ক্যাটাগরি রোগব্যাধি

  • হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই চারজন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৬ জন রোগী এসেছে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮৪ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৯৭, চট্টগ্রামে ২৮১, বরিশালে ১২৫, ময়মনসিংহে ৮২, খুলনায় ৯৮ এবং রংপুরে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২০১ জন।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 36137

    ঘুম ভাঙার পর এক কাপ চায়ে চুমুক দেওয়া, নাশতা না খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অলস স্ক্রলিং—দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক কিছু চিত্র। আপাতদৃষ্টিতে এসব আচরণকে নির্দোষ মনে হলেও প্রতিদিনের এই রুটিনই মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার বা যকৃতের জন্য ডেকে আনছে মারাত্মক বিপর্যয়।

    খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ওষুধ ও অ্যালকোহলের উপাদান শরীর থেকে নিষ্কাশনসহ বহুবিধ জটিল কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক পরিচালনা করে লিভার। তবে এই অঙ্গটির জটিল কোনো অসুখ দেখা দিলেও প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের রুটিনে অতি সাধারণ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে লিভারকে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

    ১. নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেওয়া
    ওজন কমানোর তীব্র তাড়না কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নিয়ম মানতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেট খালি রাখার অভ্যাস সবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়। রাতের দীর্ঘ বিরতির পর রক্তে শর্করার কাঙ্ক্ষিত মাত্রা বজায় রাখতে লিভারকে বাড়তি চাপ নিতে হয়। এ সময় শরীরে সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ভেঙে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে লিভারের ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই সকালে ক্ষুধা না পেলেও একেবারে অভুক্ত না থেকে ওটস, ডিম সেদ্ধ, বাদাম কিংবা চিয়া বীজের মতো পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

    ২. মিষ্টি ও উচ্চ ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার দিয়ে দিন শুরু
    দিনের সূচনায় অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত খাদ্য গ্রহণও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। সকালের তালিকায় থাকা মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম লাগানো পাউরুটি, মাফিন বা প্রক্রিয়াজাত গ্র্যানোলা খাবারে ব্যাপক মাত্রায় ফ্রুক্টোজ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজের অতিরিক্ত ব্যবহার সরাসরি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা কালক্রমে ফ্যাটি লিভারের বড় ঝুঁকিতে রূপ নেয়। অনেকে সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে মধু বা প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও তা চিনির ক্ষতি থেকে শরীরকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।

    ৩. খালি পেটে ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
    ঘুম ভেঙেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ভিটামিন, বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাজারে ‘হারবাল ক্লিনজ’ নামে প্রচলিত তথাকথিত ভেষজ পণ্যগুলো লিভারের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ৪. ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ অলস শুয়ে থাকা
    অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বিছানায় অলস সময় কাটানো এবং কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রমে যুক্ত না হওয়া সামগ্রিক বিপাকপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। লিভারের স্বাস্থ্য সক্রিয় রাখতে জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই; ঘুম থেকে ওঠার পর মাত্র ১০ মিনিটের নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা শরীরচর্চাই শরীরকে কার্যকরভাবে সচল করতে সাহায্য করে।

    ৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
    বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’—যেমন লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুনের মিশ্রণ নিয়মিত পান করাকেও ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন গবেষকরা। তাদের মতে, লিভার নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ফিল্টার ব্যবস্থা এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবেই বর্জ্য অপসারণে সক্ষম। কৃত্রিম এসব পানীয় বা পণ্যের অতিরিক্ত ভেষজ উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা উল্টো নষ্ট করতে পারে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের পেছনে না ছুটে পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাদ্যেই আস্থা রাখা জরুরি।

    ৬. আগের রাতের অনিয়ম ও ঘুমের ঘাটতি
    সকালের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে আগের রাতের জীবনযাত্রা। দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় সময় কাটানো শরীরের হরমোন ও শর্করার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। এই ব্যাঘাত সরাসরি লিভারের বিপাক ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের যত্ন নেওয়ার জন্য কোনো ব্যয়বহুল ফুড সাপ্লিমেন্ট বা অলৌকিক পানীয়ের প্রয়োজন নেই। পরিমিত সুষম আহার, পর্যাপ্ত রাতের ঘুম, নিয়মিত স্বাভাবিক শারীরিক সক্রিয়তা এবং অযাচিত ওষুধ এড়িয়ে চলার মতো মৌলিক ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমেই এই অঙ্গটিকে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখা সম্ভব।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫২৪ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, সিলেটে ১৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৭৮ জন, বরিশালে ১৩১ জন, ময়মনসিংহে ৫৭ জন, খুলনায় ৮৮ জন এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১২৪ জন।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৫৬১ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

    এ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, খুলনায় ২৭৫, ময়মনসিংহে ৯৩, রাজশাহীতে ১০৪ ও রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৫১ হাজার ৮৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৯৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৫৯৫ জন ভর্তি আছে।

  • জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিসবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরো নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ বছর।

    গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে সভাটি আয়োজন করা হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। এর আগে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। ওই দিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

    বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

    নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হবে। মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ৯৬৮ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ২২ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকী ৯২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬১২ শিশু।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২০ হাজার ৬৯ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ২৪ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের একজন রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৬ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯১৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮১৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের জন্য অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগের সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।