মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিবেদন:

·

, ,

মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) ঢাকা মহানগর শাখা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিন বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সেদিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটাই কি তাঁর অপরাধ? সরকার তার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এই হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে সাব্বির জামান বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিচারপতি মানিক যখন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তখনো তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি আরো বলেন, ৭৬ বছর বয়সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ২৬ দিন ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, অথচ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে সরকার এখনো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। বিমানবন্দরের লাগেজ এলাকায় অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হয়রানিমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকারী ও চাঁদাবাজরা ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না, অথচ জাতির সূর্যসন্তানকে কারাগারে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে মানুষ বৈষম্যহীন ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় মেজর আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলার মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বাড়াবাড়ি। এটি নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের (জামুপ) সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামুপের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফজলুল হক, মহাসচিব তাজিরুল ইসলাম, মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম, রিভাইভার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ডা. মইন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মো. আব্দুল করিম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল হাকিম খান, ডি এম শাহজাহান ও মো. ইকরামুল হক প্রমুখ।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ