ফিজিতে দ্রুত বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৬ জনের, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আতোনিও লালাবালাভু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘সমন্বিত ও সর্বাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিনা মূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক গ্রহণকারীদের জন্য ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।
জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে ঘটেছে। ২০২৫ সালে এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেওয়া ৫৯ শিশুর মধ্যে ১৮ জন এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে।
ফিজির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। দেশটিতে সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর জন্য আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, গ্লোবাল ফান্ড ও জাতিসংঘ ফিজিকে সহায়তা করছে।
ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ফিজি ও অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে মাদকের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতিও আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
