সারাদেশ

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন, রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।

    জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

    পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

  • পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    যশোরের শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। সবুজ মাঠ জুড়ে কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও কৃষকেরা ব্যস্ত জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে শার্শায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকের ঘরে সোনালি আঁশ উঠলেও মুখে হাসি নেই; বাড়ন্ত উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০৩ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে কৃষকদের বেশি ভাবাচ্ছ শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ।

    বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতি ধাপে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দাম না পেলে চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তবে কিছু কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে সহায় দেওয়া হচ্ছে। আঁশের গুণগত মান ভালো থাকলে বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি, তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, একটি শঙ্খ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে চালানো এ অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম। তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরার ওজন ২২ কেজি ১০০ গ্রাম। সব মিলিয়ে কষ্টিপাথরের ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা দুটি স্ট্যাম্প ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো।

    বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সামগ্রীর জব্দমূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

    নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের স্থানটি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে।

    ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে।’

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহির উদ্দিন (৬০)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মহির উদ্দিন।

    পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলশান মোড় এলাকায় মহির উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তাঁর বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে আজ দুপুরে মাইদুল ও রশিদুলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

    থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মহির উদ্দিনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলেদের মারামারি দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মহির উদ্দিনের। এর আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্য পরামর্শ দিলেও অসচ্ছলতার কারণে সম্ভব হয়নি।

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খাল-বিল, ডোবা আর জলাশয়ে একসময় কচুরিপানা ছিল কৃষকের কাছে নিছক আগাছা। জলাশয় পরিষ্কার করতে গিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। সেই কচুরিপানাই এখন কিশোরগঞ্জের অনেক কৃষক ও খামারির কাছে হয়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারের অন্যতম ভরসা। সকাল হলেই হাতে দা নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ ভ্যানে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কচুরিপানা।

    এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের ফসলহানি। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। ফলে কমেছে খড়ের জোগান। অন্যদিকে বেড়েছে ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম। এতে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। তাই বিনা খরচে বা কম খরচে পাওয়া কচুরিপানাকেই বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে।

    বিশেষ করে গাভি ও গরুর খাবারের জোগান ঠিক রাখতে বাড়ির আশপাশের কলাগাছ কেটে ছোট ছোট টুকরো করেও খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। কচুরিপানা ও কলাগাছের সঙ্গে খড়, ঘাস, ভুসি কিংবা অন্যান্য খাবার মিশিয়ে গবাদিপশুকে দেওয়া হচ্ছে।

    কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান, কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। আবার অনেকের কাছে গবাদিপশু সঞ্চয়ের বিকল্প। প্রয়োজনের সময় গরু বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটান তারা। ফলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট শুধু খামারেই নয়, এর প্রভাব পড়ে কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতিতেও।জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খড় প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মণ খড়ের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ৪০ কেজির এক বস্তা ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে।

    এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসও মিলছে না। অল্প কিছু উঁচু জমি, রাস্তার পাশ কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ঘাস পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা।

    খামারিরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে খাবারের খরচ, অন্যদিকে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। তাই গরু বিক্রি না করে কোনোভাবে লালন-পালন চালিয়ে যেতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

    জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক ও খামারিরা। কেউ বাড়ির পাশের জলাশয় থেকেই কচুরিপানা তুলে আনছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে করে তা সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো খামারি শ্রমিক নিয়োগ করেও কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন।

    সকালে জলাশয়ের পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলে স্তূপ করছেন কৃষকেরা। পরে ভ্যান, রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে। সেখানে পরিষ্কার করে কেটে খড়, ঘাস বা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে।

    করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, “গরুর জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার দরকার, তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে জমি থেকে খড় ও ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেগুলোর সংকট। তাই বাধ্য হয়ে কলাগাছ কেটে গাভিকে খাওয়াচ্ছি। এর সঙ্গে ভুসি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম কমানো বা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হতো।”

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলও ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারিনি। এতে মানুষের খাবারের পাশাপাশি গরুর খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। খাল-বিলে কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত।”তিনি বলেন, “আগে কচুরিপানাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দিত না। জলাশয়ে বেশি হলে আগাছা মনে করে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। এখন গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিই অনেকটা ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু কচুরিপানা দিয়ে গরুর খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায় না। এর সঙ্গে অন্য খাবারও দিতে হয়।”

    সদর উপজেলার বটকিলা গ্রামের বাচু মিয়াকে রৌহা বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এসব কিনে গরুকে ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছি।”

    নিজের গরুর কথা বলতে গিয়ে বাচু মিয়া বলেন, “একটি ছোট বাছুর ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে প্রায় চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। গরুটি এখন দুধ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ছয় লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই গরুটি আমাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সংকট হলেও কোনোভাবে লালন-পালন করে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “গরুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। সব খাবার বাজার থেকে কিনে দিলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। তাই কচুরিপানা, খড় ও অন্যান্য স্থানীয় খাবার সংগ্রহ করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।”

    সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, “আগে বাড়িতে উৎপাদিত ধানের খড় দিয়েই কয়েক মাস গরু পালন করা যেত। এবার ফসলের ক্ষতির কারণে খড় কম হয়েছে। বাইরে থেকে খড় কিনতে হচ্ছে। তার ওপর ভুসি ও অন্যান্য খাবারের দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল।”তিনি বলেন, “কচুরিপানা বিনা খরচে পাওয়া যায়। তাই জলাশয় থেকে তুলে এনে অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে দিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমানো যাচ্ছে। এখন গরু পালন করতে হলে শুধু বাজারের খাবারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন।”

    কৃষক রাকিব বলেন, “বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। কিন্তু গরু বিক্রি করতে নিয়ে গেলে অনেক সময় সেই হিসাবে দাম পাওয়া যায় না। খাদ্যের দামও বেশি। ফলে খামারিরা দুই দিক থেকেই চাপে আছেন।”

    তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা (বগারবাইদ) গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে কয়েকটি গরু পালন করি। প্রতিদিন অনেক খাবারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে সব খাবার কিনে দিলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ধরে রাখা কঠিন।

    প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বাড়লেও গরু বিক্রি করে দেওয়া তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নয়। কারণ এসব গবাদিপশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ, শ্রম ও ভবিষ্যতের আশা। অনেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাই সাময়িক খাদ্যসংকটের কারণে গরু বিক্রি করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৯ লাখ ২২ হাজার ৪৪৯টি এবং মহিষ ৭ হাজার ৭৪৫টি। এছাড়া জেলায় বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭৫ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন। এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফসলের উৎপাদন কমে গেলে একই সঙ্গে কমে যায় খড় ও অন্যান্য কৃষিজাত উপজাতের জোগান। এতে গবাদিপশুর খাদ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং বাড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ।

    কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “কচুরিপানায় পুষ্টিমান বা খাদ্যগুণ খুব বেশি নয়। তবে এটি সবুজ ঘাসের মতো এক ধরনের বাল্ক ফিড হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। খাদ্যের সংকটের সময় অনেক খামারি কচুরিপানা ব্যবহার করছেন।”

    তিনি বলেন, “পরিমিত পরিমাণে কচুরিপানা খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাদ্যই গবাদিপশুর জন্য ভালো নয়। তাই কচুরিপানার পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গবাদিপশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ৯৮০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।”

    তিনি বলেন, “ফসলের পাশাপাশি খড়ও নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে গো-খাদ্যের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংকটও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।”