দোহায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সোমবার ফোরামের সেন্টার স্টেজে আয়োজিত এই অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার (আইপিএ) প্রতিনিধিরাসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই ফোরামের অংশ হিসেবে সকালে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা (প্রেজেন্টেশন) দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
এতে সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, আধুনিক বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং চিকিৎসাসামগ্রী খাতের অপার সম্ভাবনার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে। এসব প্রকল্পে ডেভেলপার, অপারেটর, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “আমরা যেসব প্রকল্প উপস্থাপন করেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক অংশীদাররাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব এবং প্রকল্পগুলোতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেব।”
ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়াতে পারে, তা নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে ফোরামের প্রথম দিন গত রোববার জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রিপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং পিপিপি (পিপিপি) প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং অন্যান্য স্থানে এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হবে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ বিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রিপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের ইতিবাচক উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি প্রস্তাব করেন, বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আঙ্কটাড যেন আরও বড় পরিসরে তুলে ধরে। পাশাপাশি, বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রপ্তানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করার (রিস্ক শেয়ারিং) কার্যকর ব্যবস্থাও সংস্থাটি বিবেচনা করতে পারে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
