গাজীপুর

Gazipur district

  • গাজীপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক জনের যাবজ্জীবন

    গাজীপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কওমি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো: ফারুক মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো: হাবিবুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ফারুক পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মধ্যপাড়া শুকুরের চালায় নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সে কালিয়াকৈর উপজেলার বান্নারা রাহে জান্নাত মাওয়া কওমি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক ও তার সহযোগীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আছমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

    মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন পুলিশ ফারুক ও অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ফারুক ২০১৮ সালের ২০ জুন জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেন। তবে হাবিবুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়।

    গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো: আবু তাহের নয়ন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। বর্তমান বিচারক মামলাজট কমানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আমরা আশাবাদী।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।’

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক ফারজানা ফেরদৌস গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ছিলেন। তিনি যোগদানের সময় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। যোগদানের পর প্রায় এক মাসের ব্যবধানে তিনি ১২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ও বহুল আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বাদী ও বিবাদী পক্ষ আপসে আগ্রহী হলে আইনসম্মতভাবে সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিপুলসংখ্যক মামলার জটের মধ্যে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়লে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, সময় ও অর্থের ব্যয় কমবে। একই সাথে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ,আর

  • শ্রীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    শ্রীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে আনোয়ারের (৩৪) লাঠির আঘাতে বাবা আব্দুল সামাদ (৬২) নিহত হয়েছেন।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া সুটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আব্দুল সামাদের সাথে তার ছেলে আনোয়ারের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার লাঠি দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেন। এতে আব্দুল সামাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

    পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল সামাদের মৃত্যু হয়।

    শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ,আর

  • টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত

    টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়ায়। তারা গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গাজীপুরা সাতাইশ চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

    স্থানীয়দের বরাতে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাকসুদুল আলম জানান, শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গুরুতর আহত তপন চন্দ্র দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি মাকসুদুল আলম আরো জানান, দু’জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৩ মাদক কারবারি আটক

    জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৩ মাদক কারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে আটক দুই মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন শুভ আহমেদ (২০), ইয়াসিন (২৬) ও সারোয়ার হোসেন হৃদয় (২৩)।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন এলাকায় মাদক কারবারের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ দুজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে রেলওয়ে পুলিশ। তাদের ফাঁড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে রাখা হয়। এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে একদল মাদক কারবারি ফাঁড়িতে হামলা চালায়। তারা তালাবদ্ধ কক্ষে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে পুলিশের টিএসআই নুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে রেলওয়ে পুলিশ মামলা করে। এরপর গাজীপুর সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হামলায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে।

    জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ এ,আর

  • টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট

    টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হয়।

    পাশাপাশি আগুন নেভাতে সহায়তায় করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনীর দমকলকর্মীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পুরো কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে বের হতে গিয়ে দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আহতদের মধ্যে কারখানার শ্রমিক সাদেক হোসেনের (৩৮) নাম জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আহত সাদেককে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানার (ইউনিট -২) চতুর্থ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও কারখানার আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে দুইজন আহত হন। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ঢাকার উত্তরা, কুর্মিটোলা ও গাজীপুরের আরও ১০টি ইউনিট তাদের সাথে যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    এরপর আরো ৭ ইউনিট কাজে যোগ দেয়।এ ব্যাপারে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানার চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামালে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটসহ মোট ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনীর দমকলকর্মীরাও কাজ করছেন। এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

  • টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় একটি বাড়ির সামনে সকালে ককটেলগুলো পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। রাত প্রায় ২টা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার আওতায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

    টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। টিমটি ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে।

    এদিকে উদ্ধার হওয়া দুটি ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায় বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা রয়েছে। ব্যানার দুটিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    একটি ব্যানারে ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী হিসেবে মো. ফরিদ, মো. হাবিবুর রহমান, মো. বাবুল ও আলী আকবরের নাম রয়েছে। অপর ব্যানারে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরনবী, সাজিদ হোসেন দিপু, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের হাসান নাহিদ ও সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    ককটেল ও ব্যানারগুলো একই এলাকায় পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ককটেলগুলো সেখানে কারা রেখেছে এবং ব্যানারগুলোর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, বোম ডিসপোজাল টিমের কার্যক্রম শেষে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে গাড়ি চাপায় গৌরী রানী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত বৃদ্ধা ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার নারায়ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী। তিনি সন্তানদের সাথে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গৌরী রানী ওষুধ কেনার জন্য বোর্ডবাজার থেকে গাজীপুর শহরে আসেন। এক পর্যায়ে রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় তিনি গুরুতর আহত হন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় রুজুকা বেগম (৩০) ও তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ইয়ামনি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে রুজুকা বেগম এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শিশুকন্যার মৃত্যু হয়।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকার কালি ফ্যাক্টরির সামনে গাজীপুর-গাউছিয়া বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুজুকা বেগম শেরপুরের শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামের সেকান্দার আলীর মেয়ে এবং মনির হোসেনের স্ত্রী। তার মেয়ে ইয়ামনি। তারা গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন সালনা বাজার এলাকায় মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে ছিলেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পূবাইল থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুজুকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালালেও রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে ঘাতক গাড়ি ও চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    পূবাইল থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাদের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্তসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করে চালককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ,আর

  • শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে শামীমা আক্তার (২৬) নামে এক পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, নিহত শামীমা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর পঞ্চনন্দপুর গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সুমন মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

    নিহতের বাবা কাজল মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি সুমন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

    তিনি আরো বলেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সুমন তার মেয়েকে মারধর করেন। এতে শামীমার নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

    কাজল মিয়ার ভাষ্য, রাত ১টার দিকে সুমন তার ছেলে মোজাম্মেলকে ফোন করে জানায়, শামীমা ঘরের দরজা খুলছে না। মোজাম্মেল পাশের মুন্সিবাড়িতে ভাড়া থাকত। সে এসে ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় বিষয়টি পরিবারের অন্যদের জানায়। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে আবার দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে শামীমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ,আর

  • গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরগামী একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন। গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাকটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের কাজ চলছে। নিহত তিনজনই পুরুষ। তারা অটোরিকশার যাত্রী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।

    এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা গাজীপুরের টঙ্গীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি রাতুল সিকদার অমিকে (২২) চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

    গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকা থেকে তাকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত রাতুল সিকদার অমি টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ এলাকার রেজা সিকদারের ছেলে। তিনি নগরীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তার সহযোগী রাজু শেখ (২৫) একই এলাকার খরতৈল গ্রামের মৃত শহিদ শেখের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কয়েকমাস আগে সড়কের কাজকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করেন এই ছাত্রদল নেতা। চাঁদা দাবির ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় তাকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

    জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি ও চাঁদা দাবির ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাতুল সিকদার অমিকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।

    এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় তাকে তার সহযোগীসহ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

  • বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অপর একজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদীয়াশুলাই গ্রামের আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত শামসুল হক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাট মেডিকেল মোড় এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। একই এলাকার জলিল নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসেন শামসুল হক ও তার সহপাঠীরা। ১১টার দিকে হঠাৎ করে বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় জলিল আহত হয়েছেন।

    কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি আমি অবগত নই।

  • বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

    লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

    পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

    মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কথিত সমাবেশ ও মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানা পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কাপাসিয়া থানার বারিষাব ইউনিয়নের পূর্ব লোহাদী এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমবেত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯(১)/৯(২)/৯(৩)/১০/১১/১২ ধারায় মামলা করা হয়।

    মামলার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা (৪৫), তরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আঃ হান্নান (৫১), মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), মোস্তাকিম (৩৭), সুমন (২৬), শ্রাবন (১৯), যোবায়ের (১৯), হৃদয় খান (২০), মুন্না হোসেন (১৯), সানী (২২), নিয়ান খান অমি (১৭) ও সুমন (১৬)।

    গ্রেপ্তার জুয়েল রানা কাপাসিয়া উপজেলার তরুন এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মো. আঃ হান্নান মৈশন এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। অন্যদের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার খিলগাঁও, ভিটিপাড়া, বেগুনহাটি ও আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন শাখা।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের সদর পূর্ব থানা শাখার সভাপতি ফজলুল করিম শাহাদাত। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এরফানুল হক সাকিব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরফানুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্মই একটি জাতির মূল শক্তি। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খান, ছাত্রশিবির গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি বায়জিদ মাহমুদ, শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো: আবুল কালাম আজাদ ও প্রহলাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মো: আলী হোসাইন পালোয়ান।

    অনুষ্ঠান শেষে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৮০ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

  • গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের চলাচল সহজ করতে গাজীপুরে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জামায়াত-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে তুরস্কভিত্তিক একটি সংস্থার সহযোগিতায় এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুরকে তারা এমন একটি বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেকে অবহেলিত মনে করবেন না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং নানা কারণে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য নগরীতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে আমরা সবার জন্য বাসযোগ্য একটি নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা নানাভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’

    ড. হাফিজুর রহমান বলেন, নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।’

    আয়োজকরা জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে হুইলচেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় এই সহায়তা পেলে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আরও সক্রিয় হতে পারেন। সেই বিবেচনায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে হুইলচেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সদর মেট্রো থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট সাদিকুজ্জামান খান, বাসন থানার আমির ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আকরামুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জেলের বন্দীদের জামিনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো: আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো: সুরুজ (২৬)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

    গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের প্রতারণার কৌশলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর কৌশলে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত।

    আসামিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী ‘সাইফুল’ পরিচয় দিত। তারা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার এক আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা আইনজীবী পরিচয়ধারী অপর সদস্যের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, সে অত্যন্ত নরম স্বরে কথা বলে জামিন নিশ্চিত হওয়ার ভুয়া খবর দিত এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় কম দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলত। ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে, প্রতারকরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে চম্পট দিত।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া একটি বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বা ফোনে কারো পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রতারিত হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার এক দিন পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিহতের মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

    মোজাম্মেল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মরহুম নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মজিদের মেয়ে শাহানারার সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয় মোজাম্মেলের। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতেন।

    যৌতুকের টাকা না পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুর মজিদের মাথায় আঘাত করে মোজাম্মেল। এতে মজিদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো: লিটন মোড়ল মোজাম্মেলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শনিবার সকালে মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন মোজাম্মেলের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাতেই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    উল্লেখ, শুক্রবার কলা নিয়ে উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার সময় ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল। নিহত মজিদ জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মরহুম আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো— বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা উভয়ই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এ সময় একজন সাঁতারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় অপরজনকে ঝাপটিয়ে ধরলে একপর্যায়ে তারা দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়।

    এ সময় তাদের সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চোরাই অটোরিকশা ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো: কিবরিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পিবিআই জানায়, নিহত আতাউর রহমান আতা (৬০) কাপাসিয়া উপজেলার মিজজানগর এলাকার একজন কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাত ৮টার আগে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মিজজানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে আটক করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার অটোরিকশা ও একটি বাটন মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

    এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে আতাউর রহমানের ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুনও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত শুরু করে। অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ‍দু’জন হলেন— কাপাসিয়া থানার ভাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) ও মিজজানগর এলাকার নাছির উদ্দীনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।

    তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থানাধীন হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশাটি ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো: কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার রাজীব খান ও নকিবুল হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট বিকেলে আতাউর রহমানকে ফোন করে ডেকে নির্জন কলাবাগানের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় ধুয়ে পরিষ্কার করে কিবরিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

    পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একজন নিরীহ অটোরিকশাচালককে হত্যা এবং তার পরপরই শোকাহত মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু পিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা মূল আসামিদের গ্রেফতার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিলের জন্য তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

    মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

  • শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল কাদির (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার মুলাইদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্দেহভাজন আব্দুল কাদিরের গতিবিধি তল্লাশি করে তার কাছ থেকে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার আব্দুল কাদির শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • শ্রীপুরে জঙ্গলে জবাই করা ঘোড়ার মাথা-চামড়া উদ্ধার

    শ্রীপুরে জঙ্গলে জবাই করা ঘোড়ার মাথা-চামড়া উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর জঙ্গলের ভেতর থেকে প্রায় ১২টি জবাই করা ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা ও হাড় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এসব মাংস গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও গাজিয়াড়ন গ্রামের গভীর জঙ্গলের ভেতর এসব ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও পা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বলেন, ‘আমার জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি। এগুলো কেমন মানুষের কাজ, তা বুঝতে পারছি না।’

    গোসিংগা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন প্রধান বলেন, ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘোড়ার মাথা ও হাড় পড়ে থাকতে দেখেছেন। কারা এসব ঘোড়া জবাই করেছে, তা খুঁজে বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা, এসব মাংস আশপাশের হোটেলে সরবরাহ করা কিংবা গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হতে পারে। তবে স্থানীয়দের এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘জঙ্গলের ভেতরে অনেকগুলো ঘোড়া জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমি লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তিনি আরও জানান, জঙ্গলের ভেতরে পড়ে থাকা ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা জবাই করেছে এবং মাংস কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে-এসব বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও,  সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও, সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের ওপর ধানগাছ রোপণ করেছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এই প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। অধিকাংশ যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানি। বৃষ্টি হলেই পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শ্রীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

    পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়।’

    কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়েই কাজে যাই। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী আর গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

    অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আর গাড়ি চালানো যায় না। আয়-রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও এখন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

    শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় চার কোটি নয় লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

    এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।’

  • কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম বলে, `কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ বলে, `প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

    নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন। তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, `রোববার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ।’

    আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, `সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, `বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না।’ তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

    শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, `এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, `মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

    সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

    মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।

    ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ড্রাম ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাফওয়ান হোসেন (আড়াই বছর) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা জুয়েল রানা (৩৬) ও মা সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জুয়েল রানা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বাংড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, জুয়েল রানা মোটরসাইকেলযোগে বগুড়ার শেরপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেনকে নিয়ে কর্মস্থল চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সাথে একটি ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন এবং তাদের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত শিশুর বাবা-মাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া নিহত শিশুর লাশ হস্তান্তরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার পর চালক ড্রাম ট্রাক নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

  • গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।

    জেলা জামায়াতের আমির ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি শফি উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি মানুষকে খেলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তারা এককভাবে নয়; বরং দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সেই নীতিকে সামনে রেখে এ দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের কর্মীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাতের প্রত্যাশায় কাজ করেন। রুকনরা এ সংগঠনের চালিকাশক্তি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সৎ মানুষের নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

    শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, ড. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত ) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীত। এটি শুধু অর্থনীতির ক্ষতিই করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর হতে ক্ষয় করে দেয়। সেই সঙ্গে জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। ঠিক তেমনভাবেই কোনো কারাসদস্য যদি নিজ স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হিসেবে কাজ করে তবে শুধু আইন ভাঙে না। সে রাষ্ট্র ও আইনের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কাশিমপুর কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে এসব বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী রক্ষক নয়। তারা রাষ্ট্রের জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী, জনগণের কল্যাণই তার একমাত্র বৃত। আপনারা কারও বেতনভুক্ত কর্মচারী নয়, আপনারা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী। জনকল্যাণ আপনাদের একমাত্র কাজ। ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সম্পূর্ণকারী সবার ভবিষ্যত জীবনের সাফল্য কামনা করি৷

    এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহল আলম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার, উপ-কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে সকালে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণের মাধ্যমে সমাপনী কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় নবীন কারারক্ষীগণ সুসজ্জিত বাদক দলের বাদ্যের তালে তালে ঘীর ও দ্রুতলয়ে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মাঠ প্রদক্ষিণ এবং শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও দলগত সমন্বয়ের দক্ষতায় বিভিন্ন শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষা কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা ফুটিয়ে তোলেন। কুচকাওয়াজ শেষে প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পিটি, ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ, লিখিত পরীক্ষা ও সর্ববিষয়ে চৌকস এই ছয়টি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়।

  • গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

    গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

    গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় ১০ ঘণ্টা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

    আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জরুন আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক। এ সময় রাস্তাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

    কারখানার শ্রমিকেরা জানান, স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকদের দুই মাস ধরে বেতন পরিশোধ করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বেতন পরিশোধ করা হবে বলে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৫ অক্টোবর কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৮ অক্টোবর বেতন পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ সকালে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা কারখানার সামনের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কারখানার সুইং অপারেটর হাসি বেগম বলেন, ‘গত দুই মাস আমরা ডিউটি করেছি এবং ওভারটাইমও করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের বেতন দেওয়া হয়নি। চলতি মাসও প্রায় শেষের দিকে। অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছি।’

    স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুজ্জামান বলেন, ‘শ্রমিকদের গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার চেষ্টা করছি। কারখানার আর্থিক সংকটের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

    গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। চলতি মাসের ২৪ তারিখে বেতন দেওয়া হবে বলে মালিকপক্ষ থেকে কারখানার প্রধান ফটকে একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছে। তবে শ্রমিকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।