মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

চট্টগ্রামে নিখোঁজের পর দুই দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের লাশ। এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবারকে অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের প্রকাশ করা ছবি দেখে মর্গে থাকা লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় সে। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে পরদিন এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। পরে ষোলশহর এলাকায় আসতে বলা হয় পরিবারকে।

বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, নম্বরটি লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

অন্যদিকে, শনিবার রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানা পুলিশ লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, দুই দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হলে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ জানায়, শান পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল। সেখানে সবাই পানিতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে শান ভেসে যায়। ভয়ে তার চার বন্ধু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় শানের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, শান বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় গিয়ে পানিতে ভেসে যায়। পরে বন্ধুরা ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

শানের চাচা গোফরান উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে পরিবার তাকে খুঁজলেও মর্গে থাকা লাশটি যে শানের, সে তথ্য তারা আগে জানতে পারেনি। অপহরণের কথা বলে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ