ক্যাটাগরি ক্যাম্পাস

  • ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৪৮ শিক্ষার্থী। অনুষদের ১৬টি বিভাগের এসব শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুই শিক্ষককেও এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো প্রতিনিধি অফিসের প্রধান ড. সুজান ভাইজ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না। তাঁদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

    অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে।

    তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

    উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগও রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

    এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

    ২০২২ শিক্ষাবর্ষে সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

    ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

  • হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্নাতক ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ জানুয়ারি। এ কার্যক্রম চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আরো বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদে স্নাতক কোর্সে লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য গঠিত ভর্তি কমিটির প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মেসবাসার দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করার পর শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসের বাইরের একটি মেসবাসায় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। ওই মেসের দরজায় ছিটকিনি দেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    একপর্যায়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের অপর পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

    অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলা রোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

  • ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ক্যাম্পাসে রাজনীতি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে তা সংস্কারের পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় রাজনীতি বাদ দিলে তো এই প্রোগ্রামটা আপনাদের জন্য কেউ করতে পারত না। এগুলো বাদ দেওয়া ঠিক না। ”

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ফ্রেশার রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাদ্দাম বলেন, “মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কেটে দিলে তো আপনার অস্তিত্বই থাকবে না। তো মাথাটা রেখে কীভাবে এটাকে রিফর্ম করা যায়, সেই চিন্তাটা করা উচিত। ”

    শিবির নেতা এস এম ফরহাদ জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ দফার একটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।

    তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ফরহাদ সপ্তম দফায় ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। পরে দাবিটি ‘দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার ভাষায় চূড়ান্ত করা হয়।

    ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ‘কোড অব কন্ডাক্ট’থাকা উচিত।

    সাদ্দাম বলেন, “আমরা বলেছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পলিসির আন্ডারে ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্স চলা উচিত। ”

    এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, “ইউনিভার্সিটিটা হবে কমন প্লেস অব ভ্যালুস। এখানে প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন তাদের আইডিওলজিক্যাল পারপাস স্টুডেন্টদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। স্টুডেন্ট এটা এক্সেপ্ট করতে পারে অথবা রিজেক্ট করতে পারে। ”কাউকে জোর করে কোনো রাজনৈতিক দলের বা ‘মাদার পার্টির’ স্বার্থ বাস্তবায়নে মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাদ্দাম বলেন, “কখনোই গণরুম এবং গেস্টরুম চালু করা যাবে না। যারা চালু করবে, সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। ”

    ‘আইডিওলজি বাস্তবায়ন হবে, তবে ক্যাম্পাসের স্বার্থে’

    এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতি করবেন।জবাবে শিবির নেতা নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “হ্যাঁ, তা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, যার যার আইডিওলজি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের স্বার্থে হতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পোস্টার ক্যাম্পাসে সাঁটানো যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা আসলে তাদের নামে স্লোগান এখানে দেওয়া যাবে না। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা হলে থাকেন জানতে চেয়ে তিনি হাত তুলতে বলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট মায়ের পেট ছেড়ে এই ইউনিভার্সিটিতে মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়ার পরে কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হলে একটা সিট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬০ বছরে দিতে পারবে না—এর জবাব কী আছে? এটা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জা। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আপনাদের ইউনিভার্সিটির পরেও এই বাংলাদেশে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টা ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়েছে। এতগুলো ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, হাজার হাজার টিচার বরাদ্দ দিতে পারে, অথচ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির পূর্ণতা তৈরি করার জন্য সরকারের যে দুর্বলতা—এই দুর্বলতা ইনটেনশনালি তৈরি করা হয়েছে। ”

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

    তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

  • হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেবে না রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস কলেজ। কলেজের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিবাহিতদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেয়া হবে।

    কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০, মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.০০ থেকে ৫.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.০০ থেকে ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৭০টি আসন রয়েছে।

    ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কলেজের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত লিংকে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে বিকাশের মাধ্যমে চার্জ ছাড়া ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম ও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করা যাবে।

    ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সিলেকশন টেস্টে অংশ নিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সিলেকশন টেস্ট হবে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা হবে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)।

    সিলেকশন টেস্টের শিফট ও সময় ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। আর সিলেকশন টেস্টের বিস্তারিত আসন ব্যবস্থা—ভবনের নাম ও রুম নম্বরসহ—৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টার পর প্রকাশ করা হবে।

    সিলেকশন টেস্টে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা হবে। মানবিক বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগ ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    সিলেকশন টেস্টে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, হলি ক্রস কলেজ ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি টাকা জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ভর্তি-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

  • চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    ফিচার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ১২ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সাপ ও সাপের দংশন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা সংগঠন সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (3SA) এর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।

    পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।

    সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের ভাই ভাই স্টোরসংলগ্ন একটি বিল্ডিং থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।

    জিরো পয়েন্টের ইমাম মো. ইয়াকুবের হেল্পলাইনে ফোন পেয়ে 3SA-এর উদ্ধারকারী দলের সদস্য মো. ইমরান, মো. জাহিদ ও মো. জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অজগরটি বার্মিজ প্রজাতির এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট ও ওজন প্রায় ২০ কেজি।

    3SA-এর রেসকিউ টিমের সদস্য মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘এটি বার্মিজ জাতের। প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং ওজন ২০ কেজি।

    উদ্ধার করার পর আমরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেছি। খাবারের অভাব, পাহাড় কেটে ফেলা ও আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে এ ধরনের সাপ লোকালয়ে চলে আসে’।

  • রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

    তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং সিদ্ধান্ত নিক। তার আলোকে যাতে যথা সময়ে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন পাই, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

    আবাসন সংকট ও ভাতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শতভাগ আবাসিকতার বিষয়ে আমরা শুনেছি গত অর্থবাজেটে এটি সবুজ পাতায় সংযুক্ত হয়েছে। আমরা এটি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। ২০২৫ সালেই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। যেহেতু বাজেট হয়েছে, তাই কতদিনের মধ্যে হলগুলো নির্মাণ হবে তার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তাই আমরা শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ চাচ্ছি। যতদিন শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত না হবে ততদিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ভাতা প্রদান করতে হবে।

    ১০ মাসে রাকসুর অর্জন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আপনারা দেখবেন যে ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো ওভাবে হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং সিট বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন। এসবই কিন্তু রাকসু থাকার জন্য সম্ভব হয়েছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে একটি জবাবদিহির পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

    রাকসু নির্বাচন দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত রাকসু নির্বাচনেও আমরা দেখেছি প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিল না; কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ফলে তারা তফসিল দিতে বাধ্য হয়েছিল। তখন বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচাল এবং বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল; কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে তা রুখে দিয়ে রাকসু নির্বাচন আদায় করেছি। আবারও রাকসু নিয়ে যদি প্রশাসন গড়িমসি করে, তাহলে আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে রাকসুর দাবি আদায় করে নেব।

  • ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধা, উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়।তালিকা প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানান, তিনি সিটের জন্য ভাইভায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিট বরাদ্দ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অভিযোগ, প্রশাসন উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনার কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশ করা শিক্ষার্থীদের নাম পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এর বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করায় সিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়েছে। কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটের বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এদিকে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

  • ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনসহ প্রচারণা বন্ধ এবং পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) ঢাবি সদস্যরা।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার দুই ঢাবি প্রতিনিধি তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি দুটি হস্তান্তর করেন।

    চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ক্যাম্পাসে পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’