সারাদেশ

  • চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৭৪০টি পদের মধ্যে ৮৩টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। শিক্ষকরা জানান, ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার ৯৯৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৩৫ জন উপবৃত্তির আওতাভুক্ত। গত ছয় মাসে উপবৃত্তি পেয়েছে ১৭ হাজার ২৩৫ জন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। পাঁচটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। এই জনবল দিয়ে ১৩৯টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন বলে জানান তিনি।

  • ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেতে আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে। অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

    কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে মাহবুর মিয়ার কীটনাশকের দোকানে গিয়ে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চান। তখন দোকানদার তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেন। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

    কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিন থেকেই ধানের চারা মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

    কামরুজ্জামান বলেন, “আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।”তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহবুর মিয়া বলেন, “আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।”

    সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।”

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধটি ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে “

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “অভিযোগ এখনো তার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ইট-পাথরের শহরে সবুজের ছোঁয়া এনে অনন্য এক ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হাসান। শখের বশে গড়ে তোলা তার এই বাগানে এখন শতাধিক দেশি-বিদেশি ফলদ গাছ শোভা পাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু করা বাগানটিতে রয়েছে জামরুল, আপেল, সফেদাসহ নানা জাতের ফলদ গাছ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ব্যতিক্রমী এই ছাদ বাগানটি পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

    সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বাগানের বিভিন্ন গাছ ঘুরে দেখেন এবং গাছের পরিচর্যা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেন।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ছাদ বাগানের টবের মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখতে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন তাঁরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ছাদ বাগান মানুষের জন্য একদিকে যেমন প্রশান্তির জায়গা তৈরি করছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। শহরের প্রতিটি অব্যবহৃত ছাদ এভাবে সবুজে রূপান্তর করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    খালিদ হাসানের এই ছাদ বাগানটি এখন স্থানীয়দের কাছেও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। ইট-পাথরের শহরের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সবুজ বাগান প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য তৈরি করেছে এক টুকরো প্রশান্তির আবহ।

  • পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে পেয়ারা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের চম্পকলতা গ্রামে পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে পেয়ারা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক ইমামুল ইসলাম। তার এ সাফল্যে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    পেয়ারা আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারা ভিটামিন-সি, আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের পেয়ারাগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের গাছগুলো আকারে ছোট ও ঘন হওয়ায় উচ্চ ঘনত্বের চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী। বছরে দুইবার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের কাছে এসব জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    চাষি ইমামুল ইসলাম জানান, সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। দুই বিঘা জমিতে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের ৬৭টি চারা রোপণ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার বাগানে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকারও বেশি পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৮-২০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করছেন।

    গাছের অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন ইমামুল।

    ইমামুল ইসলামের বাগানের সুস্বাদু পেয়ারা কিনতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। এ ছাড়া বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। ইমামুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চম্পকলতা গ্রামের আরও অনেকে পতিত জমিতে পেয়ারা বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান দৈনিক বলেন, ‘ইমামুল ইসলামের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে পতিত জমিকেও আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত করা সম্ভব। পেয়ারা চাষের জন্য বেলে ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যা আমাদের উপজেলায় প্রচুর রয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি।’

    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করে জুড়ীর কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।

  • কোটি টাকার সেচপাম্প আট বছর বিকল

    কোটি টাকার সেচপাম্প আট বছর বিকল

    নড়াইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার সেচ প্রকল্প কৃষকের কোন কাজে আসছে না। এটি এখন শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে দুটি শক্তিশালী সেচপাম্প বিকল থাকায় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এক হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি।
    এছাড়া, প্রকল্পের খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় চিত্রা নদীর পানি আর জমিতে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে ডিজেল কিনে শ্যালোমেশিন চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে কৃষকের।
    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৫ সালে নড়াইল সদর উপজেলার কমলাপুর ও গন্ধব্যখালী গ্রামে দুটি সেচ পাম্প বসানো হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় কমলাপুর এলাকায় সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খনন করা হয়।
    এছাড়া গন্ধব্যখালী এলাকায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খনন করা হয়। খাল দুটি দিয়ে পানিপ্রবাহ সরাসরি কৃষকদের জমিতে পৌঁছায়। পাঁচ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এক হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে কম খরচে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। কিন্তু ২০১৮ সালে সেচ পাম্প দুটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালে সেচপাম্প মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।
    কমলাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেচ প্রকল্পটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফটক নষ্ট, অফিস কক্ষে তালা এবং পুরো এলাকা মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত গেট অপারেটর ইয়ামিন তরফদার জানান, পাম্প বন্ধ থাকায় কর্মকর্তারা আসেন না, একা থাকার সুযোগে মাদকসেবীরা সেখানে ভিড় করে। আমাদের বাধা দেবার সাহস নেই।
    স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনে এক কানি (৪০ শতাংশ) জমিতে সেচ দিতে ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে এই সেচ প্রকল্পটি যখন চালু ছিল, তখন কম খরচে ধান, পাট, গমের জমিতে পানি দেওয়া যেত। এখন শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি দিতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে তাদের।
    কৃষক সৌমেন কুমার জানান, সেচপাম্প দুটি ছিল কম খরচে তাদের জন্য সহজ পানির উৎস। চিত্রা নদী থেকে সরাসরি জমিতে পানি সরবরাহ করা হতো এ সেচপাম্পের মাধ্যমে। ফলে তারা কম খরচে তিনটি ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু টানা আট বছর ধরে সেচ পাম্প দুটি বন্ধ রয়েছে। ফলে জমিতে সেচের জন্য এখন ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।
    কমলাপুর গ্রামের মিলন ঘোষ বলেন, একসময় সেচপাম্প থেকে জমিতে বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পেতাম। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সমিতি চালু করে। এরপর বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু করে। তখন বিদ্যুৎ বিল বাবদ তিন শতক জমিতে ৯ টাকা দিতাম। পরে জানতে পারলাম বিদ্যুৎ বিল হাজার হাজার টাকা বাকি পড়ে গেছে। তারপর থেকে সেচ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখন শুনছি পাম্প নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
    এক একর জমিতে এ বছর ধানের আবাদ করেছেন সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের নাকশি গ্রামের মাসুম খন্দকার। ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন চালিয়ে নিজ জমিতে সেচ দিচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, সেচপাম্প চালু থাকায় তিন গ্রামের কৃষক কম খরচে ধান, পাট, গম ও অন্যান্য ফসলের জন্য জমিতে সেচ দিতে পারতেন। পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিন গ্রামের কৃষকের উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
    এ বিষয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটির অধীনে দুইটি সেচ পাম্প ছিল। সেচ পাম্প দুটি বিকল হয়ে যাওয়ায় তা মেরামতের জন্য ২০১৮ সালে ঢাকায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
    তিনি বলেন, প্রকল্পটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুনরায় চালু করতে পারলে ওই এলাকার কৃষি জমিতে কৃষকরা কম খরচে সেচ সুবিধা পাবে। অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সেচপাম্প দুটি নতুন করে সংস্কারের জন্য পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

  • সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুমতি ছাড়া সড়কের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় পর গাছের মূল্য বাবদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা দিয়েছেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন।

    খোঁজ নিয় জানা গেছে, গত পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময় শাহরাস্তি পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের পাশ থেকে কয়েকটি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ার পর গাছের মূল্য পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম ৮ হাজার ৩০০ টাকা শাহরাস্তি পৌরসভার তহবিলে জমা দেন।

    শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পৌরসভার তহবিলে ৮ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়েছেন।

    এর আগে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম দাবি করেছিলেন, তিনি পৌরসভা থেকে সড়কটি লিজ নিয়ে সেখানে গাছের চারা রোপণ করেছিলেন এবং গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষই পরবর্তীতে গাছগুলো কেটে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

  • এতিম মেয়েদের শিক্ষার আশ্রয়স্থল হাবিবে জান্নাত

    এতিম মেয়েদের শিক্ষার আশ্রয়স্থল হাবিবে জান্নাত

    শেরপুরের নকলা উপজেলায় এতিম ও অসহায় মেয়েদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানা।

    সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আবাসন, খাবার ও সামগ্রিক পরিবেশের খোঁজ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আলহাজ মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিরাপদ ও নিরিবিলি পরিবেশে এতিম ও অসহায় মেয়েদের নূরানি, নাজেরা, হিফজ ও কিতাব শাখায় মিশকাত জামাত পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানায় ৪৫ জন এতিম এবং ৫৩ জন দুস্থসহ প্রায় ৩০০ ছাত্রী পড়াশোনা করছে। তাদের শিক্ষা ও আবাসনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তবে সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তাঁরা বলেন, এতিম ও অসহায় মেয়েদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

  • ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে।


    যশোরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে ফার্মের ডিমের দাম একলাফে আড়াই টাকা বেড়েছে। ফলে, সস্তার আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত এই পণ্যটিতে দামের কশাঘাত নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ে বাড়তি চাপ ফেলছে।
    সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা উৎপাদন ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরে দাম বৃদ্ধিকে সংগতিপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিলেও, অপর একটি সরকারি দপ্তর প্রধান ও প্রান্তিক খামারিরা এ মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।
    তাঁদের অভিযোগ, ফার্মের ডিম উৎপাদনকারী করপোরেট গোষ্ঠী কারসাজি করে দাম বাড়ায়। এ ছাড়া ‘মিডিয়া’ অর্থাৎ খামার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তদের ‘সিন্ডিকেট তৎপরতায়’ ডিমের দাম ওঠানামা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।


    ডিম বিপণন ব্যবস্থার ভাষায় মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটকে ‘মিডিয়া’ বলে। ডিম বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ‘মিডিয়া’ ছাড়া বাজারে সরাসরি ডিম বিক্রি করতে পারেন না খামারির। ফলে পুঁজি-শ্রম বিনিয়োগ ও কষ্ট করে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিরা কখনই নিজেরা দাম নির্ধারণ করতে পারেন না।
    এদিকে ক্রেতারা বলছেন, দামের উত্তাপে অনেকদিন ধরেই গরু-খাসির মাংসের পদ পাতে উঠছে না। একসময়ের সাশ্রয়ী পাঙাশ-তেলাপিয়ার দাম বাড়ায় প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস মাছও চলে গেছে নাগালের বাইরে। এবার কম দামে সহজলভ্য আমিষের উৎস ডিমেও লেগেছে দামের কশাঘাত।


    খামারিরা বলছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধপত্রের দাম কিছুটা বাড়ায় অন্যান্য খাতের মতো পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছুটা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তারপরও এত চাপের মধ্যে খামার সচল রাখতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে স্বল্প মুনাফা যোগ করে ডিম বিক্রি করছেন।
    কিন্তু বাজারে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ‘মিডিয়া’ এক্ষেত্রে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে। এতে খামারিরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আবার খুচরা ভোক্তার ওপরও চাপ পড়ছে।


    খাতটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোর মতো আবারও বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাবের বাইরে খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের খামারি বিসমিল্লাহ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী সাব্বির হোসেন জানান, লেয়ার ফিড বা পোল্ট্রি ফিডের দাম কেজিতে ২ টাকা ও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রতিদিন জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি হচ্ছে।
    সাব্বির হোসেন দাবি করেন, বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া মিডিয়া (মধ্যস্বত্বভোগী) ডিমপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভ করে। এতে খুচরা পর্যায়ে কয়েক হাত বদল হয়ে ডিমের দাম বেড়ে যায়। এই খামারির ভাষ্য, মিডিয়া ছাড়া বিক্রি করা যায় না। কয়েক হাজার ডিম যানবাহনে বয়ে নিয়ে বাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বলে এমনটি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে আরও যোগ করেন তিনি।
    এই খামারি আরও জানান, তাঁর খামার থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে ডিম কিনে যাচ্ছেন ফড়িয়ারা। আর সেই ডিম বাজারে ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হলে সেটি অযৌক্তিক দাম বলে মনে করেন তিনি।
    সরেজমিনে যশোর শহরের নিত্যপণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ বাজারগুলোয় প্রতি পিস ফার্মের ডিম ১৪ টাকাও নেওয়া হচ্ছে বলে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে। এদিকে, শহরের জেল রোডের আড়তগুলোতে ডিমের পাইকারি দাম আকারভেদে ১২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত।
    ডিমের আড়ত ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছেন।


    বিসমিল্লাহ ডিম হাউজের মালিক আকরাম হোসেন পাপ্পু ও মায়ের দোয়া ডিম স্টোরের কর্ণধার শেখ কুদ্দুস আলী জানান, সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে। এই দামের সঙ্গে লভ্যাংশ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করবেন।
    জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ডিমের বার্ষিক চাহিদা ৫১ কোটির ওপর। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫৩ কোটি ডিম। এ জেলায় বর্তমানে ১৩০টি লেয়ার মুরগির খামার চালু রয়েছে।
    তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও তার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎপাদন ও খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির খাবারের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয় ৯ টাকা ৮০ পয়সা। খামারের শতভাগ মুরগি ডিম দেয় না। গড়ে ৮০ শতাংশ ডিম দেয়। এছাড়া বাচ্চা কেনা, ওষুধ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও শ্রমিকের খরচ মিলে আরও ১ টাকা ৮৪ পয়সা যোগ হয়। ফলে প্রতিটি ডিমের মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।


    দামের চাপ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন :
    স্বল্পদামের অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের মতো ডিমের দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা। শহরের বড় বাজারে ডিম ক্রেতা উপশহরের সাজ্জাদ হোসেন জানান, সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। সস্তার পাঙাশ-তেলাপিয়াও নাগালের বাইরে। এবার বাড়ছে ডিমের দর। এতে প্রতিদিনের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জীবনধারণ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এদিকে, শহরের রেলবাজার এলাকায় আলাপচারিতায় আরেক ক্রেতা গৃহকর্মী জরিনা বেগম বলেন, বাচ্চাদের মাংস-মাছ খাওয়াতে পারি না। ঝোল ভাত খেতে চাইলে আগে ডিম সিদ্ধ করে আলু-ডিমের ঝোল করে দিতাম। সেটা না হলেও একটা ডিম ভাজা দিলে ভাত খেত। দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই ডিমও কেনা কঠিন হয়ে গেল।
    তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, ডিমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবগত করেছেন; যাতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়।


    তিনি আরও জানান, ডিম উৎপাদনকারী যশোরের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবপত্র যাচাই করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটা করা গেলে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় ও তাদের নির্ধারিত দামের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যাবে। ১০ টাকার ডিম হঠাৎ সাড়ে বারো টাকা কেন হলো, সেটি উদঘাটিত হবে। ডিম উৎপাদনে নিয়োজিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ডিমের বাজার বেসামাল হচ্ছে বলে আরও যোগ করেন তিনি।

  • ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    নরসিংদীর রায়পুরায় অসহায় এক শিশুর আবদারে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার এবং শিশুটিসহ তার সঙ্গীর জন্য নতুন জামাকাপড় দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

    সোমবার দুপুরে তুলি পাল নামে শিশুটি খালি গায়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার চায়। সরল মনে ইউএনওকে সে বলে- ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’

    পরে কথা বলে জানা যায়, তুলির মা নেই। তার দিদি হাঁটতে পারেন না। অসহায় পরিবারের এ অবস্থার কথা শুনে তুলির দিদির জন্য একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও।

    তুলির সঙ্গে থাকা কৃষ্ণ নামের আরেক শিশুর অবস্থাও নজরে আসে ইউএনওর। পরে তুলি ও কৃষ্ণ দুজনের জন্যই নতুন জামাকাপড় কিনে দেন তিনি।

    নতুন জামা গায়ে দিয়ে এবং দিদির জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তুলির মুখে ফুটে ওঠে মায়াভরা হাসি। পরে ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফরা রিকশায় করে তুলি, কৃষ্ণ ও হুইলচেয়ারটি রায়পুরা পৌরসভার হরিপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

    তুলির সেই নির্মল হাসি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও মো. মাসুদ রানার এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

  • ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ উক্ত সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানিসংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

    সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।