সারাদেশ

  • বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো টিনের চালা, ভাঙাচোরা কাঠের বেড়া ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় ৪৫ জন এতিম ও দরিদ্র শিশুকে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণসহ সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

    জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজীর উদ্যোগে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবনে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট সুবিধার আওতায় আসে। তবে বর্তমানে ৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১৮ জন। বাকি ২৭ জনের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার টিনের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং বহু জায়গায় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। নড়বড়ে খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা ও ছিদ্রযুক্ত টিনের চালার কারণে ভবনটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই কক্ষে গাদাগাদি করে বসে শিশুদের কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

    শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল জানায়, রাতে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাপ, ব্যাঙসহ বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে, ফলে নিরাপদে ঘুমানোও সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

    স্থানীয় সমাজসেবক গুলজার হোসেন, পিন্টু মিয়া ও আবুল হোসেন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

    এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য আলী হোসেন ও শিক্ষকরা জানান, মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত শিক্ষক, একটি একাডেমিক ভবন এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও একটি পাকা ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং সুবিধাবঞ্চিত ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ ঘরের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।

  • জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    চরফ্যাশনে চাষের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নীলকমল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তফা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আলম কোম্পানি একই এলাকার নাছিরের শুকনা চাষের জমিতে পানি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত নীরবের অভিযোগ, সন্ধ্যায় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজারে গেলে আলম কোম্পানি, তার ভাই রশিদ, ফয়েজউদ্দিন, শাহিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে শরীফ, নাছির, নোমান, মোস্তফা, নীরব, সাজাহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।হাসপাতালে ভর্তি নাছির দাবি করেন, দুই বছর ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলম কোম্পানি তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আলম কোম্পানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির পর প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা চালায়। চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন।



  • চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০ ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাহরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা ও মহাসচিব সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

    প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর গাংনী মডেল প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ও গাংনী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ আহসানুল হক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

  • চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে চা চাষাবাদে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিকারক তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চা বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনীতির চাকা। চায়ের চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং চা বোর্ডের সহযোগিতা পেলে চা চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবেন।

    আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালি মৌজায় ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক চা চাষাবাদ শুরু করেন উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার। পেশায় আইনজীবী হলেও তার হাত ধরেই এখানে চা চাষ শুরু হয়। তাকে অনুসরণ করে অনেক কৃষক চায়ের চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া সরকার ২০০৭ সালে ‘Eradication of Rural Poverty by Extension of Small Holding Tea Cultivation in Lalmonirhat’ প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর জমিতে চা চাষাবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। বছরে ২ দশমিক ৫ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এতে। পরে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জে চা চাষাবাদ বিস্তৃতি লাভ করে। চা চাষের উন্নয়নে নর্দার্ন টি বেল্টের আওতায় জেলায় চা বোর্ড তাদের অফিস চালু করে।

    করোনার সময় শ্রমিক সংকট ও চায়ের বাজারমূল্য না পাওয়ায় জেলার চা চাষাবাদ লোকসানের মুখে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। জেলায় উৎপাদিত চা বিক্রির জন্য নিজস্ব পারচেজ হাউস গড়ে না ওঠায় পঞ্চগড়ে নিয়ে চা বিক্রি করতে হতো। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় চা পাতার রঙ কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যেত। এ সুযোগে ক্রয়কেন্দ্রগুলো চাষিদের কাছ থেকে ২০-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট কেটে নিত। এতে চাষিরা অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়েন। ফলে অনেক চাষি চাষাবাদ গুটিয়ে নেন।

    সংকট কাটিয়ে উৎপাদিত চায়ের বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ৩৮ টাকা হওয়ায় জেলার চা চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। লালমনিরহাটের কৃষক যখন আলু, ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষ করে অব্যাহত লোকসান গুনে কৃষিবিমুখ হচ্ছিলেন, তখন অর্থকরি ফসল চায়ের চাষাবাদ করে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বুনছেন তারা।

    চায়ের চারা রোপণ করার পর বছরে সাতবার চাপাতা তোলা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বছরের শুরুতে প্রথম দফায় ৮০০ কেজি, দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ২০০ কেজি, তৃতীয় দফায় এক হাজার ৭০০ কেজি—এভাবে প্রতি দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিঘাপ্রতি তিন হাজার কেজি পর্যন্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

    প্রতি দফায় চাপাতা সংগ্রহ করার পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি পটাশ সার দিতে হয়, যার বাজারমূল্য দুই হাজার ৮০০ টাকা। বালাইনাশক ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য স্প্রে করতে হয় চারবার, যার বাজারমূল্য এক হাজার টাকা, চাপাতা সংগ্রহ করে গাড়িতে লোড করা ব্যয় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা, ফ্যাক্টরি পর্যন্ত চাপাতা পরিবহন খরচ এক টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ১১-১৩ টাকা কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়, সেটি বিক্রি হয় ৩৮ টাকা দরে। প্রতি দফা চা উত্তোলনের পর গতানুতিক হারে এর উৎপাদন বিঘাপ্রতি ৫০০ কেজি বৃদ্ধি পায়। ফলে বছর শেষে বিঘাপ্রতি কোনো ঝুঁকি ছাড়াই তিন লাখ টাকা মুনাফা করেন চা-চাষিরা।ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের তালুক দুলালির চা-চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে চায়ের চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং চারা সংকট। তিনি চা বোর্ডের সহযোগিতা না করার কথাও উল্লেখ করেন।

    তিনি জানান, প্রতিবার পাতা সংগ্রহের পর উৎপাদন ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন হয়। সার সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে ভুট্টা, ধান, আলুচাষিরা সার পেলেও চা-চাষিরা প্রয়োজনীয় সার পান না। চা বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চা-চাষিদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে চাহিদার সময় দ্বিগুণ দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে হয় চাষিদের।

    উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন ৩৬ বিঘা জমিতে চায়ের আবাদ করেন। তিনি জানান, চা চাষাবাদ বিস্তৃত করতে লালমনিরহাটে চা বোর্ডের অফিস করেছে সরকার। শুরুতে চা বোর্ড আমাদের চায়ের চারা, স্প্রে মেশিন, পানি সরবরাহের শ্যালো মেশিন, পাতা পুলিং মেশিন, কাটিং মেশিন সরবরাহ করলেও গত তিন বছর যাবৎ চা বোর্ডের প্রকল্প বন্ধ থাকায় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সরকার চা শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা এ পর্যন্ত দেয়নি।

    তিনি আরো বলেন, চা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ জেলায়। সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চায়ের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিলে জেলার মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। চায়ের বর্তমান বাজারমূল্যে চা চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। ফলে করোনার সময়ে যারা চা চাষাবাদ গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন করে চা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    লালমনিরহাট চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে চা চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তিন বছর ধরে নতুন প্রকল্প না নেওয়ায় চা চাষাবাদে চাষিদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ছুটিতে থাকায় মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। আমি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ পাঁচ জেলার দায়িত্বে থাকায় একাই সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। লোকবল সংকট দূর করে নতুন প্রকল্প নেওয়া গেলে জেলায় চা চাষাবাদ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যেত।

    তিনি আরো জানান, জেলায় গত বছর চার লাখ ২৮ হাজার ৬৪১ কেজি সবুজ চাপাতা উৎপাদন হয়েছে।

  • কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরও বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। চট্টগ্রামে এক লাফে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এর পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। অন্য ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

    সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। এরই মধ্যে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিনদিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগই পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

    শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। টিসিবির হিসাব বলছে, পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এবারে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং আমদানি করতে হবে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

    খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার রবিন হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের সরবরাহকারীরা হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা কমিশনে মাল বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে আরও কয়েক টাকা বেশি তা স্বাভাবিক। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বন্যার প্রভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ছিল তা এখন ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭২-৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। কেজিপ্রতি মাঝারি মানের চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।

    ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে সবজির দামও আকাশচুম্বি। টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল আজিজ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবক মথুরাপুর দর্গাতলা এলাকায় খিলাফত আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ভিজিএফ’র (দুঃস্থ ভাতা) কার্ডের আবেদন করা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (২৮) সঙ্গে আকরামের ছেলে বিজয় ও তার বন্ধু আজিজের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে দুই বন্ধু বিজয় ও আজিজ মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ পলাশ সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    এ সময় পলাশ ছুরি দিয়ে আজিজের পেটে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া পথে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    দৌলতপুর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, অনলাইনে ভাতার কার্ড করা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০)। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা পিকআপের চালক, হেলপার ও মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপে করে মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী নওগাঁয় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে শনিবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় নওগাঁগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    তিনি জানান, সংঘর্ষে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কাহালু থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নেয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।