BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • অঙ্গ হারানো হাজার হাজার  ফিলিস্তিনি শিশুকে বিদেশে যেতে বাধা

    অঙ্গ হারানো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশুকে বিদেশে যেতে বাধা

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অঙ্গহারা শিশুদের বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর।

    সংস্থাটির দাবি, ভ্রমণের ওপর ইসরাইলের বিধিনিষেধের কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিশু।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ১৩৪টি শিশু হাত-পা হারিয়েছে। তবে এসব শিশুর মধ্যে খুব কমসংখ্যকই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পাচ্ছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গাজায় ২ হাজার ৩০০ জন অঙ্গহারা ব্যক্তি, যাদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন, চিকিৎসার জন্য মূল্যায়নের আওতায় এসেছেন।

    কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন। অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষ এই সুবিধা পেয়েছেন।

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সনদধারী বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র আটজন।

    সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।

    সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত শিক্ষা থেকে শিশুদের বঞ্চিত করার ধারাবাহিকতা তাদের বর্তমান শারীরিক ক্ষতিকে আজীবনের বঞ্চনায় পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।’

    চিকিৎসার ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের অভাব এবং শিশুদের বয়স ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম অঙ্গ পরিবর্তন না করায় নতুন জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং চলাফেরায় আরও বেশি অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

    চিকিৎসা পাচ্ছে না অঙ্গহারা শিশুরা

    ফিদা আহমেদ আল-শায়ের (৩৬) নামের এক নারী মানবাধিকার সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া একটি গোলা তার ১১ বছর বয়সি ছেলের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং একটি হাত হারায়।

    ওই শিশুর বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্ত পারাপারের পথগুলো বন্ধ থাকায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    এ ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর। সংস্থাটি বলেছে, ‘কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শারীরিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করা গণহত্যা সনদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।’

    সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘শিশুদের অঙ্গচ্ছেদ এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার ঘটনাও এই ধারাবাহিকতার অংশ।’

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের অভিযোগ, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতেও বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এ ছাড়া বিশেষায়িত চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

  • মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন বাংলাদেশী মেয়ে

    মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন বাংলাদেশী মেয়ে

    বিয়ের পর দীর্ঘ বছর দেখা না হলেও মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বাবার মুখ দেখলেন মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন।

    ৪৫ বছর আগে বিয়ের পর পর কয়েকবার দেখা হয়েছে। তারপর আর মা-বাবা ও মেয়ের কেউ কারোর মুখ দেখেনি। জীবিত বাবার অথবা মেয়ের মুখটি শেষবারের মতো দেখার সুযোগও হয়নি তাদের। দুই দেশের সীমান্তের কাঁটাতার আটকে রেখেছিল বাবা-মেয়ের দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সময়ের সাথে দীর্ঘ হয়েছে দেখাদেখির অপেক্ষা।

    অবশেষে বাবার মৃত্যুর পর সেই অপেক্ষার অবসান হলো। তবে দেখা হলো না ঘরের আঙিনায়, হলো দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায়। সেখানে বাবার নিথর মুখ দেখে দীর্ঘদিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা কিছুটা হলেও মেটালেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের স্বামী ইসরাফিলের স্ত্রী মোছা: ফেরদৌসী খাতুন।

    ফেরদৌসী খাতুনের বাবার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। আর স্বামীর বাড়ি এ দেশের সীমান্তবর্তী মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামে। চাপড়া ও সোনাপুর দুই দেশের দুই গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল দুই দেশের সীমান্ত। সেই সীমান্তের কারণে দীর্ঘদিন দেখা করা সম্ভব হয়নি। যখন তাদের বিয়ে হয়, তখন সীমান্তে এমন কড়াকড়ি ছিল না। ছিল না কাঁটা তারের বেড়া। তখন দুই বাংলার ছেলে মেয়েদের মধ্যে হরহামেশাই বিয়ে হতো।

    বাবা বৃদ্ধ মনোরঞ্জন শেখের শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর হলেও মেয়ে যেন তার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে। জীবদ্দশায় যে দেখা হয়ে ওঠেনি, অন্তত মৃত্যুর পর সেই সুযোগটুকু যেন মেয়ে পায়। অবশেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে পূরণ হলো বাবার সেই শেষ ইচ্ছা।

    ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মনোরঞ্জন শেখ।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তার লাশ নিয়ে আসা হয় মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায়। সেখানে বাবার শেষ মুখ দেখেন মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন। তার সাথে ছিলেন স্বামী ইসরাফিল, ছেলে মেয়ে ও নিকটাত্মীয়রা।

    দুই দেশের সীমান্তের মাঝখানে বাবার নিথর মুখ। জীবিত অবস্থায় যে মুখ দেখার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে, সেই মুখই শেষবারের মতো দেখলেন ফেরদৌসী। বাবা-মেয়ের দেখা হলো ঠিকই, কিন্তু সেই দেখা আর কোনো কথার, কোনো সাড়ার কিংবা ফিরে পাওয়ার নয়। সীমান্তের শূন্যরেখায় এটিই হয়ে রইল তাদের শেষ দেখা।

    এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েব সুবেদার এনায়েত হোসেন এবং ভারতের পক্ষে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এএসআই নিলয় কুমারসহ দুই দেশের মোট ১০ জন সীমান্তরক্ষী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া কে এই হাকিম জেফ্রিস

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া কে এই হাকিম জেফ্রিস

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দেশটির আইনসভার নিম্নকক্ষের ৪৩৫ সদস্যের নেতৃত্ব দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

    মার্কিন সংবিধানে পদমর্যাদার দিক থেকে প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্রমানুসারে ভাইস প্রেসিডেন্টের ঠিক পরেই স্পিকারের অবস্থান। প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে স্পিকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন কোন বিলটি ভোটের জন্য ফ্লোরে উত্থাপিত হবে এবং কোনটি শুরুতেই আটকে দেওয়া হবে। নিউ ইয়র্কের অষ্টম কংগ্রেশনাল আসনে নিজের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক বিজয় ভাষণে হাকিম জেফ্রিস ঘোষণা করেন, ‘আজ থেকে আমেরিকার মহান প্রত্যাবর্তন শুরু হলো। আমেরিকান জনগণ তাদের রায় দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা চরমপন্থা ও দুর্নীতি আর সহ্য করবে না; তারা এমন এক কংগ্রেস চায় যা সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করবে।’

    আইনজীবী থেকে ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে

    রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সম্পৃক্ত হওয়ার আগে হাকিম জেফ্রিস একজন করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে নিজের প্রজ্ঞা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থায় চলে আসেন।

    বিশেষ করে ২০২০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। সে সময় সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে ধরার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে তৎকালীন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তরুণ এই নেতাকেই বেছে নিয়েছিলেন। সেই লড়াই থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।

    সাধারণ মানুষের অর্থনীতি ও ট্রাম্পকে কড়া জবাব

    ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, জেফ্রিসের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক দাবিগুলোকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিমালার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা। মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নিত্যপণ্যের লাগাম টানা এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে তিনি শুরু থেকেই সোচ্চার।

    অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবির ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণেও তিনি সুপরিচিত। অতীতে ট্রাম্প যখন তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করেছিলেন, তখন পাল্টা জবাবে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করে জেফ্রিস বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসা ট্রাম্প হচ্ছেন সবচেয়ে নির্বোধ ব্যক্তি—একজন দুর্বল, বেসামাল, ব্যর্থ ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো প্রবীণ প্রেসিডেন্ট।

    সামনে কঠিন পরীক্ষা ও সমঝোতার চ্যালেঞ্জ

    স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাকিম জেফ্রিসের সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে ঘোষণা করায় ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ থেকে পাস হওয়া যেকোনো জনকল্যাণমুখী বিলে প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

    তবে জেফ্রিস প্রয়োজনে সমঝোতার পথও খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব এবং সে কারণে প্রয়োজন হলে বিরোধী পক্ষের সাথে আলোচনাতেও বসতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু হোয়াইট হাউস ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই দলমত নির্বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা এবং একই সঙ্গে নবনির্বাচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রত্যাশাগুলোকে বাস্তবতার নিরিখে সংযত রাখাই হবে নতুন এই কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।

  • নলডাঙ্গায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ

    নলডাঙ্গায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ

    নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়া এবং বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষকদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নলডাঙ্গা পৌরসভার মেসার্স শ্যামসুন্দর আগারওয়ালার দোকানে সার বিতরণের সময় এই অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা তুঙ্গে। অথচ ডিলারের দোকানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এবং অনিয়মের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাননি, ফলে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।

    কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে পেছনের পথ দিয়ে বা টোকেনের মাধ্যমে লাইনের আগে গিয়ে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। টোকেন থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত কৃষকরা সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, অথচ অনেকে চাষাবাদ না করেও ভ্যান ভরে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রকৃত কৃষকরা যেন সঠিক তদারকির মাধ্যমে তাদের চাহিদামতো সার পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

    পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, এলাকায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। সারের কোনো কৃত্রিম সঙ্কট যেন তৈরি না হয় এবং ডিলাররা যাতে সঠিকভাবে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

    কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

  • যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যশোর শহর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শহরের ঈদগাহ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    মিছিলের আগে ঈদগাহ মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী।

    সমাবেশে বক্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও রেজাউল করিম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমরান হোসেন প্রমুখ।

  • খাগড়াছড়িতে নতুন জাতের ধানে সাফল্য

    খাগড়াছড়িতে নতুন জাতের ধানে সাফল্য

    খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো চাষ করেই আশানুরূপ ফলন দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আমন ধানের জাত ব্রি ধান-১০৩। পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী প্লটে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমন মৌসুমে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ফলন। এ সাফল্যের ফলে পাহাড়ি কৃষি অঞ্চলে জাতটির সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি ধান-১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষকেরা অংশ নেন।

    স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় কৃষক অমর মোহন চাকমার এক একর জমিতে চলতি আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়। ফসল কর্তনের পর ফলন পরিমাপ করে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ টন ধান উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়।

    মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওন।মীর ওবায়দুর রহমান শাওন বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়িতে কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী হিসেবে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষাতেই ফলন আশানুরূপ হয়েছে। এ জাতের ধান সরু এবং গাছ তুলনামূলক লম্বা। তবে গাছ লম্বা হলেও সহজে নুয়ে পড়ে না। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। আমন মৌসুমে এ ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের কাছে উচ্চফলনশীল এ জাতটি জনপ্রিয় করে তুলতে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফলন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মুক্তা চাকমা বলেন, এ বছর খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রদর্শনী প্লটে ব্রি ধান-১০৩-এর ভালো ফলন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এ জাতের ধানে তুলনামূলকভাবে রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম দেখা গেছে। এসব ইতিবাচক দিক বিবেচনায় আগামীতে খাগড়াছড়িতে জাতটির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, এ জাতের ধানগাছ তুলনামূলক লম্বা হওয়ায় ধানের পাশাপাশি কৃষকেরা খড় থেকেও বাড়তি সুবিধা পাবেন। ফলে ধান ও খড়—দুই দিক থেকেই কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রযুক্তি গ্রামের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমিতে আধুনিক উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ধানের জাত ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক পরীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এসব কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক, বীজ সংরক্ষণের ড্রামসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশা, ব্রি ধান-১০৩-এর এ সাফল্য খাগড়াছড়ির কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে। জাতটির ফলন ও কৃষি-পরিবেশগত উপযোগিতা আরও যাচাই করে বৃহত্তর পরিসরে চাষাবাদ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন হিজাবী পাঁচ মুসলিম নারী

    যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন হিজাবী পাঁচ মুসলিম নারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হিজাব পরা চারজন অঙ্গরাজ্য সিনেটর এবং একজন কংগ্রেস সদস্যের বিজয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম এতসংখ্যক হিজাব পরিহিত নারী একসঙ্গে নির্বাচিত হয়ে আইনসভায় যাচ্ছেন।

    মঙ্গলবারের এ নির্বাচনে এমন ফলাফলকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও হুমকি বেড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, রিপাবলিকান রাজনীতিক এবং অনলাইন ট্রলদের বিদ্রূপ ও অপমানের শিকার হয়েছেন এসব নারী। তাদের পোশাক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও নানা ধরনের আক্রমণ হয়েছে।

    গত সপ্তাহে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক) যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র ডানপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানিদাতাদের তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির আশঙ্কা ছিল, এসব তৎপরতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে, যা মুসলিম আমেরিকানদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    তবে ভোটারদের উপস্থিতির বিস্তারিত চিত্র এখনো পর্যালোচনাধীন। এর মধ্যেই তরুণ ও প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় বহনকারী কয়েকজন নারী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তাদের সবাই প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট।

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। তুলনামূলক রক্ষণশীল এই অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় হিজাব পরা প্রথম মুসলিম নারী ছিলেন তিনি। এবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান রোমান। ওই সময় ফিলিস্তিনপন্থি ডেমোক্র্যাটরা দলীয় সম্মেলনে একজন ফিলিস্তিনি বক্তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

    জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া দাদার নাতনি রোমানেরই ওই সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেই তিনি দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    নিউইয়র্কে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা

    নিউইয়র্কে আগামী জানুয়ারিতে স্টেট সিনেটে যোগ দিতে যাচ্ছেন আবের কাওয়াস। রোমানের মতো তিনিও একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাওয়াস বলেছিলেন, নিজের নতুন শহরে সম্মিলিত উদ্যোগ ও নাগরিক অংশগ্রহণকে মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করার একটি পথ হিসেবে দেখেন তিনি।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলমানদের ওপর কঠোর নজরদারি ও দমন-পীড়ন শুরু হয়। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় এফবিআইয়ের অভিযান, গ্রেপ্তার এবং মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো হয়। সে সময় কাওয়াসের বাবা ছিলেন বৈধ অভিবাসন নথিপত্রবিহীন। তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। প্রায় তিন বছর আটক রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়।

    এদিকে দিনের আলোয় জনসমক্ষে আইসিইর সহিংস গ্রেপ্তার অভিযান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পেছনে এসব অভিযানও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে মিডল ইস্ট আই। এই নির্বাচনি ফলাফলকে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটদের নীল ঢেউ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    ইলিনয়ে নাবিলা সৈয়দের জয়

    ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ২৭ বছর বয়সী স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নাবিলা সৈয়দ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জয়ী হন তিনি।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম নারী ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার একটি শূন্য আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের অবস্থান আরো সুসংহত করেছেন।

    স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং সমতা প্রতিষ্ঠাকে নিজের কাজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

    সম্প্রতি তাকে সমর্থন জানিয়েছে বৃহত্তর শিকাগো এলাকায় প্রচারিত ১৫০ বছরের পুরোনো সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি হেরাল্ড’ এবং প্রভাবশালী ‘শিকাগো ট্রিবিউন’।

    রোমান ও কাওয়াসের মতো নাবিলাও ইসরাইলের সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পরদিন ইলিনয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। ওই চিঠিতে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

    তবে সমালোচকেরা চিঠিটিকে হামাসের পক্ষে অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘লাখ লাখ ফিলিস্তিনি যখন মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, তখন আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। সহিংসতার মূল কারণ—অর্থাৎ অসমতা—দূর করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’

    কানেকটিকাটে সিনেটর হচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মরিয়ম খান

    কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি মরিয়ম খানও আগামী জানুয়ারিতে স্টেট সিনেটে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

    এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা ডেমোক্র্যাট দলের এক প্রভাবশালী প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন তিনি।

    পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মরিয়ম খান অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ শিক্ষাবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া বিচার বিভাগীয় ও শিক্ষা কমিটিতেও কাজ করেছেন তিনি।

    কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা বব ডাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মরিয়ম খানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাকে সাবেক বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক এবং শিশুদের অধিকার আদায়ে লড়াই করা একজন যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে নিজের ডেস্কে পাকিস্তানের পতাকা রাখায় রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মরিয়ম খান। উল্লেখ্য, যুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পথ তৈরিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।

    এ বিষয়ে ‘দ্য কানেকটিকাট মিরর’কে মরিয়ম খান বলেন, ‘নিজের ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত গর্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আমি পাকিস্তানের পতাকাটি রেখেছিলাম। এটিকে অনুপযুক্ত বা অবিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে দেখার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অংশীদার। নিজের শিকড় ও পটভূমিকে স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিংবা কানেকটিকাটের মানুষের সেবা করার ক্ষেত্রে আমার অঙ্গীকার কমে গেছে।’

  • দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

    দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

    ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ১৬টি শর্তে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘মেধাবৃত্তি’ ও ‘সাধারণ বৃত্তি’ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এ তালিকা প্রকাশ করে।

    রেজাল্ট দেখতে এখানে ক্লিক করুন……https://bmeb.gov.bd/pages/notices/6aec3df2617938be5902f35b

  • জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

    জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

    জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারীরা হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বিকেল ৩টায় উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

    এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখানে আসিনি। এসেছি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাজারে গিয়ে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যায়। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না।’

    জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশ চালাতে পারছেন না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুললে এবং আপনাদের ওপর আস্থা না থাকলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।’

    গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি অন্যায় নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বুঝলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতে হতো না, একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না।

    তিনি শ্রমিকদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং যথাসময়ে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগ না করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত এবং আতাউর রহমান সরকার।

    এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

    ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

    ভোলা সদর উপজেলা থেকে নদী পথে পাচারকালে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার তাদের না দিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভোলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) সারগুলো একটি গুদামে রেখে সেটি সিলগালা করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল থেকে এসব সার আটক করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার রাতের আঁধারে একটি নসিমনে করে সার এনে দারোগার খালে আগে থেকে নোঙর করে রাখা একটি ট্রলারে বোঝাই করা হচ্ছিল। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকরা সেখানে গিয়ে সারের কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রলারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সারগুলো আটক করেন। আটক সারের মধ্যে ছিল ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি।

    ট্রলারের লোকজনের দাবি, তারা ভোলার এক স্থানীয় সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, অসাধু ডিলাররা সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি না করে অতিরিক্ত লাভের আশায় ভোলার বাইরে পাচার করছিল।

    বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি বলেন, বাস্তবে ভোলায় সারের সংকট নেই। অথচ আশ্চর্যের বিষয় ভোলার কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। ভোলা সদর উপজেলায় সার নিয়ে নৈরাজ্যের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান সরাসরি জড়িত। যে কৃষকের ৫০ বস্তা সার দরকার, তাকে সরকারি ভর্তুকির সারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় ১০ বস্তার। বাকি ৪০ বস্তা কৃষককে ডিলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়।

    শাহাবুদ্দীন ফরাজি আরও বলেন, এ অতিরিক্ত দামের ভাগ নিশ্চয়ই কৃষি কর্মকর্তা পান। এছাড়া যেসব কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কেনেন, ডিলাররা তাদেরই ভর্তুকির ভালো সার দেন, না হলে দেওয়া হয় নষ্ট সার। আটক ২৯০ বস্তা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এখানে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

    তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা সদর উপজেলা এবং বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটকের পর সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সার উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

    এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি জানান।একই সঙ্গে দল ছাড়ার কারণ ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজের আপত্তিগুলো তুলে ধরেন। জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামান্তা শারমিন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

    গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এনসিপির এই নেত্রীর পদাবনতি হয়েছে বলা যায়।

    পদত্যাগের কারণ জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোন ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।

    তিনি বলেন, গত ১১ মাস যাবত আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকান্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক- বিতর্ক বা আলাপ- আলোচনা করেছি।

    দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।

    জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক রাষ্টপ্রকল্প নয়।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা স্বভাবজাত কারণেই উদার, গণতান্ত্রিক, যারা সংস্কারের প্রকৃত শক্তি, তারা সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

    ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপির সুযোগ ছিল ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের ব্যর্থতা ইত্যাদির পরেও যারা এই পুরোনো ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চায় তাদের সাথে জোট করা অথবা একা হলেও একটা রাজনৈতিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই কাজটি করতে পারলে এখনকার ফলাফলের চেয়ে আরো ভালো ফলাফল পেতে পারতো এনসিপি।

    তিনি বলেন, কিন্তু এনসিপি ইতিহাসের এই শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি আর অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে।

    গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ও অধিকার প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিন বলেন, কিন্তু এনসিপি সেই পথ বেছে নেয়নি বরং দলটির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে গেছে। এর মধ্য দিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের অবনমন ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে আসার যে সম্ভাবনা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করেছিল, তা ধারণ করতে চায়নি। বরং পুরোনো দলগুলোর মতোই নারীদের কোণঠাসা করেছে, তাঁদের প্রতিবাদকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সামান্তা শারমিন বলেন, দলের কাউন্সিল না করে পুনরায় আহবায়ক কমিটি ‘রিস্ট্রাকচার’ দলের অভ্যন্তরের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যেই প্রবণতা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আছে। বিরোধীমতকে দমন করার পুরোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে এনসিপি।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আজ নানা বিভাজনের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করা, যা মানুষকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করাবে না; বরং ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন পরিচয় সত্ত্বেও একটি অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার জায়গায় ঐক্যবদ্ধ করবে।

    বিবৃতির শেষাংশে সামান্তা শারমিন বলেন, আমি এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, কাজ করতে অংগীকারাবদ্ধ যারা আমার সাথে এবিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে চান সকলকে আহবান করছি, যোগাযোগ করুন। আমি আপনাদেরকে সাথে নিয়েই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।

  • এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন কোনোভাবেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    তিনি বলেন, ‘এআই মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে পুরো সভ্যতা সংকটে পড়বে। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও কল্যাণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ব মহা পরিবর্তনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল অনুসঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বে আগামী দিনে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে তা নির্ধারণ করবে এআই।

    এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করলে পুরো সভ্যতা সংকটে পড়বে। ’

    তরুণরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান সৈনিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

    এ সময় এআইকে ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য সৃষ্টি ও বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

  • এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরো ৩৭৬ শিক্ষক

    এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরো ৩৭৬ শিক্ষক

    বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কমিটি। তাদের মধ্যে স্কুলের ২৭২ জন এবং কলেজের ১০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নভেম্বর মাসের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদাধিকার বলে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মাউশি অধিদপ্তরের নয়জন করে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালক অংশ নেন।

    সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্কুলের ২৭২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ১৭, চট্টগ্রামের ৫, কুমিল্লার ৮, ঢাকার ৪০, খুলনার ১৪, ময়মনসিংহের ৩৩, রাজশাহীর ৭৫, রংপুরের ৭৭ এবং সিলেটের ৩ জন।

    কলেজের ১০৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৫, চট্টগ্রামের ৩, কুমিল্লার ২, ঢাকার ৪০, খুলনার ১৪, ময়মনসিংহের ২, রাজশাহীর ৩৪, রংপুরের ১৩ এবং সিলেটের ২ জন রয়েছেন।এছাড়াও বিএড স্কেল দেয়া হচ্ছে এক হাজার ৫৯৪ জনকে এবং উচ্চতর স্কেল দেয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার ৪৭৪ জনকে।

  • কুষ্টিয়ার সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি স্টেশনের উন্নয়ন নেই

    কুষ্টিয়ার সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি স্টেশনের উন্নয়ন নেই

    শিয়ালদহ থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত দেশে প্রথম রেল লাইন চালু হয় ১৮৬২ সালে। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি রেলওয়ে ষ্টেশন। পুরাতন স্টেশন হিসাবে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এ স্টেশনের। সংস্কার না থাকায় এ স্টেশনের পুরাতন বিল্ডিংগুলো ধ্বসে ধ্বসে পড়ছে। সরকারীজায়গাগুলোও বেহাত হতে বসেছে।

    সূত্রমতে, জগতি রেল স্টেশনটি ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়। ১৮৬২ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে চালু করে শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট পর্যন্ত রেললাইন। সেটি বাড়িয়ে আনা হয় আজকের কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর, ঐতিহাসিক সেই দিনে আজকের বাংলাদেশের মাটিতে ঢুকে পড়ে প্রথম রেলগাড়ি। কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ছুটে আসা ট্রেনের গন্তব্য ছিল কুষ্টিয়ার ‘জগতি রেলস্টেশন’। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তৎকালীন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রেলের যাত্রা। যা পরে যোগাযোগব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। তাই বলা হয়—কুষ্টিয়ার জগতি রেল স্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেল স্টেশন।

    সেই সময়ে রেলের ইঞ্জিন চলত কয়লা পুড়িয়ে। ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে হুইসেল দিতে দিতে ট্রেন ঢুকত স্টেশনে। ব্রিটিশরা জগতিতে তৈরি করেছিল লাল ইটের দোতলা স্টেশন ভবন, ওয়েটিং রুম, পানির ট্যাংক, টিকিট ঘর, সিগন্যাল ল্যাম্প।

    ওই সময় প্রথম স্টেশন হওয়ার জন্য এখানেই সকল লোকজনের উঠা নামার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত ছিল। লোক সমাগমের কারণেই জগতি বাণিজ্যিকভাবে আমদানী রপ্তানীর কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। স্টেশনটি ইঞ্জিলের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল ছিল। স্টেশনের দুইপাশে দুটি বড় ইন্দারা আজও আছে। লোকজনের ভীড় সামাল দিতে এক সময়ে এখানে ২৬জন রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ৩জন রয়েছে। লোকবলের অভাবে এখন স্টেশনের কার্যক্রমও ভেঙে পড়েছে। যাত্রীরা বিভিন্নভাবে হয়রানী শিকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় স্টেশনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রেনের যাত্রীরা সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এ ষ্টেশনে আর কেউ যায় না বললেই চলে। স্টেশনটির সংস্কার জরুরী।

    এখন জগতি স্টেশন যেন পড়ে আছে ইতিহাসের খাতার বাতিল পৃষ্ঠা হয়ে। চারপাশে নিঃশব্দ, প্ল্যাটফর্ম ভাঙা, ভবনে ফাটল। আর আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ভগ্নপ্রায় সেই স্টেশন ভবনে। কুলির হাঁকডাকও নেই। নেই ট্রেনের হুইসেল। রাত নামলেই যেন এক ভুতুড়ে জায়গা।

    এই রেলপথের সুফল হিসেবে ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়ায় গড়ে ওঠে তখনকার এশিয়ার সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল মিল- মোহিনী মিল। ট্রেন ছাড়া এত বড় মিলের কাঁচামাল আনা বা পণ্য পাঠানো সম্ভবই হতো না। পাকিস্তান আমলেও কুষ্টিয়ায় তৈরি হয় চিনিকল। যেখানে আখ পৌঁছাত এই রেলপথ দিয়েই।

    যাতায়াতের জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা রায়টা ঘাট রেল লাইন। সংস্কারের অভাবে স্টেশনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

    অপরদিকে পুরাতন লাইন রায়টা। ব্রিটিশ শাসনামলে এ লাইন নির্মিত হয়। ১৯১৬ সালে এ লাইন স্থাপন করা হয়। রায়টা-দামুকদিয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন রায়টা ট্রেন নামেই নামকরণও হয়। তিন দশক আগেও এ লাইনটি বেশ জম-জমাট ছিল। কিন্তু লোকসান দেখিয়ে ওই রেল লাইনটি বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ লাইন বন্ধ হওয়ায় এলাকার জনসাধারণের জীব-যাত্রার মান অনেকটাই থমকে গেছে।

    উনবিংশ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রেল কোম্পানি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে ছোট ছোট রেলপথ সেকশন চালু করতে থাকে। প্রথমদিকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামক কোম্পানি প্রথম বাংলাদেশে রেলপথ স্থাপন করে।

    ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কোলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত ব্রডগেজ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এবং রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চালু করে। গোয়ালন্দ পর্যন্ত সেকশনটি চালু হয় ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৯ সালে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার জন্য সাড়া থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সেকশনটি নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে মিটারগেজে (৩ ফুট ৩.৩৮ ইঞ্চি) চালু করে। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর এবং পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিও এই কোম্পানি চালু করে। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে আসে এবং ১ এপ্রিল ১৮৮৭ সালে তা নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের সাথে একীভূত হয়।

    ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজসহ ভেড়ামারা শাকোলে সেকশন চালু হয়। ১৯১৪ সালে শাকোলে থেকে সান্তাহার পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয় এবং ১৯২৪ সালে সান্তাহার থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ৯৬ কিলোমিটার সেকশনটিকে মিটরগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯২৬ সালে পার্বতীপুর থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়।

    ১৯১৬ সালে ভেড়ামারা রায়টা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। ১৯২৮–২৯ সালে তিস্তা হতে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ন্যারোগেজ সেকশনটিকে মিটারগেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৩০ সালে আব্দুলপুর–আমনুরা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। বাহাদুরাবাদ–জামালপুর টাউন মিটারগেজ সেকশনটি চালু হয় ১৯৪১ সালে।

    ১৮৯৭ সালে দর্শনা পোড়াদহ সেকশনটি সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। পর্যায়ক্রমে ১৯০৯ সালে পোড়াদহ ভেড়ামারা, ১৯১৫ সালে ভেড়ামারা ঈশ্বরদী এবং ১৯৩২ সালে ঈশ্বরদী আব্দুলপুর সেকশনগুলোকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। সংস্কারের অভাবে এসব লাইনের বেহাল দশা।

    দেখা যায়, জগতি রেল স্টেশনটি যেন এক ভুতের আড্ডা। স্টেশন মাস্টার তো দূরের কথা সেখানে গার্ড কিংবা টিকিট কাউন্টারও নেই। নেই যাত্রীদের বসার কোনো স্থান। প্ল্যাটফর্মে জন্মেছে গাছ ও লতাপাতা। অফিস রুমে নেই কোনো জানালা, দরজা থাকলেও তালা দেওয়া। রয়েছে ট্রেনের সিডিউল বোর্ড যা সর্বশেষ ২০০৯ সালের। দ্বিতল ভবনের অফিসের ছাদ থেকে কংক্রিটের সঙ্গে খসে পড়েছে লোহাও। দেয়ালের চারিদিকে ধরেছে ফাটল। কক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলো। প্রথমতলায় প্রায় সব কিছু লুটপাট হয়েছে। দ্বিতীয়তলার জানালা থেকে বের হওয়া বটগাছ ও আগাছাগুলো বলে দেয় এর অবহেলার চিত্র। একসময় বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের পানি নেওয়ার জন্য জগতির যে দীঘি ও পানির ট্যাংক ব্যবহার হতো সেই দীঘি ও ট্যাংকগুলোর অবস্থা আরও নাজুক।

    বয়সের ভারে ন্যুব্জ ভগ্নপ্রায় ‘জগতি রেলস্টেশন’-এর লাল ইটের তৈরি দ্বিতল ভবনটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। লাল ইটের দালান এখন মলিন। আশপাশ শ্যাওলা, ময়লা জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনে ফাটল ধরায় উপরতলাতে কেউ যায়নি বহু বছর। অনেক দিন আগে যাত্রীদের সুবিধার জন্য তৈরি করা ওয়েটিং রুমও ভেঙে গেছে। প্ল্যাটফর্মের ইটও ভেঙে গেছে। ক্ষয়ে গেছে গাঁথুনিও। কক্ষের ভেতরের যন্ত্রাংশ সবই বিকল। এগুলোর কোনো ব্যবহার ও সংস্কার কিছুই নেই।

    ব্রিটিশরা ওই সময় সরকারি স্থাপনাগুলোতে লাল রং ব্যবহার করত। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ব্রিটিশরা চলে গেছে বহু আগে, পাকিস্তানিরাও। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সময়েও এ রঙের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এমন অনেক ভবন বাংলাদেশ-ভারতে দেখা যায় যেগুলোতে আজও লাল রং বিদ্যমান।

    পরে ঢাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি জগতি স্টেশন থেকে বর্তমান রাজবাড়ী জেলার পদ্মা তীরবর্তী গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত রেললাইন চালু হয়।

    দেশের রেললাইনের উন্নয়ন নেই জগতি রেলওয়ে স্টেশনের। তাই পূরাতন ঐতিহ্যবাহী এ রেল স্টেশন উন্নয়নের জোরদাবী জানিয়েছেন যাত্রী ও এলাকার সুশীল সমাজ।

  • সমন্বিত চাষে সফল জোৎস্না

    সমন্বিত চাষে সফল জোৎস্না

    বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এসে অভাব-অনটনে দিন কাটছিল জোৎস্না রায়ের। স্বামী উত্তম রায় অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়তি আয়ের জন্য জোৎস্না অন্যের বাড়িতে কাজ করতে থাকেন। তবুও সংসারে অভাব যাচ্ছিল না। বছর সাতেক আগে বাড়ির পাশে পুকুরে মাছ ও পাড়ঘেঁষে সবজি চাষ শুরু করেন। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে এসব মাছ-সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করেন তিনি। এর মাধ্যমে তার সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

    সাতবিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা আটটি পুকুরে মাছ চাষের সঙ্গে করা হয়েছে মৌসুমভিত্তিক শাকসবজির চাষ। সমন্বিত-এই পদ্ধতিতে সারা বছর মাছ-সবজি চাষ করে জোৎস্না রায়ের ভাগ্য ফিরেছে। এখন তিনি এই খামারে মাছ ও সবজি চাষ করেন। উত্তম রায় স্থানীয় বাজার ও আড়তে ঘেরের উৎপাদিত মাছ-সবজি বিক্রি করেন।

    খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙা গ্রামের এই দম্পতি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২০ শতাংশ জমিতে তারা মাছ ও সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। এখন তারা ২৩১.৪ শতাংশ জমির মালিক। রয়েছে চারটি গাভী ও দুটি বাছুর। তাদের সাফল্যে অন্যরাও সমন্বিত-এই পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ওই গ্রামের অন্তত ৮-১০ জন এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে তাদের মাছের পোনা-খাদ্য ও সবজি চাষের সার-বীজ প্রণোদনাসহ চাষাবাদে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।জোৎস্না রায় জানান, ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার পর স্বামীর সংসারে এসে অভাব-অনটনে দিন কাটছিল। পারিবারিক কাজের ফাঁকে হঠাৎ একদিন বাড়ির পাশে অনুষ্ঠিত একই জমিতে মাছের সঙ্গে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ওই প্রশিক্ষণের ধারণা থেকে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে স্বল্প পরিসরে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করেন। পরে প্রশিক্ষণ দেওয়া ওই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাঠকর্মী একদিন তার খামার দেখতে আসেন। তাদের কাছ থেকে সবজি চাষের পরামর্শও পান। ওই সংস্থার কর্মীরাই সবজি বীজ দেন। আর নিজ উদ্যোগে পুকুরে পোনামাছ ছাড়েন।

    ঘেরের আইলে সবজির ক্ষেত পরিচর্যার ফাঁকে ফাঁকে জোৎস্না জানান, প্রথমে অল্প জমিতে মাছের সঙ্গে লাউ ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেন। পরে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, ঝিঙে, মরিচ, পেঁপে, ঢ্যাঁড়সসহ নানা শাকসবজি চাষ করতে থাকেন। গত বছর ঘেরের আইলে তরমুজের আবাদও করছেন তিনি। এখান থেকে প্রতিবছর তার প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। ঘেরে সংরক্ষণ করা মিঠা পানিতে কার্প জাতীয় মাছ ও জৈব সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি ফলাচ্ছেন তিনি।

    উত্তম রায় জানান, সবজির ক্ষেত পরিচর্যা এবং ঘেরে মাছের খাবার দেওয়ায় স্ত্রীকে সহায়তা করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ঘেরের টাটকা শাকসবজি বাজারে বিক্রি করতে যান। বাড়তি আয়ে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা এই কাজ করে জমিও কিনেছেন। পরিবারের দৈনন্দিন খরচসহ সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন।

    জানতে চাইলে দাকোপ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক কালবেলাকে বলেন, লবণাক্ততার কারণে এক সময় এ অঞ্চলে কার্প জাতীয় মাছসহ সবজি চাষ করা ছিল অনেকটাই প্রতিকূলতা। নিরলস শ্রমের মধ্যদিয়ে সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে দাকোপের চাষিরা একই সঙ্গে মাছ ও সবজি চাষ করে সফল।

    তিনি আরও জানান, পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) আওতায় উপজেলার ১০ চাষিকে এই প্রদর্শনী দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতজন নারীর অন্যতম জোৎস্না একজন সফলচাষি। মূলত এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ অঞ্চলের চাষিদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করে পারিবারিক সচ্ছলতা ফিরে আনাই হলো লক্ষ্য।

  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে মেগা প্রকল্পে

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে মেগা প্রকল্পে

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত করিডোর ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ শুরু করেছ। এর অংশ হিসেবে বন্দর, ইকোনমিক জোন, ইপিজেড আর শিল্প কলকারকানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের ভিক্তিপ্রস্তুর স্থাপন জেটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    এর আগে সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে মোংলা বন্দর এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

    পরে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। আয়োজন ঘিরে পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সেই সকাল থেকে মোংলা-খুলনা মহাসড়কে ভিড় করে ছিলেন। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে প্রমানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মোংলা-রামপালের বিএনপির লাখো নারী-পুরুষ নেতাকর্মীরা।

    বন্দর উন্নয়নে ৪০৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট: বন্দরের আধুনিকায়নে বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং বৈশ্বিক অবকাঠামো জায়ান্ট চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ৪০৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টে অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানসম্মত নির্মাণশৈলী এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নিশ্চয়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন বন্দরের ব্যাবসায়ী, আমদানি-রফতানিকারকসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

    চার বছর মেয়াদি মেগা প্রজেক্টের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত মূল অবকাঠামোগত উপাদানগুলো হলো-দুটি আধুনিক জেটি নির্মাণ। আন্তর্জাতিক মানের কন্টেইনারবাহী জলযান ভেড়ানোর উপযোগী দুটি দীর্ঘ জেটি নির্মান হলে বিদেশ থেকে আসা পন্যবাহী কন্টেইনার খালাস ও সংরক্ষণ করা হবে নির্মাণাধীন এই নতুন জেটিতে।

    প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে প্রশস্ত কন্টেইনার ইয়ার্ড, দ্রুত পণ্য খালাস ও ট্রানজিট নিশ্চিত করতে আধুনিক ইয়ার্ড নির্মাণ করা হলে সেই ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে দীর্ঘ মেয়াদি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার। এছাড়াও করা হবে বিপদপ্রবণ পণ্য সংরক্ষণ জোন, কেমিক্যাল বা বিপজ্জনক পণ্য সম্পূর্ণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা ও সুরক্ষিত পৃথক ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। বন্দরের কার্যক্রমের সুবিধার্থে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়াতে ক্রেনসহ মোট ৪৯টি ভারী ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও সংরক্ষণ করা হবে।

    বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র: দীর্ঘদিন ধরে মোংলা বন্দর ও এর আশেপাশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে গ্যাসের অনুপস্থিতি শিল্পায়নের গতি কিছুটা মন্থর করে রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই সংকট নিরসনে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত করিডোরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মোংলা বন্দরের শিল্প কলকারখানায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে অবকাঠামোগত কাজের নকশা চূড়ান্ত করেছে। এর ফলে ভারী শিল্প, হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট এবং নবনির্মিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ব্যাবসায়ীদের উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্দরটির অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। বন্দরের জন্য কন্টেইনার খালাসও বোঝাইয়ের জন্য অত্যাধুনিক ক্রেন ক্রয় করা হলে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। যাতে আমরা বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা উন্নীত হবে ৪ লাখ টিইইউজে। এছাড়া ব্যাবসায়ীদের বন্দরের পণ্য পরিবহন, খালাস ও সংরক্ষণ ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে। এর ফলে এখানকার আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য মোংলা বন্দর থেকে সরাসরি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন প্রতিষ্ঠিত হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মোংলা বন্দরের এই আধুনিকায়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণ কেবল বাগেরহাট বা খুলনা অঞ্চলের জন্য নয়, বরং গোটা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই অঞ্চলে। বিশেষ করে শিপিং ইন্ডাস্ট্রি, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন খাত (মাহিন্দ্র, ইজিবাইক ও ভারী ট্রাক অ্যাসোসিয়েশন) এবং স্থানীয় আবাসন ও বাণিজ্যিক খাত চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

  • শৈলকুপা শাহী মসজিদের ৩০ লাখ টাকা গায়েব!

    শৈলকুপা শাহী মসজিদের ৩০ লাখ টাকা গায়েব!

    ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদের দান-অনুদানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের মোতাওয়াল্লি মীর শামসুজ্জামান পান্নার বিরুদ্ধে। গত দুই বছরের বেশি সময়ে মসজিদে বিভিন্ন খাত থেকে ৬১ লাখ টাকা সংগ্রহ হলেও এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি মসজিদের ইমামের কাছ থেকেও মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বাদশা হোসেন শাহ ওয়াক্ফ স্টেটের অধীনে পরিচালিত শাহী মসজিদে প্রতিদিনই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দান-অনুদান দিয়ে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান আসে। কিন্তু এসব অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে সভা করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা করা হচ্ছে না। কমিটির সদস্যদেরও জানানো হয় না মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব।

    অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মসজিদের মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান মীর শামসুজ্জামান পান্না। এরপর থেকে গত দুই বছরের বেশি সময়ে দান-অনুদানসহ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৬১ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ মসজিদের খাদেমের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচে ব্যয় করা হয়েছে। বাকি অর্ধেক টাকা মোতাওয়াল্লির কাছে জমা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে জমা হওয়া ওই অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

    স্থানীয় মুসল্লী স্কুল শিক্ষক জাহিদ হোসেন বলেন, মসজিদের প্রতিদিনের আয়ের অর্ধেক টাকা মোতওয়াল্লির কাছে জমা হয়। সেই টাকা ব্যাংকে রাখার কথা কিন্তু মোতওয়াল্লী কোন ব্যাংকে রাখেন নি। এমনকি সেই টাকার কোন হিসাবও তিনি দেন নি। সম্প্রতি মসজিদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে সেখানেও তিনি একটি টাকা দেননি। গাছ বিক্রি ও স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

    আরেক সদস্য হোসেন আলী বলেন, দুই বছর ধরে মসজিদে কোন মিটিং করা হয় না। টাকা পয়সা কোথায় কিভাবে যায় তারও কোন হিসাব নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসল্লী বলেন, ২ বছরের বেশি সময় ধরে ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মোতওয়াল্লীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা পুরোটা আত্মসাৎ করেছে মোতওয়াল্লী।

    শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক বলেন, মসজিদের টাকা নয়-ছয় করা মোটেও কাম্য নয়। গত দুই বছরে সংগ্রহ করা অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ হলো তা তদন্ত করার দাবী জানাচ্ছি।

    অভিযোগের বিষয়ে মোতওয়াল্লী মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, এত টাকা কই। ২ বা ৩ লাখ টাকা থাকতে পারে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সব মিথ্যা কথা।

    এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, মসজিদের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • এএসপি হলেন পুলিশের ৬৭ পরিদর্শক

    এএসপি হলেন পুলিশের ৬৭ পরিদর্শক

    পুলিশের নিরস্ত্র পরিদর্শক পদ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৬৭ কর্মকর্তা।

    বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ৬৭ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদান করতে হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব, প্রশ্ন হুমায়ুন কবিরের

    হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব, প্রশ্ন হুমায়ুন কবিরের

    জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তার হস্তান্তর চাওয়ার কথা তুলে ধরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন ‘পলাতক সন্ত্রাসী’।

    “এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইতে আসবে যে—তারে পাসপোর্ট দেব, আর পাসপোর্ট দিয়ে আসবে? আমাদের অ্যাকটিভ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে টেররিস্টদেরকে ধরার, ক্রিমিনালকে ধরার। ”

    ঢাকা সফরে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।

    ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, এই প্রশ্ন করা হয়েছিল হুমায়ুন কবিরকে।

    উত্তরে তিনি বলেন, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি এখনও তার জানা নেই। পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়টাই ‘হাস্যকর লাগল’ বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।

    ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় ১০১ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মো. জালাল মালিথা (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গার স্পেশাল কোর্ট অব সেশনস ও ফ্যামিলি অ্যাপিলেট বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো: জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কানাপুকুর পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার একাডেমি মোড় থেকে আলমডাঙ্গাগামী সড়কের কানাপুকুর পাড়ায় (মতিন মেডিকেল সেন্টারের পশ্চিম পাশে) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে জালাল মালিথাকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো ১০১ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ আদালত এই রায় দেন।

    আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শামিম রেজা ডালিম জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে, তাকে আইনের আওতায় এনে সাজা কার্যকর করা হবে।

  • সাতক্ষীরায় গাড়িচাপায় মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিহত

    সাতক্ষীরায় গাড়িচাপায় মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিহত

    সাতক্ষীরায় গাড়িচাপায় রহিমা বেগম (৬০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘোরিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রহিমা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের বাঁশঘাটা গ্রামের মরহুম ইউসুর আলীর স্ত্রী। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই অর্ণব সাহা বলেন, ‘স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী রহিমা বেগম একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায় সময় তিনি একা একা রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতের কোনো এক সময় সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তবে কী ধরনের গাড়ি তাকে চাপা দিয়েছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

    সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

  • যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর পালনের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

    যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর পালনের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

    ৭ নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয়ে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা সেই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে মুখরিত জনতার অংশগ্রহণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও দেশ ও জাতি নানা ধরনের রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন ও স্বৈরাচারী প্রবণতার দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সরকার এবং সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

  • ধামরাইয়ে ৩ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি : গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

    ধামরাইয়ে ৩ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি : গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

    ঢাকার ধামরাইয়ে গভীর রাতে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোসহ পুরো গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে অজানা ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসেছে।

    দরজায় মৃত্যুর বার্তা, ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি দেখতে পান দুটি বাড়ির গৃহকর্তারা। এর আগে বুধবার রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়।

    যে তিনটি বাড়িকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেগুলোর মালিক হলেন—গত মাসে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মো: মোসলেহ উদ্দিন এবং তার প্রতিবেশী মো: ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া।

    ভুক্তভোগীদের আকুতি ও প্রতিক্রিয়া

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো: মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে আমার বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই দুঃসহ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার এই ঘটনা। যারা সে সময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন, ঠিক তাদের বাড়িগুলোতেই এবার কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বাড়ির পাশে জমি কেনা নিয়ে আমাকে একটি নাম্বার থেকে হুমকি দেয়। বলে ওই জমি আপনি কেন ক্রয় করলেন। তারপর থেকেই একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

    আরেক ভুক্তভোগী মো: ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, ‘রাতে মোসলেহ উদ্দিন কাকার বাসায় ব্যাগ ঝুলানো দেখে উঠে যাই। সেখানে আতঙ্কে এলাকার অনেকেই আসে। এরপর কাকা ঘরে ঢুকে গেলে আমিও বাড়ি চলে আসি। তখনও আমার বাড়ির সামনে কিছু দেখি নাই। এরপর দেখি সকালে দরজায় কাফনের কাপড়, আতর, সাবান আর রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি, এটা দেখে আমরাও আঁতকে উঠি। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’

    তৃতীয় ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এলাকায় শান্তিতে বাস করতে চাই। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে ঘরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তা চাই।’

    আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশি তদন্ত

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে শুধু ওই তিন পরিবারই নয়, পুরো চন্দ্রাইল গ্রামের মানুষের মনে ভয় কাজ করছে। পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

    একের পর এক হুমকি ও বাড়িতে কাফনের কাপড় রাখার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পরবর্তীতে ধামরাই থানায় গিয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে জানান।

    এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বের হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মির্জাগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

    মির্জাগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মোসাম্মৎ ইসরাত জাহান যুথি (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া মাছুয়াখালী গ্রামের একটি পানের বরজের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত যুথি উপজেলার দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মো: জামাল হাওলাদারের মেয়ে ও সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে স্কুলে টেস্ট পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয় যুথি। যথাসময়ে বাড়ি না ফেরায় তার মা স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সে স্কুলে যায়নি।

    যুথির বাবা জামাল হাওলাদার জানান, সকালে মমতাজ নামে এক নারী পানের বরজের পাশে যুথির জুতা দেখতে পান। পরে সেখানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পানের বরজের পাশে যুথির লাশ দেখতে পান তিনি। পরে পুলিশে খরব দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো: তৌহিদুজ্জামান জানান, উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া থেকে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালীতে পাঠানো হবে। পিআইবি, সিআইডি ও পুলিশ বিভাগ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে মো: হাশেম (৩৭) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বরুমতি ব্রিজের পাশে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত হাশেম উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশারপাড়ার বানু মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সড়কের পাশে হাশেমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে চন্দনাইশ সদর হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চন্দনাইশ থানার এসআই (তদন্ত) মো: আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে মেরে কেউ এখানে ফেলে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত, ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

    মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত, ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৪০) ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।

    এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গচিহাটা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই লিমন মিয়া (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    আটক লিমন মিয়া গচিহাটা গ্রামের মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে।

    আহত রানার ছোট ভাই মো: সাব্বির জামান রনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় বড় ভাইকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তার খিঁচুনি শুরু হয়। দ্রুত তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়।

    তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত গচিহাটা কলেজ মাঠে কয়েকজন যুবক ও কিশোর মাদক সেবন করছিল। কলেজের পাশ দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার জামান রানা তাদের মাদক সেবন করতে দেখে বাধা দেন। এ সময় তাদের গালিগালাজ করে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, এ সময় আফতাব উদ্দিন নামে এক কিশোর মাঠ থেকে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে শাহরিয়ার রানা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে আফতাব বাড়িতে গিয়ে তার চাচা তাজুল ইসলাম ও এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানায়।

    এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাজুল ইসলাম ঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে কয়েকজনকে সাথে করে গচিহাটা বাজারে রানাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাজুলের সাথে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে গচিহাটা বাজারের চিত্রা ফার্মেসিতে বসেছিলেন শাহরিয়ার জামান রানা। এ সময় তাজুল ইসলাম সেখানে ঢুকে রানার বুকের ডান পাশের নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

    পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, গচিহাটা বাজারে তার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বিএনপির কিছু লোক জড়িত।

    তিনি অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। বরং পুলিশ তাকে আসামিদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে অভিযোগ দিতে বলেছে।

    মেজর আখতার বলেন, ঘটনাটি বাজারে ঘটেছে এবং সবাই তা দেখেছে। অজ্ঞাতনামা আসামি দিলে পুলিশের বাণিজ্য করতে সুবিধা হয় এবং অহেতুক মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে তিনি কাউকে হয়রানি করতে চান না।

    এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এতে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় বাদীকে তা সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

    এদিকে, এ হামলার ঘটনায় শাহরিয়ারের চাচা মিজানুর রহমান কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ভোরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

  • প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর আনছারাবাদ সড়কের আব্দুল গফ্ফার সানার চায়ের দোকানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    নিহত যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম (৩৭)। তিনি রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আব্দুস সালামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তরিকুলের সাথে দোকানে ছিলেন তার সহযোগী সাদিক রহমান (২০), মোমিন গাইন (২৬) ও শাওন (২২)। এ সময় মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে পালসার মোটরসাইকেলে করে আসে দুই যুবক। তারা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তরিকুলের সাথে কথা বলেন।

    ওই দুই যুবক সিগারেট খেতে চাইলে শাওনকে পাশের দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠানো হয়। এই সুযোগে দুই হামলাকারীর একজন দোকানের ভেতরে ঢুকে তরিকুলকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তরিকুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

    প্রকাশ্য দিবালোকে চায়ের দোকানে ঢুকে এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে তরিকুলের বিরোধ চলছিল। এছাড়া আমভিটা এলাকার সরকারি বড় খাল দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন পক্ষের সাথে তার দ্বন্দ্ব ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের আলোচনায় মাদককারবারিদের সাথে বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তবে কারা, কী কারণে এবং কী পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

  • চৌগাছায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় পুকুরের পানিতে ডুবে আল জুহান (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল জুহান ওই গ্রামের জনি হোসেনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবেশী জামালের পুকুরে পড়ে যায় শিশুটি। পরে তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌরভ সরকার জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী বাবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • বেকারত্ব ঘুচিয়ে রজনীগন্ধা চাষ

    বেকারত্ব ঘুচিয়ে রজনীগন্ধা চাষ

    পড়াশোনা শেষ করেও মেলেনি কর্মসংস্থান। অর্থাভাবে থেমে যায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, ব্যর্থ হয় বিদেশ যাওয়ার চেষ্টাও। একসময় জীবিকার তাগিদে করেছেন রাজমিস্ত্রি ও কৃষিশ্রমিকের কাজ। তবে হতাশায় থেমে না গিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে রজনীগন্ধা চাষ শুরু করে এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার উমরনগর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান।

    ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি সোহান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে কর্মসংস্থানের সন্ধানে নানা চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে কৃষিকাজে আগ্রহী হন তিনি। মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ১৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন রজনীগন্ধা চাষ। যশোরের গদখালী থেকে ফুলের কন্দ সংগ্রহ করে জমি প্রস্তুত, বেড়া নির্মাণ, সার ও কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক কাজে তাঁর প্রাথমিক বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

    সোহানের সেই উদ্যোগে এখন মিলছে সাফল্য। এ পর্যন্ত তার বাগানের প্রায় দুই লাখ টাকার রজনীগন্ধা বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি স্টিক ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালীসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে তাঁর বাগানের ফুল। পাশাপাশি মাগুরা ও যশোরেও সরবরাহ করছেন তিনি।

    নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সোহানুর রহমান বলেন, একসময় বেকারত্ব ও অভাব-অনটনের কারণে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরে অন্যের কাজ করার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার চিন্তা থেকে রজনীগন্ধা চাষ শুরু করেন।

    তিনি বলেন, শুরুতে সফলতা নিয়ে সংশয় থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছেন। এ সাফল্যে তিনি আশাবাদী। ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার অন্য বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে ফুল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ফুল চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ। রজনীগন্ধার বাজারে চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, যথাযথ পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষ করলে এ খাত থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

    সীমিত পুঁজি ও অল্প জমিতে শুরু করা সোহানের এই উদ্যোগ এখন সম্ভাবনার নতুন পথ দেখাচ্ছে। নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্য বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের স্বপ্নও দেখছেন তিনি। তাঁর ছোট্ট রজনীগন্ধার বাগান তাই হয়ে উঠেছে আত্মনির্ভরতার এক সম্ভাবনাময় উদাহরণ।

  • সায়েদের পক্ষে ইহুদিদের ৬০ ভাগ ভোট

    সায়েদের পক্ষে ইহুদিদের ৬০ ভাগ ভোট

    মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে জয়লাভ করেছেন আবদুল আল সায়েদ। ইসরাইলের অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোর বিরোধী সায়েদ। তবে তার এই অবস্থানের পরও ইহুদি ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

    মিশিগানের প্রগতিশীল সুপারপ্যাক ‘মিলিয়নস অব মিশিগানিয়ানস’ তাদের এক বিশ্লেষণে জানায়, রাজ্যটিতে এলিসা স্লটকিন এবং আবদুল আল সায়েদের প্রতি ইহুদি ভোটারদের সমর্থনে প্রায় কোনো পার্থক্যই ছিল না।

    রাজ্যের শীর্ষ ১২টি জিপ কোডের ভোটদানের ধরণ বিশ্লেষণের পর এই তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি। তথ্যানুযায়ী, সায়েদ সেখানে মোট ইহুদি ভোটের ৬০ শতাংশ পেয়েছেন।

    দুই বছর আগের সিনেট নির্বাচনে স্লটকিনের পাওয়া ইহুদি সমর্থনের চেয়ে এটি মাত্র ১.৩ শতাংশ কম। আইপ্যাক (এআইপিএসি) এবং রিপাবলিকান গোষ্ঠীগুলো ইহুদি ভোটারদের মাইক রজার্সের পক্ষে টানতে লাখ লাখ ডলার খরচ করা সত্ত্বেও আল-সায়েদ এই উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হন।

  • পদত্যাগের দাবিতে অবরুদ্ধ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ

    পদত্যাগের দাবিতে অবরুদ্ধ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে টানা সাত ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। হলের দুটি আবাসিক আসন বাতিল, চাঁদা দাবি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছেন।

    কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন নেছা। পরে এর কারণ জানতে তার কাছে গেলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

    তাবাসসুম আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীদের কাছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন প্রাধ্যক্ষ। চাঁদার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে আসন বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী তার পা পর্যন্ত ধরেন। কিন্তু এরপরও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

    ওই শিক্ষার্থী বলেন, হলে প্রবেশের সময় কিছুটা দেরি হলেও জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগের কারণে আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা আন্দোলন করছেন। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদটির ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

  • ইউরোপজুড়ে বোমা আতঙ্ক, একের পর এক বিমানের জরুরি অবতরণ

    ইউরোপজুড়ে বোমা আতঙ্ক, একের পর এক বিমানের জরুরি অবতরণ

    ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বোমা হামলার হুমকি। বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক যাত্রীবাহী বিমানকে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। ইউরোপে বিমান লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হুমকির সর্বশেষ ঘটনা এটি। খবর রয়টার্সের।

    আয়ারল্যান্ডের বিমান সংস্থা অ্যার লিঙ্গাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডাবলিন থেকে রোমগামী তাদের ফ্লাইট ইআই৪০২ নিরাপত্তার স্বার্থে গতিপথ পরিবর্তন করে প্যারিসের ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এভ্রু বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।


    বেলজিয়ামের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ব্রাসেলসের জাভেনটেম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা একটি বিমান পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা লটের।


    এদিকে, হেলসিঙ্কি থেকে আসা ফিনএয়ারের একটি বিমানকে ইতালির বিমানবাহিনী নিরাপদে রোমের নির্ধারিত বিমানবন্দরে অবতরণে সহায়তা করে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

    বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমা হামলার হুমকির কারণে দেশটিতে তিনটি বিমান জরুরি অবতরণ করেছে।
    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভির বরাতে জানান, কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি বিমান সোফিয়ায় অবতরণ করেছে।
    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লন্ডন থেকে আসা তৃতীয় বিমানটি অবতরণ করেছে প্লভদিভে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার ইউরোপজুড়ে অন্তত সাতটি বিমান এবং একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও কোথাও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। এসব হুমকির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো দেশকে দায়ী করা হয়নি।

    তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড হামলা’ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলছেন। মস্কো ও তেহরান এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    এ সপ্তাহে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা ফ্রিজ বন্ধ করে দেয়। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ভুয়া বোমা হামলার হুমকিও স্বল্প ব্যয়ে এবং দায় অস্বীকারের সুযোগ রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একই ধরনের প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।



  • চৌগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমি। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-২ চৌগাছা- ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি,এম, এ, মুনীব, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, চৌগাছা থানার ওসি কাজী বাবুল হোসেন, ডা. ইমদাদুল হক, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুরাইয়া পারভীন ও সাংবাদিক এম এ রহিম প্রমুখ। এ,আর

  • ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যে খাবার

    ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যে খাবার

    ফ্যাটি লিভার বর্তমান বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। অনেকে অল্প বয়সেই আক্রান্ত হচ্ছেন ফ্যাটি লিভারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ফলে হতে থাকে যকৃতে প্রদাহ, আর ক্রমাগত প্রদাহ থেকে পরবর্তী সময়ে সিরোসিস বা ক্যানসার হওয়াও বিচিত্র নয়।

    এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে ফ্যাটি লিভারজনিত সিরোসিস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ফ্যাটি লিভার।

    আমাদের দেশে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজই বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও কায়িক শ্রমের অভাব। এই ফ্যাটি লিভারের আদতে কোনো চিকিৎসা নেই, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ছাড়া। সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কম গুড কোলেস্টেরল বা এইচডিএল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকে সমস্যার কারণে যকৃতে চর্বি জমে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। এই তিনটির মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে জরুরি। কিছু খাবার লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সেগুলো হলো-

    সবুজ শাকসবজি: গবেষণা বলছে, সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজির মধ্যে যে পলিফেনল ও নাইট্রেট পাওয়া যায়, তা যকৃতের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তবে রান্না ও সেদ্ধ করে ফেললে এর পলিফেনলের পরিমাণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়। তাই সেদ্ধ করে পানি না ফেলে বা সম্ভব হলে কাঁচা সালাদে যতটা সম্ভব সবুজ পাতাওয়ালা সবজি, যেমন শাক, লেটুস ও অন্যান্য পাতা খেতে চেষ্টা করুন।

    ডাল ও বীজজাতীয় খাবার: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ইত্যাদি খাবারে স্টার্চ ও আঁশ প্রচুর। এসব খাবার পরিপাকতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর, একই সঙ্গে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। সয়াপ্রোটিন ও টফুও উপকারী। সয়াতে যে বিটা কনগ্লাইসিন থাকে, তা ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভিসেরাল ফ্যাট কমায়। সূর্যমুখীর বীজে আছে প্রচুর ভিটামিন ই, যা ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো।

    সামুদ্রিক মাছ: ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, স্যামন, সার্ডিন ইত্যাদি ওমেগা ৩ তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ উপকারি এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে যকৃতে চর্বি ও প্রদাহ কমায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মাছ খাওয়া উচিত।

    ওটস ও জটিল শর্করা: ফ্যাটি লিভার থেকে রেহাই পেতে আপনাকে জটিল শর্করা, যেমন ওটমিল বা লাল আটার বা যবের রুটি খেতে হবে।

    আখরোট: আখরোটে মেলে গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরজিনিন। যা লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। শরীর থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। লিভারের ভিতরের প্রদাহ ও চর্বির আধিক্য কমায়। প্রতিদিন সকালে ৪–৫টি ভেজানো বা শুকনো আখরোট খেতে পারেন। তার বেশি নয়।

    বিট: বিটে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং নাইট্রেট থাকে। পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে। উৎসেচকের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে লিভার সতেজ রাখে।

    লেবু ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল: আমলকি, পেয়ারা, লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এগুলি লিভারকে বিষমুক্ত করতেও সাহায্য করে।মসলা: কাঁচা হলুদের কারকিউমিন ও কাঁচা রসুন যকৃতের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিল কুয়েত

    বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিল কুয়েত

    স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যা করেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ঘটনায় ওই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।

    কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর ছবি প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, নিহত ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু অভিযুক্তের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করার পর তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ছবিগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও বন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।

    প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত একটি ছুরি সংগ্রহ করেন। এরপর কর্মস্থলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার বন্ধু অবস্থান করছেন নিশ্চিত হয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

    একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বাইরে বেরিয়ে এলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত। এ সময় তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    আদালতের শুনানিতে অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিরোধ তৈরির আগে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

    আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, একবার তার বাসায় বেড়াতে এসে বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর ছবি তোলেন। পরে সেই ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

    অভিযুক্তের দাবি, ফেসবুকে ছবিগুলো প্রকাশের পর তার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। কিন্তু বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন।

    বরং পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রীর আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন ওই বন্ধু। এতে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর মধ্যে উত্তেজনা ও পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয় বলে আদালতে জানান তিনি।

    অভিযুক্ত আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেন।

    সব তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত তাকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

  • ২০২৭ সালে ভারতে বাড়বে চিকিৎসা ব্যয়

    ২০২৭ সালে ভারতে বাড়বে চিকিৎসা ব্যয়

    ভারতে ২০২৭ সালে চিকিৎসা ব্যয় ১০ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতির তুলনায় তা দ্বিগুণের বেশি থাকবে। বৈশ্বিক পেশাদার সেবা প্রতিষ্ঠান এওনের (Aon) এক নতুন প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা কমে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে একই সময়ে দেশটির সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ পণ্য ও সেবার সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় অনেক দ্রুত বাড়বে।

    প্রতিবেদনে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে হৃদ্‌রোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে কান, নাক ও গলার (ইএনটি) রোগ, ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা এবং ক্যানসার। উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অপুষ্টিকেও ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে দীর্ঘমেয়াদি ও অসংক্রামক রোগের বাড়তি চাপ স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং নিয়োগকর্তাদের দেওয়া চিকিৎসা সুবিধার ওপর প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও রোগের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং উন্নত ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং কার্যকর স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

    মূল্যস্ফীতির দ্বিগুণের বেশি বাড়বে চিকিৎসা ব্যয়

    এওনের ‘২০২৭ গ্লোবাল মেডিক্যাল ট্রেন্ড রেটস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ভারতে ২০২৭ সালে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ব্যয় বৃদ্ধির হার কমার অর্থ চিকিৎসা ব্যয় কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় ধীরগতিতে ব্যয় বাড়বে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারতের সাধারণ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত হার দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। ২০২৬ সালে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

    এওন ইন্ডিয়ার হেড অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলথ সলিউশনস অ্যাশলে ডি’সিলভা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয় এখনো মূল্যস্ফীতির দ্বিগুণেরও বেশি হারে বাড়ছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।’

    ২০২৭ সালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির গড় পূর্বাভাস ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতের সম্ভাব্য হার এ গড়ের চেয়ে বেশি। চীনে এ হার ৬ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

    চিকিৎসা ব্যয়ের বড় কারণ হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসার

    ভারতের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর রোগের কারণে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে। এওনের ভারতবিষয়ক তথ্যে হৃদ্‌রোগকে চিকিৎসা দাবির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে ইএনটি, ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ক্যানসার।

    এসব রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ সেবন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে এসব রোগ চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।

    প্রতিবেদনের বৈশ্বিক বিশ্লেষণেও নিয়োগকর্তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে হৃদ্‌রোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা ব্যয়ের দ্বিতীয় বড় কারণ ক্যানসার। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ানোর অন্যতম কারণ এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উচ্চ রক্তচাপ, নিষ্ক্রিয়তা ও স্থূলতায় বাড়ছে ঝুঁকি

    প্রতিবেদনে উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক বিশ্লেষণে স্থূলতাকেও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্রমবর্ধমান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছর আগে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকির তালিকায় স্থূলতার অবস্থান ছিল পঞ্চম। ২০২৭ সালের মূল্যায়নে তা উঠে এসেছে তৃতীয় অবস্থানে। স্থূলতার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের হারও বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সেবার চাহিদা বাড়তে পারে।

    এওনের গ্লোবাল বেনিফিটস বিভাগের ডেটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকস লিডার ক্যাথরিন ডেভিস বলেন, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও উচ্চ রক্তচাপ এখনো চিকিৎসা ব্যয়ের প্রধান কারণ। তবে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের হার বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে নিয়োগকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে আরও চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

    চিকিৎসা ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করছে জিএলপি-১ ওষুধ

    ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্টসহ এ ধরনের ওষুধের ব্যবহার বাড়াও চিকিৎসা ব্যয়ের নতুন একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।

    এওনের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ দেশে এসব ওষুধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেশে নিয়োগকর্তাদের দেওয়া চিকিৎসা সুবিধার আওতায় ওষুধগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো কোনো বাজারে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির হারের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত এসব ওষুধের কারণে হতে পারে। গড়ে এ অবদান ৩ শতাংশের বেশি।

    প্রতিবেদনে ডায়াবেটিসকেও চিকিৎসা ব্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪টি বাজারে ডায়াবেটিসকে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানোর শীর্ষ পাঁচটি রোগের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে এসব ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে। তবে এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ওষুধের মূল্য, বিমা সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। এওনের মতে, নিয়োগকর্তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়—দুই দিক বিবেচনায় রেখে এসব ওষুধের সুবিধা দিতে হবে।

    তবে ভারতে জিএলপি-১ ওষুধের কারণে চিকিৎসা ব্যয় কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে আলাদা কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। তাই বৈশ্বিক পরিসংখ্যানকে ভারতের নিয়োগকর্তাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

    চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ ও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব

    এওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নিয়োগকর্তারা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মীদের সুস্থতার বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    বিশ্বব্যাপী জরিপে অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ দেশ ২০২৭ সালে চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে কর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মীদের পছন্দের সুযোগ বাড়াতে নমনীয় স্বাস্থ্যসুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে।

    এওন ইন্ডিয়ার হেড অব হেলথ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অরিজ রিজভি বলেন, ‘ভারতের কর্মীবাহিনী বৈচিত্র্যময় এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। ফলে সবার জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্যসুবিধা কার্যকর হচ্ছে না।’

    তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, নমনীয় সুবিধা এবং কর্মীদের সুস্থতায় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই স্বাস্থ্য কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষেত্রে সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নিয়োগকর্তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পরামর্শ, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের সহায়তার দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

    সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে ভারতে চিকিৎসা ব্যয় ১০ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসারের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও ডায়াবেটিস এ চাপ আরও বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিবেদনটি।

  • প্রথমবার মানবদেহে এআই-তৈরি ভাইরাস প্রবেশ করালেন বিজ্ঞানীরা

    প্রথমবার মানবদেহে এআই-তৈরি ভাইরাস প্রবেশ করালেন বিজ্ঞানীরা

    অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস পরীক্ষামূলকভাবে এক রোগীর শরীরে প্রয়োগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওই রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভাইরাসটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এআই স্টার্টআপ র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মানবদেহে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এআই-নকশা করা ভাইরাস প্রয়োগের ঘটনা এটিই প্রথম।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত এক রোগীকে পরীক্ষামূলকভাবে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের নিজস্ব এআই মডেল ‘ওমনি-১’ (Omnii-1) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস।

    ওমনি-১ মূলত ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ নামের এক ধরনের ভাইরাস নকশা করে। এসব ভাইরাস মানুষের কোষে আক্রমণ না করে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না হলে গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসায় বিকল্প হিসেবে চিকিৎসকেরা আগে থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ফাজ থেরাপি ব্যবহার করে আসছেন।

    প্রচলিত ফাজ থেরাপিতে সাধারণত রোগীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করতে হয়। তবে র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের এআই মডেল ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। নতুন ভাইরাস খোঁজার পরিবর্তে বিদ্যমান একটি ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশ পুনর্নকশা করেছে মডেলটি। এর লক্ষ্য হলো, সংক্রমণ ঘটানো ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট প্রজাতিকে আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও আক্রমণ করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করা।

    প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআইনির্ভর এ পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে রোগীর সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্যেই উপযোগী ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে জটিল ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকর বিকল্প খুঁজে পেতে সময় কমে আসতে পারে।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না হলে পরীক্ষামূলক থেরাপি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে—এমন একটি কর্মসূচির আওতায় রোগীকে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা প্রয়োগের আগে রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনায় এআই-নকশা করা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের ভাষ্য, পরীক্ষাগারে ভাইরাসের মিশ্রণটি ওই নমুনায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছিল।

    তবে রোগীর সুনির্দিষ্ট রোগনির্ণয়, চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া এ চিকিৎসার তথ্য এখনো কোনো বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়নি।

    এআই ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানান, তারা এআই ব্যবহার করে আগে কখনো দেখা যায়নি, এমন ভাইরাস নকশা করেছেন, যেগুলো পরীক্ষাগারে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ওই গবেষণায় এআই দিয়ে নকশা করা প্রায় ৩০০টি ভাইরাল জিনোম সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে গবেষণাটি মানুষের শরীরে নয়, ব্যাকটেরিয়ার ওপর পরিচালিত হয়েছিল।

    গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, নতুন ভাইরাস নকশার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম ভাইরাস তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা উদ্বেগজনক। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা তাদের পরীক্ষায় মানুষ বা প্রাণীকে আক্রমণকারী ভাইরাসের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করে এমন ভাইরাস তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

    এআইনির্ভর জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন বিজ্ঞানীরা।

  • ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

    ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে বড় জয়ের পর নতুন বছরের শুরু থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে আসবে।

    এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সহজ হবে না।

    যা করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা

    কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, কথিত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অভিবাসননীতি এবং এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের সুযোগ থাকবে।

    সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা ও বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে তারা। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগও আটকে দিতে পারবে।

    এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। তবে অভিশংসনের পর সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৭টি ভোট প্রয়োজন হবে। ফলে ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানো তাদের জন্য কঠিন।

    যা করতে পারবে না ডেমোক্র্যাটরা

    কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইন প্রত্যাখ্যান বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। কোনো আইন পাস হলেও প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া তা কার্যকর করা সাধারণত সম্ভব নয়।

    ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে পারে দলটি।

    ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ক্ষমতা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে।

    দলীয় ঐক্যও বড় চ্যালেঞ্জ

    রিপাবলিকানদের বিরোধিতা ছাড়াও ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দলের মধ্যে বিভাজন রয়েছে।

    অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে রিপাবলিকানরাও ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সাফল্য সহজ করতে চাইবে না।

    সব মিলিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং আইন প্রণয়নের সুযোগ বাড়াবে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা, সিনেটে প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর রোনালদোর

    আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর রোনালদোর

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ (৫নভেম্বর) ইনষ্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সমর্থকদের উদ্দেশে চিঠি পড়ে নিজের অবসরের খবর জানান পর্তুগিজ এই মহাতারকা।

    এর মধ্য দিয়ে পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড গড়া এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল।

    ভিডিওতে নিজের আইকনিক ৭ নম্বর জার্সির কথা উল্লেখ করে রোনালদো বলেন, ‘জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দিন এসে গেছে। কখনো ভাবিনি, জার্সিটি শুধু আমারই। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব দুটিই পেয়েছি।’

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ২৩২ ম্যাচে তাঁর গোল ১৪৬টি। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোর কীর্তিও আছে তাঁর।

    তবে বিদায়টা সুখকর হলো না ৪১ বছর বয়সী এই তারকার। পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে একাদশে তো ছিলেনই না, বদলি হিসেবেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গেলেও রোনালদো সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান।

    ডেনমার্কের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও একাদশে জায়গা পাবেন না জানার পর তিনি কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। তখন অভিযোগ করেন, কোচ জেসুস তাঁকে দেওয়া কথা রাখেননি। এরপর এ ঘটনায় নিজের ভুল স্বীকারও করেছিলেন। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনও তাঁকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

    আর সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পর্তুগালকে বিদায় বললেন পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই মহাতারকা।

  • ডিজিটাল যুগে ‘চোখের জিনা’ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

    ডিজিটাল যুগে ‘চোখের জিনা’ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

    মহান আল্লাহর দান করা অবিকল্প ও অমূল্য নিয়ামতগুলোর অন্যতম হলো মানুষের চোখ। কিন্তু এই চোখের অপব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি মানুষকে পাপাচারের অন্ধকার গলিতে টেনে নিয়ে যায়। আত্মশুদ্ধি অর্জন ও ইমানি চেতনা ধরে রাখতে দৃষ্টির সংযম ও হেফাজত করা প্রতিটি মুমিনের অপরিহার্য নৈতিক দায়িত্ব।

    পবিত্র কোরআনে দৃষ্টি সংযত রাখার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে- ‘মুমিন পুরুষদের বলুন-তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’ (সুরা নুর: ৩০)। এর পরের আয়াতেই মুমিন নারীদের প্রতিও সমানভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও নিজেদের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসের সতর্কতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) কামনার সঙ্গে পরনারী বা পরপুরুষের দিকে তাকানোকে ‘চোখের জিনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন-‘চোখের জিনা হলো (কামনাপূর্ণ) দৃষ্টি।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। অর্থাৎ, চোখের মাধ্যমেই প্রথম প্ররোচনা আসে, যা পরে মানুষকে আরও বড় পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে।

    ডিজিটাল যুগ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ: বর্তমান আধুনিক সময়ে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে চোখের নিরাপত্তা বা হেফাজত নিশ্চিত করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অজান্তেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠা অশ্লীল দৃশ্য, নগ্নতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু অনেককে পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয়। অনেকে আবার একান্তে ইচ্ছাকৃতভাবেও নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও উপভোগ করেন। এসব অভ্যাস মানুষের অন্তরে কুপ্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলে, হৃদয়ের ইমানি আলো ও আত্মিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়।

    কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচার উপায়: চোখের জিনা ও বিষাক্ত দৃষ্টি থেকে আত্মরক্ষা করতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

    ১. একাকী বা জনসমক্ষে-সব অবস্থায় আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন, এই ভয় ও অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রাখা।

    ২. অনিচ্ছাকৃতভাবে বা হঠাৎ কোনো নিষিদ্ধ দৃশ্য চোখে পড়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।

    ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইন্টারনেটে কুপ্রবৃত্তি উসকে দেয়-এমন পেজ, চ্যানেল ও অশালীন বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলা।

    দৃষ্টি সংযত রাখা ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি, চরিত্রের সৌন্দর্য ও পারিবারিক শান্তি বজায় রাখার মূল হাতিয়ার। আসুন, চোখের নিয়ামতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হই।

  • ভারত ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    ভারত ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    ইরানের তেল রপ্তানি ও দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চন্ডিগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা ও তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদের পরিচালিত একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ওই দম্পতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই দম্পতি গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। তারা জাল পতাকা ও সনদপত্র ইস্যু করতেন। এর মাধ্যমে ইরানের তেল বহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকারগুলোকে চলাচল অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দেওয়া হতো। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে কাজ করা জাহাজও ছিল।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে এই জালিয়াতি কার্যক্রম চলে আসছিল। বিভিন্ন দেশের সরকারি জাহাজ নিবন্ধন ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এই চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত।

    তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

    এদিকে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব বিমান সংস্থার মধ্যে ইরান এয়ার ট্যুর ও সাহা এয়ারলাইনস রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংস্থাগুলো তুরস্কে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।

    এ ছাড়া মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ

    নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত তেল রপ্তানির আয় বন্ধ করে দেওয়া।

    মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, তাদের এ অভিযানের ফলে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। সূত্র: আল জাজিরা

  • ২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি: ঈদুল ফিতরে ৫, আজহায় ৬ দিন ছুটি

    ২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি: ঈদুল ফিতরে ৫, আজহায় ৬ দিন ছুটি

    মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ২০২৭ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি পাবেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটি থাকবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাধারণ ছুটি ১৪ দিন আর নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ১৫ দিন। দুই ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এসব ছুটির মধ্যে ৭ দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় সরকারি কর্মচারীরা কার্যত ২২ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের সব সরকারি ও আধা সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় এসব ছুটি পালন করা হবে।

    সাধারণ ছুটির তালিকা: ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ৫ মার্চ এপ্রিল জামাতুল বিদা, ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি, ১ মে মে দিবস, ১৭ মে ঈদুল আজহা, ২০ মে বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস, ১৫ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ২৫ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১০ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন (বড়দিন)।

    নির্বাহী আদেশে ছুটি: ২৪ জানুয়ারি শবে বরাত, ৭ মার্চ শবে কদর, ৮ ও ৯ মার্চ এবং ১১ ও ১২ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে দুই ও পরে দুই দিনসহ মোট চার দিন, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ঈদুল আজহার আগে ১৫ ও ১৬ মে দুই দিন এবং পরে ১৮ থেকে ২০ মে পর্যন্ত তিন দিনসহ মোট পাঁচ দিন, ১৬ জুন আশুরা এবং ৯ অক্টোবর দুর্গাপূজার মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

    ঐচ্ছিক ছুটি: ঐচ্ছিক ছুটির মুসলিম পর্বের মধ্যে রয়েছে— ৬ জানুয়ারি শবে মিরাজ, ১৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের পরের তৃতীয় দিন, ২১ ঈদুল আজহার পরের চতুর্থ দিন, ২৮ জুলাই আখেরি চাহার সোম্বা, ১৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম এবং ২৬ ডিসেম্বর শবে মিরাজ।

    হিন্দু পর্বের ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১১ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা, ৬ মার্চ শিবরাত্রি ব্রত, ২২ মার্চ দোলযাত্রা, ৪ এপ্রিল হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ৩০ সেপ্টেম্বর মহালয়া, ৭ ও ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা (সপ্তমী ও অষ্টমী), ১৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ২৮ অক্টোবর শ্যামাপূজা।

    এ ছাড়া ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১০ ফেব্রুয়ারি ভস্ম বুধবার, ২৫ মার্চ পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ পুণ্য শুক্রবার, ২৭ মার্চ পুণ্য শনিবার, ২৮ মার্চ ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর যিশুখ্রিষ্টের জন্মোৎসব (বড়দিনের আগে ও পরের দিন) হচ্ছে খ্রিষ্টান পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি।

    ঐচ্ছিক ছুটির বৌদ্ধ পর্বের মধ্যে রয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি (তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য), ১৯ ও ২১ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা (পূর্বের ও পরের দিন), ১৮ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ১৫ সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা এবং ১৪ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে রয়েছে—১২ ও ১৫ এপ্রিল বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অনুরূপ সামাজিক উৎসব।

    ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একজন কর্মচারীকে তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে অনধিক মোট তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

    যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইনকানুন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে বা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার থেকে অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে—সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

    এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

  • অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তিতে রসূল সা:শেখানো ৫টি আমল

    অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তিতে রসূল সা:শেখানো ৫টি আমল

    জীবনে কখনো সুসময় আসে, আবার কখনো অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। আয় কমে যাওয়া, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সাহায্য কামনা করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    ইসলামে অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তির জন্য দোয়া, ইস্তেগফার, তাকওয়া এবং হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ঋণের বোঝা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। অর্থনৈতিক সংকটে যেসব আমল ও করণীয় অনুসরণ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো-

    ১. ঋণমুক্তির দোয়া পড়া

    ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি ঋণমুক্তির উপায় জানতে চাইলে তিনি নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দেন।

    দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

    অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল দিয়ে আমাকে এমনভাবে যথেষ্ট করে দিন, যাতে হারামের প্রয়োজন না হয়। আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত রাখুন। (তিরমিজি: ৩৫৬৩)

    এই দোয়ায় হালাল উপার্জনের মাধ্যমে অভাব দূর করা এবং অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত থাকার প্রার্থনা রয়েছে। তাই ঋণের চাপে থাকা ব্যক্তিরা আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়াটি পড়তে পারেন।

    ২. দুশ্চিন্তা ও ঋণের ভার থেকে মুক্তির দোয়া

    অর্থনৈতিক সংকট শুধু আর্থিক সমস্যাই তৈরি করে না, মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে। ঋণ পরিশোধের চিন্তা, সংসারের খরচ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া শিখিয়েছেন।

    দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

    অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের কাছে পরাভূত হওয়া থেকে। (বুখারি: ৬৩৬৯)

    দোয়াটিতে ঋণের বোঝার পাশাপাশি মানসিক অস্থিরতা, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে মুক্তির প্রার্থনাও রয়েছে।

    ৩. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

    অভাব-অনটন থেকে মুক্তি ও রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তেগফার। ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    পবিত্র কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)

    এই আয়াতগুলোতে ইস্তেগফারের সঙ্গে আল্লাহর নেয়ামত, ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত ইস্তেগফার করা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তবে ইস্তেগফারকে সম্পদ বৃদ্ধির যান্ত্রিক নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

    ৪. তাকওয়া অবলম্বন ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা

    অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাকওয়া অবলম্বন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়া অর্থ আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করা।

    আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: ২-৩)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিপদের সময় একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং তাঁর বিধান মেনে চলা। অর্থকষ্টের কারণে হারাম উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়া উচিত নয়। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং বৈধ উপায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করাই প্রকৃত তাওয়াক্কুল।

    ৫. হালাল উপার্জন ও ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা

    ইসলাম দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের জন্য পরিশ্রম করার নির্দেশনা দিয়েছে। তাই অর্থকষ্টে পড়লে শুধু দোয়া করে বসে না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী খরচ কমানো, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে কিস্তি বা পরিশোধের সময় নিয়ে আলোচনা করা উচিত। পাশাপাশি সুদ, প্রতারণা ও অন্যায় উপায়ে অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছার গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে তা পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।’ (বুখারি: ২৩৮৭)

    এ হাদিস থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিক নিয়তের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধের চেষ্টা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    অর্থকষ্ট ও ঋণের বোঝা মানুষের জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। তবে এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, নিয়মিত ইস্তেগফার করা, তাকওয়া অবলম্বন এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো পড়ার পাশাপাশি আর্থিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তাই বিপদের সময় তার রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে দোয়া, তওবা, পরিশ্রম ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করতে হবে।

  • যেসব কারণে এত বাজেভাবে হেরেছেন রিপাবলিকানরা

    যেসব কারণে এত বাজেভাবে হেরেছেন রিপাবলিকানরা

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে আসন হারাতে হয়। তবে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়কে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ, ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচারণা, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন—এই পাঁচটি বিষয় রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    ১. জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভোটার

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভোটারদের এই অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

    নির্বাচনের আগে উত্তর ক্যারোলাইনার এক ভোটার বলেন, ‘গ্যাসের দাম, মুদিপণ্যের দাম, সবকিছুরই দাম বাড়ছে।’

    তিনি জানান, এবার রিপাবলিকানদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

    জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলারের সামান্য নিচে ছিল।

    ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব উঠে এসেছে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জন (৭৯ শতাংশ) ভোটার বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ও তাদের পরিবার মাঝারি বা গুরুতর দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

    জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বেশি এ জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের নীতির কারণেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

    ২. ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ

    জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইরান যুদ্ধ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

    এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর। পেট্রলপাম্পে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে তাদের।

    যুদ্ধটি অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) সমর্থকদের অনেকের কাছেও এটি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না।

    একটি জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন (৬৩ শতাংশ) বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তিন-চতুর্থাংশ ভোটার (৭৪ শতাংশ) জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    নির্বাচনের পরদিন সকালে পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না।

    ৩. ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচারণা

    ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পেছনে শক্তিশালী প্রার্থীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিশেষ করে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে নিজেদের গ্রহণযোগ্য ও আন্তরিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন।

    প্রচারণায় তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সুসংহত বার্তা দিয়েছেন।

    টেক্সাসে সাবেক শিক্ষক জেমস টালারিকো এবং কানসাসে যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন নিজেদের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক অবস্থান এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    সাউথ ক্যারোলাইনায় অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুস। সাবেক এই শিশু বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। দেশটির অনেক নাগরিকই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন।

    মিশিগানে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল আল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের ধরে রেখেছেন। তার প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল, ‘রাজনীতি থেকে অর্থ দূর করুন, অর্থ আপনার পকেটে আনুন।’

    জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে প্রচারণার প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প দুবার জয়ী হওয়া এই রাজ্যে ৩৯ বছর বয়সি অসফের সহজ জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জল্পনা আরো বাড়াবে।

    এমনকি ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের প্রশংসা করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা ভালো কাজ করেছে।’

    অন্যদিকে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী দুর্বল প্রচারণার কারণে সমালোচিত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    ৪. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া রিপাবলিকানদের জন্য বোঝা

    ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান দুটি বিষয়—নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ—সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও।

    এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। এতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি রাজ্য এবার রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    নির্বাচনি প্রচারণায় সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ট্রাম্প ভোটারদের এমনভাবে কল্পনা করতে বলেন, যেন ব্যালটে তার নাম রয়েছে।

    তবে মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রে এক দশকের বেশি সময় ধরে থাকা ট্রাম্পের পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় রিপাবলিকান প্রচারণার কেন্দ্রে ট্রাম্পকে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তা দলের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে জনমত জরিপে দেখা যায়, অনেক মার্কিন নাগরিক চেয়েছিলেন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাদের উদ্বেগকে ট্রাম্প আরো গুরুত্ব দিন।

    কিন্তু সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শেষ নির্বাচনি ভাষণে তিনি হোয়াইট হাউসের পেছনে অবস্থিত রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

    ৫. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তাদের সমর্থন ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই প্রবণতা পাল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসীয় আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি আসনেই জয় পেয়েছেন।

    নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে। তথ্য প্রতিবেদক জেফ অ্যাডেলসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জনতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি।

    অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে ক্ষোভের মধ্যেই ভোটারদের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।

    কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতেও সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচন এখনো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলোম জয়ী হলে ১৯৮২ সালের পর তিনিই হবেন মিসিসিপি থেকে সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট।

  • হরমুজে মাইনে আঘাত পেয়ে ট্যাংকারে আগুন

    হরমুজে মাইনে আঘাত পেয়ে ট্যাংকারে আগুন

    হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে। এতে জাহাজটির যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর বিবৃতির বরাতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় একটি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পায়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্যাংকারটি তার শনাক্তকরণ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তেহরান বারবার জাহাজমালিকদের সতর্ক করে জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ। সমন্বয় ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অবৈধ জাহাজের জন্য এটি বন্ধ রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কানাডিয়ানদের ‘বিজয়’

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কানাডিয়ানদের ‘বিজয়’

    যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের যে ফল এসেছে, অনেক কানাডিয়ানই হয়তো এমনটাই চেয়েছিলেন। কারণ ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক জয়কে আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক মিত্রদের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বুধবার সকালে বলেন, ‘আমি আনন্দে রাস্তায় ডিগবাজি খাচ্ছিলাম।’

    তিনি একে ‘কানাডার জন্য একটি বিজয়’ বলে বর্ণনা করেন।

    মঙ্গলবার রাতের এই ফলাফল হয়তো খুব শিগগিরই কানাডাকে ওই শুল্ক থেকে স্বস্তি এনে দেবে না। তবে বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো অটোয়ার জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যাতে তারা ভালো কোনো সমঝোতা করতে পারে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

    ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ ও চাক শুমার, যাদের রাজনৈতিক প্রভাব এখন আরো বেড়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    তবু কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ শুল্কনীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে না-ও পারে। কারণ ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বেশির ভাগই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

  • আমি মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা

    আমি মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা

    ক্যাথলিক স্কুল ও বিভিন্ন ধর্মের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন নেটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশনে বড় হওয়া আদিবাসী নারী অ্যাঞ্জেলা। জন্মগতভাবে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলা জানান, অন্যান্য ধর্মের নানা মতবাদ তাকে বিভ্রান্ত করলেও ইসলামের শিক্ষার মাঝে তিনি তার দীর্ঘদিনের আত্মিক জিজ্ঞাসার প্রকৃত উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।

    এবাউট ইসলামকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেছেন।

    অ্যাঞ্জেলা বলেন, ‘আমার নাম অ্যাঞ্জেলা। সত্যি বলতে, আমার ইসলামের পথে যাত্রা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, তা আমি নিজেও খুব একটা জানি না। আমি একজন আমেরিকান হিসেবে বেড়ে উঠেছি। আমার শৈশব কেটেছে একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায়। জায়গাটি হয়তো আপনাদের অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। তবে আমরা ছিলাম খুবই আধ্যাত্মিক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি সব সময় সৃষ্টিকর্তার কথা বলতেন। তারা আমাকে নানা গল্প শোনাতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব কথা শুনে বড় হয়েছি। আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমাদের সব আদিবাসী শিশুকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সম্ভবত তাদের ধারণা ছিল, এভাবে আমাদের আরও বেশি আমেরিকান করে তোলা যাবে। সেখানে আমি দুই বছর কাটিয়েছি। কিন্তু সেখানকার কোনো কিছুই আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ওই দুই বছরে আমি শুধু একটি বিষয়ই বুঝতে পেরেছিলাম আমি নিশ্চিতভাবেই ক্যাথলিক নই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, ‘তোমার ধর্ম কী?’ আমি বলতাম, ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না।’ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করি, কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। এটি আমাদের জীবনযাপনেরই একটি অংশ। আমরা দিনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রার্থনার মধ্যে কাটাই। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সব সময় বলতেন, আমাদের এমনভাবে চলতে হবে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপই একটি প্রার্থনা। তাদের কথা ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রার্থনা হয়। আর তুমি যদি এভাবে জীবনযাপন করতে পারো, তাহলে বুঝবে তুমি সঠিকভাবে জীবন কাটাচ্ছ।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এই জীবনধারার কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। তাই যখন কেউ প্রশ্ন করত, ‘তোমার ধর্ম কী?’ তখন আমি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম। সব ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা একসময় আমি অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। সব ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলাম। যে ধর্ম সম্পর্কেই কিছু জানার সুযোগ পেতাম, আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইতাম, ‘এটা আসলে কী?’

    তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে আমার মনে হতো, ‘এটা তো ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’ আমি দিনে যতবারই প্রার্থনা করি না কেন, কখনোই তো সৃষ্টিকর্তা হয়ে যেতে পারব না। এটা তো সম্ভব নয়। এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। একসময় একজন মুসলিমের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘আরে! তুমি সত্যিই এসব করো? আমিও তো এমনটাই করি। ধীরে ধীরে আমার মনে হতে লাগল, ইসলাম সম্পর্কে আরও বেশি করে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। আমি ইন্টারনেটে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব পড়তে শুরু করলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবকিছুই আমার কাছে বেশ অর্থবহ মনে হতে লাগল। এর বেশির ভাগ বিষয়ই ছিল এমন, যা আমি আমার দাদা-দাদির কাছ থেকে আগেই শুনেছিলাম।’

    পবিত্র কোরআন পাঠ প্রসঙ্গে অ্যাঞ্জেলা বলেন ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। একদিন একটি মুদি দোকানে গিয়ে ছোট্ট একটি বইয়ের ঝুড়ি দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষ তাদের পুরোনো বই জমা দিত। অন্যরা সেসব বই কিনত, আর বিক্রির অর্থ দান করা হতো দাতব্য কাজে। বইয়ের স্তূপের একেবারে ওপরে ছিল ইসলামবিষয়ক বেশ কয়েকটি বই। আমি মনে মনে বললাম, ‘বাহ! দারুণ তো।’

    তিনি বলেন, ‘আমি পুরো স্তূপের বইগুলো কিনে বাড়ি ফিরলাম। এরপর সেগুলো পড়তে শুরু করলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, ‘এ তো সত্যিই অর্থবহ।’ এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম, পবিত্র কোরআন পড়ার চেষ্টা করব। আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম। প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কারণ, কোরআনে পড়া অনেক বিষয় আমার দাদার কাছ থেকে শোনা কথার সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল না। কিছু বিষয় আমার কাছে ভিন্ন মনে হচ্ছিল। তবুও আমি কোরআন পড়তে থাকলাম। একসময় আমার মনে হলো, ‘বাহ! আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি। অথচ কখনো জানতামই না।’ ধীরে ধীরে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হতে লাগল। ইসলামকে আমার কাছে অর্থবহ মনে হতে শুরু করল। আর আজ আমি এখানে।’

  • নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত

    নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে কৃষক বাবা আফসার শেখ (৬০) নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ছেলে খায়রুল শেখ (২৪) পলাতক রয়েছেন।

    পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বেকার ছেলে খায়রুল নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মায়ের সাথে বাগ্বিতণ্ডা করত। টাকা না পেয়ে মাঝে-মধ্যে বাড়ির বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র ভাঙচুরও করত। এরই জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবা আফসার শেখের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে খায়রুল। একপর্যায়ে খায়রুল বটি দিয়ে হাত, বুক, পেট ও মাথায় কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করে। এ সময় খায়রুলের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ঘটনার পর খায়রুল পালিয়ে যায়।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পলাতক ছেলে খায়রুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাঠে নামছেন ৭ লাখের বেশি মানুষ

    ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাঠে নামছেন ৭ লাখের বেশি মানুষ

    জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে সাত লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ) সদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।

    ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নগুলোর সমন্বিত জোটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্যারিসের বাইরে পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখ এবং রাজধানীতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন।

    উচ্চ বেতন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে এ আন্দোলনে শ্রমিক, সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এবারও ঠিক একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইজিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

    নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ’ নিশ্চিত করাই এ ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে আয়োজকদের করা আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে প্রশাসনিক আদালত। পুলিশ প্রিফেকচারের নির্ধারিত রিপাবলিক স্কয়ার থেকে নাসিওঁ স্কয়ার পর্যন্ত মিছিলের পথ বহাল রেখেছে আদালত।

    এর আগে ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বাস্তিল স্কয়ার থেকে জাতীয় পরিষদের কাছের কনকর্ড স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রাজধানীতে গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতা এবং সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়নি।

    এদিকে, দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহন খাতেও ব্যাপক বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক রেল চলাচলে মাঝারি থেকে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়তে পারে। এ রুটে প্রতি ১০টি উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের মধ্যে একটি বাতিল হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • চৌগাছায় সোনার দোকানে চুরি

    চৌগাছায় সোনার দোকানে চুরি

    এম এ রহিম,চৌগাছা, (যশোর):
    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ব্যাংক সড়কের বীণা জুয়েলার্সে দুর্ধষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে এ চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারনা করছেন। জুয়েলার্সের মালিক ইমরান হোসেন মিঠু জানান চোরেরা চার ভরি স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার বিশ ভরি ও নগদ টাকাসহ প্রায় দশ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন চোরেদের আটকের ব্যাপারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ,আর

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে কয়েক মাস ধরেই মতবিরোধ চলছে। এরআগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন এবং যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে সতর্ক করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শও দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে সীমিত পরিসরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে হামলা চালালেও তা নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

    এদিকে, নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। তবে নির্বাচনের আগে হামলা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিকমাধ্যমে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’ তার মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার দলটির পাশ থেকে সরে গেছেন।

    ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

    বর্তমানে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।

    কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে প্রশাসনের একাংশ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে। সব মিলিয়ে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ইরান নীতি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

  • বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

    বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

    কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এসব ভিডিও। সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পাওয়ার আগেই নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছিল টিকটক।

    সম্প্রতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এতে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরানো ভিডিওর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যাচাইয়ের পর ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বজুড়েও এ সময়ে বিপুলসংখ্যক ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। তিন মাসে বিভিন্ন কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১৮ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এসব ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল। আর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়। যাচাইয়ের পর ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৩টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওর পাশাপাশি মন্তব্য ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে টিকটক। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৩টি মন্তব্য সরানো হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮। এ ছাড়া ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী বলে সন্দেহ হওয়ায় আরও ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরিয়ে দেওয়া ভিডিওগুলোর ধরন সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে টিকটক। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভিডিওতে সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু ছিল। নিরাপত্তাসংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গের কারণে সরানো হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও। বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের কারণে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শালীনতা ও আচরণসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা কনটেন্টের কারণে সরানো ভিডিওর হার ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিকটক।

  • শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

    শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

    শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার দেশের সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

    এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা রয়েছেন।

    তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

    এনবিআর সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তালিকায় আরো রয়েছেন ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

  • সাইয়েদ-জুকাকু, দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

    সাইয়েদ-জুকাকু, দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

    তবে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আলোচনায় উঠে এসেছেন আরেকজন—স্ত্রী সারা জুকাকু। পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এই নারী শুধু একজন সম্ভাবনাময় মার্কিন রাজনীতিকের জীবনসঙ্গী নন, তার পারিবারিক শিকড় ছড়িয়ে আছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকাল পর্যন্ত।

    আবদুল আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সারার শিক্ষাজীবন, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের গল্পও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রায় দুই দশকের এই সংসারে একদিকে রয়েছে মিসরীয়-আমেরিকান সংস্কৃতি, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য। তাদের পরিবারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান।

    সারার গল্পের বিশেষত্ব হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার—সবকিছুর মধ্যেও তিনি ধরে রেখেছেন নিজের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক। স্বামীর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্জনের মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সারা যেন দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির এক অনন্য সংযোগ হয়ে উঠেছেন।

    মিশিগানে জন্ম, শিকড় কর্ণাটকের ভাটকালে

    সারা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠলেও তার পরিবারের শিকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকালে। তাদের পরিবার নাওয়ায়াথ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ম্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের দক্ষিণ ভারতের এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক কয়েক প্রজন্মের সম্পর্ক এখনো বজায় রয়েছে।

    সারার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিডি জাট্টির অধীনে তিনি অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্থানীয় পর্যায়ে ভাটকালের উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, সড়ক নির্মাণ, নগর পরিকল্পনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার অবদানের কথা এখনো স্মরণ করেন স্থানীয়রা। ভাটকালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থা আনজুমান হামি-ই-মুসলিমিন তাদের প্রশাসনিক ভবনের নামও রেখেছে তার নামে।

    জুকাকু শামসুদ্দিন মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান। তার পরিবারে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা বেগম, ছয় মেয়ে ও চার ছেলে। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তাদের অনেকে বেঙ্গালুরুতে বসতি গড়েন। এই পরিবারেরই একজন সারার বাবা চিকিৎসক ডা. জুকাকু এস তাইয়েব।

    চিকিৎসক বাবার হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি

    সারার বাবা তাইয়েবের শৈশব কেটেছে ভাটকালে। ১৯৭৬ সালে তিনি বেঙ্গালুরুর ব্যাঙ্গালোর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে মধ্যপ্রাচ্যে কিছু সময় কাটিয়ে ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে স্থায়ী হন।

    সেখানে তিনি কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের মধ্যেও ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও সারার কাছে ভাটকাল ছিল অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ছোটবেলায় তিনি বেঙ্গালুরু ও ভাটকাল সফর করেছেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পূর্বপুরুষের শহর সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।

    সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও সারা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ভারত সফর করতেন। ভাটকালে গিয়ে তারা পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও দাদার পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতেন। বর্তমানে এসব সফরের সংখ্যা কমে গেছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সারাও পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। সেখানে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    পড়াশোনা অক্সফোর্ড ও কলাম্বিয়ায়, পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

    সারা জুকাকুর নিজের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও নিকট প্রাচ্যবিষয়ক বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার জন্য ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাগেলোস কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে। ২০১৫ সালে সেখান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে মনোরোগবিদ্যায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

    সারা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগবিদ্যায় রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিশিগানের অ্যান আরবারে ব্যক্তিগত চেম্বারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখেন।

    অর্থাৎ স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সারার রয়েছে নিজস্ব পেশাগত পরিচিতি। চিকিৎসক হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীর রাজনৈতিক পথচলাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় থেকে দুই দশকের সংসার

    আবদুল আল-সাইয়েদ ও সারার পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থী সংগঠন মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা। ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের প্রেম ও বিয়ের আগের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত উঠে আসে।

    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দুজনের প্রেমের সময় দেখা-সাক্ষাৎ হতো পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে। বিয়ের আগে তারা শারীরিক স্পর্শ থেকেও বিরত ছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

    ২০০৬ সালের মে মাসে তাদের বিয়ে হয়। তখন সারার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে তাদের সম্পর্কের ভিত হয়ে উঠেছে পারস্পরিক আস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন। তাদের পরিচয় থেকে বিয়ে—পুরো ঘটনাই যেন দুই ভিন্ন পারিবারিক সংস্কৃতির এক মিলন।

    দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার, রাজনীতির মঞ্চেও পাশে সারা

    আবদুল ও সারার সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে—এমিলি ও সেরিন। তারা মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবন যতটা প্রকাশ্য, সারা ও তাদের দুই মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন ততটাই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন পরিবারটি। তবে ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনে সারাকে স্বামীর পাশে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে।

    বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ডেট্রয়েটে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। স্বামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সারা বলেন, আবদুল নিজের পরিবারের জন্য যেভাবে সব সময় পাশে থাকেন, মিশিগানের পরিবারগুলোর প্রতিও তিনি একইভাবে দায়িত্বশীল থাকবেন।

    নির্বাচনী প্রচারে তার উপস্থিতি শুধু একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং স্বামীর রাজনৈতিক দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবনের একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবেও তাকে সামনে নিয়ে আসে।

    এক নির্বাচনী সমাবেশে স্বামীকে নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘ওকে কে কী করতে বলবে, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না—শুধু আমি ছাড়া!’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা ও খুনসুটির প্রতিফলন দেখা যায় এই মন্তব্যে।

    ‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’

    আবদুল আল-সাইয়েদের পারিবারিক পরিচয় মিসরীয়-আমেরিকান। তার বাবা মোহাম্মদ আল-সাইয়েদ মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। অন্যদিকে স্ত্রী সারার পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ ভারতে। ফলে তাদের সংসারে দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে।

    দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবদুল প্রায়ই রসিকতা করেন। তার এমন একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে—‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি।’

    আরেকবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নিজেকে ‘দেশি নারীদের’ মধ্যে ঘেরা বলেও মজা করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বোঝাতে ‘দেশি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

    এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, স্ত্রীর ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্যকে তিনি কতটা আপন করে নিয়েছেন। তাদের সংসারে মিসরীয় সংস্কৃতি ও দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে।

    ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস, ভাটকালেও আনন্দ

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসরের পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলেই থাকল।

    তবে তার এই বিজয়ের আনন্দ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের কর্ণাটকের ভাটকালেও তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস।

    সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা আবদুলের সাফল্যে গর্বিত। তাদের কাছে তিনি একজন মূল্যবোধসম্পন্ন ও জনসেবায় নিবেদিত মানুষ।

    পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা না করলেও সারার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়।

    আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয় তাই ভাটকালের জুকাকু পরিবারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে পরিবারের পূর্বপুরুষ একসময় দক্ষিণ ভারতের একটি শহরের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই পরিবারেরই একজন উত্তরসূরি আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হতে যাওয়া একজন নেতার জীবনসঙ্গী।

  • বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। আগামী এক মাসের মধ্যেই শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

    ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও ইউনিটভিত্তিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি কার্যক্রম।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনলাইনে ভর্তির আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি। ওই দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। তবে পরীক্ষার পদ্ধতি ও পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    ‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্য ইউনিটগুলোর পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি। তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ মার্চ, ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ মার্চ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু: নতুন ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু: নতুন ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৬।

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • সৌদির কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের

    সৌদির কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের

    যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ বছর ধরে চালানো বিমান হামলা ও অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা এই অর্থ চাইছে।

    পাশাপাশি, ইয়েমেনের শাসক হিসেবে আনসারুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আরামকো স্থাপনা, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হুথিদের হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশেপাশে ভূখণ্ড দখলের ঘটনার পর রিয়াদ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

    হুথিদের ভাষ্যমতে, ৫১ বিলিয়ন ডলারের এই অঙ্কটি সৌদি আরবের হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের কারণে হওয়া ক্ষতির বিপরীতে চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা হলেও, সমঝোতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারের কোঠাতেই রয়েছে।

  • হামের টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন

    হামের টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন

    হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এ-সংক্রান্ত দায়দায়িত্বও পর্যালোচনা করবে কমিশন। হামের প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং টিকার সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিশন গঠন করা হলো।

    বুধবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’-এর ৩ ধারায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।

    বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কমিশনের কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে কেন বিলম্ব হয়েছে, কোথায় অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় কতটুকু, তা খুঁজে বের করবে কমিশন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিশন। কমিশনের বিবেচনায় এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়েও সুপারিশ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    তদন্তের প্রয়োজনে কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে কমিশনের।

    গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ অনুসরণ করে তদন্তকাজ সম্পন্ন

    করতে হবে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিশনকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা, ব্যয় নির্বাহ এবং জনবল সরবরাহ করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

    এ ছাড়া কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ অথবা এর অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বিভাগটি। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কমিশন গঠনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বললেন, গত ৫০ বছরে দেশে যে শিল্প-কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্প-কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ।

    সম্প্রতি ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে লাগাতার বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। ভাঙচুর চালানো হয় বিভিন্ন অবকাঠামোতে।

    এসব কর্মকাণ্ডকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী ভাই-বোন কিংবা শ্রমিক কখনো শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না।

    বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

    এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে অবগত। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন। ’

    বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

    পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

    এর আগে সকালে মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

  • ১৩১ বার পেছাল সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

    ১৩১ বার পেছাল সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। এ নিয়ে ১৩১ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় পেলো তদন্ত সংস্থা।

    বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    উল্লেখ, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

    এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    গত ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

In English

English edition · Older English stories