বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।