শিল্প বাণিজ্য

  • জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের আলোচনা

    জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের আলোচনা

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ু অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরারজ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার লন্ডনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং জলবায়ু বিষয়ক যুক্তরাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি র‌্যাচেল কাইটের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    কার্বন বাজার এবং সবুজ ও নীল অর্থনীতিতে (গ্রিন অ্যান্ড ব্লু ইকোনমি) বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার উপায়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

    শামা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জলবায়ুবিষয়ক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

    উভয় পক্ষ নারী ও শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেছে এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখেছে।

    এছাড়া, বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেয়ার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে আসন্ন ‘কপ৩১’-এর অগ্রাধিকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন এবং অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়।

    যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬

    ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬

    দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। এবারের দ্বিতীয় আয়োজনে আগের বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

    আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি, এক্সপোর উদ্বোধন করবেন।

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এর পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও কিচেনওয়্যার, আসবাব ও গৃহসজ্জা, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), কাগজ ও প্যাকেজিং, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিরামিক ও টেবিলওয়্যার—এই ১২টি খাত এবারের প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ইপিবি। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    এক্সপোকে আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের উপযোগী করে তুলতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, জয়েন্ট চেম্বার, বায়ার্স ফোরাম এবং বিভিন্ন দেশের ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এর আগে এক্সপো আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে এ আয়োজন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’।

    ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন সফল করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সোর্সিং কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।

  • পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা করার দাবি

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা করার দাবি

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে চারটি জোটের ৩৫টি শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তিন বছরের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

    এ সময় গার্মেন্টস শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি তোলা হয়।

    শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদের জন্য তিন বছরের একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগের গ্রেড প্রথা পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণ, মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    গ্রেড-২-এ মূল মজুরি ৩০ হাজার ও মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা।

    গ্রেড-৩-এ মূল মজুরি ২৫ হাজার ও মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন গ্রেড-৪-এ মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়।

    চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচসহ দৈনিক খাবারের ব্যয় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা।

    শ্রমিক নেতারা বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের ব্যয় আরও বেশি। এসব বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কোনোভাবেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয়।

    নাহিদুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অনেকে।

  • বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে  সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

    বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

    এ ছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’

    প্রধানমন্ত্রী তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’

    এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

    এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

    এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

    যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’

    দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

  • বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির  আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক নেগোসিয়েশন ঢাকায় শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্য মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ সোমবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আর প্রথম দফা আলোচনা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। আলোচনা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া এবং মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্যমাত্রা

    জানা গেছে, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির চার মাসের মধ্যেই প্রথম দফার এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক এক সভার তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ ইতোমধ্যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)’ চূড়ান্ত করেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি অধ্যায়ের একটি খসড়া প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। উভয় দেশই আগামী এক বছরের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী।

    লক্ষ্য ২০২৭ : কৌশলগত বাণিজ্য চুক্তি

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দিনে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ জানিয়েছিলেন, আসন্ন ঢাকা আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের প্রসার এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।

    কেন প্রয়োজন এই এফটিএ?

    বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চালু থাকলেও কোনো প্রাধিকারমূলক বা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক ছাড়, বিশেষ বাজার সুবিধা কিংবা বাণিজ্য সহজীকরণের প্রাতিষ্ঠানিক সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ‘মেট্রেড’-এর তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ এফটিএর মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলো পরস্পরের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এর আওতায় শুল্ক কাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা খাত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়।

    জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির সময়কালটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা সংকুচিত হয়ে আসবে। সেই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দ্বিপক্ষীয় এফটিএ বড় ভূমিকা রাখবে।

    বিশেষ করে, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য যেমন—তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এফটিএ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন—জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক সামগ্রীর বাণিজ্য কাঠামোও এই চুক্তির মাধ্যমে সুসংগঠিত হবে।

    বাণিজ্যে বিশাল ঘাটতি কমানোর চ্যালেঞ্জ

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে এই বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট : ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় মাত্র ২৯৩.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয় ২.৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য। ফলে এক অর্থবছরেই বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৮ মাসেও এই ব্যবধান প্রায় একই রকম রয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ৩০৫.৫৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২৬ বিলিয়ন ডলার।

    বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, প্রক্রিয়াজাত শাকসবজি এবং মসলা। এর বিপরীতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে প্রধানত খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক পণ্য, ভারী যন্ত্রপাতি ও শিল্প রাসায়নিক আমদানি করে থাকে।

  • দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

    দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

    দোহায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সোমবার ফোরামের সেন্টার স্টেজে আয়োজিত এই অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার (আইপিএ) প্রতিনিধিরাসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।

    জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই ফোরামের অংশ হিসেবে সকালে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা (প্রেজেন্টেশন) দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

    এতে সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, আধুনিক বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং চিকিৎসাসামগ্রী খাতের অপার সম্ভাবনার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে। এসব প্রকল্পে ডেভেলপার, অপারেটর, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

    নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “আমরা যেসব প্রকল্প উপস্থাপন করেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক অংশীদাররাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব এবং প্রকল্পগুলোতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেব।”

    ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়াতে পারে, তা নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে ফোরামের প্রথম দিন গত রোববার জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রিপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং পিপিপি (পিপিপি) প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং অন্যান্য স্থানে এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হবে।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগ বিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রিপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের ইতিবাচক উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি প্রস্তাব করেন, বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আঙ্কটাড যেন আরও বড় পরিসরে তুলে ধরে। পাশাপাশি, বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রপ্তানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করার (রিস্ক শেয়ারিং) কার্যকর ব্যবস্থাও সংস্থাটি বিবেচনা করতে পারে।

  • শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

    রাজধানীতে শীতের পরশ এখনো সেভাবে না লাগলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও টমেটোর মতো মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ছে বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে।

    শীতকালীন সবজির প্রতি রাজধানীবাসীর আগ্রহ বাড়লেও দাম অনেকেরই নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে নিছক দামের কারণেই। পেঁপে, পটোল, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া তুলনামূলক কম দামে অন্য সবজি পাওয়া কঠিন। ফলে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসার আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম। শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

    এদিকে, বাজারে আসা আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার আকার এখনো তুলনামূলক ছোট। টমেটোও এখনো তেমন পরিপক্ব হয়নি, সাদাটে ও সবুজ আভা তা জানান দিচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।

    গত রোববার রাত দেড়টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলা এসেছে। ট্রাক থেকে সবজি নামাতে ব্যস্ত কুলি ও ভ্যানচালকরা। কেউ আড়তের সামনে সবজি স্তূপ করে রাখছেন, কেউবা ফুটপাতে চট বিছিয়ে শুরু করেছেন বিক্রি। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ট্রাক থেকেই সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করছেন।

    বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে শিম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিমের দাম ৯৫ থেকে ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ভরা মৌসুমে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে পরিচিত মুলার কেজিও এখন পাইকারি বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর খুলনা থেকে আসা দেশি টমেটো প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিত্যদিনের বাজার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। পছন্দের সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও চড়া দামের কারণে অনেককে পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শীতকালীন সবজি এলেও বর্তমানে মূলত খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকেই আগাম সবজি আসছে। অন্য অঞ্চলে এসব সবজি এখনো বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে বলে আশা করা যায়।

    তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয়, আবার বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

    শাহজাহান নামে আরেক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচাবাজারের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে। রাতের তুলনায় ভোরে অনেক সবজির দাম কমে আসে। আগের রাতে শিম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভোরে তা নেমে ৯৫ টাকায় আসে। একইভাবে রাত ১১টা থেকে ১২টায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরের দিকে দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে আসে।

    খুচরা বাজারের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকাভেদে সবজির দামে পার্থক্য হয়। গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় যে দামে সবজি বিক্রি হয়, মহাখালী বা শ্যামলীতে তা তুলনামূলক কম হতে পারে। ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারেন। এজন্য খুচরা পর্যায়ের দাম বলা কঠিন।

    গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৬০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৭০-১০০, বেগুন ৮০-১৪০, করলা ৮০-১২০, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, টমেটো ১৬০-১৮০, শিম ১৫০-২০০, মিষ্টিকুমড়া ৬০, বরবটি ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ১২০-১৬০, শসা ৭০-৮০, পেঁপে ২০-২৫, কচু ৫০-৬০, ওল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬০-৮০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০-৪০ টাকা, প্রতি আঁটি পুঁইশাক ৪০-৫০ টাকা, লালশাক ২০-৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০-৭০ টাকা এবং মুলা ৫০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • উইলিয়ামস সোয়েটার্সের ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

    উইলিয়ামস সোয়েটার্সের ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

    মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স নামের পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

    আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

    তিনি বলেন, ‘মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা তাদের সার্বিক কার্যক্রম অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।’

    তিনি জানান, মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স যেসব শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল, তদন্তে সেসব শর্ত পরিপালনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মোট ৫২৫টি যন্ত্র ওই সুবিধার আওতায় আমদানি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি শূন্য বা ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করে। অথচ ওই সব যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স।

    এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

    আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে না পাওয়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে অস্পষ্টতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

    নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে কৃষি, পাটশিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রচলিত বাণিজ্যের বাইরে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বাজারের সম্ভাবনার সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

    তিনি সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোতে বিশেষায়িত সবজি চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    পাটশিল্পের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতে উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    বৈঠকে বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ডাচ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে।

    বন্দর ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে লালদিয়া টার্মিনালসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে। নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    ডাচ বিনিয়োগ বাড়াতে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে: বাজুস

    স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে: বাজুস

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) স্বর্ণ ও রূপার দাম কমায় দেশের বাজারেও স্বর্ণ-রূপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সাথে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    এছাড়া নির্ধারিত মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ অক্টোবর ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

  • পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদের আইসক্রিম বাজারে এনেছে পোলার আইসক্রিম। ‘পিস্তা গ্লেজ’ নামের এই আইসক্রিমে ক্রিমি পিস্তাচিও, রোস্টেড পিস্তা ডাইস ও চকোলেট চিপসের সমন্বয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিমের উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের চিফ অপারেটিং অফিসার শাহ্ মাসুদ ইমাম বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আসল পিস্তাচিওর স্বাদের আইসক্রিমের অভাব পূরণের লক্ষ্যে আমরা অথেনটিক পিস্তাচিওর স্বাদে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিম বাজারে আনছি।’

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন রাশেদ সরোয়ার, হেড অব মার্কেটিং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেজুতি সালেক সেতু, হেড অব এইচআর অ্যান্ড আইটি কাজী সাইফুল ইসলাম, জিএম-ফ্যাক্টরি অ্যান্ড প্রজেক্ট মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, হেড অব সাপ্লাই চেইন সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, হেড অব প্ল্যান্ট অপারেশন মোহাম্মদ ইফতেখার আহসান এবং হেড অব ইন্টারনাল অডিট নিজামুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

    মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

    ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ–সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে লাইন-১–এর চারটি এবং লাইন-৫ এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। পাশাপাশি লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

    ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ পথ
    লাইন-১–এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। স্টেশন তিনটি হলো বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশন। এ ছাড়া টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে।

    এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব দেয়। দুটিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। পরে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

    তবে সুপারিশকৃত দর ভ্যাট ও কর বাদে সরকারি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৩২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি।

    বিদ্যুৎ ও সংকেতেও প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি
    লাইন-১–এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের পাশাপাশি ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকবে।
    এ কাজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব দেয়। পরে ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

    সিপি-১০ প্যাকেজে থাকবে সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এতে যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক ও এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে। এ কাজের ব্যয় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

    ডিপো ও উড়ালপথেও হাজার কোটি টাকা
    লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন উপকেন্দ্র ও ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটারসহ মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও হবে।

    এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

    আরও তিন প্যাকেজ
    লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ হবে। এর মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

    সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক শূন্য শূন্য ৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। কাজটি পেতে পারে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ।

    লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাইন-১ ও লাইন-৫—দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক অনুমোদন করেছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে।

    মেট্রোরেলের লাইন–৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে। অন্যদিকে মেট্রোরেলের লাইন–১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক একটি টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তির প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।

    চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

    এর গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধাগুলোর মধ্যে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অন্যতম। নতুন চুক্তির আওতায় টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বুধবার সকালে সুরমা নদীর ডানতীরের কানিশাইলে নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’

    এ ছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সেদিকে সরকারের নজর রয়েছে।’

  • ইথানলের ক্রেতা সংকট, বিপাকে ভারত

    ইথানলের ক্রেতা সংকট, বিপাকে ভারত

    ভারতে ইথানলের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সে অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে দেশটির প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার ইথানলের কোনো নির্দিষ্ট বাজার না থাকায় উৎপাদকরা নতুন ক্রেতা এবং বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন লিটারে। চলতি বছর এর সঙ্গে আরো ৪ বিলিয়ন লিটার যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ই–২০ জ্বালানি মিশ্রণ কর্মসূচির জন্য বছরে প্রায় ১১ বিলিয়ন লিটার ইথানল প্রয়োজন। পাশাপাশি মদ, ওষুধ ও রাসায়নিকের মতো জ্বালানি বহির্ভূত শিল্প খাতগুলোয় আরো ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন লিটার ইথানল ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার ইথানলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজার নেই।

    শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে ভারতীয় ইথানল কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। আগামী তিন বছর এ সক্ষমতা ব্যবহার ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শুধু মহারাষ্ট্র রাজ্যেই উদ্বৃত্ত ইথানলের পরিমাণ প্রায় ২.৭৭ বিলিয়ন লিটার।

    ২০২৫-২৬ সরবরাহ বর্ষে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১০ বিলিয়ন লিটারের চুক্তি থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে ৮.৯৫ বিলিয়ন লিটার।

    এদিকে, উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদকরা নতুন উপায় খুঁজলেও সরকার আপাতত পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণ ই-২০-এর চেয়ে বাড়ানো (যেমন ই-২৫ বা ই-৩০) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। গাড়ির ইঞ্জিনে ই-২০ ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগের কারণে বর্তমান রোডম্যাপটি ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-২০-তেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ইথানল রপ্তানির সুযোগও ভারতে এখনো বেশ সীমিত। প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ থাকলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে দেশটি। বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং কেনিয়ার মতো বাজারে সামান্য পরিমাণ অ-জ্বালানি ইথানল রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া গ্রেইন ইথানল প্রস্তুতকারক সংস্থা (জিইএমএ) নেপালে ইথানল সরবরাহের আলোচনা চালাচ্ছে। কারণ দেশটি পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা নেই।

    অবশ্য পেট্রোল ছাড়াও ডিজেলের সঙ্গে ইথানল থেকে তৈরি উপাদান মেশানোর নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে দেশটির সরকার ও উৎপাদকরা।

    বর্তমানে ভারতে মদ ও ওষুধ শিল্পসহ অ-জ্বালানি খাতে মোট চাহিদার ১৮.৭ শতাংশ ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহলের (ইএনএ) বাজার ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৮০ বিলিয়ন লিটারে, যা বছরে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। কারণ পানকারীরা দেশি মদ থেকে ভারতে তৈরি বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের দিকে ঝুঁকছেন।

  • ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

    ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ, অক্টোবর মাসে চুক্তি হবে।
    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ পর্যন্ত ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। প্রথম বোয়িং আসবে ২০৩১ সালে।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র বলছে, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। গত এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। নতুন করে বোয়িংয়ের ১১টি ও এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনলে কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহরে উড়োজাহাজ হবে ৫৪টি।

    গত এপ্রিল মাসে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

    চুক্তি অনুযায়ী, আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ রয়েছে।

  • বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    স্বল্পোন্নত (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে রপ্তানি বাজার ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে বর্তমান রপ্তানি বাজারগুলো সম্প্রসারণে বিভিন্ন চুক্তি, পণ্য প্রদর্শনীসহ দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় সভা-সেমিনারেও অংশ নিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারা। দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে জানা গেছে।

    এই সময়ের মধ্যে বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো, বাটেক্সপো ২০২৬, জাপান ডেস্ক চালু, মালয়েশিয়ায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিসহ (সেপা) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন করে সাজানো হয়েছে সরকারি উদ্যোগও। এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.৩০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ০.১৭ শতাংশ বেশি। সে হিসাবে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এখনো খুব সীমিত। একই সময়ে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেই নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে চান সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ৩৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। তবে ভ্যালু অ্যাডিশন ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে দেশ। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে সক্রিয় উদ্যোগগুলো আসছে পোশাক খাত থেকে।

    এর মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করতে আগামী ২৮ অক্টোবর বিজিএমইএ হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করছে। পাশাপাশি এক যুগ পরে আবারও আগামী ১৮-১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাটেক্সপো ২০২৬ আয়োজন করছে সংগঠনটি। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের এক ছাতার নিচে আনতে চায় বিজিএমইএ।

    জাপানের বাজারেও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের পোশাকশিল্প। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক চালু করেছে। এর লক্ষ্য জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর যোগাযোগ, বাজার গবেষণা, ক্রেতা শনাক্তকরণ ও ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা।

    এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সেপা) বিষয়ে আগস্টে দুই দেশ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    মালয়েশিয়ার বাজারেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সরাসরি তৎপরতা বাড়ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছে। দলটি সেখানে বিটুবি বৈঠক এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

    সরকারও এই বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাণিজ্য চুক্তির পরিধি বাড়াচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি দেশ ও বাণিজ্য জোটের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তি বা বাজার-সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বা আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগও চলছে।

    বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি ২০২৯ সালের নভেম্বরে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আছে। বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর ও একটি পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। কারণ, এলডিসিভুক্ত হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থারও কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে। এলডিসি উত্তরণের পর এসব সুবিধা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক বাজারে রুলস অব অরিজিন, শ্রম ও পরিবেশগত মান এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়বে।

    জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো মূলত বাজার সম্প্রসারণেরই অংশ। প্রথমত, জাপানের সঙ্গে আমাদের ইপিএ সম্পাদিত হয়েছে, যা এখন সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি সম্পাদিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বায়ারদের আস্থা অর্জিত হয় এবং তারা ব্যবসা বাড়াতে উৎসাহিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যেই জাপান থেকে তিন-চারটি বড় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে, যারা আমাদের দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়।

    শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আরো বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো—আমাদের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাজার সম্প্রসারণ। ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের একটি শক্তিশালী বিকল্প বা তৃতীয় বাজার গড়ে তুলতে হবে।

    তবে উদ্যোগগুলোকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতির পরিবর্তে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, এক অর্থে সে রকম নয়। তবে আবার কিছুটা এলডিসির প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্তও বটে। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে আমাদের উত্তরণ করতেই হবে। এই বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ জন্য তিন বছরের একটি কৌশলগত সময় নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন করেছে এবং এসব কমিটির একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

  • ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের চাপে ফেলা যাবে না বলে সতর্ক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উৎপাদক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে ভোক্তাদের সহনীয় দামে ডিম সরবরাহে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।

    দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করবেন—এটি স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহে বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই।

    সারা বছর ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান পর্যালোচনা করতে হবে।

    সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ভুট্টা, সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বর্তমানে প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকায় পৌঁছেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, বছরের বড় একটি সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়।

    দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ডিম এক থেকে দেড় মাস সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও আয়করের চাপ যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা।

    আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

    ব্যবসায়ীদের এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটির যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করবে। তবে কোনও পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন।

    বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মশিউর রহমান, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ইসি মেম্বার আফতাব আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বিপিআইসিসি ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাফির রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

    আজ সোমবার আইসিএসবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মন্ত্রীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করা হয়।

    মন্ত্রী প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আইসিএসবি’র কার্যক্রমে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।

    গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইসিএসবি’র বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: রফিকুল ইসলাম, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, কাউন্সিল সদস্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং সেক্রেটারি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাব্বিরুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধিদলকে মূল্যবান সময় দেয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইসিএসবি’র নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তার অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

    রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।’

    জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদরদফতর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশী এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’

    তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।’

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।’

    জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।’

    এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরো সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় তার সরকার।’ একইসাথে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নতুন অংশীদারিত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সাথে বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সাথে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেয়া যায়- এসব তাদের যৌক্তিক প্রশ্ন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।’

    ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরো বিনিয়োগ, আরো বাণিজ্য, আরো কর্মসংস্থান, আরো প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

    বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সাথে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সাথে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।’

    বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এগ্রি-বিজনেস, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভোগ্যপণ্য খাতে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ : এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।

    বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরে অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বলেন, দেশটি (বাংলাদেশ) টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫ সালে যার বাণিজ্যের আকার ছিল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো।

    সেমিনারে বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগের (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট) সম্ভাবনার কথা তুলে তিনি আরো বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ’গ্রিন ইনভেস্টমেন্টে’র সুযোগ রয়েছে। এ সময়, রফতানি বহুমুখীকরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা হিসেবেও উল্লেখ করেন মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট।

    ইউরোপের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি প্রদানের মতো বড় সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থেকে সরকার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারবে।’

    সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: মাসুদুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, মলিন্সের এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভারের সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো: আলমগীরসহ স্পেনে সফররত এফবিসিসিআইর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা ও ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

    উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প-সংযোগ স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১১ দিনের সফরে ইউরোপ গেছে এফবিসিসিআইর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। ২৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো: ফজলুল হক।

  • বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক একটি বিশেষ (অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং) গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

    গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও হংকং (চীন)।

    বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

    বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সাথে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

    এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি ও নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।

  • ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় শুরু হয়েছে পাকিস্তানি পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরার পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রি (পিএইআই) আয়োজিত চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান এক্সিবিশন অ্যান্ড বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উদ্বোধন করা হয়।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হুসাইন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস, চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, খাদ্যপণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সামগ্রী ও ক্রোকারিজ, ভোগ্যপণ্য, জুতা, গৃহস্থালি পণ্য, রত্ন ও জুয়েলারি, ফ্যাশন ও ফেব্রিক, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, হস্তশিল্প এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা সেবা।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে ৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ও প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা পাকিস্তানি পণ্য এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী সফলভাবে আয়োজন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানি বিভিন্ন কোম্পানি, ব্র্যান্ড ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ অনুসন্ধান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে ফাহাদ বারলাস বলেন, এ প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরো জোরদারে ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশি অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস বলেন, প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি ভোক্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পাকিস্তানি পণ্য তুলে ধরা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই রপ্তানির ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। তাই দুই দেশের রপ্তানি খাতকে আরো শক্তিশালী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও দুই দেশের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন খুরশিদ বারলাস। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিকাশমান টেক্সটাইল শিল্প থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন। একইভাবে বাংলাদেশের নারী ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের বিকাশমান খুচরা বাজারে নতুন ক্রেতা খুঁজে নিতে পারেন।

  • গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব একাধিক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন। তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে অধিক ভারতীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    বৈঠকে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে, দ্বিতীয় সচিব (অর্থনীতি ও বাণিজ্য) গৌরব কুমার আগারওয়াল উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধে।

    এফবিসিসিআইর গুলশান কার্যালয়ে আজ প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন।

    এসময় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার। তিনি জানান, টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে তার দপ্তর দুই দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

    ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, এই মুহূর্তে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান হাইকমিশন দৈনিক প্রচুর সংখ্যক ভিসা ইস্যু করছে বলেও জানান তিনি।

    এফবিসিসিআইর প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য এগিয়ে নিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মো. ফজলুল হক।

  • ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনের মধ্য একটা বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে বাজারে এখনো স্থিতিশীলতা নেই। ভর্তুকির মাধ্যমে টিসিবি যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা দেশের মানুষের জন্য উপকারী হবে।

    তিনি জানান, টিসিবির কার্ড ডিজিটাল রূপান্তর করার ফলে, ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। টিসিবির কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যাতে কার্ডধারীরা পণ্য পাওয়া থেকে বাদ না পড়েন, সে ব্যবস্থা করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই সেবা আরও সহজ করা হবে।

  • তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    দেশের ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭টি বেড়েছে। একই সময়ে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব বাড়লেও আমানতের পরিমাণ কমেছে। আমানত বৃদ্ধির পুরোটা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাব ছিল ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। গত মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

    তিন মাসে ব্যাংকে নতুন করে জমা হওয়া আমানতের বড় একটি অংশ গেছে কোটিপতি হিসাবগুলোতে। গত মার্চ শেষে এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোয় ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। এসব হিসাবে আমানত ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাব ৭১টি বাড়লেও আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা এ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাতে থাকা অর্থের বড় অংশ ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে।

    তারা আরও বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির আমানত কমলেও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় কোটি টাকার হিসাব ও আমানতের সামগ্রিক পরিমাণ বেড়েছে।

  • আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার উপ-সচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অফিস আদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাব কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী মো. আলী আফজাল একটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এ কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ২৩(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তার সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে কিংবা হালনাগাদ কর, ভ্যাট বা শুল্ক পরিশোধ না করলে কোনো বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না এবং কোনো পদেও বহাল থাকতে পারবেন না। নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ বা করখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে পদটি শূন্য বলে গণ্য হবে।

    রিহ্যাবের নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আলী আফজাল। প্রগতিশীল প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান ২৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সংগঠনটির তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি পেয়েছিলেন ১৯৩ ভোট।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, সোমবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সভাপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

  • গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    মতামত

    বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের গতি বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি দেশের তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশীদারত্ব কমেছে এবং প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম রপ্তানি মূল্যে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় দেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ গুণ কম হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় বিশ্ববাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে রপ্তানি বাড়িয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেনি।

    ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান বলছে, ধীরগতির এই প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারত্বেও। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ধারা উল্টে তা কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছরে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তার বড় অংশই এবার হারিয়েছে দেশের পোশাকশিল্প।

    এদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছে। ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের ব্যবধান এখন মাত্র ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২৪ সালে এই পার্থক্য ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বাজার অংশীদারত্বের দিক থেকেও দুই দেশের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের হিস্যা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আর ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভিয়েতনাম।

    ডিপিএ শিল্পের বৈদেশিক অর্থ পাঠানোর নিয়ম শিথিল

    ডব্লিউটিওর তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চীনের বাজার সংকুচিত হলে এশিয়ার অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো তার সুবিধা পেত। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। চীনের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কমলেও সেই বাজারের বড় অংশ দখল করছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ সেই বাজার দখলের সুযোগ প্রত্যাশিতভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।

    বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা মূলত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়। বরং পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। তবে যতটুকু বাজার বেড়েছে তার কাঙ্ক্ষিত হিস্যা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দখল করতে পারেনি। চীন থেকে যেসব ক্রয়াদেশ সরে যাচ্ছে তা ধরতে ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে কারণ তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), কম লিড টাইম, উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইনের মতো শক্তিশালী সুবিধা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ভিয়েতনাম দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করলেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভিত্তি এখনো অনেক শক্তিশালী। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা সম্ভব।

    সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় প্রধান বাজারেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইইউয়ের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬০৮ দশমিক ৬২ কোটি ইউরোতে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৫৪ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওটেক্সার তথ্য বলছে, দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে এককভাবে রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ২১ শতাংশএদিকে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।