ক্যাটাগরি খুলনা

Khulna district

  • খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার দৌলতপুরে জলিল মুন্সি নামে এক যুবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থানার কুলিবাগান বটতলার অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

    পাট শ্রমিক জলিল ওই এলাকার সাধু বাগানের দিলু মুন্সির ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কুলিবাগান এলাকায় জলিলের বাবার একটি পানের দোকান আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য এক যুবককে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে পৌনে ৮টার দিকে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোনে তর্কতর্কি হয়।

    এরপর বটতলা থেকে দুই গজ দূরে যাওয়া মাত্র একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তির সাথে তার কথা হয়। এক পর্যায়ে আগতদের একজন তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি করে। গুলি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।

    স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

    কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কি কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছি।’

  • কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো: খালিদ হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সানজিদা খাতুনের সাথে খালিদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খালিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী টয়লেট থেকে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি স্বামী খালিদকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

    ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

    কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

    স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

    উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

  • খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কেডিএ নিউ মার্কেটে ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক জনসচেতনতামূলক সভা শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো, লি. খুলনার যৌথ আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেডিএ নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওজোপাডিকো লি-র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান।

    সভায় বক্তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বাসাবাড়িতে সৌর শক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

  • খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।

    কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬১৭ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে পুটখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এসকাফ সিরাপগুলো পড়ে থাকতে দেখে জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব সিরাপ জব্দ করা হয়।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ছয়জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছেন। এ মামলার অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার জেলা ও দায়রা অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের জজ মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন। তারা দু’জন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোশাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।

    এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।

    তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বৈকালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়

    গ্রেফতার হওয়া রাকিব বৈকালী এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দেড়-দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। তার সেই সহযোগীকে গ্রেফতার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব ও তার বাবা জাকির শেখ নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী, বয়রা ও মুজগুন্নী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। অনেক দিন ধরে বাবা ও ছেলে মিলে কিশোর গ্যাং নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাকিব ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও হামলা করেছে। ছেলে-বাবার ভয়ে এলকার মানুষ মুখ খুলতে পারে না। রাকিব ও তার বাবা জাকিরের বিরুদ্ধে খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

    জানা যায়, জাকির শেখ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ চালাতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাকির শেখ ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ওই বছরের ৩ অক্টোবর জাকির শেখকে যৌথবাহিনী আটক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির শেখ নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

  • খুলনায় যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

    খুলনায় যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

    খুলনায় প্রকাশ্যে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গায় খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আরিফ শিকদার ওই এলাকার আবুল কালাম শিকদার ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আরিফ শিকদার খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে দুই-তিনজন বন্ধুর সাথে কথা বলছিল। এ সময় দু’টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ছয়জন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকের ডান পাশে গুলি লেগে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    নগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, দুপুরে দুই-তিন বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় দু’টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার ডান বুকে লেগে স্লিপ করে চলে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পূর্ব শত্রুতা ও মাদককে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে।