সারাদেশ

  • যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরের বাগমারা পাড়া বিসমিল্লাহ গ্যারেজ। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের ভেতরেই এক বাড়ির একান্নবর্তী পরিবারের তিনটি ছাদে চোখ জুড়িয়ে যায় অসাধারণ সবুজের সমারোহ দেখে। সেখানে ছোট-বড় গামলা আর বিশেষ মাটিতে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বিরল প্রজাতির গাছ। সাধারণ দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যায় একটি বিশেষ উদ্ভিদের কাছে। এটি আর দশটি বনসাই বা সাধারণ গাছ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম দামি এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ ‘শ্বেতচন্দন’।


    এক ছাদ বাগানেই লালন-পালন করা হচ্ছে প্রায় ৩৫০টি দুষ্প্রাপ্য শ্বেতচন্দন গাছ! এ যেন এক নীরব ভেষজ বিপ্লব, যা যশোরকে ছাড়িয়ে পুরো দেশের অর্থনীতিতেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
    এই অসাধারণ উদ্যোগের পেছনের কারিগর ৪৫ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বনসাইয়ের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রবাস জীবন কাটাতে মালয়েশিয়া গিয়ে এক চীনা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে সাজানো বনসাই দেখে অনুপ্রেরণা পান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে কৃষিতে নামলেও প্রথমে সফলতা পাননি।


    তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ২০১৩ সালে তিনি বট, পাকুড় ও অশ্বত্থের চারা দিয়ে বনসাই তৈরি শুরু করেন। এরপর যশোর বন বিভাগের ঝুমঝুমপুর নার্সারি থেকে মাত্র ১০টি শ্বেতচন্দনের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাবলিক লাইব্রেরির বই-পুস্তক ও ম্যাগাজিন ঘেঁটে নিজেই তৈরি করেন গাছের জন্য উপযুক্ত বিশেষ মাটি।


    গাছের রোগবালাই দূর করতে কেমিক্যাল কীটনাশকের বদলে তিনি ব্যবহার করেন মেহগনি পাতা পচা পানি ও লেবুর রসের পরিবেশবান্ধব মিশ্রণ। সেই ১০টি চারা থেকে আজ তার ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের সাড়ে ৩০০ শ্বেতচন্দনের বনসাই এবং নার্সারিতে রয়েছে ২-৩ বছর বয়সী প্রায় ৪,০০০ চারা।


    ধারণা করা হয়, চন্দনের আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়ার তিমুর দ্বীপে হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এর ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। রামায়ণ, মহাভারত এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও (খ্রিস্টপূর্ব-২০০) চন্দনের উল্লেখ পাওয়া যায়।


    বিশ্ববাজারে শ্বেতচন্দনকে বলা হয় ‘সবুজ সোনা’। একটি পরিণত শ্বেতচন্দন গাছ (২০ বছর বয়সী) প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি কাঠ দেয়, যার প্রতি কেজির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সমাজ বন বিভাগ যশোরের তথ্যমতে, এক একর জমিতে চন্দন চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫-২০ বছর পর আয় হতে পারে ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত!
    পেনিসিলিন আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে গনোরিয়া রোগের চিকিৎসায় চন্দনের তেল ব্যবহৃত হতো। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ব্রঙ্কাইটিস, চর্মরোগ, ঘামাচি, বসন্ত এবং হজমের সমস্যায় এর ব্যবহার প্রাচীন। রূপচর্চায় এর জাদুকরী উপকারিতা তো সর্বজনবিদিত।


    এছাড়া সনাতন ধর্মে পূজা-অর্চনা ও শেষকৃত্যে চন্দন কাঠ অপরিহার্য। মুসলিম ঐতিহ্যে সুগন্ধি আতর তৈরিতে চন্দনের তেল অনন্য উপাদান।
    সম্প্রতি যশোর জেলা বন বিভাগ আয়োজিত বৃক্ষমেলায় প্রথমবারের মতো শ্বেতচন্দন নিয়ে হাজির হন সাজ্জাদ হোসেন। মেলার দর্শনার্থীদের মধ্যেও চন্দন কেনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মেলায় শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্যোক্তার পুরস্কারও জিতে নেন সাজ্জাদ হোসেন।


    যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র সবুজ বৈরাগী জানান, মাত্র ৫০ টাকায় ৪৪ দিন বয়সী চারা কিনে তিনি ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে এটিকে দেখছেন। অন্যদিকে অরনিমা নামের এক দর্শনার্থী স্মৃতি এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকে কেনা চারাটি ২০ বছর পর নিজের পূজায় ব্যবহারের আশা ব্যক্ত করেন।


    সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য ১৪ বছর বয়সী ২টি বিশেষ চারাসহ মোট ২,০০০টি চারা প্রস্তুত রেখেছেন। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত জায়গায় চন্দন রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা।


    বাংলাদেশ চন্দন চাষের জন্য অনুকূল হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা ও সুরক্ষার অভাবের কারণে গাছটি দেশে কিছুটা বিলুপ্তপ্রায়। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এস.এম আইয়ূব হোসেন এবং সহকারী বন সংরক্ষক অমিতা মন্ডল এই খাতের বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন। এরমধ্যে-
    ‘দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্য ও ঋণ সহায়তা: চন্দন গাছ থেকে প্রথম ৫-৭ বছর কোনো আর্থিক আয় আসে না। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া জরুরি’।
    সুরক্ষা ও জাতীয় নীতি: মূল্যবান গাছ হওয়ায় চুরির ঝুঁকি থাকে। তাই উপযুক্ত আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।


    গবেষণা ও টিস্যু কালচার: জেনেটিক রিসোর্স সংরক্ষণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চন্দনের ওপর উচ্চতর গবেষণা এবং উন্নত টিস্যু কালচারের সম্প্রসারণ ঘটানো দরকার।
    একটি ছোট্ট চারা-যার আজকের দাম মাত্র ৫০ টাকা, সঠিক পরিচর্যা ও ২০ বছরের ধৈর্য শেষে সেটিই হতে পারে লাখ লাখ টাকার জাতীয় সম্পদ। সাজ্জাদ হোসেনের মতো নিবেদিত প্রাণ উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শ্বেতচন্দনের এই ‘সবুজ সোনা’ বিপ্লব বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি।

  • জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বর্ষা এলেই মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ সময়মতো মানসম্মত চারা না পেলে কৃষকদের মৌসুমি সবজি চাষও ব্যাহত হয়। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পলি নেট হাউস প্রযুক্তি।


    একসময় যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করতে হতো, সেখানে এখন স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সবজির চারা। শুধু নিজের এলাকার চাহিদা পূরণই নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের কাছেও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস হয়ে উঠছে এসব পলি নেট হাউস। ফলে জলাবদ্ধতাকে সীমাবদ্ধতা নয়, বরং নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার এক সফল উদাহরণ তৈরি হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়।


    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পলি নেট হাউস হলো মোটা ও টেকসই পলিথিন দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত ঘর। এর ভেতরে লোহার তৈরি ট্রে বা নেটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় চারা রোগবালাই, অতিবৃষ্টি কিংবা ঝড়ো আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে চারা সমানভাবে বেড়ে ওঠে এবং কৃষকের হাতে পৌঁছায় উন্নতমান নিশ্চিত করে।


    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, একটি পলি নেট হাউসে একসঙ্গে এক লাখেরও বেশি চারা উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনায় বছরে আট থেকে দশ লাখ পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে উপজেলার খর্ণিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ব্যক্তি উদ্যোগে তিনটি পলি নেট হাউস গড়ে উঠেছে। এসব হাউসে প্রধানত বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।


    তার মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মানসম্মত চারা উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা জলাবদ্ধতার সময়ও চারা নিরাপদ থাকে। ফলে কৃষক নির্ধারিত সময়েই চারা হাতে পান এবং মৌসুমি সবজি চাষে কোনো বিলম্ব হয় না।
    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকার এ পরিবর্তনের অন্যতম সফল মুখ। তার প্রতিষ্ঠিত রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারি এখন বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের কাছে পরিচিত একটি নাম। উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেননি, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস গড়ে তুলেছেন।


    তাপস সরকার ২০১৭ সাল থেকে সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর তার নার্সারির কার্যক্রম নতুন গতি পায়। বর্তমানে তিনি চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন।
    তার নার্সারি থেকে এখন ডুমুরিয়া ছাড়াও যশোরের কেশবপুর, নড়াইল এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক মৌসুমভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী চারা সংগ্রহ করেন। কৃষকদের দাবি, এখান থেকে সংগ্রহ করা চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় মাঠে রোপণের পর ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।


    তাপস সরকার বলেন, সরকারি সহায়তায় পলি নেট হাউস স্থাপনের ফলে সারা বছর উন্নতমানের চারা উৎপাদন অনেক সহজ হয়েছে। এ কাজে তার স্ত্রী বিজয়া সরকার সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগেই তারা কৃষিভিত্তিক একটি সফল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
    তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা আরও বাড়ানো হলে বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে মানসম্মত চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমবে এবং সময়মতো চারা পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়বে।


    স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় সবজি চাষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল মানসম্মত চারার সংকট। এখন স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। সময়মতো চারা পাওয়ায় কৃষিকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা যাচ্ছে এবং ফলনও বাড়ছে।

  • উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    একসময় খালটি ছিল মৃতপ্রায়। বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানিও সেখানে আর স্থায়ী হতো না। পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে প্রতি মৌসুমেই চরম দুর্ভোগে পড়তেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেককে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুকুর ভাড়া নিয়ে কিংবা অন্যের জলাশয়ে অতিরিক্ত খরচ করে পাট পচাতে হতো। সেই দুর্ভোগ এখন অনেকটাই অতীত। সরকারি উদ্যোগে খাল পুনঃখননের পর এবার বর্ষার পানিতে থইথই করছে খাল। আর সেই পানিতেই দল বেঁধে মনের আনন্দে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। উন্নতমানের আঁশ ও ভালো দামের প্রত্যাশায় তাদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।


    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে খালটি ছিল আগাছা আর পলিতে ভরাট, এখন সেখানে টইটম্বুর পানি। খালের দুই তীরে সারি সারি লাগানো বনজ ও ফলজ গাছের চারা পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক মনোরম রূপ। খালের পানিতে সারিবদ্ধভাবে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে পাটের আঁটি। কেউ নতুন করে পাট নামাচ্ছেন, কেউ আবার পচা পাট তুলে আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় প্রবীণরাও সন্তোষ প্রকাশ করছেন।


    বড়ভাগ গ্রামের কৃষক ইমদাদুল শেখ বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দিতে দিতে বলেন, ‘আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে পাট পচাতে হতো, এতে খরচও বেশি লাগত। এবার বাড়ির পাশেই খালে পাট জাগ দিতে পারছি। সময়ও বাঁচছে, খরচও কমছে। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের অনেক উপকার করেছে।’


    একই গ্রামের কৃষকরা জানান, আগে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক সময় পাট ঠিকমতো পচত না। এতে আঁশের মান খারাপ হতো এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যেত না। এবার সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে।
    মালা গ্রামের কৃষক কামরুল শেখ বলেন, ‘আমি এবার দেড় একর জমিতে পাট চাষ করেছি। আগে অন্যের পুকুর ভাড়া নিতে হতো। অনেক সময় সেচ দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচ হতো। এবার খালেই সব কাজ করতে পারছি। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং ভালো আঁশ পাওয়ার আশা করছি।’


    স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু পাট চাষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্ষার পানি সংরক্ষণ হওয়ায় আগামী মৌসুমে সেচ সুবিধাও বাড়বে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি হবে এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে।
    টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খাল পুনঃখননের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি এর সুফল পাচ্ছেন। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে।’


    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, ‘প্রকল্পটি ছোট হলেও বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য ছিল না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’


    আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যেই কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। এটি শুধু কৃষির উন্নয়নেই নয়, এলাকার জলাধার সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ ও কৃষির উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
    উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৮ টাকা।


    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় কাজের মান, স্বচ্ছতা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের উপস্থিতি ও কাজের হিসাব-নিকাশ নিয়মিত যাচাই করা হয়। এতে শ্রমিক অনুপস্থিতিজনিত কারণে উদ্বৃত্ত থাকা ৩৭ হাজার ৩৭০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বিরাজোত এলাকার তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে ধরে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সীমান্তের মানুষজন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি।

    শনিবার সকালে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২ এর ১২ নম্বর সাব পিলার এলাকায় বাংলাদেশের আখ খেতে প্রবেশের পর ওই ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসে সীমান্তের বাসিন্দা। তার বাড়ি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানায়।

    স্থানীয় জানান, গত বুধবার সকালে বিরাজোত সীমান্তে হারানো গরু খুঁজতে যান বৃদ্ধ কৃষক তমিজ উদ্দিন। পরে সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, আমার বাবা কানে কম শুনতে পান, ঠিকমতো চলতেও পারেন না। গরু খুঁজতে সীমান্তের কাছে গেলে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়।

    এরই জেরে শনিবার সকালে ভারতীয় ওই নাগরিক সীমান্তে চা বাগানে কাজ করার ফাঁকে বাংলাদেশের আঁখ খেতে প্রবেশ করে আঁখ ভাঙার চেষ্টা করলে তাকে ধরে নিয়ে আসে সীমান্ত এলাকার মানুষেরা। স্থানীয়দের দাবি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিলেই ভারতীয় ওই নাগরিককে ফেরত দেওয়া হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংগঠনিক সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার চট্টগ্রামের তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এটা তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি দেশ ও দলকে এগিয়ে নিতে চান।’

    প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সফরের সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড, বাবুনগর মাদ্রাসা, হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।

    মহেশখালী দিয়ে সফর শুরু

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় মহেশখালী পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করবেন। সেখানে জনসভা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ফটিকছড়িতে বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

    হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথের সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রাখতেই এই সফর।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

    হাটহাজারীতে পুনর্বাসন সহায়তা

    ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

    এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

    নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সন্ধ্যায় বিএনপির সাংগঠনিক সভা

    সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা ও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিনই তার বসতভিটা আর আকাশ মাথার ওপর ছাদ। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম নিয়তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তিনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে খাবারের অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন এই নারী।

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধের এটি এক নিদারুণ গল্প।

    দুই সন্তানকে নিয়ে তার এই জীবনযুদ্ধ আবারও যেন প্রমাণ করে, মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেন নস্যি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে সন্তানদের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন রেহানা।

    জানা গেছে, রেহানা একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে একবেলার খাবার জোটানোই কঠিন, সেখানে ঘর তৈরি করা যেন তার জীবনে দিবাস্বপ্ন।

    কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধু বাঁশের খুঁটির অস্তিত্ব থাকলেও এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে-যায়। কিন্তু রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে স্বস্তির হাসি কবে আসবে, সেই প্রশ্নই যেন থেকে গেছে।

    স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠিকানা না থাকায় রেহানা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ছিলেন। ওই ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করে দেন তিনি।

    ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। আমি বললাম, কী ব্যাপার, তোর চুল কী হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে, ‘ও বু, কাউরে কইও না, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি।’

    রেহানার এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার যে অবস্থা, তাতে সে একটা ঘর পায়—সরকারের কাছে আবেদন করবো, দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয়।’

    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশপথের মুখে একটি ঘরের বাঁশের ফ্রেম রয়েছে। সেখানে রেহানা ও তার অবুঝ দুই সন্তানের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান গ্রামের মহিদুল ইসলাম।

    মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে, এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে।’ এ জন্য এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয়, রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে নিষ্পাপ দুটি মুখ।

    ছোট দুই সন্তানের মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেতে শেষ সম্বল নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন রেহানা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত রয়েছে খিদের যন্ত্রণা।

    কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা জানান, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একদিকে ঘর নেই, অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি।’ তিনি সরকার ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

    নারীর অহংকার ও শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচিত নিজের চুল বিক্রি করে দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাকে হারাতে দেননি রেহানা। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।

    এখন প্রশ্ন একটাই—একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই?

  • কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষীণ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের টেকসই কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘গোগ্রো’ প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    চলমান গোগ্রো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের ফসলের সঠিকমূল্য নিশ্চিত করতে সিনজেনটা ভ্যালু চেইন পার্টনারশীপ গড়ে তুলেছে। যা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি স্থানীয় ভ্যালু চেইন পার্টনার এর নিকট তাদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির পাশাপাশি বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় অর্থাৎ প্রকল্পের পাশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে কৃষক খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে সিনজেনটা বাংলাদেশ এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। সে লক্ষ্যেই কৃষকদের সক্ষমতা ও আধুনিক ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির বাস্তবতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে ‘গোগ্রো’প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

    ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা ‘গোগ্রা’ প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় কৃষকদের আয় ও জীবনমান সমৃদ্ধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১২০০ কৃষককে বিভিন্ন সময়োপযোগী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জলবায়ু-সহনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন, খাল পুনঃখনন, রিজেনারেটিভ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বিত চর্চা এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে, এসব উদ্যোগের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি উৎপাদন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি অভিবাসন উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে এ প্রকল্পের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০ জন কৃষক এবং ১০০০ একর জমিকে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্ল্যেখ করেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু কার্যক্রম এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

  • সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম। অথচ যশোরের মাঠে এখন সারের জন্য হাহাকার। সরকারি হিসাব বলছে, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডিলার ও সাব-ডিলারদের দোকানে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার। বাধ্য হয়ে অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন কৃষকরা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


    যশোরের চৌগাছা, শার্শা ও সদর উপজেলাসহ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে আমন চাষ পুরোদমে চললেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। সবচেয়ে বেশি সংকট ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামের কৃষক আলী কদর বলেন, ‘সাব-ডিলারের কাছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে পারছে না। অথচ অনুমোদনহীন দোকানে গেলে দুই গুণ বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।’
    একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তাঁর এলাকায় ৫৪৫ জন কৃষক রয়েছেন। অথচ তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০ বস্তা ডিএপি, ১০ বস্তা এমওপি, ৫৫ বস্তা টিএসপি ও ১০০ বস্তা ইউরিয়া।


    তিনি বলেন, ‘এখন আমন রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষকের প্রয়োজনের তুলনায় যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা খুবই অপ্রতুল। কৃষকদের কোনো সমাধান দিতে পারছি না।’
    ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কিংকর হালদারও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষক টাকা নিয়েও সার পাচ্ছেন না। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’
    শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের প্রথম চাষে সার না দিলে ভালো ফলন হয় না। কিন্তু এখন ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি—সব সারেরই সংকট। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।’
    সদর উপজেলার চুরামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।
    বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় প্রায় দ্বিগুন ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।


    গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
    অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশ সারও পাচ্ছেন না।
    সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।


    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


    তবে কৃষক ও সাব-ডিলারদের দাবি, মনিটরিং কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছাচ্ছে না।
    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের প্রথম চাষ ও চারা রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। এক বিঘা জমি প্রস্তুতের সময়ই প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

  • ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। হিলির পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা এবং হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি মোকামে আমদানি করা কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়ায় দেশের মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

    হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা দিনমজুর আশিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে দেশি কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ২৫০ টাকা কেজি দরে। সেই কাঁচামরিচ এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসার কারণে দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দাম কমায় আমাদের মতো দিনমজুরদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। তবে ১০০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের মোকামে দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। ফলে আগের তুলনায় ক্রেতাও বেড়েছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

    হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আমদানি অব্যাহত রেখেছি। সরকার আমদানির সময়সীমা বাড়ালে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    হিলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তিন দিনে ভারতীয় ২৪টি ট্রাকে ১৭০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।