বিনোদন

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাবের বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। জশবন্ত সিং খালরা নামক এক শিখ মানবাধিকারকর্মীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

    ছবিটি আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন স্বয়ং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এই ছবিটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই জশবন্ত সিং খালরা জির আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদানই ছিল এই চলচ্চিত্রে আমার যুক্ত হওয়ার মূল কারণ। আমি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    ছবিটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা দোসাঞ্জ আগেই করেছিলেন। গত শনিবার এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সোমবারের মধ্যে ছবিটি নামিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো চিন্তা নেই, আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

    সোমবার রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির একটি গণপ্রদর্শনীর ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে দোসাঞ্জ পাঞ্জাবিতে লেখেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।’ (অর্থাৎ, এই ছবি আর থামানো যাবে না। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না)।

    কী বলছে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ?

    হানি ত্রেহানের পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটিতে মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের বাইরে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনো দেখা গেলেও, ভারতের ক্যাটালগ থেকে এটি তুলে নেওয়া হয়েছে। জি-ফাইভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা ছবিটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি… তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

    রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

    ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

    শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এক পোস্টে বলেন, ‘এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি, সত্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত। পাঞ্জাবকে তার অতীতের অপ্রীতিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হতে দেওয়া উচিত, তা চাপা দেওয়া কোনো সমাধান নয়।’

    কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ছবিতে প্রদর্শিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    আম আদমি পার্টির (এএপি) সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই ছবিটি ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে। পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ঐতিহাসিক ভয় আবারও স্পষ্ট হলো।’

    শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পাঞ্জাবের চরমপন্থী সময়কালের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখার এবং সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তৈরি করার অধিকার জনগণের রয়েছে।

    তিন বছরের সেন্সরশিপ জটিলতা

    চলচ্চিত্রটির এই ওটিটি মুক্তি সহজ ছিল না। মূলত ‘ঘাল্লুঘারা’ (শিখদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক গণহত্যা নির্দেশক শব্দ) নামে ২০২২ সালে ছবিটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সে সময় বোর্ড ছবিটির ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেয় এবং ছবির নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার কথা বলে।

    প্রযোজকেরা প্রথমে বম্বে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তিন বছর ধরে জটিলতা চলার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকে ছবিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর, অবশেষে গত ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি ভারতের জি-ফাইভে মুক্তি পায়।

    পরিচালক হানি ত্রেহান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বিলম্বের পর, ছবির প্রযোজকেরা সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই সরাসরি ওটিটি মুক্তির পথ বেছে নেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জও দাবি করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

    কেন জশবন্ত সিং খালরা ও এই চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন। তাঁর এই তদন্তের ফলে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

    ১৯৯৫ সালে জশবন্ত সিং খালরাকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পর ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

    চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের বিতর্ক নতুন করে উসকে গেছে।

    সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছবি যেমন—‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রকে কেন সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকে ভারতের দর্শকদের থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

  • নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মুখ। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আমাগী ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমার মুক্তির আগে নতুন রূপে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী।

    মঙ্গলবার নতুন ফটোশুটের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়া। ছবিটিতে জয়া আহসানকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস লুকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ফেসবুক

    সাদা রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও গলায় একাধিক স্তরের সোনালি-সবুজ পাথর বসানো স্টেটমেন্ট নেকলেস। ডান হাতের অনামিকায় বড় সবুজ রত্নখচিত আংটি, যা নেকলেসের সঙ্গে মানানসই। গয়নাগুলো ছবির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: ফেসবুক

    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন তার ভক্তরা। প্রতিক্রিয়া এসেছে এক হাজারের বেশি। ভক্তদের অনেকে জয়ার পোস্ট করা এসব স্থিরচিত্র নিজের ফেসবুক ওয়ালেও শেয়ার করেছেন।ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারণার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন জয়া। ছবি: ফেসবুক

    ক’দিন আগে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা নিয়ে জয়া বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর বাইরে আমি একজন দর্শকও। তাই আমিও অপেক্ষা করছি সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমার প্রথম পর্বে যে সম্পর্কের সমীকরণ আমরা দেখেছিলাম, এবার সেটি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখবে দর্শক।’ ছবি: ফেসবুক

    ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এগোবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ফলে আগের ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রের সম্পর্ক এবার কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় জয়া আহসান ছাড়াও অভিয়ন করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য প্রমুখ। ছবি: ফেসবুক

    জয়াকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওসিডি’ সিনেমায়। এটি পরিচালনা-রচনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। এই সিনেমাটি শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তৈরি। ছবি: ফেসবুক

    চলতি বছরের শুরুতে সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) বিভাগে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’ আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবি: ফেসবুক

  • সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    অভিনেত্রী রেখার জীবনের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো তাঁর কৈশোরে শুটিং করা একটি চুম্বনদৃশ্য। প্রায় ছয় দশক পর সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবার সামনে এনেছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মেয়ে পল্লবী চ্যাটার্জি।

    পল্লবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যদি সত্যিই ওই দৃশ্যে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে আগে রেখার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা অবশ্যই ভুল ছিল। যে-ই করুক না কেন, আগে সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।’ এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলিউডের সেই বহুল বিতর্কিত ঘটনাকে, যা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছিল লেখক ইয়াসের উসমানের লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে।

    যে দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না রেখা
    ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রেখা হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরির জন্য সংগ্রাম করছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ থেকে আসা এই কিশোরী তখনো বলিউডের নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতেন না।

    সেই সময় নির্মিত হচ্ছিল ‘আনজানা সফর’ নামের একটি ছবি। ছবিটি পরিচালনা করছিলেন রাজা নওয়াথে। ছবিতে রেখার বিপরীতে ছিলেন বিশ্বজিৎ।

    জীবনীগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। কিন্তু দৃশ্যটির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে নাকি আগে থেকে কিছুই জানতেন না রেখা। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ হঠাৎই তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বইটির দাবি, পরিচালক ‘কাট’ বলেননি আর চুম্বনদৃশ্যটি কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে। সেটে উপস্থিত অনেকেই তখন হাততালি, শিস কিংবা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

    বইয়ে বলা হয়েছে, হতভম্ব হয়ে যান কিশোরী রেখা। তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল জল। এ বর্ণনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল—রেখার সম্মতি আদৌ ছিল কি না।

    রেখা। এএফপি

    ‘যেকোনো মেয়ের জন্যই এটা ট্রমাটিক’
    পল্লবী চ্যাটার্জি মনে করেন, ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকলে তা যেকোনো কিশোরীর জন্যই মানসিকভাবে আঘাতকর হতে পারে।

    পল্লবীর মতে, সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরো দৃশ্য না জানিয়ে অভিনয় করাতেন, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করা ঠিক নয়।

    পল্লবী বলেন, ‘তখন রেখা খুবই ছোট ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? অনেক সময় অস্বস্তিকর কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস হয় না।’

    আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পল্লবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেখা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন এবং দুই পরিবার ছিল ঘনিষ্ঠ। ফলে ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি রেখার কাছে আরও বেশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

    বিশ্বজিতের ব্যাখ্যা
    এ বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিশ্বজিৎ এ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, এটি ছিল পরিচালকের নির্দেশ। পরিচালক নাকি চেয়েছিলেন, রেখার মুখে প্রকৃত বিস্ময়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠুক। সে কারণেই আগে থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
    বিশ্বজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ছিল না। ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছিল। কিন্তু রেখা নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন এবং ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।’

    বিশ্বজিতের এ বক্তব্য বিতর্ক কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, অনেকের মতে, কোনো দৃশ্যের শিল্পগত প্রয়োজন থাকলেও একজন অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া তা করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

    ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে আজকের মতো ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’, লিখিত সম্মতি বা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। অনেক সময় পরিচালক বা প্রযোজকের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিশেষ করে নতুন অভিনেত্রীদের পক্ষে আপত্তি তোলা কঠিন ছিল।

    বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের আগে বিস্তারিত আলোচনা, লিখিত সম্মতি এবং পেশাদার তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ধীরে ধীরে এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

    গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

    নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

    বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

    সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’

  • সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমাটি সম্প্রতি ভিয়েতনামের চতুর্থ ডানাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে এশিয়ার সেরা ছবি হিসেবে ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

    নাজিফা তুষি বলেন, ‘ক্রিটিকস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড কিন্তু সব সময় আলাদা একটি গুরুত্ব বহন করে। সেখানে এশিয়ার সেরা সিনেমা হিসেবে ক্রিটিকস চয়েজ পুরস্কার পেয়েছে “রইদ”। দেশ ও দেশের বাইরে দর্শক সিনেমাটি গ্রহণ করেছে। সেটাই মনে করিয়ে দেয় এই পুরস্কার। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটি আমার জন্য খুবই সম্মানের। একই সঙ্গে টিমের জন্য যেমন অর্জন, তেমনি সম্মানের। সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি।’

    ‘রইদ’–এ মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে

    ২০২৫ সালের শেষ দিকে ‘রইদ’-এর ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। পরে ঈদে মুক্তির পরে দর্শক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা পায় ‘রইদ’। একই সঙ্গে দেশের বাইরেও সিনেমাটি মুক্তি পায়।

    আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার দিয়েই সিনেমাটির যাত্রা শুরু হয়। মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ এটি অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়। ‘রইদ’ নির্মিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রামকে ঘিরে। নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ছাড়াও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

  • তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    বলিউড অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আজ মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার পর স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন আমির-গৌরী।

    সকাল থেকেই তাদের বিয়ে ঘিরে উৎসবের আমেজ। একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামছে অভিনেতার বাড়ির গেটে। ঘরোয়া পরিসরে আয়োজিত হলেও আমিরের মতো সুপারস্টারের বিয়ে অন্যতম আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়েছে।

    তবে রিনা দত্তকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। এ সংসারে জুনায়েদ ও ইরা খান নামে দুটো সন্তান রয়েছে। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এ সংসারে আজাদ খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে তার দুটো সংসারই ভেঙে গেছে।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।

    মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’

    মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।

    সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’

    এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।

    লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।