হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

শিক্ষা ডেস্ক:

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।