হাড়ের ক্যানসার বলতে সাধারণভাবে হাড়ের কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যানসারকে বোঝানো হয়। এ ধরনের ক্যানসারকে একত্রে বোন সারকোমা নামে ডাকা হয়। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, যার অনুপাত ১:১.৬। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। অস্টিওসারকোমা, উইংস সারকোমা, কন্ড্রোসারকোমা, অস্টিওসারকোমা ও উইংস সারকোমা। সাধারণত ১০-২০ বছর এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি যারা তাদের মধ্যে এটি বেশি হয়। কন্ড্রোসারকোমা মধ্যবয়সি ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়গুলোয় হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়েও হতে পারে।
উচ্চ ঝুঁকির কারণ
১. জেনেটিক কারণ : ফ্যামিলিয়াল রেটিনোব্লাস্টোমা যাদের রয়েছে, তাদের অস্টিওসারকোমার ঝুঁকি ৪০০ গুণ বেশি।
২. রেডিয়েশন থেরাপি : শরীরের কোনো অংশে (হাতে বা পায়ে) রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তার প্রায় তিন বছরের অধিক সময় পর সেখানে অস্টিওসারকোমা হতে পারে।
৩. ট্রমা : এটা সারকোমার কারণ নয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, শরীরের কোনো হাড় ভেঙে যাওয়ার পর অপারেশন করতে গিয়ে হাড়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়।
৪. অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট : কিছু ক্ষেত্রে মেটালিক প্রস্থেটিক ডিভাইসের স্থানে সারকোমা হতে পারে।
শনাক্তকরণের উপায়
বায়োপসি পরীক্ষা : কেটে অথবা নিডলের সাহায্যে বায়োপসি করা যায়। বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে—
এছাড়া কিছু সাধারণ উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ওজন কমে যাওয়া প্রভৃতি উইংস সারকোমার ক্ষেত্রে প্রকাশ পেতে পারে।
• এক্স-রে
• সিটি স্ক্যান
• এমআরআই
• বোন স্ক্যান
• পেট সিটি স্ক্যান
চিকিৎসা
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
প্রতিরোধের উপায়
১. যাদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—অন্তত একটা এক্স-রে পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
২. আক্রান্ত হয়ে গেলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
৩. নিয়মিত ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে বোন ক্যানসার থেকেও মুক্তি সম্ভব।
লেখক : টিউমার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়া
