সারাদেশ

  • শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার সময় বাইসাইকেলের চাকা পায়ে লাগার প্রতিবাদ করায় রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রেহানা বেগম লিলি জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়ার গাইনহাটি এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। তাঁর স্বামী মৃত সুরত আলী মিয়া।

    অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রিমা বেগম একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে রেহানা বেগম বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আলিফ আঙিনায় বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে কয়েকবার বৃদ্ধার পায়ের ওপর চাকা তুলে দেয়। এতে তিনি শিশুটিকে ধমক দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে রেহানা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, ‘আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। প্রতিবেশীর ছেলে সাইকেলের চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী রিমা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আজ সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কেজি ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতারা বলেন, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন তারা, যা এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

    এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে।

    ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

    বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।

  • পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    যে ধানক্ষেতে কৃষক সবজি লাগিয়েছেন, এই ক্ষেত আসলে ধানের জমি। বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষক এখানে চাষ করেন ধান। কিন্তু ধান কাটার পর যখন এই ক্ষেত ধানহীন বা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তখনই কৃষক এই জমিটি ফেলে না রেখে জমির সদ্ব্যবহার ঘটিয়েছেন। এর ফলেই এসেছে সাফল্য। পাতার নিচে নিচে ধরে আছে শত শত ঢেঁড়শ।

    স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চাষি বিষু রঞ্জন কপালি দু-তিন মাস আগে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলেন। সেই ঢেঁড়শই এখন ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’। ফলন সাফল্য হয়ে ফিরে এসেছে তার কাছে।

    সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিকরিয়া কপালিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারেই ঢেঁড়শের ফলন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢেঁড়শের এই জাতের নাম ‘দুরন্ত’। এটি নতুন জাত সম্প্রসারণ পর্যায়ের আওতাভুক্ত কৃষিপণ্য।

    চাষি বিষু জানান, দুই কিয়ার (বিঘা) জমিতে অগ্রহায়ণ মাসে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলাম। চারা বের হওয়ার প্রায় ৪৫/৪৬ দিন পর ঢেঁড়শ ধরা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কিয়ারে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে।

    তিনি বলেন, এই গাছগুলোর বয়স এখন প্রায় দেড়-দুই মাস এবং এর ফলনক্ষমতা থাকবে প্রায় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। মাস খানেক ধরে ঢেঁড়শ বাজারে বিক্রি করছি। আরও দুই-আড়াই মাস বিক্রি করতে পারবো। একদিন পরপর প্রায় দেড় থেকে দুইশ কেজি পর্যন্ত ঢেঁড়শ এখন তোলা হচ্ছে। বর্তমানে কেজি প্রতি পাইকারী মূল্য ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি করছি। শুরুতে আমরা বিক্রি করেছিলাম কেজি প্রতি ৯০ টাকা। তারপর কেজি প্রতি দাম ৪০/৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। আসলে বাজারের এই দাম উঠানাম করে।

    এখানে টিএসপি, পটাশ, পিজসাম এগুলো সার ব্যবসার করা হয়েছে বলে জানান বিষু।

    আশ্বিস মাসে এই জমিতে আমরা ধান রোপণ করবো। তার জন্য শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে এই ঢেঁড়শগুলো আমরা কেটে ফেলবো। পরবর্তীতে ধান কাটা শেষ হলে এই জমিতে অন্য কোনো সবজি লাগবো।

    অপর ঢেঁড়শ-চাষি অমর কপালি বলেন, আমরা যে ঢেঁড়শগুলো আজ কেজি প্রতি ২৫ টাকায় পাইকারী বিক্রি করে এসেছি, এটাই ব্যবসায়ীরা ডাবল দামে, কখনো কখনো ডাবল থেকে বেশি দামেও বিক্রি করে। সবজি পাইকার আর বিক্রিতারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দাম বাড়ায়।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরজিৎ সিং বলেন, এই এলাকার কৃষকদের ঢেঁড়শসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষির উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক কৃষকের পাশে আছে।

    শ্রীমঙ্গলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের কপালিপাড়া গ্রামটি কৃষির জন্য খুবই সমৃদ্ধ। এই গ্রামকে ঢেঁড়শ গ্রাম বলা হয়। এলাকার প্রায় ২শ বিঘা জমিতে ধানের পরিবর্তে কৃষকরা ঢেঁড়শ আবাদ করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে খুবই লাভবান হয়ে থাকেন। সব খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

  • স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকা। দিগন্তজোড়া সবুজ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে উদ্যান, সেখানে আজ কেবলই শ্মশানের নীরবতা। তিন বিঘা জমিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত কঙ্কালসার মৃত পেয়ারা গাছ। দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কৃষক আতাউল্লাহর ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে ছাই। আর এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসলীলার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ‘হরমোন-সন্ত্রাস’ ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা।


    গত ২০ শ্রাবণ। সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লিঃ-এর এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হোসেন অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আতাউল্লাহকে প্রলুব্ধ করেন তাদের প্যাকলোবিউট্রাজল উপাদান সমৃদ্ধ হরমোন ‘টনটন’ ব্যবহারে। অভিজ্ঞ কৃষক আতাউল্লাহ বারবার ডোজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। যেখানে ১০ এমএল প্রয়োগই যথেষ্ট, সেখানে কোম্পানির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেওয়া হয় ৫০ এমএল বিষ। ফলশ্রুতিতে পহেলা আশ্বিন থেকেই শুরু হয় মড়ক। সতেজ গাছগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় একেকটি মৃত কাঠে।


    পেয়ারা বাগান ধ্বংসের পর শুরু হয় কোম্পানির নতুন নাটক। প্রথমে ‘গাছের বয়স’ আর পরে ‘ভাইরাস’- নানা অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে আতাউল্লাহর হাতে থাকা অডিও-ভিডিও রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন তাদের নির্দেশনার ভুল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েকশ চারা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা এক ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো : মিরপুর ও ভেড়ামারা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সশরীরে বাগান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ডোজের প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও অজানা কারণে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানির প্রভাবশালী মহলের সাথে মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে। ফলে একজন কৃষকের ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো’।
    কান্নাভেজা চোখে আতাউল্লাহর প্রশ্ন- ‘আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ, ঋণের কিস্তিতে আমি দিশেহারা। কোম্পানি শিক্ষিত অফিসারদের কথায় বিশ্বাস করা কি আমার অপরাধ ছিল?’ আতাউল্লাহর এই দীর্ঘশ্বাস আজ কুষ্টিয়ার কৃষি খাতের এক বিরাট লজ্জা।


    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছেন। অথচ তার মাঠ কর্মকর্তারা সব জেনেও কেন এখনো নীরব, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে।
    সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লি.-এর ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, পেয়ারা বাগান ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানতে পেরে আমরা কোম্পানির রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কৃষিবিদ পাঠিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথেও কথা বলে এসেছেন। সে সময় ওই কৃষকের সাথে কথা হয়েছিল, ওই প্রোডাক্ট দিয়ে কৃষি অফিস এবং কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রায়াল দেবে। যদি ডোজের কারণে এমনটা হয় তখন প্রোডাক্টের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির একই প্রোডাক্ট সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে, কোথাও এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তিনি মনে করেন, এটা ডোজের জন্য হয়নি, বরং গাছের বয়স, পরিচর্যাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে, আগে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণের কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই এর প্রভাব পড়েছে।

    উপজেলার ইটাখোলা হাট, বটতলী হাট ও থানা বাজার মনজার বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে আলু, পটল, বেগুন, কাঁকরোল, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে।শুক্রবার ইটাখোলা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫-৩৫ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০টাকা করলা ৮০-১০০ টাকা, কচুরলতি/কচুর বই ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ফলনও কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।

    অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই বাজারে একই ধরনের সবজির দামে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ স্বাভাবিক দামে বিক্রি করলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে মাঠ থেকে স্বাভাবিকভাবে সবজি উত্তোলন ও বাজারে সরবরাহ শুরু হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে আসবে।

  • এ কেমন শত্রুতা?

    এ কেমন শত্রুতা?

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শত্রুতার জেরে একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের মালিকানাধীন একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ রাতের আঁধারে কে বা কারা কেটে ফেলে। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে।

    নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শত্রুতাবশত এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিবেচনায় রয়েছে একবারে পুরো বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে দুই ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ কারণে নতুন সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এই অর্থের সংস্থান কঠিন হওয়ায় ঘাটতি বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    এদিকে আইএমএফের আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ ফেলবে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়ায় দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক করেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

    যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

  • মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে । অনেক কৃ ষক এ চাষটি করে থাকেন। এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে। সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন । অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে । এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

    তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

  • বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ। অতিবৃষ্টিতে আমনের বীজতলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসলি জমি ভাসিয়ে দিয়েছে। তাদেরই একজন পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম।তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর আশায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, কলা, চালকুমড়া, আউশ ও আমন ধানের চাষ করেন তিনি।

    সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার চাষ করা ফসলি জমির পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থার ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, পাঁচ হেক্টর পানের বরজ এবং ৩৬০ হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের সুখের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ এবং আউশ ও আমনের বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ—এই দুই সমস্যা কীভাবে সামলাব, তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ছি। এ মুহূর্তে সরকার আমাদের পাশে এসে না দাঁড়ালে মরণ ছাড়া কোনো পথ আছে বলে মনে হচ্ছে না।

    স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের ঋণ দেয় না। বন্যার পানিতে তার সবজি ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই সরকারের উচিত এই বিপদের সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়ানো।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিমের সবজি ক্ষেতের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার অনেক সময় লাগবে। একদিকে তিনি ঋণগ্রস্ত, অন্যদিকে বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থায় তাকে প্রতি মাস ও সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। বন্যার পর সেই কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নির্বাচন করে তা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা যাতে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।