চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল। মহারাষ্ট্র থেকে আনা থাইল্যান্ডের লাল রক্ত তেঁতুলেই বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন নজরকাড়া থ্যাইল্যান্ডের রক্ত তেঁতুল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। একই গাছে দেখা মিলছে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফলের। বারোমাসি ফলন হওয়ায় এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে কৃষি উদ্যোগক্তা সজলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে রক্ত তেঁতুল। তেঁতুলের কথা শুনলেই জিহবায় জল আসে। তবে যদি হয় লাল রক্তের মতো তেঁতুল তাহলে কথায় নেই। ফলের আকর্ষণীয় রঙ সকলেরই নজর কাড়ছে। প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এর ভেতরের শাঁসের রঙ একেবারেই আলাদা—পাকলে তা গাঢ় লাল বা টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে।কৃষি উদ্যোক্তা সজল জানান, রক্ত তেঁতুল একটি লাভজনক জাত হিসেবে পরিচিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বারোমাসি ফলন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘুরতে যেয়ে ছাদে লাগানোর জন্য গাছ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বাবার কথা শুনে লাল রক্ত তেঁতুলের মাঠে বাগান করেন।
তিনি জানান, লাল রক্ত তেঁতুল মিষ্টি হওয়ায় সকলের নিকট চাহিদা রয়েছে। একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানোর দুই বছর পরই তেঁতুল ধরা শুরু হয়। গাছও ছোট হয়। ছাদ বাগানেও লাগানো যায়। স্বাদ সাধারণত মিষ্টি কিংবা হালকা টক-মিষ্টি। রক্ত তেঁতুলের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর ভেতরের পাল্প। কাঁচা অবস্থায় শাঁস হালকা গোলাপি বা লালচে থাকলেও পরিপক্ব হলে তা গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে বাজারে প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।পরিপক্ব হলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ছবি : প্রতিনিধি
উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং বা কলমের চারা রোপণের পর মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। গাছ খুব বেশি বড় বা ঘন ঝোপালো না হওয়ায় বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও এটি চাষ করা সম্ভব। এমনকি ড্রাম বা বড় টবেও রক্ত তেঁতুলের গাছ লাগানো যায়।
কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও উচ্চমূল্যের ফলের জাত চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি ফলন হওয়ায় রক্ত তেঁতুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারজাতকরণ, চারা ও ফলের প্রকৃত বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আরও তথ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও দেখুনজীবননগরের মাটিতে নতুন এ ফলের চাষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। কৃষি উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রক্ত তেঁতুল ভবিষ্যতে জীবননগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে।।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগর কৃষিতে সমৃদ্ধ এবং সম্ভবনাময় উপজেলা। এখানে কৃষি উদ্যোক্তার হাত ধরে অনেক দেশি বিদেশি প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। নতুন করে লাল তেঁতুল চাষ হচ্ছে। বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। অল্প সময়ে লাভজনক চাষ হওয়ায় সবাই আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি লাল তেঁতুল চাষ করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা লাঘব হবে, অন্যদিকে বেকার যুবক উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
