ক্যাটাগরি কুমিল্লা

Cumilla district

  • কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড়ের ঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের বয়স ও পরিচয় শনাক্তে সিআইডির একটি দলকে খবর দেয়া হয়েছে।

    পুলিশের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে খবর পেয়ে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • মুসলিমের বাড়ির আগুনের ভিডিও হিন্দু বাড়ির বলে প্রচার

    মুসলিমের বাড়ির আগুনের ভিডিও হিন্দু বাড়ির বলে প্রচার

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি শাহ আলম নামের এক মুসলিম কৃষকের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের। তার স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, ‘সনাতনীদের ঘরবাড়ী আগুন জালানোহচ্চে ,লাঙ্গলকো,বাংলাদেশ!’ (বানান অপরিবর্তিত)। ভিডিওর ওপর লেখা ছিল, ‘সনাতনীদের অবস্থা, লাঙ্গলকোট বাংলাদেশ।’ এতে রাস্তার পাশের একটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে দেখা যায়।

    ভিডিওটির উৎস খুঁজতে কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ‘নাঙ্গলকোট ২৪’ (Nangalkot 24) নামের একটি ফেসবুক পেজে ১১ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নাঙ্গলকোটে মৌকরা ইউনিয়নের ডিপজল মার্কেটের ২০০গজ দক্ষিণে অগ্নি/কাণ্ড।’ এই ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়

    একই দিনে ‘বর্তমান টিভি’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনও পাওয়া যায়। ‘নাঙ্গলকোটে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আগুন লেগেছিল নাঙ্গলকোটের কৃষক শাহ আলমের বাড়িতে। প্রতিবেদনে তার স্ত্রী জোহরা বেগম জানান, ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    পরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে ঘটনাটি নিয়ে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির মালিক হিসেবে শাহ আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

  • মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার পূর্ব ধইর পশ্চিম ও দারোরা ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন।

    এ সময় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিউল আলম এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়া এবং নবীয়াবাদ এলাকায় সংঘবদ্ধ ড্রেজার সিন্ডিকেট কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩টি ড্রেজার ও প্রায় ২০০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। অপরদিকে মুরাদনগর থানা এলাকার দারোরা ইউনিয়নের বরই বাগান এলাকা থেকে ১টি ড্রেজার এবং প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, কৃষি জমির উর্বরতা ও টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) রক্ষায় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানান এবং কৃষি জমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

  • ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কাগজে-কলমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দারোরা ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের দাবি, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগেরই বাস্তবে কোনো কাজই করা হয়নি। অথচ কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া পৃথক অভিযোগে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আরও দুটি ভুয়া প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    রমিজ উদ্দিন আরো জানান, টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং একই স্থানে বারবার প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাজিয়াতল এলাকায় মবিনের বাড়ি থেকে অজিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে জানানো হয় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, প্রকল্প বাতিল দেখালেও বরাদ্দকৃত পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    তবে আত্মসাৎ ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে, যা মূলত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতাভুক্ত ছিল। ফলে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রকল্পের ফাইল, বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কার্যক্রম এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • কুমিল্লায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

    কুমিল্লায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

    কুমিল্লা মহানগরের রাজগঞ্জ বাজার এলাকায় নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিংয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাজারের মুদি, মাছ, মাংস, মুরগি ও শাক-সবজির দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হয়।

    ভোক্তা অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয় জানায়, অভিযানে ওজনে কারচুপি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) এর চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়

    এসব অপরাধে মেসার্স প্রদীপ স্টোরকে ৪৮ হাজার টাকা, রঞ্জিত স্টোরকে ২ হাজার টাকা, সুমন পোল্ট্রিকে ২ হাজার টাকা এবং বিসমিল্লাহ গোস্তের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া এবং অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযান পরিচালনায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা করে।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: কাউছার মিয়া জানান, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চৌদ্দগ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শাফকাত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল হোসেন।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাসনিয়া মোস্তফা, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজরাত জাহান ইশফা, মাইশা ফাইরোজ পাটোয়ারী প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সনদ ও বই উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন।

  • সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চালগুলো জব্দ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোসলেম সরকারকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রাম থেকে চালগুলো আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন চালবোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিষয়টি পুলিশ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে চাল রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়দের মধ্যে বিতরণ না করে এসব চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল পরিবহনের সময় ডিলার মোসলেম সরকারের সহযোগী আসাদুল্লাহকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালগুলো গৌরীপুর থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে গাড়িচালক জানান, দড়িচরের ডিলারের গোডাউন থেকে চালগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছে এবং দুলালপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চালবোঝাই গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা আটক করেন। পরে খাদ্য কর্মকর্তাকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো দুলালপুর বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

    এদিকে সরকারি চাল আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম (হিমেল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।’ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনিয়ম করার জন্য নয়। এ ঘটনায় মোসলেম সরকারকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাল আটকের খবর দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোসলেম সরকারের ডিলারশিপ বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সরকারি চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।’

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।

  • দুই দিন গ্যাসহীন কুমিল্লা, কবে আসবে জানে না কর্তৃপক্ষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টানা দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার জনজীবন। কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই, আবার কোথাও মিলছে অতি স্বল্পচাপে। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। একই সঙ্গে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।

    নগরীর বাগিচাগাও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় গতকাল ইলেকট্রিক চুলায় কোনো রকম রান্না করে খেয়েছেন। কিন্তু আজ বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা বানিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে কি চলা যায়?”

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার অসীম কুমার জানান, হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে। এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

    গ্যাস সংকটের বিষয়ে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিজিডিসিএল জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিজিডিসিএলের আওতাধীন বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

    এর প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। সাময়িক এ সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

    এ বিষয়ে বিজিডিসিএলের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

    পরে বিজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।’

    এদিকে টানা দুই দিন ধরে গ্যাস না থাকায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

  • কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে মো: মিজানুর রহমান হাজারীকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    তবে একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান হাজারীর ছেলে মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মরহুম আলী হোসেনের ছেলে।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সাথে মিজানুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

    সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

    এ,আর

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।