ট্যাগ মৃত্যু

  • শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    চৌগাছা (যশোর ) প্রতিনিধি

    শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন স্বাভাবিকভাবেই। হয়তো পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাব পাড়তে নারিকেলগাছে ওঠার পর মুহূর্তেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল রাসেদুল (২৮) নামে এক যুবকের।

    মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলার শিবনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাসেদুল ওই গ্রামের রেজাউল ইসলামের জামাই। এবং ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় ডাব পাড়ার জন্য নারিকেলগাছে ওঠেন রাসেদুল। ডাব পাড়ার সময় হঠাৎ গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

    এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একনিষ্ঠ মিত্র এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের দীর্ঘদিনের সমর্থক, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ মারা গেছেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। এতে ইউক্রেন ও ইসরাইলের মতো দেশগুলো কংগ্রেসে একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ট্রাম্পের কানে কথা বলার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে হারালো।এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেছিলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও আমার অনেক কাজ বাকি।

    অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে গ্রাহাম সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উচ্চাভিলাষী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনালাপে গ্রাহাম সম্প্রতি ইউক্রেন সফরের বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। সফরকালে তিনি একটি সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে পাস করানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন।

    ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ফোনালাপে গ্রাহামকে কিছুটা ক্লান্ত শোনালেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কংগ্রেসে ভোটার পরিচয় যাচাই সংক্রান্ত সেফ অ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এদিকে, গ্রাহামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকটি ফোনালাপেও তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, রোববার নির্ধারিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

    অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ফোনালাপে গ্রাহাম বলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শেষ করতে হবে, ইরান ইস্যু সমাধান করতে হবে এবং ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজও বাকি।

    তার মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে, সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তার বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে  মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। বিজয় উদ্‌যাপনের সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে দম বন্ধ হয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে হাজারো সমর্থক রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন হামবুর্গো ও ল্যাঙ্কাস্টার স্ট্রিটে জড়ো হন। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

    মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে বাঁচাতে পারেননি। তাদের মৃত্যু দম বন্ধ হয়ে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

    তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির দাবি, ওই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির পাবলিক হেলথ সেক্রেটারিয়েটের বরাতে তারা জানিয়েছে, কোলোনিয়া জুয়ারেজ এলাকায় তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ১৯ ও ৪৮ বছর বয়সী দুই নারী।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে ফুটতে থাকা আতশবাজির বিকট শব্দে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদে সরে যেতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে সরু রাস্তায় প্রচণ্ড হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকে পদদলিত ও শ্বাসরোধের শিকার হন।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেক্সিকো সিটি সরকারের প্রধান ক্লারা ব্রুগাদা মোলিনা। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে প্রশাসন।

  • ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে ভেঙে যায় ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।

    গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

    সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার পদে চাকরি করতেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড–সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে নানাবাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সোহেলির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী।

    সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েসহ এসেছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার (৬ জুন) রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রোববার ভোর পাঁচটায় গাবতলী এলাকায় নেমে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পার হয়ে ছিনতাইকারীর আক্রমণের শিকার হন।

    সারওয়ার পারভেজ আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর দুই মাস পর মায়েরও মৃত্যু হয়। একমাত্র মেয়েটিকে একা করে এবার চলে গেলেন তিনি।

    সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে সোহেলির মাথার পেছনের অংশ ফেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। প্রথমে কেউ এগিয়ে আসছিলেন না। পরে রিকশাচালকসহ একজনের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙাচ্ছিলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।