বিনোদন

  • আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে চলতি আসরের। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

    বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতে উঠেছেন আনন্দ-উৎসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনার প্রকাশও চোখে পড়ছে।

    বিশ্বকাপের ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিকা আমিনও। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ভক্তদের নজর কাড়ে। পোস্টে তিনি স্বামী সাইফ বাসুনিয়ার সঙ্গে চারটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে দুটিতে তাদের আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরে হাস্যোজ্জ্বল ও রোমান্টিক ভঙ্গিতে দেখা গেছে।

    তবে ধারণা করা হচ্ছে, জার্সি পরা ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড। একই সঙ্গে পোস্টে থাকা বাকি দুটি ছবিতে তাদের সাধারণ পোশাকে একই ধরনের পোজে দেখা গেছে।

    সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তানজিকার দেওয়া ক্যাপশন, যা নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রসদ জুগিয়েছে। কারণ, বাস্তবে তার স্বামী আর্জেন্টিনার সমর্থক নন, তিনি ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

    ছবির ক্যাপশনে তানজিকা আমিন নিজেই এই জার্সিবদলের মজার রহস্যের খোলাসা করেছেন। রসাত্মক ভঙ্গিতে ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন, ‘সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য আমার স্বামীর এটি অত্যন্ত চতুর একটি পদক্ষেপ। সে একজন পাক্কা ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আগামীতে আরও অনেক বছর সে সুস্থ ও শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায় বলেই তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস!’

    স্বামীর এমন কাণ্ড যে বেশ উপভোগ করেছেন তানজিকা, তিনি লেখেন, ‘আই লাইকড ইট। চিয়ার্স টু সাইফ বাসুনিয়া এবং তার চিরকালের প্রিয় স্লোগান— হ্যাপি ওয়াইফ, হ্যাপি লাইফ।’

    ক্যাপশনের শেষে আর্জেন্টিনার পতাকার ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছেন ‘ভ্যামোস’।

    শোবিজ অঙ্গনে বরাবরের মতোই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলের সমর্থকদের আধিক্য দেখা যায়। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক তারকাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী ও তার বোন মালাইকা চৌধুরী।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক জনপ্রিয় তারকা ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ তালিকায় আছেন মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর মতো তারকারা।

    অপরদিকে আর্জেন্টিনার কড়া ভক্তদের তালিকায় আছেন জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, পরীমণি ও পূজা চেরির মতো প্রথম সারির তারকারা।

  • বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই হাওয়া এসে লেগেছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের গায়েও। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে মজার খুনসুঁটি। হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও দুদলের সমর্থকদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের।

    আর এসব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘পাড়ার বিশ্বকাপ’। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পাড়ার মানুষের সম্পর্ক, প্রেম, দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বাস্তবতাকে হাস্যরস ও আবেগের মিশেলে এতে তুলে ধরা হয়েছে।

    নাটকটি রচনা করেছেন আহসান আলমগীর এবং পরিচালনা করেছেন আল হাজেন।

    নাটকটিতে দেখা যাবে, মহল্লার তরুণ আজিজ ও মানজিলের বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। তবে তাদের সম্পর্ক ও বিয়ে ভেঙে যায় ফুটবল নিয়ে মতবিরোধে। আজিজ আর্জেন্টিনার সমর্থক, আর মানজিল ব্রাজিলের ভক্ত। এই দ্বন্দ্বই ধীরে ধীরে পুরো পাড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে।

    এরপর শুরু হয় পাড়াভিত্তিক ‘বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট’। সেখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও পর্তুগাল টিম গঠন করে মহল্লার যুবকরা। খেলা ছাড়িয়ে এতে জড়িয়ে পড়ে প্রেম, প্রতিশোধ, কুসংস্কার এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন।

    নাটকের গল্পে আরও দেখা যাবে পতাকা বানানো, সেলুনে জার্সি নিয়ে মারামারি, রেফারির দুর্নীতি, এমনকি ফুটবল উন্মাদনায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভুলে সবাই একত্রিত হয় এবং ফুটবলকে আনন্দের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার বার্তা দেয়।

    ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে প্রতিদিন রাত ৯টায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে।

    এতে অভিনয় করেছেন অহনা রহমান, রাশেদ সীমান্ত, সাব্বির অর্ণব, শারমিন শর্মী, আব্দুল্লাহ রানা, সাদ্দাম মাল, আশরাফুল আলম সোহাগ, মুসকান শিকদার, জাভেদ গাজী, শায়লা, তানভীর মাসুদ, ফাতেমা হীরা প্রমুখ।

  • অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার

    অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার

    ‘খিলাড়ি কুমার’ খ্যাত বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের অভিনয় থেকে বিদায় নেওয়ার একটি গুঞ্জন সম্প্রতি বলিপাড়ায় বেশ চাউর হয়েছে। এই গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত তার সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ভূত বাংলা’ সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে, যা বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের ক্যারিয়ারে দেড় শতাধিক সিনেমার এ তারকাকে নিয়ে আগে কখনো এমনটা শোনা যায়নি। ক্যারিয়ারের মন্দাভাবেও বেশ দৃঢ় দেখা গেছে তাকে।

    তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, এখনই অবসরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবির ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে অবসর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে অক্ষয় বলেন, ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠলে মাঝে মাঝে অবসরের কথা মাথায় আসে। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মনে পড়ে যায় শুটিং আছে এবং সেটে তার জন্য প্রায় ৩০০ মানুষ অপেক্ষা করছেন। ‘পাঁচ সেকেন্ডের জন্য মনে হয় অবসর নেব। তারপর আবার কাজের কথা মনে পড়ে যায়। এভাবেই ৩৬ বছর কেটে গেছে’।

    মজার ছলে অভিনেতা আরও বলেন, অবসর নিলে বাড়িতে বসে ইলেকট্রিশিয়ান, কুকুর হাঁটানো বা বাগান করার মতো কাজ করতে হতে পারে। তাই কাজ চালিয়ে যাওয়াই তার কাছে ভালো মনে হয়। ‘আমি অবসর নেব না, সেটাই ভালো,’ যোগ করেন তিনি।

    পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অক্ষয় জানান, বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একদিন পরই পরিবার নাকি তাকে কাজে ফেরার কথা জিজ্ঞেস করেছিল। তাই ‘কাজ করাই ভালো।’

    অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের অবসর নেওয়া উচিত তখনই, যখন জীবনে আর পাঁচ সেকেন্ড বাকি। মৃত্যুর সময় বলবে—আমি অবসর নিচ্ছি। তার আগে কাজ করে যাওয়া উচিত।’

    প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে ‘সৌগন্ধ’ চলচ্চিত্র দিয়ে প্রধান চরিত্রে অভিষেক হয় অক্ষয় কুমারের। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ১৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘খিলাড়ি’, ‘হেরা ফেরি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘রাউডি রাঠোর’, ‘এয়ারলিফট’ ও ‘কেশরী’সহ একাধিক বাণিজ্যিক সাফল্য রয়েছে তার ঝুলিতে। সাম্প্রতিক সময়ে তার অভিনীত ‘স্কাই ফোর্স’, ‘হাউসফুল ৫’, ‘জলি এলএলবি ৩’ ও ‘ভূত বাংলা’ মুক্তি পেয়েছে।

  • দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    চার বছর পরপর যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো মাঠে নামে, তখন শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নয়, ফুটবলপ্রেমী পুরো পৃথিবীই যেন এক উৎসবে মেতে ওঠে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং অনেক সময় মনে হয়, বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের বড় বড় দেশের সঙ্গে পাল্লা দেয় বাংলাদেশ। খেলার এ সময়টায় দেশের শহর থেকে গ্রাম– সবখানেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছাদে ছাদে উড়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন কিংবা ফ্রান্সের পতাকা। চায়ের দোকানের আড্ডা জমে ওঠে প্রিয় দল ও প্রিয় খেলোয়াড়কে ঘিরে।

    সামাজিক মাধ্যমে চলে তর্ক-বিতর্ক, হাসি-ঠাট্টা আর ভবিষ্যদ্বাণী। এই উন্মাদনা থেকে দূরে থাকেন না দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। অভিনয়, গান কিংবা চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিশ্বকাপের সময় তাদের মনও পড়ে থাকে ফুটবল মাঠে।

    দেশের শোবিজ জগতের এই সময়ের শীর্ষ তারকা শাকিব খান। সবচেয়ে বেশি ফ্যানবেজ তাঁরই। তাই বিশ্বকাপের মাঠে শাকিব খান কোন দলের তা জানতে উদগ্রীব ভক্তরা। কিন্তু নায়ক তো কাউকে কষ্ট দিতে চান না। তাই নিজের সমর্থন নিয়ে কিছুটা রহস্যই রেখেছেন তিনি। অতীতে তাকালে দেখা যায় শাকিব খানের ২০১৪ সালের বক্তব্যে ব্রাজিল, ২০১৮ সালের বক্তব্যে আর্জেন্টিনা, ২০২১ সালের বক্তব্য ছিল আর্জেন্টিনার দিকে। ২০২২ সালের বক্তব্যে কিছুটা রহস্য ছিল। সে রহস্য রয়েছে এখনও। তাই ২০২৬-এর বিশ্বকাপে শাকিব খান কোন দলের সমর্থন দেন– তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা ও চলচ্চিত্র তারকা সিয়াম আহমেদ বেশ খোলামেলা। তাঁর পছন্দের দল স্পেন। বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে সিয়াম ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ ফুটবলের নিখুঁত পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ছন্দময় আক্রমণভাগ তাঁকে টানে। সিয়ামের মতে, স্পেনের খেলার মধ্যে এক ধরনের নান্দনিকতা রয়েছে, যা অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা।

    তরুণ তারকার বাইরে শোবিজের বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় দল সম্পর্কে জানতে। তিনি একবাক্যে বলেন– তাঁর পছন্দের দল ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হওয়া এ অভিনেতার কাছে ফুটবলশিল্পের এক অনন্য প্রতীক হচ্ছে ব্রাজিল। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার মধ্যে এমন এক সৌন্দর্য রয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের সহজেই মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে প্রিয় দলকে ঘিরে। আর্জেন্টিনার খেলাও ভালো লাগে তাঁর, কিন্তু হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের দল ব্রাজিলই।

    অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর কাছে ব্রাজিল মানেই ছন্দ, সৌন্দর্য আর সৃজনশীলতা। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার ধরন অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা। সাম্বা ফুটবলের সেই ঐতিহ্য এখনও তাঁকে মুগ্ধ করে। তাই বিশ্বকাপ এলেই তাঁর সমর্থন থাকে ব্রাজিলের জন্য।

    বিশ্বকাপে বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অন্য দলের সমর্থকের প্রতিও রয়েছে তাঁর সম্মান। মেহজাবীন বলেন, ‘খেলা সবসময় সুন্দর কিছু বয়ে আনে। খেলা উপভোগ করতে হয়। আমিও তাই করেছি। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির জন্যই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। গত বিশ্বকাপেও এই দলই সমর্থন করেছি। আমার একটাই কথা, একেকজন একেক দল সমর্থন করতেই পারেন। খেলা নিয়ে একজন অপরজনকে আঘাত করে কিছু বলা ঠিক নয়।’

    দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছোটবেলা থেকেই দলটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তাঁর ছেলেও বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক। ফলে বিশ্বকাপের সময় তাদের পরিবারে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলাদা এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

    অভিনেতা আজিজুল হাকিমের গল্পটা একটু ভিন্ন। কারণ তিনি শুধু দর্শক নন, একসময় মাঠের খেলোয়াড়ও ছিলেন। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জার্মান ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। জার্মানির শৃঙ্খলা, কৌশল ও দলগত সমন্বয় তাঁকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানিকে দেখার জন্য এখনও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন এ অভিনেতা।

    সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের সমর্থন ব্রাজিলের প্রতি। অন্যদিকে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের জয় দেখতে চান তিনি। ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার সাফল্য তাঁকে আনন্দ দেয় বলেই জানান।

    আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলা। আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর ভালোবাসার পেছনে রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রভাব। মিথিলা মনে করেন, আর্জেন্টিনা শুধু ফলাফলের জন্য নয়, তাদের খেলাধুলার সৌন্দর্যের কারণেও সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    অভিনেত্রী তানজিকা আমিনের কাছেও আর্জেন্টিনা মানে আবেগের নাম। ফুটবল নিয়ে আলোচনা বা তর্ক-বিতর্কে অংশ নিতে ভালোবাসেন তিনি। তবে দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কখনও দ্বিধায় ভোগেননি। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক তিনি। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে, প্রিয় দল যেন নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে পারে।

    অভিনেতা সজলও ফুটবলের বড় ভক্ত। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। তাঁর প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। ছোটবেলায় ম্যারাডোনার খেলা দেখে যে ভালোবাসার শুরু, তা এখনও অটুট রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় পুরোনো স্মৃতিগুলো আরও বেশি মনে পড়ে বলে জানান তিনি।

    অভিনেত্রী নাজনীন নীহাও আর্জেন্টিনার ভক্ত। ফুটবল বিশ্লেষণ না করলেও মেসির খেলা তাঁকে মুগ্ধ করে। সেই ভালো লাগা থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থন। বিশ্বকাপের আবহ শুরু হলেই প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন তিনি।

    চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম সমর্থন করেন ব্রাজিলকে। ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের দেশ হিসেবে ব্রাজিলের প্রতি তাঁর আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করেন। বিশ্বকাপে দলটি ভালো করলে তাঁর আনন্দও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

    এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি নিজেকে লিওনেল মেসির একজন বড় ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, তিনি মেসির ‘ক্রাশ’। তাই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থনও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বিশ্বকাপের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা থাকে তাঁর। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আরও একটি স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করবে– এমন প্রত্যাশাই তাঁর।

    শুধু এ কয়েকজন নন, দেশের শোবিজ অঙ্গনের আরও অনেক তারকা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে থাকেন। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন– মাহিয়া মাহি, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সালমা খানম নাদিয়া, নিরব, ইমন, কচি খন্দকার, কিশোর, কর্ণিয়া এবং ঝিলিক।

    অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আছেন– অপু বিশ্বাস, বাপ্পি চৌধুরী, মিশা সওদাগর, আনিসুর রহমান মিলন, বাপ্পা মজুমদার, কোনাল, পড়শী এবং সামিরা খান মাহির মতো জনপ্রিয় তারকারা।

  • মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    তৃণমূল কংগ্রেস থেকে জিতে লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল হারার পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনিসহ কয়েকজন তৃণমূল এমপির নেতৃত্বে আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এসব নিয়ে কোনো অপরাধবোধ নেই শতাব্দীর, তবে খারাপ সময়ে দিদির (তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়) পাশে না থাকায় তার অপরাবোধ হচ্ছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন,‘আমার একটাই অপরাধবোধ কাজ করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ সময়ে তাকে ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু দিদিই সেই জায়গায় নিয়ে গেল আমাদের!’

    ভারতের এ এমপি বলেন. তিনি এখনও মমতার সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে আছেন। এই মুহূর্তে তিনি মমতার পাশে নেই, তাতে তার কষ্টও হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখটা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কেয়ার করতেন, তা হলে এটা হতো না।’

    কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত, তাও জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলের পরে যখন কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হলো, আমরা গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও হার নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। দিদির মনে হচ্ছে, উনি হারেননি, কিন্তু দলের ভেতরে হার নিয়ে কথা বলতেই হবে, সেখানে তো উনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘‘তোমার এলাকার কেন এ রকম ফল হলো?’’ সে রকম কোনো আলোচনা নেই। শুধু বলছেন, ‘‘চিঠি লেখ’’। দু-একজন বলতে গেল। থামিয়ে দেওয়া হলো। চ্যানেলে-ইন্টারভিউতে দিদি যা বলছেন, সেগুলোই ওখানে বলা হচ্ছে। এভাবে দল চলতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই দলের সঙ্গে আর থাকা যায় না।’

    মমতাকে নিয়ে শতাব্দী বলেন, ‘দিদি অনেক দিন ধরেই কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে শেষ দিনেও দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম। বীরভূমে কোথায় কী ভুল হচ্ছে প্রার্থীচয়নে, জানিয়েছিলাম। তখনও এক লাইনে উত্তর এসেছিল। কোনো এক ব্যক্তির নাম করে বলছেন, ওর বদমায়েশি। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমার নেই। কিন্তু একটা এলাকায় ১৭ বছর ধরে রয়েছি। এলাকার কোন লোকটা ভালো, কে খারাপ-দুর্নীতিবাজ, এটা বোঝার তো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু উনি শোনেননি।’

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভাতিজা অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিষেক তার কথা শুনেছেন। তার থেকে নানা সময়ে মতামতও নিয়েছেন। শতাব্দী বলেন, ‘অভিষেক কিন্তু শুনত। অন্যের কথা বলতে পারব না। আমার ক্ষেত্রে শুনেছে। অনেকেরই মতামত জানতে চাইত। এই গুণটা ছিল। স্টেপও নিয়েছে।’

    সংসদে বিদ্রোহীরা মিলে যে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, তা আদতে তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দলের সঙ্গে থাকতে চাইছি না। যেভাবে দলের অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য বেড়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত দিন মুকুল রায় ছিলেন, তত দিন উনি শুনতেন। দলে বলার জায়গায় ছিল। সব সমাধান হতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উনি শুনতেন। উনি চলে যাওয়ার পর থেকে আর শোনার কেউ ছিলেন না। দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকপন্থী আর মমতাপন্থী। কর্মীরা আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’

    তবে তৃণমূলের এ এমপি বলেন. তাদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, ‘আমরা আলাদা ব্লক। আলাদা বসব। আলাদা আলোচনা করব।’

  • সাবেক স্ত্রীকে ফের বিয়ের গুঞ্জন, নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেতা

    সাবেক স্ত্রীকে ফের বিয়ের গুঞ্জন, নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেতা

    অভিনেত্রী ও সাবেক স্ত্রী দালজিত কৌরকে ফের বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতের টেলিভিশন অভিনেতা শালিন ভানোট—সোমবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন সামনে আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শালিন। অভিনেতার দাবি, দালজিতকে নিয়ে খবরটি সত্য নয়। সেই সঙ্গে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি মুম্বাইয়ে পরিচালক ইমতিয়াজ আলির নতুন প্রকল্প ‘ম্যা ওয়াপাস আউঙ্গা’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন শালিন। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করে, সাবেক স্ত্রী দালজিত কৌরের সঙ্গে নাকি আবার সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন অভিনেতা।

    ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শালিন নিজেই মন্তব্য করে বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনগড়া খবর।’


    শালিন বলেন, ‘একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব। শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।’

    এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট পেজকে অবিলম্বে পোস্টটি মুছে ফেলার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন অভিনেতা।

    শালিন ভানোট ও দালজিত কৌরের পরিচয় হয়েছিল জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘কুলভাড্ডু’-এর সেটে। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০০৯ সালে বিয়ে করেন তারা।

    দাম্পত্য জীবনের পাঁচ বছর পর, ২০১৪ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে জেডন। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

    দালজিত কৌর পরবর্তীতে শালিনের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং পরকীয়ার অভিযোগ আনেন। তিনি পুলিশের কাছে এফআইআরও দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় এই তারকা দম্পতির।

    এরপর ২০২৩ সালে কেনিয়াভিত্তিক ব্যবসায়ী নিখিলে প্যাটেলকে বিয়ে করেন দালজিত। সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন অভিনেত্রী।

  • ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    গত বছরের অক্টোবরে কানাডার টরন্টোতে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রিমিয়ার হয় ‘শেকড়’ সিনেমার। সে সময় নির্মাতা প্রসূন রহমান জানিয়েছিলেন, কোনো এক ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এই কোরবানির ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন প্রচার। দুটি গান ও ট্রেলার প্রকাশ করেও সরে আসেন প্রসূন রহমান।

    শিগগির শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে এ উন্মাদনা। এ সময়টিকেও সিনেমা মুক্তির জন্য ভালো সময় মনে করছেন না প্রসূন। তাই এই নির্মাতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেবেন তিনি। প্রসূন রহমান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল, এই ঈদে শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু একসঙ্গে অনেক সিনেমার সমারোহ দেখে নিজেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। সুস্থ প্রতিযোগিতায় আমার অস্বস্তি নেই, কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ে আমার অস্বস্তি হয়। পাশাপাশি মনে হয়েছে, শেকড়ের মতো পারিবারিক আবেগনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য একটু নিরিবিলি সময়ই বেশি উপযুক্ত। আমরা চাই, দর্শক তাড়াহুড়া বা কোলাহলের মধ্যে নয়, একটু স্থির হয়ে সিনেমাটি দেখবেন।’

    নির্মাতা প্রসূন আরও বলেন, ‘ঈদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর আবেদন শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে।‌ ঈদের আমেজ এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের এই দারুণ মৌসুমটি শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আমরা শেকড় নিয়ে আসব।’

    শেকড় সিনেমায় উঠে এসেছে মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও আবার সেই শেকড়ের সন্ধান, পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টার গল্প থাকছে এই সিনেমায়।

    শেকড় সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম ও আইশা খান। আরও আছেন দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা, শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়াসহ অনেকে।

  • দীঘির ইচ্ছা

    দীঘির ইচ্ছা

    শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পথচলা শুরু করেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে ফিরেছেন নায়িকা হয়ে। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নায়ক শান্ত খান। সবশেষে তাকে দেখা গেছে এম রাহিমের ‘জংলি’ সিনেমায়।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দীঘি তার মনের ইচ্ছার কথা জানালেন। উপস্থাপিকা শান্তা জাহানের প্রশ্ন- কখনো সুযোগ পেলে কার বায়োপিকে অভিনয় করতে চান তিনি।

    উত্তরে দীঘি বলেন, ‘আমি পরীমণি আপুর বায়োপিকে অভিনয় করতে চাই। আপুর একটি সাক্ষাৎকারে তাকে বলতে শুনেছিলাম, তিনি তার বায়োপিকে নিজেই অভিনয় করতে চান। আমি মনে করি পরীর বায়োপিক হবে, সবচেয়ে ফাইনেস্ট এন্টারটেইনিং ও আলোচিত বায়োপিক। যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। এজন্য যদি কারও বায়োপিকে অভিনয় করি তাহলে পরী আপুর জীবনের গল্পেই অভিনয় করতে চাই।’

    সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীঘির পথচলা শিশুশিল্পী হিসেবে। ছোট বেলাতেই তিনি পেয়ে যান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পেয়েছেন তিন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

  • ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান’

    ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান’

    বর্তমানে সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি। আজমান রুশোর পরিচালনায় এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি।

    আজ বুধবার (৩ জুন) এক সাক্ষাৎকারে ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবিলা নূর। তার ভাষ্য, ‘শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তার ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। “তাণ্ডব” দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।’

    সাবিলা বলেন, ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।’

    ‘আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা- এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।’ বললেন সাবিলা।

    ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’- কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন জানতে চাইলে সাবিলা বলেন, ‘তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন “তাণ্ডব” বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে “লিচুর বাগানে” ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার “বনলতা এক্সপ্রেস” পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। “বনলতা এক্সপ্রেস”র চিত্রার চেয়ে “রকস্টার”র মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।’

  • হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    পবিত্র হজ পালন শেষে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। এই পবিত্র সফর তার মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিকতা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও অবিচল বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে ‘ইশক মুর্শেদ’ খ্যাত এই তারকা বলেন, এই পবিত্র সফর তাকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং ‘সব ধরনের জাগতিক আবেগ থেকে মুক্ত হতে’ সাহায্য করেছে।

    বাবা-মায়ের সঙ্গে হজ পালন করতে পারায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুরেফিশান। তিনি জানান, হজের প্রথম দিন ‘রমি’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে বাবা-মায়ের উপস্থিতি তাকে শক্তি জুগিয়েছিল।

    এই সফরকে ‘সবর, শুকর ও তাওয়াক্কুলের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, এটি কেবল তার ভেতরেই গভীর পরিবর্তন আনেনি বরং অন্যান্য নারী হাজিদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও করে দিয়েছে।

    সহযাত্রীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ও ভক্তির কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি এবং ক্যাম্পের সব ধরনের খাবার খেয়েছি’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) অসাধারণ সব গল্প শুনেছি এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে ধর্মকে আরও গভীরভাবে জেনেছি’।

    এই পুণ্যময় সফরে অর্জিত অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘জানি না আমি নিজের সঙ্গে কী নিয়ে যাচ্ছি, কারণ প্রাপ্তি এত বেশি যে তা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমি এটা জানি যে, পেছনে কী ফেলে যাচ্ছি—এতদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সব জাগতিক চিন্তা ও আবেগের গুরুভার’।

    ‘সব ধরনের আবেগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া—এটাই হজ আমাকে শিখিয়েছে। সম্ভবত এই একটি কথাই আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দেব। আমার শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা, কিন্তু আমার মন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও পরিপূর্ণ’।

    বার্তার শেষে দুরেফিশান বিশ্বের সব মুসলিমকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সবাইকে এই পবিত্র হজব্রত পালনের তৌফিক দান করেন।