চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সিদ্ধ ডিমে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর বমি করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম মুখে দেয়ার পর তীব্র তিতা স্বাদের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী বমি করে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করেন। তাদেরও অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর ডিম বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী বমি করার পর আমরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তীব্র তিতা পাই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, ‘দুইজন সহপাঠী ডিম খাওয়ার পর বমি করে। এরপর শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে নিষেধ করেন।’

পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তিতা পেয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সাথে কিছু ডিমের স্বাদের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাঁচটি বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ মো: আলী বেপারীর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

তিনি জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিমগুলো কেন তিতা ছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শিশুদের জন্য পরিচালিত পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচির ডিম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিমের নমুনা পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ,আর

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ