সারাদেশ

  • ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রার নদ-নদীতে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নদী ও চরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদ, শাকবাড়িয়া নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পাচার হচ্ছে এসব শামুক। ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য, প্রজনন ব্যবস্থা ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

    সরেজমিনে কয়রা সদরের কপোতাক্ষ নদের গোবরা ও মদিনাবাদ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বোটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে তোলা হচ্ছে শামুক। আহরণকারীরা জানান, মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার ব্যবধানে এক একটি বোট থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার শামুক তোলা সম্ভব। সংগ্রহ করা এই শামুক সন্ধ্যায় গোবরা-মদিনাবাদ সড়ক দিয়ে গোপন আড়তের মাধ্যমে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়।
    স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুধু কয়রা নয়, পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার পশুরতলা, কৈখালী, জয়াখালী ও শাকবাড়িয়া নদীর মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ শামুক শিকার। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলেও চক্রটির দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।
    এতে শামুক নদীর পানি পরিষ্কার ও চুন-ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে। অনিয়ন্ত্রিত আহরণে নদীর স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশের মাটির উর্বরতা ও জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। সংকট নিরসনে কেবল মাইকিং বা সাময়িক অভিযানে কাজ হচ্ছে না; পরিবহন ও বাজারজাতকরণের পুরো পথ বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর।
    বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নদী থেকে শামুক আহরণ আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি বন বিভাগের অভিযানে বেশ কিছু শামুক উদ্ধার ও জব্দ করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং শামুকবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে।
    বন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও নির্মল কুমার পাল জানান, জলজ পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শিগগিরই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান জোরদার করা হবে।

  • আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চিনি কারখানার ক্ষতি হ্রাস, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উথলী ইউনিটে স্থানীয় আখ চাষী শামীমের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনকালে এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অন্যতম প্রধান অঙ্গ চিনি কারখানার লোকসান বিগত সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মূল কাঁচামাল আখের সরবরাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাষীদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করেছে। আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকরা এই বর্ধিত মূল্য পাবেন। এছাড়া ফলন বাড়াতে ৮২টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে নতুন জাতের আখের পরীক্ষামূলক উদ্ভাবন কার্যক্রম চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক চিত্র তুলে ধরে এমডি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। চিনি কারখানা ব্যতিত অন্য সবকটি ইউনিটই লাভে রয়েছে—যার মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ অর্জিত হয়েছে।

    বিশেষ করে জৈব সার ‘সোনার দানা’ বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সার বিক্রি থেকে এবার ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের কৃষকরা এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

    কৃষকদের দেশের ‘প্রাণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্যের সমন্বয়ে কৃষক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়েই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
    অনুষ্ঠানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ ও স্থানীয় আখ চাষী শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

    শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

    এক রাতের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য থেমে যায় ঘেরের এয়ারেটর। আর তাতেই কমতে থাকে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা। ভোরে ঘেরে গিয়ে খামারিরা দেখেন, পানির ওপর ভেসে উঠেছে হাজার হাজার মরা মাছ। শার্শার রায়পুর-বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখো বিলে এই ঘটনায় খামার মালিকদের দাবি, তাঁদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার পর থেকে ঘের এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় যান্ত্রিক এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রাও দ্রুত কমতে থাকে। রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার আগেই মাছ মরতে শুরু করে।


    সোনামুখো বিলের ‘এ এফ মৎস্য খামার’ যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাঁদের দাবি, খামারে উৎপাদিত পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সেই মাছের বড় অংশ মারা যাওয়ায় এক রাতেই তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


    আলফাজুল হক জানান, বাজারে বিক্রির উপযোগী মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। মাছ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিপর্যয়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।


    তিনি বলেন, ‘বাজারে বিক্রির উপযোগী এসব মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। এখন এক রাতের ঘটনায় এত বড় ক্ষতি হয়েছে। এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে আমরা দিশেহারা।’
    আরেক খামারি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই খামারের আয়ের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেনের সংকট তৈরি হয়। এক রাতেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’


    খামার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ খামারে উৎপাদিত মানসম্মত পাবদা মাছের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ভারতে রপ্তানি করা হতো। ফলে খামারের উৎপাদনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিষয়টিও জড়িত ছিল।


    কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


    ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মাছ মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।
    খামারিদের দাবি, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা এবং সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

  • খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা একই এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই ইয়াবা সেবনের আলামতও পেয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সি আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যার কারণও উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত বলেই তাকে বাঁচিয়ে রাখলে পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা করেছিল খুনিরা।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটির ওপর হামলা চালায়। গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।

    হত্যাকাণ্ডের পরও ওই বাড়িতে অবস্থান করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তারা বাড়ির বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। পরে সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে সরে যায়। এর আগে তারা বাড়িতেই চেয়ারে বসে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এর আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।

    মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। পুলিশ জানিয়েছে, খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে তারা প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।

    ডিআইজি জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাঁচার চেষ্টা ও চিৎকারের শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে আসামিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।

    এরপর নিচতলায় গিয়ে শিশু প্রিয়মকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়েও তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। শিশুটির বয়স নিজের সন্তানের সমান হওয়ায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

    পুলিশ জানায়, হত্যার পর স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের দেখানো জায়গা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল জানান, চারজনের হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অন্যরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

    রংপুর সিআইডি কার্যালয়ের ইনচার্জ সুমিত চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। আসবাবপত্রের ড্রয়ার ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙা পাওয়া যায়। প্রথমদিকে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ি তছনছ করার ধরন দেখে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

  • রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    প্রথমে এক বাড়িতে ইয়াবা সেবন, পরে ছাদ টপকে আসেন আরেক বাড়ির ছাদে। বাড়ির মালিকের চোখে পড়ে যাওয়ায় একে একে খুন করেন তাকেসহ পরিবারের চারজনকে। রাতভর হত্যা শেষে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ছিলেন ওই বাড়িতেই। এরপর ফের ছাদ টপকে পালিয়ে যান দুজন।

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার এই বর্ণনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আজ রবিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসে ইয়াবা সেবন করতেন, বলছে পুলিশ।

    রবিবার দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মাছুয়াপাড়া এলাকায় দোতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। একই এলাকার হওয়ায় আসামিরা ছিলেন পরিচিত। গণপতিকে ‘স্যার’ ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ ডাকতেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের ছোট ছেলে প্রিয়মের সঙ্গে এলাকায় খেলাধুলা করত সিদ্ধার্থের ছোট ভাই।

    গণপতির বাড়িটি নির্মাণাধীন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে তাকেসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর মরদেহ উদ্ধার হলো গতকাল শনিবার মধ্যরাতে।

    আরএমপির বর্ণনা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে আসেন তারা। সেখানে আরেক দফা ইয়াবা সেবন করে দিচ্ছিলেন আড্ডা।

    ছাদে শব্দ শুনে দেখতে যান গণপতি। চিনে ফেলেন দুজনকে, বাধা দেন মাদক সেবনে। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

    হট্টগোল শুনে ছাদে উঠতে গেলে সিঁড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাকে। এরপর ঘরে ঢুকে রশি পেঁচিয়ে মারা হয় তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে। সবশেষে ঘুমন্ত ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

    একে একে সবাইকে হত্যার পর সকালের দিকে গোসল করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর খেজুর ও শসা খান তারা। আরেক দফা সেবন করেন ইয়াবা। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাস্তায় লোকজন কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দুজন।

    এর মধ্যে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশে আসবাবপত্র তছনছ করেন। সঙ্গে নেন কিছু স্বর্ণালংকার। দুপুরের দিকে ছাদে উঠে ফের টপকে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে নেমে চলে যান দুজন। স্বর্ণালংকারগুলো এলাকার মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন।

    আরএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তছনছ হওয়া আসবাবপত্র দেখে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা হয়েছিল। পরে ইয়াবাসহ বেশকিছু আলামত জব্দের পর তদন্ত করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে মন্দিরের পেছন থেকে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। দুজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় আরএমপি।

  • ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ‘কবরের পাশে কোরআন তেলাওয়াত করলে কবরে আজাব কম হবে’— বলেছিলেন এক পীর। পীরের এমন নির্দেশনা থেকে ৯৮ বছর ধরে ধরে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত চলছে কবরের পাশে। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৭০০ বছরের পুরোনো নওয়াব শাহি জামে মসজিদের সামনে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কবরের।

    মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে নওয়াব পরিবারের সবার কবর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ব্যতীত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও থেমে থাকেনি কোরআন তেলাওয়াত। চারজন হাফেজ পালাক্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন এ কার্যক্রম।

    পীরের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। ১৯২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী।

    মসজিদের একপাশে মিনারের মধ্যে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পরও কবরের পাশেই চলমান রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয় না কোরআন তেলাওয়াত।

    মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। ওয়াক্ফকৃত সম্পদের আয় দিয়ে মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদরাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় মসজিদ ও কোরআন তেলাওয়াত দেখতে।

    হাফেজ ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ওস্তাদের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। গত ৯৮ বছরে এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি কোরআন তেলাওয়াত।’

  • সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যস্ত সময়ে রাজশাহীর কৃষকদের নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার। এক ডিলারের দোকানে সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকেরা। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার তুলনায় সামান্য সার মিলছে, আবার কোথাও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এ সুযোগ নিয়ে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দরে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

    গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্লাম জানান, সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের এলাকার ডিলারের কাছে ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়ায় এলেও মাত্র ২০ কেজি সার দেওয়ার কথা শুনে তিনি সার না নিয়েই বাড়ি ফেরেন।

    পবার ভিমের ডাইং গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ ডিএপি না পাওয়ার কথা জানান। গোদাগাড়ীর কদমশহরের কৃষক রাশিদুল ইসলামও নিজের এলাকার ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অন্য এলাকায় ছুটেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ইউরিয়া দিলে ধানের ফলন ঠিক রাখা কঠিন।’ একই এলাকার আকবর আলী দুই বস্তা ইউরিয়া পেলেও ডিএপি পাননি।

    চারঘাটেও একই চিত্র। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে টিএসপির জন্য কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। কেউ

    এক বস্তার বদলে ২৫ কেজি, আবার কেউ দুই বস্তার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫ কেজি সার পেয়েছেন।

    ডিলারের কর্মচারীর দাবি, ১০ মেট্রিক টন টিএসপি পাওয়ার পর অবশিষ্ট ছিল মাত্র ২৯ বস্তা। তাই সবাইকে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে।

    সারের সংকটের পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে এক কৃষক ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনেছেন, যেখানে সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা। একই দোকানে ইউরিয়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডিএপি ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাজশাহীতে ইউরিয়ার বরাদ্দ ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ টনের বিপরীতে এসেছে ২ হাজার ১৮২ টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন এবং এমওপির ১ হাজার ৭৬০ টনের বিপরীতে এসেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।চলতি আমন মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর বাইরে জেলার প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুরে মাছ চাষেও সার ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজমির বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম। বেশি দামে সার বিক্রি বা অবৈধ মজুদের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের দাবি, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কোথাও বেশি দামে বিক্রি বা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মাঠে সার না পাওয়ার তথ্য পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    গত কয়েক দিনে পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অভিযান চালিয়ে সার বাইরে বিক্রি ও অবৈধ মজুদের অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

  • তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটায় সমুদ্রতীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বেড়েছে ছাদ কৃষি ও সেই সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী। আর সেখানে অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো: সেলিম গাজী।অসময়ে থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রঙয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সেলিম। সেই তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তার সাফল্য দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্যরাও।কথা হয় কৃষক সেলিম গাজীর সাথে। তার তরমুজ চাষ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর দিয়ে সার তৈরি করে তা দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজে বীজ চারা করি। এরকম ৫০টি থানা চারা ছাদে রোপন করি। প্রথম দিকে বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ২৫টি থানা চারা ভাল ছিল। তাতেই ৪০ পিছ তরমুজ হয়েছে।’

    তরমুজ বিক্রির টাকা তার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসাথে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ হয় খুবই কম। এ ছাড়া আগাছা হয় না বলে পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেয়ার ঝামেলাও নেই।’

    কৃষক সেলিম গাজীর ভাষ্য মতে, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করে জৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে তিনি চারা রোপন করেন। ইউটিউবের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত এবং সার ও ওষুধ দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পান। এরপর প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ ছাদে চাষ করেন। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি খেত প্রস্তুত করেন।

    বর্তমান তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানা জিওব্যাগের মাধ্যমে আরো বড় আকারে তরমুজ চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

    ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে একটি ছাদে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানা গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী বলেন, ‘সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন।’

    কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতি তরমুজ চাষাবাদ করা ভালো। আর তরমুজ একটি লাভজনক ফসল।’

  • আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চণ্ডিপাশা চরপাড়া গ্রামের কৃষকদের কাছে আগাম শিম এখন শুধু একটি সবজি নয়, বাড়তি আয়ের অন্যতম পথ। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে চাষ করে কয়েক গুণ বেশি আয় করার সুযোগ থাকায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষ।

    স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট থেকে দশ বছর আগে এ গ্রামে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু হয়। প্রথম দিকে কয়েকজন কৃষক পাবনা থেকে বীজ এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় তাঁদের সাফল্য দেখে অন্যরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন গ্রামের অনেক কৃষকই আগাম শিম চাষ করছেন। কেউ কেউ নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করে পরের বছর জমিতে ব্যবহার করছেন।কৃষক গিয়াস উদ্দিন জানান, এবার ২০ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।

    ২০ শতক জমি থেকে তাঁর মোট বিক্রি হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণও দাঁড়াবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত সাত বছর ধরে তিনি আগাম জাতের শিম চাষ করছেন। প্রতিবছরই ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যায়। এ কারণে এখন তিনি নিয়মিত এ জাতের শিম চাষ করেন। গিয়াস উদ্দিনের পাশের জমিতেই আগাম শিম চাষ করেছেন ফারুক মিয়া। ৩৫ শতক জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। এরই মধ্যে তিনি ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

    ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি আগাম শিম চাষ করছেন। আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই অন্য ফসলের তুলনায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি

    শুধু গিয়াস উদ্দিন ও ফারুক মিয়া নন, একই গ্রামের কৃষক ফয়সাল মিয়াও ২৬ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করে কয়েকগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে গ্রামের আরও অনেক কৃষক এ চাষে যুক্ত হয়েছেন।

    আগাম শিম চাষের শুরুটাও ছিল একেবারে স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে। প্রথম দিকে পাবনা থেকে বীজ এনে চাষ করতেন তাঁরা। পরে চাষের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জমির ভালো শিম থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ শুরু করেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চণ্ডিপাশা এলাকার মাটি গ্রীষ্মকালীন আগাম শিম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সবজি প্রণোদনা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে কিভাবে ফসলকে রক্ষা করবে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

  • কাঠবিড়ালির আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে সবজি ও ফল-ফলাদি

    কাঠবিড়ালির আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে সবজি ও ফল-ফলাদি

    কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের নাঙ্গলকোট, লালমাই ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র ক্ষুদে হিংস্র প্রাণি কাঠবিড়ালীর ভয়াবহ আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছে সবজি ও ফল-ফলাদি বাগান।

    প্রতি মিনিট সময়ে প্রায় ১০০/১৫০ ফুট লাফিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে বেড়ানো কাঠবিড়ালী [গ্রামীণ নাম ছলা হিসাবে পরিচিত] এখন শুধু এ সম্পদগুলোই খাচ্ছে না বরং প্রতিনিয়ত খেয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের প্রত্যাশাকে।

    জেলা দক্ষিণাঞ্চল উপজেলাগুলোর একাধিক লোকজন জানায়, এ অঞ্চলে গ্রামীণ ফলজ নারিকেল, ডাব, পেয়ারা, বরই, আমড়া, আতা ও আনার ফল-ফলাদি থেকে শুরু করে সীম, লাউ, কুমড়া ও শসা সহ নানান ধরনের সবজি ও ফল-ফলাদি খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে।

    ওদের প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বাগান মালিকরা। প্রাথমিক ভাবে সাধারণ মানুষ হিং¯্র কাঠ বিড়ালীর বেপরোয়া অত্যাচার থেকে বাগানের ফসল রক্ষার্থে টিন দিয়ে শব্দ বাজানোর মতো ফাঁদ তৈরি করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।