সারাদেশ

  • চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেন, যে রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রক্তের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার আল- ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

    জামায়াতের হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অঞ্চল পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মেধা যাচাই, গ্রুপ ডিসকাশন, দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    মধুপুর উপজেলা ঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের অর্থনীতির মূল জোগানদাতা হলো আনারস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা প্রায় ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জলডুগি, ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন জাতের আনারস বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা এখন জলডুগি চাষে বেশি ঝুঁকছেন। এর প্রধান কারণ হলো—এই আনারস চাষে সময়, জমি ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়। যেখানে ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন আনারসের ফলন পেতে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জলডুগির পূর্ণাঙ্গ ফলন মেলে এক বছরের মধ্যেই। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে জলডুগি, ৪২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার এবং ১০ হেক্টরে হানিকুইন চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলডুগির আবাদ ৬৫ হেক্টর বেড়েছে। ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ পিস জলডুগি উৎপাদিত হবে। প্রতিটি ফল গড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে এর বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ১ কোটি ৫৩ লাখ পিস ক্যালেন্ডার আনারস ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া হানিকুইনসহ অন্যান্য জাতের ৩ লাখ ৬০ হাজার আনারস থেকে আসবে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    সন্তোষপুর গ্রামের চাষি সোলমান সরকার ৩ একর জমিতে ৬০ হাজার চারা লাগিয়ে ১১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি ফলের দাম আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ জানালেন, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আনারস থেকে কৃষকরা ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

  • উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    স্থানীয় চাহিদার তিন গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক মাছ উৎপাদনের একটি বড় অংশীদার যশোর। তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একসময়কার এই লাভজনক খাতে এখন দুর্দিন চলছে। ফিশ ফিড (মাছের খাদ্য), রেণু উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্ল্যান্ড ও হরমোন, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখলেও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিক ও মাছচাষিদের। টিকে থাকতে না পেরে ইতোমধ্যে জেলার ৪৪টি হ্যাচারি বন্ধও হয়ে গেছে।


    হ্যাচারি মালিকেরা জানান, বহুসংখ্যক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেণুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে ৮২টি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন হতো। বর্তমানে চালু রয়েছে ৪৪টি হ্যাচারি। তবে জেলার মৎস্য বিভাগ বলছে, বর্তমানে ৪২টি হ্যাচারি চালু আছে।


    হ্যাচারি মালিকদের ভাষ্য, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল শিল্প রেটে (হার) ধার্য করায় ব্যবসায়টিতে একরকম ধস নেমেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের রেটে বিদ্যুৎ বিল গুণতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিক্রির দাম থেকে লাভ দূরে থাক উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে হ্যাচারি বন্ধ করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে এই খাতে বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি বা দীর্ঘদিনের দাবি কৃষি রেট চালু না করলে ব্যবসায় সচল রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।


    যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, মাছ উৎপাদনের কাজে অতি প্রয়োজনীয় তেল ও বিদ্যুতের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে এই সেক্টর ক্রমাগত লোকসান গুনছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় মাছের পুকুরে ব্যবহৃত স্যালো মেশিন ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে হ্যাচারির বিভিন্ন কাজে পানি সরবরাহে মোটর চালনার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে অনেক। এছাড়াও মাছের খাবারসহ চাষ কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে হ্যাচারিতে ডিম থেকে উৎপাদিত রেণুর দাম বাড়েনি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিকদের।


    এদিকে মাছের খামারিরা বলছেন, মাছের খাবার এবং ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে মাছ লালন-পালন দুরূহ হয়ে পড়েছে। উৎপাদনের সব ধরনের উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুরে মাছ রেখে বড় করে যারা বাজারে বিক্রি করেন তারা জেরবার দশায়।
    মাছ চাষিরা জানান, দাম বাড়তে বাড়তে একবস্তা খৈলের দাম এখন ৩৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। একবস্তা ফিডের দাম কোম্পানি ভেদে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম ২২০০ টাকা পর্যন্ত। পুকুরের লিজ মূল্য বছর বছর বাড়ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় মাছের সন্তোষজনক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকমে ব্যবসায় টিকিয়ে রেখেছেন।


    মৎস্য চাষি কল্যাণ সমিতি যশোর জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ও ফাল্গুনী মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বাবলু জানান, শ্রমিক মজুরি, ফিড, ওষুধপত্র, সার, খৈলসহ পুকুরের লিজ মূল্য ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যাহতভাবে উৎপাদনের উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে মাছের ব্যবসায়ের জৌলুস হারাচ্ছে। মুনাফার পরিমাণ অব্যাহতভাবে কমছে। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।


    প্রতিবছরই চাহিদার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন করছেন যশোরের মৎস্য চাষিরা। পুকুর থেকে শুরু করে বিল, বাঁওড়, নদী ও খালে জলশস্য মাছের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ করছেন। জেলায় বার্ষিক মাছের চাহিদা ৬৭ হাজার ৬৬১ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩৩ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। চাহিদার উদ্ধৃতি মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বার্ষিক রপ্তানি ৮ হাজার ২৯২ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন। এদিকে যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সচল হ্যাচারিগুলোয় প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ কেজিরও বেশি রেণু ও ধানী পোনা উৎপাদিত হয়।


    জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, বিদ্যুতের দামের কারণে হ্যাচারি সেক্টরে ক্ষতির মুখে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে নেওয়ার দাবি জানানো হলো সেটি করা হয়নি। কৃষি রেটে বিল ধার্য করা হলে শিল্পটির ধস থামানো সম্ভব হতো।


    সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দীন চৌধুরী সুমন জানান, প্রায় প্রতিবছরই লোকসান গুনছেন হ্যাচারি মালিকরা। গত বছর তার ১৫ লাখের বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর লোকসান কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি জানান, ভর্তুকি দিয়ে অথবা কৃষি রেটে বিদ্যুতের বিল ধার্য করা না হলে হ্যাচারি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।


    এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে ধার্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি অবগত। শিল্পের বদলে কৃষি রেটে হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল ধার্যের ব্যাপারটি বাস্তবায়িত হলে সেক্টরটিতে বিদ্যমান এ সমস্যার সমাধান হবে।


    বহু সংখ্যক হ্যাচারি বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এক সময় যশোরের হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হতো। তবে এখন সেসব জেলাতেও হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। এতে যশোরের হ্যাচারির ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি লোকসানে থাকা অনেক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে গেছে।

  • দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

    রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।

    ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে। সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষা ও পরিবার গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।

    তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম।

  • ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।

    এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন আম্মার ১৫ আগস্টের এ আয়োজনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি জানান, ভোজের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি কোরবানি করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে।

    পরে শুক্রবার গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টেও বিষয়টি জানান আম্মার।

    আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই জিয়াফত’-এ অংশ নিতে গুগল ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য আসে। সালাউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না এবং পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। ফলে এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

    শনিবার দুপুরের পর রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার নিয়ে আসা হয়।

    মসজিদের সামনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত।’ ব্যানারের দুই পাশে ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা ছিল।

    তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

    আয়োজনের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। তাই এই আয়োজনে রাকসুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টকে তারা ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই গরুটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, আয়োজনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা গেছে। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, খাবারের মান ও ইন্টারনেট সেবার মতো বিষয়গুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরিফের সামনে হিন্দু ধর্মীয় সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ছবি সংযোজন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

  • মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে ১৫ আগস্টকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউনে এক নেতাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৮ মিনিটের দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ঈদগাহ মাঠের সামনে মোটরসাইকেল শোডাউন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

    নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘোষিত শোক সভাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নেন। এর অংশ হিসেবে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল বাশার মাতুব্বরের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেন তারা।

    শোডাউনের সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে একজনের মুখ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    এ বিষয়ে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বাশার মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অহিদুজ্জামান খান ওহিদ বলেন, কারা মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক অলিউর রহমান দর্জি বলেন, তাদের দলের মোটরসাইকেল শোডাউনে কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এদিকে ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদারীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই। কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে বিষয়টি আইনবহির্ভূত হবে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    টানা কয়েক সপ্তাহের বাড়তি দামের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মরিচের দাম কমেছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। আগাম শীতকালীন সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দেয়। এতে দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ভারত থেকে আমদানি বাড়ার পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে মানভেদে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

    এদিকে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, বেগুন ও করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটল, ঢেঁড়শ ও শসা ৬০ টাকা এবং ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে।সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছের বাজারে চাষের পাঙাস ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৪০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম কমেছে, এটা স্বস্তির। তবে অন্যান্য সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এখনো বেশি। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।”

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পুরোপুরি পড়েনি। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও তা এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।