে শহরটি।

    ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার কারেন বাস নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন। সর্বশেষ ভোট গণনায় নিত্যা রমন পেয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোট, আর বাস পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ। দুই দশকের বেশি সময় পর লস অ্যাঞ্জেলেসে কোনো ক্ষমতাসীন মেয়র পুনর্র্নিবাচনে পরাজিত হলেন। আগামী ডিসেম্বরে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন রমন।

    কেরালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে
    নিত্যা রমনের জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশূরে। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে চলে যান তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০৩ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি—এমআইটি থেকে নগর পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

    শিক্ষাজীবন শেষে নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেরার পর নগরীর গৃহহীন মানুষের সংকট তাকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়। ২০১৭ সালে তিনি সহপ্রতিষ্ঠা করেন ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কাজ করে।

    স্থানীয় রাজনীতি থেকে মেয়র পদে
    নিত্যা রমনের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের মাধ্যমে। ২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো কাউন্সিল সদস্য হন। ওই নির্বাচনে তৎকালীন কাউন্সিল সদস্য ডেভিড রিউকে পরাজিত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে শহরটির সিটি কাউন্সিলে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম এশীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে জায়গা করে নেন।

    ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হন রমন। গৃহহীন মানুষের জন্য কার্যকর সেবা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং নগরীর নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে কাজ করেন তিনি। নগর পরিকল্পনার পেশাগত অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়
    লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে নিত্যা রমনের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ছিল আবাসন সংকট মোকাবিলা, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নগরীর সড়ক ও ফুটপাত সংস্কার। ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনের আগে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

    নির্বাচনী প্রচারে তিনি গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নগরীর মৌলিক সেবাগুলো আরও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৮ সালের অলিম্পিকের আগে রাস্তায় বসবাসকারী গৃহহীন মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও ঘোষণা করেন।
    নিত্যা রমনের স্বামী ভালি চন্দ্রশেখরন টেলিভিশন চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক। ‘মডার্ন ফ্যামিলি’ ও ‘থার্টি রক’-এর মতো জনপ্রিয় টিভি সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। তাদের যমজ সন্তান রয়েছে।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজনীতিতে নিত্যা রমনের এই উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের নগর রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, গৃহহীন সংকট মোকাবিলা এবং নগরীর নাগরিক সেবা উন্নয়নের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে।

  • ডুমুরিয়ায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    ডুমুরিয়ায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকার গফফারের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে চায়ের দোকানে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    উল্লেখ্য, একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটে অবস্থান করেন।

  • খুলনার জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জসিম চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

    খুলনার জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জসিম চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

    খুলনা মহানগরীর আলোচিত জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জসিমকে (৫০) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. জসিম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার হাজী তমিজউদ্দীন সড়ক বাইলেন এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। ২০০৯ সালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৭-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল। অভিযানে জসিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    এসআরবি-৬ জানিয়েছে, নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গ্রেপ্তারের পর মো. জসিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬।

  • মির্জাগঞ্জে পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

    মির্জাগঞ্জে পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে একটি পরিবহনের ধাক্কায় মো: সামসল আলম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

    আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হলে বাকেরগঞ্জ-কাঠালতলী-সুবদখালী-বরগুনা সড়কের উত্তর চৈতা আকন বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সাথে থাকা সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাকে পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    নিহত শামসুল আলম নয়া মিয়া উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রামের মোহাম্মদ আলী চৌকিদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফজরের নামাজ শেষে রাস্তায় হাঁটতে বের হন শামসুল আলম ও সাখাওয়াত হোসেন। বাড়ি থেকে বের হয়ে মহাসড়কে পৌঁছালে আকন বাড়ির সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শামসুল আলমের। গুরুতর আহত হন সাখাওয়াত হোসেন। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • ভারত থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

    ভারত থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

    ফিলিপাইনের কাছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসের বিক্রি বাড়াতে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর নতুন এই চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    ভারতের দুটি সূত্রের মতে, নতুন চুক্তির আওতায় ফিলিপাইন প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে পারে। এতে মোট প্রায় ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে। সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।

    ভারতের এক সূত্র বলেন, ‘ম্যানিলা আবারও ব্রহ্মসের প্রায় পাঁচটি ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। এখন তারা ভারতকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।’

    দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইন তার সামরিক বাহিনী আধুনিকায়ন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে। এ অবস্থায় ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তিটি আগের ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের ব্রহ্মস ক্রয়াদেশের তুলনায় অনেক বড়। আগের চুক্তিটি ছিল নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য।


    ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মস বিশ্বের দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিক্ষেপ করা যায়।

    ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও অ্যান্ডোলং রয়টার্সকে জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অতিরিক্ত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।


    বুধবার দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেয়ার সময় ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো বলেন, তার দেশ আরও ব্রহ্মস ইউনিট সংগ্রহের আশা করছে। এ ব্যবস্থাকে ফিলিপাইনের পরিবেশ ও প্রয়োজনের সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চাহিদাপত্রও দেয়া হয়েছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা, সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ম্যানিলা বেইজিংয়ের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের একাধিক জলসীমা নিয়ে বিরোধের মধ্যে ফিলিপাইন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


    ভারতের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

    গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাতের পর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। ওই সংঘাতে ভারত প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে এই অস্ত্র ব্যবহার করে।

    আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির আলোচনা
    জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দেয় ভারত। ভিয়েতনামের সঙ্গেও এ বিষয়ে চুক্তি করেছে দেশটি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ব্রহ্মস নিয়ে আলোচনা চলছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিও দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৪.২৪ বিলিয়ন রুপি বা ৪.১১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৬২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

  • ‘দোয়া কইরো মা, অভিযানে যাব’— মায়ের সাথে সেনাসদস্যের শেষ কথা

    ‘দোয়া কইরো মা, অভিযানে যাব’— মায়ের সাথে সেনাসদস্যের শেষ কথা

    ‘দোয়া কইরো মা, কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব’। মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে ফোন রেখেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। কে জানত, ছেলের মুখে শোনা সেই কথাই হবে মায়ের সাথে শেষ কথা! এখন সেই ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বুকফাটা আহাজারি করছেন মা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী, বাকরুদ্ধ বাবা।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে আহাজারি করছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। আর সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক বাবা আফজাল শেখ।

    নিহত সেনাসদস্যের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিতাস। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিতাসের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আরফিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে তিতাসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হবে। পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

    দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রাণ হারানো তিতাস শেখের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। একদিকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এক বীর সেনাসদস্যের গর্ব, অন্যদিকে সন্তান, স্বামী ও ভাইকে হারানো গভীর বেদনা। এই দুই অনুভূতিতে স্তব্ধ হয়ে আছে তিতাস শেখের গ্রামের বাড়ি।

    এদিকে সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু।

    উল্লেখ্য, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের তিতাস শেখ (২৮) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

  • ব্যাংকিং বিপর্যয়

    ব্যাংকিং বিপর্যয়

    পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

    পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ‘উয়েনো ব্যাংক’।

    ব্যাংকটি পেনার মেয়াদে অতি দ্রুত দেশের অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছিল এবং দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশকে নিজেদের গ্রাহক দাবি করেছিল।

    সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের আমানত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের টাকা তুলতে না পেরে শত শত পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়ে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।

    ২০২৩ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসেন ৪৭ বছর বয়সী ট্রাম্পপন্থি পেনা। সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের( কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) অভিযোগে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সর্বসম্মত ভোট পড়েছিল।

    রাষ্ট্রীয় তহবিল এবং পেনশন খাতের ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৯১৮ কোটি থেকে ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) উয়েনো ব্যাংকে জমা রাখার বিষয়ে পেনার সাবেক শেয়ারমালিকানার যোগসূত্র নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

    নিজের দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোরাসিও কার্তেসসহ সংসদ সদস্যরা অভিশংসনের পক্ষে অবস্থান নিলে পেনা এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ফিরিয়ে দেয়া নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন পেনা। তার পদত্যাগের পরপরই কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করে সিনেটে পাঠিয়েছে, যা সিনেটে অনুমোদিত হলে পেনা তার সংসদীয় দায়মুক্তি হারিয়ে সাধারণ আদালতে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।

  • ধান-চালে আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকায় নিরাপদ চাল উৎপাদনে উদ্যোগ

    ধান-চালে আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকায় নিরাপদ চাল উৎপাদনে উদ্যোগ

    যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি বিদ্যমান। পানির ক্ষেত্রে আর্সেনিকের ভয়াবহতার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে গবেষণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানব দেহের জন্য আর্সেনিকের সর্ব্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার পানিতে। বাংলাদেশে পানিতে সরকারি মানদন্ডে ০.০৫ মিলিগ্রাম সহনীয় মাত্রা ধরা হয়। কিন্তু একটি উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    এই পরিস্থিতির মধ্যে ধানে সহনশীল মাত্রার চেয়ে অধিক মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ থেকে পরিত্রণের জন্য জাপানের জাইকা ও জেএসটির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বে-সরকারি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সেচ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে আর্সেনিক মুক্ত ধান উৎপাদনে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

    তথ্য সূত্রে প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা সিএসি (কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন) কর্তৃক ঘোষণা অনুযায়ী ধানের ক্ষেত্রে আর্সেনিকের সহনশীল মাত্রা ধরা হয় ০.৩৫ পিপিএম। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর না। অথচ এ উপজেলাতে এই মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমান আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

    এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ধান ও ভাতে আর্সেনিকের উপস্থিতি সহনশীল রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তারা থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করছেন। এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

    নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ) প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা ও জেএসটি (জাপান সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি) এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় অত্র উপজেলায় আর্সেনিক সহনশীল মাত্রায় নিরাপদ ধান উৎপাদনে কাজ করছে সংস্থাটি।

    উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌর সভার বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মডেল প্লট তৈরি করা হয়েছে। পৌরসভার হুদোপাড়া, চৌগাছা ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, সিংহঝুলী ইউনিয়নের মাজালি, ফুলসারা ইউনিয়নের আড়ারদহ, জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া, পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদিপুর, হাকিমপুর ইউনিয়নের বকশিপুর, নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের স্বরুপদাহ, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া রামভাদ্রপুর ও পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মাঠে ধানে আর্সেনিক প্রতিরোধে প্লট তৈরি করা হয়েছে।

    এ সমস্ত প্লটে ১৪৪ জন কৃষক এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিকদের অধীনে তাদের নিজ উদোগে আর্সেনিক মুক্ত ধান উৎপাদনে থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে ব্যবহার করবেন। ইতোমধ্যে তাদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

    সংস্থার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আমিরুল ইসলাম জানান, আমাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর চাল দিয়ে ভাত খেতে হবে। সে কারনে আর্সেনিক মুক্ত বা সহনশীল মাত্রায় ধান উৎপাদন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘দু’টি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে ধানের আবাদি জমিতে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। এটা করতে কৃষক পদ্ধতি ও ত্রিএফফোরডি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হচ্ছে।’

    এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৮ শতাংশ বেশী ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। সংস্থার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ইরি-বোরো মৌসুমে উপরিভাগে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কমে গেলে আর্সেনিকের ঘনোত্ব বেড়ে যায়। ফলে ধানে অধিক পরিমান আর্সেনিক থাকার ঝুঁকি থাকে।

    আড়ারহদ গ্রামের প্লটের কৃষক ইমদাদুল হক ও মাজালি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান তপন জানায়, ধানে আর্সেনিক থাকতে পারে তা আগে কখনো ধারনা ছিল না। আমরা ধানের জমিতে যেভাবে পানি দিতাম এখন সেভাবে দিইনা। আমরা থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, ‘থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন কৃষক। এই পদ্ধতির মূল কাজ হলো প্রচলিত জলাবদ্ধতার পরিবর্তে তিন দিন জমিতে পানি ধরে রেখে চার দিন শুকানো। এতে মাটির রেডক্স পটেনশিয়াল বেড়ে অক্সিডেটিভ পরিবেশ তৈরি হয়। সেকারণে ধান গাছের আর্সেনিক শোষণ কমে যায়। একই সাথে চালে অজৈব আর্সেনিক মাত্রা উল্লেখযোগভাবে হ্রাস পায়।

    উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌসী খাতুন জানান, ধান বা চালে আর্সেনিকের বিষয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ আছে। আমরা বর্তমানে ১১টি ইউনিয়নে ৯০ টি অগভীর নলকুপ দিয়েছি। নলকুপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারে পাঠাচ্ছি। যেখনে আর্সেনিকের মাত্রা বেশী পাচ্ছি, সেখানে পানি পরিশোধনের ভ্যাসেল দিচ্ছি। তিনি বলেন, ‘অত্র উপজেলা আর্সেনিকের আধিক্য রয়েছে। বিগত রিপোর্টে গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে।’

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আহসানুল মিজান রুমী বলেন, ‘আর্সেনিকের রোগীর সংখ্যা বিষয়ে আপডেট তথ্য নেই। তবে ইতোপূর্বে বিভিন্ন জরিপে আমরা জানতে পারি উপজেলায় আর্সেনিক রোগী রয়েছে প্রায় এক হাজার ৫০০ জন। উপজেলা হাসপাতালে এখনো রোগীরা আসছেন। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করলে রোগ ভাল হওয়া সম্ভব। এই রোগ অবহেলা করলে জীবন ঝুঁকি হতে পারে।’

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ধানে আর্সেনিকের বিষয়ে একটি সংস্থা কাজ করছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি। পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অগভীর নলকূপ দেয়া হচ্ছে। নলকূপে আর্সেনিক ধরা পড়লে পানি শোধনে সরকারিভাবে ভ্যাসেল দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দিনের। আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। পানি ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’

  • কুবিতে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ২ সদস্য ও সোর্সকে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

    কুবিতে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ২ সদস্য ও সোর্সকে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

    কুমিল্লা শহরে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ।

    তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তিন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি।

    তবে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

    এএসআই শ্যামল সাহার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ক্যাম্পাসেও তাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    তবে শ্যামল সাহা বলেন, তারা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

    পরে শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।

    তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রক্টর।

    তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সাথে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। বিষয়টি পরে সমাধান করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

  • কালীগঞ্জে হোটেল মালিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কালীগঞ্জে হোটেল মালিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ওয়াদুদ বিশ্বাস (৫৫) নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে শহরের নতুন বাজার এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত ওয়াদুদ শহরের আড়পাড়া গ্রামের নদীপাড়া এলাকার মতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শহরের নতুন বাজার এলাকায় ভাতের হোটেলের ব্যবসা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকালে শহরের নতুন বাজার এলাকার ছাগল হাঁটার একটি চৌরি (চারদিক খোলা) ঘরে এক ব্যক্তির লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এটি হত‍্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটি এখনই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

  • নানির কাছে বেড়ে উঠে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে

    নানির কাছে বেড়ে উঠে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে

    বারাক ওবামার নানি ম্যাডেলিন ডানহ্যাম মারা যান ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। নানিকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছিলেন ওবামা। এই নানিই তাঁকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছিলেন। তবে শোকের সেই সময়েই তাঁর জীবনে আসে সবচেয়ে বড় সুখবর। দুই দিন পর, ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন ওবামা।

    সেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওবামা পান ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইন পান ১৭৩টি। পরের বছরের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এটি ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার এক মুহূর্ত।

    পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন ভোটারদের মন কেড়েছিলেন ৪৭ বছর বয়সী ওবামা। ওবামা এমন এক সময়ে রাজনীতির বড় মঞ্চে এসেছিলেন, যখন আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক যুদ্ধ ও রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন নিয়ে মার্কিন সমাজের সর্বত্র চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

    এমন পরিস্থিতিতে বাগ্মী ওবামার প্রতিটি ভাষণ মার্কিন নাগরিকদের নতুন আশায় উদ্দীপ্ত করেছিল। তাঁর মূল নির্বাচনী স্লোগান ছিল—‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’, তথা এমন পরিবর্তন দরকার, যেটাতে আমরা আস্থা রাখতে পারি। তা ছাড়া ওবামার বক্তৃতায় ‘ইয়েস উই ক্যান’, ‘হোপ’ বা ‘চেঞ্জ উই নিড’ ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ প্রায় শোনা যেত।

    সেই ঐতিহাসিক জয়ের ১৮ বছর পূর্তির আগ মুহূর্তে ওবামা আবারও নির্বাচনী প্রচারমঞ্চে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এবার অবশ্য নিজের জন্য নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার বিজয় উদ্‌যাপন করতে শিকাগোয় তাঁর নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হন সমর্থকেরা

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার বিজয় উদ্‌যাপন করতে শিকাগোয় তাঁর নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হন সমর্থকেরা

    হাওয়াই থেকে শিকাগো

    ওবামার জন্ম ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট, হাওয়াইয়ের হনলুলুতে। মা অ্যান ডানহ্যাম ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক। বাবা বারাক ওবামা সিনিয়র কেনিয়ার। দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ।

    মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর ওবামার শৈশবের কয়েক বছর কাটে ইন্দোনেশিয়ায়। পরে হাওয়াইয়ে ফিরে নানা-নানির কাছে বড় হন। কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় আর শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা পরে উঠে আসে তাঁর ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’ নামক বইয়ে। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

    কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন ওবামা। ১৯৮৫ সালে শিকাগোয় যান কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। এরপর হার্ভার্ডে আইন বিষয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালে হার্ভার্ড ল রিভিউয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সভাপতি হন।

    শিকাগোর একটি আইন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় মিশেল রবিনসনের সঙ্গে পরিচয়। মিশেল ছিলেন ওবামার কাজের তত্ত্বাবধায়ক। ১৯৯২ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। রাজনীতির বড় মঞ্চে ওঠার আগেই গড়ে ওঠে তাঁদের সংসার।

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা

    একটি জয়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম

    ওবামার জয়ের তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে দেড় শ বছর আগে। ১৮৬৫ সালে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলোপ করা হয় দাসপ্রথা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকারের লড়াই চলে আরও অনেক দিন।

    বিংশ শতাব্দীতেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বর্ণবৈষম্যে গভীরভাবে বিভক্ত ছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটার হতে নানা বাধার মুখে পড়তে হতো। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রসহ অন্য অধিকারকর্মীদের আন্দোলনের মুখে ১৯৬৪ সালে নাগরিক অধিকার আইনে প্রণীত হয়। পরের বছর ভোটাধিকার আইন বর্ণের ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের সুরক্ষা জোরদার করে।

    এই দুই আইন কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করে। তবে দেশটির সর্বোচ্চ পদে কোনো কৃষ্ণাঙ্গকে নির্বাচিত হতে অপেক্ষা করতে হয় আরও ৪৩ বছর। ২০০৮ সালে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ওবামা। নির্বাচনের পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আশা করেছিলেন, ওবামার জয় যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণগত সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

    প্রত্যাশা অবশ্য বৈষম্য মুছে দেয়নি। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যু ঘিরে প্রতিবাদ জোরদার হয়। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন সামনে আসে। পিউর ২০১৬ সালের গবেষণায়ও উঠে আসে গভীর বর্ণবিভাজন।

    ওবামাও মিথ্যা প্রচারের শিকার হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হয়নি। তবে তাঁর জন্মনথি এ দাবি খণ্ডন করে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পও স্বীকার করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই।

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের সামনে মঞ্চে আসেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিশেল ও দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া

    ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের সামনে মঞ্চে আসেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিশেল ও দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া

    হারের আট বছর পর হোয়াইট হাউস

    ওবামার রাজনৈতিক উত্থান অবশ্য একটানা জয়ের গল্প নয়। ১৯৯৬ সালে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০০০ সালে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে দলের মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে হেরে যান। জয়ী হন ববি রাশ।

    এরপর ২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে মূল বক্তৃতা দিয়ে সবার নজর কাড়েন ওবামা। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা দেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে হারান হিলারি ক্লিনটনকে।

    ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট ওবামার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। আবাসন খাতের সংকট থেকে শুরু হয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছড়িয়ে পড়া এ মন্দায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। বাড়তে থাকে বেকারত্ব। ২০০৮ সালের অক্টোবরে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ম্যাককেইনের চেয়ে ওবামাকেই বেশি যোগ্য মনে করছিলেন ভোটাররা।

    তরুণদের বড় অংশের সমর্থনও পেয়েছিলেন ওবামা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের ৬৬ শতাংশ তাঁকে ভোট দেন। তবে শুধু তরুণদের ভোটই তাঁর জয়ের একমাত্র নির্ধারক ছিল না।

    যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (ডানে) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক কখনোই উষ্ণ ছিল না। এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাশিয়ার আশ্রয় দেওয়া, ক্রিমিয়া দখল এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদ সরকারকে মস্কোর সমর্থনসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ ছিল। তাঁদের বৈঠকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হতো

    যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (ডানে) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক কখনোই উষ্ণ ছিল না। এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাশিয়ার আশ্রয় দেওয়া, ক্রিমিয়া দখল এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদ সরকারকে মস্কোর সমর্থনসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ ছিল। তাঁদের বৈঠকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হতো।

    সংকটের মধ্যে সংস্কারের লড়াই

    ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন ওবামা। বুশ প্রশাসনের আমলে শুরু হওয়া আর্থিক খাতের উদ্ধার কর্মসূচিও এগিয়ে নেন। সংকটে পড়া গাড়িশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা দেন। তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

    মিলার সেন্টারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল নেলসনের মতে, ওবামার বড় প্রভাবগুলোর একটি ছিল সম্ভাব্য দ্বিতীয় মহামন্দা ঠেকানো। তবে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল অর্জনগুলো উত্তরসূরিদের হাতে বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।

    এত চাপের মধ্যেও পরিবারের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন ওবামা। ‘আ প্রমিজড ল্যান্ড’ নামের স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, রাতের খাবারের পর স্ত্রী মিশেল, দুই মেয়ে ও পোষা কুকুর বোকে নিয়ে হাঁটতে বের হতেন। সেই সময় নিজেকে স্বাভাবিক ও পরিপূর্ণ মনে হতো তাঁর।

    নির্বাচনে জয়ের রাতেই মেয়েদের একটি কুকুরছানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওবামা। হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদে সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেন তিনি।

    তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ওবামার বড় অঙ্গীকারগুলোর একটি ছিল স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার। ২০১০ সালে তিনি অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। আইনটি ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পায়। স্বাস্থ্যনীতি-বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফের (সাবেক কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন) হিসাবে, আইনটি পাসের আগের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রায় দুই কোটি বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা ছিল।

    এই অর্জন নিয়েও বিতর্ক ছিল। কোনো নাগরিক চাইলে নিজের পছন্দের পুরোনো স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ওবামা। কিন্তু নতুন আইনের শর্ত পূরণ না করায় অনেকের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য যাচাইকারী সংবাদমাধ্যম পলিটিফ্যাক্ট ২০১৩ সালে ওবামার এই আশ্বাসকে ‘লাই অব দ্য ইয়ার’ বা বছরের সেরা মিথ্যা বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দেয়।

    প্রায় ১০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানের পর ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ও ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন নিহত হন বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযানটি লাইভ দেখেন ওবামা

    প্রায় ১০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানের পর ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ও ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন নিহত হন বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযানটি লাইভ দেখেন ওবামা।

    দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত

    ২০১২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। ইলেকটোরাল কলেজে তিনি পান ৩৩২ ভোট, রমনি পান ২০৬ ভোট।

    ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত শিশুদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১২ সালের ওই হামলায় ২০ শিশু ও ৬ প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন

    ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত শিশুদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১২ সালের ওই হামলায় ২০ শিশু ও ৬ প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন

    দ্বিতীয় মেয়াদে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ওবামা। ২০১২ সালে স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুক হামলার পর অস্ত্র ক্রেতাদের অতীত যাচাইয়ের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রশাসন। কিন্তু ২০১৩ সালের এপ্রিলে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ৫৪টি, বিপক্ষে ৪৬টি।

    তবে এ মেয়াদে সামাজিক অধিকার প্রশ্নে সফল হয়েছিলেন ওবামা। ২০১২ সালে সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ওবামা। তিন বছর পর, ২০১৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে দেশজুড়ে সমলিঙ্গের বিয়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেন। ওবামা এ রায়কে স্বাগত জানান।

    অভিবাসননীতিতে ওবামার ভূমিকা ছিল দুই রকম। শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা কিছু তরুণ অভিবাসীকে বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দিতে ২০১২ সালে ‘ডাকা’(ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস) কর্মসূচি চালু করেন।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২৮ লাখ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করে দেশটির প্রশাসন। এই হিসাবের মধ্যে সীমান্তে আটক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

    ১৯৬০-এর দশকে শৈশবে সমুদ্রে খেলছেন বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    ১৯৬০-এর দশকে শৈশবে সমুদ্রে খেলছেন বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    নোবেলজয়ীর যুদ্ধ ও কূটনীতি

    বারাক ওবামা ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সহযোগিতা জোরদারে তাঁর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসও পার হয়নি তাঁর।

    ওবামার নির্দেশে ২০১১ সালে পাকিস্তানে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। একই বছরের শেষে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আফগানিস্তানে শুরুতে সেনা বাড়ান ওবামা। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সেখানে আরও ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো হয়।

    ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর ২০১৪ সালে ইরাকে আবার মার্কিন সেনা পাঠান ওবামা। ওই বছরের আগস্টে ইরাকে আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে সিরিয়াতেও আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু হয়।

    এসব অভিযান ছিল ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শুরু করা ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বিস্তৃত ধারার অংশ। ওবামার দুই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল।

    ১৯৬০-এর দশকে শৈশবে মায়ের কোলে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    ১৯৬০-এর দশকে শৈশবে মায়ের কোলে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    বিদেশে ড্রোন হামলা ওবামার আমলের অন্যতম বিতর্কিত সামরিক পদক্ষেপ। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক মাইকা জেনকোর ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ওবামার অনুমোদনে ৫৪২টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আনুমানিক ৩২৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

    গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করতে পারেননি ওবামা। সেখানে কংগ্রেসের বাধা ছিল।

    এডওয়ার্ড স্নোডেন ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) গোপন নথি ফাঁস করেন। এসব নথিতে সংস্থাটির ব্যাপক নজরদারি কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ পায়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেয় ওবামা প্রশাসন। তাতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রের নজরদারির সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    লিবিয়ায় ২০১১ সালে সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেশটির পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট পরিকল্পনা ছিল না বলে পরে স্বীকার করেন ওবামা। ২০১৬ সালে তিনি একে নিজের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল বলে উল্লেখ করেন। তবে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে তখনো সমর্থন করেছিলেন।

    অন্যদিকে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়। কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গড়তেও ওবামার প্রশাসন ভূমিকা রাখে। এগুলো দ্বিতীয় মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন।

    ১৯৬০-এর দশকে বাবা বারাক ওবামা সিনিয়রের সঙ্গে শৈশবের বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    ১৯৬০-এর দশকে বাবা বারাক ওবামা সিনিয়রের সঙ্গে শৈশবের বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    বাংলাদেশ: সম্মাননা ও জিএসপি

    বাংলাদেশের সঙ্গে ওবামার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ২০০৯ সালের ১২ আগস্টের। সেদিন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ দেন তিনি। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনূসকে এ পদক দেওয়া হয়।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বাংলাদেশের বাণিজ্য–সুবিধা ও শ্রম অধিকার নিয়ে। ২০১৩ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশকে দেওয়া জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওবামা প্রশাসন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি—এ কারণ দেখানো হয়।

    রানা প্লাজা ধসের দুই মাস পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতে বলা হয়, শ্রম অধিকার ও কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে এর আগে থেকেই পর্যালোচনা চলছিল। এতে রানা প্লাজা ধসের পাশাপাশি তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

    মাতামহ স্ট্যানলি ডানহাম (বাঁয়ে) ও মাতামহী ম্যাডেলিন ডানহামের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    মাতামহ স্ট্যানলি ডানহাম (বাঁয়ে) ও মাতামহী ম্যাডেলিন ডানহামের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    পরিবারের নতুন জীবন

    ওবামা ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর বই লেখা, চলচ্চিত্র ও অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং ফাউন্ডেশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রী মিশেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হায়ার গ্রাউন্ড। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও পডকাস্ট তৈরি করে।

    মিশেল এখন লেখালেখি ও পডকাস্টে সক্রিয়। বড় ভাই ক্রেগ রবিনসনের সঙ্গে পরিচালনা করেন ‘আইএমও’। সেখানে পরিবার, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

    বড় মেয়ে মালিয়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করছেন। পেশাগত কাজে তিনি ‘মালিয়া অ্যান’ নাম ব্যবহার করেন। তাঁর লেখা ও পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য হার্ট’ ২০২৪ সালের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

    ছোট মেয়ে সাশা ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক হন। তাঁর বর্তমান পেশা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

    আ প্রমিজড ল্যান্ডের ভূমিকায় ওবামা লেখেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রথম মাসে তাঁরা দেরিতে ঘুম থেকে উঠতেন। সময় নিয়ে খেতেন। দীর্ঘ হাঁটায় যেতেন। আবার সম্পর্কের দিকে মন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

    লেখালেখিতেও ওবামার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম খসড়ার জন্য পছন্দ কলম আর হলুদ কাগজের প্যাড। তাঁর মতে, কম্পিউটারে অসম্পূর্ণ ভাবনাও বেশি পরিপাটি দেখাতে পারে।

    ১৯৯২ সালের ১৮ অক্টোবর বিয়ের দিনে স্ত্রী মিশেলের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    ১৯৯২ সালের ১৮ অক্টোবর বিয়ের দিনে স্ত্রী মিশেলের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

    আবারও প্রচারের মঞ্চে

    গত ১৮ জুন শিকাগোয় ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনে পরিবারের সবাইকে দেখা যায়। তাঁর ফাউন্ডেশন নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কর্মসূচিও পরিচালনা করছে।

    তবে এখন ৬৫ বছর বয়সী ওবামার ব্যস্ততার বড় অংশ মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে। গত ২৪ অক্টোবর ওহাইও ও মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। ২৮ অক্টোবর জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ ও গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন।

    এবার ওবামার নিজের নাম ব্যালটে নেই। ভোট চাইছেন দলের প্রার্থীদের জন্য। ২০০৮ সালের সেই জয়ের বার্ষিকীর আগে ওবামা আবার মানুষকে ভোট দিতে যেতে অনুরোধ করছেন।

    ওবামা গত ৩১ অক্টোবর জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসের জনসভায় অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বৈরাচারী মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থ পদক্ষেপ নিয়েও বিদ্রূপ করেন।

    বক্তৃতায় ওবামা বলেন, ‘এই নির্বাচনই তাঁকে অন্তত নিয়ন্ত্রণে আনার, এই প্রশাসনের কিছু বোকামি থামানোর আমাদের শেষ ও সবচেয়ে ভালো সুযোগ। এটি ব্যবস্থার সার্কিট ব্রেকার। আর সেটি কার্যকর করতে আমাদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলাতে হবে।’

    তথ্যসূত্র:

    ক্যাটালিনি, এম. (২৯ অক্টোবর ২০২৬)। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্প ও ওবামা। নিউজ৪জেএএক্স।

    নেলসন, এম. (তারিখ উল্লেখ নেই)। বারাক ওবামা: প্রভাব ও উত্তরাধিকার। মিলার সেন্টার, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    ওবামা, বি. (২৭ জুন ২০১৩)। বাংলাদেশের জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা স্থগিতের বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে বার্তা। দ্য আমেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্ট।

    ওবামা, বি. (২০২০)। এ প্রমিজড ল্যান্ড. ক্রাউন প্রকাশনী।

    পিউ রিসার্চ সেন্টার। (২৭ জুন ২০১৬)। বর্ণ ও বৈষম্য নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য।

    জেনকো, এম. (২০ জানুয়ারি ২০১৭)। ওবামার শেষ সময়ের ড্রোন হামলার তথ্য। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস।

  • সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসের আগের মতোই চড়া

    সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসের আগের মতোই চড়া

    শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে বেশ কিছু সবজির দাম। বাজারে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো চড়া। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য।

    শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপিও পাওয়া যাচ্ছে একই দামে। মুলার দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। তবে কিছু সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। প্রতি কেজি টমেটো ১০০ টাকায় এবং কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। গাজরের দাম ১২০ টাকা। গোল বেগুনের কেজি ৮০ টাকা হলেও অন্যান্য জাতের বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।এছাড়া দেশি শসা ৪০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। পেঁপে ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ আরও বাড়লে দামও কমতে পারে।

    এক বিক্রেতা বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ক্রেতাদের জন্য সুখবর নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোথাও কোথাও বড় ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

    মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

    এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ বাজারদরের তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার থেকে এক দিনেই উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার থেকে এক দিনেই উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার বাজার মূলধন হাওয়া হয়ে গেছে। এর প্রভাবে বড় দরপতনের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারও।

    আজ শুক্রবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কেওএসপিআই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

    এর আগে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। গত ৬ অক্টোবর সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। সে তুলনায় এটি ১০ শতাংশ কমেছে।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকালের আগপর্যন্ত নাসডাকের এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের অন্যান্য সূচকও বড় পতনের মুখে পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনস সূচক ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে এত বড় পতনের মুখে আর কখনো পড়েনি।

    অথচ এর আগের দিন বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বেড়েছিল। নাসডাক বেড়েছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কিন্তু গতকাল ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়।

    বুধবার প্রধান সূচকগুলো বাড়লেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা ও এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর ছিল নিম্নমুখী। এর ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির হিড়িক লেগে যায়। এর প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলোয়ও।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এই দরপতনের অন্যতম কারণ টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়। এআই প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।

    তবে নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে প্রচারের সময় অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার (তথ্যকেন্দ্র) নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চিপ নির্মাতা ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপক হারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি সূচক ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

    প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকটি এত বড় পতন দেখেনি। এ ছাড়া ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম কমেছে ১১ শতাংশ। তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশ।

    প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোকে নিয়ে গঠিত নাসডাক–১০০ সূচকও গতকাল ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক দিনে এই সূচকের এত বড় পতন আর হয়নি।

  • হরমুজে ছাড় পাচ্ছেন চার দেশ

    হরমুজে ছাড় পাচ্ছেন চার দেশ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, এই চার দেশের জাহাজগুলো ইরানের আরোপ করা বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

    মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মুকাদ্দাম দেশটির সংবাদমাধ্যম আইএসএনএকে এ তথ্য জানান।

    তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ছাড়ের পেছনে শুধু বন্ধুত্ব নয়, রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ।

    কেন এই চার দেশকে ছাড় দিচ্ছে ইরান?

    ইরানি আইনপ্রণেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত থেকে ওষুধ পাবে ইরান। অন্যদিকে চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার আশা করছে তেহরান। কাতার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

    এ ছাড়া ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ট্রানজিট ফি বা পারাপার মাশুল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানের। তবে কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুল নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে ইরান অর্থ আয় করতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চার দেশের জন্য?

    বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশই এই পথ দিয়ে হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২৩ হাজার ব্যারেল উপসাগরীয় অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।

    ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাধা সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এশিয়ার জ্বালানিনির্ভর দেশগুলো।

    ভারতের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদনে ভারতের সক্ষমতা ইরানের জন্যও বড় সুবিধা।

    অন্যদিকে কাতার তার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির জন্য এই নৌপথের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ইরাকের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক।

    এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও বন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা সব দেশের জাহাজের ওপর তাদের নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে না।

    খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি মানবিক পণ্য বহনকারী জাহাজও তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি ভারত ও চীনের জাহাজকে নিজস্ব বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাড় দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেয়, তাহলে পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

    তবে জাহাজের জাতীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জাহাজের পতাকা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়—কোন বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের কৌশল

    বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে।

    হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় ইরানের অন্যতম দাবি।

    কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরান প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সাতটি শর্ত দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তেলের বাজারে কতটা প্রভাব পড়বে?

    বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

    কারণ, সংঘাত আবার তীব্র হলে কোন দেশের জাহাজ চলাচল করছে, তা আলাদা করে বিবেচনা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে।

    এ ছাড়া বিশেষ ছাড় পাওয়ার পরও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। গত ৩০ অক্টোবর কাতারের এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ উপসাগরে অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতের শিকার হয়।

    আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা ও যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ ছাড় দিয়ে ইরান একদিকে নিজের অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলার কৌশল নিয়েছে। তবে এই ছাড় কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

  • ফটিকছড়িতে মরুর দেশের ফলের আবাদ

    ফটিকছড়িতে মরুর দেশের ফলের আবাদ

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শাকসবজির বিপরীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে মরুর দেশের ফল। খালের পাড়ে বিস্তৃত চরের জমিতেই এবার ফলেছে মরুভূমির ফল সাম্মাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখে ৪০ শতক জমিতে এ ফলের চাষ করেন ৪২ বছর বয়সী কৃষক মো. এখলাস। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছেন।

    ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর বাইন্যাচোলা ব্রিজ সংলগ্ন ধুরুং খালের চরে এ চাষাবাদ করেন তিনি। ওই গ্রমের মৃত আবুল কাশেমেরে ছেলে এখলাস।

    কৃষিকাজে আগে থেকেই যুক্ত ছিলেন। সাম্মাম চাষের আগে কলা, বরইসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও কৃষিপণ্য চাষ করতেন। এর আগে গাছের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। নতুন কিছু করার আগ্রহ এবং বেশি লাভের আশায় এবার প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে সাম্মাম চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত ২২ আগস্ট ৪০ শতক জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করেন। প্রথমবারের এই চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। চারা রোপণের দেড় মাস পর থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। সাম্মামের বাইরের অংশ হালকা সবুজ। ভেতরের শাঁস হলুদ রঙের। ফলটি খেতে মিষ্টি, তবে বিশেষ কোনো গন্ধ নেই। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাম্মাম ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন এখলাস। পাইকাররা সরাসরি তার ক্ষেত থেকে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফটিকছড়ি সদর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কেজি সাম্মাম বিক্রি করেছেন তিনি। এতে আয় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ফল বিক্রির আশা করছেন। সেগুলো বিক্রি হলে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রথমবারের এই চাষে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তি

    সাম্মাম চাষি মো. এখলাস কালবেলাকে বলেন, আমাকে সহযোগিতা করছেন চার শ্রমিক। তারা সাম্মাম চাষের পাশাপাশি তার অন্যান্য কৃষিকাজেও সহযোগিতা করেন।

    ভালো ফলন পেতে জৈব সার, সালফারসহ পোকামাকড় দমনে প্রয়োজীয় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় বলে জানান এ কৃষক।

    ফটিকছড়িতে সাম্মাম চাষে এখলাস একা নন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও পাঁচ কৃষক এ ফল চাষ করেছেন। তবে কাঞ্চননগর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ধুরুং খালের চরে সাম্মাম চাষ করেছেন এখলাস। তার উৎপাদিত ফলের সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও এ ফল চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শিবুরাম কৃষ্ণ দে কালবোলকে বলেন, ইউটিউব দেখে এখলাস সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করেন। চাষের শুরু থেকেই তার উদ্যোগের খোঁজ-খবর রাখতাম। মাঝে মধ্যে ক্ষেতে গিয়ে ফসলের অবস্থা দেখেছি। তাকে প্রয়োজনীয় সময় ও পরামর্শ দিয়েছি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক কালবেলাকে বলেন, মরু অঞ্চলের ফল হিসেবে পরিচিত সাম্মাম ফটিকছড়িতে কয়েক বছর ধরে চাষ হচ্ছে। এবার কাঞ্চননগরের কৃষি উদ্যোক্তা এখলাসের হাত ধরে ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ হয়েছে।

  • আইজেনকোটের পাশে আরব দল

    আইজেনকোটের পাশে আরব দল

    ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটির দুটি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাদের এই ঘোষণার পর ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আইজেনকোটের। এতে প্রধানমন্ত্রী পদে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টিকে থাকার অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বৃহস্পতিবার জানায়, গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের জন্য তারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করবে। এর আগে দিনের শুরুতে আটটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড আরব লিস্ট—রামও তার প্রতি সমর্থন জানায়।

    গত সপ্তাহের নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক জোটগুলো পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকোট মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন তার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এই সমর্থনের বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে ঠেকানো এবং তাকে সরানোর প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আরব নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো যথেষ্ট জোরালো অবস্থান নিতে পারেনি— এমন উদ্বেগও রয়েছে।

    গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার রাতে এ আলোচনা শুরু করেন তিনি। দলীয় নেতাদের উদ্দেশে হারজগ বলেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে চাইলে সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না— এ বিষয়টি তাদের মাথায় রাখতে হবে।

    নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সাবেক এক মিত্রের নেতৃত্বাধীন চতুর্থ গোষ্ঠী সমর্থন জানিয়েছে আইজেনকোটকে।

    বৃহস্পতিবার আরও আটটি দলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল। আলোচনার শেষ দিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসবেন প্রেসিডেন্ট।

    গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের কোনো জোটই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তাদের কট্টর ডানপন্থি ও অতি-ধর্মীয় ইহুদি মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টি এবং তার জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল মিলিয়ে পেয়েছে ৪৮টি আসন।

    এদিকে, নির্বাচনের আগে এক আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর বুধবার ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব-ইসরায়েলি জোট ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ অভিযোগ তুলেছে। গত সপ্তাহের নির্বাচনে আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ডসংখ্যক।

    নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগও জোরালো করেছেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে—এমন গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। ভিডিওতে তার পেছনে ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ লেখা স্লোগানও দেখা যায়।

  • মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে নেতানিয়াহু এখন ‘বিষাক্ত’

    মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে নেতানিয়াহু এখন ‘বিষাক্ত’

    যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। একসময় ইসরায়েলকে সমর্থন করতেন, এমন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির বিরোধিতা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    এর প্রমাণ হিসেবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে সিনেটরদের ক্রমবর্ধমান সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন লাপিদ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

    লাপিদের ভাষ্য, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ এখনো ইসরায়েলকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। তবে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির প্রতি তাদের বিরোধিতা বাড়ছে। তিনি জানান, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ জন এবং সিনেটের ১০ শতাংশেরও কম সদস্য ইসরায়েলের ঘোর বিরোধী।

    লাপিদ বলেন, ইসরায়েলের জন্য আরও বড় সমস্যা হলো, এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা সিনেটরদের মধ্যেও অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

    লাপিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দুই বছর আগে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। এক বছর আগে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ জনে। আর চলতি বছরের এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৪০ জন।

    তিনি লেখেন, এসব আইনপ্রণেতা বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরোধিতা করেন। এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করেন, যাদের নীতি তারা বুঝতে পারেন না। আর সবকিছুর ওপরে তারা নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করেন। তাদের কাছে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই ‘বিষাক্ত’।

    ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনে প্রথম সফরেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছেন লাপিদ।

  • খামেনির বার্তা নিয়ে মস্কোয় ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান

    খামেনির বার্তা নিয়ে মস্কোয় ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি চিঠি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি চিঠিটি হস্তান্তর করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইরানের জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন রেজায়ি।

    বৈঠক শেষে রেজায়ি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ বন্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

    রেজায়ি জানান, খামেনি যত দ্রুত সম্ভব পুতিনের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। প্রায় এক মাস আগে মস্কো সফরের পরিকল্পনা করা হলেও আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের আলোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে চিঠিতে কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

    এর আগে বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের সামান্যতম প্রবণতাও থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি ‘পরম প্রতিরোধক্ষমতা’ অর্জনের জন্য ইরানকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

    সাত শর্তে অনড় তেহরান

    এদিকে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান। রেজায়ি বৃহস্পতিবার বলেন, ওয়াশিংটন এসব শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান, আলোচনাতেও বসবে না।

    তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। সেগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খোলা বা আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

    যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে পুতিন আবারও আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান রেজায়ি। গত মাসেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    বৈঠকে রাশিয়া থেকে ইরানে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এর মাধ্যমে ইরানের গ্যাসসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে রাশিয়ার গ্যাস বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানান রেজায়ি।

    তিনি আরও বলেন, গত অক্টোবরের শেষ দিকে তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়েও পুতিনকে অবহিত করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। রেজায়ির ভাষ্য, চীনের মতো রাশিয়াও মনে করে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন এবং এতে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

    বৈঠকটি মস্কোর ক্রেমলিনের সিনেট প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস।

    আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা

    যুদ্ধ বন্ধে কাতারও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে এ উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তোষও বাড়ছিল।

    সংঘাত নিরসনের আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে।

    পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। একই বছরের অক্টোবরে চুক্তিটি কার্যকর হয়। তবে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার চুক্তির মতো এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো ধারা নেই।

    এ ছাড়া ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া শনিবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনেছে ইরান। যুদ্ধ শেষ হলে এসব বিমান পাওয়ার কথা রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাবনাককে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই বিমানগুলো সরবরাহের কথা ছিল। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পাইলটদের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

  • ভারতের চলন্ত ট্রেনে আগুন

    ভারতের চলন্ত ট্রেনে আগুন

    ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে চলন্ত কর্মভূমি এক্সপ্রেস ট্রেনের তিন থেকে চারটি বগিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

    ট্রেনটি অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাচ্ছিল। ১২৫০৮ নম্বরের ট্রেনটিতে দুপুর ১টার দিকে পাতিয়ালা জেলার রাজপুরা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সরাই বানজারা ও বসন্তপুরা রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় আগুন লাগে।

    আগুন লাগার পর ট্রেনটি থামিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে আম্বালা-রাজপুরা রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অন্য একটি ট্রেনে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বগিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো জানা যায়নি।

    এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

  • সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার

    সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার

    আধুনিক সমাজব্যবস্থায় নারীর অগ্রগতি ঘটলেও উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক নারী। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলে সচেতনতার অভাবে মুসলিম আইনে প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ বুঝে পাচ্ছেন না অনেকে।

    মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, সন্তান হিসেবে বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে সাধারণত একজন ছেলে সন্তানের তুলনায় মেয়ে সন্তান অর্ধেক অংশ পেয়ে থাকেন। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে নারীর অধিকার শুধু পৈতৃক সম্পত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। স্ত্রী হিসেবে স্বামীর এবং মা হিসেবে সন্তানের সম্পত্তিতেও নির্ধারিত অংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে তার।

    এ ছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব পাওনা। স্বামী জীবদ্দশায় তা পরিশোধ না করলে স্ত্রী আইনগতভাবে আদায় করতে পারেন। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। পাশাপাশি স্ত্রী হিসেবে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারও রয়েছে নারীর।

    তবে আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও সামাজিক রীতিনীতি, অসচেতনতা ও পারিবারিক মানসিকতার কারণে অনেক নারী তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আইনজীবীদের মতে, মুসলিম আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে নারীর উত্তরাধিকার অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীর সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা জরুরি।

  • প্রথম রাত কবরে কী ঘটে

    প্রথম রাত কবরে কী ঘটে

    ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘বরজখ’। এটি দুনিয়ার জীবন ও পরকালের মধ্যবর্তী এক জগৎ। মৃত্যুর পর মানুষের পরকালীন জীবনের সূচনা হয় কবর থেকেই। স্বজনেরা দাফন শেষে ফিরে যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির জন্য শুরু হয় এক ভিন্ন বাস্তবতা, যেখানে তাকে মুখোমুখি হতে হয় নানা পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের।

    কবরের গুরুত্ব বোঝাতে হজরত উসমান (রা.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়। তিনি কবরের পাশে দাঁড়ালে কাঁদতেন। এর কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কবরকে পরকালের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে মুক্তি লাভ করতে পারলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যায়। আর সেখানে সফল হতে না পারলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

    কবরের প্রথম অভিজ্ঞতা ও চাপ
    দাফন শেষে স্বজনেরা যখন কবরস্থান ছেড়ে চলে যান, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দও শুনতে পান বলে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। এরপর কবরের জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হলো কবরের চাপ, যা ইসলামি পরিভাষায় ‘দাবগাতুল কবর’ নামে পরিচিত।

    ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, কবরের মাটি মৃত ব্যক্তিকে চারদিক থেকে চেপে ধরে। এ অভিজ্ঞতা থেকে কেউ সম্পূর্ণ মুক্ত নন। তবে নেককার ও পাপী ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর প্রকৃতি ও তীব্রতা ভিন্ন হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। নেককারের জন্য তা মমতাময়ী আলিঙ্গনের মতো হলেও পাপীর জন্য তা অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করা হয়েছে।মদিনার বিশিষ্ট সাহাবি সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর মৃত্যুর পর মহানবী (সা.) কবরের চাপ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘কবরের একটি চাপ আছে; যদি কেউ এই চাপ থেকে রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুয়াজ রেহাই পেত।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২০৫৪)

    এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কবরের চাপ পরকালীন জীবনের একটি অবধারিত অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত।

    মুনকার ও নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদ
    কবরের পরবর্তী পর্যায়ে মৃত ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হন দুই ফেরেশতা—‘মুনকার’ ও ‘নাকির’। হাদিসে তাদের চেহারা ও কণ্ঠস্বরের কঠোরতার বর্ণনা পাওয়া যায়। তারা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন। প্রশ্নগুলো হলো—তোমার রব কে? তোমার ধর্ম কী? আর মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?

    সুনানে আবু দাউদের ৪৭৫৩ নম্বর হাদিসে এই জিজ্ঞাসাবাদের বিবরণ এসেছে।

    ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, কেবল পার্থিব জ্ঞান, মুখস্থবিদ্যা কিংবা মুখে বলা কোনো উত্তর দিয়ে এ পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। বরং দুনিয়ার জীবনে যার ঈমান দৃঢ় ছিল এবং যে ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছে, আল্লাহ তাকে সঠিক উত্তর দেওয়ার সামর্থ্য দান করবেন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ইহকাল ও পরকালে (কবরে) শাশ্বত বাণীর ওপর সুদৃঢ় রাখেন…।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭)

    এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন, কবরের মধ্যে মুনকার ও নাকিরের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সময় মুমিনদের অবিচল রাখা এবং সঠিক উত্তর দেওয়ার তাওফিক দেওয়ার বিষয়টি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৪/৫০৬, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)

    নেক আমল যেভাবে পাশে থাকবে
    কবরের জীবনে মানুষের দুনিয়ার আমল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ইসলামি বর্ণনায় নেক আমলকে এমন এক সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মৃত্যুর পরও মানুষের পাশে থাকবে এবং তাকে সুরক্ষা দেবে।

    বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর তার নামাজ মাথার কাছে, রোজা ডান পাশে, জাকাত বাঁ পাশে এবং দান-সদকা ও মানুষের সঙ্গে সদাচরণের মতো ভালো কাজগুলো পায়ের কাছে অবস্থান নেয়। ফেরেশতারা যে দিক দিয়েই আসতে চান, আমলগুলো সেদিক থেকে তাকে রক্ষা করার ভূমিকা পালন করে। (আল-কুরতুবি, আত-তাজকিরাহ বি-আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ, পৃষ্ঠা ১৫৪, মাকতাবাতুল বুখারি, কায়রো, ২০০৮)

    অর্থাৎ, মানুষের জীবদ্দশায় করা ভালো কাজগুলোই পরকালীন জীবনে তার জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে। তাই ইসলামি শিক্ষায় ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ, দান-সদকা এবং নৈতিক জীবনযাপনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    জান্নাতের বাগান, নাকি জাহান্নামের গর্ত
    মুনকার ও নাকিরের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর মৃত ব্যক্তির পরকালীন অবস্থার বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সঠিক উত্তর দিতে পারলে আসমান থেকে ঘোষণা আসে, ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে।’ এরপর তার কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। সেখানে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই দরজা দিয়ে জান্নাতের সুগন্ধ ও প্রশান্তির বাতাস প্রবেশ করে।

    অন্যদিকে, প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য কবরের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। হাদিসের বর্ণনায় এ অবস্থাকে জাহান্নামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    মহানবী (সা.) কবরের পরিণতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘কবর হলো জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান অথবা জাহান্নামের গর্তগুলোর মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৬০)

    দাফনের পর স্বজনদের করণীয়
    মৃত ব্যক্তির কবরজীবনের শুরুতে স্বজন ও উপস্থিত মুসল্লিদেরও কিছু করণীয় রয়েছে। ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, দাফন শেষ করেই কবরস্থান ত্যাগ না করে কিছু সময় মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সুন্নত।

    মহানবী (সা.) কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের উদ্দেশে বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)

    এ কারণে দাফনের পর মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনা এবং কবরের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তার অবিচল থাকার জন্য দোয়া করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    কবরের জীবন মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকা এক অদৃশ্য জগৎ। ইসলামি বিশ্বাসে এটি মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই দুনিয়ার জীবনকে শুধু পার্থিব অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঈমান, ইবাদত, নৈতিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়ার শিক্ষা দেয় ইসলাম।

  • সরকারের নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

    সরকারের নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

    দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

    শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

    বিসিআইসি জানিয়েছে, বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া দুইটি নন-ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

    একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা, ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

    দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়নের পর উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

    চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

    ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

    এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’

    পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

    নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

    নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা

    নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।’

  • অঙ্গ হারানো হাজার হাজার  ফিলিস্তিনি শিশুকে বিদেশে যেতে বাধা

    অঙ্গ হারানো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশুকে বিদেশে যেতে বাধা

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অঙ্গহারা শিশুদের বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর।

    সংস্থাটির দাবি, ভ্রমণের ওপর ইসরাইলের বিধিনিষেধের কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিশু।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ১৩৪টি শিশু হাত-পা হারিয়েছে। তবে এসব শিশুর মধ্যে খুব কমসংখ্যকই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পাচ্ছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গাজায় ২ হাজার ৩০০ জন অঙ্গহারা ব্যক্তি, যাদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন, চিকিৎসার জন্য মূল্যায়নের আওতায় এসেছেন।

    কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন। অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষ এই সুবিধা পেয়েছেন।

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সনদধারী বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র আটজন।

    সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।

    সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত শিক্ষা থেকে শিশুদের বঞ্চিত করার ধারাবাহিকতা তাদের বর্তমান শারীরিক ক্ষতিকে আজীবনের বঞ্চনায় পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।’

    চিকিৎসার ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের অভাব এবং শিশুদের বয়স ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম অঙ্গ পরিবর্তন না করায় নতুন জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং চলাফেরায় আরও বেশি অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

    চিকিৎসা পাচ্ছে না অঙ্গহারা শিশুরা

    ফিদা আহমেদ আল-শায়ের (৩৬) নামের এক নারী মানবাধিকার সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া একটি গোলা তার ১১ বছর বয়সি ছেলের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং একটি হাত হারায়।

    ওই শিশুর বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্ত পারাপারের পথগুলো বন্ধ থাকায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    এ ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর। সংস্থাটি বলেছে, ‘কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শারীরিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করা গণহত্যা সনদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।’

    সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘শিশুদের অঙ্গচ্ছেদ এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার ঘটনাও এই ধারাবাহিকতার অংশ।’

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের অভিযোগ, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতেও বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এ ছাড়া বিশেষায়িত চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

  • মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন বাংলাদেশী মেয়ে

    মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন বাংলাদেশী মেয়ে

    বিয়ের পর দীর্ঘ বছর দেখা না হলেও মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন।

    ৪৫ বছর আগে বিয়ের পর পর কয়েকবার দেখা হয়েছে। তারপর আর মা-বাবা ও মেয়ের কেউ কারোর মুখ দেখেনি। জীবিত বাবার অথবা মেয়ের মুখটি শেষবারের মতো দেখার সুযোগও হয়নি তাদের। দুই দেশের সীমান্তের কাঁটাতার আটকে রেখেছিল বাবা-মেয়ের দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সময়ের সাথে দীর্ঘ হয়েছে দেখাদেখির অপেক্ষা।

    অবশেষে বাবার মৃত্যুর পর সেই অপেক্ষার অবসান হলো। তবে দেখা হলো না ঘরের আঙিনায়, হলো দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায়। সেখানে বাবার নিথর মুখ দেখে দীর্ঘদিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা কিছুটা হলেও মেটালেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের স্বামী ইসরাফিলের স্ত্রী মোছা: ফেরদৌসী খাতুন।

    ফেরদৌসী খাতুনের বাবার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। আর স্বামীর বাড়ি এ দেশের সীমান্তবর্তী মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামে। চাপড়া ও সোনাপুর দুই দেশের দুই গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল দুই দেশের সীমান্ত। সেই সীমান্তের কারণে দীর্ঘদিন দেখা করা সম্ভব হয়নি। যখন তাদের বিয়ে হয়, তখন সীমান্তে এমন কড়াকড়ি ছিল না। ছিল না কাঁটা তারের বেড়া। তখন দুই বাংলার ছেলে মেয়েদের মধ্যে হরহামেশাই বিয়ে হতো।

    বাবা বৃদ্ধ মনোরঞ্জন শেখের শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর হলেও মেয়ে যেন তার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে। জীবদ্দশায় যে দেখা হয়ে ওঠেনি, অন্তত মৃত্যুর পর সেই সুযোগটুকু যেন মেয়ে পায়। অবশেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে পূরণ হলো বাবার সেই শেষ ইচ্ছা।

    ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মনোরঞ্জন শেখ।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তার লাশ নিয়ে আসা হয় মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায়। সেখানে বাবার শেষ মুখ দেখেন মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন। তার সাথে ছিলেন স্বামী ইসরাফিল, ছেলে মেয়ে ও নিকটাত্মীয়রা।

    দুই দেশের সীমান্তের মাঝখানে বাবার নিথর মুখ। জীবিত অবস্থায় যে মুখ দেখার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে, সেই মুখই শেষবারের মতো দেখলেন ফেরদৌসী। বাবা-মেয়ের দেখা হলো ঠিকই, কিন্তু সেই দেখা আর কোনো কথার, কোনো সাড়ার কিংবা ফিরে পাওয়ার নয়। সীমান্তের শূন্যরেখায় এটিই হয়ে রইল তাদের শেষ দেখা।

    এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েব সুবেদার এনায়েত হোসেন এবং ভারতের পক্ষে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এএসআই নিলয় কুমারসহ দুই দেশের মোট ১০ জন সীমান্তরক্ষী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া কে এই হাকিম জেফ্রিস

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া কে এই হাকিম জেফ্রিস

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দেশটির আইনসভার নিম্নকক্ষের ৪৩৫ সদস্যের নেতৃত্ব দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

    মার্কিন সংবিধানে পদমর্যাদার দিক থেকে প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্রমানুসারে ভাইস প্রেসিডেন্টের ঠিক পরেই স্পিকারের অবস্থান। প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে স্পিকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন কোন বিলটি ভোটের জন্য ফ্লোরে উত্থাপিত হবে এবং কোনটি শুরুতেই আটকে দেওয়া হবে। নিউ ইয়র্কের অষ্টম কংগ্রেশনাল আসনে নিজের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক বিজয় ভাষণে হাকিম জেফ্রিস ঘোষণা করেন, ‘আজ থেকে আমেরিকার মহান প্রত্যাবর্তন শুরু হলো। আমেরিকান জনগণ তাদের রায় দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা চরমপন্থা ও দুর্নীতি আর সহ্য করবে না; তারা এমন এক কংগ্রেস চায় যা সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করবে।’

    আইনজীবী থেকে ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে

    রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সম্পৃক্ত হওয়ার আগে হাকিম জেফ্রিস একজন করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে নিজের প্রজ্ঞা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থায় চলে আসেন।

    বিশেষ করে ২০২০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। সে সময় সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে ধরার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে তৎকালীন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তরুণ এই নেতাকেই বেছে নিয়েছিলেন। সেই লড়াই থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।

    সাধারণ মানুষের অর্থনীতি ও ট্রাম্পকে কড়া জবাব

    ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, জেফ্রিসের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক দাবিগুলোকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিমালার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা। মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নিত্যপণ্যের লাগাম টানা এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে তিনি শুরু থেকেই সোচ্চার।

    অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবির ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণেও তিনি সুপরিচিত। অতীতে ট্রাম্প যখন তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করেছিলেন, তখন পাল্টা জবাবে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করে জেফ্রিস বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসা ট্রাম্প হচ্ছেন সবচেয়ে নির্বোধ ব্যক্তি—একজন দুর্বল, বেসামাল, ব্যর্থ ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো প্রবীণ প্রেসিডেন্ট।

    সামনে কঠিন পরীক্ষা ও সমঝোতার চ্যালেঞ্জ

    স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাকিম জেফ্রিসের সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে ঘোষণা করায় ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ থেকে পাস হওয়া যেকোনো জনকল্যাণমুখী বিলে প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

    তবে জেফ্রিস প্রয়োজনে সমঝোতার পথও খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব এবং সে কারণে প্রয়োজন হলে বিরোধী পক্ষের সাথে আলোচনাতেও বসতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু হোয়াইট হাউস ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই দলমত নির্বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা এবং একই সঙ্গে নবনির্বাচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রত্যাশাগুলোকে বাস্তবতার নিরিখে সংযত রাখাই হবে নতুন এই কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।

  • নলডাঙ্গায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ

    নলডাঙ্গায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ

    নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়া এবং বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষকদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নলডাঙ্গা পৌরসভার মেসার্স শ্যামসুন্দর আগারওয়ালার দোকানে সার বিতরণের সময় এই অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা তুঙ্গে। অথচ ডিলারের দোকানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এবং অনিয়মের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাননি, ফলে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।

    কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে পেছনের পথ দিয়ে বা টোকেনের মাধ্যমে লাইনের আগে গিয়ে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। টোকেন থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত কৃষকরা সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, অথচ অনেকে চাষাবাদ না করেও ভ্যান ভরে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রকৃত কৃষকরা যেন সঠিক তদারকির মাধ্যমে তাদের চাহিদামতো সার পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

    পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, এলাকায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। সারের কোনো কৃত্রিম সঙ্কট যেন তৈরি না হয় এবং ডিলাররা যাতে সঠিকভাবে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

    কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

  • যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যশোর শহর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শহরের ঈদগাহ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    মিছিলের আগে ঈদগাহ মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী।

    সমাবেশে বক্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও রেজাউল করিম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমরান হোসেন প্রমুখ।

  • খাগড়াছড়িতে নতুন জাতের ধানে সাফল্য

    খাগড়াছড়িতে নতুন জাতের ধানে সাফল্য

    খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো চাষ করেই আশানুরূপ ফলন দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আমন ধানের জাত ব্রি ধান-১০৩। পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী প্লটে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমন মৌসুমে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ফলন। এ সাফল্যের ফলে পাহাড়ি কৃষি অঞ্চলে জাতটির সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি ধান-১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষকেরা অংশ নেন।

    স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় কৃষক অমর মোহন চাকমার এক একর জমিতে চলতি আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়। ফসল কর্তনের পর ফলন পরিমাপ করে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ টন ধান উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়।

    মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওন।মীর ওবায়দুর রহমান শাওন বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়িতে কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী হিসেবে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষাতেই ফলন আশানুরূপ হয়েছে। এ জাতের ধান সরু এবং গাছ তুলনামূলক লম্বা। তবে গাছ লম্বা হলেও সহজে নুয়ে পড়ে না। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। আমন মৌসুমে এ ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের কাছে উচ্চফলনশীল এ জাতটি জনপ্রিয় করে তুলতে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফলন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মুক্তা চাকমা বলেন, এ বছর খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রদর্শনী প্লটে ব্রি ধান-১০৩-এর ভালো ফলন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এ জাতের ধানে তুলনামূলকভাবে রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম দেখা গেছে। এসব ইতিবাচক দিক বিবেচনায় আগামীতে খাগড়াছড়িতে জাতটির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, এ জাতের ধানগাছ তুলনামূলক লম্বা হওয়ায় ধানের পাশাপাশি কৃষকেরা খড় থেকেও বাড়তি সুবিধা পাবেন। ফলে ধান ও খড়—দুই দিক থেকেই কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রযুক্তি গ্রামের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমিতে আধুনিক উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ধানের জাত ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক পরীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এসব কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক, বীজ সংরক্ষণের ড্রামসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশা, ব্রি ধান-১০৩-এর এ সাফল্য খাগড়াছড়ির কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে। জাতটির ফলন ও কৃষি-পরিবেশগত উপযোগিতা আরও যাচাই করে বৃহত্তর পরিসরে চাষাবাদ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন হিজাবী পাঁচ মুসলিম নারী

    যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন হিজাবী পাঁচ মুসলিম নারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হিজাব পরা চারজন অঙ্গরাজ্য সিনেটর এবং একজন কংগ্রেস সদস্যের বিজয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম এতসংখ্যক হিজাব পরিহিত নারী একসঙ্গে নির্বাচিত হয়ে আইনসভায় যাচ্ছেন।

    মঙ্গলবারের এ নির্বাচনে এমন ফলাফলকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও হুমকি বেড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, রিপাবলিকান রাজনীতিক এবং অনলাইন ট্রলদের বিদ্রূপ ও অপমানের শিকার হয়েছেন এসব নারী। তাদের পোশাক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও নানা ধরনের আক্রমণ হয়েছে।

    গত সপ্তাহে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক) যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র ডানপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানিদাতাদের তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির আশঙ্কা ছিল, এসব তৎপরতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে, যা মুসলিম আমেরিকানদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    তবে ভোটারদের উপস্থিতির বিস্তারিত চিত্র এখনো পর্যালোচনাধীন। এর মধ্যেই তরুণ ও প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় বহনকারী কয়েকজন নারী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তাদের সবাই প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট।

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। তুলনামূলক রক্ষণশীল এই অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় হিজাব পরা প্রথম মুসলিম নারী ছিলেন তিনি। এবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান রোমান। ওই সময় ফিলিস্তিনপন্থি ডেমোক্র্যাটরা দলীয় সম্মেলনে একজন ফিলিস্তিনি বক্তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

    জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া দাদার নাতনি রোমানেরই ওই সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেই তিনি দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    নিউইয়র্কে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা

    নিউইয়র্কে আগামী জানুয়ারিতে স্টেট সিনেটে যোগ দিতে যাচ্ছেন আবের কাওয়াস। রোমানের মতো তিনিও একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাওয়াস বলেছিলেন, নিজের নতুন শহরে সম্মিলিত উদ্যোগ ও নাগরিক অংশগ্রহণকে মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করার একটি পথ হিসেবে দেখেন তিনি।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলমানদের ওপর কঠোর নজরদারি ও দমন-পীড়ন শুরু হয়। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় এফবিআইয়ের অভিযান, গ্রেপ্তার এবং মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো হয়। সে সময় কাওয়াসের বাবা ছিলেন বৈধ অভিবাসন নথিপত্রবিহীন। তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। প্রায় তিন বছর আটক রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়।

    এদিকে দিনের আলোয় জনসমক্ষে আইসিইর সহিংস গ্রেপ্তার অভিযান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পেছনে এসব অভিযানও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে মিডল ইস্ট আই। এই নির্বাচনি ফলাফলকে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটদের নীল ঢেউ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    ইলিনয়ে নাবিলা সৈয়দের জয়

    ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ২৭ বছর বয়সী স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নাবিলা সৈয়দ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জয়ী হন তিনি।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম নারী ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার একটি শূন্য আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের অবস্থান আরো সুসংহত করেছেন।

    স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং সমতা প্রতিষ্ঠাকে নিজের কাজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

    সম্প্রতি তাকে সমর্থন জানিয়েছে বৃহত্তর শিকাগো এলাকায় প্রচারিত ১৫০ বছরের পুরোনো সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি হেরাল্ড’ এবং প্রভাবশালী ‘শিকাগো ট্রিবিউন’।

    রোমান ও কাওয়াসের মতো নাবিলাও ইসরাইলের সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পরদিন ইলিনয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। ওই চিঠিতে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

    তবে সমালোচকেরা চিঠিটিকে হামাসের পক্ষে অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘লাখ লাখ ফিলিস্তিনি যখন মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, তখন আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। সহিংসতার মূল কারণ—অর্থাৎ অসমতা—দূর করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’

    কানেকটিকাটে সিনেটর হচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মরিয়ম খান

    কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি মরিয়ম খানও আগামী জানুয়ারিতে স্টেট সিনেটে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

    এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা ডেমোক্র্যাট দলের এক প্রভাবশালী প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন তিনি।

    পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মরিয়ম খান অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ শিক্ষাবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া বিচার বিভাগীয় ও শিক্ষা কমিটিতেও কাজ করেছেন তিনি।

    কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা বব ডাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মরিয়ম খানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাকে সাবেক বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক এবং শিশুদের অধিকার আদায়ে লড়াই করা একজন যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে নিজের ডেস্কে পাকিস্তানের পতাকা রাখায় রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মরিয়ম খান। উল্লেখ্য, যুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পথ তৈরিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।

    এ বিষয়ে ‘দ্য কানেকটিকাট মিরর’কে মরিয়ম খান বলেন, ‘নিজের ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত গর্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আমি পাকিস্তানের পতাকাটি রেখেছিলাম। এটিকে অনুপযুক্ত বা অবিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে দেখার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অংশীদার। নিজের শিকড় ও পটভূমিকে স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিংবা কানেকটিকাটের মানুষের সেবা করার ক্ষেত্রে আমার অঙ্গীকার কমে গেছে।’

  • দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

    দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

    ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ১৬টি শর্তে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘মেধাবৃত্তি’ ও ‘সাধারণ বৃত্তি’ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এ তালিকা প্রকাশ করে।

    রেজাল্ট দেখতে এখানে ক্লিক করুন……https://bmeb.gov.bd/pages/notices/6aec3df2617938be5902f35b

  • জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

    জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

    জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারীরা হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বিকেল ৩টায় উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

    এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখানে আসিনি। এসেছি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাজারে গিয়ে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যায়। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না।’

    জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশ চালাতে পারছেন না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুললে এবং আপনাদের ওপর আস্থা না থাকলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।’

    গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি অন্যায় নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বুঝলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতে হতো না, একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না।

    তিনি শ্রমিকদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং যথাসময়ে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগ না করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত এবং আতাউর রহমান সরকার।

    এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

    ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

    ভোলা সদর উপজেলা থেকে নদী পথে পাচারকালে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার তাদের না দিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভোলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সারগুলো একটি গুদামে রেখে সেটি সিলগালা করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল থেকে এসব সার আটক করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার রাতের আঁধারে একটি নসিমনে করে সার এনে দারোগার খালে আগে থেকে নোঙর করে রাখা একটি ট্রলারে বোঝাই করা হচ্ছিল। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকরা সেখানে গিয়ে সারের কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রলারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সারগুলো আটক করেন। আটক সারের মধ্যে ছিল ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি।

    ট্রলারের লোকজনের দাবি, তারা ভোলার এক স্থানীয় সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, অসাধু ডিলাররা সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি না করে অতিরিক্ত লাভের আশায় ভোলার বাইরে পাচার করছিল।

    বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি বলেন, বাস্তবে ভোলায় সারের সংকট নেই। অথচ আশ্চর্যের বিষয় ভোলার কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। ভোলা সদর উপজেলায় সার নিয়ে নৈরাজ্যের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান সরাসরি জড়িত। যে কৃষকের ৫০ বস্তা সার দরকার, তাকে সরকারি ভর্তুকির সারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় ১০ বস্তার। বাকি ৪০ বস্তা কৃষককে ডিলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়।

    শাহাবুদ্দীন ফরাজি আরও বলেন, এ অতিরিক্ত দামের ভাগ নিশ্চয়ই কৃষি কর্মকর্তা পান। এছাড়া যেসব কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কেনেন, ডিলাররা তাদেরই ভর্তুকির ভালো সার দেন, না হলে দেওয়া হয় নষ্ট সার। আটক ২৯০ বস্তা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এখানে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

    তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা সদর উপজেলা এবং বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটকের পর সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সার উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

    এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি জানান।একই সঙ্গে দল ছাড়ার কারণ ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজের আপত্তিগুলো তুলে ধরেন। জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামান্তা শারমিন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

    গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এনসিপির এই নেত্রীর পদাবনতি হয়েছে বলা যায়।

    পদত্যাগের কারণ জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোন ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।

    তিনি বলেন, গত ১১ মাস যাবত আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকান্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক- বিতর্ক বা আলাপ- আলোচনা করেছি।

    দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।

    জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক রাষ্টপ্রকল্প নয়।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা স্বভাবজাত কারণেই উদার, গণতান্ত্রিক, যারা সংস্কারের প্রকৃত শক্তি, তারা সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

    ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপির সুযোগ ছিল ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের ব্যর্থতা ইত্যাদির পরেও যারা এই পুরোনো ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চায় তাদের সাথে জোট করা অথবা একা হলেও একটা রাজনৈতিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই কাজটি করতে পারলে এখনকার ফলাফলের চেয়ে আরো ভালো ফলাফল পেতে পারতো এনসিপি।

    তিনি বলেন, কিন্তু এনসিপি ইতিহাসের এই শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি আর অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে।

    গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ও অধিকার প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিন বলেন, কিন্তু এনসিপি সেই পথ বেছে নেয়নি বরং দলটির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে গেছে। এর মধ্য দিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের অবনমন ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে আসার যে সম্ভাবনা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করেছিল, তা ধারণ করতে চায়নি। বরং পুরোনো দলগুলোর মতোই নারীদের কোণঠাসা করেছে, তাঁদের প্রতিবাদকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সামান্তা শারমিন বলেন, দলের কাউন্সিল না করে পুনরায় আহবায়ক কমিটি ‘রিস্ট্রাকচার’ দলের অভ্যন্তরের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যেই প্রবণতা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আছে। বিরোধীমতকে দমন করার পুরোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে এনসিপি।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আজ নানা বিভাজনের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করা, যা মানুষকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করাবে না; বরং ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন পরিচয় সত্ত্বেও একটি অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার জায়গায় ঐক্যবদ্ধ করবে।

    বিবৃতির শেষাংশে সামান্তা শারমিন বলেন, আমি এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, কাজ করতে অংগীকারাবদ্ধ যারা আমার সাথে এবিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে চান সকলকে আহবান করছি, যোগাযোগ করুন। আমি আপনাদেরকে সাথে নিয়েই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।

  • এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন কোনোভাবেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    তিনি বলেন, ‘এআই মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে পুরো সভ্যতা সংকটে পড়বে। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও কল্যাণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ব মহা পরিবর্তনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল অনুসঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বে আগামী দিনে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে তা নির্ধারণ করবে এআই।

    এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করলে পুরো সভ্যতা সংকটে পড়বে। ’

    তরুণরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান সৈনিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

    এ সময় এআইকে ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য সৃষ্টি ও বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

  • এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরো ৩৭৬ শিক্ষক

    এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরো ৩৭৬ শিক্ষক

    বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কমিটি। তাদের মধ্যে স্কুলের ২৭২ জন এবং কলেজের ১০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নভেম্বর মাসের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদাধিকার বলে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মাউশি অধিদপ্তরের নয়জন করে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালক অংশ নেন।

    সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্কুলের ২৭২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ১৭, চট্টগ্রামের ৫, কুমিল্লার ৮, ঢাকার ৪০, খুলনার ১৪, ময়মনসিংহের ৩৩, রাজশাহীর ৭৫, রংপুরের ৭৭ এবং সিলেটের ৩ জন।

    কলেজের ১০৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৫, চট্টগ্রামের ৩, কুমিল্লার ২, ঢাকার ৪০, খুলনার ১৪, ময়মনসিংহের ২, রাজশাহীর ৩৪, রংপুরের ১৩ এবং সিলেটের ২ জন রয়েছেন।এছাড়াও বিএড স্কেল দেয়া হচ্ছে এক হাজার ৫৯৪ জনকে এবং উচ্চতর স্কেল দেয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার ৪৭৪ জনকে।

  • কুষ্টিয়ার সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি স্টেশনের উন্নয়ন নেই

    কুষ্টিয়ার সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি স্টেশনের উন্নয়ন নেই

    শিয়ালদহ থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত দেশে প্রথম রেল লাইন চালু হয় ১৮৬২ সালে। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি রেলওয়ে ষ্টেশন। পুরাতন স্টেশন হিসাবে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এ স্টেশনের। সংস্কার না থাকায় এ স্টেশনের পুরাতন বিল্ডিংগুলো ধ্বসে ধ্বসে পড়ছে। সরকারীজায়গাগুলোও বেহাত হতে বসেছে।

    সূত্রমতে, জগতি রেল স্টেশনটি ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়। ১৮৬২ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে চালু করে শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট পর্যন্ত রেললাইন। সেটি বাড়িয়ে আনা হয় আজকের কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর, ঐতিহাসিক সেই দিনে আজকের বাংলাদেশের মাটিতে ঢুকে পড়ে প্রথম রেলগাড়ি। কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ছুটে আসা ট্রেনের গন্তব্য ছিল কুষ্টিয়ার ‘জগতি রেলস্টেশন’। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তৎকালীন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রেলের যাত্রা। যা পরে যোগাযোগব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। তাই বলা হয়—কুষ্টিয়ার জগতি রেল স্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেল স্টেশন।

    সেই সময়ে রেলের ইঞ্জিন চলত কয়লা পুড়িয়ে। ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে হুইসেল দিতে দিতে ট্রেন ঢুকত স্টেশনে। ব্রিটিশরা জগতিতে তৈরি করেছিল লাল ইটের দোতলা স্টেশন ভবন, ওয়েটিং রুম, পানির ট্যাংক, টিকিট ঘর, সিগন্যাল ল্যাম্প।

    ওই সময় প্রথম স্টেশন হওয়ার জন্য এখানেই সকল লোকজনের উঠা নামার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত ছিল। লোক সমাগমের কারণেই জগতি বাণিজ্যিকভাবে আমদানী রপ্তানীর কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। স্টেশনটি ইঞ্জিলের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল ছিল। স্টেশনের দুইপাশে দুটি বড় ইন্দারা আজও আছে। লোকজনের ভীড় সামাল দিতে এক সময়ে এখানে ২৬জন রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ৩জন রয়েছে। লোকবলের অভাবে এখন স্টেশনের কার্যক্রমও ভেঙে পড়েছে। যাত্রীরা বিভিন্নভাবে হয়রানী শিকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় স্টেশনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রেনের যাত্রীরা সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এ ষ্টেশনে আর কেউ যায় না বললেই চলে। স্টেশনটির সংস্কার জরুরী।

    এখন জগতি স্টেশন যেন পড়ে আছে ইতিহাসের খাতার বাতিল পৃষ্ঠা হয়ে। চারপাশে নিঃশব্দ, প্ল্যাটফর্ম ভাঙা, ভবনে ফাটল। আর আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ভগ্নপ্রায় সেই স্টেশন ভবনে। কুলির হাঁকডাকও নেই। নেই ট্রেনের হুইসেল। রাত নামলেই যেন এক ভুতুড়ে জায়গা।

    এই রেলপথের সুফল হিসেবে ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়ায় গড়ে ওঠে তখনকার এশিয়ার সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল মিল- মোহিনী মিল। ট্রেন ছাড়া এত বড় মিলের কাঁচামাল আনা বা পণ্য পাঠানো সম্ভবই হতো না। পাকিস্তান আমলেও কুষ্টিয়ায় তৈরি হয় চিনিকল। যেখানে আখ পৌঁছাত এই রেলপথ দিয়েই।

    যাতায়াতের জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা রায়টা ঘাট রেল লাইন। সংস্কারের অভাবে স্টেশনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

    অপরদিকে পুরাতন লাইন রায়টা। ব্রিটিশ শাসনামলে এ লাইন নির্মিত হয়। ১৯১৬ সালে এ লাইন স্থাপন করা হয়। রায়টা-দামুকদিয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন রায়টা ট্রেন নামেই নামকরণও হয়। তিন দশক আগেও এ লাইনটি বেশ জম-জমাট ছিল। কিন্তু লোকসান দেখিয়ে ওই রেল লাইনটি বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ লাইন বন্ধ হওয়ায় এলাকার জনসাধারণের জীব-যাত্রার মান অনেকটাই থমকে গেছে।

    উনবিংশ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রেল কোম্পানি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে ছোট ছোট রেলপথ সেকশন চালু করতে থাকে। প্রথমদিকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামক কোম্পানি প্রথম বাংলাদেশে রেলপথ স্থাপন করে।

    ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কোলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত ব্রডগেজ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এবং রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চালু করে। গোয়ালন্দ পর্যন্ত সেকশনটি চালু হয় ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৯ সালে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার জন্য সাড়া থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সেকশনটি নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে মিটারগেজে (৩ ফুট ৩.৩৮ ইঞ্চি) চালু করে। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর এবং পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিও এই কোম্পানি চালু করে। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে আসে এবং ১ এপ্রিল ১৮৮৭ সালে তা নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের সাথে একীভূত হয়।

    ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজসহ ভেড়ামারা শাকোলে সেকশন চালু হয়। ১৯১৪ সালে শাকোলে থেকে সান্তাহার পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয় এবং ১৯২৪ সালে সান্তাহার থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ৯৬ কিলোমিটার সেকশনটিকে মিটরগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯২৬ সালে পার্বতীপুর থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়।

    ১৯১৬ সালে ভেড়ামারা রায়টা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। ১৯২৮–২৯ সালে তিস্তা হতে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ন্যারোগেজ সেকশনটিকে মিটারগেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৩০ সালে আব্দুলপুর–আমনুরা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। বাহাদুরাবাদ–জামালপুর টাউন মিটারগেজ সেকশনটি চালু হয় ১৯৪১ সালে।

    ১৮৯৭ সালে দর্শনা পোড়াদহ সেকশনটি সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। পর্যায়ক্রমে ১৯০৯ সালে পোড়াদহ ভেড়ামারা, ১৯১৫ সালে ভেড়ামারা ঈশ্বরদী এবং ১৯৩২ সালে ঈশ্বরদী আব্দুলপুর সেকশনগুলোকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। সংস্কারের অভাবে এসব লাইনের বেহাল দশা।

    দেখা যায়, জগতি রেল স্টেশনটি যেন এক ভুতের আড্ডা। স্টেশন মাস্টার তো দূরের কথা সেখানে গার্ড কিংবা টিকিট কাউন্টারও নেই। নেই যাত্রীদের বসার কোনো স্থান। প্ল্যাটফর্মে জন্মেছে গাছ ও লতাপাতা। অফিস রুমে নেই কোনো জানালা, দরজা থাকলেও তালা দেওয়া। রয়েছে ট্রেনের সিডিউল বোর্ড যা সর্বশেষ ২০০৯ সালের। দ্বিতল ভবনের অফিসের ছাদ থেকে কংক্রিটের সঙ্গে খসে পড়েছে লোহাও। দেয়ালের চারিদিকে ধরেছে ফাটল। কক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলো। প্রথমতলায় প্রায় সব কিছু লুটপাট হয়েছে। দ্বিতীয়তলার জানালা থেকে বের হওয়া বটগাছ ও আগাছাগুলো বলে দেয় এর অবহেলার চিত্র। একসময় বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের পানি নেওয়ার জন্য জগতির যে দীঘি ও পানির ট্যাংক ব্যবহার হতো সেই দীঘি ও ট্যাংকগুলোর অবস্থা আরও নাজুক।

    বয়সের ভারে ন্যুব্জ ভগ্নপ্রায় ‘জগতি রেলস্টেশন’-এর লাল ইটের তৈরি দ্বিতল ভবনটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। লাল ইটের দালান এখন মলিন। আশপাশ শ্যাওলা, ময়লা জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনে ফাটল ধরায় উপরতলাতে কেউ যায়নি বহু বছর। অনেক দিন আগে যাত্রীদের সুবিধার জন্য তৈরি করা ওয়েটিং রুমও ভেঙে গেছে। প্ল্যাটফর্মের ইটও ভেঙে গেছে। ক্ষয়ে গেছে গাঁথুনিও। কক্ষের ভেতরের যন্ত্রাংশ সবই বিকল। এগুলোর কোনো ব্যবহার ও সংস্কার কিছুই নেই।

    ব্রিটিশরা ওই সময় সরকারি স্থাপনাগুলোতে লাল রং ব্যবহার করত। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ব্রিটিশরা চলে গেছে বহু আগে, পাকিস্তানিরাও। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সময়েও এ রঙের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এমন অনেক ভবন বাংলাদেশ-ভারতে দেখা যায় যেগুলোতে আজও লাল রং বিদ্যমান।

    পরে ঢাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি জগতি স্টেশন থেকে বর্তমান রাজবাড়ী জেলার পদ্মা তীরবর্তী গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত রেললাইন চালু হয়।

    দেশের রেললাইনের উন্নয়ন নেই জগতি রেলওয়ে স্টেশনের। তাই পূরাতন ঐতিহ্যবাহী এ রেল স্টেশন উন্নয়নের জোরদাবী জানিয়েছেন যাত্রী ও এলাকার সুশীল সমাজ।

In English

English edition · Older English stories