ফুটবল

  • এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    মঙ্গলবার রাতটা (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের অন্য রাতের মতো ছিল না। এ রাতে পৃথক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ড। নিউইয়র্ক, বোস্টন থেকে তারা যখন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রান্তে কানসাস সিটিতে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুনদের উদ্দেশে মেসি যেন সেই চিরাচরিত বার্তাটিই দিলেন- ‘সেরা হতে চাইলে আগে সেরাকে হারাতে হবে।’

    কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এম্বাপে। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন হলান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার আসনটি দখল করতে নতুন প্রজন্মের এই দুই নক্ষত্র প্রায় প্রস্তুত।

    গোলের পর এম্বাপের উদযাপন। ছবি: এএফপি

    কয়েকদিনের মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি কিংবা ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেকেই অতীতের অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। এমন সময়ে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন নিজের দাপটের কথা আরেকবার জানান দিলেন।

    প্রথমে তিনি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তালিকায় এম্বাপেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে। আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। তিনিই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

    ম্যাচে লিওনেলের প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেই গোলটি ছিল অসাধারণ এক শট, যা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো একটি থ্রু বল পেয়ে মেসি বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ঘিরে ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচজন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক তখনই তিনি বাম দিকে এক পা সরিয়ে জোরালো শট নেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক লুকা জিদানের আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

    গোলটির পর অনেক দর্শকের মনেই দোলা দেয়- ‘এটাই যেন সেই চিরচেনা মেসি। সেই জাদুকর মেসি’।

    দ্বিতীয় গোলের শট নিচ্ছেন মেসি। ছবি: এএফপি

    মেসি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১৫ মিনিট পর। তখন তাঁকে দেখা যায় বার্সেলোনার সেই ‘সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার’ রূপে। বক্সের প্রায় ৩০ গজ বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জোরালো শট নেন। বলটি সোজা আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের দিকে গেলেও শটের গতি সামলাতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে আসতেই তা লুফে নেন মেসি। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে অনসাইডে থাকা মেসি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এমন এক কিংবদন্তির গোল, যিনি এখনো পায়ের মতোই মস্তিষ্ক দিয়ে খেলেন।

    তৃতীয় গোলটি যেন প্রথম দুই গোলেরই আরেক রূপ। ততক্ষণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চাপে বিধ্বস্ত। ফলে ওই সময় বক্সের কিনারায় কেউই আর মেসিকে মার্ক করতে যাননি। উইং থেকে নিকো গনজালেসের বাড়ানো পাসটি মেসির পেছনের দিকে ছিল। কিন্তু ক্লান্ত আলজেরিয়ান ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করার কোনো তাড়াহুড়োই দেখাননি। সে সুযোগে মেসি পা বাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, অর্ধেক ঘুরে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। সেখানেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

    আগের ম্যাচগুলোতে কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মহাতারকা লিওনেল মেসির কাছে থেকেও একই মানের কিছু দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। ফ্রান্সের হয়ে এম্বাপের জোড়া গোল সামর্থ্যের পুরো ঝলক দেখিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিতে ফুটে ওঠে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

    প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ছবি: এএফপি

    অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন হলান্ড। প্রথমে নিখুঁত এক ক্রসে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়ের হয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর ইরাকের এক ডিফেন্ডারের ঢিলেঢালা ব্যাকপাসে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের আগে বল দখলে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে।

    বিশ্বকাপের এমন এক রাতে যখন একের পর এক তারকা আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন অনেকেরই মনে হচ্ছিল বিশ্ব ফুটবলে নেতৃত্ব বদলের সময় বোধহয় এসে গেছে। মেসি ও রোনালদো এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছেন যে, নিজেরাই তাদের উত্তরসূরির উত্থান-পতন দেখেছেন। এবার তারা দুজনই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন।

    তবে এম্বাপেকে অনেকেই মেসি-রোনালদোর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন। অপরদিকে হলান্ড নিজেকে বিশ্বের সেরা ও নিখুঁত স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    কিন্তু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে যখন মেসি মাঠ ছাড়েন এবং দর্শকদের বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে বিদায় নেন, তখন তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন- এম্বাপে, হলান্ড কিংবা অন্যরা হয়তো তারকা, কিন্তু ফুটবল নামের এই মহাবিশ্ব এখনো সেই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যে সূর্যের নাম লিওনেল মেসি।

  • জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    মোহাম্মদ সালাহ আজ জন্মদিনটা কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন?

    ৩৩ বছর কেটে গেল, কেউ কি কথা রাখল?

    নিজের কাছে দেওয়া একটা কথা হয়তো সালাহ নিজেই রাখতে পারেননি। ক্লাব ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই; কিন্তু আজ যখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবেন, একটা বড় অতৃপ্তি ঘোচাতে চাইবেন। বিশ্বকাপে তিনবার খেলেও এখন পর্যন্ত জয় পায়নি মিসর। সালাহর জন্য আজকের ম্যাচটা তাই বড় একটা চ্যালেঞ্জও।

    সালাহর জন্য হয়তো বিশ্বকাপে এটাই বড় কিছু করার শেষ সুযোগ। চার বছর পর বয়স হবে ৩৭। এমনিতেই ক্লাব ক্যারিয়ারে একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। লিভারপুলের হয়ে সবকিছু জেতার পর এই মৌসুমেই বিদায় বলেছেন অ্যানফিল্ডকে। এক অর্থে বেলজিয়ামের ম্যাচটা সালাহর জন্য নতুন একটা শুরুও।

    পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আজ মিসরের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের সোনালি প্রজন্ম অনেক আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি কিছু। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকলেও সেবার বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব পেরোতেই পারেনি।

    মিশরের জার্সিতে সালাহ

    ডি ব্রুইন সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন আগেই, চোটের সংগ্রাম করতে থাকা লুকাকু এই মৌসুমে মাঠেই নেমেছেন মাত্র সাত ম্যাচে। থিবো কোর্তোয়া ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে এখনো দাপটে খেলছেন, তবে এই আসরের পর বেলজিয়ামের হয়ে বড় কিছুর সুযোগ পাবেন কি না আর বলা কঠিন। তাঁদের জন্যও এই বিশ্বকাপটা কিছু করার শেষ একটা সুযোগ।

    এক অর্থে বেলজিয়ামের ওপর কোনো চাপও নেই এবার। ফেবারিটদের তালিকায় কেউ তাদের ধরছে না, এই বিশ্বকাপে এক অর্থে নতুন একটা শুরু হচ্ছে তাদের।

    সালাহর ওপর খানিকটা চাপ তো আছেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে পেলেন চোট। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারলেন না, চোট কাটিয়ে ফিরলেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে হেরে তো প্লে–অফ থেকেই বাদ পড়ল মিসর। এবারের বাছাইপর্বে অবশ্য মিসর সহজেই উতরে এসেছে।

    সালাহর জন্য একটু আশা হতে পারে দলের বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি। ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এর মধ্যেই নিজেকে চিনিয়েছেন। আছেন ডেনমার্কের দল নরশেলানে খেলা ইব্রাহিম আদেল; আর তাঁদের কোচ হোসেম হাসান, মিসরের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড যাঁর। সালাহর গোল এখন ৬৭, হোসেমের চেয়ে দুই গোল কম। এই বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতায় এখানেও কিছু যোগ করার আছে সালাহর। যে শুরুটা করতে চাইবেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

  • কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্ব। থেমে নেই বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে মেতে উঠেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। প্রিয় দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

    ফুটবল নিয়ে সেই চিরচেনা ভালোবাসার কথা এবার অকপটে স্বীকার করলেন জেন-জির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ছোটবেলা থেকেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের ফুটবল প্রেমের কথা শোনালেন এ সংগীতশিল্পী।

    আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠ এবং মাঠের বাইরের এই চিরচেনা ফুটবল বৈরিতা বা দ্বৈরথ বেশ আনন্দ দেয় বলে জানান এ সংগীতশিল্পী। পারশার মাহজাবীন পূণি বলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কথার লড়াই, আবার কখনো তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোলাগা প্রসঙ্গে পারশা মাহজাবীন পূর্ণি বলেন, আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি ছোটবেলা থেকে। আমার বড় ভাই দেখতাম যে পতাকা নিয়ে আসত অনেক বড় বড়। তো বাসায় যে রকম পতাকা লাগাত, ওই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা।

  • বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা কে? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই তো ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। বড় তারকা, বড় ফুটবলার, আবার খেলেন আক্রমণভাগে—এমন ফুটবলাদের ১০ নম্বর জার্সিই পরতে দেখা যায় সাধারণত।

    তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে উঠছে না ইয়ামালের। বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও, জাতীয় দলে তাঁর এই বিখ্যাত নম্বরটি না পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে আছে স্পেন ফুটবলের বহু বছরের এক ঐতিহ্য।

    দলটির নিয়ম অনুযায়ী, যে খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা যত বেশি, জার্সি নম্বর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই মূলত এই নিয়ম মেনে চলা।

    আর সে কারাণেই এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ১০ নম্বর জার্সিটি থাকছে দানি ওলমোর কাছে। স্পেনের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা ওলমো ইয়ামালের অভিষেকের আগে থেকেই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া ইয়ামালের ঝুলিতে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
    ওলমো অবশ্য বার্সেলোনাতে ইয়ামালের সতীর্থ, সেখানে ইয়ামালাই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর জার্সিটি প্রথমে আনসু ফাতিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজুরি আর প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে তিনি বার্সাতে থিতু হতে পারেননি।

    পরে ১০ নম্বর জার্সিটি ইয়ামালকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফর্মও করছেন। ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন এবার। তবে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না ইয়ামাল।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের ভেতরে জার্সি নম্বর নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তরুণ ইয়ামাল দলের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবেই বোঝেন, বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থ ওলমোর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।

    এই ছবিটি পোস্ট করেন ইয়ামালইনস্টাগ্রাম

    দলের সবচেয়ে বড় তারকার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দলের অভিজ্ঞদের সম্মান জানানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন জার্সি নম্বর হিসেবে ইয়মাল বেছে নিয়েছেন ১৯। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল তাঁর বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করে সবাইকে চমকে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল একটি কোলাজ ছবি শেয়ার করেন, যেটিতে আছে মেসির জার্সিও।

    ছবিটির এক পাশে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক জার্সির ছবি, অন্য পাশে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের জার্সির ছবি। যেহেতু ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না, ইয়ামাল তাই খেলবেন তাঁর ছোটবেলার নায়কের অভিষেক বিশ্বকাপের জার্সি নম্বর পরে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • স্পেন এবার কতটা ভালো

    স্পেন এবার কতটা ভালো

    সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?

    আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?

    প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।

    সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?

    স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল

    যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!

    বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।

    চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।

    কেপ ভার্দে এবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে

    অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।

    এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।

    পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

  • আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখেনি ২৪ বছর হলো দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দেখতে চান দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার।

    ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের জন্য আনচেলত্তিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও ফুটবল সংস্কৃতি সবসময়ই দলটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে রাখে বলে মনে করেন তিনি।

    কাকা বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হয়তো ব্রাজিল শীর্ষ তিন ফেভারিটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এটি এখনও একটি শক্তিশালী দল। আর কার্লো তো কার্লোই।’

    কাকার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের নেতৃত্বে সেলেসাওরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই সাবেক তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আবেগ, চাপ এবং প্রত্যাশা আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তাই ব্রাজিল যদি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে, সেটি পুরো দেশের জন্যই হবে বিশেষ আনন্দের বিষয়।’

    ২০০২ সালের পর আর শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়ের গ্লানি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচের হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফিরবে বলে আশা সমর্থকদের।

    তবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং সামনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবু দলের ওপর আশা হারাচ্ছেন না কাকা। তার মতে, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস ব্রাজিলকে নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনায় সেলেসাওরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  • আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সে ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কানসাস সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আলজেরিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক—যাদের উপস্থিতিতে নীল-সাদা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের রেস্তোরাঁপল্লীতে একটি জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমর্থক সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরাও এতে অংশ নেন। শুধু আর্জেন্টিনার ভক্তরাই নন, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা থেকে অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও যোগ দেন এই উৎসবে।

    সমাবেশস্থলের কাছাকাছি থাকা সল মন্টেসরি স্কুলের বেড়া সাজানো হয় আকাশি-সাদা পতাকা, তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতীক, বিভিন্ন স্লোগান, আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর চিহ্ন, দেশের বিভিন্ন শহরের নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি দিয়ে। এতে পুরো এলাকাজুড়েই তৈরি হয় এক উৎসবমুখর আবহ।

    বিশেষ আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি সমর্থক তুলার বিখ্যাত ঢোল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাঁর পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ঢোলটি কানসাসে নিয়ে আসেন গিয়ের্মো। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের পর থেকে এই ঢোল প্রতিটি বিশ্বকাপে গেছে। আমরা এটি বাজাচ্ছি। সব সমর্থককে একত্র করছি।’

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উপস্থিতি। ম্যাচের আগে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই জানিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে প্রত্যাশা ও আবেগের কমতি কতখানি।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।