রাজনীতি

  • ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।

    একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

    আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব শুধু একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়কেই নিতে হবে।’

    ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগেই প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।’

    নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। অন্যথায় কমিশন নিজেদের স্বাধীন ও শক্তিশালী দাবি করলেও তা প্রমাণিত হবে না।’

    বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘বৈঠকের পরিবেশ ও আশ্বাস ইতিবাচক হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল না থাকলে এসব উদ্যোগকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে আগামীকালের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল দেখেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নেবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।’

  • আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে এভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব।’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’

    তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য।’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’

    বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা (কার্যক্রম) নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় গুরুতর উদ্বেগ জানিয়ে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


    শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী স্টিভেন পাওয়েলস কেসি (কিংস কাউন্সেল) এই আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন প্রথমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা শুধু বহালই রাখেনি, বরং আনুষ্ঠানিক রূপও দিয়েছে।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। দলটির অংশগ্রহণের পক্ষে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুসংহত করার চেষ্টা সাংবিধানিকভাবে অসংগত। এর ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশের আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং এর সমর্থকদের ওপর চলমান হামলার কারণে আইনজীবী নিয়োগ ও আইনি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির কয়েকটি ধারার লঙ্ঘন। এর মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার-সংক্রান্ত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংগঠন করার স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকারী ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ।

    আবেদনে আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি যথাযথ আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধ উদ্দেশ্য নেই বলেও এতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্য ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাটিকে বর্ণনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এবং এর অপব্যবহার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনার পক্ষে করা আবেদনে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

    আবেদনে তাদের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ‘স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব’

    ‘স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব’

    স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের ইতিহাস শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বামপন্থি নেতা সিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান স্বয়ং সংসদে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

    এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাসই হত্যা, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং মাত্র চারটি বাদে দেশের সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে বলা হয়েছিল—‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের যে রক্তমাখা ইতিহাস, তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই এ দেশে শুরু হয়েছে।’

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ মূলত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু সংগঠন।’

    তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে শীর্ষ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে, শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করা হয়েছে এবং দল নিষিদ্ধ করে নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতকে এ দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায়নি।

    বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখে, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরসহ বিগত ১৫ বছরের সব গণহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

  • রুহুল কবির রিজভীর সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    রুহুল কবির রিজভীর সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর মাইকেল মিলার।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর তিনটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান এবং বৈঠকে রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন এবং চলমান উন্নয়ন কাজ আরো গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

    এছাড়াও এ বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও স্হানীয় নির্বাচন এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশন নিয়েও আলোচনা করেন।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিস কামিলা পার্টিকা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম, এপিএস জাহেদুল আলম।

  • ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

    ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

    দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

    একই সাথে নাগরিক জীবনের সংকট নিরসন এবং জনগণের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে সফলভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় ধাপে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা এবং শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও এতে তুলে ধরা হবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন শেষে তা কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও বলেন, লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা সৃষ্টি করা হবে না বলে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোনো পক্ষ থেকে লংমার্চে অপতৎপরতা চালানো হলে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করে লংমার্চ সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য আপাতত সহনশীল কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। কিন্তু সরকারের আচরণে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি জনগণের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে ১১ দলীয় ঐক্য নীরব থাকবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে দেশবাসী হতভম্ব, স্তম্ভিত এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

    প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সফরে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদনমূলক সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সংসদের আসন্ন চতুর্থ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। অধিবেশনের আগে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ আবারও বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

    গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর যাওয়ার সময় কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরাএ ধরনের কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

    তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ লংমার্চে অংশ নেবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে আমি গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    লংমার্চের কর্মসূচির স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থানের সুযোগ-সুবিধা ও প্রবেশপথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা স্কুল এলাকায় স্থান সংকুলান ও প্রবেশপথের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যারা অভিযোগ করছেন, তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের অংশ নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের সংগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক নাগরিক, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

    এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ; এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আবু জাফর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ; এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী; এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন; বিডিপির সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি, সরকারও বিব্রত হবে: রিজভী

    আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি, সরকারও বিব্রত হবে: রিজভী

    আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে বিব্রত ও ভীত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগের সুযোগ দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।

    তবে সস্তা বাহবা বা কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে বক্তব্য দিলে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলবে।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তরুণদের দক্ষ করে দেশের উৎপাদন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা বিএনপির লক্ষ্য। জাতির পুনর্গঠনে তরুণদের বিশৃঙ্খলার অংশ না করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    তারেক রহমানের ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র্য কমবে বলে অর্থনীতিবিদদের গবেষণার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।

    বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের সময়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছিল।

    যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে তিনি আশা করেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘আইজিপি সাহেব, পুলিশকে বিতর্কিত করলেন, সরকারকেও বিব্রত করলেন’

    ‘আইজিপি সাহেব, পুলিশকে বিতর্কিত করলেন, সরকারকেও বিব্রত করলেন’

    ক্রসফায়ার’ বিষয়ক মন্তব্যের মাধ্যমে আইজিপি নিজেকে ও পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করেছেন এবং সরকার ও জনগণকে বিব্রত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

    মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি আইজিপির তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, ‘আইজিপি সাহেব!!!! কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেললেন!!! নিজে এবং সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করলেন। সরকার এবং জনগণকেও বিব্রত করলেন।’

    সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলা বা গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই সিনিয়র আইনজীবী আরো বলেন, ‘মিডিয়া ফেইস করাটা একটা বড় বিদ্যা। আয়ত্ত করুন।’

  • অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

    জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

    তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

    তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।

    বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।

    ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

  • ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    পুলিশের আইজিপি অবশেষে মুখ দিয়ে মনের কথাটা বলে ফেলেছেন। সরকার যদি অনুমতি দেয় তাহলে উনার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ক্রসফায়ার করতে পুরোপুরি রেডি আছে। আসলে উনি বলতে চাইছেন, অনেকদিন ধরে ক্রসফায়ার করতে উনাদের হাত নিশপিশ করতেছে। যদি সরকার বাহাদুর একটু অনুমতি দেয়!

    সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব এসব কথা লিখেছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

    স্ট্যাটাসে তিনি আরো লেখেন, ‘হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু উনাদের মনের মধ্যে একটা করে খুনী হাসিনা বসবাস করে। শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষায় গুপ্ত হয়ে আছে, এই যা।

    যে কোন সভ্য দেশে আইজিপির মত পজিশান থেকে কেউ যদি এই রকম কথা বলত, তার আর চাকরি করতে পারার কথা না। জুলাইয়ের পরের বাংলাদেশেও করতে পারার কথা না।

    সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সংবিধানের অধীনে দেশকে, জনগণকে সার্ভিস দেয়া। সরকারের জন্য ভাড়াটে খুনীর কাজ করা না।’