ফুটবল

  • এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানো যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচরাও ফরাসি এই তারকাকে আটকানোর নানা কৌশল খুঁজে থাকেন। কিন্তু তাকে রুখতে ব্যতিক্রমী এক ‘সমাধান’ দিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড— একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে!

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত তিনটায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের ছলে আর্নল্ড বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা কি একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি? কিন্তু তারা সেটি অনুমোদন করেনি।

    ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

    ইরাকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জালাল হাসান সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছিলেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কে গোলপোস্ট সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্নল্ড।

    ইরাকি কোচ বলেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুক।

    অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।

    এই অর্জন নিয়ে এমবাপে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু নেই। ফ্রান্সের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

  • তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে লা আলবিসেলেস্তেদের। তার আগে আলোচনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য একাদশ।

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি পরিবর্তন আসবে। চোটের কারণে রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েলকে বিশ্রাম দেবেন লিওনেল স্কালোনি। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় তাঁকে বেঞ্চে রাখা হচ্ছে। মন্তিয়েলের অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে রাখা হবে নাউয়েল মলিনাকে। এই পজিশনে স্কালোনির প্রথম পছন্দ তিনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু রাইব্যাকই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আরও দুটি পরিবর্তন আসতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলজেরিয়া ম্যাচের মতো অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও লাউতারো মার্তিনেস শুরুর একাদশে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    আক্রমণভাগে আরও একটি পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদা একাদশে থাকবেন নাকি তাঁর জায়গায় সুযোগ পাবেন নিকোলাস গনসালেস—এখনো সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু করা আলমাদার ওপরই আবারও আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি—এমনটাই দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    লেফটব্যাক পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাকেই ধরে রাখছেন স্কালোনি। কাফের চোট কাটিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে ফিরলেও তাঁকে শুরু থেকেই খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না কোচিং স্টাফ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যেতে পারে এই ডিফেন্ডারকে। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও কিছুটা সময় খেলাতে পারেন স্কালোনি, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনসালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।

  • নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার পুরো নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। একইভাবে ‘এইচ’ গ্রুপের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে এই গ্রুপের যেকোনো এক দলের বিপক্ষেই সেরা ৩২-এ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

    ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। গতকাল রাতে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সমান দুই পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

    ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠলে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারায় এবং কেপ ভার্দে জয় না পায়, তাহলে স্পেন রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে পাবে। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দল জিতলে গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে ফেয়ার প্লে সূচক দিয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের অবস্থান।

    অন্যদিকে কেপ ভার্দে জয় পেলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আফ্রিকার দলটিই রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে। সৌদি আরবও এখনো পুরোপুরি সমীকরণের বাইরে নয়। উরুগুয়ে জয় না পেলে এবং সৌদি আরব নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে তারাও রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, সামগ্রিক গোল ব্যবধান, মোট গোল, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাংকিং।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি চার বছর পর পর, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই খেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    কিন্তু ২০২৬ সালে, এই প্রতিযোগিতা শুধু গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি নিয়েই নয়। আজকের সেরা ফুটবলাররা হলেন বিশ্বব্যাপী তারকা, যাদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, গেমের সেরা মুহূর্ত ও প্রশিক্ষণ সেশনের ক্লিপ থেকে শুরু করে পারিবারিক পোস্ট এবং নেপথ্যের ছোট ছোট দৃশ্য পর্যন্ত। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান।

    সোশ্যাল মিডিয়া মূলত খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যকার সম্পর্ক বদলে দিয়েছে। একটিমাত্র পোস্ট অনেক টেলিভিশন সম্প্রচার বা সংবাদ মাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের অনুরাগ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোকে পৃষ্ঠপোষক এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। আসলে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনুসারী রয়েছে যা পুরো দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন এখানে এমন ১০ জন খেলোয়াড়কে তুলে ধরা হলো, যারা মাঠের প্রতিপক্ষের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করেন।

    ১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    হ্যারি কেইন এখন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছু তরুণ তারকার তুলনায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা কম, ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে কাজ করার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পায়। ইংল্যান্ড অধিনায়কের স্কেচার্স এবং ক্যাডবেরির মতো কোম্পানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

    ৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৫০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৩৫ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি

    লামিন ইয়ামালের উত্থান এক কথায় অবিশ্বাস্য। কিশোর বয়সেই তার বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ভক্তরা তার যাত্রাপথ অনুসরণ করতে আগ্রহী, এবং যদি সে তার খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখে, তবে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী বিশ্বকাপের মধ্যে সে এই খেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক নাম হয়ে উঠতে পারে।

    ৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৭০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৪০ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, তার মজাদার ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যও পরিচিত।

    তার জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বিটস বাই ড্রে-এর মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি যেমন রেকর্ড ভাঙছেন এবং ট্রফি জয় করছেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।

    ৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৬০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $১০ মিলিয়ন – $১৫ মিলিয়নেরও বেশি

    ইংল্যান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স তাকে ভক্তদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তিনি অ্যাডিডাসের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেছেন, যারা তাদের ফুটবল প্রচারাভিযানে তাকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করে।

    মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে। সবাই তার বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করে, যা তাকে বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভক্তকুল তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    ৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্য তাকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এনে দিয়েছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ বড় স্পনসরদের আকৃষ্ট করেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তার ভক্তকুলও ক্রমাগত বাড়ছে।

    ৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ২০০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ১২৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ মিলিয়ন – ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    কিলিয়ান এমবাপে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশাল ভক্তকুল তৈরি করেছেন।

    নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে অংশীদারত্ব করেছে এবং তিনি খেলাধুলার জগতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রীড়াবিদ। তার সেরা সময়গুলো এখনও সামনে, এমবাপে যেমন উন্নতি করছেন, তেমনি তার ভক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

    ৩. নেইমার (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৪৫০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ২৩০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    খুব কম ফুটবলারই নেইমারের তারকাখ্যাতির সমকক্ষ হতে পারেন। মাঝেমধ্যে চোট তার গতি কমিয়ে দিলেও, তা তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনলাইনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন এবং পুমা ও রেড বুলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন।

    ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ কোটির বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫০.৫ কোটি – ৫১.০ কোটি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি

    লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরে তার আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। যেহেতু অনেকেই আশা করছেন ২০২৬ সালই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ১.১ বিলিয়ন+

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৬৬৫+ মিলিয়ন

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $৬০ মিলিয়ন+

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদই এর চেয়ে বড় অনলাইন ফলোয়ার তৈরি করতে পারেননি।

    ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাই অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে তিনি ক্রমাগত বিপুল আয় করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার ক্যারিয়ারে, এবার তিনি বিশ্বকাপে কোনো ঝলক দেখাতে পারবেন কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবু জনপ্রিয়তায় তিনিই সবার ওপরে রয়েছেন, কে অস্বীকার করবে?

  • একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

    আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি।

    সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

  • বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

    মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা। একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

    দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে মেক্সিকো। শুক্রবার গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল মেক্সিকো। দুই ম্যাচে দলটির মোট পয়েন্ট ৬। দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট ৩। গ্রুপের অন্য দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের পয়েন্ট ১ করে হওয়ায় মেক্সিকোর শীর্ষ দুইয়ে থাকা এখনই নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    এক ম্যাচ হাতে রেখে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিতের পথে মেক্সিকোর জয়সূচক গোলটি করেছেন লুইস রোমো।

    এই ম্যাচে দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায়নি কোনো দল।

    ৫০ মিনিটের মাথায় দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং–গিউয়ের ভুলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। একটি ক্রস ধরতে বেরিয়ে এসে তিনি নিজের এক সতীর্থের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং বল হাত থেকে ফেলে দেন। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে একটুও দেরি করেননি লুইস রোমো। বক্সের ভেতর দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলটি ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতার ফল, আর রোমো সেই ভুলের সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান।

  • এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। দুই দশক পর সেই একই দিনে, কানসাস সিটিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য লিখলেন ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানই দুর্দান্তভাবে শুরু করেননি, একই সাথে ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই এক ম্যাচেই লিওনেল মেসি যেসব বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়োবৃদ্ধ হ্যাটট্রিকম্যান: আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি যখন তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো।

    ২. আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠ ও বয়োবৃদ্ধ গোলদাতা: এই হ্যাটট্রিকের পর মেসি এখন একই সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা! ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি, আর আজ ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে করলেন হ্যাটট্রিক।

    ৩. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লোসাকে ছোঁয়া): আলজেরিয়ার জালে ৩ বার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর ১টি গোল করলেই তিনি এককভাবে চূড়ায় উঠবেন।

    ৪. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন।

    ৫. ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের আসরে গোল করার নজির গড়লেন তিনি।

    ৬. আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তার সামনে আছেন কেবল কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ)।