ফুটবল

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রভাব শুধুমাত্র গোল, ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজেদের সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তারা হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র তেমনই একজন ফুটবলার, যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

    মাঠে তার অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষিপ্র গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ক্যারিয়াজুড়ে গড়া অসংখ্য রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। চোট, বিতর্ক কিংবা সমালোচনা- সবকিছুর মাঝেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

    ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

    নেইমারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান নেইমার।

    ব্রাজিলের মতো ফুটবল সমৃদ্ধ দেশের হয়ে এমন একটি রেকর্ড গড়া নিঃসন্দেহে বিরাট কৃতিত্ব। কারণ দেশটির জার্সি গায়ে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনহোসহ অসংখ্য কিংবদন্তি তারকা।

    অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের নায়ক

    ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল নেইমারের। স্বাগতিকদের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনিই।

    একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

    ইউরোপ জয় ও এমএসএন ত্রয়ী

    এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত।

    ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেইমারের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব ও ফাইনালে তার গোল দলকে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখে।

    বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার

    ২০১৭ সালে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি।

    এটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো ফুটবলার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।

    মাঠের বাইরে জনপ্রিয়তার শিখরে

    শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ নেইমার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

    গিনেস রেকর্ডেও স্বীকৃতি

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মতো নানা অর্জনের কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিভিন্ন তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। এছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহাসিক আক্রমণভাগের অংশ হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিক পরিসংখ্যানভিত্তিক রেকর্ডে।

    শুধু রেকর্ড নয়, এক প্রজন্মের প্রতীক

    নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র গোল কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও বিনোদনমূলক ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

    তার ড্রিবল, ফ্লেয়ার ও সাহসী খেলার ধরন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

    আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল

    এরই প্রমাণ মিলেছে ২৫ জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রিয় তারকাকে আবারও সেলেসাওদের হয়ে খেলতে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা।

    ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি আবেগ, একটি প্রজন্মের স্মৃতি এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় আইকন।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    আড়েবেড়ে বয়স তো অনেক হলো, সব পাওয়াও হলো—কিন্তু ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন লিওনেল মেসি? কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশ্ন এবারও ঘুরে-ফিরে আসছে। মেসি জানিয়েছেন, সব পেয়েছেন। এবার শরীর ঠিক থাকলেই খেলা চালিয়ে যাবেন।

    আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি বলছেন, ‘আমি আরও কিছুদিন খেলব। যতক্ষণ দলের জন্য কিছু করতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততক্ষণ খেলে যাব।’

    তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন সেটা নিয়ে ভাবছি না। ২০৩০ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি এবং একদিন করে এগোচ্ছি।’

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়েও জোড়া গোল করেন।

    গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় ওই ম্যাচে দলকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ। মেসিদের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচও বলা যায় সেটিকে!

  • মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপের মধ্যেই ইউরোপের ট্রান্সফার বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস এফসির তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনায় খেলাকে নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।

    বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন আলভারেজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির কাছ থেকে বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের ঐতিহ্য সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শোনার পর কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে তার।

    ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি এবং আর্সেনাল—আলভারেজকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও তিনি নাকি বার্সেলোনাকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে সম্ভাব্য এই দলবদল নিয়ে বার্সেলোনা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

    জানা গেছে, কাতালান ক্লাবের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আলভারেজকে দলে আনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান বিশ্বকাপের কারণে তারা আপাতত কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছে না।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আলভারেজের জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্সেলোনা। যদিও এই ট্রান্সফার সহজ হবে না, কারণ আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে ছাড়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

    স্প্যানিশ ক্লাবটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলভারেজকে দলে নিতে চাইলে তার চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পূরণ করতে হবে। ফলে বার্সেলোনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এই সম্ভাব্য দলবদল শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বেশ কয়েকজন তরুণ ও মাঠে কম নামা ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে দল ঘুরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ডান হাতের অনামিকার চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা মার্তিনেজ নিজেই জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গোল হজম না করা এই গোলরক্ষকের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    মেসিকেও এই ম্যাচে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামানোর চিন্তা রয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই খেলবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবু সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    স্কালোনি মূল একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নিকো পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোটের কারণে খেলতে না পারা গঞ্জালো মন্তিয়েল এবার রাইট-ব্যাক পজিশনে ফিরতে পারেন। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসি অথবা ফাকুন্দো মেদিনার একজনকে দেখা যেতে পারে। বাম প্রান্তে খেলবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

    মিডফিল্ডে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাশে সুযোগ পেতে পারেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। এছাড়া আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড ও উইংয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং জিওভানি লো সেলসোকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এছাড়া প্রয়োজন হলে লোপেসকেও মাঠে নামানো হতে পারে। মেসি যদি শুরুর একাদশে না থাকেন, তাহলে তার জায়গায় নিকো পাজকে দেখা যেতে পারে। আর মেসি শুরু করলেও ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তরুণ এই মিডফিল্ডারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।

  • বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পেশা। বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখার দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার।

    মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ান তাদের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা জানতেই সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

    টাইমস স্কয়ারে বিশেষ কাচের ঘরে বিশ্বকাপ দেখা

    নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। পথচারীরা সহজেই তাদের দেখতে পারেন, যা অনেক দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    এই ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনার চেয়ার, চামড়ার সোফা, বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা সামগ্রী। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ।

    কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল ভক্ত তার স্বপ্নের ঘরে যা যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবকিছুই সেখানে রয়েছে।

    হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচন

    ফ্লোরিডায় রাঁধুনির কাজ করা কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু ম্যাচ দেখা নয়, দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।

    ‘এটা আসলে দীর্ঘ এক ম্যারাথন’

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ সূচির কারণে কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কেভিন জানিয়েছেন, টানা ম্যাচ দেখতে দেখতে তারা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং নতুন রুটিনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    অস্টিনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনের ঘটনাগুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। তার মতে, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো—দেখতে সহজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

    তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের টাইমস স্কয়ারের কাচের ঘরেই রাত কাটাতে হয় না। শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

    ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ

    এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। একসময় আর্জেন্টাইন খাবার উপভোগ করতে করতে তারা দেখেছেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

    ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ*

    ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়েসহ নানা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তাদের কাজের অন্যতম আকর্ষণ।

    অস্টিনের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের গল্প শোনা এবং তাদের ফুটবল-উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখা এই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।

    কারা জিততে পারে বিশ্বকাপ?

    শিরোপা দৌড়ে কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।

    অন্যদিকে অস্টিনের সমর্থন নরওয়ের প্রতি। তার বিশ্বাস, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চমক দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন

    এই অদ্ভুত চাকরি নিয়ে মানুষের মতামতও একরকম নয়। কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া এতগুলো ম্যাচ দেখা অতিরিক্ত চাপের বিষয়। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার জন্য অর্থ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ।

    কিছু দর্শকের মতে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ আলাদা। তবে অনেকেই কেভিন ও অস্টিনের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে দেখছেন।

  • ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মধ্যে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, দলগুলোর মধ্যেও চলছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র মতো খেলা। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনোবা জার্মানি।

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল-জার্মানি। দুই দলেরই ছিল ২৪১ গোল। আজ স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিল ব্রাজিল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবার তাদের গোলসংখ্যা ২৪৪। তবে এই রেকর্ড কতক্ষণ টিকে থাকে সেটাই দেখার। কারণ, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচ। বিশ্বকাপ এলেই যে জার্মানকে দেখা যায় ভয়ংকর রূপে, তাতে হয়তো রাতেই সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনটা ব্রাজিলের কাছ থেকে কেড়ে নেবে জার্মানরা।

    জার্মানি-ব্রাজিলের লড়াইটা শুরু ১৪ জুন থেকেই। সেদিন ভোরে নিউজার্সিতে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২৩৮ গোল নিয়ে তখনো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ব্রাজিলেরই। কিন্তু সেই রাতে এক ঝটকায় সব ওলটপালট করে দিল জার্মানরা। হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে গোলসংখ্যা ২৩৯ করে ফেলল জার্মানি।

    ২৩৯ গোল করে রেকর্ডটা এক সপ্তাহ টিকিয়ে রাখতে পারেনি জার্মানি। ২০ জুন ভোরে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজের দখলে নেয় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর সেলেসাওদের গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪১। কাকতালীয়ভাবে একই রাতে পড়ে যায় জার্মানদের ম্যাচ। তবে এবার আর জার্মানরা টপকে যেতে পারেনি ব্রাজিলকে। টরন্টোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে জার্মানি। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার এই জয়ে ১২ বছর পর নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জার্মানরা।

    আজ সকালেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। তাতে করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোলের দুটি করেছেন ভিনি এবং মাথিয়াস কুনিয়া করেন এক গোল। ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। চারটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনি।

    অবস্থানদলগোল
    ১ব্রাজিল২৪৪
    ২জার্মানি২৪১
    ৩আর্জেন্টিনা১৫৭
    ৪ফ্রান্স১৪২
    ৫ইতালি১২৮
  • এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলেই দেননি, একই সঙ্গে গড়েছেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

    টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুই গোলের সুবাদে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মেসির নতুন রেকর্ডগুলো।

    আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন মেসি।

    এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও অতিক্রম করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

    গোলের রেকর্ড ছাড়াও জয়সংখ্যার দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৮তম জয়, যা ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    এ ছাড়া ম্যাচে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে খেলার সময়ের হিসাবে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট মাঠে থেকে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন মেসি।

    এক ম্যাচেই চারটি নতুন গিনেস রেকর্ড নিজের করে নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নামটি বিশেষ এক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

    বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

    দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

    কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে।

    হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

    তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

    হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

    হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

    বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।