সারাদেশ

  • ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল। সৌদি আরবের দাম্মামে প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকে ফিরতে হলো দুটি কফিনে। তাঁদের একসঙ্গে দাফনের মধ্য দিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।

    আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষবিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

    কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব ঘুচাবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ এখনো শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নাই। এমন হবে, আমি কল্পনাও করি নাই।’

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। আজ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

    লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আজ দুই ভায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের লোকজন অংশ নেন। আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের কামারহাট মসজিদ মাঠেছবি: প্রথম আলো

    নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

    স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে সজল চোখে দুই ভাইকে শেষবিদায় জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

    চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

  • সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর মুখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কারও পায়ের নিচে কাদামাটি, কারও কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন সবুজের এক বিশাল ক্যানভাস আঁকছেন তারা। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মাঠগুলো এখন এমনই এক প্রাণচঞ্চল রূপে সেজে উঠেছে।

    বর্ষার টানা বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষ কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের মাঠ। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম যেন একসঙ্গে মিলেমিশে নতুন এক সম্ভাবনার গল্প লিখছে।

    উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে এখন কৃষকদের দম ফেলারও সময় নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ, কৃষকদের বিশ্বাস—সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হবে।

    কৃষকদের ভাষায়, এ বছর প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কম হবে। তবে সার, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

    মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন‍্যান‍্যরা।

  • সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সালিশে নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামে বাদল মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রাবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরি সন্দেহে একই গ্রামের শারফুলের ছেলে রানাকে (২০) বাড়ি থেকে ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে যান লোকজন। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে রানাকে বিএনপি অফিসের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    নাতির চিৎকারে বৃদ্ধ দাদা মো. নবী হোসেন এগিয়ে যান। এ সময় সালিশে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নাতিকে চোর আখ্যা দিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেনকে ধরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় নবী হোসেনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ভাতিজা জলিল জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা নবী হোসেনও মারধরের শিকার হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের (যৌনকর্ম) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জহিরুল বর্তমানে ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি হয়ে আছেন।

    আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন এক নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই নারীর (বাদী) সঙ্গে পরিচয় হয়। আসামি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীকে তাঁর অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

    মামলায় আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর এই নারীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ওই নারী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ওই ঘটনায় পর গত বছরের ১৩ জুলাই ওই নারী পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন এবং ১৫ জুলাই ওই নারী ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি ফের বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড–সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা–জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তারা। এ সময় মারধর করা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন শ্রমিককেও। পরে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

    ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসীদের হামলার পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাড়িটিতে হামলার ঘটনা তাঁরা দেখেছেন। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় তাঁর পাইকারি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ১০ তলা বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ শুরু করেন। জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। শহরে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর সবাই প্রতিবাদ করলে তারা একটু নীরব ছিল। এক সপ্তাহ ধরে আবার ফোন করছে চাঁদার জন্য। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। রোববারের ঘটনায় থানায় মামলা করব।’ কারা তাঁকে হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে, তিনি নাম জানেন না বলে জানিয়েছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, শুধু জসিমের নির্মাণাধীন ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্বাধীনতার পর তাঁদের এলাকায় এভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

    সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন নির্মাণাধীন ভবনের দুই শ্রমিক ছবি: সংগৃহীত

    উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মুঠোফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। তবে ঘটনার পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুঠোফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।