রাজনীতি

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ের বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে সবাইকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একটির পর একটি কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তখন সবাইকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার জুলুমবাজি করছে। তবে এই জুলুমবাজির পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে।’

    পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    পথসভা শেষে লংমার্চটি যশোরের মুড়ালীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এ লংমার্চে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, খুলনার এই পথসভা শুধু লংমার্চের কর্মসূচি নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান কর্মসূচিটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

    অনুরূপ খুলনার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সাথে জুলুমবাজি করছে। তাদের থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে ১১ দলের ৭ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    একসঙ্গে পদ্মা সেতু পার হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা–কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চে অংশ নেওয়া ৭৭৮টি যানবাহন ।

    ১০টার দিকে পদ্মা সেতু পার হয়। এসব যানবাহন থেকে সেতুর টোল বাবদ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বহরে মাইক্রোবাস, কার, জিপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। সব মিলিয়ে ৭৭৮টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।

    ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, ঢাকা থেকে ৬০০–৭০০ গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ যাত্রা করবে। পথে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হবে বহরে। কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পর গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

    ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, এটি তাদের তৃতীয় দফার লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চ হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের কর্মসূচিটি আগের দুটির তুলনায় দীর্ঘ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার কথা লংমার্চের বহরের।

    ১১–দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–বরিশাল পথেও লংমার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ১১–দলীয়ে ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন।

  • মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি নির্ধারণ করল সরকার

    মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি নির্ধারণ করল সরকার

    প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কোনো মেডিকেল সেন্টার বেশি টাকা দাবি করলে বা হয়রানি করলে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি কোনো কর্মীকে দিতে হবে না। এ বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এতে আরও জানানো হয়, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কাজ করবে না। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নির্বাচিত কর্মীরা অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    কোনো কর্মীর মেডিকেল স্লিপ একটি এজেন্সি করলেও পরে তিনি অন্য এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আগের এজেন্সিকে কোনো বিলম্ব না করে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে হবে। স্লিপ প্রদানকারী এজেন্সির কোনো অজুহাত বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি দাবি করলে কিংবা হয়রানি, টালবাহানা বা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি করলে সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য secretary@probashi.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাইগ্রামস (MIGRAMS) স্লিপের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করবে মন্ত্রণালয়। কোনো অনিয়ম বা গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়াগামী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

    সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।

    খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।

    তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

    সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

    দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।

    রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।

    স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

  • সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    ডিএমপির (ঢাকা মহানগর পুলিশ) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি হারুন-অর রশীদ। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, হারুন-অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

    পরে ২২ জুন অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে হারুন-অর রশীদের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে ২০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

    এরপর প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়। সবশেষে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের তারিখ, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

  • এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন আরেক স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধসহ চার দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম। কিন্তু আজ দুঃখজনকভাবে দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের স্পষ্ট ওয়াদা—পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, এই দুই অপশক্তিকেই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে পরাজিত করা হবে।’

    সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং চারদিকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন আজ পুরোপুরি নাজেহাল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এ ব্যর্থতার মূল দায় বর্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ওপর।’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে উল্টো গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে অনতিবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের সব প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করছে। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং গণমিছিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।

    এ সমাবেশ থেকেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম।

  • এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    এমপিপুত্রের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

    নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যার বিচার, অভিযুক্ত এমপিপুত্র মিন্টুর ফাঁসি এবং নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টু ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, এমপিপুত্র মিন্টুর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল থেমে থাকবে না। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজ ছাত্রদল প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে, তা ১০ মিনিটের জন্য হলেও।

    কর্মসূচিতে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল ইসলাম নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ান আলী, সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব কুইকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অবস্থান কর্মসূচি থেকে শাকিল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। অভিযোগ, প্রথমে তাকে গুলি করা হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

  • তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    তাহসিফের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে: জামায়াত

    বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তিনি নিহত তাহসিফ সাউরির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এভাবে একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশবাসীর মনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’

    তিনি অভিযোগ করেন, তাহসিফ সাউরির নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা ও গাফিলতি রয়েছে।

    অথচ এসব সংস্থা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার পর এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।

    তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং তার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ’

  • মানিক পশারীর দাফন ও সনদ যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

    মানিক পশারীর দাফন ও সনদ যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

    পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন ও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন ও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের নির্দেশনায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটিকে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, মানিক পশারীর মৃত্যু এবং তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাতিলের বিষয়ে তারা কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় সচেতন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো মুক্তিযোদ্ধা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে কিংবা কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর হয়ে ব্যবহৃত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে।

    মানিক পশারী ২০০৯ সালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ সাক্ষী ছিলেন। চলতি মাসের ২৪ অক্টোবর মানিক পশারীর মৃত্যুর পর পিরোজপুরে তার গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেন জামায়াত নেতারা।

  • ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচার দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে সাদিক কায়েম

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
    ২৮ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট:
    জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে তাদের কর্মসূচিতে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিহত হন। ওই সময়ের সংঘর্ষের পর মরদেহের ওপর উল্লাসের দৃশ্য গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। তাদের অভিযোগ, মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার উদ্যোগ থাকলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
    প্রতিবছর ২৮ অক্টোবর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ঘটনাটি স্মরণ করেন এবং বিচারের দাবি জানান।

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি
    আলোচনা সভায় সাদিক কায়েম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ওই দিনের নৃশংসতার অভিযোগই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট কারণ।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পেছনে বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন ডাকসু ভিপি।

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং মরদেহের ওপর উল্লাসের অভিযোগের বিচার দাবিতে প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে দল দুটি। এবারও দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।