সারাদেশ

  • সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    বাজারে পাটের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি কৃষকের লাভ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় বাড়তি দামের সুফলও মিলছে না কৃষকের ঘরে। ফলে এক সময়ের ‘সোনালি আঁশ’ পাট এখন অনেক কৃষকের কাছে লাভের চেয়ে টিকে থাকার ফসল হয়ে উঠেছে।

    সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। গুণগতমান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের মৌসুমের শুরুতে যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৩৫০০ থেকে ৪২০০ টাকা, এবার সেখানে দাম কিছুটা বেশি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় এ বাড়তি দামেও কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকেরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, বেলকুচি, তাড়াশ, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পাটগাছ স্বাভাবিক উচ্চতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণত পাটগাছের উচ্চতা ৭ থেকে ১২ ফুট হলেও এবার অনেক এলাকায় তা ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

    রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে কিনছেন। তবে কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ দামও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল শেখ বলেন, ‘এ বছর তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। দাম কিছুটা ভালো পেলেও মৌসুম জুড়ে এ দাম থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।’

    রেজাউল শেখ আরও বলেন, ‘পাট চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। এ কারণে ধীরে ধীরে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি।’

    একই উপজেলার পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানা, এবার এক বিঘা জমিতে তার ৬ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করলে মোট দাম দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। অথচ নিজের শ্রমের মূল্য বাদ দিয়েও তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে তিন মাসে এক বিঘা জমি থেকে নিজের শ্রমের বিনিময়ে লাভ থাকছে মাত্র প্রায় ৭ হাজার টাকা। অতিবৃষ্টির কারণে এবার বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ মণ পর্যন্ত পাট কম উৎপাদন হয়েছে।’

    সোনালি আঁশ এখন কৃষকের দুঃখের আঁশ বলে কাজীপুর উপজেলার কৃষক মকবুল সেখ বলেন, ‘প্রতি মণ পাট উৎপাদনে তার প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। এবার বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও ফলন কমে যাওয়ায় লাভ তেমন হচ্ছে না।

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগে পাটের আঁশকে বলা হতো সোনালি আঁশ। আর এখন পাটের আঁশ হয়েছে কৃষকের দুঃখের আঁশ।’

  • পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ

    পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ

    বান্দরবানে পাহাড়ে উৎপাদিত জুমের পাকা ধানে ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। গ্রামীণ সড়কের দুপাশে এবং দূরের সবুজ পাহাড়গুলোর ঢালে ঢালে শোভা পাচ্ছে জুমের পাকা ধানের সোনালি রঙ, দূর থেকে মনে হচ্ছে পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ।

    ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও পাহাড়ে চাষ করা জুমের পাকা ধান ঘরে তুলতে কাটা শুরু করেছেন জুমিয়ারা। কোথাও জুমে উৎপাদিত সাথি ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়িরা।

    কৃষি বিভাগ ও জুমিয়াদের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় প্রতি বছরই জুম চাষের পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুম চাষ হয়েছিল ৮ হাজার ২৬৭ হেক্টর। ফসল উৎপাদন হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টনের বেশি। এ বছর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর পাহাড়ি ঢালুতে। জুমে উৎপাদনের ফসলের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

    এদিকে জুমের ভালো ফলনে জুমিয়া পরিবারদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। চোখের দৃষ্টি যতদূর যায়, সবুজ পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে জুমের পাকা ধানের সোনালি রঙ। এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় জুমের ধান বপনে খুব বেশি সময়ের ব্যবধান হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় জুমের ফলনও তুলনামূলক ভালো হয়েছে।

    তবে পাহাড়ি অঞ্চলে সব জায়গায় বৃষ্টিপাত সমান না হওয়ায় জুমের ধানও একই সময়ে পাকে না। যারা বৈশাখ মাসের শুরুতে প্রথম বৃষ্টির পর ধান বপন করতে পেরেছেন, তাদের জুমের ধান আগে কাটার উপযোগী হয়েছে।

    জুমের ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কোথাও জুমচাষিরা ধান কাটতে শুরু করেছেন, আবার কোথাও ধান পাকার অপেক্ষায় রয়েছেন। পাকা ধান ও ফসল পাহারা দিতে অনেক জুমচাষি সপরিবারে জুমঘরে অবস্থান করছেন। কেউ ধান কাটার আগেই মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, মারফা ও চিনালসহ বিভিন্ন সাথি ফসল সংগ্রহ করছেন। কেউবা পাকা ধান কাটার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায়।

    সরেজমিন রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের যামিনীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জুমের পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমচাষিরা। ছোটবড় কেউই ঘরে বসে নেই। জুমের ফসল গড়ে তোলতে সপরিবারে উঠেছেন জুম খেতের পাহাড়ে।

    যামিনীপাড়ার বাসিন্দা রিং লট ম্রো সপরিবারে এবং শ্রমের বিনিময়ে কাজ করা আট নারী শ্রমিককে নিয়ে জুমের পাকা ধান কাটার কাজ করছেন।

    জুমচাষি ইয়াংরি ম্রো বলেন, এ বছর প্রায় তিন একর পাহাড়ি জমিতে তিন ‘আড়ি’ বীজের ধান রোপণ করে জুম চাষ করেছেন। এক আড়ি সমান প্রায় ১০ কেজি ধান। এবারের জুমের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আগে সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হলে জুমের ধান ভালো হতো। এখন সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হয় না। প্রকৃতিও যেন উল্টো হয়ে গেছে। তারপরও এ বছর জুমের ভালো ফলনের আশাবাদী। তিন একর জুম থেকে এবার প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ আড়ি ধান পাওয়া যাবে আশা জুমচাষির। আরও ভালো হলে আড়াইশ আড়ি পর্যন্ত ধান পাওয়া সম্ভব।

    স্থানীয় জুমচাষি রিং লট ম্রো বলেন, পুলিশে চাকরি করার পর চলতি বছরের জুন মাসে অবসর নিয়েছেন রিং লট ম্রো। অবসরের পর বসে না থেকে বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশা জুম চাষে ফিরেছেন। ‘জুমে শুধু ধান হয় না। বেগুন, মারফা, তিল, যব, ভুট্টা, চিনাল, মরিচ, রোজেলাসহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল হয়। বাজার থেকে শুধু লবণ আর নাপ্পি (এক ধরনের শুঁটকি) কিনলেই চলে। জুম যেন আমাদের জন্য একটি বাজারের মতো, প্রয়োজনীয় অনেক সবজি এখান থেকেই পাওয়া যায়।

    নারী শ্রমিক সংডং ম্রো বলেন, জুম না করলে আমরা কী খাব? জুম করতেই হবে। প্রতি বছর আমরা জুম চাষ করি। এটা আমাদের ঐতিহ্য।

    তিনি জানান, জুমে ধানের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, মারফা, বেগুন, ভুট্টা, তিল, মরিচ, ঢেঁড়সসহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল উৎপাদন করা হয়। এসব সাথি ফসল নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে কিছু অর্থও আয় করেন জুমচাষিরা।

    জুমিয়াদের দাবি, জুম চাষ মূলত প্রকৃতি ও মৌসুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি দীর্ঘ কৃষি প্রক্রিয়া। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পরবর্তী বছরের জুম চাষের জায়গা নির্বাচন করা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গল কাটা শুরু হয়। কাটা জঙ্গল রোদে শুকানোর পর মার্চ-এপ্রিল মাসে নির্দিষ্ট জায়গায় ‘ফায়ারিং লাইন’ তৈরি করে আগুন দিয়ে জঙ্গল পোড়ানো হয়। এরপর পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে জুমের জায়গা পরিষ্কার করে ধান ও সাথি ফসল বপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

    প্রথম বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন জুমচাষিরা। বৈশাখের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হলে জুমে ধানসহ বিভিন্ন সাথি ফসলের বীজ বপন করা হয়। যারা প্রথম বৃষ্টির পর দ্রুত বীজ বপন করতে পারেন, তাদের জুমের ধান আগে পাকে। আর যারা কিছুটা দেরিতে বপন করেন, তাদের ধানও দেরিতে কাটার উপযোগী হয়।

    সাধারণত আগস্টের শেষ অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জুমের ধান কাটা শুরু হয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে চলে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ। ধান শুকানোর পর জুমঘর থেকে মূলঘরে ধান স্থানান্তর করা হয়।

    এরপর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাহাড়ি জনপদে ঘরে ঘরে চলে জুমের ধানের নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের ভাত ও নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই উৎসব।

    পাহাড়ের ঢালে ঢালে এখন তাই চলছে ধান কাটার উৎসব। সোনালি ধানের শীষে ভরে উঠছে জুমঘর। বছরের দীর্ঘ শ্রমের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ব্যস্ত পাহাড়ের মানুষ। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা জুমচাষিদের কাছে এই ধান শুধু খাদ্য নয়—এটি তাদের জীবন, জীবিকা ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যের অংশ।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌফিক আহমেদ নূর বলেন, এবার জেলায় প্রায় ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে। জুমে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাথি ফসলও উৎপাদন হয়ে থাকে।

    এ বছর জুমের ফলন ভালো হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। তবে পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে একেক এলাকার ফলন একেক রকম হয়। রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকায় ইতোমধ্যে জুমের পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলাতেও ধান কাটা শুরু হবে। জুম চাষে উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদনে জুমচাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  • কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    সবজি চাষে খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির আবাদও ছড়িয়ে পড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

    উৎপাদিত লতি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলনামূলক ভালো দাম ও দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক লতি চাষকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

    চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা, পাশাপোল ও সিংহঝুলি; বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা, জহুরপুর ও রায়পুর; শার্শার ডিহি, কায়বা ও নাভারণ; ঝিকরগাছার বাঁকড়া ও মাগুরা; মনিরামপুরের নেহালপুর, হরিহরনগর ও মনোহরপুর; কেশবপুরের পাঁজিয়া ও সুফলাকাঁটি; যশোর সদরের চুরামনকাটি, কাশিপুর, ইচালি, দেয়াড়া, লেবুতলা ও সাতমাইল এবং অভয়নগরের সিদ্দিরপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন কচুর লতির আবাদ দেখা যাচ্ছে।
    একসময় এসব জমির বড় অংশে ধান চাষ হলেও এখন কিছু জমিতে জায়গা করে নিয়েছে কচুর লতি। কৃষকদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘ সময় ধরে এ ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়।

    যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরে সবজি চাষ বরাবরই সমৃদ্ধ। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি খরিপ-২-এর আওতায় জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ হয়েছে। মাটি উর্বর হওয়া এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে লতির ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন কচুর লতির বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও অন্যান্য দিনও সেখানে লতির কেনাবেচা চলে।
    বাঘারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকরা ভোরে ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে লতি নিয়ে আসেন। পুলের হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বাজারেও চলে এর বেচাকেনা।

    পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন পুলের হাট থেকে কয়েক হাজার মণ কচুর লতি বেচাকেনা হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচায় শ্রমিকরা লতি বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলেন। চুরামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুর, চৌগাছা কাঁচাবাজার ও বাঁকড়ার হাট থেকেও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা লতি সংগ্রহ করেন। পরে এসব লতি পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে।
    লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ লাভজনকতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প ফসল হিসেবে লতি চাষ বেছে নিচ্ছেন।
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করতাম। কিন্তু একবার টানা বর্ষায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে কচুর লতি চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ পাই। এরপর থেকে ধান ছেড়ে পুরোদমে লতি চাষেই মন দিয়েছি। বাজারে অন্য যেকোনো সবজির চেয়ে লতির দাম বেশি ও স্থিতিশীল থাকে, তাই ঝুঁকি অনেক কম।’


    একই এলাকার কৃষক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ধান চাষের তুলনায় লতি চাষে শারীরিক পরিশ্রম কিছুটা বেশি হলেও আর্থিকভাবে এটি লাভজনক।
    তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে কচুর লতি চাষে সার, চারা ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও নিট লাভ থাকছে ৬০ হাজার টাকা। কম সময়ে এত অল্প খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত টাকা আয় করা সম্ভব নয়।’

    কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, যশোরের মাটি ও আবহাওয়ায় উৎপাদিত কচুর লতির মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
    পুলের হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যশোরের লতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। এখানকার লতি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি বিক্রি হয়ে যায়। পণ্যের চাহিদা ও গুণগত মান ভালো বলেই আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারি।’

    বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইয়েদা নাসরিন জাহান বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলের বন্দবিলায় হাতেগোনা চার-পাঁচজন কৃষক লতি কচু চাষ করতেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা প্রমাণ হওয়ার পর এখন প্রায় শতভাগ উপযুক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লতি কচুর চারা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ এবং আধুনিক পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, যশোরে কচুর লতি চাষ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়তে পারে।

  • যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রাম। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছে ধরে আছে আপেল কিংবা পাকা গাব। তবে কাছে গেলেই ধারণা বদলে গেলো।
    দেখতে আপেলের মতো, রঙে কমলার আভা। খেতে মিষ্টি, পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ যেন একসাথে আপেল-গাব আর খেজুরের স্বাদ। জাপানের এই জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ হচ্ছে উপজেলার হিজলী গ্রামে। আর এর নেপথ্যের কারিগর হিজলী গ্রামের কৃষক জুলফিকার সিদ্দীক। যিনি ইতিমধ্যে লাভবানও হয়েছেন ।

    আলাপচারিতায় জুলফিকার সিদ্দীক জানালেন, ২০২১ সালে নাটোর থেকে পার্সিমনের চারা কিনে ৫ কাঠা জমিতে লাগান ৩০টি গাছ। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে এসব গাছে প্রচুর পার্সিমন ধরেছে । গাছের ডালে ডালে ঝুলছে ফল, দেখেই বোঝা যায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

    তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘এমন একদিন আসবে, যখন পার্সিমন কাঁচাতেই মিষ্টি পাবেন। এগুলো ফল দু-একটা করে ধরতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করে আমাদের দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।’

    জুলফিকার সিদ্দীক নিজেও চারা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার মাধ্যমে আরও ১০০ জন কৃষক এই চাষে আসুক। সরকার যদি প্রশিক্ষণ ও চারা সহায়তা দেয়, তাহলে ৩ বছরের মধ্যে যশোরে পার্সিমনের বড় বাগান হবে।’

    জুলফিকারের বাগানে ফল ধরার খবর ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামে। প্রতিদিনই পার্সিমন দেখতে আসছেন অনেকে। আপেলের মতো দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
    দর্শনার্থী মনিরুজ্জামান উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক ফল দেখেছি কিন্তু এই ফল অনেক মজা ও সুস্বাদু। গাছে কুলের মতো ফল ধরে যেটা দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। জাপানের জাতীয় ফল এ দেশে খেতে পেরে আমরা গর্বিত।’

    অনেকেই বাগান থেকে ঘুরে গিয়ে চারা সংগ্রহের কথা ভাবছেন। কৃষকদের মধ্যে নতুন এই ফল নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
    শুধু হিজলী নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে পার্সিমনের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। মানভেদে প্রতি কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে আটশ থেকে ১ হাজার টাকায়।
    দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি এখনো দুর্লভ ফল। চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ শহরের ক্রেতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘একজনই চাষ করেছেন। তিনি মোটামুটি সফল। আমাদের যে গবেষণা এবং লিংকেজ ওয়ার্কশপ, সেখানে আমরা এটা উপস্থাপন করেছি। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ করা হয়, তাহলে আমরা এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এটার নতুন করে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে, কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে স্ট্রবেরি বা ড্রাগনের মতো বিপ্লব ঘটবে। যশোরের মাটি সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে ফল চাষেও ভালো সম্ভাবনা আছে।’

    কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পার্সিমন চাষের জন্য আলাদা কোনো কঠিন প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। সাধারণ ফল বাগানের মতোই পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে জাত নির্বাচন ও সঠিক সময়ে ছাঁটাই খুব জরুরি।

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘পার্সিমন জাপানের জাতীয় ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, আয়রণ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত পার্সিমন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো। ফাইবার বেশি থাকায় হজমেও সাহায্য করে। জাপান, কোরিয়া ও চীনে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। আমাদের দেশের মানুষও ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করবে।’

    ড. তানভীর আরও জানান, পার্সিমনের দুই ধরনের জাত আছে। একটি পাকলে নরম হয়ে যায়, আরেকটি কচকচে অবস্থায়ও খাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন যে জাতটি চাষ হচ্ছে সেটি পাকলে নরম ও রসালো হয়।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্সিমন গাছ খরা সহনশীল। বেশি পানি জমে থাকা পছন্দ করে না। যশোরের উঁচু ও পানি নিষ্কাশন ভালো এমন জমিতে এটি ভালো হবে। তাছাড়া গাছে রোগ-বালাই কম। কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে।

    কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, অ্যাভোকাডোর মতো পার্সিমনও হতে পারে যশোরের নতুন অর্থকরী ফসল। একবার গাছ লাগালে ২০-২৫ বছর ফল দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।

  • মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় কৃষকের কাছে মরিচ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে হলে শুরুতেই ভালো চারা তৈরি করা জরুরি। রবি মৌসুমের মরিচ চাষের জন্য এখন থেকেই বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। মানসম্মত বীজ, সঠিক বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনায় যত্নবান হলে সুস্থ ও সবল চারা তৈরি করা সম্ভব। এনিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    চারা তৈরির প্রথম ধাপ হলো মানসম্মত বীজ নির্বাচন। কৃষককে ভালো জাতের বিশুদ্ধ, পরিপক্ব ও রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্বস্ত বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা উচিত। পুরোনো, ভেজা বা বিবর্ণ বীজ ব্যবহার না করাই ভালো।
    নিজের উৎপাদিত বীজ ব্যবহার করলে আগের মৌসুমের সুস্থ ও সবল গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে বীজ তৈরি করতে হবে। বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ভালো কি না, সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার।

    বীজ শোধন করুন
    বীজবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে বপনের আগে বীজ শোধন করা প্রয়োজন। মরিচের বীজ শোধনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের লেবেলে দেওয়া ফসল, রোগ এবং মাত্রা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।
    বালাইনাশকের মাত্রা নিজের মতো করে বাড়ানো যাবে না। প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। বীজ শোধনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বীজ শুকিয়ে নিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।

    উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা
    মরিচের চারা তৈরির জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। বর্ষার পানি বা সেচের পানি জমে থাকলে কচি চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জায়গায় বীজতলা তৈরি করা ভালো।
    বীজতলার মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পচা জৈবসার বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আগের ফসলের রোগাক্রান্ত গাছের অংশ বা আগাছা বীজতলায় রাখা যাবে না।
    বীজ খুব ঘন করে বপন করা উচিত নয়। সারিতে অল্প দূরত্ব রেখে বীজ বপন করলে চারা পরিচর্যা সহজ হয় এবং আলো-বাতাস ভালোভাবে চলাচল করতে পারে।

    সেচে সতর্কতা
    বীজ গজানোর সময় মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। বীজতলায় পানি জমে গেলে বীজ পচে যেতে পারে এবং চারার গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
    সেচের সময় প্রবলভাবে পানি না দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলায় পানি জমছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে। পানি জমলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    প্রয়োজনে অতিবৃষ্টি থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। তবে চারা গজানোর পর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ
    মরিচের কচি চারায় গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত চারা প্রথমে দুর্বল হয়ে যায়। পরে মাটির কাছের অংশ পচে গিয়ে চারা ঢলে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।
    বীজতলায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি জমে থাকা, ঘন করে বীজ বপন এবং অপরিষ্কার বীজতলা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আক্রান্ত চারা দ্রুত তুলে বীজতলা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।
    রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে রোগ শনাক্ত করা উচিত। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

    চারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ
    মরিচের কচি চারায় জাবপোকা, থ্রিপসসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে পারে। এসব পোকা কচি পাতা ও গাছের রস শোষণ করে চারাকে দুর্বল করে দেয়। আক্রান্ত পাতায় কুঁকড়ে যাওয়া বা বিকৃতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
    তাই বীজতলা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আক্রান্ত পাতা বা চারা আলাদা করে নষ্ট করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
    আক্রমণ বেশি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পোকার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

    চারার পরিচর্যা
    চারা গজানোর পর বীজতলায় নিয়মিত নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঘন চারা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতলা করে দিতে হবে। এতে প্রতিটি চারা পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, পানি ও পুষ্টি পাবে।
    আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা চারার সঙ্গে পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। একই সঙ্গে আগাছায় বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আশ্রয় নিতে পারে।
    অতিরিক্ত সার প্রয়োগও করা যাবে না। চারার প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিতে হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া প্রয়োগে চারা নরম ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রোগ-পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    মূল জমিতে চারা রোপণ
    চারা পর্যাপ্ত সবল হলে মূল জমিতে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে। চারা তোলার আগে হালকা সেচ দিলে মাটি নরম হয় এবং শিকড়ের ক্ষতি কম হয়। রোগাক্রান্ত, দুর্বল বা অতিরিক্ত ছোট চারা বাদ দিতে হবে।
    মূল জমি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে মরিচের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় জৈবসার ও অন্যান্য সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
    চারা রোপণের সময় জাতভেদে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। চারা খুব গভীরে রোপণ করা যাবে না। রোপণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

    কৃষকের প্রতি পরামর্শ
    মরিচের ফলন ভালো করার প্রস্তুতি শুরু হয় চারা তৈরির সময় থেকেই। তাই মানসম্মত বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং নিয়মিত রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
    রোগ বা পোকা দেখা দেওয়ার পর অজ্ঞতাবশত ওষুধ প্রয়োগ না করে প্রথমে সমস্যাটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ একই লক্ষণ বিভিন্ন রোগ বা পোকার কারণে হতে পারে। ভুল বালাইনাশক ব্যবহার করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসল, মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

    সুস্থ চারা মানেই ভালো ফসলের প্রথম ধাপ। তাই চারা তৈরির শুরু থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ শনাক্ত করতে সমস্যা হলে আক্রান্ত গাছ বা পাতার নমুনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নিরাপদ, মানসম্মত ও লাভজনক মরিচ উৎপাদনের পথ সহজ হবে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

    ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে ইসি। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে।
    এর আগে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা পেয়ে

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে ইসি।

    দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ সংখ্যা চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। যেগুলোর নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালে হয়েছিল। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনে আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুরূপ পরিকল্পনা করছে ইসি। ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের মোট ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এবারও প্রথম ধাপে এসব ইউনিয়ন দিয়েই ভোটের তপশিল সাজানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ইসির।

    এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি আছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ও নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোচ্ছি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।

    ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয় ধাপে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যত ধাপে হয়েছে মোটামুটি সেভাবেই হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলোতে নির্বাচন হবে না।

    ১৫ সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    ইসির যত প্রস্তুতি
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতির শেষ ধাপে আইন-বিধি এবং আচরণ বিধিমালা সংস্কারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দেওয়ার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর ও নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেঁধে দিয়েছে ইসি। এর পরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।

    সারাদেশে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আগেই তৈরি করে রেখেছে ইসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বেশি হতে পারে। মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নেওয়া হয়। তবে এবার একসঙ্গে দুটি ভোটের জটিলতা না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই অথবা দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। স্কুল ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাহিনী পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে ইসি। পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠককালে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির।

    সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ভোট গ্রহণ সামগ্রী আগেই মজুত রাখা হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে সেগুলোর ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালাপত্রও কিনে রেখেছে ইসি। সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্যই এসব মালাপত্র আগেই কেনা হয়েছিল। কেননা নির্বাচনী মালাপত্র কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগে।

    ইসি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রতিটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেনা হয়। ওইসব সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে।

  • ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    কৃষকদের মধ্যে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সিনজেনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস আর্জেন্ট, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা, ব্রুনো আনানিয়াস, হেড অব সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে ১০ জন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ৪০ জন কৃষক, ১০ জন চ্যানেল পার্টনার ও সিনজেনটা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
    সিনজেনটা বাংলাদেশের ‘প্রজেক্ট শিল্ড’ কৃষি স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার, ফসল সুরক্ষা পণ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। সেশনটিতে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, আসল পণ্য শনাক্তকরণ এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় কৃষকদের কাছে মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
    বক্তারা বলেন, নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব ফসলের উৎপাদন, পরিবেশ এবং পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষক, সরকারি সংস্থা, চ্যানেল পার্টনার ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    তারা বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কৃষি উপকরণ ব্যবহার, কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে পারলে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকেও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
    সেশনে অংশ নেওয়া কৃষক, ডিএই কর্মকর্তারা ও চ্যানেল পার্টনাররা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনায় নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

    সিনজেনটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা, কৃষক, চ্যানেল পার্টনার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

  • ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    বর্ষা এলেই খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানিতে ফুটে ওঠে শাপলা। বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা এই ফুল এখন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি সবজি হিসেবেও। বাজারে আঁটি বাঁধা তাজা শাপলা কিনছেন ক্রেতারা। প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, সালথা, মধুখালীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ভোর থেকেই অন্যান্য সবজির পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে শাপলার পসরা। জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার বিক্রেতারা।

    বিক্রেতাদের জন্য বর্ষাকালের এই শাপলা বাড়তি আয়ের একটি সহজ মাধ্যম। অন্যদিকে স্থানীয়দের অনেকের কাছে এটি মৌসুমি ও পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি রান্নার পাশাপাশি মাছের সঙ্গেও রান্না করা হয়।

    গোপালগঞ্জ থেকে শাপলা নিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন নুরুল আলম। তিনি বলেন, “বর্ষার সময় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন জলাশয়, বিল ও ঝিল থেকে শাপলা তুলে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসি। প্রতি আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি করি। মানুষ শাপলা কিনে রান্না করে খায়। বিক্রি করে আমাদেরও কিছু আয় হয়।”

    শাপলার ক্রেতা সন্দীপন চক্রবর্ত্তী বলেন, “শাপলা আমাদের গ্রামবাংলার পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে তরকারি রান্না করা যায়, মাছের সঙ্গেও রান্না করা যায়। বাজারে তাজা শাপলা দেখলে কিনতে ইচ্ছে করে। দামও তুলনামূলক কম।”

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, “শাপলা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা একটি ফুল। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষাকালে খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে ভরে গেলে সেখানে প্রচুর শাপলা ফুটত। তখন শাপলা শুধু ফুল হিসেবে নয়, সবজি হিসেবেও মানুষের খাবারের অংশ ছিল। এখন বাজারে শাপলা বিক্রি হতে দেখে পুরোনো সেই গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা মনে পড়ে।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্ষাকালে জলাশয়ে জন্ম নেওয়া শাপলা সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ফলে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বাড়তি খরচ ছাড়াই শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এতে একদিকে ক্রেতারা স্বল্পমূল্যে মৌসুমি সবজি পান, অন্যদিকে বিক্রেতাদেরও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।”

  • সাত ফুট লম্বা কাঁদিতে হাজারের বেশি কলা

    সাত ফুট লম্বা কাঁদিতে হাজারের বেশি কলা

    একটি কলার কাঁদিতে সর্বোচ্চ কতটি কলা থাকতে পারে? সাধারণত ১০০ থেকে ২০০টি কলার কথা ভাবা হলেও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেখা মিলেছে বিরল এক প্রজাতির কলাগাছের। একটি গাছের কাঁদিতে ধরেছে হাজারের বেশি কলা। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এ কাঁদি দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা।

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের অফিসবাজার এলাকার শিক্ষক ও শৌখিন চাষি রেজাউল করিম খন্দকারের বাগানে দেখা মিলেছে এ ব্যতিক্রমী কলাগাছের।

    কৃষিবিদদের মতে, বাংলাদেশে বিরল এ জাতটি ‘হাজারি কলা’ নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘থাউজেন্ড ফিঙ্গার ব্যানানা’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অঞ্চলে এ জাতের কলাগাছ দেখা যায়। এর কাঁদি সাধারণত ৭-১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

    চাষি রেজাউল করিম খন্দকার জানান, কমলগঞ্জের মুনিম সিদ্দীকির কাছ থেকে সংগ্রহ করা এ জাতের একটি চারা থেকে বর্তমানে তার বাগানে আটটি চারা তৈরি হয়েছে। প্রায় একমাস আগে একটি গাছে মোচা আসে। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে কাঁদিটি। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। সময়ের সঙ্গে এটি আরও লম্বা হয়ে প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

    কাঁদিতে প্রচুর কলা ধরায় গাছটি যাতে ভারে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। কাঁদির ওপরের অংশের কিছু কলা খাওয়ার উপযোগী হলেও নিচের দিকে থাকা কলাগুলো আকারে খুব ছোট এবং খাওয়ার অনুপযোগী। দেখতে অনেকটা চম্পা কলার মতো।

    রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, ‘মাসখানেক আগে গাছটিতে কলার ছড়ি বের হয়। এরপর ছড়িটি দিন দিন বড় হতে থাকে। বর্তমানে এটি প্রায় ৭ ফুট লম্বা হয়েছে এবং মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে হাজারের বেশি কলা ধরেছে। ওপরের অংশের কিছু কলা খাওয়ার উপযোগী হলেও নিচের কলাগুলো খুবই ছোট।’

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কলার কাঁদি সচরাচর দেখা যায় না। এ কলা দুইভাবে ব্যবহার করা যায়—খাওয়ার জন্য এবং অর্নামেন্টাল প্লান্ট বা সৌন্দর্যবর্ধক গাছ হিসেবে।’

    শুধু হাজারি কলাই নয়, রেজাউল করিমের শৌখিন বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা দুর্লভ ফলের সমাহার। বাগানে রয়েছে প্রায় ৫০ জাতের বিদেশি আম, ২০ জাতের আঙুর, ১০ জাতের কমলা ও মালটা, সাত জাতের ড্রাগন ফল, আফ্রিকান পিচ, তুর্কি মালবেরি, লংগান ও মিরাকেল বেরিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলজ ও বনজ গাছ।বাগানে আসা দর্শনার্থীরা জানান, কাঁদিটি দিন দিন মাটির দিকে নেমে আসতে দেখে তারা বিস্মিত।

    দর্শনার্থী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা দেখে অবাক হয়েছি। কলাগাছে ৭-৮ ফুট লম্বা কলার ছড়ি ধরেছে। ছড়ির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত হাজার হাজার কলা ধরেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লেগেছে।’

    আরেক দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লম্বা কলার ছড়ির কথা শুনে গাছটি দেখতে বাগানে এসেছিলাম। এত বড় কলার ছড়ি জীবনে দেখিনি।’

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল এক প্রজাতির কলা। সঠিক পরিচর্যা করলে এর কাঁদি আরও বড় হতে পারে। এটি যেমন খাওয়ার উপযোগী, তেমনি বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতেও দারুণ কার্যকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে এ প্রজাতির কলাকে থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা বলা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা করলে এ কলার ছড়ি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।’

  • মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে সফল মাঈন উদ্দিন

    মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে সফল মাঈন উদ্দিন

    এক সময় ছিলেন সেলুন ব্যবসায় জড়িত। তবে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখে কৃষির প্রতি তার আলাদা ভালো লাগা। প্রায় তিন বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। আগের পেশা বদলে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে সংসারের হাল ধরেছেন।

    স্বল্প পরিসরে কখনো লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে প্রথমবারেরই সফল তিনি।

    বলছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের কৃষক মাঈন উদ্দিনের কথা। এমন সাফল্যে তার মধ্যে নতুন করে কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাকে দেখে গ্রামের আরো অনেকে বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা কৃষি কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাওয়া-আসা করতাম। তখন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়। শুরুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে ‘পার্পল কিং’ জাতের বেগুন চাষ করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মালচিং দেওয়ার পর জমিতে আগাছা কম হয়েছে, মাটিতে আর্দ্রতাও ভালো থাকছে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০-৪৫ কেজি বেগুন তুলতে পারছি। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন ১০০ টাকা কেজি দরেও বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে।’সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে যে পরিমাণ বেগুন আছে আরো দুই মাস নিয়মিত বিক্রি করতে পারবেন।

    স্থানীয় কৃষক খোকন মিয়া জানান, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বেগুন চাষে সাফল্য পাওয়া সহজ হয়েছে। বেগুনের বাজার ভালো তাই লাভবান হওয়ার সুযোগ অনেক।’

    বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, ‘মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব, আশাকরি সম্পূর্ণ মৌসুম শেষে তিন লক্ষাধিক টাকা আয় করবেন।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। নিজের সাফল্যে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।’

    সেলুন ব্যবসায় ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া মাঈন উদ্দিনের এ সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে।