বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

প্রতিবেদন:

·

,

বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে। কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, বাড়িতে ফেরার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু—এমন ঘটনা এখন আর বিরল নয়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ।

কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্তব্যরত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মুকসেমুল হাকিম। তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ৪২ বছর বয়সি হাকিমের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরেই একবার তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে অফিসে তার শরীর খুব খারাপ লাগছিল। ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গও দেখা দিয়েছিল। এর আগে তার বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মতো রোগ এতে বড় ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালের ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এর অর্ধেকের বেশি মৃত্যু অকালমৃত্যু।

অসংক্রামক রোগ কেন ঝুঁকিপূর্ণ

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা এনসিডিকে অসংক্রামক রোগ বলা হয়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ হিসেবেও পরিচিত। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত ও আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এসব রোগ হতে পারে।

বয়স, অঞ্চল বা দেশভেদে এই রোগের ঝুঁকি আলাদা নয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রধান হলো হৃদরোগ ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ বছর বয়সের আগেই অসংক্রামক রোগে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব অকালমৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশেও কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা শোনা যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সি দেড় কোটি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান।

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদ্‌রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারির রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ঘটনাও বাড়ছে।

হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তখনই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের জন্য আগে থেকেই কোনো রোগ থাকা জরুরি নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকের মাঝখানে ব্যথা। চিকিৎসকেরা একে ‘সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন’ বলেন। এ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। পরে তা বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

স্ট্রোক

হৃদরোগের পর স্ট্রোকও মৃত্যুর বড় কারণ। অনেকেই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাককে একই রোগ মনে করেন। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে আঘাত করে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন স্ট্রোক হতে পারে।

সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে এখন তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্ট্রোকের ধরনও ভিন্ন। এর মধ্যে রয়েছে মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কতটা জায়গাজুড়ে স্ট্রোক হয়েছে, তার ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগী যত দ্রুত চিকিৎসা পাবেন, ক্ষতির আশঙ্কা তত কমবে।

স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

– আচমকা হাত, পা বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া

– হাত ওপরে তুলতে না পারা

– চোখে ঝাপসা দেখা

– কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া

– ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া

– জিহ্বা অসাড় হয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া

– শরীরের ভারসাম্য হারানো

– নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানো

– বমিভাব, বমি বা খিঁচুনি হওয়া

ডায়াবেটিস

বাংলাদেশে সব বয়সি মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

মোট রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আইডিএফের অনুমান, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে উঠে আসতে পারে। তখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

আইডিএফ বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অর্থাৎ তারা এখনো রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি প্রতি ১০০ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিস রয়েছে। পুরুষের তুলনায় তরুণ নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো রোগ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মধ্যে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানেন না যে তারা অনিরাময়যোগ্য ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এসব রোগের হার বেশি দেখা যায়।

গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ির মতো জ্বালানি ব্যবহার এবং ধূমপানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন।

ক্যান্সার

বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যান্সার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজার ছিলেন নতুন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।

পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ক্যান্সার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার থাকলেও ফুসফুস, কণ্ঠনালি ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

গবেষণায় বেশি দেখা যাওয়া পাঁচ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে রয়েছে স্তন, ঠোঁট ও মুখগহ্বর, পাকস্থলী, কণ্ঠনালি এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার পর্যবেক্ষণ তথ্যেও বাংলাদেশে ২০২২ সালে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬টি নতুন ক্যান্সার শনাক্ত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮টি মৃত্যুর হিসাব পাওয়া যায়।

কীভাবে অকালমৃত্যু কমানো সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, তামাকের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও বায়ুদূষণসহ নানা কারণে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যে এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা—এই তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সহজলভ্য নয়। তাই রোগ মোকাবিলায় সুস্থ থাকার জন্য ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রথমত, শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা করা দরকার।

তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।এখানে মূল প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো—অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে শুধু একটি রোগ নয়, একাধিক অসংক্রামক রোগ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি কাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান তথ্যেও হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগকে অকালমৃত্যুর প্রধান বোঝা হিসেবে দেখানো হয়েছে।