বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।
ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।
এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর
