সারাদেশ

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হয়ে গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের কষ্ট তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক কৃষক জহুরুল ইসলাম। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

    শাইলবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী ভীমপুর ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। এ নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে ৩৫ বছরের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ সেতু। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুই এখন আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পুরোপুরি উধাও। সাড়ে তিন ফুট চওড়া এ সেতুর দুই পাশের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পিলারের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। সেতুর বুক-পিটে ছোট ছোট গর্তের ক্ষতচিহ্ন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন নড়বড়ে দেহে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি। মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল ছাড়া যেতে পারে না কোনো যানবাহন।

    স্থানীয়রা জানান, এই সেতু দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাড়াও কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। তবে সরু সেতু হওয়ায় গ্রামের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস যেতে পারে না। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুর ওপর দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

    শাইলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক এশরামুল হক বলেন, ‘ব্রিজটা দিয়ে চলাচল করা যায় না। রিকসা-ভ্যান, মাইক্রো, অটো চলে না। ব্রিজ কেন বানাইছে? একদম চিকন।’

    ডাংগাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে। ব্রিজের রেলিংগুলা ভাঙ্গি গেইছে। খুঁটিগুলাতো ফাটি গেইছে।’

    স্থানীয় সংবাদকর্মী দিপক রায় বলেন, সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও মাদরাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। আশপাশের ১০ গ্রামের কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ঝুঁকির কারণে ভ্যান ও অটোরিকশাও সেতুটি পার হতে চায় না। ফলে কৃষকদের বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ।

    প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৩ ফুট। সেতু সংস্কার বা কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ এটি হতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

  • কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    খালেদুর, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগে রাকিবুল হাসান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
    আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার শালকোপা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. মহসিন আলীর ছেলে।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান এর আগেও তালসার বাজারে গিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের উপ-পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন এবং সুযোগ বুঝে অনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
    মঙ্গলবারও একইভাবে নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি তালসার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে জানান।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া গেলে পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
    স্থানীয়রা জানান, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত কিংবা হয়রানি করা হলে তা উদ্বেগের বিষয়। আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, তিনি কী উদ্দেশ্যে এনএসআইয়ের পরিচয় ব্যবহার করতেন এবং কারও কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
    তবে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
    পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    একসময় উপকূলীয় জনপদের বাড়ির উঠান, বাগান, সড়কের পাশ ও মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে ছিল সারি সারি নারকেলগাছ। বাগেরহাটের ফকিরহাট ছিল নারকেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা। কিন্তু রোগ-পোকা, ছত্রাক, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাতে কমছে গাছের ফলন। একই সঙ্গে কাঁচা ডাব হিসেবে অধিকাংশ নারকেল বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পরিপক্ব নারকেলের সংকটও তীব্র হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফকিরহাটে নারকেল উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে ৪ হাজার ৫০ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার টনে নেমেছে। এক দশকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই দশকে অনেক গাছে ফলন কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
    সম্প্রতি ফকিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির বাগান, মাছের ঘের ও সড়কের পাশে এখনও অসংখ্য নারকেলগাছ রয়েছে। তবে অনেক গাছেই পাতায় কালো দাগ ও সাদা আবরণ দেখা যাচ্ছে। কমে গেছে পাতার সংখ্যাও। ফলে গাছ থাকলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না।

    কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বাগেরহাটে রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাইয়ের ব্যাপক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১-২২ সালের এক গবেষণায় জেলার প্রায় ৯৭ শতাংশ নারকেলগাছ এ পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। পোকাটি পাতায় সাদা আবরণ তৈরি করে এবং পরে কালো ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হতে সহায়তা করে। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ফকিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল হোসেন বলেন, একটি সুস্থ নারকেলগাছে সাধারণত প্রায় ৩৬টি পাতা থাকে। অথচ অনেক গাছে এখন মাত্র ১৫-২০টি পাতা রয়েছে।
    কৃষক জিন্নাত শেখ বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই নারকেলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    প্রায় ২০০টি নারকেলগাছ রয়েছে জিন্নাত শেখের। তাঁর ভাষ্য, সাত-আট বছর আগে এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হতো। এখন আয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।
    ফলন কমার প্রভাব পড়েছে ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী নারকেল বাজারে। স্থানীয় পাইকারদের মতে, একসময় প্রতি রবি ও বুধবার বাজারে লাখ লাখ নারকেল কেনাবেচা হতো। এখন বেচাকেনা সীমিত হয়ে এসেছে মাত্র দুই গলিতে।
    পাইকার নিত্যানন্দ দাস, আলী শেখ ও শেখ হাফিজুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও একজন ব্যবসায়ী দিনে ৮-১০ হাজার নারকেল কিনতেন। এখন তাঁরা কিনছেন মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার।
    দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। পাঁচ-ছয় বছর আগে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি নারকেলের দাম এখন আকারভেদে ১৩০-১৬০ টাকা।

    নারকেলের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পেও। গ্র্যান্ড অটো নারকেল তেল মিলের মালিক স্বপন কুমার বসু বলেন, ২০০৩ সালের দিকে বাগেরহাটে প্রায় ১০৯টি নারকেল তেল মিল ছিল। কাঁচামালের সংকটে এর মধ্যে শতাধিক বন্ধ হয়ে গেছে।

    তাঁর দাবি, উৎপাদিত নারকেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন কাঁচা ডাব হিসেবে বিক্রি হয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গুর সময় ডাবের চাহিদা বাড়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই নারকেল বিক্রির প্রবণতা আরও বেড়েছে।
    নারকেলের সংকট শুধু কৃষি ও বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতেও।
    গৃহিণী বিশাখা দাস বলেন, আগে নারকেলের দুধ দিয়ে ডিমের কোরমা ও মাছ রান্না করা হতো। কোরানো নারকেল দিয়ে তৈরি হতো চিংড়ির বড়া, পাটুরি, নাড়ু, পুলি ও ভাপা পিঠা। এখন নারকেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎসব ছাড়া এসব খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারকেলগাছে রোগ-পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তবে কৃষি অফিসের লজিস্টিক সহায়তা সীমিত। গত বছর ৩০ জন গাছি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ বছর ৮০০ কৃষককে নারকেলের চারা দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন বলেন, গাছের বয়স, সুষম সার ব্যবহারের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাদামাছির আক্রমণ নারকেল উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাইনুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগ নারকেল উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

  • চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ভ্যানিলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছর পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। ফল চাষ ও পশুপালনের পাশাপাশি খামারের বিশেষ আকর্ষণ ১০ কাঠা জমিতে তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউসে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে বেড়ে উঠেছে ভ্যানিলার লতা। সেখানে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটির মতো ফল ধরেছে।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, এ পর্যন্ত ভ্যানিলা বাগানে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াজাতের পর এ বছর ৭-৮ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।

    তাঁর দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খোলা জমিতে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও গ্রিন হাউসে তাপমাত্রা ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ ফসল উৎপাদন সম্ভব।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীরের সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্ভব। এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রাম। একসময় যেখানে লবণাক্ততার প্রভাবে শীত বা গ্রীষ্মে সবজি চাষ করা ছিল এক দুর্ভেদ্য চ্যালেঞ্জ, সেই গ্রামেই এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততা নিয়ে খুঁটিকাটা এখন হয়ে উঠেছে এক স্বাবলম্বী জনপদ।

    উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় ৪০০ কৃষক এখন নিয়মিত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নীলকান্ত ও সুব্রত জানান, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত ক্ষতি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। তবে সিনজেনটা কোম্পানির ‘গো-গ্রো’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহারে নতুন আশার আলো দেখতে পান তারা।
    সবজি চাষে সেচের প্রধান বাধা মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে সে কাজে লাগানোর ফলে বছরজুড়েই এখন বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কেবল কৃষি উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা হয়েছে লবণসহিষ্ণু কয়েক শ গাছের চারা।

    তবে কৃষকদের নতুন অর্জনের পথে একমাত্র অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগের দুর্বল অবকাঠামো।
    চাষিরা জানান, গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    এতে উৎপাদিত ফসল সময়মতো মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং পচনশীল সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে খুঁটিকাটা গ্রামের কৃষকদের এই ঘুরে দাঁড়ানো উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিসম্ভাবনার এক ইতিবাচক মডেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে এই গ্রাম সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সার নিয়ে গেছেন। আজ সোমবার সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

    ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক–দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নেওয়া হয়েছে। তবে সার নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, সার লুট হয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভুয়া। বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক আছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

    স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, আজ বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে লাইনে দাঁড়ান। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এ সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার নিয়ে যান।

    পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    আজ সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিন সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করছেন তাঁরা। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রতিদিনই যেতে হচ্ছে।

    ওসি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

  • ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    বর্তমান সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এবার কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।ওইদিন একই সঙ্গে ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    কৃষক কার্ড কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।এর আগে প্রি-পাইলটিংয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনার হচ্ছে।

    এসব পর্যায়ে ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে, মূল পর্বে কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

    এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পান।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

    পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

    জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

  • সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    চারদিকে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বরই। বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। এরপর এসব বরই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।

    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এমনই বরইয়ের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন।

    প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে।

    কৃষিকাজের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে আগাম টক বরই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন আলাদা সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এই বাগান।

    আগস্টের শুরু থেকেই তার বাগানের আগাম টক বরই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ জনে। এতে বাগানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বরই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৬০ কেজি বড়ই। বর্তমানে আগাম টক বরই প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।

    মৌসুমের ভরা সময়ে বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমে গেলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হয় বলে জানান মোসলেম উদ্দিন।

    তার বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বরই কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও এ ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।

    নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি মোসলেম উদ্দিন এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। তার বরইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার অনেক কৃষক বড়ই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নতুন করে বাগানও গড়ে তুলেছেন।

    মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই এই পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”

    ৩০ বছরের কৃষিজীবনে নানা ফসল চাষ করলেও আগাম টক বড়ই মোসলেম উদ্দিনকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি ও সাফল্য। তার প্রায় ৫০ একরের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, “দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।”