কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৪০) ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গচিহাটা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই লিমন মিয়া (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক লিমন মিয়া গচিহাটা গ্রামের মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে।
আহত রানার ছোট ভাই মো: সাব্বির জামান রনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় বড় ভাইকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তার খিঁচুনি শুরু হয়। দ্রুত তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত গচিহাটা কলেজ মাঠে কয়েকজন যুবক ও কিশোর মাদক সেবন করছিল। কলেজের পাশ দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার জামান রানা তাদের মাদক সেবন করতে দেখে বাধা দেন। এ সময় তাদের গালিগালাজ করে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ সময় আফতাব উদ্দিন নামে এক কিশোর মাঠ থেকে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে শাহরিয়ার রানা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে আফতাব বাড়িতে গিয়ে তার চাচা তাজুল ইসলাম ও এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানায়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাজুল ইসলাম ঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে কয়েকজনকে সাথে করে গচিহাটা বাজারে রানাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাজুলের সাথে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে গচিহাটা বাজারের চিত্রা ফার্মেসিতে বসেছিলেন শাহরিয়ার জামান রানা। এ সময় তাজুল ইসলাম সেখানে ঢুকে রানার বুকের ডান পাশের নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, গচিহাটা বাজারে তার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বিএনপির কিছু লোক জড়িত।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। বরং পুলিশ তাকে আসামিদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে অভিযোগ দিতে বলেছে।
মেজর আখতার বলেন, ঘটনাটি বাজারে ঘটেছে এবং সবাই তা দেখেছে। অজ্ঞাতনামা আসামি দিলে পুলিশের বাণিজ্য করতে সুবিধা হয় এবং অহেতুক মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে তিনি কাউকে হয়রানি করতে চান না।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এতে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় বাদীকে তা সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, এ হামলার ঘটনায় শাহরিয়ারের চাচা মিজানুর রহমান কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ভোরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
