রাজনীতি

  • ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি  বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই, ডাকাতি, অরাজকতা অনেক বেশি বেড়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেন, ঢাকাবাসী এখন রাতের বেলা বের হতে ভয় পায়। এই অরাজকতা কাদের প্রশ্রয়ে হচ্ছে সেটা এই ঘটনা থেকে খুবই স্পষ্ট।

    ‘অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের’ শীর্ষক সংবাদের ছবি শেয়ার করে সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীর সরকারি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে এত অস্ত্রের মজুত কেন? এসব অস্ত্র কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? এই অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই কি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়?’

  • ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে লাশের ওপর নৃত্য করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা সভ্য দুনিয়ায় চরম অসভ্যতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার না হলে এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হলে দেশ, জাতি কিংবা গণতন্ত্র—কোনোটাই রক্ষা পাবে না।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রক্তেভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে ২০০৬ সালের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত কালো দিন। সেদিন রাজপথে যে পাশবিকতা ও পৈশাচিকতার নগ্ন উল্লাস হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা দেখেছি, একটি লাশের ওপর কীভাবে নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।’

    সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলাম। ওই হামলায় আমিও গুরুতর আহত হই। আমাদের চোখের সামনে রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জসিম উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলামদের। শহীদ শিপনের অপরাধ ছিল সে সহপাঠীদের নামাজ পড়তে ও কোরআন শিখতে উৎসাহিত করত। অথচ তাকে শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, নির্মমভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার প্রতিটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছিল।’

    ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতেই সুপরিকল্পিতভাবে সেদিন লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, শীর্ষ জাতীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার মতো দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে ফ্যাসিবাদী শক্তি।

    বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের খুনিদের সাথে কোনো ধরনের আঁতাত করবেন না, তাদের সাথে একাকার হবেন না। অতীতে এই খুনিরাই গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সরকার যদি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তবে আপনারাও রক্ষা পাবেন না, জাতিও রক্ষা পাবে না।’

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা ২৮ অক্টোবরের হত্যা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে জুলাই গণবিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

  • ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।



    বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাষ্ট্রে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলতে পারেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, আদালতের বাইরে কাউকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া নয়। সরকারের অনুমতি থাকলেই কোনো নাগরিককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বৈধতা তৈরি হয় না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্যই সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

    তাঁরা বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশকে দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, শ্রমজীবী মানুষসহ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়িত করে। সেই অভিজ্ঞতার পরও পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বার্তা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

    এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের প্রতি আনুগত্যই হওয়া উচিত পুলিশের মূল অঙ্গীকার। আইজিপির বক্তব্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে কি না।

    বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ এবং স্বাধীন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হত্যার ক্ষমতা দেওয়ার মানসিকতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

    নেতারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর প্রধান ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বললে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আবার সামনে নিয়ে আসবে।

    বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না—এমন অঙ্গীকার চান।

    জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার কোনো স্থান থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম

    ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম

    আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং বর্তমান বিএনপি সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে বলে কড়া অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে কথা বলত এবং দেশ চালাত, ঠিক একই সুরে ও ধরনে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করে আবারও ক্রসফায়ারের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    সোমবার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে ২৮ অক্টোবরের শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ শিপন, মাসুম, মুজাহিদসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। সেদিন লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশে মাফিয়াতন্ত্রের বীজ বপন করা হয়েছিল। সেই বিচারের পথ রুদ্ধ থাকায় পরবর্তী ১৬ বছর ধরে দেশে একের পর এক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের আলেম নিধন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবিচারের মাধ্যমে শীর্ষ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শহীদ করা হয়েছে।’

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ, আলী রায়হান, ওয়াসিম ও শান্তরা যে আজাদির স্বপ্ন দেখেছিলেন, ২০০৬ সালের শহীদেরাও সেই একই আজাদির স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর পার হতে চললেও ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার নিশ্চিত হয়নি।’

    বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর প্রত্যাশা ছিল সব গণহত্যার বিচার হবে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার এসব বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সুর আর বিএনপি সরকারের সুর আজ এক হয়ে গেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসনকে আগের মতোই দলীয়করণ করা হচ্ছে।’

    আইজিপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের আইজিপি আবার ক্রসফায়ারের অনুমতি চাইছেন। এর অর্থ হলো, আপনি সরকারের অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা অবৈধ নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বললেই আপনাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে—সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে।’

    তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের খুনিদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির এলিজা জামান

    মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির এলিজা জামান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হয়েছেন এলিজা জামান।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এছাড়া সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    এরপর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সেরে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে তফসিলে।তবে বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে গত ১৬ অক্টোবর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে বিএনপি। ৭০ জন নারী দলটির ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন আবেদন জমা দেন।

    এলিজা জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ১২ জানুয়ারির ভোটে শেষ পর্যন্ত তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।

    তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার পিতা সরদার সুলতান মাহমুদ সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

  • ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেশিনটা হয়নি: নাহিদ ইসলাম

    ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেশিনটা হয়নি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সংসদকে একটা সাধারণ সংসদে পরিণত করেছে। তারা সংসদকে দলীয় সংসদে পরিণত করেছে। তারা যদি রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংশোধন না করেন তাহলে আমরা যাকেই বসাবো তারা আরেক হাসিনা হবে।

    সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারীতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনা যে স্বৈরাচারীভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছেন এখন পর্যন্ত সে কাঠামোর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে একই মেশিন আরেকজন চালাচ্ছেন এখন। ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মেশিন পরিবর্তন হয়নি। সেই মেশিন যদি পরিবর্তন না করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো ড্রাইভার বসিয়ে সঠিক দিকে গাড়িটি নিয়ে যেতে পারবেন না। যদি সংবিধান পরিবর্তন না করেন তাহলে এটা হবে আগের সরকারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনার অবৈধ সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।

    এই নেতা বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। স্বরাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উন্নতির কথা চিন্তা না করে তিনি সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যার কারণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব থাকতে পারেন না আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। এছাড়াও জ্বালানি ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় এসেছে তার জন্য কাজ না করে তিনিও সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। আমরা তারও পদত্যাগ দাবি করছি।

    তিনি আরও বলেন, গণভোটকে জণগণ রায় দিয়েছে কিন্তু তারা জনগণের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তারা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়, কিন্তু তারা গণপরিষদ গঠন করছে না। কিন্তু তারা নিজেদের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্বে বসাতে চাচ্ছেন। যারাই বার বার ক্ষমতায় এসেছে তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে। আওয়ামী লীগ এতে সফল হলেও বিএনপি কখনো সফল হবে না। একই চক্করে মানুষ ঘুরপাক খাচ্ছে যার, কারণে সংবিধান পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, বিএনপি কোনোভাবে আগামীতে নির্বাচব সুষ্ঠুভাবে হতে দেবে না, তারা নির্বাচনে অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আগামীতে তারা পরিকল্পনা করে নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কীভাবে কুক্ষিগত করা যায় তারা সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে এজন্য মানুষের কণ্ঠরোধ করতে তারা মামলা, সাইবার আইনেকও সংশোধন করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন করছে। বিএনপি কিছু নতুন স্বৈরাচার তৈরি করেছে, আমরা যদি প্রথমেই নতুন স্বৈরাচারদের প্রতিহত করতে না পারি তারা আবার ফ্যাসিবাদ তৈরি করে। আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি করে ছিলে বিএনপি এখন একই স্টাইলে আগাচ্ছে। বিএনপি একটি শিশু সরকার এখন তাদের শাসন করার সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে সারা দেশে আমাদের নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশনে তাদের লোক ঢুকিয়েছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্রার্থী ঘোষণা দিচ্ছেন। যার করণে এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে নদীতে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দখলদারি চলছে। এখানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন জরিত আছে। তারা ক্ষমতাসীনদের সেল্টারেই রয়েছে।

    এই নেতা আরও বলেন, এ সরকার পুলিশকে স্বাভাবিক করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণকে শান্তি দিতে আন্দোলনে নেমেছি। নানাভাবে তারা সব জায়গাতে দলীয়করণ করছে। বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত এমপিদের গোপনে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যা অসাংবিধানিক। এ নির্বাচিত দায়িত্ব হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নতুন সংবিধান তৈরি করা। বাংলাদেশকে একটা আমূল পরিবর্তনে নিয়ে আসা।

    এছাড়াও হাসিনা ইস্যুতে তিনি বলেন, হাসিনা আর ফিরে আসবে না। যারা বলতেছে হাসিনা আসবে এটা ভারতীয়দের অপপ্রচার।

    এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও সদস্য রাজনৈতিক পর্ষদ সারজিস আলম, যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, জেলা এনসিপি আহবায়ক মাজেদুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ হাসান মন্টিসহ জেলার এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে র‌্যালি করবে বিএনপি। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে দলটি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‌্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    তিনি জানান, ওই দিন বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদল আয়োজন করবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী। আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ নভেম্বর।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    রিজভীর ভাষ্য, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। এ দিনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

    ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

    রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।

    জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) ঢাকা মহানগর শাখা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

    জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিন বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সেদিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটাই কি তাঁর অপরাধ? সরকার তার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এই হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে সাব্বির জামান বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিচারপতি মানিক যখন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তখনো তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি আরো বলেন, ৭৬ বছর বয়সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ২৬ দিন ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, অথচ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে সরকার এখনো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। বিমানবন্দরের লাগেজ এলাকায় অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হয়রানিমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকারী ও চাঁদাবাজরা ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না, অথচ জাতির সূর্যসন্তানকে কারাগারে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে মানুষ বৈষম্যহীন ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় মেজর আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলার মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বাড়াবাড়ি। এটি নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের (জামুপ) সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামুপের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফজলুল হক, মহাসচিব তাজিরুল ইসলাম, মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম, রিভাইভার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ডা. মইন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মো. আব্দুল করিম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল হাকিম খান, ডি এম শাহজাহান ও মো. ইকরামুল হক প্রমুখ।

  • আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপ এবং এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই উদ্বেগের কথা জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হওয়ার ঘটনায় আমি তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

    তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

    উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। লালটেপ মোড়ানো আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়।

    খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

  • জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর

    জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সোমবার শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন।

    এর আগে ৪ অক্টোবর একই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। এক দিনের রিমান্ড শেষে সেদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    গত ২ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।গ্রেফতারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।

    এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।