সারাদেশ

  • শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

    জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

    আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তারা।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়-এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

    ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না

    অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

    গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    শহর ও গ্রামে বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব। টব, ড্রাম, বেড, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্রে পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষি গড়ে তুললে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজার খরচ কমানো যায়। পরিবেশ ঠান্ডা রাখা, অক্সিজেন বাড়ানো ও মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও ছাদ কৃষির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘রানার কৃষি’র নিয়মিত আয়োজনে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

    ছাদ কৃষি হলো বাড়ির ছাদে টব, ড্রাম, বেড বা ট্রেতে শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার বাড়ির ছাদেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের কৃষি করা যায়।
    ছাদ কৃষির মাধ্যমে বিষমুক্ত ও তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। পাশাপাশি পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে, অক্সিজেন বাড়াতে এবং শহরের সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে এটি ভূমিকা রাখে। পরিবারের বাজার খরচ কমানোর পাশাপাশি ছাদে গাছের পরিচর্যা মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে। পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও আর্থিক—তিন দিক থেকেই ছাদ কৃষি উপকারী।


    ছাদ প্রস্তুতি ও পাত্র নির্বাচন
    ছাদে বাগান করার আগে সেখানে পানি জমে থাকে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছাদে ওয়াটারপ্রুফিং করা থাকলে ভালো। তবে ছাদের ওপর অতিরিক্ত ভার দেওয়া যাবে না। পাত্র ও মাটির ওজনসহ ছাদের ভার বহনক্ষমতা বিবেচনা করে ছাদ কৃষির পরিকল্পনা করতে হবে।
    গাছ লাগানোর জন্য মাটির টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, বালতি ও ফোম বক্স ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি পাত্রের নিচে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। বড় আকারের গাছের জন্য ২০ থেকে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার পাত্র প্রয়োজন হতে পারে।
    মাটি তৈরি
    ছাদ কৃষিতে ভালো ফলনের জন্য উপযোগী মাটির মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। আদর্শ মাটির মিশ্রণে ৫০ শতাংশ দোআঁশ মাটি, ৩০ শতাংশ পচা গোবর বা কম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ বালি বা কোকোপিট ব্যবহার করা যেতে পারে।
    মাটি ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশন উপযোগী রাখতে হবে। পাত্রের আকার অনুযায়ী মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং গাছের ধরন অনুযায়ী পাত্র নির্বাচন করতে হবে।
    যেসব ফসল চাষ করা যায়
    ছাদে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, মসলা, ভেষজ ও ফলমূল চাষ করা যায়। শাকের মধ্যে লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা ও লেটুস; সবজির মধ্যে টমেটো, বেগুন, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ব্রকলি চাষ করা যেতে পারে।
    মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচ, এলাচ ও আদা এবং ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে তুলসী, মালটা, কাগুজি লেবু, মেহেদী ও নিম লাগানো যায়। ফলমূলের মধ্যে আম, পেয়ারা, ডালিম ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের গাছ ছাদে উপযোগী পাত্রে চাষ করা সম্ভব।
    সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা
    ছাদ কৃষিতে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতিদিন অথবা এক দিন পরপর পানি দেওয়া যেতে পারে। তবে আবহাওয়া, গাছের ধরন ও মাটির আর্দ্রতা বিবেচনা করে সেচ দিতে হবে। সকাল অথবা বিকেলে পানি দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। পাত্রে পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    প্রতি ১৫ দিন পরপর জৈব সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিটি টবে গাছের ধরন ও পাত্রের আকার অনুযায়ী ১ থেকে ২ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। তরল সার বা জীবাণু সার ব্যবহার করলেও ভালো ফলন পাওয়া যায়।
    পোকা ও রোগ দমন
    ছাদ কৃষিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে প্রথমে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করা ভালো। নিম তেল ৩ থেকে ৫ মিলিলিটার প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যায়। পোকা দমনে রসুন ও মরিচের নির্যাসও ব্যবহার করা যেতে পারে।


    মাইটস, লাল মাকড়সহ ক্ষতিকর পোকা দমনে অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে এবং পণ্যের লেবেলে দেওয়া মাত্রা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।


    ছাদ কৃষিতে বাড়ির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাত্র এমনভাবে স্থাপন করতে হবে, যাতে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে।
    ছাদ কৃষি শুধু অব্যবহৃত জায়গাকে উৎপাদনশীল করে না; এটি পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের উৎস তৈরির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। তাই পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষির সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

  • সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার আবুল হাসান সবুজ। মাত্র তিনটি গরু ও ১০টি ছাগল নিয়ে শুরু করা উদ্যোগ এখন ২৯টি গাভী, দুধ উৎপাদন, ঘি, মাছ, ফল, সবজি, হাঁস-মুরগি, জৈব সার ও বায়োগ্যাসের সমন্বিত খামারে রূপ নিয়েছে। এতে নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাউলি গ্রামের সন্তান আবুল হাসান সবুজ। কর্মজীবনের শুরুতে দেশের ওষুধ ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রতিষ্ঠান রেনেটা বাংলাদেশে পাঁচ বছর চাকরি করেন। সেখানে ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কৃষিবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরে নিজেই ডেইরি খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
    বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের খামার পরিচালনা করছেন তিনি।
    ছোট পরিসর থেকে বড় খামার
    শুরুতে তিনটি গরু ও বিভিন্ন জাতের ১০টি ছাগল নিয়ে খামার শুরু করেন সবুজ। ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পরিধি। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি গাভী থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি দুধ উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।
    খামারের উৎপাদিত দুধ স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি যশোর শহরের বিসমিল্লাহ ডেইরি, আদি ঘোষ ডেইরি, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরিসহ বিভিন্ন অর্গানিক সুপার শপে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবারে সরাসরি দুধ বিক্রি করেন সবুজ। খামারের দুধ দিয়ে গাওয়া ঘিও তৈরি করা হয়।
    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গো-খাদ্য ব্যবস্থাপনা
    খামারে গাভীর খাদ্য ও পরিচর্যায় নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা হয়। সকালে তাজা নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে সুষম খাদ্য, বিকেলে দানাদার খাদ্য এবং রাতে শুকনা খড় দেওয়া হয়।
    গাভীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গোসল করানো হয়। সবুজ জানান, প্রতিদিন খামারের গবাদিপশুর খাদ্যের পেছনে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে দানাদার খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও সবুজ ঘাসের খরচ রয়েছে।
    খাদ্য ব্যয় কমাতে এবং সারা বছর সবুজ ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজের তিন বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন তিনি।
    গরুর পাশাপাশি মাছ, ফল ও সবজি
    সবুজের উদ্যোগ শুধু ডেইরি খামারে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতে কলা, ড্রাগন ফল, আম এবং বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি চাষ করছেন তিনি। পালন করছেন দেশি মুরগি, হাঁস ও কবুতর। বাড়ির পাশের পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছও চাষ করা হচ্ছে।
    খামারের গোবর ও অন্যান্য বর্জ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয়। বায়োগ্যাস পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদিত জৈব সার ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে ফল, সবজি ও ঘাসের জমিতে।
    খামারে কর্মসংস্থান
    সবুজের এই উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও দুইজন স্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের একজন মিলন হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। নিয়মিত বেতন পাওয়ায় পরিবার নিয়ে ভালো আছি। এখানকার কাজের পরিবেশও ভালো। মালিক আমাদের নিজের পরিবারের মতো দেখেন।’
    সবুজের বাবা ওয়াজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ছেলের কঠোর পরিশ্রমে আজ আমরা গর্বিত। ও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা দিয়ে এই খামার তৈরি করেছে। আজ ওর কারণে পরিবার সচ্ছল হয়েছে, এলাকার মানুষও দুধ পাচ্ছে।’
    সবুজের ছোট ভাই ও পশুচিকিৎসক শাহিনুজ্জামান টনি বলেন, ‘কৃষিবিজ্ঞান ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান খামারে প্রয়োগ করায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। আমি নিয়মিত গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই।’
    নিয়মিত দুধ ক্রেতা বাড়ীয়ারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সবুজ ভাইয়ের খামারের দুধ ভালো। আমরা নিয়মিত এখান থেকে দুধ ও ঘি কিনি।’
    আরও বড় করার পরিকল্পনা
    নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে আবুল হাসান সবুজ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকলে যেকোনো খাত থেকে সফল হওয়া সম্ভব। আমি খামারটি আরও বড় করতে চাই। এতে আরও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারব।’
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুগ্ধ উৎপাদনে আবুল হাসান সবুজের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণরা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে এভাবে এগিয়ে এলে দেশের ডেইরি ও কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।’

  • আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    শীত আসার আগেই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মাঠজুড়ে শিম ফুল ও কচি শিমে ভরে উঠেছে গাছ। আগাম জাতের শিম চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।


    কোটচাঁদপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় সাবদারপুর ইউনিয়নে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ বিঘার সমান।
    সাবদারপুর ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আগাম শিমের আবাদ। ফলে অন্যদের আগে শিম বাজারে তুলতে পারি। এ সময় বাজারে শিমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আমরা এ আবাদ করি।’


    তিনি জানান, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এতে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। গত বছর দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
    লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের শিমচাষি ছামারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে বাজারেও বিক্রি করছি।’


    তারা জানান, শিম তোলার প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। পরে কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম ধরে রাখতে পারলে প্রায় এক মাসে ১৫ কাঠা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন ইপসা-১ জাতের শিম চাষ হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নে এ আবাদ সবচেয়ে বেশি।’


    তিনি বলেন, ‘কোটচাঁদপুরের কৃষকরা সাধারণত এপ্রিল বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ শিমের আবাদ করেন। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়। আগাম গ্রীষ্মকালীন শিম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।’


    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাবদারপুর ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে অসময়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে কৃষকরা আয় করছেন। এ কারণে আগামীতে শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

  • জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ১৪ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।

    সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা, অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা, দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

    একই সঙ্গে অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, নাগরিক সনদ, তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখা, আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা, ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম তদারকি, আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৮ নম্বর জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোমনায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    যোগদানকারীরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুনুর রশিদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমীর হোসেন গাজী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাবেদ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান মিয়া এবং সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিপা বেগম ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা আক্তার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লা এবং তিতাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

    যোগদানের পর বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মো. বিল্লাল মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দূর থেকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া সত্যিই ভালো মনের মানুষ। তাই আজ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য (মেম্বার) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করলাম।

  • চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে এক সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি-সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।

    এ ছাড়া সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

    মামলার বিবরণী অনুসারে, রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

    গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

    গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পর দিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

    গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

    এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

    জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

    এরপর রামিসা হত্যায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। তারপর দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।

  • হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা মডেল মসজিদ পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপা থানার ওসির নেতৃত্বে রাতে নায়েব আলীর আরাপপুরের বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    তবে অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপিকে আটক করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।