সারাদেশ

  • জয়পুরহাটের এএসপি আরিফ নিজ গাড়িতে মাদক সরবরাহ করতেন, সংবাদ সম্মেলনে দাবি স্ত্রীর

    জয়পুরহাটের এএসপি আরিফ নিজ গাড়িতে মাদক সরবরাহ করতেন, সংবাদ সম্মেলনে দাবি স্ত্রীর

    জয়পুরহাটের জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্ত্রী শামিয়া খান এশা। ওই নারীর দাবি, ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের গাড়ি ব্যবহার করে হিলি থেকে মাদক সংগ্রহ করে জয়পুরহাটের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতেন। এ ছাড়া যৌতুক দাবি, মাদক গ্রহণসহ একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

    নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে শামিয়া খান এশা সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা, দাবি করা যৌতুক না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও শিশুসন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন শামিয়া খান এশা।

    এশা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাঁর স্বামী আরিফ হোসেন নিজ গাড়িতে দিনাজপুরের হিলি থেকে মাদক বহন করে জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ (সাপ্লাই) করতেন। তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অধস্তন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যেন সন্দেহ না করেন, সে কারণে তিনি মাদক পাচারে নিজের গাড়ি ব্যবহার করতেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন নিজেও মাদক নেন বলে অভিযোগ করেন এশা।

    এশা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী পরকীয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী মাদক সেবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো।

    ওই নারীর দাবি, সংসার টিকিয়ে রাখতে ইতিপূর্বে যৌতুক হিসেবে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ বছরের শুরুতে সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়েসহ তাঁকে মারধর করে জয়পুরহাটের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

    এশা আরও জানান, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করলে আবারও মারধরের শিকার হন তিনি। প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে এশার দাবি, মামলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ৯ জুলাই পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিজ আওতাধীন জয়পুরহাট সদর থানায় তাঁর ও তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি চুরির মামলা করেছেন।

    অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট থেকে প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    সপ্তাহে দুই দিন কোটি টাকার পান-সুপারির বেচাবিক্রি হয় যশোর শহরের বড়বাজারের পাইকারি পানের হাটে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এটি। একই সঙ্গে কৃষি-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিদের পান- সুপারি বিক্রির কেন্দ্রস্থল এই হাট। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে প্রয়োজনীয় বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কোনো দপ্তর। ফলে শেড, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার ছাড়াই চলছে এই কোটি টাকার পাইকারি হাট।

    পানচাষিরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে বাজার অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তার ওপর বসে পান-সুপারি বিক্রি করতে হয়। নেই পানির ব্যবস্থাও । যানজটের কারণে পান-সুপারি বহনকারী যানবাহন ঠিকমতো বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার এই সমাগম স্থলে নেই কোনো শৌচাগার । অথচ প্রতি হাটবারে খাজনার টাকা গুনতে হয়। একটি মহল প্রতি হাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ‘টোল’ আদায় করে ।


    সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই পাইকারি হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন- শনিবার ও বুধবার। এই দুই দিনেই এখানে কোটি কোটি টাকার পান-সুপারি কেনা-বেচা হয়। এলসি পান, সাচি পান, মিষ্টি পান, ঝাল পান, সিলেটি পান, মহেশখালির পান এবং পটুয়াখালীর পান এখানে বিক্রি হয়। যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, হুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী এখানে পান-সুপারি নিয়ে আসেন ।
    জানা গেছে, বিক্রেতা ও উৎপাদকদের বড় একটি অংশ আসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে। প্রত্যেক হাটে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পানচাষি সরাসরি মাঠ থেকে উৎপাদিত পান নিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহুসংখ্যক ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন স্থায়ী সুপারি ব্যবসায়ীও এই বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।


    হাটটির ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুই হাটে কয়েক কোটি টাকার পান ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। ভরা মৌসুমে এই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস।


    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলারমুন্দিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে পান চাষ করছি। যশোরের বাজারে পান নিয়ে এলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই এত দূর থেকে আসি। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনার হারও বেশি। ক্রেতা ও ফড়িয়া উভয়কেই ‘ঢোপ’প্ৰতি ১৫ টাকা করে খাজনা দিতে হয়, যা আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
    ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের পানচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পানের বরজ আছে। আমি নিয়মিত এই বাজারে পান বিক্রি করি। এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে বড় সমস্যা হলো এই বাজারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বসার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। মাথার ওপর শেড় বা চালা নেই ৷ শৌচাগার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যশোরের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পান পাওয়া যায় ।


    হাটটিতে ৪০ বছর ধরে সুপারি ব্যবসা করছেন বিপুল রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি। এই হাটই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচ এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মাথার ওপর চালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ শুরু হয়। গরমের দিনে রোদের তাপে পুড়তে হয়। স্থায়ী শেড না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
    চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আধুনিক বাজার অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হোক। তাহলে কৃষকদের দুর্দশা যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।
    জাতীয় কৃষক খেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, পান চাষের সঙ্গে শুধু চাষিরাই নন, খেতমজুর, পরিবহন শ্রমিক, পাটচাষি এবং বিভিন্ন সহযোগী পেশার মানুষও জড়িত। তাই পান খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন ।


    এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় কৃষক শক্তির জেলা সংগঠক সালমান হাসান রাজিব বলেন, পান-সুপারির মতো একটি অর্থকরী ফসলের বাজার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। অথচ এ রকম একটি বাজার গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল কৃ ষি বিভাগের। তিনি বলেন, বাজার কাঠামোর উন্নয়নের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওপর বর্তায়। বাজারটি যেহেতু যশোর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন, সেহেতু স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করতে পারত। কিন্তু আমার যতদূর জানা, এই বাজারের সঙ্গে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কোনো সংযোগই নেই।


    যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারটি এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ যদি পৌরসভার নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারটিকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে স্থায়ী হাটচান্নি ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।


    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, যশোরের এই বাজারে সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হলেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার বিশ্লেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন-সহায়তা দেওয়ার কাজ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর করে থাকে।


    যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই বাজার থেকে কৃষক যাতে লাভবান হন, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
    কৃষি বিভাগের ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যশোর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩ থেকে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পান উৎপাদনে যশোর দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে জেলায় বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।

  • বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    রেল কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিকা বিউটি আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

    গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷ আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এক বছর আগে মামুনের সাথে বিউটির ননদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তাদের দেখা হত। বিষয়টি জানত না মামুনের পরিবার। শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় আসে। মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। মামুনকে সেখানে আসতে বলে দেখা করার জন্য।

    গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে যায়। বিয়ে করার জন্য বিউটি তাকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    এক পর্যায়ে বিউটি দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গে জখম করে। একই সঙ্গে পেটেও ছুরি মারে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ টার দিকে মারা যায় মামুন।

    এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুলাই বিউটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • ১৩৭ মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে

    ১৩৭ মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে

    দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ৬০ বছর পুরোনো ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে। এতে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সেন্টারের অন্যান্য মাতৃবাগানও।

    জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা উৎপাদনের জন্য একাধিক মাতৃবাগান রয়েছে। তবে গত তিন থেকে চার বছর ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ১০ একর এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে পানি জমে থাকছে।

    সবচেয়ে বড় ও পুরোনো লিচুর মাতৃবাগানে ১৩৯টি গাছ ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে গাছের গোড়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় এর মধ্যে ১৩৭টি গাছই মারা গেছে। ফলে উন্নত জাতের লিচুর সায়ন সংগ্রহ ও চারা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম জানান, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেন্টারের প্রায় ১০ একর এলাকা হাঁটুসমান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। লিচু বাগানের পাশাপাশি বিদেশি আম, ড্রাগন ফল এবং অন্যান্য উন্নত জাতের ফলগাছও জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের লিচুর সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করা হতো এবং লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হতো। বর্তমানে উৎপাদন এলাকা পানিতে ডুবে থাকায় উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি একাধিকবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তারাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

    জলাবদ্ধতার কারণে শুধু হর্টিকালচার সেন্টার নয়, আশপাশের এলাকাবাসীকেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

    এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, শহরে মাস্টার ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে কোন এলাকা নিচু ও উঁচু তা নির্ধারণ করে জরিপ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজ শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। এছাড়া আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেগুলো বাস্ত

  • কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম (১৫) নামে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নুরুল ইসলাম ইরান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। ইরানকে চিহ্নিত মাদক কারবারি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার বাড়িঘর ও মাদক সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    শনিবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নাঈম ও ইমরান (২০) নামে দুইজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইরান ও তার সহযোগীরা।

    অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয়। আর ইমরানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।

    গুরুতর আহত নাঈমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নাঈমের জানাজা শনিবার বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জানাজার পর মাইকে নাঈমের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ ইরানকে খুঁজতে বের হন।

    স্থানীয়দের দাবি, রাতে তাকে পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ধরে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ইরানকে হত্যার পর তার বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার দুপুরেও মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আলতাপ (৪৫) ও বাদশা (৫০) নামে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তারা ইরানের সহযোগী। আলতাপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত বাদশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক বলেন, ‘নাঈম দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে ভালো ছেলে ছিল। ইরানের ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে ও ইমরানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নাঈমের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়া হয়।’

    ইমরানের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘ইরানের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে আনি।’

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান বলেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সামনে নাঈমকে কুপিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আমার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

    নিহত ইরানের ছেলে রিফাত বলেন, তাঁদের ২২টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরের মালামাল লুটের পাশাপাশি একটি সিএনজি, দুটি পাওয়ারটিলার, একটি ভ্যান ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত।

    তবে মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এজাহারুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় মামলা হয়েছে। পরে নাঈমের জানাজা শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী ইরানকে হত্যা করে। তাঁর বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সীতাকুণ্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শামীমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনাতেও ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

  • শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ভালো হলেও আশানুরূপ লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ফলে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পারায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে লাভের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো পাট কাটা না গেলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন বলেন, “মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো পাট কাটতে পারছি না।”

    চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। কিন্তু পাট কাটতে দেরি হলে আঁশের মান খারাপ হয়ে যাবে।

    দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে সহজেই শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।’’

    একই কথা বলেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, “সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’

    পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, “বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও আঁশের মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন না। তাই সময়মতো পাট কাটা ও জাগ দেওয়া জরুরি।’’

    এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, পাটের উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে লালপুরের কৃষকদের কাছে।

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। আর এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।

    নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ

    সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এ ছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।

    তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না

    ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

    উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছেড়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রবিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে যান।

    মো. সাহাবুদ্দিন এখন তার গুলশানের বাড়িতে উঠবেন বলে জানা গেছে।

    বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শনিবারই বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার অপরাহ্ণে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদকে বিদায় জানান মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও জাতীয় সংসদে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন হাফিজ উদ্দিন। তবে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করবেন।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্ভব হবে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ অধিবেশন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে তারা।

    এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়া থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত নানা কারণে রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলেন তিনি।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’