নবীন কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও কর্মজীবনে এর কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নব-যোগদান করা কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সব কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’
তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ প্রতিপালন করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও আনসার অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সংঘাতময় ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করে। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্য তিনি নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৮০ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ২৫ জন কর্মকর্তা সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ (১ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।
মন্ত্রী-এমপিদের তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিতে এই তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই সচিবের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রী।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চার যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে সুবিধা পাইয়ে দিতে মন্ত্রী-এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের এমন তদবিরের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পছন্দমতো বদলি ও পদায়ন পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুপারিশ করাচ্ছেন। কখনো মৌখিক, আবার কখনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের মাধ্যমে এসব তদবির করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে আসার পর এ প্রবণতা বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দায়িত্বপালনকারী অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তাকে জেলা পর্যায়ে বদলি করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বড় অংশই ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মন্ত্রী-এমপিঘনিষ্ঠ। বিএনপি সরকার গঠনের পরও ক্ষমতাচ্যুত সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সরানো হয়। তবে সম্প্রতি ওইসব কর্মকর্তার অনেকেই বিএনপির মন্ত্রী-এমপিদের আনুকূল্য পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার বদলি পদায়নের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে ডিও লেটার পাঠাচ্ছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনিকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করেন। পরদিন একই কর্মকর্তার বদলির সুপারিশ করে একই সচিবকে চিঠি দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুই চিঠির বক্তব্যও প্রায় অভিন্ন।
চিঠিতে মনিরুজ্জামানকে সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ও তার পরিবার জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় একটি নির্মাণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। এতে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ চলছে। শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে ঢাকা মেট্রো এলাকায় বদলির সুপারিশ করা হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে চিঠি দিয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের চার যুগ্ম সচিবের পদোন্নতি বিবেচনার অনুরোধ জানান। তারা হলেন—জাহিদুল ইসলাম, ড. আমজাদ হোসেন, মল্লিকা খাতুন ও মাহফুজুর রহমান। মন্ত্রী তাদের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেন। পরে উপদেষ্টা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার খুবই কঠোর। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির বন্ধে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ বিধি অনুযায়ী এ ধরনের তদবিরকে বিধিমালার লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদবিরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য তার ডসিয়ারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ নির্দেশনা অনুসারে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা সরকারের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়নসহ চাকরিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির করছেন। এ ধরনের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। সুপারিশের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শৃঙ্খলাপরিপন্থি ও আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব জমিতে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুম হারাচ্ছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তালা উপজেলার শাকদাহ বিল। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ একসময় এই বিলে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় গবাদিপশুর চারণভূমিও কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে ফসল হারানোর পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ধানের জাত এবং বিকল্প চাষপদ্ধতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকায় আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা রয়েছে তালা উপজেলায়। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় অনেক জমিতে আমন চাষ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব জমিতে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুম হারাচ্ছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তালা উপজেলার শাকদাহ বিল। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ একসময় এই বিলে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় গবাদিপশুর চারণভূমিও কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে ফসল হারানোর পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ধানের জাত এবং বিকল্প চাষপদ্ধতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় একমাত্র পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে পারলেন না ১২ শিক্ষক। কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। কলেজ শাখায় ১২ জন শিক্ষক পাঠদান করালেও একমাত্র পরীক্ষার্থীর পাস করতে না পারার ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী সঞ্জীব বর্মন একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। সে সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ আগামীতে ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও পদ নিয়ে নানা জটিলতার ঘটনাও ঘটে।
কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এটি এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে অফিস সহায়কসহ কলেজে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
অধ্যক্ষের দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীসংকটের সমাধান হয়নি। ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পরীক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চালকলের ছাই, বর্জ্য, পলিথিন ও দূষিত পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খাজানগর-কবুরহাট এলাকার কৃষিজমি ও জনবসতি। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় পরিবেশ দূষণ বন্ধে মিল মালিকদের দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা পেরিয়ে গেছে দুই মাসের বেশি সময়। কিন্তু দূষণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ২৯ জুলাই খাজানগরের চালকলগুলোতে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে অভিযান চালায় পরিবেশ রক্ষা কমিটি। এ সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণে মিল মালিকদের দুই মাসের সময় দেওয়া হয়। অভিযানে মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল ওয়াজিউর রহমান মিল মালিকদের সতর্ক করে বলেন, এভাবে পরিবেশ দূষণ করা যাবে না। মিল মালিকদের সদিচ্ছার অভাবে যেভাবে দূষণ হচ্ছে, দুই মাস পর যেন আর এমন পরিস্থিতি দেখতে না হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরসংলগ্ন স্বর্গপুর গ্রামের কৃষক মন্টু সাধু বলেন, চালকলের ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, নোংরা পানি ও ছাই এসে পড়ছে তাঁদের আবাদি জমিতে। এতে জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন ১০ মণও পাওয়া যাচ্ছে না।
মন্টু সাধুর অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা বলে, ‘ময়লা পানি ও ছাই এভাবেই যাবে।’ কৃষি কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি তাঁরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেও মিল মালিকদের রোষানলে পড়তে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
খাজানগর এলাকার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি কর্মকর্তা এসে মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।’ এলাকার গৃহবধূ শ্যামলী খাতুন বলেন, ‘ছাই ও দূষণের কারণে সন্তানদের নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মিল মালিকদের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও সেই সময় পার হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং ভোগান্তি বেড়েছে।’
কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘যেসব মিল মালিকের বিরুদ্ধে ছাই ছড়ানো ও বায়ুদূষণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পরিবেশদূষণ বন্ধে নিয়মিত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দূষণকারী চালকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ২৭টি মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে মিলগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—অতি দূষণকারী, মধ্যম দূষণকারী, নিম্ন দূষণকারী ও গ্রহণযোগ্য। এর মধ্যে অতি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
ভাগ্য কখন যে কাকে কোথায় নিয়ে যায়, কেউ বলতে পারে না। আজ যে ধনী, কাল সে পথের ফকির। আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। এমনই এক গল্পের নায়ক রিয়েল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার ইয়ান দিওমান্দে।
পুরনো কাপড়, ছেঁড়া মোজা কিংবা ন্যাকড়া পেঁচিয়ে বানানো ফুটবল। কখনো ভাগ্য ভালো থাকলে জুটত প্লাস্টিকের বল। আরও বেশি ভাগ্যবান হলে পুরোনো চামড়ার একটা ফুটবল।
আইভরিকোস্টের আবিদজান শহরের ইয়োপুগন এলাকার সিকোজি মহল্লায় এভাবেই ফুটবল খেলত একদল শিশু। পায়ের নিচে কখনো মাটি, কখনো সিমেন্টের রাস্তা। আশপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় বাঁচিয়ে বল নিয়ে ছুটে চলা। পায়ে জুতা নেই। থাকলেও স্যান্ডেল। সেই শিশুদের একজনের নাম ইয়ান দিওমান্দে।
যে মহল্লায় তিন বেলা খাবার জোটানোই স্বপ্ন, সেখানে ফুটবল বুট তো রাজকীয় বিলাসিতা! অথচ ওই ছেলেটার স্বপ্ন ছিল রাজকীয়ই। একদিন আফ্রিকার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হবে সে। স্বপ্নটা যে একদিন সত্যি হওয়ার পথে এত দূর এগোবে, কে জানত! দিওমান্দে এখন রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার। যে পায়ে একদিন জুতাও ছিল না, সেই পায়ে এখন ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে অভিজাত ক্লাবের স্বপ্ন। যেন রূপকথার কোনো গল্প!
কিন্তু রূপকথার শুরুটা মোটেও সুন্দর ছিল না। কাজের সন্ধানে বাবা চলে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। মা আর বোন রোকসানের কাছে বেড়ে ওঠা দিওমান্দের। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। আনন্দ বলতে ফুটবল। আর সেই ফুটবলে ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা অন্য রকম।
ড্রিবলিংয়ে অবিশ্বাস্য দক্ষতা। শটে প্রচণ্ড শক্তি। পাড়ার লোকজন তাই নাম দিয়েছিল ‘রবার্তো কার্লোস’। ব্রাজিলের সেই বিখ্যাত বাঁ পায়ের ফুটবলারের নামে। একদিন রাস্তার ফুটবলে বদলে গেল জীবন।
দেজ বাম্বা নামের এক ব্যবসায়ী ও ফুটবল প্রতিভা অন্বেষকের চোখে পড়ল ছেলেটা। বাম্বা তাঁকে নিয়ে গেলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত এএফআই সুদ কোমোয়ে একাডেমিতে। আবিদজান থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে আসুবার সেই একাডেমিতে ২০১৪ সালে পৌঁছাল ১০ বছরের দিওমান্দে। সেখানে আরও ৪০ জন প্রতিভাবান শিশু। অনেকের জীবনেই প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ। দিনে তিন বেলা, কখনো চার বেলা খাবার! দিওমান্দের কাছে যেন স্বর্গ।
একাডেমির দায়িত্বে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ হোসে হুলিয়ান লোপেস। এখন স্পেনের ভালদেমোরো ফুটবল একাডেমির সমন্বয়ক। তাঁর স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল সেই ছোট্ট ছেলেটা। লোপেসের ভাষায়, ‘প্রথম দেখাতেই বুঝেছিলাম, বল পায়ে ছেলেটা বিশেষ কিছু। ড্রিবলিং করত, ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জ জানাত, ভেতরে ঢুকে পড়ত। অসম্ভব সাহসী ছিল।’ এতটাই প্রতিভাবান যে অনূর্ধ্ব-১২ থেকে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৪ দলে তুলে নেওয়া হয়।
সমস্যা ছিল একটাই। বল পেলে থামতে চাইত না দিওমান্দে। নিজেদের গোলপোস্টের কাছ থেকে ড্রিবলিং শুরু করে পাঁচ-ছয়জন বড় ফুটবলারকে কাটিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে পৌঁছে যেত। কখনো গোল, কখনো বল হারানো। লোপেসের প্রথম কাজ ছিল তাঁকে থামতে শেখানো। কখন ড্রিবলিং করতে হবে, কখন পাস দিতে হবে, সেটা বোঝানো। ছেলেটা শিখতও অবিশ্বাস্য দ্রুততায়। লোপেস বলেন, ‘কোনো কিছু বোঝানোর সময় ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত, এখনো মনে আছে। শুধু কী করতে হবে, তা নয়, কেন করতে হবে, সেটাও বুঝতে চাইত।’
শুধু মাঠে নয়, পড়াশোনাতেও মেধাবী। একাডেমিতে আসা ৮০ শতাংশ শিশুই পড়তে বা লিখতে জানত না। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। দিওমান্দে দুই জায়গাতেই এগিয়ে। আর ফুটবল? লোপেসের স্মৃতিচারণা, ‘ড্রিবলিং আর শুটিং ছিল জন্মগত। আমরা ওকে প্রথম বুটজোড়া দিলাম। তারপর যেন উড়তে শুরু করল! অন্য ছেলেরা শট নিয়ে গোলপোস্টের কাছেও পৌঁছাতে পারত না। আর ও কর্নার নিত অবিশ্বাস্য দক্ষতায়।’
সর্বশেষ দলবদল উইন্ডোয় রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় কিনেছে। আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন দিওমান্দে।
বয়সে পাঁচ বছরের বড় ছেলেদের বিপক্ষেও ভয় পেত না। নিয়মিত লিগ না থাকায় একাডেমি প্রীতি ম্যাচ খেলত বিভিন্ন দলের সঙ্গে। সেখানে মূলত ডান উইংয়ে খেলত দিওমান্দে। ডিফেন্ডারদের জন্য ছিল মূর্তিমান আতঙ্ক। বাঁ উইংয়ে খেলা শুরু আরও পরে। আফ্রিকান ট্যালেন্ট এলিট একাডেমির পরিচালক ফ্রান কাস্তানিয়ো প্রথম তাঁকে দেখেন অনূর্ধ্ব-১৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাই টুর্নামেন্টে। বয়স তখন মাত্র ১৫। কাস্তানিয়োর স্মৃতিতে, ‘প্রথম মুহূর্তেই নজর কেড়েছিল। দুই উইংয়ে খেলতে পারত। গতি, শক্তি, দক্ষতা, গোল করার ক্ষমতা, সবই ছিল। টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকটি গোলও করেছিল। বাকিদের চেয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল।’
এমন প্রতিভার গন্তব্য ইউরোপই হওয়ার কথা। কিন্তু বাধা ফিফার নিয়ম। ১৮ বছরের আগে ইউরোপে গিয়ে খেলার সুযোগ নেই। ১৬ বছরে চুক্তি করা গেলেও খেলা যায় না। তাই দিওমান্দেকে যেতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। অথচ তাঁর একাডেমি বছরে দুবার স্পেনে টুর্নামেন্ট খেলতে যেত। দিওমান্দেকে দেখে মুগ্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের সাহস করেনি কেউ। সেই ছেলেই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল রিয়াল মাদ্রিদে।
ইয়ান দিওমান্দে রয়টার্স
সর্বশেষ দলবদল উইন্ডোয় রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় কিনেছে। আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন দিওমান্দে। শুরুটা ছিল মন্থর। রিয়ালের জার্সিতে প্রথম গোল ১০ অক্টোবর, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে।
ওই গোলে ১-০ ব্যবধানে জেতে দল। এরপর ছন্দ পেয়েছেন দ্রুত। লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে সাবেক ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে বদলি নেমে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দিয়েছেন অ্যাসিস্ট, আবার নিজে করেছেন দলের চতুর্থ গোলটিও। সব মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে এই মৌসুমে ১৩ ম্যাচে খেলেছেন ৬৫৬ মিনিট। ৩ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট। লা লিগায় শুরুর একাদশে পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন, পাঁচটিতেই জিতেছে রিয়াল। তাই কোচ হোসে মরিনিওর ‘পয়মন্ত’ হিসেবেও আলোচনায় এসেছেন।
আইভরিকোস্টে এখন উৎসব! দেশটির বাস্কেটবল দলের স্প্যানিশ কোচ মিগেল আনহেল ওইয়ো আবিদজান থেকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে বলেছেন, ‘এখানে সবাই শুধু দিওমান্দেকে নিয়েই কথা বলছে। চরম দারিদ্র্য থেকে প্রতিভা, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, ও তার প্রমাণ।’
এখন দিওমান্দে সেই ভালোবাসাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। দেশটির মানুষের কাছে তাঁর নাম উঠে আসছে দ্রগবা ও ইয়াইয়া তোরের মতো কিংবদন্তিদের পাশে।
দেশটির রাস্তায় এমনিতেই রিয়াল মাদ্রিদের সাদা আর বার্সেলোনার নীল-মেরুন জার্সি পরিচিত দৃশ্য। এখন সাদার আধিপত্য বাড়ছে। ওইয়োর কথায়, ‘পুরো দেশ যেন সাদা হয়ে যাচ্ছে।’
স্পোর্ট আইভরির সাংবাদিক কাদের গিলাভোগির মতে, এই উন্মাদনার পেছনে ইতিহাসও আছে। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে চেলসি ও বার্সেলোনার বিতর্কিত ম্যাচের পর দিদিয়ের দ্রগবার প্রতি সমর্থন থেকে অনেক আইভরিয়ান বার্সেলোনার বিপক্ষে চলে যান। জোসে মরিনিওর জনপ্রিয়তাও রিয়ালের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
এখন দিওমান্দে সেই ভালোবাসাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। দেশটির মানুষের কাছে তাঁর নাম উঠে আসছে দ্রগবা ও ইয়াইয়া তোরের মতো কিংবদন্তিদের পাশে। গিলাভোগি বলছেন, শুরুর মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা কাটিয়ে দিওমান্দে এখন নিজের সামর্থ্য দেখাচ্ছেন। দেশের তরুণদের জন্য হয়ে উঠেছেন উদাহরণ।
এমবাপ্পের সঙ্গে দিওমান্দে রয়টার্স
অথচ এই খ্যাতির মধ্যেও শিকড় ভোলেননি দিওমান্দে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছেন। নিয়মিত অর্থ পাঠান নিজের পুরোনো মহল্লায়। সেই সিকোজিতে, যেখানে একদিন ন্যাকড়ার ফুটবল নিয়ে দৌড়াতেন। তাঁর এই পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন বোন রোকসান। সেই প্রিয় বোন আর বেঁচে নেই। আফ্রিকার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হওয়ার স্বপ্নটা দেখেছিলেন তাঁরই উৎসাহে।
লোপেসের একাডেমির ১১ জন এখন ইউরোপে খেলেন। ২০ জনের বেশি আইভরিকোস্টের প্রথম বিভাগে। কিন্তু দিওমান্দের গল্পটা তাঁর কাছে আলাদা। কেন আলাদা? একাডেমির ছেলেদের কাছে একবার জানতে চেয়েছিলেন লোপেস, সেখানে থাকার সবচেয়ে বড় আনন্দ কী? উত্তর এসেছিল, ‘প্রতিদিন খেতে পারা।’ সেই শিশুদেরই একজন আজ রিয়াল মাদ্রিদে।
ফুটবল কখনো কখনো শুধু জীবন বদলায় না। একটা শিশুকে আকাশের ঠিকানাও দিয়ে দেয়।
মাঠজুড়ে পাকা আমন ধান। কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও চলছে ঘরে ফসল তোলার প্রস্তুতি। অথচ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কৃষকদের মনে নেই ধান কাটার চিরচেনা আনন্দ। সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত ধান কাটার মৌসুমে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকে। মাঠে ধান কাটতে কাটতে চলে জারি গান, গল্প আর হাসি-আনন্দ। ধান ঘরে তোলার পর শুরু হয় পরবর্তী কৃষিকাজ। কিন্তু এবার উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের অসংগতিতে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ফসল ঘরে তুলেও খরচের টাকা উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলেও প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি মণ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করলে আয় হয় ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচের চেয়ে আয় কম হচ্ছে। এর বাইরে জমির ইজারা বা ‘পারিবারিক শ্রমের মূল্য’ হিসাব করলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কৃষক জফের আলী বলেন, ‘সার, কীটনাশক, সেচ ও ডিজেলের দামসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। শুধু বাড়েনি কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য। সরকার নির্ধারিত দামে যে সার ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রির কথা, সেই সার কিনতে হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এক বস্তা সার কিনতেই প্রায় আড়াই মণ ধানের দাম চলে যাচ্ছে। তাহলে কৃষক বাঁচবে কীভাবে, আর আবাদই বা করবে কীভাবে? সরকারের কাছে অনুরোধ, ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করুন। তাহলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।’
ধানচাষি হানিফ আলী বলেন, ‘২৫ কাঠা জমিতে ধান আবাদ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ধান বিক্রি করে সেই টাকাও উঠছে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে আসেন না। বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমরা আবাদ করব কীভাবে? প্রতিদিন সবকিছুর দাম বাড়ছে, আর কৃষক শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ ধানচাষি জাকের আলী বলেন, ‘আমন ধানে সাধারণত আট থেকে ১০ বার সেচ দিতে হয়। কিন্তু এবার দিতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বার। বৃষ্টি না হওয়ায় ধান আবাদ করতে গিয়ে কৃষকের কষ্ট বেড়েছে। দিন যত যাচ্ছে, খরচ তত বাড়ছে। অথচ ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।’
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরে আমন আবাদ বেড়েছে ২০০ হেক্টর।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলায় আগাম আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য কৃষি অফিস কাজ করছে। পাশাপাশি সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
পছন্দের দুই দেহরক্ষীর ৩০ গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ইন্দিরা
দিনটি আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই ছিল। সকাল থেকে চারপাশ রোদ-ঝলমলে। অন্যান্য কর্মব্যস্ত দিনের মতো আজও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সাড়ে সাতটার মধ্যে তিনি তৈরি হয়ে যান। আলমারি থেকে বেছে নেন কালো পাড়ের গেরুয়া রঙের একটি শাড়ি। দিনের শুরুতেই বিদেশি এক তথ্যচিত্র নির্মাতার সঙ্গে শুটিং আছে। তাই, হয়তো এই শাড়িটি বেছে নিয়েছিলেন।
শাড়ি পরে তৈরি হয়ে আসেন নাশতার টেবিলে। নাশতার পর মেকআপম্যান তাঁর মুখে সামান্য পাউডার ও ব্লাশার লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হাজির হন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কে পি মাথুর, নিয়মমাফিক তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
দিনটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দিনের প্রথম সাক্ষাৎসূচি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া ছিল পিটার উস্তিনভকে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন।
৯টা ১০ মিনিটে ইন্দিরা বাসভবনের বাইরে পা রাখেন। কালো রঙের ছাতা নিয়ে তাঁর পাশে হাঁটছিলেন সিপাহি নারায়ণ সিং। প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছিলেন তাঁর দপ্তরের দিকে।
কিছুটা পেছনে ছিলেন ইন্দিরার ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান। তাঁর পেছনে ব্যক্তিগত পরিচারক নাথু রাম। আর সবার পেছনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা রামেশ্বর দয়াল।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে তাঁর দপ্তর। এই দুই ভবনের মধ্যে যাতায়াতের একটা সংযোগ পথ ছিল। সেই পথের ফটকের সামনে গিয়ে ইন্দিরা তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ধাওয়ানকে নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ইন্দিরা। হঠাৎ গুলির শব্দ। একটি নয়, দুটি নয়, পরপর তিনটি।
সেখানে থাকা লোকজন বিস্ফারিত চোখে প্রধানমন্ত্রীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন, বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটছে। কয়েক সেকেন্ড পর একটি চিত্কার শোনা যায়, ‘গুলি চালাও…।’ কাছেই গর্জে ওঠে একটি সাবমেশিনগান।
সেদিন নিজের পছন্দের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। দেশটির রাজনীতির ইতিহাসে সূচনা হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের।
ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদছবি: সংগৃহীত
‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই’
রাজনীতিতে আপসহীন ও দৃঢ় মানসিকতার জন্য ইন্দিরা গান্ধী ‘ভারতের লৌহমানবী’ হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, সাহসিকতার নাম–যশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৪ সালের মাঝামাঝি ইন্দিরা ‘কঠিন’ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের মূল্য তাঁকে জীবন দিয়ে শোধ করতে হয়েছিল। তাঁর ওই কঠিন সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে পরিচিত।
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাতে ১৯৮৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সামরিক অভিযানই ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে পরিচিত।
রক্তক্ষয়ী ওই অভিযানের পর ইন্দিরা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভারতে ও বিদেশে শিখদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। অনেকে এ অভিযানকে শিখ ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে চিহ্নিত করেন। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক শিখ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
স্বর্ণমন্দিরে অভিযানের পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তারা প্রধানমন্ত্রীর শিখ নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশও করেছিল।
গোয়েন্দাদের সুপারিশ–সংবলিত ফাইল যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল, তখন তিনি নিজে সেই সুপারিশ নাকচ করে দেন। সুপারিশের নথি ইন্দিরার টেবিলে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি সুপারিশের ফাইলে তাঁর নোট লিখেছিলেন, ‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই?’
‘অপারেশন ব্লু স্টার’
নিজের চতুর্থ মেয়াদের শুরুতেই ভারতের রাজনৈতিক অখণ্ডতার প্রশ্নে একের পর এক সংকটে পড়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকার। বেশ কয়েকটি রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘খালিস্তান’ নামে পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করে দেয়। নিয়মিত সংঘাত–সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল।
রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে পাঞ্জাবের শিখ নেতা জারনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালেকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু এই যোগসূত্র একসময় বুমেরাং হয়। ভিন্দ্রানওয়ালে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চলে যান। তিনি খালিস্তানপন্থী আন্দোলনে নাম লেখান।
১৯৮২ সালে ভিন্দ্রানওয়ালে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সে ঘাঁটি গাড়েন। অস্ত্রশস্ত্রসহ সেখানে তিনি গড়ে তোলেন শক্ত ঘাঁটি। উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম দিকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৮৪ সালের জুনে স্বর্ণমন্দিরে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন ইন্দিরা।
‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামের রক্তক্ষয়ী এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্বর্ণমন্দির থেকে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করা হয়।
সরকারি হিসাবে, এ অভিযানে ৮৩ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। আহত হন প্রায় আড়াই শ সেনা। অন্যদিকে ৪৯২ জন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বেসামরিক ব্যক্তি এ অভিযানে নিহত হন।
যদিও অন্যদের হিসাব বলছে, হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া অভিযানে স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
ইন্দিরা গান্ধীছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
রক্তাক্ত মৃত্যুর শঙ্কা
স্বর্ণমন্দিরে অভিযানের পর থেকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি তাঁর দেহরক্ষীর তালিকা থেকে শিখ দেহরক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল।
কিন্তু ইন্দিরা নিজে শিখ দেহরক্ষীদের পছন্দ করতেন। তাই, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ আমলে নেননি। যদিও তিনি নিজেও খুব সম্ভবত তাঁর ওপর হামলার ঝুঁকির বিষয়টির কতটা গুরুতর, তা আঁচ করতে পেরেছিলেন।
১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর, দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার মাত্র এক দিন আগে ইন্দিরা নিজের প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছিলেন।
৩০ অক্টোবর ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে একটি সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন ইন্দিরা। ভাষণটি যথারীতি লিখেছিলেন তাঁর গণমাধ্যম উপদেষ্টা এইচ ওয়াই শারদা প্রসাদ। ভাষণ দিতে দিতে হঠাৎ স্ক্রিপ্ট থেকে সরে যান ইন্দিরা। তিনি তাঁর মতো করে বলতে থাকেন।
ইন্দিরা সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি আজ এখানে রয়েছি, কাল না–ও থাকতে পারি। আমি থাকলাম কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না; অনেক দিন বেঁচেছি। আমি গর্বিত যে আমি পুরো জীবনটাই দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পেরেছি। আর শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব। আর যেদিন মরে যাব, আমার রক্তের প্রতিটি ফোঁটা ভারতকে আরও মজবুত করার কাজে লাগবে।’
এই ভাষণই শেষ পর্যন্ত ইন্দিরার জীবনের শেষ ভাষণে পরিণত হয়। ভাষণ শেষে তিনি রাজ্যপালের বাসভবনে যান। তখন রাজ্যপাল বিশ্বম্ভরনাথ পান্ডে তাঁকে বলেছিলেন, ‘একটা রক্তাক্ত মৃত্যুর কথা বলে আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।’
জবাবে ইন্দিরা বলেছিলেন, ‘আমি যা বলেছি, তা নিজের মনের কথা। এটা আমি বিশ্বাস করি।’
ওডিশা থেকে সেদিন রাতেই নয়াদিল্লিতে ফেরেন ইন্দিরা।
৩০টির বেশি গুলিতে ঝাঁঝরা হয় ইন্দিরার দেহ
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে ইন্দিরার দপ্তর ছিল। এই দুই ভবনের মধ্যে যাতায়াতের পথটিতে একটি ফটক ছিল। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর সকালে নিজের বাসভবন থেকে কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। শিখ নিরাপত্তাকর্মী বিয়ন্ত সিং যখন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, সে সময় ইন্দিরা তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ধাওয়ানকে নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ইন্দিরা।
দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ফটকের পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি হঠাৎ তাঁর পয়েন্ট ৩৮ রিভলবার বের করে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
বিয়ন্তের ছোড়া প্রথম গুলিটি ইন্দিরার পেটে লাগে। গুলি থেকে বাঁচতে ইন্দিরা তাঁর ডান হাত ওপরে তুলেছিলেন। তখন কাছ থেকে পরপর আরও দুটি গুলি ছোড়েন বিয়ন্ত। এই দুটি গুলি ইন্দিরার বুকে ও কোমরে লাগে।
মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই একটি অটোমেটিক সাবমেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক শিখ নিরাপত্তাকর্মী সতবন্ত সিং। গুলিতে ইন্দিরার লুটিয়ে পড়া দেখে তিনি হয়তো খানিকটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
বিয়ন্ত সিং নিজে গুলি চালানোর পর চিৎকার করে সতবন্তকে বলেন, ‘গুলি চালাও।’
গর্জে ওঠে সতবন্তের অটোমেটিক সাবমেশিনগান। সেটিতে থাকা প্রায় ২৮ থেকে ৩০টি গুলি বৃষ্টির মতো প্রধানমন্ত্রীর দিকে ছুটে যায়।
অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা এ ঘটনায় এতটাই হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁরা কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পাননি।
বিয়ন্ত ও সতবন্ত নিজেদের অস্ত্র মাটিতে ফেলে দেন। বিয়ন্ত বলেন, ‘আমাদের যা করার ছিল, সেটা করেছি। এবার আপনাদের যা করার করুন।’
গুলিতে ঝাঁঝরা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা মাটিতে পড়ে ছিলেন। প্রথম প্রতিক্রিয়া দেখান সিপাহি নারায়ণ সিং, তিনি ইন্দিরার মাথার ওপর ছাতা ধরে ছিলেন। ছাতা ছুড়ে ফেলে তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। গুলির শব্দ শুনে ইন্দো–তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) ও অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন।
গোলমালের শব্দ শুনে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ ও রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী বাইরে ছুটে বেরিয়ে আসেন। তাঁর পরনে তখনো ঘরের পোশাক। ততক্ষণে রক্তাক্ত ইন্দিরাকে মাটি থেকে তুলে একটি সাদা রঙের অ্যাম্বাসেডর গাড়ির দিকে ছুটছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সোনিয়া পেছন পেছন দৌড়ে যেতে যেতে ‘মাম্মি, মাম্মি’ বলে চিৎকার করছিলেন।
গাড়ির পেছনের আসনে ইন্দিরাকে শুইয়ে দেওয়া হয়, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল তাঁর দেহ। গাড়িতে উঠে শাশুড়ির মাথা কোলে তুলে নেন সোনিয়া। সাদা অ্যাম্বাসেডর ছোটে তিন কিলোমিটার দূরে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালের দিকে।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সব সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স রেডি থাকে। কিন্তু সেদিন সেটি ছিল না।
ঝড়ের বেগে কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি পৌঁছে যায় হাসপাতালে। হতবিহ্বল চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারছিলেন না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা দুই আততায়ীকে গুলি করে ধরাশায়ী করেন। বিয়ন্ত সিং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্য আততায়ী সতবন্ত সিংকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর বিচার হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইন্দিরা গান্ধীকে যে তাঁর নিজের পছন্দের দেহরক্ষীরাই হত্যা করবে, এমনটা কেউ কল্পনাও করেননি।
নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিয়ন্ত সিংকে দেখিয়ে ইন্দিরা বেশ গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমার চারপাশে যদি তাঁর মতো শিখরা থাকে, তাহলে আমাকে কোনো কিছু নিয়ে ভয় পেতে হবে না।’
১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা জারির কারণে ইন্দিরা গান্ধী ভীষণ সমালোচিত হয়েছিলেনছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
১৯৬৬ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ইন্দিরাকে কংগ্রেসের নেতা ঘোষণা করা হয়। আর সেই সুবাদে তিনি হন প্রধানমন্ত্রী। একজন নারীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টাইম সাময়িকী তখন তাঁকে নিয়ে প্রচ্ছদ করেছিল।
১৯৬৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত একটানা তিন মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা। এই সময়কালের মধ্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির মামলায় ১৯৭৫ সালের ১২ জুন ইন্দিরাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এ ঘটনার জেরে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইন্দিরার পরামর্শে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি।
ইন্দিরা দাবি করেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। জরুরি অবস্থা ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলাসহ বাইরের হুমকি সামলানো যাবে না। জরুরি অবস্থা কাজে লাগিয়ে দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তবে সমালোচকেরা এই জরুরি অবস্থাকে ভারতের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে ভারতের প্রজাতন্ত্রের আত্মাকেই স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বহাল ছিল। অভিযোগ আছে, ২১ মাসের জরুরি অবস্থা চলাকালে ভারতে মৌলিক অধিকার স্থগিত ছিল, রোধ করা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা হয়েছিল নির্মমভাবে।
জরুরি অবস্থা জারি করাসহ নানা বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে ইন্দিরা ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে গিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে তিনি নিজের আসনে হেরে যান। নির্বাচনে তাঁর দলেরও ভরাডুবি হয়। তবে ১৯৮০ সালের নির্বাচনে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ইন্দিরা আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
ইন্দিরা গান্ধীছবি: কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
কে ছিলেন ইন্দিরা
ইন্দিরার জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। বাবা পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। মা কমলা নেহরু। দাদা মতিলাল নেহরু।
মতিলাল ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর ছেলে জওহরলালও ছিলেন ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের অন্যতম নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
পিতামহ ও পিতার পথ ধরে ইন্দিরা শৈশব-কৈশোরেই ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলেন। এমনকি ২৫ বছর বয়সেই তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। তিনি ২৪৩ দিন কারাবন্দী ছিলেন।
ইন্দিরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। এক বছর করে পড়েছেন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ও অক্সফোর্ডের সামারভিল কলেজে। তবে তিনি পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি।
১৯৩৮ সালে ইন্দিরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে তিনি ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন। ফিরোজ ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামী, রাজনীতিক, সাংবাদিক। ইন্দিরা-ফিরোজ দম্পতির দুই ছেলে। রাজীব ও সঞ্জয় গান্ধী।
ইন্দিরা ১৯৫৫ সালে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। ১৯৫৮ সালে তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সংসদীয় পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন ১৯৫৯ সালে।
১৯৬৪ সালে ইন্দিরার বাবা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মারা যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলালের উত্তরসূরি হন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। তিনি ইন্দিরাকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করেন। ১৯৬৪-৬৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা। এ ছাড়া ১৯৬৪ সালেই তিনি ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য হন। দুই বছর পর লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে হওয়ার ইন্দিরার রক্তেই ছিল রাজনীতি। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ভারতের মতো একটি বিশাল এবং নানা ধর্ম–মতের দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। সরকারপ্রধান, দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ, নিতে হয়েছে কঠিন কঠিন সব সিদ্ধান্ত।
ইন্দিরার নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময়ে তুমুল আলোচনা–সমালোচনা হয়েছিল। দেশে জরুরি অবস্থা জারি অথবা অপারেশন ব্লু স্টার—কয়েক দশক আগে তাঁর নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা নিয়ে এখনো তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
১৯৬৬ সালে ২৪ জানুয়ারি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মৃত্যুর আগপর্যন্ত টানা প্রায় ১৮ বছরে তিনি ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এই ১৮ বছরের মধ্যে তিন বছর তিনি ক্ষমতায় ছিলেন না।
ইন্দিরাকে নিয়ে ভারতীয় সমাজে বিভক্তি সব সময়ই ছিল। কেউ তাঁকে বলতেন ‘মাদার ইন্দিরা’, আবার কেউ তাঁকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে দেখতেন।
ইন্দিরাকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি যা–ই থাকুক, তাঁর নেতৃত্ব যে ভারতকে বদলে দিয়েছিল এবং দেশটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, তা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ইন্দিরা নিহত হওয়ার পর তাঁর বড় ছেলে রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। পরে তাঁকেও মায়ের মতো একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল।
ভিডিওবার্তায় সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য আমাদের কী বার্তা দেয়?’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করুন, প্রতিবাদলিপি পাঠান, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিন।
‘কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ-এর কপি ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্যটি মোটেও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।’
রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তিও থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা আরও সংযম, পরিশীলিত আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশা করি।’
‘মনে রাখতে হবে, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি সরকারের সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতাও থাকতে হবে’, যোগ করেন এনসিপির এই নেতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছি, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করা অপরাধ হবে না, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আচরণে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই আচরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রে ক্ষমতার দম্ভ নয়, জবাবদিহিই হোক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।’
অবৈধভাবে মাছ আহরণ, পোনা নিধন ও পরিবেশগত প্রতিকূলতায় সুন্দরবনে অন্তত ছয় প্রজাতির মাছের মজুদ কমছে। বিপরীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধিসহ পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাবে নয় প্রজাতির মাছের মজুদ বাড়তির দিকে। বাকি প্রজাতিগুলোর মজুদ রয়েছে সহনীয় বা স্থিতিশীল পর্যায়ে। প্রায় দুই বছর ধরে পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব অ্যাকুয়েটিক রিসোর্সেস অব দ্য সুন্দরবন’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অলুয়া বা আমাদি, পারশে, ভেটকি বা কোরাল, পোয়া, দাতিনা, গ্যাগড়া টেংরা, পাঙ্গাস, হরিণা চিংড়ি ও চাকা চিংড়ির মজুদ বাড়তির দিকে। অন্যদিকে পায়রা বা চিত্রা বা বিষতারা, নোনা টেংরা, কাইন মাগুর, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও শীলা কাঁকড়ার মজুদ কমছে। মাছের মজুদের এই পরিবর্তনের পেছনে অবৈধ আহরণ, ছোট পোনা ধরা এবং পরিবেশগত চাপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হকের নেতৃত্বে আট গবেষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেন। বন অধিদপ্তরের ‘প্রটেকশন অব সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) গবেষণাটি বাস্তবায়ন করে।
গবেষণা দলের প্রধান ড. এম এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ ছিল মাছের বর্তমান অবস্থা, মজুদের পরিমাণ, হুমকি ও ভবিষ্যতের ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। দেখা গেছে, আগে সুন্দরবনে বড় প্রজাতির মাছের, যেমন ভেটকির প্রাচুর্য বেশি থাকলেও এখন ছোট আকারের প্রজাতিগুলোর প্রাচুর্য কিছুটা বেড়েছে।’
তিনি বলেন, প্রায় ১৫টি মাছ ও চিংড়ির প্রজাতির মজুদ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টির মজুদ কমতির দিকে। যেসব প্রজাতির মজুদ কমছে, সেগুলো রক্ষায় জালের ফাঁস ও মাছ আহরণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
গবেষণায় সাতক্ষীরা রেঞ্জে ভেটকি মাছের অতিরিক্ত আহরণ, খুলনা ও শরণখোলা এলাকায় পাঙ্গাসের মজুদের ওপর চাপ এবং শরণখোলায় গ্যাগড়া টেংরা অতিরিক্ত আহরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রজাতির আহরণ নিয়ন্ত্রণে কোটা নির্ধারণ, প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা এবং পোনা সংরক্ষণের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে শীলা কাঁকড়া, গলদা ও বাগদা চিংড়ির আহরণেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিষ দিয়ে মাছ ধরা বড় হুমকি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জলজসম্পদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরার পাশাপাশি অন্যান্য মাছ, পোনা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীও মারা যায়। পোনা সংগ্রহের সময় কাঙ্ক্ষিত প্রজাতি রেখে অন্য জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও চলমান ইকোলজিক্যাল মনিটরিং অব সুন্দরবন প্রকল্পের টিম লিডার ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার জন্য মাছ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবৈধ শিকার, বিষ প্রয়োগ এবং ছোট পোনা ধরা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রজননের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
নতুন সাত প্রজাতির সন্ধান গবেষণায় সুন্দরবনে আগে নথিভুক্ত হয়নি এমন সাত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি মাছ ও দুটি চিংড়ির প্রজাতি রয়েছে। নতুন শনাক্ত মাছের মধ্যে এক ঠুঁইটা, কুলি বেলে, সবুজ বাইল বা ফোঁটা বেলে, ফোঁটা বাট ও বড় আইশ পারশে উল্লেখযোগ্য। নতুন দুটি চিংড়ি হলো মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি।
গবেষণা দলের প্রধান এনামুল হক জানান, দুই বছরের সমীক্ষায় প্রায় ২৬১ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী গবেষণার তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবনে বর্তমানে প্রায় ৩৮২ প্রজাতির মাছের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রথমবারের মতো ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতিতে সাতটি প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান এনামুল হক বলেন, সামগ্রিকভাবে সুন্দরবনের মাছের অবস্থা সন্তোষজনক হলেও মানবসৃষ্ট চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তিন দিন টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিনের সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।
ফলে এ সময়ে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।
ফলে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরেও অনুরূপ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
ভারতের দিল্লির ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধ ক্রমেই বাড়ছে। দুই পক্ষের পালটাপালটি অভিযোগের মধ্যে আবারও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন রাহুল। তার অভিযোগ, বিজেপি ব্যবসায়ীদের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশ ও মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রোববার (১ নভেম্বর) একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি জোর করে সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা মানুষজন কেনাকাটা করতে পারছেন না।
ভিডিওতে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছিলাম, মিছিল ও বিশাল সমাবেশে আসার সময় যেন কেনাকাটা করেন, কিছু জিনিসপত্র কেনেন। কিন্তু এখানে কনট প্লেসে আসার পথে আমরা জানতে পারি, বিজেপি জোর করে প্রতিটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের কারা ক্ষতি করছে এবং কীভাবে করছে, তা আপনাদের জানা উচিত।’
এর আগে উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করার জন্য রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে দায়ী করেছিলেন বিজেপি নেতারা।
ধনতেরাস, দীপাবলি ও ছট পূজার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের বিক্রেতা ও দোকানিরা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ উৎসবের এই সময়টিতে উপার্জন করেন। তার অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকটের প্রতি উদাসীন রাহুল গান্ধী।
নাড্ডা বলেন, চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিটিআই) পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল ওই চিঠিতে।
নাড্ডার দাবি, আগের প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ সমাবেশের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা ৯ দিন এগিয়ে এনে ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি (শনিবার ও রোববার) পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসন ভোগান্তি হ্রাস এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শীত নামার আগেই ভারতের দিল্লির বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দেশটির রাজধানী শহরের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এছাড়াও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১ নভেম্বর থেকে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএস৬ মানদণ্ড পূরণ করে না, এমন যানবাহন ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে চলাচল করতে পারবে না। তবে বৈদ্যুতিক ও সিএনজিচালিত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স এবং দমকলের গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
নিয়ম অমান্য করলে ই-চালান পাঠানো হবে। এ জন্য বিশেষ নজরদারি দল, স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা এবং এআই প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে দিল্লিতে নির্মাণকাজ ও ভবন ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কিছু সরকারি প্রকল্প এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
যানজট কমাতে সরকারি অফিসের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অফিস সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং দিল্লি সরকারের অফিস সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) ছাড়া দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি পাওয়া যাবে না। এ নিয়ম কার্যকরে রাজধানীর ৫০০টি পেট্রল পাম্পে বসানো হয়েছে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা।
এর আগে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে গত ২১ অক্টোবর দিল্লিতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (জিআরএপি) প্রথম পর্যায় কার্যকর করা হয়েছিল।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জার্মানি। এসব দাবির পাশাপাশি দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগও চেয়েছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জার্মানির ৩৪টি শহরে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন। তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি রেগেল্ট’ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ শহরেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো ও নতুন করে সেনা নিয়োগের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জানান তারা।
বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালুর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগের দাবিসংবলিত ব্যানার বহন করতেও দেখা যায়।
দিনের বেলায় অধিকাংশ স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বার্লিনে পুলিশের হিসাবে, ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। যদিও আয়োজকদের দাবি, সেখানে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। অন্যদিকে হামবুর্গে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জন।
সবচেয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয় ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন দোকানের কাঁচ ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি বিপণিবিতান ও কেনাকাটার এলাকায় লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশের দিকে মলোটভ ককটেলও ছোড়া হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব হামলার জন্য প্রায় ১০০ জন বামপন্থি উগ্রবাদীকে দায়ী করেছেন।
এদিকে কোলন ক্যাথেড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও সাইকেল ছুড়ে মারেন। বার্লিনেও সন্ধ্যায় পৃথক একটি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। পাশাপাশি ৫৬ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীকে সাময়িক আটক করা হয়। হামবুর্গ, ব্রেমেন ও বন শহরেও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে।
তবে পুলিশ ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পুরো জেন-জি বিক্ষোভকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি মূল বিক্ষোভকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন।
জার্মানির এই আন্দোলন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। শিক্ষা গবেষক নিনা কোলেক সতর্ক করে বলেছেন, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে তাদের মধ্যে পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই তাদের এ বেতনকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নতুন বেতনকাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রীর ঘোষণায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও বর্ধিত বেতন কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে তাদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, স্তর ও বিষয় অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কাঠামোতে প্রত্যেকে নিজ নিজ চাকরির গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাবেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারির পর সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়াও পেয়েছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।
নতুনকরে হামলা হলে যুদ্ধের আর কোন সীমানা থাকবেনা। পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে এবারের সংঘাত আর পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল রোববার (১ নভেম্বর) জানায়, শনিবার এক বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সাথে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আকরামনিয়া জানান, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা আগের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে বৈঠকে সতর্ক করেছিলেন নেতা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার আগ্রাসন চালালে ইরানের জবাব হবে আগের চেয়ে ‘আরো ভয়াবহ ও ব্যাপক’। বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের হামলার সময় আগ্রাসীদের যে জবাব দেয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে
আকরামনিয়া বলেন, আগের যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে শুরু করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর পর থেকে বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি আরো জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আরো বেশি স্থাপনা ও সম্পদ যুক্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে নাগালের মধ্যে থাকা যেকোনো জায়গায় মার্কিন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে, ঠিক করতে পারবেন না ট্রাম্প
ইরানের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে। যুদ্ধের স্থায়িত্ব কিংবা কখন কী শর্তে এর অবসান হবে, তা এককভাবে ঠিক করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগের যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে অস্ত্রশস্ত্র আধুনিক করা, নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা এবং উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধকৌশল চালুর কাজ চলছে।
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণেও জোর
আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় যে নীতি মূলত প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে। নেতার নির্দেশনায় ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ এখন ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অসম যুদ্ধের সক্ষমতা, নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত কৌশল উদ্ভাবন এবং উপযুক্ত যুদ্ধপদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের পাশাপাশি নতুন আক্রমণ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও বাহিনীর কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে।
একাধিক দিক থেকে হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি
আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হয়েছে। একাধিক দিক থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইসলামি বিপ্লববিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে ইরানের পশ্চিম সীমান্তে স্থলযুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় সেনা মোতায়েন এবং আগাম সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরান সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ফলে গোষ্ঠীগুলো তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি।
হয় ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন দেবেন, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজ দায়িত্বে বেছে নেবেন। যেকোনো একটি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নষ্ট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সংসদে গণতন্ত্রের বয়ান দেবেন—এ বক্তব্য আমরা মেনে নেব না।
শনিবার রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসুর মেয়াদ শেষ হলো, কিন্তু তফসিল দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, তাদের চাঁদাবাজ বাহিনী, তাদের রক্ষীবাহিনী এই নির্বাচনে আগের মতো গোহারা হারবে। সুতরাং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট নিতে হবে যে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক বা না থাকুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।
সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার প্রথম কয়েকটি ধাপে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকসু, জাকসু, ডাকসু ও রাকসু যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা পাঁয়তারা করছে, কীভাবে নানা কারিকুলামের মাধ্যমে সেখানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখানকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতেই হবে। বিএনপি ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর বাংলাদেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়নি। কেন দেয়নি? কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের ভোটকে ভয় পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভোটকে তারা ভয় পায়, তরুণ প্রজন্মের ভোটকে তারা ভয় পায়।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সকাল থেকে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা নেমেছে। তারা সড়ক অবরোধ করে তাদের দাবি জানাচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
এদিকে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির প্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। রোববার (১ নভেম্বর) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে নিকজাদ বলেছেন, ইরানের ‘অসাধারণ সহনশীলতা’ এবং দেশটির সেনাবাহিনীর ‘দুর্দান্ত শক্তি ও ইস্পাতকঠিন সংকল্প’ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘বাস্তবতার কঠিন দেয়ালের মুখোমুখি’ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে, ইরানের শক্তিকে স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত আমেরিকানরাই নতি স্বীকার করবে, ইরানি জাতি নয়।’
ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের চাপ সত্ত্বেও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে দেয়ার মতো কিছুই নেই।
নিকজাদ বলেন, ‘এই মহান জাতি তার শত্রুদের আলোচনার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে কেবল বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর অবৈধ বোমা হামলা।’
বাংলাদেশ সফরে আসছেন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। আগামী ২২ নভেম্বর তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। সফর শেষে ২৮ নভেম্বর তার পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।
তিনি জানান, আগামী ২২ নভেম্বর রোববার বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। এ সম্মেলন ছাড়াও সফরকালে আরো কয়েকটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের এ সম্মেলনে আরো উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্ধরীর। তিনি খাইরুল মাদারিস, মুলতানের মুহতামিম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির মহাপরিচালক। ইসলামি ফিকহ, হাদিস ও ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের সাবেক বিচারপতিও।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় পরিত্যক্ত স্থান থেকে নয়টি ককটেল উদ্ধার করেছেন এসআরবির সদস্যরা।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপর সোয়া ২টার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী এলাকার টরকী পান ভান্ডার ও কবির ঘরামির বাড়ির মধ্যবর্তী পরিত্যক্ত স্থান থেকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, সকাল ৮টার দিকে ওই স্থানে ককটেল সদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানটি ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ, এসআরবির সদস্য ও বোমা নিষ্ক্রিয় টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করে।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এসআরবি খুলনা-৬-এর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যদের সহায়তায় ককটেলগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ককটেলগুলো এখানে কিভাবে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর
গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
আজ রোববার (১ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পৃথক দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ ভাঙচুর ও মাদরাসাগুলোকে হয়রানি বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির মুসলিমদের প্রচীন সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
রোববার (১ নভেম্বর) ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরিয়ানার নুহ জেলায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গভর্নিং কাউন্সিলের বার্ষিক সভায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
ওই সভায় তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, তাতে বলা হয়—মসজিদ শুধু ভবন নয়; বরং এটি মুসলমানদের বিশ্বাস ও সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক।
ওই প্রস্তাবে জমিয়ত সরকারের কাছে অভিন্ন দেওয়ানি আইনকেও প্রকৃতিগতভাবেই বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণরূপে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রস্তাবে স্বীকৃতির নামে মাদরাসাগুলোকে হয়রানি, তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং সংবিধান অনুযায়ী মাদরাসাগুলোর প্রাপ্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একইসাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তাদের জমির দলিল, অনুমোদিত ভবন পরিকল্পনা, ছাত্রাবাসে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র এবং নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করতেও বলেছে।
ওই প্রস্তাবে ভারতজুড়ে মসজিদ, ঈদগাহ, দরগাহ এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মসজিদ শুধু ভবন নয়; বরং তা মুসলমানদের বিশ্বাস ও সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক এবং সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি বাস্তব প্রকাশ।
উপাসনালয় (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—উপাসনালয়গুলোর ধর্মীয় চরিত্র রক্ষা করা এবং ঐতিহাসিক বিবাদ পুনরায় উত্থাপিত হওয়া রোধ করা।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ওই সভার উদ্বোধন করেন।
রাজপথে নয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত জাতীয় সংসদকে কেন্দ্র করে—এমন মত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন এই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায় না। পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজও করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যুবসমাজকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনমিতিক লভ্যাংশ হিসেবে কাজে লাগানো গেলে জাতীয় উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব। তবে সে জন্য তরুণদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা জরুরি। উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো গেলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও প্রয়োজনীয় মূলধন দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। স্বল্প পুঁজি নিয়ে অনেক তরুণ-তরুণী নিজস্ব পণ্য উৎপাদন করছেন এবং দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও সাফল্য পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেকারত্ব ও হতাশা থেকে তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর কর্মসূচি নিতে হবে।
এ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাজের অনিয়ম ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, দেশজুড়ে পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। পরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী চাকরি মেলা এবং দেশব্যাপী স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার। এরমধ্যে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
পর্যায়ক্রমে আমরা সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করব, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পেয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও সারাদেশে রয়েছে অনেক সংখ্যক ইটভাটা।
এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে সেখান থেকে কি পরিমাণ ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে।
ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা থেকে। ইটভাটাগুলো উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা ২০০টি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরিবর্তে কংক্রিট ব্লক চালু করছি, যাতে দূষণ কমে যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। সে কারণে কাজটি কঠিন হলেও আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা মোকাবিলা করছি। ইটভাটা বন্ধ না করলে কোনোভাবেই বায়ুর মান ভালো করা যাবে না।
ট্রান্স-বাউন্ডারি দূষণের বিষয়ে পরিবেশ তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ আসছে সীমান্ত অতিক্রম করে। কারণ ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়। ফলে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণ বন্ধ করা আমাদের জন্য বাস্তবিক অর্থেই কঠিন।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন, কিংবা বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির কথা বলেছে। এগুলো সবই প্রকৃতিভিত্তিক বায়ুদূষণ সমাধানের উপাদান।
নদী দূষণের কথা উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট শনাক্ত করেছি যেখান থেকে কোনো শোধন ছাড়াই সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি এই নদীগুলোতে পড়ছে। যার মধ্যে রয়েছে শিল্পবর্জ্য, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন। ঢাকার চারপাশের অমূল্য এই নদী ও জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করতে আমরা নিরলস কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।
সিলেট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে বিজিবির ৪৮ সিলেট ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন মিনাটিলা, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, তামাবিল, দমদমিয়া, উৎমা বিওপি কর্তৃক পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারতীয় গরু, কম্বল, মহিষ, চকলেট, সুপারিসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়।
৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নূর উদ্দিন আহমাদ জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মালামাল ব্যাপারে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়ক ও দীঘিনালা সড়কে দিনব্যাপী কঠোর অবরোধ পালিত হয়েছে। এ সময় ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া ও পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়ক থেকে দীঘিনালা সড়কে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল থেকেই দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে এই অবরোধ পালিত হচ্ছে।
অবরোধ চলাকালীন সময়ে আন্দোলনকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি, বাঁশ, ইট ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন।
দীঘিনালা, বাঘাইহাট ১০ নম্বর ও কাঁঠালতলী এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ঘোষিত এই অবরোধে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন।
এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ দিনব্যাপী অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ইউনিয়নে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দেশবিরোধী সন্ত্রাসী তৎপরতা, পর্যটন শিল্পে বাধা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লাগাতার অবরোধে জিম্মি করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়। এ,আর
সংসারে অভাব, বাবার বেকারত্ব, পড়াশোনার খরচ জোগাতে মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম। কখনো শিক্ষকের সহযোগিতা, কখনো উপবৃত্তি—এভাবেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে গেছে যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। স্বপ্ন ছিল ভালো ফল করে বাবার মুখে হাসি ফোটানোর। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে একধাপ এগিয়ে গেল তারা। রহিমা ও রাবেয়া উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।
কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। আর সেই দুজনই যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া। উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী বলে জানা গেছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্প মোটেও সহজ নয়। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।
ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগমের সংসার। বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে দিন কাটছে পরিবারটির। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবু মেয়েদের শিক্ষার পথ বন্ধ হতে দেননি মা-বাবা। নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন তাদের এগিয়ে নিতে।
অভাবের এই সময়ে দুই বোনের পাশে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার তাদের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি তারা পেয়েছে উপবৃত্তিও। এসব সহযোগিতা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
মেয়েদের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।
নিজেদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা জানিয়ে রহিমা ও রাবেয়া বলে, বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম। ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজারহাট উপজেলার ১৪টি কলেজের মধ্যে এই যমজ দুই বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। ’
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছাগল গোপনে ধরে জবাই করে খাওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় স্কুলশিক্ষকসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগুনবাড়িয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন—তারিক, মানিক, আতিক, তরুণ, অরুণসহ ৯ জন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মানিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি ছাগল হারানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রোববার সকালে কবীর হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় কামাল, তোফাজ্জল, লিটনসহ প্রতিপক্ষের ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হন।
আহত আতিক বলেন, ‘হামলাকারীদের সাথে পূর্বশত্রুতা ছিল। সম্প্রতি আমাদের একটি ছাগল গোপনে ধরে তারা জবাই করে খেয়ে নেয়। এই ঘটনা জানাজানি হলে নতুন করে আমাদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। রোববার সকালে কবীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য প্রাপ্ত বাড়তি সময়কে শুধু সময়ক্ষেপণ বা স্থগিতাদেশ হিসেবে না দেখে, একে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মজবুত ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাহ্যিক চাপ এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবের মতো অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের একটি টেকসই উইন্ডো হিসেবে দেখছে। আর এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক নতুন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
তিতুমীর বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এ সময়কে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।
সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তিতুমীর বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা কম্প্যাক্ট গড়ে তুলতে পারলে এসব লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এলডিসি উত্তরণ নিয়ে প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলেরও অংশ।
জাতিসংঘের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক।
সরকারের চিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)।
তিতুমীর বলেন, আইএমএফের চলমান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে এসব সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অতীতে কোনো সংস্কার কার্যক্রমে দেশের মানুষকে এভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। পাঁচ পক্ষের অংশগ্রহণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মুঠোফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি স্মার্টফোন, নগদ দুই হাজার টাকা ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকার রাজিব হোসেন রাজু (৩০) ও আব্দুল্লাহপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার আবু সাঈদ (৩৪)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক।
তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হন মো. সুজন মিয়া (৩২)। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পালড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর গাজীরচট এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনার দিন মোটরসাইকেল নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গতি কমালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। এ সময় ধারালো চাপাতি ও চাকু দেখিয়ে তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয় তারা।
একপর্যায়ে এক ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে সুজনের বাঁ হাতের কবজির ওপর দুটি কোপ দেয়। এতে তাঁর হাত গুরুতর জখম হয়।
পরে ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছে থাকা দুটি মুঠোফোন ও নগদ আট হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সুজন মিয়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এএসআই সুজেল মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাজিব হোসেন রাজু ও আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাজিবের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্মার্টফোন ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর আসামি আবু সাঈদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া নগদ দুই হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ,আর
পাকিস্তানি ব্যাটার ফখর জামান আবারও বুঝিয়ে দিলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট’ যদিও কথাটি ক্রিকেট তো বটেই, খেলার দুনিয়ায় বহুল চর্চিত এক বাক্য। বিষয়বস্তু যখন ফখর জামানের মতো কেউ একজন, তখন সে বাক্যের চর্চা বোধ হয় আরও বেশি হয়। তার পারফর্ম্যান্স জলজ্যান্ত এক প্যারাডক্সই বটে, তিনি যেদিন ছন্দে থাকেন, বিশ্বসেরা লাইন আপ এলেও পাত্তা নেই তার সামনে; আর না থাকলে? সেসব আজ থাক নাহয়।
এই তো, ফাইনালের আগের পারফর্ম্যান্সটাই নাহয় দেখুন। ৪ ম্যাচ শেষে তার নামের পাশে রান ছিল মোটে ৩১। যে সিরিজে দেদারসে রান উঠেছে, বিশ্বরেকর্ডও হয়েছে একাধিকবার, সে সিরিজে এমন রান বড্ড বেমানান। ফাইনালের আগে তাই তিনি খানিকটা চাপে ছিলেন বৈকি।
তবু ম্যানেজমেন্ট তার ওপরই ভরসা রাখল। কারণ মঞ্চটা বড়, আর এমন পরিস্থিতিতেই তিনি জ্বলে ওঠেন, বলছিল অতীত। সে কারণেই হয়তো, তিনি দলে টিকে গেলেন।
পরিস্থিতিটাও ক্রমেই তার জন্য মঞ্চ তৈরি করে দিচ্ছিল। শ্রীলঙ্কা শুরুতে ব্যাট করে তুলে দিয়েছিল ৩২৫ রানের পাহাড়। সেটা তাড়া করতে নেমে আবার ১৪ রান তুলতেই যখন ২ উইকেট নেই, কাজটা তখন কঠিন হয়ে যায় আরও।
ফখর জামান সে কঠিনেরেই বাসেন ভালো। অতীতে বহুবার সে নজির দেখিয়েছেন। দেখালেন গত রাতেও। ভাগ্যও সহায়তা করেছে খানিকটা। আসিথা ফার্নান্দোর বলে কাট করে ডিপ থার্ড ম্যানে বল পাঠিয়েছিলেন তিনি, ক্যাচের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা, কিন্তু তার হাতে লেগে বলটা চলে যায় সীমানার বাইরে।
ঘটনাটা ৯ বছর আগের এক কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিল সঙ্গে সঙ্গে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও ইনিংসের গোড়ার দিকে তিনি ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন উইকেটের পেছনে, মহেন্দ্র সিং ধোনি তা ধরেও ফেলেছিলেন। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় যশপ্রীত বুমরাহর ডেলিভারিটা ‘নো বল’ ছিল। সেদিন এক ‘জীবন’ পেয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন, পাকিস্তান হেসেছিল শেষ হাসি। গত রাতে মাদুশঙ্কার হাত গলে ছক্কাটা যখন পেলেন, তখনও কি একই ভাবনা মাথায় খেলছিল? নাকি তখনই ‘আজ তোমারই দিন’— দৈববাণীটা পেয়ে গিয়েছিলেন?
পরে যা করলেন, তা পাকিস্তানের খুবই চেনা। সাদ বেগকে নিয়ে ১৪৯ রানের জুটি গড়লেন। সাদের বিদায়ের পর সালমান আলী আগার সঙ্গে গড়লেন ৫৭ রানের জুটি, যে জুটির ৪৫-ই তার। দলীয় ২২০ রানে তিনি যখন ফিরলেন, তার নামের পাশে যোগ হয়ে গেছে ১২৭ রান। দল তখন জয় থেকে আর মাত্র ১০৬ রানের দূরত্বে, যা করতে তাদের হাতে ডেলিভারি ছিল ৯৮টি।
তিনি যখন মাঠ ছেড়ে যাচ্ছেন, গাদ্দাফি স্টেডিয়াম তখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল তাকে। কারণ সবাই জেনে গেছে, ১১ চার আর ৬টি ছক্কায় গড়া ইনিংসটাতে ফখর তার কাজটা সেরে দিয়ে গেছেন খুব ভালোভাবেই। পাকিস্তানকে যেমন চালকের আসনে তুলে এনেছেন, তেমনি লঙ্কানদের মনোবলও গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে।
বড় খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় গুণ, তারা পারফর্ম্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষের মগজেও ঢুকে যেতে পারেন অবলীলায়। সে কাজটা ফখর তার পুরো ক্যারিয়ারে বহুবার করে দেখিয়েছেন। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত, তার পরের বছর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া সেটা টের পেয়েছে। গত রাতে সেটা টের পেল শ্রীলঙ্কা।
পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট কেন তাকে এমন বাজে পারফর্ম্যান্সের পরও ফাইনালের একাদশে রেখেছিল, তার জবাবটা ফখর ব্যাট দিয়ে দিয়েছেন। গড়ে ফেলেছেন একগাদা রেকর্ডও। ৩০০ বা তার চেয়ে বেশি রান তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানি ব্যাটার এখন তিনিই, এমন মঞ্চে তার সেঞ্চুরি সংখ্যা ৪টি।
ফখর গেল রাতে সাঈদ আনোয়ারের একটা রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা পাক ব্যাটার ছিলেন সাঈদ, গেল রাতে সেঞ্চুরি করে তার সঙ্গী বনে গেছেন ফখর জামান। তবে একটা জায়গায় তিনি পাক কিংবদন্তির চেয়েও বেশ ভালো। সাঈদ আনোয়ারের ২ সেঞ্চুরির ২টিই এসেছিল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। ওদিকে ফখরের ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির একটা পাকিস্তানকে জিতিয়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। যে ট্রফি আবার হয়ে আছে শেষ ১৫ বছরে পাকিস্তানের জেতা একমাত্র আইসিসি শিরোপাও। যদিও সে স্মৃতি এখন সুদূর অতীত।
তবে অতীত থেকে বর্তমান, যেটা ধ্রুব হয়ে থেকে যাচ্ছে সেটা হলো তার পারফর্ম্যান্স। সেটা ৯ বছর আগে যেমন ছিল, এখনও আছে হুবহু তেমনই। বড় মঞ্চ এলেই পাকিস্তান তাকায় তার দিকে, ফখরও দিয়ে যান দুই হাত উজাড় করে। কারণ, ফর্ম টেম্পোরারি হলেও, ক্লাস যে পার্মানেন্ট!
শীত মৌসুম শুরুর আগেই জার্মানিতে গ্যাসের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির গ্যাস সংরক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে শিল্প খাতের সংগঠন ইনেস (আইএনইএস)। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে গ্যাসের মজুত বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
শুক্রবার পর্যন্ত জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর মজুত দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অথচ নভেম্বরের শুরুতে মজুত ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল দেশটির সরকার। এ পরিস্থিতিতে শীত মৌসুমে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও জার্মান সরকার জানিয়েছে, দেশে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না।
ইনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেবাস্তিয়ান হেইনারমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্যাসের মজুতসংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা প্রমাণ করে, আগামী শীত মৌসুমগুলোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক মজুতের শর্ত আরোপের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক অবস্থান যথাযথ ও গুরুত্বপূর্ণ।’
গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রীষ্মকালে গ্যাস কিনে ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারগুলো পূর্ণ করা ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সব মিলিয়ে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে জার্মানির গ্যাস মজুত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–অক্টোবর) সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় বেড়েছে ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময় এসেছিল ১৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে প্রধান অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। এ সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি ৭ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে এ দুই খাতের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮১ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
পোশাকের বাইরেও কয়েকটি পণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব খাতের রপ্তানি যথাক্রমে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ, ৪৬ কোটি ৪০ লাখ এবং ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। হোম টেক্সটাইল ও পাদুকা রপ্তানিও যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে কৃষিপণ্য, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ১০ দশমিক ৯ শতাংশ ও ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সামগ্রিকভাবে রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পোশাকবহির্ভূত কয়েকটি খাতের সম্প্রসারণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ধারা ধরে রাখতে পণ্যের মান ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে ধান ক্ষেতের পাশে শ্যালো মেশিন ঘর থেকে অজ্ঞাত নারী ও পুরুষের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বয়স ৪৫ থেকে ৫০ বছর হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের মাঠ থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয় বলে কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সিরাজুল ইসলামের মাছের ঘেরসংলগ্ন শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।
পরে সেখানে গিয়ে লাশ দুটি পড়ে থাকতে দেখে তারা থানা পুলিশকে খবর দেন।
কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, পুরুষের মরদেহের ওপর নারীর মরদেহটি উপুড় হয়ে পড়েছিল। পুরুষের শরীরে গামছা জড়ানো ছিল এবং নারীর পরনে ছিল ম্যাক্সি।
যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, ডিবির পাশাপাশি পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ,আর
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট। রোববার রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই দিন পশ্চিম দিল্লিতে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পাল্টা মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মান।
বিরোধী জোটের সমাবেশে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। প্রায় এক ডজন বিরোধী দলের নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সমাবেশে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকও যোগ দেন।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল গত মাসে এই সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ‘চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিকে তিনি নির্বাচনী কারচুপি বন্ধ এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফরম-৬-এ পরিবর্তন আনা এবং ইসিনেটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও তুলেছে তারা।
সমাবেশের আগের দিন শনিবার বিরোধী জোটের একটি কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগসংবলিত একটি প্রতীকী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্র করছে, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে এবং সংসদীয় নজরদারি ছাড়াই ফরম-৬ পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া ইসিনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বিরোধীরা।
কংগ্রেস নেতা বেণুগোপাল বলেন, ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে এবং একের পর এক রাজ্যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাহুল গান্ধী নির্ভয়ে এসব প্রশ্ন তুলছেন এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই কর্মসূচিকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, বিরোধীরা অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের সমাবেশ গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মান এবং জনগণ বিরোধীদের এই রাজনৈতিক নাটক বুঝতে পারছে।
এদিকে বিরোধীদের সমাবেশে যোগ দিচ্ছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তরুণদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সিজেপি নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে এবং রোববারের বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে অংশ নেবে না।
দিপকে বলেন, জন্তর মন্তরে তাদের প্রথম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ যখন সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেপ্তার করেছিল, তখনো তিনি আন্দোলনকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে ধন্যবাদ জানাতেই মমতার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানান তিনি।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও নতুন দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রামলীলা ময়দান এবং মিন্টো ব্রিজ থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় চার হাজার সদস্য। দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কনট প্লেস, জন্তর মন্তর, ভগবান দাস রোড, সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে বহুস্তরবিশিষ্ট ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রীদের আগেভাগে যাতায়াতের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর জানান, পুরো এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। আয়োজকদেরও নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আয়োজকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি অনুযায়ী, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ বিকেল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা। তবে ওই সময়ের পর কোনো ‘অপ্রত্যাশিত কর্মসূচি’ নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে পাল্টা মিছিল করেছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, কংগ্রেস দাঙ্গার বার্ষিকীর সময়কে বেছে নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেছে।
হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত এ মিছিলে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা, এইচ এস ফুলকা, মনজিন্দর সিং সিরসা এবং বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ।
বিজেপি সাংসদ বিক্রমজিৎ সিং সাহনিও দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে শহীদগঞ্জ সাহিব গুরুদুয়ারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১৯৮৪ সালের সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও বেঁচে যাওয়া অনেকে বিজেপির কর্মসূচিতেও যোগ দেন।
রাজনৈতিক দুই পক্ষের কর্মসূচির মধ্যে দিল্লির ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সড়ক বন্ধ ও যানজটের কারণে দীপাবলির আগে উৎসবের কেনাকাটার মৌসুমে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবাদ করার অধিকারকে সমর্থন করলেও সমাবেশের স্থান ও সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারাং বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বিরোধীও নন। তবে সমাবেশের সময় ও স্থান ঠিক হয়নি। তাঁর ভাষ্য, চাঁদনি চক, সদর বাজার, দরিয়াগঞ্জ, মোরি গেট ও কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার সমাবেশস্থল থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে। এ ধরনের কর্মসূচির কারণে দিল্লির বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সাধারণত তিন দিন আগে ও পরে শহরে আসা এড়িয়ে চলেন।
সংগঠনটির সহসভাপতি রবীন্দর সিং কোহলি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দিনমজুর, কুলি, মালবাহী শ্রমিক ও ঠেলাগাড়িচালকেরা। তাদের অনেকের দৈনিক আয় ২০০ থেকে ৩০০ রুপি। এই আয়ের ওপরই তাঁদের পরিবারের খাবার জোটে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ধরমপাল রাত্রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়ীদের দুই হাজার রুপির বেশি ক্ষতি হতে পারে।
তবে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। সমাবেশে আসা লোকজনকে প্রতিবাদের পাশাপাশি দিল্লির বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। রাহুল বলেন, সমাবেশের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে না; বরং বিজেপি ভয় পেয়েছে বলেই এ ধরনের আশঙ্কা ছড়াচ্ছে।
এদিকে দিল্লির এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও সমাবেশের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপির পাল্টাপাল্টি অবস্থান। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এ বিরোধ কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।
ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি উত্তর কোরিয়া তাদের স্বল্পপাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেড সংযুক্ত করে পরীক্ষা চালিয়েছে। শনিবারের এ পরীক্ষায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা চালানো হলো। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম পরীক্ষাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অস্ত্র পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, পরীক্ষায় ‘স্ট্যান্ডার্ড টাইপ-২ ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের’ কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই ওয়ারহেড সর্বোচ্চ ঘনত্বের আঘাতের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৩ হেক্টর আয়তনের একটি লক্ষ্যবস্তু এলাকাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে হোয়াসং-১১ডি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গেছে। ছবিতে একটি দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের আঘাত হানার দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের ওয়ারহেড চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। তবে শ্রেণিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে কেসিএনএ বলেছে, ‘চলতি বছরের মধ্যেই সামরিক ইউনিটগুলোকে তাদের অভিযানের লক্ষ্য ও লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সব ধরনের ওয়ারহেড বেছে নিয়ে ব্যবহারের সক্ষমতা দেওয়া হবে।’
পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়নে যুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেনারেল কিম জং-সিক। দেশটির নেতা কিম জং উন এতে উপস্থিত ছিলেন না। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, কিম জং-সিক ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম উপবিভাগীয় পরিচালক।
ক্লাস্টার বোমা যেভাবে কাজ করে
ক্লাস্টার বোমা এমন এক ধরনের অস্ত্র, যার মূল বোমা বা ওয়ারহেড বিস্ফোরণের পর ভেতরে থাকা অসংখ্য ছোট বোমা বা সাবমিউনিশন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একই সঙ্গে বড় একটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানতে পারে এই অস্ত্র। এসব ছোট বোমার কিছু বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে পারে। পরে সেগুলোও বিস্ফোরিত হয়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার কারণ হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ক্লাস্টার বোমার বিস্ফোরণের সময় এবং অবিস্ফোরিত ছোট বোমা থেকে পরবর্তী সময়ে—দুই পর্যায়েই বেসামরিক মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ক্লাস্টার বোমাজনিত হতাহতের ৮৭ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
২০০৮ সালে গৃহীত ক্লাস্টার মিউনিশনবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার, উৎপাদন, মজুত ও স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া এ কনভেনশনের সদস্য নয়। ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মিউনিশন মনিটরের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেশটিকে ক্লাস্টার বোমা উৎপাদনকারী ও মজুতকারী রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ওই দিন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস দক্ষিণ কোরিয়া সফরে ছিলেন। তাঁর সফরের সময়ই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাটি ঘটে।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত হতে সক্ষম নতুন ধরনের টর্পেডো পরীক্ষা করার কথা জানায় পিয়ংইয়ং। ‘জাম-২.০’ নামের উচ্চগতির এই টর্পেডোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যাচাই করতে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলে কেসিএনএ জানায়। দেশটির দাবি, টর্পেডোর লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও পরিচালনার কাজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া এর আগে সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। দেশটির সামরিক বাহিনী নৌযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
গত সপ্তাহে কিম জং উন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ প্রযুক্তির প্রদর্শনী ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সেখানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি উন্নত ড্রোনও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় তিনি ড্রোন প্রযুক্তিতে ‘পরম শ্রেষ্ঠত্ব’ অর্জনের জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানান।
দুই কোরিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষাগুলো এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার একটি স্বচালিত কামান প্রকাশ্যে দেখা যায়। দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ভারী অস্ত্রের দৃশ্যমান উপস্থিতি অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যমটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার তিনটি সাঁজোয়া যান দেখতে পান। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ অস্ত্রগুলোকে ১২২ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার হিসেবে শনাক্ত করে। অস্ত্রগুলোর নল দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাক করা ছিল বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তের অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) উত্তর কোরিয়ার প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন সেনাকে বেড়া নির্মাণের কাজ করতে দেখা যায়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে।
ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে সামরিক শক্তি প্রদর্শন?
চীনের শেনজেনে চলতি মাসের ১৮ ও ১৯ নভেম্বর এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে।
ট্রাম্প একাধিকবার কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা এখনো প্রকাশ্যে তাঁর প্রস্তাবে সাড়া দেননি। সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষাগুলো সম্ভাব্য বৈঠকের আগে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আলোচনায় দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে বৈঠকটি হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যদি ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়, তাহলে ট্রাম্প কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
রয়টার্স গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, চলতি বছর ট্রাম্প-কিম বৈঠকের সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। উত্তর কোরিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দেয়নি। যদিও এপেক সম্মেলনের সময় বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে অনড় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও একমত হন। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন হতে পারে—এমন কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
তবে পিয়ংইয়ং পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির আইনেই নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিম জং উন ও দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা বারবার বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার ত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই নেই।
ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ—দুই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোর থেকে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। কয়েক বছর আগে এলাকাটিকে ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
এ ছাড়া গাজার উত্তরাঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে। গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় অবস্থিত তাজ মলও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কে ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী’ এবং দেশটির নৌবাহিনী রয়্যাল নেভি ও বিমানবাহিনী রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। লন্ডনের ‘শত্রুতামূলক’ কর্মকাণ্ডের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং দেশটির নতুন ‘স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬’ আইনের আওতায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত জুলাইয়ে নতুন আইনের আওতায় ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)-কে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাজ্য। ওই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কেউ আইআরজিসিকে সহায়তা বা সমর্থন করলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ইরানের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তেহরান ও লন্ডনের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। বল সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত ৩৫০ টেস্ট উইকেট নেওয়া বোলার এখন তিনি।
গত ৩১ অক্টোবর কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে তিনি এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন। ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ১৭৬ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে রাবাদা তিন উইকেট নেন। রান তাড়ার প্রথম ওভারেই তিনি ম্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান। এরপর সপ্তম ওভারের ষষ্ঠ বলে ট্র্যাভিস হেডকে আউট করেন। হেড ২৬ বলে ১৪ রান করেছিলেন। এই উইকেটেই তিনি ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন।
৩৫০ উইকেট পেতে রাবাদার লেগেছে ১৩ হাজার ৮০৮ বল। এই হিসাবে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক সতীর্থ ডেল স্টেইনকে। স্টেইনের লেগেছিল ১৪ হাজার ৭১৯ বল। তৃতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াকার ইউনিস। তার লেগেছিল ১৪ হাজার ৯০৫ বল।
ম্যাচ সংখ্যার হিসাবে রাবাদা দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় দ্রুততম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট ছিল তার ৭৫তম। স্টেইন তার আগে। তিনি ৬৯ টেস্টে ৩৫০ উইকেট নিয়েছিলেন।
ম্যাচের হিসাবে সার্বিক রেকর্ড শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরনের। তিনি ৬৬তম টেস্টে ৩৫০ উইকেট পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন।
রাবাদার তিন উইকেটের পর অফ স্পিনার সাইমন হার্মার নেন আরও ছয় উইকেট। এতে অস্ট্রেলিয়া ১১১ রানে অলআউট হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জেতে ১৭৬ রানে। সিরিজও জেতে ২-১ ব্যবধানে।
মধ্যপ্রাচ্যে ২৬টিরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে উঠে এসেছে এমন তথ্য ।
এপি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দাবি করা ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান শুরুতে মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, সেনাদের আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুদাম ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সেনাদের জিমনেসিয়াম, দোকান, খাবারঘর ও গাড়ি রাখার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান এবং একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে ১৫টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বজায় আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। র্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এ ধরনের হামলা মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ শেষে ওই অঞ্চলে আগের মতো সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠন করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
একইসাথে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য, চার হাজার ১৫৫ ঘনফুট অবৈধ কাঠ ও পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের সাফল্য তুলে ধরেছে ব্যাটালিয়নটি।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাটালিয়ন সদরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশেষ দরবার, দোয়া, প্রীতিভোজ, কেক কাটা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে ব্যাটালিয়ন মসজিদে ফজরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইউনিট কোয়ার্টার গার্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৯টা থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্যাটালিয়নের চিত্তবিনোদন কক্ষে অধিনায়কের বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১টায় ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত প্রীতিভোজ ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক।
এ সময় খাগড়াছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইফতেখারুল আলম বেগ, মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি ও ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল ৪টায় ফুটবল ও ভলিবল খেলা ও সন্ধ্যা ৭টায় ব্যাটালিয়নের নিজস্ব শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পানছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, পানছড়ি তুলনামূলক কম চোরাচালানপ্রবণ এলাকা হলেও গত এক বছরে প্রায় এক কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য ও চার হাজার ১৫৫ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে ৩ বিজিবি। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথক দু’টি অভিযানে একটি এসএমজি ও এক হাজার ৫০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৯ মে দুই সশস্ত্র জেএসএস সদস্য একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি শর্টগান, ১৮৮ রাউন্ড গুলি, ২৫ রাউন্ড স্মোক গুলি ও শর্টগানের ৩৯ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা ও নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া জন্মাষ্টমী ও দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ রোধে ব্যাটালিয়নের অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য অর্জন করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম রিজিয়ন আন্তঃব্যাটালিয়ন আজান ও ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও আন্তঃব্যাটালিয়ন ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইউনিটটি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্যে অধিনায়ক বিজিবির মূলমন্ত্র ‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’ সামনে রেখে দেশমাতৃকার সেবায় অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসাথে ব্যাটালিয়নের সুনাম ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ,আর
নাটোরের নলডাঙ্গার যুবক মো: শামীম হোসেন (৩০) আট মাস আগে পরিবারের ও নিজের ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন। তিন মাস আগে সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে মারা যান তিনি। চার মাস বয়সী মেয়ে সাফা জান্নাতকে আর দেখা হল না তার। শুনতে পারেননি বাবা ডাকও। অনেক আশা ছিল দেশে ফিরে সন্তানের মুখ দেখবেন শামীম। দূরদেশে থেকেও ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন তিনি। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেয়ার স্বপ্নও দেখতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এখন তারই মরা মুখ দেখতে হলো পরিবারের।
শিশু সাফাকে দেখতো হলো তার প্রবাসী বাবার লাশ। জন্মের এক মাসের মাথায় বাবাকে হারায় সে।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন শামীম। অগ্নিকাণ্ডে শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণে জটিলতার কারণে প্রায় তিন মাস পর ৩১ অক্টোবর তার গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছে। লাশ এক পলক দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় জমায় অত্মীয়-স্বজনরা।
শনিবার বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামে নলডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শামীম হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার উপস্থিতিতে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে, সকালে বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইনন্সের ফ্লাইটে তার লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
মৃত শামীম হোসেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার মো: জাকির হোসেনের ছেলে।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকার নাজমা খাতুন মিতু নামে এক নারীকে বিয়ে করেন শামীম। বিয়ের পর সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর পর স্ত্রী সন্তানসম্ভাবনা হন। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সন্তানসম্ভাবনা স্ত্রীকে রেখে আট মাস আগে প্রবাসজীবনে পাড়ি জমান শামীম। সন্তান হওয়ার খুশিতে বিদেশে আত্মহারা শামীম। অনেক স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সন্তানকে আর আদর করা হলো না তার।
স্বামীর লাশ দেখে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন স্ত্রী মিতু। তিনি বলেন, ‘গত ৯ আগস্ট সকালে তার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। প্রতিদিন মেয়েকে ভিডিও কলে দেখতো। এখন আমি কাকে দেখাবো, কার সাথে কথা বলব। কাকে আমার সন্তানের ভালো মন্দের কথা জানাবো। আমার ছোট শিশুটি এতিম হয়ে গেল। সে আর আমাকে ফোন দিবে না। তার সন্তানের খোজও নিবে না।’
মৃত শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। আজকে লাশ হয়ে ফিরলে। আমার চার মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। সরকার যেন তার ভবিষতের জন্য কিছু করে দেয়।’
বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘সে আমার একমাত্র ছেলে। তার আয়ের ওপর সংসার চলত। অনেক টাকা ঋণ করে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। চার মাস বয়সী মেয়েকে এতিম ও বউকে বিধবা করে চলে গেলো আমার ছেলে। এতিম নাতনির ভবিষ্যতের জন্য সরকার যেন কিছু করে দেয়।’
নলডাঙ্গার ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, ‘শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় ও গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। বিকেলে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।’ এ,আর
রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ যুবলীগ-ছাত্রলীগ। এ অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।
তিনি বলেন, মিরপুর ১০ ও এর আশপাশে এলাকায় অভিযানে আটকরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃনমূল নেতা। মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা মূলত এই নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। আলিফই মূলত ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নেতাকর্মীকে ঢাকায় এনেছেন। প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী এখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের শনাক্ত করে আটক অভিযান চলমান।
ডিবি কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। তবে গতকাল শনিবার থেকে তারা বেশ সহিংস হয়ে ওঠে। আজও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ রাকিব খাঁন বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকাতার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে আজ সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের একপর্যায়ে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন।
এ সময় সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
বরিশালের উজিরপুরে ৭৭ জন গ্রাম পুলিশের মধ্যে বাইসাইকেল ও ইউনিফর্ম উপহার দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। গ্রাম পুলিশের চলাচল সহজ করা এবং দায়িত্ব পালনে গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তারা আরো দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবেন। জনগণের সেবার মান বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা। তিনি বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তাদের চলাচল সহজ করা এবং দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য বাইসাইকেল ও ইউনিফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীলতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
বাইসাইকেল ও ইউনিফর্ম পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। গ্রাম পুলিশ মনির হোসেন বলেন, ‘বাইসাইকেল ও ইউনিফর্ম পেয়ে আমরা আনন্দিত। এতে দায়িত্ব পালনের সময় চলাচল সহজ হবে এবং কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়বে।’
গ্রাম পুলিশের দফাদার বাদশা ফকির বলেন, ‘গ্রাম পুলিশের সদস্যরা প্রত্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। বাইসাইকেল পেলে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া সহজ হবে। এতে দায়িত্ব পালনে আরো গতি আসবে।’
গ্রাম পুলিশ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিফর্ম ও বাইসাইকেল আমাদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। আমরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সেবায় আরো আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অথচ কলেজ শাখায় কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন আরো সাতজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের চিত্র সামনে আসে।
উপজেলা পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে এবার সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।
অন্যদিকে উপজেলার একমাত্র কারিগরি কলেজ জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। সব মিলিয়ে উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পাস করেছে ৪১০ জন শিক্ষার্থী।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকসংখ্যার বিষয়টি নিয়ে। মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও কেন শিক্ষার্থীদের ফলাফল এতটা হতাশাজনক, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের উদাসীনতা এবং যথাযথ অ্যাকাডেমিক তদারকির অভাবে শিক্ষার মান ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। তারা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয়া ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এতো শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? শুধু শিক্ষক নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়মিত ক্লাস নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি আরো বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সঙ্কটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ফলাফল না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
তবে শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ,আর
পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফুট সড়কের কাঞ্চনগামী পাথরবোঝাই ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিলসহ শিমুল মিয়া (৩২) ও ইয়ামিন আলী (৩৫) নামে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) গ্রেফতার আসামিদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার রাতে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক থেকে ধাওয়া করে পার্শ্ববর্তী বুরুলিয়া এলাকা থেকে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিলসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিরা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, শনিবার রাতে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে নিয়মিত টহল দেয়ার সময় পুলিশ কাঞ্চনগামী পাথরবোঝাই একটি ট্রাককে থামানোর জন্য সংকেত দেয়। এ সময় চালক ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকলে পুলিশ ধাওয়া করে ট্রাকটি থামায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ট্রাকটি থেকে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে।
ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় শিমুল মিয়া (৩২) ও ইয়ামিন আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয় এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুজন মিয়া গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এ,আর
এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে যুব র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ চেক বিতরণ করা হয়। ১৮ জন যুব উদ্যোক্তার মধ্যে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এত সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মসলে উদ্দিন ফরিদ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, দক্ষ যুবক গড়ে তুলতে হলে তরুণদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ এখন অনেকটাই হাতের নাগালে। যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ, কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বিদেশে যাওয়ার ওপর নির্ভর না করেও দেশে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি,এম, এ, মুনীব, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম জিয়াউল্লাহ,উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ ও সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস। বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গুলশান-ই-জাহান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফেরদৌস আরা বেগম, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোরশেদ, যুব উন্নয়ন সহায়ক আরাফাত রহমান, প্রেসক্লাব চৌগাছার ক্রীড়া স¤পাদক এম এ মান্নান, উদ্যোক্তা শাহীনুর রহমান, মেহেদী হাসান, সুমাইয়া আক্তার ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম জিয়াউল্লাহ জানান, যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জন যুব উদ্যোক্তাকে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। নকশিকাঁথা তৈরি,
দুগ্ধখামার, মাছ চাষ এবং গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে এ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। এ,আর
এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) যশোরের চৌগাছায় এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শান্তা আক্তার (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের কালিয়াকুন্ডি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শান্তা আক্তার কালিয়াকুন্ডি গ্রামের কাজী শাহজাহান আলীর মেয়ে ও গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এবছর সে গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শনিবার এইচএসসি ও সমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে সে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় সে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ভাই শুভ রহমান জানান, ঘটনার দিন সকালে ঘরের দরজা না খোলায় দরজা খুলে বোনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার ডাক চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা শান্তকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শান্তা। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার ওসি কাজী বাবুল। এ,আর
বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে অবিলম্বে জনগণের সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দাবি না মানলে তা একদফায় রূপ নেবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সেই ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
শনিবার মধ্যরাতে কুষ্টিয়া শহরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়াবাসী আপনারা বিকেল থেকে শুরু করে এই গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। রাত ১২টা বাজতে চলল; আর এর আগেই বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। আমরা আপনাদের দাবি নিয়ে সামনে হাজির হয়েছি। ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই, আমরা যে সাত দফা নিয়ে মাঠে নেমেছি, তার সবই এ দেশের সাধারণ মানুষের দাবি।
বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ১৪ শতাধিক সন্তানের তাজা রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত যে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছিল, এই সরকার তা লালন করছে না। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটকে অবৈধ আর সংসদ নির্বাচনকে বৈধ বলা চরম প্রবঞ্চনা। রাজনীতির নোংরা ধারা মাটির নিচে চাপা দিয়ে বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়াই ছিল শহীদদের মূল আকাঙ্ক্ষা।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করে সরকার জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে উল্লেখ করে তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যখনই জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। ভালোয় ভালোয় জনগণের সাত দফা মেনে নিন, তা না হলে আন্দোলন একদফায় রূপ নেবে।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন (রনি), ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত এবং সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সফট পাওয়ার হিসেবে পরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলগুলো পুরোদমে মাঠে তৎপর হয়েছে। এমনকি এদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বিএনপির রাজনৈতিক নেতারা। আওয়ামী লীগের মদতপুষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন সরকার-নিযুক্ত জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর উদীচীর অধিকাংশ সংগঠক গা ঢাকা দিলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে শুরু করেন। কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও উদীচী মূলত আওয়ামী লীগের একটি সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নামে মাঠে তৎপর হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সিপিবি মিছিল শুরু করলে পল্টনে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেয়।
সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নানা কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিকের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সমাজের পাগুলো উপরে উঠে গেছে, আর মাথাগুলো নিচে পড়ে গেছে। এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞানী-গুণী মানুষের জন্ম হতো, অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজ বৃহৎ মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।’
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? এখানে তো কারো ভর্তি হওয়া উচিত না। অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা।’
মুক্তিযুদ্ধকালে এবং ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ড. নিমচন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছর বেঁচে থেকে তিনি দেখে যেতে চান—বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি স্বাধীনতা বিরোধীদের পাকিস্তানে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা, বাঙালি পরিচয় ও আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষা করা না গেলে একাত্তরের বাংলাদেশকে ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
নিমচন্দ্র ভৌমিককে শেখ হাসিনা সরকার নেপালে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছিল। অপেশাদার ও অ-কূটনীতিসুলভ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেন। তার বিরুদ্ধে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার ব্যবহারের জন্য মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি থাকলেও মোটরসাইকেলের পেছনে বসে নিয়মিত ড্যান্সবারে যাতায়াত করে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করেন।
তিনি কাঠমান্ডুতে একজন ভারতীয় কূটনীতিক অপূর্ব শ্রীবাস্তবকে অব্যাহতভাবে উত্ত্যক্ত করেন। একপর্যায়ে ওই মহিলা কূটনীতিকের বাসায় প্রবেশ করতে গিয়ে নিমচন্দ্র ভৌমিক দারোয়ানের বাধার সম্মুখীন হয়ে তার বাসার সামনে গাড়িতে বসে থাকেন।
এছাড়া এই রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে বলিউডের চিত্রনায়িকা মনীষা কৈরালার বাড়িতে গিয়ে উপদ্রব করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্থায় এহেন ‘অসভ্য’ আচরণের বিরুদ্ধে নেপালের পররাষ্ট্র সচিব ঢাকার পররাষ্ট্র সচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং এসবের সত্যতা পাওয়ায় নেপাল থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়।
নিমচন্দ্রের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যতটা এগিয়ে গিয়েছিল, দেশ আজ সেখান থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।’ আওয়ামী ইতিহাস প্রকল্পের অংশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সংগঠকরা দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও সাংবাদিক প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে সামনে আসছেন।
এদিকে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ‘বি টিম’ হিসেবে পরিচিত সিপিবির নেতারা প্রধান মুখ হিসেবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এই দলের নেতারা শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে মৌলবাদ দমনের নামে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন।
সিপিবির নেতারা এখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের টকশোতে নিয়মিত আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের দুটো টকশোর অতিথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুটি অনুষ্ঠানে সিপিবির নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলোয় আওয়ামী প্রচারবিদ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা নিয়মিত অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পক্ষে বয়ান তৈরি করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ধাক্কায় প্রচলিত সার্চে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে গুগলের। এ তথ্য প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য কমেছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার বলেন, গুগলের ‘এআই মোড’ প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপনের আয়ে প্রভাব ফেলছে। এআই মোডে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। এতে প্রচলিত সার্চের ফলাফলের পাশে দেখানো বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে।
তবে এআইনির্ভর সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে গুগলের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদী শিন্ডলার। তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রগতির গতিপথ নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’
এআইয়ের উত্থানের ফলে মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গুগলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন লাখ লাখ মানুষ চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন।
গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসার সাবেক প্রধান কিম স্কট বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, অন্য কেউ গুগলের ব্যবসা কেড়ে নেওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি নিজের প্রচলিত ব্যবসায় প্রভাব ফেললেও নিজস্ব এআই প্রযুক্তি চালু করতে চাইছে।
তার ভাষায়, ‘গুগল বরং নিজের ব্যবসার ক্ষতি করে হলেও নতুন প্রযুক্তি আনবে, অন্য কাউকে নিজের ব্যবসা কেড়ে নিতে দেবে না।’
স্কট বলেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েই গুগলের প্রতিষ্ঠা। এ ধরনের বিনিয়োগ স্বল্প মেয়াদে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করলেও দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা এআইয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বাজি ধরছে।’
আয় বাড়লেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি অ্যালফাবেট
গত বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে তাদের মোট আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ১২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার।
তবে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী আয় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন ব্যবসার আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। আগের দিন প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি ডলার। বৃহস্পতিবার দিন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি ডলারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের প্রধান বিশ্লেষক ট্রেসি উ বলেন, গুগলের সার্চ ব্যবসার হতাশাজনক ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে, বিপুল পরিমাণ এআই বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার শক্তি ধরে রাখা কতটা কঠিন।
অ্যামাজনের বিপুল বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ
এ সপ্তাহে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনও তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এআই খাতে চলমান প্রতিযোগিতায় বিপুল অর্থ ব্যয় অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে তাদের প্রচলিত ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে এসব বিনিয়োগের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের পর অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ কমে যায়।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের ত্রৈমাসিক আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের প্রবাহ ঋণাত্মক ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, আয় করা অর্থের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে এই ব্যয় বেড়েছে ছয় গুণ।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন দুটি ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছে, যেগুলো ভবিষ্যতে অ্যামাজনের জন্য এক ট্রিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের ক্লাউড সেবা এবং খুচরা বিক্রির ব্যবসা।
আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় জ্যাসি অ্যামাজনের নিজস্ব কম্পিউটার চিপ তৈরি ও বিক্রি এবং এআই ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম ‘বেডরক’-এর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। বেডরকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা বড় বড় এআই মডেল ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পান।
জ্যাসি বলেন, ‘২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি, তা হলো বিশ্ব শাসন করার জন্য একটিমাত্র প্রযুক্তি নেই।’
তার মতে, শুরুতে কোনো একটি প্রযুক্তি এগিয়ে থাকলেই যে ভবিষ্যতে সবাই সেটি ব্যবহার করবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
প্রতিষ্ঠানের বিপুল ব্যয়ের বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে জ্যাসি স্বীকার করেন, এই বিনিয়োগ আগামী ২৫ বছরে ছড়িয়ে দিতে পারলে তা আরো সুবিধাজনক হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সে সুযোগ দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই পরিকল্পনার অর্থ জোগাতে পারব। আমার বিশ্বাস, এটি অ্যামাজনের আকার, আয় ও অবাধ নগদ অর্থের প্রবাহে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।’
এআইয়ের প্রকৃত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন মাইক্রোসফটের ফলাফলেও
মাইক্রোসফটের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিটে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১ শতাংশেরও কম কমেছে।
ওপেনএআইয়ের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফট এআই খাতে আগের তুলনায় প্রায় ৫০০ কোটি ডলার কম বিনিয়োগ করেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও জানিয়েছে। এতে তাদের ব্যয় আরো কমবে।
মাইক্রোসফটের গত ত্রৈমাসিকে আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ক্লাউড ব্যবসার আয় ৩০ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, মাইক্রোসফটের এআই চ্যাটবট ও প্রযুক্তি সহায়ক টুল ‘কোপাইলট’-এর ব্যবহার বেড়েছে। জুলাই থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়া কাজের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৫০০ শতাংশ বেড়েছে।
সাধারণত ব্যয় কমানো ও আয় বাড়ার খবর বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা। কিন্তু ফরেস্টারের বিশ্লেষক ট্রেসি উ বলেন, এআই খাতে বিপুল প্রতিশ্রুতির বাস্তব সুফল কোন প্রতিষ্ঠান পাবে, তা নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট এখন দীর্ঘমেয়াদি হিসাব করছে।
তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের ফলাফল দেখাচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এআইয়ের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের সামনে আরো বড় একটি প্রশ্ন তুলে ধরছে—শেষ পর্যন্ত এআইয়ের প্রকৃত মূল্য কোথায় গিয়ে জমা হবে?’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ের বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে সবাইকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একটির পর একটি কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তখন সবাইকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’
সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার জুলুমবাজি করছে। তবে এই জুলুমবাজির পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে।’
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
পথসভা শেষে লংমার্চটি যশোরের মুড়ালীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এ লংমার্চে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, খুলনার এই পথসভা শুধু লংমার্চের কর্মসূচি নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান কর্মসূচিটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
অনুরূপ খুলনার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সাথে জুলুমবাজি করছে। তাদের থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে ১১ দলের ৭ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ঘটেছে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ শিক্ষার্থী। এবার প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিলেবাসের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। এ ছাড়া খাতা মূল্যায়নে লিবারেল না থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাও বিরাজমান ছিল। এতে অনেকেই কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। যা এবারের ফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আজ শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রকাশিত ফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
এর মধ্যে শুধু ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।
ফেল করা পরীক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এবার শুধু মোট অকৃতকার্যের সংখ্যাই বাড়েনি। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ কমেছে ৪২ শতাংশ। আর পাশের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ বছর মাদ্রাসাসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
আর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন বা প্রায় ৪২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যেমন অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়েছে, তেমনি এত বড় সিলেবাসের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। এর ওপর গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সব বোর্ডে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় ফলে তার একটা স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে। পাশাপাশি, খাতা মূল্যায়নে ঢালাওভাবে বাড়তি নম্বর না দিয়ে একদম যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রেও কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছিল। এসব কারণেই মূলত এবার পাশের হার কিছুটা কমেছে বলে তারা মনে করছেন।
তারা আরও মনে করছেন, ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশও বড় এক ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরই এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছিল, তার প্রভাবে অনেকেই কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। ফলে নিয়মিত ক্লাশে উপস্থিত থাকা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের ভেতরে একধরনের অনীহা তৈরি হয়—যা এবারের ফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
ঢাকা বোর্ড পাশের হার নিম্নমুখী
ঢাকা বোর্ডে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। গত বছর ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছিলেন। এবারের এইচএসি ও সমমান পরীক্ষায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী। গত বার এইচএসসি ও সমমানে মোট পাশের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাশ চট্টগ্রাম বোর্ডে
গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাশের হার দেখল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৭ শতাংশে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর পাশের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন।
রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার কমেছে
এ বছর এইচএসসির পাশের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে অটোপাশের পর এবারই পাশের হার সর্বনিম্ন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডের ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন পাশ করেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
বরিশালে ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল
প্রকাশিত ফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। এছাড়া বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেননি। ফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। তিনি বলেন, এবারের ফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।
মানবিকে ফেল করেছে সর্বোচ্চ
১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ। এবার মানবিক বিভাগ থেকে ফেল করেছে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে ছাত্র ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন সেখানে পাশ করেছে ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। এছাড়া ছাত্রী অংশ নিয়েছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন, সেখানে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন পাশ করেছে। সব মিলিয়ে পাশের হার ৪২.১৭ শতাংশ।
এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা টানা দুই বছর ধরে কমছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে।
অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন। বর্তমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭২ শতাংশের বেশি কম।
২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এক বছরের ব্যবধানে এবার তা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। অর্থাৎ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৩২ হাজার ৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন। সে বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন।
ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এক বছরেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছিল ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। পরের বছরও সেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সার্বিকভাবে ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও রাজধানী ঢাকার মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এবার ঢাকা মহানগরীতে পাশের হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
অন্যদিকে, ঢাকা জেলায় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৩টি জেলার মধ্যে সাতটিতেই পাশের হার ৫০ শতাংশের নিচে। জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাশের হার নরসিংদীতে, ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
চলতি বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩০ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন।
তবে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল ছিল তুলনামূলক ভালো। এখানে পাশের হার ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী।
জেলা অনুযায়ী ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা জেলায় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গাজীপুরে ৬১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং নরসিংদীতে ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জে পাশের হার ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ, মানিকগঞ্জে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, টাঙ্গাইলে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফরিদপুরে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মাদারীপুরে ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, শরীয়তপুরে ৪১ দশমিক ০৫ শতাংশ, রাজবাড়ীতে ৪০ দশমিক ৮২ শতাংশ, গোপালগঞ্জে ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং কিশোরগঞ্জে ৫০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও তুলনামূলক ভালো। এসব প্রতিষ্ঠানে এবার পাশের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এই ফলাফল প্রকাশিত হয়।
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। মাঝে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ওই বোর্ডে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেশের ১১ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অংশ নেন।
একসঙ্গে পদ্মা সেতু পার হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা–কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চে অংশ নেওয়া ৭৭৮টি যানবাহন ।
১০টার দিকে পদ্মা সেতু পার হয়। এসব যানবাহন থেকে সেতুর টোল বাবদ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।
পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বহরে মাইক্রোবাস, কার, জিপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। সব মিলিয়ে ৭৭৮টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।
১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, ঢাকা থেকে ৬০০–৭০০ গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ যাত্রা করবে। পথে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হবে বহরে। কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পর গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।
১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, এটি তাদের তৃতীয় দফার লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চ হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের কর্মসূচিটি আগের দুটির তুলনায় দীর্ঘ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার কথা লংমার্চের বহরের।
১১–দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–বরিশাল পথেও লংমার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ১১–দলীয়ে ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কোনো মেডিকেল সেন্টার বেশি টাকা দাবি করলে বা হয়রানি করলে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি কোনো কর্মীকে দিতে হবে না। এ বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এতে আরও জানানো হয়, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কাজ করবে না। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নির্বাচিত কর্মীরা অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।
কোনো কর্মীর মেডিকেল স্লিপ একটি এজেন্সি করলেও পরে তিনি অন্য এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আগের এজেন্সিকে কোনো বিলম্ব না করে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে হবে। স্লিপ প্রদানকারী এজেন্সির কোনো অজুহাত বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি দাবি করলে কিংবা হয়রানি, টালবাহানা বা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি করলে সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য secretary@probashi.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাইগ্রামস (MIGRAMS) স্লিপের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করবে মন্ত্রণালয়। কোনো অনিয়ম বা গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়াগামী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।