মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

Cumilla man found dead in Malaysia dumpster after going missing at work

সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)। কিন্তু তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তার সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে রবিনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তার লাশ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

রবিনের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রবিনের শ্বশুর মো: রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই কিছু সহকর্মীর সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যা করে লাশ ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

নিহতের বড় ভাই খোকন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কলিং ভিসায় রবিন মালয়েশিয়ায় যায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রবিনের ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসা ও মাত্র দুই বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। স্বামীর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ